সহীহ হাদীস শরীফ থেকে প্রমান :আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার “নূর” মুবারক সৃষ্টি করেছেন অর্থাৎ তিনি নূরে মুজাসসাম তথা আপাদমস্তক নূরের তৈরি

 

হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি “নূরে মুজাসসাম”। মহান আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম উনাকে সবকিছু সৃষ্টির পূর্বে নূর হিসাবে সৃষ্টি করেছেন।
আমরা সহীহ হাদীস শরীফ থেকে প্রমান করে দেখাবো আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার “নূর” মুবারক সৃষ্টি করেছেন।
আমাদের প্রিয় নবীজী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূর এ মুজাস্সাম। সর্ব প্রথম আল্লাহ পাক উনার নূর মুবারক সৃষ্টি করেন।
এ প্রসঙ্গে সহীহ হাদীস শরীফে বর্নিত আছে। হাদীস শরীফখানা বর্ননা করেন ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের উস্তাদের উস্তাদ। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উস্তাদ,ইমামে আযম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ছাত্র, বিখ্যাত মুহাদ্দিস ,তাবে তাবেয়ী, হাফিজে হাদীস, আল্লামা আব্দুর রাজ্জাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত হাদীস শরীফ গ্রন্থ”মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক” ১ম খন্ড ৯৯ পৃষ্ঠায় ১৮ নং হাদীস শরীফে।
ইমাম হযরত আব্দুর রাজ্জাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি উক্ত হাদীস শরীফ বর্ননা করেন হযরত মা’মার বিন রশীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে,তিনি বর্ননা করেন মুহম্মদ বিন মুনকদার রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে,তিনি বর্ণনা করেন বিখ্যাত ছাহাবী জাবির বিন আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে।

Musannaf Abur Razzaq

c3eab-musannafabdurrazzaqh
(আল জুয আল মাফকাদ মিন আল জুয আল আওয়াল মিন আল মুসান্নাফ আব্দদুর রাযযাক, দারুল মুহাদ্দিস,রিয়াদ,সউদি আরব)
হাদীস শরীফ-
حضرت جابر بن عبد اﷲ رضی اﷲ عنہما سے مروی ہے فرمایا کہ میں نے بارگاہِ رسالت مآب صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم میں عرض کیا : یا رسول اﷲ! میرے ماں باپ آپ پر قربان! مجھے بتائیں کہ اﷲ تعالیٰ نے سب سے پہلے کس چیز کو پیدا کیا؟ حضور نبی اکرم صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم نے فرمایا : اے جابر! بے شک اﷲ تعالیٰ نے تمام مخلوق (کو پیدا کرنے) سے پہلے تیرے نبی کا نور اپنے نور (کے فیض ) سے پیدا فرمایا، یہ نور اللہ تعالیٰ کی مشیت سے جہاں اس نے چاہا سیر کرتا رہا۔ اس وقت نہ لوح تھی نہ قلم، نہ جنت تھی نہ دوزخ، نہ (کوئی) فرشتہ تھا نہ آسمان تھا نہ زمین، نہ سورج تھا نہ چاند، نہ جن تھے اور نہ انسان، جب اﷲ تعالیٰ نے ارادہ فرمایا کہ مخلوق کو پیدا کرے تو اس نے اس نور کو چار حصوں میں تقسیم کر دیا۔ پہلے حصہ سے قلم بنایا، دوسرے حصہ سے لوح اور تیسرے حصہ سے عرش بنایا۔ پھر چوتھے حصہ کو (مزید) چار حصوں میں تقسیم کیا تو پہلے حصہ سے عرش اٹھانے والے فرشتے بنائے اور دوسرے حصہ سے کرسی اور تیسرے حصہ سے باقی فرشتے پیدا کئے۔ پھر چوتھے حصہ کو مزید چار حصوں میں تقسیم کیا تو پہلے حصہ سے آسمان بنائے، دوسرے حصہ سے زمین اور تیسرے حصہ سے جنت اور دوزخ بنائی۔ ۔ ۔ یہ طویل حدیث ہے۔

অর্থ: হযরত জাবের রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, তিনি বলেন,আমি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললাম,ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা মাতা আপনার জন্য কুরবানি হোক, আপনি আমাকে জানিয়ে দিন যে, আল্লাহ পাক সর্ব প্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেছেন? তিনি বলেন, হে জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু! নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক সর্ব প্রথম সব কিছুর পূর্বে আপনার নবীর নূর মুবারক সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর সেই নূর মুবারক আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা অনুযায়ী কুদরতের মাঝে ঘুরছিলো।আর সে সময় লওহো, ক্বলম, জান্নাত, জাহান্নাম, ফেরেশতা, আসমান, জমিন, চন্দ্র, সূর্য, মানুষ ও জ্বিন কিছুই ছিলো না। ”
দলীল সমুহ —
(১) মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক ১/৯৯, হাদীস ১৮
(২) দালায়েলুন নবুওয়াত ১৩/৬৩
(৩) মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া ১/৯
(৪) মাদারেজুন নবুওয়াত ২/২
(৫) যুরকানী ১/৪৬
(৬) রুহুল মায়ানী ১৭/১০৫
(৭) সিরাতে হলবীয়া ১/৩০
(৮) মাতালেউল মাসাররাত ২৬৫ পৃ
(৯) ফতোয়ায়ে হাদীসিয়া ১৮৯ পৃ
(১০) নি’ মাতুল কুবরা ২ পৃ
(১১) হাদ্বীকায়ে নদীয়া ২/৩৭৫
(১২) দাইলামী শরীফ ২/১৯১
(১৩) মকতুবাত শরীফ ৩ খন্ড ১০০ নং মকতুব
(১৪) মওজুয়াতুল কবীর ৮৩ পৃ
(১৫) ইনছানুল উয়ুন ১/২৯
(১৬) নূরে মুহম্মদী ৪৭ পৃ
(১৭) আল আনোয়ার ফি মাওলিদিন নবী ৫ পৃ
(১৮) আফদ্বালুল ক্বোরা
(১৯) তারীখুল খমীস ১/২০
(২০) নুজহাতুল মাজালিস ১ খন্ড
(২১) দুররুল মুনাজ্জাম ৩২ পৃ
(২২) কাশফুল খফা ১/৩১১
(২৩) তারিখ আননূর ১/৮
(২৪) আনোয়ারে মুহম্মদীয়া ১/৭৮
(২৫) আল মাওয়ারিদে রাবী ফী মাওলীদিন নবী ৪০ পৃষ্ঠা ।
(২৬) তাওয়ারীখে মুহম্মদ
(২৭) আনফাসে রহীমিয়া
(২৮) মা’ য়ারিফে মুহম্মদী
(২৯) মজমুয়ায়ে ফতোয়া ২/২৬০
(৩০) নশরুতত্বীব ৫ পৃ
(৩১) আপকা মাসায়েল আওর উনকা হাল ৩/৮৩
(৩২) শিহাবুছ ছাকিব ৫০
(৩৩) মুনছিবে ইছমত ১৬ পৃ
(৩৪) রেসালায়ে নূর ২ পৃ
(৩৫) হাদীয়াতুল মাহদী ৫৬পৃ
(৩৬) দেওবন্দী আজিজুল হক অনুবাদ কৃত বুখারী শরীফ ৫/৩
আমাদের সমাজের অনেক দেওবন্দী/ খারেজী/ওহাবী/লা মাযহাবী/ তাবলীগি ইত্যাদি বাতিল ফির্কা এই হাদীস শরীফকে নিজেদের সার্থ চরিতার্থ করার জন্য জাল/দুর্বল বলে থাক। আসুন আমরা সত্যতার মাপকাঠিতে হাদীস শরীফটির সনদ যাচাই করে দেখি। যিনি এ হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন তিনি হচ্ছেন হাফিজে হাদীস,ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি হলেন মুসলিম উম্মাহের সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দীস ইমাম বুখারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এর দাদা উস্তাদ। যদি বিতর্কের খাতিরে ধরেই নেই আব্দুর রাজ্জাক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর কিতাবে দুর্বল হাদীস উল্লেখ করেছেন তাহলে বলতে হয় বুখারী শারীফেও দুর্বল হাদীস আছে যেহেতু ইমাম বুখারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান লাভ করেছেন আব্দুর রাজ্জাক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এর কাছ থেকে। কিন্তু বুখারী শারীফে দুর্বল হাদীস আছে সেটা কেউই বলেন না। তাই “হাদীসটি দুর্বল/জাল” কথাটি ভুল প্রমাণীত হল।
সম্পূর্ন নূর বিষয়ক হাদীস শরীফ(আরবিতে)
১/৪

b1b95-n1

২/৪

65eaf-n2

৩/৪
7ba0d-n3
৪/৪

01aeb-n4

হাদীসের সনদটি নিম্নরূপ :
হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু

মুহাম্মাদ বিন মুঙ্কদার রাহমাতুল্লাহি আলাইহি

মা’মার বিন রাশীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি

আব্দুর রাজ্জাক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি।
সুবহানাল্লাহ্ !!!

এবার দেখা যাক বর্নিত হাদীস শরীফ উনার রাবীদের সম্পর্কে মুহাদ্দীগণের মন্তব্য :

হাফিজে হাদীস,তাবে তাবেয়ীন ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি :

e959f-3
আহমাদ ইবন সালীহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আমি একবার আহমাদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি হাদীস শাস্ত্রে আব্দুর রাজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে নির্ভরযোগ্য আর কাউকে পেয়েছেন? আহমাদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, না”।
দলীল-
√ তাহজিবুত তাহজিব লি হাফিয ইবনে হাজর আসক্বলানী ২/৩৩১

96667-1
ইয়াহিয়াহ বিন মাইন রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,যদি ইমাম আব্দুর রাযযাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি মুরতাদ ও হন(মাআজাল্লাহ) তবুও উনার থেকে হাদীস নেয়া বাদ দেওা যাবে না (মানে নিতেই হবে)
√তাহজিবুত তাহজিব ৬/৩১৪
√মিজানুল ইতিদাল ২/৬১২

 

20e57-2

√ তাহজিবুত তাহজিব লি হাফিয ইবনে হাজর আসক্বলানী,৩৫৪

84eb1-5

ইমাম আবু যারদাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,ইমাম আব্দুর রাযযাক রহ্মাতুল্লাহি আলাইহি নির্ভরযোগ্য।
√ তাহজিবুত তাহজিব লি হাফিয ইবনে হাজর আসক্বলানী,৬/৩১১
হাদীস শরীফ উনার অপর রাবী মা’মার বিন রাশীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি :

উনার সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি বসরার সকল হাদীস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞের থেকে মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাকে মা’মার বিন রাশীদ এর সূত্রে পাওয়া হাদীসগুলো পছন্দ করি। ইবন হাজর আসকলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে প্রখর স্বরনশক্তি সম্পন্নএবং নির্ভরযোগ্য বলেন।
দলীল-
√তাহজিবুত তাহজিব ১/৫০৫
√ আসমাউর রেজাল।

উক্ত মা’মার বিন রাশীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সূত্রে বর্ণিত বুখারী শারীফের হাদীস সংখ্যা প্রায় ২২৫ এবং মুসলিম শারীফে বর্ণিত হাদীস সংখ্যা প্রায় ৩০০ টি।সুবহানাল্লাহ্ !
ইমাম ইবনে সাদ বলেছেন, মা’মার বিন রাশীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ইমাম হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার জানাজায় সামিল ছিলেন।আর উনার সম্মপর্কে ইমাম আব্দুল্লাহ বিন মুবারক ও ইমাম আব্দুর রাযযাক রহমাতুল্লাহি আলাইহিম বলেন,তিনি ফক্বীহ,মুত্তাকি ও হাফিয ছিলেন।

(থিক্বাত, ৭ম খন্ড,রাবী নাং ১১০৭০)

 

 

Imam Ibn e Hajr ‘Asqalni nain farmaya k Ma’mar bin Rashid thiqah thabat faazal hain.

(তাকরীব আত তাহজীব ২/২০২)
৩।মুহম্মদ বিন মুঙ্কাদার রহমাতুল্লাহি আলাইহিঃ
ইমাম হুমায়দি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মুনকদার রহমতুল্লাহি আলাইহি একজন হাফিজ,ইমাম জারাহ তাদীলের ইমাম ইবন মা’ঈন রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উনি নির্ভরযোগ্য।

fa7fe-1

দলীল-
√ তাহজিবুত তাহজিব ০৯/১১০৪৮
√ আসমাউর রেজাল ।

হযরত মুনকদার রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা বুখারী শারীফে ৩০টি এবং মুসলিম শারীফে ২২টি।সুবহানাল্লাহ্ !!

আর মূল বর্ননাকারী হলেন হযরত জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একজন সুপ্রসিদ্ধ সাহাবী। বুখারী ও মুসলিম শারীফের উনার থেকে বর্ণিত অনেক হাদীস আছে। সুতরাং বুঝা গেল। হাদীসটির সকল রাবীই নির্ভরযোগ্য এবং উনাদের সূত্রে বুখারী ও মুসলিম শারীফেও হাদীস বর্ণিত আছে। সুতরাং বলা যায়, ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উভয়ের হাদীস শর্তানুসারে হাদীসটি সহীহ।সুবহানাল্লাহ্ !!

আলহামদুলিল্লাহ ! আমরা পরিস্কার এবং বিশুদ্ধ সনদের মাধ্যমে হাদীস শরীফটির গ্রহনযোগ্যতা জানতে পারলাম।এবার আসুন আমরা দেখি উক্ত হাদীস শরীফ সম্পর্কে মুহাদ্দিস এবং হাদীস শরীফ বিশারদগন কি বলেছেন।
বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস, যিনি এই উপমহাদেশে হাদীস শরীফের ব্যাপক প্রচার প্রসার করেছেন, সু দীর্ঘ সময় মদীনা শরীফে যিনি ইলিমচর্চা করেছেন। যিনি প্রতিদিন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাক্ষাত লাভ করতেন, ইমামুল মুহাদ্দিসীন শায়েখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উক্ত হাদীসে জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বা নূর সংক্রান্ত হাদীস শরীফকে সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন।তিনি উনার কিতাবে লিখেন-
ﺩﺭﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ ﻭﺍﺭﺩ ﺷﺪ ﻛﻪ ﺍﻭﻝ ﻣﺎ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭﻱ
অর্থ: “সহীহ হাদীস শরীফে” বর্নিত হয়েছে যে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহ পাক সর্ব প্রথম আমার নূর মুবারক সৃষ্টি করেন!”
দলীল-√ মাদারেজুন নবুওয়াত ২য় খন্ড ২ পৃষ্ঠা।
বিখ্যাত মুহাদ্দিস, আরেফ বিল্লাহ, সাইয়্যিদিনা আব্দুল গনী নাবেলসী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উক্ত হাদীস শরীফকে সরাসরি সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন।তিনি বলেন-
ﻗﺪ ﺧﻠﻖ ﻛﻞ ﺷﻴﻲ ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻛﻤﺎ ﻭﺭﺩ ﺑﻪ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺍﻟﺼﺤﻴﺢ
অর্থ: নিশ্চয়ই প্রত্যেক জনিস হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি হয়েছে, যেমন এব্যাপারে ‘সহীহ’ হাদীস শরীফ বর্নিত রয়েছে।”
দলীল-√ হাদীক্বায়ে নদীয়া- দ্বিতীয় অধ্যায়-৬০ তম অনুচ্ছেদ-২য় খন্ড ৩৭৫ পৃষ্ঠা।
বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন,আল্লামা ইমাম মুহম্মদ মাহদ ইবনে আহমদ ফার্সী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উক্ত হাদীস শরীফকে সহীহ বলে নিজেরকিতাব মুবারকে উল্লেখ করেছেন।তিনি বর্ননা করেন-
ﺍﻭﻝ ﻣﺎ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭﻩ ﻭﻣﻦ ﻧﻮﺭﻱ ﺧﻠﻖ ﻛﻞ ﺵﺀﻱ
অর্থ : মহান আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম আমার নূর মুবারক সৃষ্টি করেন এবং আমার নূর মুবারক থেকে সবকিছু সৃষ্টি করেন।”
দলীল-√ মাতালেউল মাসাররাত ২৬৫ পৃষ্ঠা ।
উক্ত হাদীস শরীফের সমর্থনে বিখ্যাত মুহাদ্দিস, ছহীবে মেরকাত, ইমামুল মুহাদ্দিসীন মুল্লা আলী কারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
ﻭﺍﻣﺎﻧﻮﺭﻩ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﻬﻮ ﻓﻲ ﻏﺎﻳﺎﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﻈﻬﻮﺭ ﺷﺮﻗﺎ ﻭ ﻏﺮﺑﺎ ﻭﺍﻭﻝ ﻣﺎ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ
ﻧﻮﺭﻩ ﻭﺳﻤﺎﻩ ﻓﻲ ﻛﺘﺎﺑﻪ ﻧﻮﺭﺍ
অর্থ: হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক পূর্ব ও পশ্চিমে পূর্নরুপে প্রকাশ পেয়েছে। আর মহান আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম উনার নূর মুবারক সৃষ্টি করেন। তাই নিজ কিতাব কালামুল্লাহ শরীফে উনার নাম মুবারক রাখেন ‘নূর’।”
দলীল-√ আল মওযুআতুল কবীর ৮৩ পৃষ্ঠা।
বিখ্যাত মুহাদ্দিস,আল্লামা আবুল হাসান বিন আব্দিল্লাহ আল বিকরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন–
ﻗﺎﻝ ﻋﻠﻲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻻ ﺷﻲﺀ ﻣﻌﻪ ﻓﺎﻭﻝ ﻣﺎ ﺧﻠﻖ ﻧﻮﺭ ﺣﺒﻴﺒﻪ ﻗﺒﻞ ﺍﻥ ﻳﺨﻠﻖ
ﺍﻟﻤﺎﺀ ﻭﺍﻟﻌﺮﺵ ﻭﺍﻟﻜﺮﺳﻲ ﻭﺍﻟﻠﻮﺡ ﻭﺍﻟﻘﻠﻢ ﻭﺍﻟﺠﻨﺔ ﻭﺍﻧﺎﺭ ﻭﺍﻟﺤﺠﺎﺏ
অর্থ: হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আলাইহিস সালাম বলেন, শুধুমাত্র আল্লাহ পাক ছিলেন, তখন অন্য কোন অস্তিত্ব ছিলো না।অতঃপর তিনি পানি,আরশ,কুরসী, লওহো,ক্বলম,জান্নাত, জাহান্নাম ওপর্দা সমূহ ইত্যাদি সৃষ্টি করার পূর্বে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক সৃষ্টি করেন।”
দলীল-√ আল আনওয়ার ফী মাওলিদিন নাবিয়্যিল মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৫ পৃষ্ঠা।

 

বিখ্যাত তাফসির কারক,ইমামুল মুফাসসিরীন, আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻲ ﺧﻠﻖ ﺟﻤﻴﻊ ﺍﻻﺷﻴﺎﺀ ﻣﻦ ﻧﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻭﻟﻢ ﻳﻨﻘﺺ ﻣﻦ
ﻧﻮﺭﻩ ﺳﻲﺀ
অর্থ: এ ব্যাপারে সকলেই একমত যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক সকল মাখলুকাত “নূরে মুহম্মদী” ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামথেকে সৃষ্টি করেছেন। অথচ “নূরে মুহম্মদী” ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে কিঞ্চিত পরিমানও কমে নাই।”
দলীল-
√ তাফসীরে রুহুল বয়ান ৭ম খন্ড ১৯৭-১৯৮ পৃষ্ঠা।
উক্ত বিশুদ্ধ হাদীস শরীফ খানা নিজ কিতাবে সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা বায়হাক্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ইমাম বায়হাক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে বলা হয়-” ইমাম বায়হাক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন স্বীয় যুগের হাদীসশরীফ এবং ফিক্বাহ শাস্ত্রের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্ব। উম্মত যাদেরমাধ্যমে খুব উপকৃত হয়েছে এবং হাফিজে হাদীস এমন সাতব্যক্তি ছিলেন তাদের যাদের গ্রন্থ সবচাইতে উৎকৃষ্ট বলে স্বীকৃত। সেইসাত জনের একজন হলেন, ইমাম বায়হাক্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ।”
দলীল-
√ আসমাউর রেজাল-বাবু আইম্মাতুল হাদীস।

১।এই জগৎবিখ্যত মুহাদ্দিস ইমাম,আল্লামা বায়হাক্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে বর্ননা করেন–
ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻲ ﺧﻠﻖ ﻗﺒﻞ ﺍﻻﺷﻴﺎﺀ ﻧﻮﺭ ﻧﺒﻴﻚ
“….. নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক সর্ব প্রথম উনার নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার “নূর” মুবারক সৃষ্টি করেন।” দলীল-
√ দালায়েলুন নবুওয়াত লিল বায়হাক্বী ১৩ তম খন্ড ৬৩ পৃষ্ঠা।

 

হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত তিনি হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে যখন মহান আল্লাহপাক হয্রত আদম আলাইহিসালাম কে সৃষ্টি করলেন এবং উনার বংশধরদের ব্যাপারে অবহিত করলেন। তখন হয্রত সফিউল্লাহ আলাইহিসালাম সালাম দেখলেন যে কাউকে কাউকে অন্যদের তুলনায় বেশি মর্যাদাবান দেখলেন। তখন তিনি আমাকে কাতারের শেষ মাথায় দেখলেন একটি উজ্জল নুর রুপে। তখন হয্রত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম মহান আল্লাহতালা কে জিজ্ঞাসা করলেন এই মুবারক নুর সম্পর্কে। মহান আল্লাহপাক বললেন যে ইনি আপনার সম্মানিত সন্তান উনার নাম মুবারক হচ্ছে আহমদ। ইনি আমার সর্বপ্রথম সৃষ্টি কিন্ত প্রেরন করেছি শেষে এবং কিয়ামতের ময়দানে উনি সর্বপ্রথম শাফায়ত করবেন। সুবহানআল্লাহ!!!
(দালালিয়ুন নুবুয়াত ৫/৪৮৩)

7ea50-dala25e225802599ilunnubuwwahcover

ca0f1-dala25e225802599ilunnubuwwahh

 

*****************************************************************

২।ইমাম আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল হাজ আল মালিকি রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার আল মাদখাল,২/৩২-৩ ৩ পৃষ্ঠায় বলেন,
আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হু্যুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক সৃষ্টি করেন,যা আল্লাহ পাক উনাকে সিজদাহ করে।এরপর আল্লাহ পাক সেই নূর মুবারক থেকে কিছু অংশ নিয়ে ৪ ভাগ করেন,১ম অংশ থেকে আরশ,২য় অংশ থেকে ক্বলম,৩য় অংশ থেকে কুরসী,৪র্থ অংশ কে আবার ৪ ভাগে বিভক্ত করেন………

9df20-almadkhalcover

 

fedc8-almadkhalh
*****************************************************************
৩।ইমাম কাস্তালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া কিতাবের ১/৩১-৩২ পৃষ্ঠায়

 

b2b16-mawahibal-laduniyya

0828f-mawahibal-laduniyyah2528imamqutulani2529
*****************************************************************
৪।ইমাম ইবনে আসাকির রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার তারিখে মদিনা –দামিস্ক কিতাবের ২৩/২৮১,

254e5-tareekhedamishqcover

e733a-tareekhedamishqh

[ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার খাসায়িসুল কুবরা ১/১২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন]

 

৫। ইমাম ইবনে আসাকির রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার তারিখে মদিনা –দামিস্ক ৩/৪০৮ এ,
একই বর্ননা করেছেন,
*ইবনে কাসীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি-আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া,২/২৫৮
*ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-দারুল মান্থুর ৬/৩৩২

3809a-tareekhedamishqh1

হযরত জাবির বিন আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত হাদীস শরীফ খানা অত্যন্ত সহীহ।আর সহীহ বলেই সকল জগৎ বিখ্যাত মুহাদ্দিসগন উনাদের কিতাবে উক্তহাদীস শরীফ খানা বলিষ্ঠ ভাবে বর্ননা করেছেন। আমরা উপরে কিছুইমামদের মতামত উল্লেখ করেছি।

এছাড়াও আরো যারা উক্ত হাদীস শরীফকে বিশুদ্ধ বলে নিজেদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন তাদেরকথা উল্লেখ করা হলো–

→ বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকারক, হাফিজে হাদীস আল্লামা কুস্তালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার “মাওয়াহেবুল
লাদুন্নিয়া” কিতাবের ১ম খন্ড ৯ পৃষ্ঠা।
→ হাফিজে হাদীস,আল্লামা যুরকানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার “যুরকানী আলা শরহে মাওয়াহেব” কিতাবের ১ম খন্ড ৪৬ পৃষ্ঠা।
→ বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে হাজর হায়তামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার “ফতোয়ায়ে হাদীসিয়া” কিতাবে ১৮৯ পৃষ্ঠা ।
→ মুহাদ্দিস আলী ইবনে ইব্রাহীম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার “সিরাতুল হলবীয়” কিতাবে ১ম খন্ড ৩০ পৃষ্ঠা।
→ হাফিজে হাদীস, হযরত ইবনে হাজার মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার “আফদ্বালুল কোরা” কিতাবে।
→ বিশিষ্ট আলেম, শায়খুল আল্লামা, হযরত দিয়ার বাকরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার “তারীখুল খামীস” কিতাব সহ শতশত কিতাবে উক্ত হাদীস শরীফ খানা বর্ননা করা হয়েছে ।প্রত্যকেই উক্ত হাদীস শরীফ এর উপর আস্থা স্থাপন করেছেনবিনা দ্বিধায়।সুবহানাল্লাহ্ !!

 
যেটা উছুলের কিতাবে বলা হয়েছে-
ﻓﺎﻥ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﻳﺘﻘﻮﻱ ﺑﺘﻠﻘﻲ ﺍﻻﺀﻣﺔ ﺑﺎﻟﻘﺒﻮﻝ ﻛﻤﺎ ﺍﺷﺮ ﺍﻟﻴﻪ ﺍﻻﻣﺎﻡ ﺍﻟﺘﺮ ﻣﺬﻱ ﻓﻲ ﺟﺎﻣﻌﻪ
ﻭﺻﺮﺡ ﺑﻪ ﻋﻠﻤﺎﺀﻧﺎ ﻓﻲ ﺍﻻﺻﻮﻝ
অর্থ: কোন হাদীস শরীফকে ইমামগন নিঃসংকোচে কবুল করে নেয়াই উক্ত হাদীস শরীফ খানা শক্তিশালী বা সহীহ হওয়ার প্রমান। ইমাম তিরমিযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার “জামে” তে এদিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন আর আলেমগন তা উছুলের কিতাবে সুস্পষ্ট ভাবে বর্ননা করেছেন।” সূতরাং এরপরও যারা বলবে, উক্ত হাদীস শরীফ খানা সহীহ নয়,তারা হাদীস শরীফের উছুল সম্পর্কে নেহায়েত অজ্ঞ।
উক্ত হাদীস শরীফ খানা হাফিজে হাদীস ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাব “মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক”কিতাবে সহীহ সনদে বর্ননা করেছেন এবং পৃথিবীর সকল ইমাম,মুহাদ্দিস গন উক্ত হাদীস শরীফের প্রতি আস্থা স্থাপন করে স্ব স্বকিতাবে উল্লেখ করেছেন।সূতরাং প্রমান হলো উক্ত হাদীস শরীফ খানা সর্বোচ্চ মানের সহীহএকটি হাদীস শরীফ।

*****************************************************************
৬।জামি তিরমিযির হাদিস যেটাকে সহীহ বলেছে ওহাবী গুরু নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ

 

*মাইসারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করেন,ইয়া রাসুলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি কখন থেকেনবী? হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,আমি তখন থেকে নবী ছিলাম যিখন আদম আলাইহিস সালাম দেহ ও রুহ এর মাঝে ছিল।(সিলসিলাতুস সহীহাহ,৪/৪৭১,১৮৫৬নং হাদীস)

0680a-albaanicover

a7df5-albanihadeeth

[এই হাদীস হযরত আবু হুরায়রা,আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস,আব্দুল্লাহ বিন শাকীক্ব,উমর ইবনুল খত্তাব,আমির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বর্ণনা করেছেন]
**আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করেন,ইয়া রাসুলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি কখন থেকে নবী? হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,আমি তখন থেকে নবী ছিলাম যিখন আদম আলাইহিস সালাম দেহ ও রুহ এর মাঝে ছিল।
দলিল-
*আল-মানাকিব,৫/৫৮৫,৩৬০৯নং হাদীস
*মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বল,৪/৬৬,৫/৫৯,২৩৬২০নং হাদীস
*মুস্তাদরিক লিল হাকিম,২/৬৬৫-৬৬৬,৪২০৯-৪২১০নং হাদীস
*মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা,৭/৩৬৯,৩৬৫৫৩নং হাদীস
*মুজামাল আউসাথ,৪/২৭২,৪১৭৫নং হাদীস
*মুজামাল কবীর,১২/৯২,১২৫৭১নং হাদীস
*হিলায়াতুল আওলিয়া,৭/১২২,৯/৫৩
*ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার তারিখুল কবীর,৭/৩৭৪,১৬০৬নং হাদীস
*আহাদ ওয়াল মাথানি,৫/৩৪৭,২৯১৮নং হাদীস
*আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার আস সুন্নাহ,২/৩৯৮,৮৬৪নং হাদীস
*তাবকাআত আল কুবরা,১/১৪৮,৭/৬০
*মুজামুস সাহাবা,২/১২৭,৩/১২৯;৫৯১,১১০৩নং হাদীস
*মুস্নাদ আল ফিরদাউস,৩/২৮৪,৪৮৪৫নং হাদীস
*তারীখে দামিশক আল কবীর,২৬/৩৮২,৪৫/৪৮৮-৪৮৯নং হাদীস
*তারীখে বাগদাদ,৩/৭০,১০৩২নং হাদীস
*তাহজীব আল তাহদীব,৫/১৪৭,২৯০নং হাদীস
*সায়্যির আল আলাম আন নুবালা,৭/৩৪৮,১১/১১০
*খাসায়িসুল কুবরা,১/১৮
*আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া,২/৩০৭,৩২০-৩২১
*মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া,১/৬০
*মাজমাউজ যাওয়ায়িদ,৮/১২২
********************************************************
ইমামুল মুফাসরিরীন, মুফতীয়ে বাগদাদ, হযরত আলূসী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উক্ত হাদীস শরীফকে নির্ভরযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি উনার কিতাবে লিখেন-
ﻭﻟﺬﺍ ﻛﺎﻥ ﻧﻮﺭﻩ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺍﻭﻝ ﺍﻟﻤﺨﻠﻮﻗﺎﺕ ﻓﻔﻲ ﺍﻟﺨﺒﺮ ﺍﻭﻝ ﻣﺎ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻲ
ﻧﻮﺭ ﻧﺒﻴﻚ ﻳﺎﺟﺎﺑﺮ
অর্থ : সকল মাখলুকাতের মধ্যে সর্বপ্রথম সৃষ্টি হলো,নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যেমন- হাদীস শরীফে বর্নিত আছে, হে জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু! আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম আপনার নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক সৃষ্টি করেছেন।”
দলীল-
√ রুহুল মায়ানী ১৭ তম খন্ড ১০৫ পৃষ্ঠা।

044ec-tafsirruhal-ma2560anicover

c8570-tafsirruhal-ma2560anih

7ebfe-tafsirruhal-ma2560anih1

************************************************************
১।ইমাম বায়হাকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার দালালিয়ুন নুবুয়াত কিতাবের,১/৮৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন,

 

7ea50-dala25e225802599ilunnubuwwahcover

 

bd65e-dala25e225802599ilunnubuwwahh1

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, “………আমার সম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম দেখেন একটা নূর মুবারক দেখেন উনার জিসিম মুবারক থেকে বের হয়েছে,উনার আলোতে সিরিয়ার অট্টালিকা সমূহ আলোকিত হয়েছিল।”
——————————————————————————
২।ইমাম ইবনে হিব্বান রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সহীহ ইবনে হিব্বান উনার ১৪/৩১২-৩১৩ পৃষ্ঠায়,৬৪০৪নং হাদীসে,

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, “………আমার সম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম দেখেন একটা নূর মুবারক দেখেন উনার জিসিম মুবারক থেকে বের হয়েছে,উনার আলোতে সিরিয়ার অট্টালিকা সমূহ আলোকিত হয়েছিল।”

9ff9a-sahihibnhibbancover858c0-sahihibnhibbanh
——————————————————————————
৩।ইমাম হাকিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার মুস্তাদ্রাক আলাস সহিহাইন ২য় খন্ডে ৪৯২ পৃষ্ঠায়,

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, “………আমার সম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম দেখেন একটা নূর মুবারক দেখেন উনার জিসিম মুবারক থেকে বের হয়েছে,উনার আলোতে সিরিয়ার অট্টালিকা সমূহ আলোকিত হয়েছিল।”

a74d4-haakimcover73528-haakima

 

৪। ইমাম হাকিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ইমাম হাকিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার মুস্তাদরিক লিল হাকিম ২/৭০৫ পৃষ্ঠায়,৪২৩৩ নং হাদীসে,
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, “………আমার সম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম দেখেন একটা নূর মুবারক দেখেন উনার জিসিম মুবারক থেকে বের হয়েছে,উনার আলোতে সিরিয়ার অট্টালিকা সমূহ আলোকিত হয়েছিল।”

169ab-haakim2a
৫।মুস্তাদরিক লিল হাকিম ২/৭২৪ পৃষ্ঠায়

 

0ad0c-haakim3a

আরো কিতাবের রেফারেন্স-

*তাবকাত আল কুবরা ১/১৫০
*দালালিয়ুন নুবুয়াত ১/৮৩
*তারীখে মাদিনাত দামিস্ক ১/১৭০,৩/৩৯৩
*জামিউল আহকামুল কুরআন ২/১৩১
*জামিউল বয়ান ১/৫৫৬
*তাফসিরুল কুরআনুল আযীম ৪/৩৬১
*তারীখুল উমাম ওয়াল মুলক ১/৪৫৮
*ইবনে ইসহাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সিরাতুন নবী ১/২৮
*সীরা্তে ইবনে হিশাম ১/৩০২
*সীরাতে হালাবিয়া ১/৭৭

এখন মজার ব্যাপার দেখুন, যেসকল ওহাবী দেওবন্দীরা উক্ত হাদীস শরীফ নিয়ে আপত্তি করে তাদের অন্যতম গুরু আশরাফ আলী থানবী নিজেই উক্ত হাদীস শরীফকে তার কিতাব “নশরুত তীব” উল্লেখ করেছে। এবার দেখুন থানবী তার এই কিতাবে কি লিখেছে–থানবী এই কিতাবে প্রথম যে অধ্যায় রচনা করেছে তার নাম দিয়েছে ” নূরে মুহম্মদীর বিবরন”। যাইহোক, এখানে প্রথমেই যা লিখেছে তা হলো- ” আব্দুর রাজ্জাক তাঁর সনদসহ হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ননা করেছেন যে, আমি আরজ করলাম : ইয়া রসূল্লাল্লাহ আমার পিতা মাতা আপনার জন্যকোরবান হউক, আমাকে এই খবর দিন যে, আল্লাহ পাক সর্ব প্রথম কোন বস্তুটি সৃষ্টি করেছেন?প্রিয়নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন, হে জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু! আল্লাহ পাক সবকিছুর পূর্বে আপনার নবীর নূরসৃষ্টি করেছেন…………………. “”””

নসরুত তীব কিতাবের স্ক্যান কপি দেখুনঃ

nosruttib 1nosruttib 2nosruttib 3

 

অর্থাৎ হাদীসে জাবির বর্ণনা করেছে দেওবন্দী আশরাফ আলী থানবী নিজ কিতাবে। মজার কথা হলো থানবী মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাকে হাদীসের সনদ খুজে পেল আর বর্তমানে তারই অনুসারী ওহাবী দেওবন্দীরা সনদ খুজে পায় না।কত হাস্যকর লজ্জাজনক বিষয় নিজেরাই চিন্তা করুন।শুধু তাই নয়, আশরাফ আলী থানবী উক্ত “নশরুত্বীব” কিতাবের প্রথম অধ্যায়ে “নূরে মুহম্মদীর বিবরন” শীর্ষক বর্ননায় আরো একটি হাদীস শরীফ উল্লেখ করেছে-ইমাম জয়নুল আবেদীন আলাইহিস সালাম উনার পিতা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম থেকে এবং তিনি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ননা করেন যে, হুজুর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমি আদম আলাইহিস সালাম উনার জন্মের ১৪ হাজার বছর পূর্বে আমার পরওয়ারদিগারের দরবারে একটি “নূর” ছিলাম।” সুবহানাল্লাহ্ !!!

 
দেওবন্দী/কাওমীরা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম নূর হিসাবে সৃষ্টি এই হাদীস অস্বীকার করলে কি হবে এদের একমাত্র অবিভাবক ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ আবার এই হাদীস স্বীকার করে ফতোয়া দেয়। সবাই দেখুন ভারতের দেওবন্দীরা আশরাফ আলি থানভি সাহেবের কিতাব থেকেই তাদের ওয়েবসাইটে ফতোয়া বিভাগে দলীল দিচ্ছে–
Question: 3126 >Is the Prophet peace be upon him’s nur the first thing to becreated? Also, was it created before Adam alayhis salam’s?

Answer: 3126 Jan 29,2008 (Fatwa: 903/876=D) Hazrat Hakimul Ummah, Maulana Ashraf Ali Thanwi has mentioned a Hadith in his book ﻧﺸﺮ ﺍﻟﻄﯿﺐ ﻓﯽ ﺫﮐﺮ ﺍﻟﻨﺒﯽ ﺍﻟﺤﺒﯿﺐ ﺻﻠﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﻠﯿﮧ ﻭﺳﻠﻢ with reference of Ahkam bin Al- Qattan that Hazrat Ali bin Al- Hussain (Zainul Abdeen )narrated from his father Hazrat Hussain ( ﺭﺿﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﻨﮧ ) and he narrated fromhis father (Hazrat Ali ﺭﺿﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﻨﮧ ) that the Prophet ( ﺻﻠﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﻠﯿﮧ ﻭﺳﻠﻢ ) said: ?I was a noor (light) in front of my Lord some forty thousand years before the birth of Hazrat Adam ( ﻋﻠﯿﮧ ﺍﻟﺴﻼﻡ )?. There are some more traditions which prove that the noor of the Prophet ( ﺻﻠﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﻠﯿﮧ ﻭﺳﻠﻢ ) was created in the earliest time, some traditions say that his noor was created before the Tablet, the Pen, earth, sky and even before all creatures. Allah (Subhana Wa Ta’ala) knows Best Darul Ifta, Darul Uloom Deoband

fatwa dewband on nur.PNG

 

ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়ার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক – ->>>

http://www.darulifta-deoband.com/home/en/Hadith–Sunnah/3126

আবার উক্ত হাদীসে জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু দেওবন্দীদের আরেক মৌলবী দেওবন্দীদের মৃত শায়খুল হদস আজিজুল হক তার বুখারী শরীফের অনুবাদে ৫ম খন্ড ৩ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছে।
অর্থাৎ বিরোধিতা কারীদের কিতাবেও উক্ত হাদীস শরীফ খানা নির্ভরযোগ্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন
হচ্ছে বর্তমানে দুই পয়সার বাজাইরা ওহাবী মৌলবীরা উক্ত হাদীস শরীফের বিরোধিতা করে কেন ?????
মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক এর ইতিহাসঃযখন মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল এটি অসুম্পূর্ণ ছিল।নিচে স্ক্যান কপি দেখুনঃ

 

0011a-almusannafcoverpage91896-1

 

মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক এর হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়ঃ
********************************************
সারাবিশ্বজুড়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পর সেই চ্যাপ্টারটি অবশেষে তুর্কির একটা লাইব্রেরীতে পাওয়া যায়।নিচে অরিজিনাল স্ক্যান কপি দেয়া হলঃ

 

Turkey Orignal File 1.JPG

 

Turkey+Orignal+File+2.JPG

 

Turkey Orignal File 3.JPG
Details here–http://sunnah.org/sources/musannaf/musannaf_f.htm
পুরাতন পান্ডুলিপির ক্লিয়ার টেক্সটঃ

6790f-1


ক্লিয়ার কপিঃ
bc5e4-1clear

a0ce3-2


ক্লিয়ার কপিঃ

2 Clear 0

b8495-2clear1

15318-3
ক্লিয়ার কপিঃ

886d0-3clear

f1cbe-4

ক্লিয়ার কপিঃ3daef-4clear

 

161fb-5

ক্লিয়ার কপিঃ

4be4c-5clear

8b1c5-6

ক্লিয়ার কপিঃ

581ee-6clear

fb7e4-7

ক্লিয়ার কপিঃ

736b8-7cleard802a-8

ক্লিয়ার কপিঃebc7e-8clear

 

a33c8-9

ক্লিয়ার কপিঃ7bcb6-9clear

6c931-10

ক্লিয়ার কপিঃ

20017-10clear

c911f-11

ক্লিয়ার কপিঃ

b1219-11clear

 

 

 

যাইহোক, উপরোক্ত আলোচনা থেকে দিবালোকের মত প্রমান হলো, আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক সৃষ্টি করেছেন। এবং সেই নূর মুবারক থেকে সবকিছু সৃষ্টি করেন।এটাই হলো আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা, এবং এর বিপরীত আক্বীদা পোষন করা কুফরী। আল্লাহ পাক আমাদের সত্য বোঝার তৌফিক দান করুন। আমীন !!

Advertisements

হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কেউ সরাসরি মাটি থেকে তৈরী নয়

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এর কোথাও
একথা উল্লেখ করেননি যে, “সমস্ত মানুষ মাটির তৈরী” বরং
বলা হয়েছে- “মানুষ মাটির তৈরী।” আর পবিত্র কুরআন শরীফ-
এর যেসব আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে যে, বাশার, ইনসান
বা মানুষ মাটির তৈরী সেসব আয়াত শরীফ দ্বারা মূলত হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনার কথাই বলা হয়েছে। উল্লিখিত আয়াত
শরীফসমূহের ব্যাখ্যায় অনুসরণীয় মুফাসসিরীনে কিরাম
রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এ মতই পেশ করেছেন। নিম্নে
উল্লিখিত আয়াত শরীফসমূহ ও তার ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো-
(১)
ﺍِﻥَّ ﻣَﺜَﻞَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻛَﻤَﺜَﻞِ ﺁﺩَﻡَ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛِﻢَّ ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦ
ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
অর্থ : “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হযরত ঈসা আলাইহিস
সালাম উনার দৃষ্টান্ত হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনারই ন্যায়, তিনি
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছেন। অতঃপর বলেছেন, হয়ে যাও, সঙ্গে সঙ্গে
হয়ে গেলেন।” (সূরা আলে ইমরান : ৫৯)
বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
উনার নির্ভরযোগ্য ও প্রখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর ২য় খণ্ডের ১০২ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ( ﺍِﻥَّ ﻣَﺜَﻞَ ﻋِﻴﺴَﻰ ..…………) ﺩﻟﻴﻞ ﻋﻠﻰ ﺻﺤﺔ ﺍﻟﻘﻴﺎﺱ –
ﻭﺍﻟﺘﺸﺒﻴﻪ ﻭﺍﻗﻊ ﻋﻠﻰ ﺍﻥ ﻋﻴﺲ ﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﻏﻴﺮﺍﺏ ﻛﺎﺩﻡ ﻻ ﻋﻠﻰ ﺍﻧﻪ
ﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ ……………… ﻓﺎﻥ ﺍﺩﻡ ﺧﻠﻖ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ ﻭﻟﻢ ﻳﺨﻠﻖ ﻋﻴﺲ
ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ ﻓﻜﺎﻥ ﺑﻴﻨﻬﻤﺎ ﺍﻧﻬﺎ ﺧﻠﻘﻬﻤﺎ ﻣﻦ ﻏﻴﺮﺃﺏ ………….
অর্থ : “উক্ত আয়াত শরীফখানা ক্বিয়াস সহীহ্ হওয়ার দলীল।
আর উক্ত আয়াত শরীফে যে তাশবীহ বা সাদৃশ্যতা বর্ণনা
করা হয়েছে তা এই যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনার মতই পিতা ছাড়া তৈরী হয়েছেন।
একথা বুঝানো হয় নাই যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনার মতই মাটির তৈরী। ……… হযরত আদম
আলাইহিস সালাম তিনি মাটির তৈরী আর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম
তিনি মাটির তৈরী নন এদিক থেকে উভয়ের মাঝে যদিও
পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু পিতা ছাড়া তৈরী হওয়ার দিক থেকে
উভয়ের মধ্যেই সাদৃশ্যতা বা মিল রয়েছে। ………..”
ইমামুল মুহাদ্দিছীন, আল্লামা ফখরুদ্দীন রাজী রহমতুল্লাহি
আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত ও প্রসিদ্ধ তাফসীরগ্রন্থ
“তাফসীরে কবীর”-এর ৮ম খণ্ডের ৭৯-৮১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ( ﺍِﻥَّ ﻣَﺜَﻞَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻛَﻤَﺜَﻞِ ﺁﺩَﻡَ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ)
……………………… ﺍﺫﺍ ﺟﺎﺯ ﺍﻥ ﻳﺨﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺍﺩﻡ ﻣﻦ ﺍﻟﺘﺮﺍﺏ ﻓﻠﻢ
ﻻﻳﺠﻮﺯ ﺍﻥ ﻳﺨﻠﻖ ﻋﻴﺲ ﻣﻦ ﺩﻡ ﻣﺮﻳﻢ؟ ( ﻣَﺜَﻞَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻛَﻤَﺜَﻞِ
ﺁﺩَﻡَ) ﺍﻯ ﺻﻔﺘﻪ ﻛﺼﻔﺔ ﺍﺩﻡ ……………… ( ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ)
.……………………… ﺍﻟﻀﻤﻴﺮ ﻓﻰ ﻗﻮﻟﻪ ﺧﻠﻘﻪ ﺭﺍﺟﻊ ﺍﻟﻰ ﺍﺩﻡ .
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হযরত ঈসা
আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার
সৃষ্টির ন্যায়। মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।) ….. হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি মাটি থেকে
সৃষ্টি করতে পারেন তবে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে
কেন হযরত মরিয়ম আলাইহাস সালাম উনার রক্ত থেকে সৃষ্টি
করতে পারবেন না? ….. (হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার
মেছাল মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনার ন্যায়) অর্থাৎ হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার ছিফত হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনার ছিফতের ন্যায়। …… (উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে) …. উক্ত আয়াত শরীফ-এ যে
সর্বনাম রয়েছে তা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার দিকে
রুজু হয়েছে বা ফিরেছে। অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, হযরত ঈসা আলাইহিস
সালাম উনাকে নয়।”
শায়খুল মুফাসসিরীন, ফক্বীহুল উম্মত আল্লামা ছানাউল্লাহ
পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার মশহুর তাফসীরগ্রন্থ
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ২য় খণ্ডের ৫৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍِﻥَّ ﻣَﺜَﻞَ ﻋِﻴﺴَﻰ) ﻳﻌﻨﻰ ﺷﺎﻧﻪ ﺍﻟﻐﺮﻳﺐ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻛﻤﺜﻞ ﺍﺩﻡ ﻛﺸﺎﻧﻪ ﺛﻢ
ﻓﺴﺮﻩ ﻭﺑﻴﻦ ﻭﺟﻪ ﺍﻟﺘﺸﺒﻴﻪ – ﻓﻘﺎﻝ ﺧﻠﻘﻪ ﺍﻯ ﺻﻮﺭ ﻗﺎﻟﺒﻪ ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ
ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ .
অর্থ : “নিঃসন্দেহে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার শান মহান
আল্লাহ পাক উনার নিকট হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার শানের
ন্যায়। অতঃপর তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ও সাদৃশ্যতার কারণ বর্ণনা
করেছেন। সুতরাং বলেন, মহান আল্লাহ পাক হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনার ছূরত সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।”
সূরা আলে ইমরান-এর উক্ত আয়াত শরীফ ও তাফসীর দ্বারা
এটাই ছাবিত হলো যে, শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকেই মাটি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্য কাউকে নয়। যদি
হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ছাড়া অন্য কেউ মাটির সৃষ্টি
হতো তবে উক্ত আয়াত শরীফে “হযরত ঈসা আলাইহিস
সালাম উনার সৃষ্টি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার ন্যায়” একথা
বলার পর “ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ” “আমি উনাকে (হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে) সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে” বলতেননা।
বলতেন- “আমি উনাদের উভয়কে সৃষ্টি করেছি মাটি
থেকে।” সুতরাং এখানে সর্বনাম একবচন এনে এটাই
বুঝিয়েছেন যে, শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিই
মাটির সৃষ্টি অন্য কোন মানুষ নয়।
একইভাবে হাদীছ শরীফ-এ “তোমরা সকলেই হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনার সন্তান” বলার পরে আবার “আর আদম
আলাইহিস সালাম তিনি মাটি হতে সৃষ্ট” বলার উদ্দেশ্য একই।
অর্থাৎ শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিই মাটির সৃষ্টি অন্য
কোন মানুষ নয়।
(২)
ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺻَﺎﺣِﺒُﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻳُﺤَﺎﻭِﺭُﻩُ ﺍَﻛَﻔَﺮْﺕَ ﺑِﺎﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻚَ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ
ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﺳَﻮَّﺍﻙَ ﺭَﺟُﻠًﺎ
অর্থ : “তার সঙ্গী তাকে কথা প্রসঙ্গে বললো : তুমি
উনাকে অস্বীকার করছো যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন
মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে অতঃপর পূর্ণাঙ্গ
করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে।” (সূরা কাহাফ : ৩৭)
মুহিয়্যুস্ সুন্নাহ্ আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ
ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি
তিনি উনার প্রখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য়
খণ্ডের ১৯৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺧَﻠَﻘَﻚَ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﺍﻯ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻚ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ ﻻﻥ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻪ ﺳﺒﺐ
ﻓﻰ ﺧﻠﻘﻪ
অর্থ : “(তোমাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ
তোমার আছল (হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছেন। কেননা উনার আছলের সৃষ্টি উনার
সৃষ্টির কারণ।”
তাজুল মুফাসসিরীন আল্লামা আবুল ফজল শিহাবুদ্দীন সাইয়্যিদ
মাহমুদ আলুসী বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত
তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে রুহুল মায়ানী”-এর ৮ম খণ্ডের
২৭৬ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﺧَﻠَﻘَﻚَ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﺍﻯ ﻓﻰ ﺿﻤﻦ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻚ ﻣﻨﻪ ﻭﻫﻮ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তিনি তোমাকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ
তোমার আছল উনাকে আর তিনি হলেন হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
প্রখ্যাত মুফাসসির ফক্বীহুল আছর, আল্লামা ছানাউল্লাহ্
পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার প্রসিদ্ধ
তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে মাযহারী”- এর ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৩৫
পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺧَﻠَﻘَﻚَ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﻻﻧﻪ ﺍﺻﻞ ﻣﺎﺩ ﻧﻚ ﺍﻭﻣﺎﺩﺓ ﺍﺻﻠﻚ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তিনি তোমাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন)
কেননা তোমার মাদ্দার আছল অথবা তোমার আছলের মাদ্দাহ্
হলেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি।”
শাইখুল মুফাসসিরীন আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি
আলাইহি তিনি উনার মশহুর তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে
সামারকান্দী”-এর ২য় খণ্ডের ২৯৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺻَﺎﺣِﺒُﻪُ) ﺍﻯ ﺍﺧﺎﻩ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ( ﻭَﻫُﻮَ ﻳُﺤَﺎﻭِﺭُﻩُ) ﺍﻯ ﻳﻜﻠﻤﻪ ﻭﻳﻌﻈﻪ
ﻓﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ (ﺍَﻛَﻔَﺮْﺕَ ﺑِﺎﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻚَ ﻣِﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তাকে তার সাথী বলেন) অর্থাৎ তার মুসলমান ভাই
বলেন। তিনি তার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্পর্কে
নছীহত করছিলেন। যিনি তোমাকে অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
তাজুল মুফাসসিরীন আল্লামা ইমাম ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি
আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে রুহুল
বয়ান”-এর ৫ম খণ্ডের ২৪৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺑِﺎﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻚَ ) ﺍﻯ ﻓﻰ ﺿﻤﻦ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻚ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ
ﺗُﺮَﺍﺏٍ )
অর্থ : “(যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ তোমার
আছল হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছেন।”
সূরা কাহাফ-এর উক্ত আয়াত শরীফ ও তাফসীর দ্বারাও প্রমাণিত
হলো যে, “মহান আল্লাহ পাক তিনি শুধুমাত্র হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকেই মূলত মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। তাই
মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও আয়াত শরীফ-
এ বর্ণিত “ ﺧَﻠَﻘَﻚَ” “তোমাকে সৃষ্টি করেছেন” এ বাক্যের
অর্থ করেছেন- “হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি
করেছেন মাটি থেকে” যেহেতু শুধুমাত্র আদম আলাইহিস
সালাম তিনিই মাটির সৃষ্টি।
(৩)
ﻓَﺎِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦْ ﻋَﻠَﻘَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻣُّﻀْﻐَﺔٍ
ﻣُّﺨَﻠَّﻘَﺔٍ ﻭَﻏَﻴْﺮِ ﻣُﺨَﻠَّﻘَﺔٍ ﻟِّﻨُﺒَﻴِّﻦَ ﻟَﻜُﻢْ
অর্থ : “(হে লোক সকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের
ব্যাপারে সন্দিহান হও, তবে (ভেবে দেখ) আমি
তোমাদেরকে মাটি থেকে, সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য
থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে এরপর পূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট ও
অপূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট গোস্ত পিন্ড থেকে। তোমাদের কাছে
ব্যক্ত করার জন্যে।” (সূরা হজ্জ : ৫)
ফক্বীহুল আছর, প্রখ্যাত মুফাসসির আল্লামা আবুল লাইছ
সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ২য় খণ্ডের ৩৮০ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻓَﺎِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢ ..………… ) ﺍﻯ ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﺍﻟﺬﻯ ﻫﻮ ﺍﺻﻞ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﻳﻌﻨﻰ
ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦْ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ( ﺛُﻢَّ) ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺫﺭﻳﺒﻪ ( ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ) ﻭﻫﻮ
ﺍﻟﻤﻨﻰ
অর্থ : “(আর নিঃসন্দেহে আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি
করেছি) অর্থাৎ তোমাদের পিতা যিনি মানবজাতীর মূল অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।
অতঃপর উনার সন্তানদেরকে “নুতফা” অর্থাৎ বীর্য থেকে
সৃষ্টি করেছি।”
ইমামুল মুফাসসিরীন, আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি
তিনি উনার বিখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৬ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻓَﺎِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছি) অর্থাৎ আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য় খণ্ডের
২৮১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻓَﺎِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﺍﺩﻡ ﺍﻟﺬﻯ ﻫﻮ ﺍﺻﻞ ﺍﻟﺒﺸﺮ ( ﺛُﻢَّ
ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺫﺭﻳﺘﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻨﻰ
অর্থ : “(আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি)
অর্থাৎ তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছি। যিনি মানব জাতির মূল। (অতঃপর নুতফা
থেকে) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার
সন্তানদেরকে বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা হুসাইন ইবনে মাসউদ আল ফাররা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
উনার “তাফসীরে বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ২৮১ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻓَﺎِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢ ) ﺍﻯ ﺍﺑﺎﻛﻢ ( ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ) ﺧﻠﻘﺘﻢ ( ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦْ
ﻋَﻠَﻘَﺔٍ) ﺍﻯ ﻗﻄﻌﺔ ﺩﻡ ﺟﺎﻣﺪﺓ ( ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻣُّﻀْﻐَﺔٍ) ﺍﻯ ﻟﺤﻤﺔ ﺻﻐﻴﺮﺓ ﻗﺪﺭ
ﻣﺎﻳﻤﻀﻊ
অর্থ : “আমি তোমাদেরকে অর্থাৎ তোমাদের পিতা উনাকে
মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তোমাদেরকে সৃষ্টি
করেছি নুতফা ও ছোট গোস্তপিন্ড থেকে।”
সূরা হজ্জ-এ বর্ণিত উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও তার ব্যাখ্যা
দ্বারা এটাই ছাবিত হলো যে, কুরআন শরীফে যে বলা
হয়েছে “মানুষ মাটির সৃষ্টি” তা দ্বারা মূলত হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র হযরত আদম
আলাইহিস সালাম তিনিই মাটি থেকে সৃষ্টি। আদম সন্তানগণ মাটি
থেকে সৃষ্টি নয়।
(৪)
ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﺍِﺫَﺍ ﺃَﻧﺘُﻢ ﺑَﺸَﺮٌ ﺗَﻨﺘَﺸِﺮُﻭﻥَ
অর্থ : “উনার নিদর্শনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন এই যে, তিনি
মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা
মানুষ পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছো।” (সূরা রূম :২০)
আল্লামা আবুল লাইছ সমরকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ .……) ﻳﻌﻨﻰ ﺧﻠﻖ ﺍﺩﻡ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ ﻭﺍﻧﺘﻢ ﻭﻟﺪﻩ –
( ﺛُﻢَّ ﺍِﺫَﺍ ﺃَﻧﺘُﻢ ) ﺫﺭﻳﺘﻪ ﻣﻦ ﺑﻌﺪﻩ (ﺑَﺸَﺮٌ ﺗَﻨﺘَﺸِﺮُﻭﻥَ) ﻳﻌﻨﻰ ﺗﺒﺴﻄﻮﻥ
অর্থ : “(তিনি মাটি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন)
অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি
মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর তোমরা হলে উনার
সন্তান, উনার পরে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছো।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য়
খণ্ডের ৪৩১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﺍﻯ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﻭﻫﻮ ﺍﺩﻡ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ – ( ﺛُﻢَّ
ﺍِﺫَﺍ ﺃَﻧﺘُﻢ ﺑَﺸَﺮٌ ﺗَﻨﺘَﺸِﺮُﻭﻥَ) ﺍﻯ ﺗﺒﺴﻄﻮﻥ ﻓﻰ ﺍﻻﺭﺽ
অর্থ : “(তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন)
অর্থাৎ তোমাদের ‘আছল’ হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমরা
যমীনে ছড়িয়ে পড়েছ মানুষ হিসেবে।”
আল্লামা ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ৪৩১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ) ﺍﻯ ﺍﺑﺎﻛﻢ ( ﻣِﻦْ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﺍِﺫَﺍ ﺃَﻧﺘُﻢ ﺑَﺸَﺮٌ) ﺍﻯ ﺍﺩﻡ ﻭﺫﺭﻳﺘﻪ
(ﺗَﻨﺘَﺸِﺮُﻭﻥَ )
অর্থ : “তিনি তোমাদেরকে অর্থাৎ তোমাদের পিতা (হযরত
আদম আলাইহিস সালাম) উনাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।
অতঃপর তোমরা অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ও উনার
সন্তান যমীনে ছড়িয়ে পড়েছে।”
আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর খণ্ডের ১৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ( ﻭَﻣِﻦْ ﺁﻳَﺎﺗِﻪِ ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﺍﻯ ﻣﻦ ﻋﻼﻣﺘﻪ ﺭﺏ
ﺑﻴﺘﻪ ﻭ ﻭﺣﺪﺍ ﻧﻴﺘﻪ ﺍﻥ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ. ﺍﻯ ﺧﻠﻖ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﻣﻨﻪ
অর্থ : “(মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন সমূহের মধ্যে একটি
নিদর্শন এই যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার
রুবুবিয়্যাত ও অহদানিয়্যাত-এর নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের
পিতা (হযরত আদম আলাইহিস সালাম) উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছেন।”
আল্লামা ছানাউল্লাহ্ পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ২২৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﺍَﻥْ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﺍﻯ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﺍﺩﻡ ﻣِﻦْ ﺗُﺮَﺍﺏٍ
অর্থ : “তিনি তোমাদেরকে অর্থাৎ তোমাদের আছল হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
সূরা রূম-এ বর্ণিত উক্ত আয়াত শরীফের তাফসীর দ্বারাও
সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, “মানুষ মাটির তৈরী” বলতে হযরত
আদম আলাইহিস সালাম তিনিই উদ্দেশ্য, হযরত মুফাসসিরীনে
কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ব্যাখ্যা দ্বারা এটাই প্রমাণিত
হয়।
(৫)
ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﺟَﻌَﻠَﻜُﻢْ ﺍَﺯْﻭَﺍﺟًﺎ
অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি
করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, তারপর
করেছেন তোমাদেরকে যুগল।” (সূরা ফাতির : ১১)
আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ্ মুহম্মদ ইবনে আহ্মদ আনছারী
কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে কুরতুবী”-এর
৭ম খণ্ডের ৩৩২ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﻗﺎﻝ ﺳﻌﻴﺪ ﻋﻦ ﻗﺘﺎﺩﺓ ﻗﺎﻝ- ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﺍﻟﺘﻘﺪﻳﺮ ﻋﻠﻰ ﻫﺬﺍ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ
অর্থ : “(মহান আল্লাহ্ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে
সৃষ্টি করেছেন) হযরত সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত
ক্বাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করে
বলেন, অর্থাৎ (মহান আল্লাহ পাক তিনি) হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে (মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন)। আয়াত
শরীফে ﺍﺻﻞ “আছল” শব্দ উহ্য রয়েছে।”
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ৮২ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﻫﻮ ﺍﺻﻞ ﺍﻟﺨﻠﻖ
( ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺧﻠﻘﻜﻢ ﻣﻦ ﻧﻄﻔﺔ ( ﺛُﻢَّ ﺟَﻌَﻠَﻜُﻢْ ﺍَﺯْﻭَﺍﺟًﺎ ) ﻳﻌﻨﻰ
ﺍﺻﻨﺎﻓﺎ ﺫﻛﺮﺍ ﻭﺍﻧﺜﻰ
অর্থ : “(মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে
সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে
মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর তিনিই হলেন মানব সৃষ্টির
মূল। অতঃপর তোমাদেরকে (হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার
সন্তানদেরকে) নুতফা থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর
তোমাদেরকে পুরুষ-মহিলায় বিভক্ত করেছেন।”
আল্লামা ছহিবে খাযিন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
খাযিন”-এর ৩য় খণ্ডের ৪৯৬ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ )
ﻳﻌﻨﻰ ﺫﺭﻳﺘﻪ
অর্থ : (মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে
সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সন্তানদেরকে নুতফা
থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
আল্লামা বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি “তাফসীরে বাগবী”-এর
৩য় খণ্ডের ৪৯৬ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ) ﺍﻯ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ
অর্থ : মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে অর্থাৎ
তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছেন।
“তাফসীরে কাদেরী”-এর ২য় খণ্ডের ২৭৮ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ আছে,
( ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ) ﺍﻭﺭ ﺍﻟﻠﮧ ﻧﮯ ﭘﯿﺪﺍ ﮐﯿﺎ ﺗﻢ ﺗﻢ ﮐﻮﯾﻌﻨﯽ ﺗﻤﮭﺎﺭﮮ ﺑﺎﭖ ﺍﺩﻡ
ﻋﻠﯿﮧ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﮐﻮ ( ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﻣﭩﯽ ﺳﮯ –
অর্থ : “….. আর মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে অর্থাৎ
তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
সূরা ফাতির-এ উল্লিখিত উক্ত আয়াত শরীফ ও তার তাফসীর বা
ব্যাখ্যা দ্বারাও বুঝা গেল যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিই
শুধুমাত্র মাটি থেকে সৃষ্টি আর উনার সন্তানগণ নুতফা থেকে
কুদরতীভাবে সৃষ্টি হয়েছেন। তাই মুফাসসিরীনে কিরাম
রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা “ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢْ” শব্দের ব্যাখ্যায় “ﺍَﺑِﺎﻛُﻢْ ”
অর্থাৎ তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে
সৃষ্টি করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
(৬)
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦْ ﻋَﻠَﻘَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻳُﺨْﺮِﺟُﻜُﻢْ
ﻃِﻔْﻞً
অর্থ : “ঐ মহান আল্লাহ পাক যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি
করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর নুতফা (বীর্য) থেকে,
অতঃপর জমাট রক্ত থেকে, অতঃপর তোমাদেরকে বের
করেন শিশুরূপে।” (সূরা মু’মিন : ৬৭)
আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল বয়ান”-এর ৮ম খণ্ডের ২০৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﺍﻟﻤﻌﻨﻰ ﺧﻠﻖ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ
অর্থ : “(ঐ মহান আল্লাহ পাক যিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে
সৃষ্টি করেছেন) ….এ আয়াত শরীফের সঠিক অর্থ হলো
মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের আছল হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৪র্থ
খণ্ডের ৭৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(যিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন)
অর্থাৎ তোমাদের ‘আছল’ হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
“তাফসীরে কাদেরী”-এর ২য় খণ্ডের ৩৫৪ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ আছে,
( ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ) ﻭﮦ ﮬﮯ ﺟﺴﮯ “ ﺧﻠﻘﮑﻢ” ﭘﯿﺪﺍ ﮐﯿﺎ ﺗﻤﮭﺎﺭﮮ
ﺩﺍﺩﺍ ﺍﺩﻡ ﮐﻮ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ “ ﺧﺎﮎ ﺳﮯ ”
অর্থ : “……… ঐ মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের দাদা হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
সূরা মু’মিন-এর উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও উনার ব্যাখ্যা দ্বারাও
প্রমাণিত হলো যে, আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকেই শুধুমাত্র সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
অন্য কাউকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়নি।
(৭)
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ ﺛُﻢَّ ﻗَﻀَﻰ ﺃَﺟَﻼً ﻭَﺃَﺟَﻞٌ ﻣُّﺴﻤًّﻰ ﻋِﻨﺪَﻩُ ﺛُﻢَّ
ﺃَﻧﺘُﻢْ ﺗَﻤْﺘَﺮُﻭﻥَ
অর্থ : “সেই মহান আল্লাহ পাক যিনি তোমাদেরকে মাটির
থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর নির্দিষ্টকাল নির্ধারণ
করেছেন। আর এক নির্দিষ্টকাল মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট
রয়েছে, তথাপি তোমরা সন্দেহ কর।” (সূরা আনয়াম : ২)
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ২য়
খণ্ডের ৩য় পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﻧﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺧﻠﻖ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻣﻦ
ﻃﻴﻦ ﻭﺍﻧﻤﺎ ﺧﺎﻃﺐ ﺫﺭﻳﺘﻪ ﺑﺬﺍﻟﻚ ﻻﻧﻪ ﺍﺻﻠﻬﻢ ﻭﻫﻢ ﻣﻦ ﻧﺴﻠﻪ
অর্থ : “…….. (মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি
থেকে সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।
আর এ কারণেই উনার সন্তানদেরকে মাটির সৃষ্টি বলা
হয়েছে, কেননা হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিই হচ্ছেন
তাদের আছল, আর তারা উনার ‘আছল’ থেকে সৃষ্টি
হয়েছে।”
আল্লামা ছানাউল্লাহ পানিপথি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
মাযহারী”তে লিখেন,
( ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺑﺘﺪﺃ ﺧﻠﻘﻜﻢ ﻣﻨﻪ ﺣﻴﺚ ﺧﻠﻖ ﻣﻨﻪ
ﺍﺻﻠﻜﻢ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺍﻭ ﺍﻟﻤﻌﻨﻰ ﺧﻠﻖ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﺍﺩﻡ ﺑﺤﺬﻑ
ﺍﻟﻤﻀﺎﻑ
অর্থ : “(মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে
সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টির সূচনা
করেছেন তোমাদের আছল হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করার মাধ্যমে। অথবা উক্ত আয়াত
শরীফের অর্থ হলো তোমাদের পিতা হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। এখানে
‘মোজাফ’ উহ্য রয়েছে।”
সূরা আনয়াম-এর উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও তার তাফসীর বা
ব্যাখ্যাও প্রমাণ করে যে, আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস
সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কোন মানুষই মাটির সৃষ্টি নয়।
(৮)
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺳُﻠَﺎﻟَﺔٍ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি
করেছি।” (সূরা মু’মিনুন : ১২)
আল্লামা আবুল লাইছ সমরকন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ২য় খণ্ডের ৪০৯ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺳُﻠَﺎﻟَﺔٍ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦ) ﺣﻀﺮﺕ ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ
ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻜﺒﻰ ﻭﻣﻘﺎﺗﻞ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি
করেছি) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে (মাটির সারাংশ
থেকে সৃষ্টি করেছি)। ক্বালবী ও মাকাতিল রহমতুল্লাহি
আলাইহিমা উনাদের অভিমত এটাই।”
আল্লামা ক্বাজী ছানাউল্লাহ্ পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৩৬৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ) ﺍﻟﺠﻨﺲ ( ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ) ﺍﻭ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﺳُﻠَﺎﻟَﺔٍ
ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ )
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি মানুষের জিন্স অথবা হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ্ মুহম্মদ ইবনে আহমদ আনছারী আল
কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে কুরতুবী”-এর
৬ষ্ঠ খণ্ডের ১০৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ) ﺍﻻﻧﺴﺎﻥ ﻫﻨﺎ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﻗﺎﻟﻪ
ﻗﺘﺎﺩﺓ ﻭﻏﻴﺮﻩ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি
করেছি) এখানে “ ﺍِﻧْﺴَﺎﻥَ” ‘মানুষ’ দ্বারা হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে বুঝানো হয়েছে। হযরত ক্বাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু তিনি এবং অন্যান্য মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি
আলাইহিম উনারা এরূপই বলেছেন।”
আল্লামা ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ৩০১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ) ﺍﻯ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি (মাটির সারাংশ
থেকে)।”
সূরা মু’মিনুন-এর উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও তার ব্যাখ্যা এটাই
প্রমাণ করে যে, সকল মানুষের পিতা হযরত আদম আলাইহিস
সালাম তিনিই সরাসরি মাটির সৃষ্টি। উনার সন্তানগণ মাটির সৃষ্টি নয়। যার
কারণে মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা উক্ত
আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত “ﺍِﻧْﺴَﺎﻥَ ” শব্দ দ্বারা হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকেই বুঝিয়েছেন।
(৯)
ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃَﺣْﺴَﻦَ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲْﺀٍ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ
অর্থ : “যিনি উনার প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং
কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন।” (সূরা সিজদাহ্ : ৭)
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ২৯ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺧﻠﻖ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻦ ﻃﻴﻦ
ﻣﻦ ﺍﺩﻳﻢ ﺍﻻﺭﺽ
অর্থ : “(তিনি কাদামাটি থেকে মানুষ সৃষ্টির সূচনা) অর্থাৎ হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনাকে যমীনের কাদামাটি থেকে সৃষ্টি
করেছেন।”
আল্লামা ছানাউল্লাহ্ পানিপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ২৬৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ
অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক তিনি কাদামাটি দ্বারা মানুষ অর্থাৎ হযরত
আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করা শুরু করেন।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য় খণ্ডের
৪৪৫ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “তিনি কাদামাটি থেকে মানুষ। অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনার সৃষ্টির সূচনা করেন।”
আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর ৭ম খণ্ডের ৯০ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তিনি কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেন) অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে কাদামাটি থেকে সৃষ্টি করা
শুরু করেন।”
আল্লামা ইমাম আবুল ফাররা আল বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ৪৪৫ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ) ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ )
অর্থ : “তিনি কাদামাটি দ্বারা মানুষ অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে সৃষ্টির সূচনা করেন।”
আল্লামা আলুসী বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল মায়ানী”-এর ১১তম খণ্ডের ১২৩ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ) ﺍﻯ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ )
অর্থ : “(তিনি মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেন) অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিসি সালাম উনাকে সৃষ্টি করা শুরু করেন কাদামাটি থেকে।”
আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল বয়ান”-এর ৭ম খণ্ডের ১১১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ) ………………… ﻫﻮ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﺍﺑﻮ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তিনি কাদামাটি থেকে মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেন)
………………. (উক্ত মানুষ হলেন) সকলেরই পিতা হযরত আদম
আলাইহিস সালাম।”
সূরা সিজদা-এর উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও ব্যাখ্যা দ্বারাও
দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে,
শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই মহান আল্লাহ পাক
তিনি সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।
(১০)
ﺍِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻫُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ ﻟَّﺎﺯِﺏٍ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল
মাটি থেকে।” (সূরা সাফফাত : ১১)
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ১১২ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﺍِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻫُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ ﻟَّﺎﺯِﺏٍ) ﻳﻌﻨﻰ ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল
মাটি থেকে) অর্থাৎ আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে
সৃষ্টি করেছি এঁটেল মাটি থেকে।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৪র্থ
খণ্ডের ১৫ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻫُﻢ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ ﻟَّﺎﺯِﺏٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻦ
ﻃﻴﻦ ﺟﺪﻳﺪ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি আল্লাহ পাকই তাদেরকে অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল মাটি
থেকে।”
আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল বয়ান”-এর ৭ম খণ্ডের ৪৫১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺍِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻫُﻢْ) ﺍﻯ ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺍﺻﻠﻬﻢ ﻫﻮ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦْ
ﻃِﻴﻦٍ ﻟَّﺎﺯِﺏٍ )
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি তাদের ‘আছল’ অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে এঁটেল মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।”
(১১)
ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻟِﻠْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔِ ﺇِﻧِّﻲ ﺧَﺎﻟِﻖٌ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ
অর্থ : “যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেস্তাগণকে বললেন,
আমি মাটির মানুষ সৃষ্টি করবো।” (সূরা ছোয়াদ : ৭১)
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ১৪১ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ আছে,
( ﺇِﻧِّﻲ ﺧَﺎﻟِﻖٌ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(নিশ্চয়ই আমি সৃষ্টি করবো মাটি থেকে বাশার) অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৪র্থ
খণ্ডের ৪৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﺇِﻧِّﻲ ﺧَﺎﻟِﻖٌ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “নিশ্চয়ই আমি মাটি থেকে “বাশার” অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করবো।”
“তাফসীরে ক্বাদেরী”-এর ২য় খণ্ডের ৩২৩ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
” ﺇِﻧِّﻲ ﺧَﺎﻟِﻖٌ” ﻣﯿﮟ ﭘﯿﺪﺍ ﮐﺮﻧﮯ ﻭﺍﻻﻫﻮ ” ﺑَﺸَﺮًﺍ ” ﺑﺸﺮ ﻛﻮ “ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ ”
ﻣﭩﯽ ﺳﮯ
অর্থ : “নিশ্চয়ই আমি মাটি থেকে “বাশার” সৃষ্টি করবো।
এখানে “বাশার” দ্বারা উদ্দেশ্যে হলো- হযরত আদম
আলাইহিস সালাম তিনি।”
(১২)
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻣِّﻦْ ﺣَﻤَﺈٍ ﻣَّﺴْﻨُﻮﻥٍ
অর্থ : “আমি মানুষকে পচা কাঁদা থেকে তৈরী শুকনো ঠন
ঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি।” (সূরা হিজর : ২৬)
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ২য় খণ্ডের ২১৮ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻣِّﻦْ ﺣَﻤَﺈٍ ﻣَّﺴْﻨُﻮﻥٍ ) ﺍﻯ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ
ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি ইনসান অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস
সালাম উনাকে ঠনঠনে শুকনো মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য়
খণ্ডের ৯৪ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻓﻰ ﻗﻮﻝ ﺟﻤﻴﻊ
ﺍﻟﻤﻔﺴﺮﻳﻦ .…… “ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ” ﻳﻌﻨﻰ ﻣﻦ ﺍﻟﻄﻴﻦ ﺍﻟﻴﺎﺑﺲ .
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে ঠনঠনে শুকনো মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছি। এটা সকল মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
উনাদের ক্বওল।”
আল্লামা ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ৯৪ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ) ﺍﻯ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ )
ﻃﻴﻦ ﻳﺎﺑﺲ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি ইনসানকে অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে শুকনো মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর ৫ম খণ্ডের ২১ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ )
ﺍﻯ ﻃﻴﻦ ﻳﺎﺑﺲ ﻋﻦ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻭﻏﻴﺮﻩ
অর্থ : “(নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি শুকনো মাটি
থেকে। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ও
অন্যান্য মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের
থেকে এরূপ ব্যাখ্যাই বর্ণিত হয়েছে।”
“তাফসীরে ক্বাদেরী”-এর ১ম খণ্ডের ৫০০ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ আছে,
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ- ﺍﻭﺭ ﮨﮯ ﺷﺒﻪ ﻛﻴﺎ ﻫﻤﻨﮯ ﺍﻻﻧﺴﺎﻥ ﺍﻧﺴﺎﻥ ﻛﻮ ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ
ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻛﻮ “ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ” ﺧﺸﻚ ﻣﭩﻰ ﺳﮯ
অর্থ : “নিঃসন্দেহে আমি ইনসানকে অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি শুকনো মাটি থেকে।”
(১৩)
ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻛَﺎﻟْﻔَﺨَّﺎﺭِ
অর্থ : “তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায়
শুকনো মাটি দ্বারা।” (সূরা আর রহমান : ১৪)
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খণ্ডের ৩০৬ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ( ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ) ﻳﻌﻨﻰ
ﺍﻟﻄﻴﻦ ﺍﻟﻴﺎﺑﺲ
অর্থ : “(তিনি ইনসান) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে
সৃষ্টি করেছেন (ছালছাল) অর্থাৎ শুকনো মাটি থেকে।”
আল্লামা ছানাউল্লাহ্ পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ৯ম খণ্ডের ১৪৮ পৃষ্ঠায় লিখেন,
“ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ” ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ “ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ” ﺍﻯ
ﻃﻴﻦ ﻳﺎﺑﺲ
অর্থ : “তিনি ইনসানকে অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম
উনাকে “ছালছাল” অর্থাৎ শুকনো মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছেন।”
(১৪)
ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ﻭَﻓِﻴﻬَﺎ ﻧُﻌِﻴﺪُﻛُﻢْ ﻭَﻣِﻨْﻬَﺎ ﻧُﺨْﺮِﺟُﻜُﻢْ ﺗَﺎﺭَﺓً ﺃُﺧْﺮَﻯ
অর্থ : “মাটি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি। তাতেই
তোমাদেরকে ফিরাবো এবং তা থেকে পুনরায়
উঠাবো।” (সূরা ত্ব-হা : ৫৫)
আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল বয়ান”-এর ৫ম খণ্ডের ৩৯৬ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ) ﺍﻯ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ ( ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ) ﺑﻮﺍﺳﻄﺔ ﺍﺻﻠﻜﻢ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﺍﻻﻓﻤﻦ ﻋﺪﺍ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻭ ﺣﻀﺮﺕ ﺣﻮﺍﺀ ﻋﻠﻴﻬﻤﺎ ﺍﻟﺴﻼﻡ
ﻣﺨﻠﻮﻕ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻄﻔﺔ
অর্থ : “(তা থেকে) অর্থাৎ যমীন থেকে
(তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি) তোমাদের মূল হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করার মাধ্যমে। আর হযরত আদম
আলাইহিস সালাম ও হযরত হাওয়া আলাইহিস সালাম উনারা ব্যতীত
সকলেই ‘নুতফা’ থেকে সৃষ্ট।”
আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম
বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযিন”-এর ৩য়
খণ্ডের ২৪০ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ) ﺍﻯ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ ﺧﻠﻘﻨﺎ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : “(তোমাদেরকে তা থেকে) অর্থাৎ যমীন
থেকে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা আবুল ফাররা আল বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে বাগবী”-এর ৩য় খণ্ডের ২৪০ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ) ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ (ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ) ﺍﻯ ﺍﺑﺎﻛﻢ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
অর্থ : (তা থেকে) অর্থাৎ যমীন থেকে
(তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ তোমাদের পিতা
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি।”
আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ২য় খণ্ডের ৩৪৬ পৃষ্ঠায়
লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﺧﻠﻘﻨﺎﻩ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ ( ﻓِﻴﻬَﺎ ﻧُﻌِﻴﺪُﻛُﻢْ ) ﺍﻯ ﺑﻌﺪ
ﻣﻮﺗﻜﻢ ( ﻭَﻣِﻨْﻬَﺎ ﻧُﺨْﺮِﺟُﻜُﻢْ ) ﻳﻌﻨﻰ ﻧﻌﻴﻜﻢ ﻭﻧﺨﺮ ﺟﻜﻢ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ (ﺗَﺎﺭَﺓً
ﺃُﺧْﺮَﻯ)
অর্থ : (তা থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ
আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি
করেছি। (সেখানেই প্রত্যাবর্তন করবে) মৃত্যুর পর (সেখান
থেকে) তোমাদের পুনরায় উঠানো হবে, অর্থাৎ জীবিত
করা হবে।”
আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
কুরতুবী”-এর ৬ষ্ঠ খণ্ডের ২১০ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ) ﻳﻌﻨﻰ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻻﻧﻪ ﺧﻠﻖ ﻣﻦ
ﺍﻻﺭﺽ ﻗﺎﻟﻪ ﺍﺑﻮ ﺍﺳﺤﺎﻕ ﺍﻟﺰﺟﺎﺝ ﻭﻏﻴﺮﻩ
অর্থ : “(তা থেকে তোমাদেরকে) অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। কেননা
হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি মাটি থেকে সৃষ্ট।”
আল্লামা আলুসী বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে
রুহুল মায়ানী”-এর ৯ম খণ্ডের ২০৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
( ﻣِﻨْﻬَﺎ) ﺍﻯ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ ( ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ) ﺍﻯ ﻓﻰ ﺿﻤﻦ ﺧﻠﻖ ﺍﺑﻴﻜﻢ ﺣﻀﺮﺕ
ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻨﻬﺎ
অর্থ : “(তা থেকে) অর্থাৎ মাটি থেকে (তোমাদেরকে)
অর্থাৎ তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে
সৃষ্টি করার মাধ্যমে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি।”
সূরা ত্ব-হা-এর উক্ত আয়াত শরীফ ও তার তাফসীর দ্বারাও
প্রমাণিত হলো যে, শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম সরাসরি
মাটির তৈরী। আর কোন মানুষই মাটির তৈরী নয়।
উপরোক্ত বিস্তারিত ও দলীল ভিত্তিক আলোচনা দ্বারা
সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, যারা বলে থাকে, “কুরআন
শরীফের বহুস্থানে বলা হয়েছে সকল মানুষ মাটির তৈরী।
তাই সকল মানুষ মাটির তৈরী” তাদের একথা সম্পূর্ণই ভুল। কারণ
বিশ্বখ্যাত ও অনুসরণীয় মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি
আলাইহিম উনাদের সর্বসম্মত অভিমত হলো- “কুরআন
শরীফের যেসব আয়াত শরীফ-এ ‘মানুষ’ মাটির তৈরী বলা
হয়েছে” সেসব আয়াত শরীফ-এ উল্লিখিত “মানুষ” দ্বারা
উদ্দেশ্যে হলো “হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি।” কারণ
শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই মহান আল্লাহ পাক
তিনি সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। বিশ্ববিখ্যাত
“তাফসীরগ্রন্থ” সমূহের বর্ণনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়। সাথে
সাথে এটাও প্রমাণিত হলো যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম
তিনি ব্যতীত অন্য কেউ সরাসরি মাটি থেকে তৈরী নয়, বরং
মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতে তৈরী। অর্থাৎ মহান আল্লাহ্ পাক
উনার কুদরতে প্রত্যেকেই তার মা-এর রেহেম শরীফে
কুদরতীভাবে তৈরী।
আর সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন,
ﺫَﻟِﻚَ ﻋَﺎﻟِﻢُ ﺍﻟْﻐَﻴْﺐِ ﻭَﺍﻟﺸَّﻬَﺎﺩَﺓِ ﺍﻟْﻌَﺰِﻳﺰُ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢُ . ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃَﺣْﺴَﻦَ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲْﺀٍ
ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻭَﺑَﺪَﺃَ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥِ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ. ﺛُﻢَّ ﺟَﻌَﻞَ ﻧَﺴْﻠَﻪُ ﻣِﻦ ﺳُﻠَﺎﻟَﺔٍ ﻣِّﻦ
ﻣَّﺎﺀ ﻣَّﻬِﻴﻦٍ .
অর্থ : “তিনিই দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, পরাক্রমশালী, পরম
দয়ালু যিনি উনার প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং
কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তিনি (মহান
আল্লাহ পাক) উনার বংশধর সৃষ্টি করেন সম্মানিত পানির নির্যাস
থেকে।” (সূরা সাজদা : ৬, ৭, ৮)
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤَﺎﺀ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻓَﺠَﻌَﻠَﻪُ ﻧَﺴَﺒًﺎ ﻭَﺻِﻬْﺮًﺍ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻗَﺪِﻳﺮًﺍ .
অর্থ : “তিনি পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন মানবকে অতঃপর
তাকে রক্তগত, বংশ ও বৈবাহিক সম্পর্কশীল করেছেন।
আপনার পালনকর্তা তিনি সবকিছু করতে সক্ষম।” (সূরা ফুরক্বান :
৫৪)
ﺃَﻟَﻢْ ﻧَﺨْﻠُﻘﻜُّﻢ ﻣِّﻦ ﻣَّﺎﺀ ﻣَّﻬِﻴﻦٍ .
অর্থ : “আমি কি তোমাদেরকে সম্মানিত পানি হতে সৃষ্টি
করিনি।” (সূরা মুরসালাত : ২০)
ﻓَﻠْﻴَﻨﻈُﺮِ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥُ ﻣِﻢَّ ﺧُﻠِﻖَ. ﺧُﻠِﻖَ ﻣِﻦ ﻣَّﺎﺀ ﺩَﺍﻓِﻖٍ .
অর্থ : “অতএব, মানুষের দেখা উচিত, সে কি বস্তু হতে সৃষ্টি
হয়েছে। সে সৃষ্টি হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি
থেকে।” (সূরা ত্বারিক্ব : ৫, ৬)
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳُﺼَﻮِّﺭُﻛُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺣَﺎﻡِ ﻛَﻴْﻒَ ﻳَﺸَﺎﺀ .
অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করে
থাকেন মায়ের রেহেম শরীফে যেভাবে ইচ্ছা।” (সূরা
আলে ইমরান : ৬)
অতএব প্রমাণিত হলো যে, সমস্ত মানুষ কুদরতীভাবে মা-এর
রেহেম শরীফে সৃষ্টি হয়ে থাকেন। কেউই সরাসরি মাটি
থেকে সৃষ্টি হননা। যারা বলে, ‘সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি হয়’
তাদের বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে কুরআন শরীফ-সুন্নাহ শরীফ-
এর খিলাফ যা তাফসীর বির রায় হওয়ার কারণে সম্পূর্ণরূপে
কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
কোন মুসলমান কুফরী করলে সে কাফির ও মুরতাদ হয়ে
যায়। শরীয়তে মুরতাদের হুকুম ও ফায়সালা হচ্ছে, “মুরতাদের
স্ত্রী তালাক হয় যদি সে বিবাহিত হয়ে থাকে, হজ্জ বাতিল হয়
যদি সে হজ্জ করে থাকে; এবং সে কাফির হয়। অর্থাৎ তার
সমস্ত নেক আমল বিনষ্ট হয়ে যায়, তওবা না করা পর্যন্ত সে
ঈমানদার হবেনা। বিবাহ না দোহরালে স্ত্রীর সাথে সংসার করা
যাবেনা। যদি সংসার করে তবে যিনাকারীর গুনাহ্ হবে। সন্তান
হলে তা হালাল হবেনা। যদি হজ্জের সামর্থ থাকে তবে
পুনরায় তাকে হজ্জ করতে হবে, যদিও সে পূর্বে হজ্জ
করে থাকে। তা না করলে কবীরা গুনাহ্ হবে। তার
ওয়ারিশসত্ত্ব বাতিল হয়ে যাবে। তাকে তিন দিন সময় দেয়া
হবে তওবা করার জন্য। যদি তওবা করে, তবে ক্ষমা করা
হবে। অন্যথায় তার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড।
কেননা হাদীছ শরীফে রয়েছে, “তিন কারণে মৃত্যুদন্ড
দেয়া জায়িয। যথা-
(ক) ঈমান আনার পর কুফরী করলে অর্থাৎ মুরতাদ হলে।
(খ) ঐ যিনাকার বা যিনাকারিনী, যারা বিবাহিত বা বিবাহিতা।
(গ) যে অন্যায়ভাবে কাউকে কতল করে।” (তিরমিযী, নাসাঈ,
ইবনে মাজাহ্, মুসনদে শাফিয়ী, মুসনদে বাজ্জার, মুস্তাদরিকে
হাকিম)
উল্লেখ্য, মুরতাদ মারা যাবার পর যারা এদের জানাযার নামায পড়ে
বা পড়ায় বা জানাযার নামাযে সাহায্য-সহযোগিতা করে, তাদের
সকলের উপরই মুরতাদের হুকুম বর্তাবে এবং এ সমস্ত মুরতাদ
মরলে বা নিহত হলে তাকে মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন
করা যাবে না। এমনকি মুসলমানের ন্যায়ও দাফন করা যাবে না। বরং
তাকে কুকুরের ন্যায় একটি গর্তের মধ্যে পুঁতে রাখতে
হবে।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, সনদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন ‘নূরে মুজাস্সাম অর্থাৎ তিনি আপাদমস্তক নূর’৷

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, সনদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন ‘নূরে মুজাস্সাম অর্থাৎ তিনি আপাদমস্তক নূর’৷

“নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ্ পাক-এর পক্ষ হতে এক মহান নূর এবং একখানা সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে।” (সূরা মায়িদা-১৫)

উল্লেখ্য, এ আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ্ পাক “নূর” শব্দ দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই বুঝিয়েছেন, যেহেতু তিনি আপাদমস্তক “নূর বা নূরের তৈরি।”

এ প্রসঙ্গে “তাফসীরে আবী সাউদ”-এর ৩য় জিঃ ১৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “বর্ণিত আয়াত শরীফের প্রথম শব্দ অর্থাৎ ‘নূর’ দ্বারা উদ্দেশ্য

হলো- “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম; আর দ্বিতীয় শব্দ অর্থাৎ ‘কিতাবুম মুবীন’ দ্বারা

উদ্দেশ্য হলো- কুরআন শরীফ।”

হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে, “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহ পাক্-এর রসূল হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান

হয়ে যাক। আপনি আমাকে জানিয়ে দিন যে, আল্লাহ্ পাক সর্ব প্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেছেন?

তিনি বললেন, হে জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক সবকিছুর পূর্বে আপনার নবীর নূর মুবারককে সৃষ্টি করেছেন।

অর্থাৎ আল্লাহ পাক-এর প্রথম সৃষ্টিই হচ্ছে “নূরে হাবীবী” ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” (মসনদে আব্দুর রায্যাক)

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে নূরের সৃষ্টি বা “নূরে মুজাস্সাম” তা নিম্নোক্ত

বর্ণনা দ্বারাও প্রমাণিত হয়:

যেমন হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- হে আমার রব! আমাকে কি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন? জবাবে আল্লাহ্ পাক বলেন, হে হাবীব

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি আমার (সৃষ্টিকৃত) সাদা নূর (যা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্বচ্ছতা ও

নির্মলতার প্রতি লক্ষ্য করলাম, যে নূরকে আমি কুদরতের দ্বারা আমার হুকুমে প্রথমেই সৃষ্টি করে রেখেছিলাম।

আমি সম্মান প্রকাশার্থে উক্ত নূরকে অর্থাৎ আমার নূর বলে সম্বোধন করি। অতঃপর উক্ত নূর থেকে একটি অংশ বের করে নিলাম অর্থাৎ

“নূরে হাবীবী” ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তিন ভাগে ভাগ করলাম। প্রথম ভাগ দ্বারা আপনাকে অর্থাৎ আপনার আকৃতি

মুবারককে ও আপনার আহলে বাইতকে সৃষ্টি করি, দ্বিতীয় ভাগ দ্বারা আপনার স্ত্রী ও ছাহাবীগণকে সৃষ্টি করি, আর তৃতীয় ভাগ দ্বারা

যারা আপনার প্রতি মুহব্বত রাখেন তাঁদেরকে সৃষ্টি করেছি”…..(নূরে মুহম্মদী- ৪৭)”

অতএব, প্রমাণিত হলো যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দেহ মুবারক সৃষ্টির

উপাদান হচ্ছে- “মূল নূরে হাবীবী।” যে ‘নূরে হাবীবী’ হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম থেকে হযরত খাজা আব্দুল্লাহ্ আলাইহিস্ সালাম হয়ে মা

হযরত আমিনা আলাইহাস্ সালাম-এর রেহেম শরীফে সম্পূর্ণ কুদরতীভাবে স্থান নিয়েছিল। আমাদের অবস্থা কিন্তু তার সম্পূর্ণই ব্যতিক্রম।

যদি তাই হয়, তবে একথা কি করে বলা যেতে পারে যে, রসূল আমাদের মত।”

আকৃতিগতভাবে মেছাল আমাদের মত, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কোন দিক দিয়েই আমাদের মত নন, বরং তিনি আমাদের থেকে সৃষ্টিগত উপাদান,

কর্মকাণ্ডে ও মর্যাদায় ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে আলাদা অর্থাৎ এক কথায় সৃষ্টির মাঝে তাঁর তুলনা তিনি এককভাবে নিজেই।

যেমন আল্লাহ্ পাক স্রষ্টা হিসেবে তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তদ্রুপ সৃষ্টির মধ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এরও সমকক্ষ কেউ নেই। কোনদিক দিয়েই না।

“সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরে মুজাস্সাম বলেই তাঁর শরীর মুবারকের কোন ছায়া

ছিল না।”

এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত ও প্রসিদ্ধ “নাওয়াদেরুল উছূল” কিতাবে হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে যে, হযরত হাকীম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি

“নাওয়াদেরুল উছূল” কিতাবে হযরত জাকওয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেন। নিশ্চয়ই সূর্য ও চাঁদের আলোতেও সাইয়্যিদুল

মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর “ছায়া মুবারক” দেখা যেত না।”

হযরত আল্লামা ইবনে সাবা রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর “শিফাউস সুদুর” কিতাবে লিখেছেন,

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম-এর ছায়া মুবারক যমীনে পড়তো না। কেননা তিনি ছিলেন নূর। অতঃপর যখন

তিনি সূর্য অথবা চাঁদের আলোতে হাঁটতেন তখন তাঁর ছায়া মুবারক দৃষ্টিগোচর হতো না।”

এ প্রসঙ্গে “শরহে মাওয়াহেবুল লাদুন্নীয়া শরীফে” উল্লেখ আছে, “চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর

ছায়া মুবারক ছিল না। কেননা তিনি নূর ছিলেন।” (আর নূরের কোন ছায়া নেই)

ইমামুল আল্লাম, জালালু মিল্লাত ওয়াদ্বীন, আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর “আনমুযাজুল লবীব ফী খাছায়িসিল

হাবীব” ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দ্বিতীয় বাবের চতুর্থ অধ্যায়ে লিখেন- “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর

ছায়া মুবারক মাটিতে পড়েনি। চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও তাঁর ছায়া মুবারক দেখা যেতো না। হযরত আল্লামা ইবনে সাবা রহমতুল্লাহি

আলাইহি বলেন- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু সম্পূর্ণ নূর ছিলেন সেহেতু তাঁর ছায়া মুবারক ছিল না। হযরত ইমাম

রাজীন

রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, অবশ্যই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নূর সমস্ত কিছুকে ছাড়িয়ে যেতো।”

এ প্রসঙ্গে “শেফা শরীফ” কিতাবে উল্লেখ আছে যে, “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নূরের দেহ মুবারকের ছায়া মুবারক

সূর্য ও চাঁদের আলোতেও পড়তো না। কেননা তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নূর।”

অনুরূপভাবে “আফযালুল কোরায়” উল্লেখ আছে, “নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘নূর’ ছিলেন। নিশ্চয়ই তিনি যখন চাঁদ ও সূর্যের আলোতে হাঁটতেন তখন তাঁর ছায়া মুবারক প্রকাশ পেতো না।”

বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা শিহাবুদ্দীন খাফফাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি “নাসীমুর রিয়াজ” নামক কিতাবে লিখেন যে, “সাইয়্যিদুল

মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর “নবুওওয়াতের” প্রমাণের মধ্যে এটাও একটি প্রমাণ যে, তাঁর

শরীর মুবারকের ‘ছায়া মুবারক’ ছিল না। যখন তিনি সূর্য ও চন্দ্রের আলোতে হাঁটতেন তখনও তাঁর “ছায়া মুবারক” পড়তো না। কেননা তিনি

(আপাদ মস্তক) “নূর”। … কিতাবুল ওয়াফা-এর লেখক, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, “সাইয়্যিদুল

মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর “ছায়া মুবারক” ছিল না। তাঁর নূরের উজ্জলতা সূর্য ও বাতির

আলোর উপর প্রাধান্য লাভ করতো …।”

এ প্রসঙ্গে “ফয়জুল ক্বাদীর শরহে জামিউছ্ ছগীর” কিতাবের ৩য় জিঃ, ৭৬৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “হযরত আবুল উজাফা হতে বর্ণিত,

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার বিলাদতের সময় আমার মাতা হযরত

আমিনা আলাইহাস্ সালাম দেখেন যে, একখানা “নূর মুবারক” তাঁর থেকে আলাদা হয়ে বছরা শহরের দালান-কোঠা সমূহ আলোকিত করে

ফেলেছে।”

“বুলুগুল আমানী” কিতাবের ২০ জিঃ, ১৮৩ পৃষ্ঠায় এ হাদীছ শরীফখানা বর্ণিত আছে যে, “হযরত ওসমান ইবনে আবিল আছ রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, যে রাত্রে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিলাদত লাভ

করেন, সে রাত্রে আমার মাতা হযরত আমিনা আলাইহাস্ সালাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, সে রাত্রে আমি ঘরের ভিতর ‘নূর’

ব্যতীত কিছুই দেখিনি।”

শুধু তাই নয়, আরশ-কুরসী, লউহ-ক্বলম, জান্নাত-জাহান্নাম, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-তারকা এমনকি সমস্ত কুল-ক্বায়িনাত সৃষ্টি হয়েছে হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নূর মুবারক থেকে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বখ্যাত কিতাব মাদারিজুন নুবুওওয়াতে উল্লেখ আছে,

“আল্লাহ পাক সর্ব প্রথম আমার নূর মুবারক সৃষ্টি করেছেন, এবং সব কিছুই সৃষ্টি হয়েছে আমার নূর মুবারক থেকে।”

তিনি যখন রাস্তায় চলতেন তখন সেই রাস্তায় নূরে ঝলমল করত। তিনি আপাদমস্তক নূর তার জ্বলন্ত প্রমাণ হল হযরত আয়িশা ছিদ্দিক্বা

রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর বর্ণিত হাদীছ শরীফ। যেমন- হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি

বলেন, আমি রাত্রে বাতির আলোতে বসে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাপড় মুবারক সিলাই করতেছিলাম। এমন সময়

বাতিটি নিভে গেল এবং আমি সুঁচটি হারিয়ে ফেললাম। এর পরপরই নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন।

তাঁর চেহারা মুবারকের নূরের আলোতে আমার অন্ধকার ঘর আলোকময় হয়ে গেল এবং আমি নূরের আলোতে আমার হারানো সুঁচটি খুজে

পেলাম। (সুবহানাল্লাহ)

কাজেই কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের অসংখ্য দলীল আদিল্লাহ এর ভিত্তিতে প্রতিভাত হলো যে, আখিরী নবী

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরে মুজাস্সাম তথা আপাদমস্তক নূর, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করলে কাফির হওয়া

ছাড়া কোন পথই নেই। যার সাক্ষী স্বয়ং আল্লাহ পাক।

পরিশেষে মহান আল্লাহ পাক-এর দরবার শরীফে এই আরযী যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নূরে মুজাস্সাম তথা

আপাদমস্তক নূর এই আক্বীদায় আক্বীদাভুক্ত করে আল্লাহ পাক-এর সন্তুষ্টি এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টি

রিযামন্দী হাছীল করার তাওফীক্ব দান করুন। (আমীন)