আহলে হাদীস দের কাছে কিছু প্রশ্ন।ইলিম থাকলে উত্তর দিয়ে যাও

আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللّهِ وَالرَّسُولِ.

অর্থ: “হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহ পাক- উনার ইতায়াত করো এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার ইতায়াত করো এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলিল আমর উনাদের ইতায়াত করো। অতঃপর যখন কোন বিষয়ে উলিল আমরগণের মাঝে ইখতিলাফ দেখতে পাবে তখন (সে বিষয়টি ফায়সালার জন্য) তোমরা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করো অর্থাৎ যে উলিল-আমরের কুরআন-সুন্নাহ্র দলীল বেশি হবে উনারটিই গ্রহণ করো।” (সূরা নিসা, আয়াত শরীফ ৫৯)
“মালেক ইবনে আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত-নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি যতদিন আকড়ে ধরবে ততদিন পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহ পাক উনার কিতাব এবং অপরটি আমার সুন্নাহ্ (মিশকাত-১ম খন্ড হাদিস নং-১৭৭)

“হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত-নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,…আমি তোমাদের মধ্যে দুটি মূল্যবান সম্পদ রেখে যাচ্ছি। একটি হল আল্লাহপাক উনার কিতাব। এর মধ্যে রয়েছে হেদায়াত ও আলো। অতএব তোমরা আল্লাহপাক উনার কিতাবকে মজবুতভাবে আকড়ে ধর। আর দ্বিতীয়টি হল আমার আহলে বাইত। আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইত সম্পর্কে আল্লাহর পক্ষ হতে বিশেষভাবে বলছি। (মিশকাত-১১তম খন্ড হাদিস নং-৫৮৮০,৫৮৯২,৫৮৯৬)

তাহলে আপনি কেন শুধু নিজে আহলে হাদীস বলেন?

*আপনি কী কুরআনের অনূসারী না? আপনি কেন আহলে কুরআন নিজেকে বলেন না?
*আপনি কী আহলে সুন্নাহ না?কেন আহলে সুন্নাহ বলেন না?
*আপনি কী আহলে বাইত কে মানে না?কেন নিজেকে আহলে বাইত বলেন না?
*আপ্নি কী সাহাবা উনাদের মানে না ?কেন নিজেকে আহলে সাহাবা বলেন না?
*আপনি কী উলীল আমর তথা অলী আল্লাহদের মানেন না?কেন আহলে উলীল আমর তথা অলীআল্লাহ বলেন না?

*শুধুই কেন আহলে হাদীস?

*আর আহলে হাদীস হলে কোন আহলে হাদীস সহীহ আহলে হাদীস?
নাকী জয়ীফ আহলে হাদীস?নাকি হাসান?নাকি মুরসাল?নাকি গরীব?

আহলে হাদীস না হতে হবে আহলে সুন্নাহ।আসুন জানি এই বিষয়ে-

নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন তোমরা আমার সুন্নাহকে অনুসরণ কর। ভাল করে লক্ষ করুন→
প্রত্যেক সুন্নাহই একটি হাদীস,কিন্তু প্রত্যেক হাদীসই সুন্নাহ্ নয়।
দ্বীনের উপর চলার জন্য উম্মত সকল হাদীসকেই অনুসরন করতে পারবে না, যদিও সেই হাদীসটি “সহীহ ” হয়। কেননা অনেক সহীহ হাদীস আছে যা অন্য সহীহ হাদীস দ্বারা রহিত (বাতিল) হয়ে গিয়েছে বা তা পূর্বের বিধান ছিল কিন্তু পরবর্তীতে নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার. দ্বারা রহিত হয়ে গিয়েছে ।

নিচে আমি এরকম কয়েকটি উদাহরণ দিচ্ছি,
হাদীস নং-০১
——————-
♦ ইসলামের প্রথম যুগে নামাযরত অবস্থায় কথা বলা, সালাম দেওয়া ও সালামের উত্তর দেওয়া সবই জায়েয ছিল।
(বুখারী হা. নং- ১১৯৯, ১২০০)
নামাযে কথা বলা যাবে এটা সহীহ হাদীসে আছে, আপনি কি এখন নামাজে কথা বলতে পারবেন?
না পারবেন না, কারন পরবর্তীতে এই বিধান রহিত হয়ে যায়।
হাদীস নং-০২
——————-
♦ নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহ মুসলমানগন হিজরতের পর মদীনায় ১৬/১৭ মাস বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে নামায আদায় করত।
(বুখারী হা. নং- ৭২৫২)
আপনি কি পারবেন সহীহ হাদীসের ধোঁয়া তুলে মক্কার দিকে নামাজ না পড়ে বাইতুল মোকাদ্দাসের দিকে ফিরে পড়তে?
হাদীস নং-০৩
——————-
♦ ইসলামের প্রথম যুগে বিধান ছিল যে, আগুনে রান্নাকৃত খাদ্য গ্রহন করলে উযু ভেঙ্গে যাবে ।
(সহীহ্ বুখারী, হা.নং- ২০৮)
এটাও তো সহীহ হাদীসে আছে।আপনার জন্য কি এটার উপর আমল করা এখন জায়েয হবে?না! কারন পরবর্তীতে এর বিধান বাতিল হয়ে গেছে।
এগুলো সবই সহীহ্ হাদীস কিন্তু সুন্নাহ নয়।অর্থাৎ এই হাদীসগুলো উম্মতের জন্য অনুসরনীয় নয়।
হাদীস নং-০৪
——————-
♦ নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১৩ টি বিয়ে করেছেন এবং মহর ছাড়াও বিয়ে করেছেন।
আপনি কি পারবেন ১৩টি বিয়ে করতে? এগুলিও তো সহীহ হাদীসে আছে। কেন পারবেন না?এমন অনেক হাদিস আছে যার বিধান নবীজী এর সঙ্গে নির্দিষ্ট ।উম্মতের জন্য তার উপর আমল করা বৈধ নয়।এই বিষয়গুলি বুঝতে কাদের প্রয়োজন?
হাদীস নং-০৫
——————-
♦ নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযা অবস্থায় উনার এক স্ত্রীকে চুম্বন করেছেন ।
(বুখারী ,হা.নং- ১৯২৮)
রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করা জায়েজ বটে তবে সুন্নাহ নয়।
হাদীস বলে আপনি যদি সহিহ এর উপর আমল করেন তবে নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নাহ হতে বঞ্চিত হলেন।
হাদীস নং-০৬
——————-
♦ নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে প্রস্রাব মুবারক করছেন।
(বুখারী, হা.নং- ১৯৩৮)
কোমরে ব্যথা থাকার কারনে কিংবা এস্তেঞ্জা করার স্থানে বসার দ্বারা শরীরে বা কাপড়ে নাপাকি লাগার অশংঙ্কায় তিনি সারা জীবনে মাত্র ২বার দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন। কিন্তু হাদীসের বর্ণনায় এসবের কারণ উল্লেখ নেই ।শুধুমাত্র দাঁড়িয়ে পেশাব করার কথা আলোচিত হয়েছে। তো হাদিস সহীহ বলে এর উপর আমল করে কি দাঁড়িয়ে পেশাব করাকে সুন্নাহ বলা যাবে ?
এগুলো সবই সহীহ্ হাদীস কিন্তু সুন্নাহ নয়। অর্থাৎ এই হাদীসগুলো উম্মতের জন্য অনুসরনীয় নয়।

যারা নিজেদেরকে ” আহলে হাদীস ” বলে দাবী করে তাদের উচিৎ হলো-
★ ১৩টি বিবাহ করা,
★ মহর ছাড়া বিবাহ করা,
★ ইহরাম ও রোযা অবস্থায় শিঙ্গা লাগানো,
★ রোযা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করা,
★ দাঁড়িয়ে পেশাব করা,
★ বাইতুল মোকাদ্দসের দিকে ফিরে নামাজ পড়া,
★ নামাযরত অবস্থায় কথা বলা।

কারন এসবই সহীহ হাদীসে রয়েছে।এটা তারা কখনই করতে পারবে না।
সুতরাং কোন মুসলমান আহলে হাদীস হতে পারে না , হতে হবে আহলে সুন্নাহ।

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে-
أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ (85
তোমরা কি কুরআনের কিছু অংশের উপর ঈমান আন এবং কিছু অংশকে অস্বিকার করছো? তোমাদের মাঝে যারা এরূপ করে, তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা, এবং আখেরাতে তাদের নিক্ষিপ্ত করা হবে ভয়াবহ শাস্তিতে। আল্লাহ তাআলা তোমাদের কর্মকান্ড বিষয়ে অনবহিত নন। {সূরা বাকারা-৮৫}
প্রচলিত নামধারী আহলে কুরআন ও আহলে হাদীস মুসলমানদের কোন দল নয়। এটি নাস্তিক ও কাফেরদের একটি দল। সরলপ্রাণ মুসলমানগণ এ কুফরী দলকে মুসলিম দল মনে করে বিভ্রান্ত হবেন না। আল্লাহ তাআলা আমাদের নাস্তিক-মুরতাদ, কাফের ও নামধারী মুসলিমদের হাত থেকে উম্মতে হাবীবী উনাদেরকে হিফাযত করুন। আমীন।

Advertisements

লা-মাজহাবীদের কুফরী আক্বীদা ও স্ববিরোধী মন্তব্য

বর্তমানে বাতিল আকিদার অন্যতম একটি ফেরকা হলো তথাকথিত সালাফী আকিদার অনুসারীগণ। এরা সালাফ শব্দ ব্যবহার করে মানুষের মাঝে এই ধারণা প্রচার করে থাকে যে, তারা সালাফে সালেহীনের অনুসারী। ]তবে তারা সালাফে সালেহীনের অনুসারী নয়। পূর্ববর্তী ভ্রান্ত দল কাররামিয়াদের অনুসারী। তারা যেহেতু পুর্ববতী ভ্রান্ত দল কাররামিয়াদের অনুসারী. তবে মনে রাখতে হবে, এদের পূর্ববতী অনুসরণীয়-অনুকরণীয় দল হলো ভ্রান্ত ফেরকা কাররামিয়া।
বর্তমানের সালাফীরা আশ্চর্যজনকভাবে আকিদার পরিশুদ্ধির কথা বলে থাকে। সহীহ আকিদার ব্যবহার তাদের মাঝে একটু বেশিই দেখা যায়(!!!) এধরনের অপপ্রচার তাদের বাতিল আকিদাকে নতুন মোড়কে উপস্থাপনের অপচেষ্টা বৈ কিছুই নয়।
কাররামিয়াদের আকিদাগুলোকেই মূলত: নতুন মোড়কে সালাফী আকিদা নামে প্রচার করা হচ্ছে। কাররামিয়া আকিদার মূল উৎস হলো ইসরাইলী রেয়াত তথা ইহুদী আকিদা। কাররামিয়া আকিদার মূল ভিত্তি হলো ইহুদীদের বিকৃত আকিদা।

আল্লাহ তায়ালা আরশে বসে আছেন (নাউযুবিল্লাহ):
আল্লাহ তায়ালা আরশে বসার আকিদার মূল উৎস হলো ইহুদী ধর্ম। ইহুদীরা আল্লাহ তায়ালাকে আরশে বসা বা সমাসীন মনে করে। ইহুদীদের এই ঘৃণিত আকিদাটি গ্রহণ করেছে কাররামিয়ারা। কাররামিয়াদের অনুসারী হিসেবে তথাকথিত সালাফীরাও এটাকে তাদের আকিদা হিসেবে গ্রহণ করেছে। তবে তাদের কেউ কেউ আবার এই আকিদাকে ভ্রান্ত আকিদা বলেও উল্লেখ করেছে। যারা এই আকিদা পোষণ করেছেন, তাদের ভ্রান্তি সম্পর্কে বেশি কিছু বলার আছে বলে মনে করি না। আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের একটা শিশুও এই ভ্রান্ত আকিদা সম্পর্কে সচেতন। সে জানে, আল্লাহর জন্য সৃষ্টির কোন গুণ সাব্যস্ত করা কুফুরী। সেটা বসার আকিদা হোক, শোয়া বা দাড়ানোর আকিদা হোক না কেন। হাটা, চলা, বসা, দাড়ানো, শোয়া, এগুলো সব সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টির সব গুণ থেকে পবিত্র। তার গুণের সাথে তুলনীয় কিছুই নেই।
আল্লাহর বসার বিষয়ে আমরা সর্বপ্রথম ইহুদীদের আকিদা উল্লেখ করবো। এরপর কাররামিয়াদের আকিদা। সব শেষে সালাফী আলেমদের বক্তব্য।
আরশে বসার ব্যাপারে ইহুদী আকিদা:
অল্ড টেস্টামেন্টের ফাস্ট কিং বইয়ে রয়েছে,
And Micaiah said, “Therefore hear the word of the LORD: I saw the LORD sitting on his throne, and all the host of heaven standing beside him on his right hand and on his left;
অর্থাৎ সুতরাং প্রভূর বাণী শোনো। আমি প্রভূকে তার কুরসীর উপর বসা দেখলাম এবং আসমানের সকল সৈন্য তার ডান ও বাম পাশে দাড়ানো ছিলো।
[ অল্ড টেস্টামেন্ট, দি বুক অফ ফাস্ট কিং, পরিচ্ছেদ ২২, শ্লোক, ১৯]
অনলাইন ভার্সন:http://biblehub.com/1_kings/22-19.htm
অল্ড টেস্টামেন্টের দি বুক অব সামে রয়েছে,
you have sat on the throne, giving righteous judgment.
অর্থ: আপনি ন্যায়-পরায়ণ হিসেবে কুরসীতে উপবেশন করেছেন। [বুক অব সাম, পরিচ্ছেদ,৯, শ্লোক, ৪।]
অল্ড টেস্টামেন্টের বুক অব সামে রয়েছে,
God reigns over the nations; God sits on his holy throne.
অর্থ: প্রভূ জাতিসমূহের উপর তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলেন, প্রভূ তার পবিত্র কুরসীতে বসলেন।
[ বুক অব সাম, পরিচ্ছেদ, ৪৭, শ্লোক, ৮]
অনলাইন ভার্সন: http://biblehub.com/psalms/47-8.htm
বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টে রয়েছে,
and crying out with a loud voice, “Salvation belongs to our God who sits on the throne
অর্থাৎ উচু স্বরে চিৎকার করে কেদে উঠলো এবং বলল, আমাদের প্রভূর জন্য মুক্তি, যিনি তার কুরসীতে বসে আছেন।
[The Book of Revelation, পরিচ্ছেদ, ৭, শ্লোক, ১০]
অনলাইন ভার্সন:http://biblehub.com/revelation/7-10.htm
একই পরিচ্ছেদের ১৫ নং শ্লোকে রয়েছে,
“That is why they stand in front of God’s throne and serve him day and night in his Temple.And he who sits on the throne will give them shelter.
অর্থাৎ আরশে উপবেশনকারী তাদেরকে আশ্রয় দিবে।
[The Book of Revelation, পরিচ্ছেদ, ৭, শ্লোক, ১৫]
অনলাইন ভার্সন, http://biblehub.com/revelation/7-15.htm
একই বইয়ের ৪ নং পরিচ্ছেদে রয়েছে,
And when those beasts give glory and honour and thanks to him that sat on the throne, who liveth for ever and ever
অর্থাৎ তারা সেই সত্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলো যিনি আরশে বসে আছেন, যিনি চিরণ্জীব।
[The Book of Revelation, পরিচ্ছেদ, ৪, শ্লোক, ৯]
http://biblehub.com/revelation/4-9.htm
কাররামিয়াদের আকিদা:

১. মুহম্মদ ইবনে কাররামের একটি মৌলিক ভ্রান্ত আক্বিদা হলো, আল্লাহ তায়ালা দেহ ও শরীর বিশিষ্ট। উনার দেহের একটি সীমা ও সমাপ্তি রয়েছে। তার মতে আল্লাহ পাক উনার দেহের নিচের দিকের কেবল সীমা ও সমাপ্তি রয়েছে, যেই দিক আরশের সাথে সংশ্লিষ্ট।
২. ইবনে কাররামের আরেকটি আক্বিদা হলো, আল্লাহ তায়ালা আরশের উপরের অংশ স্পর্শ করে আছেন।
৩. ইবনে কাররামের বিশ্বাস হলো, আল্লাহ তায়ালা আরশের উপর স্থির হয়ে আছেন। সত্ত্বাগতভাবে তিনি উপরের দিকে রয়েছেন। আরশ হলো আল্লাহর অবস্থানের স্থান।
বিস্তারিত দেখুন, আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, পৃ.২০৩, আল-মিলালু ওয়ান নিহাল, পৃ.১০৮, ই’তেকাদু ফিরাকিল মুসলিমিন, পৃ.১৭, আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, পৃ.২০৪, আল-মিলালু ওয়ান নিহাল, পৃ.১০৮।
সালাফী আকিদা:
সালাফীদের অন্যতম শায়খ হলেন মুহম্মদ বিন আব্দুল ওহাব নজদী লানাতুল্লাহি আলাইহি । সে বেশ কিছু কিতাব লিখেছেন। এসব কিতাবের অন্যতম একটি কিতাব হলো কিতাবুত তাউহীদ। কিতাবুত তাউহীদের একটি ব্যাখ্যা লিখেছে নজদীর নাতী শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে হাসান। তিনি কিতাবুত তাউহীদের এ ব্যাখ্যার নাম দিয়েছেন ফাতহুল মাজীদ। ফাতহুলী মাজীদ কিতাবুত তাউহীদের বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি তাহকীক করে প্রকাশ করেছেন, শায়খ আব্দুল কাদের আর-নাউত। ফাতহুল মাজীদের ৪৮৫ পৃষ্ঠায় আল্লাহর আরশে বসার কথা রয়েছে। এখানে রয়েছে,
إذا جلس الرب علي الكرسي
“যখন প্রভূ কুরসীর উপর বসলেন”।
আশ্চর্যের বিষয় হলো সালাফী শায়খ আব্দুল কাদের আর নাউত এই ভ্রান্ত আকিদা সম্পর্কে কোন মন্তব্যই করেননি। এ ব্যাপারে কোন অভিযোগও আনেননি। অথচ তিনি কিতাবটি তাহকীক করেছেন। এর দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যায়, এসব ভ্রান্ত আকিদার সাথে তিনিও একমত। নাউযুবিল্লাহ।

২. সউদি সরকারের সাবেক প্রধান মুফতী সালাফীদের অন্যতম শায়খ মুহম্মদ ইবনে ইব্রাহীম আলুশ শায়খও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আল্লাহর আরশে বসার আকিদা বর্ণনা করেছেন। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম কে মাকামে মাহমুদ বা প্রশংসনীয় মর্যাদা দ্বারা সম্মানিত করবেন। মাকামে মাহমুদ এর অর্থ হলো, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামত দিবসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কে শাফায়াতে উজমা বা সবচেয়ে বড় শাফায়াতের ক্ষমতা দান করবেন। শায়খ মুহম্মদ বিন ইব্রাহীম আলুশ শায়খ “মাকামে মাহমুদের” ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন,
” কেউ কেউ বলেছেন, মাকামে মাহমুদ হলো, ব্যাপক শাফায়াত বা সুপারিশ। কেউ কেউ বলেছেন, মাকামে মাহমুদ হলো, আল্লাহ তায়ালা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কে আরশের উপরে উনার পাশে বসাবেন। এটি আহলে সুন্নতের প্রসিদ্ধ বক্তব্য” উভয় বক্তব্যের মাঝে কোন বৈপরীত্ব নেই। উভয়ের মাঝে এভাবে সমন্বয় করা সম্ভব যে উভয়টি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কে দেয়া হবে। তবে আল্লাহর পাশে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বসানো হবে, এই ব্যাখ্যাটি অধিক যুক্তিসঙ্গত। নাউজুবিল্লাহ
[ফতোয়া ও রসাইল, পৃ.১৩৬। শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহীম আলুশ শায়খ, তাহকীক মুহম্মদ ইবনে ইব্রাহীম ইবনে কাসেম, প্রথম প্রকাশ, ১৩৯৯ হি:, মাতবায়াতুল হুকুমিয়া, মক্কা]
৩. সালাফীদের বিখ্যাত একজন শায়খ হলেন সালেহ আল-উসাইমিন। শায়খ সালেহ আল-উসাইমিনের উস্তাদ হলেন, আব্দুর রহমান সা’দী। তিনিও আরব সালাফীদের মাঝে বেশ পরিচিত। আব্দুর রহমান সা’দীও আরশে বসার আকিদা পোষণ করেন। তিনি লিখেছেন,
” ইস্তেওয়ার একটি ব্যাখ্যা হলো, স্থির হওয়া বা বসা। এই ব্যাখ্যাটি সালাফ বা পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণিত”
[আল-আজইবাতুস সা’দিয়া আনিল মাসাইলিল কুয়েতিয়্যা, পৃ.১৪৭। তাহকীক, ড. ওলীদ আব্দুল্লাহ। ]
আব্দুর রহমান সা’দী সাহেব বলেছেন, আল্লাহর আরশে বসার ব্যাখ্যাটি সালাফ বা পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণিত। পূর্ববর্তী দ্বারা তিনি যদি ইহুদী ও কাররামিয়াদের উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন, তাহলে ঠিক আছে। ইহুদী কাররামিয়ারা এই নিৃকষ্ট আকিদা পোষণ করে থাকে। তিনি যদি সালাফ বলতে ইসলামের নেককার সালাফে সালেহীনকে উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন, তাহলে এটা একটা ডাহা মিথ্যা কথা। সাধারণ সালাফীরা তাদের পূর্ববতী বলতে তাদের অনুসরণীয় কাররামিয়া ও মুজাসসিমাদের উদ্দেশ্য নিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সালাফ বলতে ইবনে তাইমিয়া (মৃত: ৭২৮ হি:) ও তার ছাত্র ইবনুল কাইয়ূমকে উদ্দেশ্য নেয়। কারণ বর্তমান সালাফীদের মূল অনুসরণীয় হলো, ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়্যিম। আর ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়ূম মূলত: কাররামিয়াদের ঘোর অনুসারী ছিলো। এদের আকিদা মূলত: মুশাববিহা, মুজাসসিমা ও কাররামিয়াদের আকিদা ছাড়া আর কিছুই নয়।

৪. বর্তমান সালাফীদের বিখ্যাত শায়খ হলেন সালেহ আল-উসাইমিন। তিনিওএই ইহুদীবাদী আকিদায় বিশ্বাসী ছিলেন। আল্লাহর আরশে বসার আকিদাটি তিনিও স্বীকৃতি দিয়েছেন। শায়খ সালেহ আল-উসাইমিন তার মাজমুউল ফতোয়ায় ইবনুল কাইয়্যিম এর বক্তব্য এনেছেন। ইবনে তাইমিয়ার বিখ্যাত ছাত্র ইবনুল কাইয়্যূমও আরশে বসার আকিদা রাখতো। শায়খ সালেহ আল-ফাউজান লিখেছেন,
” ইস্তাওয়া শব্দের আরেকটি ব্যাখ্যা হলো, বসা। ইবনুল কাইয়্যিম আস-সাওয়াইকুল মুরসালা (খ.৪, পৃ.১৩০৩) কিতাবে এই ব্যাখ্যাটি খারিজা ইবনে মুসআব থেকে বর্ণনা করেছেন। সূরা ত্বহার ৫ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি লিখেছেন, বসা ছাড়া কখনও কি ইস্তাওয়া হয়?
[মাজমুউ ফাতাওয়া ও রসাইল, ইবনে উসাইমিন, খ.১, পৃ.১৩৫, দারুল ওযাতন]
৫. সালাফীদের অন্যতম বিখ্যাত শায়খ হলেন শায়খ সালেহ আল-ফাউজান। তিনি আব্দুল আজীজ বিন ফয়সাল আর-রাজেহীর একটি কিতাবের ভূমিকা লেখে দিয়েছে। কুদুমু কাতাইবিল জিহাদ নামক এই বইয়ে আব্দুল আজিজ রাজেহী আরশে বসার আকিদা সম্পর্কে লিখেছে,
“বসা ছাড়া কখনও কি ইস্তাওয়া হয়? এই কথাটি সঠিক। এর উপর কোন ধুলোবালি নেই। অর্থাৎ এটি নি:সন্দেহে সঠিক।”
[কুদুমু কাতাইবিল জিহাদ, পৃ.১০১]

kudum kataibil jihad.jpg

নীচের রেখাংকিত অংশ দ্রষ্টব্য:

৬. ইবনে তাইমিয়ার বিখ্যাত ছাত্র হলেন ইবনুল কাইয়্যিম। নাওনিয়াতু ইবনিল কাইয়্যিম নামে তার একটি কিতাব রয়েছে। শায়খ সালেহ আল-ফাউজান ইবনুল কাইয়্যিমের এ কিতাবের উপর সংক্ষিপ্ত টীকা লিখেছেন। তিনি এর নাম দিয়েছেন, আত-তা’লিকুল মুখতাসার আলাল কাসিদাতিত নাউনিয়্যাহ। এ কিতাবে শায়খ ফাউজান আরশে বসার আকিদাটি স্বীকার করেছেন। তিনি লিখেছেন,
” মাকামে মাহমুদ এর ব্যাখ্যা হলো, আল্লাহ তায়ালা নবীজী পাক উনাকে কে আরশে নিজের পাশে বসাবেন।”
[আত-তালীকুল মুখতাসার, সালেহ আল-ফাউজান, পৃ.৪৫৩]
আশ্চর্যজনক স্ববিরোধীতা:
আকিদার ক্ষেত্রে সালাফী শায়খদের দোদুল্যমান অবস্থা দেখলে সত্যিই আশ্চর্য লাগে। এদের নির্দিষ্ট কোন দিক নেই। এখন পূর্বে থাকলে কিছুক্ষণ পরে ঠিকই পশ্চিমে যায়। এধরনের স্ববিরোধী অবস্থান বড় বিস্ময়কর। শায়খ সালেহ আল-ফাউজান অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় আল্লাহর বসার আকিদা স্বীকার করেছেন। যারা এটা অস্বীকার করে তাদেরকে দুর্বল মস্তিষ্কের আখ্যাযিত করেছেন। এমনকি তাদের কথা ধর্তব্য নয় বলেও রায় দিয়েছেন। অথচ তিনি আবার লিখেছেন,
প্রশ্ন: শায়খ, আল্লাহ আপনাকে তৌফিক দান করুন। যে ব্যক্তি এই বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ ইস্তাওয়া গ্রহণ করেছেন, অর্থাৎ তিনি আরশে বসেছেন, তার সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী? এটা কি তা’বীল বা ব্যাখ্যার অন্তুর্ভূক্ত হবে?
উত্তর: এটি বাতিল ও ভ্রান্ত। কেননা বসা দ্বারা ইস্তাওয়ার ব্যাখ্যা করা হয় না।আর আমরা নিজেদের পক্ষ থেকে কিছু বলি না।
[শরহু লুময়াতিল ই’তেকাদ, পৃ.৩০৫]
২. শায়খ ইবনে জিবরীন সালাফীদের অন্যতম শায়খ। তিনি আল-জওয়াবুল ফাইক ফির রদ্দি আলা মুবাদ্দিলিল হাকাইক নামে একটা পুস্তক লিখেছেন। এই পুস্তকে তিনি আল্লাহর বসার আকিদাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। এমনকি যারা এ আকীদাকে আহলে সুন্নতের আকিদা বা নজদের ওহাবী বা সালাফী আলেমদের আকিদা বলে থাকে, তাদেরকে মিথ্যুক বলেছেন। তিনি লিখেছেন,
“সালাফে সালেহীনের কিতাবে ইস্তাওয়া শব্দের ব্যাখ্যায় বসার কোন অর্থ উল্লেখ নেই। সুতরাং আহলে সুন্নতের দিকে এই আকিদা সম্পৃক্ত করা কিংবা সালাফী আলেমদের দিকে এই আকিদা সম্পৃক্ত করা, তাদের সম্পর্কে মিথ্যাচার বৈ কিছুই নয়।“
শায়খ আলবানীর বক্তব্য:
শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানীর মতে যেসব হাদীসে স্পষ্টভাবে আল্লাহর দিকে বসার কথা উল্লেখ রয়েছে এগুলো জাল হওয়া বান্ছনীয়। কেননা এসব হাদীসের বক্তব্য মুনকার। কেননা আল্লাহর আরশে বসার ব্যাপারে কোন সহীহ হাদীস নেই। আর বসার কথা যেসব হাদীসে রয়েছে, সেগুলো কখনও রাসূল স. এর হাদীস হতে পারে না। কারণ আল্লাহর দিকে বসার সম্পৃক্ততাই প্রমাণ করে যে এটি রাসূলস. এর হাদীস নয়। শায়খ আলবানীর সব লেখা সংকলন করে একটি মউসুয়া বের করা হয়েছে। এই মউসুয়ার প্রথম খন্ডে আকিদা বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রথম খন্ডের ৩৪৩ পৃষ্ঠার শিরোনাম হলো,
“আল্লাহ তায়ালা জন্য বসার আকিদাটি ভিত্তিহীন”
এখানে শায়খ আলবানী বলেছেন,
“ আল্লাহর বসার ব্যাপারে কোন বিশুদ্ধ বর্ণনা নেই। সুতরাং আল্লাহর দিকে বসার আকিদা সম্বলিত হাদীস জাল হওয়াটাই বান্চনীয়”
এছাড়া শায়খ আলবানী আরও স্পষ্টভাবে এই ভিত্তিহীন ভ্রান্ত আকিদাটি তার আল-মুখতাসারুল উলু কিতাবে খন্ডন করেছেন। তিনি লিখেছেন,
ولست ادري ما الذي منع المصنف – عفا الله عنه – من الاستقرار على هذه القول ، وعلى جزمه بان هذه الاثر منكر كما تقدم عنه ، فانه يتضمن نسبة القعود على العرش لله عزوجل ، وهذا يستلزم نسبة الاستقرار عليه لله تعالى وهذا مما لم يرد ، فلا يجوز اعتقاده ونسبته الى الله عزوجل
অর্থাৎ ইমাম যাহাবী সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, আমি জানি না, লেখক (ইমাম যাহাবী) এই কথার উপর কেন অটল রইলেন না। এবং এই বর্ণনা মুনকার বা অবান্ছিত হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় রইলেন না। কেননা, এ বর্ণনায় আল্লাহ তায়ালার দিকে বসার কথা সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা আরশে স্থির আছেন এটা সাব্যস্ত হয়। অথচ আল্লাহর বসার ব্যাপারে বিশুদ্ধ কোন বর্ণনা নেই। সুতরাং এটি বিশ্বাস করা এবং তা আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করা বৈধ হবে না।
[মুখতাসারুল উলু, পৃ.১৭, প্রথম সংস্করণ]

পরবতী আলোচনায় আরশে বসার ব্যাপারে ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়্যিমের বক্তব্য উল্লেখ করা হবে।

একজন মাযহাবী ও লা মাযহাবীর কথোপকোথন৷

 

যদি চার মাজহাব সঠিক হয়

তাহলে আমরা একটি মানছি কেন?

(একজন হানাফী ও একজন আহলে খবিশের মধ্যে

কথোপকোথন)

________________________

প্রশ্ন ১

আহলে হাদীসঃ-

চার মাযহাবই সঠিক? যদি চারটিই সঠিক হয় তাহলে আমরা একটি

মানছি কেন? এ বিষয়ে আপনাদের সুচিন্তিত জবাব আশা করছি।

হানাফী মাযহাবী ভাইয়ের উত্তরঃ-

ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ

কথিত আহলে হাদীসঃ-এটা কেমন কথা যে, আল্লাহ এক

আর ইমাম হল চারজন?

হানাফী মাযহাব অর ভাই ঃ-এটা কেমন কথা যে, আল্লাহ পাক এক

আর নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা এক লাখ চব্বিশ হাজার?

ওখানে যেমন বল যে, এক নবীজী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনাকে কে মান, আর বাকিদের ছেড়ে দাও তথা

উনারা শ্রদ্ধার যোগ্য তবে মানতে হবে একজনকেই কিন্তু

কাউকেই অস্বীকার করা যাবে না । এখানেওতো

ব্যাপার তাই। এক ইমামকে মান। বাকিদের ছেড়ে

দাও। কোথাও কি আছে নাকি যে, ইমাম বেশি হতে

পারবে না? যদি থাকে বলেন আমি মেনে নিব। আমি

দেখি ইমাম বেশি হতে পারবে কুরআন দ্বারা

প্রমাণিত।

ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺁﺗَﻴْﻨَﺎ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏَ ﻓَﻼ ﺗَﻜُﻦْ ﻓِﻲ ﻣِﺮْﻳَﺔٍ ﻣِﻦْ ﻟِﻘَﺎﺋِﻪِ

ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَﺎﻩُ ﻫُﺪﻯً ﻟِﺒَﻨِﻲ ﺇِﺳْﺮﺍﺋﻴﻞَ ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﺃَﺋِﻤَّﺔً ﻳَﻬْﺪُﻭﻥَ ﺑِﺄَﻣْﺮِﻧَﺎ

অর্থাৎ বাস্তব কথা হল আমি মুসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সাল্লাম

উনাকে কে কিতাব দিয়েছি, সুতরাং আয় আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি উনার র সাক্ষাত সম্পর্কে কোন

সন্দেহে থাকবেন না না। আমি সে কিতাবকে বনী

ইসরাঈলের জন্য বানিয়েছিলাম পথ-নির্দেশ।

আর আমি তাদের মধ্যে কিছু লোককে, এমন ইমাম বানিয়ে

দিলাম, যারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে পথ প্রদর্শন করত।

{সূরা সাজদা-২৩,২৪}

একজন রসূল আলাইহিস সালাম উনার উম্মতের মাঝে কয়েকজন

ইমাম হতে পারে। এটাতো কুরআন বলছে। কুরআনের শব্দ

ইমামের বহুবচন আইয়িম্মাহ ব্যবহৃত হয়েছে।

কথিত আহলে হাদীস- চার ইমামই কি সঠিক?

হানাফীঃ-হ্যাঁ, চার ইমামই সঠিক।

কথিত আহলে হাদীসঃ-তাহলে চার ইমামের অনুসরণ

করেন না কেন? শুধু নিজের ইমামের অনুসরণ করেন

কেন?

হানাফীঃ-যেমন সবাই এক লাখ চব্বিশ হাজার নবীকে

সঠিক মানি, কিন্তু অনুসরণ করি আমাদের নবীজী পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তেমনি সঠিক মানি চার ইমামকেই। কিন্তু

অনুসরণ করি

নিজের ইমামকে।

কথিত আহলে হাদীস-কোন হাদীসে আছে নাকি এক

ইমামের অনুসরণ কর?

হানাফীঃ-আপনি কুরআন পড়েন?

কথিত আহলে হাদীস-হা পড়ি

হানাফীঃ-এক কেরাতে? না সাত কেরাতে?

কথিত আহলে হাদীস-এক কেরাতে?

হানাফী ঃ-সারা জীবন এক কেরাতে কুরআন পড়া আর

বাকি কেরাতকে ছেড়ে দেবার কথা কুরআন বা

হাদিসের কোথাও আছে?

কথিত আহলে হাদীস-আমাদের কাছে আছেই এটা।

তাই পড়ি। কিন্তু এক ইমামের অনুসরণ করলেতো

চতুর্থাংশ দ্বীন মানা হয়।

হানাফীঃ-এক কেরাতে কুরআন পড়লে কি সাত ভাগের

একভাগ সওয়াব পাওয়া যায়?

কথিত আহলে হাদীস-না, না, এক কিরাতে পড়লে পূর্ণ

কুরআন পড়ার সওয়াবই পাওয়া যায়।

হানাফীঃ-তেমনি এক ইমামকে মানলে পূর্ণ শরীয়তেরই

অনুসরণ হয়।

কথিত আহলে হাদীস-আপনাদের আকল কখনো হবে না?

ইমামদের মাঝেতো হারাম-হালালের মতভেদ। একজন

যেটাকে হালাল বলেন, অন্যজন সেটাকে হারাম

বলেন। তাহলে যিনি হারাম বলেন তিনিও সঠিক। আর

হালাল যিনি বলেন তিনিও সঠিক! এটা কি করে

সম্ভব?

হানাফীঃ-আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ তায়ালা আকল

দিয়েছেন। নবীগণ সবাই সঠিক।

আদম আলাইহিস সালাম এর সময়ে আপন বোনকে বিবাহ করা

জায়েজ ছিল । আমাদের দ্বীনে হারাম। কিন্তু উভয় নবীই

সঠিক।

ইয়াকুব আলাইহিস সালাম উনার দুইজন স্ত্রী আপন বোন ছিল। এটা

সে

সময় জায়েজ ছিল। কিন্তু আমাদের নবীজি পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দ্বীনে তা

হারাম। উভয়ই সঠিক। সবার আল্লাহ একই। অথচ হুকুম

ভিন্ন। তেমনি চার ইমামই সঠিক। কিন্তু তাদের হুকুম

ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।তবে মাসয়ালার ক্ষেত্রে৷ ৷

কথিত আহলে হাদীস-আরে এখানেতো নাসেখ

মানসুখের বিষয়। একটি হুকুম এসে অন্যটাকে রহিত

করে দিয়েছে।

হানাফীঃ-আর ইমামদের ইখতিলাফের মাঝে রাজেহ-

মারজুহ এর মাসআলা। তথা একটি হুকুমের উপর অন্যটিকে প্রাধান্য

দেবার মাসআলা। যেমন রহিত হওয়া বিষয়ের উপর আমল জায়েজ

নয়, তেমনি

প্রাধান্য পাওয়া হুকুম রেখে অপ্রাধান্য পাওয়াবিষয়ের উপর আমল

করাও জায়েজ নয়।

কথিত আহলে হাদীস-আপনারা যেহেতু অন্য ইমামদের মানেন

না, তাহলে তাদের বাতিল বলেন না কেন? সঠিক বলেন কেন?

হানাফীঃ- হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনিও নবী কিন্তু উনার

সময়ে শরীয়তে বিষয় নিজের বোনকে কেন এখন বিবাহ

করা যায় না? ইয়াকুব আলাইহিস সালাম উনিও নবী কিন্তু উনার সময়ে

শরীয়তে বিষয় দুইবোনকে এক সাথে বিবাহ এখন কেন করা

যাবে না?

কথিত আহলে হাদীস-আমরা শুধু আমাদের নবীজীকে

মানি। বাকিরাও হক একথা ঠিক আছে।

হানাফী ঃ-আমরাও বলি-অন্য ইমাম ঠিক আছে, কিন্তু

আমরা মানি আমাদের ইমামকে।

কথিত আহলে হাদীস-সেখানেতো সময় আলাদা

আলাদা।

হানাফীঃ-এখানে এলাকা আলাদা আলাদা। শাফেয়ী শ্রীলংকায় আর

হানাফী পাকিস্তানে[বাংলাদেশে]। সেখানে সময় আলাদা আলাদা,

আর এখানে এলাকা আলাদা আলাদা।

কথিত আহলে হাদীস-যদি কোন মাসআলায় তিন ইমাম

একদিকে হয় আর এক ইমাম একদিকে হয় তাহলে কী

করবেন?

হানাফীঃ-তিন জন নয়, তিন হাজার হলেও আমাদের

ইমামকেই মানবো।

কথিত আহলে হাদীস-এটা কোন ইনসাফ হল?

হানাফী-অবশ্যই এটা ইনসাফ।

কথিত আহলে হাদীস-আরে অপরদিকে তিন ইমাম।

হানাফী ঃ-তাতে কি? আমরাতো আমাদের ইমামের

অনুসরণ করবো। তিন হাজার হলেও কি?

কথিত আহলে হাদীস-আপনি কি জিদ করছেন নাকি?

হানাফীঃ-নাহ, জিদ করবো কেন? ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনার

পিতা ইয়াকুব আলাইহিস সালাম উনাকে সিজদা করেছিলেন এটা

কুরআনে আছে কি?

কথিত আহলে হাদীস-হ্যাঁ আছে।

হানাফীঃ-সে আয়াতের তাফসীরে মুফাসসিরীনরা

বলেন-হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগে সকল

নবীরসূল আলাইহিমুস সালাম যুগে সম্মান করে সেজদা দেয়া

জায়েজ ছিল। তো একদিকে এক লাখ তেইশ হাজার নয় শত

নিরান্নবই

নবীর কাছে সম্মানসূচক সেজদা জায়েজ। আর হুজুর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন জায়িয

নয়। আপনি বলছেন তিন জনের কথা। এখানে লাখের বিষয়।

কাকে

মানবেন? বিশাল জামাতকে? না একজনকে? তাহলে এক লাখ

তেইশ

হাজার নয় শত নিরান্নব্বই নবীর শরীয়ত মানবেন না

আমাদের এক নবীর শরীয়ত মানবেন? বেশি কে না

একজনকে? কুরবানীর গোস্ত খাওয়া আমাদের নবীর আগে

কারো

শরীয়তে জায়েজ ছিল না। তাহলে কাকে মানবেন? লাখ

নবীকে না আমাদের এক নবীকে?

কথিত আহলে হাদীস-[কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে] দ্বীন

মক্কা-মদীনায় এসেছে? না কুফায়?

হানাফী -মক্কা-মদিনায়।

কথিত আহলে হাদীস-তাহলে মক্কা-মদিনার ইমামকে

মানা উচিত না কুফার ইমামের?

হানাফীঃ-আপনার মন কি বলে?

কথিত আহলে হাদীস-মক্কা-মদিনার ইমাম দের মানা উচিত।

হানাফীঃ-বড় একটি মিথ্যা কথা বলেছেন আপনি।

কখনো এটা মাফ হবে না।

কথিত আহলে হাদীস-ভুল হইছে?

হানাফীঃ-হ্যাঁ, বহুত বড়।

কথিত আহলে হাদীস-কিভাবে?

হানাফীঃ কুরআন মক্কা-মদিনায় নাজিল হয়েছে না?

কথিত আহলে হাদীস-হ্যাঁ।

হানাফীঃ সাত জন ক্বারী ছিল। এর মাঝে মক্কা-

মদীনার ক্বারীও ছিল। বসরার ক্বারীও ছিল। কিন্তু

সবাই ক্বারী আসেম কুফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কিরাতে

কুরআন কেন

পড়েন? কুফী ক্বারীর কেরাতে কুরআন পড়লেআপনাদের

থেকে বড় কুফী আর কে আছে? কুরআননাজিল হয়েছে

মক্কা-মদিনায় আর কেরাত পড় কুফীর! এটা কেমন কথা?

কথিত আহলে হাদীস-কুফার লোকেরাতো আর কুরআন

নিজেরা বানায়নি। কুফাতে যে সাহাবারা এসেছেন

তাঁরা কুরআন সাথে নিয়ে এসেছিলেন।

হানাফীঃ-মক্কা-মদিনা থেকে সাহাবারা গিয়ে

কুরআন যদি কুফায় নিয়ে নতুন না বানিয়ে থাকেন,

তাহলে নামায কি মক্কা-মদিনা থেকে সাহাবারা

কুফায় নিয়ে গিয়ে নতুন নামায বানিয়ে ফেলেছেন?

খামোশ হয়ে গেল কথিত আহলে হাদীসের লম্বা

জিহবা।