কা‘বা শরীফ ও রওজা শরীফ ও যেকোন পবিত্র জিনিসের ছবিযুক্ত জায়নামাযে নামাজ আদায় করা হারাম, কুফরি ।

10256764_1570973936509424_6256535749326204189_o.jpg

কা‘বা শরীফ মসজিদে নববী শরীফ এবং বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ হচ্ছে, আল্লাহ পাক উনার নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত । যার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেকের জন্যই ফরজ এবং অশেষ কল্যাণের কারণও বটে ।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক বলেছেন:-
ﻭﻣﻦ ﻳﻌﻈﻢ ﺣﺮﻣﺖ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻬﻮ ﺧﻴﺮﻟﻪ ﻋﻨﺪﺭﺑﻪ
অর্থাৎ:- “আল্লাহ পাক যে সকল বস্তুকে সম্মনিত করেছেন, তাকে যে ব্যক্তি সম্মান করলো, এটা তার জন্য অল্লাহ পাকের নিকট কল্যাণ বা ভালাইয়ের কারণ হবে ।” (সূরা হজ্জ-৩০)

আল্লাহ পাক আরো বলেন :-
ﻭﻣﻦ ﻳﻌﻈﻢ ﺷﻌﻞ ﺀﺭ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﺎﻫﺎ ﻣﻦ ﺗﻘﻮﻯ ﺍﻟﻘﻠﻮﺏ
অর্থ:- যে ব্যক্তি আল্লাহ আল্লাহ পাক উনার নিদর্শনসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে,নিশ্চয়ই তা তার জন্য অন্তরের তাক্বওয়া বা পবিত্রতার নিদর্শন । (সূরা হজ্জ-৩২)

উপরি উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা এটাই স্পষ্ট হলো যে মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন সমূহের প্রতি সম্মান প্রর্শন করা সকলের জন্য ফরজ।আর সে গুলো অবমাননা করা সম্পূর্ন ই হারম এবং নাজায়িয । কাজেই পবিত্র কা‘বা শরীফ, মসজিদে
নববী শরীফ, বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ, যেহেতু আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন সমূহের অন্তর্খুক্ত, সেহেতু উক্ত নিদর্শন সমূহের পবিত্র ছবি পায়ের নিচে রাখা বা সেগুলোকে পদদলিত করা আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন সমূহকে অবমাননা করার শামিল । যা শুধু আদবের খেলাফই নয়, বরং স্থান ও ক্ষেত্র বিশেষে
নাজায়িয, হরাম ও কুফরী ।

তাই মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন:-
ﻳﺎﻳﻬﺎ ﺍﻟﺰﻳﻦ ﺍﻣﻨﻮﺍ ﻟﺘﺤﺔﻟﻮ ﺍﺷﻊﺀﺭ ﺍﻟﻠﻪ
অর্থ:- “হে ঈমানদার গন! তোমরা আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন সমূহের অবমাননা করোনা” (সূরা মায়িদা-২)

উদাহরন সরূপ বলাতে পারা যায় যেমন, ছবি তোলা হারাম । এর পরও যদি কোন ব্যক্তি তার পিতার ছবি তোলে, সেই ছবি যদি ৩য় কোন ব্যক্তি পা দিয়ে মাড়ায়, যার পিতার ছবি সে ব্যক্তি কি সেটা সম্মান জনক হিসেবে মেনে নিবে??

কখনই সেটা সম্মানজনক হিসেবে গ্রহন করবে না । বরং যার পিতার ছবি সে ঐ ব্যক্তির উপর গোস্বা করবে, যে তার পিতার ছবিকে মাড়িয়েছে । কারন তার পিতার ছবিকে পাদিয়ে মাড়ানোর কারনে ইহানতই করা হয়ছে । ইজ্জত, সম্মান করা হয় নাই ।উল্লেখ্য, করো পিতার ছবি যদি পা দিয়ে মাড়ানোর কারনে ইহানত হয় তাহলে পবিত্র কা‘বা শরীফ,মসজিদে নববী শরীফ, বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ যা আল্লাহ পাকের নিদর্শন, পবিত্র কা‘বা শরীফ, মদীনা শরীফ ও বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ উনাদের ইহানত হবে না?
অবশ্যই হবে !

হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে:-
ﺍﻟﮑﻔﺮ ﻣﻠﺔ ﻭﺍﺣﺪﺓ
অর্থ:-“সমস্ত কাফিররা, বিধর্মীরা মিলে এক দল”

ক্রুসেডের যুদ্দে পরাজিতের পর তারা প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ইহুদী-খ্রিস্টানরা মরিয়া হয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের উপর একের পর এক হিংসাত্নক,মারাত্বক ও ধ্বংসাত্বক আঘাত হেনে চলছে । তাদের সম্মিলিত চক্তান্ত বা কূটকৌশলের মাধ্যমে মুসলমানদের পবিত্র ও সম্মানিত স্থান- পবিত্র কা‘বা শরীফ ও রওজা শরীফ সংলগ্ন মসজিদে নববী শরীফ এবং বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ উনাদের ছবি সম্বলিত অধিকাংশ জায়নামাজ
তৈরিকরে মুসলমানদের সম্মানিত জিনিস গুলোকে মুসলমাদের পায়ের নিচে ঠেলে দিয়ে মুসলমাদের দ্বারই ইসলামের অবমাননা করিয়ে নিচ্ছে ।

মূলত মুসলমাদের ঈমান হরন করে নিচ্ছে ।ইতিহাস স্পষ্ট সাক্ষি দিচ্ছে যে, এই পবিত্র বস্তুসমূহের ছবি যুক্ত জায়নামায তৈরিতে ও তা ছড়াতে ভারতের পাপাত্বা গান্ধের (মহাত্বা গান্ধি) প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে এবং সর্বপ্রথম ইহুদি দেশসমূহ থেকেই এই ধরনের জায়নামায প্রচারিত হয়!

তাই সবার উচিত পবিত্র বস্তুসমূহের এবং আরবি লিখা যুক্ত জায়নামাজ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, কারন তা পা দিয়ে পারানো অনেক বড় গুনাহ!এখন অনেকেই বলবে, আমরা জায়নামাযের এক প্রান্তে দাড়াই; এতে ছবিতে পা লাগে না…
তাদের জন্য আমার প্রশ্ন: যদি কোন টেবিলের এক প্রান্তে একটি কুরআন শরিফ রাখা হয় তাহলে কী আপনি অন্য প্রান্তে পা তুলে বসে থাকতে পারবেন??

মহান আলাহ আমাদের সবাইকে বুঝার ও সে অনুযায়ি আমল করার তৌফিক দান করুক । [আমিন]

 

Advertisements