ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পলন করার গুরুত্ব ও ফযীলত

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আবির্ভাবের পর আবূ লাহাবের ক্রীতদাসী হযরত সুয়াইবাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা আবূ লাহাবকে সুসংবাদ দিলেন, তোমার ভ্রাতা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ঘরে একজন পুত্র সন্তান নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আগমণ করেছেন। তা শুনে আবূ লাহাব অত্যন্ত আনন্দিত হলো এবং সে আঙ্গুলের ইঙ্গিত সহকারে বললো, সুয়াইবাহ যাও তুমি আজ থেকে মুক্ত।”

 

সমস্ত মুসলমান জানে যে, আবূ লাহাব ছিলো কাট্টা কাফির চির জাহান্নামী। পবিত্র কুরআন শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক একটা পূর্ণ সূরাتبت يدا ابى لهب وتب الخ তারই দুষ্কৃতকর্ম ও অশুভ পরিণতির বর্ণনায় নাযিল করেছেন। কিন্তু তবুও মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ-এ আনন্দ প্রকাশের কারণে সে কি পরিমাণ উপকৃত হয়েছে তা হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে। আল্লামা হাফিজ ইবনে হাজার আসক্বালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেছেন-

 

ذكر السهيلى ان العباس رضى الله تعالى عنه قال لما مات ابو لهب رايته فى منامى بعد حول فى شر حال فقال مالقيت بعدكم راحة الا ان العذاب يخفف عنى فى كل يوم الا ثنين وذلك ان النبى صلى الله عليه وسلم ولد يوم الاثنين وكانت ثويبة بشرت ابالهب بمولده فاعتقها.

 

অর্থ: ইমাম সুহাইলি রহমতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেছেন, হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেছেন। আবূ লাহাবের মৃত্যুর এক বছর পর আমি তাকে স্বপ্নে দেখেছি, সে অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে। আর সে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলো, তোমাদের নিকট থেকে আসার পর থেকে আমি কোন শান্তি পাইনি। তবে প্রতি সোমবার আমার শাস্তি হ্রাস করা হয়।” হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন, তা এ জন্যেই যে, আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সোমবার শরীফ পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। আর সেই সময় হযরত সুয়াইবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাশরীফের সুসংবাদ দিলে আবু লাহাব খুশি হয়ে উনাকে আযাদ করে দিয়েছিলো। (বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, ৯ম খ-, ১১৮ পৃ: ওমদাতুল ক্বারী, শরহে বুখারী ২য় খ-ের ৯৫ পৃষ্ঠা)

 

এখন ফিকিরের বিষয় আবু লাহাব কাট্টা কাফির চির জাহান্নামী। আর আমরা হলাম মু’মিন। সে ছিলো মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শত্রু; আর আমরা প্রিয় হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোলাম। আবু লাহাব স্বীয় ভ্রাতুস্পুত্রের তাশরীফ-এ খুশি প্রকাশ করেছিলো; রসূল হিসেবে নয়। কিন্তু আমরা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে রসূল হিসেবে পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করে উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষ্যে খুশি প্রকাশ করে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করে থাকি। একজন দুশমন কাফির (মীলাদ শরীফে) আনন্দিত হয়ে যদি এরূপ উপকৃত হয়, তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতগণ পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করলে, খুশি প্রকাশ করলে কি পরিমাণ উপকৃত হবে। তা চিন্তা ফিকিরের বিষয়।

 

 

 

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s