ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ) এর শানে বাতিলের অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব

ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ) এর শানে

বাতিলের অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব

Lecture :- বাতিলের অপপ্রচারের জবাব ও শানে

ইমামে আজম ইমাম নু’মান বিন সাবিত (রহ)

Created by (Masum Billah Sunny)

আজকাল কিছু বাতিল ওহাবী সালাফী

চনুপুটির দল দু এক কলম জ্ঞান নিয়েই

কুরআন হাদিসের পুরো জ্ঞান জেনে ফেলেছে

মনে করে। যারা নাকি ইমামে আজম আবু হানিফা

(রহ) এর পায়ের জুতার ধুলার সমতুল্যও না।

তাদের বিভিন্ন অভিযোগ :-

১) ইমামে আজম নাকি দ্বয়ীফ হাদিস

বর্ননা কারি ছিলেন তাও আবার কত গুলো ইমাম

থেকে বানোয়াট বক্তব্য এনে এগুলো প্রমান করার

অপচেষ্টা । (নাউযুবিল্লাহ )

২) ওনার কোন বর্ননা সেজন্য নাকি বুখারী

শরীফে নেই।

৩) ওনি নাকি মুর্জিয়া ছিলেন।

৪) ওনার দখল হাদিসের ব্যাপারে

কম ছিল তাই বেশি কিতাব লিখেন নি

ইত্যাদি ইত্যাদি নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক

তাদের সকল প্রশ্নের দাতভাংগা জবাব :-

♦♦ইমামে আজম কি ভাবে দুর্বল বর্ননাকারী

হতে পারেন যার শিক্ষাদানে গড়া সকল হাদিস

বিশারদ ও ফকীহ?♦♦

আহলে হাদিস D. Jakir Naik এর কি ধারনা আবু

হানিফা রহ. কুরআন ও হাদীস জানতেন না

বা কুরআন ও হাদীস বাদ দিয়ে বাইবেল ও গীতা

থেকে মাসআলা বের করেছে !!!!!

1. ইমাম বোখারীর অন্যতম উস্তাদ মক্কী বিন

ইব্রাহীম (রহ.) (মৃতু- 215 হিঃ) যার সনদে ইমাম

বুখারী (রহ.) অধিকাংশ ‘সুলাসিয়্যাত হাদীস’

বর্ণনা করেছেন। এই মক্কী বিন ইব্রাহীম (রহ.)

ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এর ছাত্র। তিনি ইমাম

আবু হানীফা (রহ.) সম্পর্কে বলেন,

“আবু হানীফা তাঁর সময়কালের শ্রেষ্ঠ আলেম

ছিলেন” – মানাক্বেবে ইমাম আজম রহ. 1/95

আবার হাফিয মযযী (রহ.) বলেন: মক্কী বিন

ইব্রাহীম ইমাম আবু হানীফা (রহ.) সম্পর্কে বলেন,

“তিনি তাঁর কালের সবচে’ বড় আলিম ছিলেন” –

তাহ্যীবুত তাহযীব-এর টিকা- 10ম খন্ড, 452পৃ.

(এখানে একটি কথা বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে

হবে, প্রাচীন আলিমগণ ‘ইলম’ বলতে ‘ইলমে

হাদীস’ই বুঝাতেন। তাই ইমাম আবু হানীফা (রহ.)

কে বড় আলিম বলার অর্থ- ‘হাদীস শাস্ত্রের বড়

আলিম’ এতে কোন সন্দেহ নেই।)

2. ইমাম আবু দাউদ বলেন,

নিঃসন্দেহে আবু হানীফা ছিলেন একজন শেষ্ঠ

ইমাম।- তাহজীব 1/445

3. জরহে তাদিলের (সনদ পর্যালোচনা শাস্ত্র)

অন্যতম ইমাম ইয়াহ্ইয়া ইবনে মুঈন (মৃতু- 233হিঃ)

বলেন,

“আবু হানীফা ছিলেন হাদীস শাস্ত্রের

গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি”- তাহবীবুত্তাহজীব 5/630

4. আলী ইবনে মাদানী (মৃতু- 234 হিঃ) বলেন,

“আবু হানীফা হাদীস শাস্ত্রে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি।

তার মধ্যে কোন দোষক্রুটি ছিল না। – জামঈ

বয়ানিল ইল্ম 2/1083

5. প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হাফিজ ইয়াহ্ইয়া বিন হারুন

(মৃতু- 206 হিঃ) বলেন,

“আবু হানীফা ছিলেন সমকালীন শ্রেষ্ঠতম

জ্ঞানী ও সত্যবাদী” –আহবারে আবু হানীফা 36

6. আল্লামা হাফিয ইবনে হাজার আসক্বালানী

রহ. বলেন-

“ইমাম আবু হানীফা রহ.-র মুত্যু সংবাদ শুনে

ফিক্বাহ ও হাদীস শাস্ত্রের সুপ্রসিদ্ধ ইমাম,

শাফঈ মাযহাবের প্রধানতম সংকলক হযরত ইবনে

জরীহ রহ. গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছিলেন,

“আহ! ইলমের কি এক অফুরন্ত খনি আজ আমাদের

হাতছাড়া হলো”। –

তাহযীবুত্তাহযীব খন্ড ১, পৃ: ৪৫০)

7: একবার হযরত ইয়াহয়া ইবনে মুঈনকে প্রশ্ন করা

হলো- হাদীসশাস্ত্রে আবু হানীফা রহ. কি

আস্থাভাজন ব্যক্তি? সম্ভবতঃ প্রচ্ছন্ন সংশয় আঁচ

করতে পেরে দৃপ্তকন্ঠে তিনি উত্তর দিলেন- হ্যা,

অবশ্যই তিনি আস্থাভাজন! অবশ্যই তিনি

আস্থাভাজন! (মানাকিবুল ইমামমুল আ’যামি

লিলমাওয়াফিক- খন্ড:1, পৃষ্ঠা 192)

♦♦ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর নসিহত। তিনি

কুরআন হাদিস দিয়ে মানুষকে সকল সমাধান

দিতেন নিচের উক্তিগুলো দিয়ে বুঝে নিন♦♦

(ক) ‘যখন ছহীহ হাদীছ পাবে, জেনো সেটাই আমার

মাযহাব’।(হাশিয়াহ ইবনে আবেদীন ১/৬৩।)

(খ) ‘আমরা কোথা থেকে গ্রহণ করেছি, তা না

জেনে আমাদের কথা গ্রহণ করা কারো জন্য বৈধ

নয়’।(ঐ ৬/২৯৩।)

(গ) ‘যে ব্যক্তি আমার দলীল জানে না, আমার কথা

দ্বারা ফৎওয়া প্রদান করা তার জন্য হারাম’।(ড.

অছিউল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আব্বাস, আত-তাক্বলীদ

ওয়া হুকমুহু ফী যুইল কিতাব ওয়াস-সুন্নাহ, পৃঃ ২০।)

(ঘ) ‘নিশ্চয়ই আমরা মানুষ। আমরা আজকে যা বলি,

আগামীকাল তা থেকে ফিরে আসি’।(ঐ।)

(ঙ) ‘তোমার জন্য আফসোস হে ইয়াকুব (আবু ইউসুফ)!

তুমি আমার থেকে যা শোন তাই লিখে নিও না।

কারণ আমি আজ যে মত প্রদান করি, কাল তা

প্রত্যাখ্যান করি এবং কাল যে মত প্রদান করি,

পরশু তা প্রত্যাখ্যান করি’।(ঐ।)

(চ) ‘আমি যদি আল্লাহর কিতাব (কুরআন) ও

রাসূলুললাহ (ছাঃ)-এর কথার (হাদীছ) বিরোধী

কোন কথা বলে থাকি, তাহ’লে আমার কথাকে

ছুঁড়ে ফেলে দিও’।(ছালেহ ফুল্লানী, ইক্বাযু

হিমাম, পৃঃ ৫০।)

তাই তিনি কুরআন হাদিস অনুযায়ী বিচার

ফয়সালা করতেন এবং অন্যান্য ইমামগনের শিক্ষক

ছিলেন এ জন্যই হানাফী মাযহাব সকল মাযহাবের

সেরা।

★★★ ইমামে আজম একজন বিশিষ্ট

তাবেয়ী ছিলেন এবং

অনেক সাহাবীগনের সাথে সাক্ষাত পেয়েছিলেন★★★

তাহলে কি ভাবে তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল

বর্ননাকারী হবেন? Is it ever possible?

ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ) ৮০ হিজরীতে

বিলাদত শরীফ লাভ করেন এবং বিছাল শরীফ

লাভ করেন ১৫০ হিজরীতে।

★তাঁর প্রকৃত নাম নু’মান বিন সাবিত।

★ইমাম আজম

আবু হানিফা (র)

ইমাম সাহেব যেসব সাহাবাদের সাক্ষাত

লাভে ধন্য হয়েছেন, কিংবা যাদের

থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁদের কয়েকজন

হলেন :-

১. হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. ( ৯০ হি.

মতান্তরে ৯১ হি.।)।

২. হযরত আবদুল্লাহ বিন উনাইস যুহানী রা.।

৩. আবদুল্লাহ বিন আবী আওফা রা. ( ৮৭ হিজরী)।

৪. ওয়াসেলা বিন আসকা রা. (৮৫ হিজরী)।

৫. আবুত তোফায়েল আমের বিন ওয়াসেলা রা.

( ১০২ হিজরী )।

৬. সহল বিন সাদ রা. ( ৮৮ হিজরী )।

৭. সায়েব বিন খাল্লাদ রা. ( ৯১ হিজরী )।

৮. সায়েব বিন ইয়াজিদ রা. ( ৯৪ হিজরী)।

৯. আবদুল্লাহ বিন বুসরাহ রা. ( ৯৬ হিজরী )।

১০. মাহমুদ বিন রাবী রা. ( ৯৯ হিজরী )

★ইমামে আযম আবু হানিফা (র.) এর

তাবেয়ী হওয়া সম্পর্কে আরো অনেকের

উক্তি রয়েছে। যেমন,

১। ইমাম ইবনুল জাওযী (র)।

২। ইমাম মিজ্জী (র)।

৩। ইমাম যাহাবী (র)।

৪। ইমাম সুয়ূতী (র)।

৫। খতীবে বাগদাদী (র)।

৬। ইবনে আবদিল বার (র)।

৭। মুহাম্মাদ ইবনে সাদ (র)।

৮। ইবনে হাজার আসকালানী (র)। প্রমুখ।

তাদের উক্তি উল্লেখ

করে প্রবন্ধের কলেবর বৃদ্ধি করা হল না।

এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন……

১. আবু হানিফা ওয়া আসাবুহুল মুহাদ্দিসুন(পৃ:৬)

২. আল খাইরাতুল হিসান। পৃ: ৩২।

★হাফেজ ইবনে হাজার আসক্বালানী রহ.

আরো লিখেছেন-

ইমাম আবু হানীফা রহ.

বহুসংখ্যক সাহাবীর সাক্ষাত লাভ করেছেন।

কেননা, তিনি ৮০ হিজরী সনে কুফায় জন্মগ্রহণ

করেছেন এবং সেসময় সেই

শহরে সাহাবী **আবদুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রা.

জীবিত ছিলেন। তাঁর ইন্তেকাল ৮০ হিজরীর

অনেক পরে হয়েছে। তেমনি বসরাতে **আনাস

ইবনে মালেক রা. ছিলেন। তাঁর ইন্তেকাল

হিজরী নব্বই সনে পরে হয়েছে। সে মতে ইমাম

আবু হানীফা রহ. নিঃসন্দেহে তাবেয়ীগণের

অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। (তানসীকুন-নেজাম)

★বুখারী শরীফের ব্যাখাগ্রন্হে ইবনে হাজার

আসক্বালানী রহ. উপরোক্ত

সিদ্ধান্তটি আলেমগণের সর্বসম্মত অভিমত

বলে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ যাহাবী রহ.

বলেন, ইমাম আবু হানীফা রহ. সাহাবী হযরত

আনাস ইবনে মালেককে রা. অনেকবার

দেখেছেন। (খাইরাতুল-হেসান)

★আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী রহ. মেশকাত

শরীফের ব্যাখ্যা গন্হে উল্লেখ করেছেন যে,

ইমাম আবু হানীফা রহ. ৭/৮ জন সাহাবীর

সাক্ষাত লাভ করেছেন।

এঁরা হচ্ছেন-

১) হযরত আনাস ইবনে মালেক রা.

(ওফাত ৯৩ হিজরী)

২) আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রা. (ওফাত ৮৭

হিজরী)

৩) সহল ইবনে সাআদ রা. (ওফাত ৮৮ হিজরী)

৪) আবু তোফায়ল রা. (ওফাত ১১০ হিজরী)

৫) আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়দী রা. (ওফাত ৯৯

হিজরী)

৬) জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. (ওফাত ৯৪ হিজরী)

৭) ওয়াসেনা ইবনুল আসকা রা. (ওফাত ৮৫ হিজরী)

★তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত তাবেয়ী

যিনি ৪,০০০ শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ

করেন, যে শিক্ষকদের মধ্যে স্বয়ং সাহাবা রা.

ছিলেন ৭২ জন! আর তার শিক্ষকদের বেশিরভাগই

ছিলেন সরাসরি হযরত আলী (রা.), আবু হুরাইরা

(রা.,) আনাস (রা.) সহ অন্যান্য সাহাবীদের

সরাসরি ছাত্র।

★তিনি সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালিক

(রহ) কে দেখেছিলেন এবং অনেক সাবাহা থেকে

বর্ননা করেছেন :-

**The author of al-Khairat al-Hisan collected

information from books of biographies and cited the

names of Muslims of the first generation from whom it

is reported that the Abu Hanifa had transmitted hadith.

He counted them as ** sixteen, including

**Anas ibn Malik,

**Jabir ibn Abd-Allah and

**Sahl ibn Sa’d.

তথ্যসুত্র :-

★Wikipedia >>”Imam-ul-A’zam Abū Ḥanīfah, The

Theologian”. Masud.co.uk. Archived from the original

on 12 February 2010. Retrieved 2010-02-07.

★ইবনে সাআদ লিখেছেন- সার্বিক বিচারেই

ইমাম আবু হানীফা রহ. একজন তাবেয়ী ছিলেন।

তাঁর সতীর্থ ফেকাহর ইমামগণের মধ্যে আর

কারো এই মর্যাদা লাভের সৌভাগ্য হয় নাই।

(তানসীক্ব)

★আল্লামা খাওয়ারেজমী রহ. বলেন- ওলামাগণের

এ বিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে যে, ইমাম আবু

হানীফা রহ. নবী করীম সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের পবিত্র

মুখ থেকে হাদিস শ্রবণ

করে তা বর্ণনা করেছেন। তবে এরূপ হাদিসের

সংখ্যা কত ছিল, এ সম্পর্কে বিভিন্ন মত

রয়েছে। (তানসীক্ব)

★ইমাম আবু হানীফা রহ. কর্তৃক সাহাবীগণ

থেকে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা কারো মতে ছয়,

কারো মতে সাত এবং কারো মতে আটখানা।

যেসব

সাহাবী থেকে তিনি হাদিস

বর্ণনা করেছিলেন, তাঁদের নাম যথাক্রমে –

১) আনাস ইবনে মালেক রা.,

২) আবদুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রা.,

৩) সহল আবনে সাআদ রা.,

৪) আবু তোফয়ল রা.,

৫) আমের ইবনে ওয়াছেলা রা.,

৬) ওয়াছেলা ইবনে আশক্বা রা.,

৭) মা’কাল ইবনে ইয়াসার রা., এবং

৮) জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. প্রমুখগণ।

★হাদিস শাস্ত্রের ‘ আমিরুল মুমেনীন’ রূপে খ্যাত

আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক স্বরচিত কবিতার এক

পংক্তিতে উল্লেখ করেছেন যে, নোমান ( আবু

হানীফা ) এর পক্ষে গর্ব করার মতো এতটুকুই

যথেষ্ট যা তিনি সরাসরি সাহাবীগণের নিকট

থেকে বর্ণনা করেছেন।

★★★ইমামে আজম সরাসরি যে

সমস্ত হাদিস স্বয়ং সাহাবায়ে কেরাম (রা)

থেকে

বর্ন্না করেছেন :-

★ইমাম আবু হানীফা রহ. স্বয়ং একটি বর্ণনায়

বলেন, আমার জন্ম হিজরী ৮০ সনে এবং ৯৬

সনে প্রথম হজে যাই। তখন আমার বয়স ষোল

বছর। মসজিদুল-হারামে প্রবেশ করে দেখলাম,

একটি বড় হালকায় বহু লোক সমবেত

হয়ে রয়েছেন। আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস

করলাম, এটা কিসের জমায়েত? তিনি বললেন,

তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এর সাহাবী

**আবদুল্লাহ ইবনুল হারেছের রা. পাঠদানের

হালকা (জ্ঞান দানের আসর)। এ কথা শুনে আমি

সেদিকে অগ্রসর হলাম।

তাঁকে বলতে শুনলাম,

১) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম এরশাদ করেছেন,

যে ব্যক্তি আল্লাহর দীন সম্পর্কিত গভীর জ্ঞান

অর্জনে আত্মনিয়োগ করে, তার সকল প্রয়োজনের

জিম্মাদার স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা হয়ে যান

এবঙ তাকে এমন সব উৎস থেকে রিজিক

পৌছাতে থাকেন, যা সে কখনো কল্পনাও করেনি।

(মুসনাদে ইমাম আযম)

উল্লেখ্য, যে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হারেছের

রা. ইন্তেকাল হয়েছে ৯৯ হিজরীতে। তখন

ইমামে আজমের বয়স হয়েছিলো ১৯ বছর।

★‘এলামুল-আখবার’ নামক গ্রন্হে বর্ণিত অন্য

একখানা হাদিস ইমাম আবু হানীফা রহ.

সরাসরি সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালেকের

রা. নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।

উক্ত হাদিসে বলা হয়েছে যে,

২) ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমান নর-

নারীর উপর

ফরজ।

একই সুত্রে হযরত আনাস ইবনে মালেক রা.

থেকে ইমাম আবু হানীফা রহ. কর্তৃক বর্ণিত অন্য

আর একখানা হাদিস হচ্ছে-

৩) পাখীরা আল্লাহর উপর যতটুকু ভরসা করে জীবন

ধারন করে কোন

বান্দা যদি ততটুকু ভরসা করতে শেখে তবে আল্লাহ

পাক তাকেও

অনুরূপ রিজিক দান করবেন। পাখীরা সকাল

বেলায় খালি পেটে বের হয়ে যায়, সন্ধায় পেট

ভরে বাসায় ফিরে আসে।

ইমামে আজম আর একখানা হাদিস সাহাবী হযরত

আবদুল্লাহ

ইবনে আবী আওফা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস খানা হচ্ছে-

৪) যে ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণ করবে আল্লাহ পাক

তার জন্য

বেহেশতে গৃহ নির্মাণ করবেন।

★শেষোক্ত হাদিসখানাকে ইমাম জালালুদ্দিন

সিয়ুতী রহ. মোতাওয়াতের হাদিস রূপে অভিহিত

করেছেন।

★মোল্লা আলী কারী রহ. বলেন, এই হাদিসটির

অন্যুন ৫০ সনদ আমি সংগ্রহ করেছি।

তম্মধ্যে ইমাম আবু হানীফার রহ.

মাধ্যমে বর্ণিত সনদই সর্বোত্তম।

★তিনি আঠারো বছর আনাস (রা.) এর ছাত্র ইমাম

হাম্মাদ (রহ).এর কাছে ইলমে দ্বীন অর্জন

করেছেন – তার আগেই ২২ বছর বয়স থেকে ছিলেন

মুসলিম-খ্রিস্টান-ইহুদি-মূর্তিপূজারক এবং

আল্লাহর অস্তিত্বে অবিশ্বাসীদের সাথে

আলোচনা করে ইসলামের প্রতি অকাট্য প্রমাণ

আনার প্রবাদ-পুরুষ।

★তিনি ছিলেন ইমামগণের ইমাম, মুসলিম জাতির

প্রদীপ, হাফিজুল হাদিস (লক্ষ হাদিসের কন্ঠস্থ

সংরক্ষক) এবং ধর্মীয় সিদ্ধান্তদাতাদের

পথপ্রদর্শক- তাঁর প্রচলিত উপাধী।

★ইমামে আজম তার হায়াতে জিন্দেগীতে

৫০ বার হজ্ব সম্পন্ন করেন।

★হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর

৪৮টিরও বেশী লক্বব মুবারক (উপাধী) ছিল, তার

মধ্যে সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য লক্বব হচ্ছে

**ইমামে আ’যম,

**ইমামুল মুকাস্সিরীন ফিল হাদীস,

**ইমামুল কবীর ফিল ফিক্বাহ,

**ইমামুল হুমাম,

**ইমামুল আইম্মা, ইত্যাদি।

তিনি কি দ্বয়ীফ হাদিস বর্ননা কারি

হতে পারেন? কিভাবে তা সম্ভব?

ফিকাহ শাস্ত্রে যার অবদান অবিস্মরনীয়।

★আবু হানীফা রঃ ছিলেন সর্বকালেন সেরা

মজতাহেদ ফিকাহবিদ ইমাম।

বিশেষজ্ঞ শ্রেণীর কোন আলেমকে মুজতাদেদের

স্তরে পৌছাতে হলে হাদীসের হাফেজ, তফসীর

শাস্ত্রের সর্বোচ্চ বিশেষজ্ঞ এবং সাহাবীগণের

জীবন ধারা সম্পর্কিত সকল বিষয়ের উপর

সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম জ্ঞান থাকা অপরিহর্য হয়ে যায়।

হযরত আবু হানীফাকে মজতাহেদ ইমামের স্তরে

পৌছার জন্য উপরোক্ত বিষয়গুলিতে সর্বাধিক

জ্ঞান অর্জন করতে হয়েছিলো।

★ফেকাহশাস্ত্র তথা কুরআন-মহাসাগর মন্থন করে

মাসআলা-মাসায়েল নির্ধারণ করার প্রশিক্ষণ

তিনি ইমাম হাম্মাদের নিকট থেকেই আয়ত্ব

করেছিলেন। এছাড়াও তাঁর এলমে-ফেকাহর আর

একজন বিশিষ্ট উস্তাদ ছিলেন আহলে বাইতের

উজ্জলতম নক্ষত্র ইমাম বা যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দেস ও

ফকীহ ইমাম জাফর সাদেক রঃ এবং তার পিতা

ইমাম মুহাম্মদ বাকির (রহ)।

যেই ১২ জন ইমামের কথা বহু হাদিসে ব্যক্ত আছে

তিনি সেই ১২ জনের ২ জন ইমাম ছিলেন ওনার

উস্তাদ ও মুর্শিদ ।

★ইমামে আজম প্রথম বায়াত গ্রহন করেন ইমাম

মুহাম্মদ বাকির (রহ) এর কাছে।

[Name: Imam Muhammad Baqir Ibn Ali al-Ulum

Mazar : at Jannat al-Baqi, Medina,

He was the son of Imam Zain al Abedin (rah)]

ওনার জন্ম এবং ওফাত [খ্রিষ্টাব্দ 677–732]

বা [হিজরি 57–114]

★ইমাম বাকির (রহ) এর ওফাত এর

পর তিনি বায়াত গ্রহন

করেন ওনার পুত্র ইমাম জাফর সাদিক

(রহ) এর কাছে।

[Name: Imam Jaffar Ibn Muhammad al-Sadiq

Mazar: at Jannat al-Baqi, Medina, He was the son of

Imam Baqir

জন্ম এবং ওফাত : [খ্রিস্টাব্দ 702–765] বা

[হিজরি 83–148]

তিনি যাদের যাদের শিক্ষক ছিলেন তাদের

মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হল:-

১) Abu Hanifah and

২) Malik ibn Anas in fiqh,

৩) Wasil ibn Ata and

৪) Hisham ibn Hakam

★তিনি শায়খ বা মুর্শিদ ক্বিবলা হাতে বাইয়াত

হওয়া সম্পর্কে বলেনঃ “(আমার জীবনে) যদি দু’টি

বছর না আসতো, তবে নু’মান ধ্বংস হয়ে

যেত।“ (সাইফুল মুক্বাল্লিদীন, ফতওয়ায়ে

ছিদ্দীক্বিয়া) অর্থাৎ তিনি যদি তাঁর শায়খদ্বয়

(রহমতুল্লাহি আলাইহিম)-এর নিকট বাইয়াত না

হতেন, তবে তিনি ধ্বংস বা বিভ্রান্ত হয়ে

যেতেন।

★ইমাম আবু হানীফার মন্তব্য হচ্ছে, যুগের

সর্বাপেক্ষা বড় ফকীহ ছিলেন ইমাম জাফর

সাদেক রঃ। তার চাইতে অধিক ধীসম্পন্ন কোন

ফকীহর সাক্ষাত অন্য কোথাও পাইনি। (আল-

মওয়াফেক)

★হাদিস এবং তফসীর শাস্ত্র আয়ত্ব করার

উদ্দেশ্যে ইমাম আবু হানীফা সে যুগের যে সব

সেরা মুহাদ্দেসগণের শরনাপন্ন হয়েছিলেন,

তাদের সংখ্যা জরহ ওয়াত তাদিলের ইমাম

হাফেজ জাহাবীর মতে ২৯০ জন। এঁদের মধ্যে এমন

পন্ঞাশ ব্যক্তির নাম পাওয়া যায় যাদের বর্ণনা

বুখারী-মুসলিম সহ সেহাহ-সেত্তার সকল কিতাবেই

বিশেষ যত্নের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। (ইমামে

আজম, আবু হানীফাহ রহঃ)

তাছাড়া অন্যান্য সুত্র মতে

৪০০০ শাইখ থেকে জ্ঞান অর্জন করে উপকৃত

হয়েছিলেন।

★একই কারণে যেমন “”মোয়াত্তা ইমাম মালেক””

গ্রন্থটি প্রথম দিকে সংকলিত সর্বাধিক শুদ্ধ

কিতাব রূপে গন্য করা হয, তেমনি হাদিস

শাস্ত্রের প্রথম সংকলন গ্রন্হ ““মুসনাদে ইমাম আবু

হানীফা”” নামক হাদিস সংকলনটি বিশুদ্ধতার

দিক থেকে যে সর্বাগ্রগন্য তাতে সন্দেহের কোন

অবকাশ নাই।

★এ সময়ে ইমাম আবু হানীফা রঃ একটি অদ্ভুদ

স্বপ্ন দেখে কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন।

দেখলেন, যেন তিনি প্রিয়তম নবী সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর শরীফ খনন করে

কিছু হাড়-কংকাল সংগ্রহ করছেন। স্বপ্নটি দেখার

পর কিছু দিন তিনি ছিলেন মানসিক ভাবে খুবই

উদ্বিগ্ন। শেষ পর্যন্ত স্বপ্নদ্রষ্টার পরিচয় গোপন

রেখে তিনি স্বপ্নের বিবরণ তাবীর শাস্ত্রের

ইমাম মুহম্মদ ইবনে সিরীনের রঃ খেদমতে পেশ

করেন। ইবনে সিরীন রঃ এই স্বপ্নটিকে একটি

মোবারক স্বপ্ন রূপে আখ্যায়িত করে বলেন,

স্বপ্নদ্রষ্টা যুগের ইমাম এবং প্রিয় নবীজী

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এলমের

উত্তরাধিকার পুনজ্জীবিত করবেন। (আল-

মোয়াফেক)

★তার অসাধারণ কৃতিত্ব রেখেছেন যার ফসল

স্বরুপ :-

Kitaab-ul-Aathaar narrated by Imaam Muhammad al-

Shaybani – compiled from a total of 70,000 hadith

Kitabul Aathaar narrated by Imaam Abu Yusuf

Aalim wa’l-muta‘allim

Musnad Imaam ul A’zam

Kitaabul Rad alal Qaadiriyah

ফিক্বহে আকবর,

জামিলুল মাসানিদ ইত্যাদি বিশেষভাবে

উল্লেখ্য।

★তাঁর হাদীস গ্রহণের পদ্ধতি ছিল এমন-

১. কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে

হবে।

২. হাদীস সরাসরি রাসূল দ. থেকে তাঁর জানা

পর্যন্ত মধ্যবর্তী যারা যারা বর্ণনা করেছেন,

তাঁদের প্রত্যেকের চরিত্র-পবিত্রতা-সততা এবং

পরিপূর্ণ আজীবন সত্যবাদীতা প্রশ্নাতীত থাকতে

হবে। এবং পুরোটা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর নিশ্চিত

হতে হবে।

★ইমাম আবু হানিফা (রহ) ১২ লক্ষ ৯০ হাজার

মাসালা বের করেছেন। যদি বাতিলদের যুক্তি

অনুযায়ী ধরেও নেওয়া হয় যে, তাঁর ইস্তিম্বাতকৃত

সব মাসআলাই ভুল (অবশ্যই তার মাসআলা ভুল হতে

পারে না)। তাহলেও ১২ লাখ ৯০ হাজার সওয়াব

তার আমলনামায় লেখা হয়েছে।

ﻓَﺄَﺧْﻄَﺄَ ﻓَﻠَﻪُ ﺃَﺟْﺮٌﻋَﻦْ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﻌَﺎﺹِ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻﻠﻰ

ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ‏« ﺇِﺫَﺍ ﺣَﻜَﻢَ ﺍﻟْﺤَﺎﻛِﻢُ ﻓَﺎﺟْﺘَﻬَﺪَ ﻓَﺄَﺻَﺎﺏَ ﻓَﻠَﻪُ ﺃَﺟْﺮَﺍﻥِ

ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺣَﻜَﻢَ ﻓَﺎﺟْﺘَﻬَﺪَ

হযরত আমর বিন আস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল

সাঃ ইরশাদ করেছেন-“যখন কোন বিশেষজ্ঞ হুকুম

দেয়, আর তাতে সে ইজতিহাদ করে তারপর সেটা

সঠিক হয়, তাহলে তার জন্য রয়েছে দু’টি সওয়াব।

আর যদি ইজতিহাদ করে ভুল করে তাহলে তার জন্য

রয়েছে একটি সওয়াব। {সহীহ বুখারী, হাদিস

নং-৬৯১৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৩৫৭৬, সহীহ

মুসলিম, হাদিস নং-৪৫৮৪}

★★★ এখন যা আলোচনা করব তা হল ★★★

১) ইমামে আজমকে মুর্জিয়া ও দুর্বল বর্ননাকারী

বলে অপবাদ দেয়ার জবাব

২) ইমামে আজম থেকে সরাসরি ইমাম বুখারী

সরাসরি বর্ননা করেন নি কিন্তু করেছেন অন্যান্য

মধ্যস্থতায়।

আজকাল দেখা যাচ্ছে ইমামে আজম আবু হানিফা

থেকে সরাসরি বুখারী শরীফে কোন হাদিস

বর্নিত না থাকায় অনেক লা-মাযহাবী আহলে

হাদিস ভাই অপপ্রচার করছে তিনি নাকি

মুর্জিয়া ছিলেন অথবা দুর্বল রাবী ছিলেন তাই

তার থেকে কোন হাদিস বুখারীতে আসে নি।

আসলে কি তাই?

আসুন দেখি total calculation :-

১) বুখারী শরীফে উচু সনদ ছুলাছিয়াত (৩ জনের

মধ্যস্থতায়) বর্নিত হাদিস সংখ্যা ২২টি তার

মধ্যে ২১টি বর্ননার ৪জন রাবীই ইমামে আজমের

শিস্য ।

২) ইমাম বুখারী ইমামে আজম থেকে বুখারী

শরীফে সরাসরি কোন বর্ননা করেন নি সত্য তবে ১

জনের,২ জনের,৩ জনের মদ্ধস্থতায় অনেক হাদিস

বর্ননা করেছেন আর তাই নিয়ে আহলে হাদিস

ভাই রা ঢোল পিটানো শুরু করেছে আর ইমামে

আজমকে ত্রুটিপূর্ণ,দুর্বল নানা খারাপ ভাষায়

অপবাদ দিচ্ছে।(Dr. Jakir Naik এর আহলে হাদিস

group)

৩) ইমামে আজম ছিলেন ইমাম বুখারীর পিতার

উস্তাদ,তার পিতার উস্তাদেরও উস্তাদ,ইমাম

বুখারীর অনেক শিক্ষক ছিলেন ইমামে আজমের

শিষ্য অথচ তাকে নিয়ে কেন এত মিথ্যাচার?

শয়তানের দল!!”

Clearification:- কিছু জিনিস পরলে বুঝবেন।

১) মুহাদ্দিসগন হাদিস গ্রহনের ক্ষেত্রে

সতন্ত্রভাবে এক একজন এক এক জিনিসের দিকে

খেয়াল রেখে পছন্দ রেখে হাদিস collect করেছেন

ইমাম বুখারীও তাই।

২) সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এ ইমাম শাফেয়ী

(রহ) এর ও কোন বর্ননা নেই যদিও ইমাম বুখারী ও

মুসলিম ২ জনই শাফেয়ী মাযহাবের প্রতি আসক্ত

ছিলেন।

৩) ইমাম বুখারী ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ)

থেকে মাত্র ১টি হাদিস বর্ননা করেছেন।

৪) ইমাম মুসলিম যদিও ইমাম বুখারীর শিষ্য তবুও

তার আস-সহিহ কিতাবে ইমাম বুখারী থেকে কোন

হাদিস নেন নি।

৫) সুনানে তিরমিজিতে ইমাম মুসলিম এর সনদে

শুধুমাত্র একটি বর্ননা আছে।

৬) ইমাম বুখারীর সনদে সুনানে নাসায়ীতে শুধু ১টি

হাদিস আছে।

৭) ইমাম আহমদ ইমাম শাফেয়ী থেকে

সিলসিলাতুযযাহাব এর পদ্ধতিতে শুধু ১টি হাদিস

মুসনদে নিয়েছেন।

★★★ইমামে আজমকে মুর্জিয়া অপবাদের কারন ও

তার বাস্তবতা★★★

১) ইমামে আজম নিজেই বলেন,”” আমি বলি না যে

মুমিনকে তার পাপ কোন ক্ষতি করবে না এবং

সেজন্য সে দোযখে যাবে না,যেরকম বাতিল

ফেরকা মুর্জিয়ারা বলে থাকে।এবং খারীজী

মুতাজিলা দের মত এও বলি না যে চিরকাল সে

দোযখে থাকবে,যদিও সে ফাসেক হয় এবং দুনিয়া

থেকে ইমান নিয়ে বিদায় নেয়।আমরা

মুর্জিয়াদের মত বলিনা যে আমাদের পুন্যসমুহ

মকবুল আর পাপ সমুহ মাফ।””

ইমামে আজম: আল ফিকহুল আকবর মাআ শরহে লি

মোল্লা আলী কারী পৃ: ১২৫-১২৭

২) ইমাম শাহরেস্তানী(ওফাত ৫৪৮হি) আল-মিলাল

ওয়ান নিহাল(১/১৪১) এ নিখেন,”” আমার জীবন

দানকারী আল্লাহর কসম ইমাম আজম ও তার দলকে

অনেকে মুর্জিয়া বলে অপবাদ দেয় কারন তিনি

বলেন,ইমান অন্তরের বিশ্যাসের নাম।আর তার

উপর অপবাদকারী রা মনে করে যে তিনি আমলকে

বেকার মনে করেন।অথচ তিনি শরীয়তের ব্যপারে

এত জ্ঞানী ও কঠোর তিনি কি একথা বলতে

পারেন?

হ্যা আরেকটি কারন আছে মুর্জিয়া বলার তিনি

প্রথম যুগে প্রকাশিত ফিত্নায়ে

কদরিয়া,মুতাজিলার বিরোধিতা করেছিলেন

তারাও তাকে মুর্জিয়া বলে আখ্যায়িত করত।

(এইভাবেই একসময় অপপ্রচার শুরু হয়)

নামধারী আহলে হাদিস দের প্রচার অনুযায়ী যদি

তিনি মুর্জিয়া হতেন আর সেই কারনে ইমাম

বুখারী ইমামে আজম থেকে সরাসরি বর্ননা না

করার কারন হয় তাহলে মুর্খ দের জেনে রাখা

উচিত যে–

★★★ সিত্তায় মুর্জিয়াদের বর্নিত হাদিস

আছে★★★

(note: মুর্জিয়া ইসলামের প্রাক কালে একটা

বাতিল দল।তাই মুর্জিয়া বর্ননাকারী থেকে

সাধারনত হাদিস বর্ননায় ignore করা হয়।যেহেতু

সিহাহ সিত্তায় ৭২০ এর চেয়েও অনেক বেশি

হাদিস মুর্জিয়া থেকে বর্নিত হয়েছে তাই বিশেষ

কোন ত্রুটি ছাড়া হাদিসকে জাল বা দুর্বল বলা

যাবে না।)

আজকাল ওহাবী আর আহলে হাদিস ভাই রা দেখা

যায় কোন হাদিস দিলে যদি সেটা তাদের

বিরোদ্ধে যায় তখন তারা ওঠে পড়ে লাগে আর

নানান সব কিতাব থেকে দুর্বল বা ত্রুটিপূর্ণ

রাবীদের সম্পর্কে বিভিন্ন Hadith Scholars দের

comment এনে Strong Sahih হাদিস কেও তারা দুর্বল

প্রমান করে সাধারন মানুষের কাছে। এই পোস্ট

টা দিলাম আশা করি সবাই এই ফিত্নাবাজ দের

থেকে যেন নিজেদের সাবধান রাখতে পারবেন।

Imam Muhammad Bin Khazim ইমাম মুহাম্মদ বিন

খাজিম (একজন মুর্জিয়া ছিলেন এবং সিহাহ

সিত্তার হাদিস বর্ননাকারীও ছিলেন)

সিহাহ সিত্তার হাদিসে তার সর্বমোট বর্ননা:-

1) Sahi Bukhari has 50 narrations from him

2) Sahi Muslim has 250 narrations from him

3) Jami Tirmidhi has 120 narrations from him

4) Sunan Abu Dawud has 85 narrations from him

5) Sunan Nasai has 65 narrations from him

6) Sunan ibn Majah has 150 narrations from him

তাই একজন থেকেই দেখা যায় সিহাহ সিত্তায় 720

টি হাদিস বর্নিত আছে।

এমনকি শুধুমাত্র বুখারী শরীফেই ১১ জন মুর্জিয়ার

বর্নিত হাদিস রয়েছে বলে

-ইমাম যাহাবী,ইবনে আবী

হাতিম,আসকালানী,সুয়ুতি,আজলী,

উকাইলী (আল্লাহ সবার উপর শান্তি বর্ষন করুন)

তাদের মতে পাওয়া যায়।

♦♦ইমাম আবু হানিফা রহ. কি তাবিঈ ছিলেন ?

ফিকহে হানাফীর কি সনদ নেই ? কেন এ

অপপ্রচার ?♦♦

********কিছুদিন আগে হানাফী মাযহাবের

বিরুদ্ধে লেখা একটা কিতাব নিয়ে পোস্ট

দিয়েছিলাম।

কিতাবটির নামঃ হানাফী ফিকহের ইতিহাস

ওপরিচয়।

লেখকঃ মুফতী মাওলানা আব্দুর রউফ।

এটিকে হানাফী মাযহাবের

বিরুদ্ধে বিশাল অস্ত্র হিসেবে ব্যাবহার করে

আসছে।

মুফতী মাওলানা আব্দুর রউফ সাহেবের এলেমের

দৌড়

কতটুকু।

এবার তাদের অভিযোগ গুলোর

মধ্যে আজকে একটিনিয়ে আলোচনা করবো

ইনশাআল্লাহ্।তাহলে এবার একত্রে অভিযোগ

গুলো দেখিঃ

(১) ইমাম আবু হানীফা রাহঃ এর কথা দিয়ে বরাত

দেওয়া হয়েছে কিন্তু তার কথার কোন সনদ দেওয়া

হয়

নি। যদিও ফতোয়ার কিতাব গুলো লেখা হয়েছে

ইমাম আবু

হানীফা রাহঃ এর মৃত্যুর কয়েকশ বছর পরে।

(২) এ কারনে ইমাম আবু হানীফা রাহঃ এর

কথাগুলোর

কোন সূত্র নেই।

(৩) এ কারনে ফতোয়ার কিতাব গুলোতে লেখকদের

মতামত যে ইমাম আবু হানীফা রাহঃ এর তার কোন

ভিত্তি নেই।

Ans:-

মূল জবাবে যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া দরকার

হানাফী মাযহাবের মূল উৎস গুলো কি কি?

হানাফি মাযহাব কি আল মুগনী,হিদায়া,রাদ্দুল

মুহতার,বিকায়া…… দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে?

অবশ্যই না।

★হানাফী মাযহাবের মূল বণনাকারী :-

**ইমাম আবু ইউসুফ ,

**ইমাম মুহাম্মদা রহ. ,

**ইবনে আবি শাইবা ।

তারা সরাসরি ইমাম আবু হানিফার ছাত্র তাদের

নিজের হাতে লেখা কিতাব

রয়েছে। ব্যাস এটা সবচেয়ে বড় দলিল। এসব

কিতাবেই

ইমাম আবু হানীফা রাহঃ এর উক্তি গুলো

সন্নিবেশিত

হয়েছে। এখান থেকেই অন্য অন্য কিতাব গুলোতে

ইমাম

আবু হানীফা রাহঃ এর উক্তি পেশ করা হয়েছে।

★সবচেয়ে বড় কথা হলো:

**ইমাম আবু ইউসুফ রহ.

**খলিফা হাদী,

**মাহদী ও

**হারুনুর রশিদের

যামানা থেকে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের প্রধান

বিচারপতি ছিলেন তখন, হানাফী মাযাহেরব

মাসআলা গুলোর আলোকে বিচার সহ সকল

কার্যক্রম

চলেছে আর এটি একজনের সনদ থেকে হাজার গুন

শক্তিশালী। আব্বাসী খিলাফত, উসমানী

খিলাফত দু’টোই

হানাফী ফিকহ অনুযায়ী চলেছে।

★ইবনে হাজার আসকালানি রাহ. বলেন- “উল্লেখ্য

যে, আব্বাসী যুগের প্রায় পাঁচশ বছর পর্যন্ত

পবিত্র

মক্কা-মদীনার সকল ইমাম ও বিচারক হানাফী

ছিলেন।

অতঃপর প্রায় দু’শ বছর খাওয়ারিয্মী ও

সালজুক্বীদের

অধীনে চলে, তারাও রক্ষণশীল হানাফী ছিলেন।

অতঃপর

উসমানী ওতুর্কী খেলাফত প্রায় পাঁচশ বছর পর্যন্ত

চলে। তারাও সবাই হানাফী ছিলেন।” ( আল-

খাইরাতুলহিসান-ইবনে হাজার, মক্কী শাফেয়ীঃ

পৃ –৭২ )

★“মোটকথা, ইসলামী ইতিহাসের

সোনালী অধ্যায়ে বারশ বছর পর্যন্ত পবিত্র

মক্কা-

মদীনায় ইমাম ও খতীবের সুমহান দায়িত্ব

হানাফী ইমামগণই আঞ্জাম দিয়ে এসেছেন এবং

কাযী ও

বিচারকের আসনেও তারাই ছিলেন।” ( আল-

খাইরাতুলহিসান-ইবনে হাজার মক্কী, শাফেয়ীঃ

পৃ – ৭২;

রদ্দুলমুহতারঃ পৃ – ১/৭৫ )।

★হানাফী মাযহাবের মূল হলো যাহেরী রিওয়াত।

যাহেরী রেওয়াত বলা হয়,ইমাম মুহাম্মাদ রহ. এর

৬ টি কিতাবকে –

১. সিয়ারে কাবীর

২. সিয়ারে সগীর

১. জামে সগীর

২. জামে কাবীর

৪. মাবসুত

৬. যিয়াদাত

★ইমাম মুহাম্মাদ রহ. ইমাম আবু হানিফার খাস

ছাত্র। এগুলোই হানাফী ফিকহের মূলউৎস। আর

এগুলো থেকেই পরবর্তিতে বিভিন্ন ফতোয়ার

কিতাবে ইমাম আবু হানীফা রাহঃ এর কথাকে

কোট

করা হয়েছে।

★ইমাম ত্বহাবী রহ. (২২৯-৩২১ হি:) শরহু

মায়ানিল আসার বয়ানু মুশকিলিল আসার

লিখেছেন।

এগুলো সব হানাফী মাযহাবের মাসআলা বর্ণনা

করা হয়েছে।

এভাবে প্রত্যেক যুগে হানাফী আলেমগণের

তালিকা আছে।

এগুলোত্বাবাকাতে হানাফিয়্যা নামের

বইগুলোতে পাওয়া যাবে।ইমাম সারাখসী, ইমাম

বাযদাবী,

আবুল লাইস সমরকন্দী……এনারা সবাই অনেক

আগের।

এরা হানাফী মাযহাবের মাসয়ালাগুলো

সন্নিবেশিত

করেছেন। এভাবেইহানাফী ফিকহ অন্য সকল কিছু

থেকে শক্তিশালী সনদে সংরক্ষিত হয়েছে।

★এবার মুফতি সাহেবের অভিযোগ গুলো খণ্ডন

করা যাক।

(১) (২)(৩) নম্বর অভিযোগের উত্তর:-

**আরে ভাই, ফিকহের কিতাবগুলো লম্বাচূড়া সনদ

বর্ণনা করা হয়না এটা মুফতি আব্দুর রউফ সাহেবের

জানা থাকার কথা। সনদের জন্য অন্যান্য কিতাব

রচিত

হয়/হয়েছে যে গুলোর উদ্যেশ্যই হল সনদ সংকলন

করা।

আচ্ছা, কওল বর্ণনা করেই যদি পুরা সনদ

বর্ণনা করা জরুরি হয়ে থাকে তাহলে মেশকাত

শরিফের

ব্যাপারে তারা আপত্তি কেন তোলে না?

**মিশকাতের হাদীস

বা আছার বর্ণনা করে বলা হয়েছে এটা ইমাম

বুখারী রাহ

বর্ণনা করেছে এটা ইমাম বাইহাকী রাহঃ বর্ণনা

করেছেন,

এটা ইমাম মুসলিম রাহঃ বর্ণনা করেছেন।

কিন্তু এই সকল ইমাম থেকে মেশকাতের

মুসান্নাফের লেখক হাম্মাদ বিন

আব্দুল্লাহ আলখতীব আত তিবরিযী(৭৪১

হি:) পর্যন্ত কোন সনদ উল্যেখ নেই। কিন্তু এর

সামনে সেই সনদ অবশ্যই ছিলো। যদিও তিনি তা

উল্যেখ

করা যরুরী মনে করেন নি।

**কারন যদিও ইমাম বোখারী রহ. ২৫৬ হি: তে মৃত্যু

বরণ করেছন তারপর ও

তার কিতাব রয়েছে ব্যাস এটি বড় দলিল। এখন

যদি কোন

আহাম্মক এই আপত্তি তোলে যে “মেশকাতে

হাদীস

গুলোর সনদ উল্যেখ নেই শুধু বলা হয়েছে এটা ইমাম

বুখারী রাহ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু ইমাম বুখারী

থেকে

শেষ পর্যন্ত কোন সনদ নেই । তাই……।”

তাকে আপনি কি জবাব দিবেন?

**আমাদের ও এই কুদুরী ,

হিদায়া, রাদ্দুল মোহতারের ক্ষেত্রে একই জবাব।

যদিও ইমাম আবু হানিফা ১৫০ হি: তে মৃত্যু বরণ

করেছেন

তারপরও তার কথাগুলো তার ছাত্রদের কিতাবে

রয়েছে ,

ব্যাস এটি বড় দলিল।

বাদ দিলাম মেশকাতের কথা।

**ইবনে হাজর আসকালানি রাহঃ এর “””তাকরীবুত

তাহযীব”” রিজাল

সাস্ত্রের বিখ্যাত কিতাব। এখানে ইবনে হাজার

আসকালানি রাহঃ ৬০০,৫০০,৪০০,৩০০… বছর

আগের রাবিদের ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন।

কিন্তু

কোনো ধরনের সনদ উল্যেখ করেন নি। এখন যদি

কোন

জাহেল, মুফতি সাহেবের মত এই

কথা বলে যে –

**“ইবনে হাজার অমক রাবির মৃত্যুর ৩৯০ বছর পর

জন্মগ্রহন করে কিভাবে তার ব্যাপারে মন্ত্যব্য

করেছে তার কোন সূত্র নাই। অতএব সূত্র বিহীন

কারো কথা গ্রহন করা জায়েজ নাই ”

তাকে আপনি কি বলবেন?

**মূল ব্যাপার হল ইবনে হাজার

আসকালানি রাহঃ এর সামনে রাবির ব্যাপারে

মন্তব্যের

সনদ ছিলো কিন্তু এ তিনি তা উল্লেখ করার

জরুরত

মনে করেন নি। ঠিক একই ঘটনা কুদুরী, হিদায়া

,রাদ্দুল

মুহতারের… ক্ষেত্রে। এগুলোর লেখকদের সামনে

ইমাম

আবু হানীফা রাহঃ এর কথার সনদ ছিলো যা ইমাম

আবু

হানীফা রাহঃ এর ছাত্র ইমাম মুহাম্মদ, ইমাম

ইউসুফ,ইমাম ইবনে আবি শাইবার কিতাবে আছে

কিন্তু

তারা এর সনদ ফতোয়ার কিতাবে উল্লেখ

করা জরুরী মনে করেননি। ঠিক যেমন মেশকাতের

লেখক

যে কারনে জরুরী মনে করেন নি।

ওনার সম্পর্কে উল্লেখ্য যোগ্য কিছু তথ্য :-

IMAM ABU HANIFA (ra)

★Nu’man bin Thabit ibn Zauti,- well known in Islamic

History as ‘Imam Abu Hanifa’ and ‘Imam Azam’ – was

the son of a Persian merchant.

He was born in Kufa, Iraq – in the Year 80 A.H.

★His father – Thabit – was privileged to meet Hazrat

Ali (ra) who had at the time, made Kufa his capital.

Kufa was founded in 17 A.H. by Hazrat Umar ibn

Khattab (ra) the 2nd Khalif.

Kufa had become the 3rd most important centre of

learning during Hazrat Umar’s (ra) Khilafat.

★A large number of Sahaba (ra) were sent to this new

city to settle here by Umar (ra). These included Hazrat

Abdulla ibn Ma’sood, Sa’d ibn Abi Waqqas, Ammar,

Huzaifa & Abu Moosa etc. (ra).

★ Records indicate the presence of 1050 Sahaba in

Kufa of whom 24 were the participants of Badr.

★ At the age of 20, Imam Abu Hanifa turned his

attention towards the pursuit of advancing his Islamic

knowledge.

★Among his 1st and the most important tutors was

Imam Hammad (Died 120 A.H.) whose educational

lineage is linked with **Hazrat Abdulla Ibn Mas’ood

(ra).

★Imam Abu Hanifa (ra) had joined his father’s

business wherein he showed scrupulous honesty and

fairness.

Once his agent had sold a consignment of silk cloth on

his behalf but forgot to mention a slight defect to the

customers. When Abu Hanifa learnt of this, he was

greatly distressed because he had no means of the

refunding the customers; so he immediately ordered the

entire proceeds of the sale ( 30,000 Dirhams ) to be

given in charity.

★The Imam was also keenly interested in education.

He established a school at Kufa, which later became a

famous College of Theology. Here he delivered lectures

on Islamic Law and related subjects.

★Fiqah or Islamic Law was systematically studied by

his students under his expert guidance.

A large number of his devoted and highly intelligent

students worked under him for 30 years, and it is the

labour of these students that gave us the Hanafi

School of thought.

★Imam Abu Hanifa (ra) was the 1st of the Imams to

advocate the use of “reason” in the consideration of

religious questions based on the Qur’an and Sunnah.

He was also the 1st Imam to arrange all the subjects

of Islamic Law systematically.

★His most important work is the Kitab-ul-Aasaar

which was compiled by his students – Imam Abu Yusuf

and Imam Muhammad.

The news of his death soon spread throughout

Baghdad

★The whole town came out to pay their last homage

to the greatest Imam of Islamic Law.

More than 50,000 people participated in the first

Janaza Salaat.

★People continued to flock and before the Janaza

could be finally taken for burial, the Salaatul Janaza

was offered 6 times in all.

★For days, people came in large numbers to pay their

respects at the grave side.

★Among the four Imams, Abu Hanifa has the largest

number of followers even today in all parts of the

world {M.A.R.K.}.

Advertisements

হানাফী মাযহাব

প্রশ্নোত্তরে হানাফী মাযহাব

প্রশ্ন ১:-

আমরা শুনেছি,হানাফী মাজহাবের অনেক

সিদ্ধান্ত ইমাম

আবু হানীফা (রাহ.) এর মত থেকে কিছু কিছু ভিন্ন

রয়েছে । এর কিছু উদাহরণ জানাতে পারবেন কি?

জাযাকাল্লাহু খাইরান,

মোঃ গুলশানুর রহমান

জবাব :-

আপনার জানা কথাটি সঠিক।

এখানে একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন

“”ইমামে আজম তাবেয়ী ছিলেন তখন কোন

পরিস্থিতিতে কোন মাসআলা দিয়েছিলেন আর ওনার মাযহাবের ইমামগন কেউ কোন যুগে

কোন পরিস্থিতিতে পরে

ফতোয়া দিয়েছিলেন তা

অবশ্যই বিবেচনার বিষয় তাই কাউকে হুট করে ভুল

বলে দিতে পারবেন না এটা কোকামী ছাড়া আর কিছু

হবে না।””

ফিক্বহে হানাফীর অনেক মাসআলায় ইমাম আবু

হানীফার সাগরীদ ইমাম আবু ইউসুফ রহ., ইমাম

মুহাম্মদ রহ. এবং ইমাম যুফার বা অন্যান্যদের

মতের

উপরও ফাতওয়ার অনেক নজীর রয়েছে। নিম্নে

কয়েকটি উপমা উপস্থাপন করা হল ।ইমাম আবু

ইউসুফ রহ. এর মতের উপর ফতোয়ার উপমা:-

১. ইমাম আবু হানীফা রহ. এবং মুহাম্মদ রহ. এর মতে

এক বিচারক যখন ফায়সার জন্য অন্য

বিচারকের কাছে পত্র লিখে। তখন উক্ত পত্রে কি

লিখা আছে তা পত্র বাহককে পড়ে শুনিয়ে তারপর

তার সামনে সিলমহর মেরে হস্তান্তর করতে হবে।

নতুবা এই

পত্রটি বিচার কার্য সমাধার জন্য

কার্যকরী হবেনা।

পক্ষান্তরে ইমাম আবু হানিফার ছাত্র ইমাম আবু

ইউসুফ রহ. এর মতে কেবল

পত্র লিখে তা বাহককে না জানিয়েও তা অন্য

বিচারকের

কাছে প্রেরণ করলে এ দ্বারা বিচার কার্য

পরিচালনা করা যাবে। এই

মতের উপরই ফতোয়া। সুতরাং এখানে ইমাম আবু

হানীফা রহ. ও মুহাম্মদ রহ. এর মত আমলযোগ্য নয়।

(হেদায়া-৩/১২৩-১২৪)

এখানে স্থান কাল পাত্র বিশেষে ২জনের

ফতোয়াই কাজে লাগতে পারে।

২. যখন কোন বোকা টাইপের স্বাক্ষ্য কাযীর

মজলিসে স্বাক্ষ্য দিতে হাজির হয় তখন

স্বাক্ষিকে বিচারক

স্বাক্ষ্যের পদ্ধতি শিখিয়ে দিতে পারবেনা।

এটা জায়েজ নয় ইমাম আবু হানীফা রহ. ও মুহাম্মদ

রহ.

এর মতে।

কিন্তু ইমাম আবু

ইউসুফ রহ. এর মতে অবুঝ

ব্যক্তিকে শিখিয়ে দেয়া কেবল

জায়েজই নয় উত্তমও। এই মতের উপরই ফতোয়া ।

(ফাতওয়ায়ে শামী-৮/৫৩)

ইমাম মুহাম্মদ রহ. এর মতের উপর ফাতওয়ার

উপমা

১. মিরাস তথা ত্যাজ্য সম্পত্তি বন্টনের প্রায়

সকল মাসআলায় ইমাম মুহাম্মদ রহ এর বক্তব্যের

উপর ফতোয়া।

২. ইমাম আবু হানীফা রহ. এর মতে ওযুর পানি

নাপাক। তাই এটি গায়ে লাগলে কাপড় নাপাক

হয়ে যাবে। আর ইমাম মুহাম্মদ রহ. বলেন- অযুর

পানি পাক। তবে এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন

করা যাবেনা । ফাতওয়া এই

মতের উপর। ইমাম যুফার রহ. এর মতের উপর

ফাতওয়ার উপমা

১. যে অসুস্থ্য ব্যক্তি দাড়িয়ে নামায পড়তে

পারেনা সে ব্যক্তি যেভাবে ইচ্ছে বসে নামায

পড়তে পারবে ইমাম আবু হানীফা রহ. এবং আবু

ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ. এর মতে। কিন্তু ইমাম যুফার

রহ. এর মতে তাশাহুদের সুরতে বসে নামায পড়তে

হবে। ফাতওয়া এই

মতের উপর। (ফাতওয়ায়ে শামী-২/৫৬৫)

২. তিন ইমামের মতে বাড়ির আঙ্গিনা দেখার

দ্বারা ক্রয় করার সময়ের দেখার হক সাকিত হয়ে

যায়। কিন্তু ইমাম যুফার রহ. এর

মতে বাড়ির আঙ্গিনা দেখার দ্বারা ভিতরাংশ

দেখার হক সাকিত হয়না। এই মতে উপরই ফিক্বহে

হানাফীর ফাতওয়া। (ফাতওয়ায়ে শামী-৭/১৫৮)

এরকম অসংখ উদাহরণ রয়েছে যেখানে ইমাম আবু

হানীফা রহ. এর বক্তব্যের

উপর ফাতওয়া নয়। বিস্তারিত জানতে দেখুন-

মুফতী সালমান

মানসুরপুরী দাঃ বাঃ এর লিখা “ফাতওয়া

নাওয়িসী কি রাহনুমা উসূল”।

প্রশ্নোত্তরে মাযহাবের তাক্বলিদ (পর্ব ২)

প্রশ্নোত্তরে মাযহাবের তাক্বলিদ (পর্ব

২)

♦♦যার যার মাযহাব সুন্দর ভাবে পালন করা

উচিত ♦♦

যে যার যার মাযহাব অনুসরণ করবে।

—ইমাম মালেক

খলীফা আবু জাফর মানসুর আগ্রহ প্রকাশ করলেন

যে, আমি চাই গোটা মুসলিম সম্রাজ্যে এক ইলমের

(অর্থাৎ মুয়াত্তা মালিকের) অনুসারী হোক। আমি

সকল এলাকার কাযী ও সেনাপ্রধানদের নিকট এ

ব্যাপারে ফরমান জারি করতে চাই।

ইমাম মালিক (রহ.) বললেনঃ

[ইবনে সা’দের বর্ণনায়]

ﻳﺎ ﺃﻣﻴﺮ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ! ﻻ ﺗﻔﻌﻞ ﻫﺬﺍ، ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻗﺪ ﺳﺒﻘﺖ ﺇﻟﻴﻬﻢ

ﺃﻗﺎﻭﻳﻞ، ﻭﺳﻤﻌﻮﺍ ﺃﺣﺎﺩﻳﺚ، ﻭﺭﻭﻭﺍ ﺭﻭﺍﻳﺎﺕ، ﻭﺃﺧﺬ ﻛﻞ ﻗﻮﻡ ﺑﻤﺎ

ﺳﺒﻖ ﺇﻟﻴﻬﻢ ﻭﻋﻤﻠﻮﺍ .

অর্থাৎ “হে আমীরুল মু’মিনীন! এমনটি করবেন না।

কেননা, লোকেরা সাহাবীগণের বক্তব্য শুনেছে,

হাদীস শুনেছে, রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছে এবং

প্রত্যেক জনগোষ্ঠী তাই গ্রহণ করেছে, যা তাদের

নিকট পৌঁছেছে এবং তদানুযায়ী আমল করেছে।”

[আততবাকাত ৪৪০]

খতীব বাগদাদীর বর্ণনায় আছে, ইমাম মালিক

(রহ.) বললেন,

ﻳﺎ ﺃﻣﻴﺮ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ! ﺇﻥ ﺇﺧﺘﻼﻑ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺭﺣﻤﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ

ﻫﺬﻩ ﺍﻷﻣﺔ، ﻳﺘﺒﻊ ﻣﺎ ﺻﺢ ﻋﻨﺪﻩ، ﻭﻛﻞ ﻋﻠﻰ ﻫﺪﻯ، ﻭﻛﻞ ﻳﺮﻳﺪ ﺍﻟﻠﻪ

ﺗﻌﺎﻟﻰ .

অর্থাৎ “হে আমীরুল মু’মিনীন! নিঃসন্দেহে

আলেমগণের মতপার্থক্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এ

উম্মতের জন্য রহমহত। প্রত্যেকে তাই অনুসরণ করে,

যা তাদের নিকট সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে,

প্রত্যেকেই হেদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং

প্রত্যেকেই আল্লাহর (সন্তুষ্টি) কামী।

[কাশফুল খাফা, আলআজলূনী ১/৫৭-৫৮; উকূদুল জুমান

আসসালেহী ১১]

♦♦প্রশ্ন: হাদিস থাকতে মাযহাব কেন মানব?

মাযহাব মানার উপকারিতা কি?

উত্তর:-

হাদিস

সহিহ কিনা দ্বয়ীফ কোন হাদিসের কি ব্যাখ্যা তা

রাসুল(সা) থেকে সাহাবীগন শিখেছেন আর

সাহাবীগন থেকে

তাবেয়ী, আর তাবেয়ীগন থেকে তাবে-

তাবেয়ীগন।আর তাদের থেকে

সকল ইমাম,মুজতাহিদ,মুহাদ্দিসিনগন শিখেছেন।

সাহাবীগন হাদিস লিখেন নি আর তাবেয়ী

ও তাবে-তাবেয়ীগন সেই সব হাদিস সংকলন

করেছেন যদি মাযহাব (৪ মাযহাব তাবেয়ী

ও তাবে-তাবেয়ীগন থেকে) এর তাক্বলিদ নাই

করে কেউ তাহলে লা-মাযহাবী মুর্খরা

এই হাদিস পেল কোথায় ???

তা ছাড়া হাদিসের মান নির্নয়ে মাযহাবের

ভুমিকা অপরিহার্য।

যেমন এক হাদীসের ক্ষেত্রে একাধিক

বক্তব্য এসেছে। এক হাদীসকে একদল

মুহাদ্দিস

সহীহ বলেছেন, অপরদল তাকে হাসান

বলেছেন,

কেউবা জঈফ বলেছেন।

যেহেতু হাদীস সহীহ বা জঈফ হওয়ার কোন

দলীল কুরআন বা হাদীসে বর্ণিত নয়। এসবই

গবেষকদের গবেষণার সৃষ্টি। যদি কুরআন

বা হাদীসে কোন হাদীসকে সহীহ বা জঈফ

বলা হতো, তাহলে আমরা কিছুতেই

কারো গবেষণা মেনে হাদীসকে সহীহ বা জঈফ

মানতাম না। বরং সরাসরি কুরআন ও

হাদীসে বর্ণিত সহীহ এবং জঈফকেই

মেনে নিতাম। কিন্তু যেহেতু কুরআন ও

হাদীসে সহীহ বা জঈফের কথা উল্লেখ নেই,

তাই আমাদের মূলনীতি হল, যিনি কুরআন ও

হাদীসের শব্দের সাথ তার অন্তর্নিহিত অর্থ

সম্পর্কে সম্মক অবগত, সেই

সাথে যিনি আল্লাহর নবীর বলা শ্রেষ্ঠ যুগের

মুহাদ্দিস ফক্বীহ তার কথার

আলোকে হাদীসকে সহীহ ও জঈফ নির্ণিত

করবো।

তথা শ্রেষ্ঠ যুগের মুহাদ্দিস ফক্বীহ

যে হাদীসকে গবেষণা করে সহীহ সাব্যস্ত

করে আমলযোগ্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন,

তার

হাদীসকে সহীহ ধরে আমল করবো। আর

তিনি যে হাদীসকে জঈফ বা কোন কারণ

সংশ্লিষ্ট সাব্যস্ত করে বাদ দিয়েছেন,

আমরা উক্ত হাদীসকে আমলহীন ধরে আমল

করবো না।

শ্রেষ্ঠ যুগের পরের কোন মুহাদ্দিসের

গবেষণা মেনে হাদীস সহীহ বা জঈফ বলার

চেয়ে শ্রেষ্ঠ যুগের মুহাদ্দিস ফক্বীহের

গবেষণা মেনে হাদীসকে সহীহ বা জঈফ

বলা কি অধিক নিরাপদ নয়?

আরেকটি লক্ষ্যণীয় বিষয়

ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর জন্ম ৮০ হিজরী।

মৃত্যু-১৫০ হিজরী।

ইমাম মালিক রহঃ এর জন্ম-৯৩ হিজরী।

মৃত্যু-১৭৯।

ইমাম শাফেয়ী রহঃ এর জন্ম-১৫০ হিজরী।

মৃত্যু-২০৪ হিজরী।

ইমাম আহমাদ বিন বিন হাম্বল রহঃ এর

জন্ম-১৬৪, মৃত্যু-২৪১ হিজরী।

ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ এর জন্ম-১১৩

হিজরী এবং মৃত্যু-১৮২ হিজরী।

ইমাম মুহাম্মদ রহঃ এর জন্ম ১৩১

হিজরী এবং মৃত্যু-১৮৯ হিজরী।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ ইমাম মুহাম্মদ

রহঃ নাবালেগ থেকে বালিগ হওয়ার

সাথে সাথেই ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর

শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।

মুহাদ্দিসীনদের জন্ম ও মৃত্যু

মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী রহঃ এর

জন্ম-১৯৪ হিজরী এবং মৃত্যু ২৫৬ হিজরী।

মুসলিম বিন হাজ্জাজ ইমাম মুসলিম রহঃ এর

জন্ম ২০৪ হিজরী এবং মৃত্যু ২৬১ হিজরী।

মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরা ইমাম

তিরমিজী জন্ম-২১০ হিজরী এবং মৃত্যু ২৭৯

হিজরী।

মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ ইমাম ইবনে মাজাহ এর

জন্ম-২০৯ হিজরী এবং মৃত্যু-২৭৩ হিজরী।

সুলাইমান বিন আসআস ইমাম আবু দাউদ রহঃ এর

জন্ম- ২০২ হিজরী এবং মৃত্যু-২৭৫ হিজরী।

আবু আব্দুর রহমান আহমদ ইমাম

নাসায়ী রহঃ এর

জন্ম ২১৫ হিজরী এবং মৃত্যু ৩০৩ হিজরী।

এই হল সিহাহ সিত্তার জন্ম ও মৃত্যুর সন।

লক্ষ্য

করুন যে,

ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর মৃত্যুর ৪৪ বছর পর

জন্ম লাভ করেছে ইমাম বুখারী রহঃ।

ইমাম মুসলিম রহঃ এর জন্ম গ্রহণ করেছেন

৫৪

বছর পর।

ইমাম তিরমিজী রহঃ জন্ম গ্রহণ করেছেন ৬০

বছর পর।

ইমাম আবু দাউদ রহঃ জন্ম লাভ করেছেন ৫২

বছর পর।

ইমাম ইবনে মাজাহ রহঃ জন্ম গ্রহণ করেছেন

৫৯ বছর পর।

ইমাম নাসায়ী রহঃ জন্ম গ্রহণ করেছেন ৬৫

বছর পর।

ইলমে হাদীসের সাথে সম্পর্ক রাখেন এমন

একজন সাধারণ শিক্ষার্থীও জানেন যে,

হাদীস

সহীহ বা জঈফ হয় মৌলিকভাবে সনদের

দুর্বলতার কারণে। আরে অনেক কারণেও হয়,

তবে মূল কারণ সনদের দুর্বলতা। অর্থাৎ

সনদের

মাঝে দুর্বল রাবী থাকার কারণে সহীহ

হাদীসও জঈফ হয়ে যায়, এমনকি মুনকারও

হয়ে যায়। আর সনদের মাঝে রাবীগণ

শক্তিশালী থাকার কারণে হাদীস সহীহ

হয়ে থাকে।আমরা যদি ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করি

যে,

ইমাম আবু হানীফা রহঃ যখন হাদীসের

আলোকে মাযহাব সংকলিত করেন, তখন

যে হাদীস সনদের শক্তিশালীত্বের

কারণে সহীহ ছিল, উক্ত হাদীসটি ৪০/৫০

বছর পরেও সহীহ থাকা শর্ত কি না? অবশ্যই

নয়। কারণ, একটি হাদীস যখন ইমাম আবু

হানীফা রহঃ দেখলেন, সে হাদীসটি তার

কাছে সহীহ, কারণ তার মাঝে এবং সাহাবীর

মাঝে একজন বা সর্বোচ্চ দুইজনের মাধ্যম

বিদ্যমান। সেই একজন বা দুইজনও শ্রেষ্ঠ যুগের

লোক। তাদের মাঝে হাদীস জঈফ হওয়ার কোন

কারণ বিদ্যমান হওয়া প্রায় অসম্ভব।

যেখানে ইমাম আবু হানীফা রহঃ নিজেই একজন

জাঁদরেল মুহাদ্দিস এবং জারাহ তাদীলের

ইমাম। সেখানে তিনি কোন সহীহ হাদীস

ছাড়া গ্রহণ করতেই পারেন না।

যেমনটি আমাদের গায়রে মুকাল্লিদরাও

অকপটে স্বীকার করে প্রচার করে বেড়ায় যে,

ইমাম আবু হানীফা রহঃ বলেছেন“যখন হাদীস

সহীহ হবে, তখন সেটাই আমার মাযহাব”।

তাই তিনি হাদীসের ভিত্তিতে যেসব

মাসআলা বলেছেন, তার সব ক’টিই ছিল সহীহ

হাদীস। যেহেতু তার এবং রাসূল সাঃ এর

মাঝে মাধ্যম ছিল দুই বা একজন। তাই সনদের

মাঝে দুর্বলতা আসা ছিল খুবই দূরের কথা।

কিন্তু উক্ত হাদীসটি, যেটাকে ইমাম আবু

হানীফা রহঃ সনদ শক্তিশালী হওয়ার

কারণে সহীহ হিসেবে মত দিয়ে তার

মাঝে নিহিত মাসআলাকে সহীহ সাব্যস্ত

করেছেন, ঠিক সেই হাদীসটিই ৪০/৫০ বছর

পর সনদের দুর্বলতার কারণে পরবর্তীদের

কাছে যেতে পারে।

কারণ ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর

কাছে যে হাদীস সহীহ হিসেবে এল সনদ

শক্তিশালী হওয়ার দ্বারা উক্ত

হাদীসটি যদি পরবর্তীতে কোন দুর্বল

রাবী বর্ণনা করে, তাহলে উক্ত হাদীসটি উক্ত

দুর্বল ব্যক্তির বর্ণনার কারণে যার

কাছে বর্ণনা করল, তার কাছে উক্ত

হয়ে যাচ্ছে দুর্বল তথা জঈফ।

কিন্তু সে হাদীস

কিন্তু ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর জমানায়

সহীহই ছিল। সেটি জঈফ

হয়েছে পরবর্তীতে এসে। তাহলে সহীহ

থাকা অবস্থায় উক্ত হাদীসের

ভিত্তিতে যেহেতু ইমাম আবু

হানীফা রহঃ স্বীয় মাযহাব দাঁড়

করিয়ে ফেলেছেন, তাই ৪০/৫০ বছর পরের

কোন মুহাক্কিকের কাছে জঈফ সুত্রে পৌঁছার

কারণে জঈফ মনে হলেও আবু হানীফা রহঃ এর

মাযহাব কিন্তু জঈফ হাদীস নির্ভর

হয়ে যাচ্ছে না।

আরো সহজভাবে বুঝুন! ইমাম আবু

হানীফা রহঃ তাবেয়ী হিসেবে চার জন

সাহাবী থেকে সরাসরি হাদীস পেয়েছেন।

যথা-

হযরত আব্দুল্লাহ বিন উনাইস রাঃ থেকে।

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবী আওফা রাঃ থেকে।

হযরত আব্দুল্লাহ বিন হারেস রাঃ থেকে।

হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে।

এখন বলুন, এ চারজন থেকে পাওয়া হাদীস

বা সুন্নতে নববীতে কোন জুউফ

তথা দুর্বলতা পাওয়ার সুযোগ আছে?

তাহলে তাদের বক্তব্যের আলোকে তিনি যেসব

মাসআলা তার ফিক্বহে হানাফীতে সংকলিত

করেছেন, তা জঈফ হাদীস নির্ভর হয় কি করে?

তবে উক্ত হাদীসগুলোই পরবর্তীতে কোন দুর্বল

হাদীস বর্ণনাকারী বলার কারণে দুর্বল হতেই

পারে। বিশেষ করে যেখানে ৪০

থেকে ৬০/৭০ বছরের পর।

সুতরাং হানাফী মাযহাবের যেসকল

মাসআলা হাদীস নির্ভর। কিন্তু সহীহ

হাদীসের উপর নির্ভর করে মাসআলা সংকলিত

হওয়ার পর পরবর্তী কোন হাদীস সংকলকের

কাছে আসার পর পরবর্তী কোন রাবীর

দুর্বলতার কারণে হাদীসটি জঈফ হয়ে গেলেও

হানাফী মাযহাবকে দুর্বল হাদীস সম্বলিত

বলে এড়িয়ে যাওয়াটা হবে অযৌক্তিক

এবং বিবেকশূণ্য মতামত।

তবে কোন মুজতাহিদ এর

বিরোধিতা করে ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন

তার ইজতিহাদী যোগ্যতার কারণে।

যেমনটি ইমাম শাফেয়ী, ইমাম মালিক ও ইমাম

আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ প্রমূখগণ করেছেন।

কোন ইজতিহাদের যোগ্যতা নেই এমন কোন

সাধারণ মুসলমানের কোন অধিকার নেই, মনমত

একটি মতকে পরবর্তী মুহাদ্দিসের বক্তব্যের

আলোকে একটি প্রাধান্য দিয়ে দেয়া। আর

মুহাদ্দিস ফক্বীহ ইমামের মতকে ভুল

বলে আখ্যায়িত করা। এরকম আচরণ চরম

ধৃষ্টতা বৈ কিছু নয়।

মুজতাহিদ ভুল করলেও একটি সওয়াব

ﻋَﻦْ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﻌَﺎﺹِ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ

ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ‏« – ﺇِﺫَﺍ ﺣَﻜَﻢَ

ﺍﻟْﺤَﺎﻛِﻢُ ﻓَﺎﺟْﺘَﻬَﺪَ ﻓَﺄَﺻَﺎﺏَ ﻓَﻠَﻪُ ﺃَﺟْﺮَﺍﻥِ ﻭَﺇِﺫَﺍ

ﺣَﻜَﻢَ ﻓَﺎﺟْﺘَﻬَﺪَ ﻓَﺄَﺧْﻄَﺄَ ﻓَﻠَﻪُ ﺃَﺟْﺮٌ

হযরত আমর বিন আস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল

সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ যখন কোন বিশেষজ্ঞ

হুকুম বলতে গিয়ে ইজতিহাদ করে, আর তার

ইজতিহাদ সঠিক হয়, তাহলে তার জন্য

রয়েছে দু’টি সওয়াব। আর যদি ইজতিহাদে ভুল

হয়, তাহলে তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব।

{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৬৯১৯, সহীহ

মুসলিম, হাদীস নং-৪৫৮৪, সুনানে আবু দাউদ,

হাদীস নং-৩৫৭৬}

মুজতাহিদের অনুসারী মুকাল্লিদের কোন

চিন্তার কারণ নেই। অতিরিক্ত পন্ডিতিরও

কোন দরকার নেই। কারণ রাসূল

সাঃ ঘোষণা অনুযায়ী মুজতাহিদের

যদি মাসআলা বলতে ভুলও হয়, তাহলেও

তিনি একটি নেকি পাচ্ছেন। আর সঠিক

হলে দুইটি নেকি পাবেন।

তাই মুজতাহিদের ইজতিহাদকৃত মাসআলায় চলার

দ্বারা সওয়াব পাওয়া নিশ্চিত।

মাযহাব বার বার পরিবর্তন

করে কেউ যেন মাসআলা নিয়ে বিভ্রান্ত না

হয় সেজন্যই ইবনে তাইমিয়া বলেনঃ

“লাগামহীনভাবে যে মাযহাবযখন মনে চায়,

সেটাকে মানা সুষ্পষ্ট হারাম

ও অবৈধ। {ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া-২/২৪১}

উম্মতের ইজমা হয়ে গেছে যে, এ ৪র্থ

শতাব্দির পর থেকে লাগামহীনভাবে যখন

যে মাযহাব ইচ্ছে সে মাযহাব

মানা যাবে না। সুনির্দিষ্টভাবে

একটি মাযহাবকে মানতে হবে।

{আলইনসাফ-৫২, ৫৭-৫৯, মাদারে হক-৩৪১,

ইন্তিসারুল হক বজওয়াবে মিয়ারে হক-১৫৩,

আলমুআফাকাত-৪/১৪৬, আলমাজমূহ শরহুল

মুহাজ্জাব-১/৯১}

♦♦কথিত আহলে হাদীস ও নামধারী জামাতে

ইসলাম ও লা-মাযহাবী ফিতনাবাজদের ২০টি

ওয়াসওয়াসার জবাব:-

প্রশ্ন-১

আবু হানিফার উস্তাদ হাম্মাদ কোন মাযহাব

মানতেন?

ইলজামী জবাব==

ইমাম বুখারী বুখারী সংকলনের আগে মানুষ

সহীহ হাদীস কোথা থেকে দেখে আমল করত?

ইমাম বুখারীর উস্তাদ মক্কী বিন ইবরাহীম

কোন সহীহ কিতাবের হাদীস মানতেন?

প্রশ্ন নং-২

হাম্মাদের উস্তাদ ইবরাহিম নাখয়ি কোন

মাযহাব মানতেন?

ইলজামী জবাব==

ইমাম বুখারী বুখারী সংকলনের আগে মানুষ

সহীহ হাদীস কোথা থেকে দেখে আমল করত?

মক্কী বিন ইবরাহীমের উস্তাদ ইবনে জুরাইজ

কোন সহীহ কিতাবের হাদীস মানতেন?

প্রশ্ন নং-৩

আবু হানিফারর ছাত্ররা কেন তার ফতোয়ার ৩

ভাগের ২ ভাগের বিরোধতা করলেন?

ইলজামী জবাব==

ইমাম বুখারীর ছাত্র ইমাম তিরমিজী কেন

ইমাম বুখারীর সহীহকে অনেক ক্ষেত্রেই তরক

করে দিয়ে অন্য হাদীস গ্রহণ করেছেন?

প্রথম কথা হল, তাহলে বুঝা যায়

হানাফী মাযহাবের

আলেমরা বা মানুষরা ইমাম আবু

হানিফাকে অন্ধ অনুসরন করে না।

তো আপনি কি বলতে চাচ্ছেন কেন অন্ধ অনুসরন

করে নি ?

প্রশ্ন নং-৪

আবু ইউসুফ ও মুহামমাদের মাঝে দুশমনি শুরু হয়

কেন?

ইলজামী জবাব==

হযরত মুয়াবিয়া রা. ও হযরত আয়েশা রা. এর

সাথে হযরত আলী রা. এর দুশমনি শুরু হল কেন ?

এখন কে ভ্রান্ত এবং জাহান্নামী ?

প্রশ্ন নং-৫

ইসা আ. কোন মাযহাব মানবেন?

তিনি নাকি ইজতেহাদ করবেন। নবি রাসুলরাও

আবার ইজতেহাদ করেন? তবে ওহি আসার

দরকার কি ছিল?

ইলজামী জবাব==

ঈসা আ. কোন হাদীসের কিতাব মানবেন?

সিহাহ সিত্তা নাকি অন্য কিতাব? সহীহ

হাদীস মানবেন নাকি হাসান হাদীস?

নাকি তিনি নিজেই হাদীসের

পরিভাষা প্রণয়ন করবেন? নবী রাসূলরাও

কি সহীহ হাসান, জঈফ

ইত্যাদি শব্দে হাদীসের

বিভক্তি করে থাকেন?

হাদীসের যে বলা হলেছে ইজতেহাদের ভুল

হলে এক সওয়াব – তা বলা হয়েছে কেন ?

নবী স. কি উম্মতের

সাথে মসকরা করে গেছেন?

প্রশ্ন নং-৬

মুসলিম খলীফা কোন মাযহাব হতে নির্বাচিত

হবেন?

ইলজামী জবাব==

মুসলিম খলীফারা কার পরিভাষা মেনে হাদীস

সহীহ জঈফ হিসেবে আমল করবেন? ইমাম

বুখারীর না ইমাম মুসলিম নাকি অন্য কারো?

পূর্ববর্তী মুসলিম খলিফারা কার

বানানো সহীহ জঈফ পরিভাষার অনুসরন

করতেন?

প্রশ্ন নং-৭

ইতিহাসে ২১ জন আবু হানিফা পাওয়া যায়।

কোন আবু হানিফা হানাফি মাযহাব বানালেন?

ইলজামী জবাব==

ইতিহাসে অসংখ্য মুহাম্মদ বিন ইসমাইল

পাওয়া যায়, কার নামে বুখারী শরীফ

বানানো হল?

প্রশ্ন নং-৮

হানাফি মাযহাব ঠিক হলে পরে আরো কোন

মাযহাব আসলো?

ইলজামী জবাব==

প্রতি কিরাতই সঠিক হলে, সাত কিরাতে কুরআন

নাজিল হল কেন? ইমাম বুখারীর সহীহ এর

সংজ্ঞা সঠিক হলে পরবর্তীতে তার

ছাত্ররা নতুন করে সহীহের সংজ্ঞা বানালেন

কেন?

প্রশ্ন নং-৯

হানাফি ফেকার কিতাব যেমন : হেদায়া,

শরহে বেকায়া ইতা্যাদি কিতাবগুলিতে মাযহাব

মানা ফরজ/ নফল/ সুন্নাত / ওয়াজিব /

মুস্তিহাব — এর পক্ষ্যে কোন দলীল নেই কেন?

ইলজামী জবাব==

বুখারী শরীফকে সহীহ হাদীসের গ্রন্থ

মানতে হবে একথা কুরআন ও সহীহ হাদীসের

কোথাও নেই কেন?

প্রশ্ন নং-১০.

সাধারণ জনতা তাকলীদ করবে কারন সে হক ও

বাতিল বুঝে না।

তবে সে কিভাবে বুঝবে হানাফি মাযহাবই

ঠিক? সে কিভাবে দেওবন্দি, ব্রেলভি ও

হাজার হাজার পীরের মধ্য

হতে হককে বেছে নিবে? ।

ইলজামী জবাব==

লক্ষ লক্ষ জাল হাদীস পৃথিবীতে বিদ্যমান।

তাহলে এই সকল জাল হাদীস থেকে সহীহ

হাদীসগুলো কিভাবে বেছে নিবে সাধারণ

মানুষ?

প্রশ্ন নং-১১

দলীল সহ জানার জন্য কেন আদেশ করা হল

তাকলিদ যদি করাই সঠিক হতো?

ইলজামী জবাব==

দলীলসহই যদি সবার দ্বীন মানার আদেশ

হয়ে থাকে, তাহলে সূরা ফাতিহাতে কেন

নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের অনুসরনের

কথা বলা হয়েছে দলীলের কথা উল্লেখ

না করেই?

কুরআন ও হাদীসের আলোকে জানাবেন আশা করি

প্রশ্ন নং-১২

দুজন আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ

হওয়া এবং তাদের নামে মাজহাব

বানানো কি এক বিষয় কিনা?

ইলজামী জবাব==

আলেমের মতভেদ আর মুজতাহিদের মতভেদ এক

বস্তু নয়। এমন সাধারণ কথাও

যিনি বুঝতে পারেন না তিনি এমন

জ্ঞানী সাজার অপচেষ্টা কেন করছেন আমাদের

বুঝে আসে না।

আলেমের মতভেদ আর মুজতাহিদের মতভেদকে এক

পাল্লায় মাপা আর দুই ডাক্তারের মতভেদ আর

দুই শিশুর মতভেদকে এক পাল্লায় মাপার মতই

আহমকী বৈ কিছু নয়। আগে সাধারণ

ডিগ্রিধারী আলেম আর মুজতাহিদের

সংজ্ঞাটি শিখে নিন। তারপর এ উদ্ভট কিয়াস

করতে আসুন।

প্রশ্ন নং-১৩

যদি এক বিষয় হয়, তবে সাহাবীগণও

তো ইখতিলাফ (মতবিরোধ) করেছেন। তাদের

নামে কেন মাজহাব হলো না?

ইলজামী জবাব==

সহীহ নামের

কিতাবতো ইবনে খুজাইমা রহঃ এবং ইবনে

হিব্বান

রহঃ এবং মুস্তাদরাক সংকলকও করেছেন, কিন্তু

তাদের কিতাব কেন সিহাহ সিত্তায় শামিল

হলো না?

হাদীসের সকংলকনতো সাহাবাগণও করেছেন,

তাহলে তাদের সংকলিত গ্রন্থকে কেন সিহাহ

সিত্তায় শামিল করা হয়নি?

প্রশ্ন নং-১৪

আর যদি এক বিষয় না হয় তবে আলেমদের

মতভেদকে কেন্দ্র করে ৪ মাজহাব

বানানোটা কি ভুল নয়? ৪। যদি ভুল হয়

তবে সেটা স্বীকারনা করা কি শয়তানের

লক্ষণ নয়?

ইলজামী জবাব==

আলেমদের মতভেদকে কেন্দ্র করে হাদীসের

খন্ড খন্ড করে, সহীহ লিগাইরিহী, সহীহ

লিজাতিহী, হাসান লিজাতিহী, হাসান

লিগাইরিহী,

ইত্যাদি নামে হাদীসকে দ্বিখন্ডিত

করা কিভাবে জায়েজ হয়েছে?

হাদীসের কিতাবকে বিভক্ত করে সিহাহ

সিত্তা বলে অসংখ্য সহীহ

হাদীসওয়ালা অন্যান্য কিতাবের সাথে কেন

এমন বিমাতাসূলভ আচরণ করা হলো? হাদীসের

মাঝে এমন বিভক্তি করতে কোন সহীহ

হাদীসে নির্দেশ এসেছে?

১২৪৬হিজরীর সৃষ্ট বিদআতি মাযহাব কথিত

আহলে হাদীসী মাযহাবে ভন্ডামীপূর্ণ

মতাদর্শী অনুসারীদের ভন্ডামী প্রকাশিত

হওয়ার পরও নিজেদের ভুল স্বীকার

না করা কি শয়তানী কর্ম নয়?

প্রশ্ন নং-১৫

মাজহাবীরা বলে থাকে জানা না থাকলে

আলেমদের

জিজ্ঞেস করতে হবে। কোন আলেমকে কোন

ফাতওয়া জিজ্ঞেস করা মানেই কি এই

যে সে আলেমের নামে মাজহাব

বানিয়ে তাতে প্রবেশ করা কি এক বিষয়?

ইলজামী জবাব==

আপনি আগে ডিগ্রিধারী আলেম্ ও মুজতাহিদ

শব্দের তাহকীকটি শিখে আসুন।

তাহলে বুঝতে পারবেন আপনার

প্রশ্নটি একটি আহমকী ও অজ্ঞতাসূচক প্রশ্ন।

মুজতাহিদের অনুসরণকে সাধারণ আলেমের

অনুসরণের কিয়াস করা কুরআনের কোন আয়াত

বা হাদীস দ্বারা প্রমানিত?

জাহিলীপূর্ণ প্রশ্ন এটি। মুজতাহিদ ও

গায়রে মুজতাহিদের পার্থক্যও

যিনি বুঝতে সক্ষম নয় তিনি এসেছেন জ্ঞান

ঝাড়তে। মুজতাহিদ

গবেষণা করে ফাতওয়া দিবেন। আর সেই

ফাতাওয়া জেনে সাধারণ আলেম অজ্ঞ সাধারণ

মুসলিমদের জানাবে।

দুটি ভিন্ন বস্তকে গুলিয়ে ফেলা আহমকের কাজ।

প্রশ্ন নং-১৬

যদি কিছু আলেম কোন ভুল সিদ্ধান্ত নেয়,

তারপরেও কি আপনি সেই আলেমদের ভুল

সিদ্ধান্তের অনুসরণ করে যাবেন?

উত্তর

আলেম আর মুজতাহিদ এক বস্তু নয়। মুজতাহিদের

ভুলেও একটি সওয়াব নিহিত। ভুল করেছেন

কি না? সেটি বুঝতে পারবে আরেকজন

মুজতাহিদ। যেমন ডাক্তারের প্রেশক্রিপশনের

ভুল বুঝেতে পারবে আরেকজন ডাক্তার। মুচি নয়।

মুজতাহিদ ভুল করেছেন কিনা? সেটি আপনার

মত জাহিল অন্য ভাষায় মুচি ডাক্তারের ভুল

ধরবে কিভাবে?

প্রশ্ন নং-১৭

আল্লাহ তো আমাদের ভালো মন্দের জ্ঞান

দিয়েছেন। আপনি যদি সেটা ব্যবহার

না করেন, তবে নিজের এই ভুলের জন্য কি জবাব

দিবেন?

ইলজামী জবাব==

আমাদের প্রশ্নতো সেটাই। কুরআন ও সহীহ

হাদীসের অনুসরণের দাওয়াত দিচ্ছেন,

মুজতাহিদের অনুসরণকে শিরক বলছেন। অথচ

কুরআন ও সহীহ হাদীস দিয়ে দুই রাকাত নামায

দেখাতে পারেন না কারো কারো না অন্ধ

তাকলীদ করে। চোখে আঙ্গুল দিয়ে বারবার

ভুলগুলো ধরিয়ে দেবার পরও

গোড়ামী যে অহর্নিশি করে যাচ্ছেন এর

কি জবাব দিবেন হাশরের ময়দানে?

প্রশ্ন নং-১৮

আবু তালেব অন্ধভাবে তার পূর্ব পুরুষদের

আকড়ে ধরেছিলেন। আপনিও কি সেই একই ভুল

করবেন?

ইলজামী জবাব==

একই প্রশ্ন আপনাদের জন্য। অন্ধভাবে পূর্ব পুরুষ

আব্দুল হক বানারসী, মুহাম্মদ হুসাইন

বাটালবী, মিয়া নজীর আহমাদ, নওয়াব

সিদ্দিক হাসান খান, নাসীরুদ্দীন

আলবানী প্রমুখ পূর্ব পুরুষদের বিদআতি মতবাদ

আঁকড়ে ধরে থাকবেন, নাকি বিবেকটাও একটু

খাটাবেন?

প্রশ্ন নং-১৯

সূরা রুমের

৩১-৩২নং আয়াতে যারা দ্বীনকে বিভক্তকরে

(আলেমরা)

এবং যারা দলে দলে বিভক্ত হয়(আলেমদের

ফাতওয়ার অনুসারীরা)তাদের সবাইকে মহান

আল্লাহ”””মুশরিক””” বলে ফাতওয়া দিয়েছেন।

আপনারা ৪ মাজহাবের ১টায় প্রবেশ

করে বিভক্ত হয়ে সেই মুশরিকের খাতায়

যে নাম লেখাননি তার কোন প্রমাণ কি আপনার

নিকট আছে?

ইলজামী জবাব==

এই উপমহাদেশে কোন ধর্মী’য় বিভক্তি ছিল

না। ১২৪৬ হিজরী থেকে নতুন

বিদআতি মাযহাব আব্দুল হক বানারসীর

মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করে মুসলিমের

মাঝে যে অনৈক্য আর বিভক্তির নোংরা খেলায়

মেতেছেন আপনারা এর জন্য কুরআনের

আয়াতটিকে আপনাদের একবারও মনে পড়ছে না।

নিজের দলীলেইতো নিজে মুশরিক

হয়ে যাচ্ছেন।

এই শিরক থেকে খাটি ঈমান কি আপনাদের

কখনোই নসীব হবে না? নাকি আল্লাহ

অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন? এভাবে দ্বন্দ

আর বিভক্তির ভয়ানক খেলায়

মেতে আপনারা যে মুশরিকের খাতায় নাম

লেখাননি এর কোন প্রমাণ কি আপনাদের

কাছে আছে?

প্রশ্ন নং-২০

সূরা আনআম এর

১৫৯নং আয়াতে বলা হয়েছে যারাদ্বীনকে

বিভক্ত

করে ও দলে দলে ভাগ হয়, তাদের

সাথে নাবী সাঃ এর কোন”””সম্পর্ক”””নেই।

বিভক্তির ফাতওয়া মেনে দলে দলে ভাগ

হওয়ার পরেও কি আপনি এই দাবী করতে পারেন

যে আপনার সাথে নাবী সাঃ এর কোন সম্পর্ক

আছে?

ইলজামী জবাব==

শুব্বানে আহলে হাদীস।

আহলে হাদীস আন্দোলন বাংলাদেশ।

জমিয়তে আহলে হাদীস বাংলাদেশ।

গুরাবায়ে আহলে হাদীস।

আহলে হাদীস যুব আন্দোলন

ইত্যাদি নামে মুসলমানদের দলে দলে ভাগ

করার পরও আপনি কি দাবি করতে পারেন যে,

আপনাদের সাথে রাসূল সাঃ এর কোন সম্পর্ক

আছে?

প্রশ্নোত্তরে মাযহাবের তাক্বলিদ (পর্ব ১)

প্রশ্নোত্তরে মাযহাবের তাক্বলিদ (পর্ব

১)

♦♦প্রশ্ন :- এক মাযহাব থেকে অন্য মাযহাবে

স্থানান্তর: একটি বিশ্লেষণাত্মক পর্যালোচনা

উত্তর:-

শায়খ আওয়ামাহ

আসারুল হাদীসিশ শরীফ… নামক কিতাবে

লিখেছেন-

ﺇﻥ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺘﻨﻘﻞ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺬﻫﺐ ﺍﻟﺤﻨﻔﻲ ﺇﻟﻲ

ﺍﻟﻤﺬﻫﺐ ﺍﻟﺸﺎﻓﻌﻲ ﻓﻲ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻤﺴﺄﻟﺔ ،

ﻳﺠﺮ ﺇﻟﻲ ﺍﻟﺘﻨﻘﻞ ﻓﻲ ﻏﻴﺮﻫﺎ ﺇﻟﻲ ﺍﻟﻤﺬﻫﺐ

ﺍﻟﻤﺎﻟﻜﻲ ﻣﺜﻼ، ﻭ ﺇﻟﻲ ﺍﻟﺘﻨﻘﻞ ﺇﻟﻲ ﺍﻟﻤﺬﻫﺐ

ﺍﻟﺤﻨﺒﻠﻲ ﻓﻲ ﻣﺴﺄﻟﺔ ﺃﺧﺮﻱ. ﻭ ﻫﻜﺬﺍ ﺗﻌﻮﺩ

ﺍﻟﺴﻠﺴﻠﺔ ﺇﻟﻲ ﺃﻭﻟﻬﺎ ﻓﻲ ﻣﺴﺄﻟﺔ ﺭﺍﺑﻌﺔ، ﺃﻭ

ﺇﻟﻲ ﻣﺬﺍﻫﺐ ﺃﺧﺮﻱ ﻣﻨﺪﺭﺳﺔ ﻏﻴﺮ

ﺍﻟﻤﺬﺍﻫﺐ ﺍﻷﺭﺑﻌﺔ

কোন একটি মাসআলায় ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)

এর

মাযহাব থেকে ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) এর

মাযহাবে স্থানান্তর, এ ব্যক্তিকে অন্য

একটি মাসআলায় উদাহরণ স্বরূপ ইমাম মালেক

(রহঃ) এর মাযহাবে স্থানান্তরের প্রতি উদ্বুদ্ধ

করবে, কখনও অন্য মাসআলায় ইমাম আহমাদ বিন

হাম্বল (রহঃ) এর মাযহাবে স্থানান্তর করবে।

একইভাবে চতুর্থ কোন মাসআলায়

সে চক্রাকারে প্রথম মাযহাব অথবা অন্য কোন

ইমামের মাযহাব অনুসরণ করবে।

এভাবে তার ক্রমাগমন শুধু চার মাযহাবে সীমাবদ্ধ

থাকবে না। শায়খ আওয়ামাহ বলেন-

ﻳﺆﻭﻝ ﺑﻪ ﺍﻷﻣﺮ ﺇﻟﻲ ﺃﻥ ﻳﺠﺘﻬﺪ ﻟﻨﻔﺴﻪ

ﺍﻟﺨﺮﻭﺝ ﻋﻦ ﺍﻟﻤﺬﺍﻫﺐ ﺍﻷﺭﺑﻌﺔ …… ﻭ ﻋﻦ

ﺍﻷﺭﺑﻌﻴﻦ …

পরিশেষে এ ব্যক্তি শুধু চার মাযহাব থেকেই বের

হওয়াকে পছন্দ করবে না বরং সে এধরণের চল্লিশ

মাযহাব থেকে বের হয়ে যাবে।

হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহঃ) বলেন-

ﻣﻦ ﺟﻌﻞ ﺩﻳﻨﻪ ﻏﺮﺿﺎ ﻟﻠﺨﺼﻮﻣﺔ ﻛﺜﺮ ﺗﻨﻘﻠﻪ

যে ব্যক্তি নিজের দ্বীনকে তর্ক-বিতর্কের

লক্ষ্যবস্তু বানায় তার স্থানান্তর ও অভিবাসন

বৃদ্ধি পায়।

যে ব্যক্তি মনে করে যে, ইমামদের অনুসরণ ব্যতীত

শুধু দলিলের অনুরসণ করবে, তবে সে এমন মতামতের

অবতারনা করবে যা ইতোপূর্বে কেউ করেনি; অথচ

সে নিজেকে নাসিরুস সুন্নাহ (সুন্নতের

সাহায্যকারী)

মনে করে বসে আছে। দলিলের অনুসরণের

নামে মূলতঃ সে তার প্রবৃত্তিকে দলিল হিসেবে

গ্রহণ

করেছে। প্রবৃত্তিপূজা মানুষের মাঝে তখন

এমনভাবে জেঁকে বসে যে, সাহাবায়ে কেরাম

(রাঃ) এর

প্রতি বিষোদগার করতেও কুণ্ঠা বোধ করে না।

ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন-

ﺳﻠﻤﻮﺍ ﻟﻸﻳﻤﺔ ﻭ ﻻ ﺗﺠﺎﺩﻟﻮﻫﻢ، ﻓﻠﻮ ﻛﻨﺎ ﻛﻠﻤﺎ

ﺟﺎﺀﻧﺎ ﺭﺟﻞ ﺃﺟﺪﻝ ﻣﻦ ﺭﺟﻞ ﺇﺗﺒﻌﻨﺎﻩ : ﻟﺨﻔﻨﺎ

ﺃﻥ ﻧﻘﻊ ﻓﻲ ﺭﺩ ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﺑﻪ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻋﻠﻴﻪ

ﺍﻟﺴﻼﻡ

তোমরা ইমামদের আনুগত্য করো এবং তাদের

সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়ো না। আমাদের

কর্মপন্থা যদি এই হত যে, যখনই আমাদের নিকট

শক্তিশালী কোন যুক্তিবিদ আগমন করতো আর

আমরা তার অনুসরণ করতাম, তবে আশঙ্কা করি যে,

আমরা হযরত জিবরীল (আঃ) এর আনীত বিষয়েরও

বিরোধীতায় লিপ্ত হয়ে পড়ব।

আল্লামা ইবনে আব্দুল বার (রহঃ) আল-

ইন্তেকা নামক কিতাবে হযরত ইমাম মালেক (রহঃ)

এর ঘটনা উল্লেখ করেছেন। ইমাম মালেক (রহঃ) এর

ছাত্র মায়ান বিন ঈসা (রহঃ) বলেন- একদা আবুল

জুয়াইরিয়া নামক এক ব্যক্তি ইমাম মালেক (রহঃ)

এর নিকট মসজিদে নববীতে আগমন করল। এ

লোকটি মুরজিয়া হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত

ছিল।

সে এসে ইমাম মালেক (রহঃ) কে বলল-

ﻳﺎ ﺃﺑﺎ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ! ﺇﺳﻤﻊ ﻣﻨﻲ ﺷﻴﺌﺎ ، ﺃﻛﻠﻤﻚ

ﺑﻪ ﻭ ﺃﺣﺎﺟﻚ ﻭ ﺃﺧﺒﺮﻙ ﺑﺮﺃﻱ. ﻗﺎﻝ ﻣﺎﻟﻚ :

ﻓﺈﻥ ﻏﻠﺒﺘﻨﻲ؟ ﻗﺎﻝ: ﺍﺗﺒﻌﺘﻨﻲ. ﻗﺎﻝ ﻣﺎﻟﻚ :

ﻓﺈﻥ ﻏﻠﺒﺘﻚ ؟ ﻗﺎﻝ : ﺇﺗﺒﻌﺘﻚ، ﻗﺎﻝ: ﻓﺈﻥ

ﺟﺎﺀﻧﺎ ﺭﺟﻞ ﻓﻜﻠﻤﻨﺎﻩ ﻓﻐﻠﺒﻨﺎ؟ ﻗﺎﻝ : ﺗﺒﻌﻨﺎﻩ .

ﻗﺎﻝ ﺃﺑﻮ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺎﻟﻚ :

ﺑﻌﺚ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ

ﺑﺪﻳﻦ ﻭﺍﺣﺪ، ﻭ ﺃﺭﺍﻙ ﺗﻨﻘﻞ، ﻗﺎﻝ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ

ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻌﺰﻳﺰ: ﻣﻦ ﺟﻌﻞ ﺩﻳﻨﻪ ﻋﺮﺿﺔ

ﻟﻠﺨﺼﻮﻣﺎﺕ ﺃﻛﺜﺮ ﺍﻟﺘﻨﻘﻞ

“হে আবু আব্দুল্লাহ! আমার কথা শ্রবণ করুন,

আমি আপনার সাথে আলোচনা করব, বিতর্ক করব

এবং আমার মতামত উল্লেখ করব। ইমাম মালেক

(রহঃ) তাকে বললেন-যদি তুমি আমার উপর

বিজয়ী হয়ে যাও? সে বলল- আপনি আমার অনুসরণ

করবেন। ইমাম মালেক (রহঃ) পুনরায় জিজ্ঞেস

করলেন-যদি আমি তোমার উপর বিজয়ী হই?

সে বলল- আমি আপনার অনুসরণ করব। ইমাম মালেক

বললেন- আমাদের নিকট যদি তৃতীয় কোন

ব্যক্তি আসে এবং আমরা তার সাথে বিতর্ক

করি এবং সে আমাদের উপর বিজয়ী হয়? সে বলল-

আমরা তার অনুসরণ করব। ইমাম মালেক

তাকে বললেন- আল্লাহ তায়ালা হযরত মুহাম্মাদ

(সঃ) কে একই ধর্ম দিয়ে প্রেরণ করেছেন।

আমি তোমাকে দেখছি-এদিক সেদিক ছুঁটাছুঁটি

করছ!

হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয (রহঃ) বলেন-

যে ব্যক্তি তার দ্বীনকে বিতর্কের লক্ষ্যবস্তু

বানায়, তার ছুঁটাছুঁটি বৃদ্ধি পায়”

বর্তমানে এধরণের ছুঁটাছুঁটিকে যারা নিজেদের

আদর্শ

হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং সুন্নাহ অনুসরণের

নামে মুসলিম উম্মাাহকে ধোঁকা দিচ্ছে, তাদের

বাস্তবতা অনুসন্ধান করলে এর ব্যতিক্রম

পরিলক্ষিত হবে না। এদের মূল শ্লোগান দলিলের

অনুসরণ হলেও, তাদের কাছে উলামায়ে কেরামের

বিচ্যুতি, একক মতামত ও বিরল বক্তব্য গুলোই

গ্রহণযোগ্য ও পছন্দনীয়। তাদের কাছে প্রকৃত

দলিল সেটিই যা বর্জনীয় হওয়ার ব্যাপারে

সকলেই

একমত।

ইমাম আওযায়ী (রহঃ) বলেন-

ﻣﻦ ﺃﺧﺬ ﺑﻨﻮﺍﺩﺭ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺧﺮﺝ ﻣﻦ ﺍﻹﺳﻼﻡ

যে ব্যক্তি উলামায়ে কেরামের বিরল

বক্তব্যগুলো গ্রহণ করবে, সে ইসলাম থেকে বের

হয়ে যাবে।

সুলাইমান আত-তাইমী (রহঃ) বলেন-

ﻟﻮ ﺃﺧﺬﺕ ﺑﺮﺧﺼﺔ ﻛﻞ ﻋﺎﻟﻢ ﺍﺟﺘﻤﻊ ﻓﻴﻚ

ﺍﻟﺸﺮ ﻛﻠﻪ

“যদি তুমি প্রত্যেক আলেমের রুখসতকে গ্রহণ করো,

তবে তোমার মাঝে সব ধরণের অকল্যাণ ও

নিকৃষ্টতা একত্র হবে”

ইমাম মালেক (রহঃ) এর উস্তাদ ইবরাহীম বিন

আবি আবালাহ (রহঃ) বলেন-

ﻣﻦ ﺣﻤﻞ ﺷﺎﺫ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺣﻤﻞ ﺷﺮﺍ ﻛﺜﻴﺮﺍ، ﻭ

ﻗﺎﻝ ﻣﻌﺎﻭﻳﺔ ﺑﻦ ﻗﺮﺓ : ﺇﻳﺎﻙ ﻭ ﺍﻟﺸﺎﺫ ﻣﻦ

ﺍﻟﻌﻠﻢ

যে ব্যক্তি উলামায়ে কেরামের বিরল ও একক

মতামতের অনুসরণ করে সে অনেক অকল্যাণের

বাহক

হয়। হযরত মুয়াবিয়া বিন কুররা (রহঃ) বলেন-

সাবধান! বিরল বক্তব্য থেকে বিরত থাক।

আল্লামা যাহেদ আল-কাউসারী (রহঃ) ইবরাহীম

বিন

আবি আবালাহ্ (রহঃ) এর বক্তব্য এভাবে উল্লেখ

করেছেন-

ﻣﻦ ﺃﺧﺬ ﺷﻮﺍﺫ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺿﻞ

যে ব্যক্তি উলামায়ে কেরামের বিরল ও শায

বক্তব্যের অনুসরণ করল সে পথভ্রষ্ট হয়ে গেল।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) হযরত

ইহইয়া আল-কাত্তান (রহঃ) এর

উক্তি বর্ণনা করেন-

ﻟﻮ ﺃﻥ ﺇﻧﺴﺎﻧﺎ ﺇﺗﺒﻊ ﻛﻞ ﻣﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﻣﻦ

ﺭﺧﺼﺔ ﻟﻜﺎﻥ ﺑﻪ ﻓﺎﺳﻘﺎ

কেউ যদি হাদীসের প্রত্যেক রুখসতের অনুসরণ

করে,

তবে ঐ ব্যক্তি ফাসেক হয়ে যাবে।

ইমাম আব্দুর রাজ্জাক (রহঃ) হযরত মা’মার

থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন-

ﻟﻮ ﺃﻥ ﺭﺟﻼ ﺃﺧﺬ ﺑﻘﻮﻝ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﻓﻲ

ﺇﺳﺘﻤﺎﻉ ﺍﻟﻐﻨﺎﺀ ﻭ ﺇﺗﻴﺎﻥ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﻓﻲ

ﺃﺩﺑﺎﺭﻫﻦ ، ﻭ ﺑﻘﻮﻝ ﺃﻫﻞ ﻣﻜﺔ ﻓﻲ

ﺍﻟﻤﺘﻌﺔ ، ﻭ ﺍﻟﺼﺮﻑ ﻭ ﺑﻘﻮﻝ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻜﻮﻓﺔ

ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﻜﺮ ﻛﺎﻥ ﺷﺮ ﻋﺒﺎﺩ ﺍﻟﻠﻪ

কেউ যদি গান শোনা ও মহিলাদের

গুহ্যদ্বারে সঙ্গমের ব্যাপারে মদীনাবাসীর

মতামত

গ্রহণ করে এবং মুত’আ ও সরফ পদ্ধতিতে ক্রয়-

বিক্রয়ে মক্কা বাসীর মতামত এবং মাদকদ্রব্যের

ব্যাপারে কুফাবাসীর মতামত গ্রহণ

করে তবে সে আল্লাহর সর্বনিকৃষ্ট

বান্দা হিসেবে পরিগণিত হবে।

উপরোক্ত বক্তব্য থেকে স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয়

যে, ইজতেহাদের অযোগ্য ব্যক্তির জন্য তালফীক

বৈধ নয়। আল্লামা ইবনে আব্দুল বার (রহঃ) এ

ব্যাপারে ইজমার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি

বলেন-

ﻫﺬﺍ ﺇﺟﻤﺎﻉ ﻻ ﺃﻋﻠﻢ ﻓﻴﻪ ﺧﻼﻑ

এ বিষয়টির উপর ইজমা হয়েছে। এর সাথে

মতানৈক্য

করেছে এমন কারও বিষয়ে আমার জানা নেই।

আল্লামা কারমী বলেন-

ﺇﻋﻠﻢ ﺃﻧﻪ ﻗﺪ ﺫﻫﺐ ﻛﺜﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺇﻟﻲ

ﻣﻨﻊ ﺟﻮﺍﺯ ﺍﻟﺘﻘﻠﻴﺪ ﺣﻴﺚ ﺃﺩﻱ ﺇﻟﻲ ﺍﻟﺘﻠﻔﻴﻖ

ﻣﻦ ﻛﻞ ﻣﺬﻫﺐ

“জেনে রেখ! অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম

তালফীক

অবৈধ হওয়ার মতামত ব্যক্ত করেছেন”

শামসুল আইম্মা ইমাম হালওয়ানী (রহঃ) বলেন-

ﻭﻫﺬﺍ ﺍﻟﺬﻱ ﺗﻘﺮﺭ ﻣﻦ ﺇﺷﺘﺮﺍﻁ ﻋﺪﻡ

ﺍﻟﺘﻠﻔﻴﻖ ﻫﻮ ﺍﻟﻤﻌﺘﻤﺪ ﻋﻨﺪﻧﺎ ﻭ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﺤﻨﻔﻴﺔ

ﻭ ﺍﻟﺤﻨﺎﺑﻠﺔ ﻓﻼ ﻳﺠﻮﺯ ﻓﻲ ﻋﺒﺎﺩﺓ ﻭﻻ ﻏﻴﺮﻫﺎ

ﻭﺍﻟﻘﻮﻝ ﺑﺠﻮﺍﺯﻩ ﺿﻌﻴﻒ ﺟﺪﺍ

তালফীক অবৈধ হওয়ার

ব্যাপারে যে সিদ্ধান্তটি স্থির হয়েছে এটি

আমাদের

নিকট গ্রহণযোগ্য। এবং এটি হানাফী ও

হাম্বলীদের

নিকটও গ্রহণযোগ্য। সুতরাং ইবাদত বা অন্য কোন

ক্ষেত্রে তালফীক বৈধ নয়। তালফীক বৈধ হওয়ার

ব্যাপারে যে বক্তব্য রয়েছে সেটি নিতান্তই

দূর্বল।

আল্লামা হালওয়ানী আরও বলেন,

ﻓﻠﺬﻟﻚ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﺘﻠﻔﻴﻖ ﺑﺎﻃﻼ ﻣﺤﺮﻣﺎ ﻭ ﻫﻮ

ﺍﻟﺬﻱ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﻤﺤﻘﻘﻮﻥ ﻣﻦ ﺃﺋﻤﺘﻨﺎ ﻭ

ﻏﻴﺮﻫﻢ

এজন্য তালফীক বাতিল ও হারাম। অধিকাংশ

গবেষক

ইমামমদের মত এটি।

যাইনুদ্দিন কাসেম (রহঃ) তাউকীফুল হুক্কাম

ফি গাওয়ামিদিল আহকাম নামক কিতাব

থেকে বর্ণনা করেছেন-

ﺍﻥ ﺍﻟﺤﻜﻢ ﺍﻟﻤﻠﻔﻖ ﺑﺎﻃﻞ ﺑﺈﺟﻤﺎﻉ

ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ

তালফীকের পদ্ধতিতে নির্ণীত হুকুম মুসলমানদের

সর্বসম্মতিক্রমে বাতিল।

ফতওয়ায়ে শামী তে রয়েছে-

“.. ﻭﺃﻥ ﺍﻟﺤﻜﻢ ﺍﻟﻤﻠﻔﻖ ﺑﺎﻃﻞ ﺑﺎﻹﺟﻤﺎﻉ”

ﻗﺎﻝ ﺷﺎﺭﺣﻪ – ﻣﺜﺎﻟﻪ ﻣﺘﻮﺿﺄ ﺳﺎﻝ ﻣﻦ ﺑﺪﻧﻪ

ﺩﻡ، ﻭ ﻟﻤﺲ ﺇﻣﺮﺃﺓ، ﺛﻢ ﺻﻠﻲ ﻓﺈﻥ ﺻﺤﺔ

ﺻﻼﺗﻪ ﻣﻠﻔﻘﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺬﻫﺐ ﺍﻟﺸﺎﻓﻌﻲ ﻭ

ﺍﻟﺤﻨﻔﻲ، ﻭ ﺍﻟﺘﻠﻔﻴﻖ ﺑﺎﻃﻞ، ﻓﺼﺤﺘﻪ ﻣﻨﺘﻔﻴﺔ

অর্থাৎ তালফীকের পদ্ধতিতে নির্ণীত হুকুম

সর্বসম্মতিক্রমে বাতেল। (ব্যাখ্যাকার বলেন)

তালফীকের উদাহরণ হল, কোন ওযুকারী ব্যক্তির

শরীর থেকে রক্ত বের হল (এর

দ্বারা হানাফী মাযহাব অনুযায়ী ওযু ভেঙ্গে

যাবে),

আবার সে কোন মহিলাকে স্পর্শ করল (এর

দ্বারা শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী ওযু ভেঙ্গে

যাবে), এ

অবস্থায় যদি সে নামায আদায় করে তবে তার

নামায

বাতিল। কেননা তালফীক বাতিল।

আল্লামা আব্দুল গণী নাবুলুসী (রহঃ) বলেন,

ﺇﺫﺍ ﻋﻠﻤﺖ ﺫﻟﻚ ﻇﻬﺮ ﻟﻚ ﻋﺪﻡ ﺻﺤﺔ

ﺍﻟﺘﻠﻔﻴﻖ ﻓﻲ ﻭﺟﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﻮﺟﻮﻩ ﺇﺟﻤﺎﻋﺎ

যখন তুমি উক্ত বিষয় সম্পর্কে অবগত হলে, তখন

তোমার সামনে স্পষ্ট হয়ে গেল যে,

সর্বসম্মতিক্রমে কোন অবস্থাতেই তালফীক বৈধ

নয়।

ইমাম নববী রহ. বলেন,

ﻭﻭﺟﻬﻪ ﺍﻧﻪ ﻟﻮ ﺟﺎﺯ ﺍﺗﺒﺎﻉ ﺃﻱ ﻣﺬﻫﺐ ﺷﺎﺀ ﻻ

ﻓﻀﻰ ﺇﻟﻰ ﺍﻥ ﻳﻠﺘﻘﻂ ﺭﺧﺺ ﺍﻟﻤﺬﺍﻫﺐ

ﻣﺘﺒﻌﺎ ﻫﻮﺍﻩ ﻭﻳﺘﺨﻴﺮ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺘﺤﻠﻴﻞ ﻭﺍﻟﺘﺤﺮﻳﻢ

ﻭﺍﻟﻮﺟﻮﺏ ﻭﺍﻟﺠﻮﺍﺯ ﻭﺫﻟﻚ ﻳﺆﺩﻯ ﺇﻟﻰ

ﺍﻧﺤﻼﻝ ﺭﺑﻘﺔ ﺍﻟﺘﻜﻠﻴﻒ ﺑﺨﻼﻑ ﺍﻟﻌﺼﺮ

ﺍﻻﻭﻝ ﻓﺎﻧﻪ ﻟﻢ ﺗﻜﻦ ﺍﻟﻤﺬﺍﻫﺐ ﺍﻟﻮﺍﻓﻴﺔ

ﺑﺄﺣﻜﺎﻡ ﺍﻟﺤﻮﺍﺩﺙ ﻣﻬﺬﺑﺔ ﻭﻋﺮﻓﺖ: ﻓﻌﻠﻰ

ﻫﺬﺍ ﻳﻠﺰﻣﻪ ﺍﻥ ﻳﺠﺘﻬﺪ ﻓﻲ ﺍﺧﺘﻴﺎﺭ ﻣﺬﻫﺐ

ﻳﻘﻠﺪﻩ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺘﻌﻴﻴﻦ

“ব্যক্তি তাকলীদের অপরিহার্যতার কারণ এই যে,

মুক্ত তাকলীদের অনুমতি দেয়া হলে প্রবৃত্তি

তাড়িত

মানুষ সকল মাজহাবের অনুকূল বিষয়গুলোই শুধু

বেছে নিবে। ফলে হালাল-হারাম ও বৈধ-অবৈধ

নির্ধারণের এখতিয়ার এসে যাবে তার হাতে।

প্রথম

যুগে অবশ্য ব্যক্তি তাকলীদ সম্ভব ছিলো না।

কেননা ফিকাহ বিষয়ক মাজহাবগুলো যেমন

সুবিন্নস্ত

ও পূর্ণাংগ ছিলো না তেমনি সর্বত্র সহজলভ্যও

ছিলো না। কিন্তু এখন তা সুবিন্যস্ত ও পূর্ণাংগ

আকারে সর্বত্র সহজলভ্য। সুতরাং যে কোন

একটি মাজহাব বেছে নিয়ে একনিষ্টভাবে তা

অনুসরণ

করাই এখন অপরিহার্য”। (আল মাজমু শরহুল

মুহায্যাব, ১/১৯)

এ কারণেই শায়েখ

ইবনে তাইমিয়া বলেনঃ “লাগামহীনভাবে যে

মাযহাব

যখন মনে চায়, সেটাকে মানা সুষ্পষ্ট হারাম

ও অবৈধ।(অর্থাৎ যেটা মানবে একটাকেই মানবে

এতে বিভ্রান্ত হবে না){ফাতাওয়া ইবনে

তাইমিয়া-২/২৪১}

উম্মতের ইজমা হয়ে গেছে যে, এ ৪র্থ

শতাব্দির পর থেকে লাগামহীনভাবে যখন

যে মাযহাব ইচ্ছে সে মাযহাব

মানা যাবে না। সুনির্দিষ্টভাবে

একটি মাযহাবকে মানতে হবে।

{আলইনসাফ-৫২, ৫৭-৫৯, মাদারে হক-৩৪১,

ইন্তিসারুল হক বজওয়াবে মিয়ারে হক-১৫৩,

আলমুআফাকাত-৪/১৪৬, আলমাজমূহ শরহুল

মুহাজ্জাব-১/৯১}

সুতরাং বর্তমানে সাধারণ মানুষের না বুঝে,

শরীয়তের জ্ঞান অর্জন না করে প্রবৃত্তির

চাহিদা অনুযায়ী স্বেচ্ছাচারী হওয়ার কোন

সুযোগ

নেই।

♦♦প্রশ্ন:- সাহাবীগন কি তাক্বলিদ করতেন?

উত্তর:-  হয়তো গায়রে মুকাল্লিদ

ভাইদের মন খারাপ হতে পারে। এ ব্যাপারে এমন

দুজন ব্যাক্তির

কথাকে পেশ করবো যারা গায়রে মুকাল্লিদ

ভাইদের

কাছেও গ্রহনযোগ্য আলেম এবং তারাও এ দুজন

ব্যাক্তিকে সালাফ মনে করেন।

এ দুই জন বিখ্যাত আলেম হলেন –

(১) আলী ইবনুল মাদিনী রহঃ , (ইমাম

বুখারী রাহঃ এর বিশিষ্ট উস্তাদ) ।

(২) ইবনুল কাইয়েম জাওজী রহঃ ,

(ইবনে তাইমিয়া রাহঃ এর বিশিষ্ট ছাত্র) ।

এবার তাদের কথাগুলো বলি-

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) লিখেছেন,

ﻭﺍﻟﺬﻳﻦ ﺣﻔﻈﺖ ﻋﻨﻬﻢ ﺍﻟﻔﺘﻮﻯ ﻣﻦ ﺃﺻﺤﺎﺏ

ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﺎﺋﺔ

ﻭﻧﻴﻒ ﻭﺛﻼﺛﻮﻥ ﻧﻔﺴﺎ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺭﺟﻞ ﻭﺍﻣﺮﺃﺓ

ﻭﻛﺎﻥ ﺍﻟﻤﻜﺜﺮﻭﻥ ﻣﻨﻬﻢ ﺳﺒﻌﺔ: ﻋﻤﺮ ﺑﻦ

ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﻭﻋﻠﻲ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻃﺎﻟﺐ ﻭﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ

ﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﻭﻋﺎﺋﺸﺔ ﺃﻡ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﻭ ﺯﻳﺪ

ﺑﻦ ﺛﺎﺑﺖ ﻭﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻭﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ

ﺑﻦ ﻋﻤﺮ .

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওসাল্লাম এর

সাহাবীদের মধ্যে যাদের ফতোয়া সংরক্ষণ

করা হয়েছে তাদের সংখ্যা নারী-পুরুষ মিলিয়ে

প্রায়

একশ’ ত্রিশজন। এদের

মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফতোয়া প্রদান করতেন

সাতজন।

১. উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)

২. আলী ইবনে আবী তালেব (রাঃ)

৩. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪. উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাঃ)

৫. যায়দ ইবনে সাবেত (রাঃ)

৬. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)

৭. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

একশ’ ত্রিশজন সাহাবীর মধ্যে যাদের

ফতোয়ার সংখ্যা খুব বেশি নয় আবার খুব কমও নয়,

অর্থাৎ যাদের ফতোয়ার সংখ্যা মাধ্যমিক

স্তরের,

তাদের সংখ্যা হল, তেরজন।

এ বিশজন ব্যতীত একশ’ ত্রিশজন সাহাবীর

অবশিষ্ট সকলেই যে ফতোয়া প্রদান করেছেন, তার

সংখ্যা খুবই কম। (ই’লামুল মুয়াক্বিয়ীন আন

রাবিক্ষল আলামিন, আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম

(রহঃ), খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১২) ।

এখানে বিবেচনার বিষয় হল, কোথায় সোয়া লক্ষ

আর কোথায় একশ-দু’শ সাহাবী! অবশিষ্ট

সাহাবীরা তাহলে কী করেছেন? স্পষ্টতঃ

অন্যান্য

সাহাবীরা ফতোয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্ত

সাহাবী অভিজ্ঞ ছিলেন, তাদের অনুসরণ করেছেন

র্অথাৎ মুজতাহীদ সাহাবীর তাকলদি করছেনে।

স্পষ্ট হয়ে গেলো প্রায় সকল সাহাবী মুকাল্লিদ

ছিলেন।

এ সম্পর্কে ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী রাহ.(১৬১

হি.-২৩৪ হি.)-এর বিবরণ :

তিনি সাহাবায়ে কেরামের সময়ের তিনজন

সাহাবীর মাযহাব বর্ননা করেছেন যাদের

মাযহাব ও

তরীকার উপর আমল ও ফতওয়া জারি ছিল। এই তিন

সাহাবীর শাগরিদগণ তাঁদের মত ও সিদ্ধান্ত

গুলো সংরক্ষণ করেছেন,তা প্রচার প্রসার

করেছেন।

যে তিন সাহাবীর মাযহাব ছিলো প্রচলিত ছিলো

আর

অন্য সাহাবীরা সেই মাযহাবের অনুশরণ করতেন

তারা হলেন

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.(মৃত্যু: ৩২ হিজরী),

যায়েদ ইবনে ছাবিত রা.(জন্ম: হিজরত পূর্ব ১১ ও

মৃত্যু: ৪৫ হিজরী)ও

আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা.(জন্ম: হিজরত পূর্ব

৩ ও মৃত্যু: ৬৮ হিজরী)।

আলী ইবনুল মাদীনী রাহ.এর

আরবী বাক্যটি নিম্নরূপ-

ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻓﻲ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺭﺳﻮﻻﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ

ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﻟﻪ ﺻُﺤَﻴْﺒَﺔٌ، ﻳﺬﻫﺒﻮﻥ

ﻣﺬﻫﺒﻪ، ﻭﻳﻔﺘﻮﻥ ﺑﻔﺘﻮﺍﻫﻮﻳﺴﻠﻜﻮﻥ

ﻃﺮﻳﻘﺘﻪ، ﺇﻻ ﺛﻼﺛﺔ : ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ

ﻭﺯﻳﺪ ﺑﻦ ﺛﺎﺑﺖ ﻭﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ

ﺍﻟﻠﻬﻌﻨﻬﻢ، ﻓﺈﻥ ﻟﻜﻞ ﻣﻨﻬﻢ ﺃﺻﺤﺎﺑﺎ ﻳﻘﻮﻣﻮﻥ

ﺑﻘﻮﻟﻪ ﻭﻳﻔﺘﻮﻥ ﺍﻟﻨﺎﺱ .

এরপর আলী ইবনুল মাদীনী রাহ. তাঁদের

প্রত্যেকের মাযহাবের অনুসারী ও তাঁদের

মাযহাব

মোতাবেক ফতওয়া দানকারী ফকীহ

তাবেয়ীগণের নাম

উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন,

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর যে শাগরিদগণ

তাঁর

কিরাত অনুযায়ী মানুষকে কুরআন শেখাতেন,তাঁর

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মানুষকে ফতওয়া দিতেনএবং

তাঁর

মাযহাব অনুসরণ করতেন তারা হলেন এই ছয়জন

মনীষী:

আল কামাহ(মৃত্যু: ৬২ হিজরী),

আসওয়াদ(মৃত্যু: ৭৫ হিজরী),

মাসরূক(মৃত্যু: ৬২ হিজরী),

আবীদাহ(মৃত্যু: ৭২ হিজরী),

আমর ইবনে শুরাহবীল(মৃত্যু: ৬৩ হিজরী)ও

হারিস ইবনে কাইস(মৃত্যু: ৬৩ হিজরী)।

ইবনুল মাদীনী রাহ. বলেছেন,ইবরাহীম নাখায়ী

রাহ.

(৪৬-৯৬ হিজরী) এই ছয়জনের নাম উল্লেখ

করেছেন।

ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী রাহ.-এর উপরোক্ত

বিবরণের সংশ্লিষ্ট আরবীপাঠ নিমণরূপ-

ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻳﻘﺮﺅﻥ ﺍﻟﻨﺎﺳﺒﻘﺮﺍﺀﺗﻪ ﻭﻳﻔﺘﻮﻧﻬﻢ

ﺑﻘﻮﻟﻪ ﻭﺑﺬﻫﺒﻮﻥ ﻣﺬﻫﺒﻪ …

এরপর আলী ইবনুল মাদীনী রাহ.

লিখেছেন,আবদুল্লাহ

ইবনে মাসউদ রা.-এর (ফকীহ) শাগরিদদের

সম্পর্কে এবং তাঁদের মাযহাবের

বিষয়ে সবচেয়ে বিজ্ঞ ছিলেন ইবরাহীম

(নাখায়ী)

(৪৬-৯৬ হিজরী) এবং আমের ইবনে শারাহীল

শাবী(১৯-১০৩ হিজরী)। তবে শাবী মাসরূক রাহ.-

এর মাযহাব অনুসরণ করতেন।

আরবী পাঠ নিমণরূপ-

ﻭﻛﺎﻥ ﺃﻋﻠﻢ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻜﻮﻓﺔﺑﺄﺻﺤﺎﺏ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ

ﻭﻣﺬﻫﺒﻬﻢ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻭﺍﻟﺸﻌﺒﻲ ﺇﻻ ﺃﻥ

ﺍﻟﺸﻌﺒﻲ ﻛﺎﻥ ﻳﺬﻫﺐ ﻣﺬﻫﺐ ﻣﺴﺮﻭﻕ .

এরপর লিখেছেন-

ﻭﻛﺎﻥ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺯﻳﺪ ﺑﻦ ﺛﺎﺑﺘﺎﻟﺬﻳﻦ ﻳﺬﻫﺒﻮﻥ

ﻣﺬﻫﺒﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﻔﻘﻪ ﻭﻳﻘﻮﻣﻮﻥ ﺑﻘﻮﻟﻪ ﻫﺆﻻﺀ

ﺍﻻﺛﻨﻰ ﻋﺸﺮ …

অর্থাৎ যায়েদ ইবনে ছাবিত রা.-এর যে

শাগরিদগণ

তাঁর মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং তাঁরমত ও

সিদ্ধান্ত সমূহ সংরক্ষণ ও প্রচার প্রসার করতেন

তাঁরা বারোজন।

তাঁদের নাম উল্লেখ করার পর ইবনুল মাদীনী রাহ.

লেখেন,এই বারো মনীষীও তাদের মাযহাবের

বিষয়ে সবচেয়ে বিজ্ঞ ছিলেন ইবনে শিহাব

যুহরী(৫৮-১২৪ হিজরী),

ইয়াহইয়া ইবনে সায়ীদ আনসারী(মৃত্যু: ১৪৩

হিজরী),

আবুযযিনাদ(৬৫-১৩১ হিজরী)এবং

আবু বকর ইবনে হাযম(মৃত্যু১২০ হিজরী)।

এদের পরে ইমাম মালেক ইবনে আনাসরাহ.

(৯৩-১৭৯ হিজরী)।

এরপর ইবনুল মাদীনী রাহ. বলেছেন-

‘তদ্রূপ আবদুল্লাহ ইবনে আববাসরা.-এর

যে শাগরিদগণ তাঁরমত ও সিদ্ধান্ত সমূহ সংরক্ষণও

প্রচার করতেন,সে অনুযায়ী ফতওয়া দিতেন এবং

তার

অনুসরণকরতেন,তাঁরা ছয়জন।

ﻭﻛﻤﺎ ﺃﻥ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺳﺴﺘﺔ ﺍﻟﺬﻳﻦ

ﻳﻘﻮﻣﻮﻥ ﺑﻘﻮﻟﻪ ﻭﻳﻔﺘﻮﻥ ﺑﻪ ﻭﻳﺬﻫﺒﻮﻥ

ﻣﺬﻫﺒﻪ .

এরপর তিনি তাদের নাম উল্লেখ করেন।

ইমাম ইবনুল মাদীনী রাহ.-এর পূর্ণ

আলোচনা তাঁর‘ কিতাবুল ইলালে’(পৃষ্ঠা:

১০৭-১৩৫, প্রকাশ: দারুব

নিলজাওযীরিয়ায,১৪৩০হিজরী।) বিদ্যমান

আছে এবং ইমাম বায়হাকী রাহ.-এর ‘আলমাদ

খালইলাস সুনানিল কুবরা’তে ও (পৃষ্ঠা:

১৬৪-১৬৫) সনদ সহ উল্লেখিত হয়েছে।

সুতরাং মনে রাখতে হবে, ইমামগণের

ফিকহী মাযহাবের যে মতপার্থক্য তাকে বিভেদ

মনে করা অন্যায়ও

বাস্তবতার বিকৃতি এবং সাহাবায়ে কেরামের

নীতিও

ইজমার বিরোধিতা।

♦♦প্রশ্ন : চার খলীফার তাকলীদ রেখে চার

ইমামের তাকলীদ কেন? আমাদের উচিত শুধু কুরআন

ও হাদিস অনুযায়ী চলা তাক্বলিদ

করা কুরআন হাদিসে নেই তাই এগুলো মানা

বিদআত।

জবাব :- আপনার প্রশ্নটি সম্পুর্ন অযৌক্তিক । না

বুঝার কারণে আপনার মনে এমন প্রশ্ন উদয় হয়েছে।

ভাই আপনে নিজেও তো তাক্বলিদ

করেন আর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত করবেন

অথচ সেটাকে না বুঝে নিজেই বিদআত বলতেসেন।

এই হল আপনাদের মত নামধারী আহলে হাদিসের

সমস্যা।

আমাকে simple একটা জবাব দিন রাসুলুল্লাহ

(সা) যে এত হাদিস

বলে গেছেন এগুলোর প্রমান কি?

প্রশ্নকর্তা: বুখারী,মুসলিম ও অন্যান্য সহিহ

কিতাব।

তাহলে আপনে আমাকে বলুন ইমাম

বুখারীকে মানেন কিনা?

প্রশ্নকর্তা : জ্বি অবশ্যই মানি মানব না কেন?

এখন বলুন তাক্বলিদ অর্থ কি?

প্রশ্নকর্তা: কাউকে অনুসরন করা বা মানা

যাই হোক তাহলে আপনি ইমাম বুখারীর তাক্বলিদ

করেন স্বীকার করলেন।

প্রশ্নকর্তা: আমরা ওনার লিপিবদ্ধ হাদিস মানি।

তাহলে অন্যরাও তো হাদিস লিপিবদ্ধ

করেছেন তাদের মানেন না?

প্রশ্নকর্তা: সহিহ বলে বা বিশ্বস্ত বলে

ইমাম বুখারীকে মানি।

জ্বি অবশ্যই সহিহ বলেই মানবেন বিশ্বস্ত বলেই

মানবেন কিন্তু বুখারী ও মুসলিমে যে ১০ – ১২

হাজার হাদিস আছে এগুলো কি রাসুলের ২৩

বছরের সম্পুর্ন কথা?আর এত অল্প হাদিসে কি

মানব জীবনের সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব?না

সম্ভব না।

আর ইমামে আজম (রহ) কে মানতে নিষেধ করেন

বুখারী শরীফের হাদিস মানতে বলেন ইমামে

আজম বড় ছিলেন নাকি ইমাম বুখারী বড় ছিলেন?

ইমামে আজম ছিলেন ইমাম বুখারীর পিতার

উস্তাদের উস্তাদ।

আজকে ইমাম বুখারীর যে হাদিস পেয়েছেন ওনার লিপিবদ্ধ

করা হাদিস মানতেসেন এটাও ইমাম বুখারীর তাক্বলিদ

করা হচ্ছে কারন যদিও আপনে

অন্য কিতাবের তাক্বলিদ করছেন

না ঠিকই বুখারী শরীফের তাক্বলিদ করছেন।

তখন যদি ইমামে আজম

সহ আরো কিছু স্বনামধন্য ইমাম হাদিস সংগ্রহ না

করতেন তাহলে ইমাম বুখারী(রহ)’র জন্যও ওই সব

সনদ সংগ্রহ করা কঠিন

হয়ে যেত কারন যারা মৃত্যুবরন

করে গেছে তাদের কাছ থেকে আর কোনদিন হাদিস পাওয়া

সম্ভব নয়। কোন সাহাবায়ে কেরাম হাদিস লিখে

সংগ্রহ করেন নি।তখন যদি ইমামে আজমের মত

মহান ইমামগন এর আবির্ভাব না হত তাহলে কি

হত এই মুসলিম উম্মাহর। ওনারা কুরআন হাদিস

পড়ে জেনে ফতোয়া বের

করেছেন যেমন ইমামে আজম

(লক্ষাধিক হাদিসের হাফেজ ছিলেন) ওনাকে

তাক্বলিদ বা অনুসরন করা মানে

হল ওনার হাদিসের ফয়সালা মোতাবেক চলা।

তিনি বহু সাহাবীর সাথে সাক্ষাতও

করেছিলেন এবং হাদিস শ্রবন করেছেন।

তাবেয়ী ইমাম আবু

হানীফা এবং তাবে তাবেয়ী ইমাম

শাফেয়ী, মালিক ও আহমাদ

বিন হাম্বল রহঃ এর তাকলীদের মাধ্যমে কুরআন,

হাদীস এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের ফাতওয়াও

পাওয়া যায়। আর আমাদের কাছে কুরআন

হাদীসের সাথে সাহাবাগণও অনুসরণীয়।

ﻭﻋﻠﻴﻜﻢ ﺑﺴﻨﺘﻲ ﻭﺳﻨﺔ

ﺍﻟﺨﻠﻔﺎﺀ ﺍﻟﺮﺍﺷﺪﻳﻦ ﻣﻦ

ﺑﻌﺪﻱ ﻋﻀﻮﺍ ﻋﻠﻴﻬﺎ

ﺑﺎﻟﻨﻮﺍﺟﺬ

হযরত ইরবাজ বিন সারিয়া রাঃ থেকে বর্ণিত।

রাসূল সাঃ ইরশাদ

করেছেনঃ তোমরা আমার সুন্নতকে আঁকড়ে ধর।

এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নতকে আঁকড়ে ধর

আমার পরে। এগুলোকে মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে

ধর। {আলমুজামুল কাবীর লিততাবরানী, হাদীস

নং-৬১৮,

সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৪২, সুনানে

বায়হাকী কুবরা,

হাদীস নং-২০১২৫, সুনানে তিরমিজী, হাদীস

নং-১৫০, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-৯৫, সহীহ

ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-১৭৯, কানযুল উম্মাল,

হাদীস নং-৯২২, মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস

নং-৩২৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭১৪২,

মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৪২০১, মুসনাদুশ

শামীন, হাদীস নং-৪৩৭, মাশকিলুল আসার, হাদীস

নং-৯৯৮}

♦♦প্রশ্ন: হানাফী ,শাফেয়ী ,মালেকী ,হাম্বলী

হতে আল্লাহ ও রাসূল সাঃ নির্দেশ দেননি ।।

উত্তর:- এটা কোন দল না এটা ইসলামের

সঠিকভাবে অনুসরন করার জন্য ওনারা

সঠিক মাসআলা মাসায়েল বলে গেছেন।

আপনারা দলের কথা বলতেসেন কিন্তু কথিত

আহলে হাদিস দল আপনারা নিজেরা করেন নি?

আপনাদের আহলে হাদীসদের

কয়েকটি দল

১) জমিয়তে আহলে হাদীস

বাংলাদেশ।

২) আহলে হাদীস আন্দোলন

বাংলাদেশ।

৩) আহলে হাদীস যুব

আন্দোলন।

৪)

ফিরক্বায়ে গুরাবায়ে আহলে হাদীস।

৫) কানফারেন্স

আহলে হাদীস।

৬) আমীরে শরীয়ত সূবাহ

বাহার।

৭)

ফিরক্বায়ে সানাবিয়্যাহ।

৮)

ফিরক্বায়ে আতায়িয়্যাহ।

৯) ফিরক্বায়ে শরীফিয়্যাহ।

১০)

ফিরক্বায়ে গজনবিয়্যাহ।

১১)

ইন্তিখাবে মৌলবী মুহীউদ্দীন।

১২) জামাআতুল মুসলিমীন।

এভাবে আহলে হাদীস নাম

দিয়ে দলে দলে বিভক্ত

হওয়ার নির্দেশ না আল্লাহ

দিয়েছেন, না রাসূল

সাঃ দিয়েছেন। তাই এসব

আহলে হাদীস

নামধারীরা কেন পরিত্যজ্য

নয়?

শুধু দলে দলে বিভক্তই

হয়নি ওরা। বরং একদল

আরেক দলকে গোমরাহ,

মুশরিক

ইত্যাদি বলে গালাগালিও

করে থাকে। যা তাদের

লেকচার ও বিভিন্ন

লেখা বই পড়লে যেকোন

পাঠকই বুঝতে পারবেন।

এভাবে বিভক্তির

দিকে আহবানকারীর

মুখে একতার কথা মানায়

কি না? এটি আম

তৌহিদী জনতার হাতেই

ছেড়ে দিলাম এর বিচারের

ভার।

আল্লাহ তাআলা একতার

নামে বিভক্তির

দিকে আহবানকারী ভ্রান্ত

আহলে হাদীস

ফিরক্বা থেকে মুসলিম

জাতিকে হিফাযত করুন।

♦♦প্রশ্ন: রাসূল সাঃ এর অনুসরণ না করে ইমাম

আবূ হানীফার অনুসরণ কেন ?

উত্তর:- আপনারা লা-

মাযহাবীরা তাক্বলিদ বিদাত

বলেন কিন্তু ঠিক ঘেটে ঘেটে নাসিরুদ্দিন আলবানীর

ফতোয়া,  ইবনে তাইমিয়া, বায সাহেবের ফতোয়া

পড়েন ও মানেন তা কুরআন হাদিসে আছে কিনা

তখন সেটাও দেখার প্রয়োজন করেন না।

তাদের তাক্বলিদ করলে শিরিক হয় না আর

৪ মাযহাবের তাক্বলিদ করলে যারা তাবেয়ী ও

তাবে তাবেয়ী ছিলেন তাদের তাক্বলিদ করলে

শিরিক বিদাত তাই না?ভালই বিচার আপনাদের।

আফসোস হয় এসব কথিত আহলে হাদীসদের

কর্মকান্ড দেখে যেখানে পবিত্র কুরআনে,

“জ্ঞানীদের অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে [সূরা

নহল-৪৩}

সেখানে তারা জাহিল ও মুর্খদের শায়েখ

বানিয়ে তাদের অনুসরণ করছে। যাদের

ব্যাপারে রাসূল সাঃ স্পষ্ট বলেছেন,

“তারা ইলমহীনতার কারণে নিজেরাও গোমরা

হবে, আবার

অন্যদেরও গোমরাহ করবে।”

{মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৬৫১১, বুখারী, হাদীস

নং-১০০, মুসলিম, হাদীস নং-২৬৭৩} আল্লাহ

তাআলা আমাদের এ ভ্রান্ত ফিরক্বা থেকে

হিফাযত করুন। আমীন। ছুম্মা আমীন।

এখন কথা

হল আহলে হাদিসের মুর্খ আলিমদের শাইখগনের তাক্বলিদ শিরিক

হয় না আর তাবেয়ী তাবে তাবেয়ীগনের তাক্বলিদ

করলে শিরিক বলে ফতোয়া দেয়।

হায়রে মুর্খের দল।

♦♦প্রশ্ন:- চার মাযহাবের দ্বারা বিভক্তি

এসেছেঃ মাযহাব ছেড়ে তাই একতার প্রয়োজন।

এ মাযহাব কি সালফে সালেহীন গনের যুগে পালন

করা হত?

উত্তর:-

সালাফে সালেহীনের মাযহাব

১। ইমাম

বুখারী রহঃ শাফেয়ী মাজহাবের

অনুসারী।

সুত্রঃ নবাব ছিদ্দিক হাসান

খান লিখিত আবজাদুল উলুম

পৃষ্ঠা নং ৮১০,

আলহিত্তা পৃষ্ঠা নং ২৮৩।

শাহ ওয়ালিউল্লাহ

রহঃ লিখিত আল-ইনসাফ

পৃষ্ঠা নং ৬৭।

আল্লামা তাজ উদ্দীন

সুবকী রহঃ লিখিত

ত্ববকাতুশ

শাফেয়ী পৃষ্ঠা নং ২/২।

২। ইমাম মুসলিম

রহঃ শাফেয়ী মাজহাবের

অনুসারী।

সুত্রঃ ছিদ্দিক হাঃ খান

লিখিত আল-

হিত্তা পৃষ্ঠা নং ২২৮।

৩। ইমাম

তিরমিজী নিজে মুজ্তাহিদ

ছিলেন। তবে হানাফী ও

হাম্বলী মাজহাবের

প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন।

সুত্রঃ শা ওয়ালিউল্লাহ

রহঃ লিখিত আল-ইনসাফ

পৃষ্ঠা নং ৭৯।

৪। ইমাম নাসাঈ

শাফেয়ী মাজহাবের

অনুসারী ছিলেন।

সুত্রঃ নওয়াব সিদ্দীক

হাসান খান লিখিত আল-

হিত্তা পৃষ্ঠা নং ২৯৩।

৫। ইমাম আবুদাউদ

রহঃ শাফেয়ী।

সুত্রঃ আল-

হিত্তা পৃষ্ঠা নং ২২৮।

আল্লামা আনোয়ার শাহ

কাশ্মিরী রহঃ ইবনেতাইমিয়ার

উদ্ধৃতি দিয়ে ফয়জুল

বারী ১/৫৮ তে ইমাম

আবুদাউদ

রহঃ কে হাম্বলী বলে উল্লেখ

করেছেন।

৬। ইমাম ইবনে মাজাহ

শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী।

সুত্রঃ ফয়জুল

বারী ১/৫৮।

এ গেল ছিহাহ ছিত্তার

ইমামগণের মাজহাব।

অন্যান্য ইমামগণের

মাজহাব নবাব ছিদ্দীক

হাসান খান সাহেবের আল-

হিত্তা থেকে।

৭। মিশকাত শরিফ

প্রণেতা শাফেয়ী, পৃঃ ১৩৫

৮। ইমাম

খাত্তাবী রহঃ শাফেয়ী,

পৃঃ ১৩৫

৯। ইমাম

নববী রহঃ শাফেয়ী,

পৃঃ ১৩৫

১০। ইমাম

বাগভী রহঃ শাফেয়ী,

পৃঃ ১৩৮

১১। ইমাম

ত্বহাবী হাম্বলী, পৃঃ১৩৫

১২। বড় পীর আঃ কাদের

জিলানী রহঃ হাম্বলী,

পৃঃ ৩০০

১৩। ইমাম

ইবনে তাইমিয়া হাম্বলী,

পৃঃ ১৬৮

১৪। ইবনে কায়্যিম

রহঃ হাম্বলী, পৃঃ ১৬৮

১৫। ইমাম ইবনে আব্দিল

বার রহঃ মালেকী, পৃঃ ১৩৫

১৬। ইমাম আব্দুল হক

মুহাদ্দেসে দেহলবীরহঃহানাফী,

পৃঃ ১৬০

১৭। শাহ ওয়ালিউল্লাহ

দেহলবী রহঃ হানাফী,

পৃঃ ১৬০-১৬৩

১৮। ইমাম ইবনে বাত্তাল

রহঃ মালেকী, পৃঃ ২১৩

১৯। ইমাম

হালাবী রহঃ হানাফী পৃঃ ২১৩

২০। ইমাম শামসুদ্দীন আবু

আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ

ইবনে আব্দুদদায়েম

রহঃ শাফেয়ী, পৃঃ ২১৫

২১। ইমাম বদরুদ্দীন

আঈনী রহঃ হানাফী,

পৃঃ ২১৬

২২। ইমাম

যারকানী রহঃ শাফেয়ী,

পৃঃ ২১৭

২৩। ইমাম

ক্বাজী মুহিব্বুদ্দীন

হাম্বলী, পৃঃ ২১৮

২৪। ইমাম ইবনে রজব

হাম্বলী, পৃঃ ২১৯

২৫। ইমাম

বুলকিনী শাফেয়ী, পৃঃ ২১৯

২৬। ইমাম

মার্যুকী মালেকী পৃঃ ২২০

২৭। ইমাম জালালুদ্দীন

বকরী শাফেয়ী, পৃঃ২২০

২৮। ইমাম

কাস্তাল্লানী শাফেয়ী,

পৃঃ ২২২

২৯। ইমাম

ইবনে আরাবী মালেকী,

পৃঃ ২২৪

এমন কি ওহাবীরা তাদের মডেল

৩০। আব্দুল ওয়াহ্হাব নজদীকে ও

হাম্বলী বলে উল্লেখ

করেছেন নওয়াব সিদ্দিক

হাসান খান তার আল-

হিত্তাতু ফিস সিহাহিস

সিত্তাহ’র ১৬৭ পৃষ্ঠায়।

৩১। ইমাম তাহাবী রহঃ ছিলেন

হানাফী রহঃ এর অনুসারী।