হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কেউ সরাসরি মাটি থেকে তৈরী নয়

wallflower-flowers-33623890-1600-120033
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এর কোথাও
একথা উল্লেখ করেননি যে, “সমস্ত মানুষ মাটির তৈরী” বরং
বলা হয়েছে- “মানুষ মাটির তৈরী।” আর পবিত্র কুরআন শরীফ-
এর যেসব আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে যে, বাশার, ইনসান
বা মানুষ মাটির তৈরী সেসব আয়াত শরীফ দ্বারা মূলত হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনার কথাই বলা হয়েছে। উল্লিখিত আয়াত
শরীফসমূহের ব্যাখ্যায় অনুসরণীয় মুফাসসিরীনে কিরাম
রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এ মতই পেশ করেছেন। নিম্নে
উল্লিখিত আয়াত শরীফসমূহ ও তার ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো-
(১)
ﺍِﻥَّ ﻣَﺜَﻞَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻛَﻤَﺜَﻞِ ﺁﺩَﻡَ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛِﻢَّ ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦ
ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
অর্থ : “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হযরত ঈসা আলাইহিস
সালাম উনার দৃষ্টান্ত হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনারই ন্যায়, তিনি
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছেন। অতঃপর বলেছেন, হয়ে যাও, সঙ্গে সঙ্গে
হয়ে গেলেন।” (সূরা আলে ইমরান : ৫৯)
বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
উনার নির্ভরযোগ্য ও প্রখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর ২য় খণ্ডের ১০২ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ( ﺍِﻥَّ ﻣَﺜَﻞَ ﻋِﻴﺴَﻰ ..…………) ﺩﻟﻴﻞ ﻋﻠﻰ ﺻﺤﺔ ﺍﻟﻘﻴﺎﺱ –
ﻭﺍﻟﺘﺸﺒﻴﻪ ﻭﺍﻗﻊ ﻋﻠﻰ ﺍﻥ ﻋﻴﺲ ﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﻏﻴﺮﺍﺏ ﻛﺎﺩﻡ ﻻ ﻋﻠﻰ ﺍﻧﻪ
ﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ ……………… ﻓﺎﻥ ﺍﺩﻡ ﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ ﻭﻟﻢ ﻳﺨﻠﻖ ﻋﻴﺲ
ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ ﻓﻜﺎﻥ ﺑﻴﻨﻬﻤﺎ ﺍﻧﻬﺎ ﺧﻠﻘﻬﻤﺎ ﻣﻦ ﻏﻴﺮﺃﺏ ………….
অর্থ : “উক্ত আয়াত শরীফখানা ক্বিয়াস সহীহ্ হওয়ার দলীল।
আর উক্ত আয়াত শরীফে যে তাশবীহ বা সাদৃশ্যতা বর্ণনা
করা হয়েছে তা এই যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনার মতই পিতা ছাড়া তৈরী হয়েছেন।
একথা বুঝানো হয় নাই যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনার মতই মাটির তৈরী। ……… হযরত আদম
আলাইহিস সালাম তিনি মাটির তৈরী আর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম
তিনি মাটির তৈরী নন এদিক থেকে উভয়ের মাঝে যদিও
পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু পিতা ছাড়া তৈরী হওয়ার দিক থেকে
উভয়ের মধ্যেই সাদৃশ্যতা বা মিল রয়েছে। ………..”
ইমামুল মুহাদ্দিছীন, আল্লামা ফখরুদ্দীন রাজী রহমতুল্লাহি
আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত ও প্রসিদ্ধ তাফসীরগ্রন্থ
“তাফসীরে কবীর”-এর ৮ম খণ্ডের ৭৯-৮১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ( ﺍِﻥَّ ﻣَﺜَﻞَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻛَﻤَﺜَﻞِ ﺁﺩَﻡَ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ)
……………………… ﺍﺫﺍ ﺟﺎﺯ ﺍﻥ ﻳﺨﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺍﺩﻡ ﻣﻦ ﺍﻟﺘﺮﺍﺏ ﻓﻠﻢ
ﻻﻳﺠﻮﺯ ﺍﻥ ﻳﺨﻠﻖ ﻋﻴﺲ ﻣﻦ ﺩﻡ ﻣﺮﻳﻢ؟ ( ﻣَﺜَﻞَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻛَﻤَﺜَﻞِ
ﺁﺩَﻡَ) ﺍﻯ ﺻﻔﺘﻪ ﻛﺼﻔﺔ ﺍﺩﻡ ……………… ( ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ)
.……………………… ﺍﻟﻀﻤﻴﺮ ﻓﻰ ﻗﻮﻟﻪ ﺧﻠﻘﻪ ﺭﺍﺟﻊ ﺍﻟﻰ ﺍﺩﻡ .
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হযরত ঈসা
আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার
সৃষ্টির ন্যায়। মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।) ….. হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি মাটি থেকে
সৃষ্টি করতে পারেন তবে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে
কেন হযরত মরিয়ম আলাইহাস সালাম উনার রক্ত থেকে সৃষ্টি
করতে পারবেন না? ….. (হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার
মেছাল মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনার ন্যায়) অর্থাৎ হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার ছিফত হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনার ছিফতের ন্যায়। …… (উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে) …. উক্ত আয়াত শরীফ-এ যে
সর্বনাম রয়েছে তা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার দিকে
রুজু হয়েছে বা ফিরেছে। অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, হযরত ঈসা আলাইহিস
সালাম উনাকে নয়।”
শায়খুল মুফাসসিরীন, ফক্বীহুল উম্মত আল্লামা ছানাউল্লাহ
পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার মশহুর তাফসীরগ্রন্থ
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ২য় খণ্ডের ৫৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍِﻥَّ ﻣَﺜَﻞَ ﻋِﻴﺴَﻰ) ﻳﻌﻨﻰ ﺷﺎﻧﻪ ﺍﻟﻐﺮﻳﺐ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻛﻤﺜﻞ ﺍﺩﻡ ﻛﺸﺎﻧﻪ ﺛﻢ
ﻓﺴﺮﻩ ﻭﺑﻴﻦ ﻭﺟﻪ ﺍﻟﺘﺸﺒﻴﻪ – ﻓﻘﺎﻝ ﺧﻠﻘﻪ ﺍﻯ ﺻﻮﺭ ﻗﺎﻟﺒﻪ ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ
ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ .
অর্থ : “নিঃসন্দেহে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার শান মহান
আল্লাহ পাক উনার নিকট হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার শানের
ন্যায়। অতঃপর তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ও সাদৃশ্যতার কারণ বর্ণনা
করেছেন। সুতরাং বলেন, মহান আল্লাহ পাক হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনার ছূরত সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।”
সূরা আলে ইমরান-এর উক্ত আয়াত শরীফ ও তাফসীর দ্বারা
এটাই ছাবিত হলো যে, শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকেই মাটি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্য কাউকে নয়। যদি
হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ছাড়া অন্য কেউ মাটির সৃষ্টি
হতো তবে উক্ত আয়াত শরীফে “হযরত ঈসা আলাইহিস
সালাম উনার সৃষ্টি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার ন্যায়” একথা
বলার পর “ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ” “আমি উনাকে (হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে) সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে” বলতেননা।
বলতেন- “আমি উনাদের উভয়কে সৃষ্টি করেছি মাটি
থেকে।” সুতরাং এখানে সর্বনাম একবচন এনে এটাই
বুঝিয়েছেন যে, শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিই
মাটির সৃষ্টি অন্য কোন মানুষ নয়।
একইভাবে হাদীছ শরীফ-এ “তোমরা সকলেই হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনার সন্তান” বলার পরে আবার “আর আদম
আলাইহিস সালাম তিনি মাটি হতে সৃষ্ট” বলার উদ্দেশ্য একই।
অর্থাৎ শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিই মাটির সৃষ্টি অন্য
কোন মানুষ নয়।
(২)
ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺻَﺎﺣِﺒُﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻳُﺤَﺎﻭِﺭُﻩُ ﺍَﻛَﻔَﺮْﺕَ ﺑِﺎﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻚَ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ
ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﺳَﻮَّﺍﻙَ ﺭَﺟُﻠًﺎ
অর্থ : “তার সঙ্গী তাকে কথা প্রসঙ্গে বললো : তুমি
উনাকে অস্বীকার করছো যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন
মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে অতঃপর পূর্ণাঙ্গ
করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে।” (সূরা কাহাফ : ৩৭)
মুহিয়্যুস্ সুন্নাহ্ আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ
ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি
তিনি উনার প্রখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য়
খণ্ডের ১৯৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺧَﻠَﻘَﻚَ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﺍﻯ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻚ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ ﻻﻥ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻪ ﺳﺒﺐ
ﻓﻰ ﺧﻠﻘﻪ
অর্থ : “(তোমাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ
তোমার আছল (হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছেন। কেননা উনার আছলের সৃষ্টি উনার
সৃষ্টির কারণ।”
তাজুল মুফাসসিরীন আল্লামা আবুল ফজল শিহাবুদ্দীন সাইয়্যিদ
মাহমুদ আলুসী বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত
তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে রুহুল মায়ানী”-এর ৮ম খণ্ডের
২৭৬ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﺧَﻠَﻘَﻚَ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﺍﻯ ﻓﻰ ﺿﻤﻦ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻚ ﻣﻨﻪ ﻭﻫﻮ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তিনি তোমাকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ
তোমার আছল উনাকে আর তিনি হলেন হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
প্রখ্যাত মুফাসসির ফক্বীহুল আছর, আল্লামা ছানাউল্লাহ্
পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার প্রসিদ্ধ
তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে মাযহারী”- এর ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৩৫
পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺧَﻠَﻘَﻚَ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﻻﻧﻪ ﺍﺻﻞ ﻣﺎﺩ ﻧﻚ ﺍﻭﻣﺎﺩﺓ ﺍﺻﻠﻚ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তিনি তোমাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন)
কেননা তোমার মাদ্দার আছল অথবা তোমার আছলের মাদ্দাহ্
হলেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি।”
শাইখুল মুফাসসিরীন আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি
আলাইহি তিনি উনার মশহুর তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে
সামারকান্দী”-এর ২য় খণ্ডের ২৯৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺻَﺎﺣِﺒُﻪُ) ﺍﻯ ﺍﺧﺎﻩ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ( ﻭَﻫُﻮَ ﻳُﺤَﺎﻭِﺭُﻩُ) ﺍﻯ ﻳﻜﻠﻤﻪ ﻭﻳﻌﻈﻪ
ﻓﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ (ﺍَﻛَﻔَﺮْﺕَ ﺑِﺎﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻚَ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তাকে তার সাথী বলেন) অর্থাৎ তার মুসলমান ভাই
বলেন। তিনি তার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্পর্কে
নছীহত করছিলেন। যিনি তোমাকে অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
তাজুল মুফাসসিরীন আল্লামা ইমাম ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি
আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে রুহুল
বয়ান”-এর ৫ম খণ্ডের ২৪৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺑِﺎﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻚَ ) ﺍﻯ ﻓﻰ ﺿﻤﻦ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻚ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ
ﺗُﺮَﺍﺏٍ )
অর্থ : “(যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ তোমার
আছল হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছেন।”
সূরা কাহাফ-এর উক্ত আয়াত শরীফ ও তাফসীর দ্বারাও প্রমাণিত
হলো যে, “মহান আল্লাহ পাক তিনি শুধুমাত্র হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকেই মূলত মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। তাই
মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও আয়াত শরীফ-
এ বর্ণিত “ ﺧَﻠَﻘَﻚَ” “তোমাকে সৃষ্টি করেছেন” এ বাক্যের
অর্থ করেছেন- “হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি
করেছেন মাটি থেকে” যেহেতু শুধুমাত্র আদম আলাইহিস
সালাম তিনিই মাটির সৃষ্টি।
(৩)
ﻓَﺎِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦْ ﻋَﻠَﻘَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻣُّﻀْﻐَﺔٍ
ﻣُّﺨَﻠَّﻘَﺔٍ ﻭَﻏَﻴْﺮِ ﻣُﺨَﻠَّﻘَﺔٍ ﻟِّﻨُﺒَﻴِّﻦَ ﻟَﻜُﻢْ
অর্থ : “(হে লোক সকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের
ব্যাপারে সন্দিহান হও, তবে (ভেবে দেখ) আমি
তোমাদেরকে মাটি থেকে, সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য
থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে এরপর পূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট ও
অপূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট গোস্ত পিন্ড থেকে। তোমাদের কাছে
ব্যক্ত করার জন্যে।” (সূরা হজ্জ : ৫)
ফক্বীহুল আছর, প্রখ্যাত মুফাসসির আল্লামা আবুল লাইছ
সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ২য় খণ্ডের ৩৮০ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻓَﺎِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢ ..………… ) ﺍﻯ ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﺍﻟﺬﻯ ﻫﻮ ﺍﺻﻞ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﻳﻌﻨﻰ
ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦْ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ( ﺛُﻢَّ) ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺫﺭﻳﺒﻪ ( ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ) ﻭﻫﻮ
ﺍﻟﻤﻨﻰ
অর্থ : “(আর নিঃসন্দেহে আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি
করেছি) অর্থাৎ তোমাদের পিতা যিনি মানবজাতীর মূল অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।
অতঃপর উনার সন্তানদেরকে “নুতফা” অর্থাৎ বীর্য থেকে
সৃষ্টি করেছি।”
ইমামুল মুফাসসিরীন, আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি
তিনি উনার বিখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৬ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻓَﺎِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছি) অর্থাৎ আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য় খণ্ডের
২৮১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻓَﺎِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﺍﺩﻡ ﺍﻟﺬﻯ ﻫﻮ ﺍﺻﻞ ﺍﻟﺒﺸﺮ ( ﺛُﻢَّ
ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺫﺭﻳﺘﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻨﻰ
অর্থ : “(আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি)
অর্থাৎ তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছি। যিনি মানব জাতির মূল। (অতঃপর নুতফা
থেকে) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার
সন্তানদেরকে বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা হুসাইন ইবনে মাসউদ আল ফাররা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
উনার “তাফসীরে বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ২৮১ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻓَﺎِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢ ) ﺍﻯ ﺍﺑﺎﻛﻢ ( ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ) ﺧﻠﻘﺘﻢ ( ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦْ
ﻋَﻠَﻘَﺔٍ) ﺍﻯ ﻗﻄﻌﺔ ﺩﻡ ﺟﺎﻣﺪﺓ ( ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻣُّﻀْﻐَﺔٍ) ﺍﻯ ﻟﺤﻤﺔ ﺻﻐﻴﺮﺓ ﻗﺪﺭ
ﻣﺎﻳﻤﻀﻊ
অর্থ : “আমি তোমাদেরকে অর্থাৎ তোমাদের পিতা উনাকে
মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তোমাদেরকে সৃষ্টি
করেছি নুতফা ও ছোট গোস্তপিন্ড থেকে।”
সূরা হজ্জ-এ বর্ণিত উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও তার ব্যাখ্যা
দ্বারা এটাই ছাবিত হলো যে, কুরআন শরীফে যে বলা
হয়েছে “মানুষ মাটির সৃষ্টি” তা দ্বারা মূলত হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র হযরত আদম
আলাইহিস সালাম তিনিই মাটি থেকে সৃষ্টি। আদম সন্তানগণ মাটি
থেকে সৃষ্টি নয়।
(৪)
ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﺍِﺫَﺍ ﺃَﻧﺘُﻢ ﺑَﺸَﺮٌ ﺗَﻨﺘَﺸِﺮُﻭﻥَ
অর্থ : “উনার নিদর্শনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন এই যে, তিনি
মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা
মানুষ পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছো।” (সূরা রূম :২০)
আল্লামা আবুল লাইছ সমরকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ .……) ﻳﻌﻨﻰ ﺧﻠﻖ ﺍﺩﻡ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ ﻭﺍﻧﺘﻢ ﻭﻟﺪﻩ –
( ﺛُﻢَّ ﺍِﺫَﺍ ﺃَﻧﺘُﻢ ) ﺫﺭﻳﺘﻪ ﻣﻦ ﺑﻌﺪﻩ (ﺑَﺸَﺮٌ ﺗَﻨﺘَﺸِﺮُﻭﻥَ) ﻳﻌﻨﻰ ﺗﺒﺴﻄﻮﻥ
অর্থ : “(তিনি মাটি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন)
অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি
মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর তোমরা হলে উনার
সন্তান, উনার পরে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছো।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য়
খণ্ডের ৪৩১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﺍﻯ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﻭﻫﻮ ﺍﺩﻡ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ – ( ﺛُﻢَّ
ﺍِﺫَﺍ ﺃَﻧﺘُﻢ ﺑَﺸَﺮٌ ﺗَﻨﺘَﺸِﺮُﻭﻥَ) ﺍﻯ ﺗﺒﺴﻄﻮﻥ ﻓﻰ ﺍﻻﺭﺽ
অর্থ : “(তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন)
অর্থাৎ তোমাদের ‘আছল’ হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমরা
যমীনে ছড়িয়ে পড়েছ মানুষ হিসেবে।”
আল্লামা ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ৪৩১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ) ﺍﻯ ﺍﺑﺎﻛﻢ ( ﻣِﻦْ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﺍِﺫَﺍ ﺃَﻧﺘُﻢ ﺑَﺸَﺮٌ) ﺍﻯ ﺍﺩﻡ ﻭﺫﺭﻳﺘﻪ
(ﺗَﻨﺘَﺸِﺮُﻭﻥَ )
অর্থ : “তিনি তোমাদেরকে অর্থাৎ তোমাদের পিতা (হযরত
আদম আলাইহিস সালাম) উনাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।
অতঃপর তোমরা অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ও উনার
সন্তান যমীনে ছড়িয়ে পড়েছে।”
আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর খণ্ডের ১৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ( ﻭَﻣِﻦْ ﺁﻳَﺎﺗِﻪِ ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﺍﻯ ﻣﻦ ﻋﻼﻣﺘﻪ ﺭﺏ
ﺑﻴﺘﻪ ﻭ ﻭﺣﺪﺍ ﻧﻴﺘﻪ ﺍﻥ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ. ﺍﻯ ﺧﻠﻖ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﻣﻨﻪ
অর্থ : “(মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন সমূহের মধ্যে একটি
নিদর্শন এই যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার
রুবুবিয়্যাত ও অহদানিয়্যাত-এর নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের
পিতা (হযরত আদম আলাইহিস সালাম) উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছেন।”
আল্লামা ছানাউল্লাহ্ পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ২২৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﺍﻯ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﺍﺩﻡ ﻣِﻦْ ﺗُﺮَﺍﺏٍ
অর্থ : “তিনি তোমাদেরকে অর্থাৎ তোমাদের আছল হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
সূরা রূম-এ বর্ণিত উক্ত আয়াত শরীফের তাফসীর দ্বারাও
সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, “মানুষ মাটির তৈরী” বলতে হযরত
আদম আলাইহিস সালাম তিনিই উদ্দেশ্য, হযরত মুফাসসিরীনে
কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ব্যাখ্যা দ্বারা এটাই প্রমাণিত
হয়।
(৫)
ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﺟَﻌَﻠَﻜُﻢْ ﺍَﺯْﻭَﺍﺟًﺎ
অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি
করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, তারপর
করেছেন তোমাদেরকে যুগল।” (সূরা ফাতির : ১১)
আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ্ মুহম্মদ ইবনে আহ্মদ আনছারী
কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে কুরতুবী”-এর
৭ম খণ্ডের ৩৩২ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﻗﺎﻝ ﺳﻌﻴﺪ ﻋﻦ ﻗﺘﺎﺩﺓ ﻗﺎﻝ- ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﺍﻟﺘﻘﺪﻳﺮ ﻋﻠﻰ ﻫﺬﺍ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ
অর্থ : “(মহান আল্লাহ্ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে
সৃষ্টি করেছেন) হযরত সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত
ক্বাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করে
বলেন, অর্থাৎ (মহান আল্লাহ পাক তিনি) হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে (মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন)। আয়াত
শরীফে ﺍﺻﻞ “আছল” শব্দ উহ্য রয়েছে।”
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ৮২ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﻫﻮ ﺍﺻﻞ ﺍﻟﺨﻠﻖ
( ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺧﻠﻘﻜﻢ ﻣﻦ ﻧﻄﻔﺔ ( ﺛُﻢَّ ﺟَﻌَﻠَﻜُﻢْ ﺍَﺯْﻭَﺍﺟًﺎ ) ﻳﻌﻨﻰ
ﺍﺻﻨﺎﻓﺎ ﺫﻛﺮﺍ ﻭﺍﻧﺜﻰ
অর্থ : “(মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে
সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে
মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর তিনিই হলেন মানব সৃষ্টির
মূল। অতঃপর তোমাদেরকে (হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার
সন্তানদেরকে) নুতফা থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর
তোমাদেরকে পুরুষ-মহিলায় বিভক্ত করেছেন।”
আল্লামা ছহিবে খাযিন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
খাযিন”-এর ৩য় খণ্ডের ৪৯৬ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ )
ﻳﻌﻨﻰ ﺫﺭﻳﺘﻪ
অর্থ : (মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে
সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সন্তানদেরকে নুতফা
থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
আল্লামা বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি “তাফসীরে বাগবী”-এর
৩য় খণ্ডের ৪৯৬ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ) ﺍﻯ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ
অর্থ : মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে অর্থাৎ
তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছেন।
“তাফসীরে কাদেরী”-এর ২য় খণ্ডের ২৭৮ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ আছে,
( ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ) ﺍﻭﺭ ﺍﻟﻠﮧ ﻧﮯ ﭘﯿﺪﺍ ﮐﯿﺎ ﺗﻢ ﺗﻢ ﮐﻮﯾﻌﻨﯽ ﺗﻤﮭﺎﺭﮮ ﺑﺎﭖ ﺍﺩﻡ
ﻋﻠﯿﮧ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﮐﻮ ( ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﻣﭩﯽ ﺳﮯ –
অর্থ : “….. আর মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে অর্থাৎ
তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
সূরা ফাতির-এ উল্লিখিত উক্ত আয়াত শরীফ ও তার তাফসীর বা
ব্যাখ্যা দ্বারাও বুঝা গেল যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিই
শুধুমাত্র মাটি থেকে সৃষ্টি আর উনার সন্তানগণ নুতফা থেকে
কুদরতীভাবে সৃষ্টি হয়েছেন। তাই মুফাসসিরীনে কিরাম
রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা “ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢْ” শব্দের ব্যাখ্যায় “ﺍَﺑِﺎﻛُﻢْ ”
অর্থাৎ তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে
সৃষ্টি করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
(৬)
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦْ ﻋَﻠَﻘَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻳُﺨْﺮِﺟُﻜُﻢْ
ﻃِﻔْﻞً
অর্থ : “ঐ মহান আল্লাহ পাক যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি
করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর নুতফা (বীর্য) থেকে,
অতঃপর জমাট রক্ত থেকে, অতঃপর তোমাদেরকে বের
করেন শিশুরূপে।” (সূরা মু’মিন : ৬৭)
আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল বয়ান”-এর ৮ম খণ্ডের ২০৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﺍﻟﻤﻌﻨﻰ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ
অর্থ : “(ঐ মহান আল্লাহ পাক যিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে
সৃষ্টি করেছেন) ….এ আয়াত শরীফের সঠিক অর্থ হলো
মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের আছল হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৪র্থ
খণ্ডের ৭৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(যিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন)
অর্থাৎ তোমাদের ‘আছল’ হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
“তাফসীরে কাদেরী”-এর ২য় খণ্ডের ৩৫৪ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ আছে,
( ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﻭﮦ ﮬﮯ ﺟﺴﮯ “ ﺧﻠﻘﮑﻢ” ﭘﯿﺪﺍ ﮐﯿﺎ ﺗﻤﮭﺎﺭﮮ
ﺩﺍﺩﺍ ﺍﺩﻡ ﮐﻮ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ “ ﺧﺎﮎ ﺳﮯ ”
অর্থ : “……… ঐ মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের দাদা হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
সূরা মু’মিন-এর উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও উনার ব্যাখ্যা দ্বারাও
প্রমাণিত হলো যে, আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকেই শুধুমাত্র সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
অন্য কাউকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়নি।
(৭)
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ ﺛُﻢَّ ﻗَﻀَﻰ ﺃَﺟَﻼً ﻭَﺃَﺟَﻞٌ ﻣُّﺴﻤًّﻰ ﻋِﻨﺪَﻩُ ﺛُﻢَّ
ﺃَﻧﺘُﻢْ ﺗَﻤْﺘَﺮُﻭﻥَ
অর্থ : “সেই মহান আল্লাহ পাক যিনি তোমাদেরকে মাটির
থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর নির্দিষ্টকাল নির্ধারণ
করেছেন। আর এক নির্দিষ্টকাল মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট
রয়েছে, তথাপি তোমরা সন্দেহ কর।” (সূরা আনয়াম : ২)
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ২য়
খণ্ডের ৩য় পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﻧﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺧﻠﻖ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻣﻦ
ﻃﻴﻦ ﻭﺍﻧﻤﺎ ﺧﺎﻃﺐ ﺫﺭﻳﺘﻪ ﺑﺬﺍﻟﻚ ﻻﻧﻪ ﺍﺻﻠﻬﻢ ﻭﻫﻢ ﻣﻦ ﻧﺴﻠﻪ
অর্থ : “…….. (মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।
আর এ কারণেই উনার সন্তানদেরকে মাটির সৃষ্টি বলা
হয়েছে, কেননা হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিই হচ্ছেন
তাদের আছল, আর তারা উনার ‘আছল’ থেকে সৃষ্টি
হয়েছে।”
আল্লামা ছানাউল্লাহ পানিপথি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
মাযহারী”তে লিখেন,
( ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺑﺘﺪﺃ ﺧﻠﻘﻜﻢ ﻣﻨﻪ ﺣﻴﺚ ﺧﻠﻖ ﻣﻨﻪ
ﺍﺻﻠﻜﻢ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺍﻭ ﺍﻟﻤﻌﻨﻰ ﺧﻠﻖ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﺍﺩﻡ ﺑﺤﺬﻑ
ﺍﻟﻤﻀﺎﻑ
অর্থ : “(মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে
সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টির সূচনা
করেছেন তোমাদের আছল হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করার মাধ্যমে। অথবা উক্ত আয়াত
শরীফের অর্থ হলো তোমাদের পিতা হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। এখানে
‘মোজাফ’ উহ্য রয়েছে।”
সূরা আনয়াম-এর উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও তার তাফসীর বা
ব্যাখ্যাও প্রমাণ করে যে, আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস
সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কোন মানুষই মাটির সৃষ্টি নয়।
(৮)
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺳُﻠَﺎﻟَﺔٍ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি
করেছি।” (সূরা মু’মিনুন : ১২)
আল্লামা আবুল লাইছ সমরকন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ২য় খণ্ডের ৪০৯ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺳُﻠَﺎﻟَﺔٍ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦ) ﺣﻀﺮﺕ ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ
ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻜﺒﻰ ﻭﻣﻘﺎﺗﻞ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি
করেছি) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে (মাটির সারাংশ
থেকে সৃষ্টি করেছি)। ক্বালবী ও মাকাতিল রহমতুল্লাহি
আলাইহিমা উনাদের অভিমত এটাই।”
আল্লামা ক্বাজী ছানাউল্লাহ্ পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৩৬৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ) ﺍﻟﺠﻨﺲ ( ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ) ﺍﻭ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﺳُﻠَﺎﻟَﺔٍ
ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ )
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি মানুষের জিন্স অথবা হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ্ মুহম্মদ ইবনে আহমদ আনছারী আল
কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে কুরতুবী”-এর
৬ষ্ঠ খণ্ডের ১০৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ) ﺍﻻﻧﺴﺎﻥ ﻫﻨﺎ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﻗﺎﻟﻪ
ﻗﺘﺎﺩﺓ ﻭﻏﻴﺮﻩ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি
করেছি) এখানে “ ﺍِﻧْﺴَﺎﻥَ” ‘মানুষ’ দ্বারা হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে বুঝানো হয়েছে। হযরত ক্বাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু তিনি এবং অন্যান্য মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি
আলাইহিম উনারা এরূপই বলেছেন।”
আল্লামা ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ৩০১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ) ﺍﻯ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি (মাটির সারাংশ
থেকে)।”
সূরা মু’মিনুন-এর উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও তার ব্যাখ্যা এটাই
প্রমাণ করে যে, সকল মানুষের পিতা হযরত আদম আলাইহিস
সালাম তিনিই সরাসরি মাটির সৃষ্টি। উনার সন্তানগণ মাটির সৃষ্টি নয়। যার
কারণে মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা উক্ত
আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত “ﺍِﻧْﺴَﺎﻥَ ” শব্দ দ্বারা হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকেই বুঝিয়েছেন।
(৯)
ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃَﺣْﺴَﻦَ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲْﺀٍ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ
অর্থ : “যিনি উনার প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং
কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন।” (সূরা সিজদাহ্ : ৭)
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ২৯ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺧﻠﻖ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻦ ﻃﻴﻦ
ﻣﻦ ﺍﺩﻳﻢ ﺍﻻﺭﺽ
অর্থ : “(তিনি কাদামাটি থেকে মানুষ সৃষ্টির সূচনা) অর্থাৎ হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনাকে যমীনের কাদামাটি থেকে সৃষ্টি
করেছেন।”
আল্লামা ছানাউল্লাহ্ পানিপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ২৬৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ
অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক তিনি কাদামাটি দ্বারা মানুষ অর্থাৎ হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করা শুরু করেন।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য় খণ্ডের
৪৪৫ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “তিনি কাদামাটি থেকে মানুষ। অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনার সৃষ্টির সূচনা করেন।”
আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর ৭ম খণ্ডের ৯০ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তিনি কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেন) অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে কাদামাটি থেকে সৃষ্টি করা
শুরু করেন।”
আল্লামা ইমাম আবুল ফাররা আল বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ৪৪৫ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ) ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ )
অর্থ : “তিনি কাদামাটি দ্বারা মানুষ অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে সৃষ্টির সূচনা করেন।”
আল্লামা আলুসী বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল মায়ানী”-এর ১১তম খণ্ডের ১২৩ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ) ﺍﻯ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ )
অর্থ : “(তিনি মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেন) অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিসি সালাম উনাকে সৃষ্টি করা শুরু করেন কাদামাটি থেকে।”
আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল বয়ান”-এর ৭ম খণ্ডের ১১১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ) ………………… ﻫﻮ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﺍﺑﻮ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তিনি কাদামাটি থেকে মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেন)
………………. (উক্ত মানুষ হলেন) সকলেরই পিতা হযরত আদম
আলাইহিস সালাম।”
সূরা সিজদা-এর উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও ব্যাখ্যা দ্বারাও
দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে,
শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই মহান আল্লাহ পাক
তিনি সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।
(১০)
ﺍِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻫُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ ﻟَّﺎﺯِﺏٍ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল
মাটি থেকে।” (সূরা সাফফাত : ১১)
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ১১২ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﺍِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻫُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ ﻟَّﺎﺯِﺏٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল
মাটি থেকে) অর্থাৎ আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে
সৃষ্টি করেছি এঁটেল মাটি থেকে।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৪র্থ
খণ্ডের ১৫ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻫُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ ﻟَّﺎﺯِﺏٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻦ
ﻃﻴﻦ ﺟﺪﻳﺪ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি আল্লাহ পাকই তাদেরকে অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল মাটি
থেকে।”
আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল বয়ান”-এর ৭ম খণ্ডের ৪৫১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻫُﻢْ) ﺍﻯ ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺍﺻﻠﻬﻢ ﻫﻮ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦْ
ﻃِﻴﻦٍ ﻟَّﺎﺯِﺏٍ )
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি তাদের ‘আছল’ অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে এঁটেল মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।”
(১১)
ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻟِﻠْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔِ ﺇِﻧِّﻲ ﺧَﺎﻟِﻖٌ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ
অর্থ : “যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেস্তাগণকে বললেন,
আমি মাটির মানুষ সৃষ্টি করবো।” (সূরা ছোয়াদ : ৭১)
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ১৪১ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ আছে,
( ﺇِﻧِّﻲ ﺧَﺎﻟِﻖٌ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(নিশ্চয়ই আমি সৃষ্টি করবো মাটি থেকে বাশার) অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৪র্থ
খণ্ডের ৪৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺇِﻧِّﻲ ﺧَﺎﻟِﻖٌ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “নিশ্চয়ই আমি মাটি থেকে “বাশার” অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করবো।”
“তাফসীরে ক্বাদেরী”-এর ২য় খণ্ডের ৩২৩ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
” ﺇِﻧِّﻲ ﺧَﺎﻟِﻖٌ” ﻣﯿﮟ ﭘﯿﺪﺍ ﮐﺮﻧﮯ ﻭﺍﻻﻫﻮ ” ﺑَﺸَﺮًﺍ ” ﺑﺸﺮ ﻛﻮ “ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ ”
ﻣﭩﯽ ﺳﮯ
অর্থ : “নিশ্চয়ই আমি মাটি থেকে “বাশার” সৃষ্টি করবো।
এখানে “বাশার” দ্বারা উদ্দেশ্যে হলো- হযরত আদম
আলাইহিস সালাম তিনি।”
(১২)
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻣِّﻦْ ﺣَﻤَﺈٍ ﻣَّﺴْﻨُﻮﻥٍ
অর্থ : “আমি মানুষকে পচা কাঁদা থেকে তৈরী শুকনো ঠন
ঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি।” (সূরা হিজর : ২৬)
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ২য় খণ্ডের ২১৮ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻣِّﻦْ ﺣَﻤَﺈٍ ﻣَّﺴْﻨُﻮﻥٍ ) ﺍﻯ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ
ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি ইনসান অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে ঠনঠনে শুকনো মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য়
খণ্ডের ৯৪ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻓﻰ ﻗﻮﻝ ﺟﻤﻴﻊ
ﺍﻟﻤﻔﺴﺮﻳﻦ .…… “ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ” ﻳﻌﻨﻰ ﻣﻦ ﺍﻟﻄﻴﻦ ﺍﻟﻴﺎﺑﺲ .
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে ঠনঠনে শুকনো মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছি। এটা সকল মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
উনাদের ক্বওল।”
আল্লামা ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ৯৪ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ) ﺍﻯ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ )
ﻃﻴﻦ ﻳﺎﺑﺲ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি ইনসানকে অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে শুকনো মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর ৫ম খণ্ডের ২১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ )
ﺍﻯ ﻃﻴﻦ ﻳﺎﺑﺲ ﻋﻦ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻭﻏﻴﺮﻩ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি শুকনো মাটি
থেকে। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ও
অন্যান্য মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের
থেকে এরূপ ব্যাখ্যাই বর্ণিত হয়েছে।”
“তাফসীরে ক্বাদেরী”-এর ১ম খণ্ডের ৫০০ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ আছে,
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ- ﺍﻭﺭ ﮨﮯ ﺷﺒﻪ ﻛﻴﺎ ﻫﻤﻨﮯ ﺍﻻﻧﺴﺎﻥ ﺍﻧﺴﺎﻥ ﻛﻮ ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ
ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻛﻮ “ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ” ﺧﺸﻚ ﻣﭩﻰ ﺳﮯ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি ইনসানকে অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি শুকনো মাটি থেকে।”
(১৩)
ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻛَﺎﻟْﻔَﺨَّﺎﺭِ
অর্থ : “তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায়
শুকনো মাটি দ্বারা।” (সূরা আর রহমান : ১৪)
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ৩০৬ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ) ﻳﻌﻨﻰ
ﺍﻟﻄﻴﻦ ﺍﻟﻴﺎﺑﺲ
অর্থ : “(তিনি ইনসান) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে
সৃষ্টি করেছেন (ছালছাল) অর্থাৎ শুকনো মাটি থেকে।”
আল্লামা ছানাউল্লাহ্ পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ৯ম খণ্ডের ১৪৮ পৃষ্ঠায় লিখেন,
“ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ” ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ “ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ” ﺍﻯ
ﻃﻴﻦ ﻳﺎﺑﺲ
অর্থ : “তিনি ইনসানকে অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে “ছালছাল” অর্থাৎ শুকনো মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছেন।”
(১৪)
ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ﻭَﻓِﻴﻬَﺎ ﻧُﻌِﻴﺪُﻛُﻢْ ﻭَﻣِﻨْﻬَﺎ ﻧُﺨْﺮِﺟُﻜُﻢْ ﺗَﺎﺭَﺓً ﺃُﺧْﺮَﻯ
অর্থ : “মাটি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি। তাতেই
তোমাদেরকে ফিরাবো এবং তা থেকে পুনরায়
উঠাবো।” (সূরা ত্ব-হা : ৫৫)
আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল বয়ান”-এর ৫ম খণ্ডের ৩৯৬ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ) ﺍﻯ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ ( ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ) ﺑﻮﺍﺳﻄﺔ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﺍﻻﻓﻤﻦ ﻋﺪﺍ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻭ ﺣﻀﺮﺕ ﺣﻮﺍﺀ ﻋﻠﻴﻬﻤﺎ ﺍﻟﺴﻼﻡ
ﻣﺨﻠﻮﻕ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻄﻔﺔ
অর্থ : “(তা থেকে) অর্থাৎ যমীন থেকে
(তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি) তোমাদের মূল হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করার মাধ্যমে। আর হযরত আদম
আলাইহিস সালাম ও হযরত হাওয়া আলাইহিস সালাম উনারা ব্যতীত
সকলেই ‘নুতফা’ থেকে সৃষ্ট।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য়
খণ্ডের ২৪০ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ) ﺍﻯ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তোমাদেরকে তা থেকে) অর্থাৎ যমীন
থেকে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা আবুল ফাররা আল বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ২৪০ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ) ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ (ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ) ﺍﻯ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : (তা থেকে) অর্থাৎ যমীন থেকে
(তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ তোমাদের পিতা
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ২য় খণ্ডের ৩৪৬ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﺧﻠﻘﻨﺎﻩ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ ( ﻓِﻴﻬَﺎ ﻧُﻌِﻴﺪُﻛُﻢْ ) ﺍﻯ ﺑﻌﺪ
ﻣﻮﺗﻜﻢ ( ﻭَﻣِﻨْﻬَﺎ ﻧُﺨْﺮِﺟُﻜُﻢْ ) ﻳﻌﻨﻰ ﻧﻌﻴﻜﻢ ﻭﻧﺨﺮ ﺟﻜﻢ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ (ﺗَﺎﺭَﺓً
ﺃُﺧْﺮَﻯ)
অর্থ : (তা থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ
আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছি। (সেখানেই প্রত্যাবর্তন করবে) মৃত্যুর পর (সেখান
থেকে) তোমাদের পুনরায় উঠানো হবে, অর্থাৎ জীবিত
করা হবে।”
আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর ৬ষ্ঠ খণ্ডের ২১০ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻻﻧﻪ ﺧﻠﻖ ﻣﻦ
ﺍﻻﺭﺽ ﻗﺎﻟﻪ ﺍﺑﻮ ﺍﺳﺤﺎﻕ ﺍﻟﺰﺟﺎﺝ ﻭﻏﻴﺮﻩ
অর্থ : “(তা থেকে তোমাদেরকে) অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। কেননা
হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি মাটি থেকে সৃষ্ট।”
আল্লামা আলুসী বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল মায়ানী”-এর ৯ম খণ্ডের ২০৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ) ﺍﻯ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ ( ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ) ﺍﻯ ﻓﻰ ﺿﻤﻦ ﺧﻠﻖ ﺍﺑﻴﻜﻢ ﺣﻀﺮﺕ
ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻨﻬﺎ
অর্থ : “(তা থেকে) অর্থাৎ মাটি থেকে (তোমাদেরকে)
অর্থাৎ তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে
সৃষ্টি করার মাধ্যমে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি।”
সূরা ত্ব-হা-এর উক্ত আয়াত শরীফ ও তার তাফসীর দ্বারাও
প্রমাণিত হলো যে, শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম সরাসরি
মাটির তৈরী। আর কোন মানুষই মাটির তৈরী নয়।
উপরোক্ত বিস্তারিত ও দলীল ভিত্তিক আলোচনা দ্বারা
সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, যারা বলে থাকে, “কুরআন
শরীফের বহুস্থানে বলা হয়েছে সকল মানুষ মাটির তৈরী।
তাই সকল মানুষ মাটির তৈরী” তাদের একথা সম্পূর্ণই ভুল। কারণ
বিশ্বখ্যাত ও অনুসরণীয় মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি
আলাইহিম উনাদের সর্বসম্মত অভিমত হলো- “কুরআন
শরীফের যেসব আয়াত শরীফ-এ ‘মানুষ’ মাটির তৈরী বলা
হয়েছে” সেসব আয়াত শরীফ-এ উল্লিখিত “মানুষ” দ্বারা
উদ্দেশ্যে হলো “হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি।” কারণ
শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই মহান আল্লাহ পাক
তিনি সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। বিশ্ববিখ্যাত
“তাফসীরগ্রন্থ” সমূহের বর্ণনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়। সাথে
সাথে এটাও প্রমাণিত হলো যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম
তিনি ব্যতীত অন্য কেউ সরাসরি মাটি থেকে তৈরী নয়, বরং
মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতে তৈরী। অর্থাৎ মহান আল্লাহ্ পাক
উনার কুদরতে প্রত্যেকেই তার মা-এর রেহেম শরীফে
কুদরতীভাবে তৈরী।
আর সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন,
ﺫَﻟِﻚَ ﻋَﺎﻟِﻢُ ﺍﻟْﻐَﻴْﺐِ ﻭَﺍﻟﺸَّﻬَﺎﺩَﺓِ ﺍﻟْﻌَﺰِﻳﺰُ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢُ . ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃَﺣْﺴَﻦَ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲْﺀٍ
ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ. ﺛُﻢَّ ﺟَﻌَﻞَ ﻧَﺴْﻠَﻪُ ﻣِﻦ ﺳُﻠَﺎﻟَﺔٍ ﻣِّﻦ
ﻣَّﺎﺀ ﻣَّﻬِﻴﻦٍ .
অর্থ : “তিনিই দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, পরাক্রমশালী, পরম
দয়ালু যিনি উনার প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং
কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তিনি (মহান
আল্লাহ পাক) উনার বংশধর সৃষ্টি করেন সম্মানিত পানির নির্যাস
থেকে।” (সূরা সাজদা : ৬, ৭, ৮)
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤَﺎﺀ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻓَﺠَﻌَﻠَﻪُ ﻧَﺴَﺒًﺎ ﻭَﺻِﻬْﺮًﺍ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻗَﺪِﻳﺮًﺍ .
অর্থ : “তিনি পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন মানবকে অতঃপর
তাকে রক্তগত, বংশ ও বৈবাহিক সম্পর্কশীল করেছেন।
আপনার পালনকর্তা তিনি সবকিছু করতে সক্ষম।” (সূরা ফুরক্বান :
৫৪)
ﺃَﻟَﻢْ ﻧَﺨْﻠُﻘﻜُّﻢ ﻣِّﻦ ﻣَّﺎﺀ ﻣَّﻬِﻴﻦٍ .
অর্থ : “আমি কি তোমাদেরকে সম্মানিত পানি হতে সৃষ্টি
করিনি।” (সূরা মুরসালাত : ২০)
ﻓَﻠْﻴَﻨﻈُﺮِ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥُ ﻣِﻢَّ ﺧُﻠِﻖَ. ﺧُﻠِﻖَ ﻣِﻦ ﻣَّﺎﺀ ﺩَﺍﻓِﻖٍ .
অর্থ : “অতএব, মানুষের দেখা উচিত, সে কি বস্তু হতে সৃষ্টি
হয়েছে। সে সৃষ্টি হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি
থেকে।” (সূরা ত্বারিক্ব : ৫, ৬)
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳُﺼَﻮِّﺭُﻛُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺣَﺎﻡِ ﻛَﻴْﻒَ ﻳَﺸَﺎﺀ .
অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করে
থাকেন মায়ের রেহেম শরীফে যেভাবে ইচ্ছা।” (সূরা
আলে ইমরান : ৬)
অতএব প্রমাণিত হলো যে, সমস্ত মানুষ কুদরতীভাবে মা-এর
রেহেম শরীফে সৃষ্টি হয়ে থাকেন। কেউই সরাসরি মাটি
থেকে সৃষ্টি হননা। যারা বলে, ‘সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি হয়’
তাদের বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে কুরআন শরীফ-সুন্নাহ শরীফ-
এর খিলাফ যা তাফসীর বির রায় হওয়ার কারণে সম্পূর্ণরূপে
কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
কোন মুসলমান কুফরী করলে সে কাফির ও মুরতাদ হয়ে
যায়। শরীয়তে মুরতাদের হুকুম ও ফায়সালা হচ্ছে, “মুরতাদের
স্ত্রী তালাক হয় যদি সে বিবাহিত হয়ে থাকে, হজ্জ বাতিল হয়
যদি সে হজ্জ করে থাকে; এবং সে কাফির হয়। অর্থাৎ তার
সমস্ত নেক আমল বিনষ্ট হয়ে যায়, তওবা না করা পর্যন্ত সে
ঈমানদার হবেনা। বিবাহ না দোহরালে স্ত্রীর সাথে সংসার করা
যাবেনা। যদি সংসার করে তবে যিনাকারীর গুনাহ্ হবে। সন্তান
হলে তা হালাল হবেনা। যদি হজ্জের সামর্থ থাকে তবে
পুনরায় তাকে হজ্জ করতে হবে, যদিও সে পূর্বে হজ্জ
করে থাকে। তা না করলে কবীরা গুনাহ্ হবে। তার
ওয়ারিশসত্ত্ব বাতিল হয়ে যাবে। তাকে তিন দিন সময় দেয়া
হবে তওবা করার জন্য। যদি তওবা করে, তবে ক্ষমা করা
হবে। অন্যথায় তার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড।
কেননা হাদীছ শরীফে রয়েছে, “তিন কারণে মৃত্যুদন্ড
দেয়া জায়িয। যথা-
(ক) ঈমান আনার পর কুফরী করলে অর্থাৎ মুরতাদ হলে।
(খ) ঐ যিনাকার বা যিনাকারিনী, যারা বিবাহিত বা বিবাহিতা।
(গ) যে অন্যায়ভাবে কাউকে কতল করে।” (তিরমিযী, নাসাঈ,
ইবনে মাজাহ্, মুসনদে শাফিয়ী, মুসনদে বাজ্জার, মুস্তাদরিকে
হাকিম)
উল্লেখ্য, মুরতাদ মারা যাবার পর যারা এদের জানাযার নামায পড়ে
বা পড়ায় বা জানাযার নামাযে সাহায্য-সহযোগিতা করে, তাদের
সকলের উপরই মুরতাদের হুকুম বর্তাবে এবং এ সমস্ত মুরতাদ
মরলে বা নিহত হলে তাকে মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন
করা যাবে না। এমনকি মুসলমানের ন্যায়ও দাফন করা যাবে না। বরং
তাকে কুকুরের ন্যায় একটি গর্তের মধ্যে পুঁতে রাখতে
হবে।

Advertisements

হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা হযরত তারাহ বা তারিখ আলাইহিস সালাম৷

nkjgbnhfkgg

nkjgbnhfkgg

মুসলমানদের সবচাইতে বড় শত্রু হচ্ছে কাফির
মুশরিকরা। তারা সবসময় চায় মুসলমান দের ঈমানহারা
করে দেয়ার জন্য। এজন্য তারা বিভিন্ন ধরনের
ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে ।
আজ এমনই একটা ষড়যন্ত্রের কথা আমি উল্লেখ করবো।
বর্তমান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,
ঢাকা-২০১৩ কতৃক নির্ধারিত ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ” ইসলাম ও
নৈতিকতা শিক্ষা” বইয়ের ২য় পৃষ্ঠায় তাওহীদে
বিশ্বাসে উদাহরণ দিতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, মহান
আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত ইব্রাহিম
আলাইহিস সালাম তিনি এক মূর্তি পুজক পরিবারে
জন্মগ্রহণ করেন এবং উনার পিতা ছিলেন মন্দিরের
পুরোহিত।”
নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক !!
এবং বাংলাদেশের অনেক কুরআন শরীফ উনার
অনুবাদে সূরা আনআম ৭৪ আয়াতের অর্থও ইব্রাহিম
আলাইহিস সালাম উনার পিতাকে মূর্তিপুজক বলা
হয়েছে । মীনা প্রকাশনির অনুবাদ দ্রষ্টব্য।
এগুলো বিধর্মী দের সুক্ষ ষড়যন্ত্র, তারা কৌশলে
পাঠ্যপুস্তকে এটা ঢুকিয়ে দিচ্ছে যাতে কোমলমতি
একটা শিশু কুফরি আক্বীদা নিয়ে বড় হয় এবং সাধারণ
মানুষ কুরআন শরীফের ভুল অনুবাদ পড়ে ঈমানহারা হয়ে
যায়।
এ কুফরি মতবাদ প্রচার করার জন্য বিধর্মী দের পা
চাটা কুত্তা দেওবন্দী/জামাতি/সালাফিরা কাজ
করছে।
এবার আসুন আমরা অকাট্য দলীল প্রমানের মাধ্যমে
দেখি সূরা আনআম ৭৪ আয়াতের তাফসীরে কি আছে
এবং ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতা কে
ছিলেন।
মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন–
ﻭﺍﺫ ﻗﺎﻝ ﺍﺑﺮﻫﻴﻢ ﻻﺑﻴﻪ ﺍﺯﺭ ﺍﺗﺘﺨﺬ ﺍﺻﻨﺎﻣﺎ ﺍﻟﻬﺔ
অর্থ: আর যখন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম উনার
” আবীহি” ( চাচা) আযরকে বললেন, আপনি কি
মূর্তিকে ইলাহ বা মা’বুদ হিসাবে গ্রহণ করেছেন?”
( সূরা আনআম ৭৪)
উক্ত আয়াত শরীফে ﺍﺑﻴﻪ এর ﺍﺏ (আবুন) শব্দ মুবারকের
শাব্দিক অর্থ পিতা গ্রহণ করে ধর্মব্যবসায়ী দেওবন্দী
খারেজীরা বলছে – আযর ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম
উনার পিতা । নাউযুবিল্লাহ !!
কিন্তু সকল ইমাম মুস্তাহিদ এবং মুফাসসিরানে
কিরানহন উনারা একমত, উক্ত আয়াত শরীফে ﺍﺑﻴﻪ শব্দ
মুবারকের অর্থ হচ্ছে ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম
উনার চাচা ।
যেটা কিতাবে বর্নিত আছে–
ﻭﺍﻟﻌﺮﺏ ﻳﻄﻠﻘﻮﻥ ﺍﻻﺏ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﻌﻢ
অর্থ: আরববাসীরা ﺍﻻﺏ (আল আবু) শব্দটি চাচার
ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেন।”
দলীল-
√ তাফসীরে কবীর লিল ইমাম ফখরুদ্দিন রাযী
রহমাতুল্লাহি আলাইহি ১৩ তম খন্ড ৩৮পৃষ্ঠা।
√ তাফসীরে মাযাহারী ৩য় খন্ড ২৫৬ পৃষ্ঠা ।
অর্থাৎ উক্ত আয়াত শরীফে “আবুন” শব্দ মুবারক উনার
অর্থ পিতা না হয়ে চাচা হবে । কারন পবিত্র কুরআন
শরীফ এবং হাদীস শরীফ উনার অনেক জায়গায় “আবুন”
পিতা না হয়ে অন্য অর্থে যেমম – চাচা, দাদা
ইত্যাদি অর্থে ব্যবহার হয়েছে ।
এবার আসুন আমরা বিশুদ্ধ সনদ সহকারে একাধিক
তাফসীর শরীফের মাধ্যমে সূরা আনআম ৭৪ নং আয়াত
শরীফের তাফসীর বর্ননা উল্লেখ করি –
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺣﻤﻴﺪ ﻭ ﺳﻔﻴﺎﻥ ﺍﺑﻦ ﻭﻛﻴﻊ ﻗﺎﻻ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺟﺮﻳﺮ ﻋﻦ ﻟﻴﺚ
ﻋﻦ ﻣﺠﺎﻫﺪ ﻗﺎﻝ ﻟﻴﺲ ﺍﺯﺭ ﺍﺑﺎ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ
অর্থ : হযরত আবু জাফর মুহম্মদ বিন জারীর ত্বাবারী
রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন- আমাদের কাছে পবিত্র
হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত মুহম্মদ বিন
হুমায়িদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত সুফিয়ান বিন
ওয়াকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি । উনারা দু’জন বলেন,
আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত
জারীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত লাইছ
রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত মুজাহিদ
রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে । তিনি বলেন- হযরত
ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতা আযর ছিলো
না ।”
দলীল-
√ জামিউল বয়ান ফী তফসীরিল কুরআন ( তাফসীরুত
ত্বাবারী) ৫ম খন্ড ১৫৮ পৃষ্ঠা ।
ওফাত: ৩১০ হিজরী।
প্রকাশনা: দারুল মা’রিফা বইরুত লেবানন।
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺍﻟﺤﺴﻴﻦ ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﺣﻤﺪ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻤﻔﻀﻞ ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ
ﺍﺳﺒﺎﻁ ﻋﻦ ﺍﻟﺴﺪﻱ ﻗﺎﻝ ﻭﺍﺫ ﻗﺎﻝ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻻﺑﻴﻪ ﺍﺯﺭ ﻗﺎﻝ ﺍﺳﻢ ﺍﺑﻴﻪ
ﻭﻳﻘﺎﻝ ﻻ ﺑﻞ ﺍﺳﻤﻪ ﺗﺎﺭﺡ ﻭﺍﺳﻤﺎ ﺍﻟﺼﻨﻢ ﺍﺯﺭ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﺗﺘﺨﺬ ﺍﺯﺭ ﺍﺻﻨﺎﻣﺎ
ﺍﻟﻬﺔ
অর্থ: হযরত ইমাম জারীর ত্ববারী রহমাতুল্লাহি
আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের কাছে পবিত্র হাদীস
শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত মুহম্মদ বিন হুসাইন
রহমাতুল্লাহি আলাইহি । তিনি বলেন আমাদের কাছে
হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত আহমদ বিন
মুফাদ্দাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন
আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেন হযরত
আসবাত রহমাতুল্লাহি আলাইহি , হযরত সুদ্দি
রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে । তিনি ﻭﺍﺫ ﻗﺎﻝ
ﺍﺑﺮﻫﻴﻢ ﻻﺑﻴﻪ ﺍﺯﺭ এই আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে বলেন,
পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আব আযরকে বলা
হয়েছে । কিন্তু ফয়সালা এটাই যে, বরং উনার পিতার
নাম ছিলো ” তারাহ” আলাইহিস সালাম। আর আযর
ছিলো একটি মূর্তির নাম।”
দলীল-
√ তাফসীরুত ত্বাবারী ৫ম খন্ড ১৫৮ পৃষ্ঠা।
ﻭﻓﻲ ﻛﺘﺐ ﺍﻟﺘﻮﺍﺭﺑﺦ ﺍﻥ ﺍﺳﻤﻪ ﺑﺎﻟﺴﺮﻳﺎﻧﻴﺔ ﺗﺎﺭﺡ
অর্থ: তাওয়ারীখ (ইতিহাস) গ্রন্থে বর্ননিত আছে যে,
নিশ্চয়ই ‘সুরইয়ানী’ ভাষায় হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস
সালাম উনার পিতার নাম মুবারক ছিলো ‘তারাহ’ ।”
দলীল-
√ আল কাশশাফ আন হাক্বায়িকিত তানযীল ওয়া
উয়ূনীল আক্বাবীল ফী উজুহীত তা’বীল ২য় খন্ড ২৩
পৃষ্ঠা ।
( ৪৬৬ হিজরী- ৫৩৮ হিজরী)
প্রকাশনা- দারুল মা’রিফাহ বইরূত, লেবানন।
ﻭﻓﻲ ﻛﺘﺐ ﺍﻟﺘﻮﺍﺭﻳﺦ ﺍﻥ ﺍﺳﻤﻪ ﺗﺎﺭﺡ
অর্থ: তাওয়ারীখ তথা সকল ইতিহাসের গ্রন্থ সমূহে
উল্লেখ আছে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার
পিতার নাম ‘তারাহ’ ছিলো।”
দলীল-
√ তাফসীরে বাইদ্বাবী ১ম খন্ড ৩০৭ পৃষ্ঠা ।
প্রকাশনা- দারুল কুতুবিল ইলমিয়া, বইরূত লেবানন।
ﻗﺎﻝ ﺍﺯﺟﺎﺝ ﻻ ﺧﻼﻑ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻨﺴﺎﺑﻴﻦ ﻓﻲ ﺍﻥ ﺍﺳﻤﻪ ﺗﺎﺭﺡ ﺻﺢ ﺑﺎﻟﺤﺎﺀ
ﺍﻟﻤﻬﻤﻠﺔ ﺳﻤﺎﻋﺎ
অর্থ: হযরত যুজাজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি
বলেন- বংশতত্ববিদ ঐতিহাসিকগনের এ ব্যাপারে
কোনই দ্বিমত নাই যে, হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস
সালাম উনার পিতার নাম ছিলো ‘তারাহ’ আলাইহিস
সালাম। সিমায়ী ( শ্রুত) নিয়মে নুকতাবিহীন ‘হা’
হওয়াই সহীহ মত। যিনি মূর্তিপুজক ছিলেন না। ”
দলীল-
√ হাশিয়াতুশ শায়েখ যাদাহ ২য় খন্ড ১৭৮ পৃষ্ঠা ।
প্রকাশনা- দারু ইহইয়ায়িত তুরাছিল আরাবী বইরূত
লেবানন।
আরো বর্নিত আছে–
ﺍﺧﺮﺝ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻲ ﺷﻴﺒﺔ ﻭ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺣﻤﻴﺪ ﻭ ﺍﺑﻦ ﺟﺮﻳﺮ ﻭ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻤﻨﺬﺭ
ﻭ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻲ ﺣﺎﺗﻢ ﻋﻦ ﻋﻦ ﻣﺠﺎﻫﺪ ﻗﺎﻝ ﺍﺯﺭ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺑﺎﺑﻴﻪ ﻟﻜﻨﻪ ﺍﺳﻢ
ﺻﻨﻢ
অর্থ : হযরত ইবনে আবী শয়বা রহমাতুল্লাহি আলাইহি ,
হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি,
হযরত ইবনু জারীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি , হযরত ইবনে
মুনজির রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও ইবনে আবী হাতিম
রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনারা সকলেই হযরত মুজাহিদ
রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ননা করেছেন।
তিনি বলেন, আযর হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম
উনার পিতা ছিলো না। বরং আযর ছিলো একটি
মূর্তির ( বা মূর্তিপুজকের ) নাম।”
দলীল-
√ আদ দুররুল মানছুর লিল জালাসুদ্দীন সূয়ুতি
রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৩য় খন্ড ২৩ পৃষ্ঠা ।
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻔﺮﺍﺀ ﻭ ﺍﻟﺰﺟﺎﺝ ﺍﺳﻢ ﺍﺑﻴﻪ ﺗﺎﺭﺥ ﺍﺟﻤﻊ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﻨﺴﺎﺑﻮﻥ
অর্থ: হযরত ফাররা ও জুজাজ রহমাতুল্লাহি আলাইহিম
উনারা বলেন, হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার
পিতার নাম মুবারক ছিলো হযরত তারাখ আলাইহিস
সালাম। এ বিষয়ে সকল বংশতত্ববিদ ঐতিহাসিক
উনারা ইজমা করেছেন।”
দলীল-
√ তাফসীরুল কুরআন লিস সাময়ানী ২য় খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠা ।
প্রকাশনা- দারুল ওয়াতান, রিয়াদ।
ﺍﻥ ﻭﺍﻟﺪ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻣﺸﺮﻛﺎ ﻭﺛﺒﺖ ﺍﻥ ﺍﺯﺭ ﻛﺎﻥ
ﻣﺸﺮﻛﺎ ﻓﻮﺟﺐ ﺍﻟﻄﻊ ﺑﺎﻥ ﻭﺍﻟﺪ ﺍﺑﺮﻫﻴﻢ ﻛﺎﻥ ﺍﻧﺴﺎﻧﺎ ﺍﺧﺮ ﻏﻴﺮ ﺍﺯﺭ
অর্থ: নিশ্চয়ই হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার
পিতা মুশরিক ছিলেন না। বরং আযর (উনার চাচা)
মুশরিক ছিলো। কেননা অকাট্যভাবে প্রমানিত যে,
নিশ্চয়ই হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতা
আযর নয়। বরং অন্য একজন অর্থাৎ তারাখ আলাইহিস
সালাম।”
দলীল-
√ তাফসীরে কবীর ১৩ তম খন্ড ৩৯ পৃষ্ঠা ।
ﻟﻴﺲ ﺍﺯﺭ ﺍﺑﺎ ﻻﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺍﻧﻤﺎ ﻫﻮ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺑﻦ ﺗﺎﺭﺥ
অর্থ: আযর হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার
পিতা নয়। বরং নিশ্চয়ই তিনি হলেন তারাখ
আলাইহিস সালাম উনার সুযোগ্য সন্তান।”
দলীল-
√ তাফসীরে মাযহারী ৩য় খন্ড ২৫৬ পৃষ্ঠা ।
ﺍﻥ ﺍﺑﺎ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺍﺳﻤﻪ ﺍﺯﺭ ﻭﺍﻧﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﺍﺳﻤﻪ ﺗﺎﺭﺥ
অর্থ: নিশ্চয়ই ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার
পিতার নাম আযর নয়। বরং উনার পিতার নাম মুবারক
হলো হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম।’
দলীল-
√ তাফসীরু ইবনে কাছীর ২য় খন্ড ২৪০ পৃষ্ঠা ।
প্রকাশনা- দারুল ফিকর, বইরুত লেবানন।
শুধু তাই নয়, এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফ বর্ননা করা
হয়েছে বিশুদ্ধ সনদে।
হদীস শরীফে বর্নিত আছে-
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﺑﻮ ﺯﺭﻋﺔ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻣﻨﺠﺎﺏ ﺍﺧﺒﺮﻧﺎ ﺑﺸﺮ ﺑﻦ ﻋﻤﺎﺭﺓ ﻋﻦ ﺍﺑﻲ ﺭﻭﻕ
ﻋﻦ ﺍﻟﻀﺤﺎﻙ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻗﺎﻝ ﺍﻥ ﺍﺑﺎ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺍﺳﻤﻪ ﺍﺯﺭ
ﺍﻧﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﺍﺳﻤﻪ ﺗﺎﺭﺡ
অর্থ : হযরত আবী হাতিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি
তিনি বলেন,আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা
করেছেন হযরত আবু যুরয়াহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা
করেছেন হযরত মিনজাব রহমাতুল্লাহি আলাইহি।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে হযরত বিশর বিন
আম্মারাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি হযরত আবূ রাওক্ব
রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে, তিনি হযরত
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার
থেকে খবর দিয়েছেন। তিনি বলেন, হযরত ইব্রাহিম
আলাইহিস সালাম উনার পিতা উনার নাম কখনোই
আযর ছিলো না। নিশ্চয়ই উনার পিতার নাম ছিলো
হযরত তারাহ আলাইহিস সালাম।”
দলীল-
√ তাফসীরু ইবনে আবী হাতিম ৪র্থ খন্ড ১৩২৫ পৃষ্ঠা ।
প্রকাশনা: মাকতাবাহ নাযার মুছতফা বায, মক্কাতুল
মুকাররামা, রিয়াদ, সৌদি আরব।
কাজেই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনার পূর্ব পুরুষ যার ছিলেন বা তিনি যাঁদের মাধ্যমে
যমীনে তাশরীফ এনেছেন অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে হযরত আব্দুল্লাহ
যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম পর্যন্ত উনারা ছিলেন
পূর্ন পরহেযগার,মুত্তাক্বী,এবং সর্বোচ্চ ধার্মিক ।
যেটা হাদীস শরীফে বর্নিত আছে-
হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ
মুবারক করেন-
ﻟﻢ ﺍﺯﻝ ﺍﻧﻘﻞ ﻣﻦ ﺍﺻﻼﺏ ﺍﻟﻄﺎﻫﺮﻳﻦ ﺍﻟﻲ ﺍﺭﺣﺎﻡ ﺍﻟﻄﺎﻫﺮﺍﺕ
অর্থ: আমি সর্বদা পূত-পবিত্র নারী ও পুরুষ উনাদের
মাধ্যমেই স্থানান্তরিত হয়েছি।”
দলীল-
√ তাফসীরে কবীর ১৩ তম খন্ড ৩৯ পৃষ্ঠা।
এ প্রসঙ্গে আরো ইরশাদ হয়-
ﺍﻥ ﺟﻤﻴﻊ ﺍﺑﺎﺀ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻣﺴﻠﻤﻴﻦ ﻭ ﺣﻲﺀﺫ
ﻳﺠﺐ ﺍﻟﻘﻄﻊ ﺑﺎﻥ ﻭﺍﻟﺪ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻛﺎﻥ ﻣﺴﻠﻤﺎ
অর্থ: নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষ উনারা সকলেই
পরিপূর্ণ মুসলমান ছিলেন। এ থেকে অকাট্য ভাবে
প্রমানিত হয় যে, নিশ্চয়ই ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম
উনার পিতা মুসলমান ছিলেন। ”
দলীল-
√ তাফসীরে কবীর ১৩/৩৮
এ প্রসঙ্গে স্বয়ং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম ইরশাদ করেন–
ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﻓﺠﻌﻠﻨﻲ ﻓﻲ ﺧﻴﺮﻫﻢ ﺛﻢ ﺟﻌﻠﻬﻢ ﻓﺮﻗﺘﻴﻦ
ﻓﺠﻌﻠﻨﻲ ﻓﻲ ﺧﻴﺮﻫﻢ ﻓﺮﻗﺔ ﺛﻢ ﺟﻌﻠﻬﻢ ﻗﺒﺎﺀﻝ ﻓﺠﻌﻠﻨﻲ ﻓﻲ ﺧﻴﺮﻫﻢ
ﻗﺒﻴﻠﺔ ﺛﻢ ﺟﻌﻠﻬﻢ ﺑﻴﻮﺗﺎ ﻓﺠﻌﻠﻨﻲ ﻓﻲ ﺧﻴﺮﻫﻢ ﺑﻴﺖ ﻓﺄﻧﺎ ﺧﻴﺮﻛﻢ ﺑﻴﺘﺎ ﻭ
ﺧﻴﺮﻛﻢ ﻧﻔﺴﺎ
অর্থ: আল্লাহ পাক তামাম মাখলুক সৃষ্টি করে আমাকে
সর্বোত্তম সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এরপর তাদের
দুই ভাগে বিভক্ত করে আমাকে উত্তম ভাগে
রেখেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম
গোত্রে পাঠিয়েছেন। এবং সে গোত্রকে বিভিন্ন
পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম
পরিবারে প্রেরন করেছেন। সূতরাং আমি ব্যক্তি ও
বংশের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ।”
দলীল-
√ তিরমীযি শরীফ ২য় খন্ড ২০১ পৃষ্ঠা । হাদীস শরীফ
৩৬০৮ ।
√ মুসনাদে আহমদ ১ম খন্ড ২২০ পৃষ্ঠা । হাদীস শরীফ
১৭৯১
এসকল হাদীস শরীফ উনার ব্যাখায় বলা হয়েছে–
ﻓﻼ ﻳﻤﻜﻦ ﺍﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﻛﺎﻓﺮﺍ ﻓﻲ ﺳﻠﺴﻠﺔ ﺍﺏﺀﻩ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ
অর্থ: হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনার পূর্ব পুরুষ উনাদের সিলসিলার মধ্যে কেউই
কাফির হওয়া সম্ভব নয়। ”
দলীল-
√ তাফসীরে মাজাহারি ৪/৩০৮
সুতরাং অকাট্যভাবে প্রমানিত হলো হুজুর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নসব
শরীফ যে সিলসিলা মুবারক রয়েছে সেখানে কারো
অমুসলিম হওয়া কল্পনা করারও সুযোগ নাই। যদি কেউ
কল্পনাও করে সে কাফির হয়ে যাবে । আর হযরত
ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন সম্মানিত
পূর্ব পুরুষ, আর উনার পিতা মুশরিক ছিলো এটা বলাতো
দূরের কথা চিন্তা করলেও সে কাট্টা কাফির হয়ে
যাবে।
শুধু তাই নয়, কোন নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম
উনাদের বংশের সিলসিলায় কারো ঈমামহীন হওয়া
সম্ভব নয়।
সূতরাং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি
এবং সকল কুরআন শরীফ এবং পুস্তক অনুবাদকদের দৃষ্টি
আকর্ষণ করছি অবিলম্বে পাঠ্যপুস্তক থেকে এবং
কুরআন শরীফ থেকে উক্ত ভুল ব্যাখ্যা প্রত্যাহার করুন।
অন্যথায় এত মানুষকে ঈমান হারা করার অপরাধে কাল
কিয়ামতের ময়দানে কঠিন পাকরাও হতে হবে

পুরুষদের জন্য মাথায় বাবরী চুল রাখা খাছ সুন্নত ॥

 madina shareef.jpg 1
পবিত্র হজ্জ ও পবিত্র উমরাহ ব্যতীত মাথা মুণ্ডন করা
পবিত্র সুন্নত উনার খিলাফ

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ইতায়াত করো
এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার ইতায়াত করো এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলিল
আমর রয়েছেন উনাদের ইতায়াত করো।” (পবিত্র সূরা আন
নিসা শরীফ : পবিত্র আয়াত মুবারক ৫৯)
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বদাই পবিত্র বাবরী চুল মুবারক
রাখতেন। আর পবিত্র বাবরী চুল মুবারক রাখাই দায়িমী সুন্নত
উনার অন্তর্ভুক্ত। আর চুল ছোট রাখা হযরত আলী
কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত,
যাকে সুন্নতে ছাহাবা বলা হয়। চুল মু-ন করার ক্ষেত্রে নূরে
মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনার পবিত্র সুন্নত মুবারক হচ্ছে- শুধুমাত্র পবিত্র হজ্জ ও
পবিত্র ওমরাহ পালন করার সময়।
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার পবিত্র হায়াত মুবারক উনার মধ্যে
মাত্র একবার পবিত্র হজ্জ মুবারক করেছেন, আর চারবার পবিত্র
ওমরাহ মুবারক করেছেন। আর এই পবিত্র হজ্জ মুবারক ও
পবিত্র ওমরাহ মুবারক পালন করার সময়ই শুধুমাত্র তিনি উনার পবিত্র
মাথা মুবারক মু-ন মুবারক করেছেন। এছাড়া অন্যকোনো সময়
তিনি উনার পবিত্র মাথা মুবারক মু-ন মুবারক করেননি। এমনকি হযরত
খোলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে
একমাত্র হযরত আলী আলাইহিস সালাম তিনি উনার পবিত্র চুল
মুবারক সবসময় ছোট রাখতেন।
হযরত আলী আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র চুল মুবারক ছোট
রাখার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জবাব দিয়েছিলেন যে,
“মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল
মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ
মুবারক করেছেন, “গোসলের সময় একটি চুলও যদি শুকনা
থাকে, তাহলে গোসল শুদ্ধ হবে না। আর আমার মাথার চুল
মুবারক যেহেতু খুব ঘন, সেহেতু সন্দেহ থেকে বাঁচার
জন্য আমি আমার চুল মুবারক ছোট রাখি।”
উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল
মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি তিন তরীক্বা মুবারকে পবিত্র চুল মুবারক রাখতেন।
যেমন- জুম্মা, লিম্মা এবং ওফ্রা। অর্থাৎ পবিত্র কান মুবারক উনার
লতি মুবারক বরাবর, পবিত্র কান মুবারক উনার লতি মুবারক ও পবিত্র
কাঁধ মুবারক উনার মাঝামাঝি, আর পবিত্র কাঁধ মুবারক উনার কাছাকাছি
কিন্তু পবিত্র কাঁধ মুবারক স্পর্শ করেনি। এছাড়াও কখনো
কখনো হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
উনার পবিত্র কান মুবারক উনার মাঝামাঝি করেও পবিত্র চুল মুবারক
রাখতেন। যাকে আরবীতে নিছফু উযুনাইহে বলা হয়।

হক্কানী আলিমে উনাদের খুছুছিওত

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন….nur e mujassam 2

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহপাক উনাকে ভয় করেন উনার বান্দাদের মধ্যে যারা আলিম তারা।
এখন বলার বিষয় যেটা সেটা হচ্ছে যিনি আলিম হবেন তিনি অব্যশই আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করবেন। আর যে বা যারা আলিম দাবি করার পরও আল্লাহকে ভয় করবে না আল্লাহভিতী যার মধ্যে থাকবে না তারা মূলত আলিম না।
এজন্য বিখ্যাত তাবিয়ী ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেন-

انما الفقيه

নিশ্চয়ই ফক্বীহ বা আলিম আল্লাহওয়ালা যিনি হবেন উনার যে ছিফত থাকা শর্ত তা হচ্ছে-

الزاهد فى الدنيا

তিনি অবশ্যই দুনিয়া থেকে বিরাগ হবেন।

والراغب الى الاخرة

পরকালের দিকে রুজু থাকবেন সব অবস্থায়

والبصير بذنبه

গোনাহ থেকে সবসময় সতর্ক থাকবেন।

والـمداوم على عبادة ربه

দায়িমীভাবে তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত বন্দিগীতে মশগুল থাকবেন।

والوارع

তিনি মুত্তাকী হবেন সুন্নতের পাবন্দ হবেন।

والكاف عن اعراض الـمسلمين

তিনি মুসলমানদের ইজ্জত সম্মান নষ্ট করবেন না।

والعفيف عن اموالـهم

এবং মুসলমাদের মাল বা ধন দৌলত-এর প্রতি লোভ করবেন না।

والناصح لجماعتهم

এবং মুসলমানদের তিনি সবসময় নছীহত করবেন।

এটা হচ্ছে বাহ্যিক অর্থ। আর এর আভ্যান্তরিন যে একটা অর্থ রয়েছে সেটা হচ্ছে যিনি হক্কানী রব্বানী আলিম হবেন তিনি

الزاهد فى الدنيا

অর্থাৎ গাইরুল্লাহ থেকে তিনি বিরত থাকবেন

والراغب الى الاخرة

সবসময় মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি রুজু থাকবেন। যার কারণে জাহিরী এবং বাতিনী জিসমানী এবং রূহানী বাহ্যিক আভ্যান্তরিন সমস্ত গোনাহ থেকে তিনি সতর্ক থাকবেন। কোন প্রকার গোনাহতে তিনি লিপ্ত হবেন না।

والـمداوم على عبادة ربه

এবং দায়িমীভাবেই তিনি জাহিরী-বাতিনী সমস্ত ইবাদতে মশগুল থাকবেন। সেটা বাহ্যিকভাবে সম্মানিত সুন্নত উনার ইত্তিবা। আভ্যান্তরিনভাবে। ক্বল্ব এবং নফস যত বদ খাছলত রয়েছে সেগুলো থেকে ইছলাহী লাভ করার জন্য তিনি মশগুল থাকবেন

والوارع

তিনি অবশ্যই মুত্তাকী হবেন।

যা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ان اكرمكم عند الله اتقاكم

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত যিনি মুত্তাকী বা পরহেযগার অর্থাৎ যিনি সুন্নত উনার পাবন্দ তিনি।

والعفيف عن اموالهم

মুসলমানদের মাল-সম্পদ টাকা-পয়সা ধন- দৌলত ইত্যাদির প্রতি উনার কোন লোভ থাকবে না। মোহ, আকর্ষন থাকবেনা। অর্থাৎ তিনি সব অবস্থাতেই গইরুল্লাহ থেকে ফিরে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি রুজূ থাকবেন। যার কারণে তিনি নিজেও ইছলাহতে মশগুল থাকবেন এবং মানুষকে নছীহতে মশগুল রাখবেন। এটা হচ্ছে উলামায়ে হক্কানী রব্বানী উনাদের নিদর্শন। এর বিপরীতটা হচ্ছে উলামায়ে ‘সূ’দের নিদর্শন। এরা সবসময় দুনিয়াতে মশগুল থাকবে, পরকালের কথা তারা কখনও স্মরণ করবে না। আর এরা গোনাহকে কোন গুরুত্ব দিবে না। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে মুনাফিকের খাছলত হচ্ছে, সে পাহাড় পরিমান গোনাহ করলেও সে মনে করবে, সে কিছুই করেনি। নাউযূবিল্লাহ! আর ইবাদতকে সে কোন গুরুত্বই দিবে না। নাঊযুবিল্লাহ! বরং রসম-রেওয়াজ যা করার, সেটাই সে করবে। আর সুন্নত উনার পাবন্দ হওয়ার কোন প্রয়োজনই সে মনে করবে না। নাঊযুবিল্লাহ! সুন্নত উনাকে কোন গুরুত্ব দিবে না। নাঊযুবিল্লাহ! সে বলবে ফরয করলেই চলে, এতো সুন্নতের প্রয়োজন নেই। নাউযুবিল্লাহ! এবং সে সব সময়ই দুনিয়াবী ধন-দৌলত টাকা পয়সা ইত্যাদির দিকে মশগুল থাকবে এবং এসবের লোভে সে লালায়িত থাকবে। আর মুসলমানদের তো নছীহত করার প্রশ্নই আসে না বরং সে মানুষকে গইরুল্লাহর দিকে রুজূ করে দিবে। এটা হচ্ছে উলামায়ে ‘সূ’দের নিদর্শন। একদিক থেকে সে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করবে না অর্থাৎ আল্লাহভীতি বলতে যে বিষয়টি রয়েছে সেটা তার মধ্যে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকবে। আল্লাহভীতির লক্ষণ তার মধ্যে থাকবে না এবং সবসময়ই সে গইরুল্লাহতে মশগুল থাকবে। তার চাল-চলন, কথা-বার্তা, আচার-আচরন, উঠা-বসা, সবদিক থেকে অর্থাৎ কোন অবস্থাতেই সে মহান আল্লাহ পাক উনাকে স্মরণ করবে না। যেহেতু তার অন্তরে মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ থাকবে না সেহেতু সে সবসময় গুনাহতে মশগুল থাকবে। ইবাদতের সাথে তার কোন সম্পর্ক থাকবে না যদিও সে ইবাদত করে। তবে সেটা রছম রেওয়াজ

فويل للمصلين

মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন মুছল্লি জাহান্নামে যাবে। কারণ সেতো মানুষকে দেখানোর জন্য নামায পড়ে থাকে। এই শ্রেণীর ইবাদতে সে মশগুল থাকবে। আর সুন্নত বলতে যা বুঝানো হয়েছে তা তার মধ্যে থাকবে না অর্থাৎ সে সুন্নত আমল করবে না বরং যত প্রকার বিদআত-বেশরা, কুফরী-শিরকী ও হারাম রয়েছে সেগুলিকে সে হালাল করার কাজে মশগুল থাকবে। নাউযুবিল্লাহ! এবং সব অবস্থাতেই দুনিয়াবী ধন-সম্পদ গইরুল্লাহ বলতে যা বুঝানো হয় তাতেই সে মশগুল থাকবে, আর তা হাছিলের কোশেশেই সে নিয়োজিত থাকবে এবং মানুষকে সে তাই বলবে। কারণ কিতাবে রয়েছে

كل اناء يترشح بما فيه

পাত্রে আছে যাহা, ঢালিলে পড়িবে তাহা। অর্থাৎ পাত্রে যেটা রয়েছে সেটাই পড়বে।