পবিত্র ১৩ রজবুল হারাম

পবিত্র ১৩ রজবুল হারাম শরীফ স্মরণে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক

 

আজ দিবাগত রাত সুমহান ঐতিহাসিক পবিত্র ১৩ রজবুল হারাম শরীফ। পবিত্র হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম ইমাম ইমামুল আউওয়াল হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস। হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মর্যাদা-মর্তবা সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, (হে বিশ্ববাসী!) আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। আর তোমাদের পক্ষে তা দেয়াও সম্ভব নয়, তবে যেহেতু তোমাদের ইহকাল ও পরকালে কামিয়াবী হাছিল অর্থাৎ রেযামন্দি ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে হবে। সেহেতু তোমাদের জন্য দায়িত্ব-কতব্য হচ্ছে- আমার সম্মানিত আত্মীয়-স্বজন উনাদের তথা বংশধর উনাদের সাথে সদাচরণ করবে।”

পবিত্র ১৩ রজবুল হারাম শরীফ স্মরণে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক নিম্নে ‍উল্লেখ করা হলো:

পরিচিতিঃ
নাম আলী, উপনাম আবূল হাসান (হাসানের পিতা) ও আবূ তুরাব (মাটির পিতা)। পিতার নাম আবূ তালিব, মাতার নাম ফাতিমা বিনতে আসাদ। বিশেষ উপাধি আসাদুল্লাহ (আল্লাহ পাক-উনার সিংহ), হায়দার (বাঘ), মুরতাদ্বা (সন্তষ্টি-প্রাপ্ত); তিনি আব্দুল্লাহ নামে প্রসিদ্ধ। তিনি রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার চাচাত ভাই। কুরাইশ বংশের হাশেমী শাখায় জন্ম। পিতৃকূল ও মাতৃকূল উভয় দিক থেকে তিনি হাশেমী বংশদ্ভূত।

বিলাদত শরীফ:
রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নুবুওয়াত লাভের দশ বছর পূর্বে বিলাদত লাভ করেন। জন্মের সময় পিতা আবূ তালিব অত্যন্ত অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় পিতৃব্যের আর্থিক সঙ্কট লাঘবের উদ্দেশ্যে বালক আলীকে নিজে প্রতিপালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং অপর পুত্র জাফরকে পিতৃব্য হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার অভিভাবকত্বে সোপর্দ করেন। (তাবারী)

ইসলাম গ্রহণ:
একদা রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের নামায পড়তে দেখে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা কি করছেন? উত্তরে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এটা আল্লাহ পাক-উনার দ্বীন। হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, তোমাকেও আমরা সেই দায়িত্ব দিচ্ছি। তখনই তিনি ইসলামের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে কালিমা শরীফ পাঠ করেন। ইসলাম গ্রহণকালে উনার বয়স মুবারক দশ বছর ছিল। তিনি হলেন সর্বসম্মতিক্রমে বালকদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম কবুলকারী।

কিশোর ও যৌবন কাল:
হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার চৌদ্দ কিংবা পনের বৎসর বয়সকালে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিকট-আত্মীয়দিগকে ইসলামের দিকে আহবান করার জন্য নির্দেশ পান। এতদুদ্দেশ্যে তিনি হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালামকে সকলকে একত্র করবার ব্যবস্থাপনার নির্দেশ দেন; হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম বেশ উক্তমরূপে এর ব্যবস্থা করেন। দস্তরখানে খাসীর পায়া এবং দুগ্ধ রাখা হয়েছিল। উপস্থিত মেহমানদের সংখ্যা ছিল ৪০ জন। আহার সমাপনের পর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের আহবান জানান। এই সমাবেশে কেবল হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালামই উনাকে সর্বাত্মক সমর্থন জানান এবং ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন । (তাবারী)

মক্কা শরীফে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম সঙ্কট ও অগ্নি পরীক্ষার তেরটি কঠিন বৎসর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাহচর্যে অতিবাহিত করেন। এর মধ্যে আবূ তালিব গিরি সঙ্কটে তিন বৎসরের নির্বাসিত জীবন ছিল সর্বাপেক্ষা সঙ্কটপূর্ণ। সে সময় উনার ভ্রাতা হযরত জাফর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার স্ত্রী সহ আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। কিন্তু হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার এরূপ কঠিন মুহূর্তেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসাবে মক্কা শরীফে অবস্থান করেন, যতদিন না তিনি মক্কা শরীফ হতে মদীনা শরীফ হিজরত করার অনুমতি পেলেন।

মক্কা শরীফের মুশরিকদের যে সব সম্পদ আমানত হিসেবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নিকট রক্ষিত ছিল, এমতাবস্থায়ও শত্রুর গচ্ছিত সম্পদ মালিকদের নিকট প্রত্যার্পনের কথা তিনি ভূলেননি। তিনি সেই সব গচ্ছিত সম্পদ প্রত্যার্পনের দায়িত্ব হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালামকে অর্পন করেন এবং বলেন যে, তিন দিন পর এই সব গচ্ছিত সম্পদ এর মালিকদেরকে বুঝিয়ে দিয়ে মদীনা শরীফে আসবে। হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিন দিনের মধ্যেই সেইগুলি প্রাপক ব্যক্তিদেরকে পৌঁছিয়ে দিয়ে পরে কুবাতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে মিলিত হন। (ইবনে কাছির)

জিহাদের ময়দানে বীরত্ব:
দ্বিতীয় হিজরীর ১৭ই রমাদ্বান বদরের জিহাদে মুসলমান ও মুশরিক উভয় বাহিনী পরস্পর মুখোমুখি হয়। তৎকালীন যুদ্ধরীতি অনুযায়ী মক্কা শরীফের মুশরিকদের পক্ষ হতে উতবা, শায়বা এবং ওলিদ নামক তিন জন সদর্পে ময়দানে অবতরণ করে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিকে যুদ্ধে আহবান জানালে তাদের মোকাবেলায় হযরত হামজা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত উবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালামকে পাঠানো হয়। হযরত হামজা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার হাতে তাঁদের স্ব স্ব প্রতিদ্বন্দ্বি নিহত হয়। কিন্তু বার্ধক্য জনিত কারণে হজরত উবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তখন সফল না হওয়ায় হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সাহায্যার্থে অগ্রসর হন এবং প্রতিপক্ষ শায়বা নিহত হয়। অতঃপর সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এই যুদ্ধে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম বীরত্বের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেন। (তাবারী)

হিজরী তৃতীয় সালে সংঘটিত উহুদের জিহাদে মুশরিকগণ মুসলমানদেরকে আক্রমণ করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে। কিন্তু হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তাদের সকল অভিসন্ধিই ব্যর্থ করে দেন। মুশরিক বাহিনীর পতাকাবাহী আবূ সা’দ ইবনে আবি তালহা উনাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আহবান জানালে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম এক আঘাতেই তাকে ধরাশায়ী করেন; কিন্তু তার অসহায়তা ও হতবিহ্বলতা দেখে তিনি তাকে হত্যা করেননি। (ইবনে হিশাম)

হিজরী ৭ম সনে খাইবারের জিহাদ সংঘটিত হয়। এই জিহাদে খাইবরের সর্বাধিক সূদৃঢ় দুর্গ ‘‘কামুস্থ’ এর অধিকর্তা মারহাব নামক এক বিখ্যাত ইয়াহুদী বীরকে হত্যা করে তিনি অতুলনীয় বীরত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দান করেন। অত:পর কয়েকদিন অবরোধের পর তিনি দুর্গ অধিকারে সক্ষম হন। এই জিহাদে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম সূদৃঢ় দুর্গ ‘‘কাছরে মারহাব’’ জয় করে খ্যাতি লাভ করেছিলেন । (ইবনে হিশাম)

রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে সম্পর্ক :
একদিকে তিনি রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার চাচাতো ভাই। অপরদিকে রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার আদরের দুলালী হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার স্বামী। দ্বিতীয় হিজরীতে উনাদের বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।

খিলাফত লাভ:
খিলাফত লাভের পূর্বে তিনি হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত আমলে পরামর্শদাতা ছিলেন। হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদতের পর হিজরী ৩৫ সনে খিলাফতের মসনদে সমাসীন হন। প্রায় চার বছর সাড়ে আট মাস যাবত এ দায়িত্ব যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করেন।

হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত আমলে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের পারস্পরিক যুদ্ধ:
উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম, হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু আনহু প্রমূখ ছাহাবা হযরত উছমান যুননূরাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহদাতের প্রতিশোধ নেয়ার দাবী জানান। হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম বলেন: এই মূহূর্তে বিদ্রোহীগণ বিপুল শক্তির অধিকারী। এখন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে অনেকেই ভাবলেন হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম ইচ্ছা করে গড়িমসি করছেন। নাঊযুবিল্লাহ!পরবর্তী­তে উভয় পক্ষ সালিসের মাধ্যমে নিস্পত্তি হয়ে যায়। এইদিকে মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনে সাবা এবং তার দল দেখল-সর্বনাশ! এইবার তাদের আর রেহাই নেই। রাত্র হলে তারা বিপরিত পক্ষের ছাউনির তরফ হতে এসে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিদ্রিত সৈন্যের উপর আক্রমণ চালান। এতে হযরত আলী কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম মনে করলেন হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার সৈন্যরা বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। যুদ্ধ শুরু হল। হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার- হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিকট শান্তির পয়গাম পাঠালেন। এই পয়গাম পেয়ে তাঁরা এতটা প্রভাবিত হন যে, তাঁরা যুদ্ধের ময়দান ত্যাগ করেন। ইহুদী আবদুল্লাহ ইবনে সাবার দলের লোকেরা কোন কোন মতে খারিজী ফিরক্বার লোকেরা পথিমধ্যেই তাঁদের উভয়কে শহীদ করে। তাঁরা শহীদ হয়ে গেলে বিরোধী দল দুর্বল হয়ে পরে। হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি একটি উষ্ট্রে আরোহণ করে আপোষ করার জন্য এই যুদ্ধে উপস্থিত হন। এই জন্য একে ‘‘উষ্ট্রের যুদ্ধ’’ বলা হয়। এ যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৩৬ হিজরী সনের জুমাদাল উখরা মাসে। (তারিখুল খুলাফা)

অতঃপর সিফ্‌ফিনের যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ল। হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম চাচ্ছিলেন যে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সুসংহত হলে পরে হযরত উসমান যিননূরাইন আলাইহিস সালাম- উনার শহীদকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আর এই ব্যবস্থা নেয়াও এত সহজ ছিল না যেখানে লক্ষ লক্ষ বিদ্রোহী জড়িত ছিল। ফলে সিফ্‌ফিনের প্রান্তরে উভয় পক্ষ সৈন্য সমাবেশ করলেন। বিপরীত পক্ষ যখন পরাজয় অত্যাসন্ন দেখলেন, তখন তাঁরা সন্ধির প্রস্তাব করলেন। হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তা মেনে নিলেন। সন্ধির সর্ত সমূহও লিখা হল এবং সি’র হল দু’ জন সালিসের মাধ্যমে বিচার নিষ্পত্তি হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সালিসের মাধ্যমে বিচার-নিষ্পত্তি বিভিন্ন কারণে হয়ে উঠেনি। পরে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সঙ্গে সন্ধি করেন।

ইতিমধ্যে খারিজীগণ যারা হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার দলে এক বিরাট শক্তির উৎস ছিল তারা এই বলে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার দল হতে বের হয়ে গেল যে আমরা এই সন্ধি ও সালিস মানিনা। এরা ছিল উগ্রপন্থী বেদুইন- যে কোন লোককে যে কোন কারণে হত্যা করা এরা সহজ মনে করত। শেষ পর্যন্ত তাদের সাথে যুদ্ধ করা হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম অনিবার্য মনে করলেন। নাহারওয়ান নামক স্থানে তাদের সাথে এক তুমুল সংঘর্ষ হয়। যুদ্ধে খারিজীরা সমপূর্ণ পরাজিত ও বিধ্বস্থ হয়। এই যুদ্ধে পর্যূদস্ত হয়ে খারিজীরা হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালামকে শহীদ করার জন্য ফন্দী ফিকির শুরু করে।

ছাহাবায়ে কিরামের পারস্পরিক মতভেদ স্ব স্ব ক্ষেত্রে নির্ভূল ছিল, তবে এতটুকু বলা যাবে যে তাদের কেউ ছিলেন হক্বের উপর আর কেউ অধিকতর হক্বের উপর। সুতরাং উনারা কেউই ভূল করেননি। উনাদের সমালোচনা করলে ঈমান হারাতে হবে।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: আমার বেছাল (ওফাত) শরীফের পরে আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের ইখতিলাফ (মতবিরোধ) সম্পর্কে আমি আল্লাহ পাককে জিজ্ঞাসা করেছি।
আল্লাহ পাক আমাকে বললেন: হে হাবীব, নিশ্চয়ই আপনার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ আমার নিকট তারকা সমতূল্য। কারো আলোর চেয়ে কারো আলো বেশী, তবে প্রত্যেকেরই আলো আছে। সুতরাং তাঁদের যে কোন ইখতিলাফকে যারা আঁকড়ে ধরবে, তারা হিদায়েত পেয়ে যাবে। কারণ উনাদের ইখতিলাফগুলো আমার নিকট হিদায়েত হিসাবে গণ্য।

অতঃপর রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: “রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ (প্রত্যেকেই) তারকা সদৃশ, উনাদের যে কেউকে তোমরা অনুসরণ করবে, হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে।” অর্থাৎ উনাদের যে কাউকে, যে কোন ব্যক্তি, যে কোন বিষয়ে অনুসরণ করবে, সে ব্যক্তি সে বিষয়েই হিদায়েত লাভ করবে বা হিদায়েতের উপর থাকবে।

শাহাদতমুবারক গ্রহন:
হিজরী ৪০ সনের ১৬ই রমাদ্বান শুত্রবার ফজর নামাযে গমনকালে আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম নামক খারিজী ঘাতকের তলোয়ারের আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ১৭ই রমাদ্বান শনিবার শাহাদত বরণ করেন। উনার জ্যেষ্ঠ পুত্র সাইয়্যিদে শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত সাইয়্যিদুনা ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার জানাযার নামায পড়ান। কূফার নাজফে আশরাফে জামে মসজিদের পাশে উনাকে দাফন মুবারক করা হয়। গ্রহণযোগ্য মতে শাহাদত মুবারক গ্রহন কালে উনার বয়স মুবারক হয়েছিল ৬৩ বছর।

হযরত আলী কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ফযীলত ও মর্যাদা :
ইসলামে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার অবদান অপরিসীম। রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার যামানার সকল জিহাদে অনেক বেশী সাহসিকতা ও বীরত্বের পরিচয় তিনিই দেন। এ কারণে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘হায়দার’ লক্ববসহ ‘যুলফিকার’ নামক একখানা তরবারি দান করেন। একমাত্র তাবুক অভিযান ছাড়া সকল জিহাদেই তিনি অংশ গ্রহণ করেন। বদরে উনার সাদা পশমী রুমালের জন্য তিনি ছিলেন চিহ্নিত। বদরসহ প্রতিটি জিহাদে তিনি ছিলেন রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পতাকাবাহী।

রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘হযরত হারুন আলাইহিস সালাম যেমন ছিলেন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম-এর নিকট তেমনি আপনি হচ্ছেন আমার নিকট। অর্থাৎ প্রতিনিধি। তবে আমার পরে কোন নবী নেই।’’

হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম ছিলেন নবী খান্দানের সদস্য। তিনি রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে শিক্ষা লাভ করেন। রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘আমি জ্ঞানের নগরী, আর হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সেই নগরীর প্রবেশদ্বার।’’ তিনি ছিলেন, কুরআনে হাফিয, শ্রেষ্ঠ মুফাস্‌সির এবং হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী রাবী।

হযরত ইমাম আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার মর্যাদা-ফযীলত সমপর্কে রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যত কথা বর্ণিত হয়েছে, অন্য কোন ছাহাবী সম্পর্কে তা হয় নি।

‘মিরআতুল আস্‌রার’ কিতাবে উল্লেখ আছে, হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি ‘রওদ্বাতুশ শুহাদা’ গ্রন্থে’ বর্ণনা করেন: হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের মধ্যে যে কোন এক ব্যক্তি থেকে আমাদের সময় পর্যন্ত এত ইল্‌ম পৌঁছেনি, যতটা হযরত আলী কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু উনার থেকে পৌঁছেছে।

তরীক্বতের ইমাম:
আমীরুল মু’মিনীন হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তরীক্বত পন্থীদের ইমাম ছিলেন। তরীক্বতের অধিকাংশ সিলসিলা উনার মাধ্যমে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার রূহানী তালীম তথা আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রচার-প্রসারে যে সমস্ত ছাহাবা বিশেষ ভাবে অবদান রাখেন হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার মধ্যে বিশিষ্টতম। আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনেক সিলসিলা (যেমন ক্বাদেরিয়া, চিশ্‌তিয়া, সোহরাওয়ার্দিয়া, ইত্যাদি) অদ্যবধি উনারই মাধ্যমে উম্মত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ফয়েজ হাছিলের সাধনা করে আসছে।

ইসলামের প্রত্যেক খলিফাই একদিকে পার্থিব ক্ষমতার রজ্জু স্বহস্তে ধারণ করে সাধারণ মানুষের জাগতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন, অপর দিকে রূহানী তথা আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রেও তাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছেন। খিলাফতের ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট হওয়ার পরই ইহা জাগতিক ও আধ্যাত্মিক খিলাফত নামে বিভক্ত হয়ে যায়। এ পর্যন্ত খুলাফায়ে রাশিদীন হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম, হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম এবং হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম হতে তরীক্বতের সিলসিলা অক্ষুন্ন আছে। এই ক্ষেত্রে হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার বিশেষ খ্যাতি বিদ্যমান। তাছাউফের অনেক গুলি সিলসিলা হযরত কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। উনার ব্যক্তিত্ব আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত এবং বাতিল ফিরক্বা শিয়া উভয় মহলের নিকট মর্যাদার প্রতীক হিসাবে স্বীকৃত। হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উম্মতে হাবীবীকে যেসব নিয়ামত দান করা হয়েছে তন্মধ্যে একটি এই যে, তরীক্বতের বিভিন্ন সিলসিলার নিস্‌বত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে বিশুদ্ধ ও দৃঢ়ভাবে রয়েছে, খেরকা প্রদান ও বাইয়াত উভয়ই সুন্নত হিসাবে সাব্যস্ত হয়েছে।

প্রথম থেকে মাশায়েখে ছূফিয়া-এর নিয়ম এইভাবে চলে আসছে যে, নিজের খলীফাদের ও মুরীদদের খেরকা পরিয়ে দেয়া, টুপীর ছূরতে হউক, অথবা পাগড়ী, জামা, জুব্বা, চাদর, লুঙ্গী ইত্যাদির ছূরতেই হোক, অর্থাৎ যা-ই সহজলভ্য হয়, তার মাধ্যমে ইজাজত (অনুমতি) প্রদান করা। যদি মাশায়েখগণ কাউকে নিজের সিলসিলায় ইজাজত দিতে চান, তাকে নিজের প্রতিনিধি (খলীফা) নির্দ্দিষ্ট করতে চান যেন তিনি তরীক্বত-পন্থীদেরকে তালক্বীন ও তরবীয়ত প্রদান করেন এবং তাদের থেকে বাইয়াত গ্রহণ করবেন, তখন উনাকেই খেরকা পরিয়ে থাকেন যেন উনাকে এসব বিষয়ে জিম্মাদারী (দায়িত্ব) অর্পন করতে পারেন।
(আল ইন্‌তিবাহ ফী সালাসিলে আওলিয়াইল্লাহ শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি)

মূলত উনার ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা ও বুযুর্গী মুবারক সম্পর্কিত ইলম না থাকার কারণেই অনেকে উনাকে যথাযথ মুহব্বত ও অনুসরণ করতে পারছে না। যার ফলে তারা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি মুবারক হাছিলে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছে। তাই উনার সম্পর্কে জানা বা ইলম অর্জন করা সকলের জন্যই ফরয। কেননা যে বিষয়টা আমল করা ফরয সে বিষয়ে ইলম অর্জন করাও ফরয।
অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের মাদরাসা, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে উনার সম্পর্কে কোনো আলোচনাই নেই। অথচ সরকারের জন্য দা¬¬য়িত্ব ও কর্তব্য অর্থাৎ ফরয-ওয়াজিব ছিলো, শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে অর্থাৎ পাঠ্যপুস্তকে উনার পবিত্র জীবনী মুবারক অন্তর্ভুক্ত করা। পাশাপাশি উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ উপলক্ষে সরকারিভাবে মাসব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। সরকারের জন্য আরো দায়িত্ব-কর্তব্য অর্থাৎ ফরয হচ্ছে, উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস ১৩ রজবুল হারাম শরীফ উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস চলে যাচ্ছে অথচ সরকার এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি।

Advertisements

পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ

Comments

lailatul rogaib

 

পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ উনার মর্যাদা হলো- পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর, লাইলাতুল বরাতসহ সমস্ত ফযীলতপূর্ণ রাতের চেয়ে লক্ষ-কোটিগুণ বেশি

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
قل بفضل الله وبرحمته فبذلك فليفرحوا هو خير مما يجمعون.
অর্র্থ: “আয় আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সমগ্র কায়িনাতবাসীকে জানিয়ে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বীয় অনুগ্রহ ও রহমত মুবারক হিসেবে উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন, সে জন্য তারা যেন যথার্থভাবে তা’যীম (টাকা-পয়সা, মাল-জান কুরবানীর মাধ্যমে) সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ বা খুশি প্রকাশ করে তথা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে। আর এই সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ বা খুশি প্রকাশ করাই হবে সবকিছু থেকে সর্বত্তোম, যা কিছু তারা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে থাকে। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ : আয়াত শরীফ ৫৮)

পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফই হচ্ছেন- খুশি প্রকাশের রাত। সুবহানাল্লাহ! رغائب (রগায়িব) শব্দটি رغيب এর বহুবচন। যার অর্থ কাঙ্খিত বিষয়, প্রচুর দান। (মিছবাহুল লুগাত-২৯৮)
পারিভাষিক বা ব্যবহারিক অর্থে যেই রাতে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আম্মা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র ও মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ কুদরতীভাবে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন সেই মহান রাতকে ‘পবিত্র লাইলাতুর রাগায়িব’ বলা হয়।

হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা পবিত্র শাহরুল্লাহিল হারাম রজবুল আছম্ম মাস উনার প্রথম জুমুয়াহ শরীফ উনার রাতটি গাফলতির সাথে অতিবাহিত করো না। কারণ হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা ওই রাতটিকে পবিত্র ‘লাইলাতুর রগায়িব’ নামে আখ্যায়িত করেছেন।”

আর ওই রাতটি যখন এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয় তখন আসমান-যমীনে যত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আছেন সবাই পবিত্র কা’বা শরীফ এবং উনার আশপাশে উপস্থিত হন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের প্রতি সম্বোধন করে বলেন, ‘হে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম! আপনাদের যা ইচ্ছা তা প্রার্থনা করতে পারেন। আমি অবশ্যই কবুল করবো।’ হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা তখন বলেন, ‘হে মহান আল্লাহ পাক! আমাদের প্রার্থনা এই যে, যারা পবিত্র শাহরুল্লাহিল হারাম রজবুল আছম্ম মাস উনার মধ্যে রোযা রাখবে তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিন।’ তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম।’ সুবহানাল্লাহ! (গুনিয়াতুত ত্বলিবীন ৩৩১)

হযরত মাওলানা শাহ কারামত আলী জৌনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব, “বারাহীনুল ক্বতইয়াহ ফী মাওলিদী খাইরিল বারীয়াহ” নামক কিতাবে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, এ মুবারক রাত্রির ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে হাম্বলী মাযহাবের সম্মানিত ইমাম হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তিনি যখন ফতওয়া করলেন, ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব’ শরীফ উনার ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর ও লাইলাতুল বরাত অর্থাৎ পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর, পবিত্র লাইলাতুল বরাতসহ অন্যান্য সমস্ত ফযীলতপূর্ণ রাত্রি অপেক্ষা লক্ষ-কোটিগুণ বেশি। (সুবহানাল্লাহ!)

তখন সমসাময়িক ইমাম ও ফক্বীহগণ উনার নিকট জানতে চাইলেন, হে হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি! লাইলাতুল ক্বদর এবং লাইলাতুল বরাত উনাদের ফযীলত সম্পর্কে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন। কিন্তু ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ উনার ফযীলত সম্পর্কে কোথাও বর্ণনা করা হয়নি। তাহলে আপনি কিসের ভিত্তিতে ফতওয়া দিলেন যে, পবিত্র ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ উনার ফযীলত উক্ত ফযীলতপূর্ণ রাত্রিগুলো অপেক্ষাও বেশি? হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জবাবে বলেন, পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর ও পবিত্র লাইলাতুল বরাত উনাদের ফযীলত পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে সত্যিই; কিন্তু লাইলাতুল ক্বদর ও লাইলাতুল বরাতসহ অন্যান্য সমস্ত ফযীলতপূর্ণ রাত্রির সৃষ্টি হয়েছে পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ উনার উসীলায়। অর্থাৎ ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ না হলে ‘লাইলাতুল ক্বদর, লাইলাতুল বরাতসহ’ ফযীলতপূর্ণ কোনো রাত্রির সৃষ্টিই হতো না। এ কারণেই উক্ত রাত মুবারক উনার ফযীলত সমস্ত ফযীলতপূর্ণ রাত্রির চেয়ে লক্ষ-কোটিগুণ বেশি। সুবহানাল্লাহ!
হযরত মাওলানা শাহ কারামত আলী জৌনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘বারাহিনুল ক্বতইয়াহ ফী মাওলিদি খাইরিল বারিয়াহ’ উনার ৭৮ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ করেছেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে যে, এই রাতে মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে ও হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের জগতে নির্দেশ মুবারক দিয়েছিলেন যে, পবিত্রতম নূর মুবারক দ্বারা সারা কায়িনাত (জগৎ) আলোকিত করে দাও। তাই আসমান-যমীনের সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা মহাখুশিতে বিভোর হয়ে গিয়েছিলেন। সর্বোত্তম জান্নাত জান্নাতুল ফিরদাউস উনার মুবারক দরজা খুলে দেয়ার জন্য জান্নাতের দ্বাররক্ষী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সারা কায়িনাতকে বিভিন্ন প্রকার খুশবু দ্বারা সুগন্ধিযুক্ত করার হুকুম ছিল। আকাশের সব স্তরে এবং পৃথিবীর সব ঘরে ঘরে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে যে, “নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ মুবারক রাতে উনার সম্মানিতা আম্মা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করবেন। কারণ তিনি সবকিছুর মূল। অর্থাৎ উনাকে উপলক্ষ করে সারা কায়িনাতের সবকিছুই সৃষ্টি করা হয়েছে। আর তিনি সমস্ত নূর মুবারক ও গুপ্ত রহস্যাবলীসহ সমস্ত রহমত, বরকত, মাগফিরাত সাকীনা, সম্মান, মর্যাদা-মর্তবা, হাক্বীক্বত, মা’রিফাত, মুহব্বতসহ সমস্ত কিছু জাহির বা প্রকাশিত হওয়ার মূল উৎস। গোটা সৃষ্টি জগৎ উনার মুবারক অজুদ পাক বা মুবারক অস্তিত্ব হতে সৃষ্টি হয়েছে এবং যিনি সমস্ত কিছুর মূল। তিনি অচিরেই দুনিয়াতে মুবারক তাশরীফ নিবেন। সারা কায়িনাতকে তিনি সম্মান-মর্যাদা দ্বারা খুশি ও আনন্দিত করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া, ১/১৯, সীরাতে ইবনে হিশাম, ১/১৪৫)

হযরত মাওলানা শাহ কারামত আলী জৌনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে যে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়াতে তাশরীফ মুবারক গ্রহণের দিন যেভাবে শয়তানগুলোকে আকাশে উঠার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, অনুরূপ পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ এবং ঊষাকালে সকল মূর্তি উপুড় হয়ে মাটিতে পড়ে গিয়েছিল।
পবিত্র ‘লাইলাতুর রগায়িব’ শরীফ উনার মধ্যে অসংখ্য-অগণিত আশ্চর্যজনক ঘটনা সংঘটিত হয়েছিলো।-
(১) দুনিয়ার এমন কোনো বাদশাহের সিংহাসন ছিলো না, যা ওই রাতে উল্টিয়ে পড়েনি।
(২) উক্ত রাতে প্রতিটি ঘর আলোকময় হয়েছিল।
(৩) সেই রাতে সমস্ত জীব-জন্তু কথা বলতে পেরেছিলো।
(৪) এমনকি পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের পশু-পাখিরা পর্যন্ত খুশি ও সুসংবাদ বাণী পরস্পর বিনিময় করেছিলো। (আল বারাহীনুল ক্বতইয়াই ফী মাওলিদি খাইরিল বারিয়াহ, ৭৯)

তিনি সেখানে আরো উল্লেখ করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আম্মা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার পূর্বে দুর্ভিক্ষের কারণে অনেকেই অভাবে কষ্ট ভোগ করছিল। বৃষ্টির অভাবে গাছের পাতাগুলো শুকিয়ে গিয়েছিলো। আর সমস্ত জীব-জন্তু এবং গৃহপালিত পশু-পাখিগুলো অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলো।
কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার সাথে সাথে আমূল পরিবর্তন হয়ে গেল। মহান আল্লাহ পাক তিনি মুষলধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করলেন। রহমতের বৃষ্টি সকল গাছপালা, তৃণ লতাকে নতুনভাবে সবুজ ও তরুতাজা করে দিলো। সুবহানাল্লাহ!

(মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া, ১/১৯, সীরাতে হালাবিয়া ১/৪৮, বারাহীনুল ক্বতইয়াহ ৮১, সীরাতে ইবনে হিশাম, ১/১৪৫)

হযরত মাওলানা শাহ কারামত আলী জৌনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘আল বারাহীনুল ক্বতইয়াই ফী মাওলিদি খাইরিল বারিয়াহ’ কিতাবে আরো উল্লেখ করেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আম্মা সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “আমি সে সময় ঘুম ও জাগ্রতের মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলাম। এমন সময় একজন লোক এসে আমাকে সুসংবাদ জানালেন- সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত তথা রহমাতুল্লিল আলামীন আপনার মাঝে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন। উক্ত ব্যক্তি আরো বললেন, আপনি মানব জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব উনাকেই গ্রহণ ও ধারণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

অপর বর্ণনায় এসেছে, সমস্ত সৃষ্টির সর্বোত্তম ব্যক্তিত্ব অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার পরেই উনার স্থান উনাকেই আপনি গ্রহণ ও ধারণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (আল বারাহিনুল ক্বতইয়াহ, ৮৪)

হযরত আবূ নাঈম ইস্পাহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মাতা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক আনয়নের দিনের মুবারক নিদর্শন হচ্ছে এই যে, সেই রাত মুবারকে কুরাইশদের সমস্ত গৃহপালিত পশুগুলি একটি অন্যটির নিকট বলাবলি করেছিল যে, পবিত্র কা’বা শরীফ উনার রব উনার কসম! তথা মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! এই রাত মুবারকে এমন একজন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন; যিনি হচ্ছেন- সমস্ত কায়িনাতের ইমাম এবং দুনিয়াবাসী সকলের আলোর দিশারী তথা পথ প্রদর্শক। সুবহানাল্লাহ! (আল বারাহীনুল ক্বাতইয়াহ ৮৩)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংস্পর্শে যা কিছু এসেছেন সেটাও সবচেয়ে সুমহান হয়ে গেছেন। যেমন- সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা একমত হয়েছেন অর্থাৎ ইজমা করেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পা মুবারক, জিসিম মুবারক বা যেকোনো অংশ মুবারক উনার যা কিছু স্পর্শ মুবারকে এসেছেন; উনার প্রত্যেকটি বিষয়, বস্তু বা প্রতিটি জিনিসের মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত পবিত্র আরশে আযীম উনার চেয়েও লক্ষ-কোটিগুণ সীমাহীন ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! প্রকৃতপক্ষে মাটি বা কোনো কিছুরই কোনো ক্বদর বা মূল্য ছিল না। শুধুমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারক উনার কারণে পবিত্র আরশে আযীম উনার চেয়ে মূল্যবান, ফযীলতপূর্ণ ও সম্মানিত হয়েছেন।

এখন অনেকে প্রশ্ন করে পবিত্র লাইলাতুল রগায়িব কি করে শবে বরাত এবং শবে কদরের চাইতেও বেশি মর্যাদাবান হলো ?
তাদের এই প্রশ্নের জবাব হচ্ছে-
এই বিষয় সমূহের মর্যাদা বুঝতে আমাদের সর্বপ্রথম বুঝতে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সমূহের কিরুপ সেটা বুঝতে হবে।
সকল ইমাম,মুস্তাহিদ এক বাক্যে ইজমা করেছেন-
ان التربة التي اتصلت الي اعظم النبي صلي الله عليه و سلم افضل من الارض والسماء حتي العرش العظيم
অর্থ: হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শরীর মুবারক উনার সাথে যে মাটি স্পর্শ করেছে তা আসমান-জমিন, আরশ-কুরসির চাইতেও শ্রেষ্ঠ।”
দলীল-
√ ফতোয়ায়ে শামী ৩য় খন্ড- কিতাবু যিয়ারত ।
আরো উল্লেখ আছে-
فانه افضل مطلق حتي من الكعبة واعرش والكرسي
অর্থ: হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবকিছুর চাইতে শ্রেষ্ঠ, এমনকি কা’বা শরীফ, আরশে আযীম ও কুরসী হতেও !”
দলীল-
√ দূররুল মুখতার ১ম খন্ড ১৮৪পৃষ্ঠা ।
উক্ত ইজমা শরীফ থেকে এখন চিন্তা করেন, ধুলি বালি যদি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কদম মুবারক স্পর্শের কারনে আরশ-কুরসী-লওহো-কলম-কাবা শরীফ থেকে শ্রেষ্ঠ হয় তবে উনার সংশ্লিষ্ট প্রতিটা বিষয় বা জিনিসের কত মর্যাদা !!
উদাহরণ স্বরূপ সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের মর্যাদা দেখুন, কিয়ামত পর্যন্ত শত সহস্র ইবাদত করেও এক সেকেন্ডের দর্শনে যিনি সাহাবী উনার সমকক্ষ হওয়া সম্ভব নয় । কোন বান্দা যদি উহুদ পাহাড় পরিমান স্বর্ন আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় দান করে, সে দান একজন সাহাবীর ৭ছটাক বা ১৪ ছটাক গম দানের সমানও হবে না । ( বুখারী শরীফ)
এই ফযিলত কোথা থেকে আসলো ??
শুধুমাত্র হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারনে এই ফযীলত লাভ হয়েছে।
তাহলে এখন ফিকিরের বিষয়, তাহলে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেদিন তাশরীফ আনলেন, উনার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় যে তারিখে তাশরীফ আনলেন, যে মাসে তাশরীফ আনলেন সেই সমস্ত দিন,তারিখ এবং মাসের মর্যাদা কত ??
আর নিয়ামত পূর্ন দিন মর্যাদা পূর্ন দিন সমূহ স্বরন করা বা আলোচনা করার কথা কুরআন শরীফে ইরশাদ হয়েছে–
وذكرهم بايام الله ان في ذلك لايات لكل صبار شكور
অর্থ : আল্লাহ পাক উনার বিশেষ দিন সমূহ স্বরন করান ! নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল শোকরগুযার বান্দাদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে !”
( সূরা ইব্রাহীম ৫)
হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংশ্লিষ্ট দিন মুবারক হতে নিয়মত পূর্ন এবং মর্যাদা পূর্ন আর কোন দিন,তারিখ,মাস কি আছে পৃথিবীতে ??
আপনারা সবাই জানেন, লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম । কেন উত্তম ? কারন এই রাতে কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছিলো এবং ফিরিশতা আলাইহিস সালাম উনারা নাযিল হন।
এই কারনে যদি শবে কদর হাজার মাস থেকে উত্তম হয়, তাহলে যিনি সৃষ্টি না হলে কিছু সৃষ্টি হতো না, কুরআন শরীফ নাযিল হতো না, ফিরিশতা সৃষ্টি হতো না, যার কদম মুবরকের ধুলা-বালি মুবারক আরশ কুরসির চাইতে শ্রেষ্ঠ সেই নবীজী , সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের রাত কত বেশি মর্যাদাপূর্ন, ফযীলতপূর্ন সেটা চিন্তার বিষয় ।
আল্লাহ পাক আমাদের বোঝার তৌফিক দান করুন। আমীন !!

যদি বাহ্যিক দৃষ্টিতে কোনো কিছু স্পর্শ মুবারকে আসার কারণে স্বয়ং পবিত্র আরশে আযীম উনার চেয়ে বেশি মর্যাদাবান হয়ে যান; তাহলে পবিত্র নূরানী অজুদ পাক উনার সাথে যে বিষয়গুলি মিশে আছেন সেই বিষয়গুলির ফাযায়িল-ফযীলত যে কত বেশি তা সারা কায়িনাতের প্রত্যেক সৃষ্টিকুলের চিন্তা, ফিকিরের সীমাহীন ঊর্ধ্বে। তাইতো বলা হয়ে থাকে পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব মুবারক হচ্ছে- পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর, লাইলাতুল বরাতসহ অন্যান্য সমস্ত ফযীলতপূর্ণ রাতের চেয়ে লক্ষ-কোটিগুণ বেশি ফযীলতপূর্ণ। সুবহানাল্লাহ!
ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান নূরানী অজুদ পাক মুবারক উনার সাথে ওৎপ্রোতভাবে সংশ্লিষ্ট আওলাদুর রসূল সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাহিস সালাম এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মানও বে-মিছাল সীমাহীন ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা নিসা ৫৯নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং উলীল আমর উনাদের ইতায়াত করো।”
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইতায়াত করাই মহান আল্লাহ পাক উনাকে ইতায়াত করা। আর যাঁরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পরিপূর্ণ ইতায়াত তথা অনুসরণ করেছেন (সূক্ষ্মদর্শী ওলীআল্লাহ) উনাকে অনুসরণ করাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইতায়াত করা। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক নির্দেশ অনুযায়ী উলীল আমর তথা বর্তমান যামানার যিনি খাছ লক্ষ্যস্থল, আওলাদুর রসূল সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে অনুসরণ করতে হবে। কারণ তিনিই একমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ-অনুকরণ করেন। তাই বিশুদ্ধ আক্বীদায় উনাকে মুহব্বত করলে, উনার অনুসরণ করলে, উনার খিদমত মুবারক করলেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করা হবে। সুবহানাল্লাহ!
অতএব, আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ সম্পর্কে জেনে যথাযথভাবে খুশি প্রকাশ করা। ২৭শে পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ রাত মুবারকে তিনি উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নূরানী খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করে উক্ত রাতকে পূর্ণ নিয়ামত দান করেন। সুবহানাল্লাহ! উক্ত মুবারক রাতে তাসবীহ-তাহলীল, দোয়া-দুরূদ, ছলাত-সালাম, যিকির-আযকার, তওবা-ইস্তিগফার, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ, ছদকা-খইরাত, নামায-কালাম পাঠ করে বেমিছাল নিয়ামত মুবারক হাছিল করে উনার শুকরিয়া আদায় করা সকল মুসলমান তথা কুল-কায়িনাতের জিন-ইনসানসহ সমস্ত মাখলুকাতের দায়িত্ব-কর্তব্য।
আর মুসলমান হিসেবে প্রত্যেক মুসলমান সরকারের তো অবশ্যই এমনকি গায়ের মুসলমান (অমুসলিম) সরকারেরও উচিত- ইসলামী ঐতিহ্য ও ফযীলতযুক্ত দিবসগুলোর মর্যাদা অনুধাবনে, নিয়ামত হাছিলে ও ফযীলত আহরণের সুবিধার্থে সেদিনগুলোতে সরকারিভাবে ছুটির দিন ঘোষণা করা।

আখেরী চাহার শোম্বাহ সফর মাসের শেষ বুধবার

আখেরী চাহার শোম্বাহ সফর মাসের শেষ বুধবার

‘আখেরী’ শব্দটি আরবী | এর অর্থ- শেষ | আর ‘চাহার

শোম্বাহ’ ফারসী শব্দ | এর অর্থ বুধবার | আরবী ও

ফারসী শব্দের সংমিশ্রণে ‘আখেরী চাহার শোম্বাহ’

বলতে সফর মাসের শেষ বুধবারকে বুঝানো হয়ে থাকে

| মূলত এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য মহা খুশির দিন |

এ মুবারক দিনটির ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে,

সাইয়্যিদ মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্

নাবীইয়ীন, রহমতুল্লিল আলামীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল

শরীফ-এর পূর্ববর্তী মাসের অর্থাৎ ছফর মাসের তৃতীয়

সপ্তাহে তিনি ভীষণভাবে অসুস্থতা অনুভব করেন |

দিন দিন উনার অনুস্থতা বাড়তেই থাকে | কিন্তু ছফর

মাসের শেষ বুধবার দিন ভোর বেলা ঘুম থেকে জেগে

তিনি বললেন, ‘আমার নিকট কে আছেন?’ এ কথা

শুনামাত্রই উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা

আলাইহাস সালাম তিনি তাড়াতাড়ি করে আসলেন

এবং বললেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার মাতা-

পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক | আমি হাযির আছি |’

তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

তিনি বললেন, ‘হে উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা ছিদ্দীক্বা

আলাইহাস সালাম! আমার মাথা মুবারক-এর ব্যথা দূর

হয়ে গেছে এবং শরীর মুবারকও বেশ হালকা মনে হচ্ছে

| আমি আজ বেশ সুস্থতা বোধ করছি |’ সুবহানাল্লাহ্ ! এ

কথা শুনে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা

আলাইহাস সালাম তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং

তাড়াতাড়ি পানি আনয়ন করে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাথা মুবারক ধুয়ে

দিলেন এবং সমস্ত শরীর মুবারক-এ পানি ঢেলে

ভালোভাবে গোসল করিয়ে দিলেন |

এই গোসলের ফলে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার শরীর মুবারক হতে বহু দিনের

অসুস্থাতাজনিত অবসাদ অনেকাংশে দূর হয়ে গেলো |

তারপর উনি বললেন, হে উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা

ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম! ঘরে কোনো খাবার

আছে কি?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘জী হ্যাঁ, কিছু রুটি

পাকানো আছে |’ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম তিনি বললেন, আমার জন্য তা নিয়ে আসুন

আর হযরত মা ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম

উনাকে খরব দিন, তিনি যেনো উনার আওলাদগণ

উনাদেরকে সঙ্গে নিয়ে তাড়াতাড়ি আমার নিকট

চলে আসেন |’ উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা

ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত যাহরা

আলাইহাস সালাম উনাকে সংবাদ দিলেন এবং ঘরে

যে খাবার তৈরি ছিলো তা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পরিবেশন করলেন

|

হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার আওলাদগণ

উনাদেরকে নিয়ে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার নিকটে হাযির হলেন | হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত মা

যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে নিজের গলা

মুবারক-এর সাথে জড়িয়ে স্নেহের পরশ বুলিয়ে

দিলেন, নাতিগণ উনাদের কপাল মুবারক-এ চুমো

খেলেন, এবং উনাদেরকে সাথে নিয়ে আহারে বসলেন

| কয়েক লোকমা খাবার গ্রহণ করার পর অন্যান্য উম্মুল

মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা খিদমতে এসে

হাযির হলেন | অতঃপর পর্যায়ক্রমে বিশিষ্ট ছাহাবী

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারাও বাইরে এসে

হাযির হন | কিছুক্ষণ পর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাইরে এসে উনাদেরকে

লক্ষ্য করে বললেন, ‘হে ছাহাবীগণ! আমার বিদায়ের

পর আপনাদের অবস্থা কিরূপ হবে?’ এ কথা শুনে

ছাহাবীগণ উনারা ব্যাকুলচিত্তে কান্না শুরু করলেন |

উনাদের এ অবস্থা দেখে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে সান্ত্বনা

দান করলেন | অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে নববী শরীফ-এ

ওয়াক্তিয়া নামাযের ইমামতি করলেন |

আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দীর্ঘদিন অসুস্থতা

অনভবের পর সুস্থ দেহ মুবারক-এ মসজিদে নববী শরীফ-

এ আগমন করেন এবং নামাযের ইমামতি করেন এই

অপার আনন্দে ছাহাবীগণ উনারা নিজ নিজ সামর্থ্য

অনুসারে অনেক কিছু দান-খয়রাত করেন | কোন কোন

বর্ণনায় জানা যায় যে, খুশিতে বাগবাগ হয়ে হযরত

আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি

সাত হাজার দীনার, হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহু তিনি পাঁচ হাজার দীনার, হযরত উসমান

যুন নূরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি দশ

হাজার দীনার, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তিন হাজার

দীনার, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহু তিনি একশত উট ও একশত ঘোড়া আল্লাহ্

পাক উনার রাস্তায় দান করতঃ আল্লাহ্ পাক ও উনার

রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত

ও সন্তুষ্টি লাভ করেন | মহান আল্লাহ্ পাক উনার

মা’রিফত-মুহব্বতে দগ্ধিভূত ব্যক্তিগণ উনারা সে

দিনটিকে মা’রিফত-মুহব্বত লাভের উসীলা সাব্যস্ত

করেছেন |

উক্ত দিনের শেষ প্রান্তে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল

মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পুনরায় অসুস্থতা বোধ

করেন অতঃপর ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ-এ রফীকে

আ’লা উনার পরম দীদারে মিলিত হন |

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা

আনহুমগণ উনাদের নীতি অনুসরণে মুসলমানগণ যুগ যুগ

ধরে ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ’ পালন করে আসছেন |

কালামুল্লাহ্ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “যারা

ছাহাবীগণ উনাদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণ করে

আল্লাহ্ পাক তিনি উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট |” (সূরা

তওবা: আয়াত শরীফ ১০০)

অনেকে ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ’ উদযাপন করাকে

নাজায়িয ও বিদয়াত বলে আখ্যায়িত করে থাকে |

নাঊযুবিল্লাহ! যা সম্পূর্ণ অশুদ্ধ ও ভুল | বরং হযরত

ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ

উনাদের অনুসরণে ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ’ উপলক্ষে

সাধ্যমত গরিব-মিসকীনদেরকে দান-ছদকা করা,

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অধিক

পরিমাণে ছলাত-সালাম, মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম

শরীফ ও দুরূদ শরীফ পাঠ করা অত্যন্ত ফযীলত ও মর্যদা

লাভের কারণ |

{ দলীল : সমূহ সীরাতগ্রন্থ }

অপরিমেয় নিয়ামত-সমৃদ্ধ পবিত্র ১৯শে শাওওয়াল শরীফ।

অপরিমেয় নিয়ামত-সমৃদ্ধ পবিত্র ১৯শে শাওওয়াল

শরীফ।

পবিত্র এ দিনটি আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, ইমামুল

উমাম, মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদে

মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং ওলীয়ে মাদারযাদ,

আওলাদে রসূল, হাবীবাতুল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা

হুযূর ক্বিবলা কা’বা

আলাইহাস সালাম উনাদের পবিত্রতম শাদী মুবারক

অনুষ্ঠানের সুমহান দিন।

কায়িনাতবাসীর অফুরন্ত খুশির দিন। নাজ ও নিয়ামত হাছিলের

অনুপম দিন।

আজ অপরিমেয় নিয়ামত-সমৃদ্ধ পবিত্র ১৯ শাওওয়াল শরীফ।

আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, ক্বায়িম-

মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদে

মুজাদ্দিদে আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, ছহিবু সুলতানিন নাছির, জামিউল

আলক্বাব, জব্বারিউল আউওয়াল, ক্ববিউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ

সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম এবং

ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত

উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, উম্মুল উমাম, সাইয়্যিদাতু

নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর

ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাদের পবিত্রতম শাদী মুবারক

অনুষ্ঠানের পবিত্র দিন। আজ কুল-কায়িনাতবাসীর অফুরন্ত খুশির

দিন। মুবারক এ দিনটি ফায়িয ও তাওয়াজ্জুহ-সমৃদ্ধ পরম ইতমিনানের

দিন। কুল-কায়িনাতবাসীর নাজ ও নিয়ামত হাছিলের অনুপম দিন।

সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত জান্নাতে বইছে আজ আনন্দের ফল্গুধারা। হুর-

গেলমান আজ খুশিতে মাতোয়ারা। হযরত ফেরেশতাকুল

আলাইহিমুস সালাম উনারা ছানা পড়েন খুশির হিল্লোলে। নির্বাক

নীল আকাশ আজ মেতে উঠেছে অজানা রবে। পাখিরা

আজ মুখর হয়েছে কাকলী কূজনে। পত্রপল্লবে আনন্দ

শিহরণের কাঁপন। আনন্দ-উদ্বেলতায় জিন-ইনসানের আজ

অনাবিল আবাহন। উচ্চকিত ‘মারহাবা’, ‘মারহাবা’ ধ্বনিতে মুখরিত আজ

কুল-কায়িনাত। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা উনার অপার রহমত ও

বখশিশের মুবারক প্রসবণ আজ অবারিত। স্বয়ং নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ, মাশুকে মাওলা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম তিনি সমগ্র কায়িনাতবাসীকে বিতরণ করছেন বিশেষ নাজ

ও নিয়ামত। সুবহানাল্লাহ! প্রাণের আঁকা, ক্বিবলা কা’বা সাইয়্যিদুনা

মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার ছাহিবাতুল

মুকাররামা, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, উম্মুল উমাম,

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা

আলাইহাস সালাম উনাদের বাধভাঙ্গা পবিত্র ফায়িয ও তাওয়াজ্জুহ’র

অমিয় ফল্গুধারায় আজ আমোদিত, মোহিত, আপ্লুত কুল-

কায়িনাত। সুবহানাল্লাহ! আজকের এ পবিত্র দিনের দুর্লভ সময়ে

সীমাহীন ভক্তি, শ্রদ্ধা, বিনয়, মুহব্বত ও অনুভূতি প্রকাশের

আয়াসসাধ্য প্রয়াসে আমাদের সকলের তুচ্ছ কোশেশ ও

আরজু কেবল সে অনাবিল আনন্দ, ইতমিনান ও নিয়ামতে সমৃদ্ধ

হওয়ার বিনীত লক্ষ্যে। সুবহানাল্লাহ!

দুনিয়ায় হাক্বীক্বী পবিত্র দ্বীন-ইসলাম আবাদের জন্য,

হিদায়েতের নূরে বিশ্ব-জগৎকে আলোকিত, আলোড়িত ও

আন্দোলিত করার জন্য, সর্বনিকৃষ্ট দুনিয়াদার

ধর্মব্যবসায়ীদের কোমর ও পাঁজর ভেঙে দেয়ার জন্য,

বিধর্মীদের বিনাশসাধনের জন্য নববী ধারায় পঞ্চদশ

হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, আন নি’মাতুল

কুবরা আলাল আলাম, কুদরতে ইলাহী, মুজিযায়ে হাবীবুল্লাহ

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম,

সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার

মুবারক বংশ বিস্তারের ক্রমধারায় একজন খলীফাতুল উমাম, আল

মানছুর, হাবীবুল্লাহ, ছানিয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, হযরত শাহযাদা

হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক আগমনের

প্রয়োজন অনিবার্য। আর সমঝদারদেরতো জানাই রয়েছে,

সে প্রয়োজন পূরণের মুবারক আয়োজন শুরু হয়েছে

রহমতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, মাশুকে

মাওলা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

পবিত্রতম সময় থেকে। সুবহানাল্লাহ! সীমাহীন তাত্ত্বিক

কারণের মধ্যে মূল কারণ; সে বিশেষ লক্ষ্য পূরণের

প্রয়োজনেই সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ

সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম এবং

ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, কায়িম-মাক্বামে হযরত

উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, উম্মুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা

হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাদের পবিত্রতম

শাদী মুবারক অনুষ্ঠান। এ কারণেই পবিত্র ১৯ শাওওয়াল শরীফ

এতো গুরুত্বপূর্ণ, ফযীলতপূর্ণ, এতো বৈশিষ্ট্যম-িত।

অনুভবের গভীরতা ও উপলব্ধির সূক্ষ্মতায় বুঝে নেয়া চাই

যে, পবিত্রতম শাদী মুবারকের মূল কারণ ও অন্তর্নিহিত

তাৎপর্য এখানেই নিহিত। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার

হিদায়েত, নছীহত ও অপ্রতিরোধ্য তাজদীদ উনাদের

অধিক্ষেত্র কুল-কায়িনাতব্যাপী। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ,

মাশুকে মাওলা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

রেখে যাওয়া সম্মানিত দ্বীন-ইসলাম ক্বিয়ামত অবধি দুনিয়ায়

হাক্বীক্বীভাবে আবাদের মহান লক্ষ্যে তিনি নিরন্তর

ব্যাপৃত। পবিত্র শাদী মুবারক সম্পর্কে ভাবনার অবকাশ

কোথায়? কিন্তু মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এবং উনার

প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অভিপ্রায় অন্যরূপ। সুবহানাল্লাহ!

মাহবুব ওলীআল্লাহ এবং মহান মুজাদ্দিদ উনাদের যাবতীয়

বিষয়কর্মসহ উনাদের পবিত্র শাদী মুবারক অনুষ্ঠানের ফায়ছালা,

শাদী মুবারক অনুষ্ঠানের দিন-ক্ষণ, আহলিয়া নির্বাচন ইত্যাদি

সকল বিষয় মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তিনি এবং উনার

হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনারাই নির্ধারণ করে দিয়ে থাকেন। আহলিয়া

তালাশে উনাদের কোনো কালক্ষেপণ হয় না। কেবল

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মুবারক নির্দেশনা পালন এবং সুন্নত

আদায়ের লক্ষ্যে উনারা আহলিয়া এবং আহলিয়া পক্ষ সম্পর্কে

তাহক্বীক্ব করার সাধারণ নিয়ম পালন করে থাকেন মাত্র।

সুবহানাল্লাহ!

রহমতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম, মাশুকে মাওলা, নূরে

মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি

উনার ক্বায়িম-মাক্বাম, উনার প্রিয়তম আওলাদ, উনার আখাছ্ছুল খাছ

নায়িব, পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে মাদারযাদ,

সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে উনার

পবিত্র শাদী মুবারক অনুষ্ঠানের জন্য মুবারক নির্দেশনাদান

করেন এবং উনার ছাহিবাতুল মুকাররামা কে হবেন, তাও জানিয়ে

দেন। সুবহানাল্লাহ!

গভীর মনোযোগ, সূক্ষ্ম অনুধ্যান ও বিশুদ্ধ আক্বীদায়

উপলব্ধির কোশেশ করতে হবে যে, নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান

আল্লাহ পাক সুবহানাল্লাহ ওয়া তায়ালা উনার প্রিয়তম হাবীব

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযা সাল্লাম। মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা

উনার পবিত্রতম অধিষ্ঠানের পরেই উনার পবিত্রতম অধিষ্ঠান।

তিনি সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালতসহ যাবতীয় দায়িত্ব মহান আল্লাহ

পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা উনার অবারিত রহমত, অবিচ্ছেদ্য নৈকট্য-

সংযোগ, পবিত্র ওহীর বাণী এবং সার্বক্ষণিক মদদপ্রযুক্ত

মুবারক উদ্দিষ্ট ব্যবস্থাপনায় পালন করেছেন। এ কাজে কুল-

কায়িনাতের কারো কোনো সম্পৃক্ততা বা কারো কোনো

খিদমতেরই প্রয়োজন ছিলো না। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক

সুবহানাহু ওয়া তায়ালা উনার সীমাহীন মুহব্বত, নিগূঢ় নৈকট্য-

সংযোগ এবং সদয় ইচ্ছায় হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস

সালাম উনাদের মুবারক সান্নিধ্য, সাহচর্য, সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও

প্রজ্ঞায় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে অপরিমেয় ইতমিনান ও প্রেরণালাভ

করেছেন, তা আমাদের উপলব্ধির সীমাহীন ঊর্ধ্বে। এ

অন্তর্গূঢ় পবিত্রতম বন্ধন এবং অন্তরায়হীন পরম নৈকট্য-

সংযোগ কায়িনাতবাসীর অবোধ্য। সুবহানাল্লাহ!

একইভাবে সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, আন নি’মাতুল কুবরা

আলাল আলাম, ইমামুল উমাম, হুজ্জাতুল ইসলাম, জামিউল আলক্বাব,

হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস

সালাম উনার সামগ্রিক তাজদীদ, হিদায়েত ও নছীহতসহ যাবতীয়

কাজে কারো কোনো সাহায্য-সহযোগিতারই প্রয়োজন

নেই। কিন্তু সম্মানিত সুন্নত অনুসরণে উনার এমন কিছু

অন্তর্গূঢ় প্রেরণা, সাহচর্য, সহমর্মিতা ও প্রজ্ঞাময় সান্নিধ্য

প্রয়োজন, যার মুবারক ভূমিকায় অনুক্ষণ নিয়োজিত থাকবেন

উনার ছাহিবাতুল মুকাররামা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

শুধু পীর-মুরীদি করার জন্য সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম

আলাইহিস সালাম তিনি দুনিয়ায় আগমন করেননি। পবিত্র রিসালত উনার

ধারায় কায়িনাতব্যাপী হাক্বীক্বী সম্মানিত দ্বীন-ইসলাম উনার

আবাদ, ধর্মব্যবসায়ী ও বিধর্মীদের সমূলে উৎপাটন,

সম্মানিত সুন্নত উনার অনুশীলন, মুসলমান উনাদের মন ও মনন

থেকে হীনম্মন্যতা নিরসনে বিশ্বময় মুসলিম মানসের

পুনর্জাগরণ এবং কায়িনাতব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে খিলাফত আলা

মিনহাজিন নুবুওওয়াহ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার কাজে তিনি অনুক্ষণ

নিয়োজিত। মুবারক এ কাজে যিনি সহায়তাদান করবেন, তিনিইতো

হবেন উনার ছাহিবাতুল মুকাররামা। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম, মাশুকে মাওলা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই উনার প্রিয়তম আওলাদ, উনার ক্বায়িম-

মাক্বাম, উনার আখাছ্ছুল খাছ নায়িব, উনার সম্মানিত সাইয়্যিদে

মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে এমন একজন ছাহিবাতুল

মুকাররামা নির্ধারণ করে দেন, যিনি হলেন ওলীয়ে মাদারযাদ,

আওলাদে রসূল, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন

আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মুল উমাম,

সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মাজী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম।

সুবহানাল্লাহ! তিনিও, যখন বয়স মুবারকে তিনি একান্তই কিশোরী,

তখন থেকেই একজন মুজাদ্দিদ, উনার ছাহিবাতুল মুকাররামা হয়ে

প্রাণ উজাড় করা সাহচর্য, সহমর্মিতা ও খিদমতের আঞ্জামদানে

নিজেকে বিলীন করে দেয়ার আরজু করেছেন অনুক্ষণ।

উনার সে পবিত্র আরজু পূরণ হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ

ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার ছাহিবাতুল মুকাররামা,

উম্মুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস

সালাম উনাদের মাধ্যমে শুরু হয়েছে দুনিয়াব্যাপী তাজদীদ

প্রচার, প্রসার ও বাস্তবায়নের দুর্বার অগ্রযাত্রা। সাইয়্যিদাতুনা

হযরত আম্মাজী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক

হিদায়েত ও নছীহতে শুরু হয়েছে গোটা বিশ্বের নারী

জাতির পুনর্জাগরণ। সুবহানাল্লাহ!

সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, ফেরেশতাকুল আলাইহিমুস

সালাম, সকল মাহবুব ওলীআল্লাহ, ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি

আলাইহিম উনাদের মুবারক উপস্থিতিতে মহান আল্লাহ পাক উনার

অপার রহমতের অবিরল ধারায় পরিস্নাত পবিত্রতম শাদী মুবারক

উনার আযীমুশ শান মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় সম্মানিত জান্নাতে। স্বয়ং

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহু, মাশুকে মাওলা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মাহফিলে উপস্থিত থেকে

পবিত্রতম শাদী মুবারকের কাজ সম্পন্ন করেন। সুবহানাল্লাহ!

একই সঙ্গে পবিত্র ১৯ শাওওয়াল শরীফে ঢাকা রাজারবাগ পাক

দরবার শরীফস্থ সুন্নতী জামে মসজিদে পরিপূর্ণ সুন্নতী

তর্জ-তরীক্বায় এক অনাড়ম্বর ও অনাবিল পরিবেশে অনুষ্ঠিত

মাহফিলে পবিত্রতম শাদী মুবারক উনার কাজ সুসম্পন্ন হয়। সকল

হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, হযরত ফেরেশতাকুল

আলাইহিমুস সালাম, সকল হযরত ইমাম মুজতাহিদ-আউলিয়ায়ে কিরাম

রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের এবং সর্বোপরি ছাহিবু কা’বা

কাওসাইনী আও আদনা, যিকরুল্লাহ, মাশুকে মাওলা, নূরে

মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনার মুবারক উপস্থিতিতে ও মুবারক অনুমোদনে সুন্নতী

জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত পবিত্র মাহফিলের সঙ্গে সম্মানিত

জান্নাতে অনুষ্ঠিত পবিত্র মাহফিলের মুবারক অভিন্ন যোগসূত্র

স্থাপিত হয়। সুবহানাল্লাহ! মুবারক খুৎবা পাঠ করেন ওলীয়ে

মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, উম্মুল উমাম, কায়িম-মাক্বামে হযরত

উম্মুহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত

আম্মাজী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পিতা

আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ রুকনুদ্দীন

আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে

ইরশাদ মুবারক করেন: “আমি তোমাদের নেককার পুরুষের

জন্য নেককার আহলিয়া তৈরি করেছি।”

পবিত্র এ আয়াত শরীফ দ্বারা সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত ও

প্রতীয়মান হয় যে, মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা তিনি

উম্মুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস

সালাম উনাকে কতো পূত-পবিত্র, নেককার, আল্লাহওয়ালী,

কতো উঁচু মাক্বামের মাহবুবা ওলীআল্লাহ হিসেবে

যমীনে পাঠিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তাইতো আখাচ্ছুল খাছ

আল্লাহওয়ালা সাইয়্যিদ পরিবারে পবিত্র বিলাদতী শান মুবরক

প্রকাশ সূত্রে আবাল্য সম্মানিত শরয়ী খাছ পর্দায়

পরিপূর্ণরূপে অভ্যস্ত, সুন্নতের পাবন্দ, প্রগাঢ় ইলম উনার

অধিকারিণী, তীক্ষè মেধা, মন ও মনন সম্পন্না হিসেবে তিনি

হয়েছেন সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার ছাহিবাতুল মুকাররামা।

হয়েছেন নায়িবে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহাস সালাম।

সুবহানাল্লাহ! বিভিন্ন প্রকৃতির সুবিশাল পরিধির দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে

সম্পাদনে সর্বক্ষণ সম্পৃক্ত থেকেও উম্মুল উমাম,

সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি মহান

আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা, নূরে মুজাসসাম, মাশুকে মাওলা,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার

যাওজুল মুকাররাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, আন নি’মাতুল

কুবরা আলাল আলাম আলাইহিস সালাম উনাদের নিগূঢ় নৈকট্য-

সংযোগে দায়িমীভাবে মগ্ন রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্রতম শাদী মুবারক উনার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য আমাদের জানা

নেই। আমরা শুধু বাইরের কিছু বিষয় আমাদের অত্যন্ত

সীমীত আক্বল ও সমঝে আয়াসসাধ্য প্রয়াসে বর্ণনার

তুচ্ছ কোশেশ করছি মাত্র। এ পবিত্রতম বন্ধনের ফাযায়িল-

ফযীলত, গুরুত্ব ও তাৎপর্য জানেন মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ

ওয়া তায়ালা তিনি। জানেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। জানেন সাইয়্যিদে

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল উমাম, আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম,

সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি।

আর জানেন উনার ছাহিবাতুল মুকাররামা, ওলীয়ে মাদারযাদ,

আওলাদে রসূল, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন

আলাইহিন্নাস সালাম, উম্মুল উমাম, হাবীবাতুল্লাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত

আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ

ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন,

উম্মুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস

সালাম উনাদের মুবারক সমন্বিত প্রয়াসে বিশ্বব্যাপী

হাক্বীক্বী হিদায়েত, নছীহত ও তাজদীদী কাজে দুর্বার

গতিবেগ সঞ্চারিত হয়। বিশেষত পবিত্রতম এ বন্ধনের

মাধ্যমে উনাদের লখতে জিগার, উনাদের নূরে চশম, আল

মানছূর, আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, খলীফাতুল উমাম,

ছানিয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা

হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম যমীনে উনার

আনুষ্ঠানিক মুবারক আগমনের পথ সুগম হয়। সুবহানাল্লাহ!

লক্ষ্য হলো, মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে

আ’যম, ইমামুল উমাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ

ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি খিলাফত আলা মিন হাজিন নুবুওওয়াহ

উনার যে মজবুত ভিত রচনা করেছেন, তা মুজাদ্দিদে মাদারযাদ,

আল মানছুর, আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, কুদরতে ইলাহী,

মুজিযায়ে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,

হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস

সালাম উনার মাধ্যমে সমগ্র কায়িনাতব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে

বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করা। সুবহানাল্লাহ!