ছয় উসূলী তাবলীগীদের হাক্বীক্বত ফাঁস

মুহম্মদ মুযাম্মিলুল হক লিখিত- “তাবলীগ জামায়াত

প্রসঙ্গে ১৩ দফা” নামক কিতাবের ১৪ পৃষ্ঠায় লেখা

আছে যে, “প্রচলিত তাবলীগ হচ্ছে নবীওয়ালা কাজ |”

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

প্রচলিত তাবলীগ জামামায়াতের লোকেরা ৬ উছূলী

তাবলীগকে তারা যেজন্য নবীওয়ালা কাজ বলতে

চায়, সেটা হলো- তারা মনে করে যে, নবী আলাইহিমুস

সালামগণ যেভাবে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন,

তারাও বুঝি সেভাবেই ইসলামের দাওয়াত দেয় | কিন্তু

হাক্বীক্বতে এ দু’য়ের মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক

(পার্থক্য)| কারণ নবী আলাইহিমুস সালামগণ সকলেই

মা’রিফাতে পূর্ণ হয়ে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন

এবং তা দেয়া হয়েছে কাফেরদেরকে | সে কারণে

বলা হয় যে, সকল নবী আলাইহিমুস সালামগণের

তাসাউফ এক, কিন্তু শরীয়ত আলাদা | কিন্তু প্রচলিত

তাবলীগ জামায়াতের প্রায় সবাই একেবারেই

তাসাউফ শুন্য হয়ে তাদের ছয় উছূল ভিত্তিক দাওয়াত

দেয় | সে দাওয়াতটা কিনা মুসলমানদেরই মুখ্যতঃ

দেয়া হয় |

কাজেই প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত যা করে, তা

মুসলমানকে সাধারণ তা’লীম-তালক্বীন দেয়া ব্যতীত

কিছুই নয় |

প্রসঙ্গক্রমে এখানে আরো কথা এসে যায়, সেটা

হচ্ছে এই যে, মাদ্রাসা-মক্তবে কিতাবী দর্স ও

তা’লীম দেয়া, মসসিদে, জনসমাবেশে ওয়াজ-নছীহত

করা, দ্বীনী ইলমের জন্য কিতাব প্রনয়ণ করা,

সর্বোপরি, হক্বানী রব্বানী আওলিয়া-ই-কিরামগণের

তরীক্বত এবং উনাদের খানকা শরীফে ও দরগায় এই

ইলমে তাসাউফ ও ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা দেয়া কি

তাহলে নবীওয়ালা কাজ নয়? তবে কি ইহা

শয়তানওয়ালা কাজ? (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)

যদি কোন ব্যক্তি উপরোক্ত আক্বীদা পোষণ করে,

তাহলে সে ঈমান হারা হয়ে কুফরীতে নিপতিত হবে |

উল্লেখ্য যে, যদিও প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের

লোকেরা সুরতান নবীওয়ালা কাজ করে বলে দাবী

করে, কিন্তু হাক্বীক্বতান তারা নবীওয়ালা কাজ

করেনা | সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻋﻠﻤﺎﻥ ﻋﻠﻢ ﻓﻰ ﺍﻗﻠﺐ ﻓﺬﺍﻙ ﻋﻠﻢ ﺍﻟﻨﺎﻓﻊ ﻭﻋﻠﻢ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻠﺴﺎﻥ

ﻓﺬﺍﻟﻚ ﺣﺠﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰﻭﺟﻞ ﻋﻠﻰ ﺍﺑﻦ ﺍﺩﻡ

অর্থঃ- “ইলম দু’প্রকার, একটি হচ্ছে- ক্বলবী ইলম (ইলমে

তাসাউফ)- যা উপকারী ইলম | অপরটি হচ্ছে- জবানী

ইলম (ইলমে ফিক্বাহ)- যা আল্লাহ্ পাক উনার তরফ

থেকে বান্দার প্রতি দলীল স্বরূপ |” (দারেমী

মেশকাত, মেরকাত)

মেশকাত শরীফের শারেহ, হযরত মোল্লা আলী ক্বারী

রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মেরকাত শরীফে এ

প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন, মালেকী মাযহাবের ইমাম,

হযরত ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

ﻣﻦ ﺗﻔﻘﻪ ﻭﻟﻢ ﻳﺘﺼﻮﻑ ﻓﻘﺪ ﺗﻔﺴﻖ ﻭﻣﻦ ﺗﺼﻮﻑ ﻭﻟﻢ ﻳﺘﻔﻘﻪ ﻓﻘﺪ

ﺗﺰﻧﺪﻕ ﻭﻣﻦ ﺟﻤﻊ ﺑﻴﻨﻬﻤﺎ ﻓﻘﺪ ﺗﺤﻔﻖ

“যে ব্যক্তি ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করলো, কিন্তু

ইলমে তাসাউফ শিক্ষা করলো না, সে ব্যক্তি

ফাসেকের অন্তর্ভূক্ত | আর যে ব্যক্তি তাসাউফ করে

অর্থাৎ মা’রিফাত চর্চা করে অথচ ইলমে ফিক্বাহ

শিক্ষা করেনা অর্থাৎ শরীয়ত মানেনা বা অস্বীকার

করে, সে কাফেরের অন্তর্ভূক্ত | আর যে উভয়টিই

শিক্ষা করলো, সেই মুহাক্কিক অর্থাৎ সে ব্যক্তিই

নবী আলাইহিমুস সালামগণের ওয়ারিছ বা হাক্বীক্বী

আলেম |

উল্লেখ্য যে, যিনি ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাসাউফ

হাছিল করেছেন, তিনিই হচ্ছেন- নবী আলাইহিমুস

সালাম উনাদের ওয়ারিছ বা নায়েবে নবী | যাঁহারা

নবী আলাইহিমুস সালামগণের ওয়ারিছ বা নায়েবে

নবী, উনাদের পক্ষেই একমাত্র নবীওয়ালা কাজ

পূর্ণভাবে করা সম্ভব | অথচ প্রচলিত তাবলীগ

জামায়াতে উছূলের মধ্যে তাসাউফের কোন শিক্ষাই

নেই | শুধু ইলমে ফিক্বাহর শিক্ষা যৎসামান্য যা পূর্ণ

ইসলামি শিক্ষার ৫% শিক্ষাও দেয়না,

 

 

টঙ্গীর ইজতেমা এলে ছয় উছূলী তাবলীগ জামায়াতের

প্রায় লোক সাধারণ লোকদের মাঝে একথা প্রচার

করে থাকে যে, “বিশ্ব ইজতেমাই হচ্ছে- গরীবের হজ্ব |

কেননা টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় গেলে হজ্বের সওয়াব

পাওয়া যায় |” (নাউযুবিল্লাহ্)

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

ছয় উছূলী তাবলীগ জামায়াতের বার্ষিক সমাবেশ বা

ইজতেমাকে গরীবেরর হজ্ব ও হজ্বের সাওয়াবের

সাথে তুলনা করা নিতান্তই অজ্ঞতাসূচক,

বিভ্রান্তিমূলক ও কুফরীর শামিল | যে ব্যক্তি এরূপ

আক্বীদা পোষণ করবে এবং এ আক্বীদা পোষণ করা

অবস্থায় মারা যাবে, সে ঈমান হারা হয়ে চির

জাহান্নামী হবে | কারণ হজ্ব হলো ইসলামের পাঁচটি

স্তম্ভ বা ভিত্তির মধ্যে একটি বিশেষ ভিত্তি | এ

প্রসঙ্গে হাদীছ শরফে ইরশাদ হয়েছে, “হযরত ইবনে

উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন,

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূল পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ইসলাম

পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত- (১) স্বাক্ষ্য দেয়া

আল্লাহ পাক ব্যতীত কোন ইলাহ নেই ও হযরত মুহম্মদ

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বান্দা ও

রসল, (২) নামায কায়েম করা, (৩) যাকাত দেয়া, (৪)

হজ্ব করা, (৫) রমাদ্বান শরীফের রোযা রাখা

|” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মেশকাত শরীফ)

অতএব, প্রমাণিত হলো যে, হজ্ব ইসলামের একটি

বিশেষ ভিত্তি | শুধু তাই নয়, হজ্বকে “জামিউল

ইবাদত” ও বলা হয় | এ হজ্ব মালেকে নেছাবদের জন্যে

জীবনে একবার আদায় করা ফরযে আইন | যে ব্যক্তি

হজ্ব ফরয হওয়া সত্বেও বিনা শরয়ী ওজরে হজ্ব করা

থেকে বিরত থাকে, হাদীছ শরীফের বর্ণনা

মোতাবেক সে ইহুদী-নাছারা অর্থাৎ বেদ্বীন হয়ে

মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে |

কাজেই যেখানে হজ্ব একটি ফরয ইবাদত, অশেষ

ফযীলত লাভের মাধ্যম ও ইসলামের একটি গুরুত্ব ও

তাৎপর্যপূর্ণ আমল, সেখানে একটি বাৎসরিক সমাবেশ

বা ইজতেমাকে কি করে হজ্বের সাথে তুলনা করা

যেতে পারে? যেখানে শরীক হওয়া ফরয, ওয়াজিব,

সুন্নতে মুয়াক্বাদাহ্, সুন্নতে যায়েদাহ্, মুস্তাহাব, নফল

কোনটাই নয় | মূলতঃ হজ্বের সাথে ইজতেমাকে তুলনা

করা বা ইজতেমাকে গরীবের হজ্ব বলা, ইসলামের

ভিতর প্রকাশ্য তাফরীত ও ইফরাতের অর্থাৎ কমানো,

বাড়ানোর শামিল, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট

কুফরী | যেমন কাদিয়ানী সম্প্রদায় ও ৭২টি বাতিল

ফেরকার লোকরা ইসলামের ভিতর তাফরীত ও ইফরাত

অর্থাৎ কমানো, বাড়ানোর কারণে কুফরীতে নিপতিত

হয়ে কাফের বা অমুসলিম হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে |

এখানে উল্লেখ্য যে, হাদীছ শরীফে এমন অনেক

আমলের কথাই বলা হয়েছে, যা পালন করলে হজ্ব ও

ওমরার সওয়াব পাওয়া যায় | যেমন-

“ফযর নামাযের পর যিকির-আযকার করে এশরাক্ব

নামায আদায় করলে এক হজ্ব ও ওমরার সওয়াব পাওয়া

যায় |” (মালা-বুদ্দা মিনহু)

অনুরূপ পিতা-মাতার চেহারার দিকে নেক দৃষ্টিতে

তাকালেও হজ্বের সাওয়াব পাওয়া যায় | এ প্রসঙ্গে

হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে যে, “সাইয়্যিদুল

মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কোন নেক সন্তান যখন

পিতা-মাতার দিকে রহমতের দৃষ্টি দেয়, তখন আল্লাহ্

পাক তার প্রত্যেক দৃষ্টির বিণিময়ে একটি করে কবুল

হজ্বের সওয়াব তার আমলনামায় লিখে দেন |” হযরত

ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ

বললেন, যদি প্রতিদিন একশতবার দৃষ্টি দেয়, তবে?

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“আল্লাহ্ পাক মহান ও পবিত্র | (আল্লাহ্ পাক একশতটি

হজ্বের সওয়াবও দিতে পারেন) |” (শো’বুল ঈমান,

মেশকাত, মেরকাত)

কাজেই প্রমাণিত হলো যে, যে সকল আমল করলে হজ্ব

বা ওমরার ফযীলত পাওয়া যায়, তা হাদীছ শরীফে

স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে | কিন্তু কুরআন শরীফ, সুন্নাহ্

শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের কোথাও উল্লেখ নেই যে,

টঙ্গীর ইজতেমা গরীবের হজ্ব বা ইজতেমায় গেলে

হজ্বের সওয়াব পাওয়া যায় |

মূলতঃ এরূপ বক্তব্যের কারণে সাধারণ মানুষ, ইসলামের

একটি গুরুত্বপূর্ণ বুনিয়াদী ফরযের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

অনুধাবনে চরমভাবে ব্যর্থ হবে | যার কারণে যে কেউ

যেকোন স্থানকে হজ্বের জন্যে নির্ধারন করে নিবে |

যেমন সুরেশ্বর ভন্ডদের আস্তানায় কৃত্রিম কা’বা

শরীফ নির্মাণ করা হয়েছে এবং তাতে হাজরে

আসওয়াদও স্থাপন করা হয়েছে | তাদের বক্তব্য হলো-

হজ্ব করার জন্যে মক্কা শরীফে যাওয়ার কোন

প্রয়োজন নেই বরং এখানে হজ্ব করলেই হজ্বের সওয়াব

পাওয়া যাবে | (নাউযুবিল্লাহ)

কাজেই নতুন করে কোন আমলকে হজ্ব হিসাবে সাব্যস্ত

করা বা কোন আমলের জন্যে হজ্বের সওয়াব নির্ধারণ

করা অথবা নফলকে ফরয বলা হারাম, নাজায়েয ও

কুফরী | (সমূহ আক্বায়েদের কিতাব)

অতএব, ইসলামের জন্যে ক্ষতিকর এরূপ কোন বক্তব্য

পেশ করা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয |

মুহম্মদ মুযাম্মিলুল হক লিখিত- “তাবলীগ জামায়াত

প্রসঙ্গে ১৩ দফা” নামক কিতাবের ১৪ পৃষ্ঠায় লেখা

আছে যে, “প্রচলিত তাবলীগ হচ্ছে নবীওয়ালা কাজ |”

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

প্রচলিত তাবলীগ জামামায়াতের লোকেরা ৬ উছূলী

তাবলীগকে তারা যেজন্য নবীওয়ালা কাজ বলতে

চায়, সেটা হলো- তারা মনে করে যে, নবী আলাইহিমুস

সালামগণ যেভাবে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন,

তারাও বুঝি সেভাবেই ইসলামের দাওয়াত দেয় | কিন্তু

হাক্বীক্বতে এ দু’য়ের মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক

(পার্থক্য)| কারণ নবী আলাইহিমুস সালামগণ সকলেই

মা’রিফাতে পূর্ণ হয়ে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন

এবং তা দেয়া হয়েছে কাফেরদেরকে | সে কারণে

বলা হয় যে, সকল নবী আলাইহিমুস সালামগণের

তাসাউফ এক, কিন্তু শরীয়ত আলাদা | কিন্তু প্রচলিত

তাবলীগ জামায়াতের প্রায় সবাই একেবারেই

তাসাউফ শুন্য হয়ে তাদের ছয় উছূল ভিত্তিক দাওয়াত

দেয় | সে দাওয়াতটা কিনা মুসলমানদেরই মুখ্যতঃ

দেয়া হয় |

কাজেই প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত যা করে, তা

মুসলমানকে সাধারণ তা’লীম-তালক্বীন দেয়া ব্যতীত

কিছুই নয় |

প্রসঙ্গক্রমে এখানে আরো কথা এসে যায়, সেটা

হচ্ছে এই যে, মাদ্রাসা-মক্তবে কিতাবী দর্স ও

তা’লীম দেয়া, মসসিদে, জনসমাবেশে ওয়াজ-নছীহত

করা, দ্বীনী ইলমের জন্য কিতাব প্রনয়ণ করা,

সর্বোপরি, হক্বানী রব্বানী আওলিয়া-ই-কিরামগণের

তরীক্বত এবং উনাদের খানকা শরীফে ও দরগায় এই

ইলমে তাসাউফ ও ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা দেয়া কি

তাহলে নবীওয়ালা কাজ নয়? তবে কি ইহা

শয়তানওয়ালা কাজ? (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)

যদি কোন ব্যক্তি উপরোক্ত আক্বীদা পোষণ করে,

তাহলে সে ঈমান হারা হয়ে কুফরীতে নিপতিত হবে |

উল্লেখ্য যে, যদিও প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের

লোকেরা সুরতান নবীওয়ালা কাজ করে বলে দাবী

করে, কিন্তু হাক্বীক্বতান তারা নবীওয়ালা কাজ

করেনা | সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻋﻠﻤﺎﻥ ﻋﻠﻢ ﻓﻰ ﺍﻗﻠﺐ ﻓﺬﺍﻙ ﻋﻠﻢ ﺍﻟﻨﺎﻓﻊ ﻭﻋﻠﻢ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻠﺴﺎﻥ

ﻓﺬﺍﻟﻚ ﺣﺠﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰﻭﺟﻞ ﻋﻠﻰ ﺍﺑﻦ ﺍﺩﻡ

অর্থঃ- “ইলম দু’প্রকার, একটি হচ্ছে- ক্বলবী ইলম (ইলমে

তাসাউফ)- যা উপকারী ইলম | অপরটি হচ্ছে- জবানী

ইলম (ইলমে ফিক্বাহ)- যা আল্লাহ্ পাক উনার তরফ

থেকে বান্দার প্রতি দলীল স্বরূপ |” (দারেমী

মেশকাত, মেরকাত)

মেশকাত শরীফের শারেহ, হযরত মোল্লা আলী ক্বারী

রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মেরকাত শরীফে এ

প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন, মালেকী মাযহাবের ইমাম,

হযরত ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

ﻣﻦ ﺗﻔﻘﻪ ﻭﻟﻢ ﻳﺘﺼﻮﻑ ﻓﻘﺪ ﺗﻔﺴﻖ ﻭﻣﻦ ﺗﺼﻮﻑ ﻭﻟﻢ ﻳﺘﻔﻘﻪ ﻓﻘﺪ

ﺗﺰﻧﺪﻕ ﻭﻣﻦ ﺟﻤﻊ ﺑﻴﻨﻬﻤﺎ ﻓﻘﺪ ﺗﺤﻔﻖ

“যে ব্যক্তি ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করলো, কিন্তু

ইলমে তাসাউফ শিক্ষা করলো না, সে ব্যক্তি

ফাসেকের অন্তর্ভূক্ত | আর যে ব্যক্তি তাসাউফ করে

অর্থাৎ মা’রিফাত চর্চা করে অথচ ইলমে ফিক্বাহ

শিক্ষা করেনা অর্থাৎ শরীয়ত মানেনা বা অস্বীকার

করে, সে কাফেরের অন্তর্ভূক্ত | আর যে উভয়টিই

শিক্ষা করলো, সেই মুহাক্কিক অর্থাৎ সে ব্যক্তিই

নবী আলাইহিমুস সালামগণের ওয়ারিছ বা হাক্বীক্বী

আলেম |

উল্লেখ্য যে, যিনি ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাসাউফ

হাছিল করেছেন, তিনিই হচ্ছেন- নবী আলাইহিমুস

সালাম উনাদের ওয়ারিছ বা নায়েবে নবী | যাঁহারা

নবী আলাইহিমুস সালামগণের ওয়ারিছ বা নায়েবে

নবী, উনাদের পক্ষেই একমাত্র নবীওয়ালা কাজ

পূর্ণভাবে করা সম্ভব | অথচ প্রচলিত তাবলীগ

জামায়াতে উছূলের মধ্যে তাসাউফের কোন শিক্ষাই

নেই | শুধু ইলমে ফিক্বাহর শিক্ষা যৎসামান্য যা পূর্ণ

ইসলামি শিক্ষার ৫% শিক্ষাও দেয়না,

 

 

টঙ্গীর ইজতেমা এলে ছয় উছূলী তাবলীগ জামায়াতের

প্রায় লোক সাধারণ লোকদের মাঝে একথা প্রচার

করে থাকে যে, “বিশ্ব ইজতেমাই হচ্ছে- গরীবের হজ্ব |

কেননা টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় গেলে হজ্বের সওয়াব

পাওয়া যায় |” (নাউযুবিল্লাহ্)

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

ছয় উছূলী তাবলীগ জামায়াতের বার্ষিক সমাবেশ বা

ইজতেমাকে গরীবেরর হজ্ব ও হজ্বের সাওয়াবের

সাথে তুলনা করা নিতান্তই অজ্ঞতাসূচক,

বিভ্রান্তিমূলক ও কুফরীর শামিল | যে ব্যক্তি এরূপ

আক্বীদা পোষণ করবে এবং এ আক্বীদা পোষণ করা

অবস্থায় মারা যাবে, সে ঈমান হারা হয়ে চির

জাহান্নামী হবে | কারণ হজ্ব হলো ইসলামের পাঁচটি

স্তম্ভ বা ভিত্তির মধ্যে একটি বিশেষ ভিত্তি | এ

প্রসঙ্গে হাদীছ শরফে ইরশাদ হয়েছে, “হযরত ইবনে

উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন,

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূল পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ইসলাম

পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত- (১) স্বাক্ষ্য দেয়া

আল্লাহ পাক ব্যতীত কোন ইলাহ নেই ও হযরত মুহম্মদ

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বান্দা ও

রসল, (২) নামায কায়েম করা, (৩) যাকাত দেয়া, (৪)

হজ্ব করা, (৫) রমাদ্বান শরীফের রোযা রাখা

|” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মেশকাত শরীফ)

অতএব, প্রমাণিত হলো যে, হজ্ব ইসলামের একটি

বিশেষ ভিত্তি | শুধু তাই নয়, হজ্বকে “জামিউল

ইবাদত” ও বলা হয় | এ হজ্ব মালেকে নেছাবদের জন্যে

জীবনে একবার আদায় করা ফরযে আইন | যে ব্যক্তি

হজ্ব ফরয হওয়া সত্বেও বিনা শরয়ী ওজরে হজ্ব করা

থেকে বিরত থাকে, হাদীছ শরীফের বর্ণনা

মোতাবেক সে ইহুদী-নাছারা অর্থাৎ বেদ্বীন হয়ে

মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে |

কাজেই যেখানে হজ্ব একটি ফরয ইবাদত, অশেষ

ফযীলত লাভের মাধ্যম ও ইসলামের একটি গুরুত্ব ও

তাৎপর্যপূর্ণ আমল, সেখানে একটি বাৎসরিক সমাবেশ

বা ইজতেমাকে কি করে হজ্বের সাথে তুলনা করা

যেতে পারে? যেখানে শরীক হওয়া ফরয, ওয়াজিব,

সুন্নতে মুয়াক্বাদাহ্, সুন্নতে যায়েদাহ্, মুস্তাহাব, নফল

কোনটাই নয় | মূলতঃ হজ্বের সাথে ইজতেমাকে তুলনা

করা বা ইজতেমাকে গরীবের হজ্ব বলা, ইসলামের

ভিতর প্রকাশ্য তাফরীত ও ইফরাতের অর্থাৎ কমানো,

বাড়ানোর শামিল, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট

কুফরী | যেমন কাদিয়ানী সম্প্রদায় ও ৭২টি বাতিল

ফেরকার লোকরা ইসলামের ভিতর তাফরীত ও ইফরাত

অর্থাৎ কমানো, বাড়ানোর কারণে কুফরীতে নিপতিত

হয়ে কাফের বা অমুসলিম হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে |

এখানে উল্লেখ্য যে, হাদীছ শরীফে এমন অনেক

আমলের কথাই বলা হয়েছে, যা পালন করলে হজ্ব ও

ওমরার সওয়াব পাওয়া যায় | যেমন-

“ফযর নামাযের পর যিকির-আযকার করে এশরাক্ব

নামায আদায় করলে এক হজ্ব ও ওমরার সওয়াব পাওয়া

যায় |” (মালা-বুদ্দা মিনহু)

অনুরূপ পিতা-মাতার চেহারার দিকে নেক দৃষ্টিতে

তাকালেও হজ্বের সাওয়াব পাওয়া যায় | এ প্রসঙ্গে

হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে যে, “সাইয়্যিদুল

মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কোন নেক সন্তান যখন

পিতা-মাতার দিকে রহমতের দৃষ্টি দেয়, তখন আল্লাহ্

পাক তার প্রত্যেক দৃষ্টির বিণিময়ে একটি করে কবুল

হজ্বের সওয়াব তার আমলনামায় লিখে দেন |” হযরত

ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ

বললেন, যদি প্রতিদিন একশতবার দৃষ্টি দেয়, তবে?

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“আল্লাহ্ পাক মহান ও পবিত্র | (আল্লাহ্ পাক একশতটি

হজ্বের সওয়াবও দিতে পারেন) |” (শো’বুল ঈমান,

মেশকাত, মেরকাত)

কাজেই প্রমাণিত হলো যে, যে সকল আমল করলে হজ্ব

বা ওমরার ফযীলত পাওয়া যায়, তা হাদীছ শরীফে

স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে | কিন্তু কুরআন শরীফ, সুন্নাহ্

শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের কোথাও উল্লেখ নেই যে,

টঙ্গীর ইজতেমা গরীবের হজ্ব বা ইজতেমায় গেলে

হজ্বের সওয়াব পাওয়া যায় |

মূলতঃ এরূপ বক্তব্যের কারণে সাধারণ মানুষ, ইসলামের

একটি গুরুত্বপূর্ণ বুনিয়াদী ফরযের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

অনুধাবনে চরমভাবে ব্যর্থ হবে | যার কারণে যে কেউ

যেকোন স্থানকে হজ্বের জন্যে নির্ধারন করে নিবে |

যেমন সুরেশ্বর ভন্ডদের আস্তানায় কৃত্রিম কা’বা

শরীফ নির্মাণ করা হয়েছে এবং তাতে হাজরে

আসওয়াদও স্থাপন করা হয়েছে | তাদের বক্তব্য হলো-

হজ্ব করার জন্যে মক্কা শরীফে যাওয়ার কোন

প্রয়োজন নেই বরং এখানে হজ্ব করলেই হজ্বের সওয়াব

পাওয়া যাবে | (নাউযুবিল্লাহ)

কাজেই নতুন করে কোন আমলকে হজ্ব হিসাবে সাব্যস্ত

করা বা কোন আমলের জন্যে হজ্বের সওয়াব নির্ধারণ

করা অথবা নফলকে ফরয বলা হারাম, নাজায়েয ও

কুফরী | (সমূহ আক্বায়েদের কিতাব)

অতএব, ইসলামের জন্যে ক্ষতিকর এরূপ কোন বক্তব্য

পেশ করা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয |

মলফূযাতের ৪৩ পৃষ্ঠার ৪২নং মলফূযে এবং নবুওয়ত ও

মাওঃ ইলিয়াছ নামক কিতাবের ৩০-৩২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ

আছে যে, “মুসলমান দু’প্রকার- একদল প্রচলিত

তাবলীগের জন্য হিজরত করবে, দ্বিতীয় দল নুছরত বা

সাহায্য করবে, এ দু’দলই মুসলমান | অর্থাৎ যারা

প্রচলিত তাবলীগও করবেনা আর তাবলীগকারীদেরকে

সাহায্যও করবেনা, তারা মুসলমান নয় |” (অনুরূপ

তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব, লেখক- মোঃ

ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী ১৭৪ পৃষ্ঠা, দাওয়াতে

তাবলীগ কি ও কেন? লেখক- ওবায়দুল হক ২১ পৃষ্ঠা,

হযরতজীর কয়েকটি স্বরণীয় বয়ান, ২য় খন্ড ১১ পৃষ্ঠায়

উল্লেখ আছে |)

ছয় উছূলী তাবলীগের উল্লিখিত কিতাবের উপরোক্ত

বক্তব্যটি দলীল-আদিল্লা বিহীন, মনগড়া, যা সম্পূর্ণ

শরীয়তের খেলাফ | মুসলমান হওয়ার জন্য ঈমাণের যে

শর্ত দেয়া হয়েছে, তাতে হিজরত বা নুছরতের কোন

শর্ত দেয়া হয়নি | অর্থাৎ মুসলমান হতে হলে হিজরত

করতেই হবে, এমন কোন শর্ত নেই | মূলতঃ তারা হিজরত

ও নুছরতের সঠিক অর্থ না জানা ও না বুঝার কারণেই

এরূপ লিখেছে |

“হিজরত” শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো- পরিত্যাগ

করা, ছেড়ে যাওয়া, বিরত থাকা |

আর শরীয়তের পরিভাষায় হিজরতের অর্থ হলো- দ্বীন

ও ঈমান হেফাযতের উদ্দেশ্যে স্বীয় মাতৃভূমি

স্থায়ীভাবে পরিত্যাগ করে দূরে কোথাও দ্বীন ও

ঈমানের সাথে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা করা |

শরীয়তের পরিভাষায় মুহাজির হচ্ছেন ঐসকল হযরত

ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ,

উনারা আল্লাহ্ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশে আল্লাহ্ পাক

উনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বাড়ী-ঘর ছেড়ে পবিত্র

মদীনা শরীফ বা অন্যান্য স্থান যেমন- আবিসিনিয়াহ

ইত্যাদিতে হিজরত করে সেখানে বসবাস করেছিলেন |

“নুছরত” শব্দের অর্থ হলো- সাহায্য করা | আর নুছরতের

জন্য মুছাফির, মুক্বীম বা মুহাজির হওয়া শর্ত নয় | বরং

এক মুসলমান অপর মুসলমানকে সাহায্য করাটাই হচ্ছে

নুছরত করা |

“আনছার” শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো-

“সাহায্যকারীগণ|” শরীয়তের পরিভাষায় “আনছার”

হলেন, ঐসকল হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহুমগণ, উনারা আল্লাহ্ পাক উনার রসূল,

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে

পবিত্র মদীনা শরীফ হিজরত করার পর সাহায্য

সহযোগীতা করেছিলেন |

(আল কামুস আল মুহীত্ব, লিসানুল আরব, তাজুল উরুস,

আসাসুল বালাগাহ, আল মিসবাহুল লোগাত, আল কামুস

আল জাদীদ, আল কামুস আল ইসতিলাহী, আল মু’জামুল

ওয়াসীত, বয়ানুল লিসান)

মূলতঃ ছয় উছূলী তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা যা

করে থাকে, তা হচ্ছে- ছফর | আর ছফরকারীকে বলা হয়

মুছাফির |

মুছাফির হচ্ছে- দু’প্রকার | (১) উরফী, (২) শরয়ী | (সমূহ

ফিক্বাহের কিতাব)

(১) উরফী মুছাফির হচ্ছে- যারা ৪৮ মাইলের কম

দুরত্বের স্থান সফর করে | আর (২) শরয়ী মুছাফির হচ্ছে

তারা- যারা ৪৮ মাইল বা তার চেয়ে বেশী দুরবর্তী

স্থান ছফর করে |

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা বোঝা যায়, ছয় উছূলী

তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা যা করে থাকে, তা

প্রকৃতপক্ষে হিজরত নয় | তারা যা করে, মূলতঃ তা

হলো ছফর | অর্থাৎ তারা মুহাজির নয় বরং মুছাফির |

আর যেহেতু তারা শরয়ী মুহাজির নয়, সেহেতু

তাদেরকে যারা সাহায্য করে থাকে তারাও শরয়ী

আনসার নয় | অর্থাৎ আনসারদের ন্যায় নুছরতকারী নয় |

বরং তারা মুসলমান হিসেবে অপর মুসলমানকে সাহায্য

করার ন্যায় সাধারণ নুছরত বা সাহায্য করে থাকে |

আর তাদের একথা যদি ধরেও নেয়া হয় যে, মুসলমান

দু’প্রকার, একদল হিজরত করবে এবং অপর দল তারা

যারা হিজরতকারীদেরকে নুছরত বা সাহায্য করবে |

তবে এ কথা অনুযায়ী ছয় উছূলী তাবলীগ জামায়াতের

লোকেরাও মুসলমানের আওতায় পড়েনা | কারণ

শরীয়তের দৃষ্টিতে তারাও মুহাজির বা আনসার

উভয়টার কোনটাই নয় |

অতএব, এ ব্যাপারে তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ

মনগড়া, বিভ্রান্তিকর, আপত্তিকর ও কুফরী | এরূপ

বক্তব্য থেকে বিরত থাকা সকলের জন্যেই ফরয/

ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত |

মাওলানা ইলিয়াছ ছাহেবের মলফুযাতের ১৮ পৃষ্ঠার

২৯নং মলফুযে একথা উল্লেখ আছে যে, “নামায-রোযা

উচ্চাঙ্গের ইবাদত কিন্তু দ্বীনের সাহায্যকারী নয় |”

উল্লেখ্য এ ধরণের কথা ছয় উছূলী তাবলীগ

জামায়াতেরও অনেক লোকদের মুখে শোনা যায় |

বর্ণিত মন্তব্যটি জেহালতপূর্ণ ও গোমরাহীমূলক, যা

বিভ্রান্তির কারণও বটে | মূলতঃ সব ইবাদত দ্বীনের

সাহায্যকারী | যার কারণে হাদীছ শরীফে “কোন

ইবাদতকেই ছোট মনে করোনা, তা যদি তোমার

ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাতও হয় |”

আবার দ্বীনের সাহায্যকারী সব কাজই ইবাদত |

বর্ণিত আছে, হযরত শোয়াইব আলাইহিস সালাম যখন

উনার জাতিকে তাওহীদের আহ্বানসহ সকল পাপাচার

থেকে বিরত হওয়ার দাওয়াত দিলেন, তখন তারা

বিস্ময়ে ভাবতো, কোন জিনিস উনাকে এভাবে

উৎসাহিত করলো | তারা দেখলো যে, তিনি সালাত

আদায় করেন | অতঃপর তাদের প্রশ্নটা পবিত্র কুরআন

শরীফের ভাষায় বর্ণিত হয়েছে এভাবে-

“আপনার ছালাত কি আমাদের এ নির্দেশই দেয় যে,

আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের পূজনীয় বিষয়গুলো ত্যাগ

করবো? কিম্বা আমরা বিরত থাকবো আমাদের ধন-

সম্পদ নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করা থেকে? আপনি তো

বেশ বুদ্ধিমান, ধার্মিক হে?” (সূরা হুদ/৮৭)

পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে | ইসলাম-এর

পাঁচটি ভিত্তি বা খুঁটি |

“হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা

করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূল

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ইসলাম

পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত- (১) স্বাক্ষ্য দেয়া

আল্লাহ পাক ব্যতীত কোন ইলাহ নেই ও হযরত মুহম্মদ

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বান্দা ও

রসল, (২) নামায কায়েম করা, (৩) যাকাত দেয়া, (৪)

হজ্ব করা, (৫) রমাদ্বান শরীফের রোযা রাখা

|” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মেশকাত শরীফ)

হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত আছে, “নামায দ্বীনের

খুঁটি | যে নামায কায়েম রাখলো, সে দ্বীন কায়েম

রাখলো এবং যে নামায তরক করলো, সে দ্বীন ধ্বংস

করলো |”

উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফসমূহ দ্বারা এ

কথাই স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, নামায ও রোযা

দ্বীনের স্তম্ভ বা খুঁটি | খুঁটি বা স্তম্ভই হচ্ছে দ্বীনের

মূল সাহায্যকারী |

অতএব, নামায, রোযা উচ্চাঙ্গের ইবাদত, কিন্তু

দ্বীনের সাহায্যকারী নয়, একথাটি সম্পূর্ণ ভূল | মূলতঃ

নামায, রোযা উচ্চাঙ্গের ইবাদতের সাথে সাথে

দ্বীনের মূল সাহায্যকারীও বটে |

যে প্রসঙ্গে সূরা বাক্বারার ১৫৩নং আয়াত শরীফে

আল্লাহ্ পাক বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য্য

ও ছালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর |”

এই আয়াত শরীফের তাফরীরে আমরা দেখতে পাই

স্বয়ং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,

বদরের জ্বিহাদে এবং অন্যান্য জিহাদে দ্বীনকে

বিজিত করার জন্য এবং দ্বীনের সাহায্যকারীদেরক

ে (হযরত ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে)

হিফাযতের জন্য আল্লাহ্ পাক উনার নিকট নামাযের

ও সবরের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন |

(সিরাতুন্নবী, মাদারেজুন নুবুওওয়াত, সিরাতে

হালবীয়া, যাদুল মায়াদ, ইবনে হিশাম ইত্যাদি)

তাহলে একথা কি করে শরীয়তস্মত হতে পারে যে,

“নামায রোযা দ্বীনের সাহায্যকারী নয়?”

সূরা আনকাবুতে ৪৫নং আয়াত শরীফে আল্লাহ্ পাক

বলেন, “নিশ্চয়ই সালাত, অশ্লীল এবং অশোভনীয় কাজ

থেকে মানুষকে বিরত রাখে |”

এই আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় হাদীছ শরীফে রয়েছে-

একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এসে

একদিন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনার কাছে বললেন, “ইয়া রাসূলল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম, “অমুক ব্যক্তি সারা রাত

নামায পড়ে কিন্তু সকাল হলেই চুরি করে |” তখন হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,

“নিশ্চয়ই নামায অতি শীঘ্রই তাকে ফিরিয়ে রাখবে

তুমি যা বলতেছ তা থেকে অর্থাৎ চুরি থেকে

|” (আহমদ, বায়হাক্বী, মেশকাত, মেরকাত)

আর রোযা সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক পবিত্র কুরআন

শরীফে বলেন, “তোমাদের উপর রোযা ফরয হলো যেমন

পূর্ববর্তীদের উপর করা হয়েছিল | আশা করা যায়

(রোযা দ্বারা), তোমরা তাক্বওয়া হাছিল করতে

পারবে | (সূরা বাক্বারা-১৮৭)

অর্থাৎ রোযার দ্বারা তাক্বওয়া হাছিল হয় | হাদীছ

শরীফে রয়েছে, “তাক্বওয়া হচ্ছে- সমস্ত ইবাদতের মূল

|”

আর কুরআন শরীফে সূরা হুজরাতের ১৩নং আয়াত

শরীফে আল্লাহ্ পাক বলেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে

ঐ ব্যক্তি আল্লাহ্ পাক উনার কাছে সবচেয়ে বেশী

সম্মানিত, যে সবচেয়ে বেশী পরহেজগার অর্থাৎ

তাক্বওয়াধারী |”

আর হাদীছ শরীফে রয়েছে, “রোযা হচ্ছে মু’মিনের

জন্য (পাপাচার) থেকে বেঁচে থাকার ঢাল স্বরূপ

|” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, ফতহুল বারী)

হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত আছে, “যে মিথ্যা কথা

ত্যাগ করলো না এবং অনুরূপ আমল (অশ্লীল, অশালীন,

খেলাফে শরা) থেকে বিরত থাকলনা, এ প্রকার

লোকেরা খাদ্য, পানীয় থেকে বিরত থাকার কোন

জরুরতই আল্লাহ্ পাক উনার কাছে নেই | অর্থাৎ যারা

রোযা রেখে তাক্বওয়া হাছিল করতে পারেনা

তাদের রোযার, আল্লাহ্ পাক উনার কোন দরকার নেই

| (বুখারী শরীফ, মেশকাত, ফতহুল বারী)

অর্থাৎ রোযা, রোযাদারের সমস্ত পাপাচার থেকে

বিরত রাখবে | অর্থাৎ ছালাত বা রোযা সকল প্রকার

পাপাচার বা অশ্লীল, অশোভনীয় কাজ থেকে বিরত

রেখে মানুষের চরিত্রকে সুন্দর করে তোলে এবং তাঁর

চারিত্রিক সৌন্দর্য্য দ্বারা মুগ্ধ হয়ে মুসলমান,

অমুসলমান সকলেই তার মাধ্যমে ইসলামের পরিচয়

পেয়ে ও ইসলাম বা দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট হয় | এবং

তারাও পাপাচার থেকে বিরত হয়ে নেক কাজে লিপ্ত

হয় | এভাবে তার দ্বারা প্রকারান্তরে দ্বীনের

প্রচার-প্রসারের কাজ হয় বা দ্বীনের বড় ধরণেরে

সাহায্য হয় | অর্থাৎ দ্বীনের কাজের সাহায্য করার

তৌফিক সে প্রাপ্ত হয় এবং তার দ্বারা দ্বীনের

সাহায্য হয় |

তাহলে কেন একথা বলা শরীয়তের খেলাফ হবেনা যে,

নামায রোযা দ্বীনের সাহায্যকারী নয় | মূলতঃ

তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে জেহালতপূর্ণ,

বিভ্রান্তিকর ও শরীয়ত বিরোধী, যার থেকে বিরত

থাকা সকলের জন্যেই ফরয/ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত |

 

 

মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী লিখিত “তাবলীগ

গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব” নামক কিতাবের ৯৩

পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, “লক্ষাধিক ছাহাবা-ই-

কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের মধ্যে

অধিকাংশই মূর্খ ছিলেন |” (নাউযুবিল্লাহ) (অনুরূপ

শরীয়তের দৃষ্টিতে তাবলীগী নেছাব, যার মূল হযরত

জাকারিয়া প্রণীত- ১৩ পৃষ্ঠা, তাবলীগী

জামায়াতের প্রধানের তর্ক ও ইচ্ছা নামক কিতাবের

৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে)

আমাদের জবাব-

হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা

আনহুমগণকে মূর্খ বলা শক্ত হারাম ও কুফরী | মূর্খ

শব্দটি হচ্ছে- একটি অশালীন শব্দ ও গালি, যা হযরত

ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের

শানের সম্পূর্ণ খেলাফ | মূলতঃ এরূপ শব্দ উনাদের

শানে ব্যবহার করা, উনাদেরকে এহানত করার শামিল |

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ্ পাক

ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা পরষ্পর পরষ্পরকে

দোষারোপ করোনা এবং পরষ্পর পরষ্পরকে অশোভনীয়

লক্বব (উপাধি) দ্বারা সম্বোধন করোনা | (কেননা)

ঈমান আনার পর অশ্লীল নাম দ্বারা ডাকা গুণাহ্ এবং

যারা এটা হতে তওবা করলো না তারা জালিমের

অন্তর্ভূক্ত |” (সূরা হুজরাত/১১)

উপরোক্ত আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ্ পাক আমাদের

একে অপরকে দোষারোপ করতে এবং অশ্লীল, খারাপ

শব্দ দ্বারা সম্বোধন করতে নিষেধ করেছেন | আর এও

বলেছেন যে, ঈমান গ্রহণের পর খারাপ নামে সম্বোধন

করা গুণাহের কাজ | (খাযেন, বাগবী, ইবনে কাছীর,

ইবনে আব্বাস ইত্যাদী সকল তাফসীর সমূহ)

আর মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার

ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ এক

মুদ বা অর্ধ মুদ গম আল্লাহর রাস্তায় দান করে যে

ফযীলত অর্জন করেছেন, তোমরা উহুদ পাহাড় পরিমাণ

স্বর্ণ দান করেও তার সমান ফযীলত হাছিল করতে

পারবে না |” (বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, ওমদাতুল

ক্বারী ইত্যাদী)

এ হাদীছ শরীফে হুযূর পাক ছল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহুমগণকে গালী দেয়াকে সম্পূর্ণরূপে

নিষেধ করে দিয়েছেন |

উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ দ্বারা এটাই

প্রমাণিত হয় যে, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে কোন অবস্থাতে

গালী দেয়া তো যাবেইনা বরং কোন প্রকার

অশোভণীয়, অপছন্দনীয় শব্দ দ্বারাও সম্বোধন করা

যাবেনা | এরূপ করলে আল্লাহ্ পাক ও উনার রসূল, হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কষ্টের

কারণ হবে | আর যে তা করবে সে লা’নতের উপযুক্ত

হবে |

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ পাক পবিত্র কালামুল্লাহ্

শরীফে ইরশাদ মুবারক ফরমান, “নিশ্চয় যারা আল্লাহ্

পাক এবং উনার রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম) উনাকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য দুনিয়া এবং

আখেরাতে আল্লাহ্ পাক উনার পক্ষ থেকে

অভিসম্পাত এবং তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক

শাস্তি |” (সূরা আহযাব/৫৭)

এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় সাইয়্যিদুল মুরসালীন,

ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম বলেন, “আল্লাহ্ পাককে ভয় কর, আল্লাহ্

পাককে ভয় কর, আমার ছাহাবা-ই-কিরাম সম্পর্কে |

আমার পরে উনাদেরকে তিরস্কারের লক্ষ্যস্থল

করোনা | উনাদেরকে যারা মহব্বত করলো, তা

আমাকে মহব্বত করার কারণেই | এবং উনাদের প্রতি

যারা বিদ্বেষ পোষণ করলো, তা আমার প্রতি

বিদ্বেষ পোষণ করার কারণেই | উনাদেরকে যারা

কষ্ট দিল, তারা আমাকেই কষ্ট দিল | আর আমাকে

যারা কষ্ট দিল, তারা আল্লাহ পাক উনাকেই কষ্ট

দিল | আর যারা আল্লাহ্ পাক উনাকে কষ্ট দিল,

তাদেরকে আল্লাহ্ পাক অতি শিঘ্রই পাকড়াও করবেন

|” (বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, ওমদাতুল ক্বারী

ইত্যাদী)

উপরোক্ত আলোচানা দ্বারা এটাই প্রতীয়মান হয় যে,

হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা

আনহুমগণকে গালী-গালাজ করা, তিরস্কারের

লক্ষ্যস্থল করা ইত্যাদি সবকিছুই নাজায়েয, হারাম,

কুফরী ও লা’নতের কারণ | কাজেই প্রত্যেক হযরত

ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের

প্রতি সুধারণা ও সঠিক আক্বীদা পোষণ করা এবং

উনাদেরকে মহব্বত করা ঈমাণের অঙ্গ | কারণ আল্লাহ্

পাক স্বয়ং হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহুমগণ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফের

একাধিক স্থানে বলেন, “আল্লাহ্ পাক ছাহাবা-ই-

কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের উপর

সন্তুষ্ট, উনারাও আল্লাহ্ পাক উনার উপর সন্তুষ্ট

|” (সূরা মায়েদা/১১৯, সূরা তওবা/১০০, সূরা

বাইয়্যনাহ্/৮)

আর তাই হযরত ইমামে আযম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি

আলাইহি, উনার বিশ্ব বিখ্যাত আক্বাইদের কিতাবে

উল্লেখ করেন, “আমরা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনার প্রত্যেক হযরত ছাহাবা-ই-কিরামগ

ণকেই সুধারণার সাথে স্মরণ করি |” (ফিক্বহুল আকবর)

মূলতঃ সকল ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা

আনহুমগণই দ্বীন সম্পর্কে গভীর ইলমের অধিকারী

ছিলেন | তাই পবিত্র কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফের

অসংখ্য স্থানে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহুমগণের অনুসরণ করাকে আল্লাহ্ পাক

উনার সন্তুষ্টি লাভের পূর্ব শর্ত বলে উল্লেখ করা

হয়েছে | তা সর্বজন স্বীকৃত যে, মূর্খ লোক কখনো

অনসরণীয় ও আল্লাহ্ পাক উনার সন্তুষ্টি লাভের

মাধ্যম হতে পারেনা |

এখানে উল্লেখ্য যে, হাদীছ শরীফ দ্বারা

সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত যে, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের প্রত্যেকেই গভীর

ইলমের অধিকারী ছিলেন, যেমন হাদীছ শরীফে

উল্লেখ আছে, “হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ

রদ্বিয়াল্লাহ্ তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, “যে ব্যক্তি

শরীয়তের সঠিক তরীকা অনুসরণ করতে চায়, তার

উচিত যাঁরা অতীত হয়েছেন, অর্থাৎ হযরত মুহম্মদ

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রিয়

ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের

অনুসরণ করা | কেননা জীবিত লোকেরা ফিৎনা হতে

নিরাপদ নয় | আর হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণই উম্মতের মধ্যে

সর্বোত্তম, উনারা আত্মার দিক দিয়ে অধিক পবিত্র,

ইলমের দিক দিয়ে গভীর ইলমের অধিকারী, উনারা

লোক দেখানো কোন আমল করতে জানেন না | আল্লাহ্

পাক উনাদেরকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্যে হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথী

হিসাবে মনোনীত করেছেন |

সুতরাং উনাদের মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়েল-ফযীলত,

শান-শওকত সম্পর্কে অবগত হও এবং উনাদের কথা ও

কাজের অনুসরণ কর এবং যথাসম্ভব উনাদের সীরত-

ছুরতকে গ্রহণ কর, কারণ উনারা হিদায়েত ও “সিরাতুল

মুস্তাকীম”-এর উপর দৃঢ় ছিলেন |” (রযীন, মেশকাত,

মেরকাত, আশয়াতুল লুময়াত ইত্যাদি)

এখানে লক্ষণীয় বিষয় এই যে, উক্ত হাদীছ শরীফে

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা

আনহুমগণ গভীর ইলমের অধিকারী |” আর ছয় উছূলী

তাবলীগ ওয়ালারা বলছে, উনাদের মধ্যে অনেকেই

মূর্খ ছিলেন | তাদের এ বক্তব্য সম্পূর্ণ হাদীছ শরীফের

বিপরিত, যা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত |

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, হযরত

ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের

পক্ষে কি করে মূর্খ থাকা সম্ভব হতে পারে? যেখানে

সাধারণ মানুষ যখন আল্লাহ্ পাক উনার ওলী হন, তখন

উনার পক্ষে মূর্খ থাকা সম্ভব হয়না | কারণ তিনি

আল্লাহ্ পাক উনার তরফ থেকে খোদায়ী ইলম বা

ইলমে লাদুন্নী প্রাপ্ত হয়ে আলেম হন |

এর হাজারো উদাহরণ রয়েছে | তার মধ্যে

উল্লেখযোগ্য হলো- হযরত আবুল হাসান খারকানী

রহমতুল্লাহি আলাইহি | যিনি প্রথম জীবনে কোথাও

তেমন লেখাপড়া করেননি এবং ক্ষেত-খামারে কাজ

করে দিন যাপন করতেন | কিন্তু উনার ভেতরে আল্লাহ্

পাক উনার মহব্বত থাকার কারণে তিনি প্রতিদিন

ইশার ওয়াক্তে সুলতানুল আরেফীন, হযরত বায়েযীদ

বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার

শরীফে গিয়ে সারা রাত্র অবস্থান করে যিকির-

আযকার, মুরাকাবা-মুশাহাদা ইত্যাদিতে সময়

কাটাতেন | আর দোয়া করতেন, “আয় আল্লাহ্ পাক!

আপনার ওলী, সুলতানুল আরেফীন, হযরত বায়েযীদ

বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খাঞ্চা থেকে

আমাকে উনার উসীলায় কিছু নিয়ামত দান করুন |

এভাবে প্রায় বিশ বছর অতিবাহিত হয়ে গেল | যেদিন

বিশ বছর পূর্ণ হলো, সেদিন যখন তিনি বাড়ী

ফিরছিলেন, তখন মাজার শরীফে বিকট এক আওয়াজ

হলো | তিনি মাজার শরীফের দিকে লক্ষ্য করলেন

যে, মাজার শরীফ দু’ভাগ হয়ে তার মাঝে একজন

নূরানী ছূরতের লোক দাঁড়িয়ে আছেন | তিনি উনাকে

নিজের দিকে ডাকলেন | তিনি জিজ্ঞেস করলেন,

“তোমার নাম কি?” তিনি বললেন, “আবুল হাসান |”

“থাকো কোথায়?” “খারকান শহরে |” “কি কর?” “ক্ষেত-

খামারে কাজ করি |” “এখানে কি কর?” “এখানে

প্রতিদিন ইশার পরে আসি, মাজার শরীফ যিয়ারত

করি, কিছু যিকির-আযকার, তাসবীহ-তাহলীল ও দোয়া

পাঠ করি, অতঃপর ফজর পড়ে চলে যাই |” “কি বল

এখানে তুমি?” আমি এখানে বলি, “আল্লাহ্ পাক!

আপনার ওলী সুলতানুল আরেফীন, হযরত বায়েযীদ

বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি এখানে শায়িত

আছেন, উনার উসীলায় আমাকে কিছু নিয়ামত দান

করুন |” “এভাবে কতদিন হলো?” “আজকে প্রায় ২০ বৎসর

|” শুনে নূরানী ছূরতধারী ব্যক্তি আশ্চার্যান্বিত হয়ে

বললেন, “বিশ বছর!” অতঃপর নিজের পরিচয় দিয়ে

বললেন, “আমিই বায়েযীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি

আলাইহি |” এরপর তিনি নিজের হাত দিয়ে উনার

পিঠের মধ্যে আস্তে করে থাপ্পর দিয়ে বললেন- “যাও

আমিও সুলতানুল আরেফীন, আর আজ থেকে তুমিও

সুলতানুল আরেফীন |” (সুবহানাল্লাহ্) (তাজকেরাতুল

আওলিয়া)

এ ঘটনার পর হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি

আলাইহি বাড়ী ফিরে আসলেন এবং এরপরে আস্তে

আস্তে করে উনার ভেতরে ইলমে লাদুন্নীর মাধ্যমে

উনার ইলম বৃদ্ধি পেতে লাগলো | এভাবে আস্তে

আস্তে তিনি আল্লাহ্ পাক উনার খালেছ ওলী হয়ে

গেলেন এবং পরবর্তীতে লোকজনকে বাইয়াত করাতে

লাগলেন |

এদিকে সে এলাকায় ছিল একটা বড় মাদ্রাসা |

সেখানে কিছু উলামায়ে হক্ব ছিলেন | উনারা মনে

মনে চিন্তা করলেন- আবুল হাসান খারকানী

রহমতুল্লাহি আলাইহি তো কোন লেখাপড়া জানতেন

না, তিনি লোক বাইয়াত করান, উনাকে একটু পরীক্ষা

করতে হবে | এজন্য উনারা একশ’টা মাসয়ালা

জিজ্ঞাসা করার জন্য রওয়ানা হলেন | তখন আবুল

হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ঘরের

বারান্দায় পায়চারী করতে ছিলেন | ঘরের সামনে

ছিল একটা বাগান, আর বাগানের মধ্যে একজন মালি

কাজ করছিল | যখন সেই সমস্ত আলেম সম্প্রদায়

মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করার জন্য আসছিলেন, হযরত

আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি সেই

মালীর প্রতি একটা দৃষ্টি দিলেন | দৃষ্টি দেয়ার

সাথে সাথে মালি মস্তান হয়ে গেল, মজ্জুব হয়ে গেল

| সে লাফাতে লাগলো | লাফাতে লাফাতে বলতে

লাগলো, হুযূর বেয়াদবী মাফ করবেন | এই যে আলেম

সম্প্রদায় আসছেন, উনারা আপনাকে মাসয়ালা

জিজ্ঞাসা করবেন | আপনি কি জবাব দিবেন, আমিই

জবাব দিয়ে দেই | সেই মালি এক এক করে সেই

একশ’জন আলেমের নাম বলে উনাদের মাসয়ালার

জবাব বলে দিলেন | (সুবহানাল্লাহ্) তখন সেই সমস্ত

আলেম উনার কাছে দিয়ে বাইয়াত হয়ে গেলেন |

(সুবহানাল্লাহ) (তাজকেরাতুল আওলিয়া)

বর্ণিত ঘটনা সাপেক্ষে দু’টি বিষয় বিশেষভাবে

ফিরিকযোগ্য যে, হযরত আবুল হাসান খারকানী

রহমতুল্লাহি আলাইহি যেমন ওলী আল্লাহর ছোহবতের

কারণে ইলমে লাদুন্নী প্রাপ্ত হয়ে ছিলেন, তেমনি

উনার নেক দৃষ্টির কারণে বা ছোহবতের কারণে উনার

বাগানের মালীও ইলমে লাদুন্নী প্রাপ্ত হয়ে, গভীর

ইলমের অধিকারী হয়ে, আলেম সম্প্রদায়ের একশত

মাসয়ালার সঠিক, সম্পূর্ণ ও উত্তম জবাব দিয়েছিলেন

|

সুতরাং এখানে প্রশ্ন দাঁড়ায়, ওলী আল্লাহর

ছোহবতের কারণেই যদি ইলমে লাদুন্নী প্রাপ্ত হয়ে

আলেম হওয়া যায়, তবে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন কি সাইয়্যিদুল

মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত পেয়ে ইলমে

লাদুন্নী প্রাপ্ত হননি? অবশ্যই হয়েছেন, বরং উনারা

দ্বীনের গভীর ইলম অর্জন করে উম্মতের মধ্যে

শ্রেষ্ঠত্ব ও অশেষ ফযীলত অর্জন করেছেন | বস্তুতঃ

উনাদের হাক্বীক্বী ফযীলত না জানার কারণেই

উনাদের শানে এরূপ কথা বলে থাকে | হযরত ছাহাবা-

ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনকে যে

আল্লাহ্ পাক কত ফযীলত দান করেছেন, তা নিন্মোক্ত

বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় |

আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীছ হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে

মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করা

হলো যে, “হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা

আনহু শ্রেষ্ঠ, না হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয

রহমতুল্লাহি আলাইহি শ্রেষ্ঠ? তিনি বলেন, খোদার

কসম! হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

সাথে ঘোড়ায় চড়ে জিহাদে যেতেন, তখন ঘোড়ার

নাকে যে ধুলাবালিগুলো প্রবেশ করতো, সে

ধুলাবালিগুলোও শত শত হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয

রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বহুগুণে শ্রেষ্ঠ | (ফতওয়ায়ে

হাদীসিয়াহ)

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, হযরত

ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের

সকলেই অশেষ ও গভীর ইলমের অধিকারী ছিলেন |

অর্থাৎ প্রত্যেকেই দ্বীনের প্রকৃত আলেম ছিলেন |

উনাদের কোন একজনকেও মূর্খ বলা, পবিত্র কুরআন

শরীফ ও হাদীছ শরীফের বিরোধিতারই শামিল, যা

সম্পূর্ণই হারাম, নাজায়েয ও কুফরী |

অতএব, ছয় উছূলী তাবলীগ জামায়াতের লোকদের জন্য

ওয়াজিব হবে- হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহুমগণের প্রতি অশালীন শব্দ প্রয়োগ করা

ও কুফরী ধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাকা | —

 

হযরতজীর মলফূজাত, পৃষ্ঠা-৪৭, ৫০নং মলফূয, শরীয়তের

দৃষ্টিতে তাবলীগী নেছাব পৃষ্ঠা ১৫, হযরতজী

ইনয়ামের তর্ক ও বাহাছ পৃষ্ঠা-১২, তাবলীগ পরিচয়

পৃষ্ঠা-১৭, তাবলীগ দর্পণ পৃষ্ঠা-৬২ ইত্যাদি কিতাব

সমূহের বর্ণনা অনুযায়ী “ইলিয়াস ছাহেব বিশেষ

স্বপ্নের মাধ্যমে এ তাবলীগের নির্দেশ পেয়েছেন |”

আবার কারো কারো মতে “হিন্দু জমিদারদের কারণে

মুসলমানগণ প্রায় হিন্দু হয়ে পড়লে, ইলিয়াস ছাহেব এ

তাবলীগের উদ্যোগ নেন | তাবলীগের কাজ হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর ইলিয়াস

ছাহেবই পূনরুজ্জীবিত করেন |”

আমাদের জবাব-

উল্লেখ্য ইলিয়াস ছাহেব যদি স্বপ্নের মাধ্যমে ছয়

উছূলী তাবলীগ জামায়াতের কাজের নির্দেশ পেয়ে

থাকেন, তবে তা তার জন্য নিতান্ত ব্যক্তিগত

ব্যাপার হিসেবে গণ্য হবে, যা অপরের জন্য আদৌ

দলীল নয় | কারণ স্বপ্ন আরেকজনের জন্য দলীল নয়, এর

উপরই ফতওয়া |

আর ইলিয়াস ছাহেব যদি তার এলাকার মুসলমানের

দুরাবস্থার কারণে ছয় উছূলী তাবলীগ জামায়াতের

কাজের ব্যবস্থা করে থাকেন, তবে তাও তার

ব্যক্তিগত উদ্যোগ মাত্র | কিন্তু যখনই বলা হবে যে,

তাবলীগের কাজ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার পর ইলিয়াস ছাহেবই পূনরুজ্জীবিত

করেছে, তবে তা হবে সম্পূর্ণই অশুদ্ধ, নাজায়েয ও

কুফরী |

কারণ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনার যামানায় প্রচলিত ছয় উছূলী তাবলীগ

জামায়াতের কোন অস্তিত্বই ছিলনা | বরং তা

মাওলানা ইলিয়াস ছাহেব কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি

বিদয়াত বা নতুন উদ্ভাবিত পন্থা | সুতরাং তার

পূনরুজ্জীবনের কোন প্রশ্নই আসেনা |

উল্লেখ্য, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনি করেছেন পরিপূর্ণ ইসলামের তাবলীগ |

যার অন্তর্ভূক্ত ছিল সম্পূর্ণ শরীয়ত তথা ইলমে

ফিক্বাহ্, ইলমে তাসাউফ, দাওয়াত, তাবলীগ,

জ্বিহাদ, হুকুমাত ইত্যাদি সব কিছুই |

অতএব ইলিয়াস ছাহেব যে তাবলীগ করেছেন, তা হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি যে

তাবলীগ করেছেন তার পূনরুজ্জীবন তো নয়ই, এমনকি

তার পূর্ণ অনুসরণ পর্যন্ত নয় |

আরো উল্লেখ্য যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনি যে তাবলীগ করেছেন, তার অনুসরণ

পূর্ণভাবে করেছেন- হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ থেকে শুরু করে

তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ ও

প্রত্যেক যামানার আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি

আলাইহিমগণ |

মূলতঃ তাবলীগের কাজ কোনদিনই থেমে থাকেনি |

হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম

উনাদের ধারাবাহিকতায় অতীতেও চলেছে এবং

এখনও চলছে, এর বিরতি কোনদিনই হয়নি | অতএব যে

কাজের গতিধারা সবসময়েই প্রবাহমান বা

বিরাজমান, তার আবার পূনরুজ্জীবন কি করে হতে

পারে? তাই কেউ যদি বলে যে, ইলিয়াস ছাহেব হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর

তাবলীগের পূনরুজ্জীবন দান করেছেন, তাহলে সে

কথা কুফরী হবে | কারণ এ কথার অর্থ তাহলে এই

দাঁড়ায় যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লামও প্রচলিত ছয় উছূল ভিত্তিক তাবলীগ

করেছেন | অথচ প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের তর্জ-

তরীক্বা মাত্র প্রায় ৯০ বছর পূর্বে উদ্ভাবন করা

হয়েছে | কাজেই তাদের এ বক্তব্য হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে

মিথ্যারোপ করার শামিল, যা স্পষ্টতঃ কুফরী |

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক

হয়েছে,

ﻣﻦ ﻛﺬﺏ ﻋﻠﻰ ﻣﺘﻤﺪﺍ ﻓﺎﻟﻴﺘﺒﺆﺍ ﻣﻘﻌﺪﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ

অর্থঃ- “যে স্বচ্ছায় আমার নামে মিথ্যা কথা বলে,

সে যেন দুনিয়ায় থাকতেই তার স্থান জাহান্নামে

নির্ধারণ করে নেয় |” (তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ

শরীফ, মেশকাত শরীফ, মেরকাত শরীফ ইত্যাদি)

এখানে উল্লেখ্য যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনার পরে ইলিয়াস ছাহেব তাবলীগ

পূনরুজ্জীবিত করেছে, এই কথা যদি বলা হয়, তাহলে

প্রশ্ন উঠে যে, খোলাফা-ই-রাশেদীন, হযরত ছাহাবা-

ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ, তাবেয়ীন,

তাবে-তাবেয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদ,

আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ কি

দ্বীনের প্রচার-প্রসার, তা’লীম-তালক্বীন, দাওয়াত-

তাবলীগ, দর্স-তাদরীস, ইজতিহাদ-তাজদীদ, জ্বিহাদ,

হুকুমত পরিচালনা ইত্যাদি করেননি? অথচ পবিত্র

হাদীছ শরীফে রয়েছে,

ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﺒﻌﺚ ﻟﻬﺬﻩ ﺍﻻﻣﺔ ﻋﻠﻰ ﺭﺃﺱ ﻛﻞ ﻣﺄﺓ ﺳﻨﺔ ﻣﻦ ﻳﺠﺪﺩﻟﻬﺎ ﺩﻳﻨﻬﺎ

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক প্রত্যেক হিজরী

শতকের শুরুতে এই উম্মতের (ইসলাহর) জন্য একজন

মুজাদ্দিদ প্রেরণ করেন, যিনি দ্বীনের তাজদীদ

করবেন |” (আবূ দাউদ শরীফ, বজলুল মাজহুদ, মেশকাত,

মেরকাত ইত্যাদি)

প্রদত্ত হাদীছ শরীফের প্রেক্ষিতে তাহলে এ যাবত

যাঁরা মুজাদ্দিদ হিসেবে এসেছেন, উনারা কি

তাজদীদ-ইজতিহাদ, তাবলীগ ও দাওয়াতের কাজ

করেননি?

মূলতঃ উনারা সকলেই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুতাবেক বর্ণিত দ্বীনের

দাওয়াত বা কার্যাবলী যথাযথভাবে আঞ্জাম

দিয়েছেন |

অতএব, কি করে এটা বলা যেতে পারে যে, হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে

ইলিয়াস ছাহেব তাবলীগ পূনরুজ্জীবিত করেছেন |

বস্তুতঃ তাদের এ বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া,

বিভ্রান্তিকর, কল্পনাপ্রসূত ও কুফরীর অন্তর্ভূক্ত |

অতএব প্রচলিত ৬(ছয়) উছূল ভিত্তিক তাবলীগ

জামায়াতের লোকদের উপরোক্ত আক্বীদা পোষণ

করা হতে বিরত থাকা ওয়াজিব |

ছয় উছূলী তাবলীগের উল্লিখিত কিতাবের উপরোক্ত

বক্তব্যটি দলীল-আদিল্লা বিহীন, মনগড়া, যা সম্পূর্ণ

শরীয়তের খেলাফ | মুসলমান হওয়ার জন্য ঈমাণের যে

শর্ত দেয়া হয়েছে, তাতে হিজরত বা নুছরতের কোন

শর্ত দেয়া হয়নি | অর্থাৎ মুসলমান হতে হলে হিজরত

করতেই হবে, এমন কোন শর্ত নেই | মূলতঃ তারা হিজরত

ও নুছরতের সঠিক অর্থ না জানা ও না বুঝার কারণেই

এরূপ লিখেছে |

“হিজরত” শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো- পরিত্যাগ

করা, ছেড়ে যাওয়া, বিরত থাকা |

আর শরীয়তের পরিভাষায় হিজরতের অর্থ হলো- দ্বীন

ও ঈমান হেফাযতের উদ্দেশ্যে স্বীয় মাতৃভূমি

স্থায়ীভাবে পরিত্যাগ করে দূরে কোথাও দ্বীন ও

ঈমানের সাথে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা করা |

শরীয়তের পরিভাষায় মুহাজির হচ্ছেন ঐসকল হযরত

ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ,

উনারা আল্লাহ্ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশে আল্লাহ্ পাক

উনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বাড়ী-ঘর ছেড়ে পবিত্র

মদীনা শরীফ বা অন্যান্য স্থান যেমন- আবিসিনিয়াহ

ইত্যাদিতে হিজরত করে সেখানে বসবাস করেছিলেন |

“নুছরত” শব্দের অর্থ হলো- সাহায্য করা | আর নুছরতের

জন্য মুছাফির, মুক্বীম বা মুহাজির হওয়া শর্ত নয় | বরং

এক মুসলমান অপর মুসলমানকে সাহায্য করাটাই হচ্ছে

নুছরত করা |

“আনছার” শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো-

“সাহায্যকারীগণ|” শরীয়তের পরিভাষায় “আনছার”

হলেন, ঐসকল হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহুমগণ, উনারা আল্লাহ্ পাক উনার রসূল,

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে

পবিত্র মদীনা শরীফ হিজরত করার পর সাহায্য

সহযোগীতা করেছিলেন |

(আল কামুস আল মুহীত্ব, লিসানুল আরব, তাজুল উরুস,

আসাসুল বালাগাহ, আল মিসবাহুল লোগাত, আল কামুস

আল জাদীদ, আল কামুস আল ইসতিলাহী, আল মু’জামুল

ওয়াসীত, বয়ানুল লিসান)

মূলতঃ ছয় উছূলী তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা যা

করে থাকে, তা হচ্ছে- ছফর | আর ছফরকারীকে বলা হয়

মুছাফির |

মুছাফির হচ্ছে- দু’প্রকার | (১) উরফী, (২) শরয়ী | (সমূহ

ফিক্বাহের কিতাব)

(১) উরফী মুছাফির হচ্ছে- যারা ৪৮ মাইলের কম

দুরত্বের স্থান সফর করে | আর (২) শরয়ী মুছাফির হচ্ছে

তারা- যারা ৪৮ মাইল বা তার চেয়ে বেশী দুরবর্তী

স্থান ছফর করে |

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা বোঝা যায়, ছয় উছূলী

তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা যা করে থাকে, তা

প্রকৃতপক্ষে হিজরত নয় | তারা যা করে, মূলতঃ তা

হলো ছফর | অর্থাৎ তারা মুহাজির নয় বরং মুছাফির |

আর যেহেতু তারা শরয়ী মুহাজির নয়, সেহেতু

তাদেরকে যারা সাহায্য করে থাকে তারাও শরয়ী

আনসার নয় | অর্থাৎ আনসারদের ন্যায় নুছরতকারী নয় |

বরং তারা মুসলমান হিসেবে অপর মুসলমানকে সাহায্য

করার ন্যায় সাধারণ নুছরত বা সাহায্য করে থাকে |

আর তাদের একথা যদি ধরেও নেয়া হয় যে, মুসলমান

দু’প্রকার, একদল হিজরত করবে এবং অপর দল তারা

যারা হিজরতকারীদেরকে নুছরত বা সাহায্য করবে |

তবে এ কথা অনুযায়ী ছয় উছূলী তাবলীগ জামায়াতের

লোকেরাও মুসলমানের আওতায় পড়েনা | কারণ

শরীয়তের দৃষ্টিতে তারাও মুহাজির বা আনসার

উভয়টার কোনটাই নয় |

অতএব, এ ব্যাপারে তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ

মনগড়া, বিভ্রান্তিকর, আপত্তিকর ও কুফরী | এরূপ

বক্তব্য থেকে বিরত থাকা সকলের জন্যেই ফরয/

ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত |

মাওলানা ইলিয়াছ ছাহেবের মলফুযাতের ১৮ পৃষ্ঠার

২৯নং মলফুযে একথা উল্লেখ আছে যে, “নামায-রোযা

উচ্চাঙ্গের ইবাদত কিন্তু দ্বীনের সাহায্যকারী নয় |”

উল্লেখ্য এ ধরণের কথা ছয় উছূলী তাবলীগ

জামায়াতেরও অনেক লোকদের মুখে শোনা যায় |

বর্ণিত মন্তব্যটি জেহালতপূর্ণ ও গোমরাহীমূলক, যা

বিভ্রান্তির কারণও বটে | মূলতঃ সব ইবাদত দ্বীনের

সাহায্যকারী | যার কারণে হাদীছ শরীফে “কোন

ইবাদতকেই ছোট মনে করোনা, তা যদি তোমার

ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাতও হয় |”

আবার দ্বীনের সাহায্যকারী সব কাজই ইবাদত |

বর্ণিত আছে, হযরত শোয়াইব আলাইহিস সালাম যখন

উনার জাতিকে তাওহীদের আহ্বানসহ সকল পাপাচার

থেকে বিরত হওয়ার দাওয়াত দিলেন, তখন তারা

বিস্ময়ে ভাবতো, কোন জিনিস উনাকে এভাবে

উৎসাহিত করলো | তারা দেখলো যে, তিনি সালাত

আদায় করেন | অতঃপর তাদের প্রশ্নটা পবিত্র কুরআন

শরীফের ভাষায় বর্ণিত হয়েছে এভাবে-

“আপনার ছালাত কি আমাদের এ নির্দেশই দেয় যে,

আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের পূজনীয় বিষয়গুলো ত্যাগ

করবো? কিম্বা আমরা বিরত থাকবো আমাদের ধন-

সম্পদ নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করা থেকে? আপনি তো

বেশ বুদ্ধিমান, ধার্মিক হে?” (সূরা হুদ/৮৭)

পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে | ইসলাম-এর

পাঁচটি ভিত্তি বা খুঁটি |

“হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা

করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূল

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ইসলাম

পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত- (১) স্বাক্ষ্য দেয়া

আল্লাহ পাক ব্যতীত কোন ইলাহ নেই ও হযরত মুহম্মদ

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বান্দা ও

রসল, (২) নামায কায়েম করা, (৩) যাকাত দেয়া, (৪)

হজ্ব করা, (৫) রমাদ্বান শরীফের রোযা রাখা

|” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মেশকাত শরীফ)

হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত আছে, “নামায দ্বীনের

খুঁটি | যে নামায কায়েম রাখলো, সে দ্বীন কায়েম

রাখলো এবং যে নামায তরক করলো, সে দ্বীন ধ্বংস

করলো |”

উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফসমূহ দ্বারা এ

কথাই স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, নামায ও রোযা

দ্বীনের স্তম্ভ বা খুঁটি | খুঁটি বা স্তম্ভই হচ্ছে দ্বীনের

মূল সাহায্যকারী |

অতএব, নামায, রোযা উচ্চাঙ্গের ইবাদত, কিন্তু

দ্বীনের সাহায্যকারী নয়, একথাটি সম্পূর্ণ ভূল | মূলতঃ

নামায, রোযা উচ্চাঙ্গের ইবাদতের সাথে সাথে

দ্বীনের মূল সাহায্যকারীও বটে |

যে প্রসঙ্গে সূরা বাক্বারার ১৫৩নং আয়াত শরীফে

আল্লাহ্ পাক বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য্য

ও ছালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর |”

এই আয়াত শরীফের তাফরীরে আমরা দেখতে পাই

স্বয়ং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,

বদরের জ্বিহাদে এবং অন্যান্য জিহাদে দ্বীনকে

বিজিত করার জন্য এবং দ্বীনের সাহায্যকারীদেরক

ে (হযরত ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে)

হিফাযতের জন্য আল্লাহ্ পাক উনার নিকট নামাযের

ও সবরের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন |

(সিরাতুন্নবী, মাদারেজুন নুবুওওয়াত, সিরাতে

হালবীয়া, যাদুল মায়াদ, ইবনে হিশাম ইত্যাদি)

তাহলে একথা কি করে শরীয়তস্মত হতে পারে যে,

“নামায রোযা দ্বীনের সাহায্যকারী নয়?”

সূরা আনকাবুতে ৪৫নং আয়াত শরীফে আল্লাহ্ পাক

বলেন, “নিশ্চয়ই সালাত, অশ্লীল এবং অশোভনীয় কাজ

থেকে মানুষকে বিরত রাখে |”

এই আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় হাদীছ শরীফে রয়েছে-

একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এসে

একদিন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনার কাছে বললেন, “ইয়া রাসূলল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম, “অমুক ব্যক্তি সারা রাত

নামায পড়ে কিন্তু সকাল হলেই চুরি করে |” তখন হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,

“নিশ্চয়ই নামায অতি শীঘ্রই তাকে ফিরিয়ে রাখবে

তুমি যা বলতেছ তা থেকে অর্থাৎ চুরি থেকে

|” (আহমদ, বায়হাক্বী, মেশকাত, মেরকাত)

আর রোযা সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক পবিত্র কুরআন

শরীফে বলেন, “তোমাদের উপর রোযা ফরয হলো যেমন

পূর্ববর্তীদের উপর করা হয়েছিল | আশা করা যায়

(রোযা দ্বারা), তোমরা তাক্বওয়া হাছিল করতে

পারবে | (সূরা বাক্বারা-১৮৭)

অর্থাৎ রোযার দ্বারা তাক্বওয়া হাছিল হয় | হাদীছ

শরীফে রয়েছে, “তাক্বওয়া হচ্ছে- সমস্ত ইবাদতের মূল

|”

আর কুরআন শরীফে সূরা হুজরাতের ১৩নং আয়াত

শরীফে আল্লাহ্ পাক বলেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে

ঐ ব্যক্তি আল্লাহ্ পাক উনার কাছে সবচেয়ে বেশী

সম্মানিত, যে সবচেয়ে বেশী পরহেজগার অর্থাৎ

তাক্বওয়াধারী |”

আর হাদীছ শরীফে রয়েছে, “রোযা হচ্ছে মু’মিনের

জন্য (পাপাচার) থেকে বেঁচে থাকার ঢাল স্বরূপ

|” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, ফতহুল বারী)

হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত আছে, “যে মিথ্যা কথা

ত্যাগ করলো না এবং অনুরূপ আমল (অশ্লীল, অশালীন,

খেলাফে শরা) থেকে বিরত থাকলনা, এ প্রকার

লোকেরা খাদ্য, পানীয় থেকে বিরত থাকার কোন

জরুরতই আল্লাহ্ পাক উনার কাছে নেই | অর্থাৎ যারা

রোযা রেখে তাক্বওয়া হাছিল করতে পারেনা

তাদের রোযার, আল্লাহ্ পাক উনার কোন দরকার নেই

| (বুখারী শরীফ, মেশকাত, ফতহুল বারী)

অর্থাৎ রোযা, রোযাদারের সমস্ত পাপাচার থেকে

বিরত রাখবে | অর্থাৎ ছালাত বা রোযা সকল প্রকার

পাপাচার বা অশ্লীল, অশোভনীয় কাজ থেকে বিরত

রেখে মানুষের চরিত্রকে সুন্দর করে তোলে এবং তাঁর

চারিত্রিক সৌন্দর্য্য দ্বারা মুগ্ধ হয়ে মুসলমান,

অমুসলমান সকলেই তার মাধ্যমে ইসলামের পরিচয়

পেয়ে ও ইসলাম বা দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট হয় | এবং

তারাও পাপাচার থেকে বিরত হয়ে নেক কাজে লিপ্ত

হয় | এভাবে তার দ্বারা প্রকারান্তরে দ্বীনের

প্রচার-প্রসারের কাজ হয় বা দ্বীনের বড় ধরণেরে

সাহায্য হয় | অর্থাৎ দ্বীনের কাজের সাহায্য করার

তৌফিক সে প্রাপ্ত হয় এবং তার দ্বারা দ্বীনের

সাহায্য হয় |

তাহলে কেন একথা বলা শরীয়তের খেলাফ হবেনা যে,

নামায রোযা দ্বীনের সাহায্যকারী নয় | মূলতঃ

তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে জেহালতপূর্ণ,

বিভ্রান্তিকর ও শরীয়ত বিরোধী, যার থেকে বিরত

থাকা সকলের জন্যেই ফরয/ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত |

 

 

মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী লিখিত “তাবলীগ

গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব” নামক কিতাবের ৯৩

পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, “লক্ষাধিক ছাহাবা-ই-

কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের মধ্যে

অধিকাংশই মূর্খ ছিলেন |” (নাউযুবিল্লাহ) (অনুরূপ

শরীয়তের দৃষ্টিতে তাবলীগী নেছাব, যার মূল হযরত

জাকারিয়া প্রণীত- ১৩ পৃষ্ঠা, তাবলীগী

জামায়াতের প্রধানের তর্ক ও ইচ্ছা নামক কিতাবের

৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে)

আমাদের জবাব-

হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা

আনহুমগণকে মূর্খ বলা শক্ত হারাম ও কুফরী | মূর্খ

শব্দটি হচ্ছে- একটি অশালীন শব্দ ও গালি, যা হযরত

ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের

শানের সম্পূর্ণ খেলাফ | মূলতঃ এরূপ শব্দ উনাদের

শানে ব্যবহার করা, উনাদেরকে এহানত করার শামিল |

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ্ পাক

ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা পরষ্পর পরষ্পরকে

দোষারোপ করোনা এবং পরষ্পর পরষ্পরকে অশোভনীয়

লক্বব (উপাধি) দ্বারা সম্বোধন করোনা | (কেননা)

ঈমান আনার পর অশ্লীল নাম দ্বারা ডাকা গুণাহ্ এবং

যারা এটা হতে তওবা করলো না তারা জালিমের

অন্তর্ভূক্ত |” (সূরা হুজরাত/১১)

উপরোক্ত আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ্ পাক আমাদের

একে অপরকে দোষারোপ করতে এবং অশ্লীল, খারাপ

শব্দ দ্বারা সম্বোধন করতে নিষেধ করেছেন | আর এও

বলেছেন যে, ঈমান গ্রহণের পর খারাপ নামে সম্বোধন

করা গুণাহের কাজ | (খাযেন, বাগবী, ইবনে কাছীর,

ইবনে আব্বাস ইত্যাদী সকল তাফসীর সমূহ)

আর মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার

ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ এক

মুদ বা অর্ধ মুদ গম আল্লাহর রাস্তায় দান করে যে

ফযীলত অর্জন করেছেন, তোমরা উহুদ পাহাড় পরিমাণ

স্বর্ণ দান করেও তার সমান ফযীলত হাছিল করতে

পারবে না |” (বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, ওমদাতুল

ক্বারী ইত্যাদী)

এ হাদীছ শরীফে হুযূর পাক ছল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহুমগণকে গালী দেয়াকে সম্পূর্ণরূপে

নিষেধ করে দিয়েছেন |

উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ দ্বারা এটাই

প্রমাণিত হয় যে, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে কোন অবস্থাতে

গালী দেয়া তো যাবেইনা বরং কোন প্রকার

অশোভণীয়, অপছন্দনীয় শব্দ দ্বারাও সম্বোধন করা

যাবেনা | এরূপ করলে আল্লাহ্ পাক ও উনার রসূল, হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কষ্টের

কারণ হবে | আর যে তা করবে সে লা’নতের উপযুক্ত

হবে |

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ পাক পবিত্র কালামুল্লাহ্

শরীফে ইরশাদ মুবারক ফরমান, “নিশ্চয় যারা আল্লাহ্

পাক এবং উনার রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম) উনাকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য দুনিয়া এবং

আখেরাতে আল্লাহ্ পাক উনার পক্ষ থেকে

অভিসম্পাত এবং তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক

শাস্তি |” (সূরা আহযাব/৫৭)

এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় সাইয়্যিদুল মুরসালীন,

ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম বলেন, “আল্লাহ্ পাককে ভয় কর, আল্লাহ্

পাককে ভয় কর, আমার ছাহাবা-ই-কিরাম সম্পর্কে |

আমার পরে উনাদেরকে তিরস্কারের লক্ষ্যস্থল

করোনা | উনাদেরকে যারা মহব্বত করলো, তা

আমাকে মহব্বত করার কারণেই | এবং উনাদের প্রতি

যারা বিদ্বেষ পোষণ করলো, তা আমার প্রতি

বিদ্বেষ পোষণ করার কারণেই | উনাদেরকে যারা

কষ্ট দিল, তারা আমাকেই কষ্ট দিল | আর আমাকে

যারা কষ্ট দিল, তারা আল্লাহ পাক উনাকেই কষ্ট

দিল | আর যারা আল্লাহ্ পাক উনাকে কষ্ট দিল,

তাদেরকে আল্লাহ্ পাক অতি শিঘ্রই পাকড়াও করবেন

|” (বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, ওমদাতুল ক্বারী

ইত্যাদী)

উপরোক্ত আলোচানা দ্বারা এটাই প্রতীয়মান হয় যে,

হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা

আনহুমগণকে গালী-গালাজ করা, তিরস্কারের

লক্ষ্যস্থল করা ইত্যাদি সবকিছুই নাজায়েয, হারাম,

কুফরী ও লা’নতের কারণ | কাজেই প্রত্যেক হযরত

ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের

প্রতি সুধারণা ও সঠিক আক্বীদা পোষণ করা এবং

উনাদেরকে মহব্বত করা ঈমাণের অঙ্গ | কারণ আল্লাহ্

পাক স্বয়ং হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহুমগণ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফের

একাধিক স্থানে বলেন, “আল্লাহ্ পাক ছাহাবা-ই-

কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের উপর

সন্তুষ্ট, উনারাও আল্লাহ্ পাক উনার উপর সন্তুষ্ট

|” (সূরা মায়েদা/১১৯, সূরা তওবা/১০০, সূরা

বাইয়্যনাহ্/৮)

আর তাই হযরত ইমামে আযম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি

আলাইহি, উনার বিশ্ব বিখ্যাত আক্বাইদের কিতাবে

উল্লেখ করেন, “আমরা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনার প্রত্যেক হযরত ছাহাবা-ই-কিরামগ

ণকেই সুধারণার সাথে স্মরণ করি |” (ফিক্বহুল আকবর)

মূলতঃ সকল ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা

আনহুমগণই দ্বীন সম্পর্কে গভীর ইলমের অধিকারী

ছিলেন | তাই পবিত্র কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফের

অসংখ্য স্থানে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহুমগণের অনুসরণ করাকে আল্লাহ্ পাক

উনার সন্তুষ্টি লাভের পূর্ব শর্ত বলে উল্লেখ করা

হয়েছে | তা সর্বজন স্বীকৃত যে, মূর্খ লোক কখনো

অনসরণীয় ও আল্লাহ্ পাক উনার সন্তুষ্টি লাভের

মাধ্যম হতে পারেনা |

এখানে উল্লেখ্য যে, হাদীছ শরীফ দ্বারা

সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত যে, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের প্রত্যেকেই গভীর

ইলমের অধিকারী ছিলেন, যেমন হাদীছ শরীফে

উল্লেখ আছে, “হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ

রদ্বিয়াল্লাহ্ তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, “যে ব্যক্তি

শরীয়তের সঠিক তরীকা অনুসরণ করতে চায়, তার

উচিত যাঁরা অতীত হয়েছেন, অর্থাৎ হযরত মুহম্মদ

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রিয়

ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের

অনুসরণ করা | কেননা জীবিত লোকেরা ফিৎনা হতে

নিরাপদ নয় | আর হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণই উম্মতের মধ্যে

সর্বোত্তম, উনারা আত্মার দিক দিয়ে অধিক পবিত্র,

ইলমের দিক দিয়ে গভীর ইলমের অধিকারী, উনারা

লোক দেখানো কোন আমল করতে জানেন না | আল্লাহ্

পাক উনাদেরকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্যে হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথী

হিসাবে মনোনীত করেছেন |

সুতরাং উনাদের মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়েল-ফযীলত,

শান-শওকত সম্পর্কে অবগত হও এবং উনাদের কথা ও

কাজের অনুসরণ কর এবং যথাসম্ভব উনাদের সীরত-

ছুরতকে গ্রহণ কর, কারণ উনারা হিদায়েত ও “সিরাতুল

মুস্তাকীম”-এর উপর দৃঢ় ছিলেন |” (রযীন, মেশকাত,

মেরকাত, আশয়াতুল লুময়াত ইত্যাদি)

এখানে লক্ষণীয় বিষয় এই যে, উক্ত হাদীছ শরীফে

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা

আনহুমগণ গভীর ইলমের অধিকারী |” আর ছয় উছূলী

তাবলীগ ওয়ালারা বলছে, উনাদের মধ্যে অনেকেই

মূর্খ ছিলেন | তাদের এ বক্তব্য সম্পূর্ণ হাদীছ শরীফের

বিপরিত, যা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত |

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, হযরত

ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের

পক্ষে কি করে মূর্খ থাকা সম্ভব হতে পারে? যেখানে

সাধারণ মানুষ যখন আল্লাহ্ পাক উনার ওলী হন, তখন

উনার পক্ষে মূর্খ থাকা সম্ভব হয়না | কারণ তিনি

আল্লাহ্ পাক উনার তরফ থেকে খোদায়ী ইলম বা

ইলমে লাদুন্নী প্রাপ্ত হয়ে আলেম হন |

এর হাজারো উদাহরণ রয়েছে | তার মধ্যে

উল্লেখযোগ্য হলো- হযরত আবুল হাসান খারকানী

রহমতুল্লাহি আলাইহি | যিনি প্রথম জীবনে কোথাও

তেমন লেখাপড়া করেননি এবং ক্ষেত-খামারে কাজ

করে দিন যাপন করতেন | কিন্তু উনার ভেতরে আল্লাহ্

পাক উনার মহব্বত থাকার কারণে তিনি প্রতিদিন

ইশার ওয়াক্তে সুলতানুল আরেফীন, হযরত বায়েযীদ

বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার

শরীফে গিয়ে সারা রাত্র অবস্থান করে যিকির-

আযকার, মুরাকাবা-মুশাহাদা ইত্যাদিতে সময়

কাটাতেন | আর দোয়া করতেন, “আয় আল্লাহ্ পাক!

আপনার ওলী, সুলতানুল আরেফীন, হযরত বায়েযীদ

বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খাঞ্চা থেকে

আমাকে উনার উসীলায় কিছু নিয়ামত দান করুন |

এভাবে প্রায় বিশ বছর অতিবাহিত হয়ে গেল | যেদিন

বিশ বছর পূর্ণ হলো, সেদিন যখন তিনি বাড়ী

ফিরছিলেন, তখন মাজার শরীফে বিকট এক আওয়াজ

হলো | তিনি মাজার শরীফের দিকে লক্ষ্য করলেন

যে, মাজার শরীফ দু’ভাগ হয়ে তার মাঝে একজন

নূরানী ছূরতের লোক দাঁড়িয়ে আছেন | তিনি উনাকে

নিজের দিকে ডাকলেন | তিনি জিজ্ঞেস করলেন,

“তোমার নাম কি?” তিনি বললেন, “আবুল হাসান |”

“থাকো কোথায়?” “খারকান শহরে |” “কি কর?” “ক্ষেত-

খামারে কাজ করি |” “এখানে কি কর?” “এখানে

প্রতিদিন ইশার পরে আসি, মাজার শরীফ যিয়ারত

করি, কিছু যিকির-আযকার, তাসবীহ-তাহলীল ও দোয়া

পাঠ করি, অতঃপর ফজর পড়ে চলে যাই |” “কি বল

এখানে তুমি?” আমি এখানে বলি, “আল্লাহ্ পাক!

আপনার ওলী সুলতানুল আরেফীন, হযরত বায়েযীদ

বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি এখানে শায়িত

আছেন, উনার উসীলায় আমাকে কিছু নিয়ামত দান

করুন |” “এভাবে কতদিন হলো?” “আজকে প্রায় ২০ বৎসর

|” শুনে নূরানী ছূরতধারী ব্যক্তি আশ্চার্যান্বিত হয়ে

বললেন, “বিশ বছর!” অতঃপর নিজের পরিচয় দিয়ে

বললেন, “আমিই বায়েযীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি

আলাইহি |” এরপর তিনি নিজের হাত দিয়ে উনার

পিঠের মধ্যে আস্তে করে থাপ্পর দিয়ে বললেন- “যাও

আমিও সুলতানুল আরেফীন, আর আজ থেকে তুমিও

সুলতানুল আরেফীন |” (সুবহানাল্লাহ্) (তাজকেরাতুল

আওলিয়া)

এ ঘটনার পর হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি

আলাইহি বাড়ী ফিরে আসলেন এবং এরপরে আস্তে

আস্তে করে উনার ভেতরে ইলমে লাদুন্নীর মাধ্যমে

উনার ইলম বৃদ্ধি পেতে লাগলো | এভাবে আস্তে

আস্তে তিনি আল্লাহ্ পাক উনার খালেছ ওলী হয়ে

গেলেন এবং পরবর্তীতে লোকজনকে বাইয়াত করাতে

লাগলেন |

এদিকে সে এলাকায় ছিল একটা বড় মাদ্রাসা |

সেখানে কিছু উলামায়ে হক্ব ছিলেন | উনারা মনে

মনে চিন্তা করলেন- আবুল হাসান খারকানী

রহমতুল্লাহি আলাইহি তো কোন লেখাপড়া জানতেন

না, তিনি লোক বাইয়াত করান, উনাকে একটু পরীক্ষা

করতে হবে | এজন্য উনারা একশ’টা মাসয়ালা

জিজ্ঞাসা করার জন্য রওয়ানা হলেন | তখন আবুল

হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ঘরের

বারান্দায় পায়চারী করতে ছিলেন | ঘরের সামনে

ছিল একটা বাগান, আর বাগানের মধ্যে একজন মালি

কাজ করছিল | যখন সেই সমস্ত আলেম সম্প্রদায়

মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করার জন্য আসছিলেন, হযরত

আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি সেই

মালীর প্রতি একটা দৃষ্টি দিলেন | দৃষ্টি দেয়ার

সাথে সাথে মালি মস্তান হয়ে গেল, মজ্জুব হয়ে গেল

| সে লাফাতে লাগলো | লাফাতে লাফাতে বলতে

লাগলো, হুযূর বেয়াদবী মাফ করবেন | এই যে আলেম

সম্প্রদায় আসছেন, উনারা আপনাকে মাসয়ালা

জিজ্ঞাসা করবেন | আপনি কি জবাব দিবেন, আমিই

জবাব দিয়ে দেই | সেই মালি এক এক করে সেই

একশ’জন আলেমের নাম বলে উনাদের মাসয়ালার

জবাব বলে দিলেন | (সুবহানাল্লাহ্) তখন সেই সমস্ত

আলেম উনার কাছে দিয়ে বাইয়াত হয়ে গেলেন |

(সুবহানাল্লাহ) (তাজকেরাতুল আওলিয়া)

বর্ণিত ঘটনা সাপেক্ষে দু’টি বিষয় বিশেষভাবে

ফিরিকযোগ্য যে, হযরত আবুল হাসান খারকানী

রহমতুল্লাহি আলাইহি যেমন ওলী আল্লাহর ছোহবতের

কারণে ইলমে লাদুন্নী প্রাপ্ত হয়ে ছিলেন, তেমনি

উনার নেক দৃষ্টির কারণে বা ছোহবতের কারণে উনার

বাগানের মালীও ইলমে লাদুন্নী প্রাপ্ত হয়ে, গভীর

ইলমের অধিকারী হয়ে, আলেম সম্প্রদায়ের একশত

মাসয়ালার সঠিক, সম্পূর্ণ ও উত্তম জবাব দিয়েছিলেন

|

সুতরাং এখানে প্রশ্ন দাঁড়ায়, ওলী আল্লাহর

ছোহবতের কারণেই যদি ইলমে লাদুন্নী প্রাপ্ত হয়ে

আলেম হওয়া যায়, তবে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন কি সাইয়্যিদুল

মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত পেয়ে ইলমে

লাদুন্নী প্রাপ্ত হননি? অবশ্যই হয়েছেন, বরং উনারা

দ্বীনের গভীর ইলম অর্জন করে উম্মতের মধ্যে

শ্রেষ্ঠত্ব ও অশেষ ফযীলত অর্জন করেছেন | বস্তুতঃ

উনাদের হাক্বীক্বী ফযীলত না জানার কারণেই

উনাদের শানে এরূপ কথা বলে থাকে | হযরত ছাহাবা-

ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনকে যে

আল্লাহ্ পাক কত ফযীলত দান করেছেন, তা নিন্মোক্ত

বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় |

আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীছ হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে

মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করা

হলো যে, “হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা

আনহু শ্রেষ্ঠ, না হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয

রহমতুল্লাহি আলাইহি শ্রেষ্ঠ? তিনি বলেন, খোদার

কসম! হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

সাথে ঘোড়ায় চড়ে জিহাদে যেতেন, তখন ঘোড়ার

নাকে যে ধুলাবালিগুলো প্রবেশ করতো, সে

ধুলাবালিগুলোও শত শত হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয

রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বহুগুণে শ্রেষ্ঠ | (ফতওয়ায়ে

হাদীসিয়াহ)

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, হযরত

ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের

সকলেই অশেষ ও গভীর ইলমের অধিকারী ছিলেন |

অর্থাৎ প্রত্যেকেই দ্বীনের প্রকৃত আলেম ছিলেন |

উনাদের কোন একজনকেও মূর্খ বলা, পবিত্র কুরআন

শরীফ ও হাদীছ শরীফের বিরোধিতারই শামিল, যা

সম্পূর্ণই হারাম, নাজায়েয ও কুফরী |

অতএব, ছয় উছূলী তাবলীগ জামায়াতের লোকদের জন্য

ওয়াজিব হবে- হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহুমগণের প্রতি অশালীন শব্দ প্রয়োগ করা

ও কুফরী ধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাকা | —

 

হযরতজীর মলফূজাত, পৃষ্ঠা-৪৭, ৫০নং মলফূয, শরীয়তের

দৃষ্টিতে তাবলীগী নেছাব পৃষ্ঠা ১৫, হযরতজী

ইনয়ামের তর্ক ও বাহাছ পৃষ্ঠা-১২, তাবলীগ পরিচয়

পৃষ্ঠা-১৭, তাবলীগ দর্পণ পৃষ্ঠা-৬২ ইত্যাদি কিতাব

সমূহের বর্ণনা অনুযায়ী “ইলিয়াস ছাহেব বিশেষ

স্বপ্নের মাধ্যমে এ তাবলীগের নির্দেশ পেয়েছেন |”

আবার কারো কারো মতে “হিন্দু জমিদারদের কারণে

মুসলমানগণ প্রায় হিন্দু হয়ে পড়লে, ইলিয়াস ছাহেব এ

তাবলীগের উদ্যোগ নেন | তাবলীগের কাজ হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর ইলিয়াস

ছাহেবই পূনরুজ্জীবিত করেন |”

আমাদের জবাব-

উল্লেখ্য ইলিয়াস ছাহেব যদি স্বপ্নের মাধ্যমে ছয়

উছূলী তাবলীগ জামায়াতের কাজের নির্দেশ পেয়ে

থাকেন, তবে তা তার জন্য নিতান্ত ব্যক্তিগত

ব্যাপার হিসেবে গণ্য হবে, যা অপরের জন্য আদৌ

দলীল নয় | কারণ স্বপ্ন আরেকজনের জন্য দলীল নয়, এর

উপরই ফতওয়া |

আর ইলিয়াস ছাহেব যদি তার এলাকার মুসলমানের

দুরাবস্থার কারণে ছয় উছূলী তাবলীগ জামায়াতের

কাজের ব্যবস্থা করে থাকেন, তবে তাও তার

ব্যক্তিগত উদ্যোগ মাত্র | কিন্তু যখনই বলা হবে যে,

তাবলীগের কাজ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার পর ইলিয়াস ছাহেবই পূনরুজ্জীবিত

করেছে, তবে তা হবে সম্পূর্ণই অশুদ্ধ, নাজায়েয ও

কুফরী |

কারণ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনার যামানায় প্রচলিত ছয় উছূলী তাবলীগ

জামায়াতের কোন অস্তিত্বই ছিলনা | বরং তা

মাওলানা ইলিয়াস ছাহেব কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি

বিদয়াত বা নতুন উদ্ভাবিত পন্থা | সুতরাং তার

পূনরুজ্জীবনের কোন প্রশ্নই আসেনা |

উল্লেখ্য, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনি করেছেন পরিপূর্ণ ইসলামের তাবলীগ |

যার অন্তর্ভূক্ত ছিল সম্পূর্ণ শরীয়ত তথা ইলমে

ফিক্বাহ্, ইলমে তাসাউফ, দাওয়াত, তাবলীগ,

জ্বিহাদ, হুকুমাত ইত্যাদি সব কিছুই |

অতএব ইলিয়াস ছাহেব যে তাবলীগ করেছেন, তা হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি যে

তাবলীগ করেছেন তার পূনরুজ্জীবন তো নয়ই, এমনকি

তার পূর্ণ অনুসরণ পর্যন্ত নয় |

আরো উল্লেখ্য যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনি যে তাবলীগ করেছেন, তার অনুসরণ

পূর্ণভাবে করেছেন- হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ থেকে শুরু করে

তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ ও

প্রত্যেক যামানার আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি

আলাইহিমগণ |

মূলতঃ তাবলীগের কাজ কোনদিনই থেমে থাকেনি |

হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম

উনাদের ধারাবাহিকতায় অতীতেও চলেছে এবং

এখনও চলছে, এর বিরতি কোনদিনই হয়নি | অতএব যে

কাজের গতিধারা সবসময়েই প্রবাহমান বা

বিরাজমান, তার আবার পূনরুজ্জীবন কি করে হতে

পারে? তাই কেউ যদি বলে যে, ইলিয়াস ছাহেব হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর

তাবলীগের পূনরুজ্জীবন দান করেছেন, তাহলে সে

কথা কুফরী হবে | কারণ এ কথার অর্থ তাহলে এই

দাঁড়ায় যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লামও প্রচলিত ছয় উছূল ভিত্তিক তাবলীগ

করেছেন | অথচ প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের তর্জ-

তরীক্বা মাত্র প্রায় ৯০ বছর পূর্বে উদ্ভাবন করা

হয়েছে | কাজেই তাদের এ বক্তব্য হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে

মিথ্যারোপ করার শামিল, যা স্পষ্টতঃ কুফরী |

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক

হয়েছে,

ﻣﻦ ﻛﺬﺏ ﻋﻠﻰ ﻣﺘﻤﺪﺍ ﻓﺎﻟﻴﺘﺒﺆﺍ ﻣﻘﻌﺪﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ

অর্থঃ- “যে স্বচ্ছায় আমার নামে মিথ্যা কথা বলে,

সে যেন দুনিয়ায় থাকতেই তার স্থান জাহান্নামে

নির্ধারণ করে নেয় |” (তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ

শরীফ, মেশকাত শরীফ, মেরকাত শরীফ ইত্যাদি)

এখানে উল্লেখ্য যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনার পরে ইলিয়াস ছাহেব তাবলীগ

পূনরুজ্জীবিত করেছে, এই কথা যদি বলা হয়, তাহলে

প্রশ্ন উঠে যে, খোলাফা-ই-রাশেদীন, হযরত ছাহাবা-

ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ, তাবেয়ীন,

তাবে-তাবেয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদ,

আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ কি

দ্বীনের প্রচার-প্রসার, তা’লীম-তালক্বীন, দাওয়াত-

তাবলীগ, দর্স-তাদরীস, ইজতিহাদ-তাজদীদ, জ্বিহাদ,

হুকুমত পরিচালনা ইত্যাদি করেননি? অথচ পবিত্র

হাদীছ শরীফে রয়েছে,

ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﺒﻌﺚ ﻟﻬﺬﻩ ﺍﻻﻣﺔ ﻋﻠﻰ ﺭﺃﺱ ﻛﻞ ﻣﺄﺓ ﺳﻨﺔ ﻣﻦ ﻳﺠﺪﺩﻟﻬﺎ ﺩﻳﻨﻬﺎ

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক প্রত্যেক হিজরী

শতকের শুরুতে এই উম্মতের (ইসলাহর) জন্য একজন

মুজাদ্দিদ প্রেরণ করেন, যিনি দ্বীনের তাজদীদ

করবেন |” (আবূ দাউদ শরীফ, বজলুল মাজহুদ, মেশকাত,

মেরকাত ইত্যাদি)

প্রদত্ত হাদীছ শরীফের প্রেক্ষিতে তাহলে এ যাবত

যাঁরা মুজাদ্দিদ হিসেবে এসেছেন, উনারা কি

তাজদীদ-ইজতিহাদ, তাবলীগ ও দাওয়াতের কাজ

করেননি?

মূলতঃ উনারা সকলেই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুতাবেক বর্ণিত দ্বীনের

দাওয়াত বা কার্যাবলী যথাযথভাবে আঞ্জাম

দিয়েছেন |

অতএব, কি করে এটা বলা যেতে পারে যে, হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে

ইলিয়াস ছাহেব তাবলীগ পূনরুজ্জীবিত করেছেন |

বস্তুতঃ তাদের এ বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া,

বিভ্রান্তিকর, কল্পনাপ্রসূত ও কুফরীর অন্তর্ভূক্ত |

অতএব প্রচলিত ৬(ছয়) উছূল ভিত্তিক তাবলীগ

জামায়াতের লোকদের উপরোক্ত আক্বীদা পোষণ

করা হতে বিরত থাকা ওয়াজিব |

Advertisements

2 thoughts on “ছয় উসূলী তাবলীগীদের হাক্বীক্বত ফাঁস

  1. এই লেখার ছত্রে ছত্রে লেখকের মুর্খামি প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে। তাই জবাব দিয়ে সময়ের অপচয় করতে চাই না। শুধুমাত্র একটা পরামর্শই দেব যে, তওবা করুন এবং আপনার হজরতকেও তওবা করে ভণ্ডামি ত্যাগ করতে বলুন। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেদায়াত দান করুন। আমি-ন।

    Like

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s