মুমিন বান্দার কলবে আল্লাহ  উনার পাক আরশ ।

images (5)

হাদিস শরীফ নংঃ ১.

হযরত আবি ইনাবাতাল খোলানী রদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু   উনার  হতে বর্নিত
নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

তিনি  ইরশাদ মুবারক  করেন,

” যমিন বাসী থেকে  রহমাতুল্লাহি আলাইহি অবস্থানের স্থান রয়েছে তোমাদের প্রভুর সেই অবস্থানের (কুদরতী) স্থান হলো মু’মিনের ক্বলব বা অন্তর।
রেফারেন্স :
(১) তাবরানী, মুসনাদে সামীন,২/১৯পৃ.হাদিসঃ
৮৪০,
(২) জালালুদ্দিন সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, জামেউস সগীর,১/৩৬৪পৃ.
হাদিসঃ ২৩৭৫ ও জামিউল আহাদিস, ৯/১৯৬পৃ.৮২৩৩
(৩) সাখাভী, মাকাসিদুল হাসানা, ৩৮০পৃ.হাদিসঃ
৯৯০
(৪) আজলূনী, কাশফুল খাফা, ২/১৭৫পৃ.হাদিসঃ২২৫৪
(৫) ইরাকী, তাখরীজে ইহইয়াউল উলূমুদ্দিন,
১/৮৯০পৃ.
(৬) শায়খ ইউসুফ নাবহানী,ফতহুল কাবীর,১/৩৭৭পৃ.
হাদিসঃ৪০৯১
(৭) মানাভী, ফয়যুল কাদীর,২/৬২৯পৃ.
(৮) আহলে হাদিস গুরু  নাসিরুদ্দীন আলবানী তার
সহিহ(?) হাদিসের গ্রন্থ ” সিলসিলাতুল আহাদিসুস
সহিহা,হাদিসঃ ১৬৯১ ও সহিহুল জামে, হাদিসঃ
২১৬৩ এ তার দু’টি গ্রন্থের মধ্যে হাদিসটি কে
হাসান বা গ্রহনযোগ্য বলে উল্লেখ করতেছেন,
কিন্তু আহলে হািদসরা আবার সুযোগ বুঝে তাদের
ইমামের কথাও অস্বীকার করে বসে।
হাদিস শরীফ  নং ২-

চার মাযহাব এর অন্যতম একজন ইমাম আহমদ ইবনে
হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি  বর্ণনা করেন,
হযরত ওহ্হাব ইবনে মুনাব্বাহ রদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু   উনার  হতে বর্নিত
তিনি বলেন,  ” নিশ্চয় মহান আল্লাহ তা’য়ালা আসমান সমূহকে  খুলে দিয়েছেন  হযরত হিযকিল নামক একজন ফেরেশেতা আলাইহিস সালাম উনার জন্য। তিনি আরশ পর্যন্ত দেখতে পেলেন এবং  বললেন আল্লাহ পাক আপনি  পাক পবিত্র, আপনার শান  মহান। অতঃপর মহান আল্লাহ বললেন নিশ্চই  আসমান সমূহ ও আরশ দূর্বলতা প্রকাশ করছে  আমাকে স্থান দিতে কিন্তু মু’মিনের কলব বা
অন্তর নম্রতা প্রকাশ করে আমাকে গ্রহন  করতেছে।
রেফারেন্স :-
(১) ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি, কিতাবুল যুহুদ,১/৬৯পৃ.
দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন,
(২) সাখাভী, মাকাসিদুল
হাসানা,৪২৯পৃ.হাদিসঃ৯৮৮
(৩) আজলূনী,কাশফুল খাফা,২/১৯৫পৃ. হাদিসঃ ২২৫৪
(৪) মোল্লা আলী ক্বারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি,আসারুল মারফূআ ফি
আখবারিল মাওদ্বুআত,৩১০পৃ.
(৫) মানাভী, ফয়যুল কাদীর, ১/২৮২পৃ.
(৬) ইবনুল ইরাক,তানযিহুশ শরিয়াহ,১/১৪৮পৃ.
(৭) আব্দুল হাই লাখনৌভি, আসারুল মারফূআ, ৩১০পৃ.
(৮) সুয়ূতী, লা-আলিল মাসনূ, ১/২৯৩পৃ.
(৯) আব্দুল করীম জিললী আশ শাফেয়ী
: ইনসানে কামীল
(১০) নাবহানী : যাওয়াহিরুল বিহার : ১/২৮৩ পৃ
ইমাম সাখাভী, আজলূনী হাদিসটি কে গ্রহনযোগ্য
বলেছেন।
হাদিস নং ৩ :

হয়রত ইবনে উমর রদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু   উনার   হতে বর্নিত,
একদা এক ব্যাক্তি নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনাকে জিজ্ঞেস  করলেন আল্লাহ কি আসমানে না জমীনে? তিনি  বললেন আল্লাহ তার মুমিন বান্দা দের কলবে।
রেফারেন্স :
(১) ৩ লক্ষ হাদিসের হাফেজ ইমাম গাজ্জালি
রহমাতুল্লাহি আলাইহি  : ইহইয়াউল উলুমুদ্দিন ৩/১৫
 

Advertisements

কালিমা তাইয়্যিবা

ইদানিং বেশকিছু ওহাবী জামাতী ভন্ড আর

দাওয়া group যারা মুলত peace tvর ভাইদের আরেক

পরিচয়।অনেক দিন থেকেই লক্ষ করছি তারা

বিভিন্ন website ,blog  ,facebook ,youtube এ কুরআন

হাদিসে কোন কালিমা তাইয়্যেবাহ নেই বলে

প্রচার করে আসতেসে তাদের মতে আমরা যে

কালিমা পড়ি তা বিদাত ও ভুল। চাইলে প্রমান

স্বরুপ ইন্টারনেট এ দেখে নিতে পারেন।

(নাউজুবিল্লাহ)

সাধারণ মুসলমানকে কত বড় ধোকা দিচ্ছে এই ভন্ড

ওহাবী জামাতী নামধারী আহলে হাদিস এর দল

দেখুন ****

#SETP1:-

আগে তাদের ভয়াবহতা বুঝানোর জন্য তাদের

কিছু মন্তব্য তুলে ধরলাম *****

‘কালেমায়ে তাইয়্যিবাহ’ কোনটি ??

১) “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”। নাকি

অর্থঃ নাই কোন ইলাহ বা মা’বুদ আল্লাহ ছাড়া।

২) “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ”।

অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ বা মা’বুদ নাই –

মুহাম্মদ(সাঃ) আল্লাহর রাসুল।

সারকথা হলঃ

দীর্ঘ ২৫ বছরের গবেষনায় “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু

মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” – এই বাক্যটি সম্পর্কে

কোন জাল হাদিস ছাড়া কুরআনে ও সহিহ হাদিসে

পাওয়া যায় নাই। বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ

***বুখারীঃ ১/১২, ২৯, ৩/১২৮৭(ইঃফাঃবাঃ) এবং

মুসলিমঃ ১/৪৫, ৪৭, ৫৭, ৬১(বাঃইঃসেঃ)।

বাতিলদের আরো মন্তব্য দেখুন :-

শেষ নবী মুহাম্মদ সঃ বলেছেন :

যে-ই বলবে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” জান্নাতে

যাবে।

শেষ নবী সঃ কোথাও, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু

মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” একত্রে বলেন নি।

যে কেউ জেনে তা বলবে, ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের

ন্যায় ওযাইর ও ঈসা আঃ কে আল্লাহর শরীক

বানানোর পাপে মুশ্রিক ও কাফের হয়ে যাবে।

এতো দিন যারা না জেনে ভুলে “লা ইলাহা

ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” একত্রে

বলেছে ও লিখেছে,

তারা তওবা করে এখন থেকে “লা ইলাহা

ইল্লাল্লাহ” কালেমা তাইয়েবা ও তাওহীদ পড়ে

ঈমান নবায়ন করবে।

ঘরে, মসজিদে, অফিসে, স্থাপনায় ও যেখানে

যেখানে “লা ইল্লাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর

রাসূলুল্লাহ” একত্রে লেখা আছে, তা মুছে ও

সরিয়ে ফেলবে। এখন থেকে পৃথক পৃথক কলেমা

তাইয়েবা ও কালেমা রিসালাত পড়বে, লিখবে ও

শিখাবে।

Nawzubillah,Nawzubillah,Nawzubillah

কালেমা দারা আল্লাহ রাসুল কিতাব ফেরেশতা

ও তকদির সবকিছুর উপর পর্নাংগ ইমান আনতে হবে

শুধু তাওহীদ এর ঘোষনা দিয়ে আল্লাহকে রব

মানলেন আর বাকি গুলোর প্রতি ইমান আনলেন না

এটার নাম ইসলাম নয়।

নিচে তাদের কিছু মিথ্যাচার প্রমানসহ দেখুন :-

এখানে দেখুন ওহাবী আহলে হাদিস দের কালেমা

তাইয়্যেবাহ নিয়ে সন্দেহ আর মিথ্যাচার :-

কালেমা তাইয়্যেবাহ এর step দেখুন :-

https://m.facebook.com/IslamForEveryLife/

posts/763006673744791

দাওয়া ব্লগ যাদের আকিদাহ peace tv group

আকিদাহ ওরফে নামধারী আহলে হাদিস যারা

স্পস্টভাবে কালেমা তাইয়েবাকে ভুল বলেছে :-

http://www.onbangladesh.org/blog/blogdetail/

detail/6778/maruf_rusafi/36999#.VBl0K7BuvFo

এই same post আবার copy peste মারসে আমার

friendlist এর এই আহলে হাদিস ভাই আগে ভাবতাম

reseacher এখন দেখি না বুঝেই copy peste মারে :-

https://m.facebook.com/notes/shakil-talukdar/

কালেমায়ে-তাইয়্যিবাহ-

কোনটি-/10200274802006742/?p=10&ref=bookmark

কালেমা তাইয়্যেবাহ এর step দেখুন:-

http://askislambd.weebly.com/gqa123.html

এখানে দেখুন ওহাবী জামাতিরা শুধু তাওহীদের

ঘোষনা দিয়েছে কিন্তু রিসালাতের কোন

ঘোষনা নেই।কেন??

http://www.jamiyat.org.bd/archives/3281

https://m.facebook.com/learn.jamat.shibir/

posts/207492005983401

আহলে হাদিসও শুধু তাওহিদ এর ঘোষনা দিচ্ছে

রিসালাতের ঘোষনা নেই কেন??

http://hadith.blog.com/2011/12/12/বর্তমানে-

অধিকাংশ-মুসলিম/

এখানে কালেমা নিয়ে সন্দেহতো আছে ই এমনকি

একমাত্র কুরআন ছাড়া সহীহ হাদিসকেও মানতে

সন্দিহান কারন হাদিস রাসুল(সা) এর ওফাতের

২০০-৩০০ বছর পর সংকলিত হয়েছে বলে তারা

ইসলামের মধ্যে আরেক টা মারাত্তক ফেরকা।

http://www.signofquran.com/upload/38.html

→→→→→→→→→→→→→→→

STEP 2 :-

হাদিসকে জাল বানানোর কত চেষ্টা ওইসব

জাহান্নামী দের আল্লাহ উপযুক্ত প্রতিদান

দিবেন । ওহাবী সালাফীরা প্রচার

করছে এটি নাকি জাল হাদিস। কারন

১টাই এখানে নবীর শান লেখা আছে তাই তাদের গা জ্বলে।

আসুন এটা যাচাই করি :-

ওহাবীদের ভাষ্য :- একটি বহুল প্রচলিত জাল

হাদীসঃ

“আদম(আঃ) যখন গুনাহ করে ফেললেন, তিনি

বললেনঃ হে আমার প্রভু! তোমার নিকট

মুহাম্মাদকে সত্য জেনে প্রার্থনা করছি। আমাকে

ক্ষমা করে দাও। আল্লাহ্ বললেনঃ হে আদম! তুমি

কিভাবে মুহাম্মাদকে চিনলে, অথচ আমি তাঁকে

সৃষ্টি করিনি? আদম বললেনঃ হে আমার প্রভু!

আপনি আমাকে যখন আপনার হাত দ্বারা সৃষ্টি

করেছিলেন এবং আমার মধ্যে আপনার আত্মা

থেকে আত্মার প্রবেশ ঘটান, তখন আমি আমার

মাথা উচু করেছিলাম। অতঃপর আমি আরশের

স্তম্ভগুলোতে লেখা দেখেছিলাম “লা ইলাহা

ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ”। আমি

জেনেছি যে, আপনার কাছে সর্বাপেক্ষা

ভালবাসার সৃষ্টি ব্যতিত অন্য কাউকে আপনি

আপনার নামের সাথে সম্পৃক্ত করবেন না। সত্যই

বলেছ হে আদম! নিশ্চয়ই তিনি আমার নিকট

সর্বাপেক্ষা ভালবাসার সৃষ্টি। তুমি তাঁকে হক

জানার দ্বারা আমাকে ডাক। আমি তোমাকে

ক্ষমা করে দিবো। মুহাম্মাদ যদি না হত আমি

তোমাকে সৃষ্টি করতাম না।”

এটি লোকমুখে হাদীসে কুদসি হিসাবে যথেষ্ট

প্রসিদ্ধ। অথচ হাদীস বিশেষজ্ঞরা এ ব্যপারে

একমত যে, এটি ভিত্তিহিন রেওয়ায়েত,

মিথ্যুকদের বানানো কথা। রাসুল(সাঃ) এর

হাদীসের সাথে এর সামান্যতম সম্পর্কও নেই।

Lets See :-

★★আরশের খুটিতে লেখা আছে- লা ইলাহা

ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ

[ ﷺ]

হাদিসটি পড়ুন, প্লিজ,,↓

★হাদীস নং- 1

ﺭﻭﻯ ﺳﻴﺪﻧﺎ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ

ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺁﻟﻪ ﻭﺳﻠﻢ ‏( ﻟﻤﺎ ﺍﻗﺘﺮﻑ ﺁﺩﻡ ﺍﻟﺨﻄﻴﺌﺔ ﻗﺎﻝ :

ﻳﺎ ﺭﺏ ﺃﺳﺄﻟﻚ ﺑﺤﻖ ﻣﺤﻤﺪ ﺇﻻ ﻏﻔﺮﺕ ﻟﻲ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻳﺎ ﺁﺩﻡ

ﻛﻴﻒ ﻋﺮﻓﺖ ﻣﺤﻤﺪﺍ ﻭﻟﻢ ﺃﺧﻠﻘﻪ؟ ﻗﺎﻝ : ﻳﺎ ﺭﺏ ﺇﻧﻚ ﻟﻤﺎ ﺧﻠﻘﺘﻨﻲ

ﺭﻓﻌﺖ ﺭﺃﺳﻲ ﻓﺮﺃﻳﺖ ﻋﻠﻲ ﻗﻮﺍﺋﻢ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﻣﻜﺘﻮﺑﺎ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ

ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻌﻠﻤﺖ ﺃﻧﻚ ﻟﻢ ﺗﻀﻒ ﺇﻟﻰ ﺍﺳﻤﻚ ﺇﻻ ﺃﺣﺐ

ﺍﻟﺨﻠﻖ ﺇﻟﻴﻚ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺻﺪﻗﺖ ﻳﺎ ﺁﺩﻡ ﺇﻧﻪ ﻷﺣﺐ ﺍﻟﺨﻠﻖ

ﺇﻟﻰ ﻭﺇﺫ ﺳﺄﻟﺘﻨﻲ ﺑﺤﻘﻪ ﻓﻘﺪ ﻏﻔﺮﺕ ﻟﻚ ﻭﻟﻮ ﻻ ﻣﺤﻤﺪ ﻣﺎ ﺧﻠﻘﺘﻚ

অনুবাদঃ

হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু

থেকে বর্ণিত, রাসুল [সা ﷺ] বলেছেন,

যখন আদম আলাইহিস সালামের নিকট তাঁর

নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণের বিষয়টি ধরা পড়ল,

তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ, আমি মুহাম্মাদের

[ ﷺসা] ওয়াসীলা নিয়ে তোমার

দরবারে ফরিয়াদ করছি, আমাকে ক্ষমা করে দাও।

অতঃপর আল্লাহ বললেন, হে আদম, তুমি

মুহাম্মাদকে কীভাবে চিনলে, এখনো যাকে সৃষ্টি

করি নাই?

তিনি বললেন, হে আল্লাহ, তুমি যখন আমাকে সৃষ্টি

করেছিলে, আমি তখন আমার মাথা উঠিয়েছিলাম।

তখন দেখতে পেয়েছিলাম, আরশের খুটিগুলোর উপর

লেখা, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর

রাসুলুল্লাহ। তখন আমি বুঝতে পেরেছিলাম, সমগ্র

সৃষ্টির মধ্য সবচেয়ে প্রিয় না হলে তুমি তাঁর নাম

তোমার নামের সাথে মিলাতে না।

অতঃপর আল্লাহ বললেন, হে আদম তুমি ঠিকই

বলেছ। নিশ্চয়ই সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সে আমার

সবচেয়ে প্রিয়, আর যেহেতু তুমি তাঁর ওয়াসীলা

নিয়ে আমার নিকট দোয়া করেছ, তাই তোমাকে

ক্ষমা করে দিলাম। আর(জেনে রাখ) মুহাম্মাদকে

সৃষ্টি না করলে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না।

রেফারেন্সঃ

১-আল্লামা কাসতাল্লানী রহঃ {আল মাওয়াহেবুল

লাদুনিয়্যাহ-২/৫২৫}

২-ইমাম বায়হাকী রহঃ {দালায়েলুন নাবায়িয়্যাহ}

৩-ইমাম হাকেম রহঃ {মুসতাদরাকে হাকেম}

৪-আল্লামা সুবকী রহঃ {শেফাউস সিকাম}

আরো বর্নিত আছে:-

৫-আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৫০২,

৬-আল মুজামুস সগীর লিত তাবরানী, হাদীস

নং-৯৯২,

৭-আবু নুআইম রহ:

৮-আদ দুরার কিতাবে ইবনে আসাকীর রহঃ,

৯-মাযমাউজ যাওয়ায়েদ কিতাবে।

১০-ফাযায়েলে আমাল, ৪৯৭

যে সকল মুহাদ্দিসীন এ হাদীসটিকে সহীহ

বলেছেনঃ

১-★★ ইমাম হাকিম বলেছেন হাদিসটি সহীহ।

আল মুস্তাদরাক-২/৬১৫

২- ইমাম তকি উদ্দীন সুবকী বলেন, হাদিসটি

হাসান।

শিফাউস সিকাম, পেইজ-১২০

৩- ইমাম তকী উদ্দীন দামেশকী বলেন, হাদীসটি

বিশুদ্ধ।

দাফউ শুবহাহঃ ১/৭২

৪-★★ ইমাম কুস্তালানী (রহ) বলেন, হাদিসটি

বিশুদ্ধ।

মাওয়াহিবুল লাদুনিয়াহঃ১/১৬

৫- ইমাম সামহুদী বলেন, হাদিসটি সহীহ।

ওয়াফাউল ওয়াফাঃ২/৪১৯

৬- ★★ ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী বলেন, বিভিন্ন

সনদে বর্ণিত এ হাদিসটি বিশুদ্ধ।

আল খাসাইসঃ১/৮

৭- ইবনু তাইমিয়্যাহ এ হাদীসটি দলীল হিসাবে

তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন।

মাজমাউল ফাতাওয়াঃ২/১৫৯

সুতরাং প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণের এসব মন্তব্যের পর

আর কোন সন্দেহ থাকল না, নিঃসন্দেহে বলা যায়

হাদিসটি সহীহ।

★ হাদীস নং- 2

আর এই পবিত্র কালিমা শরীফ সহীহ সনদে হাদীস

শরীফে বর্নিত আছে। আসুন আমরা সনদ সহ হাদীস

শরীফখানা লক্ষ্য করি-

ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻋﻠﻲ ﺑﻦ ﺣﻤﺸﺎﺩ ﺍﻟﻌﺪﻝ ﺍﻣﻼﺀ ﻫﺮﻭﻥ ﺑﻦ ﺍﻟﻌﺒﺎﺱ ﺍﻟﻬﺎﺷﻤﻲ

ﺛﻨﺎ ﺟﻨﺪﻝ ﺑﻦ ﻭﺍﻟﻖ ﺛﻨﺎ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦ ﺃﻭﺱ ﺍﻻﻧﺼﺎﺭﻱ

ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺍﺑﻲ ﻋﺮﻭﺑﺔ ﻋﻦ ﻗﺘﺎﺩﺓ ﻋﻦ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺍﻟﻤﺴﻴﺐ

ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﺍﻭﺣﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻲ ﻋﻴﺴﻲ

ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻳﺎ ﻋﻴﺴﻲ ﺍﻣﻦ ﺑﻤﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ

ﻭﺍﻣﺮ ﻣﻦ ﺍﺩﺭﻛﻪ ﻣﻦ ﺍﻣﺘﻚ ﺍﻥ ﻳﺆﻣﻨﻮﺍ ﺑﻪ ﻓﻠﻮ ﻻ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ

ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻣﺎ ﺧﻠﻘﺖ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﻟﻮﻻ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ

ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻣﺎ ﺧﻠﻘﺖ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻭ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﻭﻟﻘﺪ ﺧﻠﻘﺖ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﻋﻠﻲ

ﺍﻟﻤﺎﺀ ﻓﻀﻄﺮﺏ ﻓﻜﺘﺒﺖ ﻋﻠﻴﻪ ” ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ

ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﺴﻜﻦ . ﻫﺬﺍ ﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻻﺳﻨﺎﺩ

অর্থ: হযরত ইমাম হাকিম নিসাবুরী রহমাতুল্লাহি

আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীস

শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত আলী বিন হামশাদ

আদল ইমলা রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন,

আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন

হারূন বিন আব্বাস হাশেমী রহমাতুল্লাহি

আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীস

শরীফ বর্ননা করেছেন জানদাল বিল ওয়াকিল

রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন আমাদের

কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত আমর

বিন আউস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু।

সনদ পরিবর্তন/ দ্বিতীয় সনদ :

হযরত ইমাম হাকিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন :-

★হযরত সাঈদ বিন আবু উরূবাহ রহমাতুল্লাহি

আলাইহি ,

★তিনি হযরত ক্বাতাদাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি

থেকে।

★ তিনি সাঈদ বিন মুসাঈয়িব রহমাতুল্লাহি

আলাইহি থেকে,

★তিনি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস

রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে।

তিনি বলেন-

” মহান আল্লাহ পাক তার রসূল হযরত ঈসা

আলাইহিস সালাম কে ওহী করলেন। হে হযরত ঈসা

আলাইহিস সালাম ! আপনি মুহাম্মাদ

[সা ﷺ] এর প্রতি ঈমান আনুন এবং

আপনার উম্মতের মধ্যে উনাকে যারা পেতে চায়

তাঁদের নির্দেশ করুন, তাঁরা যেন উনার প্রতি

ঈমান আনে। যদি মুহাম্মদ [সা ﷺ] না

হতেন তবে আদম আলাইহিস সালাম কে সৃষ্টি

করতাম না, যদি মুহাম্মদ [সা ﷺ] সৃষ্টি

না হতেন তবে জান্নাত এবং জাহান্নাম সৃষ্টি

করতাম না। আর যখন আমি পানির উপর আরশ সৃষ্টি

করলাম তখন তা টলমল করছিলো, যখনই আরশের

মধ্যে

ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ‏[ﷺ ]

লিখে দেই তৎক্ষণাৎ আরশ স্থির হয়ে যায়।”

এই হাদীস শরীফের সনদ সহীহ।”

দলীল-

★আল মুসতাদরাক আলাছ ছহীহাঈন লিল হাকীম

নিসাবূরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, – ★কিতাবু

তাওয়ারীখিল মুতাক্বাদ্দিমীন- যিকরু আখবারী

সাইয়্যিদুল মুরসালীন ওয়া খাতামুন নাব্যিয়িন

মুহম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব

মুছতাফা ছলাওয়াতুল্লাহি আলাইহি ওয়া

আলিহীত ত্বহীরিন ৪র্থ খন্ড ১৫৮৩ পৃষ্ঠা।

★মুখতাছারুল মুসতাদরাক ২য় খন্ড ১০৬৭ পৃষ্ঠা

★• হাদীস নং-3

বিখ্যাত ইমাম হাফিজে হাদীস আল্লামা

জালালুদ্দীন সূয়ুতি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর

কিতাবে উল্লেখ করেন-

ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ

ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻣﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺷﺠﺮﺓ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﻭﺭﻗﺔ ﺍﻻ ﻣﻜﺘﻮﺏ ﻋﻠﻴﻬﺎ

ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ

অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু

থেকে বর্নিত, তিনি বলেন- হুজুর পাক

[ ﷺ] ইরশাদ মুবারক করেন, জান্নাতের

এমন কোন গাছ নেই যার পাতার মধ্যে

ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ‏[ﷺ ]

এ বরকতময় কালিমা শরীফ লিখিত নেই। ”

দলীল-

★খাছায়েছুল কুবরা ১ম খন্ড ১৩ পৃষ্ঠা।

★আল হিলইয়া লি আবু নুয়াইম রহমাতুল্লাহি

আলাইহি।

★ হাদীস নং- 4

হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতি রহমাতুল্লাহি

আলাইহি আরো বর্ননা করেন,-

ﻋﻦ ﺣﻀﺮﺕ ﺟﺎﺑﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ

ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻣﻜﺘﻮﺏ ﻋﻠﻲ ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ

ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ

অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ননা

করেন, হুজুর পাক [ ﷺসা] ইরশাদ

মুবারক করেন, জান্নাতের দরজা মুবারকে লিখা

রয়েছে-

ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ‏[ﷺ ]

দলীল-

★খাছায়িছুল কুবরা ১ম খন্ড

★ হাদীস নং- 5

কিতাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বর্ননা রয়েছে-

ﻋﻦ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺑﻲ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﻋﻠﻲ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻬﺎﺷﻤﻲ ﺍﻟﺮﻗﻲ

ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻗﺎﻝ : ﺩﺧﻠﺖ ﺑﻼﺩ ﺍﻟﻬﻨﺪ، ﻓﺮﺍﻳﺖ ﻓﻲ ﺑﻌﺾ

ﻗﺮﺃﻫﺎ ﺷﺠﺮﺓ ﻭﺭﺩ ﺍﺳﻮﺩ ﻳﻨﻔﺘﺢ ﻋﻦ ﻭﺭﺩﺓ ﻛﺒﻴﺮﺓ ﻃﻴﺒﺔ ﺍﻟﺮﺍﺀﺣﺔ

ﺳﻮﺩﺍﺀ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﻣﻜﺘﻮﺏ ﺑﺨﻂ ﺍﺑﻴﺾ ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ

ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺍﺑﻮ ﺑﻜﺮﻥ ﺍﻟﺼﺪﻳﻖ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻋﻤﺮ

ﺍﻟﻔﺎﺭﻭﻕ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻓﺸﻜﻜﺖ ﻓﻲ ﺫﺍﻙ ﻭﻗﻠﺖ ﺍﻧﻪ ﻣﻌﻤﻮﻝ

ﻓﻌﻤﺪﺕ ﺍﻟﻲ ﺣﺒﺔ ﻟﻢ ﺗﻔﺘﺢ ﻓﻔﺘﺤﺘﻬﺎ ﻓﺮﺍﻳﺖ ﻓﻴﻬﺎ ﻛﻤﺎ ﺭﺍﻳﺖ ﻓﻲ

ﺳﺎﺀﺭ ﺍﻟﻮﺭﺩ ﻓﻲ ﺍﻟﺒﻠﺪ ﻣﻨﻪ ﺷﻲﺀ ﻛﺜﻴﺮ

অর্থ: হযরত ইবনে আসাকির রহমাতুল্লাহি

আলাইহি এবং হযরত ইবনে নাজ্জার রহমাতুল্লাহি

আলাইহি দু’জন স্বীয় ইতিহাসগ্রন্থে হযরত আবুল

হাসান আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আল হাশীমি

আররক্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা

করেন, তিনি বলেন, আমি ভারতবর্ষের কোন এক

এলাকায় পৌঁছে একটি কালো রঙ্গের গোলাপ

গাছ দেখলাম। এর অকটি ফুল অনেক বড়, যার রঙ

কালো, সুগন্ধিনয় এবং অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর ছিলো।

ঐ ফুলটির গায়ে সাদা হরফে লিখা ছিলো-

ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺍﺑﻮ ﺑﻜﺮﺓ

ﺻﺪﻳﻖ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻏﻨﻪ ﻋﻤﺮ ﺍﻟﻔﺎﺭﻭﻕ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ

আমি মনে মনে চিন্তা করলাম এবং আমার

বিশ্বাস হলো নিশ্চয়ই এটা কারো কাজ হবে। তাই

আমি অন্য একটি বন্ধ কলি খুলে দেখলাম।

আশ্চর্যের বিষয় তাতেও এরূপ লিখা ছিলো।

এধরনের গোলাপ গাছ সেখানে প্রচুর পরিমান

ছিলো। ” সুবহানাল্লাহ্ !!

দলীল-

★ইবনে আসাকির

★ইবনে নাজ্জার।

উপরোক্ত নির্ভরযোগ্য দলীল থেকে প্রমানিত

হলো কালিমা শরীফ হচ্ছে ” লা’ইলাহা

ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলাল্লাহ

[সা ﷺ]

অথচ সালাফী ওহাবীপন্থী মুরতাদরা বলছে

এধরনের কোন কালিমা শরীফ নাকি ইসলামে

নাই। নাউযুবিল্লাহ !!

শুধু তাই নয় জামাতের মুরতাদ তারেখ মনোয়ার

বলেছে কালিমা শরীফে ” লা’ইলাহা ইল্লাল্লাহু

” এই বাক্যের পাশাপাশি “মুহম্মদুর রসূলাল্লাহ

[সা ﷺ] লিখা শিরক। নাউযুবিল্লাহ !!

♦শাহ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ)

বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ এর হাদীস আল্লাহ

তাআলার বাণীরই ব্যাখ্যা হয়ে থাকে। আমরা

কুরআনের ব্যাখ্যা সর্ব প্রথম রাসূল সাঃ এর

হাদীস দ্বারাই গ্রহণ করে থাকি।

কুরআনে কারীমে একথা রয়েছে যে, হযরত আদম

আঃ কে কিছু কালিমা আল্লাহ তাআলা শিক্ষা

দিয়েছেন, যা পড়ার দরূন তার তওবা কবুল হয়েছে।

আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হযরত আদম আঃ কে

তওবার ওসীলা কালিমা শিক্ষা দেয়াটা ছিল

একটি নেয়ামত। আর নেয়ামত সাধারণত কোন নেক

আমলের কারণে পাওয়া যায়। হযরত আদম আঃ এর

পাওয়া তওবার অসীলা সেসব কালিমা শিখতে

পাওয়ার নেয়ামত কোন নেক আমলের কারণে

পেয়েছিলেন? তা কুরআনে বর্ণিত নেই।

হাদীসের মাঝে সেই নেক আমলের কথাটি বর্ণনা

করা হয়েছে। সেই নেক আমলটি হল, হযরত আদম আঃ

রাসূল সাঃ এর ওসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ

করেছিলেন। সুতরাং এ হাদীসটি কুরআনে

কারীমের বিপরীত অর্থবোধক রইল কিভাবে?

রেফারেন্স :-

★ শাহ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দেসে দেহলবী রহঃ

প্রণীত তাফসীরে ফাতহুল আজীজ-১/১৮৩।

এ হাদীসের মূল বক্তব্যের উপর আরো দু’টি হাদীস

রয়েছে। যথা-

ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺷﻘﻴﻖ ؛ ﺃﻥ ﺭﺟﻼ ﺳﺄﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ

ﻭﺳﻠﻢ : ﻣﺘﻰ ﻛﻨﺖ ﻧﺒﻴﺎ ؟ ﻗﺎﻝ : ﻛﻨﺖ ﻧﺒﻴﺎ ﻭﺁﺩﻡ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺮﻭﺡ

ﻭﺍﻟﺠﺴﺪ ‏(ﻣﺼﻨﻒ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻰ ﺷﻴﺒﺔ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻤﻐﺎﺯﻯ، ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﻓﻲ

ﻣﺒﻌﺚ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ -৩৭৭০৮)

অনুবাদ-আব্দুল্লাহ বিন শাকিক থেকে বর্ণিত।

রাসূল সাঃ কে এক লোক প্রশ্ন করল-আপনি কখন

থেকে নবী? তিনি বললেন-আমি তখন থেকেই নবী

যখন আদম আঃ রুহ ও শরীরের মাঝামাঝি ছিলেন।

Reference :-

★মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস

নং-৩৭৭০৮,

★মাশকিলুল আসার লিত তাহাবী, হাদীস

নং-৫২২২,

★কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল

★আফআল, হাদীস নং-৩১৯১৭,

★জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-১৫৮৩৫

ﻋﻦ ﺍﻟﻌﺮﺑﺎﺽ ﺑﻦ ﺳﺎﺭﻳﺔ ﺍﻟﻔﺰﺍﺭﻱ ﻗﺎﻝ : ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ

ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ : ‏( ﺇﻧﻲ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻜﺘﻮﺏ ﺑﺨﺎﺗﻢ ﺍﻟﻨﺒﻴﻴﻦ

ﻭﺇﻥ ﺁﺩﻡ ﻟﻤﻨﺠﺪﻝ ﻓﻲ ﻃﻴﻨﺘﻪ ‏( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﺑﻦ ﺣﺒﺎﻥ، ﻛﺘﺎﺏ

ﺍﻟﺘﺎﺭﻳﺦ، ﺑﺎﺏ ﻣﻦ ﺻﻔﺘﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻭﺃﺧﺒﺎﺭﻩ، ﺭﻗﻢ

ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ -৬৪০৪)

অনুবাদ-হযরত ইরবায বিন সারিয়্যা রাঃ থেকে

বর্ণিত। তিনি বলেন-আমি রাসূল সাঃ কে বলতে

শুনেছি যে, তিনি বলেছেন-নিশ্চয় আমি আল্লাহ

তাআলার কাছে সর্বশেষ নবী হিসেবে লিপিবদ্ধ

ছিলাম তখন, যখন আদম আঃ মাটিতে মিশ্রিত

ছিলেন।

Reference :-

★সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৬৪০৪,

★মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭১৬৩,

★মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৪১৯৯,

★মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-১৪৫৫,

★শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩২২২,

★মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদীস নং-৫৭৫৯,

★আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৬৩১

সুতরাং এ বর্ণনাটিকে জাল বলাটা বাড়াবাড়ি

আর কিছু নয়।

→→→→→→→→→→→→→→→

STEP 3 :-

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” এর

ব্যাপারে সহীহ সনদে অনেক হাদীস হাদীসের

কিতাব সমূহে সহীহ সনদে বিদ্যমান আছে। আমি

ভিন্ন করে নোট আকারে লিখবো ইনশাআল্লাহ্।

আপাততো দুইটি হাদীস পেশ করছি।

পুরো lecture এর মুলনীতি :-

রিসালাতের ঘোষনা :- এ নিয়ে অনেক হাদিস

আছে।

যেখান থেকে আমি [মাসুম বিল্লাহ সানি

(আল্লাহর কসম! আমি যেহেতু খুজে বের করেছি

আমিই নিজেই ১০০% এইসব Reference এর সত্যতার

স্বীকৃতি দিচ্ছি ) এমন কিছু হাদিসের reference

দিচ্ছি যেগুলোতে স্পস্টভাবে বিভিন্নভাবে একি

সাথে তাওহীদ ও রিসালাতের ঘোষনা অর্থাত

মুলত এইসব হাদিসে কালেমা তাইয়্যেবাহ ও

কালেমা শাহাদাত এর সাক্ষ্য দেয়া হয়েছে ঠিক

এই ভাবে:-

(প্রথম) :-

“”””” আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই এবং মুহাম্মদ

(সাঃ) আল্লাহর রাসুল এ কথার সাক্ষ্য দান।

(দ্বিতীয়) :-

মুহাম্মদ(সা) বলেছেন যে, “আল্লাহ ছাড়া কোন

মাবুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল।

(তৃতীয়) :-

সাহাবিগন বলেছেন,”আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ

নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসুল।””””

(চতুর্থ) :-

কালেমা শাহাদাত এ রিসালাতের এর সাক্ষ্য:-

আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ

নাই, তাঁর কোন শারীক নাই, তিনি একক এবং

আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা

ও রসূল।

সবগুলোর একই উদ্দেশ্য যে, ”

১) “””আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই”” এই কথা

দারা তাওহিদের ঘোষনা দেয়া সাথে সাথে

২) “””মুহাম্মদ(সা) আল্লাহর রাসুল””” এই বলে

রিসালাতের সাক্ষ্য প্রমান করা।

একসাথে এতগুলো হাদিস আমি post করতে পারছি

না আর আপনাদের পড়ারও আগ্রহ থাকবে না তাই

শুধু অধ্যায় সহ reference দিচ্ছি কেউ চাইলে check

করতে পারেন।আমি একটা একটা করে সব হাদিস

check করে দিয়েছি।

Name: Sahih Bukhari (সহীহ বুখারি)

publication: Islamic foundation Bangladesh

অধ্যায়:হাদিস নং

ইমান: ৭,২৪,৫১,

ইলম: ৮৭,১৩০,

সালাত: ৪৪৮

সালাতের ওয়াক্তসমুহ: ৪৯৮

আযান: ৭৯৬(শ)

তাহাজ্জুত: ১১২৯(শ)

জানাযা: ১২৪৭(শ),১২৮৫,১২৯১(শ)

যাকাত: ১৩১৩,১৪০৯

হজ্জ: ১৭৬০

ক্রয় বিক্রয়: ২০২৩

অংশিদারিত্ত: ২৩২২

জিহাদ: ২৬৯৮,২৭৭৪,২৮৪০,২৮৪৬(শ)

আম্বিয়া কেরাম(আ) : ৩১৯৩(শ),৩০৯৪,৩২৬৮(শ),৩৬৫৪,

যুদ্ধাভিযান: ৩৮৮৮,৩৮৯২,৪০০৯,৪০৩৩

তফসির : ৪১২৮,৪৫৪০

আহার: ৫০৪৯

রক্তপন: ৬৪১২

খবরে ওয়াহিদ: ৬৭৭০

Note: যেসব হাদিসের পাষে “”(শ)”” লিখলাম

সেগুলোতে কালেমা শাহাদাত এর সাক্ষ্য

রয়েছে।

Name: Sahih Muslim(সহীহ মুসলিম)

publication: Islamic foundation bangladesh

অধ্যায়: হাদিস নং

ইমান:

১,২১,২৩,২৪,৩৬,৪৫,৪৬,৪৭(শ),৪৯,৫৫,৫৬,২০৬(শ),২০৭,২২১

তাহারাত বা পবিত্রতা: ৪৪৪(শ),৪৪৫(শ),

সালাত: ৭২৬,৭৩৫,৭৮০(All=শ)

জুমুয়া: ১৮৮১(শ)

কসম: ৪২২৮,৪২৩০

জিহাদ: ৪৪৩৭,৪৭৬১(All= শ)

সাহাবীগনের ফজিলত: ৬০০৪,৬১৩৮,৬১৭১(শ)

জান্নাত ও জান্নাতের নিয়ামত ও

জান্নাতবাসীদের বিবরন: ৬৯৫২(শ)

ফিতনা সমুহ ও কিয়ামতের নিদর্শন: ৭০৮২,৭০৯০

Note: যেসব হাদিসের পাষে “”(শ)”” লিখলাম

সেগুলোতে কালেমা শাহাদাত এর সাক্ষ্য

রয়েছে।

Name: Sonanu Nasai (সুনানু নাসাই)

Publication : Islamic foundation Bangladesh

অধ্যায়: হাদিস নং

পবিত্রতা: ১৪৮,১৮৯,

আযান: ৬৭৯

সুর্য ও চন্দ্র গ্রহন: ১৪৮৭(কালেমা তাইয়েবা)

জানাযা: ২০৫৪,২০৫৫,২১১৬,২১১৭

All=কালেমা শাহাদাত সম্পর্কিত হাদিস।

Note: যেসব হাদিসের পাষে “”(শ)”” লিখলাম

সেগুলোতে কালেমা শাহাদাত এর সাক্ষ্য

রয়েছে।

Name: Ibne Majah(ইবনে মাজাহ)

Publication : Islamic foundation Bangladesh

অধ্যায়:

রাসুল(সা) এর সুন্নতের অনুসরন: ৬৩,৭১,৭২,৮৭

পবিত্রতা ও এর সুন্নতসমুহ : ৪১৯,৪৬৯(শ)

আযান ও এর সুন্নত: ৭০৬,৭০৮,৭০৯,৭২১(শ),৮৯৯(শ)

সালাত কায়েম ও এর নিয়মকানুন: ৯০০,৯০১(শ)

Note: যেসব হাদিসের পাষে “”(শ)”” লিখলাম

সেগুলোতে কালেমা শাহাদাত এর সাক্ষ্য

রয়েছে।

Name:Musnade Ahmmad (মুসনাদে আহমদ):

হাদিস নং: ২১(শ),২২,২৩,৩৫

Name: Sahih Tirmizi(সহিহ তিরমিযি)

অধ্যায় : হাদিস নং

পবিত্রতা: ৫৫(শ)

সালাত: ২৮৯(শ), ২৯০

যাকাত: ৬২৩

রোজা: ৬৮৮

দাফন কাফন: ১০৭১(শ)

বিবাহ: ১১০৫(শ)

রক্তপন: ১৪০৬

Note: যেসব হাদিসের পাষে “”(শ)”” লিখলাম

সেগুলোতে কালেমা শাহাদাত এর সাক্ষ্য

রয়েছে।

Name: Riyadussalehin (রিয়াদুস সালেহীন)

হাদিস সংকলক: ইমাম নববী(রহ:)

Publication: তাওহীদ

হাদিস নং:

১/৬১,

৫/৭৯,

৮/৯৫,

৬/২১৩

→→→→→→→→→→→→→→→

STEP 4 :-

এ সম্পর্কে কিছু হাদিস তারপরও বর্ননা করা খুব

দরকার বোধ করছি :

রিসালাত এর ঘোষনা দিয়ে ইমান আনা :-

1) “যেকোনো লোক মন থেকে সত্য জেনে এ-

সাক্ষ্য দিবে যে,

আল্লাহ ব্যতীত হক কোন মা’বুদ নেই আর মুহাম্মাদ

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা

রাসূল, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম

করেছেন।“

[বুখারি, হাদিস নং ১২৮; মুসলিম : (১/৬১)]

রিসালাতের ঘোষনা আছে আযানে ও সালাতে :-

2) আযান ও ইকামতের সময় বলা হয়ঃ

“আশহাদু আল্লা ই-লাহা ইল্লাল্লাহ”।

“আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ”।

” লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ”।

***মুত্বাফাক্ব আলাইহ; আবু দাউদঃ ৫০০-০১, ৫০৪;

আওনুল মা’বুদ, আবু মাহযুরাহ হ’তে, হা/৪৯৬;

মিশকাতঃ ৬৪১,৬৪৫, ইবনু রাসনাল, আমীরুল

ইয়ামানী ও শায়খ আলবানীঃ সুবুলুস সালামঃ ১৬৭;

১/২৫০; তামামুল মিননাহ ১৪৭ পৃঃ; লাজনা

দায়েমাহ- ফতওয়া নম্বরঃ ১৩৯৬।

3) “সালাতের বৈঠকে”

আমরা সালাতের বৈঠকের সময় তাশাহহুদের/

আত্বাহিয়াতুর মধ্যে পড়িঃ

“আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু

আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু”।

***মুত্বাফাক আলাইহ; মিশকাতঃ ৯০৯- সালাত

অধ্যায়।

4) মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) আয়িশা (রাঃ)

থেকে বর্ণনা করেন যে,

এরপর আলী ইবনু আবূ তালেব (রাঃ) তাশাহুদ

তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য বানী পাঠ

করলেন, তারপর বললেনঃ, হে আবূ বাকর! আপনার

মর্যাদা এবং আল্লাহ তা’আলা আপনাকে যে

সম্মান প্রদান করেছেন, তা আমরা জানি। আর

আল্লাহ তা আলা আপনাকে যে নিয়ামত প্রদান

করেছেন, তাতে আমার কোন ঈর্ষা নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ ৩২/ জিহাদ ও এর নীতিমালা | হাদিস

নাম্বার: 4428

5) তাওহীদ ও রিসালাতের উপর যথাযতভাবে

ইমান আনয়নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে :-

উমার ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

বলেছেন: যে কোন মুসলিম ব্যাক্তি উত্তমরূপে উযূ

(ওজু/অজু/অযু) করার পর বলে (কালিমা শাহাদাত):

আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ

নাই, তাঁর কোন শারীক নাই, তিনি একক এবং

আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা

ও রসূল, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে

দেয়া হবে। সে যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা তাতে

প্রবেশ করবে।

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায়ঃ ২/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ | হাদিস

নাম্বার: 470

তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: তিরমিযী ৫৫, নাসায়ী

১৪৮, আহমাদ ১৬৯৪২।

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

6) আবূ খায়সামা যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ইয়াহইয়া

ইবনু ইয়া’মার (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন ”

জিবরীল রসূলুল্লাহকে (সঃ) জিজ্ঞেস ইসলাম

সম্পর্কে।

ﻭَﻗَﺎﻝَ : ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺃَﺧْﺒِﺮْﻧِﻲ ﻋَﻦْ ﺍﻟْﺈِﺳْﻠَﺎﻡِ .

ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺍﻟْﺈِﺳْﻠَﺎﻡُ ﺃَﻥْ ﺗَﺸْﻬَﺪَ ﺃَﻥْ ﻟَﺎ

ﺇﻟَﻪَ ﺇﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﻭَﺗُﻘِﻴﻢَ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ، ﻭَﺗُﺆْﺗِﻲَ

ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓَ، ﻭَﺗَﺼُﻮﻡَ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ، ﻭَﺗَﺤُﺞَّ ﺍﻟْﺒَﻴْﺖَ ﺇﻥْ ﺍﺳْﺘَﻄَﻌْﺖ ﺇﻟَﻴْﻪِ ﺳَﺒِﻴﻠًﺎ .

ﻗَﺎﻝَ : ﺻَﺪَﻗْﺖ

তিনি [জিবরীল] বললেন, “হে মুহাম্মদ, আপনি

আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন।”

রসূলুল্লাহ (সঃ) বললেন, “ইসলাম হচ্ছেঃ আপনি

সাক্ষ্য দিবেন যে “লা ইলাহা ইল্লা আল্লাহ”

এবং “মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ” [অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া

ইবাদত পাওয়ার যোগ্য আর কেউ নেই এবং মুহাম্মদ

আল্লাহর রসূল], তুমি সালাত কায়েম করবে,

যাকাত দান করবে, রমজানে রোজা রাখবে এবং

আল্লাহর ঘরের হজ্জ করবে যদি সে পর্যন্ত

যাওয়ার সক্ষমতা রাখ।”

এছাড়াও সূরা ফাতহ (৪৮ নং সূরা) এর ২৯ নং

আয়াত আল্লাহ শুরু করেছেন “মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ”

বলে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ ১/ কিতাবুল ঈমান | হাদিস নাম্বার: 1

7) তাওহীদ ও রিসালাতের ঘোষনা ইসলামের

৫টি ভিত্তির মধ্যে ১টির অন্তর্ভুক্ত :-

ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻋُﺒَﻴْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦُ ﻣُﻮﺳَﻰ، ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ ﺣَﻨْﻈَﻠَﺔُ ﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥَ،

ﻋَﻦْ ﻋِﻜْﺮِﻣَﺔَ ﺑْﻦِ ﺧَﺎﻟِﺪٍ، ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ـ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ـ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ

ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ” ﺑُﻨِﻲَ ﺍﻹِﺳْﻼَﻡُ ﻋَﻠَﻰ ﺧَﻤْﺲٍ

ﺷَﻬَﺎﺩَﺓِ ﺃَﻥْ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﻭَﺇِﻗَﺎﻡِ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ،

ﻭَﺇِﻳﺘَﺎﺀِ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓِ، ﻭَﺍﻟْﺤَﺞِّ، ﻭَﺻَﻮْﻡِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ “.

পরিচ্ছদঃ ২/ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর বানীঃ

ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি

৭। উবায়দুল্লাহ্ ইবনু মূসা (রাঃ) ইবনু উমর (রাঃ)

থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি।

১। আল্লাহ্ ছাড়া ইলাহ্ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ

আল্লাহ্র রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য দান।

২। সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করা

৩। যাকাত দেওয়া

৪। হাজ্জ (হজ্জ) করা এবং

৫। রামাদান এর সিয়াম পালন করা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)

অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান | হাদিস নাম্বার: 7

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

8) আবূ সালামা ইয়াহইয়া ইবনু খালাফ বাসরী

(রহঃ) আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে

বর্ণিত।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি কোন ইলাহ নেই আল্লাহ্

ছাড়া, আর মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | জামে তিরমিজী

অধ্যায়ঃ ১০/ কাফন-দাফন | হাদিস নাম্বার: 1071

9) মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) আবূ জামরা (রহঃ)

থেকে বর্ণিত,

রাসুল(সা) বললেনঃ তা হল এ সাক্ষ্য দেওয়া যে,

আল্লাহ্ ছাড়া ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর

রাসূল , সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করা,

যাকাত দেওয়া এবং রমযান এর সিয়াম পালন করা

আর তোমাদের গনীমাতের মাল থেকে এক-

পঞ্চমাংশ দান করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)

অধ্যায়ঃ ৩/ ইলম বা জ্ঞান | হাদিস নাম্বার: 87

10) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আনাস ইবনু

মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ”

যে কোন বান্দা আন্তরিকতার সাথে এ সাক্ষ্য

দেবে যে, ‘আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং

মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল ’ তার জন্য আল্লাহ

তা‘আলা জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)

অধ্যায়ঃ ৩/ ইলম বা জ্ঞান | হাদিস নাম্বার: 130

11) আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ)

থেকে বর্ণিত,

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন

ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল ”।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)

অধ্যায়ঃ ৮/ সালাত | হাদিস নাম্বার: 448

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

12-14) হাফস ইবনু উমর রহ বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ)

সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে

বর্ণিত, তিনি বলেন, মু’মিন ব্যাক্তিকে যখন তার

কবরে বসানো হয় তখন তার কাছে উপস্থিত করা

হবে ফিরিশতাগণকে। তারপর (ফিরিশতাগণের

জিজ্ঞাসার জওয়াবে) সে সাক্ষ্য প্রদান করে

যে == আল্লাহ ব্যতিত কোন ইলাহ নেই আর

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

আল্লাহর রাসূল। ঐ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করেছে

আল্লাহর কালাম- আল্লাহ পার্থিব জীবনে ও

আখিরাতে অবিচল রাখবেন সে সকল লোককে

যারা ঈমান এনেছে শ্বাশ্বত বাণীতে(কালেমা

তাইয়েবা)। (১৪:২৭)

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)

অধ্যায়ঃ ২০/ জানাযা | হাদিস নাম্বার: 1285

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)

অধ্যায়ঃ ২০/ জানাযা | হাদিস নাম্বার: 1291

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)

অধ্যায়ঃ ২১/ যাকাত | হাদিস নাম্বার: 1313

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

15-17) আবূ ‘আসীম যাহ্হাক ইবনু মাখলাক (রাঃ)…

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয (রাঃ)

কে (শাসকরূপে) ইয়ামান অভিমুখে প্রেরণকালে

বলেন, সেখানের অধিবাসীদেরকে আল্লাহ

ব্যতিত কোন ইলাহ নেই এবং আমি (মুহাম্মদ)

আল্লাহর রাসূল – এ কথার সাক্ষ্যদানের দাওয়াত

দিবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)

অধ্যায়ঃ ৯/ সালাতের ওয়াক্তসমূহ | হাদিস

নাম্বার: 498

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)

অধ্যায়ঃ ১০/ আযান | হাদিস নাম্বার: 796

ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি (ইফা)

অধ্যায়ঃ ১৯/ তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত |

হাদিস নাম্বার: 1129

18) আরো বর্নিত আছে :-

ﻋﻦ ﺍﻧﺲ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺩﺧﻠﺖ

ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻓﺮﺃﻳﺖ ﻓﻰ ﻋﺎﺭﺿﺘﻰ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻣﻜﺘﻮﺑﺎ ﺛﻼﺛﺔ ﺍﺳﻄﺮ ﺑﺎﻟﺬﻫﺐ

ﺍﻟﺴﻄﺮ ﺍﻻﻭﻝ ﻻﺇﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﺴﻄﺮ ﺍﻟﺜﺎﻧﻰ ﻣﺎ

ﻗﺪﻣﻨﺎ ﻭﺟﺪﻧﺎ ﻭﻣﺎ ﺃﻛﻠﻨﺎ ﺭﺑﺤﻨﺎ ﻭﻣﺎ ﺧﻠﻔﻨﺎ ﺧﺴﺮﻧﺎ ﻭﺍﻟﺴﻄﺮ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ

ﺍﻣﺔ ﻣﺬﻧﺒﺔ ﻭﺭﺏ ﻏﻔﻮﺭ- ‏(ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺮﺍﻓﻌﻰ ﻭﺍﺑﻦ ﺍﻟﻨﺠﺎﺭ ﻭﻫﻮ ﺣﺪﻳﺚ

ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ ﺍﻟﺼﻐﻴﺮ -১/৬৪৫

হযরত আনাস র. বর্ণনা করেন যে, রসুলুল্লাহ

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

আমি জান্নাতে প্রবেশ করে জান্নাতের উভয়

পার্শে ৩টি লাইন লিখা দেখলাম।

১ম লাইন :- ﻻﺇﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ অর্র্থাৎ

আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নাই মুহাম্মাদ (স.)

আল্লাহ তাআ’লার রসুল।

২য় লাইন :- যা আমরা আগে পাঠিয়েছি তার

প্রতিদান পেয়েছি, যা দুনিয়াতে পানাহার

করেছি তা দ্বার লাভবান হয়েছি, আর যা

দুনিয়াতে ছেড়ে এসেছি তাতে আমরা খতিগ্রস্ত

হয়েছি।

৩য় লাইন :- উম্মত গুনাহগার এবং রব ক্ষমাকারী।

(হাদিসটি সহীহ। রাফেঈ, ইবনে নাজ্জার, জামে

সগীর))

19) অপর হাদিসে আছে :-

ﺭﻭﻯ ﺍﻻﻣﺎﻡ ﻳﻮﻧﺲ ﺑﻦ ﺑﻜﻴﺮ ﻓﻰ ﺯﻳﺎﺩﺍﺕ ﺍﻟﻤﻐﺎﺯﻯ ﻋﻦ ﻳﻮﺳﻒ ﺑﻦ

ﺻﻬﻴﺐ ﻋﻦ ﻋﺒﺪﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺑﺮﻳﺪﺓ ﻋﻦ ﺍﺑﻴﻪ ﻗﺎﻝ ﺍﻧﻄﻠﻖ ﺍﺑﻮ ﺫﺭ ﻭﻧﻌﻴﻢ

ﺑﻦ ﻋﻢ ﺍﺑﻰ ﺫ ﺭ ﻭ ﺍﻧﺎ ﻣﻌﻬﻢ ﻳﻄﻠﺐ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ

ﻭﺳﻠﻢ ﻭﻫﻮ ﻣﺴﺘﺘﺮ ﺑﺎ ﻟﺠﺒﻞ ﻓﻘﺎﻝ ﻟﻪ ﺍﺑﻮ ﺫﺭ ﻳﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺍﺗﻴﻨﺎﻙ

ﻟﻨﺴﻤﻊ ﻣﺎ ﺗﻘﻮﻝ ﻗﺎﻝ ﺍﻗﻮﻝ ﻻﺍﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﺂﻣﻦ

ﺑﻪ ﺍﺑﻮﺫﺭﻭﺻﺎﺣﺒﻪ – ﺍﻻﺻﺎﺑﺔ -৬/৪৬৩ ﺍﺳﻨﺎﺩﻩ ﺻﺤﻴﺺ ﻭﺭﺟﺎﻟﻪ

ﺛﻘﺎﺕ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা তার পিতা হতে

বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আবু যর এবং তার

চাচাত ভাই নুআইম নবী করিম স. কে তালাশ

করছিলেন আর আমি তাদের সাথে ছিলাম। নবী

করিম (স.) কে তখন পাহাড়ে লুকিয়েছিলেন। হযরত

আবু যর তখন আওয়াজ দিয়ে বললেন ‘হে মুহাম্মাদ

(স.) আমরা আপনার কথা শোনার জন্য আপনার

নিকট এসেছি। তখন নবী করিম (স.) ইরশাদ করলেন,

আমি তোমাদেরকে বলছি ﻻﺍﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ

অর্র্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নাই

মুহাম্মাদ (স.) আল্লাহ তাআ’লার রসুল। অতঃপর আবু

যর এবং তার সাথি এ কথার উপর ঈমান আনলেন।

(আল ইসাবা-৬/৪৬৩) উল্লোখ্য :- হাদিসটি সনদ

সহীহ এবং বর্ণনাকারীগণ সকলেই নির্ভশীল।

20) আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত,

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

বলেছেন: যে কোন মুসলিম ব্যাক্তি উত্তমরূপে উযূ

(ওজু/অজু/অযু) করার পর তিনবার বলে (কালিমা

শাহাদাত): আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত

কোন ইলাহ নাই, তাঁর কোন শারীক নাই, তিনি

একক এবং আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা

ও রসূল, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে

দেয়া হবে। সে যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা তাতে

প্রবেশ করবে।

★আবূল হাসান ইবুন সালামাহ আল-কাত্তান,

ইব্রাহীম ইবনু নাস্র, আবূ নুআয়ম (রহঃ) থেকে এ

সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: আহমাদ ১৩৩৮১ , আবূ

দাঊদ ১০৫০ সহীহ, জামি সগীর ৬১৬৮, মাজাহ ১০৯০

সহীহ, তিরমিযী ৪৯৮ সহীহ, মিশকাত ১৩৮৩ সহীহ,

ইরওয়াহ ৯৬, সহীহ আবূ দাউদ ১৬২, সহীহ তারগীব

২১৯

★ সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায়ঃ ২/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ | হাদিস

নাম্বার: 469

হযরত আদম আলাইহিস সালামও হাওয়া আলাইহাস সালাম উনাদের জান্নাত থেকে যমীনে আগমনের সঠিক ঘটনা৷

হযরত আদম আলাইহিস সালাম এবং হযরত হাওওয়া

আলাইহাস সালাম উনারা পরস্পর হচ্ছেন মানবজাতির

আদি পিতা ও মাতা আলাইহিমাস সালাম। শুধু তাই নয়, উনারা

উভয়ে হচ্ছেন কুল মাখলূক্বাতের নবী ও

রসূল, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়া মুরসালীন, নূরে

মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আদি পিতা ও আদি মাতা

আলাইহিমাস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

উনারা উভয়েই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক

উনার মনোনীত সৃষ্টি, মনোনীত বান্দা ও

মনোনীত বান্দী। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার

মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺻﻄﻔﻰ ﺍﺩﻡ ﻭﻧﻮﺣﺎ ﻭﺍﻝ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻭﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ

ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻌﺎﻟـﻤﻴﻦ

অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আদম

আলাইহিস সালাম উনাকে, হযরত নূহ আলাইহিস সালাম

উনাকে এবং হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার

বংশধর উনাদেরকে ও হযরত ইমরান আলাইহিস সালাম

উনার বংশধর উনাদেরকে তামাম আলমের বুকে

মনোনীত করেছেন। (পবিত্র সূরা আলে

ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)

অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি মহান

আল্লাহ পাক উনার মনোনীত ও সম্মানিত নবী ও

রসূল আলাইহিস সালাম এবং মহান আল্লাহ পাক উনার

মনোনীত খলীফা বা প্রতিনিধি আলাইহিস সালাম।

তিনি এমন মনোনীতভাবে সৃষ্টি যে মহান

আল্লাহ পাক তিনি উনাকে স্বীয় কুদরতী হাত

মুবারকে সৃষ্টি করেছেন এবং উনার মধ্যে রূহ

মুবারক ফুঁকে দিয়েছেন। শুধু তাই নয় উনাকে

সৃষ্টি করার পর উনার সম্মানার্থে উনাকে সিজদা

করার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি লক্ষ লক্ষ বছর

যাবৎ ইবাদত গোযার এবং তাসবীহ-তাহলীল পাঠে

মশগুল হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম

উনাদের নবী ও রসূলসহ উনাদের সকলকে

আদেশ মুবারক করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

সুতরাং বলার অপেক্ষা রাখে না যে, হযরত আদম

আলাইহি সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার কিরূপ

বেমেছাল মর্যাদা সম্পন্ন মনোনীত নবী,

রসূল ও খলীফা বা প্রতিনিধি। আর উনারই সম্মানে

সম্মানিত হচ্ছেন উনার মহিয়সী আহলিয়া হযরত

হাওওয়া আলাইহাস সালাম। উনাকেও মহান আল্লাহ পাক

তিনি বেমেছাল বুযুর্গী, সম্মান দিয়ে এবং

জান্নাতবাসিনী ৭০ জন সম্মানিতা হুর উনাদের

খুবছূরত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, এরূপ বেমেছাল মর্যাদাসম্পন্ন,

মনোনীত, শ্রেষ্ঠতম বান্দা ও বান্দী হযরত

আদম আলাইহিস সালাম এবং উনার আহলিয়া হযরত

হাওওয়া আলাইহাস সালাম উনাদের সম্পর্কে কি

করে এ কথা বলা যেতে পারে যে, উনারা মহান

আল্লাহ পাক উনার নিষেধাজ্ঞা না মেনে নাফরমান

হয়ে বেহেশত থেকে পৃথিবীতে নিক্ষিপ্ত

হয়েছেন। নাউযুবিল্লাহ!

যেকোন মুসলমান ব্যক্তি তিনি তার মুসলমান পিতা-

মাতা সম্পর্কে উক্তরূপ কথা বলতে পারে না। যদি

তাই হয় তাহলে যাঁরা শুধু মুসলমান উনাদেরই পিতা-মাতা

নন বরং হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম

উনাদের সম্মানিত পিতা ও মাতা আলাইহিমাস সালাম

উনাদের সম্পর্কে কি করে উক্ত বক্তব্য ও

লিখনী প্রকাশ করা যেতে পারে। পবিত্র

দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে ইলমহীন,

আক্বলহীন, সমঝহীন, গণ্ডমূর্খ, জাহিল, নাদান ও

নির্বোধ ব্যক্তির পক্ষেই কেবল উক্তরূপ

কুফরী বক্তব্য ও লেখনী প্রকাশ করা সম্ভব।

নাউযুবিল্লাহ!

স্মরণীয় যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস

সালাম উনাদের কেউই মহান আল্লাহ পাক উনার

আদেশ-নিষেধ মুবারকের খিলাফ বা বিপরীত

কোন কাজ করেননি। এটাই হচ্ছে আহলে

সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা তথা সকল

মু’মিন-মুসলমান উনাদের আক্বীদা। এর বিপরীত

হচ্ছে ৭২টি বাতিল ও জাহান্নামী ফেরকার

আক্বীদা। কাজেই, মহান আল্লাহ পাক উনার

মনোনীত নবী ও রসূল হযরত আবুল বাশার

আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ

পাক উনার ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। উনার

পরিপূর্ণ অনুগত, ফরমাবরদার, আজ্ঞাবহ, আদেশ-

নিষেধ মুবারক পালনকারী। কাজেই, তিনি কখনো

মহান আল্লাহ পাক উনার কোন নিষেধাজ্ঞা অমান্য

করেননি এবং তিনি কোন নাফরমানীও করেননি।

হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি যদি মহান পাক উনার

কোন আদেশ কিংবা নিষেধ অমান্য করে

থাকেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নিষেধাজ্ঞা

অমান্য করে নাফরমান হয়ে থাকেন তাহলে

হযরত নবী ও রসূল হিসেবে উনাদের খুছূছিয়াত

বা বৈশিষ্ট্য মুবারক থাকলো কোথায়! পবিত্র

কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ

উনাদের মধ্যে কোথাও কি উল্লেখ আছে

যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম এবং হযরত হওওয়া

আলাইহাস সালাম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার

নিষেধাজ্ঞা না মেনে নাফরমান হয়ে বেহেশত

থেকে পৃথিবীতে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন? আদৌ

নেই। মনে রাখতে হবে যে, মহান আল্লাহ পাক

উনার মনোনীত নবী ও রসূল হযরত আদম

আলাইহিস সালাম উনার প্রতি উক্ত মিথ্যা তোহমত

দেয়ার পরিণাম নিঃসন্দেহে কুফরী এবং কাফির ও

জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

উল্লেখ্য, পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র

হাদীছ শরীফ উনাদের অর্থ বর্ণনায় সবখানে

লুগাতী বা অভিধানগত অর্থ প্রযোজ্য ও

গ্রহণযোগ্য নয় বরং ক্ষেত্র বিশেষে

লুগাতী অর্থ পরিহার করে তাফছীলী বা

তা’বীলী অর্থ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়

অর্থ শুদ্ধ হবে না। বিশেষ করে খালিক্ব মালিক

রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্পর্কে, হযরত

নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে,

হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম

উনাদের সম্পর্কে, হযরত আহলু বাইত শরীফ

আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে, হযরত

ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের

সম্পর্কে, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি

আলাইহিম উনাদের সম্পর্কে এমন অর্থ গ্রহণ

করা যাবে না, যে অর্থ গ্রহণ করলে উনাদের

শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, বুযুর্গী সম্মানের খিলাফ

হয়। উদাহরণস্বরূপ পবিত্র সূরা আলে ইমরান

শরীফ উনার ৪৫নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে

মহান আল্লাহ পাক উনার শান মুবারকে ﻣﻜﺮ শব্দ

মুবারক উনার লুগাতী বা আভিধানিক অর্থ “ধোকাবাজি

বা ষড়যন্ত্র” গ্রহণ না করে ‘হিকমত বা কৌশল’ গ্রহণ

করতে হবে। একইভাবে উপরে বর্ণিত সকল

মনোনীত ও সম্মানিত বান্দা-বান্দী উনাদের শান

মুবারক সম্মত অর্থ ও ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে হবে।

মূলতঃ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের

মর্যাদা বা শান মুবারক বিরোধী কথা-বার্তা যারা বলে

থাকে বা লিখে থাকে তারা পবিত্র কুরআন শরীফ,

পবিত্র সুন্নাহ শরীফ এবং পবিত্র আক্বায়িদ শরীফ

সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই তা বলে থাকে।

যেমন কেউ বলে থাকে যে, হযরত আদম

আলাইহিস সালাম তিনি গন্ধম খেয়ে ভুল

করেছিলেন। নাউযুবিল্লাহ! আবার কেউ বলে

থাকে যে, তিনি গন্ধম খেয়ে একটা গুণাহ

করেছিলেন। নাউযুবিল্লাহ! আবার অনেকে

বলে যে, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার

নিষেধাজ্ঞা না মেনে নাফরমান হয়ে বেহেশত

থেকে পৃথিবীতে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন।

নাউযুবিল্লাহ!

প্রকৃতপক্ষে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার

শান মুবারক বিরোধী উল্লেখিত

বক্তব্যসমূহের একটিও সঠিক নয়।

কেননা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে

ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি

ইরশাদ মুবারক করেন-

ﻭﻣﺎ ﺍﺭﺳﻠﻨﺎ ﻣﻦ ﻗﺒﻠﻚ ﻣﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻻ ﻧﻮﺣﻰ ﺍﻟﻴﻪ

অর্থ: আমি আপনার (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পূর্বে

প্রত্যেক রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি

ওহী মুবারক প্রেরণ করেছি। (পবিত্র সূরা

আম্বিয়া শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৫)

অর্থাৎ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের

যাবতীয় কার্যাবলী সম্মানিত ওহী মুবারক দ্বারা

তথা মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে পরিচালিত

হতো। যার পরিপ্রেক্ষিতে আক্বায়িদ শাস্ত্রের

সমস্ত কিতাবে উল্লেখ রয়েছে-

ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻛﻠﻬﻢ ﻣﻌﺼﻮﻣﻮﻥ

অর্থ: হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা

প্রত্যেকেই মা’ছূম বা নিস্পাপ। (শরহে

আক্বায়িদে নাসাফী, তাকমীলুল ঈমান,

ফিক্বহুল আকবর, হাক্বায়িদে হাক্কাহ ইত্যাদি)

আরো উল্লেখ রয়েছে-

ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻛﻠﻬﻢ ﻣﻨﺰﻫﻮﻥ ﻋﻦ ﺍﻟﺼﻐﺎﺋﺮ

ﻭﺍﻟﻜﺒﺎﺋﺮ ﻭﺍﻟﻜﻔﺮ ﻭﺍﻟﻘﺒﺎﺋﺢ

অর্থ: হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা

প্রত্যেকেই ছগীরা, কবীরা, কুফর-শিরক এবং

অপছন্দনীয় কাজ থেকেও পবিত্র। (শরহে

আক্বায়িদে নাসাফী, তাকমীলুল ঈমান,

ফিক্বহুল আকবর, হাক্বায়িদে হাক্কাহ ইত্যাদি)

কাজেই, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ

শরীফ উনাদের আলোকে পবিত্র আক্বায়িদ

শাস্ত্র অনুযায়ী হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস

সালাম উনাদের প্রতি আক্বীদা পোষন করতে

হবে। অন্যথায় কারো পক্ষে মু’মিন-মুসলমান থাকা

সম্ভব হবে না।

অতএব, হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার জান্নাত

থেকে যমীনে আগমনের সঠিক যে ঘটনা

তাহলো- মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন হযরত আদম

আলাইহিস সালাম ও হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম

উনাদেরকে আদেশ মুবারক করেছিলেন যে-

ﻻﺗﻘﺮﺑﺎ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺸﺠﺮﺓ .

অর্থ: “আপনারা এই (গন্ধমের) গাছের

নিকটবর্তী হবেন না।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা

শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৫)। তখন উনারা

মহান আল্লাহ পাক উনার এ আদেশ মুবারক

অনুযায়ী সে গাছের নিকটবর্তী হননি। বরং

উক্ত গাছের অনুরূপ বিপরীত দিকের অন্য একটি

গাছ দেখিয়ে ইবলিস শয়তান এসে হযরত হাওওয়া

আলাইহাস সালাম উনাকে মিথ্যা কছম খেয়ে

বলেছিল যে, যদি আপনারা এ গাছের ফল খান,

তবে আপনারা ফেরেশ্তা হয়ে যাবেন অথবা

স্থায়ীভাবে বেহেশ্তে বসবাস করতে

পারবেন। কোন কোন বর্ণনা মুতাবিক তখন

হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম সে গাছ হতে ফল

এনে শরবত বানিয়ে হযরত আদম আলাইহিস সালাম

উনাকে খাইয়েছিলেন। অপর বর্ণনায়, ফল

কেটে খাইয়েছিলেন। এ ঘটনা হযরত আদম

আলাইহিস সালাম উনার অজান্তেই সংঘটিত হয়েছিল।

সুতরাং যা অজান্তে সংঘটিত হয়, তা কি করে ভুল বা

অপরাধ হতে পারে? বাস্তবিক তা কখনই ভুল

হতে পারেনা। (সমূহ তাফসীরের কিতাব)

এর মেছালস্বরূপ উল্লেখ করা যায়- ইমামুছ ছানী

মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান

আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাত মুবারকের ঘটনা। তিনি

যে শাহাদাত মুবারক গ্রহণ করেছিলেন, এ

ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। উনাকে দ্বীন

ইসলাম উনার শত্রুরা শহীদ করার জন্য একে

একে পাঁচবার বিষ পান করায়। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক

উনার রহমতে তিনি প্রত্যেকবারই বেঁচে যান।

ষষ্ঠবার উনাকে শহীদ করার জন্য উনার পানির

কলসিতে যে কলসির মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে

রাখতেন, (যেন তার ভিতর কিছু ফেলা না যায়,)

সেই কাপড়ের উপর শত্রুরা হিরকচূর্ণ বিষ উনার

অজান্তে মিশিয়ে দিয়েছিল। তিনি গভীর

রাত্রিতে হিরকচূর্ণ বিষ মিশ্রিত পানি কলসি থেকে

ঢেলে পান করেন, যার ফলশ্রুতিতে তিনি শাহাদাত

মুবারক গ্রহণ করেন। যা উনার অজান্তেই সংঘটিত

হয়েছিল। (সিররুশ্ শাহাদাতাইন, শুহাদায়ে কারবালা,

সীরতে হযরত ইমাম হাসান ও হযরত ইমাম হুসাইন

আলাইহিমাস সালাম) এখন প্রশ্ন উঠে, সম্মানিত

শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে উনার শাহাদাতকে

আত্মহত্যা বলতে হবে, না ভুল করার কারণে

ইন্তিকাল করেছেন, তা বলতে হবে?

প্রকৃতপক্ষে উপরোক্ত দু’টির কোনটিই বলা

যাবেনা। যদি কেউ কোন একটিও বলে, তবে

সে মিথ্যা তোহমত দেয়ার গুণাহে গুণাহগার

হবে, যা কুফরীর শামিল হবে। হযরত আদম

আলাইহিস সালাম উনার ঘটনাও তদ্রুপ। যা উনার

অজান্তে সংঘটিত হয়েছিল। আর প্রকারান্তরে

উনার উক্ত ঘটনা মুবারকটিও ছিল সম্মানিত ওহী

মুবারক উনারাই অন্তর্ভুক্ত।

যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার

ছহীহ কিতাব মুসলিম শরীফ ও মিশকাত শরীফ

ইত্যাদি কিতাবসমূহের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,

হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বিছাল

শরীফ গ্রহনের পর হযরত আদম আলাইহিস সালাম

উনার সাথে সাক্ষাৎ মুবারক হলো। তিনি হযরত আদম

আলাইহিস সালাম উনার যথাযথ প্রশংসা করে বললেন,

মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে সৃষ্টি করে

জান্নাতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।

অতঃপর আপনিই মানব জাতিকে যমীনে নিয়ে

আসার কারণ ঘটিয়েছেন। উত্তরে হযরত আদম

আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনি এটা কিভাবে

জানলেন? বললেন, তাওরাত শরীফ-এ

পেয়েছি। হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি

বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সৃষ্টির

কতকাল পূর্বে তাওরাত শরীফ লিপিবদ্ধ

করেছেন বলে আপনি জানেন? হযরত মূসা

আলাইহিস্ সালাম তিনি বললেন, চল্লিশ বৎসর

পূর্বে। তখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি

বললেন, যে বিষয়টি আমাকে সৃষ্টির চল্লিশ

বৎসর পূর্বে মহান আল্লাহ পাক তিনি লিপিবদ্ধ করে

রেখেছেন সে বিষয়টি সম্পর্কে কেন

আমার কাছে জানতে চাচ্ছেন? অতঃপর নূরে

মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, হযরত আদম আলাইহিস সালাম

তিনি হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার উপর জয়ী

হলেন। সুবহানাল্লাহ!

স্মরণযোগ্য যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্

সালাম উনাদের স্বপ্ন মুবারকও যেখানে ওহী

মুবারকের অন্তর্ভুক্ত সেখানে উনাদের

জাগ্রত অবস্থার বিষয়গুলো কি ওহী মুবারকের

বাইরে ছিল? কখনই নয়। যদি তাই হয় তাহলে ওহী

মুবারকের ফায়সালাকৃত বিষয়ের জন্য

উনাদেরকে দোষারোপ করা কি করে শুদ্ধ

হতে পারে?

কাজেই, উনাদের সাথে যদি ভুল বা গুনাহর বিষয়টি

সম্পৃক্ত করা হয় তাহলে একইসাথে এটাও সম্পৃক্ত

হয়ে যায় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনিই ওহী

মুবারক নাযিলে ভুল করেছেন এবং তিনিই

উনাদেরকে গুনাহ করিয়েছেন। নাঊযুবিল্লাহ! যা

চিন্তা-কল্পনা করাও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

অনুরূপ অন্যান্য হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম

উনাদের ঘটনাও। মানুষ সঠিক ইতিহাস না জানার কারণে

এবং পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ

শরীফ উনার সঠিক ব্যাখ্যা না বুঝার কারণে, হযরত

নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারকে

বেয়াদবিমূলক কুফরী কথা-বার্তা বলে থাকে।

নাউযুবিল্লাহ!

হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের

সম্পর্কে কতটুকু আদব রক্ষা করতে হবে, সে

প্রসঙ্গে কিতাবে ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত

তরীকত হযরত ইমাম সাররি সাকতী রহমতুল্লাহি

আলাইহি উনার ঘটনা উল্লেখ করা হয়, যিনি উনার

যামানায় মহান আল্লাহ পাক উনার লক্ষ্যস্থল

ওলীআল্লাহ ছিলেন। যিনি ইমামুশ্ শরীয়ত ওয়াত

তরীক্বত ছিলেন। তিনি একবার স্বপ্নে মহান

আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত ইয়া’কুব আলাইহিস

সালাম উনাকে দেখেন। দেখে তিনি পরিপূর্ণ

আদবের সাথে প্রশ্ন করেছিলেন, হে মহান

আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত ইয়া’কুব আলাইহিস

সালাম! আপনার অন্তরে মহান আল্লাহ পাক উনার

মুহব্বত সত্যিকারভাবেই প্রবল রয়েছে তা

সত্বে আপনি কি করে আপনার ছেলে হযরত

ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনার জুদায়ীর

(বিচ্ছেদের) কারণে উনার মুহব্বতে চল্লিশ

বছর যাবৎ কেঁঁদে কেঁদে আপনার চক্ষু মুবারক

নষ্ট করেছিলেন? একথা বলার সাথে সাথে গইব

থেকে নেদা (আওয়াজ) হলো, “হে সাররি

সাকতী! সতর্কতার সাথে হযরত নবী আলাইহিমুস

সালাম উনাদের শান মুবারকে কথা বলুন।” এরপর

হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনাকে উনার সামনে

পেশ করা হলে তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়ে যান এবং

এভাবে একাধারা তের দিন তের রাত বেহুঁশ থাকার

পর হুঁশ ফিরে পান। তখন গইব থেকে পুনরায়

নেদা হয়, “মহান আল্লাহ পাক উনার নবী আলাইহিমুস

সালাম উনাদের শান মুবারকে এ ভাবে কথা বললে

এরূপই অবস্থা হয়ে থাকে।” (তাযকিরাতুল আউলিয়া)

উপরোক্ত ওয়াকিয়ার দ্বারা প্রতিভাত হয় যে,

হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে

কি পরিমাণ আদবের সাথে কথা বলতে হবে এবং

উনাদের সাথে বেয়াদবির কি পরিণতি? সত্যিই তা

চিন্তা-ফিকিরের বিষয়। বেয়াদব সম্পর্কে হযরত

জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

ﺑﮯ ﺍﺩﺏ ﻣﺤﺮﻭﻡ ﮔﺸﺖ ﺍﺯ ﻟﻄﻒ ﺭﺏ .

অর্থ: “বেয়াদব মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত

থেকে বঞ্চিত।” (মসনবী শরীফ)

উল্লেখ্য যে, হযরত ইমাম সাররি সাকতী

রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত

তরীক্বত ও মহান আল্লাহ পাক উনার লক্ষ্যস্থল

ওলী হওয়া সত্বেও উনার প্রতি সতর্কবাণী ও

সাবধানবাণী উচ্চারিত হয়েছে। উনার ওয়াকিয়া বা

ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, হযরত নবী-

রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি কি পরিমাণ

আদব রক্ষা করা উচিত।

মূলতঃ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের

ভুল করা তো দূরের কথা, কোন প্রকার

অপছন্দনীয় কাজও উনারা করতেন না। বরং

সর্বপ্রকার অপছন্দনীয় কাজ থেকেও উনারা

বেঁচে থাকতেন বা পবিত্র থাকতেন, সে

প্রসঙ্গে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সীরত

মুবারক থেকে একটি ঘটনা উল্লেখ করা যায়-

“একবার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হুজরা শরীফে

বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে নূরে

মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাক্ষাত মুবারক করার অনুমতি

চাইলেন। এ সংবাদ উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা

ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনার নিকট পৌঁছালেন। তখন নূরে মুজাসসাম

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

তিনি বললেন, সে ব্যক্তিকে অপেক্ষা করতে

বলুন। একথা বলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার

পাগড়ী মুবারক, জামা বা কোর্তা মুবারক ইত্যাদি

গুছগাছ করে নিলেন। এমনকি হুজরা শরীফ

থেকে বের হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে পানির

গামলাতে নিজের চেহারা মুবারক দেখে গুছিয়ে

নিচ্ছিলেন। তা দেখে সে সময় উম্মুল

মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি

বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম! আপনিও কি এরূপ করেন? তখন নূরে

মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “কিরূপ করি?” উম্মুল

মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি

বললেন, “এরূপ পরিপাটি।” এর জাওয়াবে নূরে

মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “হ্যাঁ, আমরা মহান আল্লাহ

পাক উনার নবী। আমাদের কোন কাজ কারো

অপছন্দ হলে, সে ঈমান হারা হয়ে যাবে।” (আল্

মুরশিদুল আমীন)

অতএব, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা

যে কতটুকু অপছন্দনীয় কাজ থেকে বেঁচে

থাকতেন, এ হাদীছ শরীফ উনার বর্ণিত ঘটনা

তারই প্রমাণ। তাহলে কি করে এ কথা বলা যেতে

পারে বা বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে যে, হযরত

নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ভুল-ত্রুটি

করেছিলেন? বস্তুতঃ এরূপ আক্বীদা পোষণ

করা সম্পূর্ণই হারাম ও কুফরী।

কাজেই, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম

উনাদের শান মুবারকের খিলাফ কোন অর্থ গ্রহণ

করা যাবেনা বরং এমন অর্থ ব্যবহার বা গ্রহণ

করতে হবে, যাতে উনাদের শান মুবারক সমুন্নত

থাকে।

যেমন পবিত্র সূরা আনআম ৭৪ নং পবিত্র আয়াত

শরীফ উনার তরজমা বর্ণনায় অনেকে

মূর্তিপূজক আযর নামক ব্যক্তিটিকে হযরত

ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পিতা

বলে উল্লেখ করে থাকে। যা সম্পূর্ণরূপে

ভুল ও কুফরী। কেননা তা মহান আল্লাহ পাক উনার

নবী ও রসূল হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ

আলাইহিস সালাম উনার এবং সর্বোপরি সাইয়্যিদুল

আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনাদের পবিত্রতম শান বা মর্যাদা মুবারক উনার

প্রকাশ্য বিরোধী।

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক

হয়েছে-

ﻭﺗﻘﻠﺒﻚ ﻓﻰ ﺍﻟﺴﺎﺟﺪﻳﻦ

অর্থ : মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে (নূরে

মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি

ওয়া সাল্লাম উনাকে) সিজদাকারীগণ উনাদের

মধ্যে স্থানান্তরিত করেছেন। (পবিত্র সূরা

শুআরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২১৯)

এ পবিত্র আয়াতে কারীমা দ্বারা প্রতীয়মান

হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্ব পুরুষ

আলাইহিমুস সালাম এবং পূর্ব মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম

উনারা সকলেই পরিপূর্ণ ঈমানদার ও দ্বীনদার

ছিলেন। উনাদের কেউই কাফির মুশরিক ছিলেন

না।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক

হয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক

করেন-

ﻟـﻢ ﺍﺯﻝ ﺍﻧﻘﻞ ﻣﻦ ﺍﺻﻼﺏ ﺍﻟﻄﺎﻫﺮﻳﻦ ﺍﻟﻰ ﺍﺭﺣﺎﻡ

ﺍﻟﻄﺎﻫﺮﺍﺕ

অর্থ : আমি সর্বদা পূতঃপবিত্র পুরুষ ও মহিলা

উনাদের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছি।

(তাফসীরে কবীর)

এছাড়া আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের

আক্বীদা হচ্ছে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস

সালাম উনাদের কারো পিতা ও মাতা উনারা কেউই

কাফির-মুশরিক ছিলেন না। তাহলে নূরে মুজাসসাম,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনার পূর্ব পিতা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ

আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পিতা তিনি কি করে

মূর্তিপূজক তথা মুশরিক হতে পারেন!

অতএব বলার অপেক্ষা রাখেনা, উক্ত আয়াত

শরীফ উনার মধ্যে আযর নামক ব্যক্তিটি

আসলে উনার পিতা ছিলো না; বরং উনার চাচা ছিল।

সুতরাং উক্ত আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ﺍﺑﻴﻪ অর্থ

উনার পিতা নয় বরং উনার চাচা। আর উনার পিতা হচ্ছেন

হযরত তারাহ আলাইহিস সালাম।

অনুরূপভাবে সূরা ত্ব-হা শরীফ উনার ১২১নং পবিত্র

আয়াত শরীফ উনার শেষাংশে

ﻭﻋﺼﻰ ﺍﺩﻡ ﺭﺑﻪ ﻓﻐﻮﻯ

উনার তরজমা বর্ণনায় অনেকে বলে থাকে

যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি উনার

পালনকর্তার আদেশ লঙ্ঘন করলেন, ফলে তিনি

পথভ্রান্ত হয়ে গেলেন। নাউযুবিল্লাহ!

এ তরজমা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রথম নবী ও

রসূল হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র শান

মুবারক উনার খিলাফ হওয়ার কারণে প্রকাশ্য

কুফরী। আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের

আক্বীদা হচ্ছে সমস্ত হযরত নবী-রসূল

আলাইহিমুস সালাম উনারা ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

উনারা ওহী ছাড়া কোন কথা বলেননি এবং কোন

কাজ করেননি। তাই উনারা সমস্ত গুনাহখতা, ভুল-

ভ্রান্তির উর্ধ্বে। উনারা মা’ছূম বা নিষ্পাপ। তাছাড়া

হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে

নবী-রসূল হিসেবেই সৃষ্টি করা হয়েছে।

কাজেই, হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার দ্বারা

মহান আল্লাহ পাক উনার নাফরমানী বা অবাধ্যতাজনিত

কাজ সংঘঠিত হয় কি করে এবং তিনি পথভ্রান্ত বা

পথহারা হন কি করে!

প্রকৃতপক্ষে উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার

ছহীহ অর্থ হচ্ছে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম

তিনি উনার রব তায়ালা উনার আদেশ মুবারক পালন

করলেন অতঃপর যমীনে তাশরীফ আনলেন।

অর্থাৎ ফরমাবরদারী করে জমিনে তাশরীফ

মুবারক আনলেন।

একইভাবে সূরা দ্বুহা শরীফ উনার ৭নং পবিত্র

আয়াত শরীফ-

ﻭﻭﺟﺪﻙ ﺿﺎﻻ ﻓﻬﺪﻯ

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তরজমা বর্ণনায়

অনেকেই বলে ও লিখে থাকে যে, মহান

আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

উনাকে পথহারা পেয়েছেন অতঃপর পথ

প্রদর্শন করেছেন। নাউযুবিল্লাহ!

এ তরজমা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে

জঘণ্য কুফরীর শামিল। কেননা নূরে মুজাসসাম

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

তিনি তো সৃষ্টিই হয়েছেন মহান আল্লাহ পাক

উনার নবী ও রসূল হিসেবে, সাইয়্যিদুল

মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন,

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে; যা পবিত্র হাদীছ

শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্ট বর্ণিত রয়েছে।

সুতরাং যিনি সৃষ্টিই নবীউল্লাহ, রসূলুল্লাহ,

হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

হিসেবে তিনি পথহারা, বিভ্রান্ত হন কি করে! এ

তরজমা কোন মুসলমান করতে পারেনা। কেউ

করলে তাকে খালিছ তওবা-ইস্তিগফার করতে

হবে। অন্যথায় জাহান্নাম ব্যতীত তার জন্য

কোন জায়ঠিকানা থাকবে না।

প্রকৃতপক্ষে উক্ত আয়াত শরীফ উনার সঠিক

অর্থ হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে

কিতাববিহীন পেয়েছেন অতঃপর কিতাব প্রদান

করেছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহ পাক উনার

প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর

পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র

হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী উনাদেরকে রাবী

বলা হয়। এই রাবীগণ উনাদের মধ্যে যাঁরা প্রথম

শ্রেণীর রাবী, উনাদেরকে বলা হয় ছেক্বাহ

রাবী।

পবিত্র হাদীছ শরীফ বিশারদগণ উনারা ছেক্বাহ্

রাবী হওয়ার জন্য যে মানদ- নির্ধারণ করেছেন,

তার মধ্যে মূল বিষয় হচ্ছে- (১) আদালত ও (২)

জব্ত। জব্ত হচ্ছে- প্রখর স্মরণশক্তি। তা এমন

যে, একবার শুনলে আর ভুলেনা। আর

আদালত-এর মধ্যে যে শর্তসমূহ রয়েছে, তার

মধ্যে প্রধান হলো দু’টি। যথা- (ক) তাক্বওয়া, (খ)

মুরুওওয়াত। (ক) তাক্বওয়া হচ্ছে- কুফর-শিরক,

বিদ্য়াত ও ফাসিকী কাজ থেকে বেঁচে থাকার

সাথে সাথে কবীরাহ গুণাহ থেকে, এমনকি

ছগীরাহ গুণাহও বার বার করা থেকে বেঁচে

থাকা। পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে মিথ্যা না

বলা। সাধারণ কাজে মিথ্যা না বলা। অজ্ঞাতনামা না হওয়া,

অপরিচিত না হওয়া। গাফলতী না থাকা। বদ আক্বীদা

সম্পন্ন না হওয়া। বে-আমল না হওয়া। (খ) আর

মুরুওওয়াত হচ্ছে- অশ্লীল-অশালীন,

অশোভনীয়, অপছন্দনীয় আচার-আচরণ, উঠা-

বসা, চাল-চলন, যেখানে-সেখানে ইস্তিঞ্জা

করতে বসা, হাট-বাজারে গিয়ে চিৎকার করা, রাস্তা-

ঘাটে লোকজনের সাথে অনর্থক ঝগড়া-ঝাটি

করা ও তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হওয়া এমনকি দৃষ্টিকটু

কাজ থেকে বিরত থাকা। যেমন- রাস্তায় হেঁটে

হেঁটে খাদ্য খাওয়া, রাস্তায় অট্টহাস্য করা, চিৎকার

করা ইত্যাদি। (তাদরীবুর রাবী, মুকাদ্দামাতুশ

শায়েখ, মীযানুল আখবার, নূরুল আনোয়ার,

মুকাদ্দামাতুল মিশকাত)

এখন ফিকিরের বিষয় এই যে, পবিত্র হাদীছ

শরীফ বর্ণনাকারী ছেক্বাহ্ রাবী যদি এত গুণ

ও যোগ্যতাসম্পন্ন এবং তাক্বওয়াধারী হন অর্থাৎ

পবিত্র হাদীছ শরীফ বিশারদ এই উম্মতের নিকট

যদি ছেক্বাহ রাবী হিসেবে পবিত্র হাদীছ

শরীফ বর্ণনাকারী হওয়ার জন্য ছগীরাহ্ গুণাহ্

বার বার না করা ও দৃষ্টিকটু সাধারণ অপছন্দনীয়

কাজও না করা শর্ত হয়, তাহলে যাঁরা মহান আল্লাহ

পাক উনার নবী হবেন এবং মহান আল্লাহ্ পাক উনার

কালাম বর্ণনা করবেন, উনাদের জন্য মহান আল্লাহ

পাক কি মানদ- নির্ধারণ করেছেন বা উনাদের

ক্ষেত্রে কি পরিমান মা’ছূম ও মাহ্ফূজ হওয়া

নির্দিষ্ট করেছেন তা অনুধাবনীয়।

অতএব, যে কোন লোকের জন্যই হযরত

নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণ উনাদের শান মুবারক

উনার বিন্দুমাত্র খিলাফ কথাবার্তা বলা সম্পূর্ণ নাজায়িয,

হারাম ও কুফরী। এ ধরণের কুফরী আক্বীদা

থেকে বেঁচে থাকা সমস্ত মুসলমান নর-নারীর

জন্য ফরয।

{দলীলসমূহঃ- (১) তাফসীরে আহকামুল

কুরআন জাসসাস্, (২) তাফসীরে কুরতুবী, (৩)

তাফসীরে মাযহারী, (৪) তাফসীরে রুহুল

বয়ান, (৫) তাফসীরে রুহুল মায়ানী, (৬)

তাফসীরে খাযিন, (৭) তাফসীরে বাগবী,

(৮) তাফসীরে কবীর, (৯) তাফসীরে

তাবারী, (১০) তাফসীরে যাদুল মাছীর, (১১)

তাফসীরে দুররে মনছুর, (১২) তাফসীরে

ইবনে কাছীর, (১৩) শরহে আক্বাইদে

নছফী, (১৪) ফিক্বহে আকবর, (১৫)

তাকমীলুল ঈমান, (১৬) আক্বাইদে হাক্কাহ, (১৭)

তাযকিরাতুল আউলিয়া, (১৮) মসনবী শরীফ,

(১৯) আল মুরশিদুল আমীন, (২০) তাদরীবুর

রাবী, (২১) মুকাদ্দামাতুশ্ শায়েখ, (২২) মীযানুল

আখবার, (২৩) মুকাদ্দামাতুল মিশকাত, (২৪) নূরুল

আনোয়ার, (২৫) রু’ইয়াতুল হাদীস, (২৬)

নুখবাতুল ফিকির, (২৭) কিফায়া, (২৮) কাশফুল আসরার

ইত্যাদি।}