পহেলা বৈশাখ পালন করা হারাম ও কাট্টা কুফরী৷

 

 

 

 

11257238_1991293287762411_5630933424121149700_o

পহেলা বৈশাখ পালন করা হারাম

প্রত্যেক মুসলমানের জন্য পহেলা বৈশাখ পালন করা
হারাম ও কুফরীঃ
প্রশ্নঃ পহেলা বৈশাখ পালন করা কেন হারাম ??
উত্তরঃ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
হিজরতের পর মদীনা শরীফ গিয়ে ঐ এলাকাবাসীর দুটি
উৎসব বন্ধ করেছিলেন। একটি হচ্ছে, বছরের প্রথম দিন
উদযাপন বা নওরোজ; অন্যটির নাম ছিলো ‘মিহিরজান’। এ
উৎসবের দুটির বিপরীতে চালু হয় মুসলমানদের দুই ঈদ।
(তাফসিরসমূহ দেখতে পারেন) মূলত: নওরোজ বা বছরের
প্রথম দিন পালন করার রীতি ইসলামে নেই, এটা পার্সী
মজুসীদের (অগ্নিউপাসক) অনুকরণ। এ সম্পর্কে হাদীস
শরীফে এসেছে: “যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাথে
সাদৃশ্য গ্রহণ করে সে তাদের দলভুক্ত।” তাই যে কোন
নওরোজ সেটা থার্টি ফাস্ট নাইট হোক, পহেলা নববর্ষ
হোক কিংবা পহেলা মুহররম হোক, বিজাতীয় রীতি
হিসেবে প্রতেকটি ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ সম্পর্কে—–
(১) ইমাম ফখরুদ্দীন উসমান বিন আলী আয যাইলায়ী বলেন:
* “নওরোজ ও মেলার নামে কিছু দেয়া নাজায়েয। এ দুই
দিনের নামে প্রদত্ত হাদিয়া হারাম; বরঞ্চ কুফর”। (গ্রন্থ
– তাবইনুল হাকায়েক : ৬/২২৮)
(২) ইমাম হাফস কবীর রহমতুল্লাহি বলেন: *(ক) “নওরোজ বা
বছরের প্রথম দিন উপলক্ষে যদি কেউ একটা ডিমও দান
করে, তবে তার ৫০ বৎসরের আমল থাকলে তা বরবাদ হয়ে
যাবে” *(খ) “যে ব্যক্তি নওরোজের দিন এমন কিছু খরিদ
করল যা সে পূর্বে খরিদ করত না, এর মাধ্যমে সে যদি ঐ
দিনকে সম্মান করতে চায় তাহলে সে কাফের হয়ে
যাবে।”
(৩) হাম্বলি মাযহাবের ফিকাহর গ্রন্থ ‘আল- ইকনা’ তে
বলা হয়েছে- “কাফিরদের উৎসবে যোগদান করা, সেই দিন
উপলক্ষে বেচা- বিক্রি করা ও উপহার বিনিময় করা
হারাম”।
নববর্ষ উদযাপন করে আমরা যাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ
করছি, তারা প্রকৃতপক্ষে আমাদের শত্রু। তারা কখনো
আমাদের বন্ধু হবে না, যাবত আমরা আমাদের দীন ত্যাগ
করে তাদের ধর্মের অনুসরণ না করি। তারা আমাদের দীন
ও নবীকে নিয়ে উপহাস করে।ইরশাদ :হচ্ছে ﴿ ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍْ
ﻟَﺎ ﺗَﺘَّﺨِﺬُﻭﺍْ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﭐﺗَّﺨَﺬُﻭﺍْ ﺩِﻳﻨَﻜُﻢۡ ﻫُﺰُﻭٗﺍ ﻭَﻟَﻌِﺒٗﺎ ﻣِّﻦَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃُﻭﺗُﻮﺍْ ﭐﻟۡﻜِﺘَٰﺐَ ﻣِﻦ ﻗَﺒۡﻠِﻜُﻢۡ
ﻭَﭐﻟۡﻜُﻔَّﺎﺭَ ﺃَﻭۡﻟِﻴَﺎٓﺀَۚ ﻭَﭐﺗَّﻘُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﻣُّﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ٥٧﴾ ‏] ﺍﻟﻤﺎﺉ ﺩﺓ : ٧ ]
অর্থ: হে মুমিনগণ, তোমরা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো
না, যারা তোমাদের দীনকে উপহাস ও খেল- তামাশারূপে
গ্রহণ করেছে, তাদের মধ্য থেকে তোমাদের পূর্বে
যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে ও কাফিরদেরকে। আর
আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যদি তোমরা মুমিন হয়ে
থাক”।
অন্যত্র ঘোষণা দিচ্ছেন, যে তাদের দিকে ধাবিত হবে সে
তাদের অন্তর্ভুক্ত। ইরশাদ হচ্ছে : ﴿ ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍْ ﻟَﺎ ﺗَﺘَّﺨِﺬُﻭﺍْ
ﭐﻟۡﻴَﻬُﻮﺩَ ﻭَﭐﻟﻨَّﺼَٰﺮَﻯٰٓ ﺃَﻭۡﻟِﻴَﺎٓﺀَۘ ﺑَﻌۡﻀُﻬُﻢۡ ﺃَﻭۡﻟِﻴَﺎٓﺀُ ﺑَﻌۡﺾٖۚ ﻭَﻣَﻦ ﻳَﺘَﻮَﻟَّﻬُﻢ ﻣِّﻨﻜُﻢۡ ﻓَﺈِﻧَّﻪُۥ ﻣِﻨۡﻬُﻢۡۗ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ
ﻟَﺎ ﻳَﻬۡﺪِﻱ ﭐﻟۡﻘَﻮۡﻡَ ﭐﻟﻈَّٰﻠِﻤِﻴﻦَ ٥١﴾ ‏] ﺍﻟﻤﺎﺋﺪﺓ : ٥١ ]
অর্থ: হে মুমিনগণ, ইহুদি ও নাসারাদেরকে তোমরা বন্ধুরূপে
গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। আর তোমাদের
মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে নিশ্চয় তাদেরই
একজন। নিশ্চয় আল্লাহ জালিম কওমকে হিদায়াত দেন
না”
অতএব তাদের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া, তাদের সমর্থন
জানানো কিংবা কোন ধরণের সহায়তা করা নিজের
দীনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। উপরক্ত দলিল দেখলে এটা
সহজেই বুঝা সম্ভব, থার্টি ফাস্ট নাইট, পহেলা নববর্ষ,
পহেলা মুহররম শুধু পালন করা হারাম নয়, বরং ঐ দিবস
উপলক্ষে কাউকে শুভেচ্ছা জানানো, কিংবা ঐ দিবস
গুলো উপলক্ষে কোন অফার দিলে সেটা গ্রহণ করা, ঐ
দিবস উপলক্ষে কেনাবেচা করা, খাদ্য গ্রহণ করা হারাম
ও ক্ষেত্র বিশেষে কুফরী।
পহেলা বৈশাখ অনেকেরই বিভিন্ন প্রকার ধর্মীয় পূজা
উৎসব রয়েছে।
যেমন,
১) হিন্দুদের ঘটপূজা
২) হিন্দুদের গণেশ পূজা
৩) হিন্দুদের সিদ্ধেশ্বরী পূজা
৪) হিন্দুদের ঘোড়ামেলা
৫) হিন্দুদের চৈত্রসংক্রান্তি পূজা-অর্চনা
৬) হিন্দুদের চড়ক বা নীল পূজা বা শিবের উপাসনা ও
সংশ্লিষ্ট মেলা
৭) হিন্দুদের গম্ভীরা পূজা
৮) হিন্দুদের কুমীরের পূজা
৯) হিন্দুদের অগ্নিনৃত্য
১০) ত্রিপুরাদের বৈশুখ
১১) মারমাদের সাংগ্রাই ও পানি উৎসব
১২) চাকমাদের বিজু উৎসব
(ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমাদের পূজাউৎসবগুলোর
সম্মিলিত নাম বৈসাবি)
১৩) হিন্দু ও বৌদ্ধদের উল্কিপূজা
১৪) মজুসি তথা অগ্নি পূজকদের নওরোজ
১৫) হিন্দুদের বউমেলা
১৬) হিন্দুদের মঙ্গলযাত্রা
১৭) হিন্দুদের সূর্যপূজা
এখন যেসকল মুসলমান নামধারীরা পহেলা বৈশাখ পালন
করে তাদের কাছে প্রশ্ন এখানেতো সব বির্ধমী দের
পুজা মুসলমানদের জন্য কিছু আছে কি ?
যদি মুসলমান থাকতে চান তবে এখনি পহেলা বৈশাখ
পালন থেকে বিরত থাকুন

Advertisements

এপ্রিল ফুল এর ইতিহাস

20160331023353

 

প্রায় ৫২৩ বছর পূর্বের কথা। স্পেনের অত্যাচারী রাজা রডরিকের দুঃশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে মুসলমান বীর তারিক বিন জিয়াদ রহমাতুল্লাহিআলাইহি মাত্র ৭০০ সৈন্য নিয়ে রডরিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে রডরিকের লক্ষাধিক সৈন্যকে পরাজিত করে মুসলিম সভ্যতার গোড়া পত্তন করেন।

এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে পরবর্তী ৮শ’ বছর মুসলমানরা আধিপত্য বিস্তার করে। মুসলমানদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই ৮শ’ বছরে স্পেনে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সভ্যতার ক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নতি লাভ করে। তার সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে গ্রানাডা, আলহামরা, টলোডো প্রভৃতি।

কিন্তু এই ৮শ’ বছরের শেষের দিকে যখন মুসলমানরা ভুলে গেল তাদের অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্য, মত্ত হয়ে গেল ভোগবিলাসে, জড়িয়ে পড়লো লোভ-লালসায়, সরে গেল কোরআন-সুন্নাহর আদর্শ থেকে তখন তারা আটকে যায় খ্রিস্টানদের কূটনৈতিক চক্রান্তে।

খ্রিস্টানদের চোখে ধরা পড়ে মুসলমানদের অনৈক্য ও দুর্বলতা। ফলে মুসলিমবিদ্বেষী নরপিশাচ রাজা ফার্দিনান্দ ভাবলো ইউরোপীয় অঞ্চল থেকে গিরজীয় পর্বতমালা অতিক্রমকারী সম্প্রদায়কে যদি উচ্ছেদ করা না যায় তাহলে রাজত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। বরং গীর্জা থেকে তাদের আজানের ধ্বণী শুনা যাবে। এটা ফার্দিনান্দের জন্য মেনে নেয়া ছিল বড়ই কষ্টকর। তাই ফার্দিনান্দ মুসলিম নিধনের জন্য তৎপর হয়ে ওঠে এবং একাজে উৎসাহী পার্শ্ববর্তী পর্তুগীজ রাণী ইসাবেলাকেবিয়ে করে উভয় মিলে একটি যৌথবাহিনী গঠন করে গ্রানাডা দখলের জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে।

তারা যখন তাদের প্রস্তুতি সম্পন্নে ব্যস্ত তখন কতিপয় নামধারী স্বার্থাম্বেষী মুসলমান তাদের আশ্রয় দিলে তারা হঠাৎ মুসলমানদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।হাজার হাজার নারী-পুরুষকে হত্যা করে। অবরোধ করে রাজধানী গ্রানাডা। তখন মুসলমানদের টনক নড়ে। তারা রুখে দাঁড়ায়। ফার্দিনান্দ বুঝতে পারে সম্মুখ যুদ্ধে মুসলমানদের সাথে আর পারা যাবে না, তাই সে অন্য পথ অবলম্বন করে। তারা ফসলের যৌথবাহিনীকে গ্রানাডার বিভিন্ন মসজিদের পার্শ্বে সশস্ত্র অবস্থান নেয়ার নির্দেশ দেয়। প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ফর্দিনান্দ ঘোষণা করে মুসলমানরা যদি অস্ত্র সমর্পণপূর্বক মসজিদে আশ্রয় নেয়তাহলে তাদের সম্পূর্ণ মুক্তি দেয়া হবে। আর যেসব মুসলমান সমুদ্রে খ্রিস্টান জাহাজে আশ্রয় নেবে তাদের অন্য মুসলিম রাষ্ট্রে পৌঁছে দেয়া হবে।

ফার্দিনান্দের এ ঘোষণায় বিশ্বাস করে ১৪৯২ সালের ১ এপ্রিল মুসলমানরা সেইভাবে আশ্রয় নিলে প্রতারক ফার্দিনান্দের সম্মিলিত বাহিনী সকল মসজিদে তালা লাগিয়ে আবদ্ধ করে মসজিদে আশ্রয়রত মজলুম মুসলমানদের আগুনে পুড়িয়ে এবং জাহাজে আশ্রয়রত মুসলমানদের সমুদ্রে ডুবিয়ে মারে। সব মিলিয়ে সেদিন শাহাদৎ বরণ করে প্রায় ৭ লাখ মুসলমান।

সেই অসহায় শান্তিপ্রিয় প্রতারিত মুসলমানদের আত্মচিৎকারে আকাশ-বাতাস যখন ভারি হয়ে উঠে তখন নরপিশাচ ফার্দিনান্দ স্ত্রী ইসাবেলাকে আনন্দে বলতে থাকে, ‘হায় মুসলমান! তোমরা এতো বোকা!’ আর ইসাবেলা উচ্চারণ করে, ‘হায় এপ্রিলের বোকা! শত্রুর আশ্বাসে কেউ বিশ্বাস করে!” সেই দিনই ইসাবেলা মুসলমানদের নাম দেয় ‘এপ্রিল ফুল’ অর্থাৎ এপ্রিলের বোকা।

 

ইতিহাসের অন্যতম নরপিশাচ ফার্দিনান্দ সেদিন মুসলমানদের সাথে যে ধোঁকাবাজি করেছিল, সৃষ্টি করেছিল মর্মান্তিক ইতিহাস, উন্মত্ত করেছিল মানবতার কবর রচনায়, সে দিনটি স্মরণ করার জন্য ধোঁকাবাজ খ্রিস্টানরা আজও প্রতি বছর ১ এপ্রিল পালন করে ‘এপ্রিল ফুল’।

দুঃখজনক হলেও সত্য আজ আমাদের মাঝেও প্রবেশ করেছে খ্রিস্টানদের সংস্কৃতি, লেগেছে তথাকথিত আধুনিকতার কালো ছোঁয়া, আমরা ভুলে যাচ্ছি নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্য। যুগের স্রোতে গা ভাসিয়ে মুসলমানদের মধ্যেও আমার বন্ধুর মতো অনেকে পালন করে ‘এপ্রিল ফুল’ দিবস। এটাই নাকি আধুনিকতা! আমরা এতই বিবেকহীন! নিজেদের সাথে নিজেরাই প্রতারণা করছি!

১৯৯৩ সালের ১ এপ্রিল গ্রানাডা ট্রাজেডির ৫০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক সভায় মিলিত হয়ে বিশ্ব খ্রিস্টান সম্প্রদায় বিশ্বের মুসলিম জাগরণকে প্রতিহত করার জন্য গড়ে তোলে ‘হলি মেরি ফান্ড’। তারা সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্বে খ্রিস্টানরাই আধিপত্য বিস্তার করবে। তাদের সেই সিদ্ধান্ত তারা আজ বাস্তবায়নের পথে এগুচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় একটির পর একটি মুসলিম রাষ্ট্রকে ধ্বংস করছে।শুধু গ্রানাডা ট্রাজেডিই নয় বরং যুগে যুগে সর্বদাই খ্রিস্টানরা মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মুসলমানদের ধ্বংস সাধন করে আসছে। আজও করছে। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তেই করছে। তারা সংস্কৃতির নামে চালাচ্ছে অপসংস্কৃতির প্রসার। আধুনিকতার নামে ধ্বংস করছে মুসলমানদের ঈমান। বিশ্বময় আধিপত্য বিস্তারের খেলায় মেতে ওঠা এই আন্তর্জাতিক খুনিচক্রের কারণে পৃথিবীর আজ বড়ই দুর্দিন। এক্ষুনি মুসলমানদের সচেতন হবার প্রয়োজন।

অন্যতায় অচিরেই গ্রানাডার মতো বধ্যভূমিতে পরিণত হবে পৃথিবী। তাই মুসলমানদের উচিত ১লা এপ্রিলে এপ্রিল ফুল পালন করা থেকে বিরত থাকা এবং কাফিরদের ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক থাকা।

‘এপ্রিল ফুল’ কি?

20160331022754

এপ্রিল ফুল’ হচ্ছে ঐ দিবস, যে দিবসে লক্ষ লক্ষ মুসলমান উনাদেরকে ধোঁকা দিয়ে নির্মমভাবে শহীদ করা হয়েছে। আর এই ‘এপ্রিল ফুল’ পালন করা মুসলমান উনাদের জন্য হারাম ও কুফরী।

কেননা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মত নয়।”

মুসলমান উনারা আজ ইলম চর্চা হতে অনেক দূরে। মুসলমান উনারা নিজেদের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বড়ই বেখবর। আজ মুসলমানরা নিজেদের স্বর্ণযুগ, সারা বিশ্বব্যপী তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে অভূতপূর্ব উন্নতি ইত্যাদি সম্পর্কে কিছুই জানে না। নাউযুবিল্লাহ!

আবার অপরদিকে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে কাফির-বিধর্মীরাযে মুসলমান উনাদের উপর কত মর্মান্তিক যুলুম করেছে, উনাদেরকে কত নির্মমভাবে শহীদ করেছে সে খবরও মুসলমান রাখে না। নাউযুবিল্লাহ!

পহেলা এপ্রিলে এমনি এক নির্মম কাহিনী রয়েছে, যাতে লাখ-লাখ মুসলমান উনাদের নির্মমভাবে শাহাদাতবরণের ঘটনা ঘটেছে।ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি, স্পেনে মুসলিম শাসনের অবসানের পর প্রতারক রাজা ফার্ডিনান্ড মসজিদগুলোকে নিরাপদ ঘোষণা করে। সে আরো ঘোষণা দেয় যে, যারা মসজিদে থাকবে, তাদেরকে নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। তখন অসংখ্য স্পেনীয় মুসলমান সরল বিশ্বাসে মসজিদগুলোতে আশ্রয় গ্রহণকরেন। ঠিক সেই সময় যালিম খ্রিস্টানরা মসজিদগুলোকে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে মুসলমান উনাদেরকে পুড়িয়ে ভস্ম করে দেয়। আর বাইরে থেকে উল্লাসভরে কৌতুক করে সমস্বরে Fool! Fool!! (বোকা! বোকা!!)বলে অট্টহাসি আর চিৎকারে মেতে উঠে। (নাঊযুবিল্লাহ!)

দিনটি ছিলো ০১ এপ্রিল, ১৪৯২ ঈসায়ী সন। অদ্যাবধি প্রতারক খ্রিস্টানরা দিনটিকে তাদের সেই শঠতার স্মরণে ধোঁকা বা প্রতারণার দিবস ‘এপ্রিল ফুল’ হিসেবে পালন করে আসছে। এটিইহচ্ছে পহেলা এপ্রিল বা এপ্রিল ফুলের হৃদয়বিদারক ইতিহাস।এ দিনটি যালিম খ্রিস্টানদের জন্য পালনীয় হলেও মুসলমান উনাদের জন্য তা ভাষাহীন বেদনাদায়ক।

কেননা, বর্বর, অসভ্য, যালিম খ্রিস্টানদের প্রতারণার ফলে মুসলমান উনাদেরই হাতে গড়ে উঠা একটি সভ্যতা লাখ-লাখ মুসলমান উনাদেরই তাজা খুনের স্রোতে ভেসে যায়। কাজেই প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ ওমহিলার দায়িত্ব-কর্তব্যহলো, এ দিনের ইতিহাস থেকে কাফিরদের ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব সম্পর্কে শিক্ষা নেয়া।কেননা, ইহুদী-নাছারা-মুশরিক এরা হচ্ছে মুসলমান উনাদের চরম শত্রু। আর এ কারণেই তারা সবসময়, সর্বাবস্থায় মুসলমান উনাদের জান-মাল এবং ঈমান উনার ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করে। সুতরাং মুসলমান উনাদের জন্য করণীয় হচ্ছে, সমস্ত কাফিরদের থেকে দূরে থাকা এবং তাদেরকে অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকা। আর যদি তা করা না হয়, তাহলে মুসলমান কখনোই উম্মত হিসেবে থাকতে পারবে না।

মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন সমস্ত মুসলমান উনাদেরকে মহান মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উসীলায় হিফাযত করেন। আমীন!

বাত্বিল ফিরক্বার অপকৌশল হলো হাদীস শরীফকে দ্বয়ীফ, জাল, মওজু , বানোয়াট ইত্যাদি বলে প্রচার করা।

বর্তমান সমাজে ইসলামের নাম ব্যবহার করে যারা ধোঁকা দিচ্ছে, তারা ধোঁকা দেওয়ার জন্য এবং

মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য একটা সহজ বুদ্ধি বের করে নিয়েছে। বুদ্ধিটা হচ্ছে,

জনসমাজে কোন হাদীস শরীফকে দ্বয়ীফ, জাল, মওজু, বানোয়াট ইত্যাদি বলে প্রচার করা।


 

কারন এ পন্থায় সহজেই সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। কারন, একজন সাধারণ চাকুরিজীবি,

ব্যবসায়ী, ছাত্র, গৃহীনি, এক কথায় সকল সমাধান শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ সহ অনেক মসজিদের ইমাম,

মুযাজ্জিন, এমনকি মাদ্রাসার শিক্ষকের পক্ষেও রেজাল শাস্ত্র বা হাদীস শরীফের রাবীদের

জীবনী, উছুলে হাদীস, জরাহ-তাদীল, ঐতিহ্য-ইতিহাস জানা সম্ভব নয়।

একজন সাধারণ মানুষ সারাজীবনে এক খতম বাংলা অনুবাদ করা বুখারী শরীফ পড়তে পারে কিনা

সন্দেহ, কারণ তার সে সময়ই নাই। আর আসমাউর রেজাল সম্পর্কে জানাতো স্বপ্নেরও বাইরে।

একজন একটু ইসলাম নিয়ে লেখাপড়া করা ব্যক্তি বা মাদ্রাসার ছাত্র বা শিক্ষক একটা কিতাবের

নাম শুনে থাকে সেটা হচ্ছে, হাফিজে হাদীদ ইমাম ইবনে হাজর আসক্বলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি

উনার লিখা “তাহযীবুত তাহযীব”। একিতাবে হযরত ইবনে হাজর রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি

অসংখ্য রাবীদের জীবনি বিশ্লেষণ করেছেন। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলা যায় যারা একিতাবের নাম

শুনছে তাদের মধ্যে ৯৮% লোক এ কিতাব চোখেও দেখে নাই।

এরকম আরো অনেক কিতাব আছে যেমন, হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার

“মওজুয়াতুল কবীর” ।

এছাড়া, তানযীহুশ শরীয়া, কাশফুল খফা, মাকাসিদিল হাসানা, আদ দুররুল মুন্তাশীরা সহ অনেক

কিতাব আছে। এখানে হাদীস শরীফের রাবীদের ব্যাপারে অনেক আলোচনা করা হয়েছে।

সহীহ,হাসন, দ্বয়ীফ, মওজু ইত্যাদি নির্নয় করা হয়েছে।

এসকল কিতাব সাধারণ মানুষের নাগালের অনেক বাইরে,বাংলাদেশে এসব কিতাব পাওয়াও যায়

না। কেউ অর্থ ব্যায় করে নাগাল পেলেও ওইটা পড়ার ক্ষমতাও নাই।

আর এসুযোগটাই নিচ্ছে, ওহাবী/দেওবন্দী/সালাফী সহ বাতিল ফির্কারা।

তারা এসকল কিতাবের রেফারেন্স দিয়ে দিয়ে বিভিন্ন সহীহ/হাসান পর্যায়ের হাদীস শরীফকেও

জাল বলে উল্লেখ করতেছে।

তাদের বক্তব্যগুলো অনুসন্ধান করে দেখা গিয়েছে, উক্ত কিতাব সমুহে একাধিক মত রয়েছে।

যেমন- কোন হাদীস শরীফের ব্যাপারে কিছু আলেম গন বলেছেন এটার রাবী দ্বয়ীফ, আবার কেউ

বলেছেন- অনেক ইমামের মতে এটা গ্রহনযোগ্য, কেউ হাসান বলেছেন, আবার কেউ অন্যকোন সনদের

কারনে মওজুও বলেছেন।

মজার বিষয় হচ্ছে, ধর্মব্যবসায়ী ওহাবীরা সুকৌশলে গ্রহনযোগ্য, হাসান, ইত্যাদি বক্তব্য বাদ দিয়ে

শুধুমাত্র মওজু বা জাল সংক্রান্ত বক্তব্যটা জনসম্মুখে উল্লেখ করতেছে। আর সাধারণ মানুষের

যেহেতু যাচাই করার ক্ষমতা নাই, তাই তারাও ওহাবীদের ফাঁদে পরে বিভ্রান্ত হচ্ছে।

সাধারণ মানুষদের উচিত সতর্ক হওয়া, কোন দেওবন্দী/খারেজী/ওহাবী/জামাতি বাতিল ফির্কা

যদি কোন হাদীস শরীফ জাল বা মওজু বলে তাদের একথায় কর্ণপাত না করে আহলে সুন্নত ওয়াল

জামায়াতের বিজ্ঞ আলেমদের সাথে যোগাযোগ করা।

কারন মনে রাখবেন বর্তমান সময় হচব, চরম ফিৎনার যামানা। ফেৎনাবাজরা বিভিন্ন কৌশলে

কিভাবে মধুর মধুর কথায় ফিৎনায় ফেলে ঈমান নষ্ট করে দিবে ও পরিকল্পনায় মশগুল। সাধারণ

মানুষের উচিত এসব ফিৎনা থেকে বেঁচে থাকা।

কারন বিগত ১৪০০ বছরেও যে বিষয় সমূহে কেউ কোন বিতর্ক সৃষ্টি করে নাই এমনকি ওহাবীদের

পূর্ববর্তী মুরুব্বীরাও যেটা অবলীলায় মানতো,অথচ সেই বিষয়গুলো নিয়ে এখন ধর্মব্যবসায়ীরা

বিতর্ক তৈরী করে যাচ্ছে । তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, মুসলমানদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দেয়া,

যাতে করে মুসলমানদের ঐক্য নষ্ট হয়ে যায় আর এ সুযোগে কাফির মুশরিকরা মুসলমানদের দুর্বলতার

সুযোগ নিয়ে চড়াও হতে পারে। আজ সারা পৃথিবীতে আমরা এদৃশ্য দেখতে পাচ্ছি। মুসলমানদের ঐক্য

ভেঙ্গে গেছে আরা মুসলমানরা মার খাচ্ছে……

তাই এখনি সময় সচেতন হওয়ার,

বাতিলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার…

সবাই ঐক্যবদ্ধ হন, ওহাবী/দেওবন্দী/জামাতি/সালাফী ইত্যাদি বাতিল ফির্কা থেকে দূরে থাকুন।

আল্লাহ পাক আমাদের কবুল করুন।আমীন !