হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন ঈমান এবং সত্যের মাপকাঠি, উনাদের অস্বীকার-কারীরা কাফির

দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ । এই কারনে বিধর্মীরা পরিপূর্ণ দ্বীন ইসলামে ফিৎনা বিস্তার করার জন্য বিভিন্ন এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে রাখে। এমন এক ইসলাম বিদ্বেষী সিআইএ এজেন্ট হচ্ছে জামাতের প্রতিষ্ঠাতা শিয়া আক্বীদাভুক্ত আবুল আলা মওদূদী খারেজী। এই খারেজীটা ইসলামকে দুনিয়াবাসীর কাছে সন্দেহযুক্ত করার জন্য একটা কৌশল অবলম্বন করে। সেটা হচ্ছে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু দের বিরুদ্ধে মিথ্য অভিযোগ দাড় করিয়ে একটা সন্দেহ বা ধুম্রজাল তৈরী করা। কারন ছাহাবীরা যদি সমালোচনার আওতায় চলে আসলে পুরা ইসলামটাই সমালোচনার মধ্যে চলে আসবে। এবং সহজেই মানুষকে পথভ্রষ্ট করা যবে। এটা মাথায় রেখে সে আমেরিকার সুক্ষ্ম মদদে কিছু আক্বীদা মুসলিম সমাজে প্রবেশ করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। তার কতিপয় নিম্নে দেয়া হলো-

(১) হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে মওদুদীর কুফরী আক্বীদা: “ছাহাবাদিগকে সত্যের মাপকাঠি জানবে না।” (নাঊযুবিল্লাহ)

(দস্তরে জামাতে ইসলামী, ৭ পৃষ্ঠা)

(২) সাহাবায়ে কিরাম অনেকে মনগড়া হাদীস বর্ননা করেছেন।”

(তরজুমানুল কুরআন, ৩৫ সংখ্যা)

(৩) হযরত আবু বকর সিদ্দিক (আলাইহিস সালাম) খিলাফতের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ অযোগ্য ছিলেন।”

(তাজদীদ ও এহহীয়ায়ে দীন ২২ পৃ)

(৪) হযরত উসমান (আলাইহিস সালাম) উনার মাঝে স্বজন প্রীতীর বদগুন বিদ্যমান ছিলো।”

(খেলাফত ও মুলকিয়াত ৯৯ পৃ)

(৫) হযরত আলী (আলাইহিস সালাম) খেলাফত কালে এমন কিছু কাজ করেছেন যাকে অন্যায় বলা ছাড়া উপায় নাই !”

(খেলাফত এ মুলকিয়াত ১৪৬ পৃ)

(৬) হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু স্বর্থবাদী, গনিমতের মাল আত্বসাৎকারী, মিথ্যা সাক্ষ্য গ্রহনকারী ও অত্যাচারী ছিলেন।”

(খেলাফত ও মুলকিয়াত ১৭৩ পৃ)

নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক।

[মওদূদি সিআইএর এজেন্ট তার প্রমাণ দেখতে পড়ুন – ]

আর এই বাতিল ফির্কা জামাতের এসকল বক্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব প্রদান করে মুসলিম উম্মাহর খেদমতে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম উনাদের ফযীলত তুলে ধরার কোশেশ করলাম। আল্লাহ পাক কবুল করার মালিক।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ফজিলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে অনেক আয়াত শরীফ বর্ননা করেছেন। কতিপয় আয়াত শরীফ উল্লেখ করা হলো-

اولءك الذين امتحن الله قلوبهم. لهم مغفرة و اجر عظيم

অর্থ: আল্লাহ পাক উনাদের অন্তর সমূহ তাক্বওয়ার জন্য পছন্দ করেছেন এবং উনাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহান প্রতিদান।

[ সূরা হুজরাত ৩ নং আয়াত শরীফ ]

والز مهم كلمة التقوي وكانوا احق بها واهلها

অর্থ: আল্লাহ পাক উনাদের জন্য তাক্বওয়ার দায়িত্ব অপরিহার্য করে দিয়েছেন। বস্তুতঃ উনারাই ছিলেন এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত।

[ সূরা ফাতাহ ২৬ নং আয়াত শরীফ ]

ولكن الله حبب اليكم الايمان وزينه في قلوبكم و كره اليكم الكفر والفسوق و العصيان اولءك هم الرشدون

অর্থ: আল্লাহ পাক ঈমানকে আপনাদের (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) অন্তরে প্রিয় ও সুশোভিত করে দিয়েছেন। আর কুফর, পাপাচার ও নাফরমানী আপনাদের নিকট অপ্রিয় করে তুলেছেন।

[ সূরা হুজরাত ৭ নং আয়াত শরীফ ]

امنوا كما امن الناس

অর্থ: ওই সকল ব্যক্তিগন ( ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন) যেভাবে ঈমান এনেছেন, তোমরাও সেভাবে ঈমান আন।

[ সূরা বাক্বারা ১৩ নং আয়াত শরীফ ]

فان امنوا بمثل ما امنتم به فقد اهتدوا

অর্থ: যদি তারা ঐরূপ ঈমান আনে যেরূপ আপনারা (ছাহাবাগন) ঈমান এনেছেন, তাহলে তারা হিদায়েত লাভ করবে।

[ সূরা বাক্বারা ১৩৭ নং আয়াত শরীফ ]

كنتم خير امة اخرجت للناس تأمرون بالمعروف وتنهون عن المنكر

অর্থ: আপনারাই হলেন সর্বোত্তম উম্মত। মানুষের মধ্য থেকে আপনাদেরকে বের করা হয়েছে এজন্য যে, আপনারা সৎ কাজে আদেশ এবং বদকাজে বাধা প্রদান করবেন।

[ সূরা আল ইমরান ১১০ নং আয়াত শরীফ ]

لقد رضي الله عن المؤمنين

অর্থ: আল্লাহ পাক মু’মিনগনের প্রতি সন্তুষ্টি ঘোষণা করেছেন।

[ সূরা ফাতাহ ১৮ নং আয়াত শরীফ ]

ان الذين سبقت لهم منا الحسني اولءك عنها مبعدون

অর্থ: যাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে হুসনার ফয়সালা হয়ে গেছে, তাঁদেরকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে।

[ সূরা আম্বিয়া ১০১ নং আয়াত শরীফ ]

وكلا وعد الله الحسني

অর্থ : আল্লাহ তায়ালা তাঁদের ( ছাহাবায়ে কিরাম) সবাইকে হুসনা তথা উত্তম পরিনতির ওয়াদা দিয়েছেন।

[ সূরা হাদীদ ১০ নং আয়াত শরীফ ]

উপরোক্ত আয়াত শরীফ সমূহ থেকে আমরা বুঝতে পারি হযরত ছাহাবায়ে কিরামগন কতটুকু মকবুল। স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজেই তাঁদের ঈমান, হিদায়েত এবং সত্যের মাপকাঠি ঘোষণা করে দিয়েছেন। এবং তাকওয়া সম্পন্ন অন্তকরন দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। আর দিয়েছে হুসনা বা উত্তমের ওয়াদা, আল্লাহ পাক উনাদের প্রতি চির সন্তুষ্ট।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহম উনাদের ফযিলত সম্পর্কে অনেক হাদীস শরীফ বর্নিত আছে। পৃথিবীর সকল হাদীস শরীফের কিতাবেই উনাদের নিয়ে “ফাদ্বায়িলুস ছাহাবা” নামক একটা অধ্যায় রচনা করা হয়েছে। সেখানে অসংখ্য হাদীস শরীফ পাওয়া যায় উনাদের শান মান সম্পর্কে।
বিশ্ববিখ্যাত কিতাব “মিশকাত শরীফে” একটা হাদীস শরীফ বর্নিত আছে। যেখানে সকল ছাহাবায়ে কিরাম উনাদের হিদায়েত এবং সত্যের মাপকাঠি হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم اصحابي كالنجوم بايهم اقتديتم اهتديتم

অর্থ: হযরত উমর ইবনুল খত্তাব (আলাইহিস সালাম) হতে বর্নিত, তিনি বলেন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুগন সকলেই আকাশের তারকা সাদৃশ্য, তাঁদের যেকোন একজনকে অনুসরন করলেই হিদায়েত প্রাপ্ত হবে। ”

দলীল-
√ মিশকাত শরীফ।
√ মিরকাত শরীফ !
√ রযীন।
√ আশয়াতুল লুময়াত।

শুধু তাই নয়, ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনের অনুসরন করলেই জান্নাতী দলের আওতায় আস যায়, অন্যথায় চির জাহান্নামী হতে হয়। হাদীস শরীফে স্পষ্ট উল্লেখ আছে-

ستفترق امتي علي ثلاث وسبعين ملة كلهم في النار الا ملة واحدة قالوا من هي يا رسول الله صلي الله عليه و سلم قال ما انا عليه واصحابي

অর্থ: অতি শিঘ্রই আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। একটি দল ব্যতীত বাহাত্তরটি দলই জাহান্নামে যাবে। তখন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুগন বললেন, ইয়া রসূল্লাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নাজাত প্রাপ্ত দল কোনটি ? হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি এবং আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুগনের মত ও পথের উপর যারা কায়েম থাকবে।”

দলীল-
√ আবু দাউদ শরীফ ৪৫৯৯
√ দারেমী শরীফ ২৫১৮
√ তিরমিযী শরীফ।
√ মিশকাত শরীফ কিতাবুল ঈমাম বাবু ইতিছাম বিল কিতাব ওয়া সুন্নাহ।

এই দল প্রসঙ্গে অন্য হাদীস শরীফে বলা হয়েছে-

عن معاوية رضي الله عنه ثنتان وسبعون في النار و واحدة في الجنة وهي الجماعة
অর্থ: হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত আছে, বাহাত্তরটি দল হবে জাহান্নামী আর একটি দল হবে জান্নাতী। আর সে দলটি হচ্ছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত।”

দলীল-
√ ছহীহ আবু দাউদ শরীফ।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের এত মর্যাদা আল্লাহ পাক দিয়েছেন যেটা মানুষ চিন্তাও করতে পারবে না। একটা হাদীস শরীফের মাধ্যমে সে বিষয়ে কিছুটা আলোকপাত করা হলো-

لا تسبوا اصحابي فلو ان احدكم انفق مثل احد ذهبا ما بلغ مد احدهم ولا نصيفه

অর্থ: তোমরা আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনে গালি দিও না। কেননা যদি তোমাদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমান স্বর্ণ আল্লাহ পাকের রাস্তায় দান করে, তবুও ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনের এক মুদ (১৪ ছটাক) বা অর্ধ মদ (৭ ছটাক) গম দান করার ফযীলতের সমপরিমান ফযীলতও অর্জন করতে পারবে না।”

দলীল-
√ বুখারী শরীফ।
√ ফতহুল বারী।
√ উমদাতুল ক্বারী।
√ ইরশাদুস সারী।
√ মিশকাত শরীফ

চিন্তা করুন কত ফযীলত দেয়া হয়েছে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের। সমগ্র দুনিয়ার সকল মানুষের নেক আমল এক করলেও ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের কয়েক মুহূর্তের আমলের সমান হবে না।

আর এসকল ফযীলতের কারনে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে বিখ্যাত ফক্বীহ ছাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ননা-

من كان مستنا فليستن بمن قدمات فان الحي لا تؤمن عليه الفتنة اولءك اصحاب محمد صلي الله عليه و سلم كانوا افضل هذه الامة ابرها قلوبا واعمقها علما واقلها تكلفا اختارهم الله لصحبة نبيه ولاقامة دينه فاعرفوالهم فضلهم واتبعوا علي اثرهم وتمسكوا بما استطعتم من اخلاقهم وسيرهم فانهم كانوا علي الهدي المستقيم

অর্থ: যে ব্যক্তি শরীয়তের সঠিক তরীক্বা অনুসরন করতে চায়, তার উচিত যারা অতীত হয়েছেন (ছাহাবায়ে কিরাম) তাঁদের অনুসরন করা। উনারা উম্মতের মধ্যে সর্বোউত্তম, আত্মার দিক দিক থেকে অধিক পবিত্র, ইলমের দিক থেকে গভীর, উনারা লোক দেখানো আমল থেকে মুক্ত। আল্লাহ পাক তাঁদেরকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথী হিসেবে মনোনীত করেছেন।
সূতরাং তাদের মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়ীল-ফযীলত, শান-শওকত সম্পর্কে অবগত হও এবং তাঁদের কথা ও কাজের অনুসরন কর এবং যথাসম্ভব তাঁদের সীরত ছূরতকে গ্রহন করো, কারন উনারা হিদায়েত এবং “সিরাতুল মুস্তাক্বীম” এর উপর প্রতিষ্ঠিত।”

দলীল-
√ মিশকাত শরীফ ৩২ পৃষ্ঠা।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের সমালোচনা করা, উনাদের বিদ্বেষ করা কুফরী :

আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-

ان الذين يؤذون الله ورسوله لعنهم الله في الدنيا والاخرة واعدلهم عذابا مهينا

অর্থ: নিশ্চয়ই যার আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেয়, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের প্রতি আল্লাহ পাকের অভিসম্পাত এবং তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।”

[ সূরা আহযাব ৫৭ ]

এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীস শরীফে বর্নিত আছে-

الله الله في اصحابي لا تتخذوهم غزضا من بعدي فمن احبهم فبحبي احبهم ومن ابغضهم فببغضي ابغضهم ومن اذاهم فقد اذاني ومن اذاني فقد اذي الله ومن اذي الله فيوشك ان ياخذه

অর্থ: আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম সম্পর্কে আল্লাহ পাককে ভয় কর, আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম সম্পর্কে আল্লাহ পাককে ভয় কর। আমার বিছাল শরীফের পর উনাদেরকে তিরস্কারের লক্ষ্যস্থল করো না। যে ব্যক্তি তাদের মুহব্বত করলো, সে আমাকে মুহব্বত করার কারনেই করলো। যে ব্যক্তি তাঁদের বিদ্বেষ পোষন করলো সে আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষন করার কারনেই করলো। যে ব্যক্তি ব্যক্তি তাঁদের কষ্ট দিলো, সে মূলতঃ আমাকেই কষ্ট দিলো, আর যে আমাকে কষ্ট দিলো সে মূলত আল্লাহ পাককে কষ্ট দিলো, আর যে আল্লাহ পাককে কষ্ট দিল আল্লাহ পাক তাকে শিঘ্রই পাকড়াও করবেন।”

দলীল-
√ তিরমিযী শরীফ।

সূতরাং উক্ত দলীল থেকে বোঝা গেল, যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদের প্রতি বিন্দু মাত্র সমালোচনা করবে, উনাদের বিরুদ্ধে স্বজন প্রীতির অপবাদ দিবে, তারা নিশ্চিত কাফির হয়ে জাহান্নামে যাবে।

আল্লাহ পাক আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

ليغيظ بهم الكفار

অর্থ: একমাত্র কাফিররাই তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করে।

[ সূরা ফাতাহ ২৯ ]

এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় হাদীস শরীফে বর্নিত আছে-

من غاظه اصحاب محمد صلي الله عليه و سلم فهو كافر

অর্থ: যে ব্যক্তি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করবে, সে কাফির।”

দলীল-
√ মিশকাত শরীফ।

” কানযুল উম্মাল” নামক বিখ্যাত হাদীস শরীফের কিতাবে বর্নিত আছে-

حب اصحابة ايمان وبغضهم كفر

অর্থ: হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনের প্রতি মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করা কুফরী।”

হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফের পর একটা মুরতাদ দল বের হবে যারা কিনা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের প্রতি বিদ্বেষ করবে। এদের সম্পর্কে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পূর্বেই সতর্ক করে ভবিষ্যতবানী করেছেন-

سيأتي قوم يصبونهم ويستنقصو نهم فلا تجالسو هم ولا تاكلوهم ولا تشاربهم ولا تناكحوهم وفي رواية اخري ولا تصلوا معهم ولا تدعولهم

অর্থ: অতি শীঘ্রই একটি দল বের হবে, যারা আমার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনকে গালি দিবে, উনাদের নাকিছ বা অপূর্ন বলবে। সাবধান ! সাবধান ! তোমরা তাদের মজলিসে বসবে না, তাদের সাথে পানাহার করবে না, তাদের সাথে বিয়েশাদীর ব্যবস্থা করবে না। অন্য রেওয়াতে আছে, তাদের পেছনে নামাজ পড়বে না এবং তাদের জন্য দোয়া করবে না।”

আরো ইরশাদ হয়েছে,-

اذا رأيتم الذين يسبون اصحابي فقولوا لعنة الله علي شركم

অর্থ: যখন তোমরা কাউকে আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনকে গালি দিতে দেখবে, তখন তোমরা বলো, এ নিকৃষ্ট কাজের জন্য তোমাদের প্রতি আল্লাহ পাকের লা’নত বর্ষিত হোক।”

দলীল-
√ তিরমীযি শরীফ ছাহাবীদের অধ্যায়।

বিখ্যাত সিরাত গ্রন্থ “শিফা” তে বর্নিত আছে-
ذكر اصحابي فامسكوا

অর্থ: আমার ছাহাবীদের আলোচনাকালে তোমরা সংযত থেকো।”

ইমামে আযম, ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

لا تذكر احدا من اصحاب رسول الله صلي الله عليه و سلم الا بخير

অর্থ: আমরা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রত্যেক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন সম্পর্কে সুধারনা পোষন করি।”

দলীল-
√ ফিক্বহুল আকবার।

বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস হযরত ইবনে হাজার আসক্বালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাফিজে হাদীস আবু যারয়া রাযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ননা উল্লেখ করে বলেন-

اذا رايت الرجل ينتقص احدا من اصحاب النبي صلي الله عليه و سلم فاعلم انه زنديق

অর্থ: যখন কাউকে দেখবে যে, সে কোন একজন ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার অবমাননা করছে, তখন তুমি নিশ্চিত জানবে সে ব্যক্তি নির্ঘাত কাফির।”

দলীল-
√ আল ইসাবা লি ইবনে হাজার আসক্বালানী ১ম খন্ড ১৮ পৃষ্ঠা।

সূতরাং উপরের বিস্তারিত দলীল থেকে প্রমানিত হলো, যারা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের অবমাননা করবে, হক্বের মাপ কাঠি মানবে না, বেয়াদবী মূলক কথা বলবে, স্বজন প্রীতির অভিযোগ করবে এরা সবাই বিনা সন্দেহে কাফির।

এত সুস্পষ্ট প্রমান থাকার পরও জামাতি মওদূদীরা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের প্রতি বিদ্বেষ এবং সমালোচনা করে থাকে। তারা জলিলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার বিরুদ্ধে চরম আপত্তিকর কথা বলে থাকে। তারা বলে, তিনি নাকি হক্বের উপর ছিলেন না। নাউযুবিল্লাহ !! অথচ ইতিহাস দেখুন পূর্ববর্তী অনুসরনীয় উনাদের দৃষ্টিতে মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু কেমন ছিলেন। ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ছাত্র বিখ্যাত হাদীস বিশারদ , আমিরুল মু’মিনিন ফিল হাদীস আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, –

ايما افضل معاوية او عمر بن عبد العزيز فقال والله لغبار الذي دخل انف فرس معاوية مع رسول الله صلي الله عليه و سلم خير من مأة واحد مثل عمر بن عبد العزيز

অর্থ: হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু শ্রেষ্ঠ নাকি হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহি (তাবেয়ী) শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন, আল্লাহ পাকের কসম ! হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ঘোড়ায় চড়ে জিহাদে যেতেন, তখন ঘোড়ার নাকে যে ধুলা বালি প্রবেশ করতো, সে ধুলাবালিও হযরত উমার বিন আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহির ন্যায় শতশত ব্যক্তি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।”

দলীল-
√ ফতোয়ায়ে হাদিসিয়্যাহ লি ইবনে হাজর হায়তামী

চিন্তা করে দেখুন হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার কত মর্যাদা। উনার ঘোড়ার নাকে প্রবিষ্ট ধুলিবালির মর্যাদা যদি একজন জলীল ক্বদর তাবেয়ীর থেকে শত গুন উত্তম হয় তবে কোন সাহসে ফুটপাতের হক্বার মওদূদী, সাঈদী, জামাতিরা হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বিরোধিতা করে ???

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম গন এত সম্মানিত যে, স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজেই উনাদের সার্টিফিকেট প্রদান করেছেন। আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে বলেন-

“আপনি পাবেন না আল্লাহ পাক ও আখিরাতে বিশ্বাসী এমন কোন সম্প্রদায়, যারা ভালোবাসেন আল্লাহ পাক এবং রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিরুদ্ধচারীদেরকে হোক না এই বিরুদ্ধচারীরা উনাদের পিতা, উনাদের পুত্র, ভাই অথবা উনাদের নিজেদের গোত্র। উনাদের অন্তরে আল্লাহ পাক সুদৃঢ় করেছেন ঈমান এবং তাদের শক্তিশালী করেছেন উনার পক্ষ হতে রূহ (হিদায়েত ও গায়েবী সাহায্য) দ্বারা। তিনি উনাদের দাখিল করবেন জান্নাতে , যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত, সেথায় উনারা স্থায়ী হবেন। আল্লাহ পাক উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন উনারও উনার প্রতি সন্তুষ্ট, তারাই আল্লাহ দল। জেনে রাখুন, আল্লাহ পাকের দলই সফলকাম।” [ সূরা মুজাদালা – আয়াত শরিফ ২২ ]

এর চাইতে বড় সার্টিফিক আর কি হতে পারে? সুবহানাল্লাহ্!!

মানুষকে ধোঁকা দেয়ার কিছু মনগড়া ইতিহাস, ভুল বর্ননাকে পুঁজি করে জামাতিরা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম গনের সমালোচনা করে। অথচ উছুল হচ্ছে, ইতিহাস যদি কুরআন হাদীস শরীফের বিরোধী হয় সেটা পরিতাজ্যা। কুরআন সুন্নাহ আলোকে ইতিহাস গ্রহণ করতে হবে। কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক সকল ছাহাবী মিয়ারে হক্ব বা সত্যের মাপকাঠি। এটা অস্বীকার করা চরম কুফরী।

Advertisements