হাদিস শরীফ উনার দৃষ্টিতে ওসীলার বৈধতা

হাদিস শরীফ উনার দৃষ্টিতে ওসীলার বৈধতা

হাদিস নং – ১

হযরত আবু হুরায়রা রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  উনি একবার আরয করেন, “ইয়া

রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

আমি আপনার কাছ থেকে অসংখ্য হাদীস শুনি,

কিন্তু

তা ভুলে যাই; মনে রাখতে পারিনা। আমি কামনা

করি আপনার পবিত্র

মুখনিঃসৃত বাণী যেন আর কখনোই না ভুলি।” তখন নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি

বললেন, “আপনার চাদর মুবারক   বিছিয়ে দিন ।” অতঃপর হযরত

আবু

হুরায়রা  রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুতা বিছিয়ে দিলেন। তখন নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনার  হাত

মুবারকে শূন্য থেকে কী যেন ওই চাদরের

মধ্যে রাখেন, অতঃপর বলেন, “চাদর ভাঁজ করে

ফেলুন৷”

তিনি তা ভাঁজ করে নিলেন। হযরত আবু হুরায়রা  রদিয়াল্লাহু আনহু

বলেন,

”এরপর আর কোনো দিন কিছু ভুলিনি।” [অধ্যায়:

কিতাবুল ইলম,

বোখারী শরীফ]

সূক্ষ্ম বিশ্লেষণঃ

এখানে হযরত আবু হুরায়রা রদিয়াল্লাহ আনহু উনার মতো প্রসিদ্ধ

সাহাবী,

যিনি অধিক হাদিস রেওয়ায়েতকারী এবং আহলে

সুফফার একজন

আল্লাহপাক  উনার রাসূল  নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আশিক  তিনিও নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনার নিকট

থেকে ভুলে যাওয়ার ব্যাপারে পরিত্রাণ চাচ্ছেন।

উনার

চাওয়ায় উনার কোনো অভিযোগ ছিলনা৷

★হাদিস নং – ২

হযরত উসমান ইবনে হানীফ রদিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে,

এক

অন্ধ ব্যক্তি    নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহান দরবারে

উপস্থিত

হয়ে অন্ধত্ব দূর হবার জন্যে উনার

দোয়াপ্রার্থী হয়েছিলেন। নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

তাঁকে শিখিয়ে দিলেন এ দু’আটি:

ﺍَﻟَّﻬُﻤَّﺎِﻧِّﻰْ ﺍَﺳْﺌَﻠُﻚ

َ ﻭَﺍَﺗَﻮَ ﺟَّﻪُ ﺍِﻟَﻴْﻚَ ﺑِﻤُﺤَﻤَّﺪٍ ﻧَّﺒِﻰِّ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﺔِ ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺍِﻧِّﻰْ ﻗَﺪْﺗَﻮَﺟَّﻬْﺖُ ﺑِﻚَ ﺍِﻟَﻰ

ﺭَﺑِّﻰْ ﻓِﻲْ ﺣَﺎﺟَﺘِﻰْ ﻫﺬِﻩ

ﻟِﺘَﻘْﻀِﻰَ ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻓَﺸَﻔِّﻌْﻪُ ﻓِﻰَّ ﻗَﺎﻝُ ﺍَﺑُﻮْﺍ ﺍِﺳْﺤﻖَ ﻫﺬَﺍ ﺣَﺪِﻳْﺚٌ ﺻَﺤِﻴْﺢٌ

[হে আল্লাহ, আমি অাপনার কাছে সাহায্য

প্রার্থনা করছি রহমতের নবী  নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মারফত; আপনার দিকে

মনোনিবেশ

করছি। হে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

আমি আপনার মাধ্যমে আপন প্রতিপালকের দিকে

আমার এ

উদ্দেশ্য (অন্ধত্ব মোচন) পূরণ করার

উদ্দেশ্যে মনোনিবেশ করলাম, যাতে আপনি আমার এ

উদ্দেশ্য পূরণ করে দেন। হে আল্লাহ, আমার

অনুকূলে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  সুপারিশ কবুল

করুন।]

[ রেফারেন্স: ইবনে মাজা শরীফের সালাতুল ‘হাজত’

শীর্ষক অধ্যায়]

এ হাদীসটির বিশুদ্ধতা প্রসঙ্গে হযরত আবু ইসহাক রহমাতুল্লাহি আলাইহ্ ি

বলেন, এ হাদীসটি বিশুদ্ধ (সহীহ)।

লক্ষ করুন, দু’আটি কিয়ামত পর্যন্ত

ধরাপৃষ্ঠে আগমনকারী মুসলমানদের জন্যে শিক্ষার

বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়। এখানে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে

কে আহবান করা হয়েছে এবং উনার  সাহায্য ও

প্রার্থনা করা হয়েছে। এখানে দুটো শব্দ

সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, “বি মুহাম্মাদিন” ও

“বিকা”; এই শব্দ

দুটো সুষ্পষ্টভাবেই নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  অসীলা উল্লেখ

করে।

তাতে কন্টেক্সট্ ও কনটেক্সট্ দিয়ে ভুল ব্যাখ্যার

সুযোগ

নেই।

শিক্ষা

আল্লাহর কাছে অনুগ্রহপ্রাপ্ত ও সম্মানিত

কোনো পুণ্যাত্মার অসীলায় কোনো কিছু চাওয়ার

ক্ষেত্রে অন্তর্নিহিত আকীদা থাকে, “তিনি যেহেতু

আল্লাহর দরবারে সম্মানিত ও অনুগ্রহপ্রাপ্ত, তাই

আল্লাহ-

প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তিনি সাহায্য-সহযোগিতা করতে

সক্ষম,

বিপদ থেকে উদ্ধার করতেও সমর্থ।”

এতে শিরকের গন্ধ

যারা খুঁজে, তাদের জ্ঞানের ব্যাপারে আমি

সন্দিহান।

অস্পষ্ট

আয়াত ও যে আয়াত মূর্তিদের ব্যাপারে নাজিল

হয়েছে, তার

হুকুম নবী-রসূল আলাইহিমু  সালাম ও ওলীআল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাদের প্রতি আরোপ

করে আমাদের মুসলিম ভাইদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

মনে খুব-ই কষ্ট হয়।

আমার কিছু ভাইয়ের আপত্তি থাকতে পারে: নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার বিছাল শরীফ উনার  পর চাওয়া শিরক। তাদের বলছি, প্রতি

খলিফার

আমলে অনেক রেওয়ায়াতে এই আচার প্রমাণিত,

যা অতি বিশুদ্ধ। অনেক হাদীস থেকে মাত্র

একখানি এখানে পেশ করা হলো:

ﺍﺻﺎﺏ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻗﺤﻂ ﻓﻲ ﺯﻣﺎﻥ ﻋﻤﺮﻓﺠﺎﺀ ﺭﺟﻞ ﺍﻟﺊ ﻗﺒﺮﺍﻟﻨﺒﺊ ﺻﻠﻲ

ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ

ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺳﺘﺴﻒ ﻻﻣﺘﻚ ﻓﺎﻧﻬﻢ ﻗﺪ ﻫﻠﻜﻮﺍ ﻓﺎﺗﻲ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﻨﺎﻡ

ﻓﻘﻴﻞ ﻟﻪ ﺍﺀﺕ ﻋﻤﺮ

ﻓﺎﻗﺮﺃﻩ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﺍﺧﺒﺮﻩ ﺍﻧﻜﻢ ﻣﺴﺘﻘﻴﻤﻮﻥ

আল মুসান্নাফ, খণ্ড – ১২, নং ১২০৫১

ফাতহুল বারী, শরহে বোখারী, খণ্ড – ২, পৃষ্ঠা – ৪১২,

৪৯৫

হযরত ফারুক্বে আযম আলাইহিস সালাম উনার  জমানায় অনাবৃষ্টিতে মুসলমানবৃন্দ

আক্রান্ত

হলে এক ব্যক্তি হযরত বিলাল বিন হারিস  রদিয়াল্লাহু আনহু নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

রওযা শরীফে এসে বললেন, ইয়া নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

আপনি বৃষ্টির জন্যে দোয়া করুন, আপনার উম্মত

ধ্বংসপ্রায়।

অতঃপর ওই সাহাবী রদিয়াল্লাহু আনহু উনাকে স্বপ্নে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামআলাইহিস সালাম বললেন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস

সলাম উনাকে জানান, অতঃপর

উনাঁকে এই খবর দিন৷

যে নিশ্চয় আপনাদের বৃষ্টি দেয়া হবে।

এই হাদিসটির শুদ্ধতা সম্পর্কেঃ

ইমাম ইবনে আবি শাইবা ও

আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন,

হাদীসটি সনদে বিশুদ্ধ।

নুক্তা: দেখুন,

এখানে কয়েকটি বৈধ বিষয় উল্লেখ্য।

→ নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার বিছাল শরীফ উনার পর হযরত বিলাল বিন হারিসরদিয়াল্লাহু আনহু উনার

দ্বারা তাঁর রওযায় যাওয়া।

→ইয়া রসুলাল্লাহ নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে ডাকা।

→সমস্যা সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ  হুজূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে

উপরেল্লেখিত হাদীসসমূহ সুরা আল মায়িদার ৩৫ নং

আয়াতের

সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা, যাতে ইরশাদ হয়েছে:

ﻳﺎ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﻣﻨﻮﺍ ﺍﺗﻘﻮﺍﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﺑﺘﻐﻮﺍ ﺍﻟﻴﻪ ﺍﻟﻮﺳﻴﻠﺔ

হে মুমিনগণ, তোমরা খোদা-ভীরুতা অবলম্বন

করো এবং আল্লাহর প্রতি (নৈকট্যের জন্যে) অসীলা

তালাশ

করো (গহণ করো)।

Advertisements