মক্কা শরীফে ঈদে মীলাদুন্নবী পালন হওয়ার প্রমাণ

 

১. সাইয়্যিদ মুহম্মদ সুলাইমান নদভী রহমতুল্লাহি আলাইহি “ সিরাতুন নবী “ জীবনী গ্রন্থে , ভলিউম ৩ উল্লেখ করেছেন ৩/৪ শতক হিজরী ইলাদ শরীফ উদযাপন করা হত ।

২. আল আযরাকী (৩য় শতাব্দী ) উল্লেখ করেছেন যে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাড়িতে মিলাদ হত। যারা ইসলামিক স্কলার ছিলেন তাঁরা সে বাড়িতে নামাজ আদায় করতেন এবং নিয়ামতের লক্ষ্যে তাবারুক এর ব্যবস্থা করতেন। ( আখবর মক্কা – ২/১৬০ )

৩. মুফাসসির আল নাকাশ ২৬৬-৩৫১ হিজরি তাঁর ‘ শিফা আল ঘারাম ১/১৯৯ ‘ উল্লেখ করেন যে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাড়িতে প্রতি সোমবার দোয়া হত ।

৪.ইবনে জুবায়ের ৫৪০ – ৬৪০ হিজরী ‘কিতাব আর রিহাল’ এর ১১৪-১১৫ পেজ এ উল্লেখ করেছেন

 

 

‘ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাড়িতে রবিউল আউওয়াল মাসের প্রতি সোমবারে ঈদে মিলাদুন্নবি পালন করা হত’

৫. ৭ম শতকের ইতিহাসবিদ শায়েখ আবু আল আব্বাস আল আযাফি এবং তাঁর ছেলে আবু আল কাসিম আল আযাফি ( সার্জারির জনক ) তাঁদের কিতাব ‘আল দুরর আল মুনাজ্জাম’ এ লিখেন –

” মক্কা শরিফে ঈদে মিলাদুননবির দিন ধার্মিক ওমরাহ হজ্জ্বযাত্রী এবং পর্যটকেরা দেখতেন যে, সকল ধরনের কার্য্যক্রম (দুনিয়াবী )বন্ধ, এমনকি ক্রয় -বিক্রয় হতনা ,তাঁদের ব্যতিত যারা সম্মানিত জন্মদিন স্থান দেখতেন এবং সেখানে জড় হয়ে দেখতেন । এ দিন পবিত্র কাবা শরীফ সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হত। ”

৬. ৮ম শতকের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ইবনে বতুতা তাঁর ‘রিহলা’ কিতাবের ভলিউম ১ , ৩০৯ এবং ৩৪৭ পৃষ্ঠায় লিখেন-

” প্রতি জুম্মা নামাজের পর এবং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইই ওয়া সাল্লাম উনার জন্মদিনে বানু শায়বা এর প্রধান কতৃক পবিত্র কাবা শরিফের দরজা খোলা হত। মক্কা শরিফের বিচারক নজম আল দীন মুহম্মদ ইবনে আল ইমাম মুহুয়ি আল দিন আল তাবারি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বংশধর এবং সাধারন জনগনের মাঝে খাবার বিতরন করতেন।”

৭.১০ হিজরি শতকের ইতিহাসবিদ শায়েখ ইবনে যাহিরা তাঁর ‘ জামি আল লতিফ ফি ফাদলি মক্কাতা ওয়া আহলিহা” শায়েখ হাফিয ইবনে হাযার আল হায়তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর ‘ আল মাওলিদ আল শরিফ আল মুনাজ্জাম ‘ এবং ইতিহাসবিদ শায়েখ আল নাহরাওয়ালি তাঁর ‘আল ইমাম বি আলাম বায়েত আল্লাহ আল হারাম’ পৃষ্টা ২০৫ তাঁদের লিখিত কিতাবে বলেন-

” প্রতি বছর ১২ রবিউল আউওয়াল শরিফে বাদ মাগরীব ৪ জন সুন্নি মাযহাব স্কলার ,বিচারক , ফিক্বহবিদ, শায়েখান , শিক্ষক , ছাত্র , ম্যাজিস্ট্রেট , বিজ্ঞজন এবং সাধারন মুসলমানগন মসজিদের বাহিরে আসতেন এবং তাসবীহ-তাহলীল এর সাথে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মস্থান বাড়ি পরিদর্শন করতেন । বাড়িতে যাওয়ার পথ আলোকসজ্জা করা হত । সকলে উত্তম পোষাক পরিধান করতেন এবং সাথে তাঁদের সন্তানদের নিতেন।

পবিত্র জন্মস্থানের ভিতরে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিলাদতি শান প্রকাশের সময়কার বিভিন্ন বিশয়াদি বিশেষবভাবে বর্ননা করা হত । তারপর অটোমান সাম্রাজ্যের জন্য সবাই দোয়া করতেন এবং বিনয়ের সহিত দোয়া করা হত ।

ইশা নামাজের কিছুক্ষন পুর্বে সকলে মসজিদে চলে আসতেন ( যা থাকত লোকে লোকারন্য ) এবং সারিবদ্ধভাবে মাকামে সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর সামনে বসতেন ।

বর্তমানে ওহাবী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঈদে মিলাদুন্নবির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে ঈদে মিলাদুন্নবি বন্ধ করতে চাইলেও মদিনা শরিফে এখনো ঈদে মিলাদুন্নবি পালন হয়।

যার বিদয়াত বলে এ দিবসকে অস্বীকার করতে চায় তারা কি ইসলামের ইতহাসকে ভুল প্রমান করতে চায় ?

 

ভাসানীর নবীপ্রেম

 

‘কেউ রাসূলের আনুগত্য করলে সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করে’- [সূরা নিসা : আয়াত-৮০]। অতএব রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে আল্লাহর প্রতিই সম্মান প্রদর্শন করা হয়।

 

ঈদে মিলাদুন্নবীতে ভাসানী হুজুরতার ভক্ত-অনুসারীদের নিয়ে নিজেই মিলাদ পাঠ করতেন। আমরা যারা তার সঙ্গে ছিলাম, সবাই মিলাদ মাহফিলে শরিক হতাম। নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য মিলাদ মাহফিলে হুজুর ভাসানী কিয়াম করতেন। আমরাও তার সঙ্গে কিয়াম করতাম।

 

কিয়াম অর্থ আদব বা সম্মান রক্ষার্থে দাঁড়ানো। এ আদব রক্ষা করা ইবাদতের অংশ প্রেমিকদের জন্য। হুজুর ভাসানী বলতেন, নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি যারা এ আদব রক্ষা করবে না তারা আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত থাকবে।

 

নূরে মোহাম্মদীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সিজদা করতে হুকুম দিলেন আল্লাহ পাক। সব ফেরেশতা সিজদা করলেন আদমকে আলাইহিস সালামকে। কিন্তু ইবলিশ আপত্তি উত্থাপন করে বলল, আমি আগুনের তৈরি এবং তার চেয়ে উত্তম। অতএব আমি সিজদা করব না। দুর্ভাগা ইবলিশ শয়তান বুঝল না যে, এটা না করে সে স্বয়ং আল্লাহর হুকুমকে অমান্য করল। আল্লাহ যে মাটির আদমের ভেতরে নূরে মোহাম্মাদীর নূরকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন এটা সে বুঝতে পারল না। সে পথভ্রষ্ট ও আল্লাহতায়ালার অভিশাপে অভিশপ্ত হল। এ কারণে শয়তান যুক্তি ও কূট তর্কের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বদ্ধপরিকর হয়।

ভাসানী হুজুর বলেন, নবী-বিদ্বেষীদের শত ইবাদতও কোনো কাজে আসবে না। ওরা আল্লাহর সহজ-সরল, সত্য-সুন্দর পথকে বাঁকা দৃষ্টিতে দেখবে। কারণ ওদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। এদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে বলেছেন,” তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বৃদ্ধি করেছেন ও তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যাচারী [সূরা বাকারা, আয়াত : ১০]।

হুজুর ভাসানী  আরও বলেছেন, নবী বিদ্বেষের মহাব্যাধি যার হৃয়কে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে- সে অন্ধকারের ভয়াবহ অতল গহ্বরে পতিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। যার জ্বলন্ত প্রমাণ ইবলিশ শয়তান। সে আদব নষ্ট করে বেয়াদবের খাতায় নাম লিখিয়ে চিরতরে জাহান্নামি হয়ে গেছে।

অতএব যারা নবীর প্রতি আদব রক্ষা করে চলবেন তারা থাকবেন ফেরেশতাদের কাতারে। আর যারা তা রক্ষা করবে না তারা থাকবে ইবলিশের কাতারে।

এ প্রসঙ্গে আল্লামা রুমী বলেন :

‘আয় খোদা খাহিমে তাওফিকে আদব

বেয়াদব মাহ্রুম মানাদ আয লুতফে রব।’

অর্থাৎ : ‘হে খোদা! আমাকে আদব রক্ষা করার তাওফিক দাও। কারণ বেয়াদব আল্লাহর করুণা থেকে বঞ্চিত থাকে।’

মদিনার আউস গোত্রের সর্দার ছিলেন হজরত সাআদ বিন মুয়াজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। বনু কোরাইযার যুদ্ধে হজরত সাআদ রদ্কেবিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে তারা সালিশি মানে। যে কারণে উনাকে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডেকে পাঠান। হজরত সাআদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন মসজিদের সামনে এসে পৌঁছলেন, তখন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসার সাহাবিদের নির্দেশ দিলেন ” সর্দারের প্রতি সম্মানার্থে সবাই দাঁড়িয়ে যান।” নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এ কথায় উপস্থিত সাহাবিরা দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান দেখান। তাকে সওয়ারি থেকে তারা নামিয়ে আনেন [বোখারি শরিফ] এটা ছিল একজন সর্দারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কিয়াম।

 

আধ্যাত্মিক এবং জাগতিক উভয় দিক দিয়ে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সঠিকভাবে জানতে হুজুর আল্লামা দার্শনিক কবি ইকবাল নবী (সা.) সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন-

‘আবদু দিগার আবদুহু চিজে দিগার।

ই-ছেরাপাঁ এন্তেজার উঁ মুন্তাজার।

অর্থাৎ ‘আবদুন’ এক জিনিস আর ‘আবদুহু’ অন্য জিনিস। আল্লাহকে রাজি বা সন্তুষ্ট করানোর জন্য যিনি ব্যস্ত থাকেন তিনি আবদুন, আর যাকে রাজি বা সন্তুষ্ট করানোর জন্য স্বয়ং আল্লাহ ব্যস্ত থাকেন তিনি আবদুহু [সোবহানাল্লাহ] এতে বুঝা যায় সব মোমিন ‘আবদুন’, আর নবীয়েদোজাহাঁ শাফিয়ে মজরেমা হলেন, ‘আবদুহু’। যেমন কলেমায় বলা হয়েছে- আবদুহু ওয়ারাসূলুহু। কোরআন পাকে বলা হয়েছে- আসরা বিআবদিহি। সুতরাং যারা মাওলানা হয়েছেন, মুফতির সাইন বোর্ড লাগিয়েছেন, চিন্তাবিদ মুসলিম দার্শনিক নাম ধারণ করে কোরআন হাদিসের মুখপাত্র হয়েছেন, কিন্তু আবদুন আর আবদুহুর পার্থক্য করতে পারেননি এর চেয়ে দুঃখের বিষয় আর কী হতে পারে? তাদের মুসলিম দার্শনিক আল্লামা কবি ইকবালের বই পড়তে সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।

নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মর্যাদা ও মর্তবা সম্পর্কে আল্লামা ইকবাল

আরও বলেন :

‘আবদুহু দাহরাস্ত দাহরাস্ত আবদুহু/ মাহুমা রংগিমে দাদরে রংগে বু॥/ আবদুহু চান্দ ও চেগুনে কায়েনাত।/ আবদুহু রাজে দারুণে কায়েনাত॥/ কাসযা সিররি আবদুহু আগাহে নিস্ত।/ আবদুহু জুয্ সিররি ইল্লাল্লাহ্ নিস্ত॥/ আবদুহু সুরতে গার তাকদিরে হাস্ত।/ আন্দার-ই-তাখরিবে হাতামিরে হাস্ত।/ মদয়ী পয়দা নাহ্গার দোজি দোবায়াত।/ তানাহ্ বীনি আয মাকামে মা রামায়াত॥’

অর্থাৎ : জামানা হল ‘আবদুহু’, আর ‘আবদুহু’ থেকেই জামানার অস্তিত্ব। আমরা সব সৃষ্টি ভিন্ন রং ও বর্ণের। কিন্তু আবদুহু অর্থাৎ মাহবুবে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া লিহি ওয়া সাল্লাম সব কিছুর ঊর্ধ্বে। সৃষ্টির সব কিছুই আবদুহু। আর আবদুহু গোটা জাহানের গুপ্ত ভেদ। কেউই আবদুহুর গোপন ভেদ তত্ত্ব সম্পর্কে অবগত নয়। কেননা আবদুহু তো ইল্লাল্লাহুর গুপ্ত ভেদ ছাড়া আর কিছুই নয়। আবদুহু সব তকদিরের ছবি অংকনকারী। আর এর সারমর্ম অনুধাবন করতে পারবে না, যতক্ষণ তুমি মাকামে ‘মা, রামাইয়াতা’ অবলোকন না করবে। [শানে হাবীবুর রহমান পৃঃ ১১৩]।

আল্লামা রুমী বলেন :

কারে পাকা বা কেয়াস আজ খোদ মাগির।/গারচেহ মানাদ দার নাবিশতান শেরও শির॥/ শির আবাশাদ কেহ্ মরদাম মী দারাদ।

শের আ বাশাদ কেহ মরদাম্ মী খোরাদ॥

অর্থাৎ ফার্সি ভাষায় শের ও শির একই রকমে ও একই হরফে লেখা কিন্তু অর্থ ভিন্ন। শির অর্থ দুধ, যা মানুষে পান করে। আর শের অর্থ বাঘ, যে মানুষকে খায়। যদিও তার একই বানান, কিন্তু উচ্চারণে ও অর্থে পার্থক্য আসমান আর জমিন। আমরাও বান্দা, নবীও বান্দা, কিন্তু বোধশক্তি সম্পন্ন মানুষের জন্য এতে ব্যবধান রয়েছে আসমান ও জমিন অথবা তার চেয়েও বেশি। [দেখুন, জিকরে জামিল- পৃ. ২৯৬, মাকামে নবুয়ত পৃ. ৬১]

মওলানা জালাল উদ্দিন রুমী আরও বলেন,

হামসেরি বা আম্বিয়া বর দাশতান্দ

আউলিয়ারা হাম চুঁ খোদ পান দাশতান্দ॥

অর্থাৎ নিজেদের ভুল ধারণাবশত কখনও তারা সম্মানিত নবীকে নিজেদের মতো মানুষ মনে করে। আবার কখনও নিজেদের আউলিয়াদের সমকক্ষ মনে করে।

আশকিয়ারা দিদায়ে বীনা নাবুদ,

নেক ও বদদর দিদাহ্ শাহ্ একসাঁ নামুদ।

অর্থাৎ বদবখত লোকেরা সত্য দেখা থেকে বঞ্চিত থাকে। এ জন্য তাদের চোখে ভালো-মন্দ একই রকম অনুভব হয়। নবী বিদ্বেষ অন্তরে থাকার কারণে তাদের বিবেক-বুদ্ধি নষ্ট হয়ে যায়। এরা সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করতে পারে না। দেখুন- জিকরে জামিল পৃ. ২৯৭, মাকতুবাত শরিফ উর্দু ২য় খণ্ড পৃ. ১৫০]।

‘গোফতে ইনাকমা বাশার ঈশা বাশার,

মা ও ঈশা বোস্তানে খাঁ বীমত্ত খোর’।

অর্থাৎ বেকুবেরা বুঝে না, তারা বলে আমরাও মানুষ, তিনিও মানুষ। আমরাও খাই, ঘুমাই তিনিও খান, ঘুমান, তবে পার্থক্য কোথায়? রাসূলের ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সঙ্গে সৃষ্টি জগতের কারও তুলনা হতে পারে না। রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন অতুলনীয়। নবী হজরত মুহাম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মাধ্যম ছাড়া আল্লাহকে পাওয়া যাবে না। নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে গণ্য না করলে কখনও মুমিন মুসলিম হওয়া যাবে না। পবিত্র কোরআন পাকে বলা হয়েছে :

‘হে মুহাম্মদ! আপনার রবের শপথ। তারা কখনও মুমিন নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না পারস্পরিক বিরোধ-মীমাংসার ক্ষেত্রে আপনাকে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী হাকিম হিসেবে মেনে না নেয় এবং পূর্ণ আত্বসমর্পন মানসিকতা নিয়ে নিঃসংকোচে আপনার ফয়সালাকে গ্রহণ না করে’। [দেখুন, সূরা নিসা, আয়াত-৬৫]। এতে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে নিঃশর্ত নিঃসংকোচ আÍসমর্পণকেই আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা হল বলে চূড়ান্তভাবে

স্বীকৃত হল।

লেখক : হুজুর ভাসানী  এর স্নেহধন্য, মওলানা ভাসানী আদর্শ অনুশীলন পরিষদের সভাপতি ও গবেষক।

 

বেহেশতী জেওরে মিলাদের দলিল

 

আজকে আপনাদের মীলাদ শরীফের এমন এক দলীল দেখাবো যে অনেকে হয়তো অবাকই হয়ে যাবেন। বিশেষ করে দেওবন্দী কওমী গ্রুপের লোক যারা তারা এই দলীল দেখার পরও মীলাদ শরীফের বিরোধীতা কিভাবে করে সেটাও দেখার মত একটা বিষয় হবে।

তো আসুন দেখা যাক দেওবন্দীদের অন্যতম মুরুব্বী আশরাফ আলী থানবীর বেহেশতী জেওর এর ৬ষ্ঠ খন্ডের “সীরাতে পাক” অধ্যায় থেকে বিষয়টা তুলে ধরা যাক:

 

“রসূলের জীবনী আলোচনার মজলিসকে কেহ সীরাতে পাকের মজলিস বলে। কেহ মওলুদ শরীফ বয়ানের মাহফিল বলে, কেহ মাহফিলে মীলাদ বলে। আসল উদ্দেশ্য একই ভাষা ভিন্ন। ইহা অত্যান্ত জরুরী।

 

মুসলমানদের ঘরে ঘরে এবং দোকানে দোকানে শুধু বৎসরে এক আধবার নয়, শুধু রবীউল আউয়ালের চাঁদে নয়, মাসে মাসে , সপ্তাহে সপ্তাহে এই পবিত্র মাহফিলে মীলাদের অনুষ্ঠান হওয়া বাঞ্ছনিয়।

কিন্তু বড়ই দুঃখের বিষয় সমাজে অজ্ঞতা এবং মূর্খতা ক্রমশঃ বাড়িয়া চলিয়াছে। মাহফিলে মীলাদ সমন্ধে বড় বাড়াবাড়ি এবং ঝগড়া বির্তক হইতেছে। ঝগড়া ফ্যাসাদের বির্তকের বাড়াবাড়ি ত্যাগ পূর্বক এই পবিত্র মাহফিলের অনুষ্ঠার সর্বত্র হওয়া দরকার। ………………………………………. সীরাতে পাকের মজলিস বা মাহফিলে মীলাদ নাম দিয়া অনুষ্ঠান করিলে তাহা বিদয়াত হইবে- কখনো নহে।”

[দলীলঃ বেহেশতী জেওর। লেখক- আশরাফ আলী থানবী। অনুবাদক- আশরাফ আলী থানবীর খলীফা শামসুল হক ফরীদপুরী। ভলিউম -২, খন্ড-৬, পৃষ্ঠা ২২২, অধ্যায়- সীরাতে পাক। প্রকাশনা- এমদাদীয়া লাইব্রেরী ( দেওবন্দী কওমীদের) ]

উক্ত বিষয়ের সাথে সুন্নীরাও একমত। অথচ বর্তমান দেওবন্দী কওমীরা তাদের মুরুব্বীর আর্দশ থেকে কতটা বিচ্যুত হয়ে পরেছে। মাহফিলে মীলাদকে থানবী ও ফরিদপুরী অত্যান্ত জরুরী বলে উল্লেখ করেছে, অথচ কওমী দেওবন্দীরা এটা বিদয়াত শিরিক বলে। মীলাদ মাহফিল প্রতি সপ্তাহে সপ্তাহে করা আবশ্যক বলে মুরুব্বীরা ঘোষনা দিয়ে গেছে অথচ বর্তমান কওমীরা মীলদের নামই শুনতে পারে না। শুধু তাই নয় থানবী ও ফরিদপুরী এটাও বলে গেছে , অজ্ঞতা এবং মূর্খতা বশত কিছু লোক মীলাদ শরীফ নিয়ে ঝগড়া বির্তক সৃষ্টি করছে, অর্থাৎ বর্তমান কওমী ওহাবীরা । থানবী ও ফরিদপুরী এই ঝগড়া বির্তক ত্যাগ করে পবিত্র মীলাদ মাহফিলের অনুষ্ঠার সর্বত্র জারি করা দরকার বলেও রায় দিয়ে গেছে।

এখন বলুন এমন স্পষ্ট দলীল থাকার পরও কি করে মীলাদ শরীফের বিরোধীতা করে দেওবন্দী কওমীরা?

(বেহেশতী জেওর ডাউনলোড লিংক http://bit.ly/2ewmYOH)

 

বেদাতী সালাফী ওহাবীদের গোমর ফাঁস !

 

সালাফীদের কাছে খুবই সমাদৃত আলেম হযরত ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি রচিত ‘যিকরে মাওলিদে রসূল’ কিতাবে উনি ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ব্যাপক দলীল পেশ করেছেন। লা মাযহাবীরা কি ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহিরও বিরোধীতা করবে?
বইটির আরবী এবং ইংরেজী পিডিএফ দেয়া হলোঃ

১) আরবীঃ https://ia601303.us.archive.org/19/items/ArabicMoladibnEKaseer/arabic%20molad%20(ibn%20e%20kaseer).pdf

২) ইংরেজীঃ http://data.nur.nu/Kutub/English/IbnKathir_Milad_English-Translation.pdf