‘আত-তাক্বউইমুশ শামসি’- আগামী পৃথিবীর জন্য রচিত একটি আদর্শ সৌর ক্যালেন্ডার

বর্তমান পৃথিবীতে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মুসলমানগণের কাছে হিজরী ক্যালেন্ডারের প্রচলন রয়েছে। কিন্তু গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার রচিত সূর্যের আবর্তনের সাপেক্ষে আর হিজরী ক্যালেন্ডার রচিত চাঁদের আবর্তনের সাপেক্ষে। মাস শুরু এবং শেষ, বিশেষ দিন নির্বাচনে চাঁদের ক্যালেন্ডারের যেমন প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তেমনি ওয়াক্ত নির্ণয়ে প্রয়োজন রয়েছে সূর্য ক্যালেন্ডারের। কিন্তু ইতিহাসে মুসলমানগণের রচিত কোনো সূর্য ক্যালেন্ডারের তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহারে মুসলমানগণ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু অনেক কারণেই মুসলমানগণের গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা উচিত নয়।
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন, “তোমরা কাফির-মুশরিক তথা ইহুদী-নাছারা ও মুশরিকদেরকে অনুসরণ অনুকরণ করনা।”
বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে নানা রকম ক্যালেন্ডার ব্যবহারের তথ্য আমরা ইতিহাস থেকে পাই। ব্যবহারে নেই, কিন্তু ইতিহাসে রয়েছে; এমন অনেক ক্যালেন্ডারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য চাইনিজ, রোমান, জুলিয়ান, বেবিলনিয়ান, বাইজেন্টাইন, মিসরীয় ক্যালেন্ডার ইত্যাদি।
এছাড়াও হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের অনুসরণ করবে সে ব্যক্তি তাদেরই দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।”
আর সে কারণেই যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নেক দোয়া এবং পৃষ্ঠপোষকতায় উনার খাছ আওলাদ, আওলাদে রসূল, কুতুবুল আলম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, খলীফাতুল উমাম, হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সঙ্গে গভীর নিছবতের কারণে এই মুবারক তাক্বউইম (দিন গণনা পদ্ধতি) রচনা করেন।
আরবীতে ‘তাক্বউইম’ অর্থ ক্যালেন্ডার আর ‘শামস’ অর্থ হচ্ছে ‘সূর্য’ আর দুয়ে মিলে হয়েছে, “আত তাক্বউইমুশ শামসি”।

‘আত-তাক্বউইমুশ শামসি’-এর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য নিচে বর্ণনা করা হলো-
১. উদ্দেশ্য:
এই ক্যালেন্ডার রচনার মূল উদ্দেশ্য মুসলমানগণ যেন কাফিরদের গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ না করে, বরং এই মুবারক ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে কুরআন শরীফ এবং হাদীছ শরীফ-এর পূর্ণ অনুসরণ করতে পারেন।
২. প্রবর্তন এবং নামকরণ :
এই সৌর বছর গণনা পদ্ধতি প্রবর্তন এবং নামকরণ করেছেন খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আল মানছুর, খলীফাতুল উমাম হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম।
৩. উৎস:
এই সৌর বছর গণনা পদ্ধতি পৃথিবীর কোনো ক্যালেন্ডারের অনুকরণে তৈরি না করে বরং খাছ খোদায়ী মদদে ইলহাম-ইলকার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
৪. শুরুর সময়কাল:
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক বিছাল শরীফ-এর বছর ১১ হিজরী এবং সে বছরের পবিত্র ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ। উক্ত মাসের ১ম দিন থেকে এই আত-তাক্বউইমুশ শামসি-এর ০ বছর ১ম মাস ১ম দিন শুরু হয়েছে। (জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৮ই জুন ৬৩২ ঈসায়ী।)

৫. শুরুর সময়কালের তাৎপর্য:
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১২ই শরীফ, সোমবার শরীফ বিছাল শরীফ লাভ করেছেন। ফলে শামসি তাক্বউইম শুরু করা হয়েছে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ-এর বৎসর মুবারক থেকে এবং এই তাক্বউইম-এর ১ম বৎসরের ১২ তারিখ হচ্ছে মুবারক ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ, সোমবার।
৬. বৎসরের মাসের নামকরণ:
এই তাক্বউইম-এর মাসের নামকরণ করা হয়েছে আরবী পদ্ধতি অনুযায়ী। যেমন, আরবীতে প্রথমকে বলা হয় আউয়াল। এভাবে ১ম মাস থেকে ১২তম মাস পর্যন্ত নামকরণ করা হয়েছে- “আউয়াল, ছানী, ছালিছ, রবি’, খামিছ, সাদিছ, সাবি’, সামিন, তাসি, আ’শির, হাদি আ’শির এবং ছানী আ’শির” এভাবে।
৭. দিনের নামকরণ:
আরবী মাসের প্রতিটি দিনের নামানুসারেই নামকরণ হয়েছে। যথা: ইছনাইনিল আযীমি (সোমবার), ছুলাছায়ি (মঙ্গলবার), আরবিয়ায়ি (বুধবার), খামীসি (বৃহস্পতিবার), জুমুয়াতি (শুক্রবার), সাবতি (শনিবার), আহাদি (রোববার)
৮. মাস গণনা পদ্ধতি:
প্রতিটি বিজোড়তম মাস ৩০ দিনে এবং জোড়তম মাসগুলো ৩১ দিনে শুধু ব্যতিক্রম হবে ১২তম মাস। কিন্তু ৪ দ্বারা বিভাজ্য সালগুলোতে ৩১ দিনে হবে। তবে ১২৮ দ্বারা বিভাজ্য সালগুলো ব্যতীত।
৯. বাৎসরিক বিচ্যুতি:
পৃথিবীর অসম ঘূর্ণনের ফলে বছর শেষে সময়ের যে বিচ্যুতি দেখা যায় তা ০.২ সেকেন্ডেরও কম।
১০. লিপইয়ার পদ্ধতি:
অতিরিক্ত একদিন বছরে শেষে যোগ হওয়ায় পরিবর্তন লক্ষণীয় নয় (যা চার বছর পর পর করা হয়)। কেননা নতুন বছর শুরু হয়ে যায়।
১১. অনুসরণের ফল:
এই তাক্বউইম-এ কাফিরদের অনুসরণ হয় না, বরং মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের স্মরণ হয়। ফলে মুসলমানগণ রহমত, বরকত, সাকীনা লাভ করবে।
১২. মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব:
কাফিররা সব ক্ষেত্রে মুসলমানদের অনুসরণ করবে। কারণ কাফিরদের সৃষ্টি হয়েছে মুসলমানদের খিদমতের জন্য। এই শামসি তাক্বউইম তৈরির ফলে এর ব্যাপক প্রচার-প্রসার হলে ধীরে ধীরে কাফিররা এর অনুসরণ করবে এবং মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব ও আভিজাত্য বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ।
মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা আমাদের এই আত-তাক্বউইমুশ শামসি অনুসরণ-অনুকরণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

Advertisements