দেওবন্দী পন্থী ক্বওমী মাদ্রাসা আসলে হলো সমকামিতার আখড়া৷ ওরা ক্বওমী নয় ওরা সমকামী ৷

 

১. ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রকে কওমী শিক্ষকের বলৎকার –
http://tinyurl.com/qearodv

২. কুষ্টিয়ায় ৯ বছরের শিশু মাদ্রাসার ছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টা ও নির্যাতনের ঘটনায়  সমকামী হেফাজতী শিক্ষককে গ্রেফতার ।
http://tinyurl.com/orckrv4

৩. হাটহাজারীর মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ
http://tinyurl.com/pll9lyf

৪.কুষ্টিয়ায় কওমী সমকামী শিক্ষকের সাথে ঘুমাতে রাজী না হওয়ায় ৯ বছরের শিশুকে বেদম মারপিট।

http://tinyurl.com/q6gg8x9

৫.  সাভারে সমকামী এক কওমী মাদ্রাসা শিক্ষকের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছে ৯ বছরের শিশু শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বী।
৪ জুন রাব্বি হত্যায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা হয়। পুলিশ জানায়, সব ধরণের তদন্তে শিক্ষক মোশাররফের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন তারা।
বাংলাসংবাদ২৪/এসএস/এমএস(www.banglasongbad24.com/content/news/7844)

৬. ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে কওমি মাদ্রাসা বন্ধ
http://tinyurl.com/q6w6542

৭. ছাত্রকে বলাৎকার পঞ্চগড়ে মাদ্রাসা শিক্ষক শ্রীঘরে
http://tinyurl.com/nqhk7um

৮. দুই শিশু ছাত্রকে যৌনাচারে বাধ্য করার অভিযোগ
সূত্র: সুপ্রভাত বাংলাদেশ, ১৫ মে ২০১৩ইং বুধবার

Advertisements

রাজারবাগ শরীফ-এর সম্মানিত হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনাকে উনার পৈত্রিক সম্পত্তি হতে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার, অপচেষ্টার মাধ্যমে হয়রানী প্রসঙ্গ

 

রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত রাজারবাগ দরবার শরীফ দেশে-বিদেশে বহুল পরিচিত একটি দরবার শরীফ। সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এ দরবার শরীফ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক যামানার যিনি লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, আওলাদে রসূল ঢাকা রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী উনার মাধ্যমে হিদায়েত লাভে ধন্য হয়ে আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাছিল করেছেন ও করছেন। কারন উনার বেমেছাল রুহানীয়ত, সুন্নতের সুক্ষাতিসুক্ষ অনুসরন, কঠোর শরীয়তী পর্দা পালন, ধর্মব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ইত্যাদি জাহেরী ও বাতেনী আমলে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে দলে লোকজন উনার কাছে আসছে ।

এছাড়াও উনি উনার সুপ্রতিষ্ঠিত ও বহুল পরিচিত পত্রিকা মাসিক আল বাইয়্যিনাত ও দৈনিক আল ইহসান-এর মাধ্যমে প্রায় দুই যুগ ধরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং ধর্মব্যবসায়ী জঙ্গিবাদী, মৌলবাদী ও স্বাধীনতা বিরুধী, রাজাকারদের বিরুদ্ধে দলীল ভিত্তিক ক্ষুরধার লিখনী চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রকাশ্যে বাহাসের চ্যালেঞ্জ দিয়ে যাচ্ছেন। এতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোকজনসহ ধর্মপ্রাণ সাধারণ লোকজন অনুপ্রাণিত হচ্ছেন ও দলে দলে উনার কাছে আসছেন। এছাড়া ওয়েব সাইটের মাধ্যমে দৈনিক আল ইহসান পৃথিবীর ২১৬টি দেশ থেকে পঠিত হয়ে থাকে। এতেও দেশ-বিদেশ থেকে দলে দলে লোকজন উনার কাছে আসছেন।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এসব দেখে হিংসা ও লোভের বর্শবর্তী হয়ে উনারই সহোদর ভাই আনিসুর রহমান, হাফিজুর রহমান এবং জিল্লুর রহমান উনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে এবং উনার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উনাকে উচ্ছেদ করে সম্পত্তি আত্মসাতের বিভিন্ন ধরনের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে ।

নিম্নে এদের কিছু অপকর্ম তুলে ধরা হলো-

* ১৯৪৮ সালে হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার পিতা মরহুম সাইয়্যিদ মুহম্মদ মোখলেছুর রহমান রহমতুল্লাহ আলাইহি , উনার মাতার নামে ৫ আউটার সার্কুলার রোডস্থ হোল্ডিংয়ে ৪ বিঘা ১৪ আনা ৪ ছটাক জমি খরিদ করেন।

* পরবর্তীতে সুখে শান্তিতে বসবাসরত অবস্থায় ১৯৮০ সালে ১.০৩ একর সম্পত্তিতে উনার মাতা নিজ নামে কিয়দাংশ রেখে অবশিষ্ট সম্পত্তি উনাদের ৫ পুত্র এবং ৪ কন্যার নামসহ উনাদের পিতার নামে দানপত্র করে নামজারী করে দেন। কিন্তু ১৯৯০ সালে হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা উনার মেঝ ভাই মোঃ হাফিজুর রহমান বিদেশ থেকে এসে পারিবারিক সকল সম্পত্তি উন্নয়নের জন্য উনি হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলাসহ মোট ৫ ভাই এবং ৪ বোনকে নিয়ে ১৯৯১ সালে জেড আর এস্টেট প্রাঃ লিঃ কোম্পানী গঠন করেন (সংযুক্তি-১)।

* উক্ত কোম্পানীর সিদ্ধান্ত মোতাবেক উনাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ৫ আউটার সার্কুলার রোডস্থ ৫ কাঠা জমির উপর বহুতল ভবন নির্মানের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৮ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে উক্ত ভবনের ৩য় তলা পযর্ন্ত নির্মিত হয়। এবং মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত হয় যে ৪র্থ ও ৫ম তলা পীর ছাহেব নিজ অর্থয়ানে নির্মান করবেন। এতে কারও কোন আপত্তি থাকবে না। এই উদ্দেশ্যে পুরো সম্পত্তি সকলে কোম্পানীর নামে দান করেন।

* কিন্তু পরবর্তীতে হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী, রাজারবাগ দরবার শরীফ এর অবস্থানে তিনি পৈত্রিক সম্পত্তিতে মালিক ও ভোগ দখলকার থেকে নিজ অবস্থানকে সুস্পষ্ট করতে গিয়ে তাহার তিন ভাই (ক) আনিসুর রহমান (খ) হাফিজুর রহমান (গ) জিল্লুর রহমানদের ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হন। তারা, ৫ ভাই ও ৪ বোনের সম্পত্তি স্বৈরাচারিভাবে হিসাব নিকাশের স্বচ্ছতা ছাড়া ভোগ করে যাচ্ছেন। জেড আর টাওয়ারের মার্কেটের ভাড়া, পার্টি হাউস নামক কমিউনিটি সেণ্টারের ভাড়াসহ সবকিছুই তারা এককভাবে ভোগ করার মাধ্যমে উনাকে পৈতিৃক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র করে আসছে।

* এ লক্ষে উক্ত কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান ( পীর ছাহেবের মেঝ ভাই) লোভের বর্শবর্তী হয়ে সমস্ত সম্পত্তি আত্মসাতের লক্ষ্যে জাল দানপত্র করে (সংযুক্তি-২) নিজের নামে সমস্ত পাওয়ার নিয়ে নেন। এমনকি সমস্ত সম্পত্তি নাম খারিজ করে নিজের নামে পর্চাও তৈরি করেন (সংযুক্তি-৩)। যা ধরা পড়ার পর বাতিলের জন্য হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা উনার নিযুক্ত আম মোক্তার ৫ম যুগ্ম জেলা জজ এর আদালত ঢাকাতে একটি মামলা করেন। মামলা নং-২৫১/১০
(সংযুক্তি-৪)।

* হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনাকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ১৪৫ ধারায় একটি মামলা হয়। যা বিচারাধীন রয়েছে। মামলা নং-১৫১/০৯
(সংযুক্তি-৫)।

* উক্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে (সংযুক্তি-৬) প্রমানিত হয় যে, হযরত পীর ছাহেব মৌখিক নির্দেশে ৪র্থ তলা এবং ৫ তলা নির্মান করবেন। এবং তাদের বিরোধীতার মূল কারন সম্পত্তি।

* উক্ত কোম্পানীর চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান কোম্পানীর নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরিচালকদের সাথে আলোচনা না করে সমস্ত সম্পত্তি আত্ত্বসাতের লক্ষ্যে জেড আর এস্টেটের নির্মিতব্য ১৬তলা ভবনটি হাইলাইটস ডেভোলপার কোং এর চেয়ারম্যান জামাত সমর্থিত এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম খান, এর সাথে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে চুক্তি করে ব্রুসিয়ার তৈরির মাধ্যমে সম্পূর্ণ বাড়িতে অবৈধভাবে বিক্রয়ের চেষ্টা চালায় (সংযুক্তি-৭) ছাপিয়ে তা বিক্রির পায়তারা শুরু করে। অথচ উক্ত ভবনের ৪র্থ তলায় হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার অবস্থানস্থল ও উনার নির্মিত মসজিদ রয়েছে। এবং তৃতীয় তলায় সকলের ছোট ভাই সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুফীজুর রহমানসহ উক্ত সম্পত্তির মূল মালিক সকলের মাতা নব্বই ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ সাইয়্যিদা জাহানারা বেগম খাতুন মুদ্দা জিল্লুহাল আলীয়া।

* উক্ত হাফিজুর রহমানগং রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-উনার সাইন/সহি জালিয়াতি করে সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখা থেকে ১৯৯৪ সালে জেড আর এস্টেটের নামে ২.১৫ কোটি টাকা লোন উত্তোলন করে। উক্ত ঋনের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় অর্থঋন আদালতে একটি মামলা হয়। মামলা নং- ৪৮৩/২০০৪ (সংযুক্তি-৮)।

* উক্ত মামলায় পীর ছাহেবের সই/স্বাক্ষর নকল করে পীর ছাহেবের নামে তারা মিথ্যা জবাব আদালতে প্রদান করে (সংযুক্তি-৯)। পরে ২০০৯ সালে পীর ছাহেব জানতে পারলে উনার পক্ষ হতে সোনালী ব্যাংক থেকে কোন টাকা ঋন নেননি মর্মে আদালতকে অবহিত করেন (সংযুক্তি-১০)। আদালত এ্যাডভোকেট কমিশন প্রেরন করে উনার নমুনা স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন (সংযুক্তি-১১)। এমনি আদালত স্বাক্ষর যাচাইয়ের জন্য সি, আই, ডি এক্সপার্টের কাছের প্রেরন করেন (আদেশের কপি, সংযুক্তি-১২)। উক্ত নকল সইয়ের কপি সংযুক্ত ( সংযুক্তি-১৩)।

* হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার পক্ষ থেকে উক্ত জাল জালিয়াতি সম্পর্কে সোনালী ব্যাংকের এমডিকে অবহিত করে একটি চিঠি প্রদান করা হয় (সংযুক্তি-১৪)

* তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এবং হযরত পীর ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী উনাকে সব ধরনের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার ল্েক্ষ্য তারা উনাদের গ্রামের বাড়ি নূরানীগঞ্জের আড়াই হাজার থানাধীন প্রভাকরদী শরীফ-এর সংলগ্ন চরশিলামদী মৌজায় উনাদের পারিবারিক আরেকটি কোম্পানী এম আর পোলট্রি এন্ড এগ্রোফিসারিজ লিঃ এর ৪১.৯৪ (প্রায়) বিঘা জমি উনার সই স্বাক্ষর জাল করে উনার অনুমতি ছাড়াই আনিসুর রহমান, হাফিজুর রহমান, জিল্লুর রহমানগং ‘জামান এগ্রো ফিশারিজ’ এর নিকট বিক্রি করে দেয়।

উক্ত জমি আড়াই হাজার সাব রেজিস্ট্রিও অফিসে ২৬/০২/০৯ ইং তারিখে ১৩৪৮ নং দলীলের মাধ্যমে ১৩.১৭ বিঘা (প্রায়), ১৭/০৩/০৯ ইং তারিখে ১৭৮৭ নং দলীলের মাধ্যমে ৯.৮২ বিঘা (প্রায়), ০২/০৪/০৯ ইং তারিখে ২২৭১ নং দলীলের মাধ্যমে ১৮.৮৫ বিঘা (প্রায়) মোট ৪১.৯৪ বিঘা জমি বিক্রি করেছে।

বিক্রিত জমির দলীলে প্রদর্শিত মূল্য অনুযায়ী এক কোটি আটত্রিশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার (যদিও প্রকৃতপক্ষে তারা দুই কোটি টাকা মূল্যে বিক্রি করেছে। যা দলীলে প্রদর্শন করা হয়নি) হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার প্রাপ্য (যাতে মোট ২৫০টি শেয়ারের মধ্যে হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা ৫০টি শেয়ারের মালিক) ২০% অর্থ (কোম্পানীর মেমোরান্ডাম অব এসোসিয়েশন অনুযায়ী) উনাকে না দিয়ে হাফিজুর রহমানগং আত্মসাত করেছে।

* তাদের অব্যাহত চক্রান্তের অংশ হিসেবে এক পর্যায়ে হাফিজুর রহমান হারুন জেড আর এস্টেটের একক মালিক হিসেবে ৩৭ কাঠা সম্পত্তির মধ্যে ১২ কাঠা সম্পত্তি সনি প্রপার্টিজ নামক ডেভেলপর এর নিকট হস্তান্তরের চুক্তি করেন। অত:পর উক্ত সনি প্রপার্টিজ জাল নকশা তৈরি করে রাজউকের অনুমোদন না নিয়ে নির্মান কাজ শুরু করে ও এমতাবস্থায় ফ্লাট বিক্রি করে নিরীহ গ্রাহকদের প্রতারিত করে। পরবর্তীতে বিষয়টি অবহিত হলে রাজউক বিল্ডিংটি ভাঙ্গা শুরু করে। (সংযুক্তি-১৫) বর্তমানে রাজউক বিল্ডিংটির নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছে। অচিরেই তারা সম্পূর্ণ বিল্ডিং ভেঙে ফেলবে। (স্বারক নং- রাজউক/নঅশা/অঅ৪হসি-৩৩৮/২০০৯/৮১৫/তারিখ-১৫/১০/০৯) (সংযুক্তি-১৬)।

* এছাড়া তারা একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে জনাব পীর সাহেবকে বিজ্ঞ আদালতে নেয়ার চেষ্টার মাধ্যমে বার বার উনাকে বিরক্ত করে যাচ্ছে। অথচ আদালতে সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। যেমন জিআর মামলা নং-৫৪/০৮, পিটিশন মামলা নং-১০৯/০৯ (সংযুক্তি-১৭)।
* নীলগিরি নামে তাদের মিনারেল ওয়াটার কোম্পানী, জালিয়াতি করে সাধারণ পানিকে মিনারেল ওয়াটার নামে বাজারে চালানোর অপরাধে গত ২১/০৭/১০ইং তারিখে র‌্যাব তাদের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করে। যা পরেরদিন দৈনিক প্রথম আলোসহ অন্যান্য জাতীয় পত্রিকায় এসেছে। (দৈনিক প্রথম আলো-২২/০৭/১০ ইং) (সংযুক্তি-১৮)।

* সর্বপরি হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা উনাকে আপোষের প্রস্তাব করলে তিনি সেটাতে সম্মতি প্রকাশ করেন। যার ফলশ্রুতিতে ওসি মতিঝিলের সভাপতিত্বে উক্ত আপোষনামার সভা অনুষ্ঠিত হয় (আপোষ নামা, সংযুক্তি-১৯)। কিন্তু উক্ত আপোষেও তারা হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী উনাকে, উনার ন্যায্য হিস্যা দিতে রাজি হয়নি।
* এছাড়া অন্যান্য সমস্ত বিষয় অবহিত করে বার বার তাদেরকে লীগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্তু তার কোন সদুত্তর তারা দেয়নি ( সংযুক্তি-২০)।

* হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা এবং উনার অনুসারীদের বিরুদ্ধে হাফিজুর রহমান গং একটি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে। যার প্রেক্ষিতে হযরত পীর ছাহেব উনার অনুমতিক্রমে আম মোক্তার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত, ঢাকা একটি মানহানীর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-৪১৭১/১০ (সংযুক্তি-২১)। যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

* এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে হাফিজুর রহমান, আনিসুর রহমান, জিল্লুর রহমানগং রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে সব ধরনের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এলক্ষ্যে তারা চরম মানহানীকর বিভিন্ন ধরনের পোস্টার, লিফলেট ছাপিয়ে বিভিন্ন এলাকায় লাগিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকায় মিথ্যা তথ্যযুক্ত নিউজ ছাপাচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা টাকা পয়সা দিয়ে কিছু হলুদ সাংবাদিকদের হাত করেছে।

* আমাদেরকে তথাকথিত জঙ্গি আখ্যায়িত করার জন্য সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। বিভিন্ন পত্রিকায় কল্পিত, বানোয়াট সংবাদ ছাপাচ্ছে, প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য সম্বলিত চিঠি দিয়ে আমাদেরকে হয়রানীর চেষ্টা করছে। দালাল নিয়োগ করে তাদেরকে লক্ষ লক্ষ টাকা দিচ্ছে। অথচ খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের রিপোর্টেই আল বাইয়্যিনাত-এর স্বচ্ছতা সম্পর্কে প্রত্যয়ন পত্র দেয়া হয়েছে (কপি সংযুক্ত-২২)।

* লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে তারা একের পর এক অবিশ্বাস্য, মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা দায়ের করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। (কপি সংযুক্ত-২৩)

* এরা নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী পোষছে। এদের দিয়ে ঢাকায় ও ঢাকার বাহিরে রাজারবাগ শরীফ-এর অনুসারীদের উপর হামলা চালাচ্ছে। গত ৯/৪/২০১১ তারিখে এদের জঙ্গি-সন্ত্রাসী বাহিনী খোদ রাজারবাগ দরবার শরীফ-এ হামলা চালিয়েছে। যার প্রেক্ষিতে মতিঝিল থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলা নং ২০(০৪)১১। মামলাটির প/ং হওয়ার পর বর্তমানে বিচারাধীন আছে। (কপি সংযুক্ত-২৪)।

উপরোক্ত ঘটনাবলী ছাড়াও আরো অনেক বিষয়ে তারা একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। যাতে হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী উনাকে, উনার প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা যায়। এবং উনি যাতে রাজারবাগ শরীফ থেকে চলে যান। সুতরাং তাদের এসব ষড়যন্ত্র বন্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন।

তাদের হীন কার্যকলাপের আরেকটি নমুনা হচ্ছে, তারা হযরত পীর ছাহেবের সম্মান হানীর জন্য অযৌক্তিক ভাবে মিথ্য অপবাদ দিয়ে একটি প্রেস কনফারেন্স করে (সংযুক্তি)। পরে তা জানতে পেরে হযরত পীর ছাহেব একটি মানহানীর মামলা দায়ের করেন।মামলা নং-৪১৭১/০৯ (সংযুক্তি)।

তাদের এহেন হীন কর্মকান্ডের কিছু বিবরন নি¤েœ উল্লেখ করা হলঃ-
(১) রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনাকে পৈত্রিক সম্পত্তি হতে উচ্ছেদের লক্ষ্যে উক্ত হাফিজুর রহমান গং হাইলাইটস ডেভেলপার নামক কোম্পানির এক বিশাল সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ব্রুসিয়ার ছাপিয়ে অবৈধভাবে রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার ভোগ দখলীয় সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করছে।

(২) উক্ত হাফিজুর রহমানগং রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-উনার সাইন/সহি জালিয়াতি করে সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখা থেকে ১৯৯৪ সালে জেড আর এস্টেটের নামে কোটি কোটি টাকা লোন উত্তোলন করে। যার মামলা নং- ৪৮৩/২০০৪।

(৩) তারা দানপত্র দলীল জাল-জালিয়াতি করে জাল দলিল তৈরি করে সম্পূর্ণ সম্পত্তি নিজ নামে লিখে নেয় এবং নিজ নামে নাম জারি করে। (যা বাতিলের জন্য মামলা নং- ২৫১/০৯)

(৪) উক্ত আনিসুর রহমান, হাফিজুর রহমান, জিল্লুর রহমান গং জঙ্গি-জামাত চক্রের যোগসাজসে তাদের দ্বারা আর্থিক লাভবান হয়ে এবং আরো অধিক লাভবান হওয়ার আশায় আমাদের মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের লক্ষে সম্পূর্ণ সম্পত্তি বিক্রয়ের গোপন চুক্তি করে। (ঢাকা-এর আদালতে ১৫১/২০০৯ মামলা)

(৫) হাফিজুর রহমান জেড আর এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির পক্ষ হতে সনি প্রপার্টিজের সাথে চুক্তি করে নিজেকে একক মালিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে চুক্তিপত্র করেছে। পরবর্তীতে উক্ত বিষয়ে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা নং ১১০/০৯, ১২৫/১০ করলে আদালত স্থিতাবস্থা নির্দেশ দেন।

(৬) হাফিজুর রহমান হারুন গং সনি প্রপার্টিজের জাল নকশা তৈরি করে নিরীহ গ্রাহকদের প্রতারিত করে। পরবর্তীতে বিষয়টি অবহিত হলে রাজউক বিল্ডিংটির কিছু অংশ ভেঙে দেয়। বর্তমানে রাজউক বিল্ডিংটির নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছে। অচিরেই তারা সম্পূর্ণ বিল্ডিং ভেঙে ফেলবে। (স্বারক নং- রাজউক/নঅশা/অঅ৪হসি-৩৩৮/২০০৯/৮১৫/তারিখ-১৫/১০/০৯)

(৭) আমাদের সম্মানিত শায়খ ও মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনাদের গ্রামের বাড়ি নূরানীগঞ্জের আড়াই হাজার থানাধীন প্রভাকরদী শরীফ-এর সংলগ্ন চরশিলামদী মৌজায় উনাদের পারিবারিক কোম্পানী এম আর পোলট্রি এন্ড এগ্রোফিসারিজ লিঃ ৪১.৯৪ (প্রায়) বিঘা জমি উনার সই স্বাক্ষর জাল করে উনার অনুমতি ছাড়াই আনিসুর রহমান, হাফিজুর রহমান, জিল্লুর রহমান গং আড়াই হাজার সাব রেজিস্ট্রিও অফিসে ২৬/০২/০৯ ইং তারিখে ১৩৪৮ নং দলীলের মাধ্যমে ১৩.১৭ বিঘা (প্রায়), ১৭/০৩/০৯ ইং তারিখে ১৭৮৭ নং দলীলের মাধ্যমে ৯.৮২ বিঘা (প্রায়), ০২/০৪/০৯ ইং তারিখে ২২৭১ নং দলীলের মাধ্যমে ১৮.৮৫ বিঘা (প্রায়) মোট ৪১.৯৪ বিঘা জমি ‘জামান এগ্রো ফিশারিজ’ এর নিকট বিক্রি করেছে। বিক্রিত জমির দলীলে প্রদর্শিত মূল্য অনুযায়ী এক কোটি আটত্রিশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার (যদিও প্রকৃতপক্ষে তারা দুই কোটি টাকা মূল্যে বিক্রি করেছে। যা দলীলে প্রদর্শন করা হয়নি) ২০% অর্থ (কোম্পানীর মেমোরান্ডাম অব এসোসিয়েশন অনুযায়ী) উনাকে না দিয়ে হাফিজুর রহমানগং আত্মসাত করেছে।

(৮) শুধু তাই নয়, উক্ত আনিসুর রহমান, হাফিজুর রহমান, জিল্লুর রহমান গং আমাদের মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সই জাল করে মিথ্যা আপোস বণ্টন দলীল নং ৭৪২৫/০৮ তৈরি করেছে।

(৯) আমাদের সম্মানিত শায়খ ও মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি জেড. আর. এস্টেট (প্রাঃ) লিমিটেডের একজন পরিচালক ও শেয়ার হোল্ডার হিসেবে জেড. আর টাওয়ারে অবস্থিত মার্কেট এবং জেড. আর. এস্টেট প্রাঃ লিমিটেডের সম্পত্তি সকল ব্যবসার লাভ/লোকসানের হিসাব পাওয়ার হক্বদার হলেও উক্ত আনিসুর রহমান, হাফিজুর রহমান, জিল্লুর রহমান গং অদ্যাবধি কোন লভ্যাংশ কিংবা হিসাব দেয়নি। তাদের এ ব্যাপারে গত ২৪/০৩/২০১০ তারিখে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়।

(১০) সাধারণ পানিকে মিনারেল ওয়াটার নামে বাজারে চালানোর অপরাধে গত ২১/০৭/১০ইং তারিখে র‌্যাব তাদের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করে। যা পরেরদিনের দৈনিক প্রথম আলোসহ অন্যান্য জাতীয় পত্রিকায় এসেছে। (দৈনিক প্রথম আলো-২২/০৭/১০ ইং)

(১১) এছাড়া তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে জনাব পীর সাহেবকে বিজ্ঞ আদালতে নেয়ার চেষ্টার মাধ্যমে উনাকে বিরক্ত করে যাচ্ছে। অথচ আদালতে সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। যেমন জিআর মামলা নং-৫৪/০৮, পিটিশন মামলা নং-১০৯/০৯ ।

ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক

imam e salils.jpg3.jpg
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার আখাছছুল খাছ মনোনীত ব্যক্তিত্বগণ উনাদের মধ্যে ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি অন্যতম। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত এবং পূত-পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্ব।

উনার ফাযায়িল-ফযীলত এবং খুছুছিয়াত মুবারক সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। উনার মুবারক শানে হুসনে যন পোষণের ব্যাপারে রয়েছে অত্যধিক তাক্বীদ। পবিত্র শা’বান মাস হলো উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণের মাস। সঙ্গতকারণেই এ মাসে উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা-পর্যালোচনা করা অতীব প্রয়োজন। আর এ কারণেই সংক্ষিপ্তাকারে উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা করা হলো।

পবিত্র বিলাদত শরীফ:
সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চতুর্থ হিজরী সনের পবিত্র শা’বান মাস উনার ৫ তারিখ ইয়াওমুল জুমুয়াতি বা জুমুয়াবার বা’দ আছর সম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ শহরে পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন।
পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করার পর স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার কান মুবারক-এ আযান মুবারক ও ইকামত মুবারক দিয়ে উনার জন্য দুআ’ মুবারক করেন। আপন হাত মুবারকে উনার তাহনীক মুবারক করেন। উল্লেখ্য যে, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সেদিন যথারীতি পবিত্র আছর নামায আদায় করেন। বা’দ আছর হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। অতঃপর হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র মাগরীব নামায আদায় করেন। উনাকে মাজুর অবস্থা অতিবাহিত করতে হয়নি। (সুবহানাল্লাহ)

পবিত্র হুলিয়া মুবারক:
ইমামুল আউওয়াল হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কোনো ব্যক্তি যদি পবিত্র মাথা মুবারক থেকে পবিত্র ছিনা মুবারক পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে পুরোপুরি সদৃশ কাউকে দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখে নেয়।

আর কোনো ব্যক্তি যদি পবিত্র ছিনা মুবারক থেকে পবিত্র ক্বদম মুবারক পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পুরোপুরি সদৃশ কাউকে দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখে নেয়।

অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পুরোপুরি নকশা মুবারক। সুবহানাল্লাহ

পবিত্র আকীক্বা মুবারক ও নাম মুবারক:

পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণের সাতদিন পর অর্থাৎ বারোই শা’বান শরীফ স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আকীক্বা মুবারক সম্পাদন করেন। আর তিনি উনার নাম মুবারক রাখেন হযরত ইমাম ‘হুসাইন’ আলাইহিস সালাম।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
الحسن والحسين اسمان من اهل الجنة
“সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার ও সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা জান্নাতী নাম মুবারকসমূহ হতে দুখানা নাম মুবারক।” উনাদের পূর্বে আরবের জাহিলিয়াত যুগে এ দু’নাম মুবারক প্রচলিত ছিলো না। উনার কুনিয়াত মুবারক হলো হযরত আবু আব্দিল্লাহ আলাইহিস সালাম।

হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আকীক্বা মুবারক করার জন্য দুটি করে দুম্বা জবাই করেন।

শৈশব কাল মুবারক:
সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন। তিনি উনাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দায়েমী ছোহবত মুবারক এবং পৃষ্ঠপোষকতা মুবারকে হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বেড়ে উঠেন। যা বিভিন্ন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক হয়েছে। যেমন, হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদা এমন অবস্থায় বাহিরে তাশরীফ আনলেন যে, উনার এক কাঁধ মুবারক উনার উপর ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনাকে এবং অন্য কাঁধ মুবারক উনার উপর ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে বসিয়ে ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

হাবীবী কুরবানী মুবারক উনার ফলাফল:

আল্লামা হযরত জামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, একদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ডান পার্শ¦ মুবারকে ও স্বীয় লখতে জিগার আওলাদ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে বাম পার্শ¦ মুবারকে বসিয়েছিলেন।

এমতাবস্থায় হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি উনাদের মধ্য থেকে একজনকে উনার সাক্ষাৎ মুবারক-এ নিতে চান। অতএব, আপনি উনাদের দু’জনের মধ্যে যাঁকে ইচ্ছা সাথে রাখুন আর যাঁকে ইচ্ছা উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাৎ মুবারক-এ যেতে অনুমতি দিন।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতে যান, তাহলে উনার বিরহে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার খুবই কষ্ট হবে। হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারাও খুবই কষ্ট হবে। আর উনাদের কষ্টের কারণে আমারও অনেক কষ্ট হবে। আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি যদি মহান আল্লাহ পাক উনার মহান সাক্ষাতে চলে যান, তাহলে একমাত্র আমিই দুঃখ পাবো। আমি চাই- আমি একাই কষ্ট করি। হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম এবং হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের যেন কোনো কষ্ট না হয়। এজন্য নিজে দুঃখ পাওয়াটাই আমি পছন্দ করি।

এ ঘটনার তিনদিন পর সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। এরপর থেকে যখনই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমীপে আসতেন, তখন তিনি উনাকে মুবারকবাদ দিতেন এবং উনার কপাল মুবারক-এ বুছা দিতেন এবং উপস্থিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে সম্বোধন করে বলতেন, “আমি হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য আপন আওলাদ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে কুরবানী দিয়েছি।” সুবহানাল্লাহ! (শাওয়াহিদুন নুবুওওয়াত)

পবিত্র ইলম মুবারক চর্চার আনুষ্ঠানিকতা:

সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদু শাবাবী আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার কর্তৃক পূর্ব মনোনীত। যাবতীয় নাজ নিয়ামত উনার সংস্পর্শ মুবারকে ধন্য হয়েছে। সঙ্গতকারণে তিনি যাবতীয় ইলমসহই তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন।

তথাপি বিষয়টি উম্মাহকে শিক্ষা দিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইলম চর্চা করেছেন। যার বহু প্রমাণ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে। যেমন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে যে, একদা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা দুখানা কাগজে কিছু বিষয় লিপিবদ্ধ করলেন।

অতঃপর উনারা আম্মাজান হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট অধিক সুন্দর লিখা নির্ধারণের আরজি জানালেন। হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন যে, আপনাদের প্রশ্নের জবাব দিবেন আপনাদের পিতা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। আপনারা উনার নিকট গমন করুন। তখন উনারা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার নিকট গমন করলেন এবং সেই একই বিষয়ে আরজি জানালেন।

হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন যে, আপনাদের কার লেখা বেশি সুন্দর তা নির্ধারণ করবেন আপনাদের নানাজান তিনি। উনারা তখন নানাজান নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গিয়ে উনাদের আরজি মুবারক পুনরাবৃত্তি করলেন।

তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একখানা আপেল মুবারক নিয়ে বললেন, এই আপেলখানা উপর থেকে নিক্ষেপ করা হবে। ইহা যাঁর লিখা মুবারক উনার উপর পতিত হবে উনার লিখা মুবারক অতি সুন্দর বলে নির্ধারিত হবে। অতঃপর হাতের লিখা মুবারক উনার কাগজ মুবারক দুটির উপরে আপেলটি নিক্ষপ করা হলো। সাথে সাথে কুদরত মুবারক জাহির হলো। আপেল ফলটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে মুবারক কাগজ দুটির উপর পড়ে গেল। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের উভয়ের লেখা মুবারক অতিসুন্দর বলে প্রমাণিত হলো। সুবহানাল্লাহ!

মূলত বর্ণিত ওয়াকিয়া মুবারক দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি স্বীয় পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনার নিকট ইলম মুবারক চর্চার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।

পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বা শরীফ উনার মেহমান:
পবিত্র বিদায় হজ্জ হতে ফিরে এসে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিসমানী অসুস্থতার শান মুবারক গ্রহণ করেন। আর এই শান মুবারক দীর্ঘদিন পর্যন্ত জাহির করে পবিত্র সফর শরীফ মাস উনার শেষ বুধবার শারীরিক সুস্থতার শান মান মুবারক গ্রহণ করেন। সকাল বেলা গোসল মুবারক করেন। হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিকট সংবাদ পাঠান এবং দীদার মুবারক হাদিয়া করেন। এ দিনটি আখিরী চাহার শোম্বা শরীফ নামে মুসলিম জাহানে মশহুর।

এই মুবারক দিনে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা আপন নানাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখাছ্ছুল খাছ দাওয়াত ও দীদার মুবারক লাভ করেন। এমনকি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে নিজ হাত মুবারকে খাইয়ে দেন। পরম স্নেহ-মমতায় অজস্রবার কোলে তুলে নেন। বারবার বুছা মুবারক প্রদান করেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে হাবীবী নিয়ামত মুবারক লাভ:
হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মালিকে আনআম হিসেবেই পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। তথাপি উনার বেমেছাল শান মুবারক জানান দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি বিশেষ বিশেষ ওয়াকিয়া মুবারক সংঘটিত করেছেন। যা দ্বারা কেবল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তেমনিভাবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে হাবীবী নিয়ামত মুবারক লাভ করেন।

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার থেকে ইরশাদ মুবারক হয়েছে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিদায় গ্রহণের পূর্বে উনার নিকট হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে নিয়ে আসলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উনাদেরকে বিশেষ হাদিয়া মুবারক প্রদান করুন। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য আমার প্রভাব প্রতিপত্তি ও নেতৃত্ব মুবারক। আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য আমার বীরত্ব ও দানশীলতা মুবারক। অপর বর্ণনায় এসেছে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য আমার দৃঢ়তা ও নেতৃত্ব মুবারক। আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য আমার শক্তি ও দানশীলতা মুবারক। (তাবরানী)

সম্মানিত নানাজান উনার সুমহান বিছাল শরীফ পরবর্তী সময়:

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করার পর হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ছয় মাস দুনিয়ার যমীনে অবস্থান করেন। এ সময়ে হাবীবী বিরহে তিনি বিভোর হয়ে সময় অতিবাহিত করেন। সর্বদা রওজা শরীফ উনার নিকট অবস্থান করতেন। আর সেই সময়ে হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি পিতা ও বড় ভাই উনাদের সাথে একত্রিত হয়ে উনার আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেন। যদিও তিনি দুনিয়াবী দৃষ্টিতে তখন মাত্র সাড়ে ছয় বৎসরের বালক।

অপরদিকে সেই সময়ে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে দেখে দেখে চক্ষু মুবারক শীতল করতেন। হাবীবী বিরহের যন্ত্রণা লাঘবের প্রচেষ্টা চালাতেন। কারণ উনারা ছিলেন পুরোপুরিভাবে নকশায়ে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

প্রথম খলীফা উনার খিলাফতকালে:
আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালের প্রথম ছয় মাস সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দেয়ার কারণে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন। যার কারণে খলীফা উনার প্রতি মনোনিবেশ করার ফুরসত উনারা পাননি। অতঃপর হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিছাল মুবারক গ্রহণ করার পর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিসহ সম্মানিত খলীফা উনার বাইয়াত মুবারক গ্রহণ করেন এবং খিলাফত উনার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

দ্বিতীয় খলীফা উনার খিলাফতকালে:

আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ, তাফসীর, ফিক্বাহ উনাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। যদিও উনার দুনিয়াবী বয়স মুবারক অল্প ছিলো। উনার পৃষ্ঠপোষকতা মুবারকে রঈসুল মুফাসসির হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুসহ অনেক মশহুর ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠেন। আর এই সময়ে স্বয়ং খলীফা উনাকে গোলামীয়ত প্রদানের ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়।

তৃতীয় খলীফা উনার খিলাফতকালে:
আমীরুল মু’মিনীন হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি খিলাফত উনার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পরিচালনার পাশাপাশি দরস-তাদরীসের ব্যাপক আঞ্জাম দেন। এমনকি হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার প্রতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। বর্ণিত আছে, সেই সময়ে তিনি স্বয়ং নিজে খলীফা উনার হুজরা শরীফ উনার নিরাপত্তা প্রদানের নিমিত্তে টানা কয়েক দিন অবস্থান মুবারক গ্রহণ করেন।

পবিত্র শাদী মুবারক:
ঐতিহাসিকগণের বর্ণনা অনুযায়ী, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দু’জন আহলিয়া আলাইহিমাস সালাম ছিলেন। উনারা হলেন হযরত লাইলা বিনতে মুররা আলাইহাস সালাম ও হযরত শহরবানু আলাইহাস সালাম। হযরত লাইলা বিনতে মুররা আলাইহাস সালাম উনার রেহেম শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন হযরত আলী আকবর আলাইহিস সালাম। তিনি কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত মুবারক গ্রহণ করেন। হযরত শহরবানু আলাইহাস সালাম উনার শাদী মুবারক নিয়ে ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে।

‘তাহযীবুল কামাল’ কিতাবে উল্লেখ করা হয় যে, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে দিকে দিকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিজয় প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই বিজয় অভিযানসমূহের ধারাবাহিকতায় ২১ হিজরীতে হযরত আহনাফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সেনাপতিত্বে পারস্য ও চীন সম্রাটের সম্মিলিত বাহিনীর সাথে তুমুল জিহাদ সংঘটিত হয়। ওই পবিত্র জিহাদেও মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলিম বাহিনীকে প্রকাশ্য বিজয় হাদিয়া করেন। পারস্য সম্রাট ইয়াজদগির্দ নিহত হয়। তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ গনিমত হিসেবে লাভ হয়। তাছাড়া সম্রাটের তিন কুমারী কন্যা যুদ্ধবন্দি হন। পবিত্র জিহাদ শেষে যাবতীয় গনিমত ও যুদ্ধবন্দিদেরকে খলীফা উনার নিকট প্রেরণ করা হয়।

পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার নিয়ম অনুযায়ী গনিমতের ফায়সালা করা হয়। কিন্তু রাজকন্যা তিনজন উনাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফায়সালা করা সম্ভব হয়নি। পরিশেষে উনাদের ব্যাপারে মজলিসুশ শুরা আহবান করা হয়। অনেক আলোচনা হয়। এক পর্যায়ে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, উনারা শ্রেষ্ঠ খান্দানের মেয়ে। উনাদের সাথে সাধারণ বন্দিদের ন্যায় আচরণ করা ঠিক হবে না। তাই উনাদের জন্য একটা মুক্তিপণ ধার্য করা হোক। আর আমিই সেই মুক্তিপণ বাইতুল মালে জমা দিবো। উনাদেরকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত দেয়া হবে। যদি উনারা পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন তবে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার তিনজন যুবককে উনারা তিনজন স্বামী হিসেবে গ্রহণ করার ইখতিয়ার পাবেন। অথবা উনারা অন্য কোথাও গিয়ে স্বাধীনভাবে বসবাস করবেন।

হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার প্রস্তাব মুবারক সকলেই একবাক্যে মেনে নিলেন। শাহযাদী তিনজন মূলত পূর্বেই পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তথাপি মুবারক প্রস্তাব শুনে উনারা তৎক্ষণাত পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। অতঃপর প্রথম মেয়ে স্বয়ং খলীফা উনার আওলাদ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে, দ্বিতীয় মেয়ে হযরত মুহম্মদ ইবনে আবী বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে আর তৃতীয় মেয়ে নকশায়ে রসূল, ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বামী হিসেবে পেতে আরজি পেশ করেন। সেই মুবারক মজলিসেই উনাদের বিবাহ বা শাদী মুবারক সুন্নতী কায়দায় সম্পন্ন হয়। আর এভাবেই পারস্য সম্রাটের তৃতীয় কন্যা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে সম্পৃক্ত হন।

উল্লেখ্য যে, শাদী মুবারক উনার পর হযরত শহরবানু আলাইহাস সালাম উনার নাম মুবারক ‘সালমা’ মতান্তরে ‘গাযালা’ রাখা হয়। আর উনার পবিত্র রেহেম শরীফেই সাইয়্যিদুনা ইমামুর রাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম আলী আওসাত যাইনুল আবেদীন আলাইহিস সালাম এবং শহীদ কারবালা হযরত হযরত আলী আছগর আলাইহিস সালাম উনারা বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন।

আনুষ্ঠানিক খিলাফত ও ইমামত লাভ:
লাখতে জিগারে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইমামে মাদারযাদ। তথাপি বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে উনার বেমেছাল ফযীলত উনার উন্মেষ ঘটানো হয়েছে। আনুষ্ঠানিক খিলাফত ও ইমামত লাভের বিষয়টি কেবল তারই ধারাবাহিকতা।
৪৯ হিজরী সনের ২৮শে সফর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনাকে মুনাফিকরা হিরক চূর্ণের ন্যায় জঘন্য বিষ পান করায়। শাহাদাত মুবারক গ্রহণের পূর্ব মুহূর্তে তিনি হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সিনা ব-সিনা যাহিরী-বাতিনী নিয়ামতরাজি মুবারক হাদিয়া করেন। আর এভাবেই উনার ইমামতের আনুষ্ঠানিক অভিষেক সম্পন্ন হয়।

পবিত্র হিজরত মুবারক:
মুসলিম মিল্লাতকে যাহিরী-বাতিনী ইলম, বিলায়েত, কামালত হাদিয়া করতঃ খালিছ আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী বানাতে হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেকে সর্বদা ব্যাপৃত রাখতেন। মসজিদে নববী শরীফে উনার তালীম-তালকীন ও দরস-তাদরীস আর ফয়েজ বিতরণ নিত্য চালু ছিলো। পরশমণির মুবারক ছোহবত লাভের জন্য সর্বদা ভিড় লেগেই থাকতো। কিন্তু রহমতী মজলিস হতে উম্মাহকে বদবখত যালিম ইয়াযীদের জন্য মাহরুম হতে হয়েছে।
৬০ হিজরী সনে ইয়াযীদ সিংহাসনে আরোহণ করে হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাইয়াত দাবি করে। কিন্তু কাফির ইয়াযীদের প্রতি বাইয়াত হতে তিনি অস্বীকার করেন। তাই উনার বাইয়াত আদায় করতে ইয়াযীদ বাহিনীর লোকেরা উনার প্রতি চাপ সৃষ্টি করে। যার কারণে তিনি ৬০ হিজরী সনের ৪ঠা পবিত্র শা’বান শরীফ সম্মানিত মদীনা শরীফ হতে পবিত্র মক্কা শরীফে হিজরত মুবারক করেন। অতঃপর শত শত চিঠির মাধ্যমে কুফাবাসী কর্তৃক আকুল আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩রা যিলহজ্জ তিনি উনার আহাল-ইয়াল আলাইহিমুস সালামসহ ৭২ মতান্তরে ৮২ জন উনাদের এক কাফেলা পবিত্র মক্কা শরীফ হতে কুফার উদ্দেশ্য নিয়ে রওয়ানা দেন।

কারবালার প্রান্তরে:
হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কারবালার প্রান্তরে তাশরীফ, জিহাদ, শাহাদাত প্রতিটি বিষয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন। তথাপি প্রতিটি বিষয়ই বিশদ আলোচনার দাবি রাখে। কিন্তু কলাম বর্ধিত হওয়ার আশঙ্কায় আলোচনা করা সম্ভব নয়। তবে সারমর্ম হলো, পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস উনার প্রথম দিকেই ইয়াযীদ বাহিনীর সৈন্যরা কাফিলাসহ উনাদের প্রতি যুলুম শুরু করে। যুলুমের চূড়ান্ত পর্যায়ে দুগ্ধপোষ্য হযরত আলী আছগর আলাইহিস সালাম তিনিসহ উনারা অনেকেই শাহাদাত মুবারক গ্রহণ করেন। নাঊযুবিল্লাহ!
[মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্র হতে প্রকাশিত ‘কারবালার হৃদয় বিদারক ইতিহাস’ নামক কিতাব মুবারকে এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।]

আনুষ্ঠানিক খিলাফত প্রদান:
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছাল মুবারক গ্রহণের পূর্ব মুহূর্তেও উম্মতের জন্য দুয়া, দয়া করেছেন। অনুরূপভাবে হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও কারবালার প্রান্তরের কঠিন মুহূর্তেও মুসলিম উম্মাহর তাযকীয়াহ ও নাজাতের বিষয়টি চিন্তা করেছেন। হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি শাহাদাত মুবারক গ্রহণের ঠিক পূর্বে হযরত ইমাম যাইনুল আবেদীন আলাইহিস সালাম উনার নিকট উম্মাহর দায়িত্ব অর্পণ করেন। জাহিরী-বাতিনী নিয়ামতরাজি সিনা ব-সিনা সোপর্দ করেন। আর এভাবেই তিনি হযরত ইমাম যাইনুল আবেদীন আলাইহিস সালাম উনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে খিলাফত ও ইমামত প্রদান করেন। যার কারণে ইলমে তাছাওউফসহ ইলম উনার প্রতিটি শাখায় উনার সিলসিলা মুবারক অদ্যাবধি জারি রয়েছে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে।

শাহাদাত মুবারক গ্রহণ:
৬১ হিজরী সনের ১০ই মুহররমুল হারাম পবিত্র আশূরা শরীফে ইয়াওমুল জুমুয়াতি জুমুয়াহ ওয়াক্তে সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত মুবারক গ্রহণ করেন। উনার জিসম মুবারকে ২১টি তীর, ৩৪টি বর্শা এবং ৪০টি তলোয়ারের আঘাত বিদ্ধ হয়। উনার পবিত্র শাহাদাত মুবারকের কারণে বেহুঁশ মানুষ ও জিন ব্যতীত সারা মাখলুকাতে শোকের ছায়া নেমে আসে। রক্তবৃষ্টি, গায়েবী কান্না ধ্বনি, পানি রক্তে পরিণত হওয়া, মাটি ও পাথর হতে রক্ত বের হওয়া, সূর্য গ্রহণ হওয়া ইত্যাদি তারই বাস্তব প্রমাণ। [এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত “কারবালার হৃদয় বিদারক ইতিহাস” কিতাব মুবারক পাঠ করা অত্যন্ত জরুরী।]
কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর বর্ণনায় আহলে বাইত ও আওলাদে রসূলগণের ফযীলত
قل لا اسئلكم عليه اجرا الا المودة فى القربى
অর্থ: “হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট নুবুওওয়াতের দায়িত্ব পালনের কোন প্রতিদান চাইনা। তবে আমার নিকটজন তথা আহলে বাইতগণের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।” (সূরা শূরা-২৩)
এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত তাফসীর “তাফসীরে মাযহারী” ৮ম জিঃ ৩২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে-
لا اسئلكم اجرا الا ان تودوا اقربائى واهل بيتى وعترتى وذلك لانه صلى الله عليه وسلم كان خاتم النبين لا نبى بعده.
অর্থ: “আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাইনা তবে তোমরা আমার নিকটাত্মীয়, আহ্লে বাইত ও বংশধরগণের (যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক) হক্ব আদায় করবে। কেননা, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন শেষ নবী। উনার পরে কোন নবী নেই।”
আহলে বাইতের ফযীলত সম্পর্কে বহু হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। তন্মধ্যে কতিপয় হাদীছ শরীফ বর্ণনা করা হলো:
عن عائشة رضى الله تعالى عنها قالت خرج النبى صلى الله عليه وسلم غداة وعليه مرط مرحل من شعر اسود فجاء الحسن بن على فادخله ثم جاء الحسين فدخل معه ثم جاءت فاطمة فادخلها ثم جاء على فادخله ثم قال انما يريد الله ليذهب عنكم الرجس اهل البيت ويطهركم تطهيرا.
অর্থ” “হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, একদা ভোরবেলা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একখানা কাল বর্ণের পশমী নকশী কম্বল শরীর মুবারকে জড়িয়ে বের হলেন। এমন সময় হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সেখানে আসলেন, তিনি তাঁকে কম্বলের ভিতরে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। তারপর হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম আসলেন, তাঁকেও ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সহিত প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা আসলেন তাঁকেও তাতে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। তারপর হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আসলেন, তাঁকেও তার ভিতরে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন শরীফ-এর এই আয়াত শরীফখানা পড়লেন, ‘হে আমার আহলে বাইত! আল্লাহ তা’য়ালা আপনাদেরকে সকল প্রকার অপবিত্রতা থেকে মুক্ত রেখে পবিত্র করার মত পবিত্র করবেন।” (মুসলিম শরীফ)
عن سعد بن ابى وقاص رضى الله تعالى عنه قال لما نزلت هذه الاية فقل تعالوا ندع ابناءنا وابناءكم دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم عليا وفاطمة وحسنا وحسينا فقال اللهم هؤلاء اهل بيتى.
অর্থ: “হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, যখন ندع ابناءنا وابناءكم الاية (আসো আমরা আহবান করি আমাদের সন্তানগণকে ও তোমাদের সন্তানগণকে) আয়াত শরীফ নাযিল হলো, তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ও হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালামকে ডাকলেন এবং বললেন, আয় আল্লাহ পাক! এরা সকলে আমার আহলে বাইত।” (মুসলিম শরীফ)

عن ابى سعيد رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الحسن والحسين سيدا شباب اهل الجنة.
অর্থ: “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম দু’জনই জান্নাতী যুবকগণের সাইয়্যিদ।” (তিরমিযী শরীফ)

পরিশিষ্ট
মূলত সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক জানা, উনার প্রতি হুসনে যন রাখা এবং উনার সীরাত মুবারক হতে ইবরত-নছীহত মুবারক গ্রহণ করা সকলের জন্য ফরয। কেননা উনার মুহব্বত পবিত্র ঈমান উনার মূল। উনার ইতায়াত আমলের মূল। আর উনারই রেযামন্দি মুবারক নাজাতের মূল। মহান বারী তায়ালা তিনি মুসলিম মিল্লামতকে উনার মুহব্বতের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর তাওফীক দান করুন।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম যাইনুল আবেদীন আলাইহিস সালাম তিনি কারবালার হৃদয় বিদারক ঘটনার পর আর কখনো হাসেননি

 

 

 

12472757_489084767951233_8649778661838793763_n

কারবালার ঘটনার পর ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসুলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত যাইনুল আবেদীন আলাইহিস সালাম তিনি যখনই পানি দেখতেন, তখনই কারবালায় আহলু বাইতি রসুলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পিপাসার কথা মনে পড়তো ও তিনি এতে অত্যন্ত ব্যথিত হতেন।
তিনি কোনো ভেড়া বা দুম্বা জবাই করার দৃশ্য দেখলেও কেঁদে আকুল হতেন। তিনি প্রশ্ন করতেন- এদেরকে জবাইর আগে পানি পান করানো হয়েছে কিনা। পানি দেয়া হয়েছে একথা শোনার পর তিনি বলতেন, কিন্তু আহলু বাইতি রসুলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পানি না দিয়েই শহীদ করেছিল ইয়াজিদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি-এর সৈন্যরা।

ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসুলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত যাইনুল আবেদীন আলাইহিস সালাম তিনি সবসময় রোযা রাখতেন। ইফতারির সময় তিনি অত্যন্ত বেদনাতুর হয়ে বলতেন, আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শহীদ করা হয়েছে ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থায়।
ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসুলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত যাইনুল আবেদীন আলাইহিস সালাম তিনি উনার এই দুনিয়াবী জিন্দেগীর পুরো সময়ই সম্মানিত আহলু বাইতি রসুলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য অশ্রু ঝরিয়েছেন, উনাদের ব্যথায় বেদনাতুর সময় কাটিয়েছেন। যে কারণে উনাকে কারাবালার মর্মান্তিক ঘটনার পর কেউ কখনো হাসতে দেখেনি।
কখনো কখনো কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা স্মরণ হলেই উনার এত বেশি কান্না আসতো যে- অশ্রুতে খাবার মুবারক ভিজে যেত এবং খাবার মুবারকের পানিতেও অশ্রু মুবারক মিশে যেত। একদিন উনার খাদিম উনার এমন অবস্থা দেখে বললো, আপনার ব্যথা-বেদনা এখনো রয়ে গেলো? উত্তরে ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসুলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত যাইনুল আবেদীন আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তোমার জন্য আফসুস! মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম তিনি উনার ১২ জন আওলাদ উনাদের একজন আওলাদ হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনাকে কয়েক বছর না দেখে উনার ব্যথা-বেদনায় উনার চক্ষু মুবারক উনাদের দৃষ্টি মুবারক হারিয়েছেন, উনার চুল মুবারক সাদা হয়ে যায়, উনি দ্রুত বৃদ্ধ হয়ে যান। আর আমি আমার সম্মানিত পিতা, ভাই এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সবাইকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় অত্যন্ত নির্মমভাবে শহীদ হতে দেখেছি, তাহলে কিভাবে আমার ব্যথা-বেদনা থামতে পারে?