ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ) এর শানে বাতিলের অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব

ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ) এর শানে

বাতিলের অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব

Lecture :- বাতিলের অপপ্রচারের জবাব ও শানে

ইমামে আজম ইমাম নু’মান বিন সাবিত (রহ)

Created by (Masum Billah Sunny)

আজকাল কিছু বাতিল ওহাবী সালাফী

চনুপুটির দল দু এক কলম জ্ঞান নিয়েই

কুরআন হাদিসের পুরো জ্ঞান জেনে ফেলেছে

মনে করে। যারা নাকি ইমামে আজম আবু হানিফা

(রহ) এর পায়ের জুতার ধুলার সমতুল্যও না।

তাদের বিভিন্ন অভিযোগ :-

১) ইমামে আজম নাকি দ্বয়ীফ হাদিস

বর্ননা কারি ছিলেন তাও আবার কত গুলো ইমাম

থেকে বানোয়াট বক্তব্য এনে এগুলো প্রমান করার

অপচেষ্টা । (নাউযুবিল্লাহ )

২) ওনার কোন বর্ননা সেজন্য নাকি বুখারী

শরীফে নেই।

৩) ওনি নাকি মুর্জিয়া ছিলেন।

৪) ওনার দখল হাদিসের ব্যাপারে

কম ছিল তাই বেশি কিতাব লিখেন নি

ইত্যাদি ইত্যাদি নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক

তাদের সকল প্রশ্নের দাতভাংগা জবাব :-

♦♦ইমামে আজম কি ভাবে দুর্বল বর্ননাকারী

হতে পারেন যার শিক্ষাদানে গড়া সকল হাদিস

বিশারদ ও ফকীহ?♦♦

আহলে হাদিস D. Jakir Naik এর কি ধারনা আবু

হানিফা রহ. কুরআন ও হাদীস জানতেন না

বা কুরআন ও হাদীস বাদ দিয়ে বাইবেল ও গীতা

থেকে মাসআলা বের করেছে !!!!!

1. ইমাম বোখারীর অন্যতম উস্তাদ মক্কী বিন

ইব্রাহীম (রহ.) (মৃতু- 215 হিঃ) যার সনদে ইমাম

বুখারী (রহ.) অধিকাংশ ‘সুলাসিয়্যাত হাদীস’

বর্ণনা করেছেন। এই মক্কী বিন ইব্রাহীম (রহ.)

ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এর ছাত্র। তিনি ইমাম

আবু হানীফা (রহ.) সম্পর্কে বলেন,

“আবু হানীফা তাঁর সময়কালের শ্রেষ্ঠ আলেম

ছিলেন” – মানাক্বেবে ইমাম আজম রহ. 1/95

আবার হাফিয মযযী (রহ.) বলেন: মক্কী বিন

ইব্রাহীম ইমাম আবু হানীফা (রহ.) সম্পর্কে বলেন,

“তিনি তাঁর কালের সবচে’ বড় আলিম ছিলেন” –

তাহ্যীবুত তাহযীব-এর টিকা- 10ম খন্ড, 452পৃ.

(এখানে একটি কথা বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে

হবে, প্রাচীন আলিমগণ ‘ইলম’ বলতে ‘ইলমে

হাদীস’ই বুঝাতেন। তাই ইমাম আবু হানীফা (রহ.)

কে বড় আলিম বলার অর্থ- ‘হাদীস শাস্ত্রের বড়

আলিম’ এতে কোন সন্দেহ নেই।)

2. ইমাম আবু দাউদ বলেন,

নিঃসন্দেহে আবু হানীফা ছিলেন একজন শেষ্ঠ

ইমাম।- তাহজীব 1/445

3. জরহে তাদিলের (সনদ পর্যালোচনা শাস্ত্র)

অন্যতম ইমাম ইয়াহ্ইয়া ইবনে মুঈন (মৃতু- 233হিঃ)

বলেন,

“আবু হানীফা ছিলেন হাদীস শাস্ত্রের

গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি”- তাহবীবুত্তাহজীব 5/630

4. আলী ইবনে মাদানী (মৃতু- 234 হিঃ) বলেন,

“আবু হানীফা হাদীস শাস্ত্রে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি।

তার মধ্যে কোন দোষক্রুটি ছিল না। – জামঈ

বয়ানিল ইল্ম 2/1083

5. প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হাফিজ ইয়াহ্ইয়া বিন হারুন

(মৃতু- 206 হিঃ) বলেন,

“আবু হানীফা ছিলেন সমকালীন শ্রেষ্ঠতম

জ্ঞানী ও সত্যবাদী” –আহবারে আবু হানীফা 36

6. আল্লামা হাফিয ইবনে হাজার আসক্বালানী

রহ. বলেন-

“ইমাম আবু হানীফা রহ.-র মুত্যু সংবাদ শুনে

ফিক্বাহ ও হাদীস শাস্ত্রের সুপ্রসিদ্ধ ইমাম,

শাফঈ মাযহাবের প্রধানতম সংকলক হযরত ইবনে

জরীহ রহ. গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছিলেন,

“আহ! ইলমের কি এক অফুরন্ত খনি আজ আমাদের

হাতছাড়া হলো”। –

তাহযীবুত্তাহযীব খন্ড ১, পৃ: ৪৫০)

7: একবার হযরত ইয়াহয়া ইবনে মুঈনকে প্রশ্ন করা

হলো- হাদীসশাস্ত্রে আবু হানীফা রহ. কি

আস্থাভাজন ব্যক্তি? সম্ভবতঃ প্রচ্ছন্ন সংশয় আঁচ

করতে পেরে দৃপ্তকন্ঠে তিনি উত্তর দিলেন- হ্যা,

অবশ্যই তিনি আস্থাভাজন! অবশ্যই তিনি

আস্থাভাজন! (মানাকিবুল ইমামমুল আ’যামি

লিলমাওয়াফিক- খন্ড:1, পৃষ্ঠা 192)

♦♦ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর নসিহত। তিনি

কুরআন হাদিস দিয়ে মানুষকে সকল সমাধান

দিতেন নিচের উক্তিগুলো দিয়ে বুঝে নিন♦♦

(ক) ‘যখন ছহীহ হাদীছ পাবে, জেনো সেটাই আমার

মাযহাব’।(হাশিয়াহ ইবনে আবেদীন ১/৬৩।)

(খ) ‘আমরা কোথা থেকে গ্রহণ করেছি, তা না

জেনে আমাদের কথা গ্রহণ করা কারো জন্য বৈধ

নয়’।(ঐ ৬/২৯৩।)

(গ) ‘যে ব্যক্তি আমার দলীল জানে না, আমার কথা

দ্বারা ফৎওয়া প্রদান করা তার জন্য হারাম’।(ড.

অছিউল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আব্বাস, আত-তাক্বলীদ

ওয়া হুকমুহু ফী যুইল কিতাব ওয়াস-সুন্নাহ, পৃঃ ২০।)

(ঘ) ‘নিশ্চয়ই আমরা মানুষ। আমরা আজকে যা বলি,

আগামীকাল তা থেকে ফিরে আসি’।(ঐ।)

(ঙ) ‘তোমার জন্য আফসোস হে ইয়াকুব (আবু ইউসুফ)!

তুমি আমার থেকে যা শোন তাই লিখে নিও না।

কারণ আমি আজ যে মত প্রদান করি, কাল তা

প্রত্যাখ্যান করি এবং কাল যে মত প্রদান করি,

পরশু তা প্রত্যাখ্যান করি’।(ঐ।)

(চ) ‘আমি যদি আল্লাহর কিতাব (কুরআন) ও

রাসূলুললাহ (ছাঃ)-এর কথার (হাদীছ) বিরোধী

কোন কথা বলে থাকি, তাহ’লে আমার কথাকে

ছুঁড়ে ফেলে দিও’।(ছালেহ ফুল্লানী, ইক্বাযু

হিমাম, পৃঃ ৫০।)

তাই তিনি কুরআন হাদিস অনুযায়ী বিচার

ফয়সালা করতেন এবং অন্যান্য ইমামগনের শিক্ষক

ছিলেন এ জন্যই হানাফী মাযহাব সকল মাযহাবের

সেরা।

★★★ ইমামে আজম একজন বিশিষ্ট

তাবেয়ী ছিলেন এবং

অনেক সাহাবীগনের সাথে সাক্ষাত পেয়েছিলেন★★★

তাহলে কি ভাবে তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল

বর্ননাকারী হবেন? Is it ever possible?

ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ) ৮০ হিজরীতে

বিলাদত শরীফ লাভ করেন এবং বিছাল শরীফ

লাভ করেন ১৫০ হিজরীতে।

★তাঁর প্রকৃত নাম নু’মান বিন সাবিত।

★ইমাম আজম

আবু হানিফা (র)

ইমাম সাহেব যেসব সাহাবাদের সাক্ষাত

লাভে ধন্য হয়েছেন, কিংবা যাদের

থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁদের কয়েকজন

হলেন :-

১. হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. ( ৯০ হি.

মতান্তরে ৯১ হি.।)।

২. হযরত আবদুল্লাহ বিন উনাইস যুহানী রা.।

৩. আবদুল্লাহ বিন আবী আওফা রা. ( ৮৭ হিজরী)।

৪. ওয়াসেলা বিন আসকা রা. (৮৫ হিজরী)।

৫. আবুত তোফায়েল আমের বিন ওয়াসেলা রা.

( ১০২ হিজরী )।

৬. সহল বিন সাদ রা. ( ৮৮ হিজরী )।

৭. সায়েব বিন খাল্লাদ রা. ( ৯১ হিজরী )।

৮. সায়েব বিন ইয়াজিদ রা. ( ৯৪ হিজরী)।

৯. আবদুল্লাহ বিন বুসরাহ রা. ( ৯৬ হিজরী )।

১০. মাহমুদ বিন রাবী রা. ( ৯৯ হিজরী )

★ইমামে আযম আবু হানিফা (র.) এর

তাবেয়ী হওয়া সম্পর্কে আরো অনেকের

উক্তি রয়েছে। যেমন,

১। ইমাম ইবনুল জাওযী (র)।

২। ইমাম মিজ্জী (র)।

৩। ইমাম যাহাবী (র)।

৪। ইমাম সুয়ূতী (র)।

৫। খতীবে বাগদাদী (র)।

৬। ইবনে আবদিল বার (র)।

৭। মুহাম্মাদ ইবনে সাদ (র)।

৮। ইবনে হাজার আসকালানী (র)। প্রমুখ।

তাদের উক্তি উল্লেখ

করে প্রবন্ধের কলেবর বৃদ্ধি করা হল না।

এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন……

১. আবু হানিফা ওয়া আসাবুহুল মুহাদ্দিসুন(পৃ:৬)

২. আল খাইরাতুল হিসান। পৃ: ৩২।

★হাফেজ ইবনে হাজার আসক্বালানী রহ.

আরো লিখেছেন-

ইমাম আবু হানীফা রহ.

বহুসংখ্যক সাহাবীর সাক্ষাত লাভ করেছেন।

কেননা, তিনি ৮০ হিজরী সনে কুফায় জন্মগ্রহণ

করেছেন এবং সেসময় সেই

শহরে সাহাবী **আবদুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রা.

জীবিত ছিলেন। তাঁর ইন্তেকাল ৮০ হিজরীর

অনেক পরে হয়েছে। তেমনি বসরাতে **আনাস

ইবনে মালেক রা. ছিলেন। তাঁর ইন্তেকাল

হিজরী নব্বই সনে পরে হয়েছে। সে মতে ইমাম

আবু হানীফা রহ. নিঃসন্দেহে তাবেয়ীগণের

অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। (তানসীকুন-নেজাম)

★বুখারী শরীফের ব্যাখাগ্রন্হে ইবনে হাজার

আসক্বালানী রহ. উপরোক্ত

সিদ্ধান্তটি আলেমগণের সর্বসম্মত অভিমত

বলে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ যাহাবী রহ.

বলেন, ইমাম আবু হানীফা রহ. সাহাবী হযরত

আনাস ইবনে মালেককে রা. অনেকবার

দেখেছেন। (খাইরাতুল-হেসান)

★আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী রহ. মেশকাত

শরীফের ব্যাখ্যা গন্হে উল্লেখ করেছেন যে,

ইমাম আবু হানীফা রহ. ৭/৮ জন সাহাবীর

সাক্ষাত লাভ করেছেন।

এঁরা হচ্ছেন-

১) হযরত আনাস ইবনে মালেক রা.

(ওফাত ৯৩ হিজরী)

২) আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রা. (ওফাত ৮৭

হিজরী)

৩) সহল ইবনে সাআদ রা. (ওফাত ৮৮ হিজরী)

৪) আবু তোফায়ল রা. (ওফাত ১১০ হিজরী)

৫) আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়দী রা. (ওফাত ৯৯

হিজরী)

৬) জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. (ওফাত ৯৪ হিজরী)

৭) ওয়াসেনা ইবনুল আসকা রা. (ওফাত ৮৫ হিজরী)

★তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত তাবেয়ী

যিনি ৪,০০০ শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ

করেন, যে শিক্ষকদের মধ্যে স্বয়ং সাহাবা রা.

ছিলেন ৭২ জন! আর তার শিক্ষকদের বেশিরভাগই

ছিলেন সরাসরি হযরত আলী (রা.), আবু হুরাইরা

(রা.,) আনাস (রা.) সহ অন্যান্য সাহাবীদের

সরাসরি ছাত্র।

★তিনি সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালিক

(রহ) কে দেখেছিলেন এবং অনেক সাবাহা থেকে

বর্ননা করেছেন :-

**The author of al-Khairat al-Hisan collected

information from books of biographies and cited the

names of Muslims of the first generation from whom it

is reported that the Abu Hanifa had transmitted hadith.

He counted them as ** sixteen, including

**Anas ibn Malik,

**Jabir ibn Abd-Allah and

**Sahl ibn Sa’d.

তথ্যসুত্র :-

★Wikipedia >>”Imam-ul-A’zam Abū Ḥanīfah, The

Theologian”. Masud.co.uk. Archived from the original

on 12 February 2010. Retrieved 2010-02-07.

★ইবনে সাআদ লিখেছেন- সার্বিক বিচারেই

ইমাম আবু হানীফা রহ. একজন তাবেয়ী ছিলেন।

তাঁর সতীর্থ ফেকাহর ইমামগণের মধ্যে আর

কারো এই মর্যাদা লাভের সৌভাগ্য হয় নাই।

(তানসীক্ব)

★আল্লামা খাওয়ারেজমী রহ. বলেন- ওলামাগণের

এ বিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে যে, ইমাম আবু

হানীফা রহ. নবী করীম সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের পবিত্র

মুখ থেকে হাদিস শ্রবণ

করে তা বর্ণনা করেছেন। তবে এরূপ হাদিসের

সংখ্যা কত ছিল, এ সম্পর্কে বিভিন্ন মত

রয়েছে। (তানসীক্ব)

★ইমাম আবু হানীফা রহ. কর্তৃক সাহাবীগণ

থেকে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা কারো মতে ছয়,

কারো মতে সাত এবং কারো মতে আটখানা।

যেসব

সাহাবী থেকে তিনি হাদিস

বর্ণনা করেছিলেন, তাঁদের নাম যথাক্রমে –

১) আনাস ইবনে মালেক রা.,

২) আবদুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রা.,

৩) সহল আবনে সাআদ রা.,

৪) আবু তোফয়ল রা.,

৫) আমের ইবনে ওয়াছেলা রা.,

৬) ওয়াছেলা ইবনে আশক্বা রা.,

৭) মা’কাল ইবনে ইয়াসার রা., এবং

৮) জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. প্রমুখগণ।

★হাদিস শাস্ত্রের ‘ আমিরুল মুমেনীন’ রূপে খ্যাত

আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক স্বরচিত কবিতার এক

পংক্তিতে উল্লেখ করেছেন যে, নোমান ( আবু

হানীফা ) এর পক্ষে গর্ব করার মতো এতটুকুই

যথেষ্ট যা তিনি সরাসরি সাহাবীগণের নিকট

থেকে বর্ণনা করেছেন।

★★★ইমামে আজম সরাসরি যে

সমস্ত হাদিস স্বয়ং সাহাবায়ে কেরাম (রা)

থেকে

বর্ন্না করেছেন :-

★ইমাম আবু হানীফা রহ. স্বয়ং একটি বর্ণনায়

বলেন, আমার জন্ম হিজরী ৮০ সনে এবং ৯৬

সনে প্রথম হজে যাই। তখন আমার বয়স ষোল

বছর। মসজিদুল-হারামে প্রবেশ করে দেখলাম,

একটি বড় হালকায় বহু লোক সমবেত

হয়ে রয়েছেন। আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস

করলাম, এটা কিসের জমায়েত? তিনি বললেন,

তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এর সাহাবী

**আবদুল্লাহ ইবনুল হারেছের রা. পাঠদানের

হালকা (জ্ঞান দানের আসর)। এ কথা শুনে আমি

সেদিকে অগ্রসর হলাম।

তাঁকে বলতে শুনলাম,

১) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এরশাদ করেছেন,

যে ব্যক্তি আল্লাহর দীন সম্পর্কিত গভীর জ্ঞান

অর্জনে আত্মনিয়োগ করে, তার সকল প্রয়োজনের

জিম্মাদার স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা হয়ে যান

এবঙ তাকে এমন সব উৎস থেকে রিজিক

পৌছাতে থাকেন, যা সে কখনো কল্পনাও করেনি।

(মুসনাদে ইমাম আযম)

উল্লেখ্য, যে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হারেছের

রা. ইন্তেকাল হয়েছে ৯৯ হিজরীতে। তখন

ইমামে আজমের বয়স হয়েছিলো ১৯ বছর।

★‘এলামুল-আখবার’ নামক গ্রন্হে বর্ণিত অন্য

একখানা হাদিস ইমাম আবু হানীফা রহ.

সরাসরি সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালেকের

রা. নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।

উক্ত হাদিসে বলা হয়েছে যে,

২) ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমান নর-

নারীর উপর

ফরজ।

একই সুত্রে হযরত আনাস ইবনে মালেক রা.

থেকে ইমাম আবু হানীফা রহ. কর্তৃক বর্ণিত অন্য

আর একখানা হাদিস হচ্ছে-

৩) পাখীরা আল্লাহর উপর যতটুকু ভরসা করে জীবন

ধারন করে কোন

বান্দা যদি ততটুকু ভরসা করতে শেখে তবে আল্লাহ

পাক তাকেও

অনুরূপ রিজিক দান করবেন। পাখীরা সকাল

বেলায় খালি পেটে বের হয়ে যায়, সন্ধায় পেট

ভরে বাসায় ফিরে আসে।

ইমামে আজম আর একখানা হাদিস সাহাবী হযরত

আবদুল্লাহ

ইবনে আবী আওফা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস খানা হচ্ছে-

৪) যে ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণ করবে আল্লাহ পাক

তার জন্য

বেহেশতে গৃহ নির্মাণ করবেন।

★শেষোক্ত হাদিসখানাকে ইমাম জালালুদ্দিন

সিয়ুতী রহ. মোতাওয়াতের হাদিস রূপে অভিহিত

করেছেন।

★মোল্লা আলী কারী রহ. বলেন, এই হাদিসটির

অন্যুন ৫০ সনদ আমি সংগ্রহ করেছি।

তম্মধ্যে ইমাম আবু হানীফার রহ.

মাধ্যমে বর্ণিত সনদই সর্বোত্তম।

★তিনি আঠারো বছর আনাস (রা.) এর ছাত্র ইমাম

হাম্মাদ (রহ).এর কাছে ইলমে দ্বীন অর্জন

করেছেন – তার আগেই ২২ বছর বয়স থেকে ছিলেন

মুসলিম-খ্রিস্টান-ইহুদি-মূর্তিপূজারক এবং

আল্লাহর অস্তিত্বে অবিশ্বাসীদের সাথে

আলোচনা করে ইসলামের প্রতি অকাট্য প্রমাণ

আনার প্রবাদ-পুরুষ।

★তিনি ছিলেন ইমামগণের ইমাম, মুসলিম জাতির

প্রদীপ, হাফিজুল হাদিস (লক্ষ হাদিসের কন্ঠস্থ

সংরক্ষক) এবং ধর্মীয় সিদ্ধান্তদাতাদের

পথপ্রদর্শক- তাঁর প্রচলিত উপাধী।

★ইমামে আজম তার হায়াতে জিন্দেগীতে

৫০ বার হজ্ব সম্পন্ন করেন।

★হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর

৪৮টিরও বেশী লক্বব মুবারক (উপাধী) ছিল, তার

মধ্যে সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য লক্বব হচ্ছে

**ইমামে আ’যম,

**ইমামুল মুকাস্সিরীন ফিল হাদীস,

**ইমামুল কবীর ফিল ফিক্বাহ,

**ইমামুল হুমাম,

**ইমামুল আইম্মা, ইত্যাদি।

তিনি কি দ্বয়ীফ হাদিস বর্ননা কারি

হতে পারেন? কিভাবে তা সম্ভব?

ফিকাহ শাস্ত্রে যার অবদান অবিস্মরনীয়।

★আবু হানীফা রঃ ছিলেন সর্বকালেন সেরা

মজতাহেদ ফিকাহবিদ ইমাম।

বিশেষজ্ঞ শ্রেণীর কোন আলেমকে মুজতাদেদের

স্তরে পৌছাতে হলে হাদীসের হাফেজ, তফসীর

শাস্ত্রের সর্বোচ্চ বিশেষজ্ঞ এবং সাহাবীগণের

জীবন ধারা সম্পর্কিত সকল বিষয়ের উপর

সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম জ্ঞান থাকা অপরিহর্য হয়ে যায়।

হযরত আবু হানীফাকে মজতাহেদ ইমামের স্তরে

পৌছার জন্য উপরোক্ত বিষয়গুলিতে সর্বাধিক

জ্ঞান অর্জন করতে হয়েছিলো।

★ফেকাহশাস্ত্র তথা কুরআন-মহাসাগর মন্থন করে

মাসআলা-মাসায়েল নির্ধারণ করার প্রশিক্ষণ

তিনি ইমাম হাম্মাদের নিকট থেকেই আয়ত্ব

করেছিলেন। এছাড়াও তাঁর এলমে-ফেকাহর আর

একজন বিশিষ্ট উস্তাদ ছিলেন আহলে বাইতের

উজ্জলতম নক্ষত্র ইমাম বা যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দেস ও

ফকীহ ইমাম জাফর সাদেক রঃ এবং তার পিতা

ইমাম মুহাম্মদ বাকির (রহ)।

যেই ১২ জন ইমামের কথা বহু হাদিসে ব্যক্ত আছে

তিনি সেই ১২ জনের ২ জন ইমাম ছিলেন ওনার

উস্তাদ ও মুর্শিদ ।

★ইমামে আজম প্রথম বায়াত গ্রহন করেন ইমাম

মুহাম্মদ বাকির (রহ) এর কাছে।

[Name: Imam Muhammad Baqir Ibn Ali al-Ulum

Mazar : at Jannat al-Baqi, Medina,

He was the son of Imam Zain al Abedin (rah)]

ওনার জন্ম এবং ওফাত [খ্রিষ্টাব্দ 677–732]

বা [হিজরি 57–114]

★ইমাম বাকির (রহ) এর ওফাত এর

পর তিনি বায়াত গ্রহন

করেন ওনার পুত্র ইমাম জাফর সাদিক

(রহ) এর কাছে।

[Name: Imam Jaffar Ibn Muhammad al-Sadiq

Mazar: at Jannat al-Baqi, Medina, He was the son of

Imam Baqir

জন্ম এবং ওফাত : [খ্রিস্টাব্দ 702–765] বা

[হিজরি 83–148]

তিনি যাদের যাদের শিক্ষক ছিলেন তাদের

মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হল:-

১) Abu Hanifah and

২) Malik ibn Anas in fiqh,

৩) Wasil ibn Ata and

৪) Hisham ibn Hakam

★তিনি শায়খ বা মুর্শিদ ক্বিবলা হাতে বাইয়াত

হওয়া সম্পর্কে বলেনঃ “(আমার জীবনে) যদি দু’টি

বছর না আসতো, তবে নু’মান ধ্বংস হয়ে

যেত।“ (সাইফুল মুক্বাল্লিদীন, ফতওয়ায়ে

ছিদ্দীক্বিয়া) অর্থাৎ তিনি যদি তাঁর শায়খদ্বয়

(রহমতুল্লাহি আলাইহিম)-এর নিকট বাইয়াত না

হতেন, তবে তিনি ধ্বংস বা বিভ্রান্ত হয়ে

যেতেন।

★ইমাম আবু হানীফার মন্তব্য হচ্ছে, যুগের

সর্বাপেক্ষা বড় ফকীহ ছিলেন ইমাম জাফর

সাদেক রঃ। তার চাইতে অধিক ধীসম্পন্ন কোন

ফকীহর সাক্ষাত অন্য কোথাও পাইনি। (আল-

মওয়াফেক)

★হাদিস এবং তফসীর শাস্ত্র আয়ত্ব করার

উদ্দেশ্যে ইমাম আবু হানীফা সে যুগের যে সব

সেরা মুহাদ্দেসগণের শরনাপন্ন হয়েছিলেন,

তাদের সংখ্যা জরহ ওয়াত তাদিলের ইমাম

হাফেজ জাহাবীর মতে ২৯০ জন। এঁদের মধ্যে এমন

পন্ঞাশ ব্যক্তির নাম পাওয়া যায় যাদের বর্ণনা

বুখারী-মুসলিম সহ সেহাহ-সেত্তার সকল কিতাবেই

বিশেষ যত্নের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। (ইমামে

আজম, আবু হানীফাহ রহঃ)

তাছাড়া অন্যান্য সুত্র মতে

৪০০০ শাইখ থেকে জ্ঞান অর্জন করে উপকৃত

হয়েছিলেন।

★একই কারণে যেমন “”মোয়াত্তা ইমাম মালেক””

গ্রন্থটি প্রথম দিকে সংকলিত সর্বাধিক শুদ্ধ

কিতাব রূপে গন্য করা হয, তেমনি হাদিস

শাস্ত্রের প্রথম সংকলন গ্রন্হ ““মুসনাদে ইমাম আবু

হানীফা”” নামক হাদিস সংকলনটি বিশুদ্ধতার

দিক থেকে যে সর্বাগ্রগন্য তাতে সন্দেহের কোন

অবকাশ নাই।

★এ সময়ে ইমাম আবু হানীফা রঃ একটি অদ্ভুদ

স্বপ্ন দেখে কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন।

দেখলেন, যেন তিনি প্রিয়তম নবী সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর শরীফ খনন করে

কিছু হাড়-কংকাল সংগ্রহ করছেন। স্বপ্নটি দেখার

পর কিছু দিন তিনি ছিলেন মানসিক ভাবে খুবই

উদ্বিগ্ন। শেষ পর্যন্ত স্বপ্নদ্রষ্টার পরিচয় গোপন

রেখে তিনি স্বপ্নের বিবরণ তাবীর শাস্ত্রের

ইমাম মুহম্মদ ইবনে সিরীনের রঃ খেদমতে পেশ

করেন। ইবনে সিরীন রঃ এই স্বপ্নটিকে একটি

মোবারক স্বপ্ন রূপে আখ্যায়িত করে বলেন,

স্বপ্নদ্রষ্টা যুগের ইমাম এবং প্রিয় নবীজী

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এলমের

উত্তরাধিকার পুনজ্জীবিত করবেন। (আল-

মোয়াফেক)

★তার অসাধারণ কৃতিত্ব রেখেছেন যার ফসল

স্বরুপ :-

Kitaab-ul-Aathaar narrated by Imaam Muhammad al-

Shaybani – compiled from a total of 70,000 hadith

Kitabul Aathaar narrated by Imaam Abu Yusuf

Aalim wa’l-muta‘allim

Musnad Imaam ul A’zam

Kitaabul Rad alal Qaadiriyah

ফিক্বহে আকবর,

জামিলুল মাসানিদ ইত্যাদি বিশেষভাবে

উল্লেখ্য।

★তাঁর হাদীস গ্রহণের পদ্ধতি ছিল এমন-

১. কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে

হবে।

২. হাদীস সরাসরি রাসূল দ. থেকে তাঁর জানা

পর্যন্ত মধ্যবর্তী যারা যারা বর্ণনা করেছেন,

তাঁদের প্রত্যেকের চরিত্র-পবিত্রতা-সততা এবং

পরিপূর্ণ আজীবন সত্যবাদীতা প্রশ্নাতীত থাকতে

হবে। এবং পুরোটা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর নিশ্চিত

হতে হবে।

★ইমাম আবু হানিফা (রহ) ১২ লক্ষ ৯০ হাজার

মাসালা বের করেছেন। যদি বাতিলদের যুক্তি

অনুযায়ী ধরেও নেওয়া হয় যে, তাঁর ইস্তিম্বাতকৃত

সব মাসআলাই ভুল (অবশ্যই তার মাসআলা ভুল হতে

পারে না)। তাহলেও ১২ লাখ ৯০ হাজার সওয়াব

তার আমলনামায় লেখা হয়েছে।

ﻓَﺄَﺧْﻄَﺄَ ﻓَﻠَﻪُ ﺃَﺟْﺮٌﻋَﻦْ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﻌَﺎﺹِ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻﻠﻰ

ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ‏« ﺇِﺫَﺍ ﺣَﻜَﻢَ ﺍﻟْﺤَﺎﻛِﻢُ ﻓَﺎﺟْﺘَﻬَﺪَ ﻓَﺄَﺻَﺎﺏَ ﻓَﻠَﻪُ ﺃَﺟْﺮَﺍﻥِ

ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺣَﻜَﻢَ ﻓَﺎﺟْﺘَﻬَﺪَ

হযরত আমর বিন আস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল

সাঃ ইরশাদ করেছেন-“যখন কোন বিশেষজ্ঞ হুকুম

দেয়, আর তাতে সে ইজতিহাদ করে তারপর সেটা

সঠিক হয়, তাহলে তার জন্য রয়েছে দু’টি সওয়াব।

আর যদি ইজতিহাদ করে ভুল করে তাহলে তার জন্য

রয়েছে একটি সওয়াব। {সহীহ বুখারী, হাদিস

নং-৬৯১৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৩৫৭৬, সহীহ

মুসলিম, হাদিস নং-৪৫৮৪}

★★★ এখন যা আলোচনা করব তা হল ★★★

১) ইমামে আজমকে মুর্জিয়া ও দুর্বল বর্ননাকারী

বলে অপবাদ দেয়ার জবাব

২) ইমামে আজম থেকে সরাসরি ইমাম বুখারী

সরাসরি বর্ননা করেন নি কিন্তু করেছেন অন্যান্য

মধ্যস্থতায়।

আজকাল দেখা যাচ্ছে ইমামে আজম আবু হানিফা

থেকে সরাসরি বুখারী শরীফে কোন হাদিস

বর্নিত না থাকায় অনেক লা-মাযহাবী আহলে

হাদিস ভাই অপপ্রচার করছে তিনি নাকি

মুর্জিয়া ছিলেন অথবা দুর্বল রাবী ছিলেন তাই

তার থেকে কোন হাদিস বুখারীতে আসে নি।

আসলে কি তাই?

আসুন দেখি total calculation :-

১) বুখারী শরীফে উচু সনদ ছুলাছিয়াত (৩ জনের

মধ্যস্থতায়) বর্নিত হাদিস সংখ্যা ২২টি তার

মধ্যে ২১টি বর্ননার ৪জন রাবীই ইমামে আজমের

শিস্য ।

২) ইমাম বুখারী ইমামে আজম থেকে বুখারী

শরীফে সরাসরি কোন বর্ননা করেন নি সত্য তবে ১

জনের,২ জনের,৩ জনের মদ্ধস্থতায় অনেক হাদিস

বর্ননা করেছেন আর তাই নিয়ে আহলে হাদিস

ভাই রা ঢোল পিটানো শুরু করেছে আর ইমামে

আজমকে ত্রুটিপূর্ণ,দুর্বল নানা খারাপ ভাষায়

অপবাদ দিচ্ছে।(Dr. Jakir Naik এর আহলে হাদিস

group)

৩) ইমামে আজম ছিলেন ইমাম বুখারীর পিতার

উস্তাদ,তার পিতার উস্তাদেরও উস্তাদ,ইমাম

বুখারীর অনেক শিক্ষক ছিলেন ইমামে আজমের

শিষ্য অথচ তাকে নিয়ে কেন এত মিথ্যাচার?

শয়তানের দল!!”

Clearification:- কিছু জিনিস পরলে বুঝবেন।

১) মুহাদ্দিসগন হাদিস গ্রহনের ক্ষেত্রে

সতন্ত্রভাবে এক একজন এক এক জিনিসের দিকে

খেয়াল রেখে পছন্দ রেখে হাদিস collect করেছেন

ইমাম বুখারীও তাই।

২) সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এ ইমাম শাফেয়ী

(রহ) এর ও কোন বর্ননা নেই যদিও ইমাম বুখারী ও

মুসলিম ২ জনই শাফেয়ী মাযহাবের প্রতি আসক্ত

ছিলেন।

৩) ইমাম বুখারী ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ)

থেকে মাত্র ১টি হাদিস বর্ননা করেছেন।

৪) ইমাম মুসলিম যদিও ইমাম বুখারীর শিষ্য তবুও

তার আস-সহিহ কিতাবে ইমাম বুখারী থেকে কোন

হাদিস নেন নি।

৫) সুনানে তিরমিজিতে ইমাম মুসলিম এর সনদে

শুধুমাত্র একটি বর্ননা আছে।

৬) ইমাম বুখারীর সনদে সুনানে নাসায়ীতে শুধু ১টি

হাদিস আছে।

৭) ইমাম আহমদ ইমাম শাফেয়ী থেকে

সিলসিলাতুযযাহাব এর পদ্ধতিতে শুধু ১টি হাদিস

মুসনদে নিয়েছেন।

★★★ইমামে আজমকে মুর্জিয়া অপবাদের কারন ও

তার বাস্তবতা★★★

১) ইমামে আজম নিজেই বলেন,”” আমি বলি না যে

মুমিনকে তার পাপ কোন ক্ষতি করবে না এবং

সেজন্য সে দোযখে যাবে না,যেরকম বাতিল

ফেরকা মুর্জিয়ারা বলে থাকে।এবং খারীজী

মুতাজিলা দের মত এও বলি না যে চিরকাল সে

দোযখে থাকবে,যদিও সে ফাসেক হয় এবং দুনিয়া

থেকে ইমান নিয়ে বিদায় নেয়।আমরা

মুর্জিয়াদের মত বলিনা যে আমাদের পুন্যসমুহ

মকবুল আর পাপ সমুহ মাফ।””

ইমামে আজম: আল ফিকহুল আকবর মাআ শরহে লি

মোল্লা আলী কারী পৃ: ১২৫-১২৭

২) ইমাম শাহরেস্তানী(ওফাত ৫৪৮হি) আল-মিলাল

ওয়ান নিহাল(১/১৪১) এ নিখেন,”” আমার জীবন

দানকারী আল্লাহর কসম ইমাম আজম ও তার দলকে

অনেকে মুর্জিয়া বলে অপবাদ দেয় কারন তিনি

বলেন,ইমান অন্তরের বিশ্যাসের নাম।আর তার

উপর অপবাদকারী রা মনে করে যে তিনি আমলকে

বেকার মনে করেন।অথচ তিনি শরীয়তের ব্যপারে

এত জ্ঞানী ও কঠোর তিনি কি একথা বলতে

পারেন?

হ্যা আরেকটি কারন আছে মুর্জিয়া বলার তিনি

প্রথম যুগে প্রকাশিত ফিত্নায়ে

কদরিয়া,মুতাজিলার বিরোধিতা করেছিলেন

তারাও তাকে মুর্জিয়া বলে আখ্যায়িত করত।

(এইভাবেই একসময় অপপ্রচার শুরু হয়)

নামধারী আহলে হাদিস দের প্রচার অনুযায়ী যদি

তিনি মুর্জিয়া হতেন আর সেই কারনে ইমাম

বুখারী ইমামে আজম থেকে সরাসরি বর্ননা না

করার কারন হয় তাহলে মুর্খ দের জেনে রাখা

উচিত যে–

★★★ সিত্তায় মুর্জিয়াদের বর্নিত হাদিস

আছে★★★

(note: মুর্জিয়া ইসলামের প্রাক কালে একটা

বাতিল দল।তাই মুর্জিয়া বর্ননাকারী থেকে

সাধারনত হাদিস বর্ননায় ignore করা হয়।যেহেতু

সিহাহ সিত্তায় ৭২০ এর চেয়েও অনেক বেশি

হাদিস মুর্জিয়া থেকে বর্নিত হয়েছে তাই বিশেষ

কোন ত্রুটি ছাড়া হাদিসকে জাল বা দুর্বল বলা

যাবে না।)

আজকাল ওহাবী আর আহলে হাদিস ভাই রা দেখা

যায় কোন হাদিস দিলে যদি সেটা তাদের

বিরোদ্ধে যায় তখন তারা ওঠে পড়ে লাগে আর

নানান সব কিতাব থেকে দুর্বল বা ত্রুটিপূর্ণ

রাবীদের সম্পর্কে বিভিন্ন Hadith Scholars দের

comment এনে Strong Sahih হাদিস কেও তারা দুর্বল

প্রমান করে সাধারন মানুষের কাছে। এই পোস্ট

টা দিলাম আশা করি সবাই এই ফিত্নাবাজ দের

থেকে যেন নিজেদের সাবধান রাখতে পারবেন।

Imam Muhammad Bin Khazim ইমাম মুহাম্মদ বিন

খাজিম (একজন মুর্জিয়া ছিলেন এবং সিহাহ

সিত্তার হাদিস বর্ননাকারীও ছিলেন)

সিহাহ সিত্তার হাদিসে তার সর্বমোট বর্ননা:-

1) Sahi Bukhari has 50 narrations from him

2) Sahi Muslim has 250 narrations from him

3) Jami Tirmidhi has 120 narrations from him

4) Sunan Abu Dawud has 85 narrations from him

5) Sunan Nasai has 65 narrations from him

6) Sunan ibn Majah has 150 narrations from him

তাই একজন থেকেই দেখা যায় সিহাহ সিত্তায় 720

টি হাদিস বর্নিত আছে।

এমনকি শুধুমাত্র বুখারী শরীফেই ১১ জন মুর্জিয়ার

বর্নিত হাদিস রয়েছে বলে

-ইমাম যাহাবী,ইবনে আবী

হাতিম,আসকালানী,সুয়ুতি,আজলী,

উকাইলী (আল্লাহ সবার উপর শান্তি বর্ষন করুন)

তাদের মতে পাওয়া যায়।

♦♦ইমাম আবু হানিফা রহ. কি তাবিঈ ছিলেন ?

ফিকহে হানাফীর কি সনদ নেই ? কেন এ

অপপ্রচার ?♦♦

********কিছুদিন আগে হানাফী মাযহাবের

বিরুদ্ধে লেখা একটা কিতাব নিয়ে পোস্ট

দিয়েছিলাম।

কিতাবটির নামঃ হানাফী ফিকহের ইতিহাস

ওপরিচয়।

লেখকঃ মুফতী মাওলানা আব্দুর রউফ।

এটিকে হানাফী মাযহাবের

বিরুদ্ধে বিশাল অস্ত্র হিসেবে ব্যাবহার করে

আসছে।

মুফতী মাওলানা আব্দুর রউফ সাহেবের এলেমের

দৌড়

কতটুকু।

এবার তাদের অভিযোগ গুলোর

মধ্যে আজকে একটিনিয়ে আলোচনা করবো

ইনশাআল্লাহ্।তাহলে এবার একত্রে অভিযোগ

গুলো দেখিঃ

(১) ইমাম আবু হানীফা রাহঃ এর কথা দিয়ে বরাত

দেওয়া হয়েছে কিন্তু তার কথার কোন সনদ দেওয়া

হয়

নি। যদিও ফতোয়ার কিতাব গুলো লেখা হয়েছে

ইমাম আবু

হানীফা রাহঃ এর মৃত্যুর কয়েকশ বছর পরে।

(২) এ কারনে ইমাম আবু হানীফা রাহঃ এর

কথাগুলোর

কোন সূত্র নেই।

(৩) এ কারনে ফতোয়ার কিতাব গুলোতে লেখকদের

মতামত যে ইমাম আবু হানীফা রাহঃ এর তার কোন

ভিত্তি নেই।

Ans:-

মূল জবাবে যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া দরকার

হানাফী মাযহাবের মূল উৎস গুলো কি কি?

হানাফি মাযহাব কি আল মুগনী,হিদায়া,রাদ্দুল

মুহতার,বিকায়া…… দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে?

অবশ্যই না।

★হানাফী মাযহাবের মূল বণনাকারী :-

**ইমাম আবু ইউসুফ ,

**ইমাম মুহাম্মদা রহ. ,

**ইবনে আবি শাইবা ।

তারা সরাসরি ইমাম আবু হানিফার ছাত্র তাদের

নিজের হাতে লেখা কিতাব

রয়েছে। ব্যাস এটা সবচেয়ে বড় দলিল। এসব

কিতাবেই

ইমাম আবু হানীফা রাহঃ এর উক্তি গুলো

সন্নিবেশিত

হয়েছে। এখান থেকেই অন্য অন্য কিতাব গুলোতে

ইমাম

আবু হানীফা রাহঃ এর উক্তি পেশ করা হয়েছে।

★সবচেয়ে বড় কথা হলো:

**ইমাম আবু ইউসুফ রহ.

**খলিফা হাদী,

**মাহদী ও

**হারুনুর রশিদের

যামানা থেকে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের প্রধান

বিচারপতি ছিলেন তখন, হানাফী মাযাহেরব

মাসআলা গুলোর আলোকে বিচার সহ সকল

কার্যক্রম

চলেছে আর এটি একজনের সনদ থেকে হাজার গুন

শক্তিশালী। আব্বাসী খিলাফত, উসমানী

খিলাফত দু’টোই

হানাফী ফিকহ অনুযায়ী চলেছে।

★ইবনে হাজার আসকালানি রাহ. বলেন- “উল্লেখ্য

যে, আব্বাসী যুগের প্রায় পাঁচশ বছর পর্যন্ত

পবিত্র

মক্কা-মদীনার সকল ইমাম ও বিচারক হানাফী

ছিলেন।

অতঃপর প্রায় দু’শ বছর খাওয়ারিয্মী ও

সালজুক্বীদের

অধীনে চলে, তারাও রক্ষণশীল হানাফী ছিলেন।

অতঃপর

উসমানী ওতুর্কী খেলাফত প্রায় পাঁচশ বছর পর্যন্ত

চলে। তারাও সবাই হানাফী ছিলেন।” ( আল-

খাইরাতুলহিসান-ইবনে হাজার, মক্কী শাফেয়ীঃ

পৃ –৭২ )

★“মোটকথা, ইসলামী ইতিহাসের

সোনালী অধ্যায়ে বারশ বছর পর্যন্ত পবিত্র

মক্কা-

মদীনায় ইমাম ও খতীবের সুমহান দায়িত্ব

হানাফী ইমামগণই আঞ্জাম দিয়ে এসেছেন এবং

কাযী ও

বিচারকের আসনেও তারাই ছিলেন।” ( আল-

খাইরাতুলহিসান-ইবনে হাজার মক্কী, শাফেয়ীঃ

পৃ – ৭২;

রদ্দুলমুহতারঃ পৃ – ১/৭৫ )।

★হানাফী মাযহাবের মূল হলো যাহেরী রিওয়াত।

যাহেরী রেওয়াত বলা হয়,ইমাম মুহাম্মাদ রহ. এর

৬ টি কিতাবকে –

১. সিয়ারে কাবীর

২. সিয়ারে সগীর

১. জামে সগীর

২. জামে কাবীর

৪. মাবসুত

৬. যিয়াদাত

★ইমাম মুহাম্মাদ রহ. ইমাম আবু হানিফার খাস

ছাত্র। এগুলোই হানাফী ফিকহের মূলউৎস। আর

এগুলো থেকেই পরবর্তিতে বিভিন্ন ফতোয়ার

কিতাবে ইমাম আবু হানীফা রাহঃ এর কথাকে

কোট

করা হয়েছে।

★ইমাম ত্বহাবী রহ. (২২৯-৩২১ হি:) শরহু

মায়ানিল আসার বয়ানু মুশকিলিল আসার

লিখেছেন।

এগুলো সব হানাফী মাযহাবের মাসআলা বর্ণনা

করা হয়েছে।

এভাবে প্রত্যেক যুগে হানাফী আলেমগণের

তালিকা আছে।

এগুলোত্বাবাকাতে হানাফিয়্যা নামের

বইগুলোতে পাওয়া যাবে।ইমাম সারাখসী, ইমাম

বাযদাবী,

আবুল লাইস সমরকন্দী……এনারা সবাই অনেক

আগের।

এরা হানাফী মাযহাবের মাসয়ালাগুলো

সন্নিবেশিত

করেছেন। এভাবেইহানাফী ফিকহ অন্য সকল কিছু

থেকে শক্তিশালী সনদে সংরক্ষিত হয়েছে।

★এবার মুফতি সাহেবের অভিযোগ গুলো খণ্ডন

করা যাক।

(১) (২)(৩) নম্বর অভিযোগের উত্তর:-

**আরে ভাই, ফিকহের কিতাবগুলো লম্বাচূড়া সনদ

বর্ণনা করা হয়না এটা মুফতি আব্দুর রউফ সাহেবের

জানা থাকার কথা। সনদের জন্য অন্যান্য কিতাব

রচিত

হয়/হয়েছে যে গুলোর উদ্যেশ্যই হল সনদ সংকলন

করা।

আচ্ছা, কওল বর্ণনা করেই যদি পুরা সনদ

বর্ণনা করা জরুরি হয়ে থাকে তাহলে মেশকাত

শরিফের

ব্যাপারে তারা আপত্তি কেন তোলে না?

**মিশকাতের হাদীস

বা আছার বর্ণনা করে বলা হয়েছে এটা ইমাম

বুখারী রাহ

বর্ণনা করেছে এটা ইমাম বাইহাকী রাহঃ বর্ণনা

করেছেন,

এটা ইমাম মুসলিম রাহঃ বর্ণনা করেছেন।

কিন্তু এই সকল ইমাম থেকে মেশকাতের

মুসান্নাফের লেখক হাম্মাদ বিন

আব্দুল্লাহ আলখতীব আত তিবরিযী(৭৪১

হি:) পর্যন্ত কোন সনদ উল্যেখ নেই। কিন্তু এর

সামনে সেই সনদ অবশ্যই ছিলো। যদিও তিনি তা

উল্যেখ

করা যরুরী মনে করেন নি।

**কারন যদিও ইমাম বোখারী রহ. ২৫৬ হি: তে মৃত্যু

বরণ করেছন তারপর ও

তার কিতাব রয়েছে ব্যাস এটি বড় দলিল। এখন

যদি কোন

আহাম্মক এই আপত্তি তোলে যে “মেশকাতে

হাদীস

গুলোর সনদ উল্যেখ নেই শুধু বলা হয়েছে এটা ইমাম

বুখারী রাহ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু ইমাম বুখারী

থেকে

শেষ পর্যন্ত কোন সনদ নেই । তাই……।”

তাকে আপনি কি জবাব দিবেন?

**আমাদের ও এই কুদুরী ,

হিদায়া, রাদ্দুল মোহতারের ক্ষেত্রে একই জবাব।

যদিও ইমাম আবু হানিফা ১৫০ হি: তে মৃত্যু বরণ

করেছেন

তারপরও তার কথাগুলো তার ছাত্রদের কিতাবে

রয়েছে ,

ব্যাস এটি বড় দলিল।

বাদ দিলাম মেশকাতের কথা।

**ইবনে হাজর আসকালানি রাহঃ এর “””তাকরীবুত

তাহযীব”” রিজাল

সাস্ত্রের বিখ্যাত কিতাব। এখানে ইবনে হাজার

আসকালানি রাহঃ ৬০০,৫০০,৪০০,৩০০… বছর

আগের রাবিদের ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন।

কিন্তু

কোনো ধরনের সনদ উল্যেখ করেন নি। এখন যদি

কোন

জাহেল, মুফতি সাহেবের মত এই

কথা বলে যে –

**“ইবনে হাজার অমক রাবির মৃত্যুর ৩৯০ বছর পর

জন্মগ্রহন করে কিভাবে তার ব্যাপারে মন্ত্যব্য

করেছে তার কোন সূত্র নাই। অতএব সূত্র বিহীন

কারো কথা গ্রহন করা জায়েজ নাই ”

তাকে আপনি কি বলবেন?

**মূল ব্যাপার হল ইবনে হাজার

আসকালানি রাহঃ এর সামনে রাবির ব্যাপারে

মন্তব্যের

সনদ ছিলো কিন্তু এ তিনি তা উল্লেখ করার

জরুরত

মনে করেন নি। ঠিক একই ঘটনা কুদুরী, হিদায়া

,রাদ্দুল

মুহতারের… ক্ষেত্রে। এগুলোর লেখকদের সামনে

ইমাম

আবু হানীফা রাহঃ এর কথার সনদ ছিলো যা ইমাম

আবু

হানীফা রাহঃ এর ছাত্র ইমাম মুহাম্মদ, ইমাম

ইউসুফ,ইমাম ইবনে আবি শাইবার কিতাবে আছে

কিন্তু

তারা এর সনদ ফতোয়ার কিতাবে উল্লেখ

করা জরুরী মনে করেননি। ঠিক যেমন মেশকাতের

লেখক

যে কারনে জরুরী মনে করেন নি।

ওনার সম্পর্কে উল্লেখ্য যোগ্য কিছু তথ্য :-

IMAM ABU HANIFA (ra)

★Nu’man bin Thabit ibn Zauti,- well known in Islamic

History as ‘Imam Abu Hanifa’ and ‘Imam Azam’ – was

the son of a Persian merchant.

He was born in Kufa, Iraq – in the Year 80 A.H.

★His father – Thabit – was privileged to meet Hazrat

Ali (ra) who had at the time, made Kufa his capital.

Kufa was founded in 17 A.H. by Hazrat Umar ibn

Khattab (ra) the 2nd Khalif.

Kufa had become the 3rd most important centre of

learning during Hazrat Umar’s (ra) Khilafat.

★A large number of Sahaba (ra) were sent to this new

city to settle here by Umar (ra). These included Hazrat

Abdulla ibn Ma’sood, Sa’d ibn Abi Waqqas, Ammar,

Huzaifa & Abu Moosa etc. (ra).

★ Records indicate the presence of 1050 Sahaba in

Kufa of whom 24 were the participants of Badr.

★ At the age of 20, Imam Abu Hanifa turned his

attention towards the pursuit of advancing his Islamic

knowledge.

★Among his 1st and the most important tutors was

Imam Hammad (Died 120 A.H.) whose educational

lineage is linked with **Hazrat Abdulla Ibn Mas’ood

(ra).

★Imam Abu Hanifa (ra) had joined his father’s

business wherein he showed scrupulous honesty and

fairness.

Once his agent had sold a consignment of silk cloth on

his behalf but forgot to mention a slight defect to the

customers. When Abu Hanifa learnt of this, he was

greatly distressed because he had no means of the

refunding the customers; so he immediately ordered the

entire proceeds of the sale ( 30,000 Dirhams ) to be

given in charity.

★The Imam was also keenly interested in education.

He established a school at Kufa, which later became a

famous College of Theology. Here he delivered lectures

on Islamic Law and related subjects.

★Fiqah or Islamic Law was systematically studied by

his students under his expert guidance.

A large number of his devoted and highly intelligent

students worked under him for 30 years, and it is the

labour of these students that gave us the Hanafi

School of thought.

★Imam Abu Hanifa (ra) was the 1st of the Imams to

advocate the use of “reason” in the consideration of

religious questions based on the Qur’an and Sunnah.

He was also the 1st Imam to arrange all the subjects

of Islamic Law systematically.

★His most important work is the Kitab-ul-Aasaar

which was compiled by his students – Imam Abu Yusuf

and Imam Muhammad.

The news of his death soon spread throughout

Baghdad

★The whole town came out to pay their last homage

to the greatest Imam of Islamic Law.

More than 50,000 people participated in the first

Janaza Salaat.

★People continued to flock and before the Janaza

could be finally taken for burial, the Salaatul Janaza

was offered 6 times in all.

★For days, people came in large numbers to pay their

respects at the grave side.

★Among the four Imams, Abu Hanifa has the largest

number of followers even today in all parts of the

world {M.A.R.K.}.

Advertisements

১৪ই শাওওয়াল শরীফ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস।

১৪ই শাওওয়াল শরীফ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে

ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস।

৯৭১ হিজরীর পবিত্র ১৪ই শাওওয়াল শরীফ উপ-মহাদেশের

পাঞ্জাব প্রদেশের সিরহিন্দ শরীফে হযরত মুজাদ্দিদে

আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদতী শান

মুবারক প্রকাশ ঘটান ।

সম্মানিত পিতার দিক থেকে তিনি ফারুক্বী এবং সম্মানিত মাতার দিক

থেকে তিনি সাইয়্যিদ । সুবহানাল্লাহ !

আফদ্বালুল আউলিয়া, ক্বাইয়্যুমে আউওয়াল, আবুল বারাকাত,

বদরুদ্দীন শায়েখ আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দী রহমতুল্লাহি

আলাইহি তিনি হচ্ছেন একাদশত হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ,

মুজাদ্দিদে আলফে ছানী। সুবহানাল্লাহ!

উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান বর্ণনাতীত।

স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মুবারক শান-মান ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-

সম্মান আলোচনা করে দুইখানা পবিত্র হাদীছ শরীফ মুবারক

বর্ণনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফগুলো নিম্মরুপ

“একাদশ হিজরীতে একজন মহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার

আবির্ভাব ঘটবে, তিনি হচ্ছেন ‘নূরুন আযীম তথা মহান নূর’।

উনার নাম মুবারক হবে আমার নাম মুবারক-এ। তিনি দুই যালিম বাদশাহর

মাঝে তাশরীফ মুবারক নিবেন। উনার মুবারক শাফায়াতে হাজার

হাজার লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে।” সুবহানাল্লাহ! (জামউল

জাওয়াম, জামিউদ দুরার)

“আমার উম্মতের মাঝে একজন মহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার

আবির্ভাব ঘটবে। উনাকে ‘ছিলাহ’ বলা হবে। উনার মুবারক

শাফায়াতে (সুপারিশে) অসংখ্য মানুষ জান্নাতে প্রবেশ

করবে।” সুবহানাল্লাহ! (জামউল জাওয়াম, জামিউদ দুরার, জামিউল

আহাদীছ, যুহুদ, ইবনে সা’দ, বাইহাক্বী)

আর স্বয়ং হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি

তিনি নিজে উনার কিতাবে উল্লেখ করেছেন,

“সেই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য সমস্ত

প্রশংসা, যিনি আমাকে দুই সমুদ্রের মাঝে

‘ছিলাহ’ (সংযোজনকারী) হিসেবে প্রেরণ করেছেন।”

সুবহানাল্লাহ!

যরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি

মোগল স¤্রাট জালালুদ্দীন আকবর ও জাহাঙ্গীর- সৃষ্ট ফিৎনা

সমূলে উৎপাটিত করেন। আকবরের শাসনামলে মানুষ তাওহীদ

ও রিসালতের পরিবর্তে লাত-মানতের খেয়ালে মগ্ন হয়ে

পড়ে। আকবর প্রবর্তিত বাতিল মতবাদ ‘দ্বীন-ই-ইলাহী’-এর

অপশাসনে ঈমান-আক্বীদা হারিয়ে মানুষ বিদয়াত, শিরক ও

কুফরীতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। অবজ্ঞা ও অবহেলা ভরে

মানুষ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত সুন্নত মুবারক ও আহকাম মুবারকের

বিলুপ্তি ঘটায় এবং উনার বিরোধিতা শুরু করে দেয়। নাউযূবিল্লাহ!

সর্বনিকৃষ্ট দুনিয়াদার আলিম আবুল ফযল ফৈজী, মোল্লা মুবারক

নাগৌরী এদের প্ররোচনায় আকবর সৃষ্ট জঘন্য ফিৎনার অতি

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্মরূপ :

দিনে ৪ বার সূর্য পূজা।

জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস।

কুকুর ও শুকরকে সম্মান প্রদর্শন।

সম্মানিত কালিমা শরীফ পরিবর্তন।

দ্বীন-ই-ইলাহী প্রবর্তন।

সিজদা প্রথার প্রচলন।

সুদ, জুয়া, শরাব ইত্যাদি হালাল ঘোষণা।

‘আহমদ’ ও ‘মুহম্মদ’ নাম রাখা নিষিদ্ধকরণ।

দাড়ি রাখা হারাম ঘোষণা।

আরবী পড়ালেখা বন্ধ ঘোষণা।

পবিত্র ওহী, পবিত্র মিরাজ শরীফ অস্বীকার।

সূর্য পূজায় এক পা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা।

মাথায় টিকি রাখা।

গরু জবাই নিষিদ্ধ ঘোষণা।

চাচাতো বোন, মামাতো বোন, খালাতো বোন বিয়ে করা

নিষেধ ঘোষণা।

নিরক্ষর আকবরের মুজতাহিদ হওয়ার বাসনা।

পবিত্র জুমুয়ার নামাযে তার খুৎবা দেয়ার অপপ্রয়াস।

ফরজ গোসলের বিধান বাতিল ঘোষণা।

ব্যভিচার চালুকরণ।

ফরজ পর্দা রহিতকরণ।

খৎনা বন্ধ ঘোষণা।

কবরে লাশের মাথা পূর্ব দিকে এবং পা পশ্চিম দিকে রাখার নিয়ম

জারীকরণ।

ফৈজী কুকুরের সঙ্গে থাকতো। একসঙ্গে খানা খেতো।

সে দিনে অন্ততঃ দু’বার কুকুরের জিহ্বা চুষতো। সে মাযহাব

মানতো না।

নাউযূবিল্লাহি! নাউযূবিল্লাহি!! নাউযূবিল্লাহি!!!

তিনি এইসব ফিতনা অত্যন্ত কঠোর হস্তে দমন করেন। উনি না

হলে হয়ত আজও আমাদের সুর্য পুজা করতে হত।

১৬০৬ ঈসায়ী সনে অপঘাতে আকবরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

সে সম্মানিত ইসলাম বিরোধী জঘন্য মতাদর্শ সংক্রামিত করে

যায় পুত্র জাহাঙ্গীরের মন ও মনেন। মানুষ বদল হলো,

কিন্তু আদর্শ বদল হলো না। জাহাঙ্গীর ও উনাকে অনেক

কষ্ট দিতে থাকেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমস্ত চক্রান্ত ব্যার্থ

হয়।

অবশেষে জাহাঙ্গীর হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী

রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরীদ হয়। সীমিত পরিসরে হলেও

মোগল সাম্রাজ্যের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় সম্মানিত দ্বীন-

ইসলাম উনার পবিত্র বিধিমালা এবং জাহাঙ্গীরের ছেলে

আউরংগজেব পরবর্তিতে এরই ধারাবাহিকতায় রচনা করেন

“ফতোয়ায়ে আলমগীরী” যা মুসলিম বিশ্বে সমাদৃত এক

কিতাব।

এগারো শতকের সুমহান মুজাদ্দিদ, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে

ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র ৬৩ বছর সুন্নতি বয়স

মুবারকে ১০৩৪ হিজরী সনে, ১৬২৪ ঈসায়ী সনে পবিত্র ২৮

ছফর শরীফ মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা উনার পবিত্র

দীদারে গমন করেন।

আফসুস আমাদের জন্য, কয়জন জানি আমরা উনার সম্পর্কে,

কিন্তু আকবরের নাম আমরা সবাই ঠিক ই জানি।

উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৷

উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন একজন

তাবেইন। কারান (Qaran) নামক স্থানের অধিবাসী যা

বর্তমানে ইয়েমেনে কোন একটি স্থান। উনার পিতার নাম

আবদুল্লাহ এবং উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার

বল্য বয়সে উনার পিতা ইন্তেকাল করেন। উয়ায়েস্ আল-

কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা ও আহলে কিতাব ছিলেন।

উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

সমসাময়িক কালের ব্যক্তি ছিলেন। যদিও নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

জীবদ্দশায় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনার ব্যক্তিগত /সরাসরি সাক্ষাৎ

হয় নাই তথাপি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি

আলাইহি উনাকে তাবেইন শ্রেষ্ঠ হিসাবে উল্লেখ

করেছেন। আল্লাহ্ পাক উনি হতে প্রেরিত নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে

দেখার আন্তরিক আকুলতার খাকার পরও উনার নাম সাহাবী

রাদিআল্লাহু আনহুম গন উনাদের তালিকায় স্থান পায়নি যা আমাদের

জন্য উদাহরণ স্বরূপ ।

উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনা ইসলাম

গ্রহণ:

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার অঙ্গুলির নির্দেশ জখন চন্দ্র দু ভাগ হয়ে যায়

তখন অনেকে দূর দূরান্ত থেকে নবুওত উনার আলামত

প্রকাশ পেয়েছে বলে মদিনা শরীফ গমন করেন। যা

সম্পর্কে পূর্ব বর্তী আসমানী কিতাব সমূহে উল্লেখ ছিল ।

তখন উনার ধর্মের একজন পাদ্রী যিনি পরবর্তী কালে

সাহাবী হন উনারা আবার ইয়েমেনে আগমন করেন এবং উনার

কাছে বায়াত হয়ে দীন ইসলাম গ্রহণ করেন ।

হুজুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক বর্ণনা:

একদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনি বলেন “আমি বাস্তবিক আল্লাহ্ তা ’আলা উনার

রহমতের সুগন্ধযুক্ত হাওয়া ইয়েমেনের দিক থেকে

পাচ্ছি।” নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনি আরও বলেন “কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা ‘আলা

সত্তর হাজার ফেরেশতাকে উয়ায়েস্ আল –কারনী অনুরূপ

চেহারা দিয়ে সৃষ্টি করবেন ।

হাশরের মাঠে উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনাকে তাদের মধ্যে ছুপিয়ে রাখবেন এবং তাদের আড়ালে

রেখে উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে

বেহেশতেও প্রবেশ করানো হবে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণ

হল , তিনি দুনিয়াবি জীবনে নিজেকে মানুষের আড়ালে

রেখে ইবাদত করতে ভাল বাসতেন, নিজেকে তিনি গোপন

রাখার চেষ্টা করতেন যেন উনার ইবাদত বন্দেগীর ধারা

দেখে মানুষ তাঁর প্রশংসা এবং গুণ – কীর্তনে লেগে না

যেতে পারে। আল্লাহ রাব্বুল আ ’লামীন তাঁর পার্থিব

জীবনের এই চেষ্টা ও অভ্যাসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে

এবং উনাকে গুরুত্ব দিয়ে রোজ কিয়ামতে উনার জন্য ঐরূপ

ব্যবস্থা করবেন।

হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইসলাম গ্রহণ

করেন রাসুলেপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

জীবদ্দশায় , যদিও উনাদের মধ্যে দেখা সাক্ষাৎ হয় নাই।

রাসুলেপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর তিনি হযরত

আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সাথে উনার

সাক্ষাৎ হয়।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম বলেন ” আমার লোকদের মাঝে এমন একজন

আছে যে শেষ বিচারের দিনে সকল বিশ্বাসীদেরকে

হেফাজতের ক্ষমতা রাখে ”. সাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু গণ

জিজ্ঞাসা করলেন ” কে সেই ব্যক্তি ?” নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন

“সে আল্লাহর বান্দা। ” সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু গণ

প্রত্যুত্তরে বল্লেন “আমরা সবাই আল্লার বান্দা। আল্লাহ পাক

আমাদের সবাইকে পয়দা করেছেন।” সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহু গণ প্রশ্ন করলেন ” উনার নাম কি?” নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বল্লেন

“উয়ায়েস!” সাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু গণ জিজ্ঞাসা

করলেন,”তিনি কোথায় থাকেন ?” নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ

হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন “ ইয়েমেন”.

সাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু গণ জিজ্ঞাসা করলেন, “তিনি যদি

আপনাকে ভালোবাসে , তাহলে কেন আপনার খেদমতে

হাজির হয় না ?” নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বল্লেন , “ সে আমার পথ গ্রহণ

করেছে এবং সে একজন বিশ্বাসীর অন্তর্ভুক্ত ; শারীরিক

ভাবে তাঁর এখানে উপস্থিত হওয়ার কোন প্রয়োজন নাই।

অধিকন্তু তাঁর পরিস্থিতি তাঁকে এখানে আসতে সহায়তা করে না

এবং সে তার অচল-অন্ধ মায়ের সেবা করে। সে দিনের

বেলা উট চরায়। সেই আয় থেকে নিজে ও তাঁর মায়ের

ভরণ পোষণ করে। সাহাবা রহমতুল্লাহি আলাইহি গন প্রশ্ন

করলেন আমরা কি উনাকে দেখতে পাব?” রাসুলুল্লাহ

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,” হযরত আবূ বকর

ছিদ্দীক্ব আলাইহি সালাম নন , তবে উমর ফারূক্ব আলাইহি সালাম

এবং আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনারা পারবে।

আপনারা উনাকে পাবেন ইয়েমেনের একটি গ্রাম শারানীতে

এবং উনার হাতের তালুতে এবং বুকের পাজরের কাছে সাদা দাগ

দেখে আপনারা উনাকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে। যখন

আপনাদের সাথে উনার দেখা হবে, উনাকে আমার শুভেচ্ছা

দিবে আর আর আমার উম্মতদের জন্য দোআ করতে

বলবে। ”এটা উল্লেখ্য যে হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাতা ইন্তিকাল এর পরে তিনি হযরত

আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সাথে মিলিত

হওয়ার জন্য বের হন এবং সিফ্ফিনের যুদ্ধে শাহাদাৎ বরন

করেন।

জুব্বা/খেরকা মুবারক প্রদানঃ –

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম দুনিয়া থেকে বিছাল শরীফে উনার পূর্বে হযরত

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম এবং

হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহি সালাম উনাদের নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি

জুব্বা/ খেরকা মুবারক প্রদান করেন এবং জুব্বা / খেরকা মুবারকটি

উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে পৌঁছে

দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ

হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বলেন আমার জুব্বা

মোবারকটি উয়ায়েসকে দেবে এবং তোমাদের জন্য এবং

আমার সকল উম্মতের মাগফেরাতের জন্য উনাকে দোআ

করতে বলবে। ”

দাঁত ভাঙ্গার ঘটনা :

ওহুদ উনার জিহাদে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনা দাঁত মুবারক শহিদ হন। আর

তৎখনা আল্লাহ্ পাক উনাকে উলহামের মাধ্যমে জানিয়ে দেন।

আর তারপর হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার ব্যথা অনুভবের মহব্বতে একটি দাঁত ভেঙ্গে

ফেলেন। অতঃপর তিনি চিন্তা করেন কোন দাঁত মুবারক শহীদ

হয়েছে তা তো উনি জানেন না তাহলে যদি অন্য দাঁত মুবারক

হয় ? এই ভাবে তিনি এক এক করে সমস্ত দাঁত পাথর দ্বারা

ভেঙ্গে ফেলন ।

হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাক্ষাত

লাভের চেষ্টা:

হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দাঁত

মুবারক ভেঙ্গে ফেলা এবং মদিনা বশী আসলে তাদের

কাছে বেকুল হয়ে নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা জানতে চাওয়া সব সময়

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার প্রতি গভীর ভাবে মনোনিবেশ করা উপলব্ধি

করে উনার মাতা হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি

আলাইহি উনাকে নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গৃহে গিয়ে দেখা করার অনুমতি দান

করেন। কিন্তু করন ( ইয়েমেন) থেকে মদিনা শরীফ

অনেক দূর অনেক দিনের রাস্তা প্রায় ৪শ মাইল। একদিকে

উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাতা বৃদ্ধ

চোখে দেখেন না হাটতে পারেন না আবার অসুস্থ। তাই তিনি

উনার প্রতিবেশীদের উনার মায়ের খিদমতে রেখে

গেলেন। তিনি সুদীর্ঘ পথ কোথাও মরুময় দিনে চরম গরম

বিভ্রান্তিকর কোথাও উঁচু পাহাড় রতে ঠাণ্ডা কিছুকেই তোয়াক্কা

করলেন না একটান চললেন মদীনাতুল মনওয়ারায় প্রিয় নবী

আহমদ মুসতফা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার দিদারে। এভাবে তিনি মদিনা শরীফ পৌঁছেই নূরে

মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনার উনার গৃহ মুবারক উনার প্রধান দরজায় এসে নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে

খোজ করেন। কিন্তু তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর

পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি হুজরায় ছিলেন না তবে

হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ভিতর থেকে বলেন নূরে

মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

জীহাদে গেছেন ( যুদ্ধ ময়দানে) সেখান থেকে

ফিরবেন। তিনি অপেক্ষা করবেন না চলে যাবেন। উনার তখন

মায়ের অসুস্থতার কথা স্মরণে এলো এবং তিনি আবার

ইয়েমেনের দিকে রওনা হলেন এবং নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে

সচক্ষে দেখা হলনা। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি যুদ্ধের ময়দান থেকে

এসেই উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কথা

জিজ্ঞাসা করেন। এই বিষয়ে মুজাদ্দিদ আল ফেসানী

রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাকতুবাত শরীফে বলেন হযরত

উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি যদি কিছু সময়

অপেক্ষা করে ও যদি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাক্ষাত লাফ করতে পারতেন

এবং সোহবত লাভ করতেন তাহলে তিনি সাহবীয়াতের মাকাম

হাসিল করতে পারতেন ।

সাহাবী আলাইহিমুস সালাম গনের সাথে সাক্ষাত:

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম উনার খেলাফত এর সময়

খলীফা ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম উনি এবং হযরত আলী

কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে সঙ্গে নিয়ে

উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি সন্ধানে মদিনা

থেকে কুফার গমন করেন। তথায় পৌঁছে উনারা

ইয়েমেনবাসীদের কাছে উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি কথা জিজ্ঞেস করেন। কিন্তু তারা কেহই

উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সন্ধান দিতে

পারল না। অবশেষে এক ব্যক্তি বলল , একটি লোককে

তো দেখি সে পাগলের মত প্রায়। সে জনপদে থাকে না।

নির্জন এলাকায় তাঁর বসতি , প্রান্তরে উট চড়িয়ে বেড়ায় এবং দিবা

শেষে একবার শুকনো রুটি ভক্ষণ করে। তাঁর এক স্বভাব ,

লোকে যখন হাসে, সে তখন কাঁদে , আর লোকে যখন

ক্রন্দন করে সে তখন হাসতে থাকে।

লোকটির কাছে এরূপ খবর পেয়ে হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব

আলাইহি সালাম ও হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস

সালাম উনারা কারণ এলাকায় গিয়ে পৌঁছলেন। উনারা যখন উয়ায়েস্

আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি কাছে গিয়ে হাজির হলেন ,

তখন তিনি নামাজ পড়ছিলেন। আর নিকটেই ফেরেশতা গন তাঁর

উট চরাচ্ছিল। তিনি যখন নামাজ সমাপন করে উঠলেন , সাহাবাদ্বয়

উনাকে সালাম করে উনার নাম জিজ্ঞেস করলেন। তিনি

বললেন , অধমের নাম আবদুল্লাহ (অর্থ আল্লাহ্ পাক উনার

বান্দা )। ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম বললেন , আমরাও

আল্লাহ্ পাক উনার বান্দা আপনার আসল নামটি শুনতে চাই। তিনি

বললেন , ওয়ায়েস।

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম বললেন , অনুগ্রহ

করে আপনার হাতখানা দেখাবেন ? তিনি হাত বাড়িয়ে দিলে

তাতে অবিকল নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি কর্তৃক বর্ণিত নিশানা দেখে হযরত ওমর

ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম উনার হাতখানা চুম্বন করলেন। তারপর

নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম অসীয়তের কথা উল্লেখ করে উনার হাতে নুরে

মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

পবিত্র জুব্বা/ খেরকা অর্পণ করলেন।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার নির্দেশ অনুযায়ী উনার উম্মতের জন্য দোয়ার

কথাও বলা হল। এ সব কথা শুনে হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , দেখুন! আপনারা খুব ভাল ভাবে

খোঁজ খবর নিয়ে দেখুন, সম্ভবত : এ অন্য লোক হবে।

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম বললেন , আমরা খুব ভাল

ভাবেই দেখে শুনে নিয়েছি, খোদ নুরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি যে

সকল নিশানার কথা বলে গিয়েছেন আপনার সাথে তা হুবহু মিলে

গিয়েছে। আমরা সম্পুর্ণ নিশ্চিত যে, আপনিই নুরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সেই

পরম প্রিয় উয়ায়েস্ আল- কারনী। এতক্ষণে হযরত উয়ায়েস্

আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি আগন্তুকদের পরিচয়

জিজ্ঞেস করলেন।

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম বললেন , আমার নাম হল

ওমর ইবনে খাত্তাব আর এ সঙ্গী হলেন নুরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জামাতা

হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম । উনাদের

পরিচয় লাভ করে হযরত ওয়ায়েস কারনী উনাদের সালাম

জানিয়ে উভয়ের হস্ত চুম্বন করে বললেন , আপনাদের মত

মহামর্যাদাশীল এ হতভাগা গুনাহগারের কাছে তাশরীফ

এনেছেন , এ যে আমার পরম সৌভাগ্য। কিন্তু আপনারা যে

আমাকে বে -আদব বানিয়ে দিলেন। তারপর তিনি আরো

বললেন , নুরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম গুনাহগার উম্মতদের মুক্তির দোয়ার জন্য

তো আপনারাই অধিক যোগ্য ব্যক্তি। হযরত ওমর ইবনুল

খাত্তাব আলাইহি সালাম বললেন , আমরা তো তা অবশ্যই করছি ,

কিন্তু আপনিও নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ পালন করুন।

পরবর্তীতে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস

সালাম উনি এবং উমর ফারূক্ব আলাইহি সালাম উনি জুব্বা মুবারকটি পৌঁছে

দিয়ে উনাকে দোআ করার জন্য বললে তিনি কান্না শুরু

করেন। জুব্বা মুবারকটি নিয়ে তিনি নির্জনে নিভৃতে চলে যান

এবং সেজদায় পড়ে তিনি আল্লাহর দরবারে রোনাজারি করতে

থাকেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহ পাক আমি এই জুব্বা মুবারক

ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণ করব না, যতক্ষণ না আপনি সকল উম্মতি

মুহম্মদি উনাদের ক্ষমা করবেন। হযরত নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি আমাকে

এই দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। গায়েবী আওয়াজ

এলো-“ আমি অসংখ্য উম্মতি মোহাম্মদকে ক্ষমা ঘোষণা

করলাম , এবার আপনি জুব্বা মুবারক গ্রহণ করুন।” হযরত উয়ায়েস্

আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি দাবী করেন , আমি সকল

উম্মতি মুহম্মদির উনার মাফই কামনা করছি। এমতাবস্থায় হযরত উমর

ফারূক্ব আলাইহি সালাম তিনি উক্ত নির্জন স্থানে উপস্থিত হলে

উয়ায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একাগ্রতায় ব্যাঘাত ঘটে তখন

হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব আলাইহিস সালাম প্রত্যক্ষ করলেন,

ছিন্ন কম্বল পরিহিত এই দরবেশ উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি কাছে সারা জগতের অমূল্য ধন -সম্পদসমূহ

বিদ্যমান। তা দেখে তিনি অভিভূত ও ভাবাবিষ্ট হয়ে পড়লেন।

খেলাফতের প্রতি উনার বিতৃষ্ণা এসে গেল। তিনি বলে

উঠলেন , ওহে কে এমন আছে যে একটা রুটির বিনিময়ে

খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করবে ?

ওমর ইবনে খাত্তাব আলাইহিস সালাম এর কাছ থেকে এই

ধরনের স্বাগত উক্তি শুনে হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , যে অবুঝ সে- ই তা করবে। যদি

সত্যিই মন না চায় তাহলে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিলেই তো

হয় , যার মন চায় সে কুড়িয়ে নিবে। এর মধ্যে আবার অদল –

বদলের কি প্রয়োজন আছে ?

এই কথা বলে হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি

নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম প্রদত্ত লেবাস পরম ভক্তির সাথে অঙ্গে পরিধান

করলেন । তিনি বলেন হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহি সালাম ! আপনি

আমাকে সওয়াল না করলে এই জুব্বা মুবারক ততক্ষণ পর্যন্ত

আমি গায়ে দিতাম না , যতক্ষণ না আল্লাহ তায়ালা সমস্ত উম্মতি

মুহম্মদী গনকে ক্ষমা ঘোষণা করতেন। অত: পর তিনি

বললেন , এই নাদানের প্রার্থনায় আল্লাহ রাব্বুল আ ’লামীন

কবিলায়ে রাবী ও কবিলায়ে মোজার- এর ছাগ- পশমের

সংখ্যাতুল্য উম্মতে সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ক্ষমার

ওয়াদা করেছেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বলেন বিশ্বাসী আল্লাহর

দিদার মুবারক খোজ করবে, এবং কেউ তা অন্তর চক্ষু দ্বারা

দেখবে , যা চর্ম চক্ষু দ্বারা পাওয়া যাবে না। এবং জ্ঞান হলো

আলো বা নূর যা আল্লাহ যাকে খুশি দান করেন।

শারীরিকভাবে কাছাকাছি না থাকলেও ফয়েজ তাওয়াজ্জু লাভ হয়।

হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি তারই

উদাহরণ। যেহেতু তিনি কখনোই নবিজী সল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনাকে চর্মচক্ষু দ্বারা দেখেন নাই কিন্তু তার

পরেও নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত হাসিল করতে পেরেছিলেন ।

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম উনি হযরত উয়ায়েস্

আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললেন , জনাব!

আমাদের জন্য একটু দোয়া করুন। তিনি জবাব দিলেন, দেখুন!

আমার ঈমান তো আন্তরিকতা শূন্য , তবু আমি দোয়া করছি। আর

প্রতি ওয়াক্ত নামাযের তাশাহূদেও এ দোয়াই করে থাকি , হে

খালিক মালিক আল্লাহ্ পাক ! আপনি মু’ মিন নর ও নারীকে ক্ষমা

করুন। আর জনাব খলিফা ! মনে রাখবেন , যদি আপনি ঈমানের

সাথে কবরে যেতে পারেন তা হলে দোয়া নিজেই

আপনাকে খুঁজে নিবে। হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি

সালাম উনি বললেন , আরো নছীহত করুন। হযরত উয়ায়েস্

আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বললেন , জনাব খলিফা !

আপনি কি আল্লাহ্ পাক উনাকে চিনেছেন ? হযরত ওমর ইবনুল

খাত্তাব আলাইহি সালাম উনি জবাব দিলেন, হাঁ, নিশ্চয় চিনেছি। হযরত

উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , যদি চিনে

থাকেন তাহলে অন্য আর কাউকে যেন না চিনেন ও

জানেন। তবে তাই হবে আপনার জন্য বেশি উত্তম ।

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম উনি বললেন , জনাব!

আরো কিছু নছীহত করুন ।

হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বললেন ,

আল্লাহ্‌ তায়ালা উনি কি আপনাকে চিনেন , জানেন?

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম উনি বললেন , তা তো

অবশ্যই ।

হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বললেন ,

একমাত্র তিনি ছাড়া আর কেউ যদি আপনাকে না চিনেন ও না

জানেন , তাহলে তা আপনার জন্য বেশি ভাল কথা।

এরপর হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম বললেন , জনাব!

একটু অপেক্ষা করুন, আমি আপনার জন্য কিছু মাল- সামানা নিয়ে

আসি। তখন উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি

নিজের জামার পকেট থেকে পয়সা বের করে হযরত ওমর

ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম উনাকে দেখিয়ে বললেন , উট

চড়ানোর মজুরী বাবদ ইহা আমি উপার্জন করেছি। যদি আপনি

নিশ্চিত করে বলতে পারেন যে , এগুলো খরচ করার

পরেও আমি বেঁচে থাকব , তাহলে আমার আরো কিছু মাল-

সামানার প্রয়োজন দেখা দিবে অর্থাৎ জীবনের এক মুহূর্ত

ও বিশ্বাস নেই, তাই মাল সঞ্চয়ের ও প্রশ্ন আসে না। হযরত

ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম থেকে তিনি কিছু গ্রহণ

করতে রাজী হলেন না ।

অতঃপর হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি

সাহাবাদ্বয় উনাদের সম্বোধন করে বললেন , যাহোক,

মাননীয় মেহমান দ্বয়! অধমের সন্ধানে এত দূর আসতে বহু

কষ্ট পেয়েছেন। তারপর আমিও আপনাদেরকে কম কষ্ট

দেইনি। আশা করি অপরাধ ক্ষমা করবেন। তবে এখন আপনারা

প্রস্থান গ্রহণ করুন। দেখুন, কিয়ামত খুবই নিকটবর্তী। আল্লাহ্

পাক উনার রহমতে সে সময় আবার সাক্ষাত হবে আশা করি।

তখন আমাদের সান্নিধ্য দীর্ঘস্থায়ী হবে। আমি এখন

আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহে অধিক ব্যস্ত। এই পর্যন্ত

বলে সম্মানিত সাহাবাদ্বয় উনাদের বিদায় প্রদান করে তিনি

নিজেও সেখান থেকে উঠে চলে গেলেন ।

অন্তর দিয়ে তিনি হযরত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খুবই কাছাকাছি ছিলেন যার

কারণে তিনি নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যথা নিজেও অনুধাবন করতে

চেয়েছেন। যার ফলে যখন নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ

হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দাঁত মুবারক যুদ্ধে

শহীদ হন , তিনিও উনার সমস্ত দাঁত ভেঙে ফেলেন ।

উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি পন্থানুযায়ী

শারীরিক ভাবে নয় বরং বাতেনী / অন্তর চক্ষু জ্ঞানের

দ্বারাই তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দাঁত মুবারক শহীদ হবার বিষয়টি জানতে

পেরেছিলেন। এটা সরাসরি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর

পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনা থেকে প্রাপ্ত নেসবত

এর সাথে সম্পৃক্ত। বিশ্বাসীগন আল্লাহর নূরকে খুঁজতে

থাকে। এটা ততক্ষণ অবধারণ করা যায় না যতক্ষণ অন্তরদ্বারা তা

অনুধাবন করা না যায় ।

উক্ত সাহাবাদ্বয় উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি

সাথে উনার সাক্ষাতের পর থেকেই উনার মান -মর্যাদার কথা

লোক সমাজে প্রকাশ হয়ে পড়ে। এর ফলে তাঁর নির্জন

ইবাদত বিঘ্নিত হবে অনুধাবন করে তিনি কারণ এলাকা থেকে

কুফায় ( বর্তমান ইরাক) চলে জান। শুনা যায়, এরপর হারাম ইবনে

জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি ছাড়া আর কারো সাথে উনার সাক্ষাত

হয়নি ।

হযরত হারাম ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে

মুলাকাত :

হযরত হারাম ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উয়ায়েস্ আল-

কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কিত অভূতপূর্ব

ঘটনাবলী শুনতে পেয়ে উনার সাথে সাক্ষাত করার জন্য

অধীর হয়ে উঠলেন এবং উনাকে খুঁজতে বের হয়ে

পড়লেন। অনেক অনুসন্ধানের পর কুফায় উনার সাক্ষাত লাভ

করলেন। একদিন তিনি উনাকে ফোরাত নদীতে অজু

করতে দেখলেন। হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি

আলাইহি উনার শারীরিক নিদর্শনগুলোর কথা তিনি পূর্ব থেকেই

জানতেন। সেইগুলোর সাথে পুরো পুরি মিল দেখে তিনি

উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে চিনে

ফেললেন। তিনি উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনাকে সালাম করে মোসাফাহার জন্য হাত বাড়ালেন। হযরত

উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি সালামের জবাব

দিলেন, কিন্তু মোসাফাহ করলেন না।

হযরত ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন , আল্লাহ

পাক তিনি আপনার প্রতি উনার করুণা বর্ষণ করুন। হযরত ইবনে

জাবান উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর দারিদ্যের

করুণ অবস্থা দেখে চোখের পানি দমিয়ে রাখতে পারলেন

না। তিনি কেঁদে দিলেন। হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি ও কাঁদলেন।

হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন ,

হে হারাম ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি! আল্লাহ্ পাক আনাকে

দীর্ঘজীবী করুন , আপনি কি জন্য এখানে এসেছেন?

আপনি আমার সন্ধানই বা পেলে কার কাছে?

হযরত ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , জনাব ! আপনি

আমার পিতার নাম এবং আমার নাম কি করে জানলেন? ইতিপূর্বে

তো কখনই আমাকে দেখেন নি। সম্ভবত আমার কথা

কখনো কারো কাছে শুনতে ও পাননি ।

হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , যিনি

সর্বজ্ঞ তিনিই আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। আমার আত্মা

তোমার আত্মার সন্ধান নিয়েছে। অতঃপর হযরত ইবনে জাবান

উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে আরজ

করলেন, জনাব! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে কিছু বলুন।

উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি জবাব দিলেন, আমি

উনাকে স্বচক্ষে কখনও দেখিনি। উনার পবিত্র বানীগুলো

অন্যের মারফতে শুনেছি মাত্র। তারপর কোন ওয়ায়েজ বা

মুহাদ্দিস রূপে নিজেকে প্রতিপন্ন করতে চাইনি। আমার অন্য

কাজ রয়ে গেছে। উনার কথা শুনে হযরত ইবনে জাবান

রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , জনাব! আপনি যদি কালামে পাক

থেকে কিছু আয়াত তেলাওয়াত করতেন, আমি একটু শুনতাম।

হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তখন পাঠ

করলেন—‘ আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম ’ কালামটি পাঠ

করে আকুল ভাবে ক্রন্দন শুরু করলেন এবং ক্রন্দনরত

অবস্থায়ই কোরআন পাকের আয়াত ‘ অমা খালাক্বতুল জ্বিন্না

অল ইনসা ইল্লা – লিইয়া’ বুদুন ’ তেলাওয়াত করলেন। অর্থাৎ আমি

জ্বিন এবং মানব জাতিকে শুধু মাত্র আমার ইবাদতের উদ্দেশ্যে

সৃষ্টি করেছি।

এ আয়াত শরীফ পাঠ করেই তিনি এমন জোরে এক চিৎকার

করে উঠলেন , মনে হল তিনি বেহুঁশ হয়ে গেছেন। কিন্তু

না , তিনি ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে লক্ষ্য করে

বললেন , ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি ! বলুত আপনি কোন

উদ্দেশ্যে এখানে এসেছেন ? ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি

আলাইহি বললেন , আপনার প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধাই আমাকে

টেনে এনেছে ।

হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কথা

শুনে বললেন , যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌ কে চিনেছে, সে

আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও সাথে ভালোবাসা করে শান্তি

পেয়েছে বলে আমার জানা নেই। জেনে রাখুন, একমাত্র

আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারও সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে

কেউ কোন দিন সুখী হতে পারে না। অতঃপর ইবনে জাবান

রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , জনাব , আমাকে কিছু উপদেশ দিন।

হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বললেন ,

ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি ! যখন নিদ্রাগমন করবেন , মৃত্যু

তখন পনার শিয়রে বলে মনে করবেন

আর জাগ্রতাবস্থায় সর্বদাই মৃত্যুকে আপনার চোখের সামনে

বলে মনে করবেন। যে কোন গুনাহকে ছোট মনে

করবেন না। কেননা গুনাহকে ছোট মনে করা ও একটি গুনাহ

ছাড়া আর কিছু নয় ।

এরপর হযরত ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে

জানতে চাইলেন ,জনাব, বলুন , আমি এখন কোথায় বসবাস

করব ?

হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি জবাব

দিলেন, আপনি সিরিয়ায় চলে যান। হযরত ইবনে জাবান

রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , নতুন অপরিচিত দেশে গিয়ে

আমার রুজি রোজগার কিভাবে চলবে?

হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বললেন ,

যার মনে এত ভাবনা চিন্তা তার উপদেশে কোন ফায়দা হবে

না ।

হযরত ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো কিছু

নছীহতের জন্য অনুরোধ করলেন। তখন হযরত উয়ায়েস্

আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , আপনার পিতা চলে

গেছেন। হযরত আদম আলাইহি সালাম উনা থেকে হযরত নূহ

আলাইহি সালাম , হযরত মূসা আলাইহি সালাম , হযরত ঈশা আলাইহি সালাম ,

এমনকি আখেরী নবী প্রিয় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ

হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়া থেকে পর্দা

করেছেন , ভাই হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম- ও একই

পথের পথিক হয়েছেন। এই পর্যন্ত বলে তিনি হযরত ওমর

ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম বলে ক্রন্দন করতে লাগলেন।

ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন , আল্লাহ্‌ আপনার

মঙ্গল করুন। কিন্তু জনাব! হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহি সালাম

তো মৃত্যুবরণ করেন নি?

হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বললেন ,

আল্লাহ্‌ পাক আমাকে উনার মৃত্যুর খবর পৌছিয়ে দিয়েছেন।

তারপর তিনি বললেন , তুমি আমি সবাই তো মৃত্যুদেরই দলভুক্ত ।

হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি নামায আদায়

করত: দোয়া করলেন। পরে উপদেশ স্থলে বললেন ,

জনাব! পবিত্র কোরআন শরীফ এবং অলীদের বানী

অনুসরণ করে চলবেন। আর এক পলকের তরেও মৃত্যুর

কথা ভুলে থাকবেন না। জনাব! আপনার সাথে আমার আর সাক্ষাত

হবে না। আপনি আমার জন্য দোয়া করবেন, আমিও আপনার

জন্য দোয়া করছি আপনি খাঁটি মুসলমান গনের মত জীবন যাপন

করবেন। এরপর তিনি ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে

লক্ষ্য করে বললেন , আপনি এই পথ দিয়ে চলে যান আর

আমি অন্য পথ দিয়ে বিদায় নিচ্ছি। হযরত ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি

আলাইহি উনার সাথে কিছু দূর অগ্রসর হতে চাইলেন , কিন্তু

হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাতে রাজী

হলেন না। বিদায় কালে হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি কেঁদে দিলেন এবং ইবনে জাবান

রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকেও কাঁদালেন।

হযরত ইবনে জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত উয়ায়েস্

আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে আমার একবার ই

মাত্র দেখা হয়েছিল এবং সেইটাই আমার প্রথম এবং শেষ

দেখা ।

হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আমল:

এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, অনেক সময় হযরত উয়ায়েস্ আল-

কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি ফজরের নামায আদায় করে

তাসবীহ পাঠ করতে করতে জোহরের ওয়াক্ত হয়ে

যেত। জোহরের নামায পড়ে তাসবীহ পাঠে আছরের

ওয়াক্ত হয়ে যেত। আছরের সালাত আদায় করে মাগরিব

পর্যন্ত তাসবীহ পাঠ করতেন। আবার মাগরিব আদায় করে এশা

পর্যন্ত তাসবীহ পাঠ করে এশার নামায আদায় করে মুরাকাবা

করতেন, তাতে ফজর হয়ে যেত। ফজর থেকে পূর্বানুরূপ

সেই একই অবস্থা চলতে থাকত। এই ভাবে একাধারে উনার

কয়েক দিন চলে যেত। এর মধ্যে না ছিল উনা পানাহার, না ছিল

বিশ্রাম নিদ্রা। তাছাড়া প্রয়োজন দেখা দেয়নি ইস্তেঞ্চা করার।

তাই উনার ওযু গোসলের ও দরকার ছিল না ।

তিনি একাধারে বহু রাত শয্যাগমন না করে বলতেন , এই রাতটি

আমার কিয়ামের জন্য, এই রাতটি রুকুর জন্য, এই রাতটি সিজদাহ্‌ র

জন্য। এইভাবে প্রতিটি রাত তিনি বিনিদ্র ইবাদতে কাটিয়ে দিতেন।

লোকজন জিজ্ঞেস করতেন, উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি আপনি কেমন আছেন ?

হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বলতেন ,

কি বলব, সিজদায় গিয়ে সিজদাহ্ ‌ র তাসবীহ পড়তে না পড়তেই

রাত অবসান হয়ে যায়। মনে চায় একটু ফেরেশতাদিগের মত

ইবাদত করি, কিন্তু তা আর হয়ে উঠে না।

আর একবার তিনি ‘ কেমন আছেন ’ প্রশ্নের উত্তরে

বললেন , কেমন আছি তা কি করে বলব ? যে ব্যক্তি

প্রত্যুষে উঠে সন্ধ্যার পূর্বেই তার মৃত্যুর আহ্বান আসে

কিনা বলেতে পারে না , সে আবার কেমন থাকবে ?

প্রশ্নকারী বললেন , তবু বলুন , আপনার অবস্থা কি?

তিনি বললেন , এক নিঃসম্বল ও পাথেয় শূন্য পথিক ! তার পথ যে

খুবই দীর্ঘ।

একদিন এক ব্যক্তি উনাকে জিজ্ঞেস করল, হুযুরী কালবের

( আন্তরিক একাগ্রতা ) নামায কিরূপ?

তিনি জবাব দিলেন, যে নামায নামাযী তীর বিদ্ধ হলেও টের

পায় না, তাকেই বলে হুযুরী কালবের নামায।

একবার কোন এক ব্যক্তি উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি

আলাইহি উনাকে উনার করুন অবস্থা দেখে একটি দামি কাপড় হাদিয়া

করেন। কিন্তু উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তা

তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বলেন, “ ওহে মানুষ আমাকে এই বস্ত্র

পরিধান করতে দেখলে চোর বলে সন্দেহ করবে। “

উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উট চরিয়ে অতি

অল্প আয় করতেন। যখন তিনি মনে করতেন এই আয় উনার

মার খিদমতের জন্য যথেষ্ট হবে তখন আয় করা থামিয়ে

দিতেন। আর উনার মায়ের খিদমত করার পর যা বেচে যেত তা

দরিদ্র ও ঋণ গ্রস্থ প্রতিবেশী গনদের দান করে দিতেন।

একবার লোকজন হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি

আলাইহি এর কাছে একটি লোকের একটি আশ্চর্য খবর নিয়ে

এলো। লোকটি দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে একটি কবরস্থানে

বসে গলায় কাফনের কাপড় ঝুলিয়ে শুধু ক্রন্দন করছে। তার

অন্য কোন কাজ নেই।

এ খবর শুনে হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনি বললেন , তোমরা আমাকে তার কাছে নিয়ে চল।

সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি দেখলেন, সত্যিই লোকটি

এতদিন ধরে কেঁদে কেঁদে একেবারে জীর্ণ ও

কঙ্কাল হয়ে গেছে। তার খানা পিনা আরাম নিদ্রা কিছুই ছিল না।

হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি লোকটিকে

বললেন , ওয়ে গাফেল! কবর ও কাফনের কাপড় যে

তোমাকে আল্লাহ্‌ র নিকট থেকে বহু দূরে নিয়ে গেছে।

ঐ দুটো বস্তু তোমাকে খাঁটি পথ ভুলিয়ে দিয়ে বিপথগামী

করেছে। শীঘ্র উঠে পড় এবং আল্লাহ্‌ র পথ অবলম্বন কর।

হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর ধমকে

লোকটির হুঁশ ফিরে আসল এবং তওবা করে নামায রোযা শুরু

করে দিল।

কথিত আছে, একবার হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি

আলাইহি একাধারে তিন দিন পর্যন্ত অনাহারী থেকে চতুর্থ দিন

ক্ষুধার প্রবল তাড়নায় বের হয়ে পড়লেন, দেখা যাক আল্লাহ্‌

তা ’আলা খাবার কোন কিছু মিলিয়ে দেন কিনা। হঠাৎ পথে পড়ে

থাকা একটি দিনার তাঁর চোখে পড়ল। তিনি ভাবলেন , হয়তো এ

কারো হারানো দিনার , তাই তিনি গ্রহণ না করে অগ্রসর হলেন।

মনে মনে ভাবলেন , কিছু কচি ঘাঁস চিবিয়ে ক্ষুধা নিবৃত্ত

করবেন। ঠিক এমন সময় কোথা থেকে একখানা গরম রুটি তার

সামনে রেখে দিল। হয়তবা রুটিখানা অন্য কোন ব্যক্তির

হতে পারে এই ভেবে তিনি তাও এড়িয়ে গেলেন। তখন

একটি ছাগ তাকে বলল , এই রুটি আপনারই। দেখুন! আপনি যার

বান্দা , আমিও তাঁর এক দাস। ছাগের ইঙ্গিত লাভ করে ও এমন কথা

শুনে হযরত উয়ায়েস্ আল -কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি রুটিখানা

তুলে নিলেন। অমনি ছাগটি চোখের নিমিষে অদৃশ্য হয়ে

গেল ।

হযরত উয়ায়েস্ আল-কারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি দীর্ঘ

জীবন লাভ করে অবশেষে জান্নাত বাসী হন। অনেকের

মতে তিনি বার্দ্ধক্যে সিফফিনের যুদ্ধে হযরত আলী

কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার পক্ষে যোগদান

করে শেষ পর্যন্ত ৬৫৭হিজরী শনে শাহাদাত বরন করেন।

উনার রওজা নিয়ে কিছু মত পার্থক্য রয়েছে তবে বিখ্যাত

পরিব্রাজক ইবনে বাতুতা হযরত উয়ায়েস্ আল- কারনী

রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সমাধি সিরিয়ার আর – রাক্বাহ নামক স্থানে

উল্লেখ করেন , যেখানে তিনি সিফ্ফিনের যুদ্ধে শাহাদাৎ

বরণ করেন।