রাজারবাগ শরীফ-এর সম্মানিত হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনাকে উনার পৈত্রিক সম্পত্তি হতে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার, অপচেষ্টার মাধ্যমে হয়রানী প্রসঙ্গ

 

রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত রাজারবাগ দরবার শরীফ দেশে-বিদেশে বহুল পরিচিত একটি দরবার শরীফ। সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এ দরবার শরীফ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক যামানার যিনি লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, আওলাদে রসূল ঢাকা রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী উনার মাধ্যমে হিদায়েত লাভে ধন্য হয়ে আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাছিল করেছেন ও করছেন। কারন উনার বেমেছাল রুহানীয়ত, সুন্নতের সুক্ষাতিসুক্ষ অনুসরন, কঠোর শরীয়তী পর্দা পালন, ধর্মব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ইত্যাদি জাহেরী ও বাতেনী আমলে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে দলে লোকজন উনার কাছে আসছে ।

এছাড়াও উনি উনার সুপ্রতিষ্ঠিত ও বহুল পরিচিত পত্রিকা মাসিক আল বাইয়্যিনাত ও দৈনিক আল ইহসান-এর মাধ্যমে প্রায় দুই যুগ ধরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং ধর্মব্যবসায়ী জঙ্গিবাদী, মৌলবাদী ও স্বাধীনতা বিরুধী, রাজাকারদের বিরুদ্ধে দলীল ভিত্তিক ক্ষুরধার লিখনী চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রকাশ্যে বাহাসের চ্যালেঞ্জ দিয়ে যাচ্ছেন। এতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোকজনসহ ধর্মপ্রাণ সাধারণ লোকজন অনুপ্রাণিত হচ্ছেন ও দলে দলে উনার কাছে আসছেন। এছাড়া ওয়েব সাইটের মাধ্যমে দৈনিক আল ইহসান পৃথিবীর ২১৬টি দেশ থেকে পঠিত হয়ে থাকে। এতেও দেশ-বিদেশ থেকে দলে দলে লোকজন উনার কাছে আসছেন।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এসব দেখে হিংসা ও লোভের বর্শবর্তী হয়ে উনারই সহোদর ভাই আনিসুর রহমান, হাফিজুর রহমান এবং জিল্লুর রহমান উনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে এবং উনার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উনাকে উচ্ছেদ করে সম্পত্তি আত্মসাতের বিভিন্ন ধরনের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে ।

নিম্নে এদের কিছু অপকর্ম তুলে ধরা হলো-

* ১৯৪৮ সালে হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার পিতা মরহুম সাইয়্যিদ মুহম্মদ মোখলেছুর রহমান রহমতুল্লাহ আলাইহি , উনার মাতার নামে ৫ আউটার সার্কুলার রোডস্থ হোল্ডিংয়ে ৪ বিঘা ১৪ আনা ৪ ছটাক জমি খরিদ করেন।

* পরবর্তীতে সুখে শান্তিতে বসবাসরত অবস্থায় ১৯৮০ সালে ১.০৩ একর সম্পত্তিতে উনার মাতা নিজ নামে কিয়দাংশ রেখে অবশিষ্ট সম্পত্তি উনাদের ৫ পুত্র এবং ৪ কন্যার নামসহ উনাদের পিতার নামে দানপত্র করে নামজারী করে দেন। কিন্তু ১৯৯০ সালে হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা উনার মেঝ ভাই মোঃ হাফিজুর রহমান বিদেশ থেকে এসে পারিবারিক সকল সম্পত্তি উন্নয়নের জন্য উনি হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলাসহ মোট ৫ ভাই এবং ৪ বোনকে নিয়ে ১৯৯১ সালে জেড আর এস্টেট প্রাঃ লিঃ কোম্পানী গঠন করেন (সংযুক্তি-১)।

* উক্ত কোম্পানীর সিদ্ধান্ত মোতাবেক উনাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ৫ আউটার সার্কুলার রোডস্থ ৫ কাঠা জমির উপর বহুতল ভবন নির্মানের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৮ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে উক্ত ভবনের ৩য় তলা পযর্ন্ত নির্মিত হয়। এবং মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত হয় যে ৪র্থ ও ৫ম তলা পীর ছাহেব নিজ অর্থয়ানে নির্মান করবেন। এতে কারও কোন আপত্তি থাকবে না। এই উদ্দেশ্যে পুরো সম্পত্তি সকলে কোম্পানীর নামে দান করেন।

* কিন্তু পরবর্তীতে হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী, রাজারবাগ দরবার শরীফ এর অবস্থানে তিনি পৈত্রিক সম্পত্তিতে মালিক ও ভোগ দখলকার থেকে নিজ অবস্থানকে সুস্পষ্ট করতে গিয়ে তাহার তিন ভাই (ক) আনিসুর রহমান (খ) হাফিজুর রহমান (গ) জিল্লুর রহমানদের ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হন। তারা, ৫ ভাই ও ৪ বোনের সম্পত্তি স্বৈরাচারিভাবে হিসাব নিকাশের স্বচ্ছতা ছাড়া ভোগ করে যাচ্ছেন। জেড আর টাওয়ারের মার্কেটের ভাড়া, পার্টি হাউস নামক কমিউনিটি সেণ্টারের ভাড়াসহ সবকিছুই তারা এককভাবে ভোগ করার মাধ্যমে উনাকে পৈতিৃক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র করে আসছে।

* এ লক্ষে উক্ত কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান ( পীর ছাহেবের মেঝ ভাই) লোভের বর্শবর্তী হয়ে সমস্ত সম্পত্তি আত্মসাতের লক্ষ্যে জাল দানপত্র করে (সংযুক্তি-২) নিজের নামে সমস্ত পাওয়ার নিয়ে নেন। এমনকি সমস্ত সম্পত্তি নাম খারিজ করে নিজের নামে পর্চাও তৈরি করেন (সংযুক্তি-৩)। যা ধরা পড়ার পর বাতিলের জন্য হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা উনার নিযুক্ত আম মোক্তার ৫ম যুগ্ম জেলা জজ এর আদালত ঢাকাতে একটি মামলা করেন। মামলা নং-২৫১/১০
(সংযুক্তি-৪)।

* হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনাকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ১৪৫ ধারায় একটি মামলা হয়। যা বিচারাধীন রয়েছে। মামলা নং-১৫১/০৯
(সংযুক্তি-৫)।

* উক্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে (সংযুক্তি-৬) প্রমানিত হয় যে, হযরত পীর ছাহেব মৌখিক নির্দেশে ৪র্থ তলা এবং ৫ তলা নির্মান করবেন। এবং তাদের বিরোধীতার মূল কারন সম্পত্তি।

* উক্ত কোম্পানীর চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান কোম্পানীর নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরিচালকদের সাথে আলোচনা না করে সমস্ত সম্পত্তি আত্ত্বসাতের লক্ষ্যে জেড আর এস্টেটের নির্মিতব্য ১৬তলা ভবনটি হাইলাইটস ডেভোলপার কোং এর চেয়ারম্যান জামাত সমর্থিত এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম খান, এর সাথে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে চুক্তি করে ব্রুসিয়ার তৈরির মাধ্যমে সম্পূর্ণ বাড়িতে অবৈধভাবে বিক্রয়ের চেষ্টা চালায় (সংযুক্তি-৭) ছাপিয়ে তা বিক্রির পায়তারা শুরু করে। অথচ উক্ত ভবনের ৪র্থ তলায় হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার অবস্থানস্থল ও উনার নির্মিত মসজিদ রয়েছে। এবং তৃতীয় তলায় সকলের ছোট ভাই সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুফীজুর রহমানসহ উক্ত সম্পত্তির মূল মালিক সকলের মাতা নব্বই ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ সাইয়্যিদা জাহানারা বেগম খাতুন মুদ্দা জিল্লুহাল আলীয়া।

* উক্ত হাফিজুর রহমানগং রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-উনার সাইন/সহি জালিয়াতি করে সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখা থেকে ১৯৯৪ সালে জেড আর এস্টেটের নামে ২.১৫ কোটি টাকা লোন উত্তোলন করে। উক্ত ঋনের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় অর্থঋন আদালতে একটি মামলা হয়। মামলা নং- ৪৮৩/২০০৪ (সংযুক্তি-৮)।

* উক্ত মামলায় পীর ছাহেবের সই/স্বাক্ষর নকল করে পীর ছাহেবের নামে তারা মিথ্যা জবাব আদালতে প্রদান করে (সংযুক্তি-৯)। পরে ২০০৯ সালে পীর ছাহেব জানতে পারলে উনার পক্ষ হতে সোনালী ব্যাংক থেকে কোন টাকা ঋন নেননি মর্মে আদালতকে অবহিত করেন (সংযুক্তি-১০)। আদালত এ্যাডভোকেট কমিশন প্রেরন করে উনার নমুনা স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন (সংযুক্তি-১১)। এমনি আদালত স্বাক্ষর যাচাইয়ের জন্য সি, আই, ডি এক্সপার্টের কাছের প্রেরন করেন (আদেশের কপি, সংযুক্তি-১২)। উক্ত নকল সইয়ের কপি সংযুক্ত ( সংযুক্তি-১৩)।

* হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার পক্ষ থেকে উক্ত জাল জালিয়াতি সম্পর্কে সোনালী ব্যাংকের এমডিকে অবহিত করে একটি চিঠি প্রদান করা হয় (সংযুক্তি-১৪)

* তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এবং হযরত পীর ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী উনাকে সব ধরনের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার ল্েক্ষ্য তারা উনাদের গ্রামের বাড়ি নূরানীগঞ্জের আড়াই হাজার থানাধীন প্রভাকরদী শরীফ-এর সংলগ্ন চরশিলামদী মৌজায় উনাদের পারিবারিক আরেকটি কোম্পানী এম আর পোলট্রি এন্ড এগ্রোফিসারিজ লিঃ এর ৪১.৯৪ (প্রায়) বিঘা জমি উনার সই স্বাক্ষর জাল করে উনার অনুমতি ছাড়াই আনিসুর রহমান, হাফিজুর রহমান, জিল্লুর রহমানগং ‘জামান এগ্রো ফিশারিজ’ এর নিকট বিক্রি করে দেয়।

উক্ত জমি আড়াই হাজার সাব রেজিস্ট্রিও অফিসে ২৬/০২/০৯ ইং তারিখে ১৩৪৮ নং দলীলের মাধ্যমে ১৩.১৭ বিঘা (প্রায়), ১৭/০৩/০৯ ইং তারিখে ১৭৮৭ নং দলীলের মাধ্যমে ৯.৮২ বিঘা (প্রায়), ০২/০৪/০৯ ইং তারিখে ২২৭১ নং দলীলের মাধ্যমে ১৮.৮৫ বিঘা (প্রায়) মোট ৪১.৯৪ বিঘা জমি বিক্রি করেছে।

বিক্রিত জমির দলীলে প্রদর্শিত মূল্য অনুযায়ী এক কোটি আটত্রিশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার (যদিও প্রকৃতপক্ষে তারা দুই কোটি টাকা মূল্যে বিক্রি করেছে। যা দলীলে প্রদর্শন করা হয়নি) হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার প্রাপ্য (যাতে মোট ২৫০টি শেয়ারের মধ্যে হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা ৫০টি শেয়ারের মালিক) ২০% অর্থ (কোম্পানীর মেমোরান্ডাম অব এসোসিয়েশন অনুযায়ী) উনাকে না দিয়ে হাফিজুর রহমানগং আত্মসাত করেছে।

* তাদের অব্যাহত চক্রান্তের অংশ হিসেবে এক পর্যায়ে হাফিজুর রহমান হারুন জেড আর এস্টেটের একক মালিক হিসেবে ৩৭ কাঠা সম্পত্তির মধ্যে ১২ কাঠা সম্পত্তি সনি প্রপার্টিজ নামক ডেভেলপর এর নিকট হস্তান্তরের চুক্তি করেন। অত:পর উক্ত সনি প্রপার্টিজ জাল নকশা তৈরি করে রাজউকের অনুমোদন না নিয়ে নির্মান কাজ শুরু করে ও এমতাবস্থায় ফ্লাট বিক্রি করে নিরীহ গ্রাহকদের প্রতারিত করে। পরবর্তীতে বিষয়টি অবহিত হলে রাজউক বিল্ডিংটি ভাঙ্গা শুরু করে। (সংযুক্তি-১৫) বর্তমানে রাজউক বিল্ডিংটির নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছে। অচিরেই তারা সম্পূর্ণ বিল্ডিং ভেঙে ফেলবে। (স্বারক নং- রাজউক/নঅশা/অঅ৪হসি-৩৩৮/২০০৯/৮১৫/তারিখ-১৫/১০/০৯) (সংযুক্তি-১৬)।

* এছাড়া তারা একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে জনাব পীর সাহেবকে বিজ্ঞ আদালতে নেয়ার চেষ্টার মাধ্যমে বার বার উনাকে বিরক্ত করে যাচ্ছে। অথচ আদালতে সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। যেমন জিআর মামলা নং-৫৪/০৮, পিটিশন মামলা নং-১০৯/০৯ (সংযুক্তি-১৭)।
* নীলগিরি নামে তাদের মিনারেল ওয়াটার কোম্পানী, জালিয়াতি করে সাধারণ পানিকে মিনারেল ওয়াটার নামে বাজারে চালানোর অপরাধে গত ২১/০৭/১০ইং তারিখে র‌্যাব তাদের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করে। যা পরেরদিন দৈনিক প্রথম আলোসহ অন্যান্য জাতীয় পত্রিকায় এসেছে। (দৈনিক প্রথম আলো-২২/০৭/১০ ইং) (সংযুক্তি-১৮)।

* সর্বপরি হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা উনাকে আপোষের প্রস্তাব করলে তিনি সেটাতে সম্মতি প্রকাশ করেন। যার ফলশ্রুতিতে ওসি মতিঝিলের সভাপতিত্বে উক্ত আপোষনামার সভা অনুষ্ঠিত হয় (আপোষ নামা, সংযুক্তি-১৯)। কিন্তু উক্ত আপোষেও তারা হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী উনাকে, উনার ন্যায্য হিস্যা দিতে রাজি হয়নি।
* এছাড়া অন্যান্য সমস্ত বিষয় অবহিত করে বার বার তাদেরকে লীগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্তু তার কোন সদুত্তর তারা দেয়নি ( সংযুক্তি-২০)।

* হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা এবং উনার অনুসারীদের বিরুদ্ধে হাফিজুর রহমান গং একটি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে। যার প্রেক্ষিতে হযরত পীর ছাহেব উনার অনুমতিক্রমে আম মোক্তার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত, ঢাকা একটি মানহানীর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-৪১৭১/১০ (সংযুক্তি-২১)। যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

* এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে হাফিজুর রহমান, আনিসুর রহমান, জিল্লুর রহমানগং রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে সব ধরনের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এলক্ষ্যে তারা চরম মানহানীকর বিভিন্ন ধরনের পোস্টার, লিফলেট ছাপিয়ে বিভিন্ন এলাকায় লাগিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকায় মিথ্যা তথ্যযুক্ত নিউজ ছাপাচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা টাকা পয়সা দিয়ে কিছু হলুদ সাংবাদিকদের হাত করেছে।

* আমাদেরকে তথাকথিত জঙ্গি আখ্যায়িত করার জন্য সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। বিভিন্ন পত্রিকায় কল্পিত, বানোয়াট সংবাদ ছাপাচ্ছে, প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য সম্বলিত চিঠি দিয়ে আমাদেরকে হয়রানীর চেষ্টা করছে। দালাল নিয়োগ করে তাদেরকে লক্ষ লক্ষ টাকা দিচ্ছে। অথচ খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের রিপোর্টেই আল বাইয়্যিনাত-এর স্বচ্ছতা সম্পর্কে প্রত্যয়ন পত্র দেয়া হয়েছে (কপি সংযুক্ত-২২)।

* লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে তারা একের পর এক অবিশ্বাস্য, মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা দায়ের করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। (কপি সংযুক্ত-২৩)

* এরা নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী পোষছে। এদের দিয়ে ঢাকায় ও ঢাকার বাহিরে রাজারবাগ শরীফ-এর অনুসারীদের উপর হামলা চালাচ্ছে। গত ৯/৪/২০১১ তারিখে এদের জঙ্গি-সন্ত্রাসী বাহিনী খোদ রাজারবাগ দরবার শরীফ-এ হামলা চালিয়েছে। যার প্রেক্ষিতে মতিঝিল থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলা নং ২০(০৪)১১। মামলাটির প/ং হওয়ার পর বর্তমানে বিচারাধীন আছে। (কপি সংযুক্ত-২৪)।

উপরোক্ত ঘটনাবলী ছাড়াও আরো অনেক বিষয়ে তারা একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। যাতে হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী উনাকে, উনার প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা যায়। এবং উনি যাতে রাজারবাগ শরীফ থেকে চলে যান। সুতরাং তাদের এসব ষড়যন্ত্র বন্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন।

তাদের হীন কার্যকলাপের আরেকটি নমুনা হচ্ছে, তারা হযরত পীর ছাহেবের সম্মান হানীর জন্য অযৌক্তিক ভাবে মিথ্য অপবাদ দিয়ে একটি প্রেস কনফারেন্স করে (সংযুক্তি)। পরে তা জানতে পেরে হযরত পীর ছাহেব একটি মানহানীর মামলা দায়ের করেন।মামলা নং-৪১৭১/০৯ (সংযুক্তি)।

তাদের এহেন হীন কর্মকান্ডের কিছু বিবরন নি¤েœ উল্লেখ করা হলঃ-
(১) রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনাকে পৈত্রিক সম্পত্তি হতে উচ্ছেদের লক্ষ্যে উক্ত হাফিজুর রহমান গং হাইলাইটস ডেভেলপার নামক কোম্পানির এক বিশাল সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ব্রুসিয়ার ছাপিয়ে অবৈধভাবে রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার ভোগ দখলীয় সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করছে।

(২) উক্ত হাফিজুর রহমানগং রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-উনার সাইন/সহি জালিয়াতি করে সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখা থেকে ১৯৯৪ সালে জেড আর এস্টেটের নামে কোটি কোটি টাকা লোন উত্তোলন করে। যার মামলা নং- ৪৮৩/২০০৪।

(৩) তারা দানপত্র দলীল জাল-জালিয়াতি করে জাল দলিল তৈরি করে সম্পূর্ণ সম্পত্তি নিজ নামে লিখে নেয় এবং নিজ নামে নাম জারি করে। (যা বাতিলের জন্য মামলা নং- ২৫১/০৯)

(৪) উক্ত আনিসুর রহমান, হাফিজুর রহমান, জিল্লুর রহমান গং জঙ্গি-জামাত চক্রের যোগসাজসে তাদের দ্বারা আর্থিক লাভবান হয়ে এবং আরো অধিক লাভবান হওয়ার আশায় আমাদের মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের লক্ষে সম্পূর্ণ সম্পত্তি বিক্রয়ের গোপন চুক্তি করে। (ঢাকা-এর আদালতে ১৫১/২০০৯ মামলা)

(৫) হাফিজুর রহমান জেড আর এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির পক্ষ হতে সনি প্রপার্টিজের সাথে চুক্তি করে নিজেকে একক মালিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে চুক্তিপত্র করেছে। পরবর্তীতে উক্ত বিষয়ে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা নং ১১০/০৯, ১২৫/১০ করলে আদালত স্থিতাবস্থা নির্দেশ দেন।

(৬) হাফিজুর রহমান হারুন গং সনি প্রপার্টিজের জাল নকশা তৈরি করে নিরীহ গ্রাহকদের প্রতারিত করে। পরবর্তীতে বিষয়টি অবহিত হলে রাজউক বিল্ডিংটির কিছু অংশ ভেঙে দেয়। বর্তমানে রাজউক বিল্ডিংটির নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছে। অচিরেই তারা সম্পূর্ণ বিল্ডিং ভেঙে ফেলবে। (স্বারক নং- রাজউক/নঅশা/অঅ৪হসি-৩৩৮/২০০৯/৮১৫/তারিখ-১৫/১০/০৯)

(৭) আমাদের সম্মানিত শায়খ ও মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনাদের গ্রামের বাড়ি নূরানীগঞ্জের আড়াই হাজার থানাধীন প্রভাকরদী শরীফ-এর সংলগ্ন চরশিলামদী মৌজায় উনাদের পারিবারিক কোম্পানী এম আর পোলট্রি এন্ড এগ্রোফিসারিজ লিঃ ৪১.৯৪ (প্রায়) বিঘা জমি উনার সই স্বাক্ষর জাল করে উনার অনুমতি ছাড়াই আনিসুর রহমান, হাফিজুর রহমান, জিল্লুর রহমান গং আড়াই হাজার সাব রেজিস্ট্রিও অফিসে ২৬/০২/০৯ ইং তারিখে ১৩৪৮ নং দলীলের মাধ্যমে ১৩.১৭ বিঘা (প্রায়), ১৭/০৩/০৯ ইং তারিখে ১৭৮৭ নং দলীলের মাধ্যমে ৯.৮২ বিঘা (প্রায়), ০২/০৪/০৯ ইং তারিখে ২২৭১ নং দলীলের মাধ্যমে ১৮.৮৫ বিঘা (প্রায়) মোট ৪১.৯৪ বিঘা জমি ‘জামান এগ্রো ফিশারিজ’ এর নিকট বিক্রি করেছে। বিক্রিত জমির দলীলে প্রদর্শিত মূল্য অনুযায়ী এক কোটি আটত্রিশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার (যদিও প্রকৃতপক্ষে তারা দুই কোটি টাকা মূল্যে বিক্রি করেছে। যা দলীলে প্রদর্শন করা হয়নি) ২০% অর্থ (কোম্পানীর মেমোরান্ডাম অব এসোসিয়েশন অনুযায়ী) উনাকে না দিয়ে হাফিজুর রহমানগং আত্মসাত করেছে।

(৮) শুধু তাই নয়, উক্ত আনিসুর রহমান, হাফিজুর রহমান, জিল্লুর রহমান গং আমাদের মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সই জাল করে মিথ্যা আপোস বণ্টন দলীল নং ৭৪২৫/০৮ তৈরি করেছে।

(৯) আমাদের সম্মানিত শায়খ ও মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি জেড. আর. এস্টেট (প্রাঃ) লিমিটেডের একজন পরিচালক ও শেয়ার হোল্ডার হিসেবে জেড. আর টাওয়ারে অবস্থিত মার্কেট এবং জেড. আর. এস্টেট প্রাঃ লিমিটেডের সম্পত্তি সকল ব্যবসার লাভ/লোকসানের হিসাব পাওয়ার হক্বদার হলেও উক্ত আনিসুর রহমান, হাফিজুর রহমান, জিল্লুর রহমান গং অদ্যাবধি কোন লভ্যাংশ কিংবা হিসাব দেয়নি। তাদের এ ব্যাপারে গত ২৪/০৩/২০১০ তারিখে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়।

(১০) সাধারণ পানিকে মিনারেল ওয়াটার নামে বাজারে চালানোর অপরাধে গত ২১/০৭/১০ইং তারিখে র‌্যাব তাদের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করে। যা পরেরদিনের দৈনিক প্রথম আলোসহ অন্যান্য জাতীয় পত্রিকায় এসেছে। (দৈনিক প্রথম আলো-২২/০৭/১০ ইং)

(১১) এছাড়া তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে জনাব পীর সাহেবকে বিজ্ঞ আদালতে নেয়ার চেষ্টার মাধ্যমে উনাকে বিরক্ত করে যাচ্ছে। অথচ আদালতে সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। যেমন জিআর মামলা নং-৫৪/০৮, পিটিশন মামলা নং-১০৯/০৯ ।

Advertisements

কাযযাবগং তথা উলামায়ে সূ’দেরমিথ্যাচারিতার দাঁতভাঙ্গা জবাব ১৩

কাযযাবগং তথা উলামায়ে সূ’দেরমিথ্যাচারিতার দাঁতভাঙ্গা জবাব ১৩

ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন’ লক্বব ব্যবহার সম্পর্কিত মিথ্যাচারিতা

আশাদ্দুদ দরজার জাহিল হেমায়েত

উদ্দীন ওরফে কাযযাবুদ্দীন তার

গোমরাহী মূলক রেসালা “ভ্রান্ত

মতবাদে” লিখেছে, “………….. উনার

ব্যবহৃত এসব খিতাবের মধ্যে আহলুস্

সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা

বহির্ভুত অনেক দাবিও এসে গেছে।

যেমন- ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন বা

ছিদ্দীক্বগণ উনাদের ইমাম। এই

ছিদ্দীক্বীনদের মধ্যে রয়েছেন হযরত

আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম

তিনিও, যাঁর মর্যাদা উম্মতের মধ্যে

সবচেয়ে ঊর্ধ্বে।”

মিথ্যাচারিতার খণ্ডনমূলক জবাব

জাহিল কাযযাবুদ্দীনের উক্ত বক্তব্যের

জবাবে প্রথমতঃ বলতে হয় যে, তার

উক্ত বক্তব্য প্রমাণ করে যে, সে

আসলেই আশাদ্দুদ্ দরজার জাহিল। কারণ

একথা সবারই জানা যে, ওলীগন

উনাদের লক্ববসমূহ উনাদের প্রত্যেকের

যামানার জন্যেই খাছ। উনাদের

পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কেউ এর

অন্তর্ভুক্ত হবেন না। এ প্রসঙ্গে

ক্বাইয়্যূমে আউয়াল হযরত মুজাদ্দিদে

আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি

তিনি উনার বিখ্যাত ‘মাকতুবাত শরীফ-

এ’ লিখেছেন, গাউছূল আ’যম বড়পীর

ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যে

বলেছেন, “সমস্ত ওলীগণ উনাদের

গর্দানের উপর আমার কদম”, এটা হযরত

বড়পীর ছাহেব উনার যামানার জন্যেই

খাছ। কারণ একথা যদি আম বা ব্যাপক

অর্থে ধরা হয়, তবে উনার পূর্বে

রয়েছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম

রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম, আর পরে রয়েছেন

হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম।

এখন উনাদের গর্দানের উপরও কি হযরত

বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনার কদম মুবারক? একথা যদি কেউ

বিশ্বাস করে তবে তার ঈমান থাকবে

কি? অতএব, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে

ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উক্ত

বক্তব্য দ্বারা এটাই সুস্পষ্টভাবে

প্রমাণিত হলো যে, “ওলীগণ উনাদের

লক্বব মুবারক উনাদের প্রত্যেকের

যামানার জন্যই খাছ।” সুতরাং অনুরূপ

“ইমামুছ্ ছিদ্দীক্বীন” লক্বব মুবারকও

উনার যামানার জন্যে খাছ।

দ্বিতীয়তঃ বলতে হয় যে, কাযযাবুদ্দীন

যদি লক্ববের ব্যবহার আম বা ব্যাপক

অর্থে গ্রহণ করে থাকে, তবে তো তার

ফতওয়া মুতাবিক পূর্ববর্তী অনেক ইমাম-

মুজতাহিদ ও তার মুরুব্বীসহ বহু

দেওবন্দীই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম

রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ উনাদের থেকে

নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ বলে দাবি করার

কারণে কাফির সাব্যস্ত হয়। যেমন-

হাম্বলী মাযহাবের ইমাম হযরত আহমদ

ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনার অসংখ্য লক্বব মুবারকের মধ্য হতে

একখানা লক্বব রয়েছে, “ইমামুছ

ছিদ্দীক্বীন”। কাযযাবুদ্দীনের মতে

ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি

আলাইহি তিনি কি কাফির? কারণ

তিনি হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব

আলাইহিস সালাম উনার থেকে শ্রেষ্ঠ

হওয়ার দাবি করেছেন। নাঊযুবিল্লাহ!

রঈসুল মুহাদ্দিছীন হযরত আব্দুল হক্ব

মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি

আলাইহি উনার বিখ্যাত কিতাব

“যুবদাতুল আছার”-এর ৪০ পৃষ্ঠায়, গাউছূল

আ’যম হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি

আলাইহি উনাকে “ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন”

বলে উল্লেখ করেছেন। কাযযাবুদ্দীনের

মতে কি উনারা উভয়ে কাফির?

নাঊযুবিল্লাহ!

গাউছূল আ’যম হযরত বড়পীর ছাহেব

রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অসংখ্য

লক্বব মুবারকের মধ্য হতে একখানা মশহুর

ও গ্রহণযোগ্য লক্বব হচ্ছে, “সাইয়্যিদুল

আউলিয়া” কাযযাবুদ্দীনের ফতওয়া

মুতাবিক হযরত বড়পীর ছাহেব

রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কাফির।

নাঊযুবিল্লাহ! কারণ তিনি হযরত

ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু

আনহুমগণ উনাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ হওয়ার

দাবি করেছেন। কেননা “সাইয়্যিদুল

আউলিয়া” অর্থ হচ্ছে সমস্ত ওলী

উনাদের সর্দার। আর হযরত ছাহাবায়ে

কিরামগণ উনারাও ওলীগণ উনাদের

অন্তর্ভুক্ত। কাযযাবুদ্দীন এক্ষেত্রে কি

জবাব দিবে?

ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনার অসংখ্য লক্বব মুবারকের মধ্য হতে

একখানা লক্বব হচ্ছে “ইমামুল

মুহাদ্দিছীন” অর্থাৎ সমস্ত মুহাদ্দিছগণ

উনাদের ইমাম। কাযযাবুদ্দীনের

ফতওয়া মুতাবিক ইমাম বুখারী

রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কাফির।

নাঊযুবিল্লাহ! কারণ মুহাদ্দিছগণ

উনাদের মধ্যে অনেক ছাহাবী

রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম উনারাও

রয়েছেন। বিশেষ করে দ্বিতীয়

সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হযরত উমর ইবনুল খত্তাব

আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে

আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম তিনি

ইরশাদ করেন,

ﻟﻜﻞ ﻧﺒﻰ ﻣـﺤﺪﺙ ﻭﻣـﺤﺪﺛﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ

ﺍﻟـﺨﻄﺎﺏ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ

অর্থাৎ “প্রত্যেক নবী আলাইহিস

সালাম উনার একজন “মুহাদ্দিছ”

রয়েছেন, আমার “মুহাদ্দিছ” হচ্ছেন হযরত

উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম।”

তবে কি কাযযাবুদ্দীনের মতে ইমাম

বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি

হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস

সালাম উনার থেকেও শ্রেষ্ঠ হওয়ার

দাবি করেছেন? কাযযাবুদ্দীন এর কি

জবাব দিবে?

ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি

আলাইহি উনার অসংখ্যা লক্বব

মুবারকের মধ্যে একখানা লক্বব হচ্ছে

“ইমামে আ’যম”। অর্থাৎ সমস্ত ইমাম

উনাদের মধ্যে যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ।

কাযযাবুদ্দীনের ফতওয়া মুতাবিক ইমাম

আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি

তিনি কাফির। নাঊযুবিল্লাহ! কারণ

তিনি ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও

ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের

থেকেও শ্রেষ্ট হওয়ার দাবি করেছেন।

নাউযুবিল্লাহ! এর কোন সদুত্তর

কাযযাবুদ্দীনের কাছে আছে কি?

সদুত্তর থাকবেই বা কি করে?

কাযযাবুদ্দীন যে নিজের মাযহাবের

ইমামকেই কাফির বানিয়ে ফেললো।

এতো গেল পূর্ববর্তী ইমাম-মুজতাহিদগণ

উনাদের ব্যাপার।

এবার কাযযাবুদ্দীনের মুরুব্বী

দেওবন্দীদের ব্যাপারে আলোচনা করা

যাক। কাযযাবুদ্দীনের মুরুব্বী তার

কাছে নবীতুল্য থানবীর একটি লক্বব

হচ্ছে “হাকীমুল উম্মাতিল মুহম্মদিয়া”

অর্থাৎ সমস্ত উম্মতে মুহম্মদীর হাকীম।

অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত

হচ্ছেন- হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম

তিনিসহ সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস

সালামগণ, সকল ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু

তা’য়ালা আনহুমগণ, সকল তাবিয়ী

রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ, সকল তাবে

তাবিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ,

সকল ইমাম-মুজতাহিদ ও ওলী

রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা,

এমনকি হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস

সালাম তিনি।

তাহলে কাযযাবুদ্দীনের ফতওয়া

মুতাবিক থানবী বড় কাফির। কারণ

প্রথমতঃ সে আল্লাহ হওয়ার দাবি

করেছে। কারণ মহান আল্লাহ পাক

তিনি হচ্ছেন ‘হাকীম’। যেমন মহান

আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ﻭﺍﻟﻠﻪ

ﻋﻠﻴﻢ ﺣﻜﻴﻢ অর্থাৎ “আল্লাহ পাক তিনি

আলীম ও হাকীম।” (সূরা নিসা/২৬)

দ্বিতীয়তঃ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ব্যতীত

সে সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম,

ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম

ও ওলী রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ

উনাদের হাকীম বা শ্রেষ্ঠ হওয়ার

দাবি করেছে। নাঊযুবিল্লাহ!

থানবীর এ ধরনের আরো বহু লক্বব

রয়েছে, যা দ্বারা কায্যাবুদ্দীনের

ফতওয়া মুতাবিক প্রমাণিত হয় যে,

থানবী হযরত ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু

তা’য়ালা আনহুমগণ উনাদের চেয়েও

শ্রেষ্ঠ হওয়ার দাবি করেছে। যেমন-

আ’যামুল মুফাস্সিরীন, আমীরুল মু’মিনীন

ফিত্ তাফসীর ওয়াল হাদীছ ওয়াল

ফিক্বাহ, আশরাফুল উলামাই ওয়াল

আউলিয়াইল কামিলীন, রঈসুল

মুফাস্সিরীন, তাজুল মুহাদ্দিছীন।

(তথ্যসূত্র- আহকামুল কুরআন লি জাফর

আহমদ ওছমানী, মুকাদ্দমায়ে ইলাউস্

সুনান, ইমদাদুল আহকাম, তাবলীগে

দ্বীন, ফজলুল মাজহুদ, ইমদাদুল

ফতওয়া, আত তানবীহুত ত্ববারী)

কাজেই কাযযাবুদ্দীনের ফতওয়া

মুতাবিক শুধু থানবীই নয় বরং

কাযযাবুদ্দীনসহ যে বা যারা

থানবীকে “হাকীমুল উম্মত” বলে প্রচার

করে ও বিশ্বাস করে তারা সকলেই

কাফির। এবার আমরা দেখতে চাই

হেমায়েত উদ্দীন ওরফে কাযযাবুদ্দীন

নিজের ও নিজের মুরুব্বীদের উপর দেয়া

কুফরী ফতওয়া কি করে রদ করে।

প্রবাদ রয়েছে- “উপর দিকে থুথু দিলে

নিজের গায়েই তা পরে।” কাযযাবুদ্দীন

“ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন”-এর অপব্যাখ্যা

করে যামানার ইমাম ও মুজাদ্দিদ

রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ

ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে

কাফির বানাতে গিয়ে সে নিজে ও

তার মুরুব্বীরাই কাফির বলে সাব্যস্ত

হলো।

কাজেই প্রমাণিত হলো যে, “ইমামুছ

ছিদ্দীক্বীন” লক্বব মুবারক ব্যবহার করা

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত-এর

আক্বীদা বহির্ভুত কোন বিষয় নয়। বরং

তা অবশ্যই আহলে সুন্নত ওয়াল

জামায়াত-এর আক্বীদা সম্মত। যদি তা

“ফি যামানিহী” অর্থাৎ যার যার

যামানার ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হয়।

কেননা কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক

যামানাতেই ছিদ্দীক্বগণ উনারা

থাকবেন। এটা কুরআন শরীফ-এর আয়াত

শরীফ দ্বারাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত।

যেমন কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে,

ﻳﺎﻳﻬﺎ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﻣﻨﻮﺍ ﺍﺗﻘﻮﺍ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻛﻮﻧﻮﺍ ﻣﻊ ﺍﻟﺼﺎﺩﻗﻴﻦ .

অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান

আল্লাহ পাক উনাকে ভয় কর এবং

ছিদ্দীক্বগণ উনাদের সঙ্গী হও।” (সূরা

তওবা: আয়াত শরীফ – ১১৯)

এতে বুঝা গেল যে, প্রতি যামানাতেই

পৃথিবীতে ‘ছিদ্দীক্বগণ’ থাকবেন।

ছিদ্দীক্বগণ উনাদের যিনি প্রধান

তিনিই হচ্ছেন সে যামানার “ইমামুছ্

ছিদ্দীক্বীন।”

কাযযাবগং তথা উলামায়ে সূ’দের মিথ্যাচারিতার দাঁতভাঙ্গা জবাব ১২

কাযযাবগং তথা উলামায়ে সূ’দের মিথ্যাচারিতার দাঁতভাঙ্গা জবাব ১২

স্বপ্নে লক্বব প্রাপ্তি সম্পর্কিত মিথ্যাচারিতা

আশাদ্দুদ দরজার জাহিল কাযযাবুদ্দীন

তার “ভ্রান্ত মতবাদে” আরো লিখেছে,

“ ….. তিনি স্বপ্নের মাধ্যমে আল্লাহ

কর্তৃক, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম কর্তৃক ও আউলিয়াগণ কর্তৃক

এসব খেতাব লাভ করেছেন বলে দাবি

করেন, অথচ স্বপ্ন শরীয়তে হুজ্জাত বা

দলীল নয়।”

মিথ্যাচারিতার খণ্ডনমূলক জবাব

কাযযাবুদ্দীনের উপরোক্ত বক্তব্য

সম্পূর্ণই মনগড়া, সাজানো ও মিথ্যা।

কাযযাবুদ্দীন কোন দিনও প্রমাণ করতে

পারবেনা যে, রাজারবাগ শরীফ-এর

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস

সালাম তিনি লক্বব মুবারক সম্পর্কে

অনুরূপ বক্তব্য প্রদান করেছেন। কারণ

রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ

ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি খুব

ভাল করেই জানেন যে, স্বপ্নই শুধু লক্বব

প্রাপ্তির মাধ্যম নয়। বরং স্বপ্ন ছাড়াও

ইলহাম, ইলক্বা, ও কাশফের মাধ্যমেও

লক্বব লাভ করা যায়। কাজেই শুধুমাত্র

“স্বপ্নের মাধ্যমেই এসব লক্বব লাভ

করেছেন” এরূপ কথা বলার প্রশ্নই

উঠেনা। মূলতঃ আউলিয়ায়ে কিরামগণ

উনারা মহান আল্লাহ পাক, উনার

হাবীব ও ওলীগণ উনাদের থেকে যে

লক্বব লাভ করে থাকেন তা শুধু স্বপ্নেই

লাভ করেননা বরং এর সাথে সাথে

ইলহাম, ইলক্বা ও কাশফের মাধ্যমেও

লাভ করে থাকেন।

স্মর্তব্য যে, স্বপ্ন, ইলহাম, ইলক্বা ও

কাশফ এগুলো যদিও শরীয়তের দলীল

নয়; তবে যে সকল স্বপ্ন, ইলহাম, ইলক্বা

ও কাশফের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য কুরআন

শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস

সম্মত বা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ,

ইজমা ও ক্বিয়াসের খিলাফ নয়, তা

অবশ্যই গ্রহণযোগ্য ও অনুসরণীয়। একথা

কাযযাবুদ্দীন নিজেও তার “ভ্রান্ত

মতবাদে” লিখেছে, “…..তবে কুরআন,

হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত বিষয়ের

অনুকুলে কোন স্বপ্ন হলে সেটাকে

সহযোগিতা হিসেবে গ্রহণ করা যায়।”

অর্থাৎ কাযযাবুদ্দীনের উক্ত বক্তব্য

দ্বারা এটাই বুঝানো হয়েছে যে, যদি

কোন স্বপ্ন শরীয়ত বিরোধী না হয়, তবে

তা অনুসরণীয় ও গ্রহণযোগ্য।

কাযযাবুদ্দীন যেহেতু রাজারবাগ

শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা

আলাইহিস সালাম উনার লক্ববসমূহ, তা

স্বপ্নের মাধ্যমে হোক অথবা ইলহাম,

ইলক্বা ও কাশফের মাধ্যমেই হোক

যেভাবেই লাভ হোকনা কেন অর্থাৎ

সেগুলোর কোনটাই শরীয়ত বিরোধী

প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি। তাই সেগুলো

গ্রহণযোগ্য বলে প্রমাণিত হলো।

যদি কাযযাবুদ্দীন স্বপ্নের মাধ্যমে

প্রাপ্ত বলে এবং স্বপ্ন শরীয়তে হুজ্জত

নয় বলে রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত

মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম

উনার লক্বব সমূহকে অস্বীকার করতে

চায়, তবে তাকে পূর্ববর্তী ইমাম-

মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম

রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের

স্বপ্নসহ অনেক কিছুই অস্বীকার করতে

হবে। অস্বীকার করতে হবে দ্বীনের

অর্ধেক ইলম, ইলমে তাছাউফ বা ইলমে

বাতেনাকেও। কারণ তাছাউফের

অধিকাংশ বিষয়গুলোই স্বপ্ন, ইলহাম,

ইলক্বা, কাশফ ও রুহানিয়াতের সাথে

সম্পর্কযুক্ত। অর্থাৎ যাদের রূহানিয়াত

রয়েছে বা মহান আল্লাহ পাক ও উনার

হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনার সাথে রুহানী

সম্পর্ক রয়েছে, তারা প্রতিনিয়ত মহান

আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব উনাদের

পক্ষ থেকে ইলহাম ইলক্বা বা স্বপ্নের

মাধ্যমে প্রভূত নিয়ামত লাভ করে

থাকেন। বিশেষ করে আখিরী রসূল,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বপ্নে

এবং জাগ্রতবস্থায় হযরত আউলিয়ায়ে

কিরামগণ উনাদের সাথে সাক্ষাৎ দান

করেন এবং উনাদের সর্বপ্রকার আরজু

পূর্ণ করেন। যেমন- অভাব-অনটন দূর করা,

বিপদাপদ থেকে রক্ষা করা, রিযিকের

ফায়সালা করা, অসূখ বা বিমারী

থেকে শেফা দান করা, ঈমান বা

হিদায়েত দান করা, কুরআন শরীফ,

হাদীছ শরীফ, তাফসীর ফিক্বাহ

ইত্যাদি যাবতীয় ইলম্ শিক্ষা দেয়া,

পরকালে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া

বিভিন্ন বদ আক্বীদা ও আমল থেকে

সতর্ক করে দেয়া, কারো মাক্বাম বা

মর্যাদা সম্পর্কে সুসংবাদ প্রদান করা,

ওলীগণকে গাউছ, কুতুব, মুজাদ্দিদ

ইত্যাদি লক্বব প্রদান করাসহ আরো বহু

বিষয়ের ফায়সালাই তিনি স্বপ্নে করে

থাকেন। এর বহু প্রমাণ নির্ভরযোগ্য

বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য কিতাবাদিতে

উল্লেখ রয়েছে।

বিশেষ করে ইমাম আবূ সাঈদ আব্দুল্লাহ

মালিক ইবনে উছমান নিশাপূরী

রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি ‘উস্তাদ

হাকীম নিশাপূরী’ নামে খ্যাত, উনার

বিখ্যাত নির্ভরযোগ্য ও বহুল প্রচারিত

“শরফুন নবী” নামক গ্রন্থটি এ ব্যাপারে

সবচেয়ে বড় প্রমাণ। কাযযাবুদ্দীনের

গুরু মাহিউদ্দীন খান “স্বপ্নযোগে

রসূলুল্লাহ” নাম দিয়ে বাংলায়

কিতাবটি প্রকাশ করেছে।

কাযযাবুদ্দীনের প্রতি নছীহত সে যেন

উক্ত কিতাবখানা ভালরূপে পড়ে নেয়।

তবে এব্যাপারে তার আর কোন সন্দেহই

থাকবেনা।

কারণ উক্ত কিতাবে বর্ণিত ঘটনাসমূহ

প্রমাণ করে যে, (১) হযরত আউলিয়ায়ে

কিরামগণ উনারা দায়িমীভাবেই রসূলে

মকবূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার যিয়ারত লাভ করে

থাকেন। (২) মহান আল্লাহ পাক উনার

হাবীব তিনি স্বপ্নের মাধ্যমে উম্মতের

দ্বীনি ও দুনিয়াবী সকল বিষয়ের

ফায়সালা করে থাকেন। (৩) লক্বব ও পদ

মর্যাদাসহ অন্যান্য বাতিনী নিয়ামতও

মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম তিনি স্বপ্নে দান করে

থাকেন। (৪) মহান আল্লাহ পাক উনার

হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম তিনি ওলীগণ উনাদেরকে

স্বপ্নে যে নিয়ামত দান করেছেন,

ওলীগণ উনারা তা প্রকাশ করেছেন। (৫)

পরবর্তী অনুসরণীয় কোন ওলীগণই

উল্লিখিত স্বপ্ন সম্পর্কে কোনরূপ চু-

চেরা করেননি। স্বপ্ন শরীয়তে হুজ্জাত

নয় বলে অস্বীকার বা তিরস্কারও

করেননি। বরং সকলেই বিশ্বাস

করেছেন এবং ইবরত ও নছীহতের জন্য

কিতাবে দলীল হিসেবে সে সব উল্লেখ

করেছেন। (৬) স্বপ্নে প্রাপ্ত হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনার ক্বওল মুবারককে উনারা দলীল

হিসেবেও গ্রহণ করেছেন। যেমন, এটা

হাদীছ শরীফ কিনা, অথবা ছহীহ না

মওজু, তা সরাসরি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে

স্বপ্নে জিজ্ঞাসা করে জেনে

নিয়েছেন এবং তা হাদীছ শরীফ-এর

সনদের ক্ষেত্রে দলীল হিসেবে পেশ

করেছেন এবং আহলে হক্ব সকলেই তা

মেনে নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই স্বপ্ন শরীয়তে হুজ্জাত বা

দলীল নয় একথা আমভাবে গ্রহণযোগ্য

নয়। বরং যে স্বপ্ন কুরআন শরীফ, সুন্নাহ

শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের খিলাফ সে

স্বপ্ন শরীয়তে দলীল হিসেবে

গ্রহণযোগ্য নয়। আর যে স্বপ্ন শরীয়তের

অনুকূলে, তা অবশ্যই শরীয়তে

গ্রহণযোগ্য ও অনুসরণীয়।

কাজেই রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত

মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম

তিনি যদি বলেও থাকেন যে, “এসব

উপাধি আমাকে স্বপ্নে হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

প্রদান করেছেন”, তবে তা অবশ্যই সত্য

ও গ্রহণযোগ্য। কারণ এতে শরীয়ত

বিরোধী কিছু রয়েছে, কাযযাবুদ্দীন

কখনোই তা প্রমাণ করতে পারবেনা।

কাযযাবুদ্দীন যদি রাজারবাগ শরীফ-

এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস

সালাম উনার উপরোক্ত বক্তব্যকে

মিথ্যা প্রমাণ করতে চায় ও অস্বীকার

করতে চায় তবে তাকে প্রথমতঃ প্রমাণ

করতে হবে যে, স্বপ্নে হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

তিনি কাউকে লক্বব দিতে পারেননা।

অথবা লক্বব দিতে পারেন এধরনের

দাবি করা শরীয়তের খিলাফ।

দ্বিতীয়তঃ তাকে প্রমাণ করতে হবে ও

স্বীকার করতে হবে যে, পূর্ববর্তী যে

সকল ওলীগণ উনারা হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনার বরাতে স্বপ্নের কথা প্রকাশ

করেছেন, তা সবই মিথ্যা ও শরীয়ত

বিরোধী। সেগুলোর একটাও গ্রহণযোগ্য

নয়। তবেই কাযযাবুদ্দীনের উক্ত বক্তব্য

সত্য বলে প্রমাণিত হবে।

কাযযাবগং তথা উলামায়ে সূ’দের মিথ্যাচারিতার দাঁতভাঙ্গা জবাব১১

কাযযাবগং তথা উলামায়ে সূ’দের মিথ্যাচারিতার দাঁতভাঙ্গা জবাব১১

লক্বব প্রাপ্তি সম্পর্কিত মিথ্যাচারিতা

কাযযাবুদ্দীন তার ভ্রান্ত রেসালা

“ভ্রান্ত মতবাদে” লিখেছে, “ ……. তিনি

বলেন এর অনেকগুলো খেতাব তাকে

দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ পাক, কতগুলো

দিয়েছেন হযরত রসূল ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও বাকীগুলো

দিয়েছেন তরীক্বতের ইমাম ও পীর

আউলিয়াগণ।” (তথ্যসূত্র- ক্যাসেট)

মিথ্যাচারিতার খণ্ডনমূলক জবাব

কাযযাবুদ্দীনের উক্ত বক্তব্যের জবাবে

প্রথমতঃ বলতে হয় যে, কাযযাবুদ্দীনের

উক্ত বক্তব্য ডাহা মিথ্যা ও

প্রতারণামূলক। প্রমাণের জন্য

কাযযাবুদ্দীনের প্রতি চ্যালেঞ্জ রইল

সে কস্মিনকালেও প্রমাণ করতে পারবে

না যে, হুবহু অনুরূপ বক্তব্য ক্যাসেটের

মধ্যে রয়েছে। বরং এ ব্যাপারে

রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ

ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার

বক্তব্য হলো “হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম

রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের খাছ

যে লক্ববগুলো রয়েছে সেগুলো মহান

আল্লাহ পাক, উনার হাবীব হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও

আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের পক্ষ

থেকেই দেয়া হয়ে থাকে। অর্থাৎ তিনি

আমভাবে সমস্ত আউলিয়ায়ে কিরাম

রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের ব্যাপারেই

একথা বলেছেন। খাছ করে শুধুমাত্র

নিজের ব্যাপারে একথা বলেননি।

দ্বিতীয়তঃ বলতে হয় যে, “লক্বব

প্রাপ্তি” সম্পর্কে রাজারবাগ শরীফ-

এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস

সালাম তিনি যে বক্তব্য প্রদান

করেছেন, তা অবশ্যই সত্য ও দলীলসম্মত।

কাযযাবুদ্দীন কি প্রমাণ করতে পারবে

যে মহান আল্লাহ পাক, উনার হাবীব ও

ওলীগণ উনারা কাউকে লক্বব প্রদান

করেননা? অথবা এরূপ দাবি করা কুরআন

শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ বিরোধী?

মূলতঃ কাযযাবুদ্দীন কস্মিনকালেও তা

প্রমাণ করতে পারবেনা। পক্ষান্তরে

মহান আল্লাহ পাক, উনার হাবীব ও

ওলীগণ উনারা যে লক্বব প্রদান করেন,

তার বহু প্রমাণ পেশ করা সম্ভব। যেমন-

বিশ্বখ্যাত তাফসীরগন্থ “তাফসীরে

জালালাইন ” শরীফ-এ উল্লেখ আছে

যে,

ﺳﻤﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺑﺎ ﺑﻜﺮ ﺻﺪﻳﻘﺎ ﻋﻠﻰ ﻟﺴﺎﻥ ﺟﺒﺮﺋﻴﻞ ﻋﻠﻴﻪ

ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ

অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত

জিবরাঈল আলাইহিস সালাম উনার

মাধ্যমে ও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যবান

মুবারকে হযরত আবূ বকর আলাইহিস

সালাম উনাকে ‘ছিদ্দীক্ব’ লক্বব প্রদান

করেন।

উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত

হলো যে, মহান আল্লাহ পাক ও উনার

হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনারা হযরত আবূ বকর

ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনাকে

লক্বব প্রদান করেছেন।

মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম তিনিও যে ওলীআল্লাহগণ

উনাদেরকে লক্বব প্রদান করেন তারও

ভুরি ভুরি প্রমাণ রয়েছে। যেমন-

সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, ইমামুল

আইম্মা, হাবীবুল্লাহ্, হযরত খাজা

মুঈনুদ্দীন চীশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি

তিনি যখন সর্বপ্রথম হজ্জ করার জন্য

উনার মুর্শিদ ক্বিবলা হযরত খাজা

উসমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনার সাথে মক্কা শরীফ-এ যান, তখন

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,

খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রওজা

শরীফ-এর নিকট গিয়ে হযরত উসমান

হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি

বলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মুঈনুদ্দীনকে

নিয়ে এসেছি, আপনি অনুগ্রহ করে

উনাকে কবুল করুন।” তিনি হযরত

মুঈনুদ্দীন চীশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনাকে বলেন, হে মুঈনুদ্দীন! আপনি

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ খাতামুন

নাবিইয়ীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সালাম

দিন।” তিনি রওজা শরীফ-এর পার্শ্বে

দাঁড়িয়ে-

ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻋﻠﻴﻚ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ

বলে সালাম দিলেন। সাথে সাথে

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,

খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জবাব

দিলেন-

ﻭﻋﻠﻴﻚ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻳﺎ ﻗﻄﺐ ﺍﻟﻤﺸﺎﺋﺦ

অর্থ: “হে কুতুবুল মাশায়িখ (সমস্ত

শায়খদের কুতুব), আপনার প্রতিও

সালাম।”

পরবর্তীতে আবার অনুরূপ হজ্জে গিয়ে

রওজা মুবারকে সালাম দিলে উত্তরে

মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম তিনি বলেন-

ﻭﻋﻠﻴﻚ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻳﺎ ﻗﻄﺐ ﺍﻟﺒﺮ ﻭﺍﻟﺒﺤﺮ

অর্থ: “হে কুতুবুল বাররি ওয়াল বাহর

(পানি ও স্থলভাগের কুতুব!) আপনার

প্রতিও সালাম।”

অনেক দিন পরে হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন

চীশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি

আরেকবার হজ্জ করতে গিয়ে রওযা

মুবারকের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে পুনরায়

সালাম দিলেন। জবাবে সাইয়্যিদুল

মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্

নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম তিনি বললেন-

ﻭﻋﻠﻴﻚ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻳﺎ ﻗﻄﺐ ﺍﻟﻬﻨﺪ

অর্থ: “হে কুতুবুল হিন্দ (হিন্দুস্তানের

কুতুব), আপনার প্রতিও সালাম।”

(আনিসুল আরওয়াহ্, মুঈনুল হিন্দ)

আলোচ্য বর্ণনায় স্বয়ং সাইয়্যিদুল

মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্

নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম তিনি সুলতানুল হিন্দ, ইমামুল

আইম্মা, হাবীবুল্লাহ্, হযরত খাজা

মুঈনুদ্দীন চীশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনাকে ﻗﻄﺐ ﺍﻟﺒﺮ ﻭﺍﻟﺒﺤﺮ , ﻗﻄﺐ ﺍﻟﻤﺸﺎﺋﺦ ও

ﻗﻄﺐ ﺍﻟﻬﻨﺪ লক্বব মুবারক প্রদান

করেছেন।

বাকী রইল তরীকতের ইমাম বা ওলীগণ

উনারাও যে, ওলীগণ উনাদেরকে লক্বব

প্রদান করেন তার প্রমাণ। এরও বহু

প্রমাণ আউলিয়ায়ে কিরাম

রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের

জীবনী মুবারকে রয়েছে। যেমন- এ

সম্পর্কে “ তাযকিরাতুল আউলিয়া ”

গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, “হযরত

আবূল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি

আলাইহি, যিনি বিশেষভাবে কোন

মাদরাসায় লেখাপড়া করেননি এবং

জীবনের প্রথম দিকে ছিলেন একজন

কৃষক। সারাদিন কৃষিকাজ করে রাতে

ইশার নামাযান্তে সুলতানুল আরেফীন,

হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি

আলাইহি উনার মাযার শরীফ-এ গিয়ে

সারা রাত যিক্র-ফিকির, ইবাদত-

বন্দেগী করে বাদ ফজর ইশরাক নামায

পড়ে বাড়ীতে এসে আবার কৃষিকাজ শুরু

করতেন। এভাবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত

হওয়ার পর একদিন তিনি ইশরাক নামায

আদায় করে মাযার শরীফ-এর

তা’যীমার্থে ও সুন্নত আদায়ের লক্ষ্যে

মাযার শরীফকে সম্মুখ করে পিছু হেঁটে

আসতে লাগলেন। হঠাৎ এক আওয়াজ শুনে

সামনে তাকাতেই দেখতে পেলেন যে,

মাযার শরীফ ফাঁক হয়ে গেছে। মাযার

শরীফ-এর উপরে একজন সুমহান সুপুরুষ

দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি হাতের ইশারায়

হযরত আবূল হাসান খারকানী

রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে কাছে

ডাকলেন। হযরত আবূল হাসান খারকানী

রহমতুল্লাহি আলাইহি ভীত সন্ত্রস্ত

অবস্থায় মাযার শরীফ-এর নিকটে

উপস্থিত হলেন। তখন সেই মাযার শরীফ-

এর উপরে দণ্ডায়মান মহান ব্যক্তি

বললেন, “হে ব্যক্তি! আপনি কে?”

উত্তরে তিনি বললেন, হুযূর আমি আবূল

হাসান। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন,

“আপনি কোথায় থাকেন?” উত্তরে হযরত

আবূল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি

আলাইহি তিনি বললেন, আমি খারকান

শহরে বসবাস করি। “এখানে কেন

আসেন?” উত্তরে তিনি বললেন, এই

মাযার শরীফ-এ যিনি শায়িত আছেন,

তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী,

হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহ্মতুল্লাহি

আলাইহি। আমি উনার উছীলা দিয়ে

মহান আলাহ পাক উনার কাছে উনার

নিয়ামত, বরকত, মা’রিফত ও মুহব্বত

হাছিল করতে চাই। তিনি পুনরায়

জিজ্ঞাসা করলেন, “কতদিন যাবৎ

আপনি এখানে আসছেন?” উত্তরে হযরত

আবূল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি

আলাইহি তিনি বললেন, “আজ চল্লিশ

বছর যাবৎ আমি এখানে এসে থাকি।”

সেই বুযূর্গ ব্যক্তি আবারও প্রশ্ন

করলেন, “আপনি এখানে কতক্ষণ সময়

অবস্থান করেন?” হযরত আবূল হাসান

খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি

বললেন, বাদ ইশা থেকে বাদ ফযর,

ইশরাক নামায পর্যন্ত। তিনি পুনরায়

প্রশ্ন করলেন, “আপনি এতক্ষণ সময়

এখানে কি করেন?” উত্তরে হযরত আবূল

হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি

বললেন, “হুযূর এখানে বসে আমি যিকর-

আযকার, নামায-কালাম, দোয়া-দরূদ ও

কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করি এবং এই

মাযার শরীফ-এ যিনি শায়িত আছেন

অর্থাৎ হযরত বায়েজীদ বোস্তামী

রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনার উছীলা

দিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে

পানাহ্ চাই এবং আল্লাহ পাক উনার

নিয়ামত, বরকত, রহমত, মাগফিরাত,

সন্তুষ্টি ও রেজামন্দী তলব করি।”

তখন সেই বুযূর্গ ব্যক্তি হযরত আবূল

হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনার পিঠের উপরে উনার হাত মুবারক

রেখে বললেন, “হে ব্যক্তি! আমিই সেই

বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি

আলাইহি। আমি ছিলাম পৃথিবীতে

সুলতানুল আরেফীন। আজ আমি

আপনাকেও ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ্ দিয়ে

ﺳﻠﻄﺎﻥ ﺍﻟﻌﺎﺭﻓﻴﻦ (সুলতানুল আরেফীন) করে

দিলাম।” (সুবহানাল্লাহ)

এ প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ করা যেতে

পারে যে, গত ১৪০০ হিজরী শতকের

মুজাদ্দিদ, কুতুবুল আলম, হযরত আবূ বকর

ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি

আলাইহি তিনি স্বয়ং নিজেই উনার

মেজ ছেলে ফখরুল মুহাদ্দিসীন, তাজুল

মুফাসসিরীন, মুফতীয়ে আ’যম,

আলহাজ্জ, হযরত মাওলানা, শাহ্ সূফী,

মুহম্মদ আবূ জাফর ছিদ্দীক্বী আল

কুরাঈশী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে

জাহাজে করে হজ্জে প্রেরণ করার সময়

বলেছিলেন, “আমি ইল্মের সমুদ্রকে

পানির সমুদ্রের মধ্যে ভাসিয়ে দিলাম।”

(সুন্নত ওয়াল জামায়াত ৪র্থ, ৫ম

সংখ্যা, মাসিক আল বাইয়্যিনাত –

৪৮/৩৭)

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা

দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট এবং

অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হলো যে, মহান

আল্লাহ পাক, উনার হাবীব হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম

রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারাও

ওলীগণ উনাদেরকে লক্বব প্রদান করে

থাকেন। এটাকে যারা অস্বীকার বা

অবিশ্বাস করে তারা জাহিল ও

গোমরাহ বৈ কিছুই নয়। সুতরাং “লক্বব

প্রাপ্তি” সম্পর্কিত ক্যাসেটের উক্ত

বক্তব্য নিয়ে কাযযাবুদ্দীনের এতটা

আত্মতুষ্টি হওয়ার কিছুই নেই।