পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ উনার সময় ইয়া নবী, ইয়া রসূল বলে সম্বোধন করার শরয়ী ফায়সালা এবং বিরোধী পক্ষের খোরা যুক্তির খন্ডন মূলক জবাব

পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ উনার সময় ইয়া নবী, ইয়া রসূল

বলে সম্বোধন করার শরয়ী ফায়সালা

এবং বিরোধী পক্ষের খোরা যুক্তির খন্ডন মূলক জবাব

আলীমুল হাকীম আল্লাহ্ পাক উনিই সকল হামদ ও

শুকরিয়ার মালিক | যিনি পবিত্র মহামহিম | সর্বোত্তম

আখলাকের অধিকারী আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার প্রতি অনন্তকালের জন্য অফুরন্ত ছলাত

ও সালাম |

কিছু সংখ্যক জাহিল ও গুমরাহ লোক কিল্লতে ইলম ও

কিল্লতে ফাহম অর্থাৎ কম জ্ঞান ও কম বুঝের কারণে

বলে থাকে যে, “পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ উনার সময়

‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা, ইয়া রসূল সালামু

আলাইকা, ইয়া হাবীব সালামু আলাইকা,

ছলাওয়াতুল্লাহ আলাইকা’- এভাবে পবিত্র সালাম

শরীফ পেশ করলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

সম্মানহানী হয় | তাই এভাবে সালাম পেশ করা ঠিক
নয় |”

তাদের আপত্তিকর বিষয়গুলো হচ্ছে-

(ক) ﻧﺒﻰ- ﺭﺳﻮﻝ- ﺣﺒﻴﺐ এ শব্দগুলো ﻧﻜﺮﺓ (নাকিরাহ) বা

অপরিচিত তাই এগুলোকে ﻳﺎ (ইয়া) হরফে নিদা দ্বারা

ডাকলে ﻣﻌﺮﻓﺔ (মা’রিফাহ) বা পরিচিত হয়ে যায় বটে,

তবে ডাকার পূর্বে অপরিচিত থেকে যায় | তাই ﻳﺎ ﻧﺒﻰ

‘ইয়া নবী’ এভাবে সালাম পেশ করা ঠিক নয় | বরং ﻳﺎ

ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﻨﺒﻰ ও ﻳﺎ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ইত্যাদি নিয়মে সালাম পেশ

করাই সঠিক বা ক্বাওয়ায়িদ সম্মত |

(খ) ﻳﺎ ইয়া হরফে নিদা শুধু নিকটবর্তী আহ্বানের জন্য

আসে | দূরবর্তীর জন্য আসে না | তাই ﻳﺎ ﻧﺒﻰ বলে

সালাম দেয়া ঠিক হবে না | কারণ, তিনি তো

আমাদের দেশ থেকে অনেক দূরে আছেন |

(গ) ﺳﻼﻡ এক পেশ দিয়ে পড়া শুদ্ধ হবে না |

(ঘ) নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র সালাম

শরীফ পাঠের পূর্বে পবিত্র ছলাত শরীফ বা পবিত্র

দুরূদ শরীফ পড়া যাবে না | প্রথমে পবিত্র সালাম

শরীফ দিতে হবে | তারপর পবিত্র ছলাত বা পবিত্র

দুরূদ শরীফ পাঠ করতে হবে |

(ঙ) ছন্দ আকারে মিলযুক্ত বাক্যের মাধ্যমে পবিত্র

সালাম শরীফ পাঠ করা ঠিক নয় | কারণ, পবিত্র কুরআন

শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে এভাবে

উল্লেখ নেই | নাউযুবিল্লাহ!

জাহিল ও গুমরাহ লোকদের আপত্তির কারণে কেউ

সুওয়াল করতে পারে, ﻳﺎ ﻧﺒﻰ ﺳﻼﻡ ﻋﻠﻴﻚ (ইয়া নবী সালামু

আলাইকা) এভাবে সালাম পেশ করা শুদ্ধ হবে কিনা?

শুদ্ধ হলে তার দলীল-আদিল্লাহ কি রয়েছে?

এদের জবাবে বলতে হয়, মহান আল্লাহ পাক রব্বুল

আলামীন তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে

ইরশাদ মুবারক করেন,

ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻣﻠﺌﻜﺘﻪ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻳﺎﻳﻬﺎ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﻣﻨﻮﺍ ﺻﻠﻮﺍ ﻋﻠﻴﻪ

ﻭﺳﻠﻤﻮﺍ ﺗﺴﻠﻴﻤﺎ

অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার

হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস্ সালাম উনারা নূরে

মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র ছলাত শরীফ পাঠ

করেন | হে মু’মিনগণ! আপনারাও নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র ছলাত শরীফ তথা পবিত্র

দুরূদ শরীফ পাঠ করো এবং পবিত্র সালাম শরীফ

প্রেরণ করো প্রেরণ করার মতো |”

(পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৫৬)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক

তিনি স্বয়ং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

প্রতি পবিত্র ছলাত শরীফ ও পবিত্র সালাম শরীফ পাঠ

করতে নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন | তবে পবিত্র ছলাত

শরীফ ও পবিত্র সালাম শরীফ কিভাবে, কোন

পদ্ধতিতে পাঠ করতে হবে তা সরাসরি নির্ধারিত

করে দেননি | আর এককভাবেও এমন কোনো নিয়ম

নির্ধারণ করে দেননি যে, কেবলমাত্র সে নিয়মেই

পাঠ করতে হবে, তার বাইরে অন্য কোনো নিয়মে পাঠ

করা যাবে না | তাই হযরত ইমাম-মুজতাহিদ

রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বিভিন্ন পদ্ধতিতে

পবিত্র ছলাত শরীফ ও পবিত্র সালাম শরীফ পাঠ

করেছেন ও করেন | তন্মধ্যে পবিত্র মীলাদ শরীফ

উনার মজলিসে পবিত্র ছলাত শরীফ ও পবিত্র

তাওয়াল্লুদ শরীফ পাঠ করার পর দাঁড়িয়ে যে পবিত্র

সালাম শরীফ পাঠ করা হয় তা ছন্দ, কবিতা বা

ক্বাছীদা শরীফ আকারে | যেহেতু ছন্দ, কবিতা বা

ক্বাছীদা শরীফ তৈরি করা, পাঠ করা এবং লেখা

সবগুলোই সুন্নত মুবারক |

এবার বাতিল ও গুমরাহ ফিরক্বার আপত্তিকর

বক্তব্যগুলো নির্ভরযোগ্য দলীল-আদিল্লাহ উনাদের

ভিত্তিতে খন্ডন করে সঠিক বক্তব্য নিম্নে পেশ করা

হলো-

(ক)

বাতিল ও গুমরাহ ফিরক্বার লোকেরা বলে থাকে যে,

ﻧﺒﻰ- ﺭﺳﻮﻝ- ﺣﺒﻴﺐ

এ লফযগুলো ﻧﻜﺮﻩ (নাকিরাহ) বা অপরিচিত তাই

এগুলোকে ﻳﺎ (ইয়া) হরফে নিদা দ্বারা ডাকলে ﻣﻌﺮﻓﻪ

‘মা’রিফাহ’ বা পরিচিত হয়ে যায় বটে, তবে ডাকার

পূর্বে অপরিচিত থেকে যায় | তাই ﻳﺎ ﻧﺒﻰ (ইয়া নবী)

এভাবে সালাম পেশ করা ঠিক নয় | বরং ﻳﺎﻳﻬﺎ ﺍﻟﻨﺒﻰ ইয়া

আইয়্যুহান নবী), ﻳﺎﻳﻬﺎ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ (ইয়া আইয়্যুহার রসূল) ও

ﻳﺎﻳﻬﺎ ﺍﻟﺤﺒﻴﺐ (ইয়া আইয়্যুহাল হাবীব) ইত্যাদি নিয়মে

সালাম পেশ করাই সঠিক বা ক্বাওয়ায়িদ সম্মত |”

এর জবাবে বলতে হয় যে- হ্যাঁ,

ﻳﺎﻳﻬﺎ ﺍﻟﻨﺒﻰ থ ﻳﺎﻳﻬﺎ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ- ﻳﺎﻳﻬﺎ ﺍﻟﺤﺒﻴﺐ

এ পদ্ধতিতে সালাম পেশ করা ক্বাওয়ায়িদ সম্মত |

তবে

ﻳﺎ ﻧﺒﻰ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﻳﺎ ﺣﺒﻴﺐ

এভাবে সালাম পেশ করা যাবে না- এ কথাও শুদ্ধ নয়;

বরং সম্পূর্ণ ভুল ও অজ্ঞতামূলক |

ক্বাওয়ায়িদবিদগণ ﺍﻟﻘﻮﺍﻋﺪ ﺍﻟﻌﺮﺑﻴﺔ বা আরবী ব্যাকরণকে

চারভাগে বিভক্ত করেছেন | যথা-

১) ﻋﻠﻢ ﺍﻻﻣﻼﺀ বা বর্ণ প্রকরণ,

২) ﻋﻠﻢ ﺍﻟﺼﺮﻑ বা শব্দ প্রকরণ,

৩) ﻋﻠﻢ ﺍﻟﻨﺤﻮ বা বাক্য প্রকরণ,

৪) ﻋﻠﻢ ﺍﻟﻌﺮﻭﺽ বা ছন্দ প্রকরণ |

স্মরণীয় যে, আরবী ক্বাওয়ায়িদ সম্পর্কে যাদের

মোটামুটি ধারণা আছে তারা অবশ্যই ﺍﻋﺮﺍﺏ (ই’রাব)

এবং ﻣﺤﻞ ﺍﻋﺮﺍﺏ (মহলে ই’রাব) সম্পর্কে জ্ঞাত |

অর্থাৎ ﺍﻋﺮﺍﺏ হচ্ছে স্বরচিহ্ন আর ﻣﺤﻞ ﺍﻋﺮﺍﺏ হচ্ছে

ﺍﻋﺮﺍﺏ দেয়ার স্থান | তা হচ্ছে ﻛﻠﻤﺔ বা শব্দের শেষ বর্ণ

| ﺍﻋﺮﺍﺏ (ই’রাব) বা স্বরচিহ্ন দু’প্রকার | যথা-

১) ﺍﻋﺮﺍﺏ ﺍﺑﺎﻟﺤﺮﻭﻑ ই’রাব বিল হুরূফ যথা- ﻭﺍﻭ (ওয়াও), ﺍﻟﻒ

(আলিফ), ﻳﺎ (ইয়া) |

২) ﺍﻋﺮﺍﺏ ﺑﺎﻟﺤﺮﻛﺎﺕ ই’রাব বিল হারাকাত | যথা- ﺿﻤﺔ

(দাম্মাহ) পেশ, ﻓﺘﺤﺔ (ফাতহাহ) যবর, ﻛﺴﺮﺓ (কাসরাহ)

যের, ﺳﺎﻛﻦ (সাকিন) জযম | ক্বাওয়ায়িদের

নিয়মানুসারে এ উভয় প্রকার ই’রাবের পরিবর্তন

সাধিত হয় | যেমন, ﺍﻋﺮﺍﺏ ﺑﺎﻟﺤﺮﻭﻑ – এর উদাহরণ:

ﺟﺎﺀ ﺍﺑﻮﻩ থ ﺭﺃﻳﺖ ﺍﺑﺎﻩ থ ﻣﺮﺭﺕ ﺑﺎﺑﻴﻪ .

অর্থ: “তার পিতা এসেছে, আমি তার পিতাকে

দেখেছি, আমি তার পিতার সাথে চলেছি |”

আলোচ্য উদাহরণে প্রথম বাক্যে ﺍﺏ -এর সাথে ﻭﺍﻭ ,

দ্বিতীয় বাক্যে ﺍﺏ -এর সাথে ﺍﻟﻒ এবং তৃতীয় বাক্যে

ﺍﺏ এর সাথে ﻳﺎﺀ রয়েছে: যা ই’রাব বিল হুরূফের

পরিবর্তনের মেছাল | অনুরূপ ﺍﻋﺮﺍﺏ ﺑﺎﻟﺤﺮﻛﺎﺕ -এর উদাহরণ:

ﺟﺎﺀ ﺯﻳﺪ থ ﺷﺮﺑﺖ ﺍﻟﻤﺎﺀ থ ﻛﺘﺒﺖ ﺑﺎﻟﻘﻠﻢ থ ﻟﻢ ﺍﺫﻫﺐ

অর্থ: “যায়িদ এসেছে, আমি পানি পান করেছি, আমি

কলম দ্বারা লিখেছি, আমি যাইনি |” এ উদাহরণে

প্রথম বাক্যে ﺯﻳﺪ -এর ‘দাল’ বর্ণে পেশ, দ্বিতীয়

বাক্যে ﻣﺎﺀ -এর ‘হামযাহ’ বর্ণে যবর, তৃতীয় বাক্যে ﺍﻟﻘﻠﻢ

-এর ‘মীম’ বর্ণে যের এবং চতুর্থ বাক্যে ﺍﺫﻫﺐ -এর ‘বা’

বর্ণে জযম বা সাকিন হয়েছে; যা ই’রাব বিল

হারাকাতের পরিবর্তনের মেছাল |

উল্লেখ্য, ﻛﻠﻤﺔ বা শব্দ তিন প্রকার | যথা- ﺍﺳﻢ (ইসম)

বিশেষ্য, ﻓﻌﻞ (ফি’ল) ক্রিয়া ﺣﺮﻑ , (হরফ) অব্যয় | ﺍﺳﻢ –

এর ই’রাব তিন প্রকার | পেশ, যবর ও যের | কিন্তু

ওয়াক্ফের অবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে জযম পড়তে

হয় | আর ﻓﻌﻞ -এর ই’রাবও তিন প্রকার | পেশ, যবর ও

জযম। কিন্তু সন্ধি বিচ্ছেদ বা তা’লীলকৃত কতক শব্দে

যেরও হয়ে থাকে | আর ﺣﺮﻑ -এর ই’রাব বা হরকত

অপরিবর্তিত | যে হরফ যেভাবে বর্ণিত রয়েছে

সেভাবেই ব্যবহার করার নিয়ম |

|

কিছু সংখ্যক জাহিল ও গুমরাহ লোক কিল্লতে ইলম ও

কিল্লতে ফাহম অর্থাৎ কম জ্ঞান ও কম বুঝের কারণে

বলে থাকে যে, “পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ উনার সময়

‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা, ইয়া রসূল সালামু

আলাইকা, ইয়া হাবীব সালামু আলাইকা,

ছলাওয়াতুল্লাহ আলাইকা’- এভাবে পবিত্র সালাম

শরীফ পেশ করলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

সম্মানহানী হয় | তাই এভাবে সালাম পেশ করা ঠিক

নয় |”

তাদের আপত্তিকর বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে-

(ক) “ ﻧﺒﻰ- ﺭﺳﻮﻝ- ﺣﺒﻴﺐ এ শব্দগুলো ﻧﻜﺮﺓ (নাকিরাহ) বা

অপরিচিত তাই এগুলোকে ﻳﺎ (ইয়া) হরফে নিদা দ্বারা

ডাকলে ﻣﻌﺮﻓﺔ (মা’রিফাহ) বা পরিচিত হয়ে যায় বটে,

তবে ডাকার পূর্বে অপরিচিত থেকে যায় | তাই ﻳﺎ ﻧﺒﻰ

‘ইয়া নবী’ এভাবে সালাম পেশ করা ঠিক নয় | বরং ﻳﺎ

ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﻨﺒﻰ ও ﻳﺎ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ইত্যাদি নিয়মে সালাম পেশ

করাই সঠিক বা ক্বাওয়ায়িদ সম্মত |”

তাদের উপরোক্ত বক্তব্যের খন্ডনমূলক জবাবের এটি

২য় পর্ব যা ধারাবাহিকভাবে পেশ করা হচ্ছে |

(ধারাবাহিক)

মনে রাখতে হবে, পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার মধ্যে

যে পদ্ধতিতে পবিত্র সালাম শরীফ পাঠ করা হয় তা

শুদ্ধই রয়েছে | যথা-

ﻳﺎ ﻧﺒﻰ ﺳﻼﻡ ﻋﻠﻴﻚ + ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺳﻼﻡ ﻋﻠﻴﻚ

ﻳﺎ ﺣﺒﻴﺐ ﺳﻼﻡ ﻋﻠﻴﻚ + ﺻﻠﻮﺕ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻚ

অর্থ: “হে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

আপনার প্রতি সালাম | হে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম আপনার প্রতি সালাম | হে হাবীব

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার প্রতি

সালাম | মহান আল্লাহ পাক উনার অসংখ্য ছলাত

আপনার উপর বর্ষিত হোক |”

পঠিত ইবারতের বিশ্লেষণ:

ﻳﺎ ﻧﺒﻰ পড়া ক্বাওয়ায়িদ ﻋﻠﻢ ﺍﻟﻌﺮﻭﺽ (ইলমুল আরূদ্ব) বা

ছন্দ প্রকরণের ভিত্তিতে শুদ্ধ | তবে যদি কেউ ﻳﺎﻳﻬﺎ

ﺍﻟﻨﺒﻰ পড়তে চায় তা পড়তে পারবে | ক্বাওয়ায়িদ

বিশারদগণের মতে ﻧﻜﺮﺓ (নাকিরাহ) বা অনির্দিষ্টকে

ﻣﻌﺮﻓﺔ (মা’রিফাহ) বা নির্দিষ্ট করার অনেক পদ্ধতি

রয়েছে | তন্মধ্যে একটি নিয়ম হচ্ছে ﻧﻜﺮﺓ (নাকিরাহ)

বা অনির্দিষ্টকে ﺣﺮﻑ ﻧﺪﺍﺀ (হরফে নিদা) বা আহবান

সূচক শব্দ দ্বারা মা’রিফাহ (নির্দিষ্ট) করা |

যেমন, আল্লামা হযরত সিরাজুদ্দীন উছমান

রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘হিদায়াতুন্ নাহু’

নামক আরবী ক্বাওয়ায়িদের কিতাবে লিখেছেন,

ﻭﺍﻟﻤﻌﺮﻭﻑ ﺑﺎﻟﻼﻡ ﻭﺍﻟﻤﻀﺎﻑ ﺍﻟﻰ ﺍﺣﺪﻫﻤﺎ ﺍﺿﺎﻓﺔ ﻣﻌﻨﻮﻳﺔ ﻭﺍﻟﻤﻌﺮﻑ

ﺑﺎﻟﻨﺪﺍﺀ

অর্থ: “( ﻣﻌﺮﻓﺔ ছয় প্রকারের মধ্যে) চতুর্থ প্রকার হলো:

আলিফ-লাম যোগে মা’রিফাহ | পঞ্চম প্রকার: ﺿﻤﻴﺮ

বা সর্বনাম, ﺍﻋﻼﻡ বা নামবাচক বিশেষ্য, মুবহামাত বা

ইসমে ইশারা, ইসমে মাওছূলা-এর দিকে ﺍﺿﺎﻓﺔ ﻣﻌﻨﻮﻳﺔ

দ্বারা সম্বন্ধকৃতের মাধ্যমে নির্দিষ্টতা বা

মা’রিফাহ | ষষ্ঠ প্রকার: ﺣﺮﻑ ﻧﺪﺍ (হরফে নিদা) দ্বারা

মা’রিফাহ |”

আল্লামা হযরত ইবনু হাজিব রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনার লিখা “কাফিয়া’ কিতাবের মধ্যে উল্লেখ আছে

যে,

ﻣﺎ ﻋﺮﻑ ﺑﺎﻟﻼﻡ ﺍﻭ ﺍﻟﻨﺪﺍﺀ ﻭﺍﻟـﻤﻀﺎﻑ ﺍﻟﻰ ﺍﺣﺪﻫﺎ ﻣﻌﻨﻰ

অর্থ: “( ﻣﻌﺮﻓﺔ ছয় প্রকারের মধ্যে) চতুর্থ প্রকার: যা

আলিফ-লাম যোগ করে নির্দিষ্ট করা হয় | পঞ্চম

প্রকার: হরফে নিদা দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয় এবং

ষষ্ঠ প্রকার: যমীর, আলম, ইসমে ইশারা, মাউছূলা ও

আলিফ-লাম যোগে মা’রিফার দিকে ﺍﺿﺎﻓﺔ ﻣﻌﻨﻮﻳﺔ -এর

মাধ্যমে নির্দিষ্টতা বা মা’রিফাহ |”

অনুরূপ ‘মাবাদিউল আরাবিয়া’, ‘নাহুমীর’ ও অন্যান্য

ক্বাওয়ায়িদের কিতাবগুলোতে উল্লেখ আছে |

উল্লিখিত ইবারত থেকে স্পষ্ট হলো যে,

ﻳﺎ ﻧﺒﻰ، ﻳﺎﺭﺳﻮﻝ، ﻳﺎ ﺣﺒﻴﺐ এর মধ্যে

ﻧﺒﻰ، ﺭﺳﻮﻝ، ﺣﺒﻴﺐ নাকিরাহ শব্দগুলোকে ﻳﺎ (ইয়া) হরফে

নিদা দ্বারা ﻣﻌﺮﻓﺔ (মা’রিফাহ) বা নির্দিষ্ট করা

হয়েছে | যা আমাদের প্রিয় নবী ও রসূল, নূরে

মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে | অন্যান্য

কোনো হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনাদেরকে

উদ্দেশ্য করা হয়নি | কেননা, পবিত্র মীলাদ শরীফ

পাঠ করা হয় একমাত্র নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্যই |

এতে খাছভাবে সালাম প্রেরণ করা হয় উনারই প্রতি |

বাতিল ও গুমরাহদের ভ্রান্ত কথা:

ﻳﺎ ﻧﺒﻰ (ইয়া নবী) বলে ডাকলে, ডাকার সময় তিনি

পরিচিত হন কিন্তু এর পূর্বে তিনি পরিচিত ছিলেন না

বুঝা যায় | কেননা, ﻧﻜﺮﺓ (নাকিরাহ) কে নিদা দ্বারা

ﻣﻌﺮﻓﺔ (মা’রিফাহ) মা’রিফা’ করা হয়েছে | তাই ﺍﻟﻒ ﻻﻡ

(আলিফ-লাম) যোগ করে ﻣﻌﺮﻓﺔ (মা’রিফাহ) করার পর

নিদা করলে ডাকার পূর্বে অপরিচিত থাকার

সম্ভাবনা থাকে না |

এর জবাব হচ্ছে, ﻳﺎ ﻧﺒﻰ (ইয়া নবী) বললে যদি ডাকার

পূর্বে অপরিচিত হন, তবে ﺍﻟﻨﺒﻰ (আন্ নাবী) শব্দে

আলিফ-লাম যোগ করার পূর্বেও তিনি অপরিচিত

ছিলেন বুঝা যায় | তেমনিভাবে ﻳﺎﻳﻬﺎ ﺍﻟﻨﺒﻰ، ﺍﻟﻨﺒﻰ، ﻳﺎ ﻧﺒﻰ،

ﻧﺒﻰ শব্দগুলো লিখা ও উচ্চারণ করার পূর্বেও তিনি

অপরিচিত থেকে যান | নাউযুবিল্লাহ!

আরো বলতে হয়, বোবা ব্যক্তি ও লেখা পড়া জানেন

না এমন মু’মিন ব্যক্তির কাছে কি নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম তিনি পরিচিত নন? অবশ্যই পরিচিত |

Advertisements

হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হওয়ার কারণেই উনার আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে বিবাহ করা হারাম

হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

হওয়ার কারণেই উনার আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালাম

উনাদেরকে বিবাহ করা হারাম

=======================================

“তাফসীরে মাযহারী” উনার ৭ম খণ্ডের ৩৭৩ পৃষ্ঠায়

উল্লেখ আছে-

ﺍﻯ ﺫﻧﺒﺎ ﻋﻈﻴﻤﺎ ﻗﻠﺖ ﻭﺟﺎﺯ ﺍﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﺫﻟﻚ ﻻﺟﻞ ﺍﻥ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ

ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺣﻰ ﻓﻰ ﻗﺒﺮﻩ ﻭﻟﺬﻟﻚ ﻟـﻢ ﻳﻮﺭﺙ ﻭﻟـﻢ ﻳﺘﺌﻢ ﺍﺯﻭﺍﺟﻪ ﻋﻦ

ﺍﺑﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ

ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﺻﻠﻰ ﻋﻠﻰ ﻋﻨﺪ ﻗﺒﺮﻯ ﺳﻤﻌﺘﻪ ﻭﻣﻦ ﺻﻠﻰ ﻋﻠﻰ ﻧﺎﺋﺒﺎ ﺍﺑﻠﻐﺘﻪ

অর্থ : “(হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম)

উনাদেরকে বিবাহ করা বড় গুনাহ। আমি বলি : নূরে

মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালাম

উনাদেরকে বিবাহ করা হারাম এজন্যই যে, যেহেতু

তিনি উনার রওযা শরীফ উনার মধ্যে জীবিত আছেন,

তিনি হায়াতুন নবী। সে কারণে উনার সম্পত্তির কোন

ওয়ারিছ নেই এবং উনার আহলিয়া আলাইহিন্নাস

সালামগণও বিধবা নন।”

হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার

থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি

আমার রওযা শরীফ উনার নিকটে এসে ছলাত ও সালাম

দিবে আমি তা সরাসরি শুনি। আর যে আমার নিকট

দূরদেশ থেকে ছলাত ও সালাম পাঠাবে তা আমার

কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।” (বাইহাক্বী ফী শুয়াবিল

ঈমান)

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার কারণেই মহান আল্লাহ পাক উনার

থেকে উনাদেরকে নিয়ামত প্রদান

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার

পবিত্র কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

ﻭﻣﻦ ﻳﻘﻨﺖ ﻣﻨﻜﻦ ﻟﻠﻪ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ ﻭﺗﻌﻤﻞ ﺻﺎﻟـﺤﺎ ﻧﺆﺗﻬﺎ ﺍﺟﺮﻫﺎ ﻣﺮﺗﻴﻦ

ﻭﺍﻋﺘﺪﻧﺎ ﻟـﻬﺎ ﺭﺯﻗﺎ ﻛﺮﻳﻤﺎ .

অর্থ : “আপনাদের মধ্যে যে কেউ খালিক্ব মালিক রব

মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে

মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি অনুগত হবেন ও সৎকার্য

করবেন উনাকে আমি পুরস্কার দিবো দুইবার এবং

উনার জন্য আমি প্রস্তুত রেখেছি সম্মানজনক

রিযিক।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত

শরীফ ৩১)

“তাফসীরে মাযহারী” উনার ৭ম খ-ের ৩৩৬ পৃষ্ঠায়

উল্লেখ আছে, দ্বিগুণ পুরস্কারের অর্থ হচ্ছে-

প্রথমত : উনারা দ্বিগুণ পুরস্কার লাভ করবেন খালিক্ব

মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ইতায়াত

বা আনুগত্যতার জন্য।

দ্বিতীয়ত : হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দী মুবারক অর্জনের

জন্য। উনার উপর সন্তুষ্ট হয়ে উত্তম জীবনযাপনের

জন্য।

হযরত মুক্বাতিল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,

উনাদের প্রতিটি পুণ্যের প্রতিদান দেয়া হবে দশগুণ

করে। এটা হচ্ছে আম বদলা। আর খাছ বদলা হচ্ছে

অসংখ্য, অগণিত। কারণ দাতা খালিক্ব মালিক রব

মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন অসীম আর উনার

হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি

হচ্ছেন উনার কুদরত মুবারক উনার অধীন। সুবহানাল্লাহ!

“তাফসীরে মাযহারী” উনার ৭ম খ-ের ৩৩৬ পৃষ্ঠায়

উল্লেখ আছে-

ﺍﻯ ﺟﻠﻴﻞ ﺍﻟﻘﺪﺭ ﻭﻫﻮ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺯﻳﺎﺩﺓ ﻋﻠﻰ ﺍﺟﺮﻫﺎ ﻗﻠﺖ ﻭﺫﺍﻟﻚ ﻻﻧﻬﻦ

ﻳﺮﺯﻗﻦ ﺑﻤﺘﺎﺑﻌﺔ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﺎﻳﺮﺯﻕ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ

ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ .

অর্থ : “(নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়া

আলাইহিন্নাস সালামগণ) উনাদেরকে সম্মানজনক

রিযিক প্রদান করা হবে। তা হচ্ছে জান্নাত। যা

সবচেয়ে বড় প্রতিদান। আমি বলি : উনারা উত্তম

রিযিক পাবেন হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়া হওয়ার কারণেই। তাই

হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনার জন্য যে রিযিক, উনাদের জন্যও সে রিযিক

ধার্য হবে।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ইবনে কাছীর,

কুরতুবী, আহকামুল কুরআন, খাযিন, বাগবী, মাদারিক

ইত্যাদি তাফসীরগুলোতে আরও বিশদভাবে আলোচনা

রয়েছে।)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, তাফসীর

শরীফ ইত্যাদি কিতাব উনাদের উপরোক্ত আলোচনা

থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে-

(১) আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

আহলিয়া হওয়ার কারণেই হযরত উম্মুল মু’মিনীন

আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মর্যাদা অন্যান্য সকল

নারীর উপরে। সুবহানাল্লাহ!

(২) হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা

যেমন ইহকালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়া;

তদ্রুপ বেহেশতেও উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

আহলিয়া হিসেবেই থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!

(৩) হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা

আহলে বাইত শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

(৪) অন্যান্য মানুষের থেকে উনাদের আমলের

প্রতিদান দ্বিগুণ-বহুগুণে প্রদান করা হবে।

সুবহানাল্লাহ!

(৫) পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বে-পরে, যে কোন কালে যাঁরাই

অনেক মর্যাদাশালী হয়েছেন; তাঁরাই আখিরী রসূল,

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কারণেই মর্যাদাময়

হয়েছেন। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হযরত উম্মুল মু’মিনীন

আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ!

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার

রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি,

রেযামন্দী মুবারক অর্জনের মূল মাধ্যম হচ্ছে ছোহবত

মুবারক। এজন্য হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি

আলাইহিমগণ উনারা ওলীআল্লাহ উনাদের ছোহবত

অর্জন করাকে ফরযে আইন ফতওয়া দিয়েছেন।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক আমাদের

সকলকে উনার এবং উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন,

ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত উম্মুল

মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত আহলে বাইত

শরীফ আলাইহিমুস সালাম এবং সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে

কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি

যথাযথ সম্মান-মর্যাদা, তা’যীম-তাকরীম ও সুধারণা

রাখার তাওফীক দান করুন। (আমীন)

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হায়াতুন নবী

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ  হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হায়াতুন নবী

আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা হল

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্

নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম হায়াতুন নবী। মহান আল্লাহ

পাক ইরশাদ করেন, “যারা আল্লাহ পাক-এর রাস্তায়

শহীদ হয়েছেন তোমরা তাদেরকে মৃত বলো না। বরং

তারা জীবিত। অথচ তোমরা তা উপলব্ধি করতে

পারছো না।” (সূরা বাক্বারা/১৫৪)

আর ওলীআল্লাহগণের শানেও বলা হয়েছে,

“ওলীআল্লাহগণ মৃত্যুবরণ করেন না। বরং তারা

অস্থায়ী জগৎ থেকে স্থায়ী জগতের দিকে

প্রত্যাবর্তন করেন।” (মিরকাত ৩য় খণ্ড, ২৪১ পৃষ্ঠা) ।

এছাড়া সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণও স্বীয়

রওযা মুবারকে জীবিত রয়েছেন। যেমন কিতাবে

উল্লেখ করা হয়েছে, “নিশ্চয়ই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মুসা আলাইহিস্

সালামকে উনার রওজা মুবারকে নামাযরত অবস্থায়

দাঁড়ানো দেখেছেন। অনুরূপভাবে হযরত ইব্রাহিম

আলাইহিস্ সালামকে দেখেছেন।” (মিরকাত ৩ জিলদ

২৪১ পৃষ্ঠা)

এ সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ রয়েছে, আল্লাহ

পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম ইরশাদ করেন, “নবী-রসূল আলাইহিমুস্

সালামগণ স্বীয় রওযা শরীফ-এ জীবিত থাকেন।

উনারা রওযা শরীফ-এ নামাযও আদায়

করেন।” (তারিখে ইস্পাহান ২/৮৩, ফয়জুল ক্বাদীর

৩/১৮৪, আবু ইয়ালা, দায়লামী শরীফ/৪০৪)

শুধু তাই নয়, বরং সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস্

সালামগণই স্বীয় রওযা শরীফ-এ অবস্থান করে আল্লাহ

পাক-এর ইবাদত-বন্দিগীতে মশগুল রয়েছেন এবং

রিযিকও পাচ্ছেন। যেমন হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে,

“আল্লাহ পাক-এর নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণ

স্বীয় রওজা মুবারকে জীবিত রয়েছেন এবং উনারা

খাদ্যও খেয়ে থাকেন।” (ইবনে মাযাহ, মিশকাত,

মিরকাত/৩খণ্ড, ২৪১) । অন্য হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ

হয়েছে, হযরত আউস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে

বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক

যমীনের জন্য নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণের শরীর

মুবারককে ভক্ষণ করা (নষ্ট করা) হারাম করে

দিয়েছেন।” (আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ, ইবনু

হিব্বান, মুস্তাদরাকে হাকিম, কানযুল উম্মাল,

মিরকাত)

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো

ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি আমার রওযা মুবারকের

নিকট এসে আমার প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ করে আমি

অবশ্যই তার দুরূদ শরীফ শুনতে পাই।” (বায়হাক্বী,

মিশকাত/৮৭) অন্য হাদীছ শরীফ-এ এসেছে আল্লাহ

পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম ইরশাদ করেন, “হে আমার ছাহাবীগণ! হে

আমার উম্মতগণ!! তোমারা আমার প্রতি প্রত্যেক

সোমবার ও শুক্রবার দুরূদ শরীফ পাঠ করো। নিশ্চয়ই

আমি তোমাদের সেই দুরূদ শরীফ বিনা মধ্যস্থতায়

শুনতে পাই।” উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় কিতাবে

উল্লেখ করা হয়েছে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি হাক্বীক্বীভাবে বিনা

মধ্যস্থতায় তা শুনতে পাই।” (মিরকাত ২য় খণ্ড, ৩৪৭

পৃষ্ঠা) । কিতাবে আরো উল্লেখ আছে, “নিশ্চয়ই হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রওযা

মুবারকে জীবিত অবস্থায় আছেন।” (মিরকাত/২/২২৩)

উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা এটাই

প্রমাণিত হলো যে, ওলীআল্লাহগণসহ শুহাদায়ে

কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিগণ এবং সমস্ত নবী-

রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণ স্বীয় মাযার শরীফ বা

রওযা শরীফ-এ জীবিত রয়েছেন। আর আল্লাহ

পাক-এর হাবীব, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে

মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা তো বলার

অপেক্ষা রাখে না। কারণ তিনি হায়াতুন নবী।

কিয়ামত পর্যন্ত তথা অনন্ত কাল পর্যন্ত উম্মতের

অবস্থা তিনি পর্যবেক্ষণ করবেন।

সরওয়ারে কাওনাইন, ছাহিবে মীছাক্ব, ছাহিবে খুলুক্বে আযীম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কতিপয় অনুপম গুণাবলী ও বৈশিষ্ট মুবারক

 

ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻓﻀﻠﺖ ﻋﻠﻰ ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ ﺑﺴﺖ ﺍﻋﻄﻴﺖ ﺑﺠﻮﺍﻣﻊ ﺍﻟﻜﻠﻢ ﻭﻧﺼﺮﺕ ﺑﺎﻟﺮﻋﺐ ﻭﺍﺣﻠﺖ ﻟﻰ ﺍﻟﻐﻨﺎﺋﻢ ﻭﺟﻌﻠﺖ ﻟﻰ ﺍﻻﺭﺽ ﻣﺴﺠﺪﺍ ﻭﻃﻬﻮﺭﺍ ﻭﺃﺭﺳﻠﺖ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﻛﺎﻓﺔ ﻭﺧﺘﻢ ﺑﻰ ﺍﻟﻨﺒﻴﻮﻥ .

 

অর্থঃ- “হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমাকে অন্যান্য নবীগণের চেয়ে অনন্য ছয়টি বৈশিষ্ট্য বা মর্যাদা দান করা হয়েছে।” (১) আমি ‘জাওয়ামিউল কালিম’ প্রাপ্ত হয়েছি। অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক আমাকে সৃষ্টির শুরু হতে শেষ পর্যন্ত ইল্ম দান করেছেন। (২) আল্লাহ্ পাক আমাকে রো’ব দান করেছেন। (৩) আমার জন্য গণিমতের মাল হালাল করা হয়েছে। (৪) আল্লাহ্ পাক আমার জন্য সমস্ত যমীনকে মসজিদ ও পবিত্র করেছেন। (৫) আল্লাহ্ পাক আমাকে সমস্ত মাখলুকের জন্য নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। (৬) আমার দ্বারা নুবুওওয়াতের দ্বার বন্ধ করা হয়েছে।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ) এ ছয়টি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ব্যতীত আরো অসংখ্য বৈশিষ্ট্য ও অনুপম গুণাবলী দ্বারা মহান আল্লাহ্ পাক উনার পেয়ারা হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বিভূষিত করেছেন। প্রেমিকের মন পড়ে থাকে সর্বদা প্রেমাস্পদকে খুশি করতে। জীবনের সর্বস্ব কুরবান করেও মনে করে কিছু দেয়া হয়নি, কিছুই করা হয়নি। প্রেমাস্পদকে বিভিন্ন ছিফত বা বিশেষণ দ্বারা বিশেষিত করে প্রেমিক অন্তরে এতমিনান লাভ করে। আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিনি হচ্ছেন সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ্ পাক-এর পরেই উনার স্থান, যাঁর প্রেমে স্বয়ং আহ্কামুল হাকিমীন মাতোয়ারা। যার কুদরতী হাতে রয়েছে সবকিছু। তিনি উনার প্রেমাস্পদ সাইয়্যিদুল কাওনাইন, হাবীবে আযম, শাফিউল উমাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কত সীমাহীন মর্যাদা-মর্তবা অনন্য বৈশিষ্ট্য ও অনুপম গুণাবলী দান করেছেন তা কারো পক্ষে নিরূপণ করা সম্ভব নয়। তবে আউলিয়া- ই-কিরামগণ আল্লাহ্ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে নিবিড় সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, মুহব্বত ও নৈকট্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে যে অংশটুকু পেয়েছেন তাঁদের মাধ্যমে যা উম্মতের মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে তারই কিয়দংশ বিবৃত হলো- রঈসুল মুহাদ্দিসীন, ফক্বীহুল উম্মত, রসূলে নোমা, আশিকে রসূল হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সবচেয়ে উন্নত ও পরিপূর্ণ মর্যাদা এবং একক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, (৭) আল্লাহ্ পাক উনার রূহ মুবারককে সমস্ত মাখলুকাতের রূহ সৃষ্টি করার পূর্বে সৃষ্টি করেছেন। তারপর উনার রূহ মুবারক থেকে সমস্ত রূহ সৃষ্টি করেছেন। (৮) সাইয়্যিদুল বাশার, ফখরে আলম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজে আযলে ‘আলাস্তু বি রব্বিকুম’ প্রশ্নের জবাবে সর্বপ্রথম ‘বালা’ বা ‘হ্যাঁ’ বলে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছিলেন। (৯) হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম, আলম, আলমের সৃষ্টি এবং সবকিছুর মূল কারণ হচ্ছেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। (১০) সমস্ত নবীগণের নিকট থেকে এ ব্যাপারে অঙ্গীকার নেয়া হয়েছে যে, তাঁরা যখনই আবির্ভূত হবেন তখনই আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ঈমান আনবেন। (১১) আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাতৃগর্ভ থেকে খতনাকৃত, নাভীকাটা এবং পাক-সাফ অবস্থায় যমিনে তাশরীফ এনেছেন। (১২) আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যমিনে আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই সেজদা করেছিলেন। যমীনে তাশরীফ আনার সময় শাহাদৎ অঙ্গুলী মুবারক উর্ধ্বমুখী ছিলো। সে সময় মা জননী সাইয়্যিদানা হযরত আমিনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা দেখতে পেয়েছিলেন একটি নূর মুবারক উদ্ভাসিত হয়ে শাম দেশের বালাখানা ও মহলসমূহকে আলোকিত করে দিচ্ছে। উনার দোলনা মুবারকে ফেরেশ্তারা দোলা দিয়েছিলেন। (১৩) শাফিউল মুজনিবীন, রহমতুল্লিল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছিনা মুবারক চারবার চাক করা হয়েছে। যা কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম-এর করা হয়নি। (১৪) মহান আল্লাহ্ পাক স্বীয় নাম ‘মাহমুদ’ থেকে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম ‘আহমদ’ ও ‘মুহম্মদ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এ নাম মুবারক দু’টি নির্গত করেছেন। (১৫) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সামনের দিকে যেমন দেখতে পেতেন ঠিক তেমনি পিছনের দিকেও দেখতে পেতেন। দিনের আলোতে যেরূপ দেখতে পেতেন, রাতের অন্ধকারেও তদ্রুপ দেখতে পেতেন। তিনি পাথরের উপর দিয়ে হাঁটার সময় উনার কদম মুবারকের ছাপ পাথরের উপর অংকিত হতো। (১৬) আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর লালা মুবারক লোনা পানিকে মিঠা পানিতে পরিণত করে দিত এবং দুগ্ধ পোষ্য শিশুর বেলায় দুধের প্রয়োজন মিটাতো। উনার বগল মুবারকে কোন প্রকার দুর্গন্ধ ছিলোনা। বরং তা মিশ্ক আম্বর হতে অধিক সুবাসিত ছিলো। (১৭) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কক্তস্বর এতো দূর-দুরান্ত পর্যন্ত পৌঁছত যেখানে অন্য কারো আওয়াজ পৌঁছত না। (১৮) আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চোখ মুবারক নিদ্র্রিত হতো কিন্তু অন্তর মুবারক জেগে থাকতো। নিদ্রাবস্থায় কেউ কথা বললে তিনি শুনতে পেতেন। (১৯) নিদ্রার কারণে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওজু ভঙ্গ হতনা। (২০) সাইয়্যিদু উইলদে আদম, রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও শরীর মুবারকে আড়মোড়া দিতেন না। তিনি কখনও হাই তোলেন নি। (২১) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শরীর মুবারকে কখনও মশা- মাছি বসত না এবং উনার পোশাক পরিচ্ছদে কখনও উকুন হত না। (২২) আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কখনও এহতেলাম হয়নি। (২৩) আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছায়া মুবারক ছিলনা। (২৪) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বচক্ষে আল্লাহ্ পাক-এর দীদার লাভ করেছেন। যা কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম, ফেরেশ্তা এবং আউলিয়া-ই-কিরামগণের হয়নি। (২৫) আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর অবতীর্ণ কিতাবকে বিকৃতি ও পরিবর্তন করা হতে হিফাযত করা হয়েছে। (২৬) আখিরী রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, আমার্না রসূল অর্থাৎ সূরা বাক্বারার সর্বশেষ আয়াতগুলোকে বিশেষভাবে দান করেছেন। যা অন্য কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামকে এ জাতীয় আয়াত প্রদান করা হয়নি। (২৭) আল্লাহ্ পাক সমস্ত রিযিক রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারকময় হাতে সোপর্দ করে দিয়েছেন এবং জাহির-বাতিনের যাবতীয় তরবিয়ত ও শক্তি দান করেছেন। (২৮) বিভিন্ন যুদ্ধ ক্ষেত্রে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সরাসরি ফেরেশ্তা দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। অন্য নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম- এর বেলায় এরূপ হয়নি। (২৯) মহান আল্লাহ্ পাক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘রহমতুল্লিল আলামীন’ করে প্রেরণ করেছেন। (৩০) আল্লাহ্ পাক কখনও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নাম ধরে সম্বোধন করেননি। বরং বলেছেন, ﻳﺎﻳﻬﺎ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ. ﻳﺎ ﻳﻬﺎ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻳﺎﻳﻬﺎ ﺍﻟﻤﺪﺛﺮ . ﻳﺎ ﻳﻬﺎ ﺍﻟﻤﺰﻣﻞ . ইত্যাদি। (৩১) উম্মতের জন্য হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারক ধরে ডাকা হারাম। বরং বলতে হবে, ﻳﺎ ﺣﺒﻴﺐ ﺍﻟﻠﻪ. ﻳﺎ ﻧﺒﻰ ﺍﻟﻠﻪ. ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ. (৩২) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট হযরত ইস্রাফিল আলাইহিস্ সালাম এসেছিলেন। অথচ ইতোপূর্বে অন্য কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম-এর কাছে আসেননি। (৩৩) মৃতব্যক্তিকে কবরে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। (৩৪) আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পুত- পবিত্রা স্ত্রীগণকে উম্মতের জন্য বিবাহ্ করা হারাম করে দেয়া হয়েছে। (৩৫) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আকৃতি মুবারক শয়তান ধারণ করতে পারেনা। (৩৬) হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দেহ মুবারকে যা ছিল সব কিছুই পবিত্র থেকে পবিত্রতম। যারা তা পান করেছেন সকলেই জান্নাত লাভ করেছেন। (৩৭) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ক্বিয়ামতের দিন প্রশংসার পতাকা দান করা হবে। হযরত আদম আলাইহিস্ সালামসহ সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণ সে পতাকার নীচে অবস্থান করবেন। (সুবহানাল্লাহ্)