এপ্রিল ফুল এর ইতিহাস

20160331023353

 

প্রায় ৫২৩ বছর পূর্বের কথা। স্পেনের অত্যাচারী রাজা রডরিকের দুঃশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে মুসলমান বীর তারিক বিন জিয়াদ রহমাতুল্লাহিআলাইহি মাত্র ৭০০ সৈন্য নিয়ে রডরিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে রডরিকের লক্ষাধিক সৈন্যকে পরাজিত করে মুসলিম সভ্যতার গোড়া পত্তন করেন।

এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে পরবর্তী ৮শ’ বছর মুসলমানরা আধিপত্য বিস্তার করে। মুসলমানদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই ৮শ’ বছরে স্পেনে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সভ্যতার ক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নতি লাভ করে। তার সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে গ্রানাডা, আলহামরা, টলোডো প্রভৃতি।

কিন্তু এই ৮শ’ বছরের শেষের দিকে যখন মুসলমানরা ভুলে গেল তাদের অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্য, মত্ত হয়ে গেল ভোগবিলাসে, জড়িয়ে পড়লো লোভ-লালসায়, সরে গেল কোরআন-সুন্নাহর আদর্শ থেকে তখন তারা আটকে যায় খ্রিস্টানদের কূটনৈতিক চক্রান্তে।

খ্রিস্টানদের চোখে ধরা পড়ে মুসলমানদের অনৈক্য ও দুর্বলতা। ফলে মুসলিমবিদ্বেষী নরপিশাচ রাজা ফার্দিনান্দ ভাবলো ইউরোপীয় অঞ্চল থেকে গিরজীয় পর্বতমালা অতিক্রমকারী সম্প্রদায়কে যদি উচ্ছেদ করা না যায় তাহলে রাজত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। বরং গীর্জা থেকে তাদের আজানের ধ্বণী শুনা যাবে। এটা ফার্দিনান্দের জন্য মেনে নেয়া ছিল বড়ই কষ্টকর। তাই ফার্দিনান্দ মুসলিম নিধনের জন্য তৎপর হয়ে ওঠে এবং একাজে উৎসাহী পার্শ্ববর্তী পর্তুগীজ রাণী ইসাবেলাকেবিয়ে করে উভয় মিলে একটি যৌথবাহিনী গঠন করে গ্রানাডা দখলের জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে।

তারা যখন তাদের প্রস্তুতি সম্পন্নে ব্যস্ত তখন কতিপয় নামধারী স্বার্থাম্বেষী মুসলমান তাদের আশ্রয় দিলে তারা হঠাৎ মুসলমানদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।হাজার হাজার নারী-পুরুষকে হত্যা করে। অবরোধ করে রাজধানী গ্রানাডা। তখন মুসলমানদের টনক নড়ে। তারা রুখে দাঁড়ায়। ফার্দিনান্দ বুঝতে পারে সম্মুখ যুদ্ধে মুসলমানদের সাথে আর পারা যাবে না, তাই সে অন্য পথ অবলম্বন করে। তারা ফসলের যৌথবাহিনীকে গ্রানাডার বিভিন্ন মসজিদের পার্শ্বে সশস্ত্র অবস্থান নেয়ার নির্দেশ দেয়। প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ফর্দিনান্দ ঘোষণা করে মুসলমানরা যদি অস্ত্র সমর্পণপূর্বক মসজিদে আশ্রয় নেয়তাহলে তাদের সম্পূর্ণ মুক্তি দেয়া হবে। আর যেসব মুসলমান সমুদ্রে খ্রিস্টান জাহাজে আশ্রয় নেবে তাদের অন্য মুসলিম রাষ্ট্রে পৌঁছে দেয়া হবে।

ফার্দিনান্দের এ ঘোষণায় বিশ্বাস করে ১৪৯২ সালের ১ এপ্রিল মুসলমানরা সেইভাবে আশ্রয় নিলে প্রতারক ফার্দিনান্দের সম্মিলিত বাহিনী সকল মসজিদে তালা লাগিয়ে আবদ্ধ করে মসজিদে আশ্রয়রত মজলুম মুসলমানদের আগুনে পুড়িয়ে এবং জাহাজে আশ্রয়রত মুসলমানদের সমুদ্রে ডুবিয়ে মারে। সব মিলিয়ে সেদিন শাহাদৎ বরণ করে প্রায় ৭ লাখ মুসলমান।

সেই অসহায় শান্তিপ্রিয় প্রতারিত মুসলমানদের আত্মচিৎকারে আকাশ-বাতাস যখন ভারি হয়ে উঠে তখন নরপিশাচ ফার্দিনান্দ স্ত্রী ইসাবেলাকে আনন্দে বলতে থাকে, ‘হায় মুসলমান! তোমরা এতো বোকা!’ আর ইসাবেলা উচ্চারণ করে, ‘হায় এপ্রিলের বোকা! শত্রুর আশ্বাসে কেউ বিশ্বাস করে!” সেই দিনই ইসাবেলা মুসলমানদের নাম দেয় ‘এপ্রিল ফুল’ অর্থাৎ এপ্রিলের বোকা।

 

ইতিহাসের অন্যতম নরপিশাচ ফার্দিনান্দ সেদিন মুসলমানদের সাথে যে ধোঁকাবাজি করেছিল, সৃষ্টি করেছিল মর্মান্তিক ইতিহাস, উন্মত্ত করেছিল মানবতার কবর রচনায়, সে দিনটি স্মরণ করার জন্য ধোঁকাবাজ খ্রিস্টানরা আজও প্রতি বছর ১ এপ্রিল পালন করে ‘এপ্রিল ফুল’।

দুঃখজনক হলেও সত্য আজ আমাদের মাঝেও প্রবেশ করেছে খ্রিস্টানদের সংস্কৃতি, লেগেছে তথাকথিত আধুনিকতার কালো ছোঁয়া, আমরা ভুলে যাচ্ছি নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্য। যুগের স্রোতে গা ভাসিয়ে মুসলমানদের মধ্যেও আমার বন্ধুর মতো অনেকে পালন করে ‘এপ্রিল ফুল’ দিবস। এটাই নাকি আধুনিকতা! আমরা এতই বিবেকহীন! নিজেদের সাথে নিজেরাই প্রতারণা করছি!

১৯৯৩ সালের ১ এপ্রিল গ্রানাডা ট্রাজেডির ৫০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক সভায় মিলিত হয়ে বিশ্ব খ্রিস্টান সম্প্রদায় বিশ্বের মুসলিম জাগরণকে প্রতিহত করার জন্য গড়ে তোলে ‘হলি মেরি ফান্ড’। তারা সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্বে খ্রিস্টানরাই আধিপত্য বিস্তার করবে। তাদের সেই সিদ্ধান্ত তারা আজ বাস্তবায়নের পথে এগুচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় একটির পর একটি মুসলিম রাষ্ট্রকে ধ্বংস করছে।শুধু গ্রানাডা ট্রাজেডিই নয় বরং যুগে যুগে সর্বদাই খ্রিস্টানরা মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মুসলমানদের ধ্বংস সাধন করে আসছে। আজও করছে। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তেই করছে। তারা সংস্কৃতির নামে চালাচ্ছে অপসংস্কৃতির প্রসার। আধুনিকতার নামে ধ্বংস করছে মুসলমানদের ঈমান। বিশ্বময় আধিপত্য বিস্তারের খেলায় মেতে ওঠা এই আন্তর্জাতিক খুনিচক্রের কারণে পৃথিবীর আজ বড়ই দুর্দিন। এক্ষুনি মুসলমানদের সচেতন হবার প্রয়োজন।

অন্যতায় অচিরেই গ্রানাডার মতো বধ্যভূমিতে পরিণত হবে পৃথিবী। তাই মুসলমানদের উচিত ১লা এপ্রিলে এপ্রিল ফুল পালন করা থেকে বিরত থাকা এবং কাফিরদের ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক থাকা।

Advertisements

‘এপ্রিল ফুল’ কি?

20160331022754

এপ্রিল ফুল’ হচ্ছে ঐ দিবস, যে দিবসে লক্ষ লক্ষ মুসলমান উনাদেরকে ধোঁকা দিয়ে নির্মমভাবে শহীদ করা হয়েছে। আর এই ‘এপ্রিল ফুল’ পালন করা মুসলমান উনাদের জন্য হারাম ও কুফরী।

কেননা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মত নয়।”

মুসলমান উনারা আজ ইলম চর্চা হতে অনেক দূরে। মুসলমান উনারা নিজেদের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বড়ই বেখবর। আজ মুসলমানরা নিজেদের স্বর্ণযুগ, সারা বিশ্বব্যপী তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে অভূতপূর্ব উন্নতি ইত্যাদি সম্পর্কে কিছুই জানে না। নাউযুবিল্লাহ!

আবার অপরদিকে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে কাফির-বিধর্মীরাযে মুসলমান উনাদের উপর কত মর্মান্তিক যুলুম করেছে, উনাদেরকে কত নির্মমভাবে শহীদ করেছে সে খবরও মুসলমান রাখে না। নাউযুবিল্লাহ!

পহেলা এপ্রিলে এমনি এক নির্মম কাহিনী রয়েছে, যাতে লাখ-লাখ মুসলমান উনাদের নির্মমভাবে শাহাদাতবরণের ঘটনা ঘটেছে।ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি, স্পেনে মুসলিম শাসনের অবসানের পর প্রতারক রাজা ফার্ডিনান্ড মসজিদগুলোকে নিরাপদ ঘোষণা করে। সে আরো ঘোষণা দেয় যে, যারা মসজিদে থাকবে, তাদেরকে নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। তখন অসংখ্য স্পেনীয় মুসলমান সরল বিশ্বাসে মসজিদগুলোতে আশ্রয় গ্রহণকরেন। ঠিক সেই সময় যালিম খ্রিস্টানরা মসজিদগুলোকে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে মুসলমান উনাদেরকে পুড়িয়ে ভস্ম করে দেয়। আর বাইরে থেকে উল্লাসভরে কৌতুক করে সমস্বরে Fool! Fool!! (বোকা! বোকা!!)বলে অট্টহাসি আর চিৎকারে মেতে উঠে। (নাঊযুবিল্লাহ!)

দিনটি ছিলো ০১ এপ্রিল, ১৪৯২ ঈসায়ী সন। অদ্যাবধি প্রতারক খ্রিস্টানরা দিনটিকে তাদের সেই শঠতার স্মরণে ধোঁকা বা প্রতারণার দিবস ‘এপ্রিল ফুল’ হিসেবে পালন করে আসছে। এটিইহচ্ছে পহেলা এপ্রিল বা এপ্রিল ফুলের হৃদয়বিদারক ইতিহাস।এ দিনটি যালিম খ্রিস্টানদের জন্য পালনীয় হলেও মুসলমান উনাদের জন্য তা ভাষাহীন বেদনাদায়ক।

কেননা, বর্বর, অসভ্য, যালিম খ্রিস্টানদের প্রতারণার ফলে মুসলমান উনাদেরই হাতে গড়ে উঠা একটি সভ্যতা লাখ-লাখ মুসলমান উনাদেরই তাজা খুনের স্রোতে ভেসে যায়। কাজেই প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ ওমহিলার দায়িত্ব-কর্তব্যহলো, এ দিনের ইতিহাস থেকে কাফিরদের ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব সম্পর্কে শিক্ষা নেয়া।কেননা, ইহুদী-নাছারা-মুশরিক এরা হচ্ছে মুসলমান উনাদের চরম শত্রু। আর এ কারণেই তারা সবসময়, সর্বাবস্থায় মুসলমান উনাদের জান-মাল এবং ঈমান উনার ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করে। সুতরাং মুসলমান উনাদের জন্য করণীয় হচ্ছে, সমস্ত কাফিরদের থেকে দূরে থাকা এবং তাদেরকে অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকা। আর যদি তা করা না হয়, তাহলে মুসলমান কখনোই উম্মত হিসেবে থাকতে পারবে না।

মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন সমস্ত মুসলমান উনাদেরকে মহান মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উসীলায় হিফাযত করেন। আমীন!

সবে পড়ি আপনার শানে ক্বাছীদা

 

IMG-20160330-WA0044

আজকে খুশির পরশ মাখা

মিলাদে মা যাহরা

এসেছেন আপনি ধরা মাঝে

২০শে জুমাদাল উখরা

আপনি তো ত্বহিরা তইয়্যিবা

আহলে বাইত শরীফ উনার সাইয়্যিদা

সবে পড়ি আপনার শানে ক্বাছীদা

আপনি আক্বাজীর খুশবু

উনার সম্মানিতা বানাত

নূরে নূরানী জিন্দেগী আপনার

আপনি তো মা খাতুনে জান্নাত

ইয়া মা যাহরা আলাইহাস সালাম

অনন্তকাল ব্যাপী হতে চাই মোরা সবে

আপনার ওআহাল পাক উনাদের গোলাম

আপনার ই তো কলিজার টুকরা

মোদের আক্বা মামদূহজান

উনার তরে হই যেন সবে

অনন্তকাল কুরবান৷

(তাজদীদী ক্যাটালগ-আহাল পাকে উনাদের গোলাম হতে চাই)

মাশুকে মাওলা,নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আহলু বাইতশরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাই ঈমান,আমল ও নাযাতের মূল পর্ব ৩

প্রসঙ্গঃমুহব্বতউনার ক্রমধারা কুরআন সুন্নাহর আলোকে৷

শাফেয়ী মাযহাব উনার ইমাম হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন-

ﻳَﺎ ﺍَﻫْﻞَ ﺑَﻴْﺖِ ﺭَﺳُﻮْﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺣُﺒُّﻜُﻢْ ..ﻓَﺮْﺽٌ ﻣّﻦَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻓِـﻰ ﺍﻟْﻘُﺮْﺍٰﻥِ ﺍَﻧْﺰَﻟَﻪٗﻳَﻜْﻔِﻴْﻜُﻢْ ﻣّﻦْ ﻋَﻈِﻴْﻢِ ﺍﻟْﻔَﺨْﺮِ ﺍَﻧَّﻜُﻢْ …ﻣّﻦْ ﻟَّـﻢْ ﻳُﺼَﻞّ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﻟَﺎ ﺻَﻠَﺎﺓَ ﻟَﻪٗ

অর্থ: “হে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! আপনাদের সম্মানিত মুহব্বত মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে ফরয, যা মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার আয়াত শরীফ নাযিল করে সাব্যস্ত করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!আপনাদের মহাসম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক বুঝার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, যে ব্যক্তি আপনাদের উপর দুরূদ শরীফ পাঠ করে না, তার নামায কবূল হয় না।” সুবহানাল্লাহ! (দেওয়ানে শাফেয়ী ১০৬ পৃ., মুখতাছরুত তোহফাহ ১/৭, ছব্বুল আযাব ১/৩১৯, আল ক্বওলুল বাদী’ ফী ছলাতি ‘আলা হাবীবিশ শাফী’ লিস সাখাওই ১/৯১)

হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেছেন-

ﺍِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﺭَﻓْﻀًﺎ ﺣُﺐُّ ﺍٰﻝِ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ … ﻓَﻠْﻴَﺸْﻬَﺪِ ﺍﻟﺜَّﻘَﻠَﺎﻥِ ﺍَﻧّـﻰْ ﺭَﺍﻓِﻀِـﻰٌّ

অর্থ: “যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত মুবারক করলে, রাফিযী হতে হয়, তাহলে জিন-ইনসান তারা সাক্ষী থাকুক যে, নিশ্চয়ই আমি রাফেযী।” সুবহানাল্লাহ! (দেওয়ানে শাফেয়ী ৮৯ পৃ., মুখতাছরুত তোহফাহ লিআব্দিলআযীয মুহাদ্দিছ দেহলভী ১/৮, ছব্বুল আযাব লিল আলূসী ১/৩২১)

তিনি আরো বলেছেন-

ﺍَﻟْﻌِﻠْﻢُ ﻭَﺍﻟﺘَّﻮْﺣِﻴْﺪُﻓِـﻰْ ﺟَﺎﻧِﺐٍ ..ﻭَّﺣُﺐُّ ﺍَﻫْﻞِ ﺍﻟْﺒَﻴْﺖِ ﻓِـﻰْ ﺟَﺎﻧِﺐٍ

অর্থ: “ইলম এবং তাওহীদ এক পাশে আর মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত মুহব্বত মুবারক এক পাশে।” সুবহানাল্লাহ! (মুখতাছরুত তোহফাহ লিআব্দিল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলভী ১/৭, ছব্বুল আযাব লিল আলূসী ১/৩২০)

আর সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ﻭَﺍَﺣِﺒُّﻮْﺍ ﺍَﻫْﻞَ ﺑَــﻴْـﺘِـﻰْ ﻟِـﺤُﺒِّﻰْ .

অর্থ: “আর তোমরা আমার সম্মানিত মুহব্বত-মা’রিফাত মুবারক পেতে হলে আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযীশরীফ)

সুতরাংমহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকেমুহব্বতকরা ফরয। শুধু তাই নয়, উনাদেরকে মুহব্বত করা ফরয উনার উপর ফরয। কারণ, উনাদের উপর দুরূদ শরীফ পাঠ না করলে, ফরয ইবাদাত‘নামায’ কবূল হয় না। সুবহানাল্লাহ!

তাহলে এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে গেলো যে, উনাদেরকে সম্মানিত মুহব্বত মুবারক করার বিষয়টি নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত থেকে শুরু করে সমস্ত ফরয ইবাদাত উনাদের উপরে। আর এই কারণেই উনাদেরকে মুহব্বত করা সম্মানিত ফরয উনার উপরও ফরয। সুবহানাল্লাহ!

শুধু তাই নয়, উনাদের মুহব্বত মুবারক হচ্ছেন সমস্ত ফরয ইবাদাত কবূল হওয়ার পূর্ব শর্ত। সুবহানাল্লাহ!এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ﻋَﻦْ ﺣَﻀْﺮَﺕْ ﺍَﺑِـﻰْ ﻣَﺴْﻌُﻮْﺩ ﺍﻟْﺎَﻧْﺼَﺎﺭِﻯّ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻣَﻦْ ﺻَﻠّﻰ ﺻَﻠَﺎﺓً ﻟَّـﻢْ ﻳُﺼَﻞّ ﻓِﻴْﻬَﺎ ﻋَﻠَﻰَّ ﻭَﻟَﺎ ﻋَﻠـٰﻰ ﺍَﻫْﻞِ ﺑَﻴْﺘِـﻰْ ﻟَـﻢْ ﺗُﻘْﺒَﻞْ ﻣِﻨْﻪُ .

অর্থ: “হযরত আবূ মাস‘ঊদ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি নামায পড়লো, কিন্তু নামাযে আমার এবং আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠকরলো না, তার নামায কবূল হবে না।” (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৯, সুনানুদ দারাকুত্বনী ২/১৭১, শরহু সুনানি আবী দাঊদ লিল ‘আইনী ৪/২৬৬, আল বাদরুল মুনীর ৪/১৫, নাছবুর রাইয়াহ লিল যাইলা‘ঈ ১/৪২৭, আদ দিরায়াহ১/১৫৮, আল ‘ইলাল লিদ দারাকুত্বনী ৬/১৯৭, আন নাজমুল ওহহাজ ২/১৬৪ ইত্যাদি)

সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ﻋَﻦْ ﺣَﻀْﺮَﺕْ ﺍِﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪ ﺗَﻌَﺎﻟـٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻟَﻮْ ﺍَﻥَّ ﺭَﺟُﻠًﺎ ﺻَﻒَّ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﺮُّﻛْﻦِ ﻭَﺍﻟْـﻤَﻘَﺎﻡِ ﻓَﺼَﻠّﻰ ﻭَﺻَﺎﻡَ ﺛُـﻢَّ ﻟَﻘِﻰَ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﻫُﻮَ ﻣُﺒْﻐِﺾٌﻟِّﺎَﻫْﻞِ ﺑَﻴْﺖِ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺩَﺧَﻞَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭَ .

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কোন ব্যক্তি যদি সম্মানিত রুকন ইয়ামেন এবং মাক্বামে ইবরাহীম শরীফ উনাদের মধ্যবর্তী স্থানে সারিবদ্ধ হয়ে থাকে। অতঃপর নামায পড়ে এবং রোযা রাখে। কিন্তু এই অবস্থায় তার মৃত্যু হয় যে, সে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। তাহলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (যাখাইরুল ‘উক্ববাহ লিমুহিব্বে ত্ববারী ১/১৮, খ্বছায়িছুল কুবরা ২/৪৬৫)

আর মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করতে হলে অবশ্যই উনাদের সম্পর্কে জানতে হবে, উনাদের সাওয়ানেহে উমরী মুবারক জানতে হবে, উনাদের বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মানমুবারক জানতে হবে, অন্যথায় উনাদেরকে মুহব্বত করা আদৌ সম্ভব নয়।

আর উছূল হচ্ছে-

ﻣَﺎ ﻟَﺎ ﻳَﺘِﻢُّ ﺑِﻪِ ﺍﻟْﻔَﺮْﺽُ ﻓَﻬُﻮَ ﺍﻟْﻔَﺮْﺽُ

অর্থ: “যা ব্যতীত ফরয পূর্ণ হয় না, সেটাও ফরয।”

অতএব, মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে জানা, উনাদের সম্মানিত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক এবং বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মানমুবারক সম্পর্কে জানা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য ফরয উনার উপর ফরয। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস  সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক এবং বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মানমুবারক সম্পর্কে জানার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!