মামদুহী নূরের শাহী তাশরীফান

rogaib.jpg

 

 

আশিক মাশুক উনাদের নিসবত এমন

একই দিনে ধরায় আগমন

একই মাসে রগায়িব উনার রাত

খুশি সবাই খুশি পুরো কায়িনাত

২৭ শে রজব ঈদে আযম

সাইয়্যিদুল আইয়াদ উনার সাইয়্যিদি শান

দাদীজান উনার রেহেম শরীফে

মামদুহী নূরের শাহী তাশরীফান

দাদীজান উনার জিসিম পাক

হাবিবী খুশবুতে মাতোয়ারা

কায়িনাতে বরিষে রহমত বরকত

সবে পড়ুন ছল্লু আলা মুর্শিদ ক্বিবলা।

ইয়া মামদুহ ইয়া মুর্শিদ আলাইহিস সালাম

২৭ শে রজবুল হারামে করিলেন প্রকাশ

আপনার সম্মানিত সাইয়্যিদি শান

চাই আপনার ও আহাল পাকের
দায়িমী গোলামী আবাদুল আবাদান।

Advertisements

সবে পড়ি আপনার শানে ক্বাছীদা

 

IMG-20160330-WA0044

আজকে খুশির পরশ মাখা

মিলাদে মা যাহরা

এসেছেন আপনি ধরা মাঝে

২০শে জুমাদাল উখরা

আপনি তো ত্বহিরা তইয়্যিবা

আহলে বাইত শরীফ উনার সাইয়্যিদা

সবে পড়ি আপনার শানে ক্বাছীদা

আপনি আক্বাজীর খুশবু

উনার সম্মানিতা বানাত

নূরে নূরানী জিন্দেগী আপনার

আপনি তো মা খাতুনে জান্নাত

ইয়া মা যাহরা আলাইহাস সালাম

অনন্তকাল ব্যাপী হতে চাই মোরা সবে

আপনার ওআহাল পাক উনাদের গোলাম

আপনার ই তো কলিজার টুকরা

মোদের আক্বা মামদূহজান

উনার তরে হই যেন সবে

অনন্তকাল কুরবান৷

(তাজদীদী ক্যাটালগ-আহাল পাকে উনাদের গোলাম হতে চাই)

সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত মা আমিনা আলাইহাস সালাম উনার রচিত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ না’ত শরীফ

আন নাবিইয়ুছ ছালিহ, নাবিইয়ুর রহমাহ, নাবিইয়ুল

হারামাইন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক-এ উনার

আম্মা সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত মা আমিনা

আলাইহাস সালাম উনার রচিত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ

না’ত শরীফ উনার অনুবাদ ও শাব্দিক অর্থ :

ﻭَﺍِﻧَّﻚَ ﻟَﻌَﻠٰﻰ ﺧُﻠُﻖٍ ﻋَﻈِﻴْﻢٍ .

অর্থ: “নিশ্চয়ই আপনি সর্বোত্তম চরিত্র উনার

অধিকারী।” (পবিত্র সূরা ক্বলম শরীফ : পবিত্র আয়াত

শরীফ ৪)

পবিত্র হামদ শরীফ, পবিত্র না’ত শরীফ, পবিত্র

ক্বাছীদা শরীফ লেখা, পাঠ করা, পাঠ করতে সাহায্য

করা, শ্রবণ করা ইত্যাদি সবকিছুই খাছ সুন্নতে রসূল

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অন্তর্ভুক্ত।

বাংলায় যাকে গযল ও কবিতা বলা হয়। তবে এসব

ক্ষেত্রে গান ও সংগীত শব্দগুলো ব্যবহার করা হারাম

নাজায়িয। কারণ, পবিত্র দ্বীন ইসলামে গান ও

সংগীত বলতে কিছু নেই। গান, গীতি ও সংগীত

শয়তানী ইবলীসী কার্যকলাপ। যা সম্মানিত শরীয়তে

সম্পূর্ণ নাজায়িয ও হারাম।

কাব্য ও ছন্দের মিলের মাধ্যমে আল্লাহ পাক উনার

প্রশংসা করাকে হামদ শরীফ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন

খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

প্রশংসা মুবারক করাকে না’ত শরীফ এবং

আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের

প্রশংসা মুবারক করাকে মাদ্হ বা ক্বাছীদা শরীফ

বলা হয়। তবে ক্বাছীদা শরীফ দ্বারা সকলপ্রকার

দ্বীনী কাব্য ও ছন্দকেও বুঝানো হয়ে থাকে। নূরে

মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনার প্রশংসামূলক কাব্যের ব্যাপারেও

পবিত্র ক্বাছীদা শরীফ শব্দটি ব্যবহার করতে দেখা

যায়। মূলত পবিত্র হামদ শরীফ, পবিত্র না’ত শরীফ,

পবিত্র মাদ্হ শরীফ (আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি

আলাইহিম উনাদের প্রশংসা) ও দ্বীনী সকল প্রকার

অন্তমিলযুক্ত কাব্যকে ‘ক্বাছীদা শরীফ’ বলে। অর্থাৎ

ক্বাছীদা শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহার হয়।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন

নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার সম্মানিতা শ্রদ্ধেয়া আম্মা খাইরাতুল

উম্মাহাত, ত্বাহিরা, ত্বইয়্যিবাহ, মুনাওওয়ারাহ,

যাকিয়্যাহ হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম স্বীয়

আওলাদ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক

শানে প্রশংসামূলক যে না’ত শরীফ বা ক্বাছীদা

শরীফ পাঠ করেছিলেন তা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ

মুবারক না’ত শরীফ হিসেবে গণ্য ও পরিচিত। যা তিনি

স্বীয় ইন্তিকাল মুবারক উনার অল্পক্ষণ পূর্বে পাঠ

(আবৃত্তি) করেছিলেন। যা ১০ম হিজরী শতকের

মুজাদ্দিদ আল্লামা হযরত ইমাম আবুল ফদ্বল আব্দুর

রহমান আবূ বকর জালালুদ্দীন সুয়ূতী শাফিয়ী

আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ-৯১১)

উনার ‘আল খছায়িছুল কুবরা- বাবুন মা ওয়াক্বায়া

ইনদা ওয়াফাতি উম্মিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম মিনাল আইয়াত’ ১ম খন্ড ১৩৫-১৩৬ পৃষ্ঠা এবং

‘কিতাবুল আযীম ওয়াস সুন্নাহ’ কিতাবে সঙ্কলন

করেছেন। নিম্নে উক্ত মুবারক না’ত শরীফ বা

ক্বাছীদা শরীফ উল্লেখ পূর্বক তার সহজ অনুবাদ ও

শাব্দিক অর্থ উল্লেখ করা হলো।-

ﺍﺧﺮﺥ ﺍﺑﻮ ﻧﻌﻴﻢ ﻣﻦ ﻃﺮﻳﻖ ﺍﻟﺰﻫﺮﻯ ﻋﻦ ﺍﻡ ﺳﻤﺎﻋﺔ ﺑﻨﺖ ﺍﺑﻰ ﺭﻫﻢ ﻋﻦ

ﺃﻣﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ : ﺷﻬﺪﺕ ﺍﻣﻨﺔ ﺍﻡ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﻲ

ﻋﻠﺘﻬﺎ ﺍﻟﺘﻰ ﻣﺎﺗﺖ ﻓﻴﻬﺎ ﻭﻣﺤﻤﺪ ﻏﻼﻡ ﻳﻘﻊ ﻟﻪ ﺧﻤﺲ ﺳﻨﻴﻦ ﻋﻨﺪ ﺭﺍﺳﻬﺎ

ﻓﻨﻈﺮﺕ ﺇﻟﻰ ﻭﺟﻬﻪ ﺛﻢ ﻗﺎﻟﺖ :

ﺑﺎﺭﻙ ﻓﻴﻚ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻦ ﻏﻼﻡ

ﻳﺎ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﺬﻯ ﻣﻦ ﺣﻮﻣﺔ ﺍﻟﺤﻤﺎﻡ

ﻧﺠﺎ ﺑﻌﻮﻥ ﺍﻟﻤﻠﻚ ﺍﻟﻤﻨﻌﺎﻡ

ﻓﻮﺩﻯ ﻏﺪﺍﺓ ﺍﻟﻀﺮﺏ ﺑﺎﻟﺴﻬﺎﻡ

ﺑﻤﺎﺋﺔ ﻣﻦ ﺍﺑﻞ ﺳﻮﺍﻡ

ﺍﻥ ﺻﺢ ﻣﺎ ﺍﺑﺼﺮﺕ ﻓﻰ ﺍﻟـﻤﻨﺎﻡ

ﻓﺎﻧﺖ ﻣﺒﻌﻮﺙ ﺍﻟﻰ ﺍﻻﻧﺎﻡ

ﻣﻦ ﻋﻨﺪ ﺫﻯ ﺍﻟﺠﻼﻝ ﻭﺍﻻﻛﺮﺍﻡ

ﺗﺒﻌﺚ ﻓﻰ ﺍﻟﺤﻞ ﻭ ﻓﻰ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ

ﺗﺒﻌﺚ ﺑﺎ ﻟﺘﺤﻘﻴﻖ ﻭﺍﻻﺳﻼﻡ

ﺩﻳﻦ ﺍﺑﻴﻚ ﺍﻟﺒﺮ ﺍﺑﺮﺍﻫﺎﻡ

ﻓﺎﻟﻠﻪ ﺍﻧﻬﺎﻙ ﻋﻦ ﺍﻻﺻﻨﺎﻡ

ﺍﻥ ﻻ ﺗﻮﺍﻟﻴﻬﺎ ﻣﻊ ﺍﻻﻗﻮﺍﻡ

ﺛﻢ ﻗﺎﻟﺖ :

ﻛﻞ ﺣﻰ ﻣﻴﺖ ﻭﻛﻞ ﺟﺪﻳﺪ ﺑﺎﻝ

ﻭﻛﻞ ﻛﺒﻴﺮ ﻳﻔﻨﻰ ﻭﺍﻧﺎ ﻣﻴﺘﺔ ﻭﺫﻛﺮﻯ ﺑﺎﻕ

ﻭﻗﺪ ﺗﺮﻛﺖ ﺧﻴﺮﺍ ﻭﻭﻟﺪﺕ ﻃﻬﺮﺍ

ﺛﻢ ﻣﺎﺗﺖ ﻓﻜﻨﺎ ﻧﺴﻤﻊ ﻧﻮﺡ ﺍﻟﺠﻦ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﻓﺤﻔﻈﻨﺎ ﻣﻦ ﺫﻟﻚ :

ﻧﺒﻜﻰ ﺍﻟﻔﺘﺎﺓ ﺍﻟﺒﺮﺓ ﺍﻟﻼﻣﻴﻨﺔ

ﺫﺍﺕ ﺍﻟﺠﻤﺎﻝ ﺍﻟﻌﻔﺔ ﺍﻟﺮﺯﻳﻨﺔ

ﺯﻭﺟﺔ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﻘﺮﻳﻨﺔ

ﺍﻡ ﻧﺒﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺫﻯ ﺍﻟﺴﻜﻴﻨﺔ

ﻭﺻﺎﺣﺐ ﺍﻟﻤﻨﺒﺮ ﺑﺎﻟﻤﺪﻳﻨﺔ

ﺻﺎﺭﺕ ﻟﺪﻯ ﺣﻔﺮﺗﻬﺎ ﺭﻫﻴﻨﺔ

‏(ﻛﻔﺎﻳﺔ ﺍﻟﻄﺎﻟﺐ ﺍﻟﻠﺒﻴﺐ ﻓﻰ ﺧﺼﺎﺋﺺ ﺍﻟﺤﺒﻴﺐ ﺍﻟـﻤﻌﺮﻭﻑ ﺍﻟﺨﺼﺎﺋﺺ

ﺍﻟﻜﺒﺮﻯ ﻟﻠﺴﻴﻮﻃﻰ ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺑﺎﺏ ﻣﺎ ﻭﻗﻊ ﻋﻨﺪ ﻭﻓﺎﺓ ﺍﻣﻪ ﺻﻠﻰ

ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﺍﻻﻳﺎﺕ ﺍﻟﺠﻠﺪ ۱ ﺍﻟﺼﻔﺤﺔ ۱۳۶ -۱۳۵ )

অনুবাদ: হযরত আবূ নুয়াইম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি

হযরত তাবিয়ী ইমাম ইবনু শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি

আলাইহি উনার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হযরত উম্মু

সামায়াহ বিনতু আবী রহম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার

থেকে বর্ণিত। তিনি উনার মাতা থেকে বর্ণনা

করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি সাইয়্যিদুনা হযরত

রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

মাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম

উনার সুমহান বিছাল শরীফ উনার (ইন্তিকালের) সময়

উনার নিকট উপস্থিত ছিলাম। নূরে মুজাসসাম

হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনার বয়স মুবারক তখন ছিলো পাঁচ বছর

( কিন্তু মশহুর বর্ননা মনে ৬ বছর)। তিনি উনার মায়ের

মাথা মুবারকের পাশেই বসা ছিলেন। আর এমতাবস্থায়

উনার মা সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরানী চেহারা

মুবারকের দিকে না’ত শরীফ পাঠ করেছিলেন।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুবারক না’ত শরীফখানা হলো-

۱. ﺑﺎﺭﻙ ﻓﻴﻚ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻦ ﻏﻼﻡ

ﻳﺎ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﺬﻯ ﻣﻦ ﺣﻮﻣﺔ ﺍﻟﺤﻤﺎﻡ

۲ . ﻧﺠﺎ ﺑﻌﻮﻥ ﺍﻟﻤﻠﻚ ﺍﻟﻤﻨﻌﺎﻡ

ﻓﻮﺩﻯ ﻏﺪﺍﺓ ﺍﻟﻀﺮﺏ ﺑﺎﻟﺴﻬﺎﻡ

۳. ﺑﻤﺎﺋﺔ ﻣﻦ ﺍﺑﻞ ﺳﻮﺍﻡ

ﺍﻥ ﺻﺢ ﻣﺎ ﺍﺑﺼﺮﺕ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﻨﺎﻡ

۴. ﻓﺎﻧﺖ ﻣﺒﻌﻮﺙ ﺍﻟﻰ ﺍﻻﻧﺎﻡ

ﻣﻦ ﻋﻨﺪ ﺫﻯ ﺍﻟﺠﻼﻝ ﻭﺍﻻﻛﺮﺍﻡ

۵. ﺗﺒﻌﺚ ﻓﻰ ﺍﻟﺤﻞ ﻭ ﻓﻰ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ

ﺗﺒﻌﺚ ﺑﺎ ﻟﺘﺤﻘﻴﻖ ﻭﺍﻻﺳﻼﻡ

۶. ﺩﻳﻦ ﺍﺑﻴﻚ ﺍﻟﺒﺮ ﺍﺑﺮﺍﻫﺎﻡ

ﻓﺎﻟﻠﻪ ﺍﻧﻬﺎﻙ ﻋﻦ ﺍﻻﺻﻨﺎﻡ

۷. ﺍﻥ ﻻ ﺗﻮﺍﻟﻴﻬﺎ ﻣﻊ ﺍﻻﻗﻮﺍﻡ

ﺍﻥ ﻻ ﺗﻮﺍﻟﻴﻬﺎ ﻣﻊ ﺍﻻﻗﻮﺍﻡ

۸. ﻛﻞ ﺣﻰ ﻣﻴﺖ ﻭﻛﻞ ﺟﺪﻳﺪ ﺑﺎﻝ

ﻭﻛﻞ ﻛﺒﻴﺮ ﻳﻔﻨﻰ ﻭﺍﻧﺎ ﻣﻴﺘﺔ ﻭﺫﻛﺮﻯ ﺑﺎﻕ

۹. ﻭﻗﺪ ﺗﺮﻛﺖ ﺧﻴﺮﺍ ﻭﻭﻟﺪﺕ ﻃﻬﺮﺍ

ﻭﻗﺪ ﺗﺮﻛﺖ ﺧﻴﺮﺍ ﻭﻭﻟﺪﺕ ﻃﻬﺮﺍ

অনুবাদ : (প্রতিটি শব্দের শাব্দিক অর্থ সহ দেয়া

হলো )

১. হে আমার যোগ্য পুত্র, মহান আল্লাহ পাক তিনি

আপনাকে বরকতময় করে সৃষ্টি করেছেন। হে আমার

যোগ্য পুত্র আমার বিদায়ের সময় আমি তা বলে

যাচ্ছি।

শাব্দিক অর্থ : ﺍﻟﻠﻪ – আল্লাহ পাক, ﺑﺎﺭﻙ – বরকতময়

করেছেন, ﻏﻼﻡ – আমার পুত্র, ﺣﻮﻣﺔ – ইন্তিকালের সময়,

বিদায়ের মুহূর্ত, মউতকালীন অবস্থা, ﺍﻟﺤﻤﺎﻡ – আমার

ইন্তিকাল বা বিদায়।

২. আল্লাহ মালিক মিনয়াম উনার অনুগ্রহে লটারীর

সময় উটের বিনিময়ে আমার জীবন সঙ্গী (অর্থাৎ

আপনার পিতা) বেঁচে যান।

শাব্দিক অর্থ : ﻧﺠﺎ নাজাত পেয়েছেন, বেঁচে

গিয়েছেন, ﺑﻌﻮﻥ অনুগ্রহ, দয়া, রহমত, সাহায্, ﺍﻟﻤﻠﻚ

সবকিছুর অধিপতি মহান আল্লাহ পাক, মালিক, ﺍﻟﻤﻨﻌﺎﻡ

নিয়ামতের মালিক, নিয়ামত দানকারী অনুগ্রহকারী

ﻓﻮﺩﻯ আমার জীবন সঙ্গী বা স্বামী, দিক, পক্ষ, দল,

বাহিনী ﻏﺪﺍﺓ সময়, সকাল, ভোর ﺍﻟﻀﺮﺏ লটারী, ভাগ্য,

প্রহার, উদাহরণ (এ শব্দটি অবস্থার চাহিদানুযায়ী

অনেক অর্থ প্রদান করে) ﺍﻟﺴﻬﺎﻡ উট।

৩. একশত তরুতাজা উটের বিনিময়ে (আপনার পিতা)

বেঁচে যান। আর আমি যা মুবারক স্বপ্নে দেখেছি

নিশ্চয়ই তা সত্য। তা হলো-

শাব্দিক অর্থ : ﻣﺎﺋﺔ একশত, ১০০, ১শ’ ﺍﺑﻞ উট ﺳﻮﺍﻡ

তরুতাজা, হৃষ্টপুষ্ট, সুস্থ, রোগহীন ﺍﻥ নিশ্চয়ই, অবশ্যই

ﺻﺢ সত্য, মিথ্যা নয় ﻣﺎ যা, যা কিছু ﺍﺑﺼﺮﺕ আমি

দেখেছি ﻓﻰ মধ্যে, ভিতরে ﺍﻟﻤﻨﺎﻡ স্বপ্নে, ঘুমের মধ্যে

স্বপ্নে।

৪. আপনি সমস্ত সৃষ্টি জগতের জন্য নবী ও রসূলরূপে

প্রেরিত হয়েছেন। মহা সম্মান ও প্রতিপত্তির

অধিকারী মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকেই

প্রেরিত হয়েছেন।

শাব্দিক অর্থ : ﺍﻧﺖ – আপনি, ﻣﺒﻌﻮﺙ – নবী ও রসূল রূপে

প্রেরিত, ﺍﻻﻧﺎﻡ – সৃষ্টিজগৎ, মানবজাতি ও জিন জাতি,

ﻋﻨﺪ – পক্ষ থেকে ﺫﻯ – অধিকারী, ﺍﻟﺠﻼﻝ ﻭﺍﻻﻛﺮﺍﻡ –

মহিমা, মহত্ত্ব, বড়ত্ব, মর্যাদা, সম্মান।

৫. আপনাকে নবী ও রসূলরূপে পাঠানো হয়েছে মদীনা

শরীফ মক্কা শরীফ ও সারা দুনিয়াবাসীদের মধ্যে।

আপনাকে নবী ও রসূলরূপে পাঠানো হয়েছে হক্ব

প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম

প্রতিষ্ঠা করার জন্য।

শাব্দিক অর্থ : ﺗﺒﻌﺚ – আপনাকে নবী রসূল ও রহমত

স্বরূপ পাঠানো হয়েছে, ﺍﻟﺤﻞ – মক্কা শরীফ-এর এক

বিশেষ স্থান ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ – মদীনা শরীফ ও মক্কা শরীফ,

ﺍﻟﺘﺤﻘﻴﻖ – হক্ব, সত্য দ্বীন, ﺍﻻﺳﻼﻡ – দ্বীন ইসলাম,

সম্মানিত শরীয়ত।

৬. আপনি আপনার পিতা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস

সালাম উনার সত্য দ্বীন নিয়ে এসেছেন (যা মূলত

আপনার থেকেই উনাকে দান করা হয়েছিলো)। আর

মহান আল্লাহ পাক আপনার সম্মান-মর্যাদার কারনেই

আপনার উম্মতদেরকে মূর্তিপুজা থেকে রক্ষা করবেন।

শাব্দিক অর্থ : ﺩﻳﻦ – দ্বীন ইসলাম, ﺍﺑﻴﻚ – আপনার

পিতা হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম,

ﺍﻟﺒﺮ – সত্য, ন্যায়, সঠিক ﺍﺑﺮﺍﻫﺎﻡ – হযরত ইবরাহীম

খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দ্বীন ﺍﻧﻬﺎﻙ –

আপনার দ্বারা ধ্বংস করবেন, নিশ্চিহ্ন করবেন, ﺍﺻﻨﺎﻡ

– মূর্তিসমূহ, মূর্তিপূজা, প্রাণীর ছবি, ভাস্কর্য।

৭. যেনো মূর্তি-ভাস্কর্যের অনুশীলন সমর্থন ও

পৃষ্ঠপোষকতা যমীনে কেউ না করে। যদিও মুশরিক

সম্প্রদায় পূর্ব থেকে তার অনুশীলন করে আসছে।

শাব্দিক অর্থ: ﺍﻥ ﻻ ﺗﻮﺍﻟﻰ – যেনো অনুশীলন না করে,

যেনো সমর্থন না করে, যেনো পৃষ্ঠপোষকতা না করে,

ﻫﺎ- উহার অর্থাৎ মূর্তি ও ভাস্কর্যের ﻣﻊ- যদিও,

সত্ত্বেও, সঙ্গে, সাথে, সহিত, সহকারে, সহযোগে

ﺍﻻﻗﻮﺍﻡ – সম্প্রদায়, জাতি, দল, গোত্র (এখানে মুশরিক

সম্প্রদায় উদ্দেশ্য)।

৮. প্রতিটি প্রাণীর একদিন মউত হবে। তেমনি প্রতিটি

নতুন বস্তু পুরাতন হবে।

প্রত্যেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা একদিন ইন্তিকাল করবেন। আর

আমিও (মধ্যবয়স্কা) বিদায় গ্রহণ করে চলে যাচ্ছি।

কিন্তু আমার প্রশংসনীয় আলোচনা অনন্তকাল ধরে

অবশিষ্ট থাকবে।

শাব্দিক অর্থ : ﻛﻞ – প্রত্যেক, সকল, সব, সমস্ত ﺣﻰ –

প্রাণী, জীবনধারী ﻣﻴﺖ – মউত, বিছাল, বিদায়,

ইন্তিকাল, পূর্ণতা, মৃত্যু ﺟﺪﻳﺪ – নতুন, নব, নবীন, কচি ﺑﺎﻝ

– পুরাতন, ফ্যাকাশে, ধ্বংস।

ﻛﻞ -প্রত্যেক, ﻛﺒﻴﺮ – বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, বড়, বয়সী, শায়েখ, ﻳﻔﻨﻰ

– ধ্বংস হবে, ফানা হবে, ﺍﻧﺎ – আমি, ﻣﻴﺘﺔ – বিদায়,

বিছাল, ওফাত, ইন্তিকাল, ﺫﻛﺮﻯ – আমার আলোচনা,

আমার স্মরণ, ﺑﺎﻕ – অবশিষ্ট, চলমান, অব্যাহত।

৯. কারণ আমি মহান আল্লাহ পাক উনার সর্বশ্রেষ্ঠ

হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনাকে

রেখে যাচ্ছি। আমি আপনাকে পূত-পবিত্র হিসেবে

আগমন করতে সাহায্য করেছি।

শাব্দিক অর্থ: ﺗﺮﻛﺖ- আমি রেখে গেলাম, ﺧﻴﺮﺍ-

কল্যাণময়, বরকতপূর্ণ, রহমতনয়, ﻭﻟﺪﺕ – আমি আগমনে

সাহায্য করেছি, ﻃﻬﺮﺍ – পাক-পবিত্র, পুতঃ পবিত্র,

পবিত্রম।”

বর্ননাকারী বলেন, যখন তিনি বিছাল শরীফ লাভ

করলেন, তখন আমরা মুসলমান জিনদের ক্রন্দন বা

আর্তনাদ শুনতে পেলাম। তাই আমরা উনাদের থেকেও

না’ত শরীফ মুখস্ত করে নিলাম।

মুসলমান জিনদের পঠিত না’ত শরীফ হলো-

۱. ﻧﺒﻜﻰ ﺍﻟﻔﺘﺎﺓ ﺍﻟﺒﺮﺓ ﺍﻟﻼﻣﻴﻨﺔ

ﺫﺍﺕ ﺍﻟﺠﻤﺎﻝ ﺍﻟﻌﻔﺔ ﺍﻟﺮﺯﻳﻨﺔ

۲ . ﺯﻭﺟﺔ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﻘﺮﻳﻨﺔ

ﺍﻡ ﻧﺒﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺫﻯ ﺍﻟﺴﻜﻴﻨﺔ

۳. ﻭﺻﺎﺣﺐ ﺍﻟﻤﻨﺒﺮ ﺑﺎﻟﻤﺪﻳﻨﺔ

ﺻﺎﺭﺕ ﻟﺪﻯ ﺣﻔﺮﺗﻬﺎ ﺭﻫﻴﻨﺔ

শাব্দিক অর্থ সহ অনুবাদ :

১. আমরা মধ্যবয়স্কা সৎকর্মপরায়ণা হযরত আমিনাহ

আলাইহাস সালাম উনার জন্য ক্রন্দন করছি। যিনি

সৌন্দর্যের অধিকারিনী পবিত্রা ও জ্ঞানী।

শাব্দিক অর্থ : ﻧﺒﻜﻰ আমরা ক্রন্দন করছি ﺍﻟﻔﺘﺎﺓ

মধ্যবয়স্কা, যুবতী ﺍﻟﺒﺮﺓ Ñসৎকর্মপরায়ণা, সতী-সাধ্বী,

পুণ্যময়ী ﺍﻻﻣﻴﻨﺔ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,

খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাতা

উনার নাম, বিশ্বাসী, মুত্তাক্বী, আমানতদারিণী,

শান্তিময়ী ﺫﺍﺕ অধিকারিনী ﺍﻟﺠﻤﺎﻝ সৌন্দর্য, সুন্দর

ﺍﻟﻌﻔﺔ পবিত্রা, নির্দোষ, সংযমী, চারিত্রিক

নিষ্কলুষতা ﺍﻟﺮﺯﻳﻨﺔ জ্ঞানী, বিচক্ষণ, মেধাবী, গম্ভীর,

চিন্তাশীল।

২. যিনি হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস

সালাম উনার আহলিয়া ও জীবন সঙ্গিনী। প্রশান্তির

অধিকারী মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাতা।

শাব্দিক অর্থ : ﺯﻭﺟﺔ আহলিয়াহ, যাওজাহ, স্ত্রী।

ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,

খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পিতা

উনার নাম, আল্লাহ পাক উনার প্রিয় আব্দ ﺍﻟﻘﺮﻳﻨﺔ

সঙ্গিনী, সাথী, স্ত্রী ﺍﻡ মাতা, মা, আম্মা ﺫﻯ মালিক,

অধিকারী ﺍﻟﺴﻜﻴﻨﺔ প্রশান্তি, শান্তি, দয়া, মায়া,

অনুগ্রহ, রহমত।

৩. এমন নবীজি যিনি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার

মিম্বর শরীফ উনার অধিপতি। উনার মাতা এখন উনার

নির্জন কবর শরীফ-এ যাওয়ার নিকটে উপনিত।

শাব্দিক অর্থ : – ﺻﺎ ﺣﺐ অধিকারী, মালিক, অধিপতি

– ﺍﻟﻤﻨﺒﺮ খুতবাহ দেয়ার স্থান, নছীহতের স্থান – ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ

মদীনা শরীফ, পবিত্র শহর, পবিত্র স্থান – ﺻﺎﺭﺕ

উপনিত হয়েছেন – ﻟﺪﻯ নিকটে, কাছে, কাছাকাছি

ﺣﻔﺮﺗﻬﺎ –

সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার

কবর শরীফ, উনার রওদ্বা শরীফ, উনার মাজার শরীফ, –

ﺭﻫﻴﻨﺔ নির্জন, একাকী।”

চিন্তা ও ফিকিরের বিষয়, হযরত আমিনা ত্বাহিরাহ,

ত্বাইয়্যিবাহ আলাইহাস সালাম নিজের মর্যাদার

কারণ ও ওসীলা হিসেবে আপন ছেলে সাইয়্যিদুনা,

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উল্লেখ করলেন। মূলত

সমস্ত নিয়ামত মুবারক, রহমত মুবারক, বরকত মুবারক

উনার উৎস তিনিই। তিনি যে বস্তুকে বা বিষয়কে

মুবারক ছোহবত দিয়েছেন এবং যে জিনিস বা বস্তু

উনার ছোহবত অর্জন করেছে সে বিষয় বা বস্তু বরকতময়

রহমতপূর্ণ হয়ে গেছে। তেমনিভাবে পবিত্র ঈদে

মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শরীফ

পবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ ও ইয়াওমুল

ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ তারিখ ও বার

হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছে উনার বরকতী ছোহবত

মুবারক উনার কারণেই। সুবহানাল্লাহ। এজন্য ফতওয়া

দেয়া হয়: মহান আল্লাহ পাক উনার যমীনে সর্বশ্রেষ্ঠ

ঈদ সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর

পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম।

সুবহানাল্লাহ্ !!

১২ ই শরীফ আসবে কবে এই প্রতাশ্যায় থাকি

১২ ই শরীফ আসবে কবে এই প্রতাশ্যায় থাকি

______________________________________

নীল আসমানে সন্ধ্যাবেলা

বাঁকা চাঁদের হাসি

পালন করবো সাইয়্যিদুল আইয়াদ

করবো প্রকাশ খুশি ৷

১২ ই শরীফ আসবে কবে

এই প্রতাশ্যায় থাকি

মনের মাঝে সদা সর্বদা

মামদুহজী উনার মুহ্ববত রাখি৷

মামদুহজী আমার প্রাণের আক্বা

আমার ক্বিবলা জান

নূরে হাবীবী ক্বায়িম মাক্বাম

নবীজি উনার ঈদে মিলাদের

করতেছেন আঞ্জাম