11017872_1625611907710553_1048558063666053719_n

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার বাম পার্শ্বের পাঁজর মুবারক-এর নিচ থেকে কুদরতীভাবে আগমন করেছেন।

 

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে এবং আপনার যিকির (মর্যাদা-মর্তবা)কে সমুন্নত করেছি।’

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘আমি তোমাদের কারো মতো নই।’

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাধারণ মানুষের ন্যায় যমীনে আগমন করেননি।

বরং উনার হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার বাম পার্শ্বের পাঁজর মুবারক-এর নিচ থেকে কুদরতীভাবে আগমন করেছেন।

যা উনার বেমেছাল ত্বহারাত বা পবিত্রতার বহিঃপ্রকাশ ও বেমেছাল মর্যাদার মধ্যে একটি বিশেষ মর্যাদা।

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান দান করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে এবং আপনার যিকির (মর্যাদা-মর্তবা)কে সমুন্নত করেছি।”

আসন্ন সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর অর্থাৎ কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১৪৩৩ হিজরী-এর গুরুত্ব ও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা ও ফাযায়িল-ফযীলত আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতেই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। এ প্রসঙ্গে হাদীছে কুদসী শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি ছাড়া যত কিছু রয়েছে সব আপনার জন্যই সৃষ্টি করেছি।” সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হাদীছে কুদসী শরীফ-এ এসেছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “আমি আপনাকে খলীল ও হাবীব হিসেবে গ্রহণ করেছি।”

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার দিকে বা উনার জন্য মনোনীত করেন যাঁকে ইচ্ছা উনাকেই।” (সূরা শূরা : আয়াত শরীফ ১৩)

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং পূর্ববর্তী আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণ উনারা কেউই সাধারণ মানুষের মতো আগমন করেননি। যেহেতু হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ও বিশেষভাবে মনোনীত বান্দা। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদেরকে উনার শান-মান হেতু স্বীয় কুদরত মুবারক দ্বারা আলাদাভাবে সৃষ্টি করেছেন।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এ প্রসঙ্গে কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, জেনে রাখুন! সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ বা আগমনের পদ্ধতি সম্পর্কে চারটি ক্বওল শরীফ রয়েছে।

১. নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার বাম পার্শ্বের পাঁজর মুবারক-এর নিচ দিয়ে কুদরতীভাবে আগমন করেছেন।

২. স্বাভাবিক স্থান ও নাভির মধ্যবর্তী স্থান হতে।

৩. স্বীয় মাতা আলাইহাস সালাম উনার মুখ হতে।

৪. স্বাভাবিকভাবে।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ সম্পর্কে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের সকল ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের অভিমত হলো, “হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণ উনারা ব্যতীত সমস্ত মানুষই স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণ করেন। আর সমস্ত হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণ উনারা স্বাভাবিক স্থান ও নাভির মধ্যবর্তী স্থান হতে কুদরতীভাবে আগমন করেছেন। আর আমাদের নবী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার বাম পার্শ্বের পাঁজর মুবারক-এর নিচ থেকে কুদরতীভাবে আগমন করেছেন।” (উমদাতুন নুকুল ফি কাইফিয়াতি বিলাদাতির রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনারা সাধারণ মানুষের মতো আগমন করেননি। বরং আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে খাছ কুদরতীভাবে সৃষ্টি করেছেন। এ সম্পর্কে কিতাবে আরো বর্ণিত আছে যে, “হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণ উনারা স্বাভাবিক পথে আগমন করেছেন, একথা সম্পূর্ণরূপেই অশুদ্ধ।”

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “মালিকী মাযহাবের ইমামগণ এজন্যই ওই ব্যক্তিকে ক্বতল করার ফতওয়া দিয়েছেন, যে ব্যক্তি বলবে যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বাভাবিকভাবে আগমন করেছেন।” (উমদাতুন নুকুল ফি কাইফিয়াতি বিলাদাতির রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমাদের আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা হলো- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার রেহেম শরীফ হতে সাধারণ মানুষের ন্যায় আগমন করেননি। বরং তিনি উনার হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার বাম পার্শ্বের পাঁজর মুবারক-এর নিচ থেকে কুদরতীভাবে আগমন করেছেন। যা উনার বেমেছাল ত্বহারাত বা পবিত্রতার বহিঃপ্রকাশ ও বেমেছাল মর্যাদার মধ্যে একটি বিশেষ মর্যাদা।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদা-মর্তবা বর্ণনা করে শেষ করার মতো নয়। উনার ফাযায়িল-ফযীলত শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা করতে গিয়ে সমুদ্রের পানিকে কালিস্বরূপ এবং সমস্ত গাছ-পালাকে কলমরূপে ব্যবহার করে সমস্ত জিন-ইনসান ক্বিয়ামত পর্যন্ত লিখতে থাকলেও সমস্ত কিছুই নিঃশেষ হয়ে যাবে, তবুও উনার ফাযায়িল-ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্বের কিঞ্চিৎ বর্ণনাও লিখে শেষ করা যাবে না। এক কথায় তিনি শুধু আল্লাহ পাক নন, এছাড়া সকল ছানা ছিফত মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত-এর অধিকারী হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলত যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত করবে, শান-মান বর্ণনা করবে প্রকৃতপক্ষে সে নিজেই ফায়দা লাভ করবে। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত হাসসান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, ‘আমি আমার প্রশংসামূলক কবিতার দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান কিছুই বাড়াতে পারিনি। বরং উনার ছানা-ছিফত বা প্রশংসা করার কারণে আমার কবিতা এবং আমি নিজেই সম্মানিত ও মর্যাদাবান হয়েছি।’ সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো- আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা উপলব্ধি করতঃ উনার প্রতি যথাযথ তা’যীম-তাকরীম ও সম্মান প্রদর্শন এবং পরিপূর্ণ ছানা-সিফত করার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি হাছিল করা।

 

Advertisements

হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন হাযির-নাজির

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের মধ্যে ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীস্বরূপ পাঠিয়েছি।” (পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৮)

এই পবিত্র আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় বলা যায় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি এই পবিত্র আয়াত শরীফের মধ্যে বলেছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাক্ষীদাতা। আর যিনি সাক্ষীদাতা হন তিনি তো কোনো কিছু না দেখে সাক্ষী দিতে পারেন না। দুনিয়াবী মেছাল দিলে বুঝা যাবে- যখন কোনো আদালতে বিচার হয় তখন সাক্ষী নেয়া হয় আর যিনি নিজ চোখে দেখেছে তাকেই সাক্ষীদাতা হিসেবে নেয়া হয়।

মহান আল্লাহ পাকের হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত কিছু দেখেন। পবিত্র হাদীছ শরীফের মধ্যে ইরশাদ হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম আমার নূর সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আমার নূর থেকেই সমস্ত কায়িনাত সৃষ্টি হয়েছে। (পবিত্র দাইলামী শরীফ)অর্থাৎ নূর হিসেবে আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বত্র হাজির। একটা মেছাল দিলে বুঝা যাবে, একবার হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন,বলুন- হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি কোথায়? তখন তিনি চোখ বন্ধ করে সমস্ত জায়গায় খুঁজে আসলেন এবং বললেন আপনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম। এখান থেকে বুঝা যায় যে, যিনি ছাহাবী উনি যদি মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত জায়গায় যেতে পারেন; সবকিছু দেখতে পারেন। আর যিনি আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পারেন না? নাঊযুবিল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবশ্যই
সর্বত্রই হাজির ও নাযির- যা বলার অপেক্ষা রাখে না। নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বত্র হাজির ও নাযির-আমরা যেন সকলে এই বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করতে পারি- মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে সেই তাওফীক দান করেন। (আমীন)

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবন-চরিত

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবন-চরিত এত বেশি ঘটনাবহুল যে স্বল্প পরিসরে উনার সামান্যতম বিবরণ দেয়াও সম্ভবপর নয়। তবে এখানে সামান্য থেকে সামান্যতম বিশেষ কিছু ঘটনার বিবরণ প্রদত্ত হলো :

উনার বিলাদত শরীফ-এর সময় বহু অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে

উনার সম্মানিত মাতা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার বর্ণনা মতে, তিনি যখন ভূমিষ্ট হন, উনার সঙ্গে একটি নূর প্রকাশ পায়, যা পূর্ব-পশ্চিম (চতুর্দিক) আলোকিত করে ফেলে, যার ফলে তিনি সুদূর সাম (সিরিয়া) দেশের রাজপ্রাসাদসমূহ এবং বছরা নগরের উষ্ট্রসমূহ দেখতে পান। (তাবাকাতে কুবরা, ইবনে সা’দ)

হযরত উছমান বিন আবূল আ’ছ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাতা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ-এর রাত্রে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন : “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ-এর সময় আমি দেখতে পেলাম সমস্ত ঘর নূরে পরিপূর্ণ এবং আমি নক্ষত্রসমূহের দিকে তাকিয়ে দেখলাম সেগুলো উপর থেকে নিচে নেমে আসছে, আমার মনে হলো সেগুলো যেন আমার উপর পতিত হবে।” (ইবনে কাছীর)

উনার বিলাদত শরীফ-এর সময় পারস্য সম্রাট কিসরার প্রাসাদের ১৪টি কার্ণিশ ভেঙ্গে পড়ে, পারস্যের অগ্নিকু- নির্বাপিত হয়ে যায়; যা পূর্ববর্তী এক হাজার বছরেও কখনও নির্বাপিত হয়নি এবং ছাওয়া নদী শুকিয়ে যায়। (ইবনে কাছীর)

হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ-এর পর তিনি দেখেন যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আকাশের দিকে মাথা মুবারক তুলে এবং দু’হাত মুবারক তুলে দোয়া করছেন।” (ইবনে কাছীর)

বিলাদত শরীফ-এর পরে উনার মাতা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম তিনি স্বপ্নে যে নাম মুবারক রাখার জন্য আদিষ্ট হয়েছিলেন, তদানুযায়ী উনার সম্মানিত দাদা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক রাখলেন মুহম্মদ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। (ইবনে হিশাম)

হযরত উম্মু আইমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা পরিচারিকা হিসেবে উনার সেবা-শুশ্রুষা করতেন, যিনি ছিলেন উনার পিতা হতে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বাঁদী। হযরত উম্মু আইমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন : “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বাল্য অবস্থায় বা পূর্ণ বয়স্ক অবস্থায় ক্ষুধা বা তৃষ্ণার অভিযোগ করতে আমি কখনও দেখিনি।” (ইবনে সা’দ, আবূ না’ঈম)

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচা আবূ লাহাবের বাঁদী হযরত সুয়াইবা আলাইহাস সালাম, উনার মাতা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার সঙ্গে থাকা অবস্থায় উনাকে কিছুদিন দুধ পান করিয়েছিলেন। (ইবনে কাছীর)

অতঃপর তৎকালীন পারিবারিক নিয়ম অনুযায়ী বনূ সা’দ গোত্রের হযরত হালীমা সা’দিয়া আলাইহাস সালাম তিনি ধাত্রী হিসেবে উনাকে দুধ মুবারক পান করানোর জন্য নিয়ে যান। হযরত হালীমা সা’দিয়া আলাইহাস সালাম উনার স্বামীর নাম ছিল হযরত হারিছ বিন আবদিল উজ্জা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। হযরত হালীমা সা’দিয়া আলাইহাস সালাম তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নবুওয়াত প্রকাশের পর ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। মদীনা শরীফ-এ জান্নাতুল বাকীতে উনার রওযা শরীফ নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত আছে। হযরত হালীমা সা’দিয়া আলাইহাস সালাম তিনি বলেন : নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দুধ মুবারক পান করানোর জন্য নেয়ার পর উনার গৃহে বহু মু’জিযা সংঘটিত হয়। উনার কৃশকায় ছাগপাল মোটা তাজা হয়ে যায় এবং প্রচুর দুগ্ধ প্রদান করতে থাকে। তারপর হতে উনাদের অভাব অনটন দেখা দেয়নি। সর্বদিক দিয়ে উনারা প্রাচুর্য দেখতে পেয়েছেন। (ইবনে হিশাম)

২ বছর বয়স মুবারক-এ :
হযরত হালীমা সা’দিয়া আলাইহাস সালাম উনার গৃহে দু’বছর থাকার পর, তিনি উনাকে হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার নিকট নিয়ে আসলেন। মক্কা শরীফ-এ তখন রোগের প্রাদুর্ভাব ছিল। এজন্য হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আরও কিছুদিন হযরত হালীমা সা’দিয়া আলাইহাস সালাম উনার তত্ত্বাবধানে রাখা সমীচীন মনে করলেন। বৃদ্ধ হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম তিনিও এ প্রস্তাব সমর্থন করলেন। (ইবনে হিশাম)

একবার উনার দুধবোন উনাকে নিয়ে প্রখর রৌদ্রের মধ্যে মাঠে যান। হযরত হালীমা সা’দিয়া আলাইহাস সালাম তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখতে না পেয়ে তাড়াতাড়ি মাঠে গিয়ে উনাদের উভয়কে দেখতে পান। হযরত হালীমা সা’দিয়া আলাইহাস সালাম তিনি আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন : এ রৌদ্রের মধ্যে তোমরা বের হয়েছো? হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুধ বোন তিনি বললেন : মা! আমাদের এ ভাই উনার গায়ে রোদ লাগে না। যেখানেই তিনি থাকেন সেখানেই এক খ- মেঘ উনাকে ছায়া দিয়ে থাকে। সুবহানাল্লাহ! (ইবনে কাছীর)

৪ বছর বয়স মুবারক-এ :
এই সময় এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদিন উনার দুধ ভাইদের সাথে মেষ চড়াচ্ছিলেন। এ সময় দুই জন সাদা পোশাকধারী লোক (ফেরেশতা) এসে উনাকে শোয়ায়ে উনার বক্ষ মুবারক বিদীর্ণ করেন এবং অভ্যন্তরভাগ থেকে উনার ক্বলব মুবারক বের করেন। অতঃপর ক্বলব মুবারক দেখিয়ে বলেন : এই অংশটির সাহায্যে শয়তান অন্যান্য মানুষকে বিপথগামী করে। অতঃপর উনারা ক্বলব মুবারককে স্বর্ণের পাত্রে রেখে স্বর্ণের এবং জমজমের পানি স্পর্শ মুবারক-এ এনে জমজমের পানির মর্যাদা বৃদ্ধি করে আবার যথাস্থানে স্থাপন করে সেলাই করে দেন। এই ছিল প্রথম বক্ষ মুবারক বিদারণ। (ইবনে সা’দ)

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বক্ষ মুবারক চার বার বিদীর্ণ করা হয়। প্রথমবার : তিন থেকে পাঁচ বছর বয়স মুবারক-এর মধ্যে, দ্বিতীয়বার : দশ থেকে চৌদ্দ বছর বয়স মুবারক-এর মধ্যে, তৃতীয়বার : আনুষ্ঠানিকভাবে নবুওয়াত ঘোষণার পূর্বে এবং চতুর্থবার : মি’রাজ শরীফ-এর রাত্রিতে মি’রাজ শরীফ-এ গমনের পূর্বে। কোন কোন বর্ণনায় যে বলা হয়েছে, বক্ষ মুবারক বিদীর্ণ করার পর বক্ষাভ্যন্তর থেকে কিছু অংশ বের করে ফেলে দেয়া হয়েছে, তা ঠিক নয়। এ বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ফতওয়া হলো- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন মা’ছূম অর্থাৎ গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ নিষ্পাপ এবং মাহফূজ অর্থাৎ গুনাহ থেকে সংরক্ষিত। কাজেই উনার শরীর মুবারক-এ এমন কিছু ছিল না যা ফেলে দেয়ার মতো। যে সব বর্ণনায় বলা হয়েছে, ফেরেশতা বলেছিলেন,
هذا حظ الشيطان منك তার অর্থ করতে হবে اى هذا حظ الشيطان من أمتك
অর্থাৎ আপনার উম্মতের এই অংশটা শয়তানের ওয়াসওয়াসা দেয়ার স্থান। (হাদীস শরীফ)

হযরত মাওলানা শাহ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিছে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘তাফসিরে আজীজী’তে লিখেছেন : নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার “শরহে ছুদূর” বা “বক্ষ মুবারক সম্প্রসারণ” দুই প্রকারে হয়েছিল। প্রথম প্রকার এই যে, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনার বক্ষ মুবারক চার বার বিদীর্ণ করেছিলেন। দ্বিতীয় প্রকার এই যে, আল্লাহ পাক উনার বক্ষ মুবারক এরূপ প্রসারিত করেছিলেন যে, উহা যেন অনন্ত প্রান্তরে পরিণত হয়েছিল যাতে একটি বৃহৎ অট্টালিকা আছে, যার মধ্যে বারটি বৈঠকখানা আছে, প্রথমটিতে একজন বাদশাহ, দ্বিতীয়টিতে একজন হাকিম (যাঁর অন্তর হেকমত বা জ্ঞানপূর্ণ), তৃতীয়টিতে একজন কাজী (বিচারক), চতুর্থটিতে একজন মুফতী (ফতওয়া দাতা), পঞ্চমটিতে একজন মুহতাসিব (হিসাব পরীক্ষক), ষষ্ঠটিতে একজন ক্বারী (কুরআন শরীফ পাঠকারী), সপ্তমটিতে একজন আবিদ (ইবাদতকারী), অষ্টমটিতে মা’রিফাত তত্ত্বজ্ঞ একজন কামিল ওলী, যিনি আল্লাহ পাক উনার জাত ও ছিফাত তত্তজ্ঞ ও অসংখ্য ইলম প্রকাশ করছেন, নবমটিতে একজন ওয়ায়িজ (উপদেশ দাতা), দশমটিতে একজন উলুল আ’যম বা সর্বশ্রেষ্ঠ রসূল আছেন, একাদশটিতে তরীক্বতপন্থী একজন কামিল মুর্শিদ এবং দ্বাদশটিতে একজন রূপবান মাহবূব (প্রেমাষ্পদ) আছেন।
এই ঘটনায় হযরত হালীমা সা’দিয়া আলাইহাস সালাম তিনি ভীত হয়ে পড়েন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার নিকট ফিরিয়ে দেন। (ইবনে হিশাম)

৬ বছর বয়স মুবারক-এ :
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সঙ্গে নিয়ে পরিচারিকা হযরত উম্মু আইমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহাসহ হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মামাদের বাড়ি (বনু আদী বিন নাজ্জার) মদীনা শরীফ-এর দিকে রওয়ানা হন। সেখানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা হযরত খাজা আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার রওযা শরীফ যিয়ারত করেন।

প্রত্যাবর্তনের সময় হয়রত আমিনা আলাইহাস সালাম তিনি মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ-এর মধ্যবর্তী আবওয়া নামক স্থানে অসুস্থ হয়ে বিছাল শরীফ প্রাপ্ত হন। (ইবনে হিশাম)

অতঃপর উনার পিতামহ হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার প্রতিপালনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

৮ বছর বয়স মুবারক-এ :
হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম তিনি বিছাল শরীফপ্রাপ্ত হন। অতঃপর হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার ওছীয়ত অনুযায়ী, চাচা আবূ তালিব উনার প্রতিপালনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। কারণ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম ও আবূ তালিব একই মাতার ঔরসজাত সহোদর ভ্রাতা ছিলেন। (ইবনে হিশাম)

১০ বছর বয়স মুবারক-এ:
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছাগল চরানোর কাজ করেছিলেন

১২ বছর বয়স মুবারক-এ :
চাচা আবূ তালিবের সঙ্গে এক বাণিজ্য কাফিলায় তিনি সিরিয়া সফর করেন। যখন উনারা বছরা পৌঁছেন, বাহীরা নামে এক ঈসায়ী পাদ্রীর সঙ্গে উনাদের সাক্ষাৎ ঘটে ; বাহীরা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখে এবং উনার সঙ্গে কথোপকথন করে তিনিই যে প্রতিশ্রুত শেষ নবী তা বুঝতে পারলেন এবং ইহুদীদের শত্রুতা হতে হিফাযতে রাখার জন্য আবূ তালিবকে সতর্ক করে দেন। (ইবনে হিশাম)

১৪/১৫ বছর বয়স মুবারক-এ :
ফিজারের যুদ্ধে (حرب الفجار) অংশগ্রহণ করেন। এ যুদ্ধ হারাম মাসে (যে সময় যুদ্ধ করা অন্যায় বলে গণ্য করা হত) অনুষ্ঠিত হয়। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি উনার চাচাগণ উনাদেরকে তীর কুড়িয়ে দিতেন, কিন্তু নিজে কাউকে আঘাত করেননি। (ইবনে হিশাম)
কিছু সংখ্যক সত্যনিষ্ঠ কুরাইশ যুবকসহ বিলাদত শরীফ-এর ১৫ বছর পর (৫৮৫ ঈসায়ী সনে) ‘হিলফুল ফুযূল’ (حلف الفضول) নামক চুক্তিতে অংশগ্রহণ করেন। আব্দুল্লাহ বিন জুদ’য়ান উনার গৃহে এ চুক্তি অনুষ্ঠিত হয়। এ চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, মজলূমকে জালিমের বিরূদ্ধে সাহায্য করা। (ইবনে কাছীর)

১৭ বছর বয়স মুবারক-এ :
চাচা আবূ তালিব উনার নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে উনার অপর চাচা হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে ব্যবসার উদ্দেশ্যে ইয়েমেনে গমন করেন।

২০ বছর বয়স মুবারক-এ :
বিভিন্ন রকম স্বপ্ন দেখতে থাকেন এবং ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের আওয়াজ শ্রবণ করতেন। আবূ তালিব তিনি স্বপ্নের ঘটনা শুনে মনে করতেন, কোন অশুভ আছর হয়েছে। তাই বৈদ্য ডেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে বৈদ্য বলেছিল : আপনার ভাতিজা উনার কোন রোগ হয়নি বা আছর করেনি বরং উনার শিরার বিভিন্ন লক্ষণে মনে হচ্ছে, ইনি একজন মহা পুরুষ হবেন।

২৫ বছর বয়স মুবারক-এ :
কুরাইশগণ উনাকে ‘আল-আমীন’ উপাধিতে ভূষিত করে। হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম বিনতে খুয়াইলিদ উনার অংশীদারভিত্তিক বাণিজ্য পণ্য নিয়ে দ্বিতীয় বার সিরিয়া সফরে গমন করেন। আরবে তখন লভ্যাংশের ভিত্তিতে এ ধরনের ‘মুদ্বারাবা’ ব্যবসার প্রচলন ছিল।

উনার সঙ্গে হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার গোলাম ‘মাইছারাহ’ও গমন করেন। সফর শেষে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গুণাবলী ও মু’জিযা সংক্রান্ত অনেক ঘটনা, যা সফরকালীন সময়ে সংঘটিত হয়, তা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম, তিনি মাইছারার নিকট হতে অবগত হন। (ইবনে কাছীর)

হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম, তিনি ছিলেন কুরাইশ বংশীয়া সম্ভ্রান্ত এবং অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদা সম্পন্না ধনবতী ও বিধবা রমণী। অনেক ধনী ও উচ্চবংশীয় লোক উনাকে বিবাহ করার জন্য আগ্রহান্বিত ছিলেন। কিন্তু এ সম্মানিতা মহিলা গুণমুগ্ধ হয়ে নিজেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট শাদী মুবারক-এর প্রস্তাব দেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচা উনাদেরকে এ ব্যাপারে অবহিত করেন। অতঃপর উনাদের সম্মতিক্রমে এবং উনাদের মাধ্যমে এই শাদী মুবারক সুসম্পন্ন হয়। তিনি হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেন। তখন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক হয়েছিল ৪০ বছর। আর এই শাদী মুবারক-এর মোহরানা ছিল ৫০০ দিরহাম (রৌপ্য মুদ্রা)। (ইবনে কাছীর)

২৫-৩৫ বছর বয়স মুবারক :
২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়স মুবারক পর্যন্ত বিশেষভাবে জনকল্যাণমূলক কাজ করেন ও বিভিন্ন মানুষকে আর্থিক সাহায্য করেন।

৩৫ বছর বয়স মুবারক-এ :
পবিত্র কা’বা গৃহ পুনঃনির্মিত হয়। নব নির্মিত কা’বা প্রাচিরে বর্তমানে যেখানে হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর), তা কোন ব্যক্তি বা গোত্র ঐ স্থানে স্থাপন করবে, এ নিয়ে গোত্রসমূহের মধ্যে পরস্পর বিরোধ শুরু হয়ে যায়। সকল গোত্রই হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করার দাবি করে বসলো। অবশেষে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রস্তাব অনুযায়ী বিবাদমান সব গোত্রগুলো নিজ নিজ গোত্র হতে এক একজন প্রতিনিধি নির্বাচন করে পাথরটি চাদরে রেখে প্রতিনিধিবৃন্দ চাদরের কোণা ধরে প্রাচিরের সন্নিকটে নিয়ে যায়। অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজ হাতে হাজরে আসওয়াদ দেয়ালে স্থাপন করেন। সকলেই এ ব্যবস্থা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেয়। আরবের গোত্রগুলি এক ভয়াবহ সংঘর্ষ হতে রক্ষা প্রাপ্ত হয়। (সীরাত বিশ্বকোষ, আছাহহুস সিয়ার)

৩৫-৪০ বছর বয়স মুবারক :
৩৫ বছর বয়স মুবারক থেকে ৪০ বছর বয়স মুবারক পর্যন্ত হেরা পাহাড়ে যাতায়াত করতেন। কয়েক দিনের খাদ্য ও পানীয় সঙ্গে নিয়ে সেখানে অবস্থান করতেন। আল্লাহ পাক উনার মোরাকাবায় ও ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকতেন।

৪০ বছর বয়স মুবারক-এ :
৪০ বছর বয়স মুবারক-এ ওহী নাযিল হওয়ার কিছুকাল পূর্ব থেকে প্রায়ই তিনি মক্কা শরীফ-এর উপকন্ঠে পার্বত্য উপত্যকায় ও বিস্তীর্ণ সমভূমির দিকে চলে যেতেন। তখন গাছ ও পাথর উনাকে সালাম দিত আসসালামু আলাইকা ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। (তিরমিযী শরীফ, ইবনে হিশাম)

নবুওয়াত প্রকাশের সূচনা ছিল এই যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি স্বপ্নে গোপন তত্ত্ব প্রকাশ পেতে লাগলো। উনার স্বপ্নগুলো হুবহু বাস্তবে পরিণত হত। যে স্বপ্ন তিনি দেখতেন তা প্রভাতের সূর্য রশ্মির ন্যায় সত্য হিসেবে প্রতিভাত হত। অতঃপর উনার নিকট একাকিত্ব পছন্দনীয় হলো। তিনি হেরা গুহায় একাকী রাত্রি যাপন করতেন। (বুখারী শরীফ)

কারো কারো মতে- আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওয়াতের পূর্বে সত্য স্বপ্নের ধারাবাহিকতা একাধিক্রমে ৬ মাস অবধি হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একটি হাদীছ শরীফ উল্লেখ করেছেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন : “সত্য স্বপ্ন নুবুওয়তের ছেচল্লিশ অংশের এক অংশ।” (বুখারী শরীফ)

কোন কোন আলিম এর ব্যাখ্যায় বলেন : নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিক নুবুওয়তের সময়কাল ছিল ২৩ বছর। উনার আনুষ্ঠানিক নুবুওয়াত-পূর্ব সত্য স্বপ্নের ধারাবাহিকতা ছিল ৬ মাস। সেই হিসেবে সত্য স্বপ্ন নুবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। (কুতুবুল আলম, আমীরুশ শরীয়ত, মাহতাবে তরীক্বত, সুলত্বানুল আরিফীন, মাহিয়ে বিদয়াত, মুহইস সুন্নাহ, মুজাদ্দিদে যামান, হুজ্জাতুল ইসলাম, তাজুল মুফাসসিরীন, রঈসুল মুহাদ্দিছীন, ফখরুল ফুক্বাহা আলহাজ্জ হযরত মাওলানা শাহ ছূফী আবূল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্বওল শরীফ)

(ইনশাআল্লাহ চলবে)

হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কেউ সরাসরি মাটি থেকে তৈরী নয়

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এর কোথাও
একথা উল্লেখ করেননি যে, “সমস্ত মানুষ মাটির তৈরী” বরং
বলা হয়েছে- “মানুষ মাটির তৈরী।” আর পবিত্র কুরআন শরীফ-
এর যেসব আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে যে, বাশার, ইনসান
বা মানুষ মাটির তৈরী সেসব আয়াত শরীফ দ্বারা মূলত হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনার কথাই বলা হয়েছে। উল্লিখিত আয়াত
শরীফসমূহের ব্যাখ্যায় অনুসরণীয় মুফাসসিরীনে কিরাম
রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এ মতই পেশ করেছেন। নিম্নে
উল্লিখিত আয়াত শরীফসমূহ ও তার ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো-
(১)
ﺍِﻥَّ ﻣَﺜَﻞَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻛَﻤَﺜَﻞِ ﺁﺩَﻡَ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛِﻢَّ ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦ
ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
অর্থ : “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হযরত ঈসা আলাইহিস
সালাম উনার দৃষ্টান্ত হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনারই ন্যায়, তিনি
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছেন। অতঃপর বলেছেন, হয়ে যাও, সঙ্গে সঙ্গে
হয়ে গেলেন।” (সূরা আলে ইমরান : ৫৯)
বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
উনার নির্ভরযোগ্য ও প্রখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর ২য় খণ্ডের ১০২ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ( ﺍِﻥَّ ﻣَﺜَﻞَ ﻋِﻴﺴَﻰ ..…………) ﺩﻟﻴﻞ ﻋﻠﻰ ﺻﺤﺔ ﺍﻟﻘﻴﺎﺱ –
ﻭﺍﻟﺘﺸﺒﻴﻪ ﻭﺍﻗﻊ ﻋﻠﻰ ﺍﻥ ﻋﻴﺲ ﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﻏﻴﺮﺍﺏ ﻛﺎﺩﻡ ﻻ ﻋﻠﻰ ﺍﻧﻪ
ﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ ……………… ﻓﺎﻥ ﺍﺩﻡ ﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ ﻭﻟﻢ ﻳﺨﻠﻖ ﻋﻴﺲ
ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ ﻓﻜﺎﻥ ﺑﻴﻨﻬﻤﺎ ﺍﻧﻬﺎ ﺧﻠﻘﻬﻤﺎ ﻣﻦ ﻏﻴﺮﺃﺏ ………….
অর্থ : “উক্ত আয়াত শরীফখানা ক্বিয়াস সহীহ্ হওয়ার দলীল।
আর উক্ত আয়াত শরীফে যে তাশবীহ বা সাদৃশ্যতা বর্ণনা
করা হয়েছে তা এই যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনার মতই পিতা ছাড়া তৈরী হয়েছেন।
একথা বুঝানো হয় নাই যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনার মতই মাটির তৈরী। ……… হযরত আদম
আলাইহিস সালাম তিনি মাটির তৈরী আর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম
তিনি মাটির তৈরী নন এদিক থেকে উভয়ের মাঝে যদিও
পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু পিতা ছাড়া তৈরী হওয়ার দিক থেকে
উভয়ের মধ্যেই সাদৃশ্যতা বা মিল রয়েছে। ………..”
ইমামুল মুহাদ্দিছীন, আল্লামা ফখরুদ্দীন রাজী রহমতুল্লাহি
আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত ও প্রসিদ্ধ তাফসীরগ্রন্থ
“তাফসীরে কবীর”-এর ৮ম খণ্ডের ৭৯-৮১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ( ﺍِﻥَّ ﻣَﺜَﻞَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻛَﻤَﺜَﻞِ ﺁﺩَﻡَ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ)
……………………… ﺍﺫﺍ ﺟﺎﺯ ﺍﻥ ﻳﺨﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺍﺩﻡ ﻣﻦ ﺍﻟﺘﺮﺍﺏ ﻓﻠﻢ
ﻻﻳﺠﻮﺯ ﺍﻥ ﻳﺨﻠﻖ ﻋﻴﺲ ﻣﻦ ﺩﻡ ﻣﺮﻳﻢ؟ ( ﻣَﺜَﻞَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻛَﻤَﺜَﻞِ
ﺁﺩَﻡَ) ﺍﻯ ﺻﻔﺘﻪ ﻛﺼﻔﺔ ﺍﺩﻡ ……………… ( ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ)
.……………………… ﺍﻟﻀﻤﻴﺮ ﻓﻰ ﻗﻮﻟﻪ ﺧﻠﻘﻪ ﺭﺍﺟﻊ ﺍﻟﻰ ﺍﺩﻡ .
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হযরত ঈসা
আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার
সৃষ্টির ন্যায়। মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।) ….. হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি মাটি থেকে
সৃষ্টি করতে পারেন তবে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে
কেন হযরত মরিয়ম আলাইহাস সালাম উনার রক্ত থেকে সৃষ্টি
করতে পারবেন না? ….. (হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার
মেছাল মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনার ন্যায়) অর্থাৎ হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার ছিফত হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনার ছিফতের ন্যায়। …… (উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে) …. উক্ত আয়াত শরীফ-এ যে
সর্বনাম রয়েছে তা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার দিকে
রুজু হয়েছে বা ফিরেছে। অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, হযরত ঈসা আলাইহিস
সালাম উনাকে নয়।”
শায়খুল মুফাসসিরীন, ফক্বীহুল উম্মত আল্লামা ছানাউল্লাহ
পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার মশহুর তাফসীরগ্রন্থ
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ২য় খণ্ডের ৫৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍِﻥَّ ﻣَﺜَﻞَ ﻋِﻴﺴَﻰ) ﻳﻌﻨﻰ ﺷﺎﻧﻪ ﺍﻟﻐﺮﻳﺐ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻛﻤﺜﻞ ﺍﺩﻡ ﻛﺸﺎﻧﻪ ﺛﻢ
ﻓﺴﺮﻩ ﻭﺑﻴﻦ ﻭﺟﻪ ﺍﻟﺘﺸﺒﻴﻪ – ﻓﻘﺎﻝ ﺧﻠﻘﻪ ﺍﻯ ﺻﻮﺭ ﻗﺎﻟﺒﻪ ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ
ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ .
অর্থ : “নিঃসন্দেহে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার শান মহান
আল্লাহ পাক উনার নিকট হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার শানের
ন্যায়। অতঃপর তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ও সাদৃশ্যতার কারণ বর্ণনা
করেছেন। সুতরাং বলেন, মহান আল্লাহ পাক হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনার ছূরত সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।”
সূরা আলে ইমরান-এর উক্ত আয়াত শরীফ ও তাফসীর দ্বারা
এটাই ছাবিত হলো যে, শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকেই মাটি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্য কাউকে নয়। যদি
হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ছাড়া অন্য কেউ মাটির সৃষ্টি
হতো তবে উক্ত আয়াত শরীফে “হযরত ঈসা আলাইহিস
সালাম উনার সৃষ্টি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার ন্যায়” একথা
বলার পর “ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ” “আমি উনাকে (হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে) সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে” বলতেননা।
বলতেন- “আমি উনাদের উভয়কে সৃষ্টি করেছি মাটি
থেকে।” সুতরাং এখানে সর্বনাম একবচন এনে এটাই
বুঝিয়েছেন যে, শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিই
মাটির সৃষ্টি অন্য কোন মানুষ নয়।
একইভাবে হাদীছ শরীফ-এ “তোমরা সকলেই হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনার সন্তান” বলার পরে আবার “আর আদম
আলাইহিস সালাম তিনি মাটি হতে সৃষ্ট” বলার উদ্দেশ্য একই।
অর্থাৎ শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিই মাটির সৃষ্টি অন্য
কোন মানুষ নয়।
(২)
ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺻَﺎﺣِﺒُﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻳُﺤَﺎﻭِﺭُﻩُ ﺍَﻛَﻔَﺮْﺕَ ﺑِﺎﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻚَ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ
ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﺳَﻮَّﺍﻙَ ﺭَﺟُﻠًﺎ
অর্থ : “তার সঙ্গী তাকে কথা প্রসঙ্গে বললো : তুমি
উনাকে অস্বীকার করছো যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন
মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে অতঃপর পূর্ণাঙ্গ
করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে।” (সূরা কাহাফ : ৩৭)
মুহিয়্যুস্ সুন্নাহ্ আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ
ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি
তিনি উনার প্রখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য়
খণ্ডের ১৯৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺧَﻠَﻘَﻚَ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﺍﻯ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻚ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ ﻻﻥ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻪ ﺳﺒﺐ
ﻓﻰ ﺧﻠﻘﻪ
অর্থ : “(তোমাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ
তোমার আছল (হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছেন। কেননা উনার আছলের সৃষ্টি উনার
সৃষ্টির কারণ।”
তাজুল মুফাসসিরীন আল্লামা আবুল ফজল শিহাবুদ্দীন সাইয়্যিদ
মাহমুদ আলুসী বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত
তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে রুহুল মায়ানী”-এর ৮ম খণ্ডের
২৭৬ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﺧَﻠَﻘَﻚَ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﺍﻯ ﻓﻰ ﺿﻤﻦ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻚ ﻣﻨﻪ ﻭﻫﻮ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তিনি তোমাকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ
তোমার আছল উনাকে আর তিনি হলেন হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
প্রখ্যাত মুফাসসির ফক্বীহুল আছর, আল্লামা ছানাউল্লাহ্
পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার প্রসিদ্ধ
তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে মাযহারী”- এর ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৩৫
পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺧَﻠَﻘَﻚَ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﻻﻧﻪ ﺍﺻﻞ ﻣﺎﺩ ﻧﻚ ﺍﻭﻣﺎﺩﺓ ﺍﺻﻠﻚ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তিনি তোমাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন)
কেননা তোমার মাদ্দার আছল অথবা তোমার আছলের মাদ্দাহ্
হলেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি।”
শাইখুল মুফাসসিরীন আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি
আলাইহি তিনি উনার মশহুর তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে
সামারকান্দী”-এর ২য় খণ্ডের ২৯৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺻَﺎﺣِﺒُﻪُ) ﺍﻯ ﺍﺧﺎﻩ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ( ﻭَﻫُﻮَ ﻳُﺤَﺎﻭِﺭُﻩُ) ﺍﻯ ﻳﻜﻠﻤﻪ ﻭﻳﻌﻈﻪ
ﻓﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ (ﺍَﻛَﻔَﺮْﺕَ ﺑِﺎﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻚَ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তাকে তার সাথী বলেন) অর্থাৎ তার মুসলমান ভাই
বলেন। তিনি তার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্পর্কে
নছীহত করছিলেন। যিনি তোমাকে অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
তাজুল মুফাসসিরীন আল্লামা ইমাম ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি
আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে রুহুল
বয়ান”-এর ৫ম খণ্ডের ২৪৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺑِﺎﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻚَ ) ﺍﻯ ﻓﻰ ﺿﻤﻦ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻚ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ
ﺗُﺮَﺍﺏٍ )
অর্থ : “(যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ তোমার
আছল হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছেন।”
সূরা কাহাফ-এর উক্ত আয়াত শরীফ ও তাফসীর দ্বারাও প্রমাণিত
হলো যে, “মহান আল্লাহ পাক তিনি শুধুমাত্র হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকেই মূলত মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। তাই
মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও আয়াত শরীফ-
এ বর্ণিত “ ﺧَﻠَﻘَﻚَ” “তোমাকে সৃষ্টি করেছেন” এ বাক্যের
অর্থ করেছেন- “হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি
করেছেন মাটি থেকে” যেহেতু শুধুমাত্র আদম আলাইহিস
সালাম তিনিই মাটির সৃষ্টি।
(৩)
ﻓَﺎِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦْ ﻋَﻠَﻘَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻣُّﻀْﻐَﺔٍ
ﻣُّﺨَﻠَّﻘَﺔٍ ﻭَﻏَﻴْﺮِ ﻣُﺨَﻠَّﻘَﺔٍ ﻟِّﻨُﺒَﻴِّﻦَ ﻟَﻜُﻢْ
অর্থ : “(হে লোক সকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের
ব্যাপারে সন্দিহান হও, তবে (ভেবে দেখ) আমি
তোমাদেরকে মাটি থেকে, সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য
থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে এরপর পূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট ও
অপূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট গোস্ত পিন্ড থেকে। তোমাদের কাছে
ব্যক্ত করার জন্যে।” (সূরা হজ্জ : ৫)
ফক্বীহুল আছর, প্রখ্যাত মুফাসসির আল্লামা আবুল লাইছ
সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ২য় খণ্ডের ৩৮০ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻓَﺎِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢ ..………… ) ﺍﻯ ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﺍﻟﺬﻯ ﻫﻮ ﺍﺻﻞ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﻳﻌﻨﻰ
ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦْ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ( ﺛُﻢَّ) ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺫﺭﻳﺒﻪ ( ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ) ﻭﻫﻮ
ﺍﻟﻤﻨﻰ
অর্থ : “(আর নিঃসন্দেহে আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি
করেছি) অর্থাৎ তোমাদের পিতা যিনি মানবজাতীর মূল অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।
অতঃপর উনার সন্তানদেরকে “নুতফা” অর্থাৎ বীর্য থেকে
সৃষ্টি করেছি।”
ইমামুল মুফাসসিরীন, আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি
তিনি উনার বিখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৬ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻓَﺎِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছি) অর্থাৎ আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য় খণ্ডের
২৮১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻓَﺎِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﺍﺩﻡ ﺍﻟﺬﻯ ﻫﻮ ﺍﺻﻞ ﺍﻟﺒﺸﺮ ( ﺛُﻢَّ
ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺫﺭﻳﺘﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻨﻰ
অর্থ : “(আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি)
অর্থাৎ তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছি। যিনি মানব জাতির মূল। (অতঃপর নুতফা
থেকে) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার
সন্তানদেরকে বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা হুসাইন ইবনে মাসউদ আল ফাররা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
উনার “তাফসীরে বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ২৮১ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻓَﺎِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢ ) ﺍﻯ ﺍﺑﺎﻛﻢ ( ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ) ﺧﻠﻘﺘﻢ ( ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦْ
ﻋَﻠَﻘَﺔٍ) ﺍﻯ ﻗﻄﻌﺔ ﺩﻡ ﺟﺎﻣﺪﺓ ( ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻣُّﻀْﻐَﺔٍ) ﺍﻯ ﻟﺤﻤﺔ ﺻﻐﻴﺮﺓ ﻗﺪﺭ
ﻣﺎﻳﻤﻀﻊ
অর্থ : “আমি তোমাদেরকে অর্থাৎ তোমাদের পিতা উনাকে
মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তোমাদেরকে সৃষ্টি
করেছি নুতফা ও ছোট গোস্তপিন্ড থেকে।”
সূরা হজ্জ-এ বর্ণিত উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও তার ব্যাখ্যা
দ্বারা এটাই ছাবিত হলো যে, কুরআন শরীফে যে বলা
হয়েছে “মানুষ মাটির সৃষ্টি” তা দ্বারা মূলত হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র হযরত আদম
আলাইহিস সালাম তিনিই মাটি থেকে সৃষ্টি। আদম সন্তানগণ মাটি
থেকে সৃষ্টি নয়।
(৪)
ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﺍِﺫَﺍ ﺃَﻧﺘُﻢ ﺑَﺸَﺮٌ ﺗَﻨﺘَﺸِﺮُﻭﻥَ
অর্থ : “উনার নিদর্শনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন এই যে, তিনি
মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা
মানুষ পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছো।” (সূরা রূম :২০)
আল্লামা আবুল লাইছ সমরকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ .……) ﻳﻌﻨﻰ ﺧﻠﻖ ﺍﺩﻡ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ ﻭﺍﻧﺘﻢ ﻭﻟﺪﻩ –
( ﺛُﻢَّ ﺍِﺫَﺍ ﺃَﻧﺘُﻢ ) ﺫﺭﻳﺘﻪ ﻣﻦ ﺑﻌﺪﻩ (ﺑَﺸَﺮٌ ﺗَﻨﺘَﺸِﺮُﻭﻥَ) ﻳﻌﻨﻰ ﺗﺒﺴﻄﻮﻥ
অর্থ : “(তিনি মাটি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন)
অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি
মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর তোমরা হলে উনার
সন্তান, উনার পরে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছো।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য়
খণ্ডের ৪৩১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﺍﻯ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﻭﻫﻮ ﺍﺩﻡ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ – ( ﺛُﻢَّ
ﺍِﺫَﺍ ﺃَﻧﺘُﻢ ﺑَﺸَﺮٌ ﺗَﻨﺘَﺸِﺮُﻭﻥَ) ﺍﻯ ﺗﺒﺴﻄﻮﻥ ﻓﻰ ﺍﻻﺭﺽ
অর্থ : “(তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন)
অর্থাৎ তোমাদের ‘আছল’ হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমরা
যমীনে ছড়িয়ে পড়েছ মানুষ হিসেবে।”
আল্লামা ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ৪৩১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ) ﺍﻯ ﺍﺑﺎﻛﻢ ( ﻣِﻦْ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﺍِﺫَﺍ ﺃَﻧﺘُﻢ ﺑَﺸَﺮٌ) ﺍﻯ ﺍﺩﻡ ﻭﺫﺭﻳﺘﻪ
(ﺗَﻨﺘَﺸِﺮُﻭﻥَ )
অর্থ : “তিনি তোমাদেরকে অর্থাৎ তোমাদের পিতা (হযরত
আদম আলাইহিস সালাম) উনাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।
অতঃপর তোমরা অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ও উনার
সন্তান যমীনে ছড়িয়ে পড়েছে।”
আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর খণ্ডের ১৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ( ﻭَﻣِﻦْ ﺁﻳَﺎﺗِﻪِ ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﺍﻯ ﻣﻦ ﻋﻼﻣﺘﻪ ﺭﺏ
ﺑﻴﺘﻪ ﻭ ﻭﺣﺪﺍ ﻧﻴﺘﻪ ﺍﻥ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ. ﺍﻯ ﺧﻠﻖ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﻣﻨﻪ
অর্থ : “(মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন সমূহের মধ্যে একটি
নিদর্শন এই যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার
রুবুবিয়্যাত ও অহদানিয়্যাত-এর নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের
পিতা (হযরত আদম আলাইহিস সালাম) উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছেন।”
আল্লামা ছানাউল্লাহ্ পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ২২৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﺍﻯ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﺍﺩﻡ ﻣِﻦْ ﺗُﺮَﺍﺏٍ
অর্থ : “তিনি তোমাদেরকে অর্থাৎ তোমাদের আছল হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
সূরা রূম-এ বর্ণিত উক্ত আয়াত শরীফের তাফসীর দ্বারাও
সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, “মানুষ মাটির তৈরী” বলতে হযরত
আদম আলাইহিস সালাম তিনিই উদ্দেশ্য, হযরত মুফাসসিরীনে
কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ব্যাখ্যা দ্বারা এটাই প্রমাণিত
হয়।
(৫)
ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﺟَﻌَﻠَﻜُﻢْ ﺍَﺯْﻭَﺍﺟًﺎ
অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি
করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, তারপর
করেছেন তোমাদেরকে যুগল।” (সূরা ফাতির : ১১)
আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ্ মুহম্মদ ইবনে আহ্মদ আনছারী
কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে কুরতুবী”-এর
৭ম খণ্ডের ৩৩২ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﻗﺎﻝ ﺳﻌﻴﺪ ﻋﻦ ﻗﺘﺎﺩﺓ ﻗﺎﻝ- ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﺍﻟﺘﻘﺪﻳﺮ ﻋﻠﻰ ﻫﺬﺍ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ
অর্থ : “(মহান আল্লাহ্ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে
সৃষ্টি করেছেন) হযরত সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত
ক্বাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করে
বলেন, অর্থাৎ (মহান আল্লাহ পাক তিনি) হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে (মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন)। আয়াত
শরীফে ﺍﺻﻞ “আছল” শব্দ উহ্য রয়েছে।”
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ৮২ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﻫﻮ ﺍﺻﻞ ﺍﻟﺨﻠﻖ
( ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺧﻠﻘﻜﻢ ﻣﻦ ﻧﻄﻔﺔ ( ﺛُﻢَّ ﺟَﻌَﻠَﻜُﻢْ ﺍَﺯْﻭَﺍﺟًﺎ ) ﻳﻌﻨﻰ
ﺍﺻﻨﺎﻓﺎ ﺫﻛﺮﺍ ﻭﺍﻧﺜﻰ
অর্থ : “(মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে
সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে
মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর তিনিই হলেন মানব সৃষ্টির
মূল। অতঃপর তোমাদেরকে (হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার
সন্তানদেরকে) নুতফা থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর
তোমাদেরকে পুরুষ-মহিলায় বিভক্ত করেছেন।”
আল্লামা ছহিবে খাযিন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
খাযিন”-এর ৩য় খণ্ডের ৪৯৬ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ )
ﻳﻌﻨﻰ ﺫﺭﻳﺘﻪ
অর্থ : (মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে
সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সন্তানদেরকে নুতফা
থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
আল্লামা বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি “তাফসীরে বাগবী”-এর
৩য় খণ্ডের ৪৯৬ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ) ﺍﻯ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ
অর্থ : মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে অর্থাৎ
তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছেন।
“তাফসীরে কাদেরী”-এর ২য় খণ্ডের ২৭৮ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ আছে,
( ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ) ﺍﻭﺭ ﺍﻟﻠﮧ ﻧﮯ ﭘﯿﺪﺍ ﮐﯿﺎ ﺗﻢ ﺗﻢ ﮐﻮﯾﻌﻨﯽ ﺗﻤﮭﺎﺭﮮ ﺑﺎﭖ ﺍﺩﻡ
ﻋﻠﯿﮧ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﮐﻮ ( ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﻣﭩﯽ ﺳﮯ –
অর্থ : “….. আর মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে অর্থাৎ
তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
সূরা ফাতির-এ উল্লিখিত উক্ত আয়াত শরীফ ও তার তাফসীর বা
ব্যাখ্যা দ্বারাও বুঝা গেল যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিই
শুধুমাত্র মাটি থেকে সৃষ্টি আর উনার সন্তানগণ নুতফা থেকে
কুদরতীভাবে সৃষ্টি হয়েছেন। তাই মুফাসসিরীনে কিরাম
রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা “ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢْ” শব্দের ব্যাখ্যায় “ﺍَﺑِﺎﻛُﻢْ ”
অর্থাৎ তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে
সৃষ্টি করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
(৬)
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦْ ﻋَﻠَﻘَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻳُﺨْﺮِﺟُﻜُﻢْ
ﻃِﻔْﻞً
অর্থ : “ঐ মহান আল্লাহ পাক যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি
করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর নুতফা (বীর্য) থেকে,
অতঃপর জমাট রক্ত থেকে, অতঃপর তোমাদেরকে বের
করেন শিশুরূপে।” (সূরা মু’মিন : ৬৭)
আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল বয়ান”-এর ৮ম খণ্ডের ২০৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﺍﻟﻤﻌﻨﻰ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ
অর্থ : “(ঐ মহান আল্লাহ পাক যিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে
সৃষ্টি করেছেন) ….এ আয়াত শরীফের সঠিক অর্থ হলো
মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের আছল হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৪র্থ
খণ্ডের ৭৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(যিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন)
অর্থাৎ তোমাদের ‘আছল’ হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
“তাফসীরে কাদেরী”-এর ২য় খণ্ডের ৩৫৪ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ আছে,
( ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﻭﮦ ﮬﮯ ﺟﺴﮯ “ ﺧﻠﻘﮑﻢ” ﭘﯿﺪﺍ ﮐﯿﺎ ﺗﻤﮭﺎﺭﮮ
ﺩﺍﺩﺍ ﺍﺩﻡ ﮐﻮ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ “ ﺧﺎﮎ ﺳﮯ ”
অর্থ : “……… ঐ মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের দাদা হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
সূরা মু’মিন-এর উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও উনার ব্যাখ্যা দ্বারাও
প্রমাণিত হলো যে, আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকেই শুধুমাত্র সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
অন্য কাউকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়নি।
(৭)
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ ﺛُﻢَّ ﻗَﻀَﻰ ﺃَﺟَﻼً ﻭَﺃَﺟَﻞٌ ﻣُّﺴﻤًّﻰ ﻋِﻨﺪَﻩُ ﺛُﻢَّ
ﺃَﻧﺘُﻢْ ﺗَﻤْﺘَﺮُﻭﻥَ
অর্থ : “সেই মহান আল্লাহ পাক যিনি তোমাদেরকে মাটির
থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর নির্দিষ্টকাল নির্ধারণ
করেছেন। আর এক নির্দিষ্টকাল মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট
রয়েছে, তথাপি তোমরা সন্দেহ কর।” (সূরা আনয়াম : ২)
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ২য়
খণ্ডের ৩য় পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﻧﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺧﻠﻖ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻣﻦ
ﻃﻴﻦ ﻭﺍﻧﻤﺎ ﺧﺎﻃﺐ ﺫﺭﻳﺘﻪ ﺑﺬﺍﻟﻚ ﻻﻧﻪ ﺍﺻﻠﻬﻢ ﻭﻫﻢ ﻣﻦ ﻧﺴﻠﻪ
অর্থ : “…….. (মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।
আর এ কারণেই উনার সন্তানদেরকে মাটির সৃষ্টি বলা
হয়েছে, কেননা হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিই হচ্ছেন
তাদের আছল, আর তারা উনার ‘আছল’ থেকে সৃষ্টি
হয়েছে।”
আল্লামা ছানাউল্লাহ পানিপথি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
মাযহারী”তে লিখেন,
( ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺑﺘﺪﺃ ﺧﻠﻘﻜﻢ ﻣﻨﻪ ﺣﻴﺚ ﺧﻠﻖ ﻣﻨﻪ
ﺍﺻﻠﻜﻢ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺍﻭ ﺍﻟﻤﻌﻨﻰ ﺧﻠﻖ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﺍﺩﻡ ﺑﺤﺬﻑ
ﺍﻟﻤﻀﺎﻑ
অর্থ : “(মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে
সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টির সূচনা
করেছেন তোমাদের আছল হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করার মাধ্যমে। অথবা উক্ত আয়াত
শরীফের অর্থ হলো তোমাদের পিতা হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। এখানে
‘মোজাফ’ উহ্য রয়েছে।”
সূরা আনয়াম-এর উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও তার তাফসীর বা
ব্যাখ্যাও প্রমাণ করে যে, আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস
সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কোন মানুষই মাটির সৃষ্টি নয়।
(৮)
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺳُﻠَﺎﻟَﺔٍ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি
করেছি।” (সূরা মু’মিনুন : ১২)
আল্লামা আবুল লাইছ সমরকন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ২য় খণ্ডের ৪০৯ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺳُﻠَﺎﻟَﺔٍ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦ) ﺣﻀﺮﺕ ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ
ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻜﺒﻰ ﻭﻣﻘﺎﺗﻞ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি
করেছি) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে (মাটির সারাংশ
থেকে সৃষ্টি করেছি)। ক্বালবী ও মাকাতিল রহমতুল্লাহি
আলাইহিমা উনাদের অভিমত এটাই।”
আল্লামা ক্বাজী ছানাউল্লাহ্ পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৩৬৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ) ﺍﻟﺠﻨﺲ ( ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ) ﺍﻭ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﺳُﻠَﺎﻟَﺔٍ
ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ )
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি মানুষের জিন্স অথবা হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ্ মুহম্মদ ইবনে আহমদ আনছারী আল
কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে কুরতুবী”-এর
৬ষ্ঠ খণ্ডের ১০৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ) ﺍﻻﻧﺴﺎﻥ ﻫﻨﺎ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﻗﺎﻟﻪ
ﻗﺘﺎﺩﺓ ﻭﻏﻴﺮﻩ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি
করেছি) এখানে “ ﺍِﻧْﺴَﺎﻥَ” ‘মানুষ’ দ্বারা হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে বুঝানো হয়েছে। হযরত ক্বাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু তিনি এবং অন্যান্য মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি
আলাইহিম উনারা এরূপই বলেছেন।”
আল্লামা ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ৩০১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ) ﺍﻯ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি (মাটির সারাংশ
থেকে)।”
সূরা মু’মিনুন-এর উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও তার ব্যাখ্যা এটাই
প্রমাণ করে যে, সকল মানুষের পিতা হযরত আদম আলাইহিস
সালাম তিনিই সরাসরি মাটির সৃষ্টি। উনার সন্তানগণ মাটির সৃষ্টি নয়। যার
কারণে মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা উক্ত
আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত “ﺍِﻧْﺴَﺎﻥَ ” শব্দ দ্বারা হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকেই বুঝিয়েছেন।
(৯)
ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃَﺣْﺴَﻦَ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲْﺀٍ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ
অর্থ : “যিনি উনার প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং
কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন।” (সূরা সিজদাহ্ : ৭)
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ২৯ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺧﻠﻖ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻦ ﻃﻴﻦ
ﻣﻦ ﺍﺩﻳﻢ ﺍﻻﺭﺽ
অর্থ : “(তিনি কাদামাটি থেকে মানুষ সৃষ্টির সূচনা) অর্থাৎ হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনাকে যমীনের কাদামাটি থেকে সৃষ্টি
করেছেন।”
আল্লামা ছানাউল্লাহ্ পানিপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ২৬৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ
অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক তিনি কাদামাটি দ্বারা মানুষ অর্থাৎ হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করা শুরু করেন।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য় খণ্ডের
৪৪৫ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “তিনি কাদামাটি থেকে মানুষ। অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনার সৃষ্টির সূচনা করেন।”
আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর ৭ম খণ্ডের ৯০ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তিনি কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেন) অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে কাদামাটি থেকে সৃষ্টি করা
শুরু করেন।”
আল্লামা ইমাম আবুল ফাররা আল বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ৪৪৫ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ) ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ )
অর্থ : “তিনি কাদামাটি দ্বারা মানুষ অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে সৃষ্টির সূচনা করেন।”
আল্লামা আলুসী বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল মায়ানী”-এর ১১তম খণ্ডের ১২৩ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ) ﺍﻯ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ )
অর্থ : “(তিনি মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেন) অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিসি সালাম উনাকে সৃষ্টি করা শুরু করেন কাদামাটি থেকে।”
আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল বয়ান”-এর ৭ম খণ্ডের ১১১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ) ………………… ﻫﻮ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﺍﺑﻮ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তিনি কাদামাটি থেকে মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেন)
………………. (উক্ত মানুষ হলেন) সকলেরই পিতা হযরত আদম
আলাইহিস সালাম।”
সূরা সিজদা-এর উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও ব্যাখ্যা দ্বারাও
দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে,
শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই মহান আল্লাহ পাক
তিনি সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।
(১০)
ﺍِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻫُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ ﻟَّﺎﺯِﺏٍ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল
মাটি থেকে।” (সূরা সাফফাত : ১১)
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ১১২ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﺍِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻫُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ ﻟَّﺎﺯِﺏٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল
মাটি থেকে) অর্থাৎ আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে
সৃষ্টি করেছি এঁটেল মাটি থেকে।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৪র্থ
খণ্ডের ১৫ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻫُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ ﻟَّﺎﺯِﺏٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻦ
ﻃﻴﻦ ﺟﺪﻳﺪ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি আল্লাহ পাকই তাদেরকে অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল মাটি
থেকে।”
আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল বয়ান”-এর ৭ম খণ্ডের ৪৫১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻫُﻢْ) ﺍﻯ ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺍﺻﻠﻬﻢ ﻫﻮ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦْ
ﻃِﻴﻦٍ ﻟَّﺎﺯِﺏٍ )
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি তাদের ‘আছল’ অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে এঁটেল মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।”
(১১)
ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻟِﻠْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔِ ﺇِﻧِّﻲ ﺧَﺎﻟِﻖٌ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ
অর্থ : “যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেস্তাগণকে বললেন,
আমি মাটির মানুষ সৃষ্টি করবো।” (সূরা ছোয়াদ : ৭১)
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ১৪১ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ আছে,
( ﺇِﻧِّﻲ ﺧَﺎﻟِﻖٌ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(নিশ্চয়ই আমি সৃষ্টি করবো মাটি থেকে বাশার) অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৪র্থ
খণ্ডের ৪৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺇِﻧِّﻲ ﺧَﺎﻟِﻖٌ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “নিশ্চয়ই আমি মাটি থেকে “বাশার” অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করবো।”
“তাফসীরে ক্বাদেরী”-এর ২য় খণ্ডের ৩২৩ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
” ﺇِﻧِّﻲ ﺧَﺎﻟِﻖٌ” ﻣﯿﮟ ﭘﯿﺪﺍ ﮐﺮﻧﮯ ﻭﺍﻻﻫﻮ ” ﺑَﺸَﺮًﺍ ” ﺑﺸﺮ ﻛﻮ “ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ ”
ﻣﭩﯽ ﺳﮯ
অর্থ : “নিশ্চয়ই আমি মাটি থেকে “বাশার” সৃষ্টি করবো।
এখানে “বাশার” দ্বারা উদ্দেশ্যে হলো- হযরত আদম
আলাইহিস সালাম তিনি।”
(১২)
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻣِّﻦْ ﺣَﻤَﺈٍ ﻣَّﺴْﻨُﻮﻥٍ
অর্থ : “আমি মানুষকে পচা কাঁদা থেকে তৈরী শুকনো ঠন
ঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি।” (সূরা হিজর : ২৬)
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ২য় খণ্ডের ২১৮ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻣِّﻦْ ﺣَﻤَﺈٍ ﻣَّﺴْﻨُﻮﻥٍ ) ﺍﻯ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ
ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি ইনসান অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে ঠনঠনে শুকনো মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য়
খণ্ডের ৯৪ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻓﻰ ﻗﻮﻝ ﺟﻤﻴﻊ
ﺍﻟﻤﻔﺴﺮﻳﻦ .…… “ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ” ﻳﻌﻨﻰ ﻣﻦ ﺍﻟﻄﻴﻦ ﺍﻟﻴﺎﺑﺲ .
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে ঠনঠনে শুকনো মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছি। এটা সকল মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
উনাদের ক্বওল।”
আল্লামা ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ৯৪ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ) ﺍﻯ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ )
ﻃﻴﻦ ﻳﺎﺑﺲ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি ইনসানকে অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে শুকনো মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর ৫ম খণ্ডের ২১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ )
ﺍﻯ ﻃﻴﻦ ﻳﺎﺑﺲ ﻋﻦ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻭﻏﻴﺮﻩ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি শুকনো মাটি
থেকে। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ও
অন্যান্য মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের
থেকে এরূপ ব্যাখ্যাই বর্ণিত হয়েছে।”
“তাফসীরে ক্বাদেরী”-এর ১ম খণ্ডের ৫০০ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ আছে,
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ- ﺍﻭﺭ ﮨﮯ ﺷﺒﻪ ﻛﻴﺎ ﻫﻤﻨﮯ ﺍﻻﻧﺴﺎﻥ ﺍﻧﺴﺎﻥ ﻛﻮ ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ
ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻛﻮ “ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ” ﺧﺸﻚ ﻣﭩﻰ ﺳﮯ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি ইনসানকে অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি শুকনো মাটি থেকে।”
(১৩)
ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻛَﺎﻟْﻔَﺨَّﺎﺭِ
অর্থ : “তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায়
শুকনো মাটি দ্বারা।” (সূরা আর রহমান : ১৪)
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ৩০৬ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ) ﻳﻌﻨﻰ
ﺍﻟﻄﻴﻦ ﺍﻟﻴﺎﺑﺲ
অর্থ : “(তিনি ইনসান) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে
সৃষ্টি করেছেন (ছালছাল) অর্থাৎ শুকনো মাটি থেকে।”
আল্লামা ছানাউল্লাহ্ পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ৯ম খণ্ডের ১৪৮ পৃষ্ঠায় লিখেন,
“ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ” ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ “ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ” ﺍﻯ
ﻃﻴﻦ ﻳﺎﺑﺲ
অর্থ : “তিনি ইনসানকে অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে “ছালছাল” অর্থাৎ শুকনো মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছেন।”
(১৪)
ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ﻭَﻓِﻴﻬَﺎ ﻧُﻌِﻴﺪُﻛُﻢْ ﻭَﻣِﻨْﻬَﺎ ﻧُﺨْﺮِﺟُﻜُﻢْ ﺗَﺎﺭَﺓً ﺃُﺧْﺮَﻯ
অর্থ : “মাটি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি। তাতেই
তোমাদেরকে ফিরাবো এবং তা থেকে পুনরায়
উঠাবো।” (সূরা ত্ব-হা : ৫৫)
আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল বয়ান”-এর ৫ম খণ্ডের ৩৯৬ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ) ﺍﻯ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ ( ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ) ﺑﻮﺍﺳﻄﺔ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﺍﻻﻓﻤﻦ ﻋﺪﺍ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻭ ﺣﻀﺮﺕ ﺣﻮﺍﺀ ﻋﻠﻴﻬﻤﺎ ﺍﻟﺴﻼﻡ
ﻣﺨﻠﻮﻕ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻄﻔﺔ
অর্থ : “(তা থেকে) অর্থাৎ যমীন থেকে
(তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি) তোমাদের মূল হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করার মাধ্যমে। আর হযরত আদম
আলাইহিস সালাম ও হযরত হাওয়া আলাইহিস সালাম উনারা ব্যতীত
সকলেই ‘নুতফা’ থেকে সৃষ্ট।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য়
খণ্ডের ২৪০ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ) ﺍﻯ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তোমাদেরকে তা থেকে) অর্থাৎ যমীন
থেকে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা আবুল ফাররা আল বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ২৪০ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ) ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ (ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ) ﺍﻯ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : (তা থেকে) অর্থাৎ যমীন থেকে
(তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ তোমাদের পিতা
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ২য় খণ্ডের ৩৪৬ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﺧﻠﻘﻨﺎﻩ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ ( ﻓِﻴﻬَﺎ ﻧُﻌِﻴﺪُﻛُﻢْ ) ﺍﻯ ﺑﻌﺪ
ﻣﻮﺗﻜﻢ ( ﻭَﻣِﻨْﻬَﺎ ﻧُﺨْﺮِﺟُﻜُﻢْ ) ﻳﻌﻨﻰ ﻧﻌﻴﻜﻢ ﻭﻧﺨﺮ ﺟﻜﻢ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ (ﺗَﺎﺭَﺓً
ﺃُﺧْﺮَﻯ)
অর্থ : (তা থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ
আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছি। (সেখানেই প্রত্যাবর্তন করবে) মৃত্যুর পর (সেখান
থেকে) তোমাদের পুনরায় উঠানো হবে, অর্থাৎ জীবিত
করা হবে।”
আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর ৬ষ্ঠ খণ্ডের ২১০ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻻﻧﻪ ﺧﻠﻖ ﻣﻦ
ﺍﻻﺭﺽ ﻗﺎﻟﻪ ﺍﺑﻮ ﺍﺳﺤﺎﻕ ﺍﻟﺰﺟﺎﺝ ﻭﻏﻴﺮﻩ
অর্থ : “(তা থেকে তোমাদেরকে) অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। কেননা
হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি মাটি থেকে সৃষ্ট।”
আল্লামা আলুসী বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল মায়ানী”-এর ৯ম খণ্ডের ২০৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ) ﺍﻯ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ ( ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ) ﺍﻯ ﻓﻰ ﺿﻤﻦ ﺧﻠﻖ ﺍﺑﻴﻜﻢ ﺣﻀﺮﺕ
ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻨﻬﺎ
অর্থ : “(তা থেকে) অর্থাৎ মাটি থেকে (তোমাদেরকে)
অর্থাৎ তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে
সৃষ্টি করার মাধ্যমে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি।”
সূরা ত্ব-হা-এর উক্ত আয়াত শরীফ ও তার তাফসীর দ্বারাও
প্রমাণিত হলো যে, শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম সরাসরি
মাটির তৈরী। আর কোন মানুষই মাটির তৈরী নয়।
উপরোক্ত বিস্তারিত ও দলীল ভিত্তিক আলোচনা দ্বারা
সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, যারা বলে থাকে, “কুরআন
শরীফের বহুস্থানে বলা হয়েছে সকল মানুষ মাটির তৈরী।
তাই সকল মানুষ মাটির তৈরী” তাদের একথা সম্পূর্ণই ভুল। কারণ
বিশ্বখ্যাত ও অনুসরণীয় মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি
আলাইহিম উনাদের সর্বসম্মত অভিমত হলো- “কুরআন
শরীফের যেসব আয়াত শরীফ-এ ‘মানুষ’ মাটির তৈরী বলা
হয়েছে” সেসব আয়াত শরীফ-এ উল্লিখিত “মানুষ” দ্বারা
উদ্দেশ্যে হলো “হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি।” কারণ
শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই মহান আল্লাহ পাক
তিনি সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। বিশ্ববিখ্যাত
“তাফসীরগ্রন্থ” সমূহের বর্ণনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়। সাথে
সাথে এটাও প্রমাণিত হলো যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম
তিনি ব্যতীত অন্য কেউ সরাসরি মাটি থেকে তৈরী নয়, বরং
মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতে তৈরী। অর্থাৎ মহান আল্লাহ্ পাক
উনার কুদরতে প্রত্যেকেই তার মা-এর রেহেম শরীফে
কুদরতীভাবে তৈরী।
আর সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন,
ﺫَﻟِﻚَ ﻋَﺎﻟِﻢُ ﺍﻟْﻐَﻴْﺐِ ﻭَﺍﻟﺸَّﻬَﺎﺩَﺓِ ﺍﻟْﻌَﺰِﻳﺰُ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢُ . ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃَﺣْﺴَﻦَ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲْﺀٍ
ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ. ﺛُﻢَّ ﺟَﻌَﻞَ ﻧَﺴْﻠَﻪُ ﻣِﻦ ﺳُﻠَﺎﻟَﺔٍ ﻣِّﻦ
ﻣَّﺎﺀ ﻣَّﻬِﻴﻦٍ .
অর্থ : “তিনিই দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, পরাক্রমশালী, পরম
দয়ালু যিনি উনার প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং
কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তিনি (মহান
আল্লাহ পাক) উনার বংশধর সৃষ্টি করেন সম্মানিত পানির নির্যাস
থেকে।” (সূরা সাজদা : ৬, ৭, ৮)
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤَﺎﺀ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻓَﺠَﻌَﻠَﻪُ ﻧَﺴَﺒًﺎ ﻭَﺻِﻬْﺮًﺍ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻗَﺪِﻳﺮًﺍ .
অর্থ : “তিনি পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন মানবকে অতঃপর
তাকে রক্তগত, বংশ ও বৈবাহিক সম্পর্কশীল করেছেন।
আপনার পালনকর্তা তিনি সবকিছু করতে সক্ষম।” (সূরা ফুরক্বান :
৫৪)
ﺃَﻟَﻢْ ﻧَﺨْﻠُﻘﻜُّﻢ ﻣِّﻦ ﻣَّﺎﺀ ﻣَّﻬِﻴﻦٍ .
অর্থ : “আমি কি তোমাদেরকে সম্মানিত পানি হতে সৃষ্টি
করিনি।” (সূরা মুরসালাত : ২০)
ﻓَﻠْﻴَﻨﻈُﺮِ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥُ ﻣِﻢَّ ﺧُﻠِﻖَ. ﺧُﻠِﻖَ ﻣِﻦ ﻣَّﺎﺀ ﺩَﺍﻓِﻖٍ .
অর্থ : “অতএব, মানুষের দেখা উচিত, সে কি বস্তু হতে সৃষ্টি
হয়েছে। সে সৃষ্টি হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি
থেকে।” (সূরা ত্বারিক্ব : ৫, ৬)
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳُﺼَﻮِّﺭُﻛُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺣَﺎﻡِ ﻛَﻴْﻒَ ﻳَﺸَﺎﺀ .
অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করে
থাকেন মায়ের রেহেম শরীফে যেভাবে ইচ্ছা।” (সূরা
আলে ইমরান : ৬)
অতএব প্রমাণিত হলো যে, সমস্ত মানুষ কুদরতীভাবে মা-এর
রেহেম শরীফে সৃষ্টি হয়ে থাকেন। কেউই সরাসরি মাটি
থেকে সৃষ্টি হননা। যারা বলে, ‘সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি হয়’
তাদের বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে কুরআন শরীফ-সুন্নাহ শরীফ-
এর খিলাফ যা তাফসীর বির রায় হওয়ার কারণে সম্পূর্ণরূপে
কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
কোন মুসলমান কুফরী করলে সে কাফির ও মুরতাদ হয়ে
যায়। শরীয়তে মুরতাদের হুকুম ও ফায়সালা হচ্ছে, “মুরতাদের
স্ত্রী তালাক হয় যদি সে বিবাহিত হয়ে থাকে, হজ্জ বাতিল হয়
যদি সে হজ্জ করে থাকে; এবং সে কাফির হয়। অর্থাৎ তার
সমস্ত নেক আমল বিনষ্ট হয়ে যায়, তওবা না করা পর্যন্ত সে
ঈমানদার হবেনা। বিবাহ না দোহরালে স্ত্রীর সাথে সংসার করা
যাবেনা। যদি সংসার করে তবে যিনাকারীর গুনাহ্ হবে। সন্তান
হলে তা হালাল হবেনা। যদি হজ্জের সামর্থ থাকে তবে
পুনরায় তাকে হজ্জ করতে হবে, যদিও সে পূর্বে হজ্জ
করে থাকে। তা না করলে কবীরা গুনাহ্ হবে। তার
ওয়ারিশসত্ত্ব বাতিল হয়ে যাবে। তাকে তিন দিন সময় দেয়া
হবে তওবা করার জন্য। যদি তওবা করে, তবে ক্ষমা করা
হবে। অন্যথায় তার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড।
কেননা হাদীছ শরীফে রয়েছে, “তিন কারণে মৃত্যুদন্ড
দেয়া জায়িয। যথা-
(ক) ঈমান আনার পর কুফরী করলে অর্থাৎ মুরতাদ হলে।
(খ) ঐ যিনাকার বা যিনাকারিনী, যারা বিবাহিত বা বিবাহিতা।
(গ) যে অন্যায়ভাবে কাউকে কতল করে।” (তিরমিযী, নাসাঈ,
ইবনে মাজাহ্, মুসনদে শাফিয়ী, মুসনদে বাজ্জার, মুস্তাদরিকে
হাকিম)
উল্লেখ্য, মুরতাদ মারা যাবার পর যারা এদের জানাযার নামায পড়ে
বা পড়ায় বা জানাযার নামাযে সাহায্য-সহযোগিতা করে, তাদের
সকলের উপরই মুরতাদের হুকুম বর্তাবে এবং এ সমস্ত মুরতাদ
মরলে বা নিহত হলে তাকে মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন
করা যাবে না। এমনকি মুসলমানের ন্যায়ও দাফন করা যাবে না। বরং
তাকে কুকুরের ন্যায় একটি গর্তের মধ্যে পুঁতে রাখতে
হবে।