সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ ও আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ফযীলত

 

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

قل لا اسئلكم عليه اجرا الا الـمودة فى القربى

অর্থ: “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি জানিয়ে দিন, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও; তাহলে তোমাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার পবিত্র বংশধরগণ উনাদের ফযীলত সম্পর্কে রঈসুল মুফাস্সিরীন, ওলীয়ে কামিল আল্লামা কাযী ছানাউল্লাহ পানিপথি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার প্রণিত ‘তাফসীরে মাযহারী শরীফ উনার ৮ম জিঃ ৩২০ পৃষ্ঠায় উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় লিখেন-

لا اسئلكم اجرا الا ان تودوا اقربائى واهل بيتى وعترتى

অর্থ: “আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাইনা তবে তোমরা আমার নিকটাত্মীয়, হযরত আহলে বাইত শরীফ ও পবিত্র বংশধরগণ উনাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন কর বা উনাদের হক্ব আদায় কর।

এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন-

والله لادخل قلب امرئى مسلم ايـمان حتى يحبكم لله ولقرابتى

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! ততক্ষণ পর্যন্ত কোন মুসলমান ব্যক্তির অন্তরে পবিত্র ঈমান দাখিল হবে না (হাক্বীক্বীভাবে ঈমানদার হবে না) যতক্ষণ পর্যন্ত সে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক উনার জন্য আমার সম্মানিত বংশধরগণ উনাদেরকে মুহব্বত না করবে।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ, তাফসীরে ইবনে কাছীর ৭/১৮০)

স্মরণীয় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরানী বংশধারা সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত দুই আওলাদ ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জারী রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম শরীফ, ইবনে কাছীর শরীফ, মাযহারী শরীফ, মাআরেফুল কুরআন ইত্যাদি)

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

الحسن والحسين عليهما السلام سيدا شباب اهل الجنة

অর্থ: “হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা হচ্ছেন বেহেশতের যুবক উনাদের সাইয়্যিদ।” সুবহানাল্লাহ! (মিশকাত শরীফ)

অতএব, যারা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বংশধর বা আওলাদ উনারাই ‘সাইয়্যিদ বা আওলাদুর রসূল’ নামে পরিচিত।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

انا تارك فيكم الثقلين اولـهما كتب الله فيه الـهدى والنور فخذوا بكتب الله واستمسكوا به فحث على كتب الله و رغب فيه ثم قال واهل بيتى اذكركم الله فى اهل بيتى اذكركم الله فى اهل بيتى

অর্থ: “আমি তোমাদের জন্য দু’টি নিয়ামত মুবারক রেখে যাচ্ছি। প্রথম নিয়ামত মুবারক হলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কিতাব। উনার মধ্যে রয়েছে হিদায়েত ও নূর মুবারক। তোমরা পবিত্র কিতাবুল্লাহ উনাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়িয়ে ধর। “তিনি কিতাবুল্লাহ উনার প্রতি উৎসাহ প্রদান করলেন। অতঃপর বললেন, “দ্বিতীয় নিয়ামত মুবারক হলেন, আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ বা (আওলাদগণ) বংশধরগণ। আমি তোমাদেরকে আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ হতে বিশেষ নছীহত মুবারক করছি। (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)

তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

تركت فيكم امرين لن تضلوا ما تمسكتم بهما كتاب الله وعترتى اهل بيتى

অর্থঃ “আমি তোমাদের নিকট দু’টি নিয়ামত মুবারক রেখে যাচ্ছি। যদি তোমরা উক্ত নিয়ামত নিয়ামত মুবারকদ্বয়কেআঁকড়িয়ে ধর তবে পথভ্রষ্ট হবে না। প্রথমতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কিতাব ও দ্বিতীয়তঃ আমার বংশধর বা আওলাদ আলাইহিমুস সালামগণ উনারা।”

তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-

ان اولادى كسفينة نوح من دخلها نجا

অর্থ: “নিশ্চয়ই আমার হযরত আওলাদ আওলাইহিমুস সালাম উনাদের উদাহরণ হলো হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম উনার কিস্তির ন্যায়। যে তাতে প্রবেশ করেছে বা আরোহন করেছে সেই নাযাত পেয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (সিররুশ শাহাদাতাইন) অর্থাৎ হযরত আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে যারা মুহব্বত করবে তারা সকলেই নাজাত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!

তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

ان اولادى كحطة بنى اسرائيل من قالـها نجا

অর্থ: “নিশ্চয়ই আমার হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা বণী ইসরাইলের হিত্তাতুন-এর ন্যায়। যারা তা বলেছে তারা নাযাত লাভ করেছে।” সুবহানাল্লাহ! (সিররুশ্ শাহাদাতাইন)

অর্থাৎ হযরত আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে যারা মুহব্বত করবে তারা সকলেই নাজাত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!

তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

النجوم امان لاهل السماء واهل بيتى امان لاهل الارض فاذا ذهب اهل بيتى ذهب اهل الارض

অর্থ: “তারকাসমূহ আসমানবাসীদের জন্য নিরাপত্তা দানকারী আর আমার বংশধর বা আওলাদ আলাইহিমুস সালামগণ উনারা হচ্ছেন যমীনবাসীদের জন্য নিরাপত্তা দানকারী। সুতরাং যখন আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ বা হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালামগণ উনারা (দুনিয়া থেকে) চলে যাবেন অর্থাৎ বিদায় গ্রহণ করবেন তখন দুনিয়াবাসী সকলেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। অর্থাৎ তখন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ, মিশকাত শরীফ, হাশিয়ায়ে মিশকাত শরীফ)

কাজেই, বিশ্ববাসীর জন্য নিরাপত্তা দানকারী, নাযাত দানকারী, ধ্বংস থেকে রক্ষাকারী, পবিত্র ঈমান ও আমল হিফাযতকারী হযরত আওলাদুর রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করলে মহান আল্লাহ পাক উনার ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক পাওয়া যাবে। এ মর্মে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

احبوا الله لـما يغذوكم من نعمة احبونى لحب الله واحبوا اهل بيتى لحبى

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে খাওয়া পরার যে নিয়ামত মুবারক দিয়েছেন সেজন্য মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো। আর আমাকে মুহব্বত করো মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করার জন্য। আর আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার সন্তুষ্টি মুবারক উনার জন্য।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

আর তাই অতীতের সকল ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা  মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক পাওয়ার জন্য মন প্রাণ উজাড় করে এমনকি সর্বস্ব হাদিয়া দিয়ে হযরত আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করেছেন, উনাদের খিদমত করেছেন।

যেমন এ প্রসঙ্গে “আনওয়ারুল আরিফীন” কিতাবে হযরত রবি বিন সুলাইমান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খিদমতের, তা’যীম-তাকরীমের, মুহব্বতের বিরল ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি হজ্জে যাওয়ার পথে একজন মহিলা আওলাদুর রসূল আলাইহাস সালাম উনার পরিবারের অসহায় অবস্থা দর্শনে ব্যথিত হয়ে হজ্জে যাওয়ার সমস্ত টাকা উনাদের খিদমতে হাদিয়া করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার ছূরতে একজন ফেরেশতা আলাইহিস সালাম সৃষ্টি করেন যিনি ঐ বছর থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত হজ্জ করবেন যার ছাওয়াব উনার আমলনামায় জমা হতেই থাকবে। শুধু তাই নয় তিনি উনাদের মুবারক খিদমতে রৌপ্য মুদ্রা হাদিয়া করেছিলেন তার বিনিময়ে উনাকে স্বর্ণ মুদ্রা হাদিয়া করা হয়েছিল এবং স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সুসংবাদ দিয়ে বলা হয়েছিল যারা আমাদের সাথে ব্যবসা করে তারা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। সুবহানাল্লাহ!

হযরত আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে বর্ণনাতীত মুহব্বত, তা’যীম-তাকরীম ও সম্মান প্রদর্শনের নজীর স্থাপন করেছেন ইমামুল আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, হাকিমুল হাদীছ হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।

একবার তিনি একস্থানে বসে স্বীয় ছাত্রদেরকে র্দস দিচ্ছিলেন। তিনি কিছুক্ষণ পর পর র্দস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে যেতেন। যার কারণে ছাত্রদের পড়া বুঝতে ও ধরতে অসুবিধা হতো। যখন র্দস শেষ হলো, তখন ছাত্ররা প্রশ্ন করল, “হে ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি! বেয়াদবী ক্ষমা করবেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, আপনি বারবার র্দস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন এর পিছনে কি কারণ রয়েছে?” উত্তরে তিনি বললেন যে, “তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছ যে, আমাদের র্দসগাহের পাশেই কিছু ছোট ছেলেরা দৌঁড়াদৌঁড়ি করছিল। তন্মধ্যে অমুক ছেলেটি বার বার আমার নিকটবর্তী হলেই আমি দাঁড়িয়ে যেতাম।” ছাত্ররা বললো যে, “হ্যাঁ, আমরা তা লক্ষ্য করেছি। তবে এ ছোট ছেলেটি আপনার নিকটবর্তী হলে কেন দাঁড়িয়ে যেতেন, অনুগ্রহ করে তার কারণ আমাদেরকে বলবেন কি?” তখন ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন যে, “দেখ, এ ছেলেটি আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উনার সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল আহমার মুবারকের সম্পর্ক রয়েছে। সেজন্য যখনই তিনি আমাদের র্দসগাহের নিকটবর্তী হয়েছেন তখনই আমি উনার সম্মানার্থে দাঁড়িয়েছি। কেননা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীম ও সম্মান প্রদর্শন করা পবিত্র ঈমান উনার অঙ্গ। শুধু তাই নয় মহান আল্লাহ পাক উনার ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলেরও কারণ।”

 

Advertisements

মাশুকে মাওলা,নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাই ঈমান,আমল ও নাযাতের মূল পর্ব ৬


প্রসঙ্গঃনূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা অবশ্যই জান্নাতী

 

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত মুবারক ঘোষণার বহুপূর্বে এবং হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে প্রায় পাঁচশত বছর পরে উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা উভয়েই পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। যাঁরা কোনো হযরত নবী আলাইহিস সালাম উনার আমল পাননি, যাঁদের নিকট পবিত্র দ্বীন উনার দাওয়াত পৌঁছেনি এবং যাঁরা দুই জন হযরত নবী আলাইহিমাস সালাম উনাদের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ইন্তিকাল বা বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। এ সময়টাকে বলা হয় ফিতরাত যুগ। কার আযাব হবে আর কার আযাব হবে না- এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وما كنا معذبين حتى نبعث رسولا.
অর্থ: “হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করা ব্যতিরেকে আমি কাউকে শাস্তি দেই না।” (পবিত্র সূরা বনী ইসরাইল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)
ولولا ان تصيبهم مصيبة بما قدمت ايديهم فيقولوا ربنا لولا ارسلت الينا رسولا فنتبع ايتك ونكون من الـمؤمنين.
অর্থ: “যারা ‘ফিতরাত’ যুগের উনাদের কৃতকর্মের জন্য যখনই কোনো মুছীবত আসত তখন তারা বলত, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি কেনো কোন রসূল প্রেরণ করেননি, আমরা উনার পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অনুসরণ করতাম এবং ঈমানদার হতাম।” (পবিত্র সূরা কাছাছ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৭)
উল্লেখ্য যে, হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুশরিকদের নাবালক সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে বলেছেন, তারা জান্নাতবাসী। কেননা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার ঘোষণানুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যাদের নিকট পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত পৌঁছেনি তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে না (যদি তারা কুফরী ও শিরিকী না করে থাকে)। (মাসালিকুল হুনাফা লিস সুয়ূতী)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের বিষয়টিও তদ্রƒপ। উনারা কোনো প্রকার কুফরী ও শিরকী করেননি। অর্থাৎ উনারা উভয়ে পবিত্র দ্বীনে হানীফ উনার মধ্যে পরিপূর্ণরূপে কায়িম ছিলেন। উনারা কখনো তাওহীদবিরোধী কোনো আমল করেছেন এমন কোনো প্রমাণ মহান আল্লাহ পাক উনার যমীনে কেউই পেশ করতে পারবে না। এ বিষয়ে সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা একমত পোষণ করেছেন।

মাশুকে মাওলা,নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাই ঈমান,আমল ও নাযাতের মূল পর্ব ৫


প্নূরসঙ্রেগঃ  মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুন নাস, সাইয়্যিদুল বাশার, মালিকুল জান্নাহ সাইয়্যিদুনা যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং সম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, আফদ্বালুন নাস-আফদ্বলুন নিসা, মালিকাতুল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক ও পবিত্রতা মুবারক

 

 

সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضرت طَلْقِ بْنِ عَلِيٍّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ سَـمــِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ لَوْ أَدْرَكْتُ وَالِدَيَّ أَوْ أَحَدَهُمَا وَأَنَا فِىْ صَلَاةِ الْعِشَاءِ وَقَدْ قَرَأْتُ فِيْهَا بِفَاتِحـَةِ الْكِتَابِ تُنَادِىْ يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَأَجَبْتُهَا لَبَّيْكِ
অর্থ: ‘হযরত ত্বলক্ব ইবনে আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যদি আমি আমার ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে তথা আমার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে এবং আমার সম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনাদের দু’জনকে অথবা উনাদের দু’জনের একজনকে দুনিয়ার যমীনে পেতাম অর্থাৎ উনারা যদি সম্মানিত বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণ না করতেন, আর আমি যদি সম্মানিত ইশা উনার নামায (ফরয নামায) মুবারক-এ দাঁড়াতাম এবং সম্মানিত সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করতে থাকতাম। আর এমতাবস্থায় উনারা আমাকে এই বলে আহ্বান করতেন, হে মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাহলে অবশ্যই অবশ্যই ওই অবস্থায় থেকেও (নামায ছেড়ে দিয়ে) আমি উনাদের সম্মানিত আহ্বান মুবারক-এ সাড়া দিয়ে ইরশাদ মুবারক করতাম, লাব্বাইক, হে আমার সম্মানিত আব্বাজন আলাইহিস সালাম, হে সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম, আমি আপনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত, হাযির। সুবহানাল্লাহ!’
অপর বর্ণনায় এসেছে-
لَوْ دَعَانِىْ وَالِدَيَّ اَوْ اَحَدُهُمَا وَاَنَا فِى الصَّلَاةِ لَاَجَبْتُهٗ
অর্থ: ‘যদি আমার ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম উনারা তথা আমার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি এবং আমার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা দু’জন অথবা উনাদের মধ্য থেকে একজন আমাকে এই আবস্থায় আহ্বান করতেন যে, তখন আমি সম্মানিত নামায (ফরয নামায) মুবারক আদায় করতেছি, তাহলে আমি অবশ্য অবশ্যই ওই অবস্থায় থেকেও (নামায ছেড়ে দিয়ে) উনাদের সম্মানিত আহ্বান মুবারক-এ সাড়া দিতাম। সুবহানাল্লাহ!’ (শুয়াবুল ঈমান ১০/২৮৪, দায়লামী শরীফ ৩/৩৪৫, জামিউল আহাদীছ ১৮/৭৪, কাশফুল খফা ২/১৬০, আল মাক্বাছিদুল হাসানাহ ১/৫৫১, কানযুল উম্মাল ১৬/৪৭০, জামউল জাওয়ামি’ ১৬৮/১৩, মাসালিকুল হুনাফা ফী হুকমি ঈমানি ওয়ালিদাইল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিস সুয়ূত্বী ৩৭ পৃষ্ঠা ইত্যাদি)
স্বয়ং যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে কায়িনাতবাসীকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, উনার মহাসম্মানিত ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম তথা উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান, মালিকুল জান্নাহ, আবু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এবং পবিত্রতা মুবারক কত বেমেছাল। সুবহানাল্লাহ!
যেখানে সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা বেকারার-পেরেশান কিভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া যায়, কিভাবে উনার সম্মানিত ক্বদম মুবারক উনার ধুলো মুবারক নেয়া যায়, আর সেখানে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে ইরশাদ মুবারক করেছেন, যদি উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক করতেন আর উনারা উনাদের মহাসম্মানিত আওলাদ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত নামায মুবারক পড়া অবস্থায় আহ্বান মুবারক করতেন, তাহলে স্বয়ং যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত নামায মুবারক ছেড়ে দিয়ে উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের সম্মানার্থে উনাদের সম্মানিত আহ্বান মুবারক-এ সাড়া দিতেন এবং বলতেন, লাব্বাইক, হে আমার সম্মানিত আব্বাজন আলাইহিস সালাম, হে সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম, আমি আপনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত, হাযির। সুবহানাল্লাহ!’
তাহলে উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান এবং পবিত্রতা মুবারক উনার বিষয়টি কত বেমেছাল, সেটা কি কায়িনাতের কেউ কখনো চিন্তা-ফিকির করে মিলাতে পারবে? কস্মিনকালেও নয়। সুবহানাল্লাহ!’
সেটাই মুজাদ্দিদে আ’যম পবিত্র রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আসসাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি স্পষ্টভাবে সমস্ত বিশ্ববাসীকে, সমস্ত কায়িনাতবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ‘নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এক কথা মুবারক-এ উনারা শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা নন; এছাড়া যত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছে সমস্ত কিছুর অধিকারী উনারা। সুবহানাল্লাহ! উনারা শুধু জান্নাতীই নন; বরং সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মালিক। সম্মানিত জান্নাত মুবারক উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন কখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ দয়া করে প্রবেশ করবেন। উনারা সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করলেই সম্মানিত জান্নাত মুবারক ধন্য হয়ে যাবেন, সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার নামকরণের বিষয়টি স্বার্থক হবে। সুবহানাল্লাহ! মূলত মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক সৃষ্টিই করেছেন, উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়ার জন্য। সুবহানাল্লাহ!
এখন বলার বিষয় হচ্ছে, যারা বলতে চায় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা ঈমনদার ছিলেন না। নাঊযুবিল্লাহ! না’ঊযুবিল্লাহ! না’ঊযুবিল্লাহ! উনারা জান্নাতী নন; জাহান্নামী। না’ঊযুবিল্লাহ! না’ঊযুবিল্লাহ! না’ঊযুবিল্লাহ! তারা কি বলতে পারবে যে, শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি ও মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে, উনার সৃষ্টি জগতে এমন কেউ আছে কি, যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত নামায মুবারক-এ থাকা অবস্থায় আহ্বান করার দুঃসাহস দেখাবে আর সেই আহ্বানে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত নামায মুবারক ছেড়ে দিয়ে সাড়া দিবেন? নাঊযুবিল্লাহ! কস্মিনকালেও নয়। বরং যে এটা চিন্তা-ফিকির করবে সেও কাট্টা কাফির চির জাহান্নামী হয়ে যাবে। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে ইরশাদ মুবারক করেছেন, যদি উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক করতেন আর উনারা উনাদের মহাসম্মানিত আওলাদ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নামায মুবারক পড়া অবস্থায় আহ্বান করতেন, তাহলে স্বয়ং যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত নামায মুবারক ছেড়ে দিয়ে উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের সম্মানার্থে উনাদের আহ্বান মুবারকে সাড়া দিতেন এবং বলতেন, লাব্বাইক, হে আমার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম, হে সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম, আমি আপনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত, হাযির। সুবহানাল্লাহ!’
তাহলে কি এখান থেকে বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট হয়ে গেল না যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা শুধু ঈমনাদারই নন; বরং উনাদের মাক্বাম, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পরে, সমস্ত কায়িনাতবাসীর ঊর্ধ্বে। আর উনারা শুধু সম্মানিত জান্নাতীই নন; বরং উনারা হচ্ছেন সম্মানিত জান্নাত উনার মালিক? সুবহানাল্লাহ! অবশ্যইÑ এখানে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। যে ব্যক্তি এই বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করবে সে কাট্টা কাফির চির জাহান্নামী হবে। নাঊযুবিল্লাহ!
মূলত যারা বলবে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা ঈমানদার ছিলেন না; নাউযুবিল্লাহ! বরং উনারা ঈমান ব্যতীত সম্মানিতা বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন নাউযুবিল্লাহ! এবং উনারা জান্নাতী নন; না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার ফতওয়া অনুযায়ী তারা কাট্টা কাফির, চিরজাহান্নামী, চিরমালঊন। তারা যদি মুসলমান বা ঈমানদার দাবী করে তাহলে তাদের প্রতি মুরতাদের হুকুম বর্তাবে এবং মুরতাদের শাস্তিও বর্তাবে। আর যদি কাফির হয় তাহলে তারা তাদের কুফরীকে আরো বৃদ্ধি করলো। যার পরিণতি চির লা’নত ও চিরজাহান্নাম। তারা ইবলীসের ন্যায়; ইবলীসের চেয়েও চরম মালঊন। তাদেরকে লা’নাতুল্লাহি আলাইহি বলতে হবে।
এই প্রসঙ্গে দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল হাওই লিল শরীফ উনার ২য় খ-ের ৮১ পৃষ্ঠায় এবং মাসালিকুল হুনাফা উনার ৩৬ পৃষ্ঠায়, ইমাম মুহম্মদ ইবনে ইউসূফ ছালিহী শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ : ৯৪২ হিজরী শরীফ) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ শরীফ উনার ১ম খ-ের ২৬০ পৃষ্ঠায়, ইমাম আহমদ ইবনে মুহম্মদ হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ : ১০৯৮ হিজরী শরীফ) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘গমযু উয়ূনিল বাছায়ির ফী শরহিল আশবাহি ওয়ান নাযায়ির উনার ৫ম খ-ের ৪৯২ পৃষ্ঠায়, হযরত ইমাম ইবনে আবিদীন হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ : ১২৫২ হিজরী শরীফ) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল উকুদুদ দুররিয়্যাহ উনার ৭ম খ- ৪২২ পৃষ্ঠায়’ উল্লেখ করেছেন,
وَسُئِلَ حَضْرَتْ اَلْقَاضِىُ اَبُوْ بَكْرِ بْنُ الْعَرَبِىّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَحَدُ اَئِمَّةِ الْمَالِكِيَّةِ عَنْ رَجُلٍ قَالَ اِنَّ اَبَا النَّبِىّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى النَّارِ فَاَجَابَ بِاَنَّ مَنْ قَالَ ذٰلِكَ فَهُوَ مَلْعُوْنٌ لِقَوْلِهٖ تَعَالٰى: {اِنَّ الَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ لَعَنَهُمُ اللهُ فِى الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ} [الأحزاب: ۵۷] قَالَ: وَلَا اَذًى أَعْظَمُ مِنْ اَنْ يُقَالَ عَنْ اَبِيْهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّهٗ فِى النَّارِ.
অর্থ: ‘হযরত ক্বাযী আবূ বকর ইবনুল আরবী তিনি ছিলেন মালিকী মাযহাব উনার একজন বিশ্বখ্যাত ইমাম। উনাকে সুওয়াল করা হয়েছিলো এমন একজন ব্যক্তির সম্পর্কে, যে বলে থাকে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি জাহান্নামী। না’ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! অতঃপর জবাবে তিনি বললেন, যে ব্যক্তি এই কথা বলবে নিশ্চয়ই সে মালঊন, তার উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘নিশ্চয়ই যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে কষ্ট দেয় তাদের উপর স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়া এবং আখিরাতে তথা আবাদুল আবাদের তরে লা’নত বর্ষণ করেছেন।’ (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৫৭)
অতঃপর তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনাকে জাহান্নামী’ বলাই হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সবচেয়ে বড় কষ্ট দেয়া। উনাদের জন্য এর চেয়ে আর কোনো বড় কষ্ট হতে পারে না।
ইমাম আবূ মুহম্মদ মুওয়াফ্ফাকুদ্দীন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহম্মদ হাম্বলী মুক্বাদ্দাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি ইবনে কুদামাহ হিসেবে প্রসিদ্ধ তিনি (বিছাল শরীফ : ৬২০ হিজরী শরীফ) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল মুগনী ফী ফিক্বহিল ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল শায়বানী উনার ২০তম খ-ের ১৬৯ পৃষ্ঠায়’ উল্লেখ করেন,
وَمَنْ قَذَفَ اُمَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُتِلَ مُسْلِمًا كَانَ اَوْ كَافِرًا يَعْنِىْ اَنَّ حَدَّهُ الْقَتْلُ وَلَا تُقْبَلُ تَوْبَتُهٗ نَصَّ عَلَيْهِ حَضْرَتْ اَحْمَدُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ.
অর্থ : ‘আর যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারক-এ অপবাদ দিবে, উনার প্রতি দোষারোপ করবে, উনার দুর্নাম করবে (তিনি ঈমানদার ছিলেন না, নাউযুবিল্লাহ! তিনি ঈমান ব্যতীত সম্মানিত বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন নাউযুবিল্লাহ! এবং তিনি জাহান্নামী নাঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!) সে নামধারী মুসলমান হোক অথবা কাফির হোক তাকে কতল করতে হবে। অর্থাৎ নিশ্চয়ই তার হদ হচ্ছে কতল। তাকে কতল করতে হবে, মৃত্যুদ- দিতে হবে। তার তাওবা কবূল হবে না। (অবশ্যই সে চিরজাহান্নামী, চিরমালঊন হবে)। আর এই সম্মানিত ফতওয়া মুবারক উনার উপর সম্মানিত হাম্বলী মাযহাব উনার সম্মানিত ইমাম তৃতীয় হিজরী শতক উনার মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নছ তথা সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার দ্বারা দলীল পেশ করেছেন।’ (আল মুগনী ফী ফিক্বহিল ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল শায়বানী ২০ খ- ১৬৯ পৃষ্ঠা)
দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘মাসালিকুল হুনাফা ফী হুকমি ঈমানি ওয়ালিদাইল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৩৭ পৃষ্ঠায় এবং অপর বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল হাওই উনার ২য় খ- ২৮০ পৃষ্ঠায়’, ইমাম মুহম্মদ ইবনে ইউসূফ ছালিহী শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ : ৯৪২ হিজরী শরীফ) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ শরীফ উনার ১ম খ-ের ২৬১ পৃষ্ঠায়’, ইমাম শামসুদ্দীন যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত ‘তারীখুল ইসলাম’ উনার ৭ম খ-ের ৯৮ পৃষ্ঠায়’ উল্লেখ করেন,
حَضْرَتْ نَوْفَلُ بْنُ الْفُرَاتِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَكَانَ عَامِلًا لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيْزِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ كَانَ رَجُلٌ مّـِنْ كُتَّابِ الشَّامِ مَأْمُوْنًا عِنْدَهُمُ اسْتَعْمَلَ رَجُلًا عَلٰى كُورَةِ الشَّامِ وَكَانَ أَبُوْهُ يَزِنُ بِالْمَنَانِيَّةِ فَبَلَغَ ذٰلِكَ حَضْرَتْ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلٰى اَنْ تَسْتَعْمِلَ رَجُلًا عَلٰى كُوْرَةٍ مّـِنْ كُوَرِ الْمُسْلِمِيْنَ كَانَ أَبُوْهُ يَزِنُ بِالْمَنَانِيَّةِ؟ قَالَ أَصْلَحَ اللهُ أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَمَا عَلَيَّ! كَانَ أَبُو النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُشْرِكًا وَفِىْ رواية وَمَا يَضُرُّهٗ ذٰلِكَ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ قَدْ كَانَ أَبُو النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَافِرًا فَمَا ضَرَّهٗ فَغَضِبَ حَضْرَتْ عُمَرُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ غَضَبًا شَدِيْدًا فَقَالَ حَضْرَتْ عُمَرُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ: اٰهٍ ثُمَّ سَكَتَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهٗ فَقَالَ أَأَقْطَعُ لِسَانَهٗ؟ أَأَقْطَعُ يَدَهٗ وَرِجْلَهٗ؟ أَأَضْرِبَ عُنُقَهٗ؟ ثُمَّ قَالَ لَا تَلِىْ لِىْ شَيْئًا مَّا بَقِيْتُ وَفِىْ رِوَايَةٍ اُخْرٰى فَقَالَ جَعَلْتَ هٰذَا مَثَلًا فَعَزَلَهٗ.
অর্থ: ‘হযরত নওফিল ইবনে ফুরাত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন ৮ম খলীফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একজন বিশিষ্ট আমিল। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক উনার মসনদ মুবারক-এ অধিষ্ঠিত, ওই সময় শাম দেশের একজন কাতিব ছিলো। সে উমাইদের নিকট অত্যন্ত বিশ্বস্ত ছিলো। সে শাম দেশের এক এলাকায় এমন এক ব্যক্তিকে কাজে নিয়োগ দিলো, যার পিতা ছিলো জিন্দীকের অভিযোগে অভিযুক্ত। এই সংবাদটি যখন আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খিদমত মুবারক-এ পেশ করা হলো, তখন তিনি সেই কাতিবকে আহ্বান করলেন এবং বললেন, তোমার ধারণা কি, তোমার কি হলো যে, সম্মানিত মুসলমান উনাদের এলাকাসমূহের এক এলাকায় এমন এক ব্যক্তিকে কাজে নিয়োগ দিয়েছো, যার পিতা জিন্দিকের অভিযোগে অভিযুক্ত? সে বললো, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমীরুল মু’মিনীন উনাকে ইছলাহ হাদিয়া করুন, এতে আমার দোষ কী! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনিতো মুশরিক ছিলেন। না’ঊযুবিল্লাহ! না’ঊযুবিল্লাহ! না’ঊযুবিল্লাহ! অন্য বর্ণনায় এসেছে, তখন ওই ব্যক্তি বললো, আমি যাকে কাজে নিয়োগ দিয়েছি (তার পিতা জিন্দিক) তাতে তার সমস্যা কি? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনিতো কাফির ছিলেন। না’ঊযুবিল্লাহ! না’ঊযুবিল্লাহ! না’ঊযুবিল্লাহ! এতেতো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোনো ক্ষতি হয়নি। না’ঊযুবিল্লাহ! এই কথা শুনে হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অত্যন্ত কঠিনভাবে রেগে গেলেন, তার প্রতি কঠিন অসন্তুষ্ট হলেন। হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হায়! অতঃপর তিনি নিশ্চুপ হয়ে গেলেন। (তিনি হতবম্ভ হয়ে গেলেন, স্তবদ্ধ হয়ে গেলেন।) তারপর তিনি মাথা মুবারক উত্তোলন করে বললেন, আমি কি তার জিহ্বা কেটে দিবো না? আমি কি তার হাত ও পা কেটে দিবো না? আমি তার ঘাড়ে প্রহার করবো না, তার গর্দান উড়েয়ে দিবো না? অতঃপর তিনি তাকে বললেন, আমি যতদিন দুনিয়ার যমীনে অবস্থান করবো, তুমি সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার অধীনে কোনো কাজ করতে পারবে না। অপর বর্ণনায় এসেছে, অতঃপর তিনি বললেন, তুমি এই দৃষ্টান্ত দিচ্ছো, এটা বলে তিনি উক্ত ব্যক্তিকে সাথে সাথে বরখাস্ত করে দিলেন।’ (ইবনে আসাকির, আল ওয়াফী বিল ওফাইয়াত ৫/১২৬, যম্মুল কালাম ও আহলুহু ৫/৩৩ ইত্যাদি)

 

মাশুকে মাওলা,নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাই ঈমান,আমল ও নাযাতের মূল পর্ব ৪

12140757_1474647449532591_1091698973172273890_n

আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম

প্রসঙ্গঃহযরত আহলে বাইত শরীফ ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পরিচয় মুবারক৷

১ম স্তরঃ

ক)হযরত ওয়ালিদাইনিশ শরীফাঈন আলাইহিমাস সালাম

তথা
১৷আবু রসূলিল্লাহ,সাইয়্যিদুল বাশার,মালিকুল জান্নাহ,আফদ্বালুন নাস বা’দা রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা  হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম

২৷উম্মু রসূলিল্লাহ,সাইয়্যিদাতু নিসায়ীল আলামীন,সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম

২য় স্তরঃ

খ)হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম

১. উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাহ বিন্তু খুওয়াইলিদ আলাইহাস সালাম।

২. উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত সাওদা বিন্তু যাময়া আলাইহাস সালাম।

৩. উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আয়িশা বিন্তু আবী বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহাস সালাম।

৪. উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাফসা বিন্তু উমর ফারূক্ব আলাইহাস সালাম।

৫. উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যয়নব বিন্তু খুযাইমা আলাইহাস সালাম

৬. উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু সালামাহ আলাইহাস সালাম

৭. উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যয়নব বিন্তু জাহ্শ আলাইহাস সালাম

৮. উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত জুওয়াইরিয়া বিন্তু আলাইহাস সালাম

৯. উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু হাবীবাহ বিন্তু আলাইহাস সালাম

১০. উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত মাইমূনাহ বিন্তু হারিছ আলাইহাস সালাম

১১. উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছফিয়্যা বিন্তু হুয়াই বিন আখতাব আলাইহাস সালাম

১২. উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারিয়াতুল কিবতিয়া আলাইহাস সালাম

১৩. উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত রায়হানা আলাইহাস সালাম

৩য় স্তরঃ
গ)আওলাদ শরীফ আলাইহিমুস সালাম

নূরে মুজাসসাম,হাবীবূল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বমোট সন্তান ছিলেন ৮ জন ৷

চারজন ছেলে সন্তান আলাইহিমুস সালাম৷যথাঃ

১৷সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম
২৷সাইয়্যিদুনা হযরত তইয়িব আলাইহিস সালাম
৩৷সাইয়্যিদুনা হযরত ত্বাহির আলাইহিস সালাম
৪৷সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম

চারজন মেয়ে সন্তান আলাইহিন্নাস সালাম৷যথাঃ
১৷সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম
২৷সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম
৩৷সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম
৪৷সাইয়্যিতাতুনা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম৷

এরপর মা যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে আওলাদে রসূল বংশ জারী থাকবে ক্বিয়ামত পর্যন্ত জারী থাকবে৷

চলবে ইনশাআল্লাহ,,,,,,

(তাজদীদী ক্যাটালগ-আহাল পাক উনাদের আবাদুল আবাদ গোলাম হতে চাই)

বিস্তারিত পড়ুন