ছবি তোলাকে হারাম ফতওয়া দিয়েও যারা ছবি

►► ছবি তোলাকে হারাম ফতওয়া দিয়েও যারা ছবি

তোলে শরীয়তের দৃষ্টিতে তাদের ফায়ছালাঃ

যারা ছবি তোলাকে হারাম ফতওয়া দিয়েও অহরহ

ছবি তুলছে তাদের ফায়সালা পবিত্র কুরআন শরীফ,

পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসেই রয়েছে|

এদের প্রসঙ্গেই মহান আল্লাহ্ পাক পবিত্র কালাম

পাকে ইরশাদ মুবারক করেন,

“তোমরা সে কথা কেন বল যা তোমরা আমল করোনা|”

✔ সূরা ছফ/২

► শরীয়তের দৃষ্টিতে এদের প্রথম ফায়সালা হলো-

এরা পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত দাজ্জালে

কাযযাব ও উলামায়ে ‘ছূ’| অর্থাৎ মহান আল্লাহ্ পাক

উনার যমীনে সর্ব নিকৃষ্ট প্রাণী| এদের সম্পর্কে

পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ﻋﻦ ﺍﺑﺲ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻯﻪ

ﻭﺳﻠﻢ ﻭﻯﻞ ﻻﻣﺘﻰ ﻣﻦ ﻋﻠﻤﺎﺀ ﺍﻟﺴﻮﺀ ﻯﺘﺨﺬﻭﻥ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﺗﺠﺎﺭﺓ

ﻯﺒﻯﻌﻮ ﻧﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻣﺮ ﺍﺀ ﺯ ﻣﺎﻧﻬﻢ ﺑﺤﺎ ﻻﻧﻔﺴﻬﻢ ﻻﺍﺭﺑﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﺠﺎﺭ ﺗﻬﻢ

অর্থঃ “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু

বর্ণনা করেন, আল্লাহ্ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

আমার উম্মতের মধ্যে যারা উলামায়ে “ছূ” তাদের

জন্য আফসুস অর্থাৎ তারা জাহান্নামী হবে| তারা

ইলমকে ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করতঃ তাদের যুগের

শাসকদের নিকট থেকে অর্থ ও পদ লাভের প্রচেষ্টা

চালিয়ে থাকে| আল্লাহ্ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসকল উলামায়ে

‘ছূ’দের বিরুদ্ধে এই বদদোয়া করেন যে, “আয় আল্লাহ্

পাক! যারা নিজেদের ইলম দ্বারা দুনিয়াবী

সরকারের সাথে ব্যবসা করতে চায় তাদের ব্যবসায়

বরকত দিবেন না|”

দলীল-

✔ কানযুল উম্মাল|

এ সকল উলামায়ে ‘ছূ’ বা দুনিয়াদার তথা ধর্মব্যবসায়ী

মৌলবীদেরকে পবিত্র হাদীছ শরীফে দাজ্জালে

কাযযাব বা মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বলে এদের থেকে

উম্মতদেরকে দূরে থাকার নির্দশ দেয়া হয়েছে| যেমন

পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﻫﺮﻯﺮﺓ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ

ﻋﻠﻯﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻯﻜﻮ ﻥ ﻓﻰ ﺍﺧﺮ ﺍﻟﺰ ﻣﺎﻥ ﺩﺟﻠﻮﻥ ﻛﺬﺍﺑﻮ ﻥ ﻯﺎﺗﻮ ﻧﻜﻢ ﻣﻦ

ﺍﻻ ﺣﺎﺩﻯﺚ ﺑﻤﺎﻟﻢ ﺗﺴﻤﻌﻮﺍ ﺍﻧﺘﻢ ﻭﻻ ﺍﺑﺎﺋﻜﻢ ﻓﺎﻯﺎﻛﻢ ﻭﺍﻯﺎﻫﻢ ﻻﻯﻀﻠﻮ

ﻧﻜﻢ ﻭﻻ ﻯﻔﺘﻨﻮ ﻧﻜﻢ

অর্থঃ হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু

হতে বর্ণিত, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম বলেন, আখিরী যামানায় কিছু সংখ্যক

মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে, তারা তোমাদের

নিকট এমন সব (মিথ্যা-মনগড়া) কথা উপস্থাপন করবে,

যা তোমরা কখনো শুননি এবং তোমাদের বাপ-

দাদারাও শুনেনি| সাবধান! তোমরা তাদের কাছ

থেকে দূরে থাকবে, তবে তারা তোমাদেরকে গোমরাহ

করতে পারবে না এবং ফিৎনায় ফেলতে পারবে না|

দলীল-

✔ পবিত্র মুসলিম শরীফ|

► শরীয়তের দৃষ্টিতে এদের দ্বিতীয় ফায়সালা হলো-

তারা যদি ছবি তোলাকে হারাম জেনে ছবি তুলে

থাকে তবে তারা চরম ফাসিক, কারণ ছবি তোলা শক্ত

হারাম ও চরম ফাসিকী কাজ|

✔ যেমন এ প্রসঙ্গে উমদাতুল ক্বারী, ফতওয়ায়ে

ছিদ্দীকিয়া ৩৭৮ পৃষ্ঠা, আজ জাওয়াজির ২য় জিঃ,

৩৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

‘তাওজীহ্’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, জীব

জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা নিষেধ, বরং

কঠোর নিষিদ্ধ কাজ (অর্থাৎ) এটা কবীরাহ্ গুনাহ্| চাই

ওটাকে যত্ন বা সম্মান প্রদর্শন করুক কিংবা অন্য যে

কোন উদ্দেশ্যেই বানায়ে থাকুক| এরূপ কাজে

আল্লাহর সৃষ্টির অনুকরণ করা হয়| ওটা বস্ত্রে,

বিছানায়, মোহরে, মুদ্রায়, পয়সায়, পাত্রে কিংবা

প্রাচীন গাত্রে যে কোন স্থানে আঁকা বা নির্মাণ

করা হারাম|”

✔ শরহে মুসলিম, নববী ও ফতওয়ায়ে ছিদ্দিক্বিয়াহ্

কিতাবের ৩৭৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

“উক্ত হাদীছসমূহে প্রাণীর ছবি তৈরী করা বা মূর্তি

নির্মাণ করা হারাম হওয়া সম্বন্ধে প্রকাশ্যেই বলা

হয়েছে| এটা তৈরী বা নির্মাণ করা জঘন্যতম পাপের

কাজ ও হারামও বটে| উক্ত কিতাবে আরও আছে, যদি

কেউ মূর্তি বা প্রাণীর ছবি পূজা বা সৃষ্টির অনুকরণের

জন্য নাও বানায়ে থাকে তবুও সে ফাসেক হবে এবং

কবীরাহ্ গুনাহে গুনাহগার হবে|”

✔ মিরকাত শরহে মিশকাত, ফতওয়ায়ে ছিদ্দীক্বিয়াহ

৩৭৯ পৃষ্ঠা, নাইলুল আওতার ২য় জিঃ ১০৫ পৃষ্ঠায়

উল্লেখ আছে-

ﻗﺎﻝ ﺍﺻﺤﺎﺑﻨﺎ ﻭ ﻏﻯﺮ ﻫﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺗﺼﻮﻯﺮ ﺻﻮﺭﺓ ﻟﻠﺤﻯﻮ ﺍﻥ ﺣﺮ

ﺍﻡ ﺷﺪﻯﺪ ﺍﻟﺘﺤﺮ ﻯﻢ ﻭ ﻫﻮ ﻣﻦ ﺍﻟﻜﺒﺎ ﺋﺮ

অর্থঃ “আমাদের মাশায়িখগণ ও উলামাগণ বলেছেন

যে, প্রাণীর ছবি তৈরী করা হারাম, এমনকি গুরুতর

হারাম ও কবীরাহ গুণাহ|”

✔ ফতওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ ১ম জিঃ ৭৪২ পৃষ্ঠায়

উল্লেখ আছে-

“আধুনিক যেকোন পদ্ধতিতে প্রাণীর ছবি তৈরী করা

বা তৈরী করানো, হাতে তৈরী করা বা তৈরী

করানোর মতোই হারাম ও নাজায়িয এবং প্রাণীর

ছবি রাখাও তদ্রুপ হারাম| উক্ত আমলকারী ব্যক্তি

ফাসিক এবং তাকে ইমাম নিযুক্ত করা হারাম এবং

তার পিছনে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী|”

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত

হলো, যে ব্যক্তি ছবি তোলে বা তোলায় সে চরম

পর্যায়ের ফাসিক| আর ফাসিকের পিছনে নামায

পড়া মাকরূহ তাহরীমী| উক্ত নামায দোহরায়ে পড়া

ওয়াজিব|

আর যে সকল হাফিজ, ক্বারী, মাওলানা, মুফতী,

মুহাদ্দিছ, ফক্বীহ, মুফাসসির, খতীব, পীর, দরবেশ

আমীর ছবি তোলাকে জায়িয বলে বা জায়িয মনে

করে ছবি তোলে তারা মুরতাদের অন্তুর্ভূক্ত| কারণ

শরীয়তের দৃষ্টিতে হারামকে হালাল ও হালালকে

হারাম বলা ও জানা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত| যেমন

এ প্রসঙ্গে আক্বাইদের কিতাবে উল্লেখ আছে-

“কোন গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল করা বা

বলা কুফরী|”

✔ দলীল- শরহে আক্বাঈদে নাসাফী|

আর যে কুফরী করে সে ঈমানদার থাকতে পারে না

বরং সে মুরতাদ হয়ে যায়| আর শরীয়তে মুরতাদের

ফায়সালা হলো- তার স্ত্রী তালাক হবে যদি বিয়ে

করে থাকে এবং এক্ষেত্রে পুনরায় তওবা না করে

বিয়ে না দোহরানো ব্যতীত তার স্ত্রীর সাথে বসবাস

করা বৈধ হবে না| আর এ অবস্থায় সন্তান হলে সে

সন্তানও অবৈধ হবে| হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে যদি হজ্জ

করে থাকে| সমস্ত নেক আমল বরবাদ হয়ে যাবে| তার

ওয়ারিশ সত্ত্ব বাতিল হবে| তাকে তিন দিন সময়

দেয়া হবে তওবা করার জন্য এবং যদি তওবা করে,

তবে ক্ষমা করা হবে| অন্যথায় তার একমাত্র শাস্তি

মৃত্যুদন্ড|

কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফে রয়েছে, তিন কারণে

মৃত্যুদন্ড দেয়া জায়িয| যথা-

১. ঈমান আনার পর কুফরী করলে অর্থাৎ মুরতাদ হলে|

২. ঐ ব্যভিচারী বা ব্যভিচারীনি যারা বিবাহিত বা

বিবাহিতা|

৩. যে অন্যায়ভাবে কাউকে ক্বতল করে তাকে|

আর মুরতাদ মারা যাবার পর যারা জানাযায় নামায

পড়ে বা পাড়ায় বা জানাযার নামাযে সাহায্য-

সহযোগিতা করে, তাদের সকলের উপরই মুরতাদের হুকুম

বর্তাবে এবং এ সকল মুরতাদ মরলে বা নিহত হলে

তাকে মুসলমানগণের কবরস্থানে দাফন করা যাবে না|

বরং তাকে কুকুররে ন্যায় একটি গর্তের মধ্যে পুঁতে

রাখতে হবে|

► শরীয়তের দৃষ্টিতে এদের তৃতীয় ফায়সালা হলো-

এরা চরম মুনাফিক, ধোঁকাবাজ ও প্রতারক| কারণ এরা

মুখে যা বলছে আমলে তার সম্পূর্ণ উল্টো| যা মূলতঃ

সুস্পষ্ট মুনাফিকী, ধোঁকাবাজী ও প্রতারণা| মহান

আল্লাহ্ পাক পবিত্র কালামে পাকে ইরশাদ করেন-

“নিশ্চয়ই মুনাফিকের স্থান হবে জাহান্নামের

নিম্নস্তরে|”

✔ সূরা নিসা/১৪৫

আর পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে-

ﻣﻦ ﻏﺶ ﻓﻠﻯﺲ ﻣﻨﺎ

অর্থাৎ “যে ধোঁকা দেয় বা প্রতারণা করে সে আমার

উম্মত নয়|”

► শরীয়তের দৃষ্টিতে এদের চতুর্থ ফায়সালা হলো-

পরকালে তারা কঠিন শাস্তির সম্মুখিন হবে| কেননা

অসংখ্য হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে যে, যারা

প্রাণীর ছবি তুলবে, তোলাবে, আঁকবে, আঁকাবে

তাদের সবচেয়ে বেশী এবং কঠিন শাস্তি দেয়া হবে|

যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ

হয়েছে-

ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﻻﻋﻤﺶ ﻋﻦ ﻣﺴﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻛﻨﺎ ﻣﻊ ﻣﺴﺮﻭﻕ ﻓﻰ ﺩﺍﺭ ﻳﺴﺎﺭ ﺑﻦ

ﻧﻤﻴﺮ ﻓﺮﺍﻯ ﻓﻰ ﺻﻔﺘﻪ ﺗﻤﺎﺛﻴﻞ ﻓﻘﺎﻝ ﺳﻤﻌﺖ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ ﺳﻤﻌﺖ

ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻥ ﺍﺷﺪ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻋﺬﺍﺑﺎ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ

ﺍﻟﻤﺼﻮﺭﻭﻥ .

অর্থঃ- “হযরত আ’মাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু

মুসলিম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণনা করেন,

তিনি বলেন, আমি মাসরুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা

আনহু এর সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইরের ঘরে ছিলাম,

তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন,

অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহর নিকট শুনেছি

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“নিশ্চয় মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ্ পাক

কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে

বা আঁকে|”

দলীল-

✔ পবিত্র বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃষ্ঠাঃ৮৮০|

ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﺍﺧﺒﺮﻩ ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ

ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﺍﻥ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻳﺼﻨﻌﻮﻥ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺼﻮﺭ ﻳﻌﺬﺑﻮﻥ

ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﻤﺔ ﻳﻘﺎﻝ ﻟﻬﻢ ﺍﺣﻴﻮﺍ ﻣﺎ ﺧﻠﻘﺘﻢ .

অর্থঃ- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত, নূরে মুজাস্সাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “যারা প্রাণীর ছবি

তৈরী করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের কঠিন শাস্তি

দেয়া হবে| এবং তাদেরকে বলা হবে, যে ছবিগুলো

তোমরা তৈরী করেছ, সেগুলোর মধ্যে প্রাণ দান কর|”

দলীল-

✔ পবিত্র বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ৮৮০,

✔ মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ২০১|

ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﻣﻌﺎﻭﻳﺔ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﺍﻥ ﻣﻦ ﺍﺷﺪ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﻳﻮﻡ

ﺍﻟﻘﻴﻤﺔ ﻋﺬﺍﺑﺎ ﺍﻟﻤﺼﻮﺭﻭﻥ .

অর্থঃ- হযরত আবূ মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা

আনহু উনার হতে বর্ণিত, “নিশ্চয় ক্বিয়ামতের দিন

দোযখবাসীদের মধ্যে ঐ ব্যক্তির কঠিন আজাব হবে,

যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি আঁকে বা তোলে|”

দলীল-

✔ মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২০১|

ﻋﻦ ﺳﻌﻴﺪ ﻗﺎﻝ ﺟﺎﺀ ﺭﺟﻞ ﺍﻟﻰ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻧﻰ ﺭﺟﻞ ﺍﺻﻮﺭ ﻫﺬﻩ

ﺍﻟﺼﻮﺭ ﻓﺎﻓﺘﻨﻰ ﻓﻴﻬﺎ ﻓﻘﺎﻝ ﻟﻪ ﺍﺩﻥ ﻣﻨﻰ ﻓﺪﻧﺎ ﻣﻨﻪ ﺛﻢ ﻗﺎﻝ ﺍﺩﻥ ﻣﻨﻰ

ﻓﺪﻧﺎ ﺣﺘﻰ ﻭﺿﻊ ﻳﺪﻩ ﻋﻠﻰ ﺭﺍﺳﻪ ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻧﺒﺌﻚ ﺑﻤﺎ ﺳﻤﻌﺖ ﻣﻦ ﺭﺳﻮﻝ

ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ

ﻳﻘﻮﻝ ﻛﻞ ﻣﺼﻮﺭ ﻓﻰ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﻳﺠﻌﻞ ﻟﻪ ﺑﻜﻞ ﺻﻮﺭﺓ ﺻﻮﺭﻫﺎ ﻧﻔﺴﺎ ﻓﻴﻌﺬﺑﻪ

ﻓﻰ ﺟﻬﻨﻢ ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻥ ﻛﻨﺖ ﻻ ﺑﺪ ﻓﺎ ﻋﻼ ﻓﺎﺻﻨﻊ ﺍﻟﺸﺠﺮ ﻭﻣﺎ ﻻ ﻧﻔﺲ ﻟﻪ .

অর্থঃ- হযরত সাঈদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন,

এক ব্যক্তি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা

আনহু উনার নিকট এসে বলল, আমি এমন এক ব্যক্তি যে

প্রাণীর ছবি অংকন করি, সুতরাং এ ব্যাপারে

আমাকে ফতওয়া দিন| হযরত ইবনে আব্বাস

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তাকে বললেন, তুমি

আমার নিকটবর্তী হও| সে ব্যক্তি উনার নিকটবর্তী হল|

পুণরায় বললেন, তুমি আরো নিকটবর্তী হও| সে আরো

নিকটবর্তী হলে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহু তার মাথায় হাত রেখে বললেন, আমি

নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনাকে এ ব্যাপারে যা বলতে শুনেছি

তোমাকে তা বলব| হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “প্রত্যেক

প্রাণীর ছবি তৈরীকারীই জাহান্নামে যাবে| এবং

মহান আল্লাহ্ পাক তিনি প্রত্যেকটি ছবিকে প্রাণ

দিবেন এবং সেই ছবি গুলো তাদেরকে জাহান্নামে

শাস্তি দিতে থাকবে|” এবং ইবনে আব্বাস

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, তোমার

যদি ছবি আঁকতেই হয় তবে, গাছ-পালা বা প্রাণহীন

বস্তুর ছবি আঁক|

দলীল-

✔ মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২০২|

ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻬﺎ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ

ﻗﺎﻝ ﺍﻥ ﺍﺷﺪ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻋﺬﺍﺑﺎ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﻤﺔ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻳﻀﺎﻫﻮﻥ ﺑﺨﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ .

অর্থঃ- উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত| হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,

“নিশ্চয় ক্বিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তির কঠিন শাস্তি

হবে, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির

সাদৃশ্য কোন প্রাণীর ছুরত তৈরী করবে|”

দলীল-

✔ মিশকাত পৃঃ ৩৮৫|

ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ

ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﺷﺪ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻋﺬﺍﺑﺎ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ

ﺍﻟﻤﺼﻮﺭﻭﻥ.

অর্থঃ- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুল

মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি- তিনি বলেছেন, মহান

আল্লাহ্ পাক তিনি ঐ ব্যক্তিকে কঠিন শাস্তি

দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে|

দলীল-

✔ মিশকাত শরীফ- ৩৮৫|

পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে, নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম যখন পবিত্র মি’রাজ শরীফে যান তখন এক

স্থানে দেখলেন কিছু হাফিজ, ক্বারী, মাওলানা,

মুফতী, মুহাদ্দিছ, ফক্বীহ, মুফাসসির, খতীব, পীর,

দরবেশ আমীর তাদের নাড়ি ভূড়ি বের হয়ে মাটিতে

পর আছে আর তারা তার চার দিকে চক্কর খাচ্ছে|

নূরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে জিবরীল

আলাইহিস সালাম! এরা কারা? এদের এ অবস্থা কেন?

জবাবে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম বলেন- ইয়া

রসূলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম! এরা ঐ সমস্ত হাফিজ, ক্বারী,

মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, ফক্বীহ, মুফাসসির,

খতীব, পীর, দরবেশ আমীর যারা মানুষকে উপদেশ দিত

অর্থাৎ ওয়াজ করতো কিন্তু নিজেরা তা আ’মল করতো

না, তাই তাদেরকে এ শাস্তি দেয়া হচ্ছে|

নাউযুবিল্লাহ্|

কাজেই যারা ছবি তোলাকে হারাম ফতওয়া দিয়েও

নিজেরা ছবি তুলছে পরকালে তাদের কঠিন শাস্তির

ব্যবস্থা রয়েছে|

Advertisements

অতীতে এবং বর্তমানে যে সকল মাওলানারা ছবি তোলা হারাম ফতওয়া দিয়েও ছবি তুলেছে এবং তুলছে তাদের তালিকাঃ – (২)

মওদুদী

জামাত ও রেজাখানী জামাত-এর মুরুব্বীদের কিতাব

থেকে ছবি তোলা হারাম সম্পর্কিত দলীল পেশ

করেছিলাম| এবার আমরা হাটহাজারীর মাসিক মুইনুল

ইসলাম পত্রিকা, শাইখুল হদস মাওলানা আজিজুল

হকের লিখিত কিতাব ও মুফতে কমিনীর পত্রিকায়

প্রকাশিত সাক্ষাতকার এবং চর্মনাইর পীর কর্তৃক ছবি

তোলা হারাম ফতওয়ার পত্রিকার রিপোর্ট পেশ

করবো|

►► অতীতে এবং বর্তমানে যে সকল মাওলানারা ছবি

তোলা হারাম ফতওয়া দিয়েও ছবি তুলেছে এবং

তুলছে তাদের তালিকাঃ – (২)

► ছবি সম্পর্কে হাটহাজারীর ফতওয়াঃ

✔ ‘মাসিক মুইনুল ইসলাম’-এর মে-২০০৮ ঈসায়ীর ‘শীর্ষ

প্রতিবেদনঃ কথিত ছবি তোলার শরয়ী বিধান’ শীর্ষক

নিবন্ধটি তুলে ধরা হলো-

সমস্যাঃ

আমরা দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে শুনে আসছি, মুফতী

সাহেবগণ ও বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম ছবি তোলাকে

নাজায়েয, হারাম ও কবীরা গুনাহ বলে আসছেন| ……..

কিন্তু গত কয়েক বছর থেকে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন

মাদ্রাসার বার্ষিক সম্মেলনে, ওয়াজ মাহফিলে,

জনসমাবেশে আলোচনা ও শ্রোতামণ্ডলীর ছবি তোলা

হচ্ছে|

যেমন, গত ১৪২৬ হিজরী সনে এদেশের একটি নামকরা

দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক সম্মেলনে

পবিত্র জুমার দিনে আল্লাহর ঘর মসজিদে জুমার

নামাজের উদ্দেশ্যে সমবেত মুসল্লিদের ভিডিও করা

হয়| উপস্থিত সবাই দেখা সত্ত্বেও কেউ তাতে বাধা

দেয়নি| তবে দ্বীনদার শ্রেণীর মধ্যে যারা ছবি

তোলা জায়েয বলে থাকেন তারা ব্যতীত অন্যান্য

উলামায়ে কেরাম পরবর্তীতে নিন্দা জানান| গত

১৪২৭ হিজরী সনে এদেশের এক প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী

দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতবার্ষিকী

মহাসম্মেলন ও দস্তারবন্দী মাহফিলে ছবি তোলা হয়|

…………. এমনিভাবে গত কয়েক বছর আগে এদেশের একটি

বড় মাদ্রাসায় বাংলা ও ইংরেজী বিভাগ কর্তৃক

আয়োজিত সেমিনারে ছবি তোলা হয়| এতে উপস্থিত

কোন কোন মুফতী ছাহেব নিজেদের ছবি তুলতে দেন|

আর আকাবিরগণ এতে বাধা প্রদান করেন এবং যে

ছাত্ররা এতে জড়িত ছিল তাদের কাছ থেকে

তাওবানামা নেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার

জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ করান| এছাড়া এ বছর অনুষ্ঠিত

এদেশের এক বড় মাদ্রাসার অর্ধশত বার্ষিকী

মহাসম্মেলন ও দস্তারবন্দী মাহফিলে ছবি তোলা হয়

এবং ভিডিও করা হয়| কিন্তু দুঃখের বিষয় কেউই

তাতে বাধা দেননি| এসব ঘটনাবলী দেখে আমাদের

মনে কিছু প্রশ্ন জেগেছে, যার জবাব পেতে চাই|

প্রশ্নঃ

মানুষের ছবি তোলা কি জায়েয? যদি জায়েয হয়

তাহলে সর্বঐক্যমতো সবার স্বাক্ষরসহ জায়েয হওয়ার

ফতোয়া চাই| আর যদি নাজায়েয বলে ফতোয়া দেয়া

হয়, তাহলে জানতে চাই প্রকাশ্যে, জনসম্মুখে

উলামায়ে কেরামের সামনে কেন নাজায়েয আমল হয়?

বিশেষ করে মাদ্রাসা সমূহের মুফতীবৃন্দ ও মুহতামিম

সাহেবদের অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য যে, তারা হয়তো এ

মাসআলার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিবেন, তা না হলে এ

মাসআলার উপর আমল করতে নিজেদের অপারগতা

প্রকাশ করবেন| যেন দেশী-বিদেশী মুসলমানদের মধ্যে

এ ভুল ধারণা না জন্মে যে, এদেশের উলামায়ে

কেরাম ছবি তোলাকে জায়েয মনে করেন|

মুফতী সাহেবের নিকট বিনীত নিবেদন, উক্ত সমস্যার

সমাধান দলীল সহকারে এবং দ্রুত জানালে কৃতজ্ঞ

থাকব|

-> বিনীত চট্টগাম শহরের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান

সমাধানঃ

ছবি আঁকা, ছবি তোলা বা ফটোগ্রাফিতে যেহেতু

আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিগুণের সাদৃশ্য অবলম্বনের

চেষ্টা ও ধৃষ্টতা প্রকাশ পায়, তাই ইসলামী শরীয়তে

এগুলোকে নাজায়েয বলে ঘোষণা করা হয়েছে|

এক্ষেত্রে ছবি হাতে আঁকা হোক বা ক্যামেরার

মাধ্যমে তোলা হোক, তা শরীয়তে নিষিদ্ধ ‘তাছবীর’

বলেই গণ্য হবে| পদ্ধতির ভিন্নতা তার প্রকৃতি বা

হুকুমের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে না| তবে এখানে

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছবির দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, জীবের

ছবি| সেটা মানুষেরই হোক বা অন্য কোনো প্রাণীর|

অর্থাৎ পশু পাখি, জীব জানোয়ার, সব ধরণের প্রাণীর

ছবিই নিষিদ্ধ ও হারাম| ………….. প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ

করতে হয়, কোনো কোনো মিসরী আলেম ক্যামেরায়

তোলা ছবিকে জায়িয বলেছেন| আবার তাদের মধ্যে

কেউ কেউ দেহের অর্ধাংশের ছবিকে জায়েয

বলেছেন| কিন্তু সেখানকার অন্যান্য উলামায়ে

কেরাম ও মুফতীবৃন্দ ছবি আঁকা ও ছবি তোলাকে

নাজায়েয বলে দৃঢ় মত ব্যক্ত করেছেন| এবং প্রথম

দু’পক্ষের মতকে অগ্রহণযোগ্য ও ভিত্তিহীন বলে

প্রত্যাখ্যান করেছেন| আর পাক-ভারত উপমহাদেশের

মুফতীবৃন্দ ও বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম ছবি আঁকা ও

ছবি তোলা শরীয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ ও হারাম বলে

ফতওয়া দিয়েছেন|

……………… কিন্তু মাদ্রাসার বার্ষিক সম্মেলন ও

তাফসীর মাহফিলে আলোচক ও শ্রোতাদের এবং

মসজিদের মুসল্লিদের ছবি তোলা শরয়ী প্রয়োজনের

আওতায় পড়ে না|

এমনিভাবে বিভিন্ন মাদ্রাসার হেফজখানা ও

এতিমখানার ছাত্র-শিক্ষকদের যে ছবি তোলা হয়

এবং ভিডিও করা হয় সে ক্ষেত্রেও একই কথা

প্রযোজ্য| কারণ, এসব ক্ষেত্রে ছবি তোলা হয় বা

ভিডিও করা হয় কোনো শরয়ী প্রয়োজন ছাড়াই, হয়তো

ফ্যাশনের জন্য, নয়তো চাঁদা আদায়ের লক্ষ্যে, তাই

তা নাজায়েয ও হারাম| যে সকল উলামায়ে কেরামের

সামনে ছবি তোলা হয় বা ভিডিও করা হয় তাদের

মধ্যে অধিকাংশ আলেমই এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ

ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে থাকেন| এরা তো

তাদের ঈমানী দায়িত্ব পালন করে দায়মুক্ত হয়ে যান|

এমনকি তাদের অজ্ঞাতসারে কিংবা অসম্মতি

সত্ত্বেও যদি ছবি তোলা হয়ে থাকে তাহলে তারা

গুনাহগার হবে না| বরং যে ব্যক্তি ক্যামেরা দিয়ে

ছবি তুলছে বা যারা নিজেদের ছবি তোলার কারণে

খুশি হয়েছে কিংবা তাতে সম্মতি প্রকাশ করেছে

তারা গুনাহগার হবে|

আর যে সকল উলামায়ে কেরামের সামনে ছবি তোলা

সত্ত্বেও তারা এর বিরোধিতা করেন না, তারা

মোটামুটি তিন শ্রেণীর| (১) যারা কাজটিকে ভাল

মনে করেন না, জায়েযও মনে করেন না| কিন্তু

অন্যায়কে অন্যায় বলার সৎ সাহসটুকু না থাকায় তারা

অনিচ্ছা সত্ত্বেও এ নাজায়েয কাজটিকে নীরবে

মেনে নিচ্ছে| এ শ্রেণীর উলামায়ে কেরামের

দায়িত্ব হচ্ছে, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা

প্রদানের অত্যাবশ্যকীয় দায়িত্বটি পালন করা|

মুসলিম শরীফের ঈমান অধ্যায়ে আছে, হযরত

রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ

করেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন অন্যায় কাজ

হতে দেখে, সে যেন তাতে হাতের দ্বারা বাধা

প্রদান করে| যদি তাতে সক্ষম না হয়, তাহলে যেন

যবান দ্বারা বাধা দেয়| আর যদি তাও না পারে

তাহলে সে যেন অন্তত সেই কাজকে ঘৃণা করে| আর

এটাই হচ্ছে ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর| এ হাদীছের

ব্যাখ্যায় মুসলিম শরীফের ভাষ্যকার আল্লামা নববী

(র.) বলেছেন, কেউ যদি অন্যায় কাজ হতে দেখার পরও

এ ধারণা করে তাতে বাধা না দেয় যে, বাধা দিয়ে

লাভ নেই, অন্যায়কারী তার অন্যায় কাজ চালিয়েই

যাবে, তারপরও সে সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজে

বাধা প্রদানের অত্যাবশ্যকীয় দায়িত্ব থেকে

দায়মুক্ত হতে পারবে না| বরং এক্ষেত্রে তার কর্তব্য

হচ্ছে, অন্যায় কাজে বাধা প্রদান করা, অন্যায়কারী

তার অন্যায় কাজ থেকে ফিরে আসুক বা না আসুক|

(মুসলিম শরীফ- ১/৬৯)

(২) এ শ্রেণীর উলামায়ে কেরামের মতে

সাংবাদিকদের ছবি তুলতে দিলে কিংবা টিভি

সাংবাদিকদের ছবি তুলতে দিলে কিংবা টিভি

সাংবাদিকদের ভিডিও করতে দিলে দ্বীনি সভা

সম্মেলন ও ওয়াজ মাহফিল ব্যাপক প্রচারণা পাবে|

এতে দ্বীনের দাওয়াতের কাজটি ব্যাপকভাবে

গতিশীল হবে| তাই ছবি তোলা নাজায়েয ও হারাম

হলেও দ্বীনি জরুরতের খাতিরে এসব ক্ষেত্রে জায়েয

বলে গণ্য হবে|

এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় এ শ্রেণীর

আলেমগণ হয়তো দ্বীনের মৌলিক নীতিমালা সম্পর্কে

অজ্ঞ| নয়তো তাদের এ কর্মকাণ্ড দ্বীনের প্রতি

শৈথিল্য প্রদর্শনের নামান্তর| ছবি তোলার

মাসআলার ক্ষেত্রে তাদের কথা বা কাজ দলীল হতে

পারে না| তাদের কর্তব্য হচ্ছে, ভালভাবে উসূলে

ফেক্বহ দেখা, নয়তো ফেক্বহ ও উসূলে ফেক্বহ

শাস্ত্রের বিজ্ঞ ফক্বীহগণের কাছ থেকে মাসআলা

বুঝে নেয়া| অন্যথায় তারা গুনাহ থেকে বাঁচতে

পারবেন না|

(৩) আরেক শ্রেণীর উলামায়ে কেরাম

বেপরোয়াভাবে ছবি তোলাকে জায়েয বলেন|

তাদের যুক্তি হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম-এর যুগে ক্যামেরা ছিল না| আর তিনি

ক্যামেরার ছবিকে নিষিদ্ধও করেননি| তাই দ্বীনি

সভা-সম্মেলন ও ওয়াজ-মাহফিলে ছবি তোলা ও

ভিডিও করা নাজায়িয নয়|

এ শ্রেণীর উলামায়ে কেরামের প্রতি অনুরোধ রইল,

তারা যেন নিজেদের মন ও প্রবৃত্তিকে মুফতী না

বানিয়ে সমকালীন বিজ্ঞ ফক্বীহ ও মুফতীগণের কাজ

থেকে মাসআলা ভালভাবে বুঝে নিয়ে আমল করেন|

আর যেন আল্লাহ্ পাককে ভয় করেন| জনগণের মাঝে

বিভ্রান্তিমূলক কথা বলে নিজেও গোমরাহ না হন,

অন্যদেরকেও গোমরাহ করার চেষ্টা না করেন| নয় তো

হাদীছ শরীফে ‘তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছে,

অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করেছে’ বলে যে হুঁশিয়ারী

উচ্চারণ করা হয়েছে, তার শিকার হবেন|

মোটকথা, কুরআন-হাদীছের আলোকে সাহাবায়ে

কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন, চার মাজহাবের

ইমামগণ ও হক্কানী উলামায়ে কেরাম ছবি তোলাকে

নাজায়েয, হারাম ও কবীরাহ গুনাহ বলেছেন| বিশেষ

করে হানাফী মাযহাবের উলামায়ে কেরাম এ

ব্যাপারে কঠোর মনোভাব পোষণ করেন| উপমহাদেশের

বড় বড় মাদ্রাসা ও ফতোয়া বিভাগের মুফতীবৃন্দ ছবি

তোলাকে নাজায়েয বলেই ফতোয়া দিয়েছেন|

আমাদের আকাবিরগণের মতও এটাই| তাই আমরাও এ

মাসআলার একই সমাধান দিচ্ছি|”

✔ তথ্যসূত্রঃ মাসিক মুহীনুল ইসলাম, মে/২০০৮

► ছবি সম্পর্কে মাওলানা আজীজুল হকের ফতওয়াঃ

✔ ৪৮ বাংলাবাজার হাছানিয়া লাইব্রেরী থেকে

১৯৯৯ সালে আগস্ট মাসে প্রকাশিত তথাকথিত শাইখুল

হাদীছ মাওলানা আজিজুল হক রচিত “কোরআন হতে

বিজ্ঞান” নামক কিতাবের ২৬০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ

রয়েছে,

“কারো কারো একথা বলা নিশ্চয়ই ভ্রান্ত যে, ফটো

চিত্র নয় বরং ছায়া ও প্রতিবিম্ব, যেমন, আয়না ও

পানি ইত্যাদিতে দেখা যায়| সুতরাং আয়নাতে

নিজেকে দেখা যেমন জায়িয, ফটোও ঠিক তেমনি

জায়েয| এর সুস্পষ্ট জাওয়াব হলো, প্রতিবিম্ব ততক্ষণ

পর্যন্ত থাকে, যে কোন উপায়ে বদ্ধমূল ও স্থায়ী করে

নেওয়া না হয়| যেমন পানি বা আয়নাতে যে

প্রতিবিম্ব দেখা দেয়, বিপরীত দিকে থেকে সরে

গেলে তা আর থাকে না| কিন্তু কোন ঔষধ বা

পাউডারের সাহায্যে যদি সেই প্রতিবিম্বকে স্থায়ী

করে দেওয়া হয়, তবে একেই চিত্র বলা হবে, এরই

নিষেধাজ্ঞা মুতাওয়াতির হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত

রয়েছে| পাখির আকৃতি বানানো প্রকৃতপক্ষে চিত্রই

এবং তা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের শরীয়তে

জায়েয ছিল, আমাদের শরীয়তে এর বৈধতা রহিত করা

হয়েছে|

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান শাইখুল হদছ

মাওলানা আজিজুল হকের মুখোমুখি হই ২৪ আগস্ট/৯৭|

তার আজিমপুরের বাসায় সকাল ৭:৩০ মিনিটে|

সাক্ষাতকারের শুরুতে আজীজুল হক্বের ছবি তুলতে

চাইলে তিনি নিষেধ করেন| বলেন, ইসলামী শরীয়তের

পরিপন্থী হারাম| কিন্তু ইত্তেফাকে তো ২২ আগস্টের

সমাবেশে আপনার ছবি ছাপা হয়েছে বলে তিনি

জানালেন, ছবি কখন তুলেছে আমি দেখিনি| দেখলে

তুলতে দিতাম না|

✔ তথ্যসূত্রঃ সাপ্তাহিক মুক্তিবার্তা ৩ সেপ্টেম্বর/

১৯৯৭

► ছবি সম্পর্কে চর্মনাইয়ের পীরের ফতওয়াঃ

গত ২৪শে নভেম্বর/২০০৪ ঈসায়ী তারিখে চর্মনাই

পীরের বরাতে এরূপ কথা দৈনিক ইত্তেফাকেও

এসেছে| তাতে বলা হয়েছে,

……………………… “জোহরের নামাযের পর বয়ানের মাধ্যমে

মাহফিলের সূচনা করে চরমোনাইর পীর সাহেব

………………….| এ সময় তিনি ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেন,

ইসলামে ছবি তোলা জায়িয নেই| রাজনৈতিক কারণে

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সংবাদকর্মীদের অনুরোধে ছবি

তুলতে বাধ্য হতে হয়|”

✔ তথ্যসূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক ২৪ নভেম্বর/২০০৪

ঈসায়ী

কিন্তু একই দিনে দৈনিক ভোরের কাগজের রিপোর্টে

তার হাক্বীক্বত ফাঁস হয়েছে| ভোরের কাগজে

‘অল্পকথা শীর্ষক’ রিপোর্ট হয়,

বরিশাল প্রতিনিধিঃ গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু

হওয়া চরমোনাই দরবার শরীফের তিন দিনব্যাপী

মাহফিলের ছবি তুলতে গেলে তাড়া খেয়েছেন

দৈনিক যুগান্তরের বরিশাল ব্যুরোর ফটো সাংবাদিক

কাজী মিরাজ| গতকাল আসরের আগে মাহফিলে বয়ান

করার সময় চরমোনাইর পীর ……………….. ইসলামে ফটো

তোলা সম্পূর্ণ নাজায়িয বলে ফতওয়া দেন| এরপর

পীরের অনুসারী মুজাহিদ বাহিনীর ক্যাডাররা ঐ

ফটো সাংবাদিককে ধাওয়া করলে পীর-পুত্রদের

সহযোগিতায় তিনি রক্ষা পান|

► ছবি সম্পর্কে মুফতী ফযলুল হক্ব আমিনীর ফতওয়াঃ

একইভাবে, একই পত্রিকার রিপোর্টার ছবি সম্পর্কে

প্রশ্ন করেন মুফতে আমিনীকেও| নিচে তা তুলে ধরা

হলো-

প্রশ্নঃ

তা হলে ছবি তোলা বা প্রতিকৃতি সৃষ্টি করাও কি

শরীয়তসম্মত?

আমিনীঃ

না, ছবি তোলা হারাম|

প্রশ্নঃ

আমি তো এই ক্যামেরা দিয়ে আপনার বেশ কয়েকটি

ছবি তুললাম|

আমিনীঃ

ছবি তোলা হারাম তা ঠিক| ছবি তোলা প্রয়োজন

মনে করি বলেই তা করতে দিলাম| তবে ছবি তোলা

হলে আমি তওবা করে নেই| প্রচারের জন্য ছবি তুলতে

দিলেও আমি তওবা করে নেই|

প্রশ্নঃ

প্রতিদিন তাহলে আপনাকে অনেকবার তওবা করতে

হয়| দিনে কতবার তওবা করেন?

আমিনীঃ

তা একশ’ বারতো হবে| (হাসতে হাসতে) তওবা করা

জায়িয| তওবা দোষের কিছু নয়|”……..

✔ তথ্যসূত্রঃ সাপ্তাহিক মুক্তিবার্তা, ৩ সেপ্টেম্বর,

‘৯৭

উল্লেখ্য, জীবদ্দশায় হদছ ও মুফতে কমিনীর এসব কথা

যে নিকৃষ্ট প্রতারণা ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে

না|

উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা দ্বারা সুস্পষ্ট ও

অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, অতীতে ও বর্তমানে

হক্বের দাবীদার অনেক মাওলানা, মুফতী, মুফাসসির,

মুহাদ্দিস, পীর, দরবেশ, আমীর, খতীব, ছবিকে হারাম

বলে ফতওয়া দেয়ার পরও শুধুমাত্র দুনিয়াবী স্বার্থে

নিজেরা ছবি তুলেছে ও তুলছে| তাহলে তাদেরকে কি

করে হক্ব বলা যেতে পারে? মূলতঃ তাদের নিজেদের

ফতওয়া মতেই তারা না হক্ব| কারণ যারা শরীয়তের

সুস্পষ্ট বিধানকে অমান্য করে তারা কস্মিনকালেও

হক্ব হতে পারে না|

অতীতে এবং বর্তমানে যে সকল মাওলানারা ছবি তোলা হারাম ফতওয়া দিয়েও ছবি তুলেছে এবং তুলছে তাদের তালিকাঃ – (১)

►► অতীতে এবং বর্তমানে যে সকল মাওলানারা ছবি

তোলা হারাম ফতওয়া দিয়েও ছবি তুলেছে এবং

তুলছে তাদের তালিকাঃ – (১)

ইসলামে বা শরীয়তের দৃষ্টিতে ছবি তোলা

সম্পূর্ণরূপে হারাম হওয়ার পরও আমাদের দেশের ও

দেশের বাইরের অনেক মাওলানা, মুফাসসির, মুফতি,

মাহাদ্দিস, ফক্বীহ, খতীব, আমীর, পীর, দরবেশ,

দাবীকারীরা ছবি তুলেছে এবং তুলছে|

আশ্চর্যের বিষয় হলো- নিজেদেরকে হক্কানী বলে

দাবীদার দেওবন্দী জামাত, মওদুদী জামাত ও

রেজাখানী জামাত-এর প্রায় প্রত্যেকেই ছবি তুলে

থাকে| অথচ তাদের মুরুব্বী ও তাদের ফতওয়া হচ্ছে

ছবি তোলা হারাম| অর্থাৎ তাদের মুরুব্বীরা এবং

তারা নিজেরা ছবি তোলাকে হারাম ফতওয়া দেয়ার

পরও তারা ছবি তুলছে| অবশ্য তাদের মধ্যে কেউ কেউ

পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনার

অপব্যাখ্যা করে ছবি তোলাকে জায়িয করারও

চেষ্টা করছে|

► ছবি সম্পর্কে দেওবন্দী মুরুব্বীদের ফতওয়াঃ

“আধুনিক যেকোন পদ্ধতিতে প্রাণীর ছবি তৈরী করা

বা তৈরী করানো, হাতে তৈরী করা বা তৈরী

করানোর মতোই হারাম ও নাজায়িয এবং প্রাণীর

ছবি রাখাও তদ্রুপ হারাম| উক্ত আমলকারী ব্যক্তি

ফাসিক এবং ইমাম নিযুক্ত করা হারাম| এবং তার

পিছনে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী|”

✒ (মূল ইবারত কমেন্ট বক্সে ১নং স্ক্রিন শর্ট দ্রষ্টব্য)

দলীল-

✔ ফতওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ ১ম জিঃ ৭৪২ পৃষ্ঠা|

“প্রাণীর ছবি তৈরী করা এবং তৈরী করানো

নাজায়িয এবং হারাম, চাই হাতে হোক অথবা অন্য

কোন পদ্ধতিতে হোক উভয়ের একই হুকুম অর্থাৎ উভয়ই

ছবি |”

✒ (মূল ইবারত কমেন্ট বক্সে ২নং স্ক্রিন শর্ট দ্রষ্টব্য)

দলীল-

✔ কিফায়াতুল মুফতী ৯ম জিঃ ২২৮ পৃষ্ঠা|

“ক্যামেরার দ্বারা প্রাণীর ছবি তোলা, বানানো,

আঁকা বা করানো এবং ওটার পেশাও নাজায়িয|

কেননা ক্যামেরার ছবিও উচ্চমানের পরিপূর্ণ ছবি|

তাই ছবির হুকুমসমূহ ওটার উপর বর্তাবে|”

✒ (মূল ইবারত কমেন্ট বক্সে ৩নং স্ক্রিন শর্ট দ্রষ্টব্য)

দলীল-

✔ কিফায়াতুল মুফতী ৯ম জিঃ ২৩৪ পৃষ্ঠা|

“কিছু লোকের ধারণা, হাদীছ শরীফে হাত দ্বারা

প্রাণীর ছবি তৈরী করা হারাম করা হয়েছে;

ক্যামেরার দ্বারা নয়| এটা তাদের ভুল এবং ভ্রান্ত

ধারণা| মূলতঃ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রাণীর ছবি

হারাম হওয়াই মূল উদ্দেশ্য ওটা যে পদ্ধতিতেই হোক

না কেন|”

✒ (মূল ইবারত কমেন্ট বক্সে ৪নং স্ক্রিন শর্ট দ্রষ্টব্য)

দলীল-

✔ তোহফায়ে খাওয়াতীন ৯১২ পৃষ্ঠা|

“কলম দ্বারা যেরূপ প্রাণীর ছবি তৈরী করা

নাজায়িয (ও হারাম) তদ্রুপ ক্যামেরা, প্রেস, ছাঁচ,

মেশিন ইত্যাদির দ্বারাও প্রাণীর ছবি তৈরী করা

নাজায়িয (ও হারাম) |”

✒ (মূল ইবারত কমেন্ট বক্সে ৫নং স্ক্রিন শর্ট দ্রষ্টব্য)

দলীল-

✔ জাদীদ মাসায়িল কে শরয়ী আহকাম ৪৪ পৃষ্ঠা|

► ‘ছবি তোলা হারাম’- এ ফতওয়া অবশেষে মেনে

নিলো ভারতের উলামায়ে দেওবন্দঃ

ছবি তোলাকে ‘হারাম’ মেনে নিয়েছে ভারতের

দেওবন্দ মাদরাসা| মাদরাসার উপাচার্য (মুহতামিম)

মুফতি আবদুল কাসিম নোমানি এই ফতওয়া মেনে নিয়ে

বলেছেন, ইসলাম কোনভাবে ভিডিও বা চিত্রধারণকে

স্বীকৃতি দেয় না|

সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে

টেলিফোনে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন,

“চিত্রধারণ সম্পূর্ণ অনৈসলামিক| পরিচয়পত্র বা

পাসপোর্টের প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে ছবি

তোলাকে ইসলাম বৈধতা দেয় না|” যদিও ইসলামে ছবি

তোলা হারাম সর্বক্ষেত্রেই| পরিচয়পত্র বা

পাসপোর্টের জন্য আলাদাভাবে ছবির কোন বৈধতা

পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে নেই|

সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে

টেলিফোনে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় মুফতি আবদুল

কাসিম নোমানি আরো বলেন,

“ছবি জায়িজ নেই, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে

এর বিরুদ্ধে শক্তভাবে সতর্ক করা হয়েছে|”

‘সউদী ওহাবী সরকার পবিত্র মক্কা শরীফ ও মদীনা

শরীফ উনাদের মধ্যে সারা বছর ধরে ক্যামেরার

মাধ্যমে সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার করছে’ এই বিষয়টি

সম্পর্কে তুলতে নোমানি বলেছেন: “তাদের এটা কে

করতে দিল? আমরা এটা সমর্থন করিনা| তারা (সউদী

ওহাবী সরকার) যা করে তাদের সব কাজ জায়িয নয়|”

‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম ল পার্সোনাল বোর্ড’ সদস্য

মুফতি আবুল ইরফান কাদরি রাজ্জাকি একই সাথে

বলেছেন, “পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রাণী ও

মানুষের ছবি তুলতে সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করা হয়েছে,

যে এটা করবে তাকে পরকালে মহান আল্লাহ পাক

উনার নিকট কঠিন জবাবদিহি করতে হবে|”

‘সউদী ওহাবী সরকার ছবি তুলছে’ এমন প্রশ্নের

জাওয়াবে রাজ্জাকি বলেছেন, “এটার কারণ তারা

আমাদের থেকে ধনী হতে পারে, কিন্তু এটার মানে

এই নয় যে, তারা সঠিক। যদি তারা ছবি তোলাকে

জায়িয করতে চায় তবে তাদেরকে অবশ্যই পরকালে

বিচারের দিনে মহান আল্লাহ পাক উনার কাঠগড়ায়

এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে|”

✔ তথ্য সূত্রঃ http://articles.timesofindia.indiatime

s.com/2013-09-11/india/41969729_1_deoband-issues-

darul-uloom-deoband-photography

► ছবি সম্পর্কে জামাতী মুরুব্বীদের ফতওয়াঃ

প্রশ্ন: আমাদের ফটোগ্রাফার বন্ধুর ধারণা, ইসলামে

‘তসবীর’ (চিত্র) সংক্রান্ত যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে,

তা ফটোর ব্যাপারে প্রযোজ্য নয়, বিশেষ করে

অশ্লীল দৃশ্যের ফটো যদি তোলা না হয়| এ

সীমারেখার প্রতি দৃষ্টি রেখে ফটোগ্রাফীকে পেশা

হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে কি? জাতীয় নেতৃবৃন্দ

এবং সভা সমিতির ফটো তোলাতে কোন দোষ আছে

কি?

মওদুদীর জবাব:

ফটো সম্পর্কে এই নীতিগত কথাটা বুঝে নেয়া দরকার

যে, সাধারণভাবে ইসলাম প্রাণসম্পন্ন জীবের ছবি

চিত্র সংরক্ষণকে প্রতিরোধ করতে চায়| কেননা মানব

ইতিহাসের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, এই ছবি

চিত্রই অধিকাংশ ফিতনা ও বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে|

যেহেতু সেটা সংরক্ষণ করাটাই ফিতনার মূল কারণ|

সেহেতু সেটা কোন পন্থায় সংরক্ষণ করা হবে সে

বিষয়ে আলোচনার কোন প্রশ্নই ওঠেনা পদ্ধতি যেটাই

হোক, সর্বাবস্থায় তা নাজায়েযই থাকবে|

কেননা সবগুলো পন্থাই মূল ফিতনা সৃষ্টির ক্ষেত্রে

সমভাবে কার্যকর| এ ব্যাপারে ফটোগ্রাফি এবং

চিত্রাঙ্কনের মধ্যে কোন পার্থক্য করা যেতে

পারেনা| আর নিষেধাজ্ঞা যেহেতু প্রাণীর ছবি

চিত্রের ক্ষেত্রে, এ জন্যে সর্বপ্রকার ছবি চিত্রই

হারাম| চাই তা অশ্লীল হোক কিংবা না হোক| অবশ্য

অশ্লীল ছবি চিত্র হারাম হওয়ার একটি অতিরিক্ত

কারণ রয়েছে| ………………………

…………………………… নেতৃবৃন্দ ও সভা মিছিলের ছবি চিত্র

কোনো অবস্থাতেই ‘বৈধ’ এবং ‘প্রকৃত প্রয়োজনের’

সংজ্ঞায় পড়েনা| বিশেষ করে নেতৃবৃন্দের ছবি তো

খোদার বান্দাদের সেই মহাবিপদের নিকটবর্তী করে

দেয়, যে কারণে ছবি চিত্রকে হারাম ঘোষণা করা

হয়েছে|

এই যে কংগ্রেসের সভায় গান্ধীর বায়ান্ন ফুট লম্বা

ছবি স্থাপন, রাশিয়া কর্তৃক পোল্যান্ড দখল করার পর

পোল্যান্ডের প্রতিটি জনপথে স্টালিনের চিত্র

স্থাপন, রাশিয়ার প্রতিটি স্থানে লোকদের মাথার

উপর স্টালিন এবং পলিট ব্যুরোর সদস্যদের ছবি

স্থাপন, জার্মান সৈনিকদের বুকে হিটলারের ছবি

লাগিয়ে রাখা এবং হাসপাতালে মৃত্যুর মুহূর্ত পর্যন্ত

সেই ছবি চোখে লাগিয়ে জীবন উৎসর্গ করা, সিনেমা

হলে ব্রিটিশ রাজ্যের ছবি উদিত হওয়া এবং সাথে

সাথে লোকদের দাঁড়িয়ে যাওয়া, শাসন কর্তৃত্বের

নিদর্শন স্বরূপ মুদ্রার গায়ে সম্রাটের চিত্র অংকন

করা, এসবই কী মূর্তি পূজার উৎসমূল নয়? ইসলাম

এজন্যেই ছবি চিত্র হারাম করেছে, যাতে করে

লোকদের মন মগজে আল্লাহ্ ছাড়া আর কারো

শ্রেষ্ঠত্বের চিত্র অঙ্কিত না হতে পারে|

আমি (মওদুদী) তো এজন্যে ছোট বাচ্চাদের ছবি

তোলাও অবৈধ মনে করি যে, ভবিষ্যতে হয়তো এদের

কাউকে খোদা বানিয়ে নেয়া হবে এবং এসব ছবিই

ফিতনার কারণ হয়ে বসবে| আজ পর্যন্ত শ্রীকৃষ্ণের

বাল্যচিত্রের পূজা চলছে|

সুতরাং আপনি আপনার বন্ধুকে জানিয়ে দিন যে,

শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে তার পেশা বৈধ নয়| তিনি

যদি খোদাকে ভয় করেন তবে যেনো ক্রমান্বয়ে এ

পেশা ত্যাগ করে অন্য কোন উপার্জন মাধ্যম গ্রহণ

করেন| আর তিনি যদি এ কাজেই করতে চান, তবে

যেনো এটাকে হালাল আখ্যায়িত করার চেষ্টা না

করেন|

অনৈতিক অধঃপতনের নিকৃষ্ট পর্যায় হলো, মানুষ যে

গুনাহের কাজে লিপ্ত থাকে, মিথ্যা ব্যাখ্যা

বিশ্লেষণ দ্বারা সেটাকে সঠিক ও বৈধ আখ্যায়িত

করে| এই গর্তে নিমজ্জিত হবার পর কোনো ব্যক্তির

সেখান থেকে উঠে আসার সম্ভাবনা থাকেনা|

► বিজ্ঞাপনের ছবিঃ

প্রশ্নঃ আজকাল বিজ্ঞাপনের ক্যালেণ্ডার

প্রভৃতিতে নারীদের ছবি ব্যবহারের ব্যাপক প্রচলন শুরু

হয়েছে| এছাড়া খ্যাতিমান ব্যক্তি এবং জাতীয়

নেতাদের ছবিও অনুরূপভাবে ব্যবহার করা হয়|

তাছাড়া বাণিজ্যিক জিনিসপত্রের ডিব্বা, বোতল

এবং প্যাকেটের উপরও অনুরূপ ছবি ব্যবহার করা হয়|

এরূপ বিভিন্ন প্রকার ছবির দাপট থেকে একজন

মুসলমান ব্যবসায়ী কিভাবে নিজেকে রক্ষা করতে

পারে?

মওদুদীর জবাবঃ

আপনি নিজে যদি কোন বিজ্ঞাপন কিংবা

ক্যালেণ্ডার ছাপেন তবে তা ছবি মুক্ত রাখবেন|

আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যদি ক্যালেণ্ডার

প্রভৃতি ব্যবহার করতে হয় তবে প্রথমত ছবি বিহীন

ব্যবহার করবেন, নতুবা ছবি ঢেকে রাখবেন কিংবা

মুছে ফেলবেন| কিন্তু ডিব্বা, বোতল এবং প্যাকেটের

ছবি তো সব আর আপনি মুছে ফেলতে পারবেন না|

বর্তমান ছবিপূজারী বিশ্ব তো কোন জিনিসকে ছবি

মুক্ত না রাখার ব্যাপারে কসম খেয়ে বসেছে| ডাক

টিকেট এবং মুদ্রার উপর পর্যন্ত ছবি ব্যবহার করা হয়|

এ সর্বগ্রাসী তাগুতী জীবন ব্যবস্থা নিজের

অপবিত্রতা ও নোংরামীকে শিকড় থেকে শাখা

প্রশাখা এমনকি পত্র পল্লব পর্যন্ত ছড়িয়ে দিচ্ছে|

বাস, নিজের সাধ্যের সীমা পর্যন্ত নিজে আত্মরক্ষা

করুন|”

দলীল-

✔ মওদুদীর লিখিত রাসায়েল ও মাসায়েল ২৩৩ পৃষ্ঠা|

► ছবি সম্পর্কে রেযাখানী মুরুব্বীর ফতওয়াঃ

✔ রেজভিয়া কিতাবের ১০ম খণ্ডের ৭১ পৃষ্ঠায়

উল্লেখ আছে,

“সাধারণভাবে প্রাণীর ছবি তৈরী করা হারাম

‘ছায়াযুক্ত’ হোক অথবা ‘ছায়াহীন’, হাতে হোক অথবা

ক্যামেরায়| সাইয়্যিদুল ইনস ওয়াল জিন হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময়

যামানায় ছায়াযুক্ত অর্থাৎ মুজাসসাম এবং ছায়াহীন

অর্থাৎ গায়রে মুজাসসাম উভয় প্রকার ছবিরই প্রচলন

ছিলো| আর হাদীছ শরীফে আমভাবে (সকল) ছবির

ব্যাপারেই নিষেধাজ্ঞা এসেছে এবং তা তৈরী

করার কারণে কঠিন শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে|

সুতরাং সকল প্রকার ছবিই নিষেধের আওতায় আসবে|

রাফিযী বা শিয়াদের কোন একটি দল ‘ছায়াহীন’ বা

‘শরীরবিহীন’ ছবিকে জায়িয বলে থাকে|”

নাউযুবিল্লাহ্!

✒ (মূল ইবারত কমেন্ট বক্সে ৬নং স্ক্রিন শর্ট দ্রষ্টব্য)

✔ রেজভীয়া কিতাবের ১০ খণ্ডে উল্লেখ আছে,

“আল্লামা শামী “রদ্দুল মুহতারে” উল্লেখ করেন যে,

প্রাণীর ছবি তৈরী করা নাজায়িয| কেননা এটা

স্রষ্টার সাদৃশ্যতা দাবী করার নামান্তর| অনুরূপ

“বাহরুর রায়িকে” উল্লেখ আছে যে, প্রাণীর ছবি

তৈরী করা প্রত্যেক অবস্থাতেই হারাম| কেননা এতে

স্রষ্টার সাদৃশ্যতা রয়েছে| …………… যেহেতু ছবি হারাম

হওয়ার কারণ হলো স্রষ্টার সাথে সাদৃশ্যতা| তাই

পার্থক্য করা যাবেনা (বরং সব ধরণের ছবিই হারাম)

সউদীসহ মুসলিম জাহানের অধিকাংশ রাজা-বাদশাহই ইহুদীদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে তাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে৷

►► সউদীসহ মুসলিম জাহানের অধিকাংশ রাজা-বাদশাহই ইহুদীদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে তাদের

এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেঃ

পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻯﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺻﻨﻔﺎﻥ ﻣﻦ ﺍﻣﺘﻰ ﺍﺫﺍ ﺻﻠﺤﻮﺍ ﺻﻠﺢ

ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻭﺍﺫﺍﻓﺴﺪﻭ ﺍﻓﺴﺪ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺍﻻﻣﺮ ﺍﺀﻭ ﺍﻟﻔﻘﻬﺎﺀ

অর্থঃ “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

আমার উম্মতের দুই প্রকার লোক তারা যদি

ইছলাহপ্রাপ্ত হয় তবে সকল মানুষই ইছলাহপ্রাপ্ত হবে|

আর তার যদি বিভ্রান্ত বা গুমরাহ হয় তবে অনেকেই

বিভ্রান্ত বা গোমরাহ হবে|”

পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

ﻋﻦ ﺯﻳﺎﺩ ﺑﻦ ﺣﺪﻳﺮ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﻟﻰ ﻋﻤﺮﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭ ﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ

ﻋﻨﻪ ﻫﻞ ﺗﻌﺮ ﻑ ﻣﺎ ﻳﻬﺪﻡ ﺍﻻ ﺳﻼﻡ ﻗﻠﺖ ﻻ ﻗﺎﻝ ﻳﻬﺪﻣﻪ ﺯﻟﺔ ﺍﻟﻌﺎﻟﻢ

ﻭﺟﺪ ﺍﻝ ﺍﻟﻤﻨﺎ ﻓﻖ ﺑﺎﻟﻜﺘﺎﺏ ﻭﺣﻜﻢ ﺍﻻﺋﻤﺔ ﺍﻟﻤﻀﻠﻴﻦ .

অর্থঃ “হযরত যিয়াদ ইবনে হুদাইর রহমতুল্লাহি

আলাইহি বলেন, হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহু আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইসলামের

ক্ষতি হয় কাদের মাধ্যমে আপনি কি জানেন? জবাবে

আমি বললাম না| তখন তিনি বলেন, ১. আলিমদের

পদস্খলন, ২. মুনাফিকদের কিতাব নিয়ে তর্ক-বিতর্ক, ৩.

গুমরাহ শাসকদের গুমরাহীমূলক আদেশ নির্দেশ| এই তিন

প্রকার লোক ইসলামের ক্ষতি করে থাকে|”

উল্লিখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা এটাই বুঝা

যাচ্ছে যে, দুই প্রকার লোক অর্থাৎ রাজা-বাদশা,

আমীর-উমারা ও আলিম-উলামা মহান আল্লাহ্ পাক না

করুন এরা যদি গুমরাহ বা বিভ্রান্ত হয়ে যায় তবে

এদের দ্বারাই ইসলামের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়|

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শক্র ইহুদীরা এটাকেই ইসলাম

ও মুসলমানদের ক্ষতিসাধনে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার

হিসেবে গ্রহণ করে সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করে| টাকা

আর ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে মুসলিম দেশগুলোর রাজা-

বাদশা বা প্রেসিডেন্ট প্রধান মন্ত্রীদেরকে তাদের

অনুগত করে নেয়| অথবা সুকৌশলে বা গণতন্ত্রের

মাধ্যমে তাদের পছন্দের লোককে ক্ষমতায় বসাচ্ছে|

আর তাদের মাধ্যমে একটার পর একটা পবিত্র কুরআন

শরীফ পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী আইন বা আমল

মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে| সাথে সাথে

মুসলমানদের ইসলাম ও আমল থেকে সরিয়ে দিচ্ছে|

অতএব বলার অপেক্ষই রাখেনা যে, বর্তমান সউদী

সরকারসহ মুসলিম দেশগুলোর সকল সরকারই ইহুদীদের

দ্বারা প্রতারিত হয়ে তাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ

করছে বা ইহুদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে| তার একটি

বাস্তব প্রমাণ হচ্ছে সউদী সরকার কর্তৃক চাঁদের

তারিখ ঘোষণা করা| সউদী সরকার কখনোই

সঠিকভাবে সঠিক সময়ে চাঁদ দেখে তারিখ ঘোষণা

করে না| বরং মনগড়াভাবে ইচ্ছাকৃত তারিখ ঘোষণা

করে| উদ্দেশ্য হলো মুসলমানের যে আমলগুলো চাঁদের

তারিখের সাথে সংশ্লিষ্ট সে আমলগুলো সঠিক

তারিখে যাতে না হয়| যেমন হজ্জ, রোযা, ঈদ, শবে

বরাত, শবে ক্বদর ইত্যাদি|

দেখা গেছে যে, ২৯শে জিলক্বদ চাঁদ দেখা গেল না|

কিন্তু সউদি সরকার ঠিকই পরের দিন ১লা জিলহজ্জ

ঘোষণা করলো, তাতে করে মুসলমানদের হজ্জ সঠিক

তারিখে না হওয়ার কারণে মুসলমানদের হজ্জের

সবগুলো আমলই বরবাদ হয়ে গেল| অর্থাৎ ইহুদীদের

এজেন্ট সউদী সরকার ইহুদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের

লক্ষ্যে অর্থাৎ মুসলমানদের একটি অন্যতম ফরয ইবাদত

হজ্জকে নষ্ট করে দেয়ার উদ্দেশ্যেই মনগড়াভাবে

প্রতিমাসে চাঁদের তারিখ ঘোষণা করে আসছে|

অথচ পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭ ﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ

ﺻﻮﻣﻮ ﺍ ﻟﺮﺅﻳﺘﻪ ﻭ ﺍﻓﻄﺮ ﻭ ﺍ ﻟﺮﺅﻳﺘﻪ ﻓﺎﻥ ﻏﻢ ﻋﻠﻴﻜﻢ ﻓﺎﻛﻤﻠﻮ ﺍ ﻋﺪﺓ

ﺷﻌﺒﺎﻥ ﺛﻼ ﺛﻴﻦ

অর্থঃ “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু

বর্ণনা করেন, আল্লাহ্ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

তোমরা চাঁদ দেখে রোযা শুরু কর এবং চাঁদ দেখে ঈদ

কর| আর যদি ২৯শে শা’বান চাঁদ দেখা না যায় তবে

শা’বান মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ কর|”

দলীল-

√ পবিত্র বুখারী শরীফ,

√ পবিত্র মুসলিম শরীফ|

সউদী ওহাবী সরকার পবিত্র হাদীছ শরীফ-এর

উপরোক্ত নির্দেশের কোনই তোয়াক্কা না করে ইহুদী

এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে| অর্থাৎ প্রতি

মাসে মনগড়াভাবে চাঁদের ঘোষণা দিয়ে মুসলমানদের

হজ্জ, রোযা, ঈদ, শবে বরাত, শবে ক্বদর, আশুরা, শবে

মি’রাজ, লাইলাতুর রগায়িব ও ঈদে মীলাদুন্ নবী

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসহ বহু মুবারক রাত

ও দিনের আমলসমূহ বরবাদ করে দিচ্ছে|

ঠিক অনুরূপভাবেই সউদী ওহাবী সরকার ইহদী এজেন্ডা

বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই পবিত্র মক্কা শরীফ ও

পবিত্র মদীনা শরীফসহ অনেক পবিত্র স্থানসমূহে

সি.সি টিভি স্থাপন করেছে| উদ্দেশ্য হচ্ছে

মুসলমানদেরকে হজ্জের সময় হারাম কাজ বা

নাফরমানীতে মশগুল করে দিয়ে মুসলমানদের হজ্জ নষ্ট

করে দেয়া ও গুণাহগার বানিয়ে জাহান্নামী করে

দেয়া|

কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে-

ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ

ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﺷﺪ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻋﺬﺍﺑﺎ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ

ﺍﻟﻤﺼﻮﺭﻭﻥ.

অর্থঃ- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুল

মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি- তিনি বলেছেন, মহান

আল্লাহ্ পাক তিনি ঐ ব্যক্তিকে কঠিন শাস্তি

দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে|

দলীল-

√ পবিত্র বুখারী,

√ পবিত্র মুসলিম শরীফ,

√ মিশকাত শরীফ- ৩৮৫|

অতএব, বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, সউদী সরকার

মূলতঃ ইহুদীদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে তাদের এজেন্ট

হিসেবে তাদের এজেন্ডাসমূহই একের পর এক

বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে| তাই পৃথিবীর সমস্ত

মুসলমানের উচিত এর প্রতিবাদে এগিয়ে আসা এবং

পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফসহ সকল

পবিত্র স্থানসমূহ থেকে সি.সি টিভি নামিয়ে ফেলতে

সউদী সরকারকে বাধ্য করা|

►► অবিলম্বে সারা বিশ্বের মুসলমানদের পবিত্র স্থান

মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ থেকে সি.সি টিভি

সরিয়ে ফেলা হোকঃ

পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফ সউদী

সরকারের একক সম্পদ নয়| বরং তা সারা বিশ্বের

মুসলমানদেরই পবিত্র স্থান| এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্

পাক ইরশাদ করেন-

ﺍﻥ ﺍﻭﻝ ﺑﻴﺖ ﻭ ﺿﻊ ﻟﻠﻨﺎﺱ ﻟﻠﺬﻯ ﺑﺒﻜﺔ ﻣﺒﺎ ﺭ ﻛﺎ ﻭ ﻫﺪﻯ ﻟﻠﻌﺎﻟﻤﻴﻦ

অর্থঃ “নিশ্চয়ই বাইতুল্লাহ্ বা কা’বা শরীফই হচ্ছে

সর্বপ্রথম ঘর যা মক্কা শরীফে অবস্থিত| এটি সারা

জাহানের মানুষের ইবাদতের জন্য তৈরী করা হয়েছে

এবং সারা জাহানের জন্য হিদায়েত ও বরকতময়|”

-সূরা আলে ইমরান/৯৬

আর পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ﻳﺎﻳﻬﺎ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻭ ﺿﻊ ﺑﻴﺖ ﺍﻟﻠﻪ

অর্থাৎ, “হে মানুষেরা নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক

তোমাদের সকলের জন্য বাইতুল্লাহ্ শরীফ স্থাপন

করেছেন|”

কাজেই, মুসলমানদের পবিত্র স্থানসমূহে মুসলমানদের

দাবি উপেক্ষ করে সি.সি টিভি স্থাপন করার কোন

অধিকার সউদী সরকারের নেই| তাই সউদী সরকারের

জন্য ফরয-ওয়াজিব হলো অবিলম্বে মুসলমানদের

পবিত্র স্থান মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ থেকে

হারাম সি.সি টিভি সরিয়ে ফেলা| নচেৎ

সারাবিশ্বের মুসলমানের ঈমানী বিস্ফোরণ ঘটলে

তার দায়-দায়িত্ব সউদী সরকারকেই বহন করতে হবে|