লা-মাজহাবীদের কুফরী আক্বীদা ও স্ববিরোধী মন্তব্য

বর্তমানে বাতিল আকিদার অন্যতম একটি ফেরকা হলো তথাকথিত সালাফী আকিদার অনুসারীগণ। এরা সালাফ শব্দ ব্যবহার করে মানুষের মাঝে এই ধারণা প্রচার করে থাকে যে, তারা সালাফে সালেহীনের অনুসারী। ]তবে তারা সালাফে সালেহীনের অনুসারী নয়। পূর্ববর্তী ভ্রান্ত দল কাররামিয়াদের অনুসারী। তারা যেহেতু পুর্ববতী ভ্রান্ত দল কাররামিয়াদের অনুসারী. তবে মনে রাখতে হবে, এদের পূর্ববতী অনুসরণীয়-অনুকরণীয় দল হলো ভ্রান্ত ফেরকা কাররামিয়া।
বর্তমানের সালাফীরা আশ্চর্যজনকভাবে আকিদার পরিশুদ্ধির কথা বলে থাকে। সহীহ আকিদার ব্যবহার তাদের মাঝে একটু বেশিই দেখা যায়(!!!) এধরনের অপপ্রচার তাদের বাতিল আকিদাকে নতুন মোড়কে উপস্থাপনের অপচেষ্টা বৈ কিছুই নয়।
কাররামিয়াদের আকিদাগুলোকেই মূলত: নতুন মোড়কে সালাফী আকিদা নামে প্রচার করা হচ্ছে। কাররামিয়া আকিদার মূল উৎস হলো ইসরাইলী রেয়াত তথা ইহুদী আকিদা। কাররামিয়া আকিদার মূল ভিত্তি হলো ইহুদীদের বিকৃত আকিদা।

আল্লাহ তায়ালা আরশে বসে আছেন (নাউযুবিল্লাহ):
আল্লাহ তায়ালা আরশে বসার আকিদার মূল উৎস হলো ইহুদী ধর্ম। ইহুদীরা আল্লাহ তায়ালাকে আরশে বসা বা সমাসীন মনে করে। ইহুদীদের এই ঘৃণিত আকিদাটি গ্রহণ করেছে কাররামিয়ারা। কাররামিয়াদের অনুসারী হিসেবে তথাকথিত সালাফীরাও এটাকে তাদের আকিদা হিসেবে গ্রহণ করেছে। তবে তাদের কেউ কেউ আবার এই আকিদাকে ভ্রান্ত আকিদা বলেও উল্লেখ করেছে। যারা এই আকিদা পোষণ করেছেন, তাদের ভ্রান্তি সম্পর্কে বেশি কিছু বলার আছে বলে মনে করি না। আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের একটা শিশুও এই ভ্রান্ত আকিদা সম্পর্কে সচেতন। সে জানে, আল্লাহর জন্য সৃষ্টির কোন গুণ সাব্যস্ত করা কুফুরী। সেটা বসার আকিদা হোক, শোয়া বা দাড়ানোর আকিদা হোক না কেন। হাটা, চলা, বসা, দাড়ানো, শোয়া, এগুলো সব সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টির সব গুণ থেকে পবিত্র। তার গুণের সাথে তুলনীয় কিছুই নেই।
আল্লাহর বসার বিষয়ে আমরা সর্বপ্রথম ইহুদীদের আকিদা উল্লেখ করবো। এরপর কাররামিয়াদের আকিদা। সব শেষে সালাফী আলেমদের বক্তব্য।
আরশে বসার ব্যাপারে ইহুদী আকিদা:
অল্ড টেস্টামেন্টের ফাস্ট কিং বইয়ে রয়েছে,
And Micaiah said, “Therefore hear the word of the LORD: I saw the LORD sitting on his throne, and all the host of heaven standing beside him on his right hand and on his left;
অর্থাৎ সুতরাং প্রভূর বাণী শোনো। আমি প্রভূকে তার কুরসীর উপর বসা দেখলাম এবং আসমানের সকল সৈন্য তার ডান ও বাম পাশে দাড়ানো ছিলো।
[ অল্ড টেস্টামেন্ট, দি বুক অফ ফাস্ট কিং, পরিচ্ছেদ ২২, শ্লোক, ১৯]
অনলাইন ভার্সন:http://biblehub.com/1_kings/22-19.htm
অল্ড টেস্টামেন্টের দি বুক অব সামে রয়েছে,
you have sat on the throne, giving righteous judgment.
অর্থ: আপনি ন্যায়-পরায়ণ হিসেবে কুরসীতে উপবেশন করেছেন। [বুক অব সাম, পরিচ্ছেদ,৯, শ্লোক, ৪।]
অল্ড টেস্টামেন্টের বুক অব সামে রয়েছে,
God reigns over the nations; God sits on his holy throne.
অর্থ: প্রভূ জাতিসমূহের উপর তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলেন, প্রভূ তার পবিত্র কুরসীতে বসলেন।
[ বুক অব সাম, পরিচ্ছেদ, ৪৭, শ্লোক, ৮]
অনলাইন ভার্সন: http://biblehub.com/psalms/47-8.htm
বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টে রয়েছে,
and crying out with a loud voice, “Salvation belongs to our God who sits on the throne
অর্থাৎ উচু স্বরে চিৎকার করে কেদে উঠলো এবং বলল, আমাদের প্রভূর জন্য মুক্তি, যিনি তার কুরসীতে বসে আছেন।
[The Book of Revelation, পরিচ্ছেদ, ৭, শ্লোক, ১০]
অনলাইন ভার্সন:http://biblehub.com/revelation/7-10.htm
একই পরিচ্ছেদের ১৫ নং শ্লোকে রয়েছে,
“That is why they stand in front of God’s throne and serve him day and night in his Temple.And he who sits on the throne will give them shelter.
অর্থাৎ আরশে উপবেশনকারী তাদেরকে আশ্রয় দিবে।
[The Book of Revelation, পরিচ্ছেদ, ৭, শ্লোক, ১৫]
অনলাইন ভার্সন, http://biblehub.com/revelation/7-15.htm
একই বইয়ের ৪ নং পরিচ্ছেদে রয়েছে,
And when those beasts give glory and honour and thanks to him that sat on the throne, who liveth for ever and ever
অর্থাৎ তারা সেই সত্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলো যিনি আরশে বসে আছেন, যিনি চিরণ্জীব।
[The Book of Revelation, পরিচ্ছেদ, ৪, শ্লোক, ৯]
http://biblehub.com/revelation/4-9.htm
কাররামিয়াদের আকিদা:

১. মুহম্মদ ইবনে কাররামের একটি মৌলিক ভ্রান্ত আক্বিদা হলো, আল্লাহ তায়ালা দেহ ও শরীর বিশিষ্ট। উনার দেহের একটি সীমা ও সমাপ্তি রয়েছে। তার মতে আল্লাহ পাক উনার দেহের নিচের দিকের কেবল সীমা ও সমাপ্তি রয়েছে, যেই দিক আরশের সাথে সংশ্লিষ্ট।
২. ইবনে কাররামের আরেকটি আক্বিদা হলো, আল্লাহ তায়ালা আরশের উপরের অংশ স্পর্শ করে আছেন।
৩. ইবনে কাররামের বিশ্বাস হলো, আল্লাহ তায়ালা আরশের উপর স্থির হয়ে আছেন। সত্ত্বাগতভাবে তিনি উপরের দিকে রয়েছেন। আরশ হলো আল্লাহর অবস্থানের স্থান।
বিস্তারিত দেখুন, আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, পৃ.২০৩, আল-মিলালু ওয়ান নিহাল, পৃ.১০৮, ই’তেকাদু ফিরাকিল মুসলিমিন, পৃ.১৭, আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, পৃ.২০৪, আল-মিলালু ওয়ান নিহাল, পৃ.১০৮।
সালাফী আকিদা:
সালাফীদের অন্যতম শায়খ হলেন মুহম্মদ বিন আব্দুল ওহাব নজদী লানাতুল্লাহি আলাইহি । সে বেশ কিছু কিতাব লিখেছেন। এসব কিতাবের অন্যতম একটি কিতাব হলো কিতাবুত তাউহীদ। কিতাবুত তাউহীদের একটি ব্যাখ্যা লিখেছে নজদীর নাতী শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে হাসান। তিনি কিতাবুত তাউহীদের এ ব্যাখ্যার নাম দিয়েছেন ফাতহুল মাজীদ। ফাতহুলী মাজীদ কিতাবুত তাউহীদের বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি তাহকীক করে প্রকাশ করেছেন, শায়খ আব্দুল কাদের আর-নাউত। ফাতহুল মাজীদের ৪৮৫ পৃষ্ঠায় আল্লাহর আরশে বসার কথা রয়েছে। এখানে রয়েছে,
إذا جلس الرب علي الكرسي
“যখন প্রভূ কুরসীর উপর বসলেন”।
আশ্চর্যের বিষয় হলো সালাফী শায়খ আব্দুল কাদের আর নাউত এই ভ্রান্ত আকিদা সম্পর্কে কোন মন্তব্যই করেননি। এ ব্যাপারে কোন অভিযোগও আনেননি। অথচ তিনি কিতাবটি তাহকীক করেছেন। এর দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যায়, এসব ভ্রান্ত আকিদার সাথে তিনিও একমত। নাউযুবিল্লাহ।

২. সউদি সরকারের সাবেক প্রধান মুফতী সালাফীদের অন্যতম শায়খ মুহম্মদ ইবনে ইব্রাহীম আলুশ শায়খও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আল্লাহর আরশে বসার আকিদা বর্ণনা করেছেন। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম কে মাকামে মাহমুদ বা প্রশংসনীয় মর্যাদা দ্বারা সম্মানিত করবেন। মাকামে মাহমুদ এর অর্থ হলো, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামত দিবসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কে শাফায়াতে উজমা বা সবচেয়ে বড় শাফায়াতের ক্ষমতা দান করবেন। শায়খ মুহম্মদ বিন ইব্রাহীম আলুশ শায়খ “মাকামে মাহমুদের” ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন,
” কেউ কেউ বলেছেন, মাকামে মাহমুদ হলো, ব্যাপক শাফায়াত বা সুপারিশ। কেউ কেউ বলেছেন, মাকামে মাহমুদ হলো, আল্লাহ তায়ালা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কে আরশের উপরে উনার পাশে বসাবেন। এটি আহলে সুন্নতের প্রসিদ্ধ বক্তব্য” উভয় বক্তব্যের মাঝে কোন বৈপরীত্ব নেই। উভয়ের মাঝে এভাবে সমন্বয় করা সম্ভব যে উভয়টি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কে দেয়া হবে। তবে আল্লাহর পাশে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বসানো হবে, এই ব্যাখ্যাটি অধিক যুক্তিসঙ্গত। নাউজুবিল্লাহ
[ফতোয়া ও রসাইল, পৃ.১৩৬। শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহীম আলুশ শায়খ, তাহকীক মুহম্মদ ইবনে ইব্রাহীম ইবনে কাসেম, প্রথম প্রকাশ, ১৩৯৯ হি:, মাতবায়াতুল হুকুমিয়া, মক্কা]
৩. সালাফীদের বিখ্যাত একজন শায়খ হলেন সালেহ আল-উসাইমিন। শায়খ সালেহ আল-উসাইমিনের উস্তাদ হলেন, আব্দুর রহমান সা’দী। তিনিও আরব সালাফীদের মাঝে বেশ পরিচিত। আব্দুর রহমান সা’দীও আরশে বসার আকিদা পোষণ করেন। তিনি লিখেছেন,
” ইস্তেওয়ার একটি ব্যাখ্যা হলো, স্থির হওয়া বা বসা। এই ব্যাখ্যাটি সালাফ বা পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণিত”
[আল-আজইবাতুস সা’দিয়া আনিল মাসাইলিল কুয়েতিয়্যা, পৃ.১৪৭। তাহকীক, ড. ওলীদ আব্দুল্লাহ। ]
আব্দুর রহমান সা’দী সাহেব বলেছেন, আল্লাহর আরশে বসার ব্যাখ্যাটি সালাফ বা পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণিত। পূর্ববর্তী দ্বারা তিনি যদি ইহুদী ও কাররামিয়াদের উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন, তাহলে ঠিক আছে। ইহুদী কাররামিয়ারা এই নিৃকষ্ট আকিদা পোষণ করে থাকে। তিনি যদি সালাফ বলতে ইসলামের নেককার সালাফে সালেহীনকে উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন, তাহলে এটা একটা ডাহা মিথ্যা কথা। সাধারণ সালাফীরা তাদের পূর্ববতী বলতে তাদের অনুসরণীয় কাররামিয়া ও মুজাসসিমাদের উদ্দেশ্য নিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সালাফ বলতে ইবনে তাইমিয়া (মৃত: ৭২৮ হি:) ও তার ছাত্র ইবনুল কাইয়ূমকে উদ্দেশ্য নেয়। কারণ বর্তমান সালাফীদের মূল অনুসরণীয় হলো, ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়্যিম। আর ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়ূম মূলত: কাররামিয়াদের ঘোর অনুসারী ছিলো। এদের আকিদা মূলত: মুশাববিহা, মুজাসসিমা ও কাররামিয়াদের আকিদা ছাড়া আর কিছুই নয়।

৪. বর্তমান সালাফীদের বিখ্যাত শায়খ হলেন সালেহ আল-উসাইমিন। তিনিওএই ইহুদীবাদী আকিদায় বিশ্বাসী ছিলেন। আল্লাহর আরশে বসার আকিদাটি তিনিও স্বীকৃতি দিয়েছেন। শায়খ সালেহ আল-উসাইমিন তার মাজমুউল ফতোয়ায় ইবনুল কাইয়্যিম এর বক্তব্য এনেছেন। ইবনে তাইমিয়ার বিখ্যাত ছাত্র ইবনুল কাইয়্যূমও আরশে বসার আকিদা রাখতো। শায়খ সালেহ আল-ফাউজান লিখেছেন,
” ইস্তাওয়া শব্দের আরেকটি ব্যাখ্যা হলো, বসা। ইবনুল কাইয়্যিম আস-সাওয়াইকুল মুরসালা (খ.৪, পৃ.১৩০৩) কিতাবে এই ব্যাখ্যাটি খারিজা ইবনে মুসআব থেকে বর্ণনা করেছেন। সূরা ত্বহার ৫ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি লিখেছেন, বসা ছাড়া কখনও কি ইস্তাওয়া হয়?
[মাজমুউ ফাতাওয়া ও রসাইল, ইবনে উসাইমিন, খ.১, পৃ.১৩৫, দারুল ওযাতন]
৫. সালাফীদের অন্যতম বিখ্যাত শায়খ হলেন শায়খ সালেহ আল-ফাউজান। তিনি আব্দুল আজীজ বিন ফয়সাল আর-রাজেহীর একটি কিতাবের ভূমিকা লেখে দিয়েছে। কুদুমু কাতাইবিল জিহাদ নামক এই বইয়ে আব্দুল আজিজ রাজেহী আরশে বসার আকিদা সম্পর্কে লিখেছে,
“বসা ছাড়া কখনও কি ইস্তাওয়া হয়? এই কথাটি সঠিক। এর উপর কোন ধুলোবালি নেই। অর্থাৎ এটি নি:সন্দেহে সঠিক।”
[কুদুমু কাতাইবিল জিহাদ, পৃ.১০১]

kudum kataibil jihad.jpg

নীচের রেখাংকিত অংশ দ্রষ্টব্য:

৬. ইবনে তাইমিয়ার বিখ্যাত ছাত্র হলেন ইবনুল কাইয়্যিম। নাওনিয়াতু ইবনিল কাইয়্যিম নামে তার একটি কিতাব রয়েছে। শায়খ সালেহ আল-ফাউজান ইবনুল কাইয়্যিমের এ কিতাবের উপর সংক্ষিপ্ত টীকা লিখেছেন। তিনি এর নাম দিয়েছেন, আত-তা’লিকুল মুখতাসার আলাল কাসিদাতিত নাউনিয়্যাহ। এ কিতাবে শায়খ ফাউজান আরশে বসার আকিদাটি স্বীকার করেছেন। তিনি লিখেছেন,
” মাকামে মাহমুদ এর ব্যাখ্যা হলো, আল্লাহ তায়ালা নবীজী পাক উনাকে কে আরশে নিজের পাশে বসাবেন।”
[আত-তালীকুল মুখতাসার, সালেহ আল-ফাউজান, পৃ.৪৫৩]
আশ্চর্যজনক স্ববিরোধীতা:
আকিদার ক্ষেত্রে সালাফী শায়খদের দোদুল্যমান অবস্থা দেখলে সত্যিই আশ্চর্য লাগে। এদের নির্দিষ্ট কোন দিক নেই। এখন পূর্বে থাকলে কিছুক্ষণ পরে ঠিকই পশ্চিমে যায়। এধরনের স্ববিরোধী অবস্থান বড় বিস্ময়কর। শায়খ সালেহ আল-ফাউজান অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় আল্লাহর বসার আকিদা স্বীকার করেছেন। যারা এটা অস্বীকার করে তাদেরকে দুর্বল মস্তিষ্কের আখ্যাযিত করেছেন। এমনকি তাদের কথা ধর্তব্য নয় বলেও রায় দিয়েছেন। অথচ তিনি আবার লিখেছেন,
প্রশ্ন: শায়খ, আল্লাহ আপনাকে তৌফিক দান করুন। যে ব্যক্তি এই বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ ইস্তাওয়া গ্রহণ করেছেন, অর্থাৎ তিনি আরশে বসেছেন, তার সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী? এটা কি তা’বীল বা ব্যাখ্যার অন্তুর্ভূক্ত হবে?
উত্তর: এটি বাতিল ও ভ্রান্ত। কেননা বসা দ্বারা ইস্তাওয়ার ব্যাখ্যা করা হয় না।আর আমরা নিজেদের পক্ষ থেকে কিছু বলি না।
[শরহু লুময়াতিল ই’তেকাদ, পৃ.৩০৫]
২. শায়খ ইবনে জিবরীন সালাফীদের অন্যতম শায়খ। তিনি আল-জওয়াবুল ফাইক ফির রদ্দি আলা মুবাদ্দিলিল হাকাইক নামে একটা পুস্তক লিখেছেন। এই পুস্তকে তিনি আল্লাহর বসার আকিদাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। এমনকি যারা এ আকীদাকে আহলে সুন্নতের আকিদা বা নজদের ওহাবী বা সালাফী আলেমদের আকিদা বলে থাকে, তাদেরকে মিথ্যুক বলেছেন। তিনি লিখেছেন,
“সালাফে সালেহীনের কিতাবে ইস্তাওয়া শব্দের ব্যাখ্যায় বসার কোন অর্থ উল্লেখ নেই। সুতরাং আহলে সুন্নতের দিকে এই আকিদা সম্পৃক্ত করা কিংবা সালাফী আলেমদের দিকে এই আকিদা সম্পৃক্ত করা, তাদের সম্পর্কে মিথ্যাচার বৈ কিছুই নয়।“
শায়খ আলবানীর বক্তব্য:
শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানীর মতে যেসব হাদীসে স্পষ্টভাবে আল্লাহর দিকে বসার কথা উল্লেখ রয়েছে এগুলো জাল হওয়া বান্ছনীয়। কেননা এসব হাদীসের বক্তব্য মুনকার। কেননা আল্লাহর আরশে বসার ব্যাপারে কোন সহীহ হাদীস নেই। আর বসার কথা যেসব হাদীসে রয়েছে, সেগুলো কখনও রাসূল স. এর হাদীস হতে পারে না। কারণ আল্লাহর দিকে বসার সম্পৃক্ততাই প্রমাণ করে যে এটি রাসূলস. এর হাদীস নয়। শায়খ আলবানীর সব লেখা সংকলন করে একটি মউসুয়া বের করা হয়েছে। এই মউসুয়ার প্রথম খন্ডে আকিদা বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রথম খন্ডের ৩৪৩ পৃষ্ঠার শিরোনাম হলো,
“আল্লাহ তায়ালা জন্য বসার আকিদাটি ভিত্তিহীন”
এখানে শায়খ আলবানী বলেছেন,
“ আল্লাহর বসার ব্যাপারে কোন বিশুদ্ধ বর্ণনা নেই। সুতরাং আল্লাহর দিকে বসার আকিদা সম্বলিত হাদীস জাল হওয়াটাই বান্চনীয়”
এছাড়া শায়খ আলবানী আরও স্পষ্টভাবে এই ভিত্তিহীন ভ্রান্ত আকিদাটি তার আল-মুখতাসারুল উলু কিতাবে খন্ডন করেছেন। তিনি লিখেছেন,
ولست ادري ما الذي منع المصنف – عفا الله عنه – من الاستقرار على هذه القول ، وعلى جزمه بان هذه الاثر منكر كما تقدم عنه ، فانه يتضمن نسبة القعود على العرش لله عزوجل ، وهذا يستلزم نسبة الاستقرار عليه لله تعالى وهذا مما لم يرد ، فلا يجوز اعتقاده ونسبته الى الله عزوجل
অর্থাৎ ইমাম যাহাবী সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, আমি জানি না, লেখক (ইমাম যাহাবী) এই কথার উপর কেন অটল রইলেন না। এবং এই বর্ণনা মুনকার বা অবান্ছিত হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় রইলেন না। কেননা, এ বর্ণনায় আল্লাহ তায়ালার দিকে বসার কথা সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা আরশে স্থির আছেন এটা সাব্যস্ত হয়। অথচ আল্লাহর বসার ব্যাপারে বিশুদ্ধ কোন বর্ণনা নেই। সুতরাং এটি বিশ্বাস করা এবং তা আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করা বৈধ হবে না।
[মুখতাসারুল উলু, পৃ.১৭, প্রথম সংস্করণ]

পরবতী আলোচনায় আরশে বসার ব্যাপারে ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়্যিমের বক্তব্য উল্লেখ করা হবে।

Advertisements

Ziyarat Al Quboor In the Light of Hadith and Views of Imams

1
رَوَی أَبُوْ حَنِيْفَةَ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيْهِ عَنِ النَّبِيِّ صلی الله عليه وآله وسلم أَنَّه قَالَ : نَهَيْنَاکُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ، وَقَدْ أُذِنَ لِمُحَمَّدٍ فِي زِيَارِةِ قَبْرِ أُمِّه فَزُوْرُوْهَا وَلَا تَقُوْلُوْا هُجْرًا


رَوَاهُ أَبُوْ حَنِيْفَةَ وَمَالِکٌ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَالنَّسَائِيُّ

امام اعظم ابو حنیفہ علقمہ بن مرثد سے وہ سلیمان بن بریدہ سے اور وہ اپنے والد حضرت بریدہص سے اور وہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم سے روایت کرتے ہیں کہ آپ صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : ہم نے تمہیں قبروں کی زیارت کرنے سے منع کیا تھا، لیکن اب محمد مصطفی ( صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم ) کو اپنی والدہ کی قبر کی زیارت کرنے کی اجازت دے دی گئی ہے، سو (اب) تم بھی قبروں کی زیارت کیا کرو اور بے ہودہ باتیں مت کیا کرو

اِسے امام ابو حنیفہ، مالک، شافعی، اَحمد اور نسائی نے روایت کیا ہے

أخرجه
الخوارزمي في جامع المسانيد للإمام أبي حنيفة، 2 / 199
 وأبو يوسف في کتاب الآثار، 1 / 225، الرقم : 996
 ومالک في الموطأ،کتاب الضحايا، باب ادخار لحوم الأضاحي، 2 / 485، الرقم :1031
 والشافعي في المسند / 361
 وأحمد بن حنبل في المسند، 3 / 237، الرقم : 13512
 والنسائي في السنن،کتاب الجنائز، باب زيارة القبور، 4 / 89، الرقم : 2033
*********************************************************************
2
عَنْ بُرَيْدَةَ، قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم : کُنْتُ نَهَيْتُکُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ فَزُوْرُوْهَا.

رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَابُوْ دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ

حضرت بریدہ رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : میں تمہیں زیارتِ قبور 
سے منع کیا کرتا تھا، پس اب تم زیارتِ قبور کیا کرو

اسے امام مسلم، ابو داود اور نسائی نے روایت کیا ہے

أخرجه
مسلم في الصحيح،کتاب الجنائز، باب استئذان النبي صلی الله عليه وآله وسلم ربه في زيارة قبر امه، 2 / 672، الرقم : 977 
وايضًا فيکتاب الاضاحي، باب بيان ما کان من النهي عن اکل لحوم الاضاحي بعد ثلاث في أول الإسلام وبيان نسخه وإباحة إلی متی شاء، 3 / 1563، الرقم : 1977
وأبو داود في السنن،کتاب الجنائز، باب في زيارة القبور، 3 / 218، الرقم : 3235
والنسائي في السنن،کتاب الجنائز، باب زيارة القبور، 4 / 89، الرقم : 2032
*********************************************************************
3
عَنْ بُرَيْدَةَ رضی الله عنه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم : قَدْ کُنْتُ نَهَيْتُکُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ، فَقَدْ اذِنَ لِمُحَمَّدٍ فِي زِيَارَةِ قَبْرِ امِّه، فَزُوْرُوْهَا فَإِنَّهَا تُذَکِّرُ الْآخِرَةَ

رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ أَبِي شَيْبَةَ. وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ : حَدِيْثُ بُرَيْدَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيْحٌ، وَالْعَمَلُ عَلٰی هذَا عِنْدَ اهلِ الْعِلْمِ لَا يَرَوْنَ بِزِيَارَةِ الْقُبُوْرِ بَاسًا وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ الْمُبَارَکِ وَالشَّافِعِيِّ وَاحْمَدَ وَإِسْحٰقَ

حضرت بریدہ رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : میں تمہیں زیارتِ قبور سے منع کیا کرتا تھا، بلاشبہ اب محمد( صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم ) کو اپنی والدہ ماجدہ کی قبر کی زیارت کرنے کی اجازت دے دی گئی ہے، پس تم بھی قبروں کی زیارت کیا کرو کیوں کہ یہ آخرت کی یاد دلاتی ہے

اِسے امام ترمذی اور ابن ابی شیبہ نے روایت کیا ہے. امام ترمذی نے فرمایا : حدیثِ بریدہ حسن صحیح ہے. تمام اہل علم کا اس پر عمل ہے اور وہ زیارتِ قبور میں کچھ حرج نہیں سمجھتے، امام ابن مبارک، امام شافعی، امام اَحمد بن حنبل اور امام اسحق رحمہم اﷲ بھی اِسی بات کے قائل ہیں

أخرجه
 الترمذي في السنن،کتاب الجنائز، باب ما جاء في الرخصة في زيارة القبور، 3 / 370، الرقم : 1054
 وابن ابي شيبة في المصنف، 3 / 29، الرقم : 11809
 والبيهقي في السنن الکبری، 8 / 311، الرقم : 17263
 والمنذري في الترغيب والترهيب، 4 / 189، الرقم : 5377
*********************************************************************
4
عَنْ بُرَيْدَةَ رضی الله عنه قَالَ : زَارَ النَّبِيُّ صلی الله عليه وآله وسلم قَبْرَ امِّه فِي الْفِ مُقَنَّعٍ فَلَمْ يرَ بَاکِيا اکْثَرَ مِنْ يَوْمِئِذٍ

رَوَاهُ الْحَاکِمُ وَالْبَيْهَقِيُّ وَقَالَ الْحَاکِمُ : هذَا حَدِيْثٌ صَحِيْحٌ عَلٰی شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ

حضرت بریدہ رضی اللہ عنہ بیان کرتے ہیں کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے ایک ہزار مجاہدین کے ساتھ اپنی والدہ محترمہ کی قبر کی زیارت کی اور اُس روز سے بڑھ کر آپ صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم کو روتا ہوا نہیں دیکھا گیا

اِسے امام حاکم نے روایت کیا اور فرمایا : یہ حدیث بخاری و مسلم کی شرائط پر صحیح ہے

اخرجه
الحاکم في المستدرک، کتاب الجنائز، 1 / 531، الرقم : 1389
 وايضًا، 2 / 661، الرقم : 4192
 والبيهقي في شعب الإيمان، 7 / 15، الرقم : 9290
*********************************************************************
5
عَنْ بُرَيْدَةَ رضی الله عنه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم : إِنِّي کُنْتُ نَهَيْتُکُمْ عَنْ ثَلَاثٍ : عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ فَزُوْرُوْهَا، وَلْتَزِدْکُمْ زِيَارَتُهَا خَيْرًا

رَوَاهُ النَّسَائِيُّ وَابْنُ حِبَّانَ وَأَبُوْ عَوَانَةَ. وَقَالَ الْحَاکِمُ : هذَا حَدِيْثٌ صَحِيْحٌ عَلٰی شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ

حضرت بریدہ رضی اللہ عنہ سے راویت ہے کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : میں نے تمہیں تین باتوں سے منع کیاتھا. اِن میں سے ایک قبروں کی زیارت تھی، لیکن اب قبروں کی زیارت کیا کرو. پس یہ زیارت تمہاری (آخرت کی) بھلائی میں اضافہ کر دے گی

اِسے امام نسائی، ابن حبان اور ابو عوانہ نے روایت کیا ہے. امام حاکم نے فرمایا : یہ حدیث امام بخاری و مسلم کی شرائط کے مطابق صحیح ہے

أخرجه
النسائي في السنن،کتاب الضحايا، باب الإذن في ذلک، 7 / 234، الرقم : 4429
 وابن حبان في الصحيح، 12 / 212، الرقم : 5390
 وابو عوانة في المسند، 5 / 84، الرقم : 7882
 والحاکم في المستدرک،1 / 532، الرقم : 1391
 والبيهقي في السنن الکبری، 4 / 76، الرقم : 6986

*********************************************************************
6
عَنْ بُرَيْدَةَ رضی الله عنه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم : نَهَيْتُکُمْ عَنْ ثَلَاثٍ وَانَا آمُرُکُمْ بِهِنَّ : نَهَيْتُکُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ فَزُوْرُوْهَا فَإِنَّ فِي زِيَارَتِهَا تَذْکِرَةً، وَنَهَيْتُکُمْ عَنِ الْاشْرِبَةِ انْ تَشْرَبُوْا إِلَّا فِي ظُرُوْفِ الْادَمِ فَاشْرَبُوْا فِي کُلِّ وِعَائٍ غَيْرَ انْ لَا تَشْرَبُوْا مُسْکِرًا، وَنَهَيْتُکُمْ عَنْ لُحُوْمِ الْاضَاحِيِّ انْ تَاکُلُوْهَا بَعْدَ ثَلَاثٍ فَکُلُوْا وَاسْتَمْتِعُوْا بِهَا فِي اسْفَارِکُمْ


رَوَاهُ ابُوْ دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ

حضرت بریدہ رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : میں نے تین کاموں سے تمہیں منع کیا تھا لیکن اب اُن کے کرنے کا تمہیں حکم دیتا ہوں، میں نے تمہیں زیارتِ قبور سے منع کیا تھا لیکن اب اُن کی زیارت کیا کرو کیونکہ اِس میں موت کی یاد ہے. میں نے تمہیں چمڑے کے سوا دوسرے برتنوں میں نبیذ پینے سے منع کیا تھا، اب ہر برتن میں پی لیا کرو، ہاں نشہ آور چیز نہ پیا کرو اور میں نے تمہیں قربانی کا گوشت تین دن کے بعد کھانے سے منع کیا تھا لیکن اب (بعد میں بھی) کھا لیا کرو اور اپنے سفر میں اس سے فائدہ اُٹھایا کرو

اسے امام ابو داود اور نسائی نے روایت کیا ہے

أخرجه
ابو داود في السنن،کتاب الاشربة، باب في الاوعية، 3 / 332، الرقم : 3698

 والنسائي في السنن،کتاب الاشربة، باب الإذن في شيء منها، 7 / 234، الرقم : 4430
 والبيهقي في السنن الکبری، 9 / 292
*********************************************************************
7
عَنْ بُرَيْدَةَ رضی الله عنه، قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم : نَهَيْتُکُمْ عَنْ
 زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ فَزُوْرُوْهَا فَإِنَّ فِي زِيَارَتِهَا تَذْکِرَةً

رَوَاهُ ابُوْ دَاوُدَ

حضرت بریدہ رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : میں تمہیں زیارتِ قبور سے منع کیا کرتا تھا، پس اب تم زیارتِ (قبور) کیا کرو یہ تمہیں (آخرت) کی یاد دلاتی ہیں.‘‘ اِسے امام ابو داود نے روایت کیا ہے

اخرجه
أبو داود في السنن،کتاب الجنائز، باب في زيارة القبور، 3 / 218، الرقم : 3235
والبيهقي في السنن الکبری، 4 / 128، الرقم : 7194
*********************************************************************
8
عَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ رضی الله عنه أَنَّ رَسُوْلَ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم قَالَ : کُنْتُ نَهَيْتُکُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ، فَزُوْرُوْهَا، فَإِنَّهَا تُزَهِّدُ فِي الدُّنْيَا، وَتُذَکِّرُ الآخِرَةَ

رَوَاهُ ابْنُ مَاجَه

حضرت عبد اﷲ بن مسعود رضی اللہ عنہ سے مروی ہے کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : میں تمہیں زیارتِ قبور سے منع کیا کرتا تھا اب زیارتِ (قبور) کیا کرو کیونکہ یہ دنیا سے بے رغبتی پیدا کرتی ہے اور آخرت کی یاد دلاتی ہے

اِسے امام ابن ماجہ نے روایت کیا ہے

أخرجه
ابن ماجه في السنن،کتاب الجنائز، باب ما جاء في زيارة القبور،1 / 501، الرقم  1571،
 والمنذري في الترغيب والترهيب، 4 / 189، الرقم : 5375
والمبارکفوري في تحفة الاحوذي، 4 / 136
*********************************************************************
9
عَنْ عَبْدِ اﷲِ بْنِ مَسْعُودٍ رضی الله عنه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم : ا لَا إِنِّي کُنْتُ نَهَيْتُکُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ، فَزُوْرُوْهَا تُذَکِّرُکُمْ آخِرَتَکُمْ

رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ وَابْنُ أَبِي شَيْبَةَ

حضرت عبد اﷲ بن مسعود رضی اللہ عنہ سے مروی ہے کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : آگاہ رہو! بے شک میں نے تمہیں زیارتِ قبور سے منع کیا تھا اب تم قبروں کی زیارت کیا کرو، یہ تمہیں تمہاری آخرت یاد دلائے گی

اِسے امام دار قطنی اور ابن ابی شیبہ نے روایت کیا ہے

أخرجه
الدارقطني في السنن،کتاب الاشربة وغيرها، 4 / 259، الرقم : 69
وابن ابي شيبة في المصنف، 3 / 29، الرقم : 11809
*********************************************************************
10
عَنْ انَسِ بْنِ مَالِکٍ رضی الله عنه قَالَ : قَالَ رَسُولُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم : نَهَيْتُکُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ ثُمَّ بَدَا لِي انَّهَا تُرِقُّ الْقَلْبَ، وَتُدْمِعُ الْعَيْنَ، وَتُذَکِّرُ الْآخِرَةَ، فَزُوْرُوْهَا، وَلَا تَقُوْلُوا هُجْرًا

رَوَاهُ احْمَدُ وَأَبُوْ يَعْلٰی

حضرت انس بن مالک رضی اللہ عنہ سے مروی ہے کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : میں نے تمہیں زیارتِ قبور سے منع کیا تھا پھر مجھے خیال آیا کہ یہ دل کو نرم کرتی ہے، آنکھوں سے آنسو بہاتی ہے اور آخرت کی یاد دلاتی ہے. سو (اب) تم بھی قبروں کی زیارت کیا کرو اور بے ہودہ باتیں مت کیا کرو

اِسے امام احمد اور ابو یعلی نے روایت کیا ہے

اخرجه
احمد بن حنبل في المسند، 3 / 237، الرقم : 15321
وابو يعلی في المسند، 6 / 373، الرقم : 3707
والبيهقي في السنن الکبری، 4 / 129، الرقم : 7198
وايضًا في شعب الإيمان، 7 / 15، الرقم : 9289
والهيثمي في مجمع الزوائد، 5 / 65
*********************************************************************
11
عَنْ انَسِ بْنِ مَالِکٍ رضی الله عنه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم : نَهَيْتُکُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ، فَزُوْرُوْهَا فَإِنَّهَا تُذَکِّرُکُمُ الْمَوْتَ

رَوَاهُ الْحَاکِمُ

حضرت انس بن مالک رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : میں نے تمہیں زیارتِ قبور سے منع کیا تھا، اب تم اُن کی زیارت کیا کرو کیونکہ وہ تمہیں موت کی یاد دلاتی ہے

 اِسے امام حاکم نے روایت کیا ہے

أخرجه
الحاکم في المستدرک، کتاب الجنائز، 1 / 531، الرقم : 1388
*********************************************************************
12
عَنْ انَسِ بْنِ مَالِکٍ رضی الله عنه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم : إِنِّي کُنْتُ نَهَيْتُکُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ، فَمَنْ شَائَ انْ يَزُوْرَ قَبْرًا، فَلْيَزُرْهُ، فَإِنَّه يَرِقُّ الْقَلْبَ، وَيدْمِعُ 
الْعَيْنَ، ويذَکِّرَ الآخِرَةَ

رَوَاهُ الْحَاکِمُ

حضرت انس بن مالک رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : بے شک میں نے تمہیں زیارتِ قبور سے منع کیا تھا، اب جو بھی قبر کی زیارت کرنا چاہے اُسے اجازت ہے کہ وہ زیارت کر لے کیونکہ یہ زیارت دل کو نرم کرتی ہے، آنکھوں سے (خشیتِ الٰہی میں) آنسو بہاتی ہے اور آخرت کی یاد دلاتی ہے

اِسے امام حاکم نے روایت کیا ہے

أخرجه
الحاکم في المستدرک، کتاب الجنائز، 1 / 532، الرقم : 1394
*********************************************************************
13
عَنْ عَلِيٍّ رضی الله عنه قَالَ : نَهٰی رَسُوْلُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ. ثُمَّ قَالَ : إِنِّي کُنْتُ نَهَيْتُکُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ، فَزُوْرُوْهَا تُذَکِّرُکُمُ الآخِرَةَ

رَوَاهُ احْمَدُ وَابْنُ ابِي شَيْبَةَ وَاللَّفْظُ لَه

حضرت علی رضی اللہ عنہ بیان کرتے ہیں : حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے پہلے زیارتِ قبور سے منع فرمایا بعد میں آپ صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : میں نے تمہیں زیارتِ قبور سے منع کیا تھا اب تم ان کی زیارت کیا کرو کیونکہ یہ تمہیں آخرت کی یاد دلائے گی

اِسے امام احمد اور ابن ابی شیبہ نے مذکورہ الفاظ کے ساتھ روایت کیا ہے

أخرجه
احمد بن حنبل في المسند، 1 / 145، الرقم : 1235
وابن ابي شيبة في المصنف، 3 / 29، الرقم : 11806
وابو يعلی في المسند، 1 / 240، الرقم : 278
*********************************************************************
14
عَنْ عَبْدِ اﷲِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رضی الله عنه أَنَّ رَسُوْلَ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم قَالَ : إِنِّي کُنْتُ نَهَيْتُکُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ، وَاکْلِ لُحُوْمِ الْاضَاحِيِّ فَوْقَ ثَلَاثٍٍ، وَعَنْ نَبِيْذِ الْاوْعِيَةِ، ا لَا فَزُوْرُوْا الْقُبُوْرَ، فَإِنَّهَا تُزَهِّدُ فِي الدُّنْيَا، وَتُذَکِّرُ الآخِرَةَ

رَوَاهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ وَالْحَاکِمُ وَاللَّفْظُ لَه

حضرت عبد اﷲ بن مسعود رضی اللہ عنہ سے مروی ہے کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : میں تمہیں زیارتِ قبور سے منع کیا کرتا تھا، میں تمہیں تین دن کے بعد قربانی کے گوشت کو کھانے سے منع کیا کرتا تھا، اور برتن میں نبیذ سے منع کیا کرتا تھا، اب زیارتِ (قبور) کیا کرو کیونکہ یہ دنیا سے بے رغبتی پیدا کرتی ہے اور آخرت کی یاد دلاتی ہے

اِسے امام عبد الرزاق اور حاکم نے مذکورہ الفاظ کے ساتھ روایت کیا ہے

اخرجه
عبد الرزاق في المصنف، کتاب الجنائز، باب في زيارة القبور، 3 / 573، الرقم : 6714،
 والحاکم في المستدرک، 1 / 531، الرقم : 1387
 والبيهقي في السنن الکبری، 4 / 129، الرقم : 7197
*********************************************************************
15
 عَنْ ابِي سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ رضی الله عنه قَالَ : قَالَ رَسُولُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم : إِنِّي نَهَيْتُکُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ، فَزُوْرُوْهَا فَإِنَّ فِيْهَا عِبْرَةً
رَوَاهُ احْمَدُ وَالْحَاکِمُ
’حضرت ابو سعید خدری رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : میں نے تمہیں زیارتِ قبور سے منع کیا تھا، اب تم قبروں کی زیارت کیا کرو کیونکہ اس میں نصیحت اور عبرت ہے
اِسے امام احمد اور حاکم نے روایت کیا ہے
أخرجه
احمد بن حنبل في المسند، 3 / 38، الرقم : 11347
والحاکم في المستدرک، 1 / 530، الرقم : 1386
والبيهقي في السنن الکبری، 4 / 77، الرقم : 6988
******************************************************
***************
16
عَنْ امِّ سَلَمَةَ رضي اﷲ عنها قَالَتْ : قَالَ رَسُوْلُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم : نَهَيْتُکُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ، فَزُوْرُوْهَا فَإِنَّ لَکُمْ فِيْهَا عِبْرَةً
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ
اُم المؤمنین حضرت اُمِ سلمہ رضی اﷲ عنہا سے روایت ہے کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : میں نے تمہیں زیارتِ قبور سے منع کیا تھا، پس اب تم زیارت کیا کرو، بے شک اس میں تمہارے لیے نصیحت ہے
اِسے امام طبرانی نے روایت کیا ہے
 أخرجه
الطبراني في المعجم الکبير، 23 / 278، الرقم : 602
 والهيثمي في مجمع الزوائد، 3 / 58
والمبارکفوري في تحفة الاحوذي، 4 / 136
******************************************************
***************
17

عَنْ ابِي ذَرٍّ رضی الله عنه قَالَ : قَالَ لِي رَسُوْلُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم : زُرِ الْقُبُوْرَ تَذَکَّرْ بِهَا الْآخِرَةَ، وَاغْسِلِ الْمَوْتٰی فَإِنَّ مُعَالَجَةَ جَسَدِه مَوْعِظَةٌ بَلِيْغَةٌ، وَصَلِّ عَلَی الْجَنَائِزِ لَعَلَّ ذَالِکَ انْ يحْزِنَکَ فَإِنَّ الْحَزِيْنَ فِي ظِلِّ اﷲِ يَتَعَرَّضُ کُلَّ خَيْرٍ


رَوَاهُ الْحَاکِمُ وَالْبَيْهَقِيُّ وَالدَّيْلَمِيُّ وَقَالَ الْحَاکِمُ : رُوَاتُه عَنْ آخِرِهِمْ ثِقَاتٌ


حضرت ابو ذر غفاری رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : قبروں کی زیارت کیا کرو، اِس سے تمہیں آخرت کی یاد آئے گی، مُردوں کو غسل دیا کرو کہ اُن کے جسم کا بوسیدہ پن تمہارے لیے واضح نصیحت ہے. نماز جنازہ پڑھا کرو ہو سکتا ہے کہ وہ تمہیں غمگین کر دے اور اﷲ تعالیٰ کی بارگاہ میں غمگین ہونا ہر بھلائی کے آنے کا سبب ہے


اِسے امام حاکم نے روایت کیا اور فرمایا : اِس حدیث کے تمام راوی شروع سے آخر تک ثقہ ہیں


 أخرجه
الحاکم في المستدرک، کتاب الجنائز، 1 / 533، الرقم : 1395
وايضًا، 4 / 366، الرقم : 7941
والبيهقي في شعب الإيمان، 7 / 15، الرقم : 9291
والديلمي في مسند الفردوس، 2 / 294، الرقم : 3343
والمنذري في الترغيب والترهيب، 4 / 175، الرقم : 5309

******************************************************
***************

18

عَنْ عَائِشَةَ رضي اﷲ عنها قَالَتْ : قَالَ رَسُوْلُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم : زُوْرُوْا إِخْوَانَکُمْ وَسَلِّمُوْا عَلَيْهِمْ، وَصَلُّوْا عَلَيْهِمْ، فَإِنَّ لَکُمْ فِيْهِمْ عِبْرَةً

رَوَاهُ الدَّيْلَمِيُّ

اُم المؤمنین حضرت عائشہ صدیقہ رضی اﷲ عنہا سے مروی ہے کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : اپنے (فوت شدہ) بھائیوں کی زیارت کیا کرو، اُنہیں سلام کیا کرو اور اُن کے لیے رحمت کی دعا کیا کرو. بے شک اس میں تمہارے لیے عبرت ہے

اِسے امام دیلمی نے روایت کیا ہے

أخرجه
الديلمي في مسند الفردوس، 2 / 294، الرقم : 3341

******************************************************
***************

19

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رضی الله عنه، قَالَ : صَلّٰی رَسُوْلُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم عَلٰی قَتْلٰی احُدٍ، بَعْدَ ثَمَانِيَ سِنِيْنَ کَالْمُوَدِّعِ لِلْأَحْيَائِ وَالْامْوَاتِ، ثُمَّ طَلَعَ الْمِنْبَرَ، فَقَالَ : إِنِّي بَيْنَ أَيْدِيْکُمْ فَرَطٌ وَأَنَا عَلَيْکُمْ شَهِيْدٌ، وَإِنَّ مَوْعِدَکُمُ الْحَوْضُ، وَإِنِّي لَانْظُرُ إِلَيْهِ مِنْ مَقَامِي هٰذَا، وَإِنِّي لَسْتُ أَخْشٰی عَلَيْکُمْ أَنْ تُشْرِکُوْا، وَلٰکِنِّي أَخْشٰی عَلَيْکُمُ الدُّنْيَا أَنْ تَنَافَسُوْهَا. قَالَ : فَکَانَتْ آخِرَ نَظْرَةٍ نَظَرْتُهَا إِلٰی رَسُوْلِ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم


مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


حضرت عقبہ بن عامر رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے شہدائِ اُحد پر (دوبارہ) آٹھ سال بعد اس طرح نماز پڑھی گویا زندوں اور مُردوں کو الوداع کہہ رہے ہوں. پھر آپ صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم منبر پر جلوہ افروز ہوئے اور فرمایا : میں تمہارا پیش رو ہوں، میں تمہارے اُوپر گواہ ہوں، ہماری ملاقات کی جگہ حوضِ کوثر ہے اور میں اس جگہ سے حوضِ کوثر کو دیکھ رہا ہوں، مجھے تمہارے متعلق اس بات کا ڈر نہیں کہ تم (میرے بعد) شرک میں مبتلا ہو جاؤ گے بلکہ تمہارے متعلق مجھے دنیاداری کی محبت میں مبتلا ہو جانے کا اندیشہ ہے. حضرت عقبہ فرماتے ہیں کہ یہ میرا حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم کا آخری دیدار تھا (یعنی اس کے بعد جلد ہی آپ صلی اللہ علیہ وآلہ 
وسلم کا وصال ہو گیا


 یہ حدیث متفق علیہ ہے


أخرجه 
 البخاري في الصحيح، کتاب المغازي، باب غزوة أحد، 4 / 1486، الرقم : 3816
ومسلم في الصحيح، کتاب الفضائل، باب إثبات حوض نبينا صلی الله عليه وآله وسلم وصفاته، 4 / 1796، الرقم : 2296
وأبو داود في السنن، کتاب الجنائز، باب الميت يصلي علی قبره بعد حين، 3 / 216، الرقم 3224
وأحمد بن حنبل في المسند، 4 / 154
والطبراني في المعجم الکبير، 17 / 279، الرقم : 768

******************************************************
***************
20

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رضی الله عنه انَّ النَّبِيَّ صلی الله عليه وآله وسلم خَرَجَ يَوْمًا فَصَلّٰی عَلٰی اهلِ احُدٍ صَلَاتَه عَلَی الْمَيتِ، ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَی الْمِنْبَرِ فَقَالَ : إِنِّي فَرَطٌ لَکُمْ، وَانَا شَهِيْدٌ عَلَيْکُمْ، وَإِنِّي، وَاﷲِ، لَانْظُرُ إِلٰی حَوْضِي الْآنَ، وَإِنِّي اعْطِيْتُ مَفَاتِيْحَ خَزَائِنِ الْارْضِ اوْ مَفَاتِيْحَ الْارْضِ، وَإِنِّي، وَاﷲِ، مَا اخَافُ عَلَيْکُمْ انْ تُشْرِکُوْا بَعْدِي، وَلٰکِنْ اخَافُ عَلَيْکُمْ انْ تَنَافَسُوْا فِيْهَا


 مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


حضرت عقبہ بن عامر رضی اللہ عنہ روایت کرتے ہیں کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم ایک دن باہر تشریف لائے اور غزوۂ اُحد کے شہداء پر نماز جنازہ ادا فرمائی جس طرح (عام) مُردوں پر پڑھی جاتی ہے. پھر آپ صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم منبر پر جلوہ افروز ہوئے اور خطبہ ارشاد فرمایا : بے شک میں تمہارا پیش رو اور تم پر گواہ ہوں. بیشک اﷲ تعالیٰ کی قسم! میں اپنے حوض (کوثر) کو اس وقت بھی دیکھ رہا ہوں، اور بیشک مجھے زمین کے خزانوں کی کنجیاں (یا فرمایا : زمین کی کنجیاں) عطا کر دی گئی ہیں، اور خدا کی قسم! مجھے یہ ڈر نہیں کہ میرے بعد تم شرک کرنے لگو گے بلکہ مجھے ڈر اس بات کا ہے کہ تم دنیا کی محبت میں مبتلا ہو جاؤ گے


یہ حدیث متفق علیہ ہے


أخرجه
 البخاري في الصحيح، کتاب الجنائز، باب الصلاة علی الشهيد، 1 / 451، الرقم : 1279
ومسلم في الصحيح، کتاب الفضائل، باب إثبات حوض نبينا وصفاته، 4 / 1795، الرقم : 2296
واحمد بن حنبل في المسند، 4 / 149، الرقم : 17382
وابن حبان في الصحيح، 7 / 473، الرقم : 3198
وابن عبد البر في التمهيد، 2 / 302

******************************************************
***************
21

عَنْ ابِي هُرَيْرَةَ رضی الله عنه انَّ امْرَاةً سَوْدَائَ کَانَتْ تَقُمُّ الْمَسْجِدَ، اوْ شَابًّا، فَفَقَدَهَا رَسُوْلُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم ، فَسَالَ عَنْهَا اوْ عَنْهُ فَقَالُوْا : مَاتَ. قَالَ : افَلَا کُنْتُمْ آذَنْتُمُوْنِي! قَالَ : فَکَانَّهُمْ صَغَّرُوْا امْرَهَا اوْ امْرَه، فَقَالَ : دُلُّوْنِي عَلٰی قَبْرِه فَدَلُّوْهُ، فَصَلّٰی عَلَيْهَا ثُمَّ قَالَ : إِنَّ هذِهِ الْقُبُوْرَ مَمْلُوْئَةٌ ظُلْمَةً عَلٰی اهلِهَا، وَإِنَّ اﷲَ ينَوِّرُهَا لَهُمْ بِصَلَاتِي عَلَيْهِمْ


مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ


حضرت ابو ہریرہ رضی اللہ عنہ بیان کرتے ہیں کہ ایک حبشی عورت یا ایک نوجوان مسجد کی صفائی کیا کرتا تھا، پھر (کچھ دن) حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے اُسے موجود نہ پایا، تو اُس کے متعلق دریافت فرمایا : صحابہ کرام نے عرض کیا : یا رسول اللہ! وہ فوت ہوگیا ہے. آپ صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : تم نے مجھے بتایاکیوں نہیں؟ راوی بیان کرتے ہیں : گویا صحابہ کرام نے اس کی موت کو اتنی اہمیت نہ دی تھی. تو آپ صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : مجھے اُس کی قبر کے بارے میں بتاؤ. صحابہ کرام نے آپ صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم کو اُس کا مقام تدفین بتایا، پھر آپ صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے (خود وہاں تشریف لے جا کر) اس کی نماز جنازہ ادا کی اور فرمایا : یہ قبریں ان قبر والوں کے لیے ظلمت اور تاریکی سے بھری ہوئی ہیں، اور بے شک اللہ تعالیٰ میری ان پر پڑھی گئی نماز جنازہ کی بدولت (ان کی تاریک قبور میں) روشنی فرما دے گا


یہ حدیث متفق علیہ ہے، مذکورہ الفاظ مسلم کے ہیں


أخرجه 
البخاري في الصحيح،کتاب الصلاة، باب کنس المسجد، 1 / 175.176، الرقم : 446، 448
ومسلم في الصحيح،کتاب الجنائز، باب الصلاة علی القبر، 2 / 659، الرقم : 956
وأبو داود في السنن،کتاب الجنائز، باب الصلاة علی القبر، 3 / 211، الرقم : 3203
وابن ماجه في السنن، کتاب ما جاء في الجنائز، باب ما جاء في الصلاة علی القبر، 1 / 489، الرقم : 1527.1529
وأحمد بن حنبل في المسند، 2 / 388، الرقم : 9025


******************************************************
***************
22

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي اﷲ عنهما قَالَ : مَرَّ رَسُوْلُ اﷲِ صلی الله عليه وآله وسلم عَلٰی قَبْرَيْنِ، فَقَالَ : إِنَّهُمَا لَيعَذَّبَانِ وَمَا يعَذَّبَانِ فِي کَبِيْرٍ، امَّا هذَا فَکَانَ لَا يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِه، وَامَّا هذَا فَکَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيْمَةِ. ثُمَّ دَعَا بِعَسِيْبٍ رَطْبٍ، فَشَقَّه بِاثْنَيْنِ فَغَرَسَ عَلٰی هذَا وَاحِدًا وَعَلٰی هذَا وَاحِدًا. ثُمَّ قَالَ : لَعَلَّه يخَفَّفُ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا


مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


حضرت عبد اللہ بن عباس رضی اﷲ عنہما بیان کرتے ہیں کہ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم دو قبروں کے پاس سے گزرے تو آپ صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : اِن دونوں مُردوں کو عذاب دیا جا رہا ہے اور اُنہیں کسی بڑے گناہ کے سبب عذاب نہیں دیا جا رہا. ان میں سے ایک تو اپنے پیشاب سے احتیاط نہیں کرتا تھا. جب کہ دوسرا غیبت کیا کرتا تھا. پھر آپ صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے ایک تر ٹہنی منگوائی اور چیر کر اُس کے دو حصے کر دیئے. ایک حصہ ایک قبر پر اور دوسرا حصہ دوسری قبر پر نصب کر دیا. پھر فرمایا : جب تک یہ خشک نہ ہوں گی ان کے عذاب میں تخفیف رہے گی


یہ حدیث متفق علیہ ہے


أخرجه 
البخاري في الصحيح، کتاب الادب، باب الغيبة، 5 / 2249، الرقم : 5705
ومسلم في الصحيح، کتاب الطهارة، باب الدليل علی نجاسة البول ووجوب الاستبراء منه، 1 / 240، الرقم : 292
والنسائي في السنن، کتاب الطهارة، باب التنزه عن البول، 1 / 30، الرقم : 31
وابو داود في السنن،کتاب الطهارة، باب الاستبراء من البول، 1 / 6، الرقم : 20


******************************************************
***************
23

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي اﷲ عنهما قَالَ : مَرَّ النَّبِيُّ صلی الله عليه وآله وسلم بِقَبْرَيْنِ فَقَالَ : إِنَّهُمَا لَيعَذَّبَانِ، وَمَا يعَذَّبَانِ فِي کَبِيْرٍ، امَّا احَدُهُمَا فَکَانَ لَا يَسْتَتِرُ مِنَ الْبَوْلِ، وَامَّا الْآخَرُ فَکَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيْمَةِ. ثُمَّ اخَذَ جَرِيْدَةً رَطْبَةً، فَشَقَّهَا نِصْفَيْنِ، فَغَرَزَ فِي کُلِّ قَبْرٍ وَاحِدَةً. قَالُوْا : يَا رَسُوْلَ اﷲِ، لِمَ فَعَلْتَ هذَا؟ قَالَ : لَعَلَّه يخَفِّفُ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا


مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


حضرت عبد اللہ بن عباس رضی اﷲ عنہما سے مروی ہے کہ حضورنبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم دو قبروں کے پاس سے گزرے جن میں عذاب دیا جا رہا تھا. آپ صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : ان کو عذاب دیا جا رہا ہے اور کسی کبیرہ گناہ کی وجہ سے عذاب نہیں دیا جا رہا. ایک پیشاب کے چھینٹوں سے احتیاط نہیں کرتا تھا جبکہ دوسرا چغلی کرتا تھا. پھر آپ صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے ایک سبز ٹہنی لی اور اُس کے دو حصے کیے. پھر ہر قبر پر ایک حصہ گاڑ دیا. لوگوں نے عرض کیا : یا رسول اللہ! آپ نے یہ عمل کیوں کیا؟ آپ صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : اِن کے باعث اِن کے عذاب میں تخفیف رہے گی جب تک یہ سوکھ نہ جائیں


 یہ حدیث متفق علیہ ہے


أخرجه 
 البخاري في الصحيح، کتاب الوضوء، باب ما جاء في غسل البول، 1 / 88، الرقم : 215
ومسلم في الصحيح، کتاب الطهارة، باب الدليل علی نجاسة البول ووجوب الاستبراء منه، 1 / 240
والنسائي في السنن، کتاب الجنائز، باب وضع الجريدة علی القبر، 4 / 106، الرقم : 2069
وابن حبان في الصحيح، 7 / 398، الرقم : 3128
واحمد بن حنبل في المسند، 1 / 225، الرقم : 1980

Hadeeth e Nur of Jabir bin ‘Abdullah (Radi ALLAH Ta’ala ‘Anhu)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا

وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُّنِيرًا

اے نبیِ (مکرّم!) بیشک ہم نے آپ کو (حق اور خَلق کا) مشاہدہ کرنے والا اور (حُسنِ آخرت کی) خوشخبری دینے والا اور (عذابِ آخرت کا) ڈر سنانے والا بنا کر بھیجا ہے

اور اس کے اِذن سے اللہ کی طرف دعوت دینے والا اور منوّر کرنے والا آفتاب (بنا کر بھیجا ہے)

Sorat Al Ahzaab (45-46)

************************************************

Hadeeth of Jabir Bin ‘Abdullah (Radi ALLAH Ta’ala ‘Anhu) 

Al-Juz al-Mafqud min al-Juz al-Awwal min al-Musannaf Abdur Razaq, Publish: Dar al-Muhadith, Riyadh/Saudia
It is narrated by Imam Abdur Razaq from Mua’mar, from Ibn al-Mankadr, from Jabir ibn `Abd Allah said to the Prophet (Peace Be Upon Him) : “O Messenger of Allah (Peace Be Upon Him), may my father and mother be sacrificed for you, tell me of the first thing Allah created before all things.” He (Peace Be Upon Him) said: “O Jabir, the first thing Allah created was the light of your Prophet from His light, and that light remained (lit. “turned”) in the midst of His Power for as long as He wished, and there was not, at that time, a Tablet or a Pen or a Paradise or a Fire or an angel or a heaven or an earth. And when Allah wished to create creation, he divided that Light into four parts and from the first made the Pen, from the second the Tablet, from the third the Throne, [and from the fourth everything else]…….” [Musannaf Abdur Razaq, al-Juz al-Mafqud min al-Juz al-Awwal min al-Musannaf Abdur Razaq, Page No. 99, Hadith Number 18]
حضرت جابر بن عبد اﷲ رضی اﷲ عنہما سے مروی ہے فرمایا کہ میں نے بارگاہِ رسالت مآب صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم میں عرض کیا : یا رسول اﷲ! میرے ماں باپ آپ پر قربان! مجھے بتائیں کہ اﷲ تعالیٰ نے سب سے پہلے کس چیز کو پیدا کیا؟ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : اے جابر! بے شک اﷲ تعالیٰ نے تمام مخلوق (کو پیدا کرنے) سے پہلے تیرے نبی کا نور اپنے نور (کے فیض ) سے پیدا فرمایا، یہ نور اللہ تعالیٰ کی مشیت سے جہاں اس نے چاہا سیر کرتا رہا۔ اس وقت نہ لوح تھی نہ قلم، نہ جنت تھی نہ دوزخ، نہ (کوئی) فرشتہ تھا نہ آسمان تھا نہ زمین، نہ سورج تھا نہ چاند، نہ جن تھے اور نہ انسان، جب اﷲ تعالیٰ نے ارادہ فرمایا کہ مخلوق کو پیدا کرے تو اس نے اس نور کو چار حصوں میں تقسیم کر دیا۔ پہلے حصہ سے قلم بنایا، دوسرے حصہ سے لوح اور تیسرے حصہ سے عرش بنایا۔ پھر چوتھے حصہ کو (مزید) چار حصوں میں تقسیم کیا تو پہلے حصہ سے عرش اٹھانے والے فرشتے بنائے اور دوسرے حصہ سے کرسی اور تیسرے حصہ سے باقی فرشتے پیدا کئے۔ پھر چوتھے حصہ کو مزید چار حصوں میں تقسیم کیا تو پہلے حصہ سے آسمان بنائے، دوسرے حصہ سے زمین اور تیسرے حصہ سے جنت اور دوزخ بنائی۔ ۔ ۔ یہ طویل حدیث ہے۔

References

From : ‘Abdur Razzaq
Book : Al Musannaf (Juz Al Mafqood min Juz Al Awwal min Musannaf)
Volume : 1
Hadith number : 18

From : Qustalani
Book : Mawahib Al Laduniyah
Volume : 1
Page : 71

Imam Qustulani nain farmaya:
“Yeh Abdur Razzaq ki rawyat hay jisy unhoun nain apni Sanad say Hazrat Jabir Bin Abdullah R.A say rawayat kiya hay.”

From : ‘Ajluni (Isma`il ibn Muhammad d. 1162)
Book : Kashaf Al Khifa
Volume : 1
Page : 311
Hadith number : 827

Imam ‘Ajluni nain farmaya:
“Yeh Abdur Razzaq ki rawyat hay jisy unhoun nain apni Sanad say rawayat kiya hay.”

From : ‘Iydarusi
Book : Tarekh An Nur as Saafir
Volume : 1
Page : 8

Imam ‘Iydarusi nain farmaya:
“Yeh Abdur Razzaq ki rawyat hay jisy unhoun nain apni Sanad say rawayat kiya hay.”

From : Halabi
Book : As Sirah
Volume : 1
Page : 50

From : Muhaddith ‘Abdur Haq Dihlavi
Book : Madarij al-Nubuwwa
He declared this Hadeeth Sound and Authentic

From : Ahmad al-Shami Son of Ibn e `Abidin

Book : commentary on Ibn Hajar al-Haytami’s poem al-Ni`mat al-kubra `ala al-`alamin

From : Nabhani

Book : Jawahir Al Bihar

Volume : 3

Page : 354

From : Ashraf Ali Thanwi
Book : Nashr At tayyib
Volume : 1
Page : 13

*****************************************************************

Validation and the History of the Juz Al Mafqood, Musannaf Abdur Razzaq

When the Musannaf Abdur Razzaq was first published it was incomplete according to its preface as shown in the picture below:

Translation :
This copy that we found was copied or written and we adopted this copy to use, all this copy is not complete. So to tell the people that this copy is not complete we left one empty paper and we wish that the Islamic Scholars will help us to fill this part.

******************************************************************

The Proof of existence of this Hadith

Many of the greatest scholars have mentioned this hadith in their books and have directed its origins towards Abdur Razzaq, which is enough to prove the validity and existence of this hadeeth.

Proofs

  1. From : Qustalani

Book : Mawahib Al Laduniyah

Volume : 1

Page : 71

Imam Qustulani nain farmaya:

“Yeh Abdur Razzaq ki rawyat hay jisy unhoun nain apni Sanad say Hazrat Jabir Bin Abdullah R.A say rawayat kiya hay.”

  1. From : ‘Ajluni (Isma`il ibn Muhammad d. 1162)

Book : Kashaf Al Khifa

Volume : 1

Page : 311

Hadith number : 827

Imam ‘Ajluni nain farmaya:

“Yeh Abdur Razzaq ki rawyat hay jisy unhoun nain apni Sanad say rawayat kiya hay.”

  1. From : ‘Iydarusi

Book : Tarekh An Nur as Saafir

Volume : 1

Page : 8

Imam ‘Iydarusi nain farmaya:

“Yeh Abdur Razzaq ki rawyat hay jisy unhoun nain apni Sanad say rawayat kiya hay.”

  1. From : Halabi

Book : As Sirah

Volume : 1

Page : 50

  1. From : Ashraf Ali Thanwi

Book : Nashr At tayyib

Volume : 1

Page : 13

  1. `Abd al-Haqq al-Dihlawi (d. 1052) the Indian hadith scholar cites it as evidence in Madarij al-nubuwwa (in Persian, 2:2 of the Maktaba al-nuriyya edition in Sakhore) and says it is is sahih (sound and authentic).
  1. `Abidin (Ahmad al-Shami d. 1320), the son of the Hanafi scholar Ibn `Abidin, cites the hadith as evidence in his commentary on Ibn Hajar al-Haytami’s poem al-Ni`mat al-kubra `ala al-`alamin.
  1. Nabahani cites it in his Jawahir al-bihar (3:354).

*******************************************************************

The Missing Chapter of Musnnaf

After detailed search around the world, this chapter was finally found in a library situated in Turkey.

The following shows the original text:

You can see the details about its research and download this complete missing chapter from the following link.

http://sunnah.org/sources/musannaf/musannaf_f.htm

*****************************************************************

Clear text of this old manuscript.

Note : The hadith that will be cleared is not the Hadeeth e Nur of Jabir bin Abdullah (Radi ALLAH Ta’ala ‘Anhu) as it is Hadeeth number 18 of that chapter.
I am going to clear some part of the 1st hadith of this manuscript, which is also a proof of Nur e Muhammad (SALLALAHU A’LAIHAY WA ALIHE WASALLAM)

Chapter name :

Clear form

——————————————————————————–

Chain of narrators

Clear form

———————————————————————————-

Clear form

—————————————–—————————————————–

Clear Form

—————————————————–——————————————-

Clear Form


 

Clear form



Clear form

—————————————–

———–

Clear Form

—————————————–———————————————————–

Clear Form

—————————————–———————————————————

Clear form


——————————————————–

Clear from

****************************************************************

Complete Hadith e Nur in Arabic

1/4

 

2/4

3/4

4/4

 

*********************************************************************

Details of its narrators and their Jarah wa Ta’deel

Chain of this hadtih

(1) Abdur Razzaq===(2) Ma’mar Bin Rashid===(3) Muhammad bin Munkdar===(4) Jabir Bin Abdullah (Radi ALLAH Ta’ala ‘Anhu)

———————————————————————————————-

  1. ‘Abdur Razzaq:

Name : ‘Abdur-Razzaq bin Humam bin Nafi’ al-Himyari As-San’ani
Kunniyyat : Abu Bakr
Birth : 126 AH (Yemen)
Death : 211 AH
Places of stay : Yemen/Hijaz/Syria/Iraq
Area of Interest : Hadith, History, Seerah
Grade : Thiqah Hafiz

Teachers/Narrated from :

  • Imam Malik,
  • Imam Abu Haneefah
  • Ayman bin Nabil,
  • ‘Ikrama bin ‘Ammar,
  • Ibn Jurayj,
  • ‘Ubaidullah bin ‘Umar bin Hafs,
  • ‘Abdullah bin ‘Umar bin Hafs bin ‘Asim,
  • Ma’mar bin Rashid,
  • Sufyan bin Sa‘id Ath-Thawri,
  • Sufyan bin ‘Uyaynah,
  • Yonus bin Slym al-Sn’any,
  • Isra’il bin Yonus bin Abi Ishaq.
    and many others

Students/Narrate by : 

 

  • Imam Ahmad Bin Hanbal
  • Sufyan bin ‘Uyaynah,
  • Waki’ bin al-Jarrah,
  • Hmad bin Usamah,
  • Ishaq bin Mansur al-Kausaj,
  • Ahmed bin Yusuf bin Khalid,
  • al-Hasan bin ‘Ali bin Muhammad,
  • ‘Abdur Rahman bin Bashr,
  • ‘Abd bin Hameed bin Nasr,
  • Muhammad bin Rafa’i,
  • Muhammad bin Mhran,
  • Mhmwd bin Ghylan al-Dwy,
  • Muhammad bin Yahya,
  • Ahmed bin Salah al-Masri,
  • Ishaq bin Ibrahim bin Nsr,
  • Ahmed bin al-Frat bin Khalid,
  • Zuhayr bin Harb,
  • Ahmed bin Salah al-Masri,
  • ‘Abdullah bin Muhammad al-Musandi,
  • Salmah bin Shbyb,
  • ‘Amr bin Muhammad bin Bukayr (al-Naqid),
  • Muhammad bin Yahya bin Abi ‘Umar,
  • Hajjaj bin Yusuf bin al-Sha’ir,
  • Yahya bin Ja’far bin A’yn al-Baykandi,
  • Yahya bin Musa Khat,
  • Ishaq bin Ibrahim bin Nsr,
  • Ishaq bin Mansur al-Kausaj,
  • Ahmed bin Yusuf bin Khalid, al-Hasan bin ‘Ali bin Muhammad,
  • ‘Abdur Rahman bin Bashr,
  • ‘Abd bin Hameed bin Nasr,
  • Muhammad bin Rafa’i,
  • Muhammad bin Mhran,
  • Mhmwd bin Ghylan al-Dwy,
  • Ishaq bin Rahwaya,
  • Yahya bin Ma’in,
  • ‘Ali bin al-Madini,
  • Ahmed bin al-Frat bin Khali

 

  • And many others
    ——————————————————————————–

Imam ‘Abdur Razzaq as a narrator

Imam Abdur Razzaq is a well known Reliable narrator without any doubt .
He is one of the central narrator of Sihah Sitta specially Sahi Bukhari and Sahi Muslim.
Sahi Bukhari have approximately 120 narrations from Imam ‘Abdur Razzaq.
And more than 50 of them are narrated by the chain of “Abdur Razzaq from Ma’mar bin Rashid.”
Sahi Muslim have approximately 289 narrations from Imam ‘Abdur Razzaq.
And 277 of them are narrated by the chain of “Abdur Razzaq from Ma’mar bin Rashid.”

——————————————————————————–

Comments of Muhaddithen on Imam ‘Abdur Razzaq



1.

Jarah o Ta’deel k Imam, Yahya bin Ma’in Farmaty hain:

Agr Imam ‘Abdur Razaq Murtad bhi ho jaen (Ma’az ALLAH) to hum us say hadeeth layna tark na karain gay (Yani phir bhi hadeeth lain gy)

From : Ibn e hajr ‘Asqalani
Book : Tahdheeb At Tahdeeb
Volume : 6
Page : 314

From : Ibn e Hajr ‘Asqalani
Book : Mizan Al ‘Itidal
Volume : 2
Page : 612

2.

Imam Ibn e Hajr ‘Asqalani nain inko Thiqah aur Hafiz Likha hay.

From : Ibn e hajr
Book : Taqreeb at Tahdheeb
Page : 354
Rawi Number : 4064

3.


Imam Ahmad bin Saleh nain Imam Ahmad bin Hambal (R) say pucha:
Kya Ap Imam ‘Abdur Razzaq say bhad kar kisi hadeeth jannywaly kisi ‘Alim ko janty hain?
Ap nain farmaya: Nahi (main nahi janta)

From : Ibn e hajr ‘Asqalani
Book : Tahdheeb At Tahdeeb
Volume : 6
Page : 311

4.

Imam Abu Zar’dah farmaty hain:
Imam ‘Abdur Razzaq un ulama main say hain jin ki Hadeeth mu’tabar (‘itibaar k qabil) hay.

From : Ibn e hajr ‘Asqalani
Book : Tahdheeb At Tahdeeb
Volume : 6
Page : 311

5.

Imam Ahmad Bin Hambal nain farmaya k:
Imam ‘Abdur Razzaq jo hadeeth Ma’mar (the rawi of Hadeeth e nur) say rawayat karty hain wo Mere nazdeek un basriyun k rawayat say zyada mahboob hay.

From : Ibn e hajr ‘Asqalani
Book : Tahdheeb At Tahdeeb
Volume : 6
Page : 312
—————————————————————————————
A refutation of those who call Imam Abdur Razzaq a Shia
(Imam Abdur Razzaq par Shia honay k Ilzam ka radd)


1.

Imam Abdur Razzaq Hazrat Ameer mu’awiyah say hadeeth bayan kar k farmaty hain,

“is (Hadeeth) par Hamara ‘Amal hay.”

From : Abdur Razzaq
Book : Al Musannaf
Volume : 3
Chapter : Ma Baina Al Jumu’ah wama Qablaha
Page : 249
Hadith number : 5534

2.

Imam ‘Abdur Razzaq Hazrat Umer Bin khattab R.A say hazrat Umme Kalthum R.A ka nikaah hona bayan farma kar mazeed bayan farmaty hain k yeh Umme Kalthum Sayyidah Fatima Az Zahra R.A ki Sahab Zadi hain.

From : Abdur Razzaq
Book : Al Musannaf
Chapter : Nikah As Sagheereen (Chotoon ka Nikah)
Volume : 6
Page : 163-164
Hadith number : 10354

3.

Imam Abdur Razzaq nain farmaya k mera dil kabhi is par mutmain nahi hua k main Hazrat abu Bakr, Hazrat umer (Radi ALLAH ‘Anhum) par Hazrat Ali (Radi ALLAH ‘Anhu) ko Afzaliyyat dun ,

From : Ibn e Hajr ‘Asqalani
Book : Mizan Al ‘Itidal
Volume : 2
Page : 612

4.

‘Ubaid ALLAH bin Mosa jo k Sihah sitta k rawi hain aur Thiqah hain in say Imam Ahmad Bin Hambal (R) nain in k shia honay ki waja say rawayat nahi li.

Imam Ahmad Bin Hambal (R) say jab is Sawal kiya gaya k Aap Imam ‘Abdur Razzaq say rawayat layty hain magar ‘Ubaid ALLAH bin Mosa say rawayat kiyun nahi lyty.
To Imam Ahmad bin Hambal nain farmaya k

“Imam ‘Abdur Razzaq nain is (Shi’iyyat) say Ruju’ kar liya tha.”

From : Ibn e Hajr ‘Asqalani
Book : Tahdeeb At Tahdheeb
Volume : 7
Page : 53

5.

Abu Bakr Bin Zanjwiyyah bayan karty hain k Imam Abdur Razzaq nain farmaya :
“Raafdhi (the extremist shias) kaafir hain.”

From : Ibn e hajr ‘Asqalani
Book : Mizan Al ‘Itadaal
Volume : 2
Page : 613
**************************************************************
2.  Ma’mar bin Rashid

Name: Ma’mar bin Rashid
Birth Date/Place: 95 or 96 AH (Basrah)
Death Date/Place:154 AH
Places of Stay: Basrah/Medinah/Yemen
Area of Interest: Narrator[Grade:Thiqah Thiqah] Hadith, Seerah, History

Teachers/Narrated From:

  • Muhammad bin al-Munkdar bin ‘Abdullah,
  • Thabit bin Aslam Albanani,
  • Qatada, al-Zuhri,
  • ‘Asim al-Ahwal,
  • Ayoub al-Sakhtiyani,
  • al-J’d bin Dinar al-Yshkry,
  • Zayd bin Aslam,
  • Salah bin Kaysan al-Madni,
  • ‘Abdullah bin Tawus,
  • Ja’far bin Brqan,
  • al-Hakam bin Aban,
  • Asha’th bin ‘Abdullah bin Jabir,
  • Isma’il bin Umayya bin ‘Amr,
  • Thmamh bin ‘Abdullah,
  • Bahz bin Hakim bin Mu’awiya al-Qushayri,
  • Smak bin al-Fadl al-Khwlany,
  • ‘Abdullah bin ‘Uthman bin Khuthaym,
  • ‘Abdullah bin ‘Umar bin Hafs bin ‘Asim,
  • Yahya bin Abi Kathir,
  • Hmam bin Mnbh bin Kaml,
  • Hisham bin ‘Urwa,
  • ‘Amr bin Dinar,
  • ‘Ata’ bin Abi Muslim,
  • Abd al-Krym bin Malik,
    And many others

Students/Narrated By:

  • ‘Abdur-Razzaq,
  • Yahya bin Abi Kathir,
  • Abu Ishaq al-Sabay’ai’,
  • Ayoub al-Sakhtiyani,
  • ‘Amr bin Dinar,
  • Sa’id bin Abi ‘Aruba,
  • Aban bin Yazid al-Tar,
  • Ibn Jurayj,
  • ‘Imran bin Da’ud al-‘Ami Abu al-‘Awwam,
  • Hisham bin Abi ‘Abdullah al-Dastawa’i,
  • Salam bin Abi Mty’,
  • Shu’bah bin al-Hajjaj,
  • Sufyan bin Sa‘id Ath-Thawri,
  • Sufyan bin ‘Uyaynah,
  • ‘Abdullah bin Mubarak,
  • ‘Abdul A’ala bin ‘Abdul A’ala al-Sami,
  • ‘Isa bin Yonus bin Abi Ishaq,
  • Ma’tmar bin Sulaiman-al-Taufayl,
  • Yazid bin Zari’,
  • ‘Abdul Majeed bin ‘Abdul ‘Aziz,
  • ‘Abdul Wahid bin Ziyad,
  • Isma’il bin Ibrahim – Ibn ‘Aliya,
  • Muhammad bin Hameed,
  • Abu Sufyan,
  • Muhammad bin Ja’far Ghandar,
  • Hisham bin Yusuf al-Sana’i,
  • Muhammad bin Thwr al-Sn’any,
  • ‘Abdullah bin Mua’dh,
  • Muhammad bin Kathir bin Abi ‘Ata’
    And many others

———————————————————————

Imam Ma’mar bin Rashid as a narrator



Imam Ma’mar bin rashid is also one of the central narrators of Bukhari and Muslim,
Sahi Bukhari have approximately 225 narrations from him.
And Sahi Muslim have approximately 300 narrations from him.

———————————————————————

Comments of Muhadditheen

1.

Imam Ibn e Sa’d nain Ma’mar bin Rashid k bary main farmaya hay k yeh Imam Hasan Basri R.A k janazy main shamil thy.

Aur In say Imam Abdullah Bin Mubarak aur Imam Abdur Razzaq nain rawayat li hy aur yeh Faqeeh, Muttaqi aur Hafiz thy.

From : Ibn e Sa’d

Book : Thiqat

Volume : 7

Rawi number : 11070

2.


Imam Ibn e Hajr ‘Asqalni nain farmaya k Ma’mar bin Rashid thiqah thabat faazal hain.

From : Ibn e Hajr

Book : Taqreeb At Tahdheeb

Volume : 2

Page : 202

publish from dar Al Kutub AL i’lmiyyah Beirut Lebanon in 1995

*************************************************************

  1. Muhammad bin Munkdar

Name : Muhammad bin al-Munkdar bin ‘Abdullah bin al-Hudayr bin ‘Abdul ‘Uzza b. ‘Amir b. al-Harith
Birth : 30 AH (Madina)
Death : 130 AH
Place of stay : Madina
Grade : Thiqah

Teachers/Narrated from :

Jabir ibn ‘Abdullah,
Al-Munkdar bin ‘Abdullah bin al-Hudayr,
Rabi’a bin ‘Abdullah bin al-Hudayr,
Abu Hurairah,
‘Aisha bint Abi Bakr,
Abu Ayyub al-Ansari,
Rabi’yah bin ‘Aabad al-D’ila,
Safinah,
Abu Qatada ibn Rab’i,
Umayma bint Ruqayqa,
Mas’ud bin al-Hakam bin al-Rabi’,
Anas bin Malik,
Abu Umama bin Sahl,
Yusuf bin ‘Abdullah bin Salam,
‘Abdullah ibn al-Zubayr,
ibn Abbas,
ibn Umar,
Sa’id ibn al-Musayyib,
‘Ubaidullah bin Abi Rafi’,
‘Urwa ibn al-Zubayr,
Mu’adh bin ‘Abdur Rahman bin ‘Uthman,

And Many others

Students/Narrated By:

Yusuf bin Muhammad bin al-Munkdar,
al-Munkdar bin Muhammad bin al-Munkdar,
Ibrahim bin Abi Bakr bin al-Mnkdr,
Zayd bin Aslam,
‘Amr bin Dinar,
al-Zuhri,
Ayoub al-Sakhtiyani,
Ja’far bin Muhammad bin ‘Ali (Imam ja;far As Saadiq),
Muhammad bin Wasi’ bin Jabir,
Sa’d bin Ibrahim,
Suhayl bin Abi Salah,
Ibn Jurayj,
‘Ali bin Zayd bin ‘Abdullah bin Zuhayr,
Musa bin ‘Uqba,
Hisham bin ‘Urwa,
Imam Maalik,
Habib bin al-Shaheed al-Azdi,
Rwh bin al-Qasim al-Tmymy,

Shu’bah bin al-Hajjaj,
Shu’aib bin Abi Hamza, ‘
Abdur Rahman bin Aby,
‘Abdur Rahman bin ‘Amr al-Awza’i,
Sufyan bin Sa‘id Ath-Thawri,
Wadah bin ‘Abdullah al-Yashkari,
Sufyan bin ‘Uyaynah

And Many Others

——————————————————-

Imam Muhammad Bin Munkdar as a narrator

He is one of the Narrators of sahi Bukhari and Sahi Muslim.
Bukhari Narrates more than 30 narrations from him and Sahi Muslim have 22 narrations reported from him.
There are 29 narrations in Sahi bukhari which are narrated by Muhammad Bin Munkadar from jabir Bin Abdullah R.A.

There are 14 narrations in Sahi Muslim which are narrated by Muhammad Bin Munkadar from jabir Bin Abdullah R.A.

———————————————————————–

Comments of Muhadditheen

1.

Imam Humaidi nain farmaya :

Ibn e Munkdar Hafiz hain.

Imam e Jarah o Ta’deel Ibn e Ma’in nain farmaya:

wo Thiqah hain

Imam Tirmidhi nain farmaya k mana Muhammad (Imam Bukhari) say pucha k kya Muhammad Bin Munkdar nain Hazrat ‘Ayesha R.A say Hadeeth ka Sima kiya hua hy? To Imam Bukhari nain farmaya : Han.

From : Ibn e Hajr ‘Asqalani

Book : Tahdeeb At Tahdeeh

Volume : 9

Rawi number : 11048
*****************************************************************
Other narrations which proves Muhammad (Peace Be Upon Him) as Noor e Awwal.


1. Imam Bayhaqi
Front Cover, Dala’il un Nubuwwah, Published by Dar al-Kutub al-Ilmiyah, Beirut, Lebanon


Translation:
Abu Hurraira (ra) narrates from the Messenger of Allah (May Peace be upon him) that he said:
When Allah created Adam (Peace be upon him) He informed him of his descendants, at this Adam (Peace be upon him) saw superiority of some over others, then he saw me towards the end in form of an “ILLUMINATING NUR” (i.e. the Last of the Prophets to be sent) he (Adam) said: O my Lord who is this? The Lord replied: This is your son Ahmed who is the first and the last and (on the Day of Judgment) he will be first to do intercession.

[Bayhaqi, Dala’il un Nubuwwah: Volume 005, Page No. 483]

Imam Jalal ud din suyuti declared the chain of this hadith as Hasan.
Other references of this narration

#1
From : Ibn e Abi ‘Aasim
Book : Al Awaael
Volume : 1
Page : 61
Hadith number 5

#2
From : Ibn e ‘Asakir
Book : Tareekh Madina Damishq
Volume : 42
Page : 67
#3
From : Imam Jalal ud din As Suyuti
Book : Khasais Al Kubra
Volume : 1
Page : 39
*****************************************************************
2. Imam Abu Abdullah Ibn al-Haaj al-Maliki


Al -Madkhal, Imam Abu Abdullah Ibn al-Haaj al-Maliki, Publish: Dar al-Turath, Qahira


Imam Abu Abdullah Ibn al-Haaj al-Maliki (D. 736) writes:

“The first thing Allah created is the light (Nur) of Muhammad (Peace Be Upon Him), and that light came and prostrated before Allah. Allah divided it into four parts and created from the first part the Throne, from the second the Pen, from the third the Tablet, and then similarly He subdivided the fourth part into parts and created the rest of creation. Therefore the light of the Throne is from the light of Muhammad, the light of the Pen is from the light of Muhammad (Peace Be Upon Him), the light of the Tablet is from the light of Muhammad, the light of day, the light of knowledge, the light of the sun and the moon, and the light of vision and sight are all from the light of Muhammad (Peace Be Upon Him).

[Al-Madkhal, Volume 002, Page No. 32-3]

*****************************************************************
3. Imam Qastalani



Translation:

Imam Taj ad-Din Subki said: “It has been said that Allah created the spirits before the bodies, and the Prophet’s reference to his prophecy in the hadith, “I was a Prophet while Adam was still between the spirit and the body”may be a reference to his blessed spirit and to the Reality of Realities (haqiqat al-haqa’iq). Our minds fall short of knowing such a Reality, but its Creator knows it, and also those to whom He extends a madad of light from Him [man amaddahu bi nurin ilahi]. Allah brings to existence whichever of these realities that He likes in the time that He pleases. As for the reality of the Prophet, it is most likely that it was before the creation of Adam, and Allah gave it its prophetic attribute upon its creation; therefore already at that time, he was the Prophet.”

Imam Qastallani, Mawahib al-laduniyya Volume 001, Page No. 31-32
*****************************************************************
4. Imam Ibn Asakir

Ibn Asakir, Tarikh Madina-Damishq, Publish: Dar al Fikr, Beirut, Lebanon

Translation:
Ka’aab bin Ahbaar said: That Adam (may peace and blessings be upon Him) said O my son whenever you do Zikr of Allah always remember to do zikr of Prophet Muhammad (Peace Be Upon Him) too without doubt I saw his name written on skies when I was between Soul and Soil I did Tawaf of all the skies and didn’t saw a single place in these skies when Muhammad name wasn’t written, on the cheeks of Hoors, on the heaven’s castle’s tree leafs, on the leafs of Tooba tree, on the leaves of tree called Sidrah al-Muntiha, on the eyes of gatekeepers of heaven and between the eyes of angels I saw Muhammad written, so you should do their Zikr with much focus and extreme, without doubt the angels also remember him all the time.

[Ibn Asakir, Tarikh Madina-Damishq Volume 023, Page No. 281: Publish: Dar al Fikr, Beirut, Lebanon]
And Also Mentioned By Imam Jalal ud Din As Suyuti

From : Imam Jalal ud Din As Suyuti
Book : Khasais Al Kubra
Volume : 1
Page : 12
Translation:

Abdullah Ibn Abbas narrated: That I said ‘O’ Prophet (Peace Be Upon Him), my mother and father be sacrificed on you wherre were you at the time Adam (may peace and blessings be upon Him) was in heaven, He said that the Prophet (Peace Be Upon Him) smiled so that his teeth became clear then he said I was in the loin of Adam (may peace and blessings be upon Him) and then in the loin of my father Noah (may peace and blessings be upon Him) then I was taken on a ship then my Light (Nur) was put into loin of Abraham (may peace and blessings be upon Him) my parents were never given to me expect those who did Nikah I was always transffered to pure people. In Turah and Bible was my name was mentioned every Prophet of Allah mentioned by blessings, With my Light (Nur) the morning was lightened and the peopel got cloud shadow due to me and Allah granted me one of his names and He is Mehmood of Arsh and I am Muhammad and Allah promised me Hodh al-Kosar and he made me the first Intercessor and I will be the first person who Intercession on will be accepted, and Allah gave me birth in the best time of mankind, the people of my Ummah are those who praise Allah, they ask to do good deeds and stop from sins.

[Ibn Asakir, Tarikh Madina-Damishq Volume 003, Page No. 408: Publish: Dar al Fikr, Beirut, Lebanon]
Other references of this narration

#1
From : Ibn e Kathir
Book : Al Badaya Wan Nihayah
Volume : 2
Page : 258

#2
From : Imam Jalal ud Din As Suyuti
Book : Dur al manthur
Volume : 6
Page : 332

#3
From : Munawi
Book : Fayd Al Qadeer
Volume : 3
Page : 437
*****************************************************************
5. Hadith of Jami’i Tirmidhi and declared sahi by (wahabi muhaddith Nasir ud din Albani)

al-Albani, in Silsilat al-ahadith al-sahihah, Publish: al-Marif lin-Nashr Riyadh/Saudia


Translation:

Narrated by Maysira al-Fajr that he asked the Prophet (Peace Be Upon Him):

Since when are you a Nabi? (The Prophet) replied: When Adam was in-between body and Spirit.

[al-Albani, in Silsilat al-ahadith al-sahihah Volume 004, Page No. 471, Hadith Number 1856, Publish: al-Marif lin-Nashr Riyadh/Saudia]

This Hadith is also narrated by Sayyedina Abu Hurirah, ‘Abdullah bin ‘Abbas, ‘Abdullah bin Shaqeeq, Umer Bin khattab, ‘Aamir (Radi ALLAH Ta’ala ‘Anhum)

  1. Narrated by Abu Hurairah that the companions asked the Prophet (Peace Be Upon Him):

Since when are you a Nabi? (The Prophet) replied: When Adam was in-between body and Spirit.
All References of this narration:

# 1
From : Tirmidhi in Sunan
Book : Al Manaqib
Chapter : Fadl An NABI SAW
Volume : 5
Page : 585
Hadith number : 3609

# 2
From : Ahmad bin Hambal
Book : Al Musnad
Volume : 4, 5
page : 66, 59
Hadith number : 23620

# 3
From : Haakim
Book : Al Mustadrak
Volume : 2
Page : 666-665
Hadith number : 4210-4209

# 4
From : Ibn e Abi Shaibah
Book : Al Musannaf
Volume : 7
Page : 369
Hadith number : 36553

# 5
From : Tabrani
Book : Ma’jam Al Ausath
Volume : 4
Page : 272
Hadith number : 4175

# 6
From : Tabrani
Book : Ma’jam Al Kabeer
Volume : 12
Page : 92
Hadith number : 12571

# 7
From : Abu Nu’ym
Book : Hilyat Al Auliya
Volume : 7, 9
Page : 122, 53

# 8
From : Bukhari
Book : Tareekh Al Kabeer
Volume : 7
Page : 374
Hadith number : 1606

# 9
From : Khalal
Book : As Sunnah
Volume : 1
Page : 188
Hadith number : 200

And Its Chain is sound.

# 10
From : Ibn e Abi ‘Asim
Book : As Sunnah
Volume : 1
Page : 179
Hadith number : 411

Its Chain is sound.

# 11
From : Shaibaani
Book : Ahaad wal mathani
Volume : 5
Page : 347
Hadith number : 2918

# 12
From : Abdullah bin Ahmad bin Hambal
Book : As Sunnah
Volume : 2
Page : 398
Hadith number : 864

Its chain is Sound

# 13
From : Ibn e Sa’d
Book : Tabqaat Al Kubra
Volume : 1,7
Page : 148, 60

# 14
From : Ibn e hibban
Book : Thiaqqt
Volume : 1
Page : 47

# 15
From : Ibn e Qani’
Book : Ma’jam As Sahaba
Volume : 2, 3
Page : 127, 129
Hadith number : 591, 1103

# 16
From : Ibn e Khiyath
Book : Tabqaat
Volume : 1
Page : 59 & 125

# 17
From : Muqaddasi
Book : Ahadith Al Mukhtarah
Volume : 9
Page : 142,143
Hadith number : 123-124

# 18
From : Abu Almahasin
Book : Mu’tasar Al Mukhtasar
Volume : 1
Page : 10

# 19
From : Daylami
Book : Musnad Al firdoos
Volume : 3
Page : 284
Hadith number : 4845

# 20
From : Ibn e ‘Asakir
Book : Tareekh e Damishq Al Kabeer
Volume : 26, 45
Page : 382, 488-489

# 21
From : LialKalai
Book : ‘Itiqaad Ahl Us Sunnah
Volume : 4
Page : 753
Hadith number : 1403

# 22
From : Khateeb baghdadi
Book : Tareekh e Baghdad
Volume : 3
Page : 70
Hadith number : 1032

# 23
From : ‘Asqalani
Book : Tahdeeb At tahdheeb
Volume : 5
Page : 147
Hadith number : 290

# 24
From : Ibn e hajr ‘Asqalani
Book : Al Asabah
Volume : 6
Page : 239

# 25
From : Ibn e Hajr ‘Asqalani
Book : Ta’jeel Al Munfi’ah
Volume : 1
Page : 542
Hadith number : 1518

# 26
From : Ibn e ‘Abdul Barr
Book : Al Isti’ab
Volume : 4
Page : 1488
Hadith number : 2582

# 27
From : Zahabi
Book : Sayyir Al ‘Alaam An Nubala
Volume : 7, 11
Page : 384, 110

And he said, This hadith have Salih chain.

# 28
From : Jalal ud Din Suyuti
Book : khasais Al Kubra
Volume : 1
Page : 18

# 29
From : Jalal ud Din Suyuti
Book : Alhawi lil fatawa
Volume : 2
Page : 100

# 30
From : Ibn e Katheer
Book : Al Badayah wan nahayah
Volume : 2
Page : 307, 320-321

# 31
From : Jarjaani
Book : Tareekh e jarjaan
Volume : 1
Page : 392
Hadith number : 653

# 32
From : Qastalani
Book : Mawahib Al laduniya
Volume : 1
Page : 60

# 33
From : Haithami
Book : Majma’ Az Zawaid
Volume : 8
Page : 122

# 34
From : Abu Sa’d An Neshaburi
Book : Sharaf Al Mustafa
Volume : 1
Page : 286
Hadith number : 75

********************************************************

  1. Imam al-Sayyid Mahmud Alusi

Imam al-Sayyid Mahmud Alusi, Tafsir Ruh al-Ma`ani, Publish Dar al Ihya al-Turath al-Arabi, Beirut, Lebanon

Translation:

Imam Alusi (al-Sayyid Mahmud) in his commentary of Qur’an said:

“The Prophet’s being a mercy to all is linked to the fact that he is the intermediary of the divine outpouring over all contingencies [i.e. all created things without exception], from the very beginnings (wasitat al-fayd al-ilahi `ala al-mumkinat `ala hasab al-qawabil), and that is why his light was the first of all things created, as stated in the report that “The first thing Allah created was the light of your Prophet, O Jabir,” and also cited is: “Allah is the Giver and I am the Distributor.” The Sufis — may Allah sanctify their secrets — have more to say on that chapter.”

[Tafsir Ruh al-Ma`ani, Volume 017, Page No. 105]
There is a notable explanation among Ahl al-Sunna which ascribes the meaning of the Prophet to both the Light and the Book. al-Sayyid al-Alusi said in Ruh al-ma`ani said:

Translation:

“I do not consider it far-fetched that what is meant by both the Light and the Manifest Book is the Prophet, the conjunction being in the same way as what was said by al-Jubba’i [in that that both the Light and the Book were the Qur’an]. There is no doubt that all can be said to refer to the Prophet. Perhaps you will be reluctant to accept this from the viewpoint of expression (`ibara); then let it be from the viewpoint of subtle allusion (ishara).”

[Tafsir Ruh al-Ma`ani, Volume 006, Page No. 97-8]
************************************************************
Prophet (Peace Be Upon Him) Said:

“My mother saw such a Light (Nur) coming out from her body that it lit the castles of Syria”


1. Imam Byhaqi

Front Cover, Dala’il un Nubuwwah, Published by Dar al-Kutub al-Ilmiyah, Beirut, Lebanon



Translation:


Arbaz Bin Sariyah (ra) narrated that the Sahaba asked (about reality of Prophet). The Prophet (Peace Be Upon Him) said: 
I am the prayer of Ibrahim (Peace Be Upon Him) and Esa (Peace Be Upon Him) gave glad tiding of my arrival to his nation. My mother saw such a Light (Nur) coming out from her body that it lit the castles of Syria. 


[Bayhaqi, Dala’il un Nubuwwah, Volume 001, Page No. 83]
——————————————————————————
2. Imam Ibn e Hibban

 Sahih Ibn Hibban, Publish: Dar al Risalah, Beirut/Lebanon

Translation:

Narrated from al-Irbad ibn Sariya (Allah be well-pleased with him) that the Prophet (Allah bless and greet him) said:
“I am Allah’s servant (as written) in the Mother of the Book, and verily the seal of Prophets when Adam was still kneaded in his clay. I shall tell you of the meaning of this. (I am) the prayer of my father Ibrahim and the glad tidings proclaimed by `Isa to his people and the vision of my mother who saw that a light issued from her illuminating the very palaces of Syria,”

[Sahih Ibn Hibban, Volume 014, Page No. 312-13, Hadith Number 6404]

——————————————————————————
3. Imam Haakim

The Prophet (Peace Be Upon Him) said:

“I am the prayer of Ibrahim (Peace Be Upon Him) and Esa (Peace Be Upon Him) gave glad tiding of my arrival to his nation. My mother saw such a Light (Nur) coming out from her body that it lit the castles of Syria. ”
Al-Hakim narrated it three times in al-Mustadrak, and said its chain is sound (sahih) [and al-Dhahabi concurred]:
al-Haythami in Majma` al-Zawa’id 8:223 – sahih chain. Also narrated from Abu Umama and other Companions with sound chains as stated by Ibn Kathir in al-Bidaya 2:275

Imam Haakim, Mustadrak ‘Alas Sahihain, Volume 2,

[Al Haakim, Al mustadrak, Volume 002, chapter Taseer Al quran, Taseer sorat Al Ahzaab, Page No. 492]


يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا
وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُّنِيرًا
Reciting these ayaats after this hadith “(I am) the vision of my mother who saw that a light issued from her illuminating the very palaces of Syria,” is the proof that Siraaj Am Muneera from this ayaat means the Light of Prophet (Peace Be Upon Him) which Ahl us Sunnah Wal Jama’ah Believe !


[Al Haakim, Al mustadrak, Volume 002,  Page No. 705]

References of Hadith number 4233

#1
From : Ibn e Sa’d
Book : Tabqaat Al Kubra
Volume : 1
Page : 150

#2
From : Bayhaqi
Book : Dalaeel un Nubuwwah
Volume : 1
Page : 83

#3
From : Ibn e ‘Asakir
Book : Tareekh Madeenat Damishq
Volume/page : 1/170 and 3/393

# 4
From : Qurtabi
Book : Jami’ Al Ahkaam Al quran
Volume : 2
Page : 131

# 5
From : Tabari
Book : jami’ Al Bayan
Volume : 1
Page : 556
#6

From : Ibn e Katheer
Book : Tafseer Al Quran Al Azeem
Volume : 4
Page : 361
#7

From : Samarqani
Book : Tafseer
Volume : 3
Page : 421

# 8
From : Tabarai
Book : Tareekh Al Umam wal Mulook
Volume : 1
Page : 458
#9

From : Ibn e Ishaaq
Book : Seerat An Nabwiyyah
Volume : 1
Page : 28

# 10
From : Ibn e Hisham
Book : Seerat An Nabwiyyah
Volume : 1
Page : 302
#11

From : Halabi
Book : Seerat Al Halabiyyah
Volume : 1
Page : 77

                                                      [Al Haakim, Al mustadrak, Volume 002,  Page No. 724]

alhamdulillah.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

   .الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
وسَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ
يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَهُوَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ
هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

 ومحمد رسول الله وحبيب الله صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم” الذي رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ كما قال الله تعالى في القرآن الكريم” وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ
وحبه لهذه الأمة أعظم من جميع كما قال الله تعالى في القرآن الكريم” لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ
  وقال الله تعالى في القرآن الكريم في مدح النبي صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم “وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ
انه هو الذي ينير العالم من سراجه كما قال الله تعالى في القرآن الكريم” يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُّنِيرًا
يا رسول الله صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم !أنت الوسيلة في هذه الدنيا وفي الآخرة وأنا بحاجة بركاتك في هذه الدنيا والآخرة حمايتي في القبرمن فضلك يا رسول الله صلی اللہ  علیہ وآلہ وسلم 

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

পবিত্র ১৩ রজবুল হারাম

পবিত্র ১৩ রজবুল হারাম শরীফ স্মরণে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক

 

আজ দিবাগত রাত সুমহান ঐতিহাসিক পবিত্র ১৩ রজবুল হারাম শরীফ। পবিত্র হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম ইমাম ইমামুল আউওয়াল হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস। হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মর্যাদা-মর্তবা সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, (হে বিশ্ববাসী!) আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। আর তোমাদের পক্ষে তা দেয়াও সম্ভব নয়, তবে যেহেতু তোমাদের ইহকাল ও পরকালে কামিয়াবী হাছিল অর্থাৎ রেযামন্দি ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে হবে। সেহেতু তোমাদের জন্য দায়িত্ব-কতব্য হচ্ছে- আমার সম্মানিত আত্মীয়-স্বজন উনাদের তথা বংশধর উনাদের সাথে সদাচরণ করবে।”

পবিত্র ১৩ রজবুল হারাম শরীফ স্মরণে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক নিম্নে ‍উল্লেখ করা হলো:

পরিচিতিঃ
নাম আলী, উপনাম আবূল হাসান (হাসানের পিতা) ও আবূ তুরাব (মাটির পিতা)। পিতার নাম আবূ তালিব, মাতার নাম ফাতিমা বিনতে আসাদ। বিশেষ উপাধি আসাদুল্লাহ (আল্লাহ পাক-উনার সিংহ), হায়দার (বাঘ), মুরতাদ্বা (সন্তষ্টি-প্রাপ্ত); তিনি আব্দুল্লাহ নামে প্রসিদ্ধ। তিনি রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার চাচাত ভাই। কুরাইশ বংশের হাশেমী শাখায় জন্ম। পিতৃকূল ও মাতৃকূল উভয় দিক থেকে তিনি হাশেমী বংশদ্ভূত।

বিলাদত শরীফ:
রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নুবুওয়াত লাভের দশ বছর পূর্বে বিলাদত লাভ করেন। জন্মের সময় পিতা আবূ তালিব অত্যন্ত অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় পিতৃব্যের আর্থিক সঙ্কট লাঘবের উদ্দেশ্যে বালক আলীকে নিজে প্রতিপালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং অপর পুত্র জাফরকে পিতৃব্য হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার অভিভাবকত্বে সোপর্দ করেন। (তাবারী)

ইসলাম গ্রহণ:
একদা রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের নামায পড়তে দেখে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা কি করছেন? উত্তরে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এটা আল্লাহ পাক-উনার দ্বীন। হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, তোমাকেও আমরা সেই দায়িত্ব দিচ্ছি। তখনই তিনি ইসলামের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে কালিমা শরীফ পাঠ করেন। ইসলাম গ্রহণকালে উনার বয়স মুবারক দশ বছর ছিল। তিনি হলেন সর্বসম্মতিক্রমে বালকদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম কবুলকারী।

কিশোর ও যৌবন কাল:
হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার চৌদ্দ কিংবা পনের বৎসর বয়সকালে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিকট-আত্মীয়দিগকে ইসলামের দিকে আহবান করার জন্য নির্দেশ পান। এতদুদ্দেশ্যে তিনি হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালামকে সকলকে একত্র করবার ব্যবস্থাপনার নির্দেশ দেন; হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম বেশ উক্তমরূপে এর ব্যবস্থা করেন। দস্তরখানে খাসীর পায়া এবং দুগ্ধ রাখা হয়েছিল। উপস্থিত মেহমানদের সংখ্যা ছিল ৪০ জন। আহার সমাপনের পর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের আহবান জানান। এই সমাবেশে কেবল হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালামই উনাকে সর্বাত্মক সমর্থন জানান এবং ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন । (তাবারী)

মক্কা শরীফে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম সঙ্কট ও অগ্নি পরীক্ষার তেরটি কঠিন বৎসর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাহচর্যে অতিবাহিত করেন। এর মধ্যে আবূ তালিব গিরি সঙ্কটে তিন বৎসরের নির্বাসিত জীবন ছিল সর্বাপেক্ষা সঙ্কটপূর্ণ। সে সময় উনার ভ্রাতা হযরত জাফর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার স্ত্রী সহ আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। কিন্তু হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার এরূপ কঠিন মুহূর্তেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসাবে মক্কা শরীফে অবস্থান করেন, যতদিন না তিনি মক্কা শরীফ হতে মদীনা শরীফ হিজরত করার অনুমতি পেলেন।

মক্কা শরীফের মুশরিকদের যে সব সম্পদ আমানত হিসেবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নিকট রক্ষিত ছিল, এমতাবস্থায়ও শত্রুর গচ্ছিত সম্পদ মালিকদের নিকট প্রত্যার্পনের কথা তিনি ভূলেননি। তিনি সেই সব গচ্ছিত সম্পদ প্রত্যার্পনের দায়িত্ব হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালামকে অর্পন করেন এবং বলেন যে, তিন দিন পর এই সব গচ্ছিত সম্পদ এর মালিকদেরকে বুঝিয়ে দিয়ে মদীনা শরীফে আসবে। হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিন দিনের মধ্যেই সেইগুলি প্রাপক ব্যক্তিদেরকে পৌঁছিয়ে দিয়ে পরে কুবাতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে মিলিত হন। (ইবনে কাছির)

জিহাদের ময়দানে বীরত্ব:
দ্বিতীয় হিজরীর ১৭ই রমাদ্বান বদরের জিহাদে মুসলমান ও মুশরিক উভয় বাহিনী পরস্পর মুখোমুখি হয়। তৎকালীন যুদ্ধরীতি অনুযায়ী মক্কা শরীফের মুশরিকদের পক্ষ হতে উতবা, শায়বা এবং ওলিদ নামক তিন জন সদর্পে ময়দানে অবতরণ করে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিকে যুদ্ধে আহবান জানালে তাদের মোকাবেলায় হযরত হামজা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত উবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালামকে পাঠানো হয়। হযরত হামজা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার হাতে তাঁদের স্ব স্ব প্রতিদ্বন্দ্বি নিহত হয়। কিন্তু বার্ধক্য জনিত কারণে হজরত উবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তখন সফল না হওয়ায় হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সাহায্যার্থে অগ্রসর হন এবং প্রতিপক্ষ শায়বা নিহত হয়। অতঃপর সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এই যুদ্ধে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম বীরত্বের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেন। (তাবারী)

হিজরী তৃতীয় সালে সংঘটিত উহুদের জিহাদে মুশরিকগণ মুসলমানদেরকে আক্রমণ করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে। কিন্তু হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তাদের সকল অভিসন্ধিই ব্যর্থ করে দেন। মুশরিক বাহিনীর পতাকাবাহী আবূ সা’দ ইবনে আবি তালহা উনাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আহবান জানালে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম এক আঘাতেই তাকে ধরাশায়ী করেন; কিন্তু তার অসহায়তা ও হতবিহ্বলতা দেখে তিনি তাকে হত্যা করেননি। (ইবনে হিশাম)

হিজরী ৭ম সনে খাইবারের জিহাদ সংঘটিত হয়। এই জিহাদে খাইবরের সর্বাধিক সূদৃঢ় দুর্গ ‘‘কামুস্থ’ এর অধিকর্তা মারহাব নামক এক বিখ্যাত ইয়াহুদী বীরকে হত্যা করে তিনি অতুলনীয় বীরত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দান করেন। অত:পর কয়েকদিন অবরোধের পর তিনি দুর্গ অধিকারে সক্ষম হন। এই জিহাদে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম সূদৃঢ় দুর্গ ‘‘কাছরে মারহাব’’ জয় করে খ্যাতি লাভ করেছিলেন । (ইবনে হিশাম)

রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে সম্পর্ক :
একদিকে তিনি রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার চাচাতো ভাই। অপরদিকে রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার আদরের দুলালী হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার স্বামী। দ্বিতীয় হিজরীতে উনাদের বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।

খিলাফত লাভ:
খিলাফত লাভের পূর্বে তিনি হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত আমলে পরামর্শদাতা ছিলেন। হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদতের পর হিজরী ৩৫ সনে খিলাফতের মসনদে সমাসীন হন। প্রায় চার বছর সাড়ে আট মাস যাবত এ দায়িত্ব যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করেন।

হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত আমলে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের পারস্পরিক যুদ্ধ:
উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম, হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু আনহু প্রমূখ ছাহাবা হযরত উছমান যুননূরাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহদাতের প্রতিশোধ নেয়ার দাবী জানান। হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম বলেন: এই মূহূর্তে বিদ্রোহীগণ বিপুল শক্তির অধিকারী। এখন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে অনেকেই ভাবলেন হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম ইচ্ছা করে গড়িমসি করছেন। নাঊযুবিল্লাহ!পরবর্তী­তে উভয় পক্ষ সালিসের মাধ্যমে নিস্পত্তি হয়ে যায়। এইদিকে মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনে সাবা এবং তার দল দেখল-সর্বনাশ! এইবার তাদের আর রেহাই নেই। রাত্র হলে তারা বিপরিত পক্ষের ছাউনির তরফ হতে এসে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিদ্রিত সৈন্যের উপর আক্রমণ চালান। এতে হযরত আলী কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম মনে করলেন হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার সৈন্যরা বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। যুদ্ধ শুরু হল। হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার- হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিকট শান্তির পয়গাম পাঠালেন। এই পয়গাম পেয়ে তাঁরা এতটা প্রভাবিত হন যে, তাঁরা যুদ্ধের ময়দান ত্যাগ করেন। ইহুদী আবদুল্লাহ ইবনে সাবার দলের লোকেরা কোন কোন মতে খারিজী ফিরক্বার লোকেরা পথিমধ্যেই তাঁদের উভয়কে শহীদ করে। তাঁরা শহীদ হয়ে গেলে বিরোধী দল দুর্বল হয়ে পরে। হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি একটি উষ্ট্রে আরোহণ করে আপোষ করার জন্য এই যুদ্ধে উপস্থিত হন। এই জন্য একে ‘‘উষ্ট্রের যুদ্ধ’’ বলা হয়। এ যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৩৬ হিজরী সনের জুমাদাল উখরা মাসে। (তারিখুল খুলাফা)

অতঃপর সিফ্‌ফিনের যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ল। হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম চাচ্ছিলেন যে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সুসংহত হলে পরে হযরত উসমান যিননূরাইন আলাইহিস সালাম- উনার শহীদকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আর এই ব্যবস্থা নেয়াও এত সহজ ছিল না যেখানে লক্ষ লক্ষ বিদ্রোহী জড়িত ছিল। ফলে সিফ্‌ফিনের প্রান্তরে উভয় পক্ষ সৈন্য সমাবেশ করলেন। বিপরীত পক্ষ যখন পরাজয় অত্যাসন্ন দেখলেন, তখন তাঁরা সন্ধির প্রস্তাব করলেন। হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তা মেনে নিলেন। সন্ধির সর্ত সমূহও লিখা হল এবং সি’র হল দু’ জন সালিসের মাধ্যমে বিচার নিষ্পত্তি হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সালিসের মাধ্যমে বিচার-নিষ্পত্তি বিভিন্ন কারণে হয়ে উঠেনি। পরে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সঙ্গে সন্ধি করেন।

ইতিমধ্যে খারিজীগণ যারা হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার দলে এক বিরাট শক্তির উৎস ছিল তারা এই বলে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার দল হতে বের হয়ে গেল যে আমরা এই সন্ধি ও সালিস মানিনা। এরা ছিল উগ্রপন্থী বেদুইন- যে কোন লোককে যে কোন কারণে হত্যা করা এরা সহজ মনে করত। শেষ পর্যন্ত তাদের সাথে যুদ্ধ করা হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম অনিবার্য মনে করলেন। নাহারওয়ান নামক স্থানে তাদের সাথে এক তুমুল সংঘর্ষ হয়। যুদ্ধে খারিজীরা সমপূর্ণ পরাজিত ও বিধ্বস্থ হয়। এই যুদ্ধে পর্যূদস্ত হয়ে খারিজীরা হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালামকে শহীদ করার জন্য ফন্দী ফিকির শুরু করে।

ছাহাবায়ে কিরামের পারস্পরিক মতভেদ স্ব স্ব ক্ষেত্রে নির্ভূল ছিল, তবে এতটুকু বলা যাবে যে তাদের কেউ ছিলেন হক্বের উপর আর কেউ অধিকতর হক্বের উপর। সুতরাং উনারা কেউই ভূল করেননি। উনাদের সমালোচনা করলে ঈমান হারাতে হবে।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: আমার বেছাল (ওফাত) শরীফের পরে আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের ইখতিলাফ (মতবিরোধ) সম্পর্কে আমি আল্লাহ পাককে জিজ্ঞাসা করেছি।
আল্লাহ পাক আমাকে বললেন: হে হাবীব, নিশ্চয়ই আপনার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ আমার নিকট তারকা সমতূল্য। কারো আলোর চেয়ে কারো আলো বেশী, তবে প্রত্যেকেরই আলো আছে। সুতরাং তাঁদের যে কোন ইখতিলাফকে যারা আঁকড়ে ধরবে, তারা হিদায়েত পেয়ে যাবে। কারণ উনাদের ইখতিলাফগুলো আমার নিকট হিদায়েত হিসাবে গণ্য।

অতঃপর রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: “রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ (প্রত্যেকেই) তারকা সদৃশ, উনাদের যে কেউকে তোমরা অনুসরণ করবে, হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে।” অর্থাৎ উনাদের যে কাউকে, যে কোন ব্যক্তি, যে কোন বিষয়ে অনুসরণ করবে, সে ব্যক্তি সে বিষয়েই হিদায়েত লাভ করবে বা হিদায়েতের উপর থাকবে।

শাহাদতমুবারক গ্রহন:
হিজরী ৪০ সনের ১৬ই রমাদ্বান শুত্রবার ফজর নামাযে গমনকালে আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম নামক খারিজী ঘাতকের তলোয়ারের আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ১৭ই রমাদ্বান শনিবার শাহাদত বরণ করেন। উনার জ্যেষ্ঠ পুত্র সাইয়্যিদে শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত সাইয়্যিদুনা ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার জানাযার নামায পড়ান। কূফার নাজফে আশরাফে জামে মসজিদের পাশে উনাকে দাফন মুবারক করা হয়। গ্রহণযোগ্য মতে শাহাদত মুবারক গ্রহন কালে উনার বয়স মুবারক হয়েছিল ৬৩ বছর।

হযরত আলী কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ফযীলত ও মর্যাদা :
ইসলামে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার অবদান অপরিসীম। রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার যামানার সকল জিহাদে অনেক বেশী সাহসিকতা ও বীরত্বের পরিচয় তিনিই দেন। এ কারণে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘হায়দার’ লক্ববসহ ‘যুলফিকার’ নামক একখানা তরবারি দান করেন। একমাত্র তাবুক অভিযান ছাড়া সকল জিহাদেই তিনি অংশ গ্রহণ করেন। বদরে উনার সাদা পশমী রুমালের জন্য তিনি ছিলেন চিহ্নিত। বদরসহ প্রতিটি জিহাদে তিনি ছিলেন রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পতাকাবাহী।

রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘হযরত হারুন আলাইহিস সালাম যেমন ছিলেন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম-এর নিকট তেমনি আপনি হচ্ছেন আমার নিকট। অর্থাৎ প্রতিনিধি। তবে আমার পরে কোন নবী নেই।’’

হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম ছিলেন নবী খান্দানের সদস্য। তিনি রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে শিক্ষা লাভ করেন। রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘আমি জ্ঞানের নগরী, আর হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সেই নগরীর প্রবেশদ্বার।’’ তিনি ছিলেন, কুরআনে হাফিয, শ্রেষ্ঠ মুফাস্‌সির এবং হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী রাবী।

হযরত ইমাম আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার মর্যাদা-ফযীলত সমপর্কে রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যত কথা বর্ণিত হয়েছে, অন্য কোন ছাহাবী সম্পর্কে তা হয় নি।

‘মিরআতুল আস্‌রার’ কিতাবে উল্লেখ আছে, হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি ‘রওদ্বাতুশ শুহাদা’ গ্রন্থে’ বর্ণনা করেন: হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের মধ্যে যে কোন এক ব্যক্তি থেকে আমাদের সময় পর্যন্ত এত ইল্‌ম পৌঁছেনি, যতটা হযরত আলী কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু উনার থেকে পৌঁছেছে।

তরীক্বতের ইমাম:
আমীরুল মু’মিনীন হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তরীক্বত পন্থীদের ইমাম ছিলেন। তরীক্বতের অধিকাংশ সিলসিলা উনার মাধ্যমে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার রূহানী তালীম তথা আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রচার-প্রসারে যে সমস্ত ছাহাবা বিশেষ ভাবে অবদান রাখেন হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার মধ্যে বিশিষ্টতম। আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনেক সিলসিলা (যেমন ক্বাদেরিয়া, চিশ্‌তিয়া, সোহরাওয়ার্দিয়া, ইত্যাদি) অদ্যবধি উনারই মাধ্যমে উম্মত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ফয়েজ হাছিলের সাধনা করে আসছে।

ইসলামের প্রত্যেক খলিফাই একদিকে পার্থিব ক্ষমতার রজ্জু স্বহস্তে ধারণ করে সাধারণ মানুষের জাগতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন, অপর দিকে রূহানী তথা আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রেও তাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছেন। খিলাফতের ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট হওয়ার পরই ইহা জাগতিক ও আধ্যাত্মিক খিলাফত নামে বিভক্ত হয়ে যায়। এ পর্যন্ত খুলাফায়ে রাশিদীন হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম, হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম এবং হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম হতে তরীক্বতের সিলসিলা অক্ষুন্ন আছে। এই ক্ষেত্রে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার বিশেষ খ্যাতি বিদ্যমান। তাছাউফের অনেক গুলি সিলসিলা হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। উনার ব্যক্তিত্ব আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত এবং বাতিল ফিরক্বা শিয়া উভয় মহলের নিকট মর্যাদার প্রতীক হিসাবে স্বীকৃত। হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উম্মতে হাবীবীকে যেসব নিয়ামত দান করা হয়েছে তন্মধ্যে একটি এই যে, তরীক্বতের বিভিন্ন সিলসিলার নিস্‌বত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে বিশুদ্ধ ও দৃঢ়ভাবে রয়েছে, খেরকা প্রদান ও বাইয়াত উভয়ই সুন্নত হিসাবে সাব্যস্ত হয়েছে।

প্রথম থেকে মাশায়েখে ছূফিয়া-এর নিয়ম এইভাবে চলে আসছে যে, নিজের খলীফাদের ও মুরীদদের খেরকা পরিয়ে দেয়া, টুপীর ছূরতে হউক, অথবা পাগড়ী, জামা, জুব্বা, চাদর, লুঙ্গী ইত্যাদির ছূরতেই হোক, অর্থাৎ যা-ই সহজলভ্য হয়, তার মাধ্যমে ইজাজত (অনুমতি) প্রদান করা। যদি মাশায়েখগণ কাউকে নিজের সিলসিলায় ইজাজত দিতে চান, তাকে নিজের প্রতিনিধি (খলীফা) নির্দ্দিষ্ট করতে চান যেন তিনি তরীক্বত-পন্থীদেরকে তালক্বীন ও তরবীয়ত প্রদান করেন এবং তাদের থেকে বাইয়াত গ্রহণ করবেন, তখন উনাকেই খেরকা পরিয়ে থাকেন যেন উনাকে এসব বিষয়ে জিম্মাদারী (দায়িত্ব) অর্পন করতে পারেন।
(আল ইন্‌তিবাহ ফী সালাসিলে আওলিয়াইল্লাহ শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি)

মূলত উনার ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা ও বুযুর্গী মুবারক সম্পর্কিত ইলম না থাকার কারণেই অনেকে উনাকে যথাযথ মুহব্বত ও অনুসরণ করতে পারছে না। যার ফলে তারা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি মুবারক হাছিলে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছে। তাই উনার সম্পর্কে জানা বা ইলম অর্জন করা সকলের জন্যই ফরয। কেননা যে বিষয়টা আমল করা ফরয সে বিষয়ে ইলম অর্জন করাও ফরয।
অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের মাদরাসা, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে উনার সম্পর্কে কোনো আলোচনাই নেই। অথচ সরকারের জন্য দা¬¬য়িত্ব ও কর্তব্য অর্থাৎ ফরয-ওয়াজিব ছিলো, শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে অর্থাৎ পাঠ্যপুস্তকে উনার পবিত্র জীবনী মুবারক অন্তর্ভুক্ত করা। পাশাপাশি উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ উপলক্ষে সরকারিভাবে মাসব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। সরকারের জন্য আরো দায়িত্ব-কর্তব্য অর্থাৎ ফরয হচ্ছে, উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস ১৩ রজবুল হারাম শরীফ উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস চলে যাচ্ছে অথচ সরকার এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি।