হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন ঈমান এবং সত্যের মাপকাঠি, উনাদের অস্বীকার-কারীরা কাফির

দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ । এই কারনে বিধর্মীরা পরিপূর্ণ দ্বীন ইসলামে ফিৎনা বিস্তার করার জন্য বিভিন্ন এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে রাখে। এমন এক ইসলাম বিদ্বেষী সিআইএ এজেন্ট হচ্ছে জামাতের প্রতিষ্ঠাতা শিয়া আক্বীদাভুক্ত আবুল আলা মওদূদী খারেজী। এই খারেজীটা ইসলামকে দুনিয়াবাসীর কাছে সন্দেহযুক্ত করার জন্য একটা কৌশল অবলম্বন করে। সেটা হচ্ছে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু দের বিরুদ্ধে মিথ্য অভিযোগ দাড় করিয়ে একটা সন্দেহ বা ধুম্রজাল তৈরী করা। কারন ছাহাবীরা যদি সমালোচনার আওতায় চলে আসলে পুরা ইসলামটাই সমালোচনার মধ্যে চলে আসবে। এবং সহজেই মানুষকে পথভ্রষ্ট করা যবে। এটা মাথায় রেখে সে আমেরিকার সুক্ষ্ম মদদে কিছু আক্বীদা মুসলিম সমাজে প্রবেশ করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। তার কতিপয় নিম্নে দেয়া হলো-

(১) হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে মওদুদীর কুফরী আক্বীদা: “ছাহাবাদিগকে সত্যের মাপকাঠি জানবে না।” (নাঊযুবিল্লাহ)

(দস্তরে জামাতে ইসলামী, ৭ পৃষ্ঠা)

(২) সাহাবায়ে কিরাম অনেকে মনগড়া হাদীস বর্ননা করেছেন।”

(তরজুমানুল কুরআন, ৩৫ সংখ্যা)

(৩) হযরত আবু বকর সিদ্দিক (আলাইহিস সালাম) খিলাফতের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ অযোগ্য ছিলেন।”

(তাজদীদ ও এহহীয়ায়ে দীন ২২ পৃ)

(৪) হযরত উসমান (আলাইহিস সালাম) উনার মাঝে স্বজন প্রীতীর বদগুন বিদ্যমান ছিলো।”

(খেলাফত ও মুলকিয়াত ৯৯ পৃ)

(৫) হযরত আলী (আলাইহিস সালাম) খেলাফত কালে এমন কিছু কাজ করেছেন যাকে অন্যায় বলা ছাড়া উপায় নাই !”

(খেলাফত এ মুলকিয়াত ১৪৬ পৃ)

(৬) হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু স্বর্থবাদী, গনিমতের মাল আত্বসাৎকারী, মিথ্যা সাক্ষ্য গ্রহনকারী ও অত্যাচারী ছিলেন।”

(খেলাফত ও মুলকিয়াত ১৭৩ পৃ)

নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক।

[মওদূদি সিআইএর এজেন্ট তার প্রমাণ দেখতে পড়ুন – ]

আর এই বাতিল ফির্কা জামাতের এসকল বক্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব প্রদান করে মুসলিম উম্মাহর খেদমতে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম উনাদের ফযীলত তুলে ধরার কোশেশ করলাম। আল্লাহ পাক কবুল করার মালিক।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ফজিলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে অনেক আয়াত শরীফ বর্ননা করেছেন। কতিপয় আয়াত শরীফ উল্লেখ করা হলো-

اولءك الذين امتحن الله قلوبهم. لهم مغفرة و اجر عظيم

অর্থ: আল্লাহ পাক উনাদের অন্তর সমূহ তাক্বওয়ার জন্য পছন্দ করেছেন এবং উনাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহান প্রতিদান।

[ সূরা হুজরাত ৩ নং আয়াত শরীফ ]

والز مهم كلمة التقوي وكانوا احق بها واهلها

অর্থ: আল্লাহ পাক উনাদের জন্য তাক্বওয়ার দায়িত্ব অপরিহার্য করে দিয়েছেন। বস্তুতঃ উনারাই ছিলেন এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত।

[ সূরা ফাতাহ ২৬ নং আয়াত শরীফ ]

ولكن الله حبب اليكم الايمان وزينه في قلوبكم و كره اليكم الكفر والفسوق و العصيان اولءك هم الرشدون

অর্থ: আল্লাহ পাক ঈমানকে আপনাদের (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) অন্তরে প্রিয় ও সুশোভিত করে দিয়েছেন। আর কুফর, পাপাচার ও নাফরমানী আপনাদের নিকট অপ্রিয় করে তুলেছেন।

[ সূরা হুজরাত ৭ নং আয়াত শরীফ ]

امنوا كما امن الناس

অর্থ: ওই সকল ব্যক্তিগন ( ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন) যেভাবে ঈমান এনেছেন, তোমরাও সেভাবে ঈমান আন।

[ সূরা বাক্বারা ১৩ নং আয়াত শরীফ ]

فان امنوا بمثل ما امنتم به فقد اهتدوا

অর্থ: যদি তারা ঐরূপ ঈমান আনে যেরূপ আপনারা (ছাহাবাগন) ঈমান এনেছেন, তাহলে তারা হিদায়েত লাভ করবে।

[ সূরা বাক্বারা ১৩৭ নং আয়াত শরীফ ]

كنتم خير امة اخرجت للناس تأمرون بالمعروف وتنهون عن المنكر

অর্থ: আপনারাই হলেন সর্বোত্তম উম্মত। মানুষের মধ্য থেকে আপনাদেরকে বের করা হয়েছে এজন্য যে, আপনারা সৎ কাজে আদেশ এবং বদকাজে বাধা প্রদান করবেন।

[ সূরা আল ইমরান ১১০ নং আয়াত শরীফ ]

لقد رضي الله عن المؤمنين

অর্থ: আল্লাহ পাক মু’মিনগনের প্রতি সন্তুষ্টি ঘোষণা করেছেন।

[ সূরা ফাতাহ ১৮ নং আয়াত শরীফ ]

ان الذين سبقت لهم منا الحسني اولءك عنها مبعدون

অর্থ: যাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে হুসনার ফয়সালা হয়ে গেছে, তাঁদেরকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে।

[ সূরা আম্বিয়া ১০১ নং আয়াত শরীফ ]

وكلا وعد الله الحسني

অর্থ : আল্লাহ তায়ালা তাঁদের ( ছাহাবায়ে কিরাম) সবাইকে হুসনা তথা উত্তম পরিনতির ওয়াদা দিয়েছেন।

[ সূরা হাদীদ ১০ নং আয়াত শরীফ ]

উপরোক্ত আয়াত শরীফ সমূহ থেকে আমরা বুঝতে পারি হযরত ছাহাবায়ে কিরামগন কতটুকু মকবুল। স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজেই তাঁদের ঈমান, হিদায়েত এবং সত্যের মাপকাঠি ঘোষণা করে দিয়েছেন। এবং তাকওয়া সম্পন্ন অন্তকরন দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। আর দিয়েছে হুসনা বা উত্তমের ওয়াদা, আল্লাহ পাক উনাদের প্রতি চির সন্তুষ্ট।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহম উনাদের ফযিলত সম্পর্কে অনেক হাদীস শরীফ বর্নিত আছে। পৃথিবীর সকল হাদীস শরীফের কিতাবেই উনাদের নিয়ে “ফাদ্বায়িলুস ছাহাবা” নামক একটা অধ্যায় রচনা করা হয়েছে। সেখানে অসংখ্য হাদীস শরীফ পাওয়া যায় উনাদের শান মান সম্পর্কে।
বিশ্ববিখ্যাত কিতাব “মিশকাত শরীফে” একটা হাদীস শরীফ বর্নিত আছে। যেখানে সকল ছাহাবায়ে কিরাম উনাদের হিদায়েত এবং সত্যের মাপকাঠি হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم اصحابي كالنجوم بايهم اقتديتم اهتديتم

অর্থ: হযরত উমর ইবনুল খত্তাব (আলাইহিস সালাম) হতে বর্নিত, তিনি বলেন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুগন সকলেই আকাশের তারকা সাদৃশ্য, তাঁদের যেকোন একজনকে অনুসরন করলেই হিদায়েত প্রাপ্ত হবে। ”

দলীল-
√ মিশকাত শরীফ।
√ মিরকাত শরীফ !
√ রযীন।
√ আশয়াতুল লুময়াত।

শুধু তাই নয়, ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনের অনুসরন করলেই জান্নাতী দলের আওতায় আস যায়, অন্যথায় চির জাহান্নামী হতে হয়। হাদীস শরীফে স্পষ্ট উল্লেখ আছে-

ستفترق امتي علي ثلاث وسبعين ملة كلهم في النار الا ملة واحدة قالوا من هي يا رسول الله صلي الله عليه و سلم قال ما انا عليه واصحابي

অর্থ: অতি শিঘ্রই আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। একটি দল ব্যতীত বাহাত্তরটি দলই জাহান্নামে যাবে। তখন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুগন বললেন, ইয়া রসূল্লাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নাজাত প্রাপ্ত দল কোনটি ? হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি এবং আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুগনের মত ও পথের উপর যারা কায়েম থাকবে।”

দলীল-
√ আবু দাউদ শরীফ ৪৫৯৯
√ দারেমী শরীফ ২৫১৮
√ তিরমিযী শরীফ।
√ মিশকাত শরীফ কিতাবুল ঈমাম বাবু ইতিছাম বিল কিতাব ওয়া সুন্নাহ।

এই দল প্রসঙ্গে অন্য হাদীস শরীফে বলা হয়েছে-

عن معاوية رضي الله عنه ثنتان وسبعون في النار و واحدة في الجنة وهي الجماعة
অর্থ: হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত আছে, বাহাত্তরটি দল হবে জাহান্নামী আর একটি দল হবে জান্নাতী। আর সে দলটি হচ্ছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত।”

দলীল-
√ ছহীহ আবু দাউদ শরীফ।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের এত মর্যাদা আল্লাহ পাক দিয়েছেন যেটা মানুষ চিন্তাও করতে পারবে না। একটা হাদীস শরীফের মাধ্যমে সে বিষয়ে কিছুটা আলোকপাত করা হলো-

لا تسبوا اصحابي فلو ان احدكم انفق مثل احد ذهبا ما بلغ مد احدهم ولا نصيفه

অর্থ: তোমরা আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনে গালি দিও না। কেননা যদি তোমাদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমান স্বর্ণ আল্লাহ পাকের রাস্তায় দান করে, তবুও ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনের এক মুদ (১৪ ছটাক) বা অর্ধ মদ (৭ ছটাক) গম দান করার ফযীলতের সমপরিমান ফযীলতও অর্জন করতে পারবে না।”

দলীল-
√ বুখারী শরীফ।
√ ফতহুল বারী।
√ উমদাতুল ক্বারী।
√ ইরশাদুস সারী।
√ মিশকাত শরীফ

চিন্তা করুন কত ফযীলত দেয়া হয়েছে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের। সমগ্র দুনিয়ার সকল মানুষের নেক আমল এক করলেও ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের কয়েক মুহূর্তের আমলের সমান হবে না।

আর এসকল ফযীলতের কারনে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে বিখ্যাত ফক্বীহ ছাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ননা-

من كان مستنا فليستن بمن قدمات فان الحي لا تؤمن عليه الفتنة اولءك اصحاب محمد صلي الله عليه و سلم كانوا افضل هذه الامة ابرها قلوبا واعمقها علما واقلها تكلفا اختارهم الله لصحبة نبيه ولاقامة دينه فاعرفوالهم فضلهم واتبعوا علي اثرهم وتمسكوا بما استطعتم من اخلاقهم وسيرهم فانهم كانوا علي الهدي المستقيم

অর্থ: যে ব্যক্তি শরীয়তের সঠিক তরীক্বা অনুসরন করতে চায়, তার উচিত যারা অতীত হয়েছেন (ছাহাবায়ে কিরাম) তাঁদের অনুসরন করা। উনারা উম্মতের মধ্যে সর্বোউত্তম, আত্মার দিক দিক থেকে অধিক পবিত্র, ইলমের দিক থেকে গভীর, উনারা লোক দেখানো আমল থেকে মুক্ত। আল্লাহ পাক তাঁদেরকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথী হিসেবে মনোনীত করেছেন।
সূতরাং তাদের মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়ীল-ফযীলত, শান-শওকত সম্পর্কে অবগত হও এবং তাঁদের কথা ও কাজের অনুসরন কর এবং যথাসম্ভব তাঁদের সীরত ছূরতকে গ্রহন করো, কারন উনারা হিদায়েত এবং “সিরাতুল মুস্তাক্বীম” এর উপর প্রতিষ্ঠিত।”

দলীল-
√ মিশকাত শরীফ ৩২ পৃষ্ঠা।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের সমালোচনা করা, উনাদের বিদ্বেষ করা কুফরী :

আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-

ان الذين يؤذون الله ورسوله لعنهم الله في الدنيا والاخرة واعدلهم عذابا مهينا

অর্থ: নিশ্চয়ই যার আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেয়, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের প্রতি আল্লাহ পাকের অভিসম্পাত এবং তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।”

[ সূরা আহযাব ৫৭ ]

এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীস শরীফে বর্নিত আছে-

الله الله في اصحابي لا تتخذوهم غزضا من بعدي فمن احبهم فبحبي احبهم ومن ابغضهم فببغضي ابغضهم ومن اذاهم فقد اذاني ومن اذاني فقد اذي الله ومن اذي الله فيوشك ان ياخذه

অর্থ: আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম সম্পর্কে আল্লাহ পাককে ভয় কর, আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম সম্পর্কে আল্লাহ পাককে ভয় কর। আমার বিছাল শরীফের পর উনাদেরকে তিরস্কারের লক্ষ্যস্থল করো না। যে ব্যক্তি তাদের মুহব্বত করলো, সে আমাকে মুহব্বত করার কারনেই করলো। যে ব্যক্তি তাঁদের বিদ্বেষ পোষন করলো সে আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষন করার কারনেই করলো। যে ব্যক্তি ব্যক্তি তাঁদের কষ্ট দিলো, সে মূলতঃ আমাকেই কষ্ট দিলো, আর যে আমাকে কষ্ট দিলো সে মূলত আল্লাহ পাককে কষ্ট দিলো, আর যে আল্লাহ পাককে কষ্ট দিল আল্লাহ পাক তাকে শিঘ্রই পাকড়াও করবেন।”

দলীল-
√ তিরমিযী শরীফ।

সূতরাং উক্ত দলীল থেকে বোঝা গেল, যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদের প্রতি বিন্দু মাত্র সমালোচনা করবে, উনাদের বিরুদ্ধে স্বজন প্রীতির অপবাদ দিবে, তারা নিশ্চিত কাফির হয়ে জাহান্নামে যাবে।

আল্লাহ পাক আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

ليغيظ بهم الكفار

অর্থ: একমাত্র কাফিররাই তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করে।

[ সূরা ফাতাহ ২৯ ]

এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় হাদীস শরীফে বর্নিত আছে-

من غاظه اصحاب محمد صلي الله عليه و سلم فهو كافر

অর্থ: যে ব্যক্তি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করবে, সে কাফির।”

দলীল-
√ মিশকাত শরীফ।

” কানযুল উম্মাল” নামক বিখ্যাত হাদীস শরীফের কিতাবে বর্নিত আছে-

حب اصحابة ايمان وبغضهم كفر

অর্থ: হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনের প্রতি মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করা কুফরী।”

হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফের পর একটা মুরতাদ দল বের হবে যারা কিনা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের প্রতি বিদ্বেষ করবে। এদের সম্পর্কে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পূর্বেই সতর্ক করে ভবিষ্যতবানী করেছেন-

سيأتي قوم يصبونهم ويستنقصو نهم فلا تجالسو هم ولا تاكلوهم ولا تشاربهم ولا تناكحوهم وفي رواية اخري ولا تصلوا معهم ولا تدعولهم

অর্থ: অতি শীঘ্রই একটি দল বের হবে, যারা আমার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনকে গালি দিবে, উনাদের নাকিছ বা অপূর্ন বলবে। সাবধান ! সাবধান ! তোমরা তাদের মজলিসে বসবে না, তাদের সাথে পানাহার করবে না, তাদের সাথে বিয়েশাদীর ব্যবস্থা করবে না। অন্য রেওয়াতে আছে, তাদের পেছনে নামাজ পড়বে না এবং তাদের জন্য দোয়া করবে না।”

আরো ইরশাদ হয়েছে,-

اذا رأيتم الذين يسبون اصحابي فقولوا لعنة الله علي شركم

অর্থ: যখন তোমরা কাউকে আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনকে গালি দিতে দেখবে, তখন তোমরা বলো, এ নিকৃষ্ট কাজের জন্য তোমাদের প্রতি আল্লাহ পাকের লা’নত বর্ষিত হোক।”

দলীল-
√ তিরমীযি শরীফ ছাহাবীদের অধ্যায়।

বিখ্যাত সিরাত গ্রন্থ “শিফা” তে বর্নিত আছে-
ذكر اصحابي فامسكوا

অর্থ: আমার ছাহাবীদের আলোচনাকালে তোমরা সংযত থেকো।”

ইমামে আযম, ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

لا تذكر احدا من اصحاب رسول الله صلي الله عليه و سلم الا بخير

অর্থ: আমরা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রত্যেক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন সম্পর্কে সুধারনা পোষন করি।”

দলীল-
√ ফিক্বহুল আকবার।

বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস হযরত ইবনে হাজার আসক্বালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাফিজে হাদীস আবু যারয়া রাযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ননা উল্লেখ করে বলেন-

اذا رايت الرجل ينتقص احدا من اصحاب النبي صلي الله عليه و سلم فاعلم انه زنديق

অর্থ: যখন কাউকে দেখবে যে, সে কোন একজন ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার অবমাননা করছে, তখন তুমি নিশ্চিত জানবে সে ব্যক্তি নির্ঘাত কাফির।”

দলীল-
√ আল ইসাবা লি ইবনে হাজার আসক্বালানী ১ম খন্ড ১৮ পৃষ্ঠা।

সূতরাং উপরের বিস্তারিত দলীল থেকে প্রমানিত হলো, যারা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের অবমাননা করবে, হক্বের মাপ কাঠি মানবে না, বেয়াদবী মূলক কথা বলবে, স্বজন প্রীতির অভিযোগ করবে এরা সবাই বিনা সন্দেহে কাফির।

এত সুস্পষ্ট প্রমান থাকার পরও জামাতি মওদূদীরা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের প্রতি বিদ্বেষ এবং সমালোচনা করে থাকে। তারা জলিলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার বিরুদ্ধে চরম আপত্তিকর কথা বলে থাকে। তারা বলে, তিনি নাকি হক্বের উপর ছিলেন না। নাউযুবিল্লাহ !! অথচ ইতিহাস দেখুন পূর্ববর্তী অনুসরনীয় উনাদের দৃষ্টিতে মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু কেমন ছিলেন। ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ছাত্র বিখ্যাত হাদীস বিশারদ , আমিরুল মু’মিনিন ফিল হাদীস আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, –

ايما افضل معاوية او عمر بن عبد العزيز فقال والله لغبار الذي دخل انف فرس معاوية مع رسول الله صلي الله عليه و سلم خير من مأة واحد مثل عمر بن عبد العزيز

অর্থ: হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু শ্রেষ্ঠ নাকি হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহি (তাবেয়ী) শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন, আল্লাহ পাকের কসম ! হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ঘোড়ায় চড়ে জিহাদে যেতেন, তখন ঘোড়ার নাকে যে ধুলা বালি প্রবেশ করতো, সে ধুলাবালিও হযরত উমার বিন আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহির ন্যায় শতশত ব্যক্তি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।”

দলীল-
√ ফতোয়ায়ে হাদিসিয়্যাহ লি ইবনে হাজর হায়তামী

চিন্তা করে দেখুন হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার কত মর্যাদা। উনার ঘোড়ার নাকে প্রবিষ্ট ধুলিবালির মর্যাদা যদি একজন জলীল ক্বদর তাবেয়ীর থেকে শত গুন উত্তম হয় তবে কোন সাহসে ফুটপাতের হক্বার মওদূদী, সাঈদী, জামাতিরা হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বিরোধিতা করে ???

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম গন এত সম্মানিত যে, স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজেই উনাদের সার্টিফিকেট প্রদান করেছেন। আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে বলেন-

“আপনি পাবেন না আল্লাহ পাক ও আখিরাতে বিশ্বাসী এমন কোন সম্প্রদায়, যারা ভালোবাসেন আল্লাহ পাক এবং রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিরুদ্ধচারীদেরকে হোক না এই বিরুদ্ধচারীরা উনাদের পিতা, উনাদের পুত্র, ভাই অথবা উনাদের নিজেদের গোত্র। উনাদের অন্তরে আল্লাহ পাক সুদৃঢ় করেছেন ঈমান এবং তাদের শক্তিশালী করেছেন উনার পক্ষ হতে রূহ (হিদায়েত ও গায়েবী সাহায্য) দ্বারা। তিনি উনাদের দাখিল করবেন জান্নাতে , যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত, সেথায় উনারা স্থায়ী হবেন। আল্লাহ পাক উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন উনারও উনার প্রতি সন্তুষ্ট, তারাই আল্লাহ দল। জেনে রাখুন, আল্লাহ পাকের দলই সফলকাম।” [ সূরা মুজাদালা – আয়াত শরিফ ২২ ]

এর চাইতে বড় সার্টিফিক আর কি হতে পারে? সুবহানাল্লাহ্!!

মানুষকে ধোঁকা দেয়ার কিছু মনগড়া ইতিহাস, ভুল বর্ননাকে পুঁজি করে জামাতিরা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম গনের সমালোচনা করে। অথচ উছুল হচ্ছে, ইতিহাস যদি কুরআন হাদীস শরীফের বিরোধী হয় সেটা পরিতাজ্যা। কুরআন সুন্নাহ আলোকে ইতিহাস গ্রহণ করতে হবে। কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক সকল ছাহাবী মিয়ারে হক্ব বা সত্যের মাপকাঠি। এটা অস্বীকার করা চরম কুফরী।

Advertisements

কোরআন, হাদীস, ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফের দৃষ্টিতে ইয়াযীদ কাফির এবং তার সমর্থনকারীরাও কাফির

পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফের দৃষ্টিতে ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাফির এবং তার সমর্থনকারীরাও কাফির কিভাবে জানতে এই পোষ্ট খানা পড়ুন গভীর মনোযোগ সহকারেঃ পৃথিবীর কিছু ঘটনা এতটা নির্মম, এতটা অমানবিক এতটা হৃদয়বিদারক যা বলার কোন ভাষা থাকে না। সৃষ্টি জগৎ যেন হতভম্ব হয়ে থেমে যায় শোকে, আকাশ বাতাস হাহাকার করতে থাকে। আর মানব হৃদয়ে অনন্তকাল ধরে চলতে থাকে রক্তক্ষরন। কারবালার হৃদয়বিদারক ইতিহাস সবারই কম বেশি জানা আছে। সবাই জানেন সেই কারবালা প্রন্তরে হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দৌহিত্র সাইয়্যিদুনা ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম এবং উনার পরিবারবর্গের অনেককে নির্মম ভাবে শহীদ করা হয়। শুধু তাই নয়, সেই কর্তিক মস্তক নিয়ে আনন্দ মিছিলও করে সেই কুলাঙ্গারের দলেরা। ইতিহাস সাক্ষী , হাজার হাজার কিতাব, ইমাম মুস্তাহিদদের বক্তব্য সাক্ষী এই ভয়াবহ নির্মম হত্যাকান্ড চালিয়েছিলো ইয়াযীদি বাহীনি। ইয়াযীদের প্রকাশ্য নির্দেশে তার সৈন্য বাহীনি ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে এবং উনার পরিবারের সদস্যদেরকে অবরোধ করে রাখে ফোরাত নদীর তীরে। এক ফোঁটা পানিও পান করতে দেয় নাই পিশাচেরা। পরিশেষে তারা ইতিহাসের সবচাইতে নির্মম, হৃদয়বিদারক, পৈশাচিক ঘটনার অবতারনা করে ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম এবং উনার পরিবারের সদস্যদের শহীদ করার মাধ্যমে। যেটা মেনে নেয়া কারো পক্ষে কোনদিনও সম্ভব নয়।

অথচ আফসোস লাগে, হতবাক হতে হয় তখন, আজ উক্ত ঘটনার ১৩৭২ বছর পর যখন শুনতে হয় ইয়াযীদের মত সৃষ্টির সবচাইতে নিকৃষ্ট মালউনকে মুসলমান ছদ্মবেশী এক শ্রেনীর ধর্মব্যবসায়ী, ইতিহাস বিকৃতকারী, ইহুদী এজেন্ট “তাবেয়ী, আমীরুল মু’মিনিন, রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু” ইত্যাদি শব্দ দ্বারা সম্ভাষন করে। কি বিশ্বাস হয় না ?

দেখুন, দেওবন্দী সিলসিলার মাহীউদ্দীন সম্পাদীত “” মাসিক মদীনা”” পত্রিকায় এই কাফের ইয়াজীদকে সমর্থন করে কি বলা হয়েছে-

“ইয়াজীদ তাবেয়ী ছিলো। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার ব্যাপারে তার প্রতি মন্দরুপ কিংবা কিছু বলা ঠিক হবে না।”” নাউযুবিল্লাহ মিন জালিক !

প্রমান-
√ মাসিক মদীনা ,এপ্রিল,২০১০ সংখ্যা , প্রশ্ন উত্তর বিভাগ।

ইহুদীদের অন্যতম দালাল জাকির নায়েক নামক কাফির নায়েক কারবালার ময়দানের ঘৃণিত পশু ইয়াযীদকে ‘তাবে-তাবীঈন’ বলে উল্লেখ করে তাকে জান্নাতী বলে এবং তার নামের শেষে ‘রহমতুল্লাহি আলাইহি’ উচ্চারণ
করে থাকে। (নাঊযুবিল্লাহ)

প্রমান : http://www.youtube.com/watch?v=1mMQbR_48IU

তাই একজন আহলে বাইতে শরীফ উনার একজন অতি নগন্য গোলাম হিসাবে এ বিষয়ে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ার কোন বিকল্প নেই। তাই আজ আপনাদের খেদমতে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের দৃষ্টিতে ইয়াযীদ যে কাফির, লা’নতপ্রাপ্ত, মরদুদ, পথভ্রষ্ট সে বিষয়ে দলীল পেশ করবো।

এ বিষয়টা সম্পূর্ণ বোঝার জন্য আমাদের সর্বপ্রথম হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম এবং খাছ করে হযরত সাইয়্যিদুনা ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার ফযীলত জানতে হবে এবং উপলব্ধি করতে হবে।

কুরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফের আলোকে হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ফযীলত :

মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-

قل لا اسءلكم عليه اجرا الا المودة في القر بي

অর্থ: হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! আপনি ( উম্মতদের ) বলুন, আমি তোমাদের নিকট নবুওয়াতের দায়িত্ব পালনের কোন প্রতিদান চাই না। তবে আমার নিকটজন তথা আহলে বাইত উনাদের প্রতি তোমরা সদাচারন করবে।”
( সূরা শূরা : আয়াত শরীফ ২৩ )

এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় বিখ্যাত তফসীর “তাফসীরে মাযহারীতে” উল্লেখ আছে-

لا اسءلكم اجرا الا ان تودوا اقرباءي واهل بيتي و عترتي وذلك لانه صلي الله عليه و سلم كان خاتم النبين لا نبي بعده

অর্থ: আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাই না তবে তোমরা আমার নিকটাত্মীয়, আহলে বাইত ও বংশধর উনাদের ( যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক) হক্ব আদায় করবে। কেননা আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন শেষ নবী। উনার পরে কোন নবী নেই।”

দলীল-
√ তাফসীরে মাযহারী ৮ম খন্ড ৩২০ পৃষ্ঠা।

আহলে বাইত শরীফ উনাদের ফযীলত সম্পর্কে বহু হাদীস শরীফ বর্নিত আছে। সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উনাদের মুবারক শানে পৃথিবীর সকল হাদীস শরীফের কিতাবে “আহলে বাইত শরীফ উনাদের ফযীলত” নামক সতন্ত্র অধ্যায় সন্নিবেশিত আছে। তন্মধ্যে কতিপয় হাদীস শরীফ থেকে হযরত সাইয়্যিদুনা ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার ফযীলত নিম্নে উল্লেখ করা হলো :

“উম্মুল মু’মিনিন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, একদা ভোরবেলা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একখানা কালো বর্নের পশমী নকশী কম্বল শরীর মুবারকে জড়িয়ে বের হলেন। এমন সময় হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি সেখানে আসলেন, তিনি উনাকে কম্বলের ভিতর প্রবেশ করিয়ে নিলেন। তারপর ইমাম হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন, উনাকেও হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার উনার সাথে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর সাইয়্যিদাতুন নিছা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন উনাকেও তাতে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। তারপর হযরত আলী আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন, উনাকেও তার ভিতর প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন শরীফের এই আয়াত শরীফখানা পড়লেন, হে আমার আহলে বাইত ! আল্লাহ তায়ালা তিনি আপনাদেরকে সকল প্রকার অপবিত্রতা থেকে মুক্ত রেখে পবিত্র করার মত পবিত্র করবেন।” অর্থাৎ পবিত্র করেই সৃষ্টি করেছেন।

দলীল-
√ সহীহ মুসলিম শরীফ – বাবু ফাদ্বায়িলু আহলে বাইতিন নাব্যিয়ি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ৬০৪৩ নং হাদীস শরীফ। (ইফা)

হাদীস শরীফে আরো বর্নিত আছে-

ان رسول الله صلي الله عليه و سلم قال لعلي رضي الله عنه و فاطمة عليها السلام و الحسن عليه السلام و الحسين عليه السلام انا حرب لمن حاربهم و سلم لمن سالمهم

অর্থ: হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম , ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের সম্পর্কে বলেছেন, যারা উনাদের প্রতি শত্রুতা পোষন করবে, আমি তাদের শত্রু। পক্ষান্তরে যে উনাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবো।”

দলীল-
√ সহীহ তিরমিযী শরীফ – আহলে বাইত শরীফ উনাদের ফযীলত অধ্যায়।

হাদীস শরীফে আরো বর্নিত আছে-

عن حضرت ابي سعيد رضي الله تعالي عنه قال رسول الله صلي الله عليه و سلم الحسن عليه السلام و الحسين عليه السلام و الحسسين عليه السلام سيدا شباب اهل الجنة

অর্থ: হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বলেন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা দু’জনেই জান্নাতী যুবকগনের সাইয়্যিদ।”

দলীল-
√ তিরমীযি শরীফ – আহলে বাইত শরীফ উনাদের ফযীলত অধ্যায়। হাদীস শরীফে ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে মুহব্বত প্রসঙ্গে আরো বর্নিত আছে –
عن يعلي بن مرة رضي الله عنه قال قال رسول صلي الله عليه و سلم حسين عليه السلام مني و انا من حسين عليه السلام احب الله من احب حسينا

অর্থ : হযরত ইয়ালা ইবনে মুররাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি আমার থেকে আর আমি হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার থেকে। যে ব্যক্তি হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে মুহব্বত করবে আল্লাহ পাক তিনি তাকে মুহব্বত করবেন।'”

দলীল-
√ সহীহ তিরমিযী শরীফ- আহলে বাইত শরীফ উনাদের ফযীলত।

সহীহ হাদীস শরীফে আরো বর্নিত আছে-

عن حضرت ابي ذر رضي الله عنه انه قال وهو اخذ بباب الكعبة سمعت انبي صلي الله عليه و سلم يقول الا ان مثل اهل بيتي فيكم مثل سفينة نوح من ركبها نجا ومن تخلف عنها هلك

অর্থ: হযরত আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্নিত, তিনি কা’বা শরীফের দরজা ধরে বলেছেন, আমি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি , সাবধান ! আমার আহলে বাইত শরীফ হলেন তোমাদের জন্য নূহ আলাইহিস সালাম উনার নৌকার মত। যে তাতে আরোহন করবে, সে রক্ষা পাবে। আর যে তাতে পশ্চাতে থাকবে সে ধব্বং হবে।”

দলীল-
√ মুসনাদে আহমদ শরীফ ।

কুরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফ থেকে প্রমান হলো আহলে বাইত শরীফ উনাদের মুহব্বত করা ঈমান। এবং সন্তুষ্টি রেযামন্দী পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম। আর কেউ যদি বিন্দু মাত্র বিদ্বেষ করে সে কাট্টা কাফির হয়ে যাবে।

বিবেকবান মানুষেরা একটু দেখুন, হাদীস শরীফে আছে-

سباب المسلم فسوق وقتاله كفر

অর্থ- মুসলমানকে গালি দেয়া ফাসেকি আর কতল করা কুফরী !”

দলীল-
√ বুখারী শরীফ
√ মুসলিম শরীফ

এখন একজন সাধারণ মানুষকে হত্যা করা যদি কুফরী হয় তাহলে নবীজী উনার পরিবারের অন্যতম, বেহেশতের যুবকদের প্রধান, যিনি নবীজী উনার নামাজের সময় নবীজীর কাঁধ মুবারকে উঠলে নবীজী সেজদা দীর্ঘায়িত করতেন এমন মর্যাদার অধিকারী ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শহীদ কারী কি মুসলমান থাকে ? তাবেয়ী থাকে? সেকি কাফের হয় না? অথচ মালাউন দেওবন্দী গ্রুপের মাসিক পত্রিকা মদীনার সম্পাদক মাহীউদ্দীন, জাকির নায়েক নামক কাফির নায়েক তাকেও তাবেয়ীর মর্যাদা দান করছে !” কি জবাব দিবেন ?
একজন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বিরোধিতা করাই কুফরী, আর সেখানে সাহাবীতো বটেই বরং নববী পরিবারের সদস্য ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করে কেই মুসলমান থাকতে পারে?

হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের ফযীলত এবং উনাদের সাথে বেয়াদবী করার ফলাফলঃ

এবার আসুন আমরা দলীল দিয়ে প্রমান করি ইয়াজীদ কাফির এবং লানতের উপযুক্ত ছিলো। বিখ্যাত ইমাম ও মুফাসসির আল্লামা আলূসী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে সূরা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ২২ নং আয়াত শরীফের তাফসীরে এ বিষয়ে সকল ইমাম মুস্তাহিদ উনাদের রায় অনুযায়ী বিস্তারিত প্রমাণ পেশ করেছেন-

وقد صرح بكفره وصرح بلغنه جماعة من العلماء منهم الحافظ ناصر السنة ابن الجوزي وسبقه القاضي ابو يعلي وقال العلامة التفتازاني لانتوقف في شانه بل في ايمانه لعنة الله تعالي عليه وعلي انصاره واعوانه وممن صرح بلعنه الجلال السيوطي عليه الرحمت

অর্থ- ইয়াজীদ কাফির হওয়া সম্পর্কে এবং তার প্রতি লানত করা বৈধতার বিষয়ে এক জামাতের উলামা পরিস্কার মন্তব্য করেছেন। উনারা হলেন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতের মদদগার ইবনুল জাওজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আর উনার পূর্বে হযরত কাজী আবু ইয়ালা রহমাতুল্লাহি আলাইহি। আর আল্লামা হযরত তাফতানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমরা ইয়াজীদের ব্যাপারে দ্বিধা করবো না। এমনকি তার ঈমানের ব্যাপারে ও না। তার প্রতি, তার সাহায্যকারী দের প্রতি, এবং শুভকামনা কারীদের প্রতি আল্লাহ পাকের লানত। যারা ইয়াজীদ সুস্পষ্ট লানত করেছেন তাদের মধ্যে ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনিও রয়েছেন।”

দলীল-
√ তাফসিরে রুহুল মায়ানী ২৫ খন্ড ৭২ পৃষ্ঠা

বিশ্ব বিখ্যাত সুন্নী আক্বায়ীদের কিতাব “আক্বীয়ীদে নাসাফী” কিতাবে বর্নিত আছে –

وبعضهم اطلق اللعن عليه لما انه كفر حين امر يقنل الحسين رضي الله عنه و اتفقوا علي جواز اللعن علي من قتله او امر به او اجازه ورضي به والحق ان رضا يزيد يقتل حضرت الحسين عليه السلام و استبشاره بزلك و اهانة اهل بيت النبي صلي الله عليه وسلم مما تواتر معناه ان كان تفاصيله احادا فنحن لانتوقف في شانه بل في ايمانه لعنت الله عليه وعلي انصاره واعوانه

অর্থ- কতক আলেম ইয়াজীদদের প্রতি লা’নত বর্ষন করেছেন। কারন ইয়াজীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার নির্দেশ দিয়ে কাফিরের কর্ম করে। আর যে ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করেছে, যে উনাকে শহীদ করার নির্দেশ জারী করেছে, যে উনাকে শহীদ করাকে বৈধ বলে মত পোষন করেছে, এসব কান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছে -এরুপ লোকদের প্রতি লা’নত ও অভিসম্পাত দেয়াকে সকলেই বৈধ বলেছেন। আর সত্য হলো, ইয়াজীদ ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার ব্যাপারে রাজি ছিলো। উনার শহাদাত বরনের ব্যাপারে সে উল্লসিত ছিলো। সে নবীজী উনার পরিবারের মানহানী করে আনন্দিত হয় । নাউযুবিল্লাহ ! কাজেই আমরা (আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত) ইয়াজীদের ব্যাপারে এতটুকু দ্বীধা করবো না , এমনকি তার ঈমানের প্রশ্নেও না। ইয়াজীদের প্রতি লা’নত ও অভিসম্পাত , ইয়াজীদের
সাহায্যকারী দের প্রতি লানত ও অভিসম্পাত। ইয়াজীদের পক্ষ সমর্থন
কারীদের প্রতি লা’নত ও অভিসম্পাত।”

দলীল–
√ শরহে আক্বায়ীদে নসফী ১৬২ পৃষ্ঠা!

বিখ্যাত ইমাম ও মুস্তাহিদ হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইয়াজিদের প্রতি লা’নত করাকে বৈধ বলে কুরআন শরীফের আয়াত দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বর্নিত আছে-

انا الامام احمد سأله ولد عبد الله عن لعن يذيد قال كيف لا يلعن من لعنه الله تعالي في كتابه ؟ فقال عبد الله قد قرأت كتاب الله عز و جل فلم اجد فيه لعن يزيد فقال الامام ان الله تعالي يقول فهل عسيتم ان توليتم ان تفسدو في الارض و تقطعوا ارحامكم اولءك الذين لعنهم الله. واي فساد وقطيعة اشد مما فعله يزيد ؟

অর্থ : হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ছেলে হযরত আবদুল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতাকে ইয়াজিদকে লা’নত করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন। তিনি ছেলেকে বলেন, আল্লাহ পাক যাকে উনার কিতাব (কুরআন শরীফে) এ লা’নত করেছেন তাকে লা’নত করা যাবে না কেন ? হযরত আব্দুল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি আল্লাহ পাক উনার কিতাব পাঠ করেছি। কুরআন শরীফে ইয়াজিদকে লা’নতের সন্ধান পাই নাই। হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ছেলেকে বলেন, আল্লাহ পাক তিনি বলেন, হতে পারে তোমরা ফিরে যাবে আর পৃথিবীতে উপদ্রব সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের রেহমী বা জঠর সম্পর্ক ছিন্ন করবে। এরূপ লোকদের প্রতি আল্লাহ পাক তিনি লা’নত করেন। কাজেই ইয়াজিদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি যা করেছে তার চেয়ে অধিক উপদ্রব ও রেহমী সম্পর্ক ছিন্ন করা আর কি হতে পারে ?”

দলীল-
√ তাফসীরে রূহুল মাআনী ২৫ তম খন্ড ৭২ পৃষ্ঠা।

সুনির্দিষ্টভাবে ইয়াজিদের প্রতি লা’নত করা বৈধ হওয়ার প্রশ্নে হযরত আল্লামা আলুসী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার মত প্রদান করে বলেন,-

علي هذا القول ( اي علي جواز القول بععن معين) لانوقف في لعن يزيد بكثرة اوصافه الخبيثة وارتكابه الكباءر في جميع ايام تكليفه ويكفي ما فعله ايام استلاءه باهل المدينة ومكة فقد روي الطبراني بسند حسن : اللهم من ظلم اهل المدينة واخافهم فاخفه عليه لعنة الله واملاءكة والناس اجمعين لايقبل منه صرف ولاعدل
والطامة الكبري ما فعليه باهل البيت ورضاه بقتل الحسين علي جده وعليه الصاوة والسلام واستبشارة بذالك واهانته اهل بيته مما تواتر معناه وان كانت تفاصيله احدا.

অর্থ: এ কথার ভিত্তিতে (সুনির্দিষ্টভাবে অভিসম্পাত দানের বৈধতার ভিত্তিতে) ইয়াযিদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহিকে লা’নত করার প্রশ্নে আমরা দ্বিধা করবো না। সে বহুবিধ নিকৃষ্টমানের দোষ করেছে। তার জবর দখলের দিনগুলোতে সে মদীনা শরীফ ও মক্কা শরীফ এর অধিবাসীদের সাথে যে আচরন করেছে তার ব্যাপারে বিচার করতে গেলেই যথেষ্ট। প্রসঙ্গত হযরত ইমাম তাবরানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি হাসান সনদে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, হে বারে ইলাহী ! যে মদীনাবাসীদের প্রতি যুলুম করবে, উনাদের সন্ত্রস্ত করবে, আপনি তাকেও ভীতির সম্মুখীন করুন।” এরূপ ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ পাক, ফেরেশতাকুল, মানবকুলসহ সকলে অভিসম্পাত ( লা’নত) বর্ষিত হোক। এরূপ ব্যক্তির কোন ফরজ ও নফল ইবাদত কবুল করা হবে না। আর মহাপ্রলয়ের ন্যায় ইয়াযিদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত শরীফ (পরিবারবর্গ) উনাদের সাথে যা করেছে আর হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাতকে যেভাবে সানন্দে সে গ্রহণ করেছে। নাউযুবিল্লাহ । হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার নানা ও উনাদের উভয়ের প্রতি ছলাত ও সালাম বিনিময় নিবেদন করি এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার পরিবারবর্গের সাথে সে যেসব মানহানিকর ব্যবহার করেছে, তার বিস্তারিত বিবরন সূত্রগত একক বর্ননায় বর্নিত হলেও অর্থ ও তথ্য দৃষ্টে (মুতাওয়াতির) ব্যাপক সূত্রে বর্নিত।”

দলীল-
√ তাফসীরে রূহুল মায়ানী ২৫ তম খন্ড ৭২ নং পৃষ্ঠা।

বিখ্যাত মুফাসসির ও মুহাদ্দিস , মুফতীয়ে বাগদাদ হযরত আল্লামা আলূসী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইয়াজিদ কাফির হওয়া প্রসঙ্গে বলেন,-

انا اقول : الذي يغلب علي ظني ان الخبيث لم يكن مصدقا برسالة النبي صلي الله عليه و سلم وان مجموع ما فعل مع اهل حرم الله تعالي واهل حرم نبيه عليه لا لاة و السلام وعترته الطيبين الطاهرين في الحياة و بعد الموات وما صدر منه من المخازي ليس باضعف دلالة علي عدم تصديقه من القاء ورقة الصفف الشريف في قذر

অর্থ: আমি বলছি, আমার এটাই অধিক ধারনা যে, খবীসটি হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে রসূল বলে বিশ্বাস করতো না। সে আল্লাহ পাক উনার হেরেম শরীফে (কা’বা শরীফ প্রান্তে) অবস্থানকারীদের সাথে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হেরেম শরীফ (মদীনা শরীফ) এ অবস্থানকারীদের সাথে এবং উনার পূত-পবিত্র বংশধর উনাদের সাথে উনার জীবদ্দশায় এবং উনাদের বেছাল শরীফের পরে যে আচরন করেছে, এছাড়া তার দ্বারা যে সমস্ত অনাচার প্রকাশ পেয়েছে তা তার ঈমান না থাকার ব্যাপারটি স্পষ্ট করে, (তার ঈমান থাকার) ব্যাপারটি প্রমান করতে কোন দুর্বল দলীলও নাই। কারন এ কাজটি ছিলো কুরআন শরীফের পাতা অবহেলা অবজ্ঞার সাথে ময়লা আবর্জনায় নিক্ষেপ করার মতো অন্যায়।”

দলীল-
√ তাফসীরে রূহুল মা’য়ানী ২৫ তম খন্ড ৭৩ পৃষ্ঠা।

যারা ইয়াযিদের প্রতি লা’নত করাকে বৈধ মনে করবে না, তাকে পাপী মনে করবে না তারা ইয়াযিদের সহচরদের অন্তর্ভুক্ত বলে আল্লামা আলূসী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। আর তিনি ইয়াযিদের সহচরদের প্রতি ইয়াযিদের ন্যায় লা’নত করেছেন। তিনি বলেন-

ويلحق به ابن زياد وابن سعد وجماعة فلعنة الله عز و جل عليهم اجمعين وعلي انصارهم واعوانهم وشيعتهم ومن مال اليهم الي يوم القيامة ما دمعت عين علي ابي عبد الله الحسين

অর্থ: আর লা’নতের উপযোগী হওয়ার ব্যাপারে ইয়াযীদের সাথে শামিল উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ, আমর ইবনু সা’আদ, এবং তার দলবল। তাদের সবার প্রতি আল্লাহ পাক উনার লা’নত ও অভিসম্পাত। তাদের সাহায্যকারী ও শভানধ্যয়ী এবং সাঙ্গ পাঙ্গদের প্রতি লা’নত। আর যারা তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখাবে তাদের প্রতিও লা’নত ক্বিয়ামতের দিন পর্যন্ত। যতদিন হযরত আবু আব্দুল্লাহ হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার জন্য একটি মাত্র চোখও অশ্রু ঝরাবে।”

দলীল-
√ তাফসীরে রূহুল মায়ানী ২৫ তম খন্ড ৭৩ পৃষ্ঠা ।

আর যারা ইয়াজীদ কে কোনরুপ দোষারোপ করতে চায় না তাদের সম্পর্কে হযরত আলুসী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

ﺫﺍﻟﻚ ﻟﻌﻤﺮﻱ ﻫﻮ ﺍﻟﻀﻼﻝ ﺍﻟﺒﻌﻴﺪ ﺍﻟﺬﻱ ﻳﻜﺎﺩ
ﻳﺰﻳﺪ ﻋﻠﻲ ﺿﻼﻝ ﻳﺰﻳﺪ

অর্থ-আমি কসম করে বলি , এটা হলো চরম ভ্রষ্টতা। যা ইয়াজীদের ভ্রষ্টতাকে অতিক্রম করেছে।”

দলীল-
√ রুহুল মায়ানী ২৫ তম খন্ড ৭৩ পৃষ্ঠা ।

উপরোক্ত দলীল দ্বারা প্রামান হলো ইয়াযীদ হচ্ছে লা’নত প্রাপ্ত, খবীস, আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্নকারী, সর্বোপরি আহলে বাইত শরীফ উনাদের শহীদ কারী কাট্টা কাফির। এবং শুধু তাই নয় যারা কিয়ামত পর্যন্ত যারা ইয়াযীদকে সমর্থন করবে তারাও অভিশপ্ত এবং কাফির।

ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার কর্তিত মস্তক মুবারক দেখে ইয়াজিদের খুশি প্রকাশঃ

ইবনে যিয়াদ ইয়াযীদের নির্দেশে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত উনাদেরকে বন্দী করে এবং কারবালায় শাহাদাত প্রাপ্ত উনাদের কর্তিত মস্তক মুবারক নিয়ে মিছিল করে দামাস্কে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিমার ইবনে জুল জাউশান ইবনে সালাবা, শীস ইবনে রাবী, আমর ইবনে, হাজ্জাজ এবং আরো কতক লোককে নিযুক্ত করে। তাদের হুকুম দেয় তারা যে শহরে পৌঁছাবে সেখানে যেন কর্তিত মস্তক মুবারকের প্রদর্শনী করা হয়। নাউযুবিল্লাহ !! এরূপ মিছিলটি পহেলা ছফর দামেস্ক শহরের দ্বার দেশে পৌঁছে। ইয়াযীদ তখন জায়রূন রাজপ্রাসাদে অবস্থা করছিলো। সে প্রাসাদের বেলকুনীতে বসে দৃশ্য উপভোগ করছিলো। নাউযুবিল্লাহ ! সে দেখতে পেলো আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম বন্দী অবস্থায় আসছেন। কর্তিত শির মুবারক সমূহ বর্শার আগায় বিদ্ধ রয়েছে। জয়রূন উপকন্ঠে মিছিল পৌঁছালে পরে ওখানকার কাকগুলো কলরব করে বিলাপ প্রকাশ করতে লাগলো। ইয়াযীদ তখন কবিতা আবৃত্তি করে বিজয় উল্লাস করে বলে-

لما بدت تلك الحمول والشرقت + تلك الرؤس علي شفا جيرون + نعب الغراب فقلت قل او لاتقل + فقد اقتضيت من الرسول ديوني

অর্থঃ যখন ওইসব বাহন চোখে পড়লো, আর ওইসব মস্তক সামনে ভেসে উঠলো জয়রূন উপকন্ঠে তখন কাককুল কলরব করে উঠলো। আমি বললাম, কলরব করো বা নাই করো, আমি রসূলের নিকট হতে আমার ঋনগুলো শোধ করে নিয়েছি।”
আসতাগফিরুল্লাহ !! নাউযুবিল্লাহ !!!

দলীল-
√ তাফসীরে রূহুল মায়ানী ২৫ তম খন্ড ৭৪ পৃষ্ঠা ।

ইয়াযীদ কাফির যে তার কবিতায় কথিত ঋনের কথা বলেছে সে বিষয়ে আল্লামা আলূসী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,-
” ইয়াযীদ তার উক্তি আমি রসূলের নিকট হতে আমার ঋনগুলো শোধ করে নিয়েছি দ্বারা বুঝাতে চাচ্ছে যে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদর যুদ্ধে ইয়াযীদের নানা উতবা এবং তার মামাকে ও অন্যান্য আপনজনকে হত্যা করেছিলেন। যার প্রতিশোধরূপে ইয়াযীদ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত শরীফ উনাদের শহীদ করেছে। নাউযুবিল্লাহ! এটা স্পষ্ট কুফরীর প্রমান। তার এ উক্তি প্রমানিত হওয়ায় ইয়াযীদ এজন্য অবশ্যই কাফির হয়ে গেছে।”

দলীল-
√ তাফসীরে রূহুল মায়ানী ২৫ তম খন্ড ৭৪ পৃষ্ঠা

এখানে দেখা গেলো ইয়াযীদ ইসলামের প্রথম সমর (বদরের যুদ্ধে) তার কাফির পূর্বপুরুষদের নিহত হওয়ার প্রতিশোধ গ্রহন করেছে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত শরীফ উনাদের শহীদ করে। নাউযুবিল্লাহ ! এ থেকে বোঝা গেলো ইয়াযীদের অন্তরে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার আহলে বাইত শরীফ উনাদের প্রতি চরম বিদ্বেষ এবং দুশমনী ছিলো। এখন বলুন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আহলে বাইত শরীফ উনাদের প্রতি দুশমনি করা কি মুসলমানের বৈশিষ্ট্য নাকি কাফিরের বৈশিষ্ট্য ??

ইয়াযিদের মত নাপাক, পাপাচার, মুরতাদ এতই নিকৃষ্ট যে তাকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের সকল ইমামগন এক বাক্যে খলীফা, আমীরুল মু’মিনিন, তাবেয়ী ইত্যাদি বলতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। কারন ইয়াজিদ ছিলো চরম দুরাচার, লা’নতগ্রস্থ, এবং কাফির। যে তাকে আমীরুল মু’মিনিন বলবে তাদের ইসলামী দন্ড মুতাবিক দোররা মারা হয়েছে এবং হবে। এ বিষয়ে হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

قال نوفل بن ابي الفرات كنت عند عمر بن عبد العزيز فذكر رجل يزد فقال قال امير المؤمنين يزيد بن معاوية رضي الله تعالي عنه فال تقول امير المؤموين ؟ وامر بن فضرب عشرين سوطا

অর্থ: নাওফিল ইবনু আবীল ফুরাত বলেন, আমি খলীফা উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট ছিলাম, সেখানে এক ব্যক্তি ইয়াজিদ প্রসঙ্গে বর্ননা করতে দিয়ে বলে ফেলে ” হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পুত্র আমীরুল মু’মিনিন ইয়াযীদ বলেছে।”” এ কথা শোনার সাথে সাথেই খলীফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলে উঠলেন, তুমি ইয়াযীদকে আমীরুল মু’মিনিন বলছো ? হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি লোকটিকে দোররা মারার নির্দেশ দিলেন। তখনই লোকটিকে বিশটি দোররা মারা হয়।”

দলীল-
√ তারীখুল খুলাফা লি জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ১৯৭ পৃষ্ঠা।

এবার তাহলে বলুন, ইয়াযীদের মত কাফিরকে আমীরুল মু’মিনিন বলার জন্য যদি বিখ্যাত তাবেয়ী এবং খলীফা হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি যদি বিশটা দোররা মারার আদেশ দেন, তবে বর্তমানে ইয়াযীদকে তাবেয়ী , রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, জান্নাতী ইত্যাদি বলার অপরাধে মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহীউদ্দীন এবং খবীস জাকির নায়েককে কয়টা দোররা মারা উচিত ???

এছাড়া উপরোক্ত বিখ্যাত কিতাব “তারীখুল খুলাফাতে” ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির চরম স্তরের হারাম ও কুফরী কাজের ফিরিশতি উল্লেখ করা হয়েছে –

“ইয়াযীদ ৬৩ হিজরীতে মদীনা শরীফে বিশাল সৈন্য বাহীনি প্রেরন করে। হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্মৃতি বিজরিত পবিত্র মদীনা শরীফ ধ্বংস স্তুপে পরিনত করে ইয়াযীদ বিখ্যাত ছাহাবী হযরত ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে অবরুদ্ধ করার সেনাবাহিনীকে পরবর্তী নির্দেশ দেয়। তারা হযরত ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে অবরোধ করে রাখে এবং অবরোধ চলা কালীন সময়ে ইয়াযীদ বাহীনি মিনযিক ( এক ধরনের কামান) থেকে আগুন ও পাথর নিক্ষেপ করে। ফলে আগুনের গোলায় পবিত্র কাবা শরীফের দেয়াল, ছাদ ইত্যাদি সম্পূর্ণ ভষ্মীভূত হয়ে যায়। নাউযুবিল্লাহ !! এ ঘটনার বিবরন মুসলিম শরীফের বরাতে ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতি রহমাতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেন-

” মদীনা শরীফের উপকন্ঠ ‘আল হাররায়’ বিপর্যয় ঘটে। তুমি কি জানো যে, আল হাররার বিপর্যয় কি ছিলো ? একদা হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ প্রসঙ্গে এরূপ বর্ননা করেন- আল্লাহ পাক উনার কসম করে বলছি, এ ঘটনায় কারো পরিত্রানের কোন উপায় ছিলো না। এ ঘটনায় বহু সংখ্যক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং অন্যান্য বহু লোক প্রান হারান। মদীনা শরীফে অবাধে লুন্ঠন চলতে থাকে। এ ঘটনায় এক হাজার অবিবাহিতা পর্দানশীল যুবতীর সতীত্ব বিনষ্ট করা হয়। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে মদীনাবাসীকে ভয় দেখাবে আল্লাহ পাক তিনি তাকে ভয় দেখাবেন। তার প্রতি আল্লাহ পাক, ফেরেশতা এবং সকল মানুষ উনাদের লা’নত ও অভিসম্পাত।”

দলীল-
√ মুসলিম শরীফ।
√ তারীখুল খুলাফা ১৯৭ পৃষ্ঠা ।

উপরোক্ত ঘটনা থেকে পবিত্র মক্কা শরীফ এবং মদীনা শরীফে ইয়াযীদের বিভৎস্য হত্যাকান্ড এবং নির্মমতার কারনে আল্লাহ পাক, ফেরেশতা, সকল মানুষের লা’নত মালাউন এবং কাফির হয়ে গেছে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রমান হলো, ইয়াযীদের সকল কর্মকান্ড ছিলো চরম কুফরী। আর যে কুফরী করে সে কাফির হয়ে মুসলমান থেকে খারীজ হয়ে যায়। যার কারনে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের সকল ইমাম মুস্তাহিদ, ইমাম , আওলিয়ায়ে কিরাম সকলেই ইয়াযীদকে লা’নাতুল্লাহি আলাইহি এবং কাফির , জাহান্নামী বলতেও বিন্দু মাত্র দ্বিধা করেন নাই। বিখ্যাত ইমাম হযরত আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি , ইমাম হযরত আবু ইয়ালা রহমাতুল্লাহি আলাইহি , ইমাম ইবনে জাওজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি , হযরত আল্লামা তাফতাজানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি , আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতি রহমাতুল্লাহি আলাইহি , হযরত ইমাম আলূসী বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি সহ উলামায়ে কিরাম উনাদের বিরাট এক জামায়াত ইয়াযীদকে কাফির বলে রায় দিয়েছেন। এছাড়া আল্লামা তাবারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি , শায়েখ আব্দুল হক্ব দেহলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি , শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইয়াযীদকে লা’নতপ্রপ্ত, অভিশপ্ত, নাপাক বলে উল্লেখ করেছেন।

কাজেই ইয়াযীদের মত কাট্টা অভিশপ্ত, কাফিরকে তাবেয়ী, জান্নাতী, রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলে দেওবন্দী মাসিক মদীনার মাহীউদ্দীন এবং ইহুদী স্পাই জাকির নায়েক ওরফে কাফির নায়েক মুরতাদ হয়ে গেছে।

ইয়াজিদের পক্ষে বলতে গিয়ে জাকির নায়েক হাদিস শরীফের ব্যপারে মিথ্যাচার করলো।

জাকির নায়েক তার কাজকে সঠিক প্রমান করার জন্য যুক্তি প্রদান করে যে, “ সহীহ বুখারীতে একটি হাদীস আছে যেখানে বলা হয়েছে যে যারা কনস্টান্টিনোপল (কুসতুনতুনিয়া) জয় করবেন তাঁরা জান্নাত পাবেন এবং ইয়াজিদ লানতুল্লাহি ছিলো ঐ বাহিনীর কমান্ডার” [www.youtube.com/watch?v=R1qgyHCb0Jw]।

প্রিয় পাঠক! এই ব্যক্তি সহীহ বুখারীর নামে সম্পূর্ন মিথ্যা কথা বলেছে। সহীহ বুখারীতে এমন কোন হাদীস নেই যেখানে বলা হয়েছে “যে যারা কনস্টান্টিনোপল (কুসতুনতুনিয়া) জয় করবেন তাঁরা জান্নাত পাবেন এবং ইয়াজিদ লানতুল্লাহি ছিলো ঐ বাহিনীর কমান্ডার”। ইহা সহীহ বুখারীর নামে সরলপ্রান মুসলিমগনকে বিভ্রান্ত করার একটি ঘৃন্য প্রচেষ্টা । হাদীসের নামে যারা মিথ্যা কথা বলে তাদের ইসলাম নিয়ে কথা বলার কি অধিকার আছে? হাদীসের নামে জেনেশুনে মিথ্যা কথা বলা কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে ও ইসলামের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা নয় । রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি বলেন নি, “যে ব্যক্তি আমার সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলে তার ঠিকানা জাহান্নাম?” [তথ্যসূত্রঃ সহীহ বুখারী – খন্ড নং ০১- পৃ নং ৪১ – হাদীস নং ১০৬]

উক্ত ইয়াজিদ লানতুল্লাহির-প্রেমিক তার কাজকে সঠিক প্রমান করার জন্য সহীহ বুখারীর সুবিখ্যাত তফসীরকার ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনার নামেও সম্পূর্ন মিথ্যা কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, “ইবনে হাজার যেখানে বুখারীর তফসীরে তাকে (ইয়াজিদ লানতুল্লাহিকে) জান্নাতী বলেছেন, সেখানে আমি কিভাবে তাকে (ইয়াজিদ লানতুল্লাহিকে) অভিশাপ দিতে পারি”? [www.youtube.com/watch?v=R1qgyHCb0Jw]।

প্রিয় পাঠক! এটিও সম্পূর্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট কথা । ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনার তফসীরে কোথাও ইয়াজিদ লানতুল্লাহিকে জান্নাতী বলেন নি । আল্লাহু আকবার ! ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) তো ইয়াজিদের ‘মাগফুর’ বা ক্ষমাপ্রাপ্ত হওয়ার ধারণাটিকে তাঁর তফসীরে ধূলিসাৎ করেছেন এবং ‘আল ইমতা বিল আরবাঈন’ গ্রন্থের শিরোনামই দিয়েছেন ’ইয়াযীদের প্রতি লা’নত’। সর্বোপরী, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বর্ণনা করেছেন যে, খলীফা উমর বিন আবদুল আযীয বা দ্বিতীয় উমর ইয়াযীদের প্রশংসা কারীকে কুড়িটি দোররা মারার নির্দেশ দান করে ছিলেন। কিন্তু মিথ্যাচারিতার সওদাগর উক্ত ইয়াজিদ লানতুল্লাহি-প্রেমিক জাকির নালায়েক ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনার নামে সম্পূর্ণ বিপরীত কথা বলে ফেললেন। প্রিয় পাঠক! আসুন, দেখে নিই, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) ইয়াযিদ সম্পর্কে ঠিক কি বলেছেনঃ

(১) ইমাম ইবনে হাজার ইয়াজিদের ক্ষমাপ্রাপ্ত হওয়ার ধারণাটিকে ধূলিসাৎ করেছেন : ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনার তফসীরে ইয়াজিদের ‘মাগফুর’ বা ক্ষমাপ্রাপ্ত হওয়ার ধারণাটিকে ধূলিসাৎ করেছেন এভাবে, “ইবনে মুহলাব বলেছেন যে এই হাদীসে আমীর মুয়াবিয়ার কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে কারন তিনি প্রথম নৌ-অভিযান করেছিলেন এবং এই হাদীসে ইয়াযিদের কথাও ইঙ্গিত করা হয়েছে কারন সে প্রথম কাইসারের নগরী আক্রমন করেছিল (এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা কারন ইয়াযিদ প্রথম যুদ্ধে অংশগ্রহন করে নি সে অনেক পরের একটি অভিযানে তার পিতা কর্তৃক শাস্তিস্বরুপ প্রেরিত হয়েছিল- লেখক) কিন্তু ইবনে আল তীন এবং ইবনে আল্ মূনীর এর উত্তর দিয়েছেন এবং বলেছেন যে ইহা অপরিহার্য নয় যে ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে সকলেই এই ক্ষমাপ্রাপ্তির অন্তর্ভুক্ত কারন জ্ঞানীব্যক্তি-বর্গ সকলেই একমত যে, তারাই এই ক্ষমাপ্রাপ্তির অন্তর্ভুক্ত হবে যারা প্রকৃতই তার উপযুক্ত হবে কারন আক্রমনকারীদের মধ্যে যদি কেউ পরে মুরতাদ হয়ে যায় তহলে সে আর ক্ষমাপ্রাপ্তগনের অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হবে না এবং এটা প্রমান যে উক্ত হাদীসে উল্লেখিত ক্ষমাপ্রাপ্তির বিষয়টি শর্তাধীন [তথ্যসূত্রঃ ফাতহুল বারী শারাহ সাহীহ বুখারী – ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি ) – খন্ড নং ৬ – পৃ নং ২০০-২০১ ] প্রিয় পাঠক! দেখলেন তো, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) যে ধারণাটিকে খন্ডন করলেন উক্ত ইয়াজিদ লানতুল্লাহি-প্রেমিক ঐ ধারণাটিকেই তাঁর নামে চালিয়ে দিলেন !

(২) ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনার ‘আল ইমতা বিল আরবাঈন’ গ্রন্থের শিরোনামই দিয়েছেন ’ইয়াযীদের প্রতি লা’নতঃ ইয়াযিদের প্রতি ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনার ঘৃনা এবং অসন্তোষের অধিক প্রমান আর কি হতে পারে যে তিনি দ্বীধাহীন চিত্তে ঘোষনা করেছেন যে, একমাত্র’ পথভ্রষ্ট-গোমরাহ’ ব্যক্তিরাই ইয়াযিদের প্রশংসা করে এবং তিনি তাঁর ‘আল ইমতা বিল আরবাঈন’ গ্রন্থের শিরোনামই দিয়েছেন ’ইয়াযীদের প্রতি লা’নত’! ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) লিখেছেন, “ইয়াযীদকে ভক্তি ও তার প্রশংসা ’পথভ্রষ্ট-গোমরাহ’ ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই করে না যার বিশ্বাস একেবারেই শূন্য। কেননা, ইয়াযীদের এমন সব বৈশিষ্ট্য ছিল যার ভক্ত-অনুরক্ত হলে কুফর তথা অবিশ্বাসের যোগ্য হতে হয় কারন কেবল আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা উনার উদ্দেশ্যে ভালোবাসা এবং কেবল আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা উনার উদ্দেশ্যে ঘৃণা করাই হল ঈমানের লক্ষণ।” [ তথ্যসূত্রঃ ঃ‘আল-’এমতা বিল্ আরবাঈন আল-মাতবাইনাত আস্ সামা’আ’- ইমাম ইবনে হাজর আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) – পৃষ্ঠা নং ৯৬ – দার আল-কুতুব আল-’এলমিয়্যা, বৈরুত, লেবানন হতে ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত]

(৩) ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) এর মতে, ইয়াযীদের প্রশংসা কারীকে কুড়িবার দোররা মারতে হবেঃ ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) লিখেছেন, “এয়াহইয়া ইবনে আব্দিল মুলক্ বিন আবি গানিয়্যা  যিনি ’নির্ভরযোগ্য’ বর্ণনাকারীদের একজন’, তিনি ’নির্ভরযোগ্য’ বর্ণনাকারী নওফল বিন আবি আকরাব থেকে শুনেছেনঃ একবার খলীফা উমর ইবনে আবদিল আযীয (২য় উমর)-এর দরবারে মানুষেরা ইয়াযীদ ইবনে মু’আবিয়া সম্পর্কে আলাপ করছিলেন। ওই সময় একজন লোক ইয়াযীদকে ‘আমীরুল মূমীনীন’(ঈমানদারদের শাসক) খেতাবে সম্বোধন করে। এটি শুনে খলীফা ২য় উমর (রাগান্বিত হয়ে) তাকে বলেন, “তুমি ইয়াযীদকে আমীরুল মো’মেনীন ডেকেছ?” অতঃপর তিনি ওই লোকটিকে ২০টি দোররা মারার হুকুম দেন। [ ‘তাহযিবুত্ তাহযিব’- ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি ) – খন্ড নং ৬ – পৃষ্ঠা নং ৩১৩ ]

 

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্না, আসসালামু আলাইকুম, ফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।

জাকির নায়েক:দেওবন্দের ফতোয়া

জাকির নায়েক : দারুল উলূম দেওবন্দের

ফতোয়া

জাকির নায়েকের বয়ানসমূহে বিশুদ্ধ আকীদা থেকে

বিচ্যুতি, কুরআনে কারীমের তাফসির বিকৃতি ও

মনগড়া ব্যাখ্যা এবং সাইন্সের গবেষণা দ্বারা

প্রভাবিত হওয়া ইসলামবিরোধী পাশ্চাত্যের

চিন্তা-চেতনার সাথে সম্পর্ক এবং ফিকহী

মাসায়েলে সালফে সালেহীন ও জুমহুরের পথ থেকে

মুখ ফিরিয়ে নেয়ার মতো বিভ্রান্তকারী বিষয়াদি

পাওয়া যায়।

এছাড়া সে মুসলিম উম্মাহকে আইম্মায়ে

মুজতাহিদীনের ইত্তিবা থেকে ফেরানো, দীনী

মাদরাসা সমূহের প্রতি বীতশ্রদ্ধ করা এবং হক্কানী

উলামায়ে কেরামের ব্যাপারে জনসাধারণকে

কুধারণার বশীভূত করাতে লিপ্ত। নিচে তার

বিভ্রান্তকারী বিষয়াদির কিছু দৃষ্টান্ত দেয়া হলো-

১. আকীদা (যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয় যাতে

সামান্য বিচ্যুতি অনেক সময় ঈমানের জন্য হুমকি হয়ে

দাঁড়ায়)

এ সম্পর্কে জাকিরের কিছু কথা-

ক. আল্লাহ তায়ালাকে বিষ্ণু ও ব্রহ্ম নামে ডাকা

বৈধ।

সে একটি প্রোগ্রামে বলে- ‘আল্লাহ তায়ালাকে

হিন্দুদের উপাস্যদের নামে ডাকা বৈধ, যেমন বিষ্ণু

‘রব’ এবং ব্রহ্ম ‘সৃষ্টিকর্তা’ তবে শর্ত হলো বিষ্ণুর

ব্যাপারে এই বিশ্বাস রাখতে পারবে না যে তার চার

হাত আছে যে পাখির ওপর আরোহণ করে

আছে।’[ইসলাম আউর আলমী উখুওয়াত-৩৩ ডা. জাকির

নায়েক]

অথচ অনারবি ভাষায় ঐ সকল শব্দাবলী দিয়েই কেবল

ডাকা বৈধ যা আল্লাহ তা’য়ালার জন্যই

বিশেষায়িত। এগুলো ছাড়া অন্যকোনো নামে ডাকা

বৈধ নয়। তাহলে বিষ্ণু ও ব্রহ্ম যা হিন্দুদের প্রতীক

এগুলো দিয়ে ডাকা কিভাবে বৈধ হতে পারে?

খ. আল্লাহ তায়ালার কালাম কোনটি তা পরখ করার

জন্য বিজ্ঞান ও টেকনোলোজির আশ্রয় নেয়া

আবশ্যক।

সে একটি প্রোগ্রামে বলে- প্রত্যেক মানুষ এটা মনে

করে যে তার পবিত্র গ্রন্থই আল্লাহ তায়ালার

কালাম। যদি আপনি জানতে চান যে কোনো গ্রন্থটি

বাস্তবিক পক্ষেই আল্লাহর কালাম তাহলে তাকে

চূড়ান্ত পরীক্ষা তথা আধুনিক বিজ্ঞান ও

টেকনোলজির সাহায্য নিন। যদি তা আধুনিক

বিজ্ঞান মোতাবেক হয় তাহলে মনে করুন এটা

আল্লাহর কালাম।’

এই বক্তব্যটি থেকে তার বিভ্রান্তকারী ধৃষ্টতা!

কিতাবুল্লাহর ব্যাপারে তার চিন্তা-চেতনার পথ

ভ্রষ্টতা ও আধুনিক বিজ্ঞানের ব্যাপারে

আশংকাজনক পর্যায়ে প্রভাবান্বিত হওয়ার ঠিকানা

পাওয়া যায়। কেননা সে প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তনশীল

বৈজ্ঞানিক গবেষণার দিকে আসমানী কিতাবসমূহ

বিশেষত; ঐশী কালাম কুরআনে কারীমের যাচাইয়ের

মানদন্ড সাব্যস্ত করেছে। অথচ আল্লাহ তায়ালার

কালাম হওয়ার সবচেয়ে বড় প্রমাণ এর অলৌকিকত্ব

যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন জায়গায়

চ্যালেঞ্জ করেছেন।যা সুরা বাকারায় উল্লেখ

রয়েছে ।

গ. ফতোয়া দেয়ার অধিকার যে কোনো ব্যক্তির

রয়েছে।

জাকির এক জায়গায় বলে- প্রত্যেকের জন্য ফতোয়া

প্রদান করা জায়েয। কারণ ফতোয়ার অর্থ হলো

মতামত দেয়া।’

ফতোয়া দেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আল্লামা ইবনুল

কাইয়্যুমের ভাষায় মুফতি আল্লাহ তায়ালার বিধান

বর্ণনা করার ক্ষেত্রে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের

ভাষ্যকার এবং তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দস্তখত

করার দায়িত্বশীল হয়।’দেখুন [ই’লামুল মাআক্কিঈন

১/৯১]

এই ফতোয়াকে সে‘মতামত দেয়ার’ মতো হালকা

পাতলা শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করে শুধু নিজের জন্যই নয়;

বরং প্রত্যেকের জন্য এর বৈধতা দিচ্ছে। অথচ

কুরআনে কারীমে বলা হয়েছে-‘যদি তোমাদের জ্ঞান

না থাকে তাহলে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর।’

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে

উল্লেখ হয়েছে- ‘যে ব্যক্তি (বিশুদ্ধ) জ্ঞান ছাড়া

ফতোয়া দেয় এর গুনাহ ফতোয়া দাতার ওপর

হবে।’ [আবু দাউদ হাদিস নং ৩৬৫৯৩]

সে এই আয়াত ও হাদিসকে জানেনা ??

২. তাফসীরুল কুরআনের ক্ষেত্রে মনগড়া ব্যাখ্যা

অর্থাৎ অর্থগত বিকৃতি।

কুরআনে কারীমের তাফসিরের বিষয়টি অত্যন্ত

স্পর্শকাতর। কেননা মুফাসসিরগণ কুরআনে কারীমের

আয়াত দ্বারা আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্য নির্ধারণ

করে থাকেন- যে আল্লাহ তায়ালা এই অর্থ উদ্দেশ্য

নিয়েছেন। অতএব অনুপযুক্ত ব্যক্তির এই ময়দানে কদম

রাখা খুবই আশংকাজনক। হাদিস শরীফে ইরশাদ

হয়েছে- ‘যে ব্যক্তি নিছক তার যুক্তি দিয়ে তাফসির

করে সে ঘটনাক্রমে সঠিক অর্থ করে ফেললেও সে

ভুলকারী সাব্যস্ত হবে।’ [তিরমিযি- হাদিস নং ২৭৭৬]

এ কারণে মুফাসসিরগণের জন্য অনেক শর্ত রয়েছে।

যেমন কুরআনে কারীমে সমস্ত আয়াতের প্রতি গভীর

দৃষ্টি, হাদিসের ভান্ডারের ব্যাপারে গভীরজ্ঞান

আরবি ভাষা ও ব্যকরণ যথা- নাহু, সরফ, ইশতিকাক,

ফাসাহাত-বালাগাত ইত্যাদির ওপর ভালো পান্ডিত্য

থাকা ইত্যাদি। জাকীড়েড় মধ্যে উল্লেখিত

শর্তাবলীর আবশ্যকীয় পর্যায়ে নেই। শে আরবি ভাষা

ও ব্যাকরণ সমন্ধে যথাযথ অবগত নয়। হাদিসের

ভান্ডারের ওপর তার গভীর দৃষ্টি নেই। অনুরূপ

ফাসাহাত- বালাগাতেও তার নেই তেমন জ্ঞান।

(নিম্নে দৃষ্টান্তগুলোতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে)

বরং তাফসীরের ক্ষেত্রে তার মধ্যে গোমরাহীর

অনেক কারণ রয়েছে যথা –

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,

সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে তাবেঈনের

তাফসির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া। যুগের ধ্যান

ধারণা দ্বারা প্রভাবিত কুরআনে কারীমের বিষয়কে

ভুল বুঝা ইত্যাদি জাকিরের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে

বিদ্যমান। এজন্যই সে বেশ কিছু আয়াত নিয়ে তার

অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে। নিচে তার কিছু নমুনা

লক্ষ্য করুন-

ক. কুরআনে কারীমের আয়াত-

{ ﺍﻟﺮِّﺟَﺎﻝُ ﻗَﻮَّﺍﻣُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀِ ﺑِﻤَﺎ ﻓَﻀَّﻞَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑَﻌْﻀَﻬُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺑَﻌْﺾٍ ﻭَﺑِﻤَﺎ

ﺃَﻧْﻔَﻘُﻮﺍ ﻣِﻦْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ { ‏[ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ : ৩৪]

‘আররিজালু কাওয়ামুনা আলান্নিসা’

এই আয়াতের তাফসীরে সে বলে- লোকেরা বলে

ﻗَﻮَّﺍﻣُﻮﻥَ ‘কাওয়ামুন’ শব্দটির অর্থ একস্তর উঁচু মর্যাদা।

অথচ মূলত : এই শব্দটি ﺍﻗﺎﻣﺔ ‘ইকামাতুন’ থেকে উদ্ভুত

হয়েছে, যার অর্থ হচ্ছে দন্ডায়মান হওয়া তাই এর

উদ্দেশ্য হচ্ছে দায়িত্বের দিক দিয়ে উঁচু মর্যাদার

দিক দিয়ে নয়। [ খুতুবাতে জাকির নায়েক : ২৯০]

সে পাশ্চাত্যের সমতার ধ্যান ধারণার স্বপক্ষে

কুরআনের আয়াতের মনগড়া ব্যাখ্যা করে পুরুষদের এক

স্তর মর্যাদাকে নাকচ করে দিল অথচ উম্মাহর বড় বড়

মুফাসিসরগণ মর্যাদার দিক দিয়ে উঁচু হওয়ার অর্থ

ব্যক্ত করেছেন। যেমন ইবনে কাসীরে লিখেছেন-

পুরুষের অবস্থান তার স্ত্রীর সামনে শাসক ও সরদারের

মতো। প্রয়োজন হলে স্বামী-স্ত্রীকে সমুচীন শাস্তিও

দিতে পারে। অনুরূপ

{ ﻭَﻟِﻠﺮِّﺟَﺎﻝِ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻦَّ ﺩَﺭَﺟَﺔٌ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰِﻳﺰٌ ﺣَﻜِﻴﻢٌ { ‏[ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ২২৮]

‘লিররিজালি আলাইহিন্না দারাজাহ’

এই আয়াতের তাফসীরে আল্লামা ইবনে কাসির

লিখেছেন- ‘স্বামী স্ত্রী থেকে মর্যাদা, সম্মান ও

আনুগত্য ইত্যাদির ক্ষেত্রে এক স্তর ওপরে’ অনুরূপ

জাকির তাফসিরটি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম এর হাদিসের পরিপন্থি। হাদিসটি হলো-

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-

‘আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কারো জন্য সেজদা বৈধ

হলে আমি নারীদেরকে নির্দেশ দিতাম তারা

যেনো তাদের স্বামীদের সেজদা করে।’ [আবু দাউদ

২১৪০]

কেননা যদি উভয়ের মর্যাদা এক হতো এবং স্বামীর

জন্য স্ত্রীর ওপর কোনো প্রাধান্য না থাকতো

তাহলে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম নারীদের তাদের স্বামীদের চূড়ান্ত

সম্মানের প্রতীক সেজদা করার নির্দেশ দেয়ার

উপক্রম কেন হলেন?

খ. জাকিরকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো। কুরআনে

কারীমের মধ্যে আছে। কোনো মায়ের জরায়ুতে

বিদ্যমান বাচ্চার লিঙ্গ কেবলমাত্র আল্লাহ

তায়ালাই জানেন। অথচ বর্তমান বিজ্ঞান যথেষ্ট

উন্নতি করেছে। এখন আমরা অতি সহজেই

আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে ভ্রুণ নির্ধারণ করতে

সক্ষম। তাহলে এই আয়াতটি কি মেডিকেল সাইন্সের

পরিপন্থি নয়। এর জবাবে সে বলে, একথা ঠিক যে

কুরআনের এই আয়াতের বিভিন্ন অনুবাদ ও ব্যাখ্যা

করার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে কেবল মাত্র আল্লাহই

জানেন যে মায়ের জরায়ুতে বিদ্যমান বাচ্চার লিঙ্গ

কি? কিন্তু এই আয়াতের আরবি টেক্সটটি পাঠ করুন

সেখানে সেক্স [লিঙ্গের] কোনো আরবি বিকল্প শব্দ

ব্যবহৃত হয়নি। মূলত: কুরআন যা বলছে তা হলো- জরায়ুতে

কি আছে? এর জ্ঞান কেবল মাত্র আল্লাহ তায়ালার

রয়েছে। অনেক মুফাসসির ভুল বুঝে বসেছেন, তারা এর

অর্থ এই করেছেন যে কেবলমাত্র আল্লাহ তায়ালাই

মায়ের পেটে বাচ্চার লিঙ্গ সমন্ধে জানেন। এটা

ঠিক নয়। এই আয়াত ভ্রণের লিঙ্গের দিকে ইঙ্গিত

করছে না এবং এর ইঙ্গিত এই দিকে যে মায়ের পেটে

বিদ্যমান বাচ্চার স্বভাব কেমন হবে? সে তার মা

বাবার জন্য রহমতের কারণ হবে? না আজাবের কারণ

হবে? ইত্যাদি।[ইসলাম পর চালিস এ’তেরাযাত : [১৩০]

জাকির বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রভাবিত হয়ে এ

আয়াত থেকে আপাত দৃষ্টিতে সৃষ্ট প্রশ্ন থেকে

বাঁচার জন্য কুরআনের অন্যান্য আয়াত এবং সাহাবা ও

তাবেঈন থেকে বর্ণিত তাফসীরকে পৃষ্ঠদেশে

নিক্ষেপ করে একটি প্রসিদ্ধ অর্থকে অস্বীকার করে

বসেছে এবং বড় বড় মুফাসসিরগনের ওপর দোষারূপ ও

তাদের তাফসিরকে ভুল সাব্যস্ত করেছে। সে যে অর্থ

উল্লেখ করেছে তা ‘মা’ ইসমে মাউসূল-এর ব্যাপকতায়

তো আসতে পারে এবং অনেক মুফাসসিরগণ প্রথম

অর্থের মধ্যে এই অর্থও উল্লেখ করেছেন। কিন্তু অপর

অর্থকে অস্বীকার করা একেবারেই ঠিক নয়। বরং

এটা তার খেয়ালিপনা এবং তাফসীরের ক্ষেত্রে

সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনের উক্তি থেকে বিমুখ

হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ। কেননা ডা. সাহেব যেই অর্থকে

নাকচ করে দিয়েছেন তার দিকেই ইঙ্গিত করছে সূরা

রা’আদের এই আয়াত- ‘আল্লাহ জানেন প্রত্যেক নারী

যা গর্ভধারণ করে এবং গর্ভাশয়ে যা সংকুচিত হয় ও

বর্ধিত হয়।

[রা’আদ ৮]

এছাড়া প্রখ্যাত তাবেঈ ও তাফসীরের ইমাম হযরত

কাতাদাহ রহমতুল্লাহি থেকে এই অর্থই বর্ণিত আছে।

যেমন : হযরত কাতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

‘মায়ের গর্ভাশয়ে ভ্রণ পুরুষ না নারী এর নিশ্চিত

জ্ঞান আল্লাহ তা’য়ালা ছাড়া আর কারো নেই।

অনুরূপভাবে ইবনে কাসির তার তাফসিরে ৬/৩৫৫ এবং

আল্লামা নাসাফী তাফসিরে মাদারেকে ৩/১১৬ ও

ইমাম শওকানী ফতহুল কাদির ৫/৪৯৮ এ উল্লেখিত

আয়াতের এই অর্থই বর্ণনা করেছেন। অথচ সে এসকল বড়

বড় মুফাসিসরগণের বর্ণনাকে ভুল সাব্যস্ত করে নিজের

বর্ণনা করা অর্থটিকে নিশ্চিত সঠিক সাব্যস্ত করায়

অটল রয়েছে।

সঠিক জবাব : আয়াতে কারীমার উদ্দেশ্য আল্লাহ

তায়ালার জন্য ইলমে গায়েব প্রমাণ করা আর ইলমে

গায়েব মূলত ঐ নিশ্চিত ইলমকে বলে যা বাহ্যিক

কোনো কারণ ছাড়া কোনো যন্ত্রের মাধ্যম ব্যতিত

অর্জিত হয়। আর চিকিৎসকদের ইলম শতভাগ নিশ্চিতও

নয় এবং মাধ্যমহীনও নয়; বরং নিছক প্রবল ধারণা

প্রসূত এবং যন্ত্রের মাধ্যমে অর্জিত হয়। তাই

আল্ট্রাসনোগ্রাফি দ্বারা অর্জিত ধারণা প্রসূত ইলম

দ্বারা কুরআনের আয়াতের ওপর কোনো প্রশ্ন

উত্থাপিত হবে না।

গ. ইরশাদ হচ্ছে, হে নবী! ঈমানদার নারীরা যখন

আপনার কাছে এসে এ মর্মে বাইয়াত করে যে তারা

আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না।

[সূরা মুমতাহেনা ১২]

সে এই আয়াতের তাফসিরে বলে-‘এখানে বাইয়াত শব্দ

ব্যবহার করা হয়েছে। আর বাইয়াত শব্দে আমাদের

আজ কালের ইলেকশনের অর্থও শামিল আছে।

কেননা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম আল্লাহ তা’য়ালার রাসূলও ছিলেন সেই

সাথে রাষ্ট্রপতিও ছিলেন। আর বাইয়াত দ্বারা

উদ্দেশ্য তাকে সরকার প্রধান হিসেবে মেনে নেয়া

ছিল। ইসলাম সেই যুগে নারীদের ভোট দেয়ার

অধিকার অর্পণ করেছিল। [ডা. জাকির নায়েক,

ইসলাম মেঁ খাওয়াতীনকে হুকুম : [৫ পৃষ্ঠা]

এখানেও সে আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করে নারীদের

জন্য ভোট দেয়ার অধিকার প্রমাণ করতে চাচ্ছেন যে

নারীদের হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এর দরবারে এসে বাইয়াত করা বর্তমান যুগের

গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ারই একটি প্রাচীন

পদ্ধতি। অথচ গণতন্ত্রের বাস্তবতা সম্পর্কে যারা

অবগত তারা খুব ভালোভাবেই বুঝতে সক্ষম যে তার এই

ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ বাস্তবতা পরিপন্থী এবং কুরআনের

তাফসিরে নিজের জ্ঞানের অযথা ব্যবহার। কারণ

বর্তমান গণতন্ত্র মোতাবেক সবার এখতিয়ার থাকে

যে তারা প্রধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজেদের

রায় দিবে। যদি কারো ব্যাপারে সংখ্যাধিক্য ও

মতাধিক্য না থাকে তাহলে সে প্রধান হতে পারে

না। যদি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লামএর বাইয়াত নেয়া ভোট নেয়া হতো তাহলে ঐ

সকল নারী সাহাবীদের হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লামএর নেতৃত্ব মেনে নিতে

অস্বীকার করার এখতিয়ার থাকতো।

ঘ. ইরশাদ হচ্ছে, হে হারূনের বোন তোমার পিতা মন্দ

লোক ছিলেন না এবং তোমার মা ব্যভিচারি ছিলেন

না’ [সূরা মারয়াম : ২৮]

সূরা মারয়ামের এই আয়াতটি না বুঝার কারণে একটি

প্রসিদ্ধ প্রশ্ন তোলা হয় যে- ‘হযরত মরিয়ম আলাইহাস

সালাম হযরত হারূন আলাইহিস সালাম এর বোন ছিলেন

না এবং উভয়ের যুগের মাঝে এক হাজার বছরের

ব্যবধান।’

এই প্রশ্নের জবাবে সে বলেন- খ্রিস্টানরা বলে

থাকে যে হযরত হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম যিশুর মা ‘মেরী’ মারয়াম এবং হারূনের

বোন মারয়ামের মধ্যে পার্থক্য জানা ছিলো না।

অথচ আরবিতে উখতুন এর অর্থ আওলাদ (সন্তান)ও

আছে। এ কারণে লোকেরা মারয়ামকে বললো হে

হারূনের সন্তান এবং এর দ্বারা মূলত হারুণ আলাইহিস

এর সন্তানই উদ্দেশ্য।

জাকির হাদিস ও লুগাত সমন্ধে অজ্ঞতার ওপর

প্রতিষ্ঠিত এই গবেষণার বিশ্লেষণ স্বরূপ মুসলিম

শরিফের হাদিসই যথেষ্ঠ। সহিহ মুসলিমে আছে- হযরত

মুগীরা ইবনে শো’বা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- ‘যখন

আমি নাজরানে গেলাম তো লোকেরা আমাকে প্রশ্ন

করলো তোমরা ‘ইয়া উখতা হারূন’ পাঠ করে থাক অথচ

মুসা আলাইহিস সালাম ঈসা আলাইহিস সালাম থেকে

এতো এতো বছর পূর্বে। পরে যখন আমি হুযুর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে এলাম

তাকে এ সমন্ধে জিজ্ঞেস করলাম, তখন তিনি উত্তরে

বললেন- ‘তারা তাদের পূর্ববর্তি নবী ও নেককারদের

নামে নিজেদের নাম রাখতো। [হাদিস নং ৫৭২১]

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই

আয়াতের ব্যাখ্যা আজ থেকে চৌদ্দশত বৎসর পূর্বেই

করেছেন যার ‘সারাংশ হলো হযরত ঈসা আলাইহিস

সালাম. এর মা হযরত মারয়াম আলাইহাস সালাম হযরত

মুসা আলাইহিস সালাম এর ভাই হারূন আলাইহিস

সালাম. এর বোন ছিলো না; বরং হযরত ঈসা ালাইহিস

সালাম এর মায়ের ভাইয়ের নামও হারূন ছিলো এবং

তারা নিজেদের নবী ও মাকবুল ব্যক্তিত্বের নামে

নিজেদের নাম রাখতো। এতে বুঝা গেলো এটা

কোনো নতুন প্রশ্নও নয় এবং নিজের পক্ষ থেকে

কোনো জবাব বানানোরও কোনো প্রয়োজন নেই।

জাকিরের তাফসিরসংক্রান্ত হাদিস সমূহের

ব্যাপারে কেমন অজ্ঞতা যে হাদিস ও তাফসিরের

ভান্ডার থেকে বাস্তবতা পর্যন্ত পৌঁছার চেষ্ট না

করে মনগড়া ব্যাখ্যা করছে।

ঙ. ইরশাদ হচ্ছে-

{ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﺑَﻌْﺪَ ﺫَﻟِﻚَ ﺩَﺣَﺎﻫَﺎ { ‏[ ﺍﻟﻨﺎﺯﻋﺎﺕ : ৩০]

‘ওয়াল আরদ্বা বা’দা যালিকা দাহা-হা’

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় জাকির নায়েক বলে-‘এখানে

ﺩَﺣَﺎﻫَﺎ দাহা-হা শব্দটি ডিমের অর্থে ব্যবহৃত আরবি

শব্দ। যার অর্থ উট পাখির ডিম। উট পাখির ডিম

পৃথিবীর আকৃতির সাথে সামঞ্জস্যতা রাখে। অথচ

যখন কুরআন নাযিল হয় তখন ধারণা করা হতো পৃথিবী

চেপ্টা।’[খুতুবাতে জাকির নায়েক কুরআন এবং

বর্তমান সাইন্স :/৭৩-৭৪]

কুরআনে কারীমের বিষয়বস্ত্ত হলো- তাওহীদ এবং

রেসালত প্রাকৃতিক বিষয়াদির আলোচনা

প্রাসঙ্গিকভাবে আছে। ব্যাপারটি না বুঝা এবং

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার

কারণে সে পৃথিবীর আকৃতির ব্যাখ্যা করতে যেয়ে

আয়াত দিয়ে ভুল পদ্ধতিতে প্রমাণ দিচ্ছে। এবং

আয়াতের মনগড়া ব্যাখা করেছে। ‘দাহবুন’ শব্দ ও দাল,

হা. ওয়াও এর মাদ্দাটি আরবিতে ছড়ানো এবং

ছড়িয়ে যাওয়ার অর্থ বুঝায়। সে মোতাবেক ‘দাহা-হা’

-এর ব্যাখ্যা ও অনুবাদ হলো পৃথিবীকে ছড়ানো এবং

বড়

৩। হাদিস সম্পর্কে অজ্ঞতা :

হাদিসের ভান্ডারের ব্যাপারে অজ্ঞতার কারণে

জাকির অনেক স্থানে সহীত হাদিসের পরিপন্থি

মাসায়েল বলেছে- এমনকি অনেক জায়গায় কোনো

মাসআলায় একাধিক হাদিস থাকা সত্ত্বেও বলে

ফেলেছে যে এ ব্যাপারে কোনো দলীল নেই। নিম্নে

হাদিসের ব্যাপারে অজ্ঞতা, অথবা জেনে বুঝে না

দেখার ভান করার কিছু নমুনা উল্লেখ করছি

ক. নারীদের জন্য হায়েজ অবস্থায় কুরআন পাঠ করার

বৈধতা :

এক আলোচনায় নারীদের বিশেষ দিন সম্পর্কে সে

বলে-‘কুরআন ও হাদিসে নামাজের ব্যাপারে ছাড়

দেয়া আছে। তবে কোনো হাদিসে এ কথা নেই যে

কুরআন পড়তে পারবে না।’

অথচ তিরমিজি শরিফে স্পষ্ট হাদিস- ‘ঋতুবর্তি ও

জুনুবি কুরআনের কিছু পাঠ করবে না।’ [হাদিস নং ১৩১]

এখন চিন্তুা করুন ব সহীহ ও স্পষ্ট হাদিস থাকা

সত্ত্বেও সবজান্তা হওয়ার দাবি করে এটাকে

অস্বীকার করে দিল?

খ. রক্ত বের হলে অজু ভাঙ্গার ব্যাপারে হানাফিদের

কোনো দলীল নেই।

সে একটি বক্ততৃায় রক্ত বের হলে অজু ভাঙ্গা ও না

ভাঙ্গার বিষয়ে কথা বলতে যেয়ে বলে- ‘ কোনো

কোনো আলেম বিশেষ করে হানাফি মাযহাবের

সাথে সম্পৃক্ত উলামায়ে কেরামের ধারণা মতে রক্ত

বেয়ে পড়লে অজু ভেঙ্গে যায়। নামাজের মধ্যে রক্ত

বেয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কার কি করা উচিত এই

প্রশ্নের জবাবে তাদের (হানাফিদের) ফতোয়া

অনেক লম্বা। তবে তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থনে

বাহ্যিকভাবে কোনো প্রমাণ নেই।’[হাকিকতে

জাকির নায়েক : ২১৪]

এখানে সে হানাফি মাযহাবের সাথে সম্পৃক্ত

উলামায়ে কেরামের ওপর অভিযোগ দিচ্ছে যে তারা

প্রমাণ ছাড়াই অজু ভাঙ্গার কথা বলেন- অথচ রক্ত বের

হলে অজু ভাঙ্গাসংক্রান্ত অনেক হাদিস বর্ণিত

আছে। তাছাড়া সাহাবায়ে কেরামের আমলও এর উপর

ছিলো। নিম্নে কিছু উদ্বৃতি দিচ্ছি- হযরত আয়িশা

আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

ফাতিমা বিনতে আবু হুবাইশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা

আনহা নবী হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া

রাসূলাল্লাহ! আমার এতো বেশি রক্তস্রাব হয় যে, আর

পবিত্র হইনা। এমতাবস্থায় আমি কি সালাত ছেড়ে

দেবো? হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম ইরশাদ করলেন- না, এতো ধমনি নির্গত রক্ত,

হায়েয নয়। তাই যখন তোমার হায়েয আসবে তখন

সালাত ছেড়ে দিও। আর যখন তা বন্ধ হবে তখন রক্ত

ধুয়ে ফেলবে, তারপর সালাত আদায় করবে। হিশাম

বলেন, আমার পিতা বলেছেন, তারপর এভাবে আরেক

হায়েয না আসা পর্যন্ত প্রত্যেক সালাতের জন্য উযু

করবে। [বুখারি ২২৮]

অপর হাদিসে এসেছে- ‘নামাজের মধ্যে যদি কারো

নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে তাহলে তার কর্তব্য

হচ্ছে রক্ত ধুয়ে নিবে এবং অজু দুহরিয়ে নিবে।

[দারেকুতনী হাদিস নং ১৭/১৮/১৯]

অপর হাদিসে এসেছে- ‘রক্ত গড়িয়ে পড়লে অজু

আবশ্যক হয়ে যায়।’ [নসবুর রায়াহ ১/৩৭]

এগুলো এবং এগুলো ছাড়াও আরো অনেক রেওয়াত

থাকা সত্ত্বেও সে নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ না করে

উল্টো মুজতাহিদ সুলভ দাবি করে বসল যে

বাহ্যিকভাবে রক্তের কারণে অজু ভাঙ্গার ওপর

কোনো প্রমাণ নেই।

গ. পুরুষ ও নারীর নামাজে পার্থক্য করা বৈধ নয়-

অন্য এক জায়গায় জাকির নায়েক পুরুষ ও নারীর

নামাজের মধ্যে পার্থক সম্পর্কে বলে- ‘ কোথাও

একটিও সহীহ হাদিস পাওয়া যায় না যাতে নারীদের

জন্য পুরুষদের থেকে আলাদা পদ্ধিতিতে নামাজ

আদায়ের নির্দেশ আছে, বরং তদস্থলে সহীহ বুখারির

রেওয়াতে আছে হযরত উম্মে দারদা রদ্বিয়াল্লাহু

তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন আত্তাহিয়্যাতুর মধ্যে

নারীদের পুরুষদের মতোই বসার নির্দেশ রয়েছে।

এখানে সে দুটি বিষয় একেবারেই ভুল বলেছে- এক.

নামাজের ক্ষেত্রে পুরুষ নারীর মাঝে

পার্থক্যসংক্রান্ত কোনো হাদিস নেই।

দুই. হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম নারীদের পুরুষদের মতো বসার নির্দেশ

দিয়েছেন।

সেব প্রথম কথাটি বলে ঐ সকল হাদিস অস্বীকার করে

দিয়েছে যার মধ্যে পুরুষ ও নারীর নামাজের পার্থক্য

উল্লেখ আছে। নিম্নে এমন কিছু রেওয়াত উল্লেখ

করছি-

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ

করেন- ‘তোমাদের কি হয়েছে, সালাতে কোনো

ব্যাপার ঘটলে তোমরা হাততালী দিতে থাকো কেন?

হাততালি তো মেয়েদের জন্য।’[বুখারি ১/১৭৪]

হযরত ওয়াইল ইবনে হজর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

আমাকে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম বলেছেন- ‘ হে ওয়ায়েল ইবনে হজর! যখন

সালাত আদায় করবে তখন তোমার হাতদ্বয় কান পর্যন্ত

ওঠাবে এবং নারী তার হাত তার বক্ষ পর্যন্ত ওঠাবে।

[আল মুজামুল কাবীর ২৮]

হযরত এযিদ ইবনে আবি হাবীব থেকে বর্ণিত, তিনি

বলেন- হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এমন দু’জন নারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম

করলেন, যারা নামাজ পড়ছিলো, তখন তিনি বললেন-

যখন তোমরা সেজদা কর তখন শরীর জমিনের সাথে

মিলিয়ে রাখবে, কেননা, নারী এক্ষেত্রে পুরুষের

মতো নয়।[বাইহাকী- ৩০১৬]

এই রেওয়ায়াতগুলোতে পুরুষ ও নারীদের নামাজের

মধ্যে বিভিন্ন পার্থক্যের উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া

আরোও অনেক হাদিস রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত

গ্রন্থাবলীতে বিস্তারিত দেখা যেতে পারে। আর

দ্বিতীয় কথাটি হলো- বুখারি শরিফে নারীদের

পুরুষদের মতো বসার নির্দেশ সম্পর্কিত হুযুর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশের

ব্যাপারটিকে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এর দিকে একটি ভুল সম্পৃক্তকরণ বৈ কিছু না।

হযরত উম্মে দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা এর

যে বর্ণনার রেফারেন্স সে দিয়েছে তার ভাষ্য হলো-

হযরত উম্মে দারদা তার সালাতে পুরুষদের মতো

বসতেন এবং তিনি ফকীহ ছিলেন। [বুখারি ১/১১৪]

এখানে কোথাওহুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এর কর্মের আলোচনা নেই; বরং এটা একজন

নারী সাহাবীর আমল। যার উল্লেখ করে ইমাম এই

কথারই ঈঙ্গিত দিয়ে ছিলেন যে তিনি ফকিহ ছিলেন

নিজের ইজতিহাদে এমন করতেন। উপরন্তু ইমাম বুখারি

হাদিসটি মুয়াল্লাক করে উল্লেখ করেছেন সনদ

বলেননি।

৩। আইয়্যিম্মায়ে মুজতাহিদীনের অনুসরণ থেকে

পালায়ন এবং ফেকহী মাসায়েলের ক্ষেত্রে

সংখ্যাগরিষ্ঠ মত থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতি।

জাকির নায়েক লিখনি ও বক্তব্যের আলোকে তাকে

কোনো ইমামের অনুসারী বলে মনে হয় না। বরং

স্বেচ্ছাচারিতা, প্রগতিশীলতা, মাযহাববিহীন

মানুষ হিসেবে প্রতিয়মান হয়। শুধু যে সে নির্দিষ্ট

কোনো ইমামের তাকলীদ করে না- তাই নয়; বরং

তাকলীদকারী নিষ্ঠাবান জনসাধারণকে তাকলীদ না

করার পন্থা অবলম্বনের শিক্ষা দেয় এবং নিজের

বয়ান কৃত মাসায়েলে কোথাও কোনো ইমামের কথা ও

তার ইস্তিম্বাত করা হুকুম নিজের দিকে সম্পৃক্ত করে

নকল করে। আবার কোথাও নিজে মুজতাহিদ সুলভ

ভঙ্গিতে মাসআলা বয়ান করতে থাকে। অথচ তার

মাসায়েল নকল করার ক্ষেত্রে ঐ নির্দিষ্ট ইমামের

নাম নেয়া কর্তব্য ছিল। যিনি এই মাসআলাগুলো

ইস্তিম্বাত করেছেন। যাতে করে শ্রোতাগণ এই ভুল না

করে বসে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে শুধুমাত্র এটাই প্রমাণ

হয়। এছাড়া যে অন্য সকল বিষয় যার ওপর লোকেরা

আমল করছে তা কুরআন ও হাদিস থেকে প্রমাণিত ও

আইয়্যিম্মায়ে মুজতাহিদীনের বক্তব্য হলেও তা ভুল।

নিম্নোক্ত উদাহরণসমূহ থেকে বিষয়গুলো খুব

সুন্দরভাবে অনুমান করা সম্ভব।

ক. অযু ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা বৈধ

এক স্থানে বলে- ‘অজুছাড়া কুরআনে কারীম স্পর্শ

করার অনুমতি থাকা চাই। অথচ তার এই বক্তব্য

কুরআনে কারীমের আয়াত-

{ ﻟَﺎ ﻳَﻤَﺴُّﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﻤُﻄَﻬَّﺮُﻭﻥَ{ ‏[ﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺔ : ৭৯]‘লাইয়া মাসসাহু ইল্লাল

মুতাহ হারুন’ [সূরা ওয়াকিয়া ৭৯]

তাছাড়া সকল মুজতাহিদ ইমামগণের মতেরও বিরুদ্ধে।

খ. জুমার খুতবা আরবি ভাষার স্থলে স্থানীয় ভাষায়

হওয়া চাই ।

একস্থানে জুমার খুতবার সম্পর্কে বলে- ‘আমি মনে

করি আমাদের দেশে জুমার খুতবা স্থানীয়,

মাতৃভাষায় দেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হোক যাতে করে

…. অথচ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত জুমার খুতবা আরবি

ভাষায় দেয়ার ধারাবাবিহক নিয়ম চলে আসছে। আজ

সে এই দাওয়াত দিচ্ছে যে খুতবা স্থানীয় ভাষায়

হওয়া চাই। যাতে জনগণ বুঝতে পারে। অথচ এই স্বার্থ

আরবি যারা জানেনা তাদের বুঝা হুযুর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  এর যুগেও

বিদ্যমান ছিল। কারণ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম খুতবা সমূহতে অনারব ব্যক্তিবর্গও শরীক

হতো। তবুও নবী হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম সর্বদা আরবিতেই খুতবা দিয়েছেন।

অন্যকোনো ভাষায় খুতবা দেয়ানোর ব্যবস্থা

করেননি। আর পরে এর অনুবাদও করাননি। অনুরূপভাবে

সাহাবায়ে কেরাম তাবেঈন ও তাবে তাবেঈন এবং

তাদের অনুসারীগণ আরব থেকে বের হয়ে ভিন্ন দেশে

গিয়েছেন। প্রাচ্যে পাশ্চাত্যে ইসলাম ছড়িয়েছে।

তদুপরি সকল স্থানে খুতবা সর্বদা আরবি ভাষায়ই

দিয়েছেন। অথচ তাদের দ্বীনের তাবলীগের প্রয়োজন

বর্তমান থেকেও বেশি ছিলো। মোট কথা খোলাফায়ে

রাশেদীন, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনের

ইজমামের কর্মধারা ও নিরবচ্ছিন্ন আমল এবং সমস্ত

উম্মাহ ধারাবাহিক কর্ম পন্থা। একথার স্পষ্ট প্রমাণ

যে খুতবা আরবি ভাষায় দেয়াই আবশ্যক। এমনকি ইমাম

মালেক রহ. বলেন- জুমার নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য

খুতবা আরবি ভাষায় হওয়া আবশ্যক। যদিও পূর্ণ

উপস্থিতি অনারবদের হোক না কেন এবং আরবি কেউ

না জানুক এবং আরবি ভাষায় খুতবা পাঠ করতে সক্ষম

এমন একজনও উপস্থিত না হয়ে থাকে তাহলে সকলের

জোহরের নামাজ আদায় করা আবশ্যক হবে। জুমা

তাদের রহিত হয়ে যাবে।

[হাশিয়ায়ে দুসুকী আলাশ শারহিল কাবীর ১/৩৭৮]

তাছাড়া শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ.

বলেন- খুতবা শুধু আরবি ভাষাই হওয়া আবশ্যক। প্রাচ্চ্য

থেকে পাশ্চাত্বের সকল মুসলমানের আমল এটাই ছিল।

[মুসাফফা শরহে মু’আত্ত্বা ১৫২]

গ. তিন তালাক একটি তালাকই হওয়া চাই

বলে- ‘তিন তালাকের জন্য এতো শর্ত রয়েছে যা পূর্ণ

হওয়া সম্ভব নয়। সৌদি আরবে তিনশত ফতোয়া আছে।

তাই তালাক একটিই বর্তমানের অবস্থার বিবেচনায়

একটিই হওয়া চাই’।[খুতুবাতে জাকির নায়েক : ৩৩১]

অথচ সাহাবায়ে কেরাম তাবেঈনে ইজমা, চার ইমাম,

উম্মাহের সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামা এবং বর্তমান যুগের

সৌদি আরবের সকল গ্রহণযোগ্য আলেমগণের কাছে এক

মজলিসের তিন তালাক তিনটি তালাকই সংগঠিত হয়,

একটি নয়। এ মাসআলায় পূর্ণ ইতিহাসে গ্রহণযোগ্য

কোনো আলেমের মতোবিরোধ নেই। ইবনে তাইমিয়া

এবং তার শাগরিদ ইবনুল কাইয়্যিম ছাড়া। কিন্তু সমগ্র

জাতির যাদের মধ্যে চার ইমাম- ইমাম আবু হানীফা,

ইমাম মালেক, ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমদ ইবনে

হাম্বলও শামিল। মুকাবিলায় এই দুইজনের মতে

কিছুতেই অনুসরণযোগ্য হতে পারে না।

সে এমন ঐক্যমতের বিধানের পরিপন্থি মাসআলা

বলে জাতিকে পথভ্রষ্ট করছে। এই বিধানটি কুরআনের

আয়াত অসংখ্য হাদিস এবং সাবাবায়ে কেরামের

কর্মপদ্ধতি থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণীত হয়।

‘হযরত নাফে বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. এর

কাছে যখন ঐ ব্যক্তি সমন্ধে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করা

হতো যে তিন তালাক দিয়ে দিয়েছে। তখন তিনি

বলতেন যদি তুমি এক. দুই তালাক দিতে (তাহলে

ফিরিয়ে নিতে পারতে) কেননা নবীজি সা. আমাকে

এর (ফিরিয়ে নেয়ার) নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদি

তিন তালাক দেয় তাহলে হারাম হয়ে যাবে যতোক্ষণ

না অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

অপর হাদিসে আছে- হযরত মুজাহিদ বলেন, আমি ইবনে

আববাস রা. কাছে ছিলাম এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি

এসে বললো, সে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে

দিয়েছে। তিনি বলেন হযরত ইবনে আববাস রা. চুপ

থাকলেন। আমি মনে করলাম তিনি স্ত্রীকে ফিরিয়ে

দিবেন। (রোজআতের নির্দেশ দিবেন) কিন্তু তিনি

বললেন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ বোকামি করে

বসে অতঃপর ইবনে আববাস ইবনে আববাস বলে

চিল্লাতে থাকে। শোন আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন- ‘

যে আল্লাহকে ভয় পায় তার জন্য রাস্তা করে দেন।

তোমরা নিজেদের প্রভুর সাথে নাফরমানী করছে

(তিন তালাক দিয়ে দিয়েছে) তাই তোমাদের স্ত্রী

বিচ্ছেদ হয়ে গেছে।

হযরত ইমাম মালিকের কাছে এই বর্ণনা পৌঁছেছে যে

এক ব্যক্তি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাসের কাছে

জিজ্ঞাসা করলে। আমি আমার স্ত্রীকে এক তালাক

দিয়ে দিয়েছি। আপনি এ ব্যাপারে কি বলেন? হযরত

ইবনে আববাস রা. উত্তর করলেন এর মধ্য থেকে তিন

তালাক তোমার স্ত্রীর ওপর পতিত হয়েছে অবশিষ্ট

সাতানববই তালাকের মাধ্যমে তুমি আল্লাহ পাকের

আয়াত নিয়ে খেলেছ।

আরেক হাদিসে আছে- হযরত ইমাম মালিকের কাছে

এই রেওয়াত পৌঁছেছে যে এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনে

মাসউদের কাছে এসে বললো আমি আমার স্ত্রীকে

আটটি তালাক দিয়েছি। হযরত ইবনে মাসউদ রা.

জিজ্ঞাসা করলেন লোকেরা তোমাকে কি বলেছে?

সে জবাব দিলো আমার স্ত্রী বিচ্ছেদ হয়ে গেছে।

হযরত ইবনে মাসউদ রা. বলেন ঠিক বলেছে। অর্থাৎ

তিন তালাক হয়েছে।

[মুআত্ত্বা ইমাম মালেক-১৯৯]

অপর হাদিসে আছে- হযরত হাসানের বর্ণনা আমাদের

হযরত ইবনে উমর রা. বলেন- যে তিনি তার স্ত্রীকে

মাসিকের সময় এক তালাক দিয়ে দিয়েছিলেন। অতপর

ইচ্ছা করলেন দুই তোহরে (পবিত্রতার সময়) অবশিষ্ট দুই

তালাক দিয়ে দিবেন। নবীজি সা. অবগত হলেন এবং

বললেন- ‘হে ইবনে উমর! এভাবে আল্লাহ তোমাকে

নির্দেশ দেননি। তুমি সুন্নত তরীকার খেলাফ করেছো।

সুন্নত তরীকা হলো তোহরের অপেক্ষা করবে এবং

প্রতি তোহরে এক তালাক করে দিবে। এরপর নবীজি

সা. আমাকে ফিরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিলেন।

সেমতে আমি ফিরিয়ে নিলাম। এরপর বললেন- যখন সে

পবিত্র হয়ে যাবে তখন তোমার এখতিয়ার, ইচ্ছা

করলে তালাক দিয়ে দিতে পারবে আর ইচ্ছা করলে

রেখেও দিতে পারবে। হযরত ইবনে উমর রা. বলেন,

এরপর আমি নবীজি সা. কে জিজ্ঞাসা করলাম, হে

আল্লাহর রাসূল! যদি আমি তিন তালাক দিয়ে দিতাম

তাহলে কি আমার ফিরিয়ে আনা জায়েজ হতো?

নবীজি বললেন- না। সেক্ষেত্রে তোমার স্ত্রী

তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো এবং তোমার এই

কাজ (তিন তালাক প্রদান) গুনাহের কাজ হতো।

দারেকুতনী ২/৪৩৮

আপনি লক্ষ্য করেছেন যে উল্লেখিত হাদিসসমূহে তিন

তালাকের মাধ্যমে তিন তালাকই হওয়ার বিধান

রয়েছে। এছাড়াও আরোও অনেক রেওয়াত স্পষ্টভাবে

প্রমাণ করছে যে- তিন তালাক তিন তালাকই হবে। এক

তালাক নয়।

বি:দ্র: ডা. জাকির নায়েক তার বক্তৃতায় সৌদি

আরবের তিনশত আলেমের উদ্বৃতি দিয়েছে। তারপর

নিজের মতামতও পেশ করেছে। কিন্তু তারা কোন

কোন আলেম তা উল্লেখ করেনি। অথচ সৌদি আরবে

তাহকীকাতে ইলমিয়ার সম্মানীত মুফতীগণ তিন

তালাক দ্বারা তিন তালাক হওয়ারই ফতোয়া

দিয়েছেন। তাদের সিদ্ধান্তটি নিম্নরূপ :-

এক শব্দে তিন তালাকসংক্রান্ত বিষয়ে হাইয়াতুল

বিবারিল উলামা এর সাধারণ পরিষদ থেকে পেশকৃত ও

লাজনাতুদ্দায়েমা লিল বুহুস ওয়াল ইফতা থেকে

প্রস্ত্ততকৃত গবেষণার ওপর অবগতি লাভ পূর্বক

মাসআলাটি নিয়ে স্টাডি মতবিনিময় ও সংশ্লিষ্ট

মতামতসমূহ পেশ করা এবং প্রত্যেক মতামতের ওপর

আরোপিত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনার পর বোর্ডের

অধিকাংশ এক শব্দের তিন তালাকে তিন তালাক

পতিত হওয়ার বিষয়টিই গ্রহণ করেছেন। মাজাল্লাতুল

বুহুস আল ইসলামিয়া ১ম খন্ড ৩য় সংখ্যা১৩৯৭ হি:

ঘ. একটি আলোচনায় বক্তৃতার সময় পরামর্শ দেন ‘

মুসলমানদের এমন পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত যেনো সমগ্র

বিশ্বে একই দিন ঈদ হতে পারে।’

তার এই বক্তব্য ‘ছূমূ লিরুয়াতিহী ওয়া আফতিরুলি

রুয়াতিহী’ মুসলিম-২৫৬৭

অর্থাৎ ‘চাঁদ দেখে রোজা রাখা ও চাঁদ দেখেই

ইফতার করো।’ এ হাদিসটির পরিপন্থি হওয়ার সাথে

সাথে সুস্থ বিবেকেরও পরিপন্থি। কেননা একই দিনে

ঈদের মাসআলাটির মূলত এই ভিত্তিতে সৃষ্টি হয় যে

ঈদকে একটি উৎসব দেশীয় অনুষ্ঠান বা জাতীয় দিবস

সাব্যস্ত করা হয়। অথচ এটা চূড়ান্ত পর্যায়ের একটি

ভুল চিন্তা। কেননা আমাদের ঈদ রমজান বা মুহাররম

কোন উৎসব নয়, বরং সবগুলোই ইবাদত, তাছাড়া সময় সব

দেশ ও এলাকার আকাশ সীমার বিবেচনায় হওয়া

একটি আবশ্যকীয় বিষয় আমরা হিন্দুস্তানে যখন

আসরের নামাজ আদায় করি তখন ওয়াশিংটনে সকাল

হয়। যখন হিন্দুস্তানে আমরা জোহরের নামাজ আদায়

করি তখন লন্ডনে মাগরিবের নামাজ হয়ে যায়।

এছাড়া এমনও হয় যে এক দেশে জুমার দিন হলে

অন্যদেশে তখনো বৃহস্পতিবার, আবার কোথাও

শনিবার শুরু হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে

সারাবিশ্বে একই দিনে ঈদ পালনের চিন্তা কিভাবে

করা যায়?

মোটকথা এসকল সমালোচনার আলোকে বুঝা গেলো

ডা. জাকির নায়েক অনেক মাসআলায় আহলে

সুন্নাতওয়াল জামাআত থেকে বিচ্যুত। কুরআন ও

হাদিসের ব্যাখ্যায় আরবি ভাষাও পূর্বসূরিদের থেকে

বর্ণিত তাফসিরসমূকে দূরে ঠেলে দিয়ে খোড়া

যুক্তির মাধ্যমে তাফসির করে অর্থগত বিকৃতির

শিকার। তাছাড়া সে শরীয়তের ইলম ও এর

উদ্দেশ্যাবলী সম্পর্কে গভীর জ্ঞান না থাকা

সত্ত্বেও কোনো ইমামের তাকলীদ করে না। বরং

উল্টো মুজতাহিদ ইমামগণের সমালোচনা করে। তাই

তার কথাবার্তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার

প্রোগ্রাম দেখা তার বয়ান শোনা এবং তাহকীক

ছাড়া তার ওপর আমল করা অত্যন্ত ক্ষতিকর। আর

যেহেতু বাস্তব তাহকীক করা সব ধরনের মানুষের কাজ

নয়। তাই তার প্রোগ্রাম সমূহ থেকে সাধারণ জনতার

বেঁচে থাকাই আবশ্যক। তাছাড়া প্রত্যেক মুমিনের

সর্বদা মনে রাখতে হবে যে দ্বীনের বিষয় যা অত্যন্ত

স্পর্শকাতর একটি বিষয়। মানুষ দীনের কথা শুনে এবং

এর ওপর আমল করে শুধু আখেরাতের নাজাতের জন্য।

এক্ষেত্রে শুধু মাত্র নতুন নতুন তাহকীক, ত্বরিত জবাব,

রেফারেন্সের আধিক্য এবং মানুষের মাঝে বাহ্যিক

গ্রহণযোগ্যতা দেখে তাহকীক ছাড়া কারো কথার

ওপর কখনোই আমল করা উচিত নয়; বরং মানুষের

চিন্তুা করা জরুরি যে সে ব্যক্তি দীনী ইলমের

কতোটুকু যোগ্যতা রাখে। কোন কোন উস্তাদদের

থেকে ইলম অর্জন করেছে। কোন পরিবেশে সে

প্রতিপালিত হয়েছে। তার পোশাক-আসাক, বাহ্যিক

অবস্থা অন্যান্য উলামায়ে কেরামের সাথে

সামঞ্জস্যতা রাখে কিনা?

তাছাড়া সমসাময়িক গ্রহণযোগ্য উলামা মাশায়েখের

তার ব্যাপারে কি মতামত? এটাও দেখা জরুরি যে

তার দ্বারা প্রভাবিত ও তার আশপাশে একত্র হয় এমন

ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কি পরিমাণ সহীহ দ্বীনি অনুভূতি

রাখে এবং দীনি খিদমতে জড়িত গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির

পরিমাণই বা কেমন? তার কাছাকাছি কিছুগ্রহণ যোগ্য

ব্যক্তি থাকলে তাদের কাছে জানা প্রয়োজন যে

তার ধরন কি? তারা কেন তার কাছে আছে? এমন তো

নয় যে কোন ভুল ধারণার বশিভূত হয়ে বা জ্ঞানের

স্বল্পতা অথবা কোন স্বার্থে কাছাকাছি দেখাচ্ছে।

মোটকথা এই সকল বিষয় তাহকীক করার পর যদি

নিশ্চিত হওয়া যায় তাহলেই কেবল দ্বীনি বিষয়ে

তার কথা গ্রহণ ও আমলযোগ্য সাব্যস্ত হবে। নতুবা তার

কাছ থেকে দূরত্ব অবলম্বন করার মধ্যেই ঈমানের

নিরাপত্তা। প্রসিদ্ধ তাবেঈ মুহাম্মদ ইবনে সীরিনের

বাণী- ‘দীনের কথা শোনা ও শিখার জন্য জরুরি হলো

যে খুব চিন্তা করো যে কেমন লোক থেকে ইলম অর্জন

করছো এবং দীন শিখছো। আল্লাহ তা’য়ালা সবাইকে

সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন।