শবে মি’রাজ নিয়ে একটি মুবারক ওয়াকিয়া

ছহিবে মিরাজ, ছহিবে ক্বাবা ক্বওসাইনি আও আদনা, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পবিত্র মিরাজ শরিফ উনার রাত্রে, মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার মুবারকে যাবেন, তখন উনার কদম মুবারকেও না’লাইন শরিফ ছিলেন। তিনি না’লাইন শরিফ খুলতে উদ্যত হলে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি দয়া করে আপনার পবিত্র না’লাইন শরীফ পরেই আরশে আযীমে তাশরীফ মুবারক রাখুন। কারন আপনার পবিত্র না’লাইন শরীফ উনার ধূলা মুবারক পাওয়ার জন্য আরশে আযীম ব্যাকুল হয়ে আছেন।” অতঃপর মহান রব্বুল আলামীন তিনি নূর ছিটিয়ে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আহলান সাহলান জানালেন। সুবহানআল্লাহ!
সৃষ্টির শুরু থেকেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক দীদারে ছিলেন, এখনও আছেন এবং অনন্তকাল ধরে থাকবেন। সুবহানআল্লাহ! যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, স্বয়ং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন- “খালিক্ব, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে আমার প্রতিটি মুহূর্ত বা সময় এমনভাবে অতিবাহিত হয়, যেখানে কোনো নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং কোনো নৈকট্যশীল ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা পৌঁছতে সক্ষম নন।” উনার এই সীমাহীন মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য প্রকাশের এক বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা হল মিরাজ শরীফ। মিরাজ শরীফ বিশ্বাস করা ঈমান আর সন্দেহ পোষণ কুফরি। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে এই মহান দিবস উনার যথাযথ তাযীম, তাকরীম করার মাধ্যমে, উনার সমস্ত নিয়ামতের হিস্যা লাভ করার তৌফিক দান করুন!

Advertisements

শবে মি’রাজ উনার আমল ।

যে ব্যক্তি পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাসের ২৭ তারিখে তথা পবিত্র মি’রাজ শরীফের দিনের বেলায় রোযা রাখবে তার আমলনামায় ৬০ মাসের রোযা রাখার ছওয়াব লেখা হবে।” সুবহানাল্লাহ!
(আল ইতহাফ ৫ম খ- পৃষ্ঠা ২০৮, আল মা’য়ানী আনিল হামলিল ইসফার প্রথম খ- ৩৬৭ পৃষ্ঠা, গুনিয়াতুত তালিবীন, ক্বিসমুস ছায়ালিস ৩৩২ পৃষ্ঠা)
এ প্রসঙ্গে উক্ত কিতাবে আরো বর্ণিত আছে,
“হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত সালমান ফারিসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা বর্ণনা করেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
“পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাসের মধ্যে এমন একটি দিন ও রাত আছে; ওই রাত্রে যে ব্যক্তি ইবাদত-বন্দেগী করবে এবং দিনের বেলায় রোযা রাখবে তার আমলনামায় ওই পরিমাণ ছওয়াব লেখা হবে- যে পরিমাণ ছওয়াব কোনো ব্যক্তি একশত বছর রাতে ইবাদত- বন্দেগী করলে এবং একশত বছর দিনের বেলায় রোযা রাখলে তার আমলনামায় যেরূপ ছওয়াব লেখা হয়। আর সেই মুবারক রাত ও দিনটিই হচ্ছে পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাসের ২৭ তারিখ তথা পবিত্র মি’রাজ শরীফের রাত ও দিনটি।” সুবহানাল্লাহ!

মি’রাজ শরিফ সশরীরে হয়েছিল।সুবহানাল্লাহ

shobe borat 2.jpg

 

 

নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ ,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক বিরাট বৈশিষ্ট্য ও মুজিজা মুবারক ,যা অন্য কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বা অন্য কোন মানুষের জীবনে ঘটেনি,তা হচ্ছে মি’রাজ শরীফ।সুবহানাল্লাহ
মিরাজ শরীফঃ
মি’রাজ অর্থ উর্ধ্বারোহণ। মক্কা শরীফ উনাতে অবস্থান কালে নূরে মুজাসসাম ,হাবীবুল্লাহ হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৫১ তম বয়স মুবারকে অর্থাৎ আমুল হুযুন (শোকের বৎসর)এর পরবর্তী বছর আরবী রজব মাস উনার ২৭ তারিখ লাইলাতুল ইছনাইন আযিমি শরীফ অর্থাৎ সোমবার শরীফ রাত্রে ইহা স্বশরীরে সংঘটিত হয়েছিল।
সেই রাত্রে তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সম্মানিত দীদার মুবারক করেন,বেহেশত-দোযখ দর্শন করেন ,পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করা হয় এবং আরো বহু অভুতপুর্ব ঘটনা ঘটেছিল ।

কিছু সংখ্যক লোকের ধারণা ,মি’রাজ শরীফ রূহানী বা আত্মিকভাবে হয়েছিল,তা ঠিক নয়।কারণ, আত্মিক ভ্রমণতেমন কোন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঘটনা নয়।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন ,ইমামুল মুরসালীন ,নূরে মুজাসসাম ,হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মি’রাজ সর্বোমোট ৩৪ বার হয়েছিল।৪৫ জনের ও অধিক সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনারা মি’রাজ শরীফ সম্পর্কিত হাদীস শরীফ বর্ণনা করেছেন।

আত্মিক যে মি’রাজ, তা নবুওওয়াত প্রকাশের পুর্বে ঘটেছিল।সিরাতে হালাবীর ১ম খন্ড ৩৯৮ পৃ লিখিত আছে ,শায়িখ হযরত আব্দুল ওহাব শারানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন যে, ,নূরে মুজাসসাম ,হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মি’রাজ শরীফ মোট ৩৪ বার হয়েছিল।একবার স্বশরীরে , অবশিষ্টগুলো রূহানীভাবে হয়েছিল।

মি’রাজ শরিফ উনার ঘটনাবলী দুটি অংশে বিভক্ত।
১।ইসরাঃকা’বা শরিফ থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস যাওয়া।এটাকে ইসরা বা রাত্রিকালীন ভ্রমণ বলা হয়।কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ ﴿١﴾

অর্থঃ “সেই পবিত্র ও মহিমান্বিত সত্তা ,যিনি নিজ হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে রাত্রে মসজিদে হারাম হতে মসজিদে আকসা পর্যন্ত নিয়েছেন,যার চারদিকে বরকত দিয়েছেন,যেন আমি উনাকে আমার নিদর্শন দেখিয়ে দেই।(সূরা বনী ইসরাইলঃআয়াত শরীফ ১)

২।মিরাজ শরীফঃবাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ হতে সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে আল্লাহ পাক উনার সাথে সাক্ষাত ও দিদার মুবারক ,এটাকে মি’রাজ শরীফ বলা হয়।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন ,ইমামুল মুরসালীন ,নূরে মুজাসসাম ,হাবিবুল্লাহ হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মি’রাজ শরীফ স্বশপরীরে হয়েছিল।আর স্বশরীরে হয়েছিল বলেই কাফির মুশ্রিকরা যখন শুনলো যে,সাইয়্যিদুল মুরসালীন ,ইমামুল মুরসালীন ,নূরে মুজাসসাম ,হাবিবুল্লাহ হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক রাত্রিতে বাইতুল মুকাদ্দাস ও তথা হতে সাত আসমানের উপর পর্যন্ত ভ্রমণ করেছেন,তারা এটা অস্বীকার করলো এবং বললোঃ একজন মানুষের পক্ষে এটা কী করে সম্ভব?নাউজুবিল্লাহ।মি’রাজ শরীফ যদি সশরীরের না হয়ে রূহানী হবে,তাহলে কাফিররা অস্বীকার করল কেন?রূহানী বা স্বপ্নে তো অনেক কিছুই হতে পারে ।একজন সাধারণ মানুষও তো স্বপ্নে অনেক কিছু দেখে-যেমন পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রাণত পর্যন্ত এক ঘন্টার ঘুমের মধ্যেই ভ্রমণ করতে পারে।স্বপ্নের মধ্যে কিছু হওয়া বা ঘটার মধ্যে তো আশ্চর্যের কিছু নেই।
অথচ আল্লাহ পাক তিনি নিজ্জেই ইসরা ও মি’রাজের ঘটনাকে سبحان শব্দ দ্বারা বিস্ময় ও আশ্চর্য প্রকাশ করেছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র বিশ্ববাসিকে দেখিয়ে দিলেন এ আশ্চর্যজনক ঘটনা ।আল্লাহ পাক উনার কুদরত,নিদর্শন যা শ্রবণে ও দর্শনেমানুষের বিবেক ,বুদ্ধি ,প্রজ্ঞা ও অনুভব সবই অকেজো হয়ে যায় এবং সেখানে পৌছার আগেই যা নিশেঃষ হয়ে যায় সে ক্ষেত্রেই سبحان শব্দ আসে।
মি’রাজ শরিফ যদি রূহানি বাআত্মিকই হবে ,তাহলে এতে আশ্চর্যের কি আছে?স্বপ্ন কি আশ্চর্যজনক ঘটিনা?এর দ্বারা মানুষ কি মানুষ বিস্ময় প্রকাশ করে?আত্মিকভাবে এক নিমিষে সমগ্র সৃষ্টি বেহেশতের আনাচে-কানাচে তো নুরে মুজাসসাম ,হাবীবুল্লাহ,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কেন,উনার উম্মতরাও ভ্রমণ করতে পারে।যেমন হযরত আবু বকর সিদ্বিক আলাইহিস সালাম তিনি চোখের পলকে আরশ ,কুরসী,লৌহ,কলম ,বেহেশত,দোযখ,আসমান,যমীন ভ্রমণ করেছেন।কিতাবে উল্লেখ আছে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি একবার মানুষের বেশে এসে হযরত আবু বকর ছিদ্দিক্ব আলাইহিস সালাম উনাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে হযরত আবু বকর ছিদ্দিক্ব আলাইহিস সালাম,আপনি কি আমাকে বলতে পারেন এখন হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি কোথায় আছেন?তখন হযরত আবু বকর ছিদ্দিক্ব আলাইহিস সালাম তিনি চোখ বন্ধ করলেনেবং খুললেন,একবার ,দুইবার।অতঃপর বললেনঃআমি তো হযরত আবু বকর ছিদ্দিক্ব আলাইহিস সালাম সুতরাং আপনিই হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম ।তিনি বললেন ,আপনি এতা কী করে জানলেন? হযরত আবু বকর ছিদ্দিক্ব আলাইহিস সালাম তিনি বললেনঃআমি চোখের পলকে আরশ ,কুরসী,লৌহ,কলম ,বেহেশত,দোযখ,আসমান,যমীন সবকিছু দেখে এসেছি,কোথাও হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে পাইনি,কাজেই আপনিই হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম।
হযরত আবু বকর ছিদ্দিক্ব আলাইহিস সালাম ভ্রমণ ছিল রূহানী বা আত্মিক ভ্রমণ।তাছাড়া উপরিউক্ত আয়াত শরীফ উনাতে আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন ,ইমামুল মুরসালীন ,নূরে মুজাসসাম ,হাবিবুল্লাহ হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে عبد (আবদ) বান্দা বলেছেন।শুধু রূহকে আবদ বা বান্দা বলা হয়না,রূহ ও শরির উভয়টির সংমিশ্রণের নাম আবদ।

এতা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে,সাইয়্যিদুল মুরসালীন ,ইমামুল মুরসালীন ,নূরে মুজাসসাম ,হাবিবুল্লাহ হু্যূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উমার মি’রাজ সশরীরে হয়েছিল।
আল্লাহ পাক তিনি বলেন : ماما زاغ يجبصر و ما طغى অর্থঃউনার দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরনি এবং অন্য কোন কিছুর প্রতি আকৃষ্টও হয় নি।(সূরা নজমঃআয়াত শরিফ ১৭)

এই আয়াত শরিফ উনার তাফসীরে বলা হয় যে,ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখার জন্য সিদরাতুল মুন্তাহায় একত্রিত হুয়েছিলেন।আরও অনান্য আসচর্যজনক বিষয় হু্যুর পাক ছল্লাল্লাহুয়ালাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দেখেছেন,তা হঠাত করে দেখে বিব্রত বোধ করেন্নি,বরং পরিচিতের মতোই ছিলেন।

স্বাভাবিক মানুষের অপরিচিত কোথাও গেলে কোন নতুন্ত্ব দেখে দৃষ্টি এদিক অদিক হয়।কিন্তু নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দৃষ্টিকে তা আকৃষ্ট করতে পারেনি,তিনি ছিলেন স্বাভাবিক।
মিরাজ শরীফ যদি রুহানী ভাবেই হবে তাহলে بصر বলা হত না।কারণ রূহানীভাবে দেখার জন্য بصر (দৃষ্টি)-এর প্রয়োজন নেই,তা ঘুমিয়ে থাকলেও চোখ বন্ধ করে ধ্যান করেও হাছিল হয়।

সুতরাং নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
মি’রাজ শরীফ যে সশরীরে হয়েছিল ,তা প্রথমোক্ত আয়াত শরীফ উনার سبحا ن ও عبد শব্দ দ্বারা এবং দ্বিতীয় আয়াত শরীফে উনার بصر শব্দ তা প্রমাণ করে।কেননা স্বপ্নে বা রূহানীভাবে ভ্রমনের জন্য শরীরের প্রয়োজন হয় না বরং স্বপ্নে রূহ ভ্রমণ করে থাকে শরীর নয়।রূহ ও শরীর উভয়টীর নাম (বান্দা)।স্বপ্নে দেখাই যদি হতো,তাহলে দৃষ্টি বিভ্রম বা দৃষ্টি ফিরার কথা বলা হত না ,স্বপ্ন স্বপ্নই।
এছাড়া হাদীস শরীফে আছে, নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বোরাকে আরোহণ করানো হয়েছিল।কোন কিছুতে আরোহণের জন্য শরীর দরকার ,রূহানী ভ্রমণের জন্য বাহনের প্রয়োজন নেইও।এতা দ্বারাও প্রমাণিত যে,মিরাজ শরীফ সশরীরে জাগ্রত অবস্থায় হয়েছিল।

তবে যারা নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উবার সশরীরে মি’রাজকে অস্বীকার করে ,তারা উম্মুল মু’মিনীন হযরত সিদ্দিক্বা আলাইহাস সালাম ও হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে রিওয়ায়েতকৃত একটি হাদীস শরীফ উনার বরাত দিয়ে থাকে।উম্মুল মু’মিনীন হযরত সিদ্দিক্বা আলাইহাস সালাম তিনি স্বপ্নে দেখা বা রূহানীভাবে মি’রাজ হওয়ার ৩৩ টির কোন একটি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হয়ে বলেছিলেন যে, “আমি নূরে মুজাসসাম ,হাবীবুল্লাহ ,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শরীর মুবারক স্থানান্তরিত হতে দেখিনি।” এই হাদীস শরীফ উনার দুই অবস্থার একটি হওয়া অপরিহার্যঃস্বপ্নের কোন মি’রাজ উনার ঘটনা শুনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা হয়তো জিজ্ঞাসা করেছিলেন,এ মি’রাজ শরীফ উনাতে নূরে মুজাসসাম ,হাবীবুল্লাহ ,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শরীর ঊর্ধ্বে গমন করেছিলেন কিনা? উম্মুল মু’মিনীন হযরত সিদ্দিক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেছেনঃস্থানান্তরিত হওয়া আমি দেখিনি।

সশরীরে জাগ্রত অবস্থায় যখন নূরে মুজাসসাম ,হাবীবুল্লাহ ,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মি’রাজ শরিফ হয় ,তখন উম্মুল মু’মিনীন হযরত সিদ্দিক্বা আলাইহাস সালাম উনার শাদী মুবারক হয় নি।আর তখন তো তিনি নূরে মুজাসসাম ,হাবীবুল্লাহ ,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ছিলেন না।সুতরাং কী করে তিনি এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবেন, “আমি উনার শরির মুবারক স্থানান্তরিত হতে দেখি নি।”

আর এটা ত ঐতিহাসিকভাবে প্রসিদ্ধ রেওয়ায়েত যে,নূরে মুজাসসাম ,হাবীবুল্লাহ ,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মি’রাজ শরীফ উনার রাত্রিতে মক্কা শরীফ উনাতে হযরত উম্মে হানী আলাইহাস সালাম উনার ঘরে ছিলেন।

অতএব ,প্রমাণিত হল যে মি’রাজ শরিফ সশরীরে হয়েছিল।