মিলাদ সম্পর্কে মক্কা শরীফের প্রাচীন ফতোয়া

মিলাদ সম্পর্কে মক্কা শরীফের প্রাচীন ফতোয়া

প্রশ্নোত্তরে মিলাদ

প্রশ্নঃ আল্লাহ তায়ালা অসীম রহমত আপনার উপর বর্ষিত হোক । নিম্নে বর্নিত

বিষয়ে আপনার অভিমত ও ফতোয়া কি ?

” মিলাদ শরীফ পাঠ করা – বিশেষ করে নবী করিম সাল্লাল্লাহয় আলাইহে

ওয়াসাল্লামের পবিত্র জন্ম বৃত্তান্ত পাঠকালে কিয়াম করে সম্মান প্রদর্শন করা ,

মিলাদের জন্য দিন তারিখ নিদিষ্ট করা , মিলাদ মজলিস কে সাজানো , আতর

গোলাপ ও খুশবু ব্যাভার করা। কুরআন শরীফ হতে সুরা ক্বেরাত পাঠ করা এবং

মুসলমানদের জন্য খানাপিনা (তাবারুক) তৈরি করা – এই ভাবে অনুষ্ঠান করা

জায়েয কিনা এবং অনুষ্ঠানকারীগন এতো সাওয়াবের অধিকারী হবেন কিনা ?

বর্ণনা করে আল্লাহর পক্ষ হতে পুরস্কৃত হোন ” । – আব্দুর রহীম তুর্কমানী – হিন্দুস্তান

,১২৮৮ হিজরি ।

মক্কা শরীফের ফতোয়াদাতাগনের জবাব ও ফতোয়াঃ

অনুবাদঃ

জেনে নিন – উপরে বর্নিত নিয়মে (কিয়াম) মিলাদ শরীফের অনুষ্ঠান করা

মোস্তাহসান ও মুস্তাহাব । আল্লাহ ও সমস্ত মুসলমানের নিকট ইহা উত্তম । ইহার

অস্বীকারকারীগন বিদআতপন্থী ও গোমরাহ্ । হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্নিত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার হাদিস আছে -মুসলমান যে কাজকে পছন্দনীয় বলে বিবেচনা করেন –

তা আল্লাহর নিকট ও পছন্দনীয় ।— মুসলিম

এখানে মুসলমান বলতে ঐ সমস্ত মুসলমানকে বুঝায়-যারা কামেল মুসলমান । যেমন

পরিপুর্ন আমলকারী উলামা , বিশেষ করে আরবেরদেশ , মিশর , সিরিয়া ,তুরস্ক ও

স্পেন-ইত্যাদি দেশের উলামাগন সলফে সালেহীনদের যুগ থেকে অদ্যবধি (১২৮৮

হিঃ) সকলেই মিলাদ কেয়াম কে মুস্তাহসান, উত্তম ও পছন্দনীয় বলে অভিমত

প্রকাশ করেছেন । সর্বযুগের উলামাগনের স্বীকৃতির কারনে মিলাদও কিয়ামের

বিষয় বরহক । উহা গোমরাহী হতে পারে না । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে

ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-আমার উম্মত গোমরাহ বিষয়ে একমত হতে পারে না —

আল হাদিস

সুতরাং যারা মিলাদ ও কিয়াম কে অস্বিকার করবে-শরিয়তের বিচারকের উপর

তাদের যথাযথ শাস্তি প্রদান করা ওয়াজিব । ( ফতুয়া সমাপ্ত )

মক্কা শরিফের ফতোয়াদাতা মুফতীগনের স্বাক্ষর ও সিলমোহর

১। আল্লামা আব্দুর রহমান সিরাজ ।

২।আল্লামা আহনদ দাহলান ।

৩।আল্লামা হাসান ।

৪। আল্লামা আব্দুর রহমান জামাল ।

৫। আল্লামা হাসান তৈয়ব।

৬।আল্লামা সোলায়মান ঈছা ।

৭। আল্লামা আহমদ দাগেস্তানী ।

৮। আল্লামা আব্ডুল কাদের সামস ।

৯। আল্লামা আব্দুর রহমান আফেন্দী ।

১০। আল্লামা আব্দুল কাদের সানখিনী।

১১। আল্লামা মুহাম্মদ শারকী ।

১২ । আল্লামা আব্দুল কাদের খোকীর ।

১৩। আল্লামা ইবরাহিম আলফিতান।

১৪। আল্লামা মুহাম্মদ জারুল্লাহ ।

১৫। আল্লামা আব্দুল মুত্তালিব ।

১৬। আললামা কামাল আহমেদ ।

১৭। আল্লামা মুহাম্মাদ ছায়ীদ আল-আদাবি ।

১৮। আল্লামা আলি জাওহাদ ।

১৯। আল্লামা সৈয়দ আব্দুল্লাহ কোশাক।

২০। আল্লামা হোসাইন আরব।

২১ । আল্লামা ইব্রাহিম নওমুছি।

২২। আল্লামা আহমদ আমিন।

২৩। আল্লামা শেখ ফারূক ।

২৪। আল্লামা আব্দুর রহমান আযমী ।

২৫। আল্লামা আব্দুল্লাহ মাশশাত ।

২৬। আল্লামা আব্দুল্লাহ কুম্মাশী।

২৮। আল্লামা মুহাম্মদ বা-বাসীল।

২৯। আল্লামা মুহাম্মদ সিয়ুনী।

৩০। আল্লামা মুহাম্মদ সালেহ জাওয়ারী।

৩১। আল্লামা আব্দুল্লাহ জাওয়ারী।

৩২। আল্লামা মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ ।

৩৩। আল্লামা আহমদ আল মিনহিরাভী ।

৩৪ । আল্লামা সোলাইমান উকবা ।

৩৫। আল্লামা সৈয়দ শাত্বী ওমর ।

৩৬। আল্লামা আব্দুল হামিদ দাগেস্তানী ।

৩৭। আল্লামা মুস্তফা আফীফী ।

৩৮। আল্লামা মানসুর।

৩৯ । আল্লামা মিনশাবী ।

৪০। আল্লামা মুহাম্মদ রাযী ।

(১২৮৮ হিজরী) ।

তথ্যসূত্র

আল্লামা আব্দুর রহীম তুর্কমানী (রহঃ) ১২৮৮ হিজরী সনে মক্কা ও মদিনা এবং

জেদ্দাহ ও হাদিদার উলামায়ে কেরামের দ্বারা মিলাদ ও কিয়াম সম্পর্কে একটি

ফতোয়া লিখিয়ে হিন্দুস্তানে নিয়ে আসেন এবং নিজ গ্রন্থ ” রাওয়াতুন নাঈম ” –

এর শেষাংশে ছেপে প্রকাশ করেন । ( আনওয়ারে ছাতেয়া দেখুন )

মিলাদ ও কিয়ামের বিধান (লেখকঃ অধ্যক্ষ এম এ জলিল

Advertisements

দেওবন্দীদের মুরব্বীরাও মিলাদ-ক্বিয়াম শরীফ পাঠ করেছে৷

দেওবন্দী, তাবলীগি দের চাইতে বড় ভন্ড মুনাফিক দুনিয়ায় আছে কিনা সন্দেহ আছে। আমারা যে

আমল গুলো করলে তারা শিরক- বিদয়াতের গরম ফতোয়া দেয়, সে কাজগুলো তাদের মুরুব্বীরা করলো

সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকে।

সকল নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আশেকগনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, উনারা মীলাদ

শরীফ এবং ক্বিয়াম শরীফ করে থাকেন। অথচ দেওবন্দী – তাবলীগি- কওমী খারেজীরা এইটাকে

সরাসরি বিদয়াত/ কুফরী/ শিরিক ফতোয়া দিয়ে থাকে।

অথচ, এই দেওবন্দী তাবলীগি দের মুরুব্বীরা এই মীলাদ শরীফ এবং ক্বিয়াম শরীফকে জায়েজ বলেই

ফতোয়া প্রদান করেছে এবং পালনও করেছে ।

আসুন তাদের কিতাব থেকেই দলীল প্রদান করি —

আশরাফ আলী থানবী , রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী, সহ সকল উলামায়ে দেওবন্দীদের পীর শায়েখে আরব

ওয়াল আযম ,হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজির মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর কিতাবে বর্ননা করেন –

>

ﻣﻮﻟﻮﺩ ﺷﺮﻳﻒ ﻛﻮ ﺫﺭﻳﻌﻪ ﺑﺮﻛﻠﺖ ﺳﻤﺠﻪ ﻛﺮ ﻫﺮ ﺳﺎﻝ ﻣﻨﻌﻘﺪ ﻛﺮﺗﺎﻫﻮﻥ ﺍﻭﺭﻗﻴﺎﻡ ﻛﮯ ﻭﻗﺖ ﺑﮯ ﺣﺪ ﻟﻄﻒ ﻭﻟﺬﺕ ﭘﺎﺗﺎﻫﻮﯼ

অর্থ- মীলাদ শরীফের মাহফিলকে বরকত লাভের উসিলা মনে করে আমি প্রতি বছর মীলাদ শরীফ এর

মজলিস করি এবং মীলাদ মাহফিলে ক্বিয়াম শরীফ করার সময় আমি অশেষ আনন্দ ও স্বাদ উপভোগ

করি।”

দলীল —

√ ফয়সালায়ে হাফতে মাসায়লা পৃষ্ঠা ৫

হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার অন্য কিতাবে বলেন —

” আমাদের আলেমগন (দেওবন্দী) মীলাদ শরীফের বিষয়ে খুবই বিরোধ করছে। তবু আমি ক্বিয়াম শরীফ

জায়েজ পন্থি আলেমগনের পক্ষেই গেলাম। যখন ক্বিয়াম শরীফ জায়েজ হওয়ার দলীল মওজুদ আছে ,

তখন কেন এতো বাড়াবড়ি করা হচ্ছে ? আমাদের জন্য তো মক্কা শরীফ মদীনা শরীফের অনুকরনই

যথেষ্ট।অবশ্য ক্বিয়ামের সময় জন্মের এতেকাদ না রাখা চাই। যদি ( মাহফিলে) হুজুর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের বিষয়ে বিশ্বাস করা হয় , এতে কোন অসুবিধা

নাই। কেননা আলমে খালক এবং কালের সাথে সম্পৃক্ত , এবং আলমে আমর উভয়বিধ অবস্থা থেকে

পবিত্র । সূতরাং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মীলাদ মাহফিলে আগমন করা

উনার পবিত্র জাত মুবরকের জন্য অসম্ভব নয় !”

দলীল–

√ শামায়েলে এমদাদীয়া ৮ পৃষ্ঠা

দেওবন্দী সর্বোচ্চ গুরু আশরাফ আলী থানবী তার কিতাবে লিখেছে —

ﻭﻻﺣﺘﻔﺎﻝ ﺑﺬﻛﺮ ﺍﻟﻮﺩﺓ ﺍﻥ ﻛﺎﻥ ﺧﺎﻟﻴﺎ ﺣﻦ ﺍﻟﺒﺪﻋﺎﺕ ﺍﻟﻤﺮﻭﺟﺔ ﺟﺎﺀﺯ ﺑﻞ ﻣﻨﺪﻭﺏ ﻛﺴﺎﺀﺭ ﺍﺫﻛﺎﺭﻩ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ – ﻭﺍﻟﻘﻴﻢ

ﻋﻨﺪ ﺫﻛﺮ ﻭﻻﺩﺗﻪ ﺍﻟﺸﺮﻳﻔﺔ ﺣﺎﺷﺎ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﻛﻔﺮﺍ

অর্থ– ” হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফের বর্ননা করার জন্য

মাহফিল করা জায়েজ বরং মুস্তাহাব , যখন উহা (হিন্দুস্থনের) প্রচলিত বিদয়াত হতে পবিত্র হবে

এবং ( মীলাদ শরীফে) তাওয়াল্লুদ শরীফ পাঠ করার সময় ক্বিয়ম করা কখনোই কুফরী নয় !”

দলীল —

√ ইমদাদুল ফতোয়া ৪ র্থ খন্ড ৩২০ পৃষ্ঠা

আশরাফ আলী থানবী অপর এক কিতাবে লিখেছে —-

” ঐ সকল কার্যাবলী ( অর্থাৎ শিরনী, ক্বিয়াম ইত্যাদি) প্রকৃত পক্ষে মুবাহ কাজ সমূহের অন্তর্ভুক্ত।

তাতে কোন ক্ষতি নেই এবং সেজন্য প্রকৃত মীলাদ শরীফ এর ব্যাপারে কোন প্রকার নিষেধ আসতে

পারে না।”

দলীল–

√ তরীকায়ে মীলাদ ৮ পৃষ্ঠা ।

দেওবন্দী ইমাম মাওলানা খলীল আহমদ সাহারানপুরী রচিত ” আল মুহান্নাদ আ’লাল মুফান্নাদ”

কিতাবে পবিত্র মক্কা শরীফ এবং মদীনা শরীফ এর আলেমদের মীলাদ শরীফ সম্পর্কে প্রশ্নের

জবাব দেওবন্দী খলীল আহমদ সাহারানপুরী লিখেন-

” রসূলে করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুবারক বেলাদতের আলোচনা বা মীলাদ শরীফ

পাঠ এমন কি তাঁর পাদুকা সংশ্লিষ্ট ধূলি অথবা তাঁর বাহন গাধাটির প্রশ্রাব-পায়খানা মুবারক

আলোচনাকে আমরা কেন কোন সাধারণ মুসলমান বেদআতে মুহররমা বা হারাম বলতে পারে না। না

আমরা কখনো বলিনি বলিও না।

ঐ অবস্থা যার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক হযরত রসূলে করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে

রয়েছে তার আলোচনা আমাদের মতে অধিকতর পছন্দনীয় ও উন্নতমানের মুস্তাহাব।”

দলীল-

√ আল মহান্নাদ আলাল মুফান্নাদ ২১ তম প্রশ্নের জবাব।

লেখক- মাওলানা খলীল আহমদ সাহারানপুরী দেওবন্দী।

প্রকাশনা- ইত্তেহাদ বুক ডিপো, দেওবন্দ (ইউ পি)

খলীল আহমদ সাহারানপুরী এই বইতে লিখেছে এটাই দেওবন্দী আকাবিরদের আক্বীদা। এর বিপরীত

আক্বীদা পোষনকারীরা দেওবন্দী গ্রুপের নয়।

সকল দেওবন্দী ও বাংলাদেশর কওমীদের অন্যতম গর্ব আশরাফ আলী থানবীর খলীফা , শামছুল হক

ফরিদপুরী তার ” তাছাউফ তত্ত্ব” কিতাবে মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ এর ব্যাপারে প্রশ্নের

জবাবে লিখে —

” ক্বিয়াম জিনিসটা আসলে ফিকাহের অন্তর্ভুক্ত নাহে – ইহা তাছাউফের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ

মুহব্বত বাড়ানোর উদ্দেশ্যে হযরত রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তারিফের

কাসীদা পড়া হয় তাহা দ্বারা মুহব্বত বাড়ে এবং লোকজন মুহব্বতের জোশে খাড়া হইয়া যায় ।

মুহব্বতের জোশে খাড়া হইলে তাহাকে বিদয়াত বলা যায় না। তাহা ছাড়া হযরত নবীজী ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সালাম করার সময় বসিয়া বসিয়া সালাম করা শরীফ তবিয়তের লোকের

কাছে বড়ই বেয়াদবী লাগে।”

দলীল—

√ তাছাউফ তত্ত্ব ৪১ পৃষ্ঠা

শুধু তাই নয়, দেওবন্দী সিলসিলার প্রতিষ্ঠিাতা সহ সকল দেওবন্দীদের পীর সাহেব হযরত হাজী

ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার নিজের ত্বরীকা সম্পর্কে সকল অনুসারি

দের মধ্যে কিছু উপদেশ লিখিত আকারে রেখে গিয়েছিলেন ! আসুন দেখা যাক উপদেশগুলা কি

ছিলো –>

★ গৌরব করবে না।

★ নিজেকে বড় মনে করবে না।

★ খায়ের ও বরকতের জন্য মীলাদ মাহফিলের আঞ্জাম করবে এবং ক্বিয়াম করবে।

★ পীর আওলিয়া গনের ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে যোগদান করবে!

★ ফাতেহাখানীতে যোগদান করবে।

★ মাশায়েখ ও পীর আওলিয়াগনের মাযার শরীফ যিয়ারত করবে।

★ অবসর সময় তাঁদের মাযার শরীফের পার্শ্বে এসে রূহানীয়ত সহ মুতাওজ্জুহ হবে এবং স্বীয়

মুর্শিদের সুরতে তাদের ধ্যান করবে ও ফয়েজ হাসিলের চেষ্টা করবে। কারন তাঁরা আল্লাহ পাক

এবং উনার রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্থলাভিষিক্ত বলে গন্য!

★ এগুলোই আমার ত্বরীকা !

আর এসবই বরকতময় কর্ম। আমার লেখা “ফায়সালায়ে হাফতে মাসায়লা” কিতাবে এসকল বিষয়

বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে !””

দলীল–

√ যিয়াউল কুলুব- কতিপয় বিশেষ উপদেশ পরিচ্ছেদ !

লেখক- হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজির

মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

মুসলমান ভাইগন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে-দেওবন্দী সিলসিলায় কয়জন এই উপদেশ মান্যকরে ?

দেওবন্দী দের কাছে এই আমাল গুলাতো শিরিক আর বিদয়াত !!

তবে তারা কি উনাকে মুশরিক/বিদয়াতি বলবে ?

পীরের ত্বরীকা অস্বীকার করে কি তারা পীরের সিলসিলায় থাকতে পারে ?

জবাব পেলে ভালো হতো।

এবার একটু চিন্তা করুন দেওবন্দীরা কত নিকৃষ্ট। নিজেদের সিলসিলার সবাই মীলাদ -ক্বিয়ামে

পক্ষে ফতোয়া দিয়ে গেছে সেটা দেখে না। আমরা সুন্নী মুসলমানরা মীলাদ ক্বিয়াম করলে সেটা

তাদের কাছে শিরক-বিদায়াত হয়ে যায়। যদি আমাদেরকে শিরকি- বিদয়াতি ফতোয়া দিতে চায়

তাহলে সর্বপ্রথম যেন নিজেদের মুরুব্বী দের মুশরিক আর বেদাতী ফতোয়া দিয়ে নেয় । নচেত

আমাদের বিরুদ্ধে কিছু বলার অধিকার তাদের নাই।

আযানের সময় বৃদ্ধাঙ্গুলি চুম্বন খাস সুন্নত উনার অন্তর্ভূক্ত ৷সুবহানাল্লাহ

আযানের সময় বৃদ্ধাঙ্গুলি চুম্বন খাস সুন্নত উনার অন্তর্ভূক্ত ৷সুবহানাল্লাহ

আযানের মধ্যে যখন মুয়াযযিন ‘আশহাদুআন্না

মুহাম্মদার রসুলুল্লাহ’ ﺍَﺷْﻬَﺪُ ﺍَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَّﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ উচ্চারণ করে, তখন স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় বা শাহাদাত আঙ্গুল চুম্বন করে চক্ষুদ্বয়ে লাগানো মুস্তাহাব এবং মুস্তাহসান এতে দ্বীন ও দুনিয়া উভয় জাহানের কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে অনেক হাদীছ শরীফ  বর্ণিত আছে ।সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম আজমাইন উনাদের  থেকে এটা প্রমাণিত আছে এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত উনার  অনুসারীগণ এই আমলকে মুস্তাহাব মনে করে পালন করেন।

 

 

প্রসিদ্ধ “সালাতে মাস্উদী” কিতাবের দ্বিতীয় খন্ড ﻧﻤﺎﺯ শীর্ষক অধ্যায়ে উল্লেখিত আছে-

 

নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণিত আছে-

“যে ব্যক্তি আযানে আমার নাম মুবারক  শুনে স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চোখের উপর রাখে, আমি তাকে কিয়ামতের কাতার সমূহে খোঁজ করবো এবং নিজের পিছে পিছে বেহেশতে নিয়ে যাব।” সুবহানাল্লাহ

 

 

তাফসীরে রূহুল বয়ানে ষষ্ঠ পারার সূরা মায়েদার আয়াত ﻭَﺍِﺫَﺍ ﻧَﺎﺩَﻳْﺘُﻢْ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟﺼَّﻠﻮﺓِ ﺍﻻﻳﺔ এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে উল্লেখিত আছে-

“মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলার সময় নিজের শাহাদাতের আঙ্গুল সহ বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ের নখে চুমু দেয়ার বিধানটা জঈফ রেওয়াতের সম্মত। কেননা যদিও এ বিধানটা মরফু হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। কিন্তু মুহাদ্দিছীন কিরাম এ ব্যাপারে একমত যে আকর্ষণ সৃষ্টি ও ভীতি সঞ্চারের বেলায় জঈফ হাদীছ অনুযায়ী আমল করা জায়েয।

ফাত্ওয়ায়ে শামীর প্রথম খন্ড ﺍﻻﺫﺍﻥ শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-

“আযানের প্রথম ﺍَﺷْﻬَﺪُ ﺍَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَّﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ বলার সময়- ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻳَﺎﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ (ছল্লাল্লাহু আলাইকা ইয়া রসুলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলা মুস্তাহাব এবং দ্বিতীয় শাহাদত বলার সময়- ﻗُﺮﺓُ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﺑِﻚَ ﻳَﺎﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ (কুর্রাতু আইনী বিকা ইয়া রসুলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বলবেন। অতঃপরনিজের বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ের নখ স্বীয় চোখদ্বয়ের উপর রাখবেন এবং বলবেন- ﺍﻟَﻠﻬُﻢَّ ﻣَﺘِّﻌْﻨِﻰْ ﺑِﺎﻟﺴَّﻤْﻊِ ﻭَﺍﻟْﺒَﺼَﺮِ

(আল্লাহুম্মা মাত্তায়িনী বিসসাময়ি ওয়াল বছরি)

এর ফলে  নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নিজের পিছনে পিছনে বেহেশতে নিয়ে যাবেন।

অনুরূপ কনযুল ইবাদ ও কুহস্থানী গ্রন্থে বর্ণিত আছে। ফাত্ওয়ায়ে সূফিয়াতেও তদ্রুপ উল্লেখিত আছে।

 

কিতাবুল ফিরদাউসে বর্ণিত আছে-

“যে ব্যক্তি আযানে ‘আশহাদুআন্না মুহাম্মদার রসুলুল্লাহ‘ শুনে স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ের নখ চুম্বন করে, আমি তাকে আমার পিছনে বেহেশতে নিয়ে যাব এবং ওকে বেহেশতের কাতারে অন্তর্ভূক্তকরবো।”সুবাহানাল্লাহ

 

এর পরিপূর্ণ আলোচনা ‘বাহারুর রায়েক’ এর টীকায় বর্ণিত আছে।

উপরোক্ত ইবারতে ছয়টি কিতাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- শামী, কনযুল ইবাদ, ফাত্ওয়ায়ে সূফিয়া, কিতাবুল ফিরদাউস, কুহস্থানী এবং ‘বাহারুর রায়েক’ এর টীকা।

 

ওই সব কিতাবে একে মুস্তাহাব বলা হয়েছে।

ﻣﻘﺎﺻﺪ ﺣﺴﻨﻪ ﻓﻰ ﺍﻻﺣﺎﺩﻳﺚ ﺍﻟﺪﺋﺮﻩ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺴﻨﺔ নামক গ্রন্থে ইমাম সাখাবী রাহমাতুল্লাহি আলাইহিবর্ণনা করেছেন-

ইমাম দায়লমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ‘ফিরদাউস’ কিতাবে হযরত আবু বকর সিদ্দীকরাদ্বিয়াল্লাহু আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, “মুয়াযযিনের কন্ঠ থেকে যখন ‘আশহাদু আন্না৷মুহাম্মদার রসুলুল্লাহ‘ শোনা গেল, তখন তিনি তাই বললেন এবং স্বীয় শাহাদতের আঙ্গুলদ্বয়ের ভিতরের ভাগ চুমু দিলেন এবং চক্ষুদ্বয়ে লাগালেন।

 

তা’দেখে  নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম তিনি  ইরশাদ ফরমান, “যে ব্যক্তি আমার এই প্রিয়জনের মত করবে, তাঁর জন্য আমার সুপারিশ অপরিহার্য।”সুবহানাল্লাহ

 

এ হাদীছটি অবশ্য বিশুদ্ধ হাদীছের পর্যায়ভুক্ত নয়। উক্ত মাকাসেদে হাসনা গ্রন্থে আবুল আব্বাসের রহমাতুল্লাহি আলাইহি রচিত মুজেযাত গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে-

হযরত খিযির আলাইহিস সালাম  থেকে বর্ণিত আছে-

যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের কণ্ঠে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মদার রসুলুল্লাহ’ শোনে যদি বলে-

 

ﻣَﺮْﺣَﻴًﺎﺑِﺤَﺐِﻳْﺒِﻰْ ﻭَﻗُﺮَّﺓِ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﻣُﺤَﻤَّﺪِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ (মারাহাবা

বি হাবীবী ওয়া কুররতি আইনী মুহাম্দ ইবনে আবদুল্লাহ আলাইহিস সালাম ) অতঃপর স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুম্বন করে চোখে লাগাবে, তাহলে তার চোখ কখনও পীড়িত হবে না।

 

উক্তগ্রন্থে আরোও বর্ণনা করা হয়েছে-

 

হযরত মুহম্মদ ইবনে বাবা নিজের একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে এক সময় জোরে বাতাস প্রবাহিত হয়েছিল। তখন তাঁর চোখে একটি পাথরের কনা পড়েছিল যা বের করতে পারেনিএবং খুবই ব্যথা অনুভব হচ্ছিল। যখন তিনি মুয়াযযিনের কণ্ঠে আশহাদু আন্না মুহাম্মদাররসুলুল্লাহ শুনলেন, তখন তিনি উপরোক্ত দুআটি পাঠ করলেন এবং অনায়াসে চোখ থেকে পাথর বের হয়ে গেল।

একই ‘মাকাসেদে হাসনা’ গ্রন্থে হযরত শামস মুহম্মদ ইবনে সালেহ মদনী থেকে বর্ণিত আছে যে,

তিনি ইমাম আমজদ (মিসরের অধিবাসী পূর্ববর্তী উলামায়ে কিরামের অন্তর্ভূক্ত) কে বলতে শুনেছেন-যে ব্যক্তি আযানে  নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  নাম মুবারক শোনে  স্বীয় শাহাদাত ও বৃদ্ধাঙ্গুলী একত্রিত করে- ﻭَﻗَﺒَّﻠَﻬُﻤَﺎ ﻭَﻣَﺴَﺢَ ﺑِﻬِﻤَﺎ ﻋَﻴْﻨَﻴْﻪِ ﻟَﻢْ ﻳَﺮْ ﻣُﺪْ ﺍَﺑَﺪًﺍ উভয় আঙ্গুলকে চুম্বন করে চোখে লাগাবে, কখনও তার চক্ষু পীড়িত হবে না।

 

ইরাক- আযমের কতেক মাশায়েখ বলেছেন যে, যিনি এ আমল করবেন, তাঁর চোখ রোগাক্রান্ত হবে না। ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻟِﻰْ ﻛُﻞّ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﻣُﻨﺬُ ﻓَﻌَﻠْﺘُﻪُ ﻟَﻢْ ﺗَﺮْﻣُﺪْ ﻋَﻴْﻨِﻰ কিতাব রচয়িতা বলেছেন- যখন থেকে আমি এ আমল করেছি আমার চক্ষু পীড়িত হয়নি।

 

 

কিছু অগ্রসর হয়ে উক্ত‘মকাসেদে হাসনা’গ্রন্থে আরও বর্ণিত হয়েছে-

ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍﺑْﻦِ ﺻَﺎﻟِﺢٍ ﻭَﺍَﻧَﺎ ﻣُﻨْﺬُ ﺳَﻤِﻌْﺘُﻪُ ﺍِﺳْﺘَﻌْﻤَﻠْﺘَﻪُ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺮْﻣُﺪْ ﻋَﻴْﻨِﻰْ

ﻭَﺍَﺭْﺟُﻮْﺍ ﺍَﻥَّ ﻋَﺎﻓِﻴَﺘَﻬُﻤَﺎ ﺗَﺪُﻭْﻡُ ﻭَﺍِﻧِّﻰْ ﺍَﺳْﻠَﻢُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻌَﻤﻰ ﺍِﻧْﺸَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪُ

 

হযরত ইবনে সালেহ  রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন- যখন আমি এ ব্যাপারে জানলাম, তখন এর উপর আমল করলাম।এরপর থেকে আমার চোখে পীড়িত হয়নি। আমি আশা করি, ইনশাআল্লাহ এ আরাম সব সময় থাকবে এবং অন্ধত্ব মুক্ত থাকবো।

উক্ত কিতাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে,

ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মদার রসুলুল্লাহ‘ শোনে যদি বলে এবং ﻣَﺮْﺣَﺒًﺎ ﺑِﺤَﺒِﻴْﺒِﻰْ ﻭَﻗُﺮَّﺓُ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﻣُﺤَﻤَّﺪِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুম্বন করে চোখে লাগাবে এবং বলবে ﻟَﻢْ ﻳَﻌْﻢَ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺮْﻣَﺪْ তাহলে কখনও সে অন্ধ হবে না এবং কখনও তার চক্ষু পীড়িত হবে না।

 

মোট কথা হলো ‘মাকাসেদে হাসনা’ গ্রন্থে অনেক ইমাম থেকে এ আমল প্রমাণিত করা হয়েছে।

 

শরহে নেকায়ায় বর্ণিত আছে- জানা দরকার যে মুস্তাহাব হচ্ছে যিনি দ্বিতীয় শাহাদতের প্রথম শব্দ শোনে বলবেন;

ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ (ছল্লাল্লাহু আলাইকা ইয়া রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং দ্বিতীয় শব্দ শোনে বলবেন-ﻗُﺮَّﺓُ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﺑِﻚَ ﻳَﺎﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ (কুররাতু আইনি বিকা ইয়া রসুলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এবং নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ের নখ চুক্ষদ্বয়ে রাখবেন, ওকে হুযূর (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের পিছনে পিছনে বেহেশতে নিয়ে যাবেন।

 

অনুরূপ কনযুল ইবাদেও বর্ণিত আছে। মাওলানা জামাল ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর মক্কী স্বীয় ফাত্ওয়ার কিতাবে উল্লেখ করেছেন-

ﺗَﻘْﺒِﻴْﻞُ ﺍﻟْﺎِﺑﻬَﺎﻣَﻴْﻦِ ﻭَﻭَﺿْﻊُ ﻫُﻤَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻌَﻴْﻨَﻴْﻦِ ﻋِﻨْﺪَ ﺫِﻛْﺮِ ﺍﺳْﻤِﻪ ﻋَﻠَﻴﻪِ

ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻓِﻰ ﺍﻟْﺎَﺫَﺍﻥِ ﺟَﺎﺋِﺮ ﺑَﻞْ ﻣُﺴْﺘَﺤَﺐ ﺻَﺮَّﺡَ ﺑِﻪ ﻣَﺸَﺎﺋِﺨِﻨَﺎ

আযানে  নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নাম শুনে বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু দেয়া এবং চোখে লাগানো জায়েয বরং মুস্তাহাব। আমাদের মাশায়েখে কিরাম এ ব্যাপারে বিশদ বর্ণনা করেছেন।

 

আল্লামা মুহম্মদ তাহির  রহমাতুল্লাহি আলাইহি ﺗﻜﻤﻠﺔ ﻣﺠﻤﻊ ﺑﺨﺎﺭ ﺍﻻﻧﻮﺍﺭ গ্রন্থে উপরোক্ত হাদীছকে ‘বিশুদ্ধ নয়’ মন্তব্য করে বলেন-

ﻭَﺭُﻭِﻯَ ﺗَﺠﺮِﺑَﺔ ﺫَﺍﻟِﻚَ ﻋَﻦْ ﻛَﺜِﻴْﺮِﻳْﻦَ “(কিন্তু এ হাদীছ অনুযায়ী আমলের বর্ণনা অনেক পাওয়া যায়।)” আরও অনেক ইবারত উদ্ধৃত করা যায়। কিন্তু সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে এটুকুই যথেষ্ট মনে করলাম।

হযরত সদরুল আফাযেল মাওলানা সৈয়দ নঈম উদ্দীন সাহেব কিবলা মুরাদাবাদী বলেছেন, লন্ডন থেকে প্রকাশিত ‘ইনজিল’ গ্রন্থের একটি অনেক পুরানো কপি পাওয়া গেছে, যেটার নাম ‘ইনজিল বারনাবাস’। ইদানীং এটা ব্যাপকভাবে প্রকাশিত এবং প্রত্যেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

এর অধিকাংশ বিধানাবলীর সাথে ইসলামের বিধানাবলীর মিল রয়েছে। এ গ্রন্থের এক

জায়গায় লিখা হয়েছে যে হযরত আদম আলাইহিস সালাম যখন রূহুল কুদ্দুস (   নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনাকে দেখার জন্য আরজু করলেন, তখন সেই নুর উনার বৃদ্ধাঙ্গুলের নখে চমকানো হলো। তিনি মহব্বতের জোশে উক্ত

নখদ্বয়ে চুমু দিলেন এবং চোখে লাগালেন। (রূহুল কুদ্দুসের অর্থ  নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম কেন করা হলো? কারণ  ঈসা আলাইহিস সালাম উনার যুগে রূহুল কুদ্দুস নামেই  নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মশহুর ছিলেন।

 

হানাফী আলিমগণ ছাড়াও শাফেঈ ও মালেকী মাযহাবের আলিমগণও বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুম্বন মুস্তাহাব হওয়া সম্পর্কে একমত।

যেমন শাফেঈ মাযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব – ﺍﻋﺎﻧﺔ ﺍﻟﻄﺎﻟﺒﻴﻦ ﻋﻠﻰ ﺣﻞ ﺍﻟﻔﺎﻅ ﻓﺘﺢ ﺍﻟﻤﻤﻌﻴﻦ এর ২৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত আছে-

ﺛُﻢَّ ﻳُﻘَﺒِّﻞَ ﺍِﺑْﻬَﺎ ﻣَﻴْﻪِ ﻭَﻳَﺠْﻌَﻞُ ﻫُﻤَﺎ ﻋَﻠﻰ ﻋَﻠْﻨَﻴْﻪِ ﻟَﻢْ ﻳَﻌْﻢِ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺮْﻣُﺪْ

ﺍَﺑَﺪًﺍ

“(অতঃপর নিজের বৃন্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু দিয়ে চোখে

লাগালে, কখনও অন্ধ হবে না এবং কখনও চক্ষু

পীড়া হবে না।)”

 

মালেকী মযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব- ﻛﻔﺎﻳﺔ ﺍﻟﻄﺎﻟﺐ ﺍﻟﺮﺑﺎﻧﻰ ﻟﺮﺳﺎﻟﺔ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻰ ﺯﻳﺪ ﺍﻟﻘﻴﺮﺩﺍﻧﻰ এর প্রথম খন্ডের ১৬৯ পৃষ্ঠায় এ প্রসঙ্গে অনেক কিছু বলার পর লিখেছেন- ﺛُﻢَّ ﻳُﻘَﺒِّﻞُ ﺍِﺑْﻬَﺎﻣَﻴْﻪِ ﻭَﻳَﺠْﻌَﻞُ ﻫُﻤَﺎ ﻋَﻠﻰ ﻋَﻴْﻨَﻴْﻪِ ﻟَﻢْ ﻳَﻌﻢِ

ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺮْﻣُﺪْ ﺍَﺑَﺪًﺍ “(অতঃপর বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু দেবে এবং চোখে লাগাবে, তাহলে কখনও অন্ধ হবে না এবং কখনও চক্ষু পীড়া হবে না।

 

এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আল্লামা শেখ আলী সাঈদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি  ﻋﺪﻭﻯ নামক কিতাবের ১৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন- গ্রন্থকার বৃদ্ধাঙ্গুলী চুম্বনের সময়ের কথা উল্লেখ করেনি। অবশ্য শেখ আল্লামা মুফাসসির নুরুদ্দীন খুরাসানী থেকে বর্ণিত আছে, তিনি কতেক লোককে আযানের সময় লক্ষ্য করেছেন যে যখন তারা মুয়ায্যিনের মুখে আশহাদু আন্না মুহাম্মদার রসুলুল্লাহ শুনলেন, তখন নিজেদের বৃদ্ধাঙ্গুলে চুমুদিলেন এবং নখদ্বয়কে চোখের পলকে এবং চোখের কোণায় লাগালেন এবং কান পর্যন্ত বুলিয়ে নিলেন। শাহাদাতের সময় এ রকম একবার একবার করলেন। আমি ওদের একজনকে এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন আমিবৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু দিতাম কিন্তু মাঝখানে ছেড়ে দিয়েছিলাম। তখন আমার চক্ষু রোগ হয়। এর মধ্যেএক রাতে আমি নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখলাম।  নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন- ‘আযানের সময় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চোখে লাগানো কেন ছেড়ে দিয়েছেন? যদি আপনি চান, আপনার চোখ পুনরায় ভালহোক, তাহলে আপনি  পুনরায় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চোখেলাগানো আরম্ভ করুন’। ঘুম ভাঙ্গার পর আমি পুনরায় এ আমল শুরু করে দিলাম এবং আরোগ্য লাভ করলাম। আজ পর্যন্ত সেই রোগে আর আক্রান্ত হইনি৷

সুবহানাল্লাহ

 

 

 

শাফীঈ ও মালেকী মযহাবের ইমামগণ এটা মুস্তাহাব হওয়া সস্পর্কে রায় দিয়েছেন। প্রত্যেক যুগে এবং প্রত্যেক মুসলমান একে মুস্তাহাব মনে করেছেন এবং আমলও করছেন। এআমল নিম্নবর্ণিত ফায়দা গুলো রয়েছেঃ

 

আমলকারীর চোখ রোগ থেকে মুক্ত থাকবে, ইনশাআল্লাহ কখনও অন্ধ হবে না, যে কোন চক্ষু রোগীর জন্য বৃদ্ধাঙ্গুলী চুম্বনের আমলটি হচ্ছে উৎকৃষ্ট চিকিৎসা। এটা অনেকবার পরীক্ষিত হয়েছে।

– সুত্রঃ জা’আল হক (২য় খন্ড)

ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ) এর শানে বাতিলের অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব

ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ) এর শানে

বাতিলের অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব

Lecture :- বাতিলের অপপ্রচারের জবাব ও শানে

ইমামে আজম ইমাম নু’মান বিন সাবিত (রহ)

Created by (Masum Billah Sunny)

আজকাল কিছু বাতিল ওহাবী সালাফী

চনুপুটির দল দু এক কলম জ্ঞান নিয়েই

কুরআন হাদিসের পুরো জ্ঞান জেনে ফেলেছে

মনে করে। যারা নাকি ইমামে আজম আবু হানিফা

(রহ) এর পায়ের জুতার ধুলার সমতুল্যও না।

তাদের বিভিন্ন অভিযোগ :-

১) ইমামে আজম নাকি দ্বয়ীফ হাদিস

বর্ননা কারি ছিলেন তাও আবার কত গুলো ইমাম

থেকে বানোয়াট বক্তব্য এনে এগুলো প্রমান করার

অপচেষ্টা । (নাউযুবিল্লাহ )

২) ওনার কোন বর্ননা সেজন্য নাকি বুখারী

শরীফে নেই।

৩) ওনি নাকি মুর্জিয়া ছিলেন।

৪) ওনার দখল হাদিসের ব্যাপারে

কম ছিল তাই বেশি কিতাব লিখেন নি

ইত্যাদি ইত্যাদি নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক

তাদের সকল প্রশ্নের দাতভাংগা জবাব :-

♦♦ইমামে আজম কি ভাবে দুর্বল বর্ননাকারী

হতে পারেন যার শিক্ষাদানে গড়া সকল হাদিস

বিশারদ ও ফকীহ?♦♦

আহলে হাদিস D. Jakir Naik এর কি ধারনা আবু

হানিফা রহ. কুরআন ও হাদীস জানতেন না

বা কুরআন ও হাদীস বাদ দিয়ে বাইবেল ও গীতা

থেকে মাসআলা বের করেছে !!!!!

1. ইমাম বোখারীর অন্যতম উস্তাদ মক্কী বিন

ইব্রাহীম (রহ.) (মৃতু- 215 হিঃ) যার সনদে ইমাম

বুখারী (রহ.) অধিকাংশ ‘সুলাসিয়্যাত হাদীস’

বর্ণনা করেছেন। এই মক্কী বিন ইব্রাহীম (রহ.)

ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এর ছাত্র। তিনি ইমাম

আবু হানীফা (রহ.) সম্পর্কে বলেন,

“আবু হানীফা তাঁর সময়কালের শ্রেষ্ঠ আলেম

ছিলেন” – মানাক্বেবে ইমাম আজম রহ. 1/95

আবার হাফিয মযযী (রহ.) বলেন: মক্কী বিন

ইব্রাহীম ইমাম আবু হানীফা (রহ.) সম্পর্কে বলেন,

“তিনি তাঁর কালের সবচে’ বড় আলিম ছিলেন” –

তাহ্যীবুত তাহযীব-এর টিকা- 10ম খন্ড, 452পৃ.

(এখানে একটি কথা বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে

হবে, প্রাচীন আলিমগণ ‘ইলম’ বলতে ‘ইলমে

হাদীস’ই বুঝাতেন। তাই ইমাম আবু হানীফা (রহ.)

কে বড় আলিম বলার অর্থ- ‘হাদীস শাস্ত্রের বড়

আলিম’ এতে কোন সন্দেহ নেই।)

2. ইমাম আবু দাউদ বলেন,

নিঃসন্দেহে আবু হানীফা ছিলেন একজন শেষ্ঠ

ইমাম।- তাহজীব 1/445

3. জরহে তাদিলের (সনদ পর্যালোচনা শাস্ত্র)

অন্যতম ইমাম ইয়াহ্ইয়া ইবনে মুঈন (মৃতু- 233হিঃ)

বলেন,

“আবু হানীফা ছিলেন হাদীস শাস্ত্রের

গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি”- তাহবীবুত্তাহজীব 5/630

4. আলী ইবনে মাদানী (মৃতু- 234 হিঃ) বলেন,

“আবু হানীফা হাদীস শাস্ত্রে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি।

তার মধ্যে কোন দোষক্রুটি ছিল না। – জামঈ

বয়ানিল ইল্ম 2/1083

5. প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হাফিজ ইয়াহ্ইয়া বিন হারুন

(মৃতু- 206 হিঃ) বলেন,

“আবু হানীফা ছিলেন সমকালীন শ্রেষ্ঠতম

জ্ঞানী ও সত্যবাদী” –আহবারে আবু হানীফা 36

6. আল্লামা হাফিয ইবনে হাজার আসক্বালানী

রহ. বলেন-

“ইমাম আবু হানীফা রহ.-র মুত্যু সংবাদ শুনে

ফিক্বাহ ও হাদীস শাস্ত্রের সুপ্রসিদ্ধ ইমাম,

শাফঈ মাযহাবের প্রধানতম সংকলক হযরত ইবনে

জরীহ রহ. গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছিলেন,

“আহ! ইলমের কি এক অফুরন্ত খনি আজ আমাদের

হাতছাড়া হলো”। –

তাহযীবুত্তাহযীব খন্ড ১, পৃ: ৪৫০)

7: একবার হযরত ইয়াহয়া ইবনে মুঈনকে প্রশ্ন করা

হলো- হাদীসশাস্ত্রে আবু হানীফা রহ. কি

আস্থাভাজন ব্যক্তি? সম্ভবতঃ প্রচ্ছন্ন সংশয় আঁচ

করতে পেরে দৃপ্তকন্ঠে তিনি উত্তর দিলেন- হ্যা,

অবশ্যই তিনি আস্থাভাজন! অবশ্যই তিনি

আস্থাভাজন! (মানাকিবুল ইমামমুল আ’যামি

লিলমাওয়াফিক- খন্ড:1, পৃষ্ঠা 192)

♦♦ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর নসিহত। তিনি

কুরআন হাদিস দিয়ে মানুষকে সকল সমাধান

দিতেন নিচের উক্তিগুলো দিয়ে বুঝে নিন♦♦

(ক) ‘যখন ছহীহ হাদীছ পাবে, জেনো সেটাই আমার

মাযহাব’।(হাশিয়াহ ইবনে আবেদীন ১/৬৩।)

(খ) ‘আমরা কোথা থেকে গ্রহণ করেছি, তা না

জেনে আমাদের কথা গ্রহণ করা কারো জন্য বৈধ

নয়’।(ঐ ৬/২৯৩।)

(গ) ‘যে ব্যক্তি আমার দলীল জানে না, আমার কথা

দ্বারা ফৎওয়া প্রদান করা তার জন্য হারাম’।(ড.

অছিউল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আব্বাস, আত-তাক্বলীদ

ওয়া হুকমুহু ফী যুইল কিতাব ওয়াস-সুন্নাহ, পৃঃ ২০।)

(ঘ) ‘নিশ্চয়ই আমরা মানুষ। আমরা আজকে যা বলি,

আগামীকাল তা থেকে ফিরে আসি’।(ঐ।)

(ঙ) ‘তোমার জন্য আফসোস হে ইয়াকুব (আবু ইউসুফ)!

তুমি আমার থেকে যা শোন তাই লিখে নিও না।

কারণ আমি আজ যে মত প্রদান করি, কাল তা

প্রত্যাখ্যান করি এবং কাল যে মত প্রদান করি,

পরশু তা প্রত্যাখ্যান করি’।(ঐ।)

(চ) ‘আমি যদি আল্লাহর কিতাব (কুরআন) ও

রাসূলুললাহ (ছাঃ)-এর কথার (হাদীছ) বিরোধী

কোন কথা বলে থাকি, তাহ’লে আমার কথাকে

ছুঁড়ে ফেলে দিও’।(ছালেহ ফুল্লানী, ইক্বাযু

হিমাম, পৃঃ ৫০।)

তাই তিনি কুরআন হাদিস অনুযায়ী বিচার

ফয়সালা করতেন এবং অন্যান্য ইমামগনের শিক্ষক

ছিলেন এ জন্যই হানাফী মাযহাব সকল মাযহাবের

সেরা।

★★★ ইমামে আজম একজন বিশিষ্ট

তাবেয়ী ছিলেন এবং

অনেক সাহাবীগনের সাথে সাক্ষাত পেয়েছিলেন★★★

তাহলে কি ভাবে তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল

বর্ননাকারী হবেন? Is it ever possible?

ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ) ৮০ হিজরীতে

বিলাদত শরীফ লাভ করেন এবং বিছাল শরীফ

লাভ করেন ১৫০ হিজরীতে।

★তাঁর প্রকৃত নাম নু’মান বিন সাবিত।

★ইমাম আজম

আবু হানিফা (র)

ইমাম সাহেব যেসব সাহাবাদের সাক্ষাত

লাভে ধন্য হয়েছেন, কিংবা যাদের

থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁদের কয়েকজন

হলেন :-

১. হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. ( ৯০ হি.

মতান্তরে ৯১ হি.।)।

২. হযরত আবদুল্লাহ বিন উনাইস যুহানী রা.।

৩. আবদুল্লাহ বিন আবী আওফা রা. ( ৮৭ হিজরী)।

৪. ওয়াসেলা বিন আসকা রা. (৮৫ হিজরী)।

৫. আবুত তোফায়েল আমের বিন ওয়াসেলা রা.

( ১০২ হিজরী )।

৬. সহল বিন সাদ রা. ( ৮৮ হিজরী )।

৭. সায়েব বিন খাল্লাদ রা. ( ৯১ হিজরী )।

৮. সায়েব বিন ইয়াজিদ রা. ( ৯৪ হিজরী)।

৯. আবদুল্লাহ বিন বুসরাহ রা. ( ৯৬ হিজরী )।

১০. মাহমুদ বিন রাবী রা. ( ৯৯ হিজরী )

★ইমামে আযম আবু হানিফা (র.) এর

তাবেয়ী হওয়া সম্পর্কে আরো অনেকের

উক্তি রয়েছে। যেমন,

১। ইমাম ইবনুল জাওযী (র)।

২। ইমাম মিজ্জী (র)।

৩। ইমাম যাহাবী (র)।

৪। ইমাম সুয়ূতী (র)।

৫। খতীবে বাগদাদী (র)।

৬। ইবনে আবদিল বার (র)।

৭। মুহাম্মাদ ইবনে সাদ (র)।

৮। ইবনে হাজার আসকালানী (র)। প্রমুখ।

তাদের উক্তি উল্লেখ

করে প্রবন্ধের কলেবর বৃদ্ধি করা হল না।

এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন……

১. আবু হানিফা ওয়া আসাবুহুল মুহাদ্দিসুন(পৃ:৬)

২. আল খাইরাতুল হিসান। পৃ: ৩২।

★হাফেজ ইবনে হাজার আসক্বালানী রহ.

আরো লিখেছেন-

ইমাম আবু হানীফা রহ.

বহুসংখ্যক সাহাবীর সাক্ষাত লাভ করেছেন।

কেননা, তিনি ৮০ হিজরী সনে কুফায় জন্মগ্রহণ

করেছেন এবং সেসময় সেই

শহরে সাহাবী **আবদুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রা.

জীবিত ছিলেন। তাঁর ইন্তেকাল ৮০ হিজরীর

অনেক পরে হয়েছে। তেমনি বসরাতে **আনাস

ইবনে মালেক রা. ছিলেন। তাঁর ইন্তেকাল

হিজরী নব্বই সনে পরে হয়েছে। সে মতে ইমাম

আবু হানীফা রহ. নিঃসন্দেহে তাবেয়ীগণের

অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। (তানসীকুন-নেজাম)

★বুখারী শরীফের ব্যাখাগ্রন্হে ইবনে হাজার

আসক্বালানী রহ. উপরোক্ত

সিদ্ধান্তটি আলেমগণের সর্বসম্মত অভিমত

বলে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ যাহাবী রহ.

বলেন, ইমাম আবু হানীফা রহ. সাহাবী হযরত

আনাস ইবনে মালেককে রা. অনেকবার

দেখেছেন। (খাইরাতুল-হেসান)

★আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী রহ. মেশকাত

শরীফের ব্যাখ্যা গন্হে উল্লেখ করেছেন যে,

ইমাম আবু হানীফা রহ. ৭/৮ জন সাহাবীর

সাক্ষাত লাভ করেছেন।

এঁরা হচ্ছেন-

১) হযরত আনাস ইবনে মালেক রা.

(ওফাত ৯৩ হিজরী)

২) আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রা. (ওফাত ৮৭

হিজরী)

৩) সহল ইবনে সাআদ রা. (ওফাত ৮৮ হিজরী)

৪) আবু তোফায়ল রা. (ওফাত ১১০ হিজরী)

৫) আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়দী রা. (ওফাত ৯৯

হিজরী)

৬) জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. (ওফাত ৯৪ হিজরী)

৭) ওয়াসেনা ইবনুল আসকা রা. (ওফাত ৮৫ হিজরী)

★তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত তাবেয়ী

যিনি ৪,০০০ শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ

করেন, যে শিক্ষকদের মধ্যে স্বয়ং সাহাবা রা.

ছিলেন ৭২ জন! আর তার শিক্ষকদের বেশিরভাগই

ছিলেন সরাসরি হযরত আলী (রা.), আবু হুরাইরা

(রা.,) আনাস (রা.) সহ অন্যান্য সাহাবীদের

সরাসরি ছাত্র।

★তিনি সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালিক

(রহ) কে দেখেছিলেন এবং অনেক সাবাহা থেকে

বর্ননা করেছেন :-

**The author of al-Khairat al-Hisan collected

information from books of biographies and cited the

names of Muslims of the first generation from whom it

is reported that the Abu Hanifa had transmitted hadith.

He counted them as ** sixteen, including

**Anas ibn Malik,

**Jabir ibn Abd-Allah and

**Sahl ibn Sa’d.

তথ্যসুত্র :-

★Wikipedia >>”Imam-ul-A’zam Abū Ḥanīfah, The

Theologian”. Masud.co.uk. Archived from the original

on 12 February 2010. Retrieved 2010-02-07.

★ইবনে সাআদ লিখেছেন- সার্বিক বিচারেই

ইমাম আবু হানীফা রহ. একজন তাবেয়ী ছিলেন।

তাঁর সতীর্থ ফেকাহর ইমামগণের মধ্যে আর

কারো এই মর্যাদা লাভের সৌভাগ্য হয় নাই।

(তানসীক্ব)

★আল্লামা খাওয়ারেজমী রহ. বলেন- ওলামাগণের

এ বিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে যে, ইমাম আবু

হানীফা রহ. নবী করীম সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের পবিত্র

মুখ থেকে হাদিস শ্রবণ

করে তা বর্ণনা করেছেন। তবে এরূপ হাদিসের

সংখ্যা কত ছিল, এ সম্পর্কে বিভিন্ন মত

রয়েছে। (তানসীক্ব)

★ইমাম আবু হানীফা রহ. কর্তৃক সাহাবীগণ

থেকে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা কারো মতে ছয়,

কারো মতে সাত এবং কারো মতে আটখানা।

যেসব

সাহাবী থেকে তিনি হাদিস

বর্ণনা করেছিলেন, তাঁদের নাম যথাক্রমে –

১) আনাস ইবনে মালেক রা.,

২) আবদুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রা.,

৩) সহল আবনে সাআদ রা.,

৪) আবু তোফয়ল রা.,

৫) আমের ইবনে ওয়াছেলা রা.,

৬) ওয়াছেলা ইবনে আশক্বা রা.,

৭) মা’কাল ইবনে ইয়াসার রা., এবং

৮) জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. প্রমুখগণ।

★হাদিস শাস্ত্রের ‘ আমিরুল মুমেনীন’ রূপে খ্যাত

আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক স্বরচিত কবিতার এক

পংক্তিতে উল্লেখ করেছেন যে, নোমান ( আবু

হানীফা ) এর পক্ষে গর্ব করার মতো এতটুকুই

যথেষ্ট যা তিনি সরাসরি সাহাবীগণের নিকট

থেকে বর্ণনা করেছেন।

★★★ইমামে আজম সরাসরি যে

সমস্ত হাদিস স্বয়ং সাহাবায়ে কেরাম (রা)

থেকে

বর্ন্না করেছেন :-

★ইমাম আবু হানীফা রহ. স্বয়ং একটি বর্ণনায়

বলেন, আমার জন্ম হিজরী ৮০ সনে এবং ৯৬

সনে প্রথম হজে যাই। তখন আমার বয়স ষোল

বছর। মসজিদুল-হারামে প্রবেশ করে দেখলাম,

একটি বড় হালকায় বহু লোক সমবেত

হয়ে রয়েছেন। আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস

করলাম, এটা কিসের জমায়েত? তিনি বললেন,

তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এর সাহাবী

**আবদুল্লাহ ইবনুল হারেছের রা. পাঠদানের

হালকা (জ্ঞান দানের আসর)। এ কথা শুনে আমি

সেদিকে অগ্রসর হলাম।

তাঁকে বলতে শুনলাম,

১) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এরশাদ করেছেন,

যে ব্যক্তি আল্লাহর দীন সম্পর্কিত গভীর জ্ঞান

অর্জনে আত্মনিয়োগ করে, তার সকল প্রয়োজনের

জিম্মাদার স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা হয়ে যান

এবঙ তাকে এমন সব উৎস থেকে রিজিক

পৌছাতে থাকেন, যা সে কখনো কল্পনাও করেনি।

(মুসনাদে ইমাম আযম)

উল্লেখ্য, যে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হারেছের

রা. ইন্তেকাল হয়েছে ৯৯ হিজরীতে। তখন

ইমামে আজমের বয়স হয়েছিলো ১৯ বছর।

★‘এলামুল-আখবার’ নামক গ্রন্হে বর্ণিত অন্য

একখানা হাদিস ইমাম আবু হানীফা রহ.

সরাসরি সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালেকের

রা. নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।

উক্ত হাদিসে বলা হয়েছে যে,

২) ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমান নর-

নারীর উপর

ফরজ।

একই সুত্রে হযরত আনাস ইবনে মালেক রা.

থেকে ইমাম আবু হানীফা রহ. কর্তৃক বর্ণিত অন্য

আর একখানা হাদিস হচ্ছে-

৩) পাখীরা আল্লাহর উপর যতটুকু ভরসা করে জীবন

ধারন করে কোন

বান্দা যদি ততটুকু ভরসা করতে শেখে তবে আল্লাহ

পাক তাকেও

অনুরূপ রিজিক দান করবেন। পাখীরা সকাল

বেলায় খালি পেটে বের হয়ে যায়, সন্ধায় পেট

ভরে বাসায় ফিরে আসে।

ইমামে আজম আর একখানা হাদিস সাহাবী হযরত

আবদুল্লাহ

ইবনে আবী আওফা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস খানা হচ্ছে-

৪) যে ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণ করবে আল্লাহ পাক

তার জন্য

বেহেশতে গৃহ নির্মাণ করবেন।

★শেষোক্ত হাদিসখানাকে ইমাম জালালুদ্দিন

সিয়ুতী রহ. মোতাওয়াতের হাদিস রূপে অভিহিত

করেছেন।

★মোল্লা আলী কারী রহ. বলেন, এই হাদিসটির

অন্যুন ৫০ সনদ আমি সংগ্রহ করেছি।

তম্মধ্যে ইমাম আবু হানীফার রহ.

মাধ্যমে বর্ণিত সনদই সর্বোত্তম।

★তিনি আঠারো বছর আনাস (রা.) এর ছাত্র ইমাম

হাম্মাদ (রহ).এর কাছে ইলমে দ্বীন অর্জন

করেছেন – তার আগেই ২২ বছর বয়স থেকে ছিলেন

মুসলিম-খ্রিস্টান-ইহুদি-মূর্তিপূজারক এবং

আল্লাহর অস্তিত্বে অবিশ্বাসীদের সাথে

আলোচনা করে ইসলামের প্রতি অকাট্য প্রমাণ

আনার প্রবাদ-পুরুষ।

★তিনি ছিলেন ইমামগণের ইমাম, মুসলিম জাতির

প্রদীপ, হাফিজুল হাদিস (লক্ষ হাদিসের কন্ঠস্থ

সংরক্ষক) এবং ধর্মীয় সিদ্ধান্তদাতাদের

পথপ্রদর্শক- তাঁর প্রচলিত উপাধী।

★ইমামে আজম তার হায়াতে জিন্দেগীতে

৫০ বার হজ্ব সম্পন্ন করেন।

★হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর

৪৮টিরও বেশী লক্বব মুবারক (উপাধী) ছিল, তার

মধ্যে সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য লক্বব হচ্ছে

**ইমামে আ’যম,

**ইমামুল মুকাস্সিরীন ফিল হাদীস,

**ইমামুল কবীর ফিল ফিক্বাহ,

**ইমামুল হুমাম,

**ইমামুল আইম্মা, ইত্যাদি।

তিনি কি দ্বয়ীফ হাদিস বর্ননা কারি

হতে পারেন? কিভাবে তা সম্ভব?

ফিকাহ শাস্ত্রে যার অবদান অবিস্মরনীয়।

★আবু হানীফা রঃ ছিলেন সর্বকালেন সেরা

মজতাহেদ ফিকাহবিদ ইমাম।

বিশেষজ্ঞ শ্রেণীর কোন আলেমকে মুজতাদেদের

স্তরে পৌছাতে হলে হাদীসের হাফেজ, তফসীর

শাস্ত্রের সর্বোচ্চ বিশেষজ্ঞ এবং সাহাবীগণের

জীবন ধারা সম্পর্কিত সকল বিষয়ের উপর

সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম জ্ঞান থাকা অপরিহর্য হয়ে যায়।

হযরত আবু হানীফাকে মজতাহেদ ইমামের স্তরে

পৌছার জন্য উপরোক্ত বিষয়গুলিতে সর্বাধিক

জ্ঞান অর্জন করতে হয়েছিলো।

★ফেকাহশাস্ত্র তথা কুরআন-মহাসাগর মন্থন করে

মাসআলা-মাসায়েল নির্ধারণ করার প্রশিক্ষণ

তিনি ইমাম হাম্মাদের নিকট থেকেই আয়ত্ব

করেছিলেন। এছাড়াও তাঁর এলমে-ফেকাহর আর

একজন বিশিষ্ট উস্তাদ ছিলেন আহলে বাইতের

উজ্জলতম নক্ষত্র ইমাম বা যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দেস ও

ফকীহ ইমাম জাফর সাদেক রঃ এবং তার পিতা

ইমাম মুহাম্মদ বাকির (রহ)।

যেই ১২ জন ইমামের কথা বহু হাদিসে ব্যক্ত আছে

তিনি সেই ১২ জনের ২ জন ইমাম ছিলেন ওনার

উস্তাদ ও মুর্শিদ ।

★ইমামে আজম প্রথম বায়াত গ্রহন করেন ইমাম

মুহাম্মদ বাকির (রহ) এর কাছে।

[Name: Imam Muhammad Baqir Ibn Ali al-Ulum

Mazar : at Jannat al-Baqi, Medina,

He was the son of Imam Zain al Abedin (rah)]

ওনার জন্ম এবং ওফাত [খ্রিষ্টাব্দ 677–732]

বা [হিজরি 57–114]

★ইমাম বাকির (রহ) এর ওফাত এর

পর তিনি বায়াত গ্রহন

করেন ওনার পুত্র ইমাম জাফর সাদিক

(রহ) এর কাছে।

[Name: Imam Jaffar Ibn Muhammad al-Sadiq

Mazar: at Jannat al-Baqi, Medina, He was the son of

Imam Baqir

জন্ম এবং ওফাত : [খ্রিস্টাব্দ 702–765] বা

[হিজরি 83–148]

তিনি যাদের যাদের শিক্ষক ছিলেন তাদের

মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হল:-

১) Abu Hanifah and

২) Malik ibn Anas in fiqh,

৩) Wasil ibn Ata and

৪) Hisham ibn Hakam

★তিনি শায়খ বা মুর্শিদ ক্বিবলা হাতে বাইয়াত

হওয়া সম্পর্কে বলেনঃ “(আমার জীবনে) যদি দু’টি

বছর না আসতো, তবে নু’মান ধ্বংস হয়ে

যেত।“ (সাইফুল মুক্বাল্লিদীন, ফতওয়ায়ে

ছিদ্দীক্বিয়া) অর্থাৎ তিনি যদি তাঁর শায়খদ্বয়

(রহমতুল্লাহি আলাইহিম)-এর নিকট বাইয়াত না

হতেন, তবে তিনি ধ্বংস বা বিভ্রান্ত হয়ে

যেতেন।

★ইমাম আবু হানীফার মন্তব্য হচ্ছে, যুগের

সর্বাপেক্ষা বড় ফকীহ ছিলেন ইমাম জাফর

সাদেক রঃ। তার চাইতে অধিক ধীসম্পন্ন কোন

ফকীহর সাক্ষাত অন্য কোথাও পাইনি। (আল-

মওয়াফেক)

★হাদিস এবং তফসীর শাস্ত্র আয়ত্ব করার

উদ্দেশ্যে ইমাম আবু হানীফা সে যুগের যে সব

সেরা মুহাদ্দেসগণের শরনাপন্ন হয়েছিলেন,

তাদের সংখ্যা জরহ ওয়াত তাদিলের ইমাম

হাফেজ জাহাবীর মতে ২৯০ জন। এঁদের মধ্যে এমন

পন্ঞাশ ব্যক্তির নাম পাওয়া যায় যাদের বর্ণনা

বুখারী-মুসলিম সহ সেহাহ-সেত্তার সকল কিতাবেই

বিশেষ যত্নের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। (ইমামে

আজম, আবু হানীফাহ রহঃ)

তাছাড়া অন্যান্য সুত্র মতে

৪০০০ শাইখ থেকে জ্ঞান অর্জন করে উপকৃত

হয়েছিলেন।

★একই কারণে যেমন “”মোয়াত্তা ইমাম মালেক””

গ্রন্থটি প্রথম দিকে সংকলিত সর্বাধিক শুদ্ধ

কিতাব রূপে গন্য করা হয, তেমনি হাদিস

শাস্ত্রের প্রথম সংকলন গ্রন্হ ““মুসনাদে ইমাম আবু

হানীফা”” নামক হাদিস সংকলনটি বিশুদ্ধতার

দিক থেকে যে সর্বাগ্রগন্য তাতে সন্দেহের কোন

অবকাশ নাই।

★এ সময়ে ইমাম আবু হানীফা রঃ একটি অদ্ভুদ

স্বপ্ন দেখে কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন।

দেখলেন, যেন তিনি প্রিয়তম নবী সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর শরীফ খনন করে

কিছু হাড়-কংকাল সংগ্রহ করছেন। স্বপ্নটি দেখার

পর কিছু দিন তিনি ছিলেন মানসিক ভাবে খুবই

উদ্বিগ্ন। শেষ পর্যন্ত স্বপ্নদ্রষ্টার পরিচয় গোপন

রেখে তিনি স্বপ্নের বিবরণ তাবীর শাস্ত্রের

ইমাম মুহম্মদ ইবনে সিরীনের রঃ খেদমতে পেশ

করেন। ইবনে সিরীন রঃ এই স্বপ্নটিকে একটি

মোবারক স্বপ্ন রূপে আখ্যায়িত করে বলেন,

স্বপ্নদ্রষ্টা যুগের ইমাম এবং প্রিয় নবীজী

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এলমের

উত্তরাধিকার পুনজ্জীবিত করবেন। (আল-

মোয়াফেক)

★তার অসাধারণ কৃতিত্ব রেখেছেন যার ফসল

স্বরুপ :-

Kitaab-ul-Aathaar narrated by Imaam Muhammad al-

Shaybani – compiled from a total of 70,000 hadith

Kitabul Aathaar narrated by Imaam Abu Yusuf

Aalim wa’l-muta‘allim

Musnad Imaam ul A’zam

Kitaabul Rad alal Qaadiriyah

ফিক্বহে আকবর,

জামিলুল মাসানিদ ইত্যাদি বিশেষভাবে

উল্লেখ্য।

★তাঁর হাদীস গ্রহণের পদ্ধতি ছিল এমন-

১. কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে

হবে।

২. হাদীস সরাসরি রাসূল দ. থেকে তাঁর জানা

পর্যন্ত মধ্যবর্তী যারা যারা বর্ণনা করেছেন,

তাঁদের প্রত্যেকের চরিত্র-পবিত্রতা-সততা এবং

পরিপূর্ণ আজীবন সত্যবাদীতা প্রশ্নাতীত থাকতে

হবে। এবং পুরোটা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর নিশ্চিত

হতে হবে।

★ইমাম আবু হানিফা (রহ) ১২ লক্ষ ৯০ হাজার

মাসালা বের করেছেন। যদি বাতিলদের যুক্তি

অনুযায়ী ধরেও নেওয়া হয় যে, তাঁর ইস্তিম্বাতকৃত

সব মাসআলাই ভুল (অবশ্যই তার মাসআলা ভুল হতে

পারে না)। তাহলেও ১২ লাখ ৯০ হাজার সওয়াব

তার আমলনামায় লেখা হয়েছে।

ﻓَﺄَﺧْﻄَﺄَ ﻓَﻠَﻪُ ﺃَﺟْﺮٌﻋَﻦْ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﻌَﺎﺹِ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻﻠﻰ

ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ‏« ﺇِﺫَﺍ ﺣَﻜَﻢَ ﺍﻟْﺤَﺎﻛِﻢُ ﻓَﺎﺟْﺘَﻬَﺪَ ﻓَﺄَﺻَﺎﺏَ ﻓَﻠَﻪُ ﺃَﺟْﺮَﺍﻥِ

ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺣَﻜَﻢَ ﻓَﺎﺟْﺘَﻬَﺪَ

হযরত আমর বিন আস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল

সাঃ ইরশাদ করেছেন-“যখন কোন বিশেষজ্ঞ হুকুম

দেয়, আর তাতে সে ইজতিহাদ করে তারপর সেটা

সঠিক হয়, তাহলে তার জন্য রয়েছে দু’টি সওয়াব।

আর যদি ইজতিহাদ করে ভুল করে তাহলে তার জন্য

রয়েছে একটি সওয়াব। {সহীহ বুখারী, হাদিস

নং-৬৯১৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৩৫৭৬, সহীহ

মুসলিম, হাদিস নং-৪৫৮৪}

★★★ এখন যা আলোচনা করব তা হল ★★★

১) ইমামে আজমকে মুর্জিয়া ও দুর্বল বর্ননাকারী

বলে অপবাদ দেয়ার জবাব

২) ইমামে আজম থেকে সরাসরি ইমাম বুখারী

সরাসরি বর্ননা করেন নি কিন্তু করেছেন অন্যান্য

মধ্যস্থতায়।

আজকাল দেখা যাচ্ছে ইমামে আজম আবু হানিফা

থেকে সরাসরি বুখারী শরীফে কোন হাদিস

বর্নিত না থাকায় অনেক লা-মাযহাবী আহলে

হাদিস ভাই অপপ্রচার করছে তিনি নাকি

মুর্জিয়া ছিলেন অথবা দুর্বল রাবী ছিলেন তাই

তার থেকে কোন হাদিস বুখারীতে আসে নি।

আসলে কি তাই?

আসুন দেখি total calculation :-

১) বুখারী শরীফে উচু সনদ ছুলাছিয়াত (৩ জনের

মধ্যস্থতায়) বর্নিত হাদিস সংখ্যা ২২টি তার

মধ্যে ২১টি বর্ননার ৪জন রাবীই ইমামে আজমের

শিস্য ।

২) ইমাম বুখারী ইমামে আজম থেকে বুখারী

শরীফে সরাসরি কোন বর্ননা করেন নি সত্য তবে ১

জনের,২ জনের,৩ জনের মদ্ধস্থতায় অনেক হাদিস

বর্ননা করেছেন আর তাই নিয়ে আহলে হাদিস

ভাই রা ঢোল পিটানো শুরু করেছে আর ইমামে

আজমকে ত্রুটিপূর্ণ,দুর্বল নানা খারাপ ভাষায়

অপবাদ দিচ্ছে।(Dr. Jakir Naik এর আহলে হাদিস

group)

৩) ইমামে আজম ছিলেন ইমাম বুখারীর পিতার

উস্তাদ,তার পিতার উস্তাদেরও উস্তাদ,ইমাম

বুখারীর অনেক শিক্ষক ছিলেন ইমামে আজমের

শিষ্য অথচ তাকে নিয়ে কেন এত মিথ্যাচার?

শয়তানের দল!!”

Clearification:- কিছু জিনিস পরলে বুঝবেন।

১) মুহাদ্দিসগন হাদিস গ্রহনের ক্ষেত্রে

সতন্ত্রভাবে এক একজন এক এক জিনিসের দিকে

খেয়াল রেখে পছন্দ রেখে হাদিস collect করেছেন

ইমাম বুখারীও তাই।

২) সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এ ইমাম শাফেয়ী

(রহ) এর ও কোন বর্ননা নেই যদিও ইমাম বুখারী ও

মুসলিম ২ জনই শাফেয়ী মাযহাবের প্রতি আসক্ত

ছিলেন।

৩) ইমাম বুখারী ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ)

থেকে মাত্র ১টি হাদিস বর্ননা করেছেন।

৪) ইমাম মুসলিম যদিও ইমাম বুখারীর শিষ্য তবুও

তার আস-সহিহ কিতাবে ইমাম বুখারী থেকে কোন

হাদিস নেন নি।

৫) সুনানে তিরমিজিতে ইমাম মুসলিম এর সনদে

শুধুমাত্র একটি বর্ননা আছে।

৬) ইমাম বুখারীর সনদে সুনানে নাসায়ীতে শুধু ১টি

হাদিস আছে।

৭) ইমাম আহমদ ইমাম শাফেয়ী থেকে

সিলসিলাতুযযাহাব এর পদ্ধতিতে শুধু ১টি হাদিস

মুসনদে নিয়েছেন।

★★★ইমামে আজমকে মুর্জিয়া অপবাদের কারন ও

তার বাস্তবতা★★★

১) ইমামে আজম নিজেই বলেন,”” আমি বলি না যে

মুমিনকে তার পাপ কোন ক্ষতি করবে না এবং

সেজন্য সে দোযখে যাবে না,যেরকম বাতিল

ফেরকা মুর্জিয়ারা বলে থাকে।এবং খারীজী

মুতাজিলা দের মত এও বলি না যে চিরকাল সে

দোযখে থাকবে,যদিও সে ফাসেক হয় এবং দুনিয়া

থেকে ইমান নিয়ে বিদায় নেয়।আমরা

মুর্জিয়াদের মত বলিনা যে আমাদের পুন্যসমুহ

মকবুল আর পাপ সমুহ মাফ।””

ইমামে আজম: আল ফিকহুল আকবর মাআ শরহে লি

মোল্লা আলী কারী পৃ: ১২৫-১২৭

২) ইমাম শাহরেস্তানী(ওফাত ৫৪৮হি) আল-মিলাল

ওয়ান নিহাল(১/১৪১) এ নিখেন,”” আমার জীবন

দানকারী আল্লাহর কসম ইমাম আজম ও তার দলকে

অনেকে মুর্জিয়া বলে অপবাদ দেয় কারন তিনি

বলেন,ইমান অন্তরের বিশ্যাসের নাম।আর তার

উপর অপবাদকারী রা মনে করে যে তিনি আমলকে

বেকার মনে করেন।অথচ তিনি শরীয়তের ব্যপারে

এত জ্ঞানী ও কঠোর তিনি কি একথা বলতে

পারেন?

হ্যা আরেকটি কারন আছে মুর্জিয়া বলার তিনি

প্রথম যুগে প্রকাশিত ফিত্নায়ে

কদরিয়া,মুতাজিলার বিরোধিতা করেছিলেন

তারাও তাকে মুর্জিয়া বলে আখ্যায়িত করত।

(এইভাবেই একসময় অপপ্রচার শুরু হয়)

নামধারী আহলে হাদিস দের প্রচার অনুযায়ী যদি

তিনি মুর্জিয়া হতেন আর সেই কারনে ইমাম

বুখারী ইমামে আজম থেকে সরাসরি বর্ননা না

করার কারন হয় তাহলে মুর্খ দের জেনে রাখা

উচিত যে–

★★★ সিত্তায় মুর্জিয়াদের বর্নিত হাদিস

আছে★★★

(note: মুর্জিয়া ইসলামের প্রাক কালে একটা

বাতিল দল।তাই মুর্জিয়া বর্ননাকারী থেকে

সাধারনত হাদিস বর্ননায় ignore করা হয়।যেহেতু

সিহাহ সিত্তায় ৭২০ এর চেয়েও অনেক বেশি

হাদিস মুর্জিয়া থেকে বর্নিত হয়েছে তাই বিশেষ

কোন ত্রুটি ছাড়া হাদিসকে জাল বা দুর্বল বলা

যাবে না।)

আজকাল ওহাবী আর আহলে হাদিস ভাই রা দেখা

যায় কোন হাদিস দিলে যদি সেটা তাদের

বিরোদ্ধে যায় তখন তারা ওঠে পড়ে লাগে আর

নানান সব কিতাব থেকে দুর্বল বা ত্রুটিপূর্ণ

রাবীদের সম্পর্কে বিভিন্ন Hadith Scholars দের

comment এনে Strong Sahih হাদিস কেও তারা দুর্বল

প্রমান করে সাধারন মানুষের কাছে। এই পোস্ট

টা দিলাম আশা করি সবাই এই ফিত্নাবাজ দের

থেকে যেন নিজেদের সাবধান রাখতে পারবেন।

Imam Muhammad Bin Khazim ইমাম মুহাম্মদ বিন

খাজিম (একজন মুর্জিয়া ছিলেন এবং সিহাহ

সিত্তার হাদিস বর্ননাকারীও ছিলেন)

সিহাহ সিত্তার হাদিসে তার সর্বমোট বর্ননা:-

1) Sahi Bukhari has 50 narrations from him

2) Sahi Muslim has 250 narrations from him

3) Jami Tirmidhi has 120 narrations from him

4) Sunan Abu Dawud has 85 narrations from him

5) Sunan Nasai has 65 narrations from him

6) Sunan ibn Majah has 150 narrations from him

তাই একজন থেকেই দেখা যায় সিহাহ সিত্তায় 720

টি হাদিস বর্নিত আছে।

এমনকি শুধুমাত্র বুখারী শরীফেই ১১ জন মুর্জিয়ার

বর্নিত হাদিস রয়েছে বলে

-ইমাম যাহাবী,ইবনে আবী

হাতিম,আসকালানী,সুয়ুতি,আজলী,

উকাইলী (আল্লাহ সবার উপর শান্তি বর্ষন করুন)

তাদের মতে পাওয়া যায়।

♦♦ইমাম আবু হানিফা রহ. কি তাবিঈ ছিলেন ?

ফিকহে হানাফীর কি সনদ নেই ? কেন এ

অপপ্রচার ?♦♦

********কিছুদিন আগে হানাফী মাযহাবের

বিরুদ্ধে লেখা একটা কিতাব নিয়ে পোস্ট

দিয়েছিলাম।

কিতাবটির নামঃ হানাফী ফিকহের ইতিহাস

ওপরিচয়।

লেখকঃ মুফতী মাওলানা আব্দুর রউফ।

এটিকে হানাফী মাযহাবের

বিরুদ্ধে বিশাল অস্ত্র হিসেবে ব্যাবহার করে

আসছে।

মুফতী মাওলানা আব্দুর রউফ সাহেবের এলেমের

দৌড়

কতটুকু।

এবার তাদের অভিযোগ গুলোর

মধ্যে আজকে একটিনিয়ে আলোচনা করবো

ইনশাআল্লাহ্।তাহলে এবার একত্রে অভিযোগ

গুলো দেখিঃ

(১) ইমাম আবু হানীফা রাহঃ এর কথা দিয়ে বরাত

দেওয়া হয়েছে কিন্তু তার কথার কোন সনদ দেওয়া

হয়

নি। যদিও ফতোয়ার কিতাব গুলো লেখা হয়েছে

ইমাম আবু

হানীফা রাহঃ এর মৃত্যুর কয়েকশ বছর পরে।

(২) এ কারনে ইমাম আবু হানীফা রাহঃ এর

কথাগুলোর

কোন সূত্র নেই।

(৩) এ কারনে ফতোয়ার কিতাব গুলোতে লেখকদের

মতামত যে ইমাম আবু হানীফা রাহঃ এর তার কোন

ভিত্তি নেই।

Ans:-

মূল জবাবে যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া দরকার

হানাফী মাযহাবের মূল উৎস গুলো কি কি?

হানাফি মাযহাব কি আল মুগনী,হিদায়া,রাদ্দুল

মুহতার,বিকায়া…… দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে?

অবশ্যই না।

★হানাফী মাযহাবের মূল বণনাকারী :-

**ইমাম আবু ইউসুফ ,

**ইমাম মুহাম্মদা রহ. ,

**ইবনে আবি শাইবা ।

তারা সরাসরি ইমাম আবু হানিফার ছাত্র তাদের

নিজের হাতে লেখা কিতাব

রয়েছে। ব্যাস এটা সবচেয়ে বড় দলিল। এসব

কিতাবেই

ইমাম আবু হানীফা রাহঃ এর উক্তি গুলো

সন্নিবেশিত

হয়েছে। এখান থেকেই অন্য অন্য কিতাব গুলোতে

ইমাম

আবু হানীফা রাহঃ এর উক্তি পেশ করা হয়েছে।

★সবচেয়ে বড় কথা হলো:

**ইমাম আবু ইউসুফ রহ.

**খলিফা হাদী,

**মাহদী ও

**হারুনুর রশিদের

যামানা থেকে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের প্রধান

বিচারপতি ছিলেন তখন, হানাফী মাযাহেরব

মাসআলা গুলোর আলোকে বিচার সহ সকল

কার্যক্রম

চলেছে আর এটি একজনের সনদ থেকে হাজার গুন

শক্তিশালী। আব্বাসী খিলাফত, উসমানী

খিলাফত দু’টোই

হানাফী ফিকহ অনুযায়ী চলেছে।

★ইবনে হাজার আসকালানি রাহ. বলেন- “উল্লেখ্য

যে, আব্বাসী যুগের প্রায় পাঁচশ বছর পর্যন্ত

পবিত্র

মক্কা-মদীনার সকল ইমাম ও বিচারক হানাফী

ছিলেন।

অতঃপর প্রায় দু’শ বছর খাওয়ারিয্মী ও

সালজুক্বীদের

অধীনে চলে, তারাও রক্ষণশীল হানাফী ছিলেন।

অতঃপর

উসমানী ওতুর্কী খেলাফত প্রায় পাঁচশ বছর পর্যন্ত

চলে। তারাও সবাই হানাফী ছিলেন।” ( আল-

খাইরাতুলহিসান-ইবনে হাজার, মক্কী শাফেয়ীঃ

পৃ –৭২ )

★“মোটকথা, ইসলামী ইতিহাসের

সোনালী অধ্যায়ে বারশ বছর পর্যন্ত পবিত্র

মক্কা-

মদীনায় ইমাম ও খতীবের সুমহান দায়িত্ব

হানাফী ইমামগণই আঞ্জাম দিয়ে এসেছেন এবং

কাযী ও

বিচারকের আসনেও তারাই ছিলেন।” ( আল-

খাইরাতুলহিসান-ইবনে হাজার মক্কী, শাফেয়ীঃ

পৃ – ৭২;

রদ্দুলমুহতারঃ পৃ – ১/৭৫ )।

★হানাফী মাযহাবের মূল হলো যাহেরী রিওয়াত।

যাহেরী রেওয়াত বলা হয়,ইমাম মুহাম্মাদ রহ. এর

৬ টি কিতাবকে –

১. সিয়ারে কাবীর

২. সিয়ারে সগীর

১. জামে সগীর

২. জামে কাবীর

৪. মাবসুত

৬. যিয়াদাত

★ইমাম মুহাম্মাদ রহ. ইমাম আবু হানিফার খাস

ছাত্র। এগুলোই হানাফী ফিকহের মূলউৎস। আর

এগুলো থেকেই পরবর্তিতে বিভিন্ন ফতোয়ার

কিতাবে ইমাম আবু হানীফা রাহঃ এর কথাকে

কোট

করা হয়েছে।

★ইমাম ত্বহাবী রহ. (২২৯-৩২১ হি:) শরহু

মায়ানিল আসার বয়ানু মুশকিলিল আসার

লিখেছেন।

এগুলো সব হানাফী মাযহাবের মাসআলা বর্ণনা

করা হয়েছে।

এভাবে প্রত্যেক যুগে হানাফী আলেমগণের

তালিকা আছে।

এগুলোত্বাবাকাতে হানাফিয়্যা নামের

বইগুলোতে পাওয়া যাবে।ইমাম সারাখসী, ইমাম

বাযদাবী,

আবুল লাইস সমরকন্দী……এনারা সবাই অনেক

আগের।

এরা হানাফী মাযহাবের মাসয়ালাগুলো

সন্নিবেশিত

করেছেন। এভাবেইহানাফী ফিকহ অন্য সকল কিছু

থেকে শক্তিশালী সনদে সংরক্ষিত হয়েছে।

★এবার মুফতি সাহেবের অভিযোগ গুলো খণ্ডন

করা যাক।

(১) (২)(৩) নম্বর অভিযোগের উত্তর:-

**আরে ভাই, ফিকহের কিতাবগুলো লম্বাচূড়া সনদ

বর্ণনা করা হয়না এটা মুফতি আব্দুর রউফ সাহেবের

জানা থাকার কথা। সনদের জন্য অন্যান্য কিতাব

রচিত

হয়/হয়েছে যে গুলোর উদ্যেশ্যই হল সনদ সংকলন

করা।

আচ্ছা, কওল বর্ণনা করেই যদি পুরা সনদ

বর্ণনা করা জরুরি হয়ে থাকে তাহলে মেশকাত

শরিফের

ব্যাপারে তারা আপত্তি কেন তোলে না?

**মিশকাতের হাদীস

বা আছার বর্ণনা করে বলা হয়েছে এটা ইমাম

বুখারী রাহ

বর্ণনা করেছে এটা ইমাম বাইহাকী রাহঃ বর্ণনা

করেছেন,

এটা ইমাম মুসলিম রাহঃ বর্ণনা করেছেন।

কিন্তু এই সকল ইমাম থেকে মেশকাতের

মুসান্নাফের লেখক হাম্মাদ বিন

আব্দুল্লাহ আলখতীব আত তিবরিযী(৭৪১

হি:) পর্যন্ত কোন সনদ উল্যেখ নেই। কিন্তু এর

সামনে সেই সনদ অবশ্যই ছিলো। যদিও তিনি তা

উল্যেখ

করা যরুরী মনে করেন নি।

**কারন যদিও ইমাম বোখারী রহ. ২৫৬ হি: তে মৃত্যু

বরণ করেছন তারপর ও

তার কিতাব রয়েছে ব্যাস এটি বড় দলিল। এখন

যদি কোন

আহাম্মক এই আপত্তি তোলে যে “মেশকাতে

হাদীস

গুলোর সনদ উল্যেখ নেই শুধু বলা হয়েছে এটা ইমাম

বুখারী রাহ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু ইমাম বুখারী

থেকে

শেষ পর্যন্ত কোন সনদ নেই । তাই……।”

তাকে আপনি কি জবাব দিবেন?

**আমাদের ও এই কুদুরী ,

হিদায়া, রাদ্দুল মোহতারের ক্ষেত্রে একই জবাব।

যদিও ইমাম আবু হানিফা ১৫০ হি: তে মৃত্যু বরণ

করেছেন

তারপরও তার কথাগুলো তার ছাত্রদের কিতাবে

রয়েছে ,

ব্যাস এটি বড় দলিল।

বাদ দিলাম মেশকাতের কথা।

**ইবনে হাজর আসকালানি রাহঃ এর “””তাকরীবুত

তাহযীব”” রিজাল

সাস্ত্রের বিখ্যাত কিতাব। এখানে ইবনে হাজার

আসকালানি রাহঃ ৬০০,৫০০,৪০০,৩০০… বছর

আগের রাবিদের ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন।

কিন্তু

কোনো ধরনের সনদ উল্যেখ করেন নি। এখন যদি

কোন

জাহেল, মুফতি সাহেবের মত এই

কথা বলে যে –

**“ইবনে হাজার অমক রাবির মৃত্যুর ৩৯০ বছর পর

জন্মগ্রহন করে কিভাবে তার ব্যাপারে মন্ত্যব্য

করেছে তার কোন সূত্র নাই। অতএব সূত্র বিহীন

কারো কথা গ্রহন করা জায়েজ নাই ”

তাকে আপনি কি বলবেন?

**মূল ব্যাপার হল ইবনে হাজার

আসকালানি রাহঃ এর সামনে রাবির ব্যাপারে

মন্তব্যের

সনদ ছিলো কিন্তু এ তিনি তা উল্লেখ করার

জরুরত

মনে করেন নি। ঠিক একই ঘটনা কুদুরী, হিদায়া

,রাদ্দুল

মুহতারের… ক্ষেত্রে। এগুলোর লেখকদের সামনে

ইমাম

আবু হানীফা রাহঃ এর কথার সনদ ছিলো যা ইমাম

আবু

হানীফা রাহঃ এর ছাত্র ইমাম মুহাম্মদ, ইমাম

ইউসুফ,ইমাম ইবনে আবি শাইবার কিতাবে আছে

কিন্তু

তারা এর সনদ ফতোয়ার কিতাবে উল্লেখ

করা জরুরী মনে করেননি। ঠিক যেমন মেশকাতের

লেখক

যে কারনে জরুরী মনে করেন নি।

ওনার সম্পর্কে উল্লেখ্য যোগ্য কিছু তথ্য :-

IMAM ABU HANIFA (ra)

★Nu’man bin Thabit ibn Zauti,- well known in Islamic

History as ‘Imam Abu Hanifa’ and ‘Imam Azam’ – was

the son of a Persian merchant.

He was born in Kufa, Iraq – in the Year 80 A.H.

★His father – Thabit – was privileged to meet Hazrat

Ali (ra) who had at the time, made Kufa his capital.

Kufa was founded in 17 A.H. by Hazrat Umar ibn

Khattab (ra) the 2nd Khalif.

Kufa had become the 3rd most important centre of

learning during Hazrat Umar’s (ra) Khilafat.

★A large number of Sahaba (ra) were sent to this new

city to settle here by Umar (ra). These included Hazrat

Abdulla ibn Ma’sood, Sa’d ibn Abi Waqqas, Ammar,

Huzaifa & Abu Moosa etc. (ra).

★ Records indicate the presence of 1050 Sahaba in

Kufa of whom 24 were the participants of Badr.

★ At the age of 20, Imam Abu Hanifa turned his

attention towards the pursuit of advancing his Islamic

knowledge.

★Among his 1st and the most important tutors was

Imam Hammad (Died 120 A.H.) whose educational

lineage is linked with **Hazrat Abdulla Ibn Mas’ood

(ra).

★Imam Abu Hanifa (ra) had joined his father’s

business wherein he showed scrupulous honesty and

fairness.

Once his agent had sold a consignment of silk cloth on

his behalf but forgot to mention a slight defect to the

customers. When Abu Hanifa learnt of this, he was

greatly distressed because he had no means of the

refunding the customers; so he immediately ordered the

entire proceeds of the sale ( 30,000 Dirhams ) to be

given in charity.

★The Imam was also keenly interested in education.

He established a school at Kufa, which later became a

famous College of Theology. Here he delivered lectures

on Islamic Law and related subjects.

★Fiqah or Islamic Law was systematically studied by

his students under his expert guidance.

A large number of his devoted and highly intelligent

students worked under him for 30 years, and it is the

labour of these students that gave us the Hanafi

School of thought.

★Imam Abu Hanifa (ra) was the 1st of the Imams to

advocate the use of “reason” in the consideration of

religious questions based on the Qur’an and Sunnah.

He was also the 1st Imam to arrange all the subjects

of Islamic Law systematically.

★His most important work is the Kitab-ul-Aasaar

which was compiled by his students – Imam Abu Yusuf

and Imam Muhammad.

The news of his death soon spread throughout

Baghdad

★The whole town came out to pay their last homage

to the greatest Imam of Islamic Law.

More than 50,000 people participated in the first

Janaza Salaat.

★People continued to flock and before the Janaza

could be finally taken for burial, the Salaatul Janaza

was offered 6 times in all.

★For days, people came in large numbers to pay their

respects at the grave side.

★Among the four Imams, Abu Hanifa has the largest

number of followers even today in all parts of the

world {M.A.R.K.}.