ইসলামের দৃষ্টিতে ‘গণতন্ত্র’, ‘নির্বাচন’, ভোট–পর্ব (২)

ইসলামের দৃষ্টিতে ‘গণতন্ত্র’, ‘নির্বাচন’, ভোট–পর্ব (২)

আজকাল অনেকে ভোট দেয়া সম্পর্কে নানা কথা বলে

থাকে । যেমন অনেকে বলে থাকে, “ভোট দেয়া ফরজ

ও ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত ।” অর্থাৎ ইসলামের নামে

ভোট দেয়া ফরজ ও ওয়াজিব । এর কারণ স্বরূপ তারা

বলে থাকে, (১) ভোট একটি পবিত্র আমানত, (২) ভোট

দান হচ্ছে- শুপারিশ করা ও (৪) ভোটের দ্বারা

প্রতিনিধি বা উকিল নিয়োগ করা হয় । এর দলীল

হিসেবে মুফতী শফী সাহেবের লিখিত তাফসীর-

“মা’আরিফুল কুরআন” ও কিতাব- “ভোটের ইসলামী

শরয়ী বিধান” নামক কিতাবদ্বয় এবং এছাড়া আরো

কিছু চটি রেসালা দলীল হিসেবে পেশ করে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- সত্যিই কি ইসলামের দৃষ্টিতে বা

ইসলামের নামে ভোট দেয়া ওয়াজিব? আর সত্যিই কি

ভোট পবিত্র আমানত? অথবা স্বাক্ষ্য স্বরূপ? বা

শুপারিশ? অথবা উকিল নিয়োগের মাধ্যম?

(ধারাবাহিক)

ওহী

=====

কারণ আল্লাহ্ পাক ইসলাম তথা কুরআন শরীফ, হাদীস

শরীফ ওহীর মাধ্যমে নাযিল করেছেন ।

আর ওহী সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক বলেন, “তিনি ওহী

ব্যতীত নিজ থেকে কোন কথা বলেন না ।” (সূরা

নজম/৩,৪)

ওহী হচ্ছে- দু’প্রকার। (১) ওহীয়ে মাতলু (২) ওহীয়ে

গায়রে মাতলু ।

ওহীয়ে মাতলু হচ্ছেঃ

যা হুবহু তিলাওয়াত বা পাঠ করতে হয় । যার তাহরীফ

ও তাবদীল সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম । ওহীয়ে

মাতলুর সমষ্টি হচ্ছে- কুরআন শরীফ, যা আল্লাহ্ পাক

“সূরা ইউসুফের” ৩নং আয়াত শরীফে উল্লেখ করেন,

“আমি এই কুরআন শরীফকে আপনার প্রতি ওহী করেছি

বা নাযিল করেছি ।”

এর মধ্যে দ্বীন ইসলামের বিধি-বিধান, আইন-কানুন,

নিয়ম-নীতি ইত্যাদি সন্নিবেশিত করা হয়েছে । যার

নাযিলকারী ও সংরক্ষণকারী স্বয়ং আল্লাহ্ পাক ।

যা “সূরা হিজরের” ৯নং আয়াত শরীফে উল্লেখ করা

হয়েছে- “নিশ্চয়ই আমি কুরআন শরীফকে নাযিল

করেছি এবং নিশ্চয়ই আমিই এর হিফাযতকারী ।”

আর ওহীয়ে গায়রে মাতলু হচ্ছেঃ

হাদীস শরীফ । যা আল্লাহ্ পাক-এর তরফ থেকে

নাযিল হয়েছে কিন্তু তার ভাষা হচ্ছে- স্বয়ং আল্লাহ্

পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম-এর, যা কুরআন শরীফের ব্যাখ্যা স্বরূপ ।

উল্লেখ্য, ওহীয়ের মাতলু বা কুরআন শরীফের তাহরীফ,

তাবদীল যেমন নাজায়েয ও কুফরী, তেমনি তাফসীর

বির রায় বা মনগড়া তাফসীর বা ব্যাখ্যা করাও

নাজায়েয ও কুফরী । আল্লাহ্ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

ﻣﻦ ﻓﺴﺮ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﺑﺮ ﺍﺀﻩ ﻓﻘﺪ ﻛﻔﺮ .

অর্থঃ- “যে ব্যক্তি মনগড়া তাফসীর করলো, সে কুফরী

করলো ।”

তিনি আরো বলেন,

ﻣﻦ ﻓﺴﺮ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﺑﺮﺍﺀﻩ ﻓﻠﻴﺘﺒﻮﺃ ﻣﻘﻌﺪﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ .

অর্থঃ- “যে ব্যক্তি কুরআন শরীফের মনগড়া তাফসীর

করে, সে যেন তার স্থান দুনিয়ায় থাকতেই

জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয় ।” (ইহইয়াউ

উলুমিদ্দীন)

তিনি আরো বলেন,

ﻣﻦ ﻗﺎﻝ ﻓﻰ ﺍﻟﻘﺮ ﺍﻥ ﺑﺮ ﺍﺀﻩ ﻓﻠﻴﺘﺒﻮﺃ ﻣﻘﻌﺪﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ .

অর্থঃ- “যে ব্যক্তি কুরআন শরীফ সম্পর্কে মনগড়া কথা

বলে বা তাফসীর করে, সে যেন তার স্থান দুনিয়ায়

থাকতেই জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়

।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত)

তিনি আরো বলেন,

ﻣﻦ ﻗﺎﻝ ﻓﻰ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﺑﻐﻴﺮ ﻋﻠﻢ ﻓﻠﻴﺘﺒﻮﺃ ﻣﻘﻌﺪﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ .

অর্থঃ- “যে ব্যক্তি ইলম ছাড়া কুরআন শরীফের

ব্যাখ্যা করে, সে যেন দুনিয়ায় থাকতেই তার স্থান

জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয় ।” (তিরমিযী শরীফ,

মিশকাত শরীফ, মিরকাত)

আর ওহীয়ে গায়রে মাতলু সম্পর্কে হাদীস শরীফে

উল্লেখ করা হয়েছে,

ﻣﻦ ﻛﺬﺏ ﻋﻠﻰ ﻣﺘﻌﻤﺪﺍ ﻓﻠﻴﺘﺒﻮﺃ ﻣﻘﻌﺪﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ .

অর্থঃ- “যে ব্যাক্তি স্বেচ্ছায় আমার সম্পর্কে মিথ্যা

বলে, সে যেন দুনিয়ায় থাকতেই তার স্থান

জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয় ।” (তিরমিযী শরীফ,

ইবনে মাযাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত)

মূলতঃ ইসলাম হচ্ছে- আল্লাহ্ পাক-এর তারফ থেকে

আল্লাহর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম-এর প্রতি ওহীর মাধ্যমে নাযিলকৃত দ্বীন, যা

বাড়ানো-কমানো বা ইফরাত-তাফরীত যেমন কুফরী

তেমনি তার মনগড়া তাফসীর বা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ

এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাম আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর

নাম মুবারকে মিথ্যারোপ করাও কুফরীর অন্তর্ভূক্ত ।

তার মেছাল বা উদাহরণ হচ্ছে- কাদিয়ানী সম্প্রদায় ।

কাদিয়ানীরা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও

ক্বিয়াস সবই মানে এবং তা স্বীকারও করে থাকে।

এমনকি কাদিয়ানীরা ﺧﺎﺗﻢ ﺍﻟﻨﺒﻴﻴﻦ (খতামুন্নাবিয়্যীন)

এ রহমতপূর্ণ ও বরকতপূর্ণ বাক্যাংশটিও তারা

শব্দগতভাবে অস্বীকার করে না কিন্তু নিজেদের

ইচ্ছানুযায়ী মনগড়া অর্থ করে । আহলে সুন্নত ওয়াল

জামায়াতের আক্বীদা মোতাবেক খতামুন্নাবিয়্যীন-

এর অর্থ হচ্ছে- শেষ নবী । পবিত্র হাদীছ শরীফে হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

ﻻ ﻧﺒﻰ ﺑﻌﺪﻯ .

অর্থঃ- “আমার পরে কোন নবী নেই, অর্থাৎ আমিই শেষ

নবী ।” (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

শেষ নবী)

কাদিয়ানীরা আল্লাহ্ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবীও স্বীকার

করে এবং মানেও কিন্তু খতমুন্নাবিয়্যীন-এর অর্থ

করে, তিনি নবী সত্য তবে শেষ নয়, নবীদের মোহর ।

(নাউযুবিল্লাহ) অর্থাৎ কাদিয়ানী সম্প্রদায়

ইসলামের সমস্ত কিছু মানা সত্বেও এমনকি কুরআন

শরীফের রহমত ও বরকতপূর্ণ বাক্যাংশ খতামুন্নাবিয়্য

ীন শব্দগতভাবে মানা সত্বেও অর্থের দিক থেকে শুধু

মাত্র “খতম” শব্দের অর্থ শেষ না করে মোহর করার

কারণে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হয়েছে ।

তাহলে বুঝা যাচ্ছে- আল্লাহ্ পাক-এর তরফ থেকে

আল্লাহ্ পাক-এর প্রতি ওহীর মাধ্যমে নাযিলকৃত

দ্বীন, ইসলামের কোন বিষয় বাড়ানো-কমানো বা

ইফরাত-তাফরীত করা বা কুরআন শরীফের কোন শব্দের

তাহরীফ-তাবদীল করা অথবা মনগড়া তাফসীর

ইত্যাদি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ যা নাজায়েয, হারাম ও

কুফরী । যারা বাড়াবে ও কমাবে বা তাহরীফ-

তাবদীল অথবা মনগড়া তাফসীর ইত্যাদি করবে

তারাও কাফির হয়ে যাবে । যেমন কাদিয়ানী

সম্প্রদায় কাফির হয়ে গিয়েছে ।

উপরোক্ত আয়াত শরীফ এবং হাদীস শরীফের মাধ্যমে

এটাই প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ্ পাক দ্বীন ইসলামকে

মনোনীত ও পরিপূর্ণ করে নাযিল করেছেন। এবং

পূর্ববর্তী সমস্ত ধর্ম, নিয়মনীতি, আইন-কানুন, তর্জ-

তরীকা বাতিল ঘোষণা করে ইসলাম নাযিল করেছেন ।

যাতে আইন-কানুন, নিয়মনীতি, তর্জ-তরীকা ইত্যাদি

নতুন করে দেয়া হয়েছে যা ব্যক্তিগত, পারিবারিক,

সামাজিক ইত্যাদি প্রতিক্ষেত্রেই পালনীয় যা

ক্বিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে । যার কারণে

মুসলমানগণকে অন্য কোন ধর্ম বা সম্প্রদায় থেকে কোন

নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীক্বা, আইন-কানুন কর্জ করতে

হবেনা । বরং ইসলাম থেকেই সকলকে কর্জ করতে হবে

(ইন্ শা আল্লাহ্ চলবে)

Advertisements

ইসলামের দৃষ্টিতে ‘গণতন্ত্র’, ‘নির্বাচন’, ‘ভোট’ (১)

ইসলামের দৃষ্টিতে ‘গণতন্ত্র’, ‘নির্বাচন’, ‘ভোট’  (১)

আজকাল অনেকে ভোট দেয়া সম্পর্কে নানা কথা বলে

থাকে । যেমন অনেকে বলে থাকে, “ভোট দেয়া ফরজ

ও ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত ।” অর্থাৎ ইসলামের নামে

ভোট দেয়া ফরজ ও ওয়াজিব । এর কারণ স্বরূপ তারা

বলে থাকে, (১) ভোট একটি পবিত্র আমানত, (২) ভোট

দান হচ্ছে- শুপারিশ করা ও (৪) ভোটের দ্বারা

প্রতিনিধি বা উকিল নিয়োগ করা হয় । এর দলীল

হিসেবে মুফতী শফী সাহেবের লিখিত তাফসীর-

“মা’আরিফুল কুরআন” ও কিতাব- “ভোটের ইসলামী

শরয়ী বিধান” নামক কিতাবদ্বয় এবং এছাড়া আরো

কিছু চটি রেসালা দলীল হিসেবে পেশ করে ।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- সত্যিই কি ইসলামের দৃষ্টিতে বা

ইসলামের নামে ভোট দেয়া ওয়াজিব? আর সত্যিই কি

ভোট পবিত্র আমানত? অথবা স্বাক্ষ্য স্বরূপ? বা

শুপারিশ? অথবা উকিল নিয়োগের মাধ্যম?

মূলতঃ কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে অর্থাৎ ইসলামের নামে

ভোট দেয়া ওয়াজিব তো নয়ই বরং কেউ যদি বলে

ইসলামের নামে ভোট দেয়া ওয়াজিব তবে সেটা

কুফরী হবে । কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে অর্থাৎ ইসলামে

ভোট আমানত, স্বাক্ষ্য, শুপারিশ এবং উকিল

নিয়োগের মাধ্যম নয় ।

ভোট ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে এর

সমর্থনকারীরা ভোটকে আমনত, স্বাক্ষ্য, শুপারিশ ও

উকিল নিয়োগের মাধ্যম বলে যে দলীল পেশ করে

থাকে তা সম্পূর্ণ অশুদ্ধ।

কারণ ভোট প্রথা এসেছে নির্বাচন থেকে । আর

নির্বাচন এসেছে গণতন্ত্র থেকে । আর গণতন্ত্র

এসেছে ইহুদী-নাছারা তথা বিধর্মীদের থেকে ।

মূলতঃ গণতন্ত্র হচ্ছে বিধর্মীদের দ্বারা প্রবর্তিত

একটি শাসন পদ্ধতি । সুতরাং গণতন্ত্রই ইসলামের

নামে করা হারাম । কারণ ইসলাম ও গণতন্ত্র এক বিষয়

নয় । নিম্নে সংক্ষেপে তা বর্ণনা করা হলো-

ইসলাম কাকে বলে?

—————————-

ইসলাম হচ্ছে আল্লাহ্ পাক-এর তরফ থেকে আল্লাহ্

পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম-এর প্রতি ওহীর মাধ্যমে নাযিলকৃত দ্বীন ।

যা একমাত্র পরিপূর্ণ ও মনোনীত । যে প্রসঙ্গে

আল্লাহ্ পাক “সূরা আলে ইমরানের” ১৯নং আয়াত

শরীফে বলেন, “নিশ্চয়ই ইসলামই আল্লাহ্ পাক-এর

কাছে একমাত্র দ্বীন ।”

আর আল্লাহ্ পাক ইসলামকে কামিল বা পরিপূর্ণ করে

নাযিল করেছেন এবং তার মধ্যে আল্লাহ্ পাক-এর পূর্ণ

সন্তুষ্টি রয়েছে বলে “সূরা মায়েদার” ৩নং আয়াত

শরীফে ঘোষণা করেছেন, “আজ আমি তোমাদের

দ্বীনকে (দ্বীন ইসলামকে) কামিল বা পরিপূর্ণ করে

দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত তা’মাম বা

পূর্ণ করে দিলাম এবং আমি তোমাদের দ্বীন

ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট হলাম ।”

আল্লাহ্ পাক দ্বীন ইসলামকে শুধুমাত্র পরিপূর্ণ করেই

নাযিল করেননি সাথে সাথে দ্বীন ইসলামকে

মনোনীতও করেছেন । তাই দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য

সমস্ত ধর্ম যা পূর্বে ছিল বর্তমানে রয়েছে এবং

ভবিষ্যতে হবে সেগুলিকে তিনি বাতিল ঘোষণা

করেছেন ।

এ প্রসঙ্গে কালামে পাকে ইরশাদ হয়েছে, “তিনি

(আল্লাহ্ পাক) উনার রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম)কে হিদায়েত এবং সত্য দ্বীন সহকারে

পাঠিয়েছেন সকল দ্বীনের উপর প্রাধান্য দিয়ে

(সমস্ত দ্বীনকে বাতিল ঘোষণা করে) এবং আল্লাহ্

পাক-এর সাক্ষ্যই যথেষ্ট । (যার সাক্ষী আল্লাহ্ পাক)

আর রসূল হচ্ছেন, মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম ।” (সূরা ফাতাহ্/২৮,২৯)

অর্থাৎ ইসলাম হচ্ছে- আল্লাহ্ পাক-এর তরফ থেকে

আল্লাহ্ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ওহীর মাধ্যমে নাযিলকৃত

একমাত্র দ্বীন । যা বাড়ানো-কমানো বা ইফরাত-

তাফরীত কোনটিই জায়েয নেই । যে বাড়াবে-কমাবে,

সে কাট্টা কাফির ও চির জামান্নামী হয়ে যাবে ।

আল্লাহ্ পাক “সূরা হুদের” ৬নং আয়াত শরীফে বলেন,

“সমস্ত কিছুই প্রকাশ্য কিতাবে রয়েছে ।”

“সূরা আনয়ামের” ৩৮নং আয়াত শরীফে আরো বলেন,

“আমি কিতাবে কোন কিছুই তরক করিনি ।”

তিনি “সূরা আনয়ামের” ৫৯নং আয়াত শরীফে আরো

বলেন, “ভিজা এবং শুকনা সব কিছুর বর্ণনাই প্রকাশ্য

কিতাবে রয়েছে ।”

আল্লাহ্ পাক “সূরা আল ইমরানের” ৮৫নং আয়াত

শরীফে আরো বলেন, “যে ব্যক্তি দ্বীন ইসলাম ব্যতীত

অন্য কোন ধর্ম (নিয়ম-নীতির) অনুসরণ করে, তার থেকে

তা কখনই গ্রহণ করা হবেনা এবং সে পরকালে

ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে ।”

আর ব্যাখ্যায় হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে,

ﻭﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺣﻴﻦ ﺍﺗﺎﻩ ﻋﻤﺮ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻧﺎ

ﻧﺴﻤﻊ ﺍﺣﺎﺩﻳﺚ ﻣﻦ ﻳﻬﻮﺩ ﺗﻌﺠﺒﻨﺎ ﺍﻓﺘﺮﻯ ﺍﻥ ﻧﻜﺘﺐ ﺑﻌﻀﻬﺎ ﻓﻘﺎﻝ

ﺍﻣﺘﻬﻮﻛﻮﻥ ﺍﻧﺘﻢ ﻛﻤﺎ ﺗﻬﻮﻛﺖ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩ ﻭﺍﻟﻨﺼﺎﺭﻯ ﻟﻘﺪ ﺝﺀﺗﻜﻢ ﺑﻬﺎ ﺑﻴﻀﺎﺀ

ﻧﻘﻴﺔ ﻭﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﻣﻮﺳﻰ ﺣﻴﺎ ﻣﺎﻭﺳﻌﻪ ﺍﻻ ﺍﺗﺒﺎﻋﻰ .

অর্থঃ- “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা

করেন যে, একদিন হযরত ওমর ইবনে খত্তাব

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, ইয়া

রাসূলাল্লাহ্ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

আমরা ইহুদীদের থেকে তাদের কিছু ধর্মীয় কথা শুনে

থাকি, যাতে আমরা আশ্চর্যবোধ করি, এর কিছু আমরা

লিখে রাখবো কি? হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরাও কি দ্বিধাদ্বন্দ্বে

রয়েছো? যে রকম ইহুদী-নাছারারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে

রয়েছে? অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট

পরিপূর্ণ, ‍উজ্জ্বল ও পরিস্কার দ্বীন নিয়ে এসেছি ।

হযরত মুসা আলাইহিস সালামও যদি দুনিয়ায় থাকতেন

তাহলে উনাকেও আমার অনুসরণ করতে হতো

।” (মুসনাদে আহমদ, বাইহাক্বী, মিশকাত, মিরকাত)

(ইন্ শা আল্লাহ্ চলবে)