আহলে হাদীস দের কাছে কিছু প্রশ্ন।ইলিম থাকলে উত্তর দিয়ে যাও

আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللّهِ وَالرَّسُولِ.

অর্থ: “হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহ পাক- উনার ইতায়াত করো এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার ইতায়াত করো এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলিল আমর উনাদের ইতায়াত করো। অতঃপর যখন কোন বিষয়ে উলিল আমরগণের মাঝে ইখতিলাফ দেখতে পাবে তখন (সে বিষয়টি ফায়সালার জন্য) তোমরা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করো অর্থাৎ যে উলিল-আমরের কুরআন-সুন্নাহ্র দলীল বেশি হবে উনারটিই গ্রহণ করো।” (সূরা নিসা, আয়াত শরীফ ৫৯)
“মালেক ইবনে আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত-নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি যতদিন আকড়ে ধরবে ততদিন পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহ পাক উনার কিতাব এবং অপরটি আমার সুন্নাহ্ (মিশকাত-১ম খন্ড হাদিস নং-১৭৭)

“হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত-নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,…আমি তোমাদের মধ্যে দুটি মূল্যবান সম্পদ রেখে যাচ্ছি। একটি হল আল্লাহপাক উনার কিতাব। এর মধ্যে রয়েছে হেদায়াত ও আলো। অতএব তোমরা আল্লাহপাক উনার কিতাবকে মজবুতভাবে আকড়ে ধর। আর দ্বিতীয়টি হল আমার আহলে বাইত। আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইত সম্পর্কে আল্লাহর পক্ষ হতে বিশেষভাবে বলছি। (মিশকাত-১১তম খন্ড হাদিস নং-৫৮৮০,৫৮৯২,৫৮৯৬)

তাহলে আপনি কেন শুধু নিজে আহলে হাদীস বলেন?

*আপনি কী কুরআনের অনূসারী না? আপনি কেন আহলে কুরআন নিজেকে বলেন না?
*আপনি কী আহলে সুন্নাহ না?কেন আহলে সুন্নাহ বলেন না?
*আপনি কী আহলে বাইত কে মানে না?কেন নিজেকে আহলে বাইত বলেন না?
*আপ্নি কী সাহাবা উনাদের মানে না ?কেন নিজেকে আহলে সাহাবা বলেন না?
*আপনি কী উলীল আমর তথা অলী আল্লাহদের মানেন না?কেন আহলে উলীল আমর তথা অলীআল্লাহ বলেন না?

*শুধুই কেন আহলে হাদীস?

*আর আহলে হাদীস হলে কোন আহলে হাদীস সহীহ আহলে হাদীস?
নাকী জয়ীফ আহলে হাদীস?নাকি হাসান?নাকি মুরসাল?নাকি গরীব?

আহলে হাদীস না হতে হবে আহলে সুন্নাহ।আসুন জানি এই বিষয়ে-

নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন তোমরা আমার সুন্নাহকে অনুসরণ কর। ভাল করে লক্ষ করুন→
প্রত্যেক সুন্নাহই একটি হাদীস,কিন্তু প্রত্যেক হাদীসই সুন্নাহ্ নয়।
দ্বীনের উপর চলার জন্য উম্মত সকল হাদীসকেই অনুসরন করতে পারবে না, যদিও সেই হাদীসটি “সহীহ ” হয়। কেননা অনেক সহীহ হাদীস আছে যা অন্য সহীহ হাদীস দ্বারা রহিত (বাতিল) হয়ে গিয়েছে বা তা পূর্বের বিধান ছিল কিন্তু পরবর্তীতে নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার. দ্বারা রহিত হয়ে গিয়েছে ।

নিচে আমি এরকম কয়েকটি উদাহরণ দিচ্ছি,
হাদীস নং-০১
——————-
♦ ইসলামের প্রথম যুগে নামাযরত অবস্থায় কথা বলা, সালাম দেওয়া ও সালামের উত্তর দেওয়া সবই জায়েয ছিল।
(বুখারী হা. নং- ১১৯৯, ১২০০)
নামাযে কথা বলা যাবে এটা সহীহ হাদীসে আছে, আপনি কি এখন নামাজে কথা বলতে পারবেন?
না পারবেন না, কারন পরবর্তীতে এই বিধান রহিত হয়ে যায়।
হাদীস নং-০২
——————-
♦ নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহ মুসলমানগন হিজরতের পর মদীনায় ১৬/১৭ মাস বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে নামায আদায় করত।
(বুখারী হা. নং- ৭২৫২)
আপনি কি পারবেন সহীহ হাদীসের ধোঁয়া তুলে মক্কার দিকে নামাজ না পড়ে বাইতুল মোকাদ্দাসের দিকে ফিরে পড়তে?
হাদীস নং-০৩
——————-
♦ ইসলামের প্রথম যুগে বিধান ছিল যে, আগুনে রান্নাকৃত খাদ্য গ্রহন করলে উযু ভেঙ্গে যাবে ।
(সহীহ্ বুখারী, হা.নং- ২০৮)
এটাও তো সহীহ হাদীসে আছে।আপনার জন্য কি এটার উপর আমল করা এখন জায়েয হবে?না! কারন পরবর্তীতে এর বিধান বাতিল হয়ে গেছে।
এগুলো সবই সহীহ্ হাদীস কিন্তু সুন্নাহ নয়।অর্থাৎ এই হাদীসগুলো উম্মতের জন্য অনুসরনীয় নয়।
হাদীস নং-০৪
——————-
♦ নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১৩ টি বিয়ে করেছেন এবং মহর ছাড়াও বিয়ে করেছেন।
আপনি কি পারবেন ১৩টি বিয়ে করতে? এগুলিও তো সহীহ হাদীসে আছে। কেন পারবেন না?এমন অনেক হাদিস আছে যার বিধান নবীজী এর সঙ্গে নির্দিষ্ট ।উম্মতের জন্য তার উপর আমল করা বৈধ নয়।এই বিষয়গুলি বুঝতে কাদের প্রয়োজন?
হাদীস নং-০৫
——————-
♦ নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযা অবস্থায় উনার এক স্ত্রীকে চুম্বন করেছেন ।
(বুখারী ,হা.নং- ১৯২৮)
রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করা জায়েজ বটে তবে সুন্নাহ নয়।
হাদীস বলে আপনি যদি সহিহ এর উপর আমল করেন তবে নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নাহ হতে বঞ্চিত হলেন।
হাদীস নং-০৬
——————-
♦ নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে প্রস্রাব মুবারক করছেন।
(বুখারী, হা.নং- ১৯৩৮)
কোমরে ব্যথা থাকার কারনে কিংবা এস্তেঞ্জা করার স্থানে বসার দ্বারা শরীরে বা কাপড়ে নাপাকি লাগার অশংঙ্কায় তিনি সারা জীবনে মাত্র ২বার দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন। কিন্তু হাদীসের বর্ণনায় এসবের কারণ উল্লেখ নেই ।শুধুমাত্র দাঁড়িয়ে পেশাব করার কথা আলোচিত হয়েছে। তো হাদিস সহীহ বলে এর উপর আমল করে কি দাঁড়িয়ে পেশাব করাকে সুন্নাহ বলা যাবে ?
এগুলো সবই সহীহ্ হাদীস কিন্তু সুন্নাহ নয়। অর্থাৎ এই হাদীসগুলো উম্মতের জন্য অনুসরনীয় নয়।

যারা নিজেদেরকে ” আহলে হাদীস ” বলে দাবী করে তাদের উচিৎ হলো-
★ ১৩টি বিবাহ করা,
★ মহর ছাড়া বিবাহ করা,
★ ইহরাম ও রোযা অবস্থায় শিঙ্গা লাগানো,
★ রোযা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করা,
★ দাঁড়িয়ে পেশাব করা,
★ বাইতুল মোকাদ্দসের দিকে ফিরে নামাজ পড়া,
★ নামাযরত অবস্থায় কথা বলা।

কারন এসবই সহীহ হাদীসে রয়েছে।এটা তারা কখনই করতে পারবে না।
সুতরাং কোন মুসলমান আহলে হাদীস হতে পারে না , হতে হবে আহলে সুন্নাহ।

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে-
أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ (85
তোমরা কি কুরআনের কিছু অংশের উপর ঈমান আন এবং কিছু অংশকে অস্বিকার করছো? তোমাদের মাঝে যারা এরূপ করে, তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা, এবং আখেরাতে তাদের নিক্ষিপ্ত করা হবে ভয়াবহ শাস্তিতে। আল্লাহ তাআলা তোমাদের কর্মকান্ড বিষয়ে অনবহিত নন। {সূরা বাকারা-৮৫}
প্রচলিত নামধারী আহলে কুরআন ও আহলে হাদীস মুসলমানদের কোন দল নয়। এটি নাস্তিক ও কাফেরদের একটি দল। সরলপ্রাণ মুসলমানগণ এ কুফরী দলকে মুসলিম দল মনে করে বিভ্রান্ত হবেন না। আল্লাহ তাআলা আমাদের নাস্তিক-মুরতাদ, কাফের ও নামধারী মুসলিমদের হাত থেকে উম্মতে হাবীবী উনাদেরকে হিফাযত করুন। আমীন।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন ঈমান এবং সত্যের মাপকাঠি, উনাদের অস্বীকার-কারীরা কাফির

দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ । এই কারনে বিধর্মীরা পরিপূর্ণ দ্বীন ইসলামে ফিৎনা বিস্তার করার জন্য বিভিন্ন এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে রাখে। এমন এক ইসলাম বিদ্বেষী সিআইএ এজেন্ট হচ্ছে জামাতের প্রতিষ্ঠাতা শিয়া আক্বীদাভুক্ত আবুল আলা মওদূদী খারেজী। এই খারেজীটা ইসলামকে দুনিয়াবাসীর কাছে সন্দেহযুক্ত করার জন্য একটা কৌশল অবলম্বন করে। সেটা হচ্ছে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু দের বিরুদ্ধে মিথ্য অভিযোগ দাড় করিয়ে একটা সন্দেহ বা ধুম্রজাল তৈরী করা। কারন ছাহাবীরা যদি সমালোচনার আওতায় চলে আসলে পুরা ইসলামটাই সমালোচনার মধ্যে চলে আসবে। এবং সহজেই মানুষকে পথভ্রষ্ট করা যবে। এটা মাথায় রেখে সে আমেরিকার সুক্ষ্ম মদদে কিছু আক্বীদা মুসলিম সমাজে প্রবেশ করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। তার কতিপয় নিম্নে দেয়া হলো-

(১) হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে মওদুদীর কুফরী আক্বীদা: “ছাহাবাদিগকে সত্যের মাপকাঠি জানবে না।” (নাঊযুবিল্লাহ)

(দস্তরে জামাতে ইসলামী, ৭ পৃষ্ঠা)

(২) সাহাবায়ে কিরাম অনেকে মনগড়া হাদীস বর্ননা করেছেন।”

(তরজুমানুল কুরআন, ৩৫ সংখ্যা)

(৩) হযরত আবু বকর সিদ্দিক (আলাইহিস সালাম) খিলাফতের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ অযোগ্য ছিলেন।”

(তাজদীদ ও এহহীয়ায়ে দীন ২২ পৃ)

(৪) হযরত উসমান (আলাইহিস সালাম) উনার মাঝে স্বজন প্রীতীর বদগুন বিদ্যমান ছিলো।”

(খেলাফত ও মুলকিয়াত ৯৯ পৃ)

(৫) হযরত আলী (আলাইহিস সালাম) খেলাফত কালে এমন কিছু কাজ করেছেন যাকে অন্যায় বলা ছাড়া উপায় নাই !”

(খেলাফত এ মুলকিয়াত ১৪৬ পৃ)

(৬) হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু স্বর্থবাদী, গনিমতের মাল আত্বসাৎকারী, মিথ্যা সাক্ষ্য গ্রহনকারী ও অত্যাচারী ছিলেন।”

(খেলাফত ও মুলকিয়াত ১৭৩ পৃ)

নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক।

[মওদূদি সিআইএর এজেন্ট তার প্রমাণ দেখতে পড়ুন – ]

আর এই বাতিল ফির্কা জামাতের এসকল বক্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব প্রদান করে মুসলিম উম্মাহর খেদমতে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম উনাদের ফযীলত তুলে ধরার কোশেশ করলাম। আল্লাহ পাক কবুল করার মালিক।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ফজিলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে অনেক আয়াত শরীফ বর্ননা করেছেন। কতিপয় আয়াত শরীফ উল্লেখ করা হলো-

اولءك الذين امتحن الله قلوبهم. لهم مغفرة و اجر عظيم

অর্থ: আল্লাহ পাক উনাদের অন্তর সমূহ তাক্বওয়ার জন্য পছন্দ করেছেন এবং উনাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহান প্রতিদান।

[ সূরা হুজরাত ৩ নং আয়াত শরীফ ]

والز مهم كلمة التقوي وكانوا احق بها واهلها

অর্থ: আল্লাহ পাক উনাদের জন্য তাক্বওয়ার দায়িত্ব অপরিহার্য করে দিয়েছেন। বস্তুতঃ উনারাই ছিলেন এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত।

[ সূরা ফাতাহ ২৬ নং আয়াত শরীফ ]

ولكن الله حبب اليكم الايمان وزينه في قلوبكم و كره اليكم الكفر والفسوق و العصيان اولءك هم الرشدون

অর্থ: আল্লাহ পাক ঈমানকে আপনাদের (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) অন্তরে প্রিয় ও সুশোভিত করে দিয়েছেন। আর কুফর, পাপাচার ও নাফরমানী আপনাদের নিকট অপ্রিয় করে তুলেছেন।

[ সূরা হুজরাত ৭ নং আয়াত শরীফ ]

امنوا كما امن الناس

অর্থ: ওই সকল ব্যক্তিগন ( ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন) যেভাবে ঈমান এনেছেন, তোমরাও সেভাবে ঈমান আন।

[ সূরা বাক্বারা ১৩ নং আয়াত শরীফ ]

فان امنوا بمثل ما امنتم به فقد اهتدوا

অর্থ: যদি তারা ঐরূপ ঈমান আনে যেরূপ আপনারা (ছাহাবাগন) ঈমান এনেছেন, তাহলে তারা হিদায়েত লাভ করবে।

[ সূরা বাক্বারা ১৩৭ নং আয়াত শরীফ ]

كنتم خير امة اخرجت للناس تأمرون بالمعروف وتنهون عن المنكر

অর্থ: আপনারাই হলেন সর্বোত্তম উম্মত। মানুষের মধ্য থেকে আপনাদেরকে বের করা হয়েছে এজন্য যে, আপনারা সৎ কাজে আদেশ এবং বদকাজে বাধা প্রদান করবেন।

[ সূরা আল ইমরান ১১০ নং আয়াত শরীফ ]

لقد رضي الله عن المؤمنين

অর্থ: আল্লাহ পাক মু’মিনগনের প্রতি সন্তুষ্টি ঘোষণা করেছেন।

[ সূরা ফাতাহ ১৮ নং আয়াত শরীফ ]

ان الذين سبقت لهم منا الحسني اولءك عنها مبعدون

অর্থ: যাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে হুসনার ফয়সালা হয়ে গেছে, তাঁদেরকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে।

[ সূরা আম্বিয়া ১০১ নং আয়াত শরীফ ]

وكلا وعد الله الحسني

অর্থ : আল্লাহ তায়ালা তাঁদের ( ছাহাবায়ে কিরাম) সবাইকে হুসনা তথা উত্তম পরিনতির ওয়াদা দিয়েছেন।

[ সূরা হাদীদ ১০ নং আয়াত শরীফ ]

উপরোক্ত আয়াত শরীফ সমূহ থেকে আমরা বুঝতে পারি হযরত ছাহাবায়ে কিরামগন কতটুকু মকবুল। স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজেই তাঁদের ঈমান, হিদায়েত এবং সত্যের মাপকাঠি ঘোষণা করে দিয়েছেন। এবং তাকওয়া সম্পন্ন অন্তকরন দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। আর দিয়েছে হুসনা বা উত্তমের ওয়াদা, আল্লাহ পাক উনাদের প্রতি চির সন্তুষ্ট।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহম উনাদের ফযিলত সম্পর্কে অনেক হাদীস শরীফ বর্নিত আছে। পৃথিবীর সকল হাদীস শরীফের কিতাবেই উনাদের নিয়ে “ফাদ্বায়িলুস ছাহাবা” নামক একটা অধ্যায় রচনা করা হয়েছে। সেখানে অসংখ্য হাদীস শরীফ পাওয়া যায় উনাদের শান মান সম্পর্কে।
বিশ্ববিখ্যাত কিতাব “মিশকাত শরীফে” একটা হাদীস শরীফ বর্নিত আছে। যেখানে সকল ছাহাবায়ে কিরাম উনাদের হিদায়েত এবং সত্যের মাপকাঠি হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم اصحابي كالنجوم بايهم اقتديتم اهتديتم

অর্থ: হযরত উমর ইবনুল খত্তাব (আলাইহিস সালাম) হতে বর্নিত, তিনি বলেন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুগন সকলেই আকাশের তারকা সাদৃশ্য, তাঁদের যেকোন একজনকে অনুসরন করলেই হিদায়েত প্রাপ্ত হবে। ”

দলীল-
√ মিশকাত শরীফ।
√ মিরকাত শরীফ !
√ রযীন।
√ আশয়াতুল লুময়াত।

শুধু তাই নয়, ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনের অনুসরন করলেই জান্নাতী দলের আওতায় আস যায়, অন্যথায় চির জাহান্নামী হতে হয়। হাদীস শরীফে স্পষ্ট উল্লেখ আছে-

ستفترق امتي علي ثلاث وسبعين ملة كلهم في النار الا ملة واحدة قالوا من هي يا رسول الله صلي الله عليه و سلم قال ما انا عليه واصحابي

অর্থ: অতি শিঘ্রই আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। একটি দল ব্যতীত বাহাত্তরটি দলই জাহান্নামে যাবে। তখন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুগন বললেন, ইয়া রসূল্লাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নাজাত প্রাপ্ত দল কোনটি ? হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি এবং আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুগনের মত ও পথের উপর যারা কায়েম থাকবে।”

দলীল-
√ আবু দাউদ শরীফ ৪৫৯৯
√ দারেমী শরীফ ২৫১৮
√ তিরমিযী শরীফ।
√ মিশকাত শরীফ কিতাবুল ঈমাম বাবু ইতিছাম বিল কিতাব ওয়া সুন্নাহ।

এই দল প্রসঙ্গে অন্য হাদীস শরীফে বলা হয়েছে-

عن معاوية رضي الله عنه ثنتان وسبعون في النار و واحدة في الجنة وهي الجماعة
অর্থ: হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত আছে, বাহাত্তরটি দল হবে জাহান্নামী আর একটি দল হবে জান্নাতী। আর সে দলটি হচ্ছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত।”

দলীল-
√ ছহীহ আবু দাউদ শরীফ।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের এত মর্যাদা আল্লাহ পাক দিয়েছেন যেটা মানুষ চিন্তাও করতে পারবে না। একটা হাদীস শরীফের মাধ্যমে সে বিষয়ে কিছুটা আলোকপাত করা হলো-

لا تسبوا اصحابي فلو ان احدكم انفق مثل احد ذهبا ما بلغ مد احدهم ولا نصيفه

অর্থ: তোমরা আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনে গালি দিও না। কেননা যদি তোমাদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমান স্বর্ণ আল্লাহ পাকের রাস্তায় দান করে, তবুও ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনের এক মুদ (১৪ ছটাক) বা অর্ধ মদ (৭ ছটাক) গম দান করার ফযীলতের সমপরিমান ফযীলতও অর্জন করতে পারবে না।”

দলীল-
√ বুখারী শরীফ।
√ ফতহুল বারী।
√ উমদাতুল ক্বারী।
√ ইরশাদুস সারী।
√ মিশকাত শরীফ

চিন্তা করুন কত ফযীলত দেয়া হয়েছে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের। সমগ্র দুনিয়ার সকল মানুষের নেক আমল এক করলেও ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের কয়েক মুহূর্তের আমলের সমান হবে না।

আর এসকল ফযীলতের কারনে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে বিখ্যাত ফক্বীহ ছাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ননা-

من كان مستنا فليستن بمن قدمات فان الحي لا تؤمن عليه الفتنة اولءك اصحاب محمد صلي الله عليه و سلم كانوا افضل هذه الامة ابرها قلوبا واعمقها علما واقلها تكلفا اختارهم الله لصحبة نبيه ولاقامة دينه فاعرفوالهم فضلهم واتبعوا علي اثرهم وتمسكوا بما استطعتم من اخلاقهم وسيرهم فانهم كانوا علي الهدي المستقيم

অর্থ: যে ব্যক্তি শরীয়তের সঠিক তরীক্বা অনুসরন করতে চায়, তার উচিত যারা অতীত হয়েছেন (ছাহাবায়ে কিরাম) তাঁদের অনুসরন করা। উনারা উম্মতের মধ্যে সর্বোউত্তম, আত্মার দিক দিক থেকে অধিক পবিত্র, ইলমের দিক থেকে গভীর, উনারা লোক দেখানো আমল থেকে মুক্ত। আল্লাহ পাক তাঁদেরকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথী হিসেবে মনোনীত করেছেন।
সূতরাং তাদের মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়ীল-ফযীলত, শান-শওকত সম্পর্কে অবগত হও এবং তাঁদের কথা ও কাজের অনুসরন কর এবং যথাসম্ভব তাঁদের সীরত ছূরতকে গ্রহন করো, কারন উনারা হিদায়েত এবং “সিরাতুল মুস্তাক্বীম” এর উপর প্রতিষ্ঠিত।”

দলীল-
√ মিশকাত শরীফ ৩২ পৃষ্ঠা।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের সমালোচনা করা, উনাদের বিদ্বেষ করা কুফরী :

আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-

ان الذين يؤذون الله ورسوله لعنهم الله في الدنيا والاخرة واعدلهم عذابا مهينا

অর্থ: নিশ্চয়ই যার আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেয়, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের প্রতি আল্লাহ পাকের অভিসম্পাত এবং তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।”

[ সূরা আহযাব ৫৭ ]

এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীস শরীফে বর্নিত আছে-

الله الله في اصحابي لا تتخذوهم غزضا من بعدي فمن احبهم فبحبي احبهم ومن ابغضهم فببغضي ابغضهم ومن اذاهم فقد اذاني ومن اذاني فقد اذي الله ومن اذي الله فيوشك ان ياخذه

অর্থ: আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম সম্পর্কে আল্লাহ পাককে ভয় কর, আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম সম্পর্কে আল্লাহ পাককে ভয় কর। আমার বিছাল শরীফের পর উনাদেরকে তিরস্কারের লক্ষ্যস্থল করো না। যে ব্যক্তি তাদের মুহব্বত করলো, সে আমাকে মুহব্বত করার কারনেই করলো। যে ব্যক্তি তাঁদের বিদ্বেষ পোষন করলো সে আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষন করার কারনেই করলো। যে ব্যক্তি ব্যক্তি তাঁদের কষ্ট দিলো, সে মূলতঃ আমাকেই কষ্ট দিলো, আর যে আমাকে কষ্ট দিলো সে মূলত আল্লাহ পাককে কষ্ট দিলো, আর যে আল্লাহ পাককে কষ্ট দিল আল্লাহ পাক তাকে শিঘ্রই পাকড়াও করবেন।”

দলীল-
√ তিরমিযী শরীফ।

সূতরাং উক্ত দলীল থেকে বোঝা গেল, যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদের প্রতি বিন্দু মাত্র সমালোচনা করবে, উনাদের বিরুদ্ধে স্বজন প্রীতির অপবাদ দিবে, তারা নিশ্চিত কাফির হয়ে জাহান্নামে যাবে।

আল্লাহ পাক আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

ليغيظ بهم الكفار

অর্থ: একমাত্র কাফিররাই তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করে।

[ সূরা ফাতাহ ২৯ ]

এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় হাদীস শরীফে বর্নিত আছে-

من غاظه اصحاب محمد صلي الله عليه و سلم فهو كافر

অর্থ: যে ব্যক্তি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করবে, সে কাফির।”

দলীল-
√ মিশকাত শরীফ।

” কানযুল উম্মাল” নামক বিখ্যাত হাদীস শরীফের কিতাবে বর্নিত আছে-

حب اصحابة ايمان وبغضهم كفر

অর্থ: হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনের প্রতি মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করা কুফরী।”

হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফের পর একটা মুরতাদ দল বের হবে যারা কিনা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের প্রতি বিদ্বেষ করবে। এদের সম্পর্কে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পূর্বেই সতর্ক করে ভবিষ্যতবানী করেছেন-

سيأتي قوم يصبونهم ويستنقصو نهم فلا تجالسو هم ولا تاكلوهم ولا تشاربهم ولا تناكحوهم وفي رواية اخري ولا تصلوا معهم ولا تدعولهم

অর্থ: অতি শীঘ্রই একটি দল বের হবে, যারা আমার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনকে গালি দিবে, উনাদের নাকিছ বা অপূর্ন বলবে। সাবধান ! সাবধান ! তোমরা তাদের মজলিসে বসবে না, তাদের সাথে পানাহার করবে না, তাদের সাথে বিয়েশাদীর ব্যবস্থা করবে না। অন্য রেওয়াতে আছে, তাদের পেছনে নামাজ পড়বে না এবং তাদের জন্য দোয়া করবে না।”

আরো ইরশাদ হয়েছে,-

اذا رأيتم الذين يسبون اصحابي فقولوا لعنة الله علي شركم

অর্থ: যখন তোমরা কাউকে আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনকে গালি দিতে দেখবে, তখন তোমরা বলো, এ নিকৃষ্ট কাজের জন্য তোমাদের প্রতি আল্লাহ পাকের লা’নত বর্ষিত হোক।”

দলীল-
√ তিরমীযি শরীফ ছাহাবীদের অধ্যায়।

বিখ্যাত সিরাত গ্রন্থ “শিফা” তে বর্নিত আছে-
ذكر اصحابي فامسكوا

অর্থ: আমার ছাহাবীদের আলোচনাকালে তোমরা সংযত থেকো।”

ইমামে আযম, ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

لا تذكر احدا من اصحاب رسول الله صلي الله عليه و سلم الا بخير

অর্থ: আমরা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রত্যেক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন সম্পর্কে সুধারনা পোষন করি।”

দলীল-
√ ফিক্বহুল আকবার।

বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস হযরত ইবনে হাজার আসক্বালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাফিজে হাদীস আবু যারয়া রাযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ননা উল্লেখ করে বলেন-

اذا رايت الرجل ينتقص احدا من اصحاب النبي صلي الله عليه و سلم فاعلم انه زنديق

অর্থ: যখন কাউকে দেখবে যে, সে কোন একজন ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার অবমাননা করছে, তখন তুমি নিশ্চিত জানবে সে ব্যক্তি নির্ঘাত কাফির।”

দলীল-
√ আল ইসাবা লি ইবনে হাজার আসক্বালানী ১ম খন্ড ১৮ পৃষ্ঠা।

সূতরাং উপরের বিস্তারিত দলীল থেকে প্রমানিত হলো, যারা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের অবমাননা করবে, হক্বের মাপ কাঠি মানবে না, বেয়াদবী মূলক কথা বলবে, স্বজন প্রীতির অভিযোগ করবে এরা সবাই বিনা সন্দেহে কাফির।

এত সুস্পষ্ট প্রমান থাকার পরও জামাতি মওদূদীরা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের প্রতি বিদ্বেষ এবং সমালোচনা করে থাকে। তারা জলিলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার বিরুদ্ধে চরম আপত্তিকর কথা বলে থাকে। তারা বলে, তিনি নাকি হক্বের উপর ছিলেন না। নাউযুবিল্লাহ !! অথচ ইতিহাস দেখুন পূর্ববর্তী অনুসরনীয় উনাদের দৃষ্টিতে মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু কেমন ছিলেন। ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ছাত্র বিখ্যাত হাদীস বিশারদ , আমিরুল মু’মিনিন ফিল হাদীস আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, –

ايما افضل معاوية او عمر بن عبد العزيز فقال والله لغبار الذي دخل انف فرس معاوية مع رسول الله صلي الله عليه و سلم خير من مأة واحد مثل عمر بن عبد العزيز

অর্থ: হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু শ্রেষ্ঠ নাকি হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহি (তাবেয়ী) শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন, আল্লাহ পাকের কসম ! হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ঘোড়ায় চড়ে জিহাদে যেতেন, তখন ঘোড়ার নাকে যে ধুলা বালি প্রবেশ করতো, সে ধুলাবালিও হযরত উমার বিন আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহির ন্যায় শতশত ব্যক্তি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।”

দলীল-
√ ফতোয়ায়ে হাদিসিয়্যাহ লি ইবনে হাজর হায়তামী

চিন্তা করে দেখুন হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার কত মর্যাদা। উনার ঘোড়ার নাকে প্রবিষ্ট ধুলিবালির মর্যাদা যদি একজন জলীল ক্বদর তাবেয়ীর থেকে শত গুন উত্তম হয় তবে কোন সাহসে ফুটপাতের হক্বার মওদূদী, সাঈদী, জামাতিরা হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বিরোধিতা করে ???

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম গন এত সম্মানিত যে, স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজেই উনাদের সার্টিফিকেট প্রদান করেছেন। আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে বলেন-

“আপনি পাবেন না আল্লাহ পাক ও আখিরাতে বিশ্বাসী এমন কোন সম্প্রদায়, যারা ভালোবাসেন আল্লাহ পাক এবং রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিরুদ্ধচারীদেরকে হোক না এই বিরুদ্ধচারীরা উনাদের পিতা, উনাদের পুত্র, ভাই অথবা উনাদের নিজেদের গোত্র। উনাদের অন্তরে আল্লাহ পাক সুদৃঢ় করেছেন ঈমান এবং তাদের শক্তিশালী করেছেন উনার পক্ষ হতে রূহ (হিদায়েত ও গায়েবী সাহায্য) দ্বারা। তিনি উনাদের দাখিল করবেন জান্নাতে , যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত, সেথায় উনারা স্থায়ী হবেন। আল্লাহ পাক উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন উনারও উনার প্রতি সন্তুষ্ট, তারাই আল্লাহ দল। জেনে রাখুন, আল্লাহ পাকের দলই সফলকাম।” [ সূরা মুজাদালা – আয়াত শরিফ ২২ ]

এর চাইতে বড় সার্টিফিক আর কি হতে পারে? সুবহানাল্লাহ্!!

মানুষকে ধোঁকা দেয়ার কিছু মনগড়া ইতিহাস, ভুল বর্ননাকে পুঁজি করে জামাতিরা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম গনের সমালোচনা করে। অথচ উছুল হচ্ছে, ইতিহাস যদি কুরআন হাদীস শরীফের বিরোধী হয় সেটা পরিতাজ্যা। কুরআন সুন্নাহ আলোকে ইতিহাস গ্রহণ করতে হবে। কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক সকল ছাহাবী মিয়ারে হক্ব বা সত্যের মাপকাঠি। এটা অস্বীকার করা চরম কুফরী।

কোরআন, হাদীস, ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফের দৃষ্টিতে ইয়াযীদ কাফির এবং তার সমর্থনকারীরাও কাফির

পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফের দৃষ্টিতে ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাফির এবং তার সমর্থনকারীরাও কাফির কিভাবে জানতে এই পোষ্ট খানা পড়ুন গভীর মনোযোগ সহকারেঃ পৃথিবীর কিছু ঘটনা এতটা নির্মম, এতটা অমানবিক এতটা হৃদয়বিদারক যা বলার কোন ভাষা থাকে না। সৃষ্টি জগৎ যেন হতভম্ব হয়ে থেমে যায় শোকে, আকাশ বাতাস হাহাকার করতে থাকে। আর মানব হৃদয়ে অনন্তকাল ধরে চলতে থাকে রক্তক্ষরন। কারবালার হৃদয়বিদারক ইতিহাস সবারই কম বেশি জানা আছে। সবাই জানেন সেই কারবালা প্রন্তরে হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দৌহিত্র সাইয়্যিদুনা ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম এবং উনার পরিবারবর্গের অনেককে নির্মম ভাবে শহীদ করা হয়। শুধু তাই নয়, সেই কর্তিক মস্তক নিয়ে আনন্দ মিছিলও করে সেই কুলাঙ্গারের দলেরা। ইতিহাস সাক্ষী , হাজার হাজার কিতাব, ইমাম মুস্তাহিদদের বক্তব্য সাক্ষী এই ভয়াবহ নির্মম হত্যাকান্ড চালিয়েছিলো ইয়াযীদি বাহীনি। ইয়াযীদের প্রকাশ্য নির্দেশে তার সৈন্য বাহীনি ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে এবং উনার পরিবারের সদস্যদেরকে অবরোধ করে রাখে ফোরাত নদীর তীরে। এক ফোঁটা পানিও পান করতে দেয় নাই পিশাচেরা। পরিশেষে তারা ইতিহাসের সবচাইতে নির্মম, হৃদয়বিদারক, পৈশাচিক ঘটনার অবতারনা করে ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম এবং উনার পরিবারের সদস্যদের শহীদ করার মাধ্যমে। যেটা মেনে নেয়া কারো পক্ষে কোনদিনও সম্ভব নয়।

অথচ আফসোস লাগে, হতবাক হতে হয় তখন, আজ উক্ত ঘটনার ১৩৭২ বছর পর যখন শুনতে হয় ইয়াযীদের মত সৃষ্টির সবচাইতে নিকৃষ্ট মালউনকে মুসলমান ছদ্মবেশী এক শ্রেনীর ধর্মব্যবসায়ী, ইতিহাস বিকৃতকারী, ইহুদী এজেন্ট “তাবেয়ী, আমীরুল মু’মিনিন, রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু” ইত্যাদি শব্দ দ্বারা সম্ভাষন করে। কি বিশ্বাস হয় না ?

দেখুন, দেওবন্দী সিলসিলার মাহীউদ্দীন সম্পাদীত “” মাসিক মদীনা”” পত্রিকায় এই কাফের ইয়াজীদকে সমর্থন করে কি বলা হয়েছে-

“ইয়াজীদ তাবেয়ী ছিলো। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার ব্যাপারে তার প্রতি মন্দরুপ কিংবা কিছু বলা ঠিক হবে না।”” নাউযুবিল্লাহ মিন জালিক !

প্রমান-
√ মাসিক মদীনা ,এপ্রিল,২০১০ সংখ্যা , প্রশ্ন উত্তর বিভাগ।

ইহুদীদের অন্যতম দালাল জাকির নায়েক নামক কাফির নায়েক কারবালার ময়দানের ঘৃণিত পশু ইয়াযীদকে ‘তাবে-তাবীঈন’ বলে উল্লেখ করে তাকে জান্নাতী বলে এবং তার নামের শেষে ‘রহমতুল্লাহি আলাইহি’ উচ্চারণ
করে থাকে। (নাঊযুবিল্লাহ)

প্রমান : http://www.youtube.com/watch?v=1mMQbR_48IU

তাই একজন আহলে বাইতে শরীফ উনার একজন অতি নগন্য গোলাম হিসাবে এ বিষয়ে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ার কোন বিকল্প নেই। তাই আজ আপনাদের খেদমতে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের দৃষ্টিতে ইয়াযীদ যে কাফির, লা’নতপ্রাপ্ত, মরদুদ, পথভ্রষ্ট সে বিষয়ে দলীল পেশ করবো।

এ বিষয়টা সম্পূর্ণ বোঝার জন্য আমাদের সর্বপ্রথম হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম এবং খাছ করে হযরত সাইয়্যিদুনা ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার ফযীলত জানতে হবে এবং উপলব্ধি করতে হবে।

কুরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফের আলোকে হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ফযীলত :

মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-

قل لا اسءلكم عليه اجرا الا المودة في القر بي

অর্থ: হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! আপনি ( উম্মতদের ) বলুন, আমি তোমাদের নিকট নবুওয়াতের দায়িত্ব পালনের কোন প্রতিদান চাই না। তবে আমার নিকটজন তথা আহলে বাইত উনাদের প্রতি তোমরা সদাচারন করবে।”
( সূরা শূরা : আয়াত শরীফ ২৩ )

এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় বিখ্যাত তফসীর “তাফসীরে মাযহারীতে” উল্লেখ আছে-

لا اسءلكم اجرا الا ان تودوا اقرباءي واهل بيتي و عترتي وذلك لانه صلي الله عليه و سلم كان خاتم النبين لا نبي بعده

অর্থ: আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাই না তবে তোমরা আমার নিকটাত্মীয়, আহলে বাইত ও বংশধর উনাদের ( যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক) হক্ব আদায় করবে। কেননা আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন শেষ নবী। উনার পরে কোন নবী নেই।”

দলীল-
√ তাফসীরে মাযহারী ৮ম খন্ড ৩২০ পৃষ্ঠা।

আহলে বাইত শরীফ উনাদের ফযীলত সম্পর্কে বহু হাদীস শরীফ বর্নিত আছে। সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উনাদের মুবারক শানে পৃথিবীর সকল হাদীস শরীফের কিতাবে “আহলে বাইত শরীফ উনাদের ফযীলত” নামক সতন্ত্র অধ্যায় সন্নিবেশিত আছে। তন্মধ্যে কতিপয় হাদীস শরীফ থেকে হযরত সাইয়্যিদুনা ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার ফযীলত নিম্নে উল্লেখ করা হলো :

“উম্মুল মু’মিনিন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, একদা ভোরবেলা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একখানা কালো বর্নের পশমী নকশী কম্বল শরীর মুবারকে জড়িয়ে বের হলেন। এমন সময় হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি সেখানে আসলেন, তিনি উনাকে কম্বলের ভিতর প্রবেশ করিয়ে নিলেন। তারপর ইমাম হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন, উনাকেও হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার উনার সাথে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর সাইয়্যিদাতুন নিছা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন উনাকেও তাতে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। তারপর হযরত আলী আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন, উনাকেও তার ভিতর প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন শরীফের এই আয়াত শরীফখানা পড়লেন, হে আমার আহলে বাইত ! আল্লাহ তায়ালা তিনি আপনাদেরকে সকল প্রকার অপবিত্রতা থেকে মুক্ত রেখে পবিত্র করার মত পবিত্র করবেন।” অর্থাৎ পবিত্র করেই সৃষ্টি করেছেন।

দলীল-
√ সহীহ মুসলিম শরীফ – বাবু ফাদ্বায়িলু আহলে বাইতিন নাব্যিয়ি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ৬০৪৩ নং হাদীস শরীফ। (ইফা)

হাদীস শরীফে আরো বর্নিত আছে-

ان رسول الله صلي الله عليه و سلم قال لعلي رضي الله عنه و فاطمة عليها السلام و الحسن عليه السلام و الحسين عليه السلام انا حرب لمن حاربهم و سلم لمن سالمهم

অর্থ: হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম , ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের সম্পর্কে বলেছেন, যারা উনাদের প্রতি শত্রুতা পোষন করবে, আমি তাদের শত্রু। পক্ষান্তরে যে উনাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবো।”

দলীল-
√ সহীহ তিরমিযী শরীফ – আহলে বাইত শরীফ উনাদের ফযীলত অধ্যায়।

হাদীস শরীফে আরো বর্নিত আছে-

عن حضرت ابي سعيد رضي الله تعالي عنه قال رسول الله صلي الله عليه و سلم الحسن عليه السلام و الحسين عليه السلام و الحسسين عليه السلام سيدا شباب اهل الجنة

অর্থ: হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বলেন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা দু’জনেই জান্নাতী যুবকগনের সাইয়্যিদ।”

দলীল-
√ তিরমীযি শরীফ – আহলে বাইত শরীফ উনাদের ফযীলত অধ্যায়। হাদীস শরীফে ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে মুহব্বত প্রসঙ্গে আরো বর্নিত আছে –
عن يعلي بن مرة رضي الله عنه قال قال رسول صلي الله عليه و سلم حسين عليه السلام مني و انا من حسين عليه السلام احب الله من احب حسينا

অর্থ : হযরত ইয়ালা ইবনে মুররাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি আমার থেকে আর আমি হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার থেকে। যে ব্যক্তি হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে মুহব্বত করবে আল্লাহ পাক তিনি তাকে মুহব্বত করবেন।'”

দলীল-
√ সহীহ তিরমিযী শরীফ- আহলে বাইত শরীফ উনাদের ফযীলত।

সহীহ হাদীস শরীফে আরো বর্নিত আছে-

عن حضرت ابي ذر رضي الله عنه انه قال وهو اخذ بباب الكعبة سمعت انبي صلي الله عليه و سلم يقول الا ان مثل اهل بيتي فيكم مثل سفينة نوح من ركبها نجا ومن تخلف عنها هلك

অর্থ: হযরত আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্নিত, তিনি কা’বা শরীফের দরজা ধরে বলেছেন, আমি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি , সাবধান ! আমার আহলে বাইত শরীফ হলেন তোমাদের জন্য নূহ আলাইহিস সালাম উনার নৌকার মত। যে তাতে আরোহন করবে, সে রক্ষা পাবে। আর যে তাতে পশ্চাতে থাকবে সে ধব্বং হবে।”

দলীল-
√ মুসনাদে আহমদ শরীফ ।

কুরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফ থেকে প্রমান হলো আহলে বাইত শরীফ উনাদের মুহব্বত করা ঈমান। এবং সন্তুষ্টি রেযামন্দী পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম। আর কেউ যদি বিন্দু মাত্র বিদ্বেষ করে সে কাট্টা কাফির হয়ে যাবে।

বিবেকবান মানুষেরা একটু দেখুন, হাদীস শরীফে আছে-

سباب المسلم فسوق وقتاله كفر

অর্থ- মুসলমানকে গালি দেয়া ফাসেকি আর কতল করা কুফরী !”

দলীল-
√ বুখারী শরীফ
√ মুসলিম শরীফ

এখন একজন সাধারণ মানুষকে হত্যা করা যদি কুফরী হয় তাহলে নবীজী উনার পরিবারের অন্যতম, বেহেশতের যুবকদের প্রধান, যিনি নবীজী উনার নামাজের সময় নবীজীর কাঁধ মুবারকে উঠলে নবীজী সেজদা দীর্ঘায়িত করতেন এমন মর্যাদার অধিকারী ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শহীদ কারী কি মুসলমান থাকে ? তাবেয়ী থাকে? সেকি কাফের হয় না? অথচ মালাউন দেওবন্দী গ্রুপের মাসিক পত্রিকা মদীনার সম্পাদক মাহীউদ্দীন, জাকির নায়েক নামক কাফির নায়েক তাকেও তাবেয়ীর মর্যাদা দান করছে !” কি জবাব দিবেন ?
একজন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বিরোধিতা করাই কুফরী, আর সেখানে সাহাবীতো বটেই বরং নববী পরিবারের সদস্য ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করে কেই মুসলমান থাকতে পারে?

হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের ফযীলত এবং উনাদের সাথে বেয়াদবী করার ফলাফলঃ

এবার আসুন আমরা দলীল দিয়ে প্রমান করি ইয়াজীদ কাফির এবং লানতের উপযুক্ত ছিলো। বিখ্যাত ইমাম ও মুফাসসির আল্লামা আলূসী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে সূরা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ২২ নং আয়াত শরীফের তাফসীরে এ বিষয়ে সকল ইমাম মুস্তাহিদ উনাদের রায় অনুযায়ী বিস্তারিত প্রমাণ পেশ করেছেন-

وقد صرح بكفره وصرح بلغنه جماعة من العلماء منهم الحافظ ناصر السنة ابن الجوزي وسبقه القاضي ابو يعلي وقال العلامة التفتازاني لانتوقف في شانه بل في ايمانه لعنة الله تعالي عليه وعلي انصاره واعوانه وممن صرح بلعنه الجلال السيوطي عليه الرحمت

অর্থ- ইয়াজীদ কাফির হওয়া সম্পর্কে এবং তার প্রতি লানত করা বৈধতার বিষয়ে এক জামাতের উলামা পরিস্কার মন্তব্য করেছেন। উনারা হলেন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতের মদদগার ইবনুল জাওজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আর উনার পূর্বে হযরত কাজী আবু ইয়ালা রহমাতুল্লাহি আলাইহি। আর আল্লামা হযরত তাফতানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমরা ইয়াজীদের ব্যাপারে দ্বিধা করবো না। এমনকি তার ঈমানের ব্যাপারে ও না। তার প্রতি, তার সাহায্যকারী দের প্রতি, এবং শুভকামনা কারীদের প্রতি আল্লাহ পাকের লানত। যারা ইয়াজীদ সুস্পষ্ট লানত করেছেন তাদের মধ্যে ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনিও রয়েছেন।”

দলীল-
√ তাফসিরে রুহুল মায়ানী ২৫ খন্ড ৭২ পৃষ্ঠা

বিশ্ব বিখ্যাত সুন্নী আক্বায়ীদের কিতাব “আক্বীয়ীদে নাসাফী” কিতাবে বর্নিত আছে –

وبعضهم اطلق اللعن عليه لما انه كفر حين امر يقنل الحسين رضي الله عنه و اتفقوا علي جواز اللعن علي من قتله او امر به او اجازه ورضي به والحق ان رضا يزيد يقتل حضرت الحسين عليه السلام و استبشاره بزلك و اهانة اهل بيت النبي صلي الله عليه وسلم مما تواتر معناه ان كان تفاصيله احادا فنحن لانتوقف في شانه بل في ايمانه لعنت الله عليه وعلي انصاره واعوانه

অর্থ- কতক আলেম ইয়াজীদদের প্রতি লা’নত বর্ষন করেছেন। কারন ইয়াজীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার নির্দেশ দিয়ে কাফিরের কর্ম করে। আর যে ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করেছে, যে উনাকে শহীদ করার নির্দেশ জারী করেছে, যে উনাকে শহীদ করাকে বৈধ বলে মত পোষন করেছে, এসব কান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছে -এরুপ লোকদের প্রতি লা’নত ও অভিসম্পাত দেয়াকে সকলেই বৈধ বলেছেন। আর সত্য হলো, ইয়াজীদ ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার ব্যাপারে রাজি ছিলো। উনার শহাদাত বরনের ব্যাপারে সে উল্লসিত ছিলো। সে নবীজী উনার পরিবারের মানহানী করে আনন্দিত হয় । নাউযুবিল্লাহ ! কাজেই আমরা (আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত) ইয়াজীদের ব্যাপারে এতটুকু দ্বীধা করবো না , এমনকি তার ঈমানের প্রশ্নেও না। ইয়াজীদের প্রতি লা’নত ও অভিসম্পাত , ইয়াজীদের
সাহায্যকারী দের প্রতি লানত ও অভিসম্পাত। ইয়াজীদের পক্ষ সমর্থন
কারীদের প্রতি লা’নত ও অভিসম্পাত।”

দলীল–
√ শরহে আক্বায়ীদে নসফী ১৬২ পৃষ্ঠা!

বিখ্যাত ইমাম ও মুস্তাহিদ হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইয়াজিদের প্রতি লা’নত করাকে বৈধ বলে কুরআন শরীফের আয়াত দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বর্নিত আছে-

انا الامام احمد سأله ولد عبد الله عن لعن يذيد قال كيف لا يلعن من لعنه الله تعالي في كتابه ؟ فقال عبد الله قد قرأت كتاب الله عز و جل فلم اجد فيه لعن يزيد فقال الامام ان الله تعالي يقول فهل عسيتم ان توليتم ان تفسدو في الارض و تقطعوا ارحامكم اولءك الذين لعنهم الله. واي فساد وقطيعة اشد مما فعله يزيد ؟

অর্থ : হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ছেলে হযরত আবদুল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতাকে ইয়াজিদকে লা’নত করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন। তিনি ছেলেকে বলেন, আল্লাহ পাক যাকে উনার কিতাব (কুরআন শরীফে) এ লা’নত করেছেন তাকে লা’নত করা যাবে না কেন ? হযরত আব্দুল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি আল্লাহ পাক উনার কিতাব পাঠ করেছি। কুরআন শরীফে ইয়াজিদকে লা’নতের সন্ধান পাই নাই। হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ছেলেকে বলেন, আল্লাহ পাক তিনি বলেন, হতে পারে তোমরা ফিরে যাবে আর পৃথিবীতে উপদ্রব সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের রেহমী বা জঠর সম্পর্ক ছিন্ন করবে। এরূপ লোকদের প্রতি আল্লাহ পাক তিনি লা’নত করেন। কাজেই ইয়াজিদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি যা করেছে তার চেয়ে অধিক উপদ্রব ও রেহমী সম্পর্ক ছিন্ন করা আর কি হতে পারে ?”

দলীল-
√ তাফসীরে রূহুল মাআনী ২৫ তম খন্ড ৭২ পৃষ্ঠা।

সুনির্দিষ্টভাবে ইয়াজিদের প্রতি লা’নত করা বৈধ হওয়ার প্রশ্নে হযরত আল্লামা আলুসী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার মত প্রদান করে বলেন,-

علي هذا القول ( اي علي جواز القول بععن معين) لانوقف في لعن يزيد بكثرة اوصافه الخبيثة وارتكابه الكباءر في جميع ايام تكليفه ويكفي ما فعله ايام استلاءه باهل المدينة ومكة فقد روي الطبراني بسند حسن : اللهم من ظلم اهل المدينة واخافهم فاخفه عليه لعنة الله واملاءكة والناس اجمعين لايقبل منه صرف ولاعدل
والطامة الكبري ما فعليه باهل البيت ورضاه بقتل الحسين علي جده وعليه الصاوة والسلام واستبشارة بذالك واهانته اهل بيته مما تواتر معناه وان كانت تفاصيله احدا.

অর্থ: এ কথার ভিত্তিতে (সুনির্দিষ্টভাবে অভিসম্পাত দানের বৈধতার ভিত্তিতে) ইয়াযিদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহিকে লা’নত করার প্রশ্নে আমরা দ্বিধা করবো না। সে বহুবিধ নিকৃষ্টমানের দোষ করেছে। তার জবর দখলের দিনগুলোতে সে মদীনা শরীফ ও মক্কা শরীফ এর অধিবাসীদের সাথে যে আচরন করেছে তার ব্যাপারে বিচার করতে গেলেই যথেষ্ট। প্রসঙ্গত হযরত ইমাম তাবরানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি হাসান সনদে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, হে বারে ইলাহী ! যে মদীনাবাসীদের প্রতি যুলুম করবে, উনাদের সন্ত্রস্ত করবে, আপনি তাকেও ভীতির সম্মুখীন করুন।” এরূপ ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ পাক, ফেরেশতাকুল, মানবকুলসহ সকলে অভিসম্পাত ( লা’নত) বর্ষিত হোক। এরূপ ব্যক্তির কোন ফরজ ও নফল ইবাদত কবুল করা হবে না। আর মহাপ্রলয়ের ন্যায় ইয়াযিদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত শরীফ (পরিবারবর্গ) উনাদের সাথে যা করেছে আর হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাতকে যেভাবে সানন্দে সে গ্রহণ করেছে। নাউযুবিল্লাহ । হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার নানা ও উনাদের উভয়ের প্রতি ছলাত ও সালাম বিনিময় নিবেদন করি এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার পরিবারবর্গের সাথে সে যেসব মানহানিকর ব্যবহার করেছে, তার বিস্তারিত বিবরন সূত্রগত একক বর্ননায় বর্নিত হলেও অর্থ ও তথ্য দৃষ্টে (মুতাওয়াতির) ব্যাপক সূত্রে বর্নিত।”

দলীল-
√ তাফসীরে রূহুল মায়ানী ২৫ তম খন্ড ৭২ নং পৃষ্ঠা।

বিখ্যাত মুফাসসির ও মুহাদ্দিস , মুফতীয়ে বাগদাদ হযরত আল্লামা আলূসী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইয়াজিদ কাফির হওয়া প্রসঙ্গে বলেন,-

انا اقول : الذي يغلب علي ظني ان الخبيث لم يكن مصدقا برسالة النبي صلي الله عليه و سلم وان مجموع ما فعل مع اهل حرم الله تعالي واهل حرم نبيه عليه لا لاة و السلام وعترته الطيبين الطاهرين في الحياة و بعد الموات وما صدر منه من المخازي ليس باضعف دلالة علي عدم تصديقه من القاء ورقة الصفف الشريف في قذر

অর্থ: আমি বলছি, আমার এটাই অধিক ধারনা যে, খবীসটি হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে রসূল বলে বিশ্বাস করতো না। সে আল্লাহ পাক উনার হেরেম শরীফে (কা’বা শরীফ প্রান্তে) অবস্থানকারীদের সাথে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হেরেম শরীফ (মদীনা শরীফ) এ অবস্থানকারীদের সাথে এবং উনার পূত-পবিত্র বংশধর উনাদের সাথে উনার জীবদ্দশায় এবং উনাদের বেছাল শরীফের পরে যে আচরন করেছে, এছাড়া তার দ্বারা যে সমস্ত অনাচার প্রকাশ পেয়েছে তা তার ঈমান না থাকার ব্যাপারটি স্পষ্ট করে, (তার ঈমান থাকার) ব্যাপারটি প্রমান করতে কোন দুর্বল দলীলও নাই। কারন এ কাজটি ছিলো কুরআন শরীফের পাতা অবহেলা অবজ্ঞার সাথে ময়লা আবর্জনায় নিক্ষেপ করার মতো অন্যায়।”

দলীল-
√ তাফসীরে রূহুল মা’য়ানী ২৫ তম খন্ড ৭৩ পৃষ্ঠা।

যারা ইয়াযিদের প্রতি লা’নত করাকে বৈধ মনে করবে না, তাকে পাপী মনে করবে না তারা ইয়াযিদের সহচরদের অন্তর্ভুক্ত বলে আল্লামা আলূসী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। আর তিনি ইয়াযিদের সহচরদের প্রতি ইয়াযিদের ন্যায় লা’নত করেছেন। তিনি বলেন-

ويلحق به ابن زياد وابن سعد وجماعة فلعنة الله عز و جل عليهم اجمعين وعلي انصارهم واعوانهم وشيعتهم ومن مال اليهم الي يوم القيامة ما دمعت عين علي ابي عبد الله الحسين

অর্থ: আর লা’নতের উপযোগী হওয়ার ব্যাপারে ইয়াযীদের সাথে শামিল উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ, আমর ইবনু সা’আদ, এবং তার দলবল। তাদের সবার প্রতি আল্লাহ পাক উনার লা’নত ও অভিসম্পাত। তাদের সাহায্যকারী ও শভানধ্যয়ী এবং সাঙ্গ পাঙ্গদের প্রতি লা’নত। আর যারা তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখাবে তাদের প্রতিও লা’নত ক্বিয়ামতের দিন পর্যন্ত। যতদিন হযরত আবু আব্দুল্লাহ হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার জন্য একটি মাত্র চোখও অশ্রু ঝরাবে।”

দলীল-
√ তাফসীরে রূহুল মায়ানী ২৫ তম খন্ড ৭৩ পৃষ্ঠা ।

আর যারা ইয়াজীদ কে কোনরুপ দোষারোপ করতে চায় না তাদের সম্পর্কে হযরত আলুসী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

ﺫﺍﻟﻚ ﻟﻌﻤﺮﻱ ﻫﻮ ﺍﻟﻀﻼﻝ ﺍﻟﺒﻌﻴﺪ ﺍﻟﺬﻱ ﻳﻜﺎﺩ
ﻳﺰﻳﺪ ﻋﻠﻲ ﺿﻼﻝ ﻳﺰﻳﺪ

অর্থ-আমি কসম করে বলি , এটা হলো চরম ভ্রষ্টতা। যা ইয়াজীদের ভ্রষ্টতাকে অতিক্রম করেছে।”

দলীল-
√ রুহুল মায়ানী ২৫ তম খন্ড ৭৩ পৃষ্ঠা ।

উপরোক্ত দলীল দ্বারা প্রামান হলো ইয়াযীদ হচ্ছে লা’নত প্রাপ্ত, খবীস, আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্নকারী, সর্বোপরি আহলে বাইত শরীফ উনাদের শহীদ কারী কাট্টা কাফির। এবং শুধু তাই নয় যারা কিয়ামত পর্যন্ত যারা ইয়াযীদকে সমর্থন করবে তারাও অভিশপ্ত এবং কাফির।

ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার কর্তিত মস্তক মুবারক দেখে ইয়াজিদের খুশি প্রকাশঃ

ইবনে যিয়াদ ইয়াযীদের নির্দেশে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত উনাদেরকে বন্দী করে এবং কারবালায় শাহাদাত প্রাপ্ত উনাদের কর্তিত মস্তক মুবারক নিয়ে মিছিল করে দামাস্কে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিমার ইবনে জুল জাউশান ইবনে সালাবা, শীস ইবনে রাবী, আমর ইবনে, হাজ্জাজ এবং আরো কতক লোককে নিযুক্ত করে। তাদের হুকুম দেয় তারা যে শহরে পৌঁছাবে সেখানে যেন কর্তিত মস্তক মুবারকের প্রদর্শনী করা হয়। নাউযুবিল্লাহ !! এরূপ মিছিলটি পহেলা ছফর দামেস্ক শহরের দ্বার দেশে পৌঁছে। ইয়াযীদ তখন জায়রূন রাজপ্রাসাদে অবস্থা করছিলো। সে প্রাসাদের বেলকুনীতে বসে দৃশ্য উপভোগ করছিলো। নাউযুবিল্লাহ ! সে দেখতে পেলো আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম বন্দী অবস্থায় আসছেন। কর্তিত শির মুবারক সমূহ বর্শার আগায় বিদ্ধ রয়েছে। জয়রূন উপকন্ঠে মিছিল পৌঁছালে পরে ওখানকার কাকগুলো কলরব করে বিলাপ প্রকাশ করতে লাগলো। ইয়াযীদ তখন কবিতা আবৃত্তি করে বিজয় উল্লাস করে বলে-

لما بدت تلك الحمول والشرقت + تلك الرؤس علي شفا جيرون + نعب الغراب فقلت قل او لاتقل + فقد اقتضيت من الرسول ديوني

অর্থঃ যখন ওইসব বাহন চোখে পড়লো, আর ওইসব মস্তক সামনে ভেসে উঠলো জয়রূন উপকন্ঠে তখন কাককুল কলরব করে উঠলো। আমি বললাম, কলরব করো বা নাই করো, আমি রসূলের নিকট হতে আমার ঋনগুলো শোধ করে নিয়েছি।”
আসতাগফিরুল্লাহ !! নাউযুবিল্লাহ !!!

দলীল-
√ তাফসীরে রূহুল মায়ানী ২৫ তম খন্ড ৭৪ পৃষ্ঠা ।

ইয়াযীদ কাফির যে তার কবিতায় কথিত ঋনের কথা বলেছে সে বিষয়ে আল্লামা আলূসী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,-
” ইয়াযীদ তার উক্তি আমি রসূলের নিকট হতে আমার ঋনগুলো শোধ করে নিয়েছি দ্বারা বুঝাতে চাচ্ছে যে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদর যুদ্ধে ইয়াযীদের নানা উতবা এবং তার মামাকে ও অন্যান্য আপনজনকে হত্যা করেছিলেন। যার প্রতিশোধরূপে ইয়াযীদ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত শরীফ উনাদের শহীদ করেছে। নাউযুবিল্লাহ! এটা স্পষ্ট কুফরীর প্রমান। তার এ উক্তি প্রমানিত হওয়ায় ইয়াযীদ এজন্য অবশ্যই কাফির হয়ে গেছে।”

দলীল-
√ তাফসীরে রূহুল মায়ানী ২৫ তম খন্ড ৭৪ পৃষ্ঠা

এখানে দেখা গেলো ইয়াযীদ ইসলামের প্রথম সমর (বদরের যুদ্ধে) তার কাফির পূর্বপুরুষদের নিহত হওয়ার প্রতিশোধ গ্রহন করেছে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত শরীফ উনাদের শহীদ করে। নাউযুবিল্লাহ ! এ থেকে বোঝা গেলো ইয়াযীদের অন্তরে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার আহলে বাইত শরীফ উনাদের প্রতি চরম বিদ্বেষ এবং দুশমনী ছিলো। এখন বলুন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আহলে বাইত শরীফ উনাদের প্রতি দুশমনি করা কি মুসলমানের বৈশিষ্ট্য নাকি কাফিরের বৈশিষ্ট্য ??

ইয়াযিদের মত নাপাক, পাপাচার, মুরতাদ এতই নিকৃষ্ট যে তাকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের সকল ইমামগন এক বাক্যে খলীফা, আমীরুল মু’মিনিন, তাবেয়ী ইত্যাদি বলতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। কারন ইয়াজিদ ছিলো চরম দুরাচার, লা’নতগ্রস্থ, এবং কাফির। যে তাকে আমীরুল মু’মিনিন বলবে তাদের ইসলামী দন্ড মুতাবিক দোররা মারা হয়েছে এবং হবে। এ বিষয়ে হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

قال نوفل بن ابي الفرات كنت عند عمر بن عبد العزيز فذكر رجل يزد فقال قال امير المؤمنين يزيد بن معاوية رضي الله تعالي عنه فال تقول امير المؤموين ؟ وامر بن فضرب عشرين سوطا

অর্থ: নাওফিল ইবনু আবীল ফুরাত বলেন, আমি খলীফা উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট ছিলাম, সেখানে এক ব্যক্তি ইয়াজিদ প্রসঙ্গে বর্ননা করতে দিয়ে বলে ফেলে ” হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পুত্র আমীরুল মু’মিনিন ইয়াযীদ বলেছে।”” এ কথা শোনার সাথে সাথেই খলীফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলে উঠলেন, তুমি ইয়াযীদকে আমীরুল মু’মিনিন বলছো ? হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি লোকটিকে দোররা মারার নির্দেশ দিলেন। তখনই লোকটিকে বিশটি দোররা মারা হয়।”

দলীল-
√ তারীখুল খুলাফা লি জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ১৯৭ পৃষ্ঠা।

এবার তাহলে বলুন, ইয়াযীদের মত কাফিরকে আমীরুল মু’মিনিন বলার জন্য যদি বিখ্যাত তাবেয়ী এবং খলীফা হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি যদি বিশটা দোররা মারার আদেশ দেন, তবে বর্তমানে ইয়াযীদকে তাবেয়ী , রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, জান্নাতী ইত্যাদি বলার অপরাধে মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহীউদ্দীন এবং খবীস জাকির নায়েককে কয়টা দোররা মারা উচিত ???

এছাড়া উপরোক্ত বিখ্যাত কিতাব “তারীখুল খুলাফাতে” ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির চরম স্তরের হারাম ও কুফরী কাজের ফিরিশতি উল্লেখ করা হয়েছে –

“ইয়াযীদ ৬৩ হিজরীতে মদীনা শরীফে বিশাল সৈন্য বাহীনি প্রেরন করে। হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্মৃতি বিজরিত পবিত্র মদীনা শরীফ ধ্বংস স্তুপে পরিনত করে ইয়াযীদ বিখ্যাত ছাহাবী হযরত ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে অবরুদ্ধ করার সেনাবাহিনীকে পরবর্তী নির্দেশ দেয়। তারা হযরত ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে অবরোধ করে রাখে এবং অবরোধ চলা কালীন সময়ে ইয়াযীদ বাহীনি মিনযিক ( এক ধরনের কামান) থেকে আগুন ও পাথর নিক্ষেপ করে। ফলে আগুনের গোলায় পবিত্র কাবা শরীফের দেয়াল, ছাদ ইত্যাদি সম্পূর্ণ ভষ্মীভূত হয়ে যায়। নাউযুবিল্লাহ !! এ ঘটনার বিবরন মুসলিম শরীফের বরাতে ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতি রহমাতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেন-

” মদীনা শরীফের উপকন্ঠ ‘আল হাররায়’ বিপর্যয় ঘটে। তুমি কি জানো যে, আল হাররার বিপর্যয় কি ছিলো ? একদা হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ প্রসঙ্গে এরূপ বর্ননা করেন- আল্লাহ পাক উনার কসম করে বলছি, এ ঘটনায় কারো পরিত্রানের কোন উপায় ছিলো না। এ ঘটনায় বহু সংখ্যক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং অন্যান্য বহু লোক প্রান হারান। মদীনা শরীফে অবাধে লুন্ঠন চলতে থাকে। এ ঘটনায় এক হাজার অবিবাহিতা পর্দানশীল যুবতীর সতীত্ব বিনষ্ট করা হয়। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে মদীনাবাসীকে ভয় দেখাবে আল্লাহ পাক তিনি তাকে ভয় দেখাবেন। তার প্রতি আল্লাহ পাক, ফেরেশতা এবং সকল মানুষ উনাদের লা’নত ও অভিসম্পাত।”

দলীল-
√ মুসলিম শরীফ।
√ তারীখুল খুলাফা ১৯৭ পৃষ্ঠা ।

উপরোক্ত ঘটনা থেকে পবিত্র মক্কা শরীফ এবং মদীনা শরীফে ইয়াযীদের বিভৎস্য হত্যাকান্ড এবং নির্মমতার কারনে আল্লাহ পাক, ফেরেশতা, সকল মানুষের লা’নত মালাউন এবং কাফির হয়ে গেছে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রমান হলো, ইয়াযীদের সকল কর্মকান্ড ছিলো চরম কুফরী। আর যে কুফরী করে সে কাফির হয়ে মুসলমান থেকে খারীজ হয়ে যায়। যার কারনে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের সকল ইমাম মুস্তাহিদ, ইমাম , আওলিয়ায়ে কিরাম সকলেই ইয়াযীদকে লা’নাতুল্লাহি আলাইহি এবং কাফির , জাহান্নামী বলতেও বিন্দু মাত্র দ্বিধা করেন নাই। বিখ্যাত ইমাম হযরত আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি , ইমাম হযরত আবু ইয়ালা রহমাতুল্লাহি আলাইহি , ইমাম ইবনে জাওজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি , হযরত আল্লামা তাফতাজানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি , আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতি রহমাতুল্লাহি আলাইহি , হযরত ইমাম আলূসী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি সহ উলামায়ে কিরাম উনাদের বিরাট এক জামায়াত ইয়াযীদকে কাফির বলে রায় দিয়েছেন। এছাড়া আল্লামা তাবারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি , শায়েখ আব্দুল হক্ব দেহলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি , শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইয়াযীদকে লা’নতপ্রপ্ত, অভিশপ্ত, নাপাক বলে উল্লেখ করেছেন।

কাজেই ইয়াযীদের মত কাট্টা অভিশপ্ত, কাফিরকে তাবেয়ী, জান্নাতী, রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলে দেওবন্দী মাসিক মদীনার মাহীউদ্দীন এবং ইহুদী স্পাই জাকির নায়েক ওরফে কাফির নায়েক মুরতাদ হয়ে গেছে।

সালাফি আই এস হচ্ছে আমেরিকা-ইসরাইলের যৌথ সৃষ্টি সন্ত্রাসী সংগঠন!!!

স্নোডেনের ফাঁস করা দলিল থেকে জানা গেছে, ইসরাঈলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ কথিত আবু বকর আল বাগদাদীকে এক বছর ধরে ধর্মীয় ও সামরিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং জেহাদ ও ইসলামের নামে ইসরাঈলের নিরাপত্তাবিরোধী বিশেষত মুসলিম দেশগুলোতে সন্ত্রাস সৃষ্টির জন্যই ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা MI-6, ইসরাঈলের মোসাদ ও যুক্তরাষ্ট্রের NSA-এর তত্ত্বাবধানে জন্ম দেয়া হয়েছে ISIL-এর । অর্থ্যাৎ ব্রিটেন -যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাঈলের ঔরসে জন্ম নিলো সন্ত্রাসী সংগঠন ISIL । যার অসংখ্য প্রমান রয়েছে ।

১. আল-বাগদাদি মোসাদের সক্রিয় সদস্য ও ইহুদির সন্তান + ছবি http://goo.gl/nDOHCI
২. ‘খলিফা’ আবুবকর বাগদাদি ইহুদি দম্পতির সন্তান http://goo.gl/Yeep8P
৩. ভুয়া খলিফা আবু বাকর আল বাগদাদী, তার সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডব ও যৌন জিহাদ এবং মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের অনত্র ওহাবী-সালাফিদের অশুভ কার্যক্রম https://goo.gl/tBm15v
৪. আইএস উত্থানের জন্য দায়ী ওবামা ও হিলারি -রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রিক স্যান্তোরাম http://goo.gl/4ThDXP, http://goo.gl/NIekmz, http://goo.gl/HqymD8
৫. সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে আইএস সৃষ্টির জন্য দায়ী করেছিল ওবামা। http://goo.gl/YvbKnQ ,
৬. আই এস সৃষ্টি করেছে সি আই এ http://goo.gl/jz1Dem
৭. আইএস ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্টি: কাস্ত্রো http://goo.gl/i7Meo7
৮. প্যারিসে হামলার নেপথ্য নায়ক ইসরাইল: মাহাথির মোহাম্মাদ http://goo.gl/PAb5tV
৯. প্যারিসে হামলার জন্য আমেরিকাকে দায়ী করেছে উইকিলিক্স http://goo.gl/mmSJd0

প্রশ্ন আসতে পারে আইএস কেন শুধুমাত্র ইসরাইলের শত্রুদের ওপর আক্রমন করে? কেন ইসরাইলের উপর আক্রমন করেনা ? আইএস প্রধান আল-বাগদাদি জনসম্মুখে ঘোষনা করে যে সে সিরিয়া, ইরাক এবং লেবাননে যতদিন পর্যন্ত নাস্তিকরা সমূলে হত্যা বা ধংস না হয়, ততদিন পর্যন্ত সে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যহত রাখবে।!

আশ্চর্যজনকভাবে আইএস ফিলিস্তিনের জনগন বা হামসকে ইসরায়েলি তান্ডব থেকে প্রতিরোধে সহায়তা করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। উপরন্তু তারা বলে যে, ফিলিস্তিনের গাজা অধিবাসীদের সিরিয়া এবং ইরানের মত যারা অস্ত্র এবং মানবিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করছে, সেইসব দেশের প্রতিও তারা নজর রাখছে।

এভাবে আইএস আইএস শুধুমাত্র ইরান, সিরিয়া এবং লেবাননের অস্ত্রহীন মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর জিহাদ ঘোষনা করেছে কারন ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এই কয়েকটি দেশ খুবই গুরুত্বপূর্ন http://goo.gl/XZnd7m, https://goo.gl/abfy22

অর্থাৎ আই এস মুলত আমেরিকা ইসরাইলে হাতে গড়া পুতুল, তুরুপের তাস। মুসলমানদের দমন করা এবং মুসমান নাম ধারন করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে মুসলিম দেশকে বিপদগ্রস্থ করা যার মুল লক্ষ্য । আই এস মুসলমান নামধারী গুপ্ত ইহুদী যা আমেরিকা ইসরায়েলের তৈরি মুসলিম ধ্বংসকারী এক স্লো পয়জন।