মহান আল্লাহ পাক তিনি আলমে আরওয়াহতেও সমস্ত নবী রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণ উনাদের সাথে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেছেন ও উনাদের থেকে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করার ওয়াদা নিয়েছেন

মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ,

 

واذ اخذ الله ميثاق النبين لما اتيتكم من كتاب وحكمة ثم جائكم رسول مصدق لما معكم لتؤمنن به ولتنصرنه قال اأقررتم واخذتم على ذلكم اصرى قالوا اقررنا قال فاشهدوا وانا معكم من الشاهدين. فمن تولى بعد ذلك فاولئك هم الفاسقون.

 

অর্থ: (হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা) যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি আলমে আরওয়াহতে সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের কাছ থেকে ওয়াদা নিয়েছিলেন যে আপনাদেরকে আমি কিতাব ও হিকমত দান করবো। অতঃপর আপনাদেরকে সত্য প্রতিপাদনের জন্য (নবুওওয়াত ও রিসালতের হাক্বীক্বী ফায়েজ দেয়ার জন্য) আখিরী নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রেরণ করবো। আপনারা উনাকে নবী ও রসূল হিসেবে মেনে নিবেন এবং সর্ব বিষয়ে উনার খিদমত করবেন (উনার মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করবেন)। আপনারা কি এই ওয়াদার কথা মেনে নিলেন? উত্তরে সকলে বললেন, হ্যাঁ আমরা এই ওয়াদা স্বীকার করলাম (অর্থাৎ আমরা যমিনে গিয়ে আখিরী নবী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করব)। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনারা সাক্ষী থাকুন, আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী হয়ে গেলাম। তবে জেনে রাখুন যারা এই ওয়াদাকৃত বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে (যারা মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করবে না বা এর বিরোধীতা করবে) তারা চরম পর্যায়ের ফাসিক (কাফির) হয়ে যাবে। (সূরা আলে ইমরান ৮১-৮২)

 

এ আয়াত শরীফ-এ স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি নিজেই হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুচ্ছালাম উনাদের সাথে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন। আবার আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যমিনে এসে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যারা যমীনে এসে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করবে না বরং এর বিরোধীতা করবে তারাই চরম ফাসিক ও কাফির হবে সে সম্পর্কে ঘোষনা দিয়েছেন।

 

৬৫

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ ফরমান-

 

انا ارسلناك شاهدا ومبشرا ونذيرا. لتؤمنوا بالله ورسوله وتعزروه وتوقروه وتسبحوه بكرة واصيلا.

 

অর্থ: হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিশ্চয়ই আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শণকারীরূপে। অতএব, তোমরা (উম্মতরা) মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি ঈমান আন এবং তোমরা উনার খিদমত করো, সম্মান করো ও সকাল-সন্ধ্যা অর্থাৎ সদা-সর্বদা উনার ছানা-ছিফত বর্ণনা করো। (সূরা ফাতহ-৮,৯)

 

মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন-

 

يايها الناس قد جاءتكم موعظة من ربكم وشفاء لما فى الصدور وهدى ورحمة للمؤمنين. قل بفضل الله وبرحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مما يجمعون .

 

অর্থ: হে মানবজাতী, অবশ্যই তোমাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে এসেছেন মহান নছীহত স্বরূপ, তোমাদের অন্তরের সকল ব্যধিসমূহ দূরকারী, মহান হিদায়েত ও ঈমানদারদের জন্য মহান রহমত (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

 

হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম আপনি বলে দিন, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার দয়া, ইহসান ও রহমত (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পেয়ে) উনার জন্য ঈদ উদযাপন বা খুশি প্রকাশ কর। তোমরা যত কিছুই করনা কেন তিনিই হচ্ছেন সমগ্র কায়িনাতের জন্য সবচেয়ে বড় ও সর্বোত্তম নিয়ামত। (সূরা ইউনুস-৫৭, ৫৮)

 

এ আয়াত শরীফ দ্বারা মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত মাখলুকাতের জন্য মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করাকে ফরয করে দিয়েছেন।

 

উল্লেখ্য যে, এ সম্পর্কে তিনটি শব্দ রয়েছে, যথা: ميلاد অর্থ: জন্মের সময়, مولد অর্থ: জন্মের স্থান, مولود অর্থ: সদ্য প্রসূত সন্তান।

 

৬৬

আর ইছতিলাহী বা ব্যবহারিক অর্থ হলো সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, র‏হ্মাতুল্লিল আ’লামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে ছানা-ছিফত করা ও উনার প্রতি ছলাত-সালাম পাঠ করা যা মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নির্দেশের অন্তর্ভূক্ত।

 

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন,

 

ان الله وملئكته يصلون على النبى يايها الذين امنوا صلوا عليه وسلموا تسليما.

 

অর্থ: “নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম (সৃষ্টির শুরু থেকে আবাদুল আবাদ পর্যন্ত) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত পাঠ করতেছেন ও করবেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও উনার প্রতি ছলাত পাঠ কর এবং সালাম দেয়ার যথাযথ নিয়মে ক্বিয়াম করে সালাম পেশ করো।” (সূরা আহযাব-৫৬)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s