মহাকাশ বিজ্ঞান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পর্ব ১

পৃথিবীঃ- সৌরজগতে আমাদের পৃথিবী একটি

গ্রহ এবং তার একমাত্র উপগ্রহ হলো চাঁদ। চাঁদ

পৃথিবীকে ঘিরে প্রতি চন্দ্রমাসে একবার

ঘুরে এবং পৃথিবী যে সূর্যের চারিদিকে

প্রতি সৌরবছরে একবার ঘুরছে তা আমাদের

সকলেরই জানা।

উপরের ছবিতে উত্তর মেরুর উপর হতে

পৃথিবীর ঘূর্ণন দেখানো হয়েছে। কল্পনা

করলেই বোঝা যাবে উত্তর মেরুর উপর

থেকে দেখলে মনে হবে পৃথিবী ঘড়ির

কাটার বিপরীত দিকে ঘুরছে।

অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা

পৃথিবীর মানচিত্রে কোনো স্থান

নির্ণয়ের জন্য পূর্ব-পশ্চিমে এবং উত্তর-

দক্ষিণে কতকগুলো কাল্পনিক রেখা অঙ্কন

করা হয়। এগুলোকে যথাক্রমে অক্ষরেখা

ও দ্রাঘিমারেখা বলে। অক্ষরেখা ও

দ্রাঘিমারেখা ভূগোলের একটি অত্যন্ত

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো স্থানের অবস্থান

অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার সাহায্যে জানা যায়।

দ্রাঘিমার অবস্থান থেকে কোনো

স্থানের সময় জানা যায়। অক্ষরেখার সাহায্যে

যেমন নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর বা

দক্ষিণে অবস্থান জানা যায়, তেমনি মূল

মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে অবস্থান

জানার জন্য মধ্যরেখা বা দ্রাঘিমারেখা ব্যবহার

করা হয়। অক্ষরেখার অংশকে অক্ষাংশ এবং

দ্রাঘিমারেখার অংশকে দ্রাঘিমা বলে।

অক্ষাংশ(Latitude):

অক্ষাংশ কাকে বলে তা জানতে হলে

প্রথমে আমাদের জানতে হবে পৃথিবীর

মেরুরেখা বা অক্ষ এবং নিরক্ষরেখা ও

সমাক্ষরেখা কাকে বলে। পৃথিবীর কেন্দ্র

দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে

মেরুরেখা বলে। এ অক্ষের উত্তর-প্রান্ত

বিন্দুকে উত্তর মেরু বা সুমেরু(North

Pole) এবং দক্ষিণ প্রান্ত বিন্দুকে দক্ষিণ

মেরু বা কুমেরু(South Pole) বলে। প্রথম

পর্বে আমরা এই ছবি গুলো দেখেছি । দুই

মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে

পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে একটি রেখা

কল্পনা করা হয়েছে। এ রেখাকে বলা হয়

নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা(Equator) ।

পৃথিবীর গোলীয় আকৃতি কল্পনার জন্য এ

রেখা বৃত্তাকার, তাই এ রেখাকে

নিরক্ষবৃত্ত ও বলা হয়।

নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে

সমান দুই ভাগে ভাগ করেছে। নিরক্ষরেখার

উত্তর দিকের পৃথিবীর অর্ধেককে উত্তর

গোলার্ধ(Northern Hemisphere) এবং

নিরক্ষরেখার দক্ষিণ দিকের পৃথিবীর

অর্ধেককে দক্ষিণ গোলার্ধ(Southern

Hemisphere) বলা হয়।

নিরক্ষরেখার সাহায্যে উত্তর ও দক্ষিণ

গোলার্ধের কোনো স্থানের কৌণিক

দূরত্ব স্থির করা হয়। এ জন্য পৃথিবীপৃষ্ঠে

যে স্থানের কৌণিক দূরত্ব বের করতে

হবে তার কোনো বিন্দুকে একটি কাল্পনিক

রেখার সাহায্যে পৃথিবীর কেন্দ্রের

সঙ্গে যোগ করা হয়। আবার

পৃথিবীপৃষ্ঠের ঐ বিন্দুর উপর দিয়ে প্রসারিত

মধ্য রেখা যে স্থানে নিরক্ষরেখাকে

ছেদ করে সেই ছেদ বিন্দুকে একটি

কাল্পনিক সরলরেখার সাহায্যে পৃথিবীর

কেন্দ্রবিন্দুর সঙ্গে যোগ করা হয়। এ

কাল্পনিক রেখা আসলে পৃথিবীর

গোলকের ব্যাসার্ধ। এ দুই রেখার সাহায্যে

পৃথিবীর কেন্দ্রে যে কোণ উৎপন্ন হয়

সে কোণই হল ঐ নির্দিষ্ট স্থানটির অক্ষাংশ।

নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর বা দক্ষিণে

অবস্থিত কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে

(Angular Distance) সেই স্থানের অক্ষাংশ

(Latitude) বলে। ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থান

থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত যদি

কোনো সরলরেখা টানা যায় তা হলে ঐ

রেখা নিরক্ষীয় তলের সঙ্গে যে

কোণ তৈরি করবে সেই কোণই হবে ঐ

স্থানের অক্ষাংশ(Latitude) । এটি বুঝার জন্য

নিচের ভিডিও ফাইলটি দেখুন । এই ভিডিও এর

শেষের দিকে যে কোণ টি (40.641

Degree N) দেখানো হয় সেটিই মূলত লাল

ফোটা দ্বারা চিহ্নিত স্থানটির অক্ষাংশ । আর

76.166 Inch W কোণটি হচ্ছে ঐ স্থানের

দ্রাঘিমাংশ (Longitude) যা আমরা পরবর্তীতে

আলোচনা করব ।

নিরক্ষরেখার উত্তর দিকে অবস্থিত

কোনো স্থানের অক্ষাংশকে উত্তর

অক্ষাংশ এবং দক্ষিণ দিকে অবস্থিত কোনো

স্থানের অক্ষাংশকে দক্ষিণ অক্ষাংশ বলে।

পৃথিবীর বৃত্তের কেন্দ্রে উৎপন্ন

কোণ ৩৬০ ডিগ্রি। এ কোণকে ডিগ্রি, মিনিট

ও সেকেন্ড বিভক্ত করা হয়। নিরক্ষরেখার

অক্ষাংশ ০ ডিগ্রি, উত্তর মেরু বা সুমেরুর

অক্ষাংশ ৯০ ডিগ্রি উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু বা

কুমেরুর অক্ষাংশ ৯০ ডিগ্রি দক্ষিণ। কারণ

নিরক্ষরেখা থেকে প্রত্যেক মেরুর

কৌণিক দূরত্ব ৯০ ডিগ্রি । এ কোণকে ডিগ্রি ও

মিনিটে ভাগ করে নিরক্ষরেখার সমান্তরাল

যে রেখা কল্পনা করা হয় তাকে সমাক্ষরেখা

বলে। এই পোস্টের ১ম ছবিটিতে আমরা

সমাক্ষরেখা গুলো দেখতে পাচ্ছি।  এ

সমাক্ষরেখাগুলো পরস্পর সমান্তরাল,

প্রত্যেকে একটি পূর্ণবৃত্ত ও অক্ষাংশ

বাড়লে সমাক্ষরেখার পরিধি কমে। কয়েকটি

সমাক্ষরেখা বা অক্ষরেখা বিখ্যাত। এদের

একটি ২৩.৫ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ, একে বলা হয়

কর্কটক্রান্তি(Topic of Cancer) । অপরটি

২৩.৫ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ, একে বলা হয়

মকরক্রান্তি(Topic of Capricorn) । ৬৬.৫ ডিগ্রি

উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় সুমেরুবৃত্ত

(Arctic Circle) এবং ৬৬.৫ ডিগ্রি দক্ষিণ

অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরুবৃত্ত

(Antarctic Circle) । বিষুবরেখাকে

(Equator) বলা হয় মহাবৃত্ত । কোনো

অক্ষরেখার উপর অবস্থিত সব স্থানের

অক্ষাংশ সমান।

নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী অঞ্চলের

অক্ষাংশকে অর্থাৎ ০ডিগ্রি থেকে ৩০ ডিগ্রি

পর্যন্ত অক্ষাংশকে নিম্ন অক্ষাংশ, ৩০ ডিগ্রি

থেকে ৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত অক্ষাংশকে মধ্য

অক্ষাংশ এবং ৬০ ডিগ্রি থেকে ৯০ ডিগ্রি

পর্যন্ত অক্ষাংশকে উচ্চ অক্ষাংশ বলে।

দ্রাঘিমারেখা(Meridians of Longitude):

নিরক্ষরেখাকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে

ভাগ করে প্রত্যেক ভাগবিন্দুর উপর দিয়ে

উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত

যে রেখাগুলো কল্পনা করা হয়েছে

তাকে দ্রাঘিমারেখা বলে। দ্রাঘিমারেখাকে

মধ্যরেখাও বলা হয়। মধ্যরেখাগুলোর যে

কোনো একটিকে নির্দিষ্ট মূল মধ্যরেখা

ধরে এ রেখা থেকে অন্যান্য মধ্যরেখার

কৌণিক দূরত্ব মাপা হয়। আমরা নিচের চিত্রে

লক্ষ্য করি—

Longitude

মূল মধ্যরেখা ( Prime Meridian ):

যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উপকণ্ঠে

গ্রীনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর

দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত

বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে

তাকে মূল মধ্যরেখা বলে। এই রেখার মান ০

ডিগ্রি ধরা হয়েছে।মূল মধ্যরেখা থেকে

পৃথিবীর কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণের

সাহায্যে অপরাপর দ্রাঘিমারেখাগুলো অঙ্কন

করা যায়। গ্রীনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে

৪৫ ডিগ্রি পূর্বে যে মধ্যরেখা বা

দ্রাঘিমারেখা তার উপর সকল স্থানের দ্রাঘিমা ৪৫

ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা। সূতরাং আমরা বলতে পারি

যে, গ্রীনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে

পূর্ব বা পশ্চিমে যে কোনো স্থানের

কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের দ্রাঘিমা বলা

হয়। আমরা আরো জানি, গ্রীনিচের দ্রাঘিমা ০

ডিগ্রি। পৃথিবীর পরিধি দ্বারা উৎপন্ন কোণ

৩৬০ ডিগ্রি। মূল মধ্যরেখা এ ৩৬০ ডিগ্রি কে ১

ডিগ্রি অন্তর অন্তর সমান দুই ভাগে অর্থাৎ

১৮০ ডিগ্রি পূর্ব ও ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিমে ভাগ

করেছে। পৃথিবী গোলাকার করা হয় বলে

১৮০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা ও ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিম

দ্রাঘিমা মূলত একই মধ্যরেখায় পড়ে।

অক্ষাংশের ন্যায় দ্রাঘিমাকেও মিনিট ও

সেকেন্ডে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি মিনিট

দ্রাঘিমা এ ডিগ্রির ৬০ ভাগের ১ অংশের সমান।

যেখানে নিরক্ষরেখা ও মূল মধ্যরেখা

পরস্পরকে লম্বভাবে ছেদ করে

সেখানে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা উভয়ই ০ ডিগ্রি।

আর এ স্থানটি হল গিনি উপসাগরের কোনো

একটি স্থান।

বিস্তারিত পড়ুন

Advertisements