জাতী নূর ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার সহীহ আক্বীদা

কুরআন শরীফে উনার আয়াত শরীফে “ﻣﻜﺮ” “মকর”, ” ﻋﺼﻰ ” “আছা” ও ” ﺿﺎﻝ” “দাল্লুন” শব্দের ব্যাখ্যা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ্পাভক-এর শানে ব্যবহৃত সকল শব্দের সরাসরি বা প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করা বৈধ নয় বরং কোন কোন ক্ষেত্রে আল্লাহ্ পাক-এর শানে শব্দের সরাসরি বা প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করা কূফরী।

যেমন সূরা বাক্বারায় বর্ণিত “ﻭﺟﻪ ﺍﻟﻠﻪ ” ও সূরায়ে আলে ইমরানে বর্ণিত ” ﻣﻜﺮ ﺍﻟﻠﻪ “ই“ﻣﻜﺮ” “মকর”, ” ﻋﺼﻰ ” “আছা” ও ” ﺿﺎﻝ” “দাল্লুন” শব্দের ব্যাখ্যা

দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ্পাভক-এর শানে ব্যবহৃত সকল শব্দের সরাসরি বা প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করা বৈধ নয় বরং কোন কোন ক্ষেত্রেআল্লাহ্ পাক-এর শানে শব্দের সরাসরি বা প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করা কূফরী। যেমন সূরা বাক্বারায় বর্ণিত “ﻭﺟﻪ ﺍﻟﻠﻪ ” ও সূরায়ে আলে ইমরানে বর্ণিত ” ﻣﻜﺮ ﺍﻟﻠﻪ ” ইত্যাদি। কারণ ” ﻭﺟﻪ ” শব্দের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে- চেহারা বা মুখ-মন্ডল। অথচ আল্লাহ্ পাক চেহারা বা মুখ-মন্ডল হতেও সম্পূর্ণ পবিত্র। আর ” ﻣﻜﺮ” শব্দের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে-ধোকাবাজী, প্রতারণা ইত্যাদি। অথচ আল্লাহ্ পাক ধোকাবাজী, প্রতারণা ইত্যাদি হতেও সম্পূর্ণ পবিত্র অতএব, প্রমাণিত হলো যে, মহান আল্লাহ্ পাক-এর শানে উক্ত শব্দদ্বয়ের এ অর্থ গ্রহণ করা সুস্পষ্ট কূফরী।

অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ্ পাক-এর শানে ব্যবহৃত ” ﻧﻮﺭ” “নূর” শব্দেরও সরাসরি বা প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করা জায়েয নেই বরং কূফরী। কারণ “ﻧﻮﺭ ” “নূর” শব্দের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে- “আলো” বা “জ্যোতি”। অথচ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা মতে মহান আল্লাহ্ পাককে “আলো” বা “জ্যোতি” বলে বিশ্বাস করা সুস্পষ্ট র্শিক ও কূফরী।

কেননা মহান আল্লাহ্ পাককেআলো বা জ্যোতি অর্থে “নূর” বলার অর্থই হলো মহান

আল্লাহ্ পাক-এর ছুরত বা আকার-আকৃতি সাব্যস্ত করা।

অথচ আল্লাহ্ পাক ছুরত বা আকার-আকৃতি থেকে

সম্পূর্ণ পবিত্র।

যেমন এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ, ইমামুল মুহাদ্দিসীন,

আল্লামা ইমাম বায়হাক্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব-

“কিতাবুল আস্মা ওয়াছ্ছফিাত”-এর ২১৮ পৃষ্ঠায়

লিখেন,

ﻓﺎﻥ ﺍﻟﺬﻯ ﻳﺠﺐ ﻋﻠﻴﻨﺎ ﻭﻋﻠﻰ ﻛﻞ ﻣﺴﻠﻢ ﺍﻥ ﻳﻌﻠﻢ ﺍﻥ ﺭﺑﻨﺎ ﻟﻴﺲ ﺑﺬﻯ

ﺻﻮﺭﺓ ﻭﻻ ﻫﻴﺌﺔ ﻓﺎﻥ ﺍﻟﺼﻮﺭﺓ ﺗﻘﺘﻀﻰ ﺍﻟﻜﻴﻔﻴﺔ ﻭﻫﻰ ﻋﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻋﻦ

ﺻﻔﺎﺗﻪ ﻣﻨﻔﻴﺔ .

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আমাদের উপর এবং সকল মুসলমানদের

উপর একথা বিশ্বাস করা ওয়াজিব যে, আমাদের রব।

মহান আল্লাহ্ পাক আকৃতি ও দেহ বিশিষ্ট নন। কারণ

আকৃতির জন্য “কাইফিয়্যাত” অর্থাৎ দৈর্ঘ্য-প্রস্ত,

নরম-শক্ত ইত্যাদি প্রয়োজন। অথচ আল্লাহ্ পাক ও তাঁর

ছিফাতসমূহ “কাইফিয়্যাত” অর্থাৎ দৈর্ঘ্য-প্রস্ত, নরম-

শক্ত ইত্যাদি হওয়া থেকে সম্পূর্ণই পবিত্র।”

বিখ্যাত ফক্বীহ, ইমামুল হুদা ওয়াদ্দ্বীন আল্লামা

ইমাম ইবনুল হুমাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি  তাঁর বিখ্যাত কিতাব “আল মুসাইয়ারাহ্”-এর ২৮ পৃষ্ঠায় লিখেন,

ﻓﻠﻴﺲ ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﺑﺬﻯ ﻟﻮﻥ ﻭﻻ ﺭﺍﺋﺤﺔ ﻭﻻ ﺻﻮﺭﺓ ﻭﺑﺸﻜﻞ .

অর্থঃ- “মহান আল্লাহ্ পাক রং ও গন্ধ বিশিষ্ট নন এবং

আকৃতি ও দেহ বিশিষ্টও নন।”

হুজ্জাতুল ইসলাম, ইমাম ফী ইল্মিল কালাম আল্লামা

ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি  তাঁর সুপ্রসিদ্ধ কিতাব “ইহইয়াউ

উলুমিদ্দীন”-এর ১ম খন্ড, ৮১ পৃষ্ঠায় লিখেন,

ﻣﻊ ﻛﻮﻧﻪ ﻣﻨﺰﻫﺎ ﻋﻦ ﺍﻟﺼﻮﺭﺓ ﻭﺍﻟﻤﻘﺪﺍﺭ ﻣﻘﺪﺳﺎ ﻋﻦ ﺍﻟﺠﻬﺎﺕ ﻭﺍﻻﻗﻄﺎﺭ .

অর্থঃ- “মহান আল্লাহ্ পাক “ছুরত” অর্থাৎ আকার-

আকৃতি এমনকি সমস্ত “জেহাত” বা দিক হতেও পবিত্র।”

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, মহান

আল্লাহ্ পাক-এর শানে ব্যবহৃত “নূর” শব্দের প্রকৃত অর্থ

মোটেই গ্রহণযোগ্য নয় বরং তার তা’বিলী অর্থই

গ্রহণযোগ্য। যেমন, ﻭﺟﻪ ও ﻣﻜﺮ শব্দের ক্ষেত্রে গ্রহণ

করা হয়েছে। অথচ জাতী নূরে বিশ্বাসীরা মহান

আল্লাহ্ পাক-এর শানে ব্যবহৃত “ﻧﻮﺭ ” “নূর” শব্দের

তাবিলী অর্থ গ্রহণ না করে সরাসরি বা প্রকৃত অর্থে

আল্লাহ্ পাককে “নূর” বলে থাকে।

আর পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে যে, ” ﻧﻮﺭ” “নূর” শব্দের প্রকৃত

অর্থে আল্লাহ্ পাককে “নূর” বলা কূফরী। তাই

অনুসরণীয় মুফাস্সিরীন-ই-কিরামগণ আয়াত শরীফে

বর্ণিত ও আল্লাহ্ পাক-এর শানে ব্যবহৃত ” ﻧﻮﺭ” “নূর”

শব্দের প্রকৃত অর্থ গ্রহণ না করে তাবিলী অর্থই গ্রহণ

করেছেন। যা এইলিংকে বর্ণিত পোস্টে  প্রদত্ত “সূরায়ে নূর,” “সূরায়ে আরাফ” ও

“সুরায়ে যুমারে” বর্ণিত আয়াত শরীফত্রয়ের ব্যাখ্যা

দ্বারা সুস্পষ্ট ভাবেই প্রমাণিত হয়েছে। প্রমাণিত

হয়েছে যে, “সূরায়ে নূর, সূরায়ে আরাফ ও সূরায়ে

যুমারে” বর্ণিত ‘নূর’ শব্দ দ্বারা মহান আল্লাহ্ পাক

কখনোই “নূর বা আলো” সাব্যস্ত হননা। কাজেই জাতি

নূরে বিশ্বাসীরা মহান আল্লাহ্ পাককে নূর বা আলো

সাব্যস্ত করতে গিয়ে যে সকল আয়াত শরীফসমূহ দলীল

হিসেবে পেশ করে থাকে তা তাদের বক্তব্যের

স্বপক্ষে মোটেও দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

অতঃপর জাতী নূরে বিশ্বাসীরা মহান আল্লাহ্

পাককে “নূর বা আলো” সাব্যস্ত করতে গিয়ে বলে

থাকে যে, “মহান আল্লাহ্ পাক-এর ৯৯টি নাম

মোবারকের মধ্যে একটি নাম হচ্ছে- “নূর”। সুতরাং

মহান আল্লাহ্ পাক-এর জাত “নূর বা আলো।”

অথচ তাদের উক্ত দাবী ও বক্তব্য সম্পূর্ণ অমূলক ও

অজ্ঞতাসূচক। কারণ উল্লিখিত ৯৯টি নাম মোবারক

মহান আল্লাহ্ পাক-এর ছিফতী নাম মোবারকের

অন্তর্ভূক্ত। অর্থাৎ উক্ত ৯৯টি নাম মোবারক মহান

আল্লাহ্ পাক-এর ছিফত বা গুণাবলী প্রকাশার্থেই

ব্যবহৃত হয়েছে। “জাত বা সত্তা” প্রকাশার্থে নয়। যদি

তাই হয়ে থাকে তবে, ছিফতী নাম “নূর” শব্দটি মহান

আল্লাহ্ পাক-এর জাত “নূর বা আলো” এ কথা বুঝানো

ক্ষেত্রে কি করে দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে

পারে? ছিফত কি কখনো জাত হতে পারে?

কস্মিনকালেও না। তাই ইমাম-মুজতাহিদগণ মহান

আল্লাহ্ পাক-এর শানে ব্যবহৃত উক্ত “নূর” শব্দটির

“ছিফতী বা গুণবাচক” ও “তা’বীলী বা ব্যখ্যামূলক”

অর্থই প্রকাশ করেছেন। যেমন, বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর

গ্রন্থ “তাফসীরে কুরতুবী”-এর ১২ জিঃ, ২৫৫ পৃষ্ঠায়

উল্লেখ আছে,

” ﺍﻟﻨﻮﺭ ” ﻓﻰ ﻛﻼﻡ ﺍﻟﻌﺮﺏ ﺍﻻﺿﻮﺍﺀ ﺍﻟﻤﺪﺭﻛﺔ ﺑﺎﻟﺒﺼﺮ …….. ﻓﻴﺠﻮﺯ ﺍﻥ

ﻳﻘﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻧﻮﺭ ﻣﻦ ﺟﻬﺔ ﺍﻟﻤﺪﺡ ﻻﻧﻪ ﺍﻭﺟﺪ ﺍﻻﺷﻴﺎﺀ …….. ﻭﻫﻮ

ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﻟﻴﺲ ﻣﻦ ﺍﻻﺿﻮﺍﺀ .

অর্থঃ- “আরবী ভাষায় দৃশ্যমান “আলো বা জ্যোতিকে”

“নূর” বলে। …… তাই প্রশংসা বা ছিফতী অর্থেই মহান

আল্লাহ্ পাক-এর ক্ষেত্রে “নূর”শব্দের ব্যবহার

জায়েয। কারণ মহান আল্লাহ্ পাকই সমস্ত বস্তুর

অস্তিত্ত্ব দানকারী। ….. তবে মহান আল্লাহ্ পাক

“আলো” নন।”

প্রখ্যাত তাফসীরের কিতাব “তাফসীরে মাযহারী”-

এর ৬জিঃ ৫২১পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

” ﻧﻮﺭ” ﻫﻮ ﻣﺼﺪﺭ ﺑﻤﻌﻨﻰ ﺍﻟﻔﺎﻋﻞ ﻳﻌﻨﻰ ﻣﻨﻮﺭ .

অর্থঃ- “নূর” শব্দটি মাছদার যা ইস্মে ফায়েলের

অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ “নূর” শব্দের অর্থ হচ্ছে-

“আলো দানকারী।”

মশহুর তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে মাজেদী”-এর ৭১৯

পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

উর্দূ কম্পোজ করতে হবে

অর্থঃ- “নূর” প্রকৃত অর্থে ঐ আলোকে বলে, যে আলো

দৃশ্যমান। তাই প্রত্যেক ক্ষেত্রেই “নূর” শব্দটি আল্লাহ্

পাক-এর শানে মাজাযী বা তা’বীলী অর্থে ব্যবহৃত

হবে।”

মাওলানা আহমদ রেজা খান সাহেব তার “কানযুল

ঈমান”-এর ৪২২ পৃষ্ঠায় লিখেন,

অর্থঃ- “নূর” মহান আল্লাহ্ পাক-এর নাম

মোবারকসমূহের মধ্যে একটি নাম মোবারক। হযরত

ইবনে আব্বাস রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  “নূর” শব্দের অর্থ করতে গিয়ে

বলেন, “মহান আল্লাহ্ পাক আসমান-জমিনের “হাদী।”

অর্থাৎ তিনি “নূর” শব্দকে “হাদী” অর্থে প্রকাশ করেছেন।”

উপরোক্ত কিতাবসমূহের বর্ণনা দ্বারা এটা

সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, “মহান আল্লাহ্ পাক-

এর জাত “নূর বা আলো” নয়। বরং “নূর” হচ্ছে- মহান

আল্লাহ্ পাক-এর অসংখ্য ছিফতের মধ্য হতে একটি

ছিফত বা গুণবাচক নাম মোবারক।

কাজেই জাতি নূরে বিশ্বাসীর যে বলে থাকে,

“মহান আল্লাহ্ পাক-এর ৯৯টি নাম মোবারকের মধ্যে

একটি নাম মোবারক হচ্ছে- “নূর”। তাই “আল্লাহ্ পাক

নূর” তাদের এ বক্তব্য সম্পূর্ণই ভুল, বিভ্রান্তিকর ও

জেহালতপূর্ণ।

জাতি নূরে বিশ্বাসীরা মহান আল্লাহ্ পাককে “নূর বা

আলো” সাব্যস্ত করতে গিয়ে সর্বশেষ যে দলীলখানা

পেশ করে থাকে তাহলো- ইমামুল জলীল, ইমামে

আহলে সুন্নত, ইমাম আবুল হাসান আশ্য়ারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি  বলেন,

ﺍﻧﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻧﻮﺭ ﻟﻴﺲ ﻛﺎﻻﻧﻮﺍﺭ .

অর্থঃ- “মহান আল্লাহ্ পাক “নূর” তবে অন্যান্য নূরের

মত নন।”

উল্লেখ্য, হযরত ইমাম আবুল হাসান আশয়ারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি -এর

উক্ত বক্তব্য দ্বারা মহান আল্লাহ্ পাক-এর জাত কখনই

“নূর বা আলো” প্রমাণিত হয়না। যা তার পরবর্তী

বক্তব্য দ্বারাই সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যেমন- তিনি

পরবর্তীতেই বলেছেন,

ﻟﻴﺲ ﻛﺎﻻﻧﻮﺍﺭ .

অর্থাৎ- “মহান আল্লাহ্ পাক অন্যান্য “নূর বা আলোর”

ন্যায় “নূর বা আলো” নন।”

এখন প্রশ্ন হলো- মহান আল্লাহ্ পাক যদি “নূর” হন আর

অন্যান্য “নূর বা আলোর” মত না হন। তবে তিনি কি

হিসেবে, কোন অর্থে “নূর?”

মূলতঃ মহান আল্লাহ্ পাক “নূর” এটা সত্য কথাই তবে

তিনি ছিফতী বা গুণবাচক ও তা’বীলী বা ব্যখ্যামূলক

অর্থে অর্থাৎ ” ﻣﻨﻮﺭ” “মুনাব্বির” বা “আলো দানকারী”,

” ﻣﻮﺟﺪ” “মুজিদ” বা “অস্তিত্ব দানকারী” ” ﻫﺎﺩﻯ” “হাদী”

বা “হেদায়েত দানকারী” অর্থে “নূর।” ইমাম আবুল

হাসান আশয়ারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি -এর উক্ত বক্তব্য দ্বারা এটাই

বুঝানো হয়েছে।

কাজেই হযরত ইমাম আবুল হাসান আশয়ারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি -এর

উক্ত বক্তব্যকে দলীল হিসেবে পেশ করা চরম

জেহালত বৈ কিছুই নয়। কারণ তাঁর উক্ত বক্তব্য দ্বারা

মহান আল্লাহ্ পাক-এর “জাত” কখনই “নূর বা আলো”

প্রমাণিত হয় না।

প্রদত্ত বক্তব্য দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, “মহান

আল্লাহ্ পাক “নূর বা আলো” নন।” বরং তিনি “নূর বা

আলোর” স্রষ্টা। মহান আল্লাহ্ পাককে “নূর বা আলো”

ধারণা করা সুস্পষ্ট কুফরী। এ আক্বীদায় বিশ্বাসীরা

বাতিল ফেরক্বা “মুশাব্বিহা ফেরক্বার” অন্তর্ভূক্ত

সাথে সাথে এটাও প্রমাণিত হলো যে, কুরআন শরীফ ও

হাদীস শরীফ-এর যে সকল বর্ণনা দ্বারা, মহান আল্লাহ্

পাক-এর হাত-পা, আকার-আকৃতি, দেহ, আলো ইত্যাদি

হওয়া প্রমাণিত হয়। সে সকল বর্ণনাসমূহের অবশ্যই

তা’বীলী বা ব্যখ্যামূলক অর্থ গ্রহণ করতে হবে,

সরাসরী বা প্রকৃত অর্থ কখনই গ্রহণযোগ্য নয়।

আরো প্রমাণিত হয়েছে যে, জাতি নূরে বিশ্বাসীরা

মহান আল্লাহ্ পাককে “নূর বা আলো” সাব্যস্ত করতে

গিয়ে কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ থেকে যে দলীলসমূহ

পেশ করে থাকে তা এক্ষেত্রে মোটেও গ্রহণযোগ্য

নয়। বরং তা ভূল ও পরিত্যাজ্য।

সুতরাং জাতি নূরে বিশ্বাসীরা যে বলে থাকে,

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,

খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম শুধু “নূরের তৈরিই নন” বরং তিনি “মহান

আল্লাহ্ পাক-এর জাত” তথা “জাতি নূরে তৈরি।”

তাদের এ বক্তব্য শুধু অশুদ্ধই প্রমাণিত হয়নি বরং

কূফরীমূলকও প্রমাণিত হয়েছে কারণ যেখানে মহান

আল্লাহ্ পাক-এর জাতই “নূর” নয় সেখানে জাতি নূরের

প্রশ্নই আসতে পারে না।

মহান আল্লাহ্ পাক উপকরণ ব্যতীত কিছু তৈরী করতে

অক্ষম কি?

জাতী নূরে বিশ্বাসীদের বক্তব্য হতে দ্বিতীয়তঃ যে

কূফরীমূলক ও আপত্তিকর বক্তব্য ফুটে উঠে, তাহলো-

“মহান আল্লাহ্ পাক উপকরণ ব্যতীত কোন বস্তু তৈরী

করতে অক্ষম।” আর অক্ষম বলেই আপন ডান হাত দ্বারা

বাম সিনার থেকে খামছী মেরে এক টুকরা “নূর” বের

করেন এবং সে “নূর” দ্বারা তাঁর হাবীবকে সৃষ্টি

করেন।” (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)

৬স্ট————-উপরোক্ত বক্তব্য যে, সুস্পষ্ট কূফরী ও

শিরকের অন্তর্ভূক্ত তাতে বিন্দুমাত্রও সন্দেহ নেই।

মূলতঃ তারা উক্ত বক্তব্যের দ্বারা মহান আল্লাহ্

পাক-এর কুদরতকেই শুধু অস্বীকার করেনি বরং পবিত্র

কালামে পাকের অসংখ্য আয়াত শরীফকেও

অস্বীকার করে বসেছে। কারণ পবিত্র কালামে

পাকের অসংখ্য স্থানে উল্লেখ আছে যে, “মহান

আল্লাহ্ পাক সর্বপ্রকার “কুদরত বা ক্ষমতার”

অধিকারী। যেমন পবিত্র কালামে পাকে এরশাদ

হয়েছে,

ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻰ ﻛﻞ ﺷﻴﺌﻰ ﻗﺪﻳﺮ .

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ পাক সকল বিষয়ের উপর

ক্ষমতাবান।”

কাজেই আপন “কুদরত ও এরাদা” দ্বারা সম্পূর্ণ

নতুনভাবে বিনা উপাদানে “নাই” হতে কোন বস্তু সৃষ্টি

করাটাই মহান আল্লাহ্ পাক-এর কুদরত। আর সৃষ্টির মূল

হাক্বীক্বত এখানেই নিহিত। মহান আল্লাহ্ পাক এ

প্রসঙ্গে পবিত্র কালামে পাকে এরশাদ করেন,

ﺍﻧﻤﺎ ﺍﻣﺮﻩ ﺍﺫﺍ ﺍﺭﺍﺩ ﺷﻴﺌﺎ ﺍﻥ ﻳﻘﻮﻝ ﻟﻪ ﻛﻦ ﻓﻴﻜﻮﻥ .

অর্থঃ- নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ পাক-এর কুদরত এই যে,

তিনি যখন কোন বস্তু সৃষ্টি করার “এরাদা বা ইচ্ছা”

করেন, তখন সে বস্তুটিকে বলেন, হয়ে যাও। সাথে

সাথেই সেটি হয়ে যায়।” (সূরা ইয়াসীন/ ৮২)

মহান আল্লাহ্ পাক পবিত্র কালামুল্লাহ্ শরীফের

অনত্র আরো এরশাদ করেন,

ﻓﺎﺫﺍ ﻗﻀﻰ ﺍﻣﺮﺍ ﻓﺎﻧﻤﺎ ﻳﻘﻮﻝ ﻟﻪ ﻛﻦ ﻓﻴﻜﻮﻥ .

অর্থঃ- “যখন মহান আল্লাহ্ পাক কোন বস্তু সৃষ্টি করার

ইচ্ছা পোষণ করেন, তখন সে বস্তুকে লক্ষ্য করে বলেন,

হয়ে যাও। তৎক্ষনাত সেটি সৃষ্টি হয়ে যায়।” (সূরা

মু’মিনুন/ ৬৮)

এরপরেও কি জাতি নূরে বিশ্বাসীরা

বলবে যে, মহান আল্লাহ্ পাক উপাদান ব্যতীত কিছুই

তৈরী করতে পারেন না। মূলতঃ যারা বলে, “মহান

আল্লাহ্ পাক বিনা উপাদানে কিছুই সৃষ্টি করতে

পারেন না।” তারা আসলে ইহুদীদের ন্যায় নিজেদের

ক্ষমতার উপর আল্লাহ্ পাক-এর ক্ষমতাকে ক্বিয়াস

করেছে। ইহুদীরা ক্বিয়াস করেছিল, মানুষ যেমন-

কাজের ক্ষেত্রে নিজের হাত, পা ইত্যাদি অঙ্গ-

প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করে নিজের শারীরিক শক্তি

প্রয়োগ করে কাজ করতে থাকে। যার ফলে কাজ

করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, আল্লাহ্ পাকও বুঝি

তদ্রুপ। তাই ইহুদীরা বলেছিল, “মহান আল্লাহ্ পাক ছয়

দিনে আসমান-জমিন সৃষ্টি করে ক্লান্ত হয়ে পড়ার

কারণে শনিবার দিন তিনি বিশ্রাম গ্রহণ

করেছিলেন।” ইহুদীদের এ ক্বিয়াসকে মিথ্যা ও ভুল

প্রমাণ করতে আল্লাহ্ পাক নিম্নোক্ত আয়াত শরীফ

নাযিল করেন। আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেন,

ﻭﻟﻘﺪ ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺍﻟﺴﻤﻮﺍﺕ ﻭﺍﻻﺭﺽ ﻭﻣﺎﺑﻴﻨﻬﻤﺎ ﻓﻰ ﺳﺘﺔ ﺍﻳﺎﻡ ﻭﻣﺎ ﻣﺴﻨﺎ ﻣﻦ

ﻟﻐﻮﺏ .

অর্থঃ- “আমি অবশ্যই আকাশ মন্ডলি ও পৃথিবী এবং

তাদের মধ্যকার সকল বস্তুকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি।

অথচ আমাকে এক বিন্দু ক্লান্তিও স্পর্শ

করেনি।”(সূরায়ে ক্বাফ/ )

এখন কেউ বলতে পারে যে, আল্লাহ্ পাকতো নিজেই

কুরআন শরীফে এরশাদ করেছেন,

ﻭﺍﻧﺰﻝ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﻣﺎﺀ ﻓﺎﺧﺮﺝ ﺑﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺜﻤﺮﺍﺕ ﺭﺯﻗﺎ ﻟﻜﻢ .

অর্থঃ- “তিনি আসমান হতে পানি নাযিল করে উহা

দ্বারা তোমাদের রিযিকের জন্য বিভিন্ন ফল-ফলাদি

সৃষ্টি করে থাকেন।”

আর ইহা সকলেরই জানা কথা যে, পানি এবং মাটি

ফল সৃষ্টির মূল উপাদান। তাতে কি প্রমাণিত হয় না

যে, বিনা উপাদানে কিছুই সৃষ্টি হয় না।

মূলতঃ আল্লাহ্ পাক পানি এবং মাটিকে প্রথম

অবস্থায় যেমন বিনা উপাদানে “নাই” হতে সৃষ্টি

করতে পেরেছেন, তেমনি মাটি, পানি এবং গাছ

ছাড়াও তিনি ফল সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখেন। তবে

তিনি বিশেষ মুছলেহাতের কারণে প্রথমে বিনা

উপাদানে উপাদন সৃষ্টি করে, সেই সব উপাদানের

মাধ্যমে বিভিন্ন বস্তু সৃষ্টি করার ব্যবস্থা চালু

করেছেন। এ প্রসঙ্গে “তাফসীরে বায়জবীতে” উল্লেখ

আছে যে,

ﻭﻫﻮ ﻗﺎﺩﺭ ﻋﻠﻰ ﺍﻥ ﻳﻮﺟﺪ ﺍﻻﺷﻴﺎﺀ ﻛﻠﻬﺎ ﺑﻼ ﺍﺳﺒﺎﺏ ﻭﻣﻮﺍﺩ ﻛﻤﺎ ﺍﺑﺪﻉ

ﻧﻔﻮﺱ ﺍﻻﺳﺒﺎﺏ ﻭﺍﻟﻤﻮﺍﺩ ﻭﻟﻜﻦ ﻟﻪ ﻓﻰ ﺍﻳﺠﺎﺩﻫﺎ ﻣﺪﺭﺟﺎ ﻣﻦ ﺣﺎﻝ ﺍﻟﻰ

ﺣﺎﻝ ﺻﻨﺎﺋﻊ ﻭﺣﻜﻤﺎ ﻳﺠﺪﺩ ﻓﻴﻬﺎ ﻻﻭﻟﻰ ﺍﻻﺑﺼﺎﺭ ﻋﺒﺮﺍ ﻭﺳﻜﻮﻧﺎ ﺍﻟﻰ

ﻋﻈﻴﻢ ﻗﺪﺭﺗﻪ ﻟﻴﺲ ﺫﺍﻟﻚ ﻓﻰ ﺍﻳﺠﺎﺩﻫﺎ ﺩﻓﻌﺔ .

অর্থাৎ- আল্লাহ্ পাক যাবতীয় কার্যকরণ ও উপায়

উপকরণকে অপর কোন কার্যকরণ ও উপায় উপকরণ

ছাড়াই প্রথম অবস্থায় যেভাবে “নাই” হতে সম্পূর্ণ নতুন

ভাবে সৃষ্টি করেছিলেন, তদ্রুপ তিনি কোন প্রকার

কার্যকরণ ও উপাদান ছাড়াই সকল বস্তু সৃষ্টি করতে

এখনও সক্ষম। তবে তা না করে তিনি এ সব বস্তুকে তাঁর

সৃজিত নানা উপায় উপকরণ ও উপাদান দ্বারা

পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে বিভিন্ন রূপান্তরের মাধ্যমে

সৃষ্টি করে থাকেন। তার ভিতর স্রষ্টার অসংখ্য

হেকমত ও মুছলেহাত বিদ্যমান রয়েছে। এর মধ্যে তিনি

জ্ঞানী লোকদের জন্য অগণিত নতুন নতুন উপদেশ ও

শিক্ষণীয় বস্তু নিহিত রেখেছেন। যার কারণে

জ্ঞানী লোকেরা স্রষ্টার সৃষ্টি কৌশল অবলোকন ও

উপলব্ধি করে তার মধ্যে গভীর চিন্তা-ভাবনার সুযোগ

পায়। ফলে তাদের জ্ঞান চক্ষু প্রসারিত হতে থাকে

এবং স্রষ্টার সীমাহীন জ্ঞান, অসীম বিচক্ষণতা ও

দূরদর্শীতা এবং মহান কুদরতের প্রতি তাদের আস্থা ও

বিশ্বাস উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং অবিচল

ও মজবুত হতে থাকে।

এভাবে স্রষ্টার সঠিক পরিচয় লাভের পথ তাদের জন্য

সুগম হয়। কিন্তু এসব বস্তুকে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে

সৃষ্টি না করে হঠাৎ সৃষ্টি করা হলে এত সব

উপকারিতা কখনও অর্জিত হত না।অতএব, বিভিন্ন উপাদান দ্বারা বস্তু জগতে

বিভিন্ন বস্তুকে সৃষ্টি করার বিধান দেখে কোন

নাদান যেন এ ধারণা না করে যে, আল্লাহ্ পাক বুঝি

আসলেই উপাদান ব্যতিরেকে কোন কিছু সৃষ্টি করার

ক্ষমতা রাখেন না।

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত

হলো যে, মহান আল্লাহ্ পাক উপাদান ব্যতীতই সবকিছু

সৃষ্টি করতে সক্ষম। এর বিপরীত আক্বীদা পোষণ করা

সুস্পষ্ট কূফরী।

মহান আল্লাহ্ পাক কি দেহ্বা আকার-আকৃতি বিশিষ্ট?

জাতি নূরে বিশ্বাসীদের বক্তব্য থেকে তৃতীয় যে

কূফরীমূলক ও আপত্তিকর বক্তব্য ফুটে উঠে তাহলো-

“মহান আল্লাহ্ পাক-এর দেহ রয়েছে।” কারণ, “ডান হাত

দ্বারা বাম সিনার থেকে খামছী মেরে …।” তাদের এ

কথার দ্বারা এটাই বুঝা যায় যে, মহান আল্লাহ্ পাক-

এর মানুষের ন্যায় হাত, শরীর বা আকৃতি রয়েছে।

(নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)

অথচ তাদের এ বক্তব্য আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-

এর সকল ইমাম-মুজতাহিদগণের ঐক্যমতে সুস্পষ্ট ও

অকাট্ট কূফরী। বিশ্বখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য সকল

আক্বাইদের কিতাব ও অন্যান্য কিতাবসমূহে এ কথাই

উল্লেখ আছে যে, মহান আল্লাহ্ পাক দেহ বা আকার-

আকৃতি বিশিষ্ট নন। মহান আল্লাহ্ পাক দেহ বা

আকার-আকৃতি বিশিষ্ট একথা বিশ্বাস করা সুস্পষ্ট

কূফরী। যেমন- এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ,

ইমামুল মুহাদ্দিসীন, আল্লামা ইমাম বায়হাক্বী (রঃ)

তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব- “কিতাবুল আস্মা ওয়াছ্ছফিাত”-

এর ২১৮ পৃষ্ঠায় লিখেন,

ﻓﺎﻥ ﺍﻟﺬﻯ ﻳﺠﺐ ﻋﻠﻴﻨﺎ ﻭﻋﻠﻰ ﻛﻞ ﻣﺴﻠﻢ ﺍﻥ ﻳﻌﻠﻢ ﺍﻥ ﺭﺑﻨﺎ ﻟﻴﺲ ﺑﺬﻯ

ﺻﻮﺭﺓ ﻭﻻ ﻫﻴﺌﺔ ﻓﺎﻥ ﺍﻟﺼﻮﺭﺓ ﺗﻘﺘﻀﻰ ﺍﻟﻜﻴﻔﻴﺔ ﻭﻫﻰ ﻋﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻋﻦ

ﺻﻔﺎﺗﻪ ﻣﻨﻔﻴﺔ .

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আমাদের উপর এবং সকল মুসলমানদের

উপর একথা বিশ্বাস করা ওয়াজিব যে, আমাদের রব।

মহান আল্লাহ্ পাক “আকৃতি ও দেহ” বিশিষ্ট নন। কারণ

আকৃতির জন্য “কাইফিয়্যাত” অর্থাৎ দৈর্ঘ্য-প্রস্ত,

নরম-শক্ত ইত্যাদি প্রয়োজন। অথচ আল্লাহ্ পাক ও তাঁর

ছিফাতসমূহ “কাইফিয়্যাত” অর্থাৎ দৈর্ঘ্য-প্রস্ত, নরম-

শক্ত ইত্যাদি হওয়া থেকে সম্পূর্ণই পবিত্র।”

বিখ্যাত ফক্বীহ, ইমামুল হুদা ওয়াদ্দ্বীন আল্লামা

ইমাম ইবনুল হুমাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিখ্যাত কিতাব “আল

মুসাইয়ারাহ্”-এর ২৮ পৃষ্ঠায় লিখেন,

ﻓﻠﻴﺲ ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﺑﺬﻯ ﻟﻮﻥ ﻭﻻ ﺭﺍﺋﺤﺔ ﻭﻻ ﺻﻮﺭﺓ ﻭﺑﺸﻜﻞ .

অর্থঃ- “মহান আল্লাহ্ পাক রং ও গন্ধ বিশিষ্ট নন এবং

আকৃতি ও দেহ বিশিষ্টও নন।”

হুজ্জাতুল ইসলাম, ইমাম ফী ইল্মিল কালাম

আল্লামা ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সুপ্রসিদ্ধ

কিতাব “ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন”-এর ১ম খন্ড, ৮১ পৃষ্ঠায়

লিখেন,

ﻣﻊ ﻛﻮﻧﻪ ﻣﻨﺰﻫﺎ ﻋﻦ ﺍﻟﺼﻮﺭﺓ ﻭﺍﻟﻤﻘﺪﺍﺭ ﻣﻘﺪﺳﺎ ﻋﻦ ﺍﻟﺠﻬﺎﺕ ﻭﺍﻻﻗﻄﺎﺭ .

অর্থঃ- “মহান আল্লাহ্ পাক “ছুরত” অর্থাৎ আকার-

আকৃতি এমনকি সমস্ত “জেহাত” বা দিক হতেও পবিত্র।”

প্রসিদ্ধ, নির্ভরযোগ্য ও বিশ্ব বিখ্যাত কিতাব “শরহে

আক্বাইদে নসফীতে” উল্লেখ করা হয়েছে,

ﻭﻻ ﺟﺴﻢ ﻭﻻﺟﻮﻫﺮ ﻭﻻﻣﺼﻮﺭ ﺍﻯ ﺫﻯ ﺻﻮﺭﺓ ﻭﺷﻜﻞ ﻣﺸﻜﻞ ﻣﺜﻞ

ﺻﻮﺭﺓ ﺍﻻﻧﺴﺎﻥ ﺍﻭ ﺍﻟﻔﺮﺱ ﺑﺎﻥ ﻟﻬﺎ ﺑﻮﺍﺳﻄﺔ ﺍﻟﻜﻤﻴﺎﺕ ﺗﻠﻚ ﻣﻦ ﺧﻮﺍﺹ

ﺍﻻﺟﺴﺎﻡ ﺟﺺ ﺫﻯ ﺣﺪ ﻭﻧﻬﺎﻳﺔ .

অর্থঃ- “তিনি (ﺟﺴﻢ ) অর্থাৎ দেহ বিশিষ্ট নন। (কারণ

দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রয়েছে এবং দেহ স্থান

দখলকারী)। তিনি মানুষ ও প্রাণীর ( ﺻﻮﺭﺓ) বা আকার-

আকৃতি হলো- দেহের বৈশিষ্ট্য, যা দেহের

প্রান্তসীমা ও পরিধি তথা দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বেধ দ্বারা

অর্জিত অর্থাৎ আয়তন ও পরিমাণ হতে সৃষ্টি হয়ে

থাকে। তিনি প্রান্ত, সীমা ও পরিধি বিশিষ্ট নন।

এ উপমহাদেশের সুপ্রসিদ্ধ ও প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ

ইমামুল মুহাদ্দিসীন, আল্লামা শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্

মুহাদ্দিসে দেহলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি  তাঁর নির্ভরযোগ্য কিতাব

“আল ক্বাওলুল জামীল”-এর ৩১ পৃষ্ঠায় লিখেন,

ﻣﻨﺰﻩ ﻣﻦ ﺟﻤﻴﻊ ﺳﻤﺎﺕ ﺍﻟﻨﻘﺺ ﻭﺍﻟﺰﻭﺍﻝ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺴﻤﻴﺔ ﻭﺍﻟﺘﺠﻴﺰ

ﻭﺍﻟﻌﺮﺿﻴﺔ ﻭﺍﻟﻬﺔ ﻭﺍﻻﻟﻮﺍﻥ ﻭﺍﻻﺷﻜﺎﻝ .

অর্থঃ- মহান আল্লাহ্ পাক অপূর্ণতা ও নশ্বরতার

যাবতীয় ছিফ্ত বা গুণ হতে সম্পূর্ণই মুক্ত। তিনি দেহ

বিশিষ্ট, স্থান দখলকারী, কোনজেহাত বা দিকে

অবস্থানকারী, বর্ণ ও আকৃতিধারী এবং দেহের

বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যধারী নন।”

বিখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য কিতাব “শরহে মাওয়াক্বিফ”-

এর ৫৭১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

ﺍﻧﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻟﻴﺲ ﻓﻰ ﺟﻬﺔ ﻭﻻ ﻓﻰ ﻣﻜﺎﻥ ﻣﻦ ﺍﻻﻣﻜﻨﺔ ﻭﺧﺎﻟﻒ ﻓﻴﻪ

ﺍﻟﻤﺸﺒﻬﺔ .

অর্থঃ- নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ পাক কোন দিকে ও

কোন স্থানে নন। কিন্তু পথভ্রষ্ট মুশাব্বিহা ফিরকা এ

মতটির বিরোধীতা করে থাকে।”

সুপ্রসিদ্ধ আলেমেদ্বীন আল্লামা রমজান

আফেনদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি  তাঁর লিখিত “শরহে আক্বাইদ”-এর ১০৬

ও ১০৮ পৃষ্ঠার হাশিয়ায় উল্লেখ করেছেন,

ﻭﻻ ﻣﺼﻮﺭ ﺍﻯ ﺫﻯ ﺻﻮﺭﺓ ﻭﺷﻜﻞ ﻻﻥ ﺗﻠﻚ ﻣﻦ ﺧﻮﺍﺹ ﺍﻻﺟﺴﺎﻡ

……… ﻭﻻ ﻳﺘﻤﻜﻦ ﻓﻰ ﻣﻜﺎﻥ .

অর্থঃ- মহান আল্লাহ্ পাক ছূরত ও শেকল অর্থাৎ

আকার-আকৃতি বিশিষ্ট নন। কেননা আকার-আকৃতি

দেহের বৈশিষ্ট্য। …. এবং তিনি কোন স্থানে

স্থিতিশীল নন।”

মহান আল্লাহ্ পাক-এর “জাতের পরিচয়” সম্পর্কিত

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবেই

প্রমাণিত হলো যে, মহান আল্লাহ্ পাক-এর “জাত”

ওয়াজিবুল ওজুদ, তাঁর জাত হাদেস বা সৃষ্ট নয়, মহান

আল্লাহ্ পাক জিস্ম বা দেহ, ছূরত বা আকার-আকৃতি

এবং দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ভেদ ও তাশবীহ্ বা সাদৃশ্য ইত্যাদি

হতে সম্পূর্ণরূপেই পবিত্র।

মহান আল্লাহ্ পাক-এর জাতের কোন অংশী আছে কি?

জাতি নূরে বিশ্বাসীদের বক্তব্য থেকে চতুর্থ যে

কূফরীমূলক ও আপত্তিকর বক্তব্য ফুটে উঠে তাহলো-

“সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ্

পাক-এর জাতের অংশ।” (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)

মূলতঃ জাতি নূরে বিশ্বাসীদের এবক্তব্যটিও সুস্পষ্ট

কূফরী ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর খেলাফ ও

র্শিকের অন্তর্ভূক্ত। কারণ আহলে সুন্নত ওয়াল

জামায়াতের সকল ইমাম-মুজতাহিদগণই একমত যে,

মহান আল্লাহ্ পাক “লা-শারীক” অর্থাৎ তাঁর কোনই

শরীক বা অংশী নেই। প্রতিটি মুসলমানই এই স্বাক্ষি

প্রদাণ করে থাকে।

যেমন, “আমি স্বাক্ষি দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ্ পাক

ছাড়া কোন মা’বুদ নেই। তিনি একক। তাঁর কোন শরীক

বা অংশী নেই। আমি আরো স্বাক্ষি দিচ্ছি যে,

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও

রাসূল।”

বস্তুতঃ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর

পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জাতে

পাক হচ্ছে- হাদেছ। আর মহান আল্লাহ্ পাক-এর জাতে

পাক হচ্ছে- ক্বাদীম। ক্বাদীম কখনোই হাদেছ সৃষ্টির

উপাদান হতে পারে না। যেমন, এ প্রসঙ্গে মাওলানা

আব্দুল হাই লাখনবী সাহেব তাঁর “মাজমুয়ায়ে ফতওয়া”-

এর ২য় জিঃ ২৬০ পৃষ্ঠায় লিখেন,

ﺍﻥ ﺫﺍﺕ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺪﻳﻢ ﻭﺫﺍﺕ ﻧﺒﻴﻨﺎ ﺣﺎﺩﺙ ﻻﻳﻜﻮﻥ ﺍﺻﻼ ﻭﻣﺎﺩﺓ ﻟﻠﺤﺎﺩﺙ

ﻻﻥ ﺍﻟﻘﺪﻳﻢ ﻓﺮﺩ ﻭﺍﺣﺪ ﻻﻳﺘﺠﺰﻯ ﻭﻻ ﻳﺘﺒﻌﺾ ﻓﻼ ﻳﻨﻔﺼﻞ ﻣﻨﻪ ﺷﺊ

ﻓﺎﻟﺬﻯ ﻻﻳﺘﺠﺰﻯ ﻭﻻ ﻳﻨﻔﺼﻞ ﻣﻨﻪ ﺷﺊ ﻻ ﻳﻜﻮﻥ ﺍﺻﻼ ﻟﺸﺊ ﻛﻤﺎ ﻳﻔﻬﻢ

ﻣﻦ ﻛﺘﺐ ﺍﻟﻌﻘﺎﺋﺪ .

অর্থঃ- “মহান আল্লাহ্ পাক-এর জাত ক্বাদীম। আর

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,

খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম-এর জাত হচ্ছে হাদেছ। আর ক্বাদীম

কখনো হাদেছ সৃষ্টির মূল বা উপাদান হতে পারে না।

কেননা জাতে ক্বাদীম এক ও একক। তিনি খন্ডিত ও

বন্টিত হন না। বিভক্ত ও বিভাজ্য হন না। তাঁর জাত

হতে কোন কিছু বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। তাই আল্লাহ্

পাক-এর জাত কস্মিনকালেও অন্য কোন বস্তুর উপাদান

বা ধাতু হতে পারে না। এ বিষয়টি আক্বীদার

কিতাবসমূহে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। ”

মাওলানা আব্দুল হাই লাখনবী উক্ত “মজমুয়ায়ে

ফতওয়ায়” আরো উল্লেখ করেন,

ﺍﻥ ﺫﺍﺕ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺣﺎﺩﺛﺔ ﻭﺍﻟﻘﺪﻳﻢ ﻭﻋﺪﻡ ﺳﺒﻖ

ﺍﻟﻌﺪﻡ ﻣﺨﺘﺼﺎ ﺑﺎﻟﺤﻖ ﺑﻤﻌﻨﻰ ﺍﻻﺯﻟﻴﺔ ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﻭﺗﻌﻠﻰ ﻋﻨﺪ ﺍﻫﻞ

ﺍﻻﺳﻼﻡ ﻛﻤﺎ ﺍﻥ ﺍﻟﻘﺪﻡ ﺑﻤﻌﻨﻰ ﻋﺪﻡ ﺍﻻﺣﺘﻴﺎﺝ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﻐﻴﺮ ﻣﺨﺘﺺ

ﺑﺎﻟﻮﺍﺟﺐ ﺍﺗﻔﺎﻗﺎ ﻭﻗﺪ ﺩﻟﺖ ﺍﺧﺒﺎﺭ ﺻﺤﻴﺤﺔ ﻋﻠﻰ ﺍﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ

ﻣﻌﻪ ﺷﺊ ﻭﺍﻟﺬﺍﺕ ﺍﻻﻟﻬﻴﺔ ﻟﻴﺴﺖ ﻣﺎﺩﺓ ﺑﺬﺍﺕ ﺍﻟﻨﺒﻮﻳﺔ ﻭﻛﻴﻒ ﻳﺠﻮﺯ ﺍﻥ

ﻳﻜﻮﻥ ﺍﻟﻘﺪﻳﻢ ﻣﺎﺩﺓ ﻟﻠﺤﺎﺩﺙ .

অর্থঃ- “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,

খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম-এর জাত হাদেছ। আর মহান আল্লাহ্

পাক-এর জাত ক্বাদীম। তিনি অনাদিকাল থেকেই

বিরাজমান। অস্তিত্বহীনতা এক মুহুর্তের জন্যও তাঁর

উপর অতিবাহিত হয় নি। তিনি স্বয়ম্ভু অস্তিত্বের

ব্যাপারে তাঁর জাত কারো মুহতাজ হয়নি। এ অর্থে

সকল মুসলমানের ঐক্যমতে একমাত্র আল্লাহ্ পাক-এর

জাতে ওয়াজিবুল ওজুদই ক্বাদীম। বহু সহীহ্ হাদীস

শরীফ দ্বারা প্রমাণিত রয়েছে যে, পূর্বে আল্লাহ্

পাক একাই ছিলেন অন্য কোন কিছু তাঁর সাথে ছিল

না। আল্লাহ্ পাক-এর জাত রাসূলে পাক-এর জাতের

উপাদান হতে পারে না। ক্বাদীম কি করে হাদেছের

উপাদান হতে পারে?

মহান আল্লাহ্ পাক এ বিষয়টি “সূরায়ে ইখলাছে”

আরো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। যেমন, আল্লাহ্

পাক এরশাদ করেন,

ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺣﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺼﻤﺪ ﻟﻢ ﻳﻠﺪ ﻭﻟﻢ ﻳﻮﻟﺪ ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﻛﻔﻮﺍ ﺍﺣﺪ .

অর্থঃ- “হে হাবীব! আপনি বলুন, আল্লাহ্ পাক এক।

আল্লাহ্ পাক বেনিয়াজ, আল্লাহ্ পাক থেকে কেউ

জন্ম নেয়নি এবং আল্লাহ্ পাককেও কেউ জন্ম দেয়নি।

আর আল্লাহ্ পাক-এর সমকক্ষও কেউ নেই।”

শানে নুযুল

স্মর্তব্য, “সূরায়ে ইখলাছ” নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট

সম্পর্কে বলা হয়, একবার কিছু বেদ্বীন, সাইয়্যিদুল

মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবার শরীফে এসে বললো,

ইয়া রাসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্, সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি যে আল্লাহ্ পাক-এর

কথা বলছেন তাঁর পরিচয় কি? তাঁর পিতা-মাতা কে?

তাঁর সন্তান কতজন, তিনি কোথায় অবস্থান করেন

ইত্যাদি ইত্যাদি প্রশ্ন করলো। তখনই আল্লাহ্ পাক

“সূরা ইখলাছ” নাযিল করে তাঁর জাতের পরিচয় দিয়ে

দেন। আমরা যদি উক্ত “সূরা ইখলাছের” সংক্ষিপ্ত

তাফসীর বা ব্যখ্যা আলোচনা করি তবে আরো

ভালরূপে সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, মহান আল্লাহ্ পাক-এর

জাতের অংশী হওয়া আদৌ সম্ভব নয়।

তাই নিম্নে সূরা ইখলাছের সংক্ষিপ্ত ব্যখ্যা তুলে ধরা হলো- তাফসীর বা ব্যাখ্যা

মহান আল্লাহ্ পাক বলেন, হে রাসুল সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (লোকদেরকে) বলুন,

ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺣﺪ .

সেই আল্লাহ্ পাক (যার সম্পর্কে তোমরা প্রশ্ন করেছ)

এক ও একক।

মূলতঃ একক হওয়ার গুণটি একমাত্র তাঁর

জন্যই বিশেষভাবে নির্দিষ্ট। সৃষ্টি জগতের অন্য

কেউই অন্য কিছুই এই গুণে গুণান্বিত হবার অধিকারী

নয়। কেবল মাত্র তিনিই এক। তিনিই একক ও অনন্য।

তাঁর দ্বিতীয় কেউই নেই। বিকল্প কিছুই নেই। তিনি

একাই রব, মনিব ও প্রতিপালক। রব হওয়ার ব্যাপারে

অন্য কেউই কিছুই তাঁর অংশিদার নয়। আর যিনি রব,

একমাত্র তিনিই ইলাহ্-মাবুদ হতে পারেন। অন্য কারও

বা কিছুরই ইলাহ্-মাবুদ হওয়ার অধিকার নেই। তাই

ইলাহ্-মাবুদ হওয়ার ব্যাপারেও তিনি একক। এ

ব্যাপারে কেউই তাঁর শরীক নেই, হতে পারে না। বিশ্ব

লোকের তিনি একাই সৃষ্টিকর্তা, সষ্টির একাজে অন্য

কেউই বা কিছুই তাঁর সাথে শরিক নেই। তাই তিনি

একাই বিশ্ব জগতের মালিক, পরিচালক, বিধানদাতা,

রিযিকদাতা, বিপদে সাহায্যকারী ও ফরিয়াদ

শ্রবণকারী। এসব কাজেও তিনি একক। তাঁর কোন শরীক

নেই। তিনি একা চিরন্তন, শাশ্বত, চিরস্থায়ী,

চিরঞ্জীব ও সর্বজ্ঞ এবং তিনিই একা আল্লাহ্। তাঁর

পূর্বেও কোন আল্লাহ্ ছিল না এবং তাঁর পরেও কেউ

আল্লাহ্ হবে না। তাঁর পূর্ব ও পর বলতে যখন কিছুই নেই,

তখন অন্য কারো আল্লাহ্ হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। তিনি

একাই আল্লাহ্, তাঁর স্বজাতীয় বা সমতূল্য কেউ নেই।

তিনি শুধু ওয়াহেদ বা এক নয়, তিনি আহাদ তথা

এককও। একের পর দুই হয়, তাই বহুত্তের ধারণা সতঃই

এসে যায়। কিন্তু একক হওয়ার কারণে বহুত্বের এক

বিন্দু স্থানও সেখানে নেই। বহু বিচ্ছিন্ন ও স্বতন্ত্র

অংশ মিলিত হয়ে আল্লাহ্ পাক-এর সত্ত্বা গড়ে উঠে

নি। তাঁর জাতে সংযোজন ও বিয়োজন (যোগ ও

বিয়োগ) কিছুই নেই। তিনি খন্ডে খন্ডে বা অংশে

বিভক্ত হননা। তাঁর জাত হতে কিছুই বের হয় না, হতে

পারে না। তাঁর জাত অবিভক্ত, অবিভাজ্য ও

অবন্টনীয়। তাঁর শরীর নেই, আকার-আকৃতি নেই, তাঁর

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কিছুই নেই। তাঁর জাতের মধ্যে অন্য

কোন জিনিস স্থান পায়নি। তাঁর কোন বর্ণ বা রং

নেই। তাঁর কোন দিক নেই। তিনি কোন স্থানে

অবস্থিত নন। তিনি সময়ের আওতা হতেও মুক্ত। তাঁর

জাতের কোন প্রকার পরিবর্তন নেই। মোটকথা বহুত্বের

যাবতীয় ধরণ থেকে তিনি অতি উর্দ্ধে, অতি পবিত্র।

সর্বদিক দিয়েই তিনি একক, অনন্য ও অদ্বিতীয়।

ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺼﻤﺪ .

আল্লাহ্ পাক কারো মুখাপেক্ষী নন। বরং

সৃষ্টিলোকের সকলেই সবকিছুই সর্ব ব্যাপারে তাঁর

মুখাপেক্ষী। তাঁর চেয়ে উচ্চতর কেউ নেই। তিনি সকল

শ্রেষ্ঠ গুণাবলীর অধিকারী। তাঁর মধ্য হতে কোন

জিনিস কখনও বের হয়নি এবং হয় না। তিনি পানাহার

করেন না। সকল ব্যাপারে তাঁরই নিকট প্রার্থনা করা

হয়। বিপদে সাহায্য তাঁর নিকট চাওয়া হয়। তাঁর উপর

উপর কোন প্রকার বিপদ-আপদ আসেনা। তিনি যাবতীয়

দোষত্রুটি হতে মুক্ত। তাঁর গুণে অন্য কেউ গুণান্বিত

নয়। আপনইচ্ছা ও খুশি মত কাজ করেন। তাঁর কাজে

পুনঃ বিবেচনা করার কেউ নেই বা আপত্তি তোলারও

কেউ নেই। তিনি চিরস্থায়ী, শাশ্বত, অসীম। তিনিই

আসল ও প্রকৃত ছামাদ, কারণ আয়াত শরীফে ﻟﻠﻪ ﺻﻤﺪ না

বলে ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺼﻤﺪ বলা হয়েছে। সৃষ্টির কোন ব্যক্তি বা

বস্তু কোন একদিকে ছামাদ হলেও সবদিক থেকে নয়।

কিন্তু আল্লাহ্ পাক সর্বদিক থেকেই ছামাদ। সমস্ত

সৃষ্টি জগত সর্বক্ষেত্রে তাঁর মুখাপেক্ষী। কিন্তু

তিনি কোন ব্যপারেই কারো মুখাপেক্ষী নন। সকলের

সব রকমের প্রয়োজন কেবল তিনিই পূরণ করেন এবং

করতে পারেন। তিনি রিযিক দান করেন। গ্রহণ করেন

না। তিনি অজর, অমর, অক্ষয়, চিরস্থায়ী ও শাশ্বত্ব,

একক, অবিভাজ্য, অবন্টনীয়। বহু জিনিসের সংযোজনে

তৈরী নন। সর্বাপেক্ষা বড় ও সর্বশ্রেষ্ঠ। তাই তিনি

কেবল ছামাদই নহেন। আচ্ছামাদও। অর্থাৎ ছামাদগুণে

কেবল তাঁর জাতই গুণান্বিত। আচ্ছামাদ হওয়ার কারণে

কেবল তিনিই একক, অনন্য ও অতুলনীয়। তাই তিনি

মাবুদ হওয়ার একমাত্র অধিকারী।

ﻟﻢ ﻳﻠﺪ ﻭﻟﻢ ﻳﻮﻟﺪ .

না তাঁর কোন সন্তান আছে। না তিনি কারো সন্তান।

তাই তাঁর জাতের অংশী হওয়াও সম্ভব নয়। কারণ

আল্লাহ্ পাক-এর জাতে পাক থেকে কিছুই বের হয়ে

আসে নি এবং প্রবেশও করেনি।

ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﻛﻔﻮﺍ ﺍﺣﺪ .

এবং কেউ কোন দিক থেকেই তাঁর সমতুল্য ও সমকক্ষ নয়।

অনত্র বলা হয়েছে, ﻟﻴﺲ ﻛﻤﺜﻠﻪ ﺷﺊ কিছুই তাঁর মত নয়।

অর্থাৎ গোটা সৃষ্টি জগতে জাতের দিক থেকে,

ক্ষমতা ও ইখতেয়ারে, গুণাবলী ও কার্যাবলীতে

কেউই কিছু একবিন্দু পরিমাণও তাঁর সমমর্যাদাবান নয়,

ছিল না, হতে পারে না এবং পারবেও না। যেহেতু

আল্লাহ পাক সৃষ্টি জগতের কোন বস্তুর শ্রেণীভুক্ত নন

এবং কোন বস্তুর সাথে তাঁর কোন প্রকার মিল বা

সাদৃশ্যতাও নেই। তাই তিনি সকল প্রকার সৃষ্ট বস্তু তথা

জাওহার ও জেছেম হতে এবং আরজ তথা জাওহার ও

জেছেমের যাবতীয় বৈশিষ্ট ও গুণাবলী। যথা- রং,

গন্ধ ইত্যাদি হতে সম্পূর্ণ পবিত্র ও মুক্ত।

-“সূরায়ে ইখলাছের” উপরোক্ত

সংক্ষিপ্ত তাফসীর থেকে এটাই প্রমাণিত হলো যে,

মহান আল্লাহ্ পাক-এর জাতে পাক অংশী হওয়া

থেকে সম্পূর্ণই পবিত্র। সুতরাং “সাইয়্যিদুল মুরসালীন,

ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্ পাক-এর জাতের অংশ।” এ কথা

বলা বা এরূপ আক্বীদা পোষণ করা সুস্পষ্ট কূফরী।

কাজেই জাতী নূরে বিশ্বাসীরা যে বলে থাকে

“সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু “নূরের

তৈরীই” নন বরং তিনি মহান আল্লাহ্ পাক-এর “জাত”

অর্থাৎ “জাতী নূরের তৈরি” আবার কেউ কেউ বলেন,

মহান আল্লাহ্ পাক তাঁর হাবীবকে সৃষ্টি করার কোন

উপকরণ না পেয়ে আপন ডান হাত দ্বারা বাম সিনার

থেকে খামছী মেরে এক টুকরা “নূর” বের করেন এবং

সে “নূর” দ্বারা তাঁর হাবীবকে সৃষ্টি করেন।” তাদের এ

বক্তব্য কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও

ক্বিয়াসের দলীল দ্বারা ভুল, জেহালতপূর্ণ,

দলীলবিহীন ও কূফরীমূলক প্রমাণিত হলো। প্রমাণিত

হলো যে, মহান আল্লাহ্ পাক “নূর বা আলো” নন। বরং

তিনি “নূর বা আলো” স্রষ্টা। তিনি উপাদান ব্যতীতই

সবকিছু তৈরী ক রতে সক্ষম। তিনি দেহ বা আকার-

আকৃতি বিশিষ্ট নন এবং তাঁর জাতে পাকের কোনই

অংশী নেই। এটাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের

ইমাম-মুজতাহিদ সকলের আক্বীদা। এর বিপরিত

আক্বীদা পোষণকারীরা আহলে সুন্নত ওয়াল

জামায়াত থেকে খারিজ।ত্যাদি।

কারণ ” ﻭﺟﻪ ” শব্দের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে- চেহারা বা মুখ-

মন্ডল। অথচ আল্লাহ্ পাক চেহারা বা মুখ-মন্ডল হতেও

সম্পূর্ণ পবিত্র। আর ” ﻣﻜﺮ” শব্দের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে-

ধোকাবাজী, প্রতারণা ইত্যাদি। অথচ আল্লাহ্ পাক

ধোকাবাজী, প্রতারণা ইত্যাদি হতেও সম্পূর্ণ পবিত্র।

অতএব, প্রমাণিত হলো যে, মহান আল্লাহ্ পাক-এর

শানে উক্ত শব্দদ্বয়ের এ অর্থ গ্রহণ করা সুস্পষ্ট কূফরী।

অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ্ পাক-এর শানে ব্যবহৃত ” ﻧﻮﺭ”

“নূর” শব্দেরও সরাসরি বা প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করা

জায়েয নেই বরং কূফরী। কারণ “ﻧﻮﺭ ” “নূর” শব্দের প্রকৃত

অর্থ হচ্ছে- “আলো” বা “জ্যোতি”। অথচ আহলে সুন্নত

ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা মতে মহান আল্লাহ্

পাককে “আলো” বা “জ্যোতি” বলে বিশ্বাস করা

সুস্পষ্ট র্শিক ও কূফরী। কেননা মহান আল্লাহ্ পাককে

আলো বা জ্যোতি অর্থে “নূর” বলার অর্থই হলো মহান

আল্লাহ্ পাক-এর ছুরত বা আকার-আকৃতি সাব্যস্ত করা।

অথচ আল্লাহ্ পাক ছুরত বা আকার-আকৃতি থেকে

সম্পূর্ণ পবিত্র।

যেমন এ প্রসঙ্গেপ্রখ্যাত হাদীস বিশারদ, ইমামুল মুহাদ্দিসীন,

আল্লামা ইমাম বায়হাক্বী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি ) তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব-

“কিতাবুল আস্মা ওয়াছ্ছফিাত”-এর ২১৮ পৃষ্ঠায়

লিখেন,

ﻓﺎﻥ ﺍﻟﺬﻯ ﻳﺠﺐ ﻋﻠﻴﻨﺎ ﻭﻋﻠﻰ ﻛﻞ ﻣﺴﻠﻢ ﺍﻥ ﻳﻌﻠﻢ ﺍﻥ ﺭﺑﻨﺎ ﻟﻴﺲ ﺑﺬﻯ

ﺻﻮﺭﺓ ﻭﻻ ﻫﻴﺌﺔ ﻓﺎﻥ ﺍﻟﺼﻮﺭﺓ ﺗﻘﺘﻀﻰ ﺍﻟﻜﻴﻔﻴﺔ ﻭﻫﻰ ﻋﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻋﻦ

ﺻﻔﺎﺗﻪ ﻣﻨﻔﻴﺔ .

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আমাদের উপর এবং সকল মুসলমানদের

উপর একথা বিশ্বাস করা ওয়াজিব যে, আমাদের রব।

মহান আল্লাহ্ পাক আকৃতি ও দেহ বিশিষ্ট নন। কারণ

আকৃতির জন্য “কাইফিয়্যাত” অর্থাৎ দৈর্ঘ্য-প্রস্ত,

নরম-শক্ত ইত্যাদি প্রয়োজন। অথচ আল্লাহ্ পাক ও তাঁর

ছিফাতসমূহ “কাইফিয়্যাত” অর্থাৎ দৈর্ঘ্য-প্রস্ত, নরম-

শক্ত ইত্যাদি হওয়া থেকে সম্পূর্ণই পবিত্র।”

বিখ্যাত ফক্বীহ, ইমামুল হুদা ওয়াদ্দ্বীন আল্লামা

ইমাম ইবনুল হুমাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি ) তাঁর বিখ্যাত কিতাব “আল

মুসাইয়ারাহ্”-এর ২৮ পৃষ্ঠায় লিখেন,

ﻓﻠﻴﺲ ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﺑﺬﻯ ﻟﻮﻥ ﻭﻻ ﺭﺍﺋﺤﺔ ﻭﻻ ﺻﻮﺭﺓ ﻭﺑﺸﻜﻞ .

অর্থঃ- “মহান আল্লাহ্ পাক রং ও গন্ধ বিশিষ্ট নন এবং

আকৃতি ও দেহ বিশিষ্টও নন।”

হুজ্জাতুল ইসলাম, ইমাম ফী ইল্মিল কালাম আল্লামা

ইমাম গাজ্জালী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি ) তাঁর সুপ্রসিদ্ধ কিতাব “ইহইয়াউ

উলুমিদ্দীন”-এর ১ম খন্ড, ৮১ পৃষ্ঠায় লিখেন,

ﻣﻊ ﻛﻮﻧﻪ ﻣﻨﺰﻫﺎ ﻋﻦ ﺍﻟﺼﻮﺭﺓ ﻭﺍﻟﻤﻘﺪﺍﺭ ﻣﻘﺪﺳﺎ ﻋﻦ ﺍﻟﺠﻬﺎﺕ ﻭﺍﻻﻗﻄﺎﺭ .

অর্থঃ- “মহান আল্লাহ্ পাক “ছুরত” অর্থাৎ আকার-

আকৃতি এমনকি সমস্ত “জেহাত” বা দিক হতেও পবিত্র।”

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, মহান

আল্লাহ্ পাক-এর শানে ব্যবহৃত “নূর” শব্দের প্রকৃত অর্থ

মোটেই গ্রহণযোগ্য নয় বরং তার তা’বিলী অর্থই

গ্রহণযোগ্য। যেমন, ﻭﺟﻪ ও ﻣﻜﺮ শব্দের ক্ষেত্রে গ্রহণ

করা হয়েছে। অথচ জাতী নূরে বিশ্বাসীরা মহান

আল্লাহ্ পাক-এর শানে ব্যবহৃত “ﻧﻮﺭ ” “নূর” শব্দের

তাবিলী অর্থ গ্রহণ না করে সরাসরি বা প্রকৃত অর্থে

আল্লাহ্ পাককে “নূর” বলে থাকে।

আর পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে যে, ” ﻧﻮﺭ” “নূর” শব্দের প্রকৃত

অর্থে আল্লাহ্ পাককে “নূর” বলা কূফরী। তাই

অনুসরণীয় মুফাস্সিরীন-ই-কিরামগণ আয়াত শরীফে

বর্ণিত ও আল্লাহ্ পাক-এর শানে ব্যবহৃত ” ﻧﻮﺭ” “নূর”

শব্দের প্রকৃত অর্থ গ্রহণ না করে তাবিলী অর্থই গ্রহণ

করেছেন। যা এইলিংকে বর্ণিত পোস্টে  প্রদত্ত “সূরায়ে নূর,” “সূরায়ে আরাফ” ও

“সুরায়ে যুমারে” বর্ণিত আয়াত শরীফত্রয়ের ব্যাখ্যা

দ্বারা সুস্পষ্ট ভাবেই প্রমাণিত হয়েছে। প্রমাণিত

হয়েছে যে, “সূরায়ে নূর, সূরায়ে আরাফ ও সূরায়ে

যুমারে” বর্ণিত ‘নূর’ শব্দ দ্বারা মহান আল্লাহ্ পাক

কখনোই “নূর বা আলো” সাব্যস্ত হননা। কাজেই জাতি

নূরে বিশ্বাসীরা মহান আল্লাহ্ পাককে নূর বা আলো

সাব্যস্ত করতে গিয়ে যে সকল আয়াত শরীফসমূহ দলীল

হিসেবে পেশ করে থাকে তা তাদের বক্তব্যের

স্বপক্ষে মোটেও দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

অতঃপর জাতী নূরে বিশ্বাসীরা মহান আল্লাহ্

পাককে “নূর বা আলো” সাব্যস্ত করতে গিয়ে বলে

থাকে যে, “মহান আল্লাহ্ পাক-এর ৯৯টি নাম

মোবারকের মধ্যে একটি নাম হচ্ছে- “নূর”। সুতরাং

মহান আল্লাহ্ পাক-এর জাত “নূর বা আলো।”

অথচ তাদের উক্ত দাবী ও বক্তব্য সম্পূর্ণ অমূলক ও

অজ্ঞতাসূচক। কারণ উল্লিখিত ৯৯টি নাম মোবারক

মহান আল্লাহ্ পাক-এর ছিফতী নাম মোবারকের

অন্তর্ভূক্ত। অর্থাৎ উক্ত ৯৯টি নাম মোবারক মহান

আল্লাহ্ পাক-এর ছিফত বা গুণাবলী প্রকাশার্থেই

ব্যবহৃত হয়েছে। “জাত বা সত্তা” প্রকাশার্থে নয়। যদি

তাই হয়ে থাকে তবে, ছিফতী নাম “নূর” শব্দটি মহান

আল্লাহ্ পাক-এর জাত “নূর বা আলো” এ কথা বুঝানো

ক্ষেত্রে কি করে দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে

পারে? ছিফত কি কখনো জাত হতে পারে?

কস্মিনকালেও না। তাই ইমাম-মুজতাহিদগণ মহান

আল্লাহ্ পাক-এর শানে ব্যবহৃত উক্ত “নূর” শব্দটির

“ছিফতী বা গুণবাচক” ও “তা’বীলী বা ব্যখ্যামূলক”

অর্থই প্রকাশ করেছেন। যেমন, বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর

গ্রন্থ “তাফসীরে কুরতুবী”-এর ১২ জিঃ, ২৫৫ পৃষ্ঠায়

উল্লেখ আছে,

” ﺍﻟﻨﻮﺭ ” ﻓﻰ ﻛﻼﻡ ﺍﻟﻌﺮﺏ ﺍﻻﺿﻮﺍﺀ ﺍﻟﻤﺪﺭﻛﺔ ﺑﺎﻟﺒﺼﺮ …….. ﻓﻴﺠﻮﺯ ﺍﻥ

ﻳﻘﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻧﻮﺭ ﻣﻦ ﺟﻬﺔ ﺍﻟﻤﺪﺡ ﻻﻧﻪ ﺍﻭﺟﺪ ﺍﻻﺷﻴﺎﺀ …….. ﻭﻫﻮ

ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﻟﻴﺲ ﻣﻦ ﺍﻻﺿﻮﺍﺀ .

অর্থঃ- “আরবী ভাষায় দৃশ্যমান “আলো বা জ্যোতিকে”

“নূর” বলে। …… তাই প্রশংসা বা ছিফতী অর্থেই মহান

আল্লাহ্ পাক-এর ক্ষেত্রে “নূর”শব্দের ব্যবহার

জায়েয। কারণ মহান আল্লাহ্ পাকই সমস্ত বস্তুর

অস্তিত্ত্ব দানকারী। ….. তবে মহান আল্লাহ্ পাক

“আলো” নন।”

প্রখ্যাত তাফসীরের কিতাব “তাফসীরে মাযহারী”-

এর ৬জিঃ ৫২১পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

” ﻧﻮﺭ” ﻫﻮ ﻣﺼﺪﺭ ﺑﻤﻌﻨﻰ ﺍﻟﻔﺎﻋﻞ ﻳﻌﻨﻰ ﻣﻨﻮﺭ .

অর্থঃ- “নূর” শব্দটি মাছদার যা ইস্মে ফায়েলের

অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ “নূর” শব্দের অর্থ হচ্ছে-

“আলো দানকারী।”

মশহুর তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে মাজেদী”-এর ৭১৯

পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

উর্দূ কম্পোজ করতে হবে

অর্থঃ- “নূর” প্রকৃত অর্থে ঐ আলোকে বলে, যে আলো

দৃশ্যমান। তাই প্রত্যেক ক্ষেত্রেই “নূর” শব্দটি আল্লাহ্

পাক-এর শানে মাজাযী বা তা’বীলী অর্থে ব্যবহৃত

হবে।”

মাওলানা আহমদ রেজা খান সাহেব তার “কানযুল

ঈমান”-এর ৪২২ পৃষ্ঠায় লিখেন,

অর্থঃ- “নূর” মহান আল্লাহ্ পাক-এর নাম

মোবারকসমূহের মধ্যে একটি নাম মোবারক। হযরত

ইবনে আব্বাস (রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) “নূর” শব্দের অর্থ করতে গিয়ে

বলেন, “মহান আল্লাহ্ পাক আসমান-জমিনের “হাদী।”

অর্থাৎ তিনি “নূর” শব্দকে “হাদী” অর্থে প্রকাশ

করেছেন।”

উপরোক্ত কিতাবসমূহের বর্ণনা দ্বারা এটা

সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, “মহান আল্লাহ্ পাক-

এর জাত “নূর বা আলো” নয়। বরং “নূর” হচ্ছে- মহান

আল্লাহ্ পাক-এর অসংখ্য ছিফতের মধ্য হতে একটি

ছিফত বা গুণবাচক নাম মোবারক।

কাজেই জাতি নূরে বিশ্বাসীর যে বলে থাকে,

“মহান আল্লাহ্ পাক-এর ৯৯টি নাম মোবারকের মধ্যে

একটি নাম মোবারক হচ্ছে- “নূর”। তাই “আল্লাহ্ পাক

নূর” তাদের এ বক্তব্য সম্পূর্ণই ভুল, বিভ্রান্তিকর ও

জেহালতপূর্ণ।

জাতি নূরে বিশ্বাসীরা মহান আল্লাহ্ পাককে “নূর বা

আলো” সাব্যস্ত করতে গিয়ে সর্বশেষ যে দলীলখানা

পেশ করে থাকে তাহলো- ইমামুল জলীল, ইমামে

আহলে সুন্নত, ইমাম আবুল হাসান আশ্য়ারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি ) বলেন,

ﺍﻧﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻧﻮﺭ ﻟﻴﺲ ﻛﺎﻻﻧﻮﺍﺭ .

অর্থঃ- “মহান আল্লাহ্ পাক “নূর” তবে অন্যান্য নূরের

মত নন।”

উল্লেখ্য, হযরত ইমাম আবুল হাসান আশয়ারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর

উক্ত বক্তব্য দ্বারা মহান আল্লাহ্ পাক-এর জাত কখনই

“নূর বা আলো” প্রমাণিত হয়না। যা তার পরবর্তী

বক্তব্য দ্বারাই সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যেমন- তিনি

পরবর্তীতেই বলেছেন,

ﻟﻴﺲ ﻛﺎﻻﻧﻮﺍﺭ .

অর্থাৎ- “মহান আল্লাহ্ পাক অন্যান্য “নূর বা আলোর”

ন্যায় “নূর বা আলো” নন।”

এখন প্রশ্ন হলো- মহান আল্লাহ্ পাক যদি “নূর” হন আর

অন্যান্য “নূর বা আলোর” মত না হন। তবে তিনি কি

হিসেবে, কোন অর্থে “নূর?”

মূলতঃ মহান আল্লাহ্ পাক “নূর” এটা সত্য কথাই তবে

তিনি ছিফতী বা গুণবাচক ও তা’বীলী বা ব্যখ্যামূলক

অর্থে অর্থাৎ ” ﻣﻨﻮﺭ” “মুনাব্বির” বা “আলো দানকারী”,

” ﻣﻮﺟﺪ” “মুজিদ” বা “অস্তিত্ব দানকারী” ” ﻫﺎﺩﻯ” “হাদী”

বা “হেদায়েত দানকারী” অর্থে “নূর।” ইমাম আবুল

হাসান আশয়ারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি )-এর উক্ত বক্তব্য দ্বারা এটাই

বুঝানো হয়েছে।

কাজেই হযরত ইমাম আবুল হাসান আশয়ারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি )-এর

উক্ত বক্তব্যকে দলীল হিসেবে পেশ করা চরম

জেহালত বৈ কিছুই নয়। কারণ তাঁর উক্ত বক্তব্য দ্বারা

মহান আল্লাহ্ পাক-এর “জাত” কখনই “নূর বা আলো”

প্রমাণিত হয় না।

প্রদত্ত বক্তব্য দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, “মহান

আল্লাহ্ পাক “নূর বা আলো” নন।” বরং তিনি “নূর বা

আলোর” স্রষ্টা। মহান আল্লাহ্ পাককে “নূর বা আলো”

ধারণা করা সুস্পষ্ট কুফরী। এ আক্বীদায় বিশ্বাসীরা

বাতিল ফেরক্বা “মুশাব্বিহা ফেরক্বার” অন্তর্ভূক্ত।

সাথে সাথে এটাও প্রমাণিত হলো যে, কুরআন শরীফ ও

হাদীস শরীফ-এর যে সকল বর্ণনা দ্বারা, মহান আল্লাহ্

পাক-এর হাত-পা, আকার-আকৃতি, দেহ, আলো ইত্যাদি

হওয়া প্রমাণিত হয়। সে সকল বর্ণনাসমূহের অবশ্যই

তা’বীলী বা ব্যখ্যামূলক অর্থ গ্রহণ করতে হবে,

সরাসরী বা প্রকৃত অর্থ কখনই গ্রহণযোগ্য নয়।

আরো প্রমাণিত হয়েছে যে, জাতি নূরে বিশ্বাসীরা

মহান আল্লাহ্ পাককে “নূর বা আলো” সাব্যস্ত করতে

গিয়ে কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ থেকে যে দলীলসমূহ

পেশ করে থাকে তা এক্ষেত্রে মোটেও গ্রহণযোগ্য

নয়। বরং তা ভূল ও পরিত্যাজ্য।

সুতরাং জাতি নূরে বিশ্বাসীরা যে বলে থাকে,

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,

খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম শুধু “নূরের তৈরিই নন” বরং তিনি “মহান

আল্লাহ্ পাক-এর জাত” তথা “জাতি নূরে তৈরি।”

তাদের এ বক্তব্য শুধু অশুদ্ধই প্রমাণিত হয়নি বরং

কূফরীমূলকও প্রমাণিত হয়েছে কারণ যেখানে মহান

আল্লাহ্ পাক-এর জাতই “নূর” নয় সেখানে জাতি নূরের

প্রশ্নই আসতে পারে না।

মহান আল্লাহ্ পাক উপকরণ ব্যতীত কিছু তৈরী করতে

অক্ষম কি?

জাতী নূরে বিশ্বাসীদের বক্তব্য হতে দ্বিতীয়তঃ যে

কূফরীমূলক ও আপত্তিকর বক্তব্য ফুটে উঠে, তাহলো-

“মহান আল্লাহ্ পাক উপকরণ ব্যতীত কোন বস্তু তৈরী

করতে অক্ষম।” আর অক্ষম বলেই আপন ডান হাত দ্বারা

বাম সিনার থেকে খামছী মেরে এক টুকরা “নূর” বের

করেন এবং সে “নূর” দ্বারা তাঁর হাবীবকে সৃষ্টি

করেন।” (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)

উপরোক্ত বক্তব্য যে, সুস্পষ্ট কূফরী ও

শিরকের অন্তর্ভূক্ত তাতে বিন্দুমাত্রও সন্দেহ নেই।

মূলতঃ তারা উক্ত বক্তব্যের দ্বারা মহান আল্লাহ্

পাক-এর কুদরতকেই শুধু অস্বীকার করেনি বরং পবিত্র

কালামে পাকের অসংখ্য আয়াত শরীফকেও

অস্বীকার করে বসেছে। কারণ পবিত্র কালামে

পাকের অসংখ্য স্থানে উল্লেখ আছে যে, “মহান

আল্লাহ্ পাক সর্বপ্রকার “কুদরত বা ক্ষমতার”

অধিকারী। যেমন পবিত্র কালামে পাকে এরশাদ

হয়েছে,

ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻰ ﻛﻞ ﺷﻴﺌﻰ ﻗﺪﻳﺮ .

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ পাক সকল বিষয়ের উপর

ক্ষমতাবান।”

কাজেই আপন “কুদরত ও এরাদা” দ্বারা সম্পূর্ণ

নতুনভাবে বিনা উপাদানে “নাই” হতে কোন বস্তু সৃষ্টি

করাটাই মহান আল্লাহ্ পাক-এর কুদরত। আর সৃষ্টির মূল

হাক্বীক্বত এখানেই নিহিত। মহান আল্লাহ্ পাক এ

প্রসঙ্গে পবিত্র কালামে পাকে এরশাদ করেন,

ﺍﻧﻤﺎ ﺍﻣﺮﻩ ﺍﺫﺍ ﺍﺭﺍﺩ ﺷﻴﺌﺎ ﺍﻥ ﻳﻘﻮﻝ ﻟﻪ ﻛﻦ ﻓﻴﻜﻮﻥ .

অর্থঃ- নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ পাক-এর কুদরত এই যে,

তিনি যখন কোন বস্তু সৃষ্টি করার “এরাদা বা ইচ্ছা”

করেন, তখন সে বস্তুটিকে বলেন, হয়ে যাও। সাথে

সাথেই সেটি হয়ে যায়।” (সূরা ইয়াসীন/ ৮২)

মহান আল্লাহ্ পাক পবিত্র কালামুল্লাহ্ শরীফের

অনত্র আরো এরশাদ করেন,

ﻓﺎﺫﺍ ﻗﻀﻰ ﺍﻣﺮﺍ ﻓﺎﻧﻤﺎ ﻳﻘﻮﻝ ﻟﻪ ﻛﻦ ﻓﻴﻜﻮﻥ .

অর্থঃ- “যখন মহান আল্লাহ্ পাক কোন বস্তু সৃষ্টি করার

ইচ্ছা পোষণ করেন, তখন সে বস্তুকে লক্ষ্য করে বলেন,

হয়ে যাও। তৎক্ষনাত সেটি সৃষ্টি হয়ে যায়।” (সূরা

মু’মিনুন/ ৬৮)

এরপরেও কি জাতি নূরে বিশ্বাসীরা

বলবে যে, মহান আল্লাহ্ পাক উপাদান ব্যতীত কিছুই

তৈরী করতে পারেন না। মূলতঃ যারা বলে, “মহান

আল্লাহ্ পাক বিনা উপাদানে কিছুই সৃষ্টি করতে

পারেন না।” তারা আসলে ইহুদীদের ন্যায় নিজেদের

ক্ষমতার উপর আল্লাহ্ পাক-এর ক্ষমতাকে ক্বিয়াস

করেছে। ইহুদীরা ক্বিয়াস করেছিল, মানুষ যেমন-

কাজের ক্ষেত্রে নিজের হাত, পা ইত্যাদি অঙ্গ-

প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করে নিজের শারীরিক শক্তি

প্রয়োগ করে কাজ করতে থাকে। যার ফলে কাজ

করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, আল্লাহ্ পাকও বুঝি

তদ্রুপ। তাই ইহুদীরা বলেছিল, “মহান আল্লাহ্ পাক ছয়

দিনে আসমান-জমিন সৃষ্টি করে ক্লান্ত হয়ে পড়ার

কারণে শনিবার দিন তিনি বিশ্রাম গ্রহণ

করেছিলেন।” ইহুদীদের এ ক্বিয়াসকে মিথ্যা ও ভুল

প্রমাণ করতে আল্লাহ্ পাক নিম্নোক্ত আয়াত শরীফ

নাযিল করেন। আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেন,

ﻭﻟﻘﺪ ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺍﻟﺴﻤﻮﺍﺕ ﻭﺍﻻﺭﺽ ﻭﻣﺎﺑﻴﻨﻬﻤﺎ ﻓﻰ ﺳﺘﺔ ﺍﻳﺎﻡ ﻭﻣﺎ ﻣﺴﻨﺎ ﻣﻦ

ﻟﻐﻮﺏ .

অর্থঃ- “আমি অবশ্যই আকাশ মন্ডলি ও পৃথিবী এবং

তাদের মধ্যকার সকল বস্তুকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি।

অথচ আমাকে এক বিন্দু ক্লান্তিও স্পর্শ

করেনি।”(সূরায়ে ক্বাফ/ )

এখন কেউ বলতে পারে যে, আল্লাহ্ পাকতো নিজেই

কুরআন শরীফে এরশাদ করেছেন,

ﻭﺍﻧﺰﻝ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﻣﺎﺀ ﻓﺎﺧﺮﺝ ﺑﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺜﻤﺮﺍﺕ ﺭﺯﻗﺎ ﻟﻜﻢ .

অর্থঃ- “তিনি আসমান হতে পানি নাযিল করে উহা

দ্বারা তোমাদের রিযিকের জন্য বিভিন্ন ফল-ফলাদি

সৃষ্টি করে থাকেন।”

আর ইহা সকলেরই জানা কথা যে, পানি এবং মাটি

ফল সৃষ্টির মূল উপাদান। তাতে কি প্রমাণিত হয় না

যে, বিনা উপাদানে কিছুই সৃষ্টি হয় না।

মূলতঃ আল্লাহ্ পাক পানি এবং মাটিকে প্রথম

অবস্থায় যেমন বিনা উপাদানে “নাই” হতে সৃষ্টি

করতে পেরেছেন, তেমনি মাটি, পানি এবং গাছ

ছাড়াও তিনি ফল সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখেন। তবে

তিনি বিশেষ মুছলেহাতের কারণে প্রথমে বিনা

উপাদানে উপাদন সৃষ্টি করে, সেই সব উপাদানের

মাধ্যমে বিভিন্ন বস্তু সৃষ্টি করার ব্যবস্থা চালু

করেছেন। এ প্রসঙ্গে “তাফসীরে বায়জবীতে” উল্লেখ

আছে যে,

ﻭﻫﻮ ﻗﺎﺩﺭ ﻋﻠﻰ ﺍﻥ ﻳﻮﺟﺪ ﺍﻻﺷﻴﺎﺀ ﻛﻠﻬﺎ ﺑﻼ ﺍﺳﺒﺎﺏ ﻭﻣﻮﺍﺩ ﻛﻤﺎ ﺍﺑﺪﻉ

ﻧﻔﻮﺱ ﺍﻻﺳﺒﺎﺏ ﻭﺍﻟﻤﻮﺍﺩ ﻭﻟﻜﻦ ﻟﻪ ﻓﻰ ﺍﻳﺠﺎﺩﻫﺎ ﻣﺪﺭﺟﺎ ﻣﻦ ﺣﺎﻝ ﺍﻟﻰ

ﺣﺎﻝ ﺻﻨﺎﺋﻊ ﻭﺣﻜﻤﺎ ﻳﺠﺪﺩ ﻓﻴﻬﺎ ﻻﻭﻟﻰ ﺍﻻﺑﺼﺎﺭ ﻋﺒﺮﺍ ﻭﺳﻜﻮﻧﺎ ﺍﻟﻰ

ﻋﻈﻴﻢ ﻗﺪﺭﺗﻪ ﻟﻴﺲ ﺫﺍﻟﻚ ﻓﻰ ﺍﻳﺠﺎﺩﻫﺎ ﺩﻓﻌﺔ .

অর্থাৎ- আল্লাহ্ পাক যাবতীয় কার্যকরণ ও উপায়

উপকরণকে অপর কোন কার্যকরণ ও উপায় উপকরণ

ছাড়াই প্রথম অবস্থায় যেভাবে “নাই” হতে সম্পূর্ণ নতুন

ভাবে সৃষ্টি করেছিলেন, তদ্রুপ তিনি কোন প্রকার

কার্যকরণ ও উপাদান ছাড়াই সকল বস্তু সৃষ্টি করতে

এখনও সক্ষম। তবে তা না করে তিনি এ সব বস্তুকে তাঁর

সৃজিত নানা উপায় উপকরণ ও উপাদান দ্বারা

পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে বিভিন্ন রূপান্তরের মাধ্যমে

সৃষ্টি করে থাকেন। তার ভিতর স্রষ্টার অসংখ্য

হেকমত ও মুছলেহাত বিদ্যমান রয়েছে। এর মধ্যে তিনি

জ্ঞানী লোকদের জন্য অগণিত নতুন নতুন উপদেশ ও

শিক্ষণীয় বস্তু নিহিত রেখেছেন। যার কারণে

জ্ঞানী লোকেরা স্রষ্টার সৃষ্টি কৌশল অবলোকন ও

উপলব্ধি করে তার মধ্যে গভীর চিন্তা-ভাবনার সুযোগ

পায়। ফলে তাদের জ্ঞান চক্ষু প্রসারিত হতে থাকে

এবং স্রষ্টার সীমাহীন জ্ঞান, অসীম বিচক্ষণতা ও

দূরদর্শীতা এবং মহান কুদরতের প্রতি তাদের আস্থা ও

বিশ্বাস উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং অবিচল

ও মজবুত হতে থাকে।

এভাবে স্রষ্টার সঠিক পরিচয় লাভের পথ তাদের জন্য

সুগম হয়। কিন্তু এসব বস্তুকে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে

সৃষ্টি না করে হঠাৎ সৃষ্টি করা হলে এত সব

উপকারিতা কখনও অর্জিত হত না।অতএব, বিভিন্ন উপাদান দ্বারা বস্তু জগতে

বিভিন্ন বস্তুকে সৃষ্টি করার বিধান দেখে কোন

নাদান যেন এ ধারণা না করে যে, আল্লাহ্ পাক বুঝি

আসলেই উপাদান ব্যতিরেকে কোন কিছু সৃষ্টি করার

ক্ষমতা রাখেন না।

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত

হলো যে, মহান আল্লাহ্ পাক উপাদান ব্যতীতই সবকিছু

সৃষ্টি করতে সক্ষম। এর বিপরীত আক্বীদা পোষণ করা

সুস্পষ্ট কূফরী।

মহান আল্লাহ্ পাক কি দেহ্

বা আকার-আকৃতি বিশিষ্ট?

জাতি নূরে বিশ্বাসীদের বক্তব্য থেকে তৃতীয় যে

কূফরীমূলক ও আপত্তিকর বক্তব্য ফুটে উঠে তাহলো-

“মহান আল্লাহ্ পাক-এর দেহ রয়েছে।” কারণ, “ডান হাত

দ্বারা বাম সিনার থেকে খামছী মেরে …।” তাদের এ

কথার দ্বারা এটাই বুঝা যায় যে, মহান আল্লাহ্ পাক-

এর মানুষের ন্যায় হাত, শরীর বা আকৃতি রয়েছে।

(নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)

অথচ তাদের এ বক্তব্য আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-

এর সকল ইমাম-মুজতাহিদগণের ঐক্যমতে সুস্পষ্ট ও

অকাট্ট কূফরী। বিশ্বখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য সকল

আক্বাইদের কিতাব ও অন্যান্য কিতাবসমূহে এ কথাই

উল্লেখ আছে যে, মহান আল্লাহ্ পাক দেহ বা আকার-

আকৃতি বিশিষ্ট নন। মহান আল্লাহ্ পাক দেহ বা

আকার-আকৃতি বিশিষ্ট একথা বিশ্বাস করা সুস্পষ্ট

কূফরী। যেমন- এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ,

ইমামুল মুহাদ্দিসীন, আল্লামা ইমাম বায়হাক্বী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি )

তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব- “কিতাবুল আস্মা ওয়াছ্ছফিাত”-

এর ২১৮ পৃষ্ঠায় লিখেন,

ﻓﺎﻥ ﺍﻟﺬﻯ ﻳﺠﺐ ﻋﻠﻴﻨﺎ ﻭﻋﻠﻰ ﻛﻞ ﻣﺴﻠﻢ ﺍﻥ ﻳﻌﻠﻢ ﺍﻥ ﺭﺑﻨﺎ ﻟﻴﺲ ﺑﺬﻯ

ﺻﻮﺭﺓ ﻭﻻ ﻫﻴﺌﺔ ﻓﺎﻥ ﺍﻟﺼﻮﺭﺓ ﺗﻘﺘﻀﻰ ﺍﻟﻜﻴﻔﻴﺔ ﻭﻫﻰ ﻋﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻋﻦ

ﺻﻔﺎﺗﻪ ﻣﻨﻔﻴﺔ .

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আমাদের উপর এবং সকল মুসলমানদের

উপর একথা বিশ্বাস করা ওয়াজিব যে, আমাদের রব।

মহান আল্লাহ্ পাক “আকৃতি ও দেহ” বিশিষ্ট নন। কারণ

আকৃতির জন্য “কাইফিয়্যাত” অর্থাৎ দৈর্ঘ্য-প্রস্ত,

নরম-শক্ত ইত্যাদি প্রয়োজন। অথচ আল্লাহ্ পাক ও তাঁর

ছিফাতসমূহ “কাইফিয়্যাত” অর্থাৎ দৈর্ঘ্য-প্রস্ত, নরম-

শক্ত ইত্যাদি হওয়া থেকে সম্পূর্ণই পবিত্র।”

বিখ্যাত ফক্বীহ, ইমামুল হুদা ওয়াদ্দ্বীন আল্লামা

ইমাম ইবনুল হুমাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি ) তাঁর বিখ্যাত কিতাব “আল

মুসাইয়ারাহ্”-এর ২৮ পৃষ্ঠায় লিখেন,

ﻓﻠﻴﺲ ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﺑﺬﻯ ﻟﻮﻥ ﻭﻻ ﺭﺍﺋﺤﺔ ﻭﻻ ﺻﻮﺭﺓ ﻭﺑﺸﻜﻞ .

অর্থঃ- “মহান আল্লাহ্ পাক রং ও গন্ধ বিশিষ্ট নন এবং

আকৃতি ও দেহ বিশিষ্টও নন।”

হুজ্জাতুল ইসলাম, ইমাম ফী ইল্মিল কালাম

আল্লামা ইমাম গাজ্জালী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি ) তাঁর সুপ্রসিদ্ধ

কিতাব “ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন”-এর ১ম খন্ড, ৮১ পৃষ্ঠায়

লিখেন,

ﻣﻊ ﻛﻮﻧﻪ ﻣﻨﺰﻫﺎ ﻋﻦ ﺍﻟﺼﻮﺭﺓ ﻭﺍﻟﻤﻘﺪﺍﺭ ﻣﻘﺪﺳﺎ ﻋﻦ ﺍﻟﺠﻬﺎﺕ ﻭﺍﻻﻗﻄﺎﺭ .

অর্থঃ- “মহান আল্লাহ্ পাক “ছুরত” অর্থাৎ আকার-

আকৃতি এমনকি সমস্ত “জেহাত” বা দিক হতেও পবিত্র।”

প্রসিদ্ধ, নির্ভরযোগ্য ও বিশ্ব বিখ্যাত কিতাব “শরহে

আক্বাইদে নসফীতে” উল্লেখ করা হয়েছে,

ﻭﻻ ﺟﺴﻢ ﻭﻻﺟﻮﻫﺮ ﻭﻻﻣﺼﻮﺭ ﺍﻯ ﺫﻯ ﺻﻮﺭﺓ ﻭﺷﻜﻞ ﻣﺸﻜﻞ ﻣﺜﻞ

ﺻﻮﺭﺓ ﺍﻻﻧﺴﺎﻥ ﺍﻭ ﺍﻟﻔﺮﺱ ﺑﺎﻥ ﻟﻬﺎ ﺑﻮﺍﺳﻄﺔ ﺍﻟﻜﻤﻴﺎﺕ ﺗﻠﻚ ﻣﻦ ﺧﻮﺍﺹ

ﺍﻻﺟﺴﺎﻡ ﺟﺺ ﺫﻯ ﺣﺪ ﻭﻧﻬﺎﻳﺔ .

অর্থঃ- “তিনি (ﺟﺴﻢ ) অর্থাৎ দেহ বিশিষ্ট নন। (কারণ

দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রয়েছে এবং দেহ স্থান

দখলকারী)। তিনি মানুষ ও প্রাণীর ( ﺻﻮﺭﺓ) বা আকার-

আকৃতি হলো- দেহের বৈশিষ্ট্য, যা দেহের

প্রান্তসীমা ও পরিধি তথা দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বেধ দ্বারা

অর্জিত অর্থাৎ আয়তন ও পরিমাণ হতে সৃষ্টি হয়ে

থাকে। তিনি প্রান্ত, সীমা ও পরিধি বিশিষ্ট নন।

এ উপমহাদেশের সুপ্রসিদ্ধ ও প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ

ইমামুল মুহাদ্দিসীন, আল্লামা শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্

মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর নির্ভরযোগ্য কিতাব

“আল ক্বাওলুল জামীল”-এর ৩১ পৃষ্ঠায় লিখেন,

ﻣﻨﺰﻩ ﻣﻦ ﺟﻤﻴﻊ ﺳﻤﺎﺕ ﺍﻟﻨﻘﺺ ﻭﺍﻟﺰﻭﺍﻝ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺴﻤﻴﺔ ﻭﺍﻟﺘﺠﻴﺰ

ﻭﺍﻟﻌﺮﺿﻴﺔ ﻭﺍﻟﻬﺔ ﻭﺍﻻﻟﻮﺍﻥ ﻭﺍﻻﺷﻜﺎﻝ .

অর্থঃ- মহান আল্লাহ্ পাক অপূর্ণতা ও নশ্বরতার

যাবতীয় ছিফ্ত বা গুণ হতে সম্পূর্ণই মুক্ত। তিনি দেহ

বিশিষ্ট, স্থান দখলকারী, কোনজেহাত বা দিকে

অবস্থানকারী, বর্ণ ও আকৃতিধারী এবং দেহের

বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যধারী নন।”

বিখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য কিতাব “শরহে মাওয়াক্বিফ”-

এর ৫৭১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

ﺍﻧﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻟﻴﺲ ﻓﻰ ﺟﻬﺔ ﻭﻻ ﻓﻰ ﻣﻜﺎﻥ ﻣﻦ ﺍﻻﻣﻜﻨﺔ ﻭﺧﺎﻟﻒ ﻓﻴﻪ

ﺍﻟﻤﺸﺒﻬﺔ .

অর্থঃ- নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ পাক কোন দিকে ও

কোন স্থানে নন। কিন্তু পথভ্রষ্ট মুশাব্বিহা ফিরকা এ

মতটির বিরোধীতা করে থাকে।”

সুপ্রসিদ্ধ আলেমেদ্বীন আল্লামা রমজান

আফেনদী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি ) তাঁর লিখিত “শরহে আক্বাইদ”-এর ১০৬

ও ১০৮ পৃষ্ঠার হাশিয়ায় উল্লেখ করেছেন,

ﻭﻻ ﻣﺼﻮﺭ ﺍﻯ ﺫﻯ ﺻﻮﺭﺓ ﻭﺷﻜﻞ ﻻﻥ ﺗﻠﻚ ﻣﻦ ﺧﻮﺍﺹ ﺍﻻﺟﺴﺎﻡ

……… ﻭﻻ ﻳﺘﻤﻜﻦ ﻓﻰ ﻣﻜﺎﻥ .

অর্থঃ- মহান আল্লাহ্ পাক ছূরত ও শেকল অর্থাৎ

আকার-আকৃতি বিশিষ্ট নন। কেননা আকার-আকৃতি

দেহের বৈশিষ্ট্য। …. এবং তিনি কোন স্থানে

স্থিতিশীল নন।”

মহান আল্লাহ্ পাক-এর “জাতের পরিচয়” সম্পর্কিত

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবেই

প্রমাণিত হলো যে, মহান আল্লাহ্ পাক-এর “জাত”

ওয়াজিবুল ওজুদ, তাঁর জাত হাদেস বা সৃষ্ট নয়, মহান

আল্লাহ্ পাক জিস্ম বা দেহ, ছূরত বা আকার-আকৃতি

এবং দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ভেদ ও তাশবীহ্ বা সাদৃশ্য ইত্যাদি

হতে সম্পূর্ণরূপেই পবিত্র।

মহান আল্লাহ্ পাক-এর জাতের

কোন অংশী আছে কি?

জাতি নূরে বিশ্বাসীদের বক্তব্য থেকে চতুর্থ যে

কূফরীমূলক ও আপত্তিকর বক্তব্য ফুটে উঠে তাহলো-

“সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ্

পাক-এর জাতের অংশ।” (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)

মূলতঃ জাতি নূরে বিশ্বাসীদের এবক্তব্যটিও সুস্পষ্ট

কূফরী ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর খেলাফ ও

র্শিকের অন্তর্ভূক্ত। কারণ আহলে সুন্নত ওয়াল

জামায়াতের সকল ইমাম-মুজতাহিদগণই একমত যে,

মহান আল্লাহ্ পাক “লা-শারীক” অর্থাৎ তাঁর কোনই

শরীক বা অংশী নেই। প্রতিটি মুসলমানই এই স্বাক্ষি

প্রদাণ করে থাকে।

যেমন, “আমি স্বাক্ষি দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ্ পাক

ছাড়া কোন মা’বুদ নেই। তিনি একক। তাঁর কোন শরীক

বা অংশী নেই। আমি আরো স্বাক্ষি দিচ্ছি যে,

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও

রাসূল।”

বস্তুতঃ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর

পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জাতে

পাক হচ্ছে- হাদেছ। আর মহান আল্লাহ্ পাক-এর জাতে

পাক হচ্ছে- ক্বাদীম। ক্বাদীম কখনোই হাদেছ সৃষ্টির

উপাদান হতে পারে না। যেমন, এ প্রসঙ্গে মাওলানা

আব্দুল হাই লাখনবী সাহেব তাঁর “মাজমুয়ায়ে ফতওয়া”-

এর ২য় জিঃ ২৬০ পৃষ্ঠায় লিখেন,

ﺍﻥ ﺫﺍﺕ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺪﻳﻢ ﻭﺫﺍﺕ ﻧﺒﻴﻨﺎ ﺣﺎﺩﺙ ﻻﻳﻜﻮﻥ ﺍﺻﻼ ﻭﻣﺎﺩﺓ ﻟﻠﺤﺎﺩﺙ

ﻻﻥ ﺍﻟﻘﺪﻳﻢ ﻓﺮﺩ ﻭﺍﺣﺪ ﻻﻳﺘﺠﺰﻯ ﻭﻻ ﻳﺘﺒﻌﺾ ﻓﻼ ﻳﻨﻔﺼﻞ ﻣﻨﻪ ﺷﺊ

ﻓﺎﻟﺬﻯ ﻻﻳﺘﺠﺰﻯ ﻭﻻ ﻳﻨﻔﺼﻞ ﻣﻨﻪ ﺷﺊ ﻻ ﻳﻜﻮﻥ ﺍﺻﻼ ﻟﺸﺊ ﻛﻤﺎ ﻳﻔﻬﻢ

ﻣﻦ ﻛﺘﺐ ﺍﻟﻌﻘﺎﺋﺪ .

অর্থঃ- “মহান আল্লাহ্ পাক-এর জাত ক্বাদীম। আর

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,

খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম-এর জাত হচ্ছে হাদেছ। আর ক্বাদীম

কখনো হাদেছ সৃষ্টির মূল বা উপাদান হতে পারে না।

কেননা জাতে ক্বাদীম এক ও একক। তিনি খন্ডিত ও

বন্টিত হন না। বিভক্ত ও বিভাজ্য হন না। তাঁর জাত

হতে কোন কিছু বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। তাই আল্লাহ্

পাক-এর জাত কস্মিনকালেও অন্য কোন বস্তুর উপাদান

বা ধাতু হতে পারে না। এ বিষয়টি আক্বীদার

কিতাবসমূহে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। ”

মাওলানা আব্দুল হাই লাখনবী উক্ত “মজমুয়ায়ে

ফতওয়ায়” আরো উল্লেখ করেন,

ﺍﻥ ﺫﺍﺕ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺣﺎﺩﺛﺔ ﻭﺍﻟﻘﺪﻳﻢ ﻭﻋﺪﻡ ﺳﺒﻖ

ﺍﻟﻌﺪﻡ ﻣﺨﺘﺼﺎ ﺑﺎﻟﺤﻖ ﺑﻤﻌﻨﻰ ﺍﻻﺯﻟﻴﺔ ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﻭﺗﻌﻠﻰ ﻋﻨﺪ ﺍﻫﻞ

ﺍﻻﺳﻼﻡ ﻛﻤﺎ ﺍﻥ ﺍﻟﻘﺪﻡ ﺑﻤﻌﻨﻰ ﻋﺪﻡ ﺍﻻﺣﺘﻴﺎﺝ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﻐﻴﺮ ﻣﺨﺘﺺ

ﺑﺎﻟﻮﺍﺟﺐ ﺍﺗﻔﺎﻗﺎ ﻭﻗﺪ ﺩﻟﺖ ﺍﺧﺒﺎﺭ ﺻﺤﻴﺤﺔ ﻋﻠﻰ ﺍﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ

ﻣﻌﻪ ﺷﺊ ﻭﺍﻟﺬﺍﺕ ﺍﻻﻟﻬﻴﺔ ﻟﻴﺴﺖ ﻣﺎﺩﺓ ﺑﺬﺍﺕ ﺍﻟﻨﺒﻮﻳﺔ ﻭﻛﻴﻒ ﻳﺠﻮﺯ ﺍﻥ

ﻳﻜﻮﻥ ﺍﻟﻘﺪﻳﻢ ﻣﺎﺩﺓ ﻟﻠﺤﺎﺩﺙ .

অর্থঃ- “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,

খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম-এর জাত হাদেছ। আর মহান আল্লাহ্

পাক-এর জাত ক্বাদীম। তিনি অনাদিকাল থেকেই

বিরাজমান। অস্তিত্বহীনতা এক মুহুর্তের জন্যও তাঁর

উপর অতিবাহিত হয় নি। তিনি স্বয়ম্ভু অস্তিত্বের

ব্যাপারে তাঁর জাত কারো মুহতাজ হয়নি। এ অর্থে

সকল মুসলমানের ঐক্যমতে একমাত্র আল্লাহ্ পাক-এর

জাতে ওয়াজিবুল ওজুদই ক্বাদীম। বহু সহীহ্ হাদীস

শরীফ দ্বারা প্রমাণিত রয়েছে যে, পূর্বে আল্লাহ্

পাক একাই ছিলেন অন্য কোন কিছু তাঁর সাথে ছিল

না। আল্লাহ্ পাক-এর জাত রাসূলে পাক-এর জাতের

উপাদান হতে পারে না। ক্বাদীম কি করে হাদেছের

উপাদান হতে পারে?

মহান আল্লাহ্ পাক এ বিষয়টি “সূরায়ে ইখলাছে”

আরো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। যেমন, আল্লাহ্

পাক এরশাদ করেন,

ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺣﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺼﻤﺪ ﻟﻢ ﻳﻠﺪ ﻭﻟﻢ ﻳﻮﻟﺪ ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﻛﻔﻮﺍ ﺍﺣﺪ .

অর্থঃ- “হে হাবীব! আপনি বলুন, আল্লাহ্ পাক এক।

আল্লাহ্ পাক বেনিয়াজ, আল্লাহ্ পাক থেকে কেউ

জন্ম নেয়নি এবং আল্লাহ্ পাককেও কেউ জন্ম দেয়নি।

আর আল্লাহ্ পাক-এর সমকক্ষও কেউ নেই।”

শানে নুযুল

স্মর্তব্য, “সূরায়ে ইখলাছ” নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট

সম্পর্কে বলা হয়, একবার কিছু বেদ্বীন, সাইয়্যিদুল

মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবার শরীফে এসে বললো,

ইয়া রাসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্, সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি যে আল্লাহ্ পাক-এর

কথা বলছেন তাঁর পরিচয় কি? তাঁর পিতা-মাতা কে?

তাঁর সন্তান কতজন, তিনি কোথায় অবস্থান করেন

ইত্যাদি ইত্যাদি প্রশ্ন করলো। তখনই আল্লাহ্ পাক

“সূরা ইখলাছ” নাযিল করে তাঁর জাতের পরিচয় দিয়ে

দেন। আমরা যদি উক্ত “সূরা ইখলাছের” সংক্ষিপ্ত

তাফসীর বা ব্যখ্যা আলোচনা করি তবে আরো

ভালরূপে সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, মহান আল্লাহ্ পাক-এর

জাতের অংশী হওয়া আদৌ সম্ভব নয়।

তাই নিম্নে সূরা ইখলাছের সংক্ষিপ্ত ব্যখ্যা তুলে ধরা হলো- তাফসীর বা ব্যাখ্যা

মহান আল্লাহ্ পাক বলেন, হে রাসুল সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (লোকদেরকে) বলুন,

ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺣﺪ .

সেই আল্লাহ্ পাক (যার সম্পর্কে তোমরা প্রশ্ন করেছ)

এক ও একক।

মূলতঃ একক হওয়ার গুণটি একমাত্র তাঁর

জন্যই বিশেষভাবে নির্দিষ্ট। সৃষ্টি জগতের অন্য

কেউই অন্য কিছুই এই গুণে গুণান্বিত হবার অধিকারী

নয়। কেবল মাত্র তিনিই এক। তিনিই একক ও অনন্য।

তাঁর দ্বিতীয় কেউই নেই। বিকল্প কিছুই নেই। তিনি

একাই রব, মনিব ও প্রতিপালক। রব হওয়ার ব্যাপারে

অন্য কেউই কিছুই তাঁর অংশিদার নয়। আর যিনি রব,

একমাত্র তিনিই ইলাহ্-মাবুদ হতে পারেন। অন্য কারও

বা কিছুরই ইলাহ্-মাবুদ হওয়ার অধিকার নেই। তাই

ইলাহ্-মাবুদ হওয়ার ব্যাপারেও তিনি একক। এ

ব্যাপারে কেউই তাঁর শরীক নেই, হতে পারে না। বিশ্ব

লোকের তিনি একাই সৃষ্টিকর্তা, সষ্টির একাজে অন্য

কেউই বা কিছুই তাঁর সাথে শরিক নেই। তাই তিনি

একাই বিশ্ব জগতের মালিক, পরিচালক, বিধানদাতা,

রিযিকদাতা, বিপদে সাহায্যকারী ও ফরিয়াদ

শ্রবণকারী। এসব কাজেও তিনি একক। তাঁর কোন শরীক

নেই। তিনি একা চিরন্তন, শাশ্বত, চিরস্থায়ী,

চিরঞ্জীব ও সর্বজ্ঞ এবং তিনিই একা আল্লাহ্। তাঁর

পূর্বেও কোন আল্লাহ্ ছিল না এবং তাঁর পরেও কেউ

আল্লাহ্ হবে না। তাঁর পূর্ব ও পর বলতে যখন কিছুই নেই,

তখন অন্য কারো আল্লাহ্ হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। তিনি

একাই আল্লাহ্, তাঁর স্বজাতীয় বা সমতূল্য কেউ নেই।

তিনি শুধু ওয়াহেদ বা এক নয়, তিনি আহাদ তথা

এককও। একের পর দুই হয়, তাই বহুত্তের ধারণা সতঃই

এসে যায়। কিন্তু একক হওয়ার কারণে বহুত্বের এক

বিন্দু স্থানও সেখানে নেই। বহু বিচ্ছিন্ন ও স্বতন্ত্র

অংশ মিলিত হয়ে আল্লাহ্ পাক-এর সত্ত্বা গড়ে উঠে

নি। তাঁর জাতে সংযোজন ও বিয়োজন (যোগ ও

বিয়োগ) কিছুই নেই। তিনি খন্ডে খন্ডে বা অংশে

বিভক্ত হননা। তাঁর জাত হতে কিছুই বের হয় না, হতে

পারে না। তাঁর জাত অবিভক্ত, অবিভাজ্য ও

অবন্টনীয়। তাঁর শরীর নেই, আকার-আকৃতি নেই, তাঁর

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কিছুই নেই। তাঁর জাতের মধ্যে অন্য

কোন জিনিস স্থান পায়নি। তাঁর কোন বর্ণ বা রং

নেই। তাঁর কোন দিক নেই। তিনি কোন স্থানে

অবস্থিত নন। তিনি সময়ের আওতা হতেও মুক্ত। তাঁর

জাতের কোন প্রকার পরিবর্তন নেই। মোটকথা বহুত্বের

যাবতীয় ধরণ থেকে তিনি অতি উর্দ্ধে, অতি পবিত্র।

সর্বদিক দিয়েই তিনি একক, অনন্য ও অদ্বিতীয়।

ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺼﻤﺪ .

আল্লাহ্ পাক কারো মুখাপেক্ষী নন। বরং

সৃষ্টিলোকের সকলেই সবকিছুই সর্ব ব্যাপারে তাঁর

মুখাপেক্ষী। তাঁর চেয়ে উচ্চতর কেউ নেই। তিনি সকল

শ্রেষ্ঠ গুণাবলীর অধিকারী। তাঁর মধ্য হতে কোন

জিনিস কখনও বের হয়নি এবং হয় না। তিনি পানাহার

করেন না। সকল ব্যাপারে তাঁরই নিকট প্রার্থনা করা

হয়। বিপদে সাহায্য তাঁর নিকট চাওয়া হয়। তাঁর উপর

উপর কোন প্রকার বিপদ-আপদ আসেনা। তিনি যাবতীয়

দোষত্রুটি হতে মুক্ত। তাঁর গুণে অন্য কেউ গুণান্বিত

নয়। আপনইচ্ছা ও খুশি মত কাজ করেন। তাঁর কাজে

পুনঃ বিবেচনা করার কেউ নেই বা আপত্তি তোলারও

কেউ নেই। তিনি চিরস্থায়ী, শাশ্বত, অসীম। তিনিই

আসল ও প্রকৃত ছামাদ, কারণ আয়াত শরীফে ﻟﻠﻪ ﺻﻤﺪ না

বলে ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺼﻤﺪ বলা হয়েছে। সৃষ্টির কোন ব্যক্তি বা

বস্তু কোন একদিকে ছামাদ হলেও সবদিক থেকে নয়।

কিন্তু আল্লাহ্ পাক সর্বদিক থেকেই ছামাদ। সমস্ত

সৃষ্টি জগত সর্বক্ষেত্রে তাঁর মুখাপেক্ষী। কিন্তু

তিনি কোন ব্যপারেই কারো মুখাপেক্ষী নন। সকলের

সব রকমের প্রয়োজন কেবল তিনিই পূরণ করেন এবং

করতে পারেন। তিনি রিযিক দান করেন। গ্রহণ করেন

না। তিনি অজর, অমর, অক্ষয়, চিরস্থায়ী ও শাশ্বত্ব,

একক, অবিভাজ্য, অবন্টনীয়। বহু জিনিসের সংযোজনে

তৈরী নন। সর্বাপেক্ষা বড় ও সর্বশ্রেষ্ঠ। তাই তিনি

কেবল ছামাদই নহেন। আচ্ছামাদও। অর্থাৎ ছামাদগুণে

কেবল তাঁর জাতই গুণান্বিত। আচ্ছামাদ হওয়ার কারণে

কেবল তিনিই একক, অনন্য ও অতুলনীয়। তাই তিনি

মাবুদ হওয়ার একমাত্র অধিকারী।

ﻟﻢ ﻳﻠﺪ ﻭﻟﻢ ﻳﻮﻟﺪ .

না তাঁর কোন সন্তান আছে। না তিনি কারো সন্তান।

তাই তাঁর জাতের অংশী হওয়াও সম্ভব নয়। কারণ

আল্লাহ্ পাক-এর জাতে পাক থেকে কিছুই বের হয়ে

আসে নি এবং প্রবেশও করেনি।

ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﻛﻔﻮﺍ ﺍﺣﺪ .

এবং কেউ কোন দিক থেকেই তাঁর সমতুল্য ও সমকক্ষ নয়।

অনত্র বলা হয়েছে, ﻟﻴﺲ ﻛﻤﺜﻠﻪ ﺷﺊ কিছুই তাঁর মত নয়।

অর্থাৎ গোটা সৃষ্টি জগতে জাতের দিক থেকে,

ক্ষমতা ও ইখতেয়ারে, গুণাবলী ও কার্যাবলীতে

কেউই কিছু একবিন্দু পরিমাণও তাঁর সমমর্যাদাবান নয়,

ছিল না, হতে পারে না এবং পারবেও না। যেহেতু

আল্লাহ পাক সৃষ্টি জগতের কোন বস্তুর শ্রেণীভুক্ত নন

এবং কোন বস্তুর সাথে তাঁর কোন প্রকার মিল বা

সাদৃশ্যতাও নেই। তাই তিনি সকল প্রকার সৃষ্ট বস্তু তথা

জাওহার ও জেছেম হতে এবং আরজ তথা জাওহার ও

জেছেমের যাবতীয় বৈশিষ্ট ও গুণাবলী। যথা- রং,

গন্ধ ইত্যাদি হতে সম্পূর্ণ পবিত্র ও মুক্ত।

-“সূরায়ে ইখলাছের” উপরোক্ত

সংক্ষিপ্ত তাফসীর থেকে এটাই প্রমাণিত হলো যে,

মহান আল্লাহ্ পাক-এর জাতে পাক অংশী হওয়া

থেকে সম্পূর্ণই পবিত্র। সুতরাং “সাইয়্যিদুল মুরসালীন,

ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্ পাক-এর জাতের অংশ।” এ কথা

বলা বা এরূপ আক্বীদা পোষণ করা সুস্পষ্ট কূফরী।

কাজেই জাতী নূরে বিশ্বাসীরা যে বলে থাকে

“সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু “নূরের

তৈরীই” নন বরং তিনি মহান আল্লাহ্ পাক-এর “জাত”

অর্থাৎ “জাতী নূরের তৈরি” আবার কেউ কেউ বলেন,

মহান আল্লাহ্ পাক তাঁর হাবীবকে সৃষ্টি করার কোন

উপকরণ না পেয়ে আপন ডান হাত দ্বারা বাম সিনার

থেকে খামছী মেরে এক টুকরা “নূর” বের করেন এবং

সে “নূর” দ্বারা তাঁর হাবীবকে সৃষ্টি করেন।” তাদের এ

বক্তব্য কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও

ক্বিয়াসের দলীল দ্বারা ভুল, জেহালতপূর্ণ,

দলীলবিহীন ও কূফরীমূলক প্রমাণিত হলো। প্রমাণিত

হলো যে, মহান আল্লাহ্ পাক “নূর বা আলো” নন। বরং

তিনি “নূর বা আলো” স্রষ্টা। তিনি উপাদান ব্যতীতই

সবকিছু তৈরী ক রতে সক্ষম। তিনি দেহ বা আকার-

আকৃতি বিশিষ্ট নন এবং তাঁর জাতে পাকের কোনই

অংশী নেই। এটাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের

ইমাম-মুজতাহিদ সকলের আক্বীদা। এর বিপরিত

আক্বীদা পোষণকারীরা আহলে সুন্নত ওয়াল

জামায়াত থেকে খারিজ।

Advertisements

উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৷

উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন একজন

তাবেইন। কারান (Qaran) নামক স্থানের অধিবাসী যা

বর্তমানে ইয়েমেনে কোন একটি স্থান। উনার পিতার নাম

আবদুল্লাহ এবং উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার

বল্য বয়সে উনার পিতা ইন্তেকাল করেন। উয়ায়েস্ আল-

কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা ও আহলে কিতাব ছিলেন।

উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

সমসাময়িক কালের ব্যক্তি ছিলেন। যদিও নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

জীবদ্দশায় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনার ব্যক্তিগত /সরাসরি সাক্ষাৎ

হয় নাই তথাপি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি

আলাইহি উনাকে তাবেইন শ্রেষ্ঠ হিসাবে উল্লেখ

করেছেন। আল্লাহ্ পাক উনি হতে প্রেরিত নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে

দেখার আন্তরিক আকুলতার খাকার পরও উনার নাম সাহাবী

রাদিআল্লাহু আনহুম গন উনাদের তালিকায় স্থান পায়নি যা আমাদের

জন্য উদাহরণ স্বরূপ ।

উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনা ইসলাম

গ্রহণ:

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার অঙ্গুলির নির্দেশ জখন চন্দ্র দু ভাগ হয়ে যায়

তখন অনেকে দূর দূরান্ত থেকে নবুওত উনার আলামত

প্রকাশ পেয়েছে বলে মদিনা শরীফ গমন করেন। যা

সম্পর্কে পূর্ব বর্তী আসমানী কিতাব সমূহে উল্লেখ ছিল ।

তখন উনার ধর্মের একজন পাদ্রী যিনি পরবর্তী কালে

সাহাবী হন উনারা আবার ইয়েমেনে আগমন করেন এবং উনার

কাছে বায়াত হয়ে দীন ইসলাম গ্রহণ করেন ।

হুজুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক বর্ণনা:

একদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনি বলেন “আমি বাস্তবিক আল্লাহ্ তা ’আলা উনার

রহমতের সুগন্ধযুক্ত হাওয়া ইয়েমেনের দিক থেকে

পাচ্ছি।” নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনি আরও বলেন “কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা ‘আলা

সত্তর হাজার ফেরেশতাকে উয়ায়েস্ আল –কারনী অনুরূপ

চেহারা দিয়ে সৃষ্টি করবেন ।

হাশরের মাঠে উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনাকে তাদের মধ্যে ছুপিয়ে রাখবেন এবং তাদের আড়ালে

রেখে উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে

বেহেশতেও প্রবেশ করানো হবে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণ

হল , তিনি দুনিয়াবি জীবনে নিজেকে মানুষের আড়ালে

রেখে ইবাদত করতে ভাল বাসতেন, নিজেকে তিনি গোপন

রাখার চেষ্টা করতেন যেন উনার ইবাদত বন্দেগীর ধারা

দেখে মানুষ তাঁর প্রশংসা এবং গুণ – কীর্তনে লেগে না

যেতে পারে। আল্লাহ রাব্বুল আ ’লামীন তাঁর পার্থিব

জীবনের এই চেষ্টা ও অভ্যাসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে

এবং উনাকে গুরুত্ব দিয়ে রোজ কিয়ামতে উনার জন্য ঐরূপ

ব্যবস্থা করবেন।

হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইসলাম গ্রহণ

করেন রাসুলেপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

জীবদ্দশায় , যদিও উনাদের মধ্যে দেখা সাক্ষাৎ হয় নাই।

রাসুলেপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর তিনি হযরত

আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সাথে উনার

সাক্ষাৎ হয়।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম বলেন ” আমার লোকদের মাঝে এমন একজন

আছে যে শেষ বিচারের দিনে সকল বিশ্বাসীদেরকে

হেফাজতের ক্ষমতা রাখে ”. সাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু গণ

জিজ্ঞাসা করলেন ” কে সেই ব্যক্তি ?” নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন

“সে আল্লাহর বান্দা। ” সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু গণ

প্রত্যুত্তরে বল্লেন “আমরা সবাই আল্লার বান্দা। আল্লাহ পাক

আমাদের সবাইকে পয়দা করেছেন।” সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহু গণ প্রশ্ন করলেন ” উনার নাম কি?” নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বল্লেন

“উয়ায়েস!” সাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু গণ জিজ্ঞাসা

করলেন,”তিনি কোথায় থাকেন ?” নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ

হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন “ ইয়েমেন”.

সাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু গণ জিজ্ঞাসা করলেন, “তিনি যদি

আপনাকে ভালোবাসে , তাহলে কেন আপনার খেদমতে

হাজির হয় না ?” নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বল্লেন , “ সে আমার পথ গ্রহণ

করেছে এবং সে একজন বিশ্বাসীর অন্তর্ভুক্ত ; শারীরিক

ভাবে তাঁর এখানে উপস্থিত হওয়ার কোন প্রয়োজন নাই।

অধিকন্তু তাঁর পরিস্থিতি তাঁকে এখানে আসতে সহায়তা করে না

এবং সে তার অচল-অন্ধ মায়ের সেবা করে। সে দিনের

বেলা উট চরায়। সেই আয় থেকে নিজে ও তাঁর মায়ের

ভরণ পোষণ করে। সাহাবা রহমতুল্লাহি আলাইহি গন প্রশ্ন

করলেন আমরা কি উনাকে দেখতে পাব?” রাসুলুল্লাহ

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,” হযরত আবূ বকর

ছিদ্দীক্ব আলাইহি সালাম নন , তবে উমর ফারূক্ব আলাইহি সালাম

এবং আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনারা পারবে।

আপনারা উনাকে পাবেন ইয়েমেনের একটি গ্রাম শারানীতে

এবং উনার হাতের তালুতে এবং বুকের পাজরের কাছে সাদা দাগ

দেখে আপনারা উনাকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে। যখন

আপনাদের সাথে উনার দেখা হবে, উনাকে আমার শুভেচ্ছা

দিবে আর আর আমার উম্মতদের জন্য দোআ করতে

বলবে। ”এটা উল্লেখ্য যে হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাতা ইন্তিকাল এর পরে তিনি হযরত

আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সাথে মিলিত

হওয়ার জন্য বের হন এবং সিফ্ফিনের যুদ্ধে শাহাদাৎ বরন

করেন।

জুব্বা/খেরকা মুবারক প্রদানঃ –

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম দুনিয়া থেকে বিছাল শরীফে উনার পূর্বে হযরত

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম এবং

হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহি সালাম উনাদের নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি

জুব্বা/ খেরকা মুবারক প্রদান করেন এবং জুব্বা / খেরকা মুবারকটি

উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে পৌঁছে

দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ

হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বলেন আমার জুব্বা

মোবারকটি উয়ায়েসকে দেবে এবং তোমাদের জন্য এবং

আমার সকল উম্মতের মাগফেরাতের জন্য উনাকে দোআ

করতে বলবে। ”

দাঁত ভাঙ্গার ঘটনা :

ওহুদ উনার জিহাদে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনা দাঁত মুবারক শহিদ হন। আর

তৎখনা আল্লাহ্ পাক উনাকে উলহামের মাধ্যমে জানিয়ে দেন।

আর তারপর হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার ব্যথা অনুভবের মহব্বতে একটি দাঁত ভেঙ্গে

ফেলেন। অতঃপর তিনি চিন্তা করেন কোন দাঁত মুবারক শহীদ

হয়েছে তা তো উনি জানেন না তাহলে যদি অন্য দাঁত মুবারক

হয় ? এই ভাবে তিনি এক এক করে সমস্ত দাঁত পাথর দ্বারা

ভেঙ্গে ফেলন ।

হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাক্ষাত

লাভের চেষ্টা:

হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দাঁত

মুবারক ভেঙ্গে ফেলা এবং মদিনা বশী আসলে তাদের

কাছে বেকুল হয়ে নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা জানতে চাওয়া সব সময়

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার প্রতি গভীর ভাবে মনোনিবেশ করা উপলব্ধি

করে উনার মাতা হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি

আলাইহি উনাকে নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গৃহে গিয়ে দেখা করার অনুমতি দান

করেন। কিন্তু করন ( ইয়েমেন) থেকে মদিনা শরীফ

অনেক দূর অনেক দিনের রাস্তা প্রায় ৪শ মাইল। একদিকে

উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাতা বৃদ্ধ

চোখে দেখেন না হাটতে পারেন না আবার অসুস্থ। তাই তিনি

উনার প্রতিবেশীদের উনার মায়ের খিদমতে রেখে

গেলেন। তিনি সুদীর্ঘ পথ কোথাও মরুময় দিনে চরম গরম

বিভ্রান্তিকর কোথাও উঁচু পাহাড় রতে ঠাণ্ডা কিছুকেই তোয়াক্কা

করলেন না একটান চললেন মদীনাতুল মনওয়ারায় প্রিয় নবী

আহমদ মুসতফা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার দিদারে। এভাবে তিনি মদিনা শরীফ পৌঁছেই নূরে

মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনার উনার গৃহ মুবারক উনার প্রধান দরজায় এসে নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে

খোজ করেন। কিন্তু তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর

পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি হুজরায় ছিলেন না তবে

হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ভিতর থেকে বলেন নূরে

মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

জীহাদে গেছেন ( যুদ্ধ ময়দানে) সেখান থেকে

ফিরবেন। তিনি অপেক্ষা করবেন না চলে যাবেন। উনার তখন

মায়ের অসুস্থতার কথা স্মরণে এলো এবং তিনি আবার

ইয়েমেনের দিকে রওনা হলেন এবং নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে

সচক্ষে দেখা হলনা। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি যুদ্ধের ময়দান থেকে

এসেই উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কথা

জিজ্ঞাসা করেন। এই বিষয়ে মুজাদ্দিদ আল ফেসানী

রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাকতুবাত শরীফে বলেন হযরত

উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি যদি কিছু সময়

অপেক্ষা করে ও যদি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাক্ষাত লাফ করতে পারতেন

এবং সোহবত লাভ করতেন তাহলে তিনি সাহবীয়াতের মাকাম

হাসিল করতে পারতেন ।

সাহাবী আলাইহিমুস সালাম গনের সাথে সাক্ষাত:

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম উনার খেলাফত এর সময়

খলীফা ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম উনি এবং হযরত আলী

কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে সঙ্গে নিয়ে

উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি সন্ধানে মদিনা

থেকে কুফার গমন করেন। তথায় পৌঁছে উনারা

ইয়েমেনবাসীদের কাছে উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি কথা জিজ্ঞেস করেন। কিন্তু তারা কেহই

উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সন্ধান দিতে

পারল না। অবশেষে এক ব্যক্তি বলল , একটি লোককে

তো দেখি সে পাগলের মত প্রায়। সে জনপদে থাকে না।

নির্জন এলাকায় তাঁর বসতি , প্রান্তরে উট চড়িয়ে বেড়ায় এবং দিবা

শেষে একবার শুকনো রুটি ভক্ষণ করে। তাঁর এক স্বভাব ,

লোকে যখন হাসে, সে তখন কাঁদে , আর লোকে যখন

ক্রন্দন করে সে তখন হাসতে থাকে।

লোকটির কাছে এরূপ খবর পেয়ে হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব

আলাইহি সালাম ও হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস

সালাম উনারা কারণ এলাকায় গিয়ে পৌঁছলেন। উনারা যখন উয়ায়েস্

আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি কাছে গিয়ে হাজির হলেন ,

তখন তিনি নামাজ পড়ছিলেন। আর নিকটেই ফেরেশতা গন তাঁর

উট চরাচ্ছিল। তিনি যখন নামাজ সমাপন করে উঠলেন , সাহাবাদ্বয়

উনাকে সালাম করে উনার নাম জিজ্ঞেস করলেন। তিনি

বললেন , অধমের নাম আবদুল্লাহ (অর্থ আল্লাহ্ পাক উনার

বান্দা )। ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম বললেন , আমরাও

আল্লাহ্ পাক উনার বান্দা আপনার আসল নামটি শুনতে চাই। তিনি

বললেন , ওয়ায়েস।

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম বললেন , অনুগ্রহ

করে আপনার হাতখানা দেখাবেন ? তিনি হাত বাড়িয়ে দিলে

তাতে অবিকল নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি কর্তৃক বর্ণিত নিশানা দেখে হযরত ওমর

ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম উনার হাতখানা চুম্বন করলেন। তারপর

নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম অসীয়তের কথা উল্লেখ করে উনার হাতে নুরে

মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

পবিত্র জুব্বা/ খেরকা অর্পণ করলেন।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার নির্দেশ অনুযায়ী উনার উম্মতের জন্য দোয়ার

কথাও বলা হল। এ সব কথা শুনে হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , দেখুন! আপনারা খুব ভাল ভাবে

খোঁজ খবর নিয়ে দেখুন, সম্ভবত : এ অন্য লোক হবে।

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম বললেন , আমরা খুব ভাল

ভাবেই দেখে শুনে নিয়েছি, খোদ নুরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি যে

সকল নিশানার কথা বলে গিয়েছেন আপনার সাথে তা হুবহু মিলে

গিয়েছে। আমরা সম্পুর্ণ নিশ্চিত যে, আপনিই নুরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সেই

পরম প্রিয় উয়ায়েস্ আল- কারনী। এতক্ষণে হযরত উয়ায়েস্

আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি আগন্তুকদের পরিচয়

জিজ্ঞেস করলেন।

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম বললেন , আমার নাম হল

ওমর ইবনে খাত্তাব আর এ সঙ্গী হলেন নুরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জামাতা

হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম । উনাদের

পরিচয় লাভ করে হযরত ওয়ায়েস কারনী উনাদের সালাম

জানিয়ে উভয়ের হস্ত চুম্বন করে বললেন , আপনাদের মত

মহামর্যাদাশীল এ হতভাগা গুনাহগারের কাছে তাশরীফ

এনেছেন , এ যে আমার পরম সৌভাগ্য। কিন্তু আপনারা যে

আমাকে বে -আদব বানিয়ে দিলেন। তারপর তিনি আরো

বললেন , নুরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম গুনাহগার উম্মতদের মুক্তির দোয়ার জন্য

তো আপনারাই অধিক যোগ্য ব্যক্তি। হযরত ওমর ইবনুল

খাত্তাব আলাইহি সালাম বললেন , আমরা তো তা অবশ্যই করছি ,

কিন্তু আপনিও নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ পালন করুন।

পরবর্তীতে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস

সালাম উনি এবং উমর ফারূক্ব আলাইহি সালাম উনি জুব্বা মুবারকটি পৌঁছে

দিয়ে উনাকে দোআ করার জন্য বললে তিনি কান্না শুরু

করেন। জুব্বা মুবারকটি নিয়ে তিনি নির্জনে নিভৃতে চলে যান

এবং সেজদায় পড়ে তিনি আল্লাহর দরবারে রোনাজারি করতে

থাকেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহ পাক আমি এই জুব্বা মুবারক

ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণ করব না, যতক্ষণ না আপনি সকল উম্মতি

মুহম্মদি উনাদের ক্ষমা করবেন। হযরত নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি আমাকে

এই দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। গায়েবী আওয়াজ

এলো-“ আমি অসংখ্য উম্মতি মোহাম্মদকে ক্ষমা ঘোষণা

করলাম , এবার আপনি জুব্বা মুবারক গ্রহণ করুন।” হযরত উয়ায়েস্

আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি দাবী করেন , আমি সকল

উম্মতি মুহম্মদির উনার মাফই কামনা করছি। এমতাবস্থায় হযরত উমর

ফারূক্ব আলাইহি সালাম তিনি উক্ত নির্জন স্থানে উপস্থিত হলে

উয়ায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একাগ্রতায় ব্যাঘাত ঘটে তখন

হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব আলাইহিস সালাম প্রত্যক্ষ করলেন,

ছিন্ন কম্বল পরিহিত এই দরবেশ উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি কাছে সারা জগতের অমূল্য ধন -সম্পদসমূহ

বিদ্যমান। তা দেখে তিনি অভিভূত ও ভাবাবিষ্ট হয়ে পড়লেন।

খেলাফতের প্রতি উনার বিতৃষ্ণা এসে গেল। তিনি বলে

উঠলেন , ওহে কে এমন আছে যে একটা রুটির বিনিময়ে

খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করবে ?

ওমর ইবনে খাত্তাব আলাইহিস সালাম এর কাছ থেকে এই

ধরনের স্বাগত উক্তি শুনে হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , যে অবুঝ সে- ই তা করবে। যদি

সত্যিই মন না চায় তাহলে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিলেই তো

হয় , যার মন চায় সে কুড়িয়ে নিবে। এর মধ্যে আবার অদল –

বদলের কি প্রয়োজন আছে ?

এই কথা বলে হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি

নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম প্রদত্ত লেবাস পরম ভক্তির সাথে অঙ্গে পরিধান

করলেন । তিনি বলেন হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহি সালাম ! আপনি

আমাকে সওয়াল না করলে এই জুব্বা মুবারক ততক্ষণ পর্যন্ত

আমি গায়ে দিতাম না , যতক্ষণ না আল্লাহ তায়ালা সমস্ত উম্মতি

মুহম্মদী গনকে ক্ষমা ঘোষণা করতেন। অত: পর তিনি

বললেন , এই নাদানের প্রার্থনায় আল্লাহ রাব্বুল আ ’লামীন

কবিলায়ে রাবী ও কবিলায়ে মোজার- এর ছাগ- পশমের

সংখ্যাতুল্য উম্মতে সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ক্ষমার

ওয়াদা করেছেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বলেন বিশ্বাসী আল্লাহর

দিদার মুবারক খোজ করবে, এবং কেউ তা অন্তর চক্ষু দ্বারা

দেখবে , যা চর্ম চক্ষু দ্বারা পাওয়া যাবে না। এবং জ্ঞান হলো

আলো বা নূর যা আল্লাহ যাকে খুশি দান করেন।

শারীরিকভাবে কাছাকাছি না থাকলেও ফয়েজ তাওয়াজ্জু লাভ হয়।

হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি তারই

উদাহরণ। যেহেতু তিনি কখনোই নবিজী সল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনাকে চর্মচক্ষু দ্বারা দেখেন নাই কিন্তু তার

পরেও নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত হাসিল করতে পেরেছিলেন ।

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম উনি হযরত উয়ায়েস্

আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললেন , জনাব!

আমাদের জন্য একটু দোয়া করুন। তিনি জবাব দিলেন, দেখুন!

আমার ঈমান তো আন্তরিকতা শূন্য , তবু আমি দোয়া করছি। আর

প্রতি ওয়াক্ত নামাযের তাশাহূদেও এ দোয়াই করে থাকি , হে

খালিক মালিক আল্লাহ্ পাক ! আপনি মু’ মিন নর ও নারীকে ক্ষমা

করুন। আর জনাব খলিফা ! মনে রাখবেন , যদি আপনি ঈমানের

সাথে কবরে যেতে পারেন তা হলে দোয়া নিজেই

আপনাকে খুঁজে নিবে। হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি

সালাম উনি বললেন , আরো নছীহত করুন। হযরত উয়ায়েস্

আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বললেন , জনাব খলিফা !

আপনি কি আল্লাহ্ পাক উনাকে চিনেছেন ? হযরত ওমর ইবনুল

খাত্তাব আলাইহি সালাম উনি জবাব দিলেন, হাঁ, নিশ্চয় চিনেছি। হযরত

উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , যদি চিনে

থাকেন তাহলে অন্য আর কাউকে যেন না চিনেন ও

জানেন। তবে তাই হবে আপনার জন্য বেশি উত্তম ।

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম উনি বললেন , জনাব!

আরো কিছু নছীহত করুন ।

হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বললেন ,

আল্লাহ্‌ তায়ালা উনি কি আপনাকে চিনেন , জানেন?

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম উনি বললেন , তা তো

অবশ্যই ।

হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বললেন ,

একমাত্র তিনি ছাড়া আর কেউ যদি আপনাকে না চিনেন ও না

জানেন , তাহলে তা আপনার জন্য বেশি ভাল কথা।

এরপর হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম বললেন , জনাব!

একটু অপেক্ষা করুন, আমি আপনার জন্য কিছু মাল- সামানা নিয়ে

আসি। তখন উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি

নিজের জামার পকেট থেকে পয়সা বের করে হযরত ওমর

ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম উনাকে দেখিয়ে বললেন , উট

চড়ানোর মজুরী বাবদ ইহা আমি উপার্জন করেছি। যদি আপনি

নিশ্চিত করে বলতে পারেন যে , এগুলো খরচ করার

পরেও আমি বেঁচে থাকব , তাহলে আমার আরো কিছু মাল-

সামানার প্রয়োজন দেখা দিবে অর্থাৎ জীবনের এক মুহূর্ত

ও বিশ্বাস নেই, তাই মাল সঞ্চয়ের ও প্রশ্ন আসে না। হযরত

ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম থেকে তিনি কিছু গ্রহণ

করতে রাজী হলেন না ।

অতঃপর হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি

সাহাবাদ্বয় উনাদের সম্বোধন করে বললেন , যাহোক,

মাননীয় মেহমান দ্বয়! অধমের সন্ধানে এত দূর আসতে বহু

কষ্ট পেয়েছেন। তারপর আমিও আপনাদেরকে কম কষ্ট

দেইনি। আশা করি অপরাধ ক্ষমা করবেন। তবে এখন আপনারা

প্রস্থান গ্রহণ করুন। দেখুন, কিয়ামত খুবই নিকটবর্তী। আল্লাহ্

পাক উনার রহমতে সে সময় আবার সাক্ষাত হবে আশা করি।

তখন আমাদের সান্নিধ্য দীর্ঘস্থায়ী হবে। আমি এখন

আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহে অধিক ব্যস্ত। এই পর্যন্ত

বলে সম্মানিত সাহাবাদ্বয় উনাদের বিদায় প্রদান করে তিনি

নিজেও সেখান থেকে উঠে চলে গেলেন ।

অন্তর দিয়ে তিনি হযরত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খুবই কাছাকাছি ছিলেন যার

কারণে তিনি নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যথা নিজেও অনুধাবন করতে

চেয়েছেন। যার ফলে যখন নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ

হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দাঁত মুবারক যুদ্ধে

শহীদ হন , তিনিও উনার সমস্ত দাঁত ভেঙে ফেলেন ।

উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি পন্থানুযায়ী

শারীরিক ভাবে নয় বরং বাতেনী / অন্তর চক্ষু জ্ঞানের

দ্বারাই তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দাঁত মুবারক শহীদ হবার বিষয়টি জানতে

পেরেছিলেন। এটা সরাসরি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর

পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনা থেকে প্রাপ্ত নেসবত

এর সাথে সম্পৃক্ত। বিশ্বাসীগন আল্লাহর নূরকে খুঁজতে

থাকে। এটা ততক্ষণ অবধারণ করা যায় না যতক্ষণ অন্তরদ্বারা তা

অনুধাবন করা না যায় ।

উক্ত সাহাবাদ্বয় উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি

সাথে উনার সাক্ষাতের পর থেকেই উনার মান -মর্যাদার কথা

লোক সমাজে প্রকাশ হয়ে পড়ে। এর ফলে তাঁর নির্জন

ইবাদত বিঘ্নিত হবে অনুধাবন করে তিনি কারণ এলাকা থেকে

কুফায় ( বর্তমান ইরাক) চলে জান। শুনা যায়, এরপর হারাম ইবনে

জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি ছাড়া আর কারো সাথে উনার সাক্ষাত

হয়নি ।

হযরত হারাম ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে

মুলাকাত :

হযরত হারাম ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উয়ায়েস্ আল-

কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কিত অভূতপূর্ব

ঘটনাবলী শুনতে পেয়ে উনার সাথে সাক্ষাত করার জন্য

অধীর হয়ে উঠলেন এবং উনাকে খুঁজতে বের হয়ে

পড়লেন। অনেক অনুসন্ধানের পর কুফায় উনার সাক্ষাত লাভ

করলেন। একদিন তিনি উনাকে ফোরাত নদীতে অজু

করতে দেখলেন। হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি

আলাইহি উনার শারীরিক নিদর্শনগুলোর কথা তিনি পূর্ব থেকেই

জানতেন। সেইগুলোর সাথে পুরো পুরি মিল দেখে তিনি

উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে চিনে

ফেললেন। তিনি উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনাকে সালাম করে মোসাফাহার জন্য হাত বাড়ালেন। হযরত

উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি সালামের জবাব

দিলেন, কিন্তু মোসাফাহ করলেন না।

হযরত ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন , আল্লাহ

পাক তিনি আপনার প্রতি উনার করুণা বর্ষণ করুন। হযরত ইবনে

জাবান উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর দারিদ্যের

করুণ অবস্থা দেখে চোখের পানি দমিয়ে রাখতে পারলেন

না। তিনি কেঁদে দিলেন। হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি ও কাঁদলেন।

হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন ,

হে হারাম ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি! আল্লাহ্ পাক আনাকে

দীর্ঘজীবী করুন , আপনি কি জন্য এখানে এসেছেন?

আপনি আমার সন্ধানই বা পেলে কার কাছে?

হযরত ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , জনাব ! আপনি

আমার পিতার নাম এবং আমার নাম কি করে জানলেন? ইতিপূর্বে

তো কখনই আমাকে দেখেন নি। সম্ভবত আমার কথা

কখনো কারো কাছে শুনতে ও পাননি ।

হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , যিনি

সর্বজ্ঞ তিনিই আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। আমার আত্মা

তোমার আত্মার সন্ধান নিয়েছে। অতঃপর হযরত ইবনে জাবান

উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে আরজ

করলেন, জনাব! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে কিছু বলুন।

উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি জবাব দিলেন, আমি

উনাকে স্বচক্ষে কখনও দেখিনি। উনার পবিত্র বানীগুলো

অন্যের মারফতে শুনেছি মাত্র। তারপর কোন ওয়ায়েজ বা

মুহাদ্দিস রূপে নিজেকে প্রতিপন্ন করতে চাইনি। আমার অন্য

কাজ রয়ে গেছে। উনার কথা শুনে হযরত ইবনে জাবান

রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , জনাব! আপনি যদি কালামে পাক

থেকে কিছু আয়াত তেলাওয়াত করতেন, আমি একটু শুনতাম।

হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তখন পাঠ

করলেন—‘ আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম ’ কালামটি পাঠ

করে আকুল ভাবে ক্রন্দন শুরু করলেন এবং ক্রন্দনরত

অবস্থায়ই কোরআন পাকের আয়াত ‘ অমা খালাক্বতুল জ্বিন্না

অল ইনসা ইল্লা – লিইয়া’ বুদুন ’ তেলাওয়াত করলেন। অর্থাৎ আমি

জ্বিন এবং মানব জাতিকে শুধু মাত্র আমার ইবাদতের উদ্দেশ্যে

সৃষ্টি করেছি।

এ আয়াত শরীফ পাঠ করেই তিনি এমন জোরে এক চিৎকার

করে উঠলেন , মনে হল তিনি বেহুঁশ হয়ে গেছেন। কিন্তু

না , তিনি ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে লক্ষ্য করে

বললেন , ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি ! বলুত আপনি কোন

উদ্দেশ্যে এখানে এসেছেন ? ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি

আলাইহি বললেন , আপনার প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধাই আমাকে

টেনে এনেছে ।

হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কথা

শুনে বললেন , যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌ কে চিনেছে, সে

আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও সাথে ভালোবাসা করে শান্তি

পেয়েছে বলে আমার জানা নেই। জেনে রাখুন, একমাত্র

আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারও সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে

কেউ কোন দিন সুখী হতে পারে না। অতঃপর ইবনে জাবান

রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , জনাব , আমাকে কিছু উপদেশ দিন।

হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বললেন ,

ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি ! যখন নিদ্রাগমন করবেন , মৃত্যু

তখন পনার শিয়রে বলে মনে করবেন

আর জাগ্রতাবস্থায় সর্বদাই মৃত্যুকে আপনার চোখের সামনে

বলে মনে করবেন। যে কোন গুনাহকে ছোট মনে

করবেন না। কেননা গুনাহকে ছোট মনে করা ও একটি গুনাহ

ছাড়া আর কিছু নয় ।

এরপর হযরত ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে

জানতে চাইলেন ,জনাব, বলুন , আমি এখন কোথায় বসবাস

করব ?

হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি জবাব

দিলেন, আপনি সিরিয়ায় চলে যান। হযরত ইবনে জাবান

রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , নতুন অপরিচিত দেশে গিয়ে

আমার রুজি রোজগার কিভাবে চলবে?

হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বললেন ,

যার মনে এত ভাবনা চিন্তা তার উপদেশে কোন ফায়দা হবে

না ।

হযরত ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো কিছু

নছীহতের জন্য অনুরোধ করলেন। তখন হযরত উয়ায়েস্

আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , আপনার পিতা চলে

গেছেন। হযরত আদম আলাইহি সালাম উনা থেকে হযরত নূহ

আলাইহি সালাম , হযরত মূসা আলাইহি সালাম , হযরত ঈশা আলাইহি সালাম ,

এমনকি আখেরী নবী প্রিয় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ

হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়া থেকে পর্দা

করেছেন , ভাই হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম- ও একই

পথের পথিক হয়েছেন। এই পর্যন্ত বলে তিনি হযরত ওমর

ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম বলে ক্রন্দন করতে লাগলেন।

ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , আল্লাহ্‌ আপনার

মঙ্গল করুন। কিন্তু জনাব! হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম

তো মৃত্যুবরণ করেন নি?

হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বললেন ,

আল্লাহ্‌ পাক আমাকে উনার মৃত্যুর খবর পৌছিয়ে দিয়েছেন।

তারপর তিনি বললেন , তুমি আমি সবাই তো মৃত্যুদেরই দলভুক্ত ।

হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি নামায আদায়

করত: দোয়া করলেন। পরে উপদেশ স্থলে বললেন ,

জনাব! পবিত্র কোরআন শরীফ এবং অলীদের বানী

অনুসরণ করে চলবেন। আর এক পলকের তরেও মৃত্যুর

কথা ভুলে থাকবেন না। জনাব! আপনার সাথে আমার আর সাক্ষাত

হবে না। আপনি আমার জন্য দোয়া করবেন, আমিও আপনার

জন্য দোয়া করছি আপনি খাঁটি মুসলমান গনের মত জীবন যাপন

করবেন। এরপর তিনি ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে

লক্ষ্য করে বললেন , আপনি এই পথ দিয়ে চলে যান আর

আমি অন্য পথ দিয়ে বিদায় নিচ্ছি। হযরত ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি

আলাইহি উনার সাথে কিছু দূর অগ্রসর হতে চাইলেন , কিন্তু

হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাতে রাজী

হলেন না। বিদায় কালে হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি কেঁদে দিলেন এবং ইবনে জাবান

রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকেও কাঁদালেন।

হযরত ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত উয়ায়েস্

আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে আমার একবার ই

মাত্র দেখা হয়েছিল এবং সেইটাই আমার প্রথম এবং শেষ

দেখা ।

হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আমল:

এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, অনেক সময় হযরত উয়ায়েস্ আল-

কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি ফজরের নামায আদায় করে

তাসবীহ পাঠ করতে করতে জোহরের ওয়াক্ত হয়ে

যেত। জোহরের নামায পড়ে তাসবীহ পাঠে আছরের

ওয়াক্ত হয়ে যেত। আছরের সালাত আদায় করে মাগরিব

পর্যন্ত তাসবীহ পাঠ করতেন। আবার মাগরিব আদায় করে এশা

পর্যন্ত তাসবীহ পাঠ করে এশার নামায আদায় করে মুরাকাবা

করতেন, তাতে ফজর হয়ে যেত। ফজর থেকে পূর্বানুরূপ

সেই একই অবস্থা চলতে থাকত। এই ভাবে একাধারে উনার

কয়েক দিন চলে যেত। এর মধ্যে না ছিল উনা পানাহার, না ছিল

বিশ্রাম নিদ্রা। তাছাড়া প্রয়োজন দেখা দেয়নি ইস্তেঞ্চা করার।

তাই উনার ওযু গোসলের ও দরকার ছিল না ।

তিনি একাধারে বহু রাত শয্যাগমন না করে বলতেন , এই রাতটি

আমার কিয়ামের জন্য, এই রাতটি রুকুর জন্য, এই রাতটি সিজদাহ্‌ র

জন্য। এইভাবে প্রতিটি রাত তিনি বিনিদ্র ইবাদতে কাটিয়ে দিতেন।

লোকজন জিজ্ঞেস করতেন, উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি আপনি কেমন আছেন ?

হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বলতেন ,

কি বলব, সিজদায় গিয়ে সিজদাহ্ ‌ র তাসবীহ পড়তে না পড়তেই

রাত অবসান হয়ে যায়। মনে চায় একটু ফেরেশতাদিগের মত

ইবাদত করি, কিন্তু তা আর হয়ে উঠে না।

আর একবার তিনি ‘ কেমন আছেন ’ প্রশ্নের উত্তরে

বললেন , কেমন আছি তা কি করে বলব ? যে ব্যক্তি

প্রত্যুষে উঠে সন্ধ্যার পূর্বেই তার মৃত্যুর আহ্বান আসে

কিনা বলেতে পারে না , সে আবার কেমন থাকবে ?

প্রশ্নকারী বললেন , তবু বলুন , আপনার অবস্থা কি?

তিনি বললেন , এক নিঃসম্বল ও পাথেয় শূন্য পথিক ! তার পথ যে

খুবই দীর্ঘ।

একদিন এক ব্যক্তি উনাকে জিজ্ঞেস করল, হুযুরী কালবের

( আন্তরিক একাগ্রতা ) নামায কিরূপ?

তিনি জবাব দিলেন, যে নামায নামাযী তীর বিদ্ধ হলেও টের

পায় না, তাকেই বলে হুযুরী কালবের নামায।

একবার কোন এক ব্যক্তি উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি

আলাইহি উনাকে উনার করুন অবস্থা দেখে একটি দামি কাপড় হাদিয়া

করেন। কিন্তু উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তা

তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বলেন, “ ওহে মানুষ আমাকে এই বস্ত্র

পরিধান করতে দেখলে চোর বলে সন্দেহ করবে। “

উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উট চরিয়ে অতি

অল্প আয় করতেন। যখন তিনি মনে করতেন এই আয় উনার

মার খিদমতের জন্য যথেষ্ট হবে তখন আয় করা থামিয়ে

দিতেন। আর উনার মায়ের খিদমত করার পর যা বেচে যেত তা

দরিদ্র ও ঋণ গ্রস্থ প্রতিবেশী গনদের দান করে দিতেন।

একবার লোকজন হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি

আলাইহি এর কাছে একটি লোকের একটি আশ্চর্য খবর নিয়ে

এলো। লোকটি দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে একটি কবরস্থানে

বসে গলায় কাফনের কাপড় ঝুলিয়ে শুধু ক্রন্দন করছে। তার

অন্য কোন কাজ নেই।

এ খবর শুনে হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনি বললেন , তোমরা আমাকে তার কাছে নিয়ে চল।

সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি দেখলেন, সত্যিই লোকটি

এতদিন ধরে কেঁদে কেঁদে একেবারে জীর্ণ ও

কঙ্কাল হয়ে গেছে। তার খানা পিনা আরাম নিদ্রা কিছুই ছিল না।

হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি লোকটিকে

বললেন , ওয়ে গাফেল! কবর ও কাফনের কাপড় যে

তোমাকে আল্লাহ্‌ র নিকট থেকে বহু দূরে নিয়ে গেছে।

ঐ দুটো বস্তু তোমাকে খাঁটি পথ ভুলিয়ে দিয়ে বিপথগামী

করেছে। শীঘ্র উঠে পড় এবং আল্লাহ্‌ র পথ অবলম্বন কর।

হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর ধমকে

লোকটির হুঁশ ফিরে আসল এবং তওবা করে নামায রোযা শুরু

করে দিল।

কথিত আছে, একবার হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি

আলাইহি একাধারে তিন দিন পর্যন্ত অনাহারী থেকে চতুর্থ দিন

ক্ষুধার প্রবল তাড়নায় বের হয়ে পড়লেন, দেখা যাক আল্লাহ্‌

তা ’আলা খাবার কোন কিছু মিলিয়ে দেন কিনা। হঠাৎ পথে পড়ে

থাকা একটি দিনার তাঁর চোখে পড়ল। তিনি ভাবলেন , হয়তো এ

কারো হারানো দিনার , তাই তিনি গ্রহণ না করে অগ্রসর হলেন।

মনে মনে ভাবলেন , কিছু কচি ঘাঁস চিবিয়ে ক্ষুধা নিবৃত্ত

করবেন। ঠিক এমন সময় কোথা থেকে একখানা গরম রুটি তার

সামনে রেখে দিল। হয়তবা রুটিখানা অন্য কোন ব্যক্তির

হতে পারে এই ভেবে তিনি তাও এড়িয়ে গেলেন। তখন

একটি ছাগ তাকে বলল , এই রুটি আপনারই। দেখুন! আপনি যার

বান্দা , আমিও তাঁর এক দাস। ছাগের ইঙ্গিত লাভ করে ও এমন কথা

শুনে হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি রুটিখানা

তুলে নিলেন। অমনি ছাগটি চোখের নিমিষে অদৃশ্য হয়ে

গেল ।

হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি দীর্ঘ

জীবন লাভ করে অবশেষে জান্নাত বাসী হন। অনেকের

মতে তিনি বার্দ্ধক্যে সিফফিনের যুদ্ধে হযরত আলী

কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার পক্ষে যোগদান

করে শেষ পর্যন্ত ৬৫৭হিজরী শনে শাহাদাত বরন করেন।

উনার রওজা নিয়ে কিছু মত পার্থক্য রয়েছে তবে বিখ্যাত

পরিব্রাজক ইবনে বাতুতা হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সমাধি সিরিয়ার আর – রাক্বাহ নামক স্থানে

উল্লেখ করেন , যেখানে তিনি সিফ্ফিনের যুদ্ধে শাহাদাৎ

বরণ করেন।

জাকির নায়েক:দেওবন্দের ফতোয়া

জাকির নায়েক : দারুল উলূম দেওবন্দের

ফতোয়া

জাকির নায়েকের বয়ানসমূহে বিশুদ্ধ আকীদা থেকে

বিচ্যুতি, কুরআনে কারীমের তাফসির বিকৃতি ও

মনগড়া ব্যাখ্যা এবং সাইন্সের গবেষণা দ্বারা

প্রভাবিত হওয়া ইসলামবিরোধী পাশ্চাত্যের

চিন্তা-চেতনার সাথে সম্পর্ক এবং ফিকহী

মাসায়েলে সালফে সালেহীন ও জুমহুরের পথ থেকে

মুখ ফিরিয়ে নেয়ার মতো বিভ্রান্তকারী বিষয়াদি

পাওয়া যায়।

এছাড়া সে মুসলিম উম্মাহকে আইম্মায়ে

মুজতাহিদীনের ইত্তিবা থেকে ফেরানো, দীনী

মাদরাসা সমূহের প্রতি বীতশ্রদ্ধ করা এবং হক্কানী

উলামায়ে কেরামের ব্যাপারে জনসাধারণকে

কুধারণার বশীভূত করাতে লিপ্ত। নিচে তার

বিভ্রান্তকারী বিষয়াদির কিছু দৃষ্টান্ত দেয়া হলো-

১. আকীদা (যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয় যাতে

সামান্য বিচ্যুতি অনেক সময় ঈমানের জন্য হুমকি হয়ে

দাঁড়ায়)

এ সম্পর্কে জাকিরের কিছু কথা-

ক. আল্লাহ তায়ালাকে বিষ্ণু ও ব্রহ্ম নামে ডাকা

বৈধ।

সে একটি প্রোগ্রামে বলে- ‘আল্লাহ তায়ালাকে

হিন্দুদের উপাস্যদের নামে ডাকা বৈধ, যেমন বিষ্ণু

‘রব’ এবং ব্রহ্ম ‘সৃষ্টিকর্তা’ তবে শর্ত হলো বিষ্ণুর

ব্যাপারে এই বিশ্বাস রাখতে পারবে না যে তার চার

হাত আছে যে পাখির ওপর আরোহণ করে

আছে।’[ইসলাম আউর আলমী উখুওয়াত-৩৩ ডা. জাকির

নায়েক]

অথচ অনারবি ভাষায় ঐ সকল শব্দাবলী দিয়েই কেবল

ডাকা বৈধ যা আল্লাহ তা’য়ালার জন্যই

বিশেষায়িত। এগুলো ছাড়া অন্যকোনো নামে ডাকা

বৈধ নয়। তাহলে বিষ্ণু ও ব্রহ্ম যা হিন্দুদের প্রতীক

এগুলো দিয়ে ডাকা কিভাবে বৈধ হতে পারে?

খ. আল্লাহ তায়ালার কালাম কোনটি তা পরখ করার

জন্য বিজ্ঞান ও টেকনোলোজির আশ্রয় নেয়া

আবশ্যক।

সে একটি প্রোগ্রামে বলে- প্রত্যেক মানুষ এটা মনে

করে যে তার পবিত্র গ্রন্থই আল্লাহ তায়ালার

কালাম। যদি আপনি জানতে চান যে কোনো গ্রন্থটি

বাস্তবিক পক্ষেই আল্লাহর কালাম তাহলে তাকে

চূড়ান্ত পরীক্ষা তথা আধুনিক বিজ্ঞান ও

টেকনোলজির সাহায্য নিন। যদি তা আধুনিক

বিজ্ঞান মোতাবেক হয় তাহলে মনে করুন এটা

আল্লাহর কালাম।’

এই বক্তব্যটি থেকে তার বিভ্রান্তকারী ধৃষ্টতা!

কিতাবুল্লাহর ব্যাপারে তার চিন্তা-চেতনার পথ

ভ্রষ্টতা ও আধুনিক বিজ্ঞানের ব্যাপারে

আশংকাজনক পর্যায়ে প্রভাবান্বিত হওয়ার ঠিকানা

পাওয়া যায়। কেননা সে প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তনশীল

বৈজ্ঞানিক গবেষণার দিকে আসমানী কিতাবসমূহ

বিশেষত; ঐশী কালাম কুরআনে কারীমের যাচাইয়ের

মানদন্ড সাব্যস্ত করেছে। অথচ আল্লাহ তায়ালার

কালাম হওয়ার সবচেয়ে বড় প্রমাণ এর অলৌকিকত্ব

যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন জায়গায়

চ্যালেঞ্জ করেছেন।যা সুরা বাকারায় উল্লেখ

রয়েছে ।

গ. ফতোয়া দেয়ার অধিকার যে কোনো ব্যক্তির

রয়েছে।

জাকির এক জায়গায় বলে- প্রত্যেকের জন্য ফতোয়া

প্রদান করা জায়েয। কারণ ফতোয়ার অর্থ হলো

মতামত দেয়া।’

ফতোয়া দেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আল্লামা ইবনুল

কাইয়্যুমের ভাষায় মুফতি আল্লাহ তায়ালার বিধান

বর্ণনা করার ক্ষেত্রে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের

ভাষ্যকার এবং তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দস্তখত

করার দায়িত্বশীল হয়।’দেখুন [ই’লামুল মাআক্কিঈন

১/৯১]

এই ফতোয়াকে সে‘মতামত দেয়ার’ মতো হালকা

পাতলা শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করে শুধু নিজের জন্যই নয়;

বরং প্রত্যেকের জন্য এর বৈধতা দিচ্ছে। অথচ

কুরআনে কারীমে বলা হয়েছে-‘যদি তোমাদের জ্ঞান

না থাকে তাহলে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর।’

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে

উল্লেখ হয়েছে- ‘যে ব্যক্তি (বিশুদ্ধ) জ্ঞান ছাড়া

ফতোয়া দেয় এর গুনাহ ফতোয়া দাতার ওপর

হবে।’ [আবু দাউদ হাদিস নং ৩৬৫৯৩]

সে এই আয়াত ও হাদিসকে জানেনা ??

২. তাফসীরুল কুরআনের ক্ষেত্রে মনগড়া ব্যাখ্যা

অর্থাৎ অর্থগত বিকৃতি।

কুরআনে কারীমের তাফসিরের বিষয়টি অত্যন্ত

স্পর্শকাতর। কেননা মুফাসসিরগণ কুরআনে কারীমের

আয়াত দ্বারা আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্য নির্ধারণ

করে থাকেন- যে আল্লাহ তায়ালা এই অর্থ উদ্দেশ্য

নিয়েছেন। অতএব অনুপযুক্ত ব্যক্তির এই ময়দানে কদম

রাখা খুবই আশংকাজনক। হাদিস শরীফে ইরশাদ

হয়েছে- ‘যে ব্যক্তি নিছক তার যুক্তি দিয়ে তাফসির

করে সে ঘটনাক্রমে সঠিক অর্থ করে ফেললেও সে

ভুলকারী সাব্যস্ত হবে।’ [তিরমিযি- হাদিস নং ২৭৭৬]

এ কারণে মুফাসসিরগণের জন্য অনেক শর্ত রয়েছে।

যেমন কুরআনে কারীমে সমস্ত আয়াতের প্রতি গভীর

দৃষ্টি, হাদিসের ভান্ডারের ব্যাপারে গভীরজ্ঞান

আরবি ভাষা ও ব্যকরণ যথা- নাহু, সরফ, ইশতিকাক,

ফাসাহাত-বালাগাত ইত্যাদির ওপর ভালো পান্ডিত্য

থাকা ইত্যাদি। জাকীড়েড় মধ্যে উল্লেখিত

শর্তাবলীর আবশ্যকীয় পর্যায়ে নেই। শে আরবি ভাষা

ও ব্যাকরণ সমন্ধে যথাযথ অবগত নয়। হাদিসের

ভান্ডারের ওপর তার গভীর দৃষ্টি নেই। অনুরূপ

ফাসাহাত- বালাগাতেও তার নেই তেমন জ্ঞান।

(নিম্নে দৃষ্টান্তগুলোতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে)

বরং তাফসীরের ক্ষেত্রে তার মধ্যে গোমরাহীর

অনেক কারণ রয়েছে যথা –

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,

সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে তাবেঈনের

তাফসির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া। যুগের ধ্যান

ধারণা দ্বারা প্রভাবিত কুরআনে কারীমের বিষয়কে

ভুল বুঝা ইত্যাদি জাকিরের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে

বিদ্যমান। এজন্যই সে বেশ কিছু আয়াত নিয়ে তার

অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে। নিচে তার কিছু নমুনা

লক্ষ্য করুন-

ক. কুরআনে কারীমের আয়াত-

{ ﺍﻟﺮِّﺟَﺎﻝُ ﻗَﻮَّﺍﻣُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀِ ﺑِﻤَﺎ ﻓَﻀَّﻞَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑَﻌْﻀَﻬُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺑَﻌْﺾٍ ﻭَﺑِﻤَﺎ

ﺃَﻧْﻔَﻘُﻮﺍ ﻣِﻦْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ { ‏[ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ : ৩৪]

‘আররিজালু কাওয়ামুনা আলান্নিসা’

এই আয়াতের তাফসীরে সে বলে- লোকেরা বলে

ﻗَﻮَّﺍﻣُﻮﻥَ ‘কাওয়ামুন’ শব্দটির অর্থ একস্তর উঁচু মর্যাদা।

অথচ মূলত : এই শব্দটি ﺍﻗﺎﻣﺔ ‘ইকামাতুন’ থেকে উদ্ভুত

হয়েছে, যার অর্থ হচ্ছে দন্ডায়মান হওয়া তাই এর

উদ্দেশ্য হচ্ছে দায়িত্বের দিক দিয়ে উঁচু মর্যাদার

দিক দিয়ে নয়। [ খুতুবাতে জাকির নায়েক : ২৯০]

সে পাশ্চাত্যের সমতার ধ্যান ধারণার স্বপক্ষে

কুরআনের আয়াতের মনগড়া ব্যাখ্যা করে পুরুষদের এক

স্তর মর্যাদাকে নাকচ করে দিল অথচ উম্মাহর বড় বড়

মুফাসিসরগণ মর্যাদার দিক দিয়ে উঁচু হওয়ার অর্থ

ব্যক্ত করেছেন। যেমন ইবনে কাসীরে লিখেছেন-

পুরুষের অবস্থান তার স্ত্রীর সামনে শাসক ও সরদারের

মতো। প্রয়োজন হলে স্বামী-স্ত্রীকে সমুচীন শাস্তিও

দিতে পারে। অনুরূপ

{ ﻭَﻟِﻠﺮِّﺟَﺎﻝِ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻦَّ ﺩَﺭَﺟَﺔٌ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰِﻳﺰٌ ﺣَﻜِﻴﻢٌ { ‏[ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ২২৮]

‘লিররিজালি আলাইহিন্না দারাজাহ’

এই আয়াতের তাফসীরে আল্লামা ইবনে কাসির

লিখেছেন- ‘স্বামী স্ত্রী থেকে মর্যাদা, সম্মান ও

আনুগত্য ইত্যাদির ক্ষেত্রে এক স্তর ওপরে’ অনুরূপ

জাকির তাফসিরটি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম এর হাদিসের পরিপন্থি। হাদিসটি হলো-

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-

‘আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কারো জন্য সেজদা বৈধ

হলে আমি নারীদেরকে নির্দেশ দিতাম তারা

যেনো তাদের স্বামীদের সেজদা করে।’ [আবু দাউদ

২১৪০]

কেননা যদি উভয়ের মর্যাদা এক হতো এবং স্বামীর

জন্য স্ত্রীর ওপর কোনো প্রাধান্য না থাকতো

তাহলে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম নারীদের তাদের স্বামীদের চূড়ান্ত

সম্মানের প্রতীক সেজদা করার নির্দেশ দেয়ার

উপক্রম কেন হলেন?

খ. জাকিরকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো। কুরআনে

কারীমের মধ্যে আছে। কোনো মায়ের জরায়ুতে

বিদ্যমান বাচ্চার লিঙ্গ কেবলমাত্র আল্লাহ

তায়ালাই জানেন। অথচ বর্তমান বিজ্ঞান যথেষ্ট

উন্নতি করেছে। এখন আমরা অতি সহজেই

আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে ভ্রুণ নির্ধারণ করতে

সক্ষম। তাহলে এই আয়াতটি কি মেডিকেল সাইন্সের

পরিপন্থি নয়। এর জবাবে সে বলে, একথা ঠিক যে

কুরআনের এই আয়াতের বিভিন্ন অনুবাদ ও ব্যাখ্যা

করার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে কেবল মাত্র আল্লাহই

জানেন যে মায়ের জরায়ুতে বিদ্যমান বাচ্চার লিঙ্গ

কি? কিন্তু এই আয়াতের আরবি টেক্সটটি পাঠ করুন

সেখানে সেক্স [লিঙ্গের] কোনো আরবি বিকল্প শব্দ

ব্যবহৃত হয়নি। মূলত: কুরআন যা বলছে তা হলো- জরায়ুতে

কি আছে? এর জ্ঞান কেবল মাত্র আল্লাহ তায়ালার

রয়েছে। অনেক মুফাসসির ভুল বুঝে বসেছেন, তারা এর

অর্থ এই করেছেন যে কেবলমাত্র আল্লাহ তায়ালাই

মায়ের পেটে বাচ্চার লিঙ্গ সমন্ধে জানেন। এটা

ঠিক নয়। এই আয়াত ভ্রণের লিঙ্গের দিকে ইঙ্গিত

করছে না এবং এর ইঙ্গিত এই দিকে যে মায়ের পেটে

বিদ্যমান বাচ্চার স্বভাব কেমন হবে? সে তার মা

বাবার জন্য রহমতের কারণ হবে? না আজাবের কারণ

হবে? ইত্যাদি।[ইসলাম পর চালিস এ’তেরাযাত : [১৩০]

জাকির বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রভাবিত হয়ে এ

আয়াত থেকে আপাত দৃষ্টিতে সৃষ্ট প্রশ্ন থেকে

বাঁচার জন্য কুরআনের অন্যান্য আয়াত এবং সাহাবা ও

তাবেঈন থেকে বর্ণিত তাফসীরকে পৃষ্ঠদেশে

নিক্ষেপ করে একটি প্রসিদ্ধ অর্থকে অস্বীকার করে

বসেছে এবং বড় বড় মুফাসসিরগনের ওপর দোষারূপ ও

তাদের তাফসিরকে ভুল সাব্যস্ত করেছে। সে যে অর্থ

উল্লেখ করেছে তা ‘মা’ ইসমে মাউসূল-এর ব্যাপকতায়

তো আসতে পারে এবং অনেক মুফাসসিরগণ প্রথম

অর্থের মধ্যে এই অর্থও উল্লেখ করেছেন। কিন্তু অপর

অর্থকে অস্বীকার করা একেবারেই ঠিক নয়। বরং

এটা তার খেয়ালিপনা এবং তাফসীরের ক্ষেত্রে

সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনের উক্তি থেকে বিমুখ

হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ। কেননা ডা. সাহেব যেই অর্থকে

নাকচ করে দিয়েছেন তার দিকেই ইঙ্গিত করছে সূরা

রা’আদের এই আয়াত- ‘আল্লাহ জানেন প্রত্যেক নারী

যা গর্ভধারণ করে এবং গর্ভাশয়ে যা সংকুচিত হয় ও

বর্ধিত হয়।

[রা’আদ ৮]

এছাড়া প্রখ্যাত তাবেঈ ও তাফসীরের ইমাম হযরত

কাতাদাহ রহমতুল্লাহি থেকে এই অর্থই বর্ণিত আছে।

যেমন : হযরত কাতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

‘মায়ের গর্ভাশয়ে ভ্রণ পুরুষ না নারী এর নিশ্চিত

জ্ঞান আল্লাহ তা’য়ালা ছাড়া আর কারো নেই।

অনুরূপভাবে ইবনে কাসির তার তাফসিরে ৬/৩৫৫ এবং

আল্লামা নাসাফী তাফসিরে মাদারেকে ৩/১১৬ ও

ইমাম শওকানী ফতহুল কাদির ৫/৪৯৮ এ উল্লেখিত

আয়াতের এই অর্থই বর্ণনা করেছেন। অথচ সে এসকল বড়

বড় মুফাসিসরগণের বর্ণনাকে ভুল সাব্যস্ত করে নিজের

বর্ণনা করা অর্থটিকে নিশ্চিত সঠিক সাব্যস্ত করায়

অটল রয়েছে।

সঠিক জবাব : আয়াতে কারীমার উদ্দেশ্য আল্লাহ

তায়ালার জন্য ইলমে গায়েব প্রমাণ করা আর ইলমে

গায়েব মূলত ঐ নিশ্চিত ইলমকে বলে যা বাহ্যিক

কোনো কারণ ছাড়া কোনো যন্ত্রের মাধ্যম ব্যতিত

অর্জিত হয়। আর চিকিৎসকদের ইলম শতভাগ নিশ্চিতও

নয় এবং মাধ্যমহীনও নয়; বরং নিছক প্রবল ধারণা

প্রসূত এবং যন্ত্রের মাধ্যমে অর্জিত হয়। তাই

আল্ট্রাসনোগ্রাফি দ্বারা অর্জিত ধারণা প্রসূত ইলম

দ্বারা কুরআনের আয়াতের ওপর কোনো প্রশ্ন

উত্থাপিত হবে না।

গ. ইরশাদ হচ্ছে, হে নবী! ঈমানদার নারীরা যখন

আপনার কাছে এসে এ মর্মে বাইয়াত করে যে তারা

আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না।

[সূরা মুমতাহেনা ১২]

সে এই আয়াতের তাফসিরে বলে-‘এখানে বাইয়াত শব্দ

ব্যবহার করা হয়েছে। আর বাইয়াত শব্দে আমাদের

আজ কালের ইলেকশনের অর্থও শামিল আছে।

কেননা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম আল্লাহ তা’য়ালার রাসূলও ছিলেন সেই

সাথে রাষ্ট্রপতিও ছিলেন। আর বাইয়াত দ্বারা

উদ্দেশ্য তাকে সরকার প্রধান হিসেবে মেনে নেয়া

ছিল। ইসলাম সেই যুগে নারীদের ভোট দেয়ার

অধিকার অর্পণ করেছিল। [ডা. জাকির নায়েক,

ইসলাম মেঁ খাওয়াতীনকে হুকুম : [৫ পৃষ্ঠা]

এখানেও সে আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করে নারীদের

জন্য ভোট দেয়ার অধিকার প্রমাণ করতে চাচ্ছেন যে

নারীদের হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এর দরবারে এসে বাইয়াত করা বর্তমান যুগের

গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ারই একটি প্রাচীন

পদ্ধতি। অথচ গণতন্ত্রের বাস্তবতা সম্পর্কে যারা

অবগত তারা খুব ভালোভাবেই বুঝতে সক্ষম যে তার এই

ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ বাস্তবতা পরিপন্থী এবং কুরআনের

তাফসিরে নিজের জ্ঞানের অযথা ব্যবহার। কারণ

বর্তমান গণতন্ত্র মোতাবেক সবার এখতিয়ার থাকে

যে তারা প্রধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজেদের

রায় দিবে। যদি কারো ব্যাপারে সংখ্যাধিক্য ও

মতাধিক্য না থাকে তাহলে সে প্রধান হতে পারে

না। যদি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লামএর বাইয়াত নেয়া ভোট নেয়া হতো তাহলে ঐ

সকল নারী সাহাবীদের হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লামএর নেতৃত্ব মেনে নিতে

অস্বীকার করার এখতিয়ার থাকতো।

ঘ. ইরশাদ হচ্ছে, হে হারূনের বোন তোমার পিতা মন্দ

লোক ছিলেন না এবং তোমার মা ব্যভিচারি ছিলেন

না’ [সূরা মারয়াম : ২৮]

সূরা মারয়ামের এই আয়াতটি না বুঝার কারণে একটি

প্রসিদ্ধ প্রশ্ন তোলা হয় যে- ‘হযরত মরিয়ম আলাইহাস

সালাম হযরত হারূন আলাইহিস সালাম এর বোন ছিলেন

না এবং উভয়ের যুগের মাঝে এক হাজার বছরের

ব্যবধান।’

এই প্রশ্নের জবাবে সে বলেন- খ্রিস্টানরা বলে

থাকে যে হযরত হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম যিশুর মা ‘মেরী’ মারয়াম এবং হারূনের

বোন মারয়ামের মধ্যে পার্থক্য জানা ছিলো না।

অথচ আরবিতে উখতুন এর অর্থ আওলাদ (সন্তান)ও

আছে। এ কারণে লোকেরা মারয়ামকে বললো হে

হারূনের সন্তান এবং এর দ্বারা মূলত হারুণ আলাইহিস

এর সন্তানই উদ্দেশ্য।

জাকির হাদিস ও লুগাত সমন্ধে অজ্ঞতার ওপর

প্রতিষ্ঠিত এই গবেষণার বিশ্লেষণ স্বরূপ মুসলিম

শরিফের হাদিসই যথেষ্ঠ। সহিহ মুসলিমে আছে- হযরত

মুগীরা ইবনে শো’বা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- ‘যখন

আমি নাজরানে গেলাম তো লোকেরা আমাকে প্রশ্ন

করলো তোমরা ‘ইয়া উখতা হারূন’ পাঠ করে থাক অথচ

মুসা আলাইহিস সালাম ঈসা আলাইহিস সালাম থেকে

এতো এতো বছর পূর্বে। পরে যখন আমি হুযুর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে এলাম

তাকে এ সমন্ধে জিজ্ঞেস করলাম, তখন তিনি উত্তরে

বললেন- ‘তারা তাদের পূর্ববর্তি নবী ও নেককারদের

নামে নিজেদের নাম রাখতো। [হাদিস নং ৫৭২১]

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই

আয়াতের ব্যাখ্যা আজ থেকে চৌদ্দশত বৎসর পূর্বেই

করেছেন যার ‘সারাংশ হলো হযরত ঈসা আলাইহিস

সালাম. এর মা হযরত মারয়াম আলাইহাস সালাম হযরত

মুসা আলাইহিস সালাম এর ভাই হারূন আলাইহিস

সালাম. এর বোন ছিলো না; বরং হযরত ঈসা ালাইহিস

সালাম এর মায়ের ভাইয়ের নামও হারূন ছিলো এবং

তারা নিজেদের নবী ও মাকবুল ব্যক্তিত্বের নামে

নিজেদের নাম রাখতো। এতে বুঝা গেলো এটা

কোনো নতুন প্রশ্নও নয় এবং নিজের পক্ষ থেকে

কোনো জবাব বানানোরও কোনো প্রয়োজন নেই।

জাকিরের তাফসিরসংক্রান্ত হাদিস সমূহের

ব্যাপারে কেমন অজ্ঞতা যে হাদিস ও তাফসিরের

ভান্ডার থেকে বাস্তবতা পর্যন্ত পৌঁছার চেষ্ট না

করে মনগড়া ব্যাখ্যা করছে।

ঙ. ইরশাদ হচ্ছে-

{ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﺑَﻌْﺪَ ﺫَﻟِﻚَ ﺩَﺣَﺎﻫَﺎ { ‏[ ﺍﻟﻨﺎﺯﻋﺎﺕ : ৩০]

‘ওয়াল আরদ্বা বা’দা যালিকা দাহা-হা’

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় জাকির নায়েক বলে-‘এখানে

ﺩَﺣَﺎﻫَﺎ দাহা-হা শব্দটি ডিমের অর্থে ব্যবহৃত আরবি

শব্দ। যার অর্থ উট পাখির ডিম। উট পাখির ডিম

পৃথিবীর আকৃতির সাথে সামঞ্জস্যতা রাখে। অথচ

যখন কুরআন নাযিল হয় তখন ধারণা করা হতো পৃথিবী

চেপ্টা।’[খুতুবাতে জাকির নায়েক কুরআন এবং

বর্তমান সাইন্স :/৭৩-৭৪]

কুরআনে কারীমের বিষয়বস্ত্ত হলো- তাওহীদ এবং

রেসালত প্রাকৃতিক বিষয়াদির আলোচনা

প্রাসঙ্গিকভাবে আছে। ব্যাপারটি না বুঝা এবং

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার

কারণে সে পৃথিবীর আকৃতির ব্যাখ্যা করতে যেয়ে

আয়াত দিয়ে ভুল পদ্ধতিতে প্রমাণ দিচ্ছে। এবং

আয়াতের মনগড়া ব্যাখা করেছে। ‘দাহবুন’ শব্দ ও দাল,

হা. ওয়াও এর মাদ্দাটি আরবিতে ছড়ানো এবং

ছড়িয়ে যাওয়ার অর্থ বুঝায়। সে মোতাবেক ‘দাহা-হা’

-এর ব্যাখ্যা ও অনুবাদ হলো পৃথিবীকে ছড়ানো এবং

বড়

৩। হাদিস সম্পর্কে অজ্ঞতা :

হাদিসের ভান্ডারের ব্যাপারে অজ্ঞতার কারণে

জাকির অনেক স্থানে সহীত হাদিসের পরিপন্থি

মাসায়েল বলেছে- এমনকি অনেক জায়গায় কোনো

মাসআলায় একাধিক হাদিস থাকা সত্ত্বেও বলে

ফেলেছে যে এ ব্যাপারে কোনো দলীল নেই। নিম্নে

হাদিসের ব্যাপারে অজ্ঞতা, অথবা জেনে বুঝে না

দেখার ভান করার কিছু নমুনা উল্লেখ করছি

ক. নারীদের জন্য হায়েজ অবস্থায় কুরআন পাঠ করার

বৈধতা :

এক আলোচনায় নারীদের বিশেষ দিন সম্পর্কে সে

বলে-‘কুরআন ও হাদিসে নামাজের ব্যাপারে ছাড়

দেয়া আছে। তবে কোনো হাদিসে এ কথা নেই যে

কুরআন পড়তে পারবে না।’

অথচ তিরমিজি শরিফে স্পষ্ট হাদিস- ‘ঋতুবর্তি ও

জুনুবি কুরআনের কিছু পাঠ করবে না।’ [হাদিস নং ১৩১]

এখন চিন্তুা করুন ব সহীহ ও স্পষ্ট হাদিস থাকা

সত্ত্বেও সবজান্তা হওয়ার দাবি করে এটাকে

অস্বীকার করে দিল?

খ. রক্ত বের হলে অজু ভাঙ্গার ব্যাপারে হানাফিদের

কোনো দলীল নেই।

সে একটি বক্ততৃায় রক্ত বের হলে অজু ভাঙ্গা ও না

ভাঙ্গার বিষয়ে কথা বলতে যেয়ে বলে- ‘ কোনো

কোনো আলেম বিশেষ করে হানাফি মাযহাবের

সাথে সম্পৃক্ত উলামায়ে কেরামের ধারণা মতে রক্ত

বেয়ে পড়লে অজু ভেঙ্গে যায়। নামাজের মধ্যে রক্ত

বেয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কার কি করা উচিত এই

প্রশ্নের জবাবে তাদের (হানাফিদের) ফতোয়া

অনেক লম্বা। তবে তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থনে

বাহ্যিকভাবে কোনো প্রমাণ নেই।’[হাকিকতে

জাকির নায়েক : ২১৪]

এখানে সে হানাফি মাযহাবের সাথে সম্পৃক্ত

উলামায়ে কেরামের ওপর অভিযোগ দিচ্ছে যে তারা

প্রমাণ ছাড়াই অজু ভাঙ্গার কথা বলেন- অথচ রক্ত বের

হলে অজু ভাঙ্গাসংক্রান্ত অনেক হাদিস বর্ণিত

আছে। তাছাড়া সাহাবায়ে কেরামের আমলও এর উপর

ছিলো। নিম্নে কিছু উদ্বৃতি দিচ্ছি- হযরত আয়িশা

আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

ফাতিমা বিনতে আবু হুবাইশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা

আনহা নবী হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া

রাসূলাল্লাহ! আমার এতো বেশি রক্তস্রাব হয় যে, আর

পবিত্র হইনা। এমতাবস্থায় আমি কি সালাত ছেড়ে

দেবো? হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম ইরশাদ করলেন- না, এতো ধমনি নির্গত রক্ত,

হায়েয নয়। তাই যখন তোমার হায়েয আসবে তখন

সালাত ছেড়ে দিও। আর যখন তা বন্ধ হবে তখন রক্ত

ধুয়ে ফেলবে, তারপর সালাত আদায় করবে। হিশাম

বলেন, আমার পিতা বলেছেন, তারপর এভাবে আরেক

হায়েয না আসা পর্যন্ত প্রত্যেক সালাতের জন্য উযু

করবে। [বুখারি ২২৮]

অপর হাদিসে এসেছে- ‘নামাজের মধ্যে যদি কারো

নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে তাহলে তার কর্তব্য

হচ্ছে রক্ত ধুয়ে নিবে এবং অজু দুহরিয়ে নিবে।

[দারেকুতনী হাদিস নং ১৭/১৮/১৯]

অপর হাদিসে এসেছে- ‘রক্ত গড়িয়ে পড়লে অজু

আবশ্যক হয়ে যায়।’ [নসবুর রায়াহ ১/৩৭]

এগুলো এবং এগুলো ছাড়াও আরো অনেক রেওয়াত

থাকা সত্ত্বেও সে নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ না করে

উল্টো মুজতাহিদ সুলভ দাবি করে বসল যে

বাহ্যিকভাবে রক্তের কারণে অজু ভাঙ্গার ওপর

কোনো প্রমাণ নেই।

গ. পুরুষ ও নারীর নামাজে পার্থক্য করা বৈধ নয়-

অন্য এক জায়গায় জাকির নায়েক পুরুষ ও নারীর

নামাজের মধ্যে পার্থক সম্পর্কে বলে- ‘ কোথাও

একটিও সহীহ হাদিস পাওয়া যায় না যাতে নারীদের

জন্য পুরুষদের থেকে আলাদা পদ্ধিতিতে নামাজ

আদায়ের নির্দেশ আছে, বরং তদস্থলে সহীহ বুখারির

রেওয়াতে আছে হযরত উম্মে দারদা রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন আত্তাহিয়্যাতুর মধ্যে

নারীদের পুরুষদের মতোই বসার নির্দেশ রয়েছে।

এখানে সে দুটি বিষয় একেবারেই ভুল বলেছে- এক.

নামাজের ক্ষেত্রে পুরুষ নারীর মাঝে

পার্থক্যসংক্রান্ত কোনো হাদিস নেই।

দুই. হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম নারীদের পুরুষদের মতো বসার নির্দেশ

দিয়েছেন।

সেব প্রথম কথাটি বলে ঐ সকল হাদিস অস্বীকার করে

দিয়েছে যার মধ্যে পুরুষ ও নারীর নামাজের পার্থক্য

উল্লেখ আছে। নিম্নে এমন কিছু রেওয়াত উল্লেখ

করছি-

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ

করেন- ‘তোমাদের কি হয়েছে, সালাতে কোনো

ব্যাপার ঘটলে তোমরা হাততালী দিতে থাকো কেন?

হাততালি তো মেয়েদের জন্য।’[বুখারি ১/১৭৪]

হযরত ওয়াইল ইবনে হজর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

আমাকে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম বলেছেন- ‘ হে ওয়ায়েল ইবনে হজর! যখন

সালাত আদায় করবে তখন তোমার হাতদ্বয় কান পর্যন্ত

ওঠাবে এবং নারী তার হাত তার বক্ষ পর্যন্ত ওঠাবে।

[আল মুজামুল কাবীর ২৮]

হযরত এযিদ ইবনে আবি হাবীব থেকে বর্ণিত, তিনি

বলেন- হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এমন দু’জন নারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম

করলেন, যারা নামাজ পড়ছিলো, তখন তিনি বললেন-

যখন তোমরা সেজদা কর তখন শরীর জমিনের সাথে

মিলিয়ে রাখবে, কেননা, নারী এক্ষেত্রে পুরুষের

মতো নয়।[বাইহাকী- ৩০১৬]

এই রেওয়ায়াতগুলোতে পুরুষ ও নারীদের নামাজের

মধ্যে বিভিন্ন পার্থক্যের উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া

আরোও অনেক হাদিস রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত

গ্রন্থাবলীতে বিস্তারিত দেখা যেতে পারে। আর

দ্বিতীয় কথাটি হলো- বুখারি শরিফে নারীদের

পুরুষদের মতো বসার নির্দেশ সম্পর্কিত হুযুর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশের

ব্যাপারটিকে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এর দিকে একটি ভুল সম্পৃক্তকরণ বৈ কিছু না।

হযরত উম্মে দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা এর

যে বর্ণনার রেফারেন্স সে দিয়েছে তার ভাষ্য হলো-

হযরত উম্মে দারদা তার সালাতে পুরুষদের মতো

বসতেন এবং তিনি ফকীহ ছিলেন। [বুখারি ১/১১৪]

এখানে কোথাওহুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এর কর্মের আলোচনা নেই; বরং এটা একজন

নারী সাহাবীর আমল। যার উল্লেখ করে ইমাম এই

কথারই ঈঙ্গিত দিয়ে ছিলেন যে তিনি ফকিহ ছিলেন

নিজের ইজতিহাদে এমন করতেন। উপরন্তু ইমাম বুখারি

হাদিসটি মুয়াল্লাক করে উল্লেখ করেছেন সনদ

বলেননি।

৩। আইয়্যিম্মায়ে মুজতাহিদীনের অনুসরণ থেকে

পালায়ন এবং ফেকহী মাসায়েলের ক্ষেত্রে

সংখ্যাগরিষ্ঠ মত থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতি।

জাকির নায়েক লিখনি ও বক্তব্যের আলোকে তাকে

কোনো ইমামের অনুসারী বলে মনে হয় না। বরং

স্বেচ্ছাচারিতা, প্রগতিশীলতা, মাযহাববিহীন

মানুষ হিসেবে প্রতিয়মান হয়। শুধু যে সে নির্দিষ্ট

কোনো ইমামের তাকলীদ করে না- তাই নয়; বরং

তাকলীদকারী নিষ্ঠাবান জনসাধারণকে তাকলীদ না

করার পন্থা অবলম্বনের শিক্ষা দেয় এবং নিজের

বয়ান কৃত মাসায়েলে কোথাও কোনো ইমামের কথা ও

তার ইস্তিম্বাত করা হুকুম নিজের দিকে সম্পৃক্ত করে

নকল করে। আবার কোথাও নিজে মুজতাহিদ সুলভ

ভঙ্গিতে মাসআলা বয়ান করতে থাকে। অথচ তার

মাসায়েল নকল করার ক্ষেত্রে ঐ নির্দিষ্ট ইমামের

নাম নেয়া কর্তব্য ছিল। যিনি এই মাসআলাগুলো

ইস্তিম্বাত করেছেন। যাতে করে শ্রোতাগণ এই ভুল না

করে বসে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে শুধুমাত্র এটাই প্রমাণ

হয়। এছাড়া যে অন্য সকল বিষয় যার ওপর লোকেরা

আমল করছে তা কুরআন ও হাদিস থেকে প্রমাণিত ও

আইয়্যিম্মায়ে মুজতাহিদীনের বক্তব্য হলেও তা ভুল।

নিম্নোক্ত উদাহরণসমূহ থেকে বিষয়গুলো খুব

সুন্দরভাবে অনুমান করা সম্ভব।

ক. অযু ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা বৈধ

এক স্থানে বলে- ‘অজুছাড়া কুরআনে কারীম স্পর্শ

করার অনুমতি থাকা চাই। অথচ তার এই বক্তব্য

কুরআনে কারীমের আয়াত-

{ ﻟَﺎ ﻳَﻤَﺴُّﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﻤُﻄَﻬَّﺮُﻭﻥَ{ ‏[ﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺔ : ৭৯]‘লাইয়া মাসসাহু ইল্লাল

মুতাহ হারুন’ [সূরা ওয়াকিয়া ৭৯]

তাছাড়া সকল মুজতাহিদ ইমামগণের মতেরও বিরুদ্ধে।

খ. জুমার খুতবা আরবি ভাষার স্থলে স্থানীয় ভাষায়

হওয়া চাই ।

একস্থানে জুমার খুতবার সম্পর্কে বলে- ‘আমি মনে

করি আমাদের দেশে জুমার খুতবা স্থানীয়,

মাতৃভাষায় দেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হোক যাতে করে

…. অথচ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত জুমার খুতবা আরবি

ভাষায় দেয়ার ধারাবাবিহক নিয়ম চলে আসছে। আজ

সে এই দাওয়াত দিচ্ছে যে খুতবা স্থানীয় ভাষায়

হওয়া চাই। যাতে জনগণ বুঝতে পারে। অথচ এই স্বার্থ

আরবি যারা জানেনা তাদের বুঝা হুযুর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  এর যুগেও

বিদ্যমান ছিল। কারণ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম খুতবা সমূহতে অনারব ব্যক্তিবর্গও শরীক

হতো। তবুও নবী হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম সর্বদা আরবিতেই খুতবা দিয়েছেন।

অন্যকোনো ভাষায় খুতবা দেয়ানোর ব্যবস্থা

করেননি। আর পরে এর অনুবাদও করাননি। অনুরূপভাবে

সাহাবায়ে কেরাম তাবেঈন ও তাবে তাবেঈন এবং

তাদের অনুসারীগণ আরব থেকে বের হয়ে ভিন্ন দেশে

গিয়েছেন। প্রাচ্যে পাশ্চাত্যে ইসলাম ছড়িয়েছে।

তদুপরি সকল স্থানে খুতবা সর্বদা আরবি ভাষায়ই

দিয়েছেন। অথচ তাদের দ্বীনের তাবলীগের প্রয়োজন

বর্তমান থেকেও বেশি ছিলো। মোট কথা খোলাফায়ে

রাশেদীন, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনের

ইজমামের কর্মধারা ও নিরবচ্ছিন্ন আমল এবং সমস্ত

উম্মাহ ধারাবাহিক কর্ম পন্থা। একথার স্পষ্ট প্রমাণ

যে খুতবা আরবি ভাষায় দেয়াই আবশ্যক। এমনকি ইমাম

মালেক রহ. বলেন- জুমার নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য

খুতবা আরবি ভাষায় হওয়া আবশ্যক। যদিও পূর্ণ

উপস্থিতি অনারবদের হোক না কেন এবং আরবি কেউ

না জানুক এবং আরবি ভাষায় খুতবা পাঠ করতে সক্ষম

এমন একজনও উপস্থিত না হয়ে থাকে তাহলে সকলের

জোহরের নামাজ আদায় করা আবশ্যক হবে। জুমা

তাদের রহিত হয়ে যাবে।

[হাশিয়ায়ে দুসুকী আলাশ শারহিল কাবীর ১/৩৭৮]

তাছাড়া শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ.

বলেন- খুতবা শুধু আরবি ভাষাই হওয়া আবশ্যক। প্রাচ্চ্য

থেকে পাশ্চাত্বের সকল মুসলমানের আমল এটাই ছিল।

[মুসাফফা শরহে মু’আত্ত্বা ১৫২]

গ. তিন তালাক একটি তালাকই হওয়া চাই

বলে- ‘তিন তালাকের জন্য এতো শর্ত রয়েছে যা পূর্ণ

হওয়া সম্ভব নয়। সৌদি আরবে তিনশত ফতোয়া আছে।

তাই তালাক একটিই বর্তমানের অবস্থার বিবেচনায়

একটিই হওয়া চাই’।[খুতুবাতে জাকির নায়েক : ৩৩১]

অথচ সাহাবায়ে কেরাম তাবেঈনে ইজমা, চার ইমাম,

উম্মাহের সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামা এবং বর্তমান যুগের

সৌদি আরবের সকল গ্রহণযোগ্য আলেমগণের কাছে এক

মজলিসের তিন তালাক তিনটি তালাকই সংগঠিত হয়,

একটি নয়। এ মাসআলায় পূর্ণ ইতিহাসে গ্রহণযোগ্য

কোনো আলেমের মতোবিরোধ নেই। ইবনে তাইমিয়া

এবং তার শাগরিদ ইবনুল কাইয়্যিম ছাড়া। কিন্তু সমগ্র

জাতির যাদের মধ্যে চার ইমাম- ইমাম আবু হানীফা,

ইমাম মালেক, ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমদ ইবনে

হাম্বলও শামিল। মুকাবিলায় এই দুইজনের মতে

কিছুতেই অনুসরণযোগ্য হতে পারে না।

সে এমন ঐক্যমতের বিধানের পরিপন্থি মাসআলা

বলে জাতিকে পথভ্রষ্ট করছে। এই বিধানটি কুরআনের

আয়াত অসংখ্য হাদিস এবং সাবাবায়ে কেরামের

কর্মপদ্ধতি থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণীত হয়।

‘হযরত নাফে বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. এর

কাছে যখন ঐ ব্যক্তি সমন্ধে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করা

হতো যে তিন তালাক দিয়ে দিয়েছে। তখন তিনি

বলতেন যদি তুমি এক. দুই তালাক দিতে (তাহলে

ফিরিয়ে নিতে পারতে) কেননা নবীজি সা. আমাকে

এর (ফিরিয়ে নেয়ার) নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদি

তিন তালাক দেয় তাহলে হারাম হয়ে যাবে যতোক্ষণ

না অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

অপর হাদিসে আছে- হযরত মুজাহিদ বলেন, আমি ইবনে

আববাস রা. কাছে ছিলাম এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি

এসে বললো, সে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে

দিয়েছে। তিনি বলেন হযরত ইবনে আববাস রা. চুপ

থাকলেন। আমি মনে করলাম তিনি স্ত্রীকে ফিরিয়ে

দিবেন। (রোজআতের নির্দেশ দিবেন) কিন্তু তিনি

বললেন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ বোকামি করে

বসে অতঃপর ইবনে আববাস ইবনে আববাস বলে

চিল্লাতে থাকে। শোন আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন- ‘

যে আল্লাহকে ভয় পায় তার জন্য রাস্তা করে দেন।

তোমরা নিজেদের প্রভুর সাথে নাফরমানী করছে

(তিন তালাক দিয়ে দিয়েছে) তাই তোমাদের স্ত্রী

বিচ্ছেদ হয়ে গেছে।

হযরত ইমাম মালিকের কাছে এই বর্ণনা পৌঁছেছে যে

এক ব্যক্তি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাসের কাছে

জিজ্ঞাসা করলে। আমি আমার স্ত্রীকে এক তালাক

দিয়ে দিয়েছি। আপনি এ ব্যাপারে কি বলেন? হযরত

ইবনে আববাস রা. উত্তর করলেন এর মধ্য থেকে তিন

তালাক তোমার স্ত্রীর ওপর পতিত হয়েছে অবশিষ্ট

সাতানববই তালাকের মাধ্যমে তুমি আল্লাহ পাকের

আয়াত নিয়ে খেলেছ।

আরেক হাদিসে আছে- হযরত ইমাম মালিকের কাছে

এই রেওয়াত পৌঁছেছে যে এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনে

মাসউদের কাছে এসে বললো আমি আমার স্ত্রীকে

আটটি তালাক দিয়েছি। হযরত ইবনে মাসউদ রা.

জিজ্ঞাসা করলেন লোকেরা তোমাকে কি বলেছে?

সে জবাব দিলো আমার স্ত্রী বিচ্ছেদ হয়ে গেছে।

হযরত ইবনে মাসউদ রা. বলেন ঠিক বলেছে। অর্থাৎ

তিন তালাক হয়েছে।

[মুআত্ত্বা ইমাম মালেক-১৯৯]

অপর হাদিসে আছে- হযরত হাসানের বর্ণনা আমাদের

হযরত ইবনে উমর রা. বলেন- যে তিনি তার স্ত্রীকে

মাসিকের সময় এক তালাক দিয়ে দিয়েছিলেন। অতপর

ইচ্ছা করলেন দুই তোহরে (পবিত্রতার সময়) অবশিষ্ট দুই

তালাক দিয়ে দিবেন। নবীজি সা. অবগত হলেন এবং

বললেন- ‘হে ইবনে উমর! এভাবে আল্লাহ তোমাকে

নির্দেশ দেননি। তুমি সুন্নত তরীকার খেলাফ করেছো।

সুন্নত তরীকা হলো তোহরের অপেক্ষা করবে এবং

প্রতি তোহরে এক তালাক করে দিবে। এরপর নবীজি

সা. আমাকে ফিরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিলেন।

সেমতে আমি ফিরিয়ে নিলাম। এরপর বললেন- যখন সে

পবিত্র হয়ে যাবে তখন তোমার এখতিয়ার, ইচ্ছা

করলে তালাক দিয়ে দিতে পারবে আর ইচ্ছা করলে

রেখেও দিতে পারবে। হযরত ইবনে উমর রা. বলেন,

এরপর আমি নবীজি সা. কে জিজ্ঞাসা করলাম, হে

আল্লাহর রাসূল! যদি আমি তিন তালাক দিয়ে দিতাম

তাহলে কি আমার ফিরিয়ে আনা জায়েজ হতো?

নবীজি বললেন- না। সেক্ষেত্রে তোমার স্ত্রী

তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো এবং তোমার এই

কাজ (তিন তালাক প্রদান) গুনাহের কাজ হতো।

দারেকুতনী ২/৪৩৮

আপনি লক্ষ্য করেছেন যে উল্লেখিত হাদিসসমূহে তিন

তালাকের মাধ্যমে তিন তালাকই হওয়ার বিধান

রয়েছে। এছাড়াও আরোও অনেক রেওয়াত স্পষ্টভাবে

প্রমাণ করছে যে- তিন তালাক তিন তালাকই হবে। এক

তালাক নয়।

বি:দ্র: ডা. জাকির নায়েক তার বক্তৃতায় সৌদি

আরবের তিনশত আলেমের উদ্বৃতি দিয়েছে। তারপর

নিজের মতামতও পেশ করেছে। কিন্তু তারা কোন

কোন আলেম তা উল্লেখ করেনি। অথচ সৌদি আরবে

তাহকীকাতে ইলমিয়ার সম্মানীত মুফতীগণ তিন

তালাক দ্বারা তিন তালাক হওয়ারই ফতোয়া

দিয়েছেন। তাদের সিদ্ধান্তটি নিম্নরূপ :-

এক শব্দে তিন তালাকসংক্রান্ত বিষয়ে হাইয়াতুল

বিবারিল উলামা এর সাধারণ পরিষদ থেকে পেশকৃত ও

লাজনাতুদ্দায়েমা লিল বুহুস ওয়াল ইফতা থেকে

প্রস্ত্ততকৃত গবেষণার ওপর অবগতি লাভ পূর্বক

মাসআলাটি নিয়ে স্টাডি মতবিনিময় ও সংশ্লিষ্ট

মতামতসমূহ পেশ করা এবং প্রত্যেক মতামতের ওপর

আরোপিত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনার পর বোর্ডের

অধিকাংশ এক শব্দের তিন তালাকে তিন তালাক

পতিত হওয়ার বিষয়টিই গ্রহণ করেছেন। মাজাল্লাতুল

বুহুস আল ইসলামিয়া ১ম খন্ড ৩য় সংখ্যা১৩৯৭ হি:

ঘ. একটি আলোচনায় বক্তৃতার সময় পরামর্শ দেন ‘

মুসলমানদের এমন পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত যেনো সমগ্র

বিশ্বে একই দিন ঈদ হতে পারে।’

তার এই বক্তব্য ‘ছূমূ লিরুয়াতিহী ওয়া আফতিরুলি

রুয়াতিহী’ মুসলিম-২৫৬৭

অর্থাৎ ‘চাঁদ দেখে রোজা রাখা ও চাঁদ দেখেই

ইফতার করো।’ এ হাদিসটির পরিপন্থি হওয়ার সাথে

সাথে সুস্থ বিবেকেরও পরিপন্থি। কেননা একই দিনে

ঈদের মাসআলাটির মূলত এই ভিত্তিতে সৃষ্টি হয় যে

ঈদকে একটি উৎসব দেশীয় অনুষ্ঠান বা জাতীয় দিবস

সাব্যস্ত করা হয়। অথচ এটা চূড়ান্ত পর্যায়ের একটি

ভুল চিন্তা। কেননা আমাদের ঈদ রমজান বা মুহাররম

কোন উৎসব নয়, বরং সবগুলোই ইবাদত, তাছাড়া সময় সব

দেশ ও এলাকার আকাশ সীমার বিবেচনায় হওয়া

একটি আবশ্যকীয় বিষয় আমরা হিন্দুস্তানে যখন

আসরের নামাজ আদায় করি তখন ওয়াশিংটনে সকাল

হয়। যখন হিন্দুস্তানে আমরা জোহরের নামাজ আদায়

করি তখন লন্ডনে মাগরিবের নামাজ হয়ে যায়।

এছাড়া এমনও হয় যে এক দেশে জুমার দিন হলে

অন্যদেশে তখনো বৃহস্পতিবার, আবার কোথাও

শনিবার শুরু হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে

সারাবিশ্বে একই দিনে ঈদ পালনের চিন্তা কিভাবে

করা যায়?

মোটকথা এসকল সমালোচনার আলোকে বুঝা গেলো

ডা. জাকির নায়েক অনেক মাসআলায় আহলে

সুন্নাতওয়াল জামাআত থেকে বিচ্যুত। কুরআন ও

হাদিসের ব্যাখ্যায় আরবি ভাষাও পূর্বসূরিদের থেকে

বর্ণিত তাফসিরসমূকে দূরে ঠেলে দিয়ে খোড়া

যুক্তির মাধ্যমে তাফসির করে অর্থগত বিকৃতির

শিকার। তাছাড়া সে শরীয়তের ইলম ও এর

উদ্দেশ্যাবলী সম্পর্কে গভীর জ্ঞান না থাকা

সত্ত্বেও কোনো ইমামের তাকলীদ করে না। বরং

উল্টো মুজতাহিদ ইমামগণের সমালোচনা করে। তাই

তার কথাবার্তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার

প্রোগ্রাম দেখা তার বয়ান শোনা এবং তাহকীক

ছাড়া তার ওপর আমল করা অত্যন্ত ক্ষতিকর। আর

যেহেতু বাস্তব তাহকীক করা সব ধরনের মানুষের কাজ

নয়। তাই তার প্রোগ্রাম সমূহ থেকে সাধারণ জনতার

বেঁচে থাকাই আবশ্যক। তাছাড়া প্রত্যেক মুমিনের

সর্বদা মনে রাখতে হবে যে দ্বীনের বিষয় যা অত্যন্ত

স্পর্শকাতর একটি বিষয়। মানুষ দীনের কথা শুনে এবং

এর ওপর আমল করে শুধু আখেরাতের নাজাতের জন্য।

এক্ষেত্রে শুধু মাত্র নতুন নতুন তাহকীক, ত্বরিত জবাব,

রেফারেন্সের আধিক্য এবং মানুষের মাঝে বাহ্যিক

গ্রহণযোগ্যতা দেখে তাহকীক ছাড়া কারো কথার

ওপর কখনোই আমল করা উচিত নয়; বরং মানুষের

চিন্তুা করা জরুরি যে সে ব্যক্তি দীনী ইলমের

কতোটুকু যোগ্যতা রাখে। কোন কোন উস্তাদদের

থেকে ইলম অর্জন করেছে। কোন পরিবেশে সে

প্রতিপালিত হয়েছে। তার পোশাক-আসাক, বাহ্যিক

অবস্থা অন্যান্য উলামায়ে কেরামের সাথে

সামঞ্জস্যতা রাখে কিনা?

তাছাড়া সমসাময়িক গ্রহণযোগ্য উলামা মাশায়েখের

তার ব্যাপারে কি মতামত? এটাও দেখা জরুরি যে

তার দ্বারা প্রভাবিত ও তার আশপাশে একত্র হয় এমন

ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কি পরিমাণ সহীহ দ্বীনি অনুভূতি

রাখে এবং দীনি খিদমতে জড়িত গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির

পরিমাণই বা কেমন? তার কাছাকাছি কিছুগ্রহণ যোগ্য

ব্যক্তি থাকলে তাদের কাছে জানা প্রয়োজন যে

তার ধরন কি? তারা কেন তার কাছে আছে? এমন তো

নয় যে কোন ভুল ধারণার বশিভূত হয়ে বা জ্ঞানের

স্বল্পতা অথবা কোন স্বার্থে কাছাকাছি দেখাচ্ছে।

মোটকথা এই সকল বিষয় তাহকীক করার পর যদি

নিশ্চিত হওয়া যায় তাহলেই কেবল দ্বীনি বিষয়ে

তার কথা গ্রহণ ও আমলযোগ্য সাব্যস্ত হবে। নতুবা তার

কাছ থেকে দূরত্ব অবলম্বন করার মধ্যেই ঈমানের

নিরাপত্তা। প্রসিদ্ধ তাবেঈ মুহাম্মদ ইবনে সীরিনের

বাণী- ‘দীনের কথা শোনা ও শিখার জন্য জরুরি হলো

যে খুব চিন্তা করো যে কেমন লোক থেকে ইলম অর্জন

করছো এবং দীন শিখছো। আল্লাহ তা’য়ালা সবাইকে

সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন।