সলাতুত তাসবীহের নামায।

saiyidul ayyiad shareef.jpg 2

 

‘সলাতুত তাসবীহ’ নামাযের ফযীলতঃ
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন, একদা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার পিতা হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললেন, “হে আমার চাচা (হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)! আমি কী আপনাকে বলে দিব না, আমি কী আপনাকে দান করবো না, আমি কী আপনাকে বলবো না, আমি কী আপনার সাথে করবো না দশটি কাজ? অর্থাৎ শিক্ষা দিব না দশটি তাসবীহ? যখন আপনি তা আমল করবেন, আল্লাহ পাক প্রথম গুনাহ, শেষ গুনাহ, পুরাতন গুনাহ, নতুন গুনাহ, অনিচ্ছাকৃত গুনাহ, ইচ্ছাকৃত গুনাহ, ছোট গুনাহ, বড় গুনাহ, গোপন গুনাহ, প্রকাশ্য গুনাহ ইত্যাদি সকল গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন। আপনি ‘ছলাতুত তাসবীহ’ চার রাকায়াত নামায পড়বেন। যদি সম্ভব হয় তবে প্রতিদিন একবার এ নামায আপনি পড়বেন। যদি সম্ভব না হয় তাহলে সপ্তাহে একবার, তাও যদি সম্ভব না হয় তবে বৎসরে একবার, তাও যদি সম্ভব না হয় তবে জীবনে একবার এ নামায আপনি পড়বেন।” (আবূ দাউদ, ইবনে মাযাহ, বায়হাক্কী ফী দাওয়াতিল কবীর, তিরমিযী, মিশকাত শরীফ)

‘সালাতুত তাসবিহ’ নামাযের নিয়মঃ
উল্লেখ্য, ‘ছলাতুত তাসবীহ’ নামাযের নিয়ম সম্পর্কে কিতাবে দুটি মত উল্লেখ আছে। একটি হানাফী মাযহাব অনুযায়ী অপরটি শাফিয়ী মাযহাব অনুযায়ী। এখানে হানাফী মাযহাবের নিয়মটিই উল্লেখ করা হলো-
প্রথমতঃ এই বলে নিয়ত করবে যে, ‘আমি ছলাতুত তাসবীহ’-এর চার রাকায়াত সুন্নত নামায ক্বিবলামুখী হয়ে আদায় করছি।’
অতঃপর তাকবীরে তাহরীমা বলে হাত বেঁধে ছানা পাঠ করবে, ছানা পাঠ করে সূরা-ক্বিরায়াত পাঠ করার পূর্বে ১৫ বার নিম্নোক্ত তাসবীহ পাঠ করবে।
‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হাম্দুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’
অতঃপর সূরা ক্বিরায়াত পাঠ করে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে ১০ বার উক্ত তাসবীহ পাঠ করবে। রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবীহ পাঠ করার পর ১০ বার উক্ত তাসবীহ পাঠ করবে। রুকু থেকে উঠে সিজদায় যাওয়ার পূর্বে দাঁড়িয়ে ক্বওমার মধ্যে রব্বানা লাকাল হামদ পড়ার পর ১০ বার উক্ত তাসবীহ পাঠ করবে। অতঃপর সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পাঠ করে ১০ বার উক্ত তাসবীহ পাঠ করবে। সিজদা থেকে উঠে দ্বিতীয় সিজদায় যাওয়ার পূর্বে বসে অর্থাৎ জলছায় ১০বার উক্ত তাসবীহ পাঠ করবে। অতঃপর দ্বিতীয় সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পাঠ করে ১০ বার উক্ত তাসবীহ পাঠ করবে। এরূপভাবে প্রতি রাকায়াতে ৭৫ বার উক্ত তাসবীহ পাঠ করবে।
অতঃপর পরবর্তী রাকায়াতের জন্য দাঁড়াবে। দাঁড়িয়ে প্রথমে ১৫ বার উক্ত তাসবীহ পাঠ করবে। তারপর প্রথম রাকায়াতের মতোই উক্ত তাসবীহ আদায় করবে। অর্থাৎ চার রাকায়াত নামাযে মোট ৩০০ বার উক্ত তাসবীহ পাঠ করবে।

কতিপয় মাসয়ালাঃ
স্মরণীয়, ‘ছলাতুত তাসবীহ’ নামায আদায়কালীন হাতে তাসবীহ নিয়ে তাসবীহসমূহ গণনা করা মাকরূহ। আঙ্গুলি টিপে টিপে তাসবীহসমূহ গণনা করতে হবে।
কোনো স্থানে তাসবীহ পড়তে ভুলে গেলে পরবর্তী তাসবীহ পাঠের সময় তা আদায় করে নিতে হবে। তবে শর্ত হচ্ছে ক্বওমা (রুকু থেকে দাঁড়ানোকালে) ও জলসায় (দুই সিজদার মধ্যবর্তীকালে) উক্ত তাসবীহ আদায় করা যাবে না। যেমন, সূরা-ক্বিরায়াত পাঠের পূর্বে তাসবীহ ভুলে গেলে তা ক্বিরায়াতের পর আদায় করতে হবে। ক্বিরায়াতের পর তাসবীহ ভুলে গেলে রুকুতে আদায় করতে হবে। রুকুতে তাসবীহ ভুলে গেলে উক্ত তাসবীহ ক্বওমায় আদায় না করে প্রথম সিজদাতে গিয়ে আদায় করতে হবে। ক্বওমায় তাসবীহ ভুলে গেলে তাও প্রথম সিজদাতে গিয়ে আদায় করতে হবে। প্রথম সিজদাতে তাসবীহ ভুলে গেলে তা জলসায় আদায় না করে দ্বিতীয় সিজদাতে গিয়ে আদায় করতে হবে। জলসায় তাসবীহ ভুলে গেলে তাও দ্বিতীয় সিজদাতে গিয়ে আদায় করতে হবে। আর দ্বিতীয় সিজদাতে তাসবীহ ভুলে গেলে সূরা-ক্বিরায়াত পাঠ করার পূর্বে আদায় করে নিতে হবে। শেষ সিজদার তাসবীহ ভুলে গেলে সালাম ফিরানোর পূর্বে আদায় করে নিতে হবে আর ভুলে যাওয়া তাসবীহ প্রত্যেক স্থানে নির্ধারিত তাসবীহ পাঠ করার পর পাঠ করতে হবে।

Advertisements

নামাযে হাত বাঁধবেন কোথায়?

তাকবীরে তাহরীমার পর পুরুষ নাভীর নিচে আর মহিলা

বুকের বা সিনার উপর ডান হাতের ‘কর’ বাম হাতের করের উপর

স্থাপন করবে । পুরুষ কোন অবস্থায়ই সিনার উপর হাত বাঁধবে

না । কথিত আহলে-হাদীস সম্প্রদায় মহিলাদের ন্যায় সিনার উপর

হাত বেঁধে নামায পড়ে । ইমাম আযম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি , ইমাম সুফিয়ান সাওরী  রহমাতুল্লাহি আলাইহি

ও ইমাম ইসহাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি  প্রমুখ বলেন যে, পুরুষের জন্য নাভীর নিচে ও মহিলার জন্য বুকের উপর হাত বাঁধা সুন্নাত । এর খেলাফ করলে নামায মাকরুহ হবে । নিচে প্রমানাদি পেশ করা

হবেঃ

১) আবূ দাউদ শরীফে হাদীস বর্নিত হয়েছেঃ

হযরত আবূ ওয়াইল  রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার  হতে বর্নিত আছে, হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  বলেছেন, “নামাযের মধ্যে এক হাত অন্য হাতের উপর রেখে নাভীর নিচে স্থাপন করবে ।”

দলিল-আনোয়ারুল মুকাল্লেদিন, কৃত ই,ফা,বা পৃঃ ৫২

২) দারে কুতনী, বায়হাকী ও আবূ দাউদ গ্রন্থে উল্লেখ

আছেঃ

আল্লামা ইমাম নববী রহমাতুল্লাহি আলাইহি মুসলিম শরীফে ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন যে, হযরত আলী কাররমাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম  বলেছেনঃ” নামাযের মধ্যে নাভীর নিচে হাত স্থাপন করা সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত ।”

দলিল-আনোয়ারুল মুকাল্লেদিন, কৃত ই,ফা,বা পৃঃ ৫২

৩) হিদায়া গ্রন্থের ১ম খন্ডের ৮৬ পৃষ্ঠায় আছেঃ

নূরে মুজাসসাম,  হাবীবুল্লাহ  হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  সাল্লাম ইরশাদ  মুবারক করেছেনঃ” ডান হাত-বাম হাতের উপর রেখে নাভীর নিচে স্থাপন করা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত ।”

(দলিল-.হিদায়া, ১ম খন্ড, পৃঃ ৮৬)

৪) তিরমিযি শরীফে আছেঃ

হযরত কাবীসা ইবনে হলব  রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা হলব রদিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ননা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ নূরে মুজাসসাম,  হাবীবুল্লাহ  হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  সাল্লাম যখন আমাদের ইমামতি করতেন, তখন তিনি ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন ।

ইমাম তিরমিযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি  বলেন, সাহাবী, তাবেয়ী ও পরবর্তী যুগের আলিমগন এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন ।

তবে হাত রাখার ব্যাপারে আলিমগন মতভেদ করেছেন ।

যেমন কেউ কেউ উভয় হাত নাভীর উপর স্থাপন করার

অভিমত প্রকাশ করেছেন । আবার কেউ কেউ নাভীর নিচে

স্থাপন করার অভিমত দিয়েছেন । আলিমগনের নিকট এই উভয়

নিয়মের অবকাশ রয়েছেন ।

(দলিল-জামে তিরমিযী শরীফ, মুতারজম উর্দূ, পৃঃ ১৭০)

৫) ইমাম মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি  উনার কিতাবুল আছারে আছে নূরে মুজাসসাম,  হাবীবুল্লাহ  হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  সাল্লাম উনার নাভী মুবারক উনার নিচে বাম হাতের কব্জি উনার  উপর ডান হাতের তালু রাখতেন ।

(দলিল-তুহ্ফাতুল মু’মিনীন, কৃতঃ মাওঃ শামসুদ্দীন মোহনপুরী, পৃঃ ৭৮)

৬) সহীহ আবু দাউদে আছে, হযরত আলী কাররমাল্লহু ওয়াযহাহু আলাইহিস সালাম  বলেছেনঃ

নাভীর নিচে এক হাত অন্য হাতের উপর রাখা নামাজের সুন্নাত

(দলিল- আবূ দাউদ শরীফ, পৃঃ ১১১)

৭) আওজাযুল মাসালিক নামক কিতাবে উল্লেখ হয়েছঃ

হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার হতে বর্নিত, তিনি বলেনঃ তিনটি নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের  আখলাকী কাজ বা আদর্শ । যথাঃ

√ সূর্য অস্ত যাওয়ার পর পরই ইফতার

করা,

√ সাহরী দেরী করে খাওয়া,

√ নামাযের মধ্যে নাভীর নিচে ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে নামায আদায় করা ।

(দলিল- আওযাজুল মাসালিক, ১ম খন্ড, পৃঃ ১১৯)

৮) উক্ত কিতাবে আরো বর্নিত আছেঃ

হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু  বলেনঃ নাভির নিচে ডান হাতের পাঞ্জাকে বাম হাতের উপর রেখে নামায আদায় করা সঠিক নিয়ম

(দলিল- আওযাজুল মাসালিক, ১ম খন্ড, পৃঃ ১১৯)

৯) মুসনাদে ইবনে আবি শায়বা হাদীস গ্রন্থে লিখিত আছে

যে, হযরত ওয়াসেল রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  বলেনঃ আমি নূরে মুজাসসাম,  হাবীবুল্লাহ  হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  সাল্লাম  উনাকে নাভীর নিচে বাম হাতের উপর ডান হাত বাঁধতে দেখেছি ।

আল্লামা আবূ তাইয়েব মাদানী বলেছেন, মুসনাদে ইবনে

আবি শায়বার হাদিসটি সহিহ; সনদ অতি সহীহ্ । এটাই হানাফী

মাযহাবের দলিল ।

(দলিল- সাইফুল মুকছেদীন, মাওঃ মুহাব্বাতপুরী)

১০) হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার  হতে বর্নিত আছে-হযরত আলী কাররমাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম  বলেছেনঃ নামাযের মধ্যে হাত বাঁধা সুন্নাত এবং দুই হাত নাভী র নিচে স্থাপন করবে ।

(দলিল-রাযীন (হাদীস গ্রন্থ), পৃঃ ২১৬)

১১) সহীহ মুসলিমের টিকায় উল্লেখ হয়েছে যে,

ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার  প্রসিদ্ধ মতে ও অধিকাংশ আলিমের মতে দুই হাত বুকের নিচে নাভীর উপর রাখবে। ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি,হযরত  সুফিয়ান সাওরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ; হযরত ইসহাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও আবূ ইসহাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাদের  মতে নাভীর নিচে

দুই হাত রাখবে এবং হযরত আলী কাররমাল্লহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার  নিকট হতে দুই প্রকার

হাদীস বর্নিত হয়েছে । ইমাম আহমদ  রহমাতুল্লাহি আলাইহি এক মতে বলেন, বুকের নিচে নাভীর উপরে হাত বাঁধবে । আর এক মতে বলেন- নাভীর নিচে হাত বাঁধবে ।

উল্লেখ্য যে, পুরুষ লোকের হাত বাঁধবার ব্যবস্থা  হাদীস শরীফ ও সাহাবায়ে কিরাম  রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন উনাদের  পথ মত হতে প্রমানিত হয়েছে; কিন্তু স্ত্রীলোকের পক্ষে এতদ্সম্বন্ধে কোনই ব্যবস্থা হাদীসের দ্বারা সাব্যস্ত হয় নাই । কাজেই ইমাম আযম আবু হানিফা  রহমাতুল্লাহি আলাইহি  কিয়াসকরে বলেছেন যে, স্ত্রীলোকেরা নামাযে দুই হাত বুকের উপর বাঁধবে । এটাতে তাঁদের

পর্দা রক্ষা হবে- কাপড় খুলতে পারবে না ৷

(দলিল-তুহ্ফাতুল মু’মিনীন, কৃতঃ মাওঃ শামসুদ্দীন মোহনপুরী, পৃঃ

৭৯-৮০)

১২) উলুমুল হাদীস গ্রন্থে ইবনে ছালা লিখেছেনঃ

খোযায়মা ‘বুকের উপর হাত রাখা’ এই কথাটি অতিরিক্ত বর্ননা

করেছেন; কিন্তু সেটা প্রমানিত নয় ।

আকুদোল জওয়াহের গ্রন্থে বর্নিত আছে-

নূরে মুজাসসাম,  হাবীবুল্লাহ  হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  সাল্লাম উনি  নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখেছিলেন, এটাই

সহিহ্; কিন্তু ‘বুকের উপর হাত রাখা’ কথাটি সহিহ্ নয় ।

(দলিল- সাইফুল মুকাল্লেদীন, কৃতঃ মাওঃ ইব্রাহীম মুহাব্বাতপুরী, পৃঃ

১২৩)

উপরোক্ত দলীলসমূহের দ্বারা প্রতিভাত হল যে, ইমাম

আয’ম আবূ হানিফা  রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও উনার অনুসারীগনের নামাযে নাভীর নিচে হাত রাখার সিদ্ধান্ত খেয়াল-খুশী মত নয় বরং সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে । সুতরাং পুরুষগন বুকের উপর হাত নারেখে নাভীর নিচে হাত রেখে নামাজ পড়তে পারেন,

তজ্জন্য আল্লাহপাক আমাদের সকলকে তওফীক দান করুন ।

আমীন !

(দলিল-হানাফীদের কয়েকটি জরুরী মাসায়েল (লেখকঃ মাওলানা

মোঃ আবু বকর সিদ্দীক)

সহীহ হাদীসের নামে  মিথ্যাচারঃ

__________________________

তথাকথিত আহলে হাদীস তথা আহলে খবিশরা বুকে হাত বাঁধা

প্রমান করতে যে হাদিস উল্লেখ করেন তা হলো-

“হযরত সাহল ইবনে সাদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্নিত। তিনি বলেন নামাজে লোকদেরকে ডান হাত বাম হাতের বাহুর উপর স্থাপন করার নির্দেশ দেয়া হত।”(বুখারী-১ম খণ্ড)

পাঠকগণ ভালো করে খেয়াল করুন এই হাদীস কোনভাবেই

হাত বুকের উপর বাধার সামান্যতম প্রমান নেই।

এরপর  তারা একটি মুনকার হাদীস পেশ করে থাকে ।

হাদীসটি হল –

ওয়াইল বিন হুজর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, “আমি নূরে মুজাসসাম,  হাবীবুল্লাহ  হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  সাল্লাম  উনার সাথে সালাত আদায় করেছি। (আমি দেখেছি) নূরে মুজাসসাম,  হাবীবুল্লাহ  হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  সাল্লাম স্বীয় ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর রাখলেন।”

দলিল হিসেবে তারা

১৷বুখারী শরীফ বলে থাকে কিন্তু হাদীসটি বুখারী শরীফে নেই। যে কেউচাইলে পুরাতন আরবী বুখারী শরীফ খুলে দেখুন। বরং ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি  এই হাদীসের রাবী মুয়াম্মেল ইবন ইসমাঈলকে মুনকারুল হাদীস বলেছেন ৷ অতএব ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার  মত অনুযায়ী হাদীসটি মুনকার। এবং আল্লাম ইবনুল কায়্যিম যিনি ইমাম ইবনে তাইমিয়া(যাকে ওহাবীরা সব থেকে বেশী মান্যগণ্য করে) এর শিষ্য তিনি ইলামুল মুয়াককিয়ীন গ্রন্থে বলেছেন বুকের উপর হাত বাধার কথাটুকু মুয়াম্মেল ইবন ইসমাঈল নামক রাবীর নিজস্ব বৃদ্ধি।

অতএব আল্লামা ইবনুল কায়্যিমের মত অনুযায়ী হাদীসটি মাউযু (বানোয়াট)। অতএব এই হাদীসটি মাউযু(বানোয়াট) কমপক্ষে মুনকার।তাছাড়া সুফইয়ান সাউরীর অন্যান্য শিষ্যরা তাদের বর্নিত

হাদীসে এই অংশটি উল্লেখ করেননি।

২.মুসলিম শরীফ । মুসলিম শরীফের এ বিষয়ে হাদীস আছে কিন্তু

তাতে বুকের উপর কথাটি নেই। যে কেউ ইচ্ছা করলে পুরাতন আরবী মুসলিম শারীফ খুলে নিজে দেখে নিতে পারেন।

তাহলে বুখারী এবং মুসলিমের রেফারেন্স কেন দেয়া হল ???

তাদের অন্যতম প্রধান নেতা আলবানী যে তার জীবদ্দশায় বলে গেছে সহীহ হাদীস খালি বুখারী ও মুসলিম শারীফে আছে! হাদীসের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়েআরও বলেছিল পুরুষ ও মহিলাদের নামায পড়ার নিয়ম এক! এগুলোকে সত্য প্রমাণ করার জন্য ???

৩. আত তিরমীযি। তিরমিযী শরীফে হাত বাধার বিষয়ে বর্নিত

হাদীসটি হল :  হযরত কুতায়বা রহমাতুল্লাহি আলাইহি ……. কাবীসা ইবন হুলব তার পিতা হুলব বিস্তারিত পড়ুন

সহি হাদিসের আলোকে হাত কোথায় বাধতে হবে

সহিহ হাদিসের আলোকে হাত

কোথায় বাধতে হবেঃ

ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার  মতে নাভির নিচে হাত বাধা সুন্নাত।ইমাম শাফেয়ি রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার  মতে নাভীর উপরে বুকের

নিচে হাত রাখা সুন্নাত এবং এটাই তার বিশুদ্বতম মত।

ইমাম মালীক রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে হাত না বেধে ছেড়ে দেয়া

সুন্নাত। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার  মতে নাভীর উপরে বা নিচে যে কোন এক জায়গায় রাখলে সুন্নাত

আদায় হয়ে যাবে।।আলবানী মাজহাব অনুসারে হাত

বাধতে হবে বুকের ঊপরে,উপমহাদেশে এরা আহলে

হাদিস নামে পরিচিত আর আরবে মাদখালি নামে

পরিচিত

হাত বাধা সংক্রান্ত হাদিসগুলিঃ

হাত কোথায় বাধতে হবে সুস্পষ্টভাবে কোন হাদিস

বুখারী-মুসলিমে নেই। যা আছে ত হল কোন হাতের

উপরে কোন হাত রাখতে হবে কতখানি রখতে হবে।

আহলে হাদীছ গংএরা বুখারী শরিফের নামে

মানুষদেরকে ধোঁকা দিয়ে থাকে।চলুন হাদিসগুলি

দেখে নেই তাহলে আমাদের বুঝতে সুবিধা হবে।

ﻋﻦ ﺍﺑﻲ ﺣﺎﺯﻡ ﻋﻦ ﺳﻬﻞ ﺑﻦ ﺳﻌﺪ ‏( ﺭﺽ‏) ﻗﺎﻝ ﻛﺎﻥ ﻧﺎﺱ ﻳﻮﻣﺮﻭﻥ ﺍﻥ

ﻳﻀﻊ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺍﻟﻴﺪ ﺍﻟﻴﻤﻨﻲ ﻋﻠﻲ ﺫﺭﺍﻋﻪ ﺍﻟﻴﺴﺮﻱ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻮ

ﺣﺎﺯﻡ ﻻ ﺃﻋﻠﻤﻪ ﺃﻻ ﻳﻨﻤﻲ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻲ

ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ

হযরত সাহল ইবনে সাদ রদিয়াল্লাহু আনহু  বলেন, বিস্তারিত পড়ুন