হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা হযরত তারাহ বা তারিখ আলাইহিস সালাম৷

nkjgbnhfkgg

nkjgbnhfkgg

মুসলমানদের সবচাইতে বড় শত্রু হচ্ছে কাফির
মুশরিকরা। তারা সবসময় চায় মুসলমান দের ঈমানহারা
করে দেয়ার জন্য। এজন্য তারা বিভিন্ন ধরনের
ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে ।
আজ এমনই একটা ষড়যন্ত্রের কথা আমি উল্লেখ করবো।
বর্তমান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,
ঢাকা-২০১৩ কতৃক নির্ধারিত ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ” ইসলাম ও
নৈতিকতা শিক্ষা” বইয়ের ২য় পৃষ্ঠায় তাওহীদে
বিশ্বাসে উদাহরণ দিতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, মহান
আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত ইব্রাহিম
আলাইহিস সালাম তিনি এক মূর্তি পুজক পরিবারে
জন্মগ্রহণ করেন এবং উনার পিতা ছিলেন মন্দিরের
পুরোহিত।”
নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক !!
এবং বাংলাদেশের অনেক কুরআন শরীফ উনার
অনুবাদে সূরা আনআম ৭৪ আয়াতের অর্থও ইব্রাহিম
আলাইহিস সালাম উনার পিতাকে মূর্তিপুজক বলা
হয়েছে । মীনা প্রকাশনির অনুবাদ দ্রষ্টব্য।
এগুলো বিধর্মী দের সুক্ষ ষড়যন্ত্র, তারা কৌশলে
পাঠ্যপুস্তকে এটা ঢুকিয়ে দিচ্ছে যাতে কোমলমতি
একটা শিশু কুফরি আক্বীদা নিয়ে বড় হয় এবং সাধারণ
মানুষ কুরআন শরীফের ভুল অনুবাদ পড়ে ঈমানহারা হয়ে
যায়।
এ কুফরি মতবাদ প্রচার করার জন্য বিধর্মী দের পা
চাটা কুত্তা দেওবন্দী/জামাতি/সালাফিরা কাজ
করছে।
এবার আসুন আমরা অকাট্য দলীল প্রমানের মাধ্যমে
দেখি সূরা আনআম ৭৪ আয়াতের তাফসীরে কি আছে
এবং ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতা কে
ছিলেন।
মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন–
ﻭﺍﺫ ﻗﺎﻝ ﺍﺑﺮﻫﻴﻢ ﻻﺑﻴﻪ ﺍﺯﺭ ﺍﺗﺘﺨﺬ ﺍﺻﻨﺎﻣﺎ ﺍﻟﻬﺔ
অর্থ: আর যখন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম উনার
” আবীহি” ( চাচা) আযরকে বললেন, আপনি কি
মূর্তিকে ইলাহ বা মা’বুদ হিসাবে গ্রহণ করেছেন?”
( সূরা আনআম ৭৪)
উক্ত আয়াত শরীফে ﺍﺑﻴﻪ এর ﺍﺏ (আবুন) শব্দ মুবারকের
শাব্দিক অর্থ পিতা গ্রহণ করে ধর্মব্যবসায়ী দেওবন্দী
খারেজীরা বলছে – আযর ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম
উনার পিতা । নাউযুবিল্লাহ !!
কিন্তু সকল ইমাম মুস্তাহিদ এবং মুফাসসিরানে
কিরানহন উনারা একমত, উক্ত আয়াত শরীফে ﺍﺑﻴﻪ শব্দ
মুবারকের অর্থ হচ্ছে ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম
উনার চাচা ।
যেটা কিতাবে বর্নিত আছে–
ﻭﺍﻟﻌﺮﺏ ﻳﻄﻠﻘﻮﻥ ﺍﻻﺏ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﻌﻢ
অর্থ: আরববাসীরা ﺍﻻﺏ (আল আবু) শব্দটি চাচার
ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেন।”
দলীল-
√ তাফসীরে কবীর লিল ইমাম ফখরুদ্দিন রাযী
রহমাতুল্লাহি আলাইহি ১৩ তম খন্ড ৩৮পৃষ্ঠা।
√ তাফসীরে মাযাহারী ৩য় খন্ড ২৫৬ পৃষ্ঠা ।
অর্থাৎ উক্ত আয়াত শরীফে “আবুন” শব্দ মুবারক উনার
অর্থ পিতা না হয়ে চাচা হবে । কারন পবিত্র কুরআন
শরীফ এবং হাদীস শরীফ উনার অনেক জায়গায় “আবুন”
পিতা না হয়ে অন্য অর্থে যেমম – চাচা, দাদা
ইত্যাদি অর্থে ব্যবহার হয়েছে ।
এবার আসুন আমরা বিশুদ্ধ সনদ সহকারে একাধিক
তাফসীর শরীফের মাধ্যমে সূরা আনআম ৭৪ নং আয়াত
শরীফের তাফসীর বর্ননা উল্লেখ করি –
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺣﻤﻴﺪ ﻭ ﺳﻔﻴﺎﻥ ﺍﺑﻦ ﻭﻛﻴﻊ ﻗﺎﻻ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺟﺮﻳﺮ ﻋﻦ ﻟﻴﺚ
ﻋﻦ ﻣﺠﺎﻫﺪ ﻗﺎﻝ ﻟﻴﺲ ﺍﺯﺭ ﺍﺑﺎ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ
অর্থ : হযরত আবু জাফর মুহম্মদ বিন জারীর ত্বাবারী
রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন- আমাদের কাছে পবিত্র
হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত মুহম্মদ বিন
হুমায়িদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত সুফিয়ান বিন
ওয়াকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি । উনারা দু’জন বলেন,
আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত
জারীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত লাইছ
রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত মুজাহিদ
রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে । তিনি বলেন- হযরত
ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতা আযর ছিলো
না ।”
দলীল-
√ জামিউল বয়ান ফী তফসীরিল কুরআন ( তাফসীরুত
ত্বাবারী) ৫ম খন্ড ১৫৮ পৃষ্ঠা ।
ওফাত: ৩১০ হিজরী।
প্রকাশনা: দারুল মা’রিফা বইরুত লেবানন।
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺍﻟﺤﺴﻴﻦ ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﺣﻤﺪ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻤﻔﻀﻞ ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ
ﺍﺳﺒﺎﻁ ﻋﻦ ﺍﻟﺴﺪﻱ ﻗﺎﻝ ﻭﺍﺫ ﻗﺎﻝ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻻﺑﻴﻪ ﺍﺯﺭ ﻗﺎﻝ ﺍﺳﻢ ﺍﺑﻴﻪ
ﻭﻳﻘﺎﻝ ﻻ ﺑﻞ ﺍﺳﻤﻪ ﺗﺎﺭﺡ ﻭﺍﺳﻤﺎ ﺍﻟﺼﻨﻢ ﺍﺯﺭ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﺗﺘﺨﺬ ﺍﺯﺭ ﺍﺻﻨﺎﻣﺎ
ﺍﻟﻬﺔ
অর্থ: হযরত ইমাম জারীর ত্ববারী রহমাতুল্লাহি
আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের কাছে পবিত্র হাদীস
শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত মুহম্মদ বিন হুসাইন
রহমাতুল্লাহি আলাইহি । তিনি বলেন আমাদের কাছে
হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত আহমদ বিন
মুফাদ্দাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন
আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা করেন হযরত
আসবাত রহমাতুল্লাহি আলাইহি , হযরত সুদ্দি
রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে । তিনি ﻭﺍﺫ ﻗﺎﻝ
ﺍﺑﺮﻫﻴﻢ ﻻﺑﻴﻪ ﺍﺯﺭ এই আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে বলেন,
পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আব আযরকে বলা
হয়েছে । কিন্তু ফয়সালা এটাই যে, বরং উনার পিতার
নাম ছিলো ” তারাহ” আলাইহিস সালাম। আর আযর
ছিলো একটি মূর্তির নাম।”
দলীল-
√ তাফসীরুত ত্বাবারী ৫ম খন্ড ১৫৮ পৃষ্ঠা।
ﻭﻓﻲ ﻛﺘﺐ ﺍﻟﺘﻮﺍﺭﺑﺦ ﺍﻥ ﺍﺳﻤﻪ ﺑﺎﻟﺴﺮﻳﺎﻧﻴﺔ ﺗﺎﺭﺡ
অর্থ: তাওয়ারীখ (ইতিহাস) গ্রন্থে বর্ননিত আছে যে,
নিশ্চয়ই ‘সুরইয়ানী’ ভাষায় হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস
সালাম উনার পিতার নাম মুবারক ছিলো ‘তারাহ’ ।”
দলীল-
√ আল কাশশাফ আন হাক্বায়িকিত তানযীল ওয়া
উয়ূনীল আক্বাবীল ফী উজুহীত তা’বীল ২য় খন্ড ২৩
পৃষ্ঠা ।
( ৪৬৬ হিজরী- ৫৩৮ হিজরী)
প্রকাশনা- দারুল মা’রিফাহ বইরূত, লেবানন।
ﻭﻓﻲ ﻛﺘﺐ ﺍﻟﺘﻮﺍﺭﻳﺦ ﺍﻥ ﺍﺳﻤﻪ ﺗﺎﺭﺡ
অর্থ: তাওয়ারীখ তথা সকল ইতিহাসের গ্রন্থ সমূহে
উল্লেখ আছে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার
পিতার নাম ‘তারাহ’ ছিলো।”
দলীল-
√ তাফসীরে বাইদ্বাবী ১ম খন্ড ৩০৭ পৃষ্ঠা ।
প্রকাশনা- দারুল কুতুবিল ইলমিয়া, বইরূত লেবানন।
ﻗﺎﻝ ﺍﺯﺟﺎﺝ ﻻ ﺧﻼﻑ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻨﺴﺎﺑﻴﻦ ﻓﻲ ﺍﻥ ﺍﺳﻤﻪ ﺗﺎﺭﺡ ﺻﺢ ﺑﺎﻟﺤﺎﺀ
ﺍﻟﻤﻬﻤﻠﺔ ﺳﻤﺎﻋﺎ
অর্থ: হযরত যুজাজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি
বলেন- বংশতত্ববিদ ঐতিহাসিকগনের এ ব্যাপারে
কোনই দ্বিমত নাই যে, হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস
সালাম উনার পিতার নাম ছিলো ‘তারাহ’ আলাইহিস
সালাম। সিমায়ী ( শ্রুত) নিয়মে নুকতাবিহীন ‘হা’
হওয়াই সহীহ মত। যিনি মূর্তিপুজক ছিলেন না। ”
দলীল-
√ হাশিয়াতুশ শায়েখ যাদাহ ২য় খন্ড ১৭৮ পৃষ্ঠা ।
প্রকাশনা- দারু ইহইয়ায়িত তুরাছিল আরাবী বইরূত
লেবানন।
আরো বর্নিত আছে–
ﺍﺧﺮﺝ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻲ ﺷﻴﺒﺔ ﻭ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺣﻤﻴﺪ ﻭ ﺍﺑﻦ ﺟﺮﻳﺮ ﻭ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻤﻨﺬﺭ
ﻭ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻲ ﺣﺎﺗﻢ ﻋﻦ ﻋﻦ ﻣﺠﺎﻫﺪ ﻗﺎﻝ ﺍﺯﺭ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺑﺎﺑﻴﻪ ﻟﻜﻨﻪ ﺍﺳﻢ
ﺻﻨﻢ
অর্থ : হযরত ইবনে আবী শয়বা রহমাতুল্লাহি আলাইহি ,
হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি,
হযরত ইবনু জারীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি , হযরত ইবনে
মুনজির রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও ইবনে আবী হাতিম
রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনারা সকলেই হযরত মুজাহিদ
রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ননা করেছেন।
তিনি বলেন, আযর হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম
উনার পিতা ছিলো না। বরং আযর ছিলো একটি
মূর্তির ( বা মূর্তিপুজকের ) নাম।”
দলীল-
√ আদ দুররুল মানছুর লিল জালাসুদ্দীন সূয়ুতি
রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৩য় খন্ড ২৩ পৃষ্ঠা ।
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻔﺮﺍﺀ ﻭ ﺍﻟﺰﺟﺎﺝ ﺍﺳﻢ ﺍﺑﻴﻪ ﺗﺎﺭﺥ ﺍﺟﻤﻊ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﻨﺴﺎﺑﻮﻥ
অর্থ: হযরত ফাররা ও জুজাজ রহমাতুল্লাহি আলাইহিম
উনারা বলেন, হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার
পিতার নাম মুবারক ছিলো হযরত তারাখ আলাইহিস
সালাম। এ বিষয়ে সকল বংশতত্ববিদ ঐতিহাসিক
উনারা ইজমা করেছেন।”
দলীল-
√ তাফসীরুল কুরআন লিস সাময়ানী ২য় খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠা ।
প্রকাশনা- দারুল ওয়াতান, রিয়াদ।
ﺍﻥ ﻭﺍﻟﺪ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻣﺸﺮﻛﺎ ﻭﺛﺒﺖ ﺍﻥ ﺍﺯﺭ ﻛﺎﻥ
ﻣﺸﺮﻛﺎ ﻓﻮﺟﺐ ﺍﻟﻄﻊ ﺑﺎﻥ ﻭﺍﻟﺪ ﺍﺑﺮﻫﻴﻢ ﻛﺎﻥ ﺍﻧﺴﺎﻧﺎ ﺍﺧﺮ ﻏﻴﺮ ﺍﺯﺭ
অর্থ: নিশ্চয়ই হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার
পিতা মুশরিক ছিলেন না। বরং আযর (উনার চাচা)
মুশরিক ছিলো। কেননা অকাট্যভাবে প্রমানিত যে,
নিশ্চয়ই হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পিতা
আযর নয়। বরং অন্য একজন অর্থাৎ তারাখ আলাইহিস
সালাম।”
দলীল-
√ তাফসীরে কবীর ১৩ তম খন্ড ৩৯ পৃষ্ঠা ।
ﻟﻴﺲ ﺍﺯﺭ ﺍﺑﺎ ﻻﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺍﻧﻤﺎ ﻫﻮ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺑﻦ ﺗﺎﺭﺥ
অর্থ: আযর হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার
পিতা নয়। বরং নিশ্চয়ই তিনি হলেন তারাখ
আলাইহিস সালাম উনার সুযোগ্য সন্তান।”
দলীল-
√ তাফসীরে মাযহারী ৩য় খন্ড ২৫৬ পৃষ্ঠা ।
ﺍﻥ ﺍﺑﺎ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺍﺳﻤﻪ ﺍﺯﺭ ﻭﺍﻧﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﺍﺳﻤﻪ ﺗﺎﺭﺥ
অর্থ: নিশ্চয়ই ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার
পিতার নাম আযর নয়। বরং উনার পিতার নাম মুবারক
হলো হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম।’
দলীল-
√ তাফসীরু ইবনে কাছীর ২য় খন্ড ২৪০ পৃষ্ঠা ।
প্রকাশনা- দারুল ফিকর, বইরুত লেবানন।
শুধু তাই নয়, এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফ বর্ননা করা
হয়েছে বিশুদ্ধ সনদে।
হদীস শরীফে বর্নিত আছে-
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﺑﻮ ﺯﺭﻋﺔ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻣﻨﺠﺎﺏ ﺍﺧﺒﺮﻧﺎ ﺑﺸﺮ ﺑﻦ ﻋﻤﺎﺭﺓ ﻋﻦ ﺍﺑﻲ ﺭﻭﻕ
ﻋﻦ ﺍﻟﻀﺤﺎﻙ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻗﺎﻝ ﺍﻥ ﺍﺑﺎ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺍﺳﻤﻪ ﺍﺯﺭ
ﺍﻧﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﺍﺳﻤﻪ ﺗﺎﺭﺡ
অর্থ : হযরত আবী হাতিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি
তিনি বলেন,আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা
করেছেন হযরত আবু যুরয়াহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীস শরীফ বর্ননা
করেছেন হযরত মিনজাব রহমাতুল্লাহি আলাইহি।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে হযরত বিশর বিন
আম্মারাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি হযরত আবূ রাওক্ব
রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে, তিনি হযরত
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার
থেকে খবর দিয়েছেন। তিনি বলেন, হযরত ইব্রাহিম
আলাইহিস সালাম উনার পিতা উনার নাম কখনোই
আযর ছিলো না। নিশ্চয়ই উনার পিতার নাম ছিলো
হযরত তারাহ আলাইহিস সালাম।”
দলীল-
√ তাফসীরু ইবনে আবী হাতিম ৪র্থ খন্ড ১৩২৫ পৃষ্ঠা ।
প্রকাশনা: মাকতাবাহ নাযার মুছতফা বায, মক্কাতুল
মুকাররামা, রিয়াদ, সৌদি আরব।
কাজেই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনার পূর্ব পুরুষ যার ছিলেন বা তিনি যাঁদের মাধ্যমে
যমীনে তাশরীফ এনেছেন অর্থাৎ হযরত আদম
আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে হযরত আব্দুল্লাহ
যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম পর্যন্ত উনারা ছিলেন
পূর্ন পরহেযগার,মুত্তাক্বী,এবং সর্বোচ্চ ধার্মিক ।
যেটা হাদীস শরীফে বর্নিত আছে-
হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ
মুবারক করেন-
ﻟﻢ ﺍﺯﻝ ﺍﻧﻘﻞ ﻣﻦ ﺍﺻﻼﺏ ﺍﻟﻄﺎﻫﺮﻳﻦ ﺍﻟﻲ ﺍﺭﺣﺎﻡ ﺍﻟﻄﺎﻫﺮﺍﺕ
অর্থ: আমি সর্বদা পূত-পবিত্র নারী ও পুরুষ উনাদের
মাধ্যমেই স্থানান্তরিত হয়েছি।”
দলীল-
√ তাফসীরে কবীর ১৩ তম খন্ড ৩৯ পৃষ্ঠা।
এ প্রসঙ্গে আরো ইরশাদ হয়-
ﺍﻥ ﺟﻤﻴﻊ ﺍﺑﺎﺀ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻣﺴﻠﻤﻴﻦ ﻭ ﺣﻲﺀﺫ
ﻳﺠﺐ ﺍﻟﻘﻄﻊ ﺑﺎﻥ ﻭﺍﻟﺪ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻛﺎﻥ ﻣﺴﻠﻤﺎ
অর্থ: নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষ উনারা সকলেই
পরিপূর্ণ মুসলমান ছিলেন। এ থেকে অকাট্য ভাবে
প্রমানিত হয় যে, নিশ্চয়ই ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম
উনার পিতা মুসলমান ছিলেন। ”
দলীল-
√ তাফসীরে কবীর ১৩/৩৮
এ প্রসঙ্গে স্বয়ং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম ইরশাদ করেন–
ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﻓﺠﻌﻠﻨﻲ ﻓﻲ ﺧﻴﺮﻫﻢ ﺛﻢ ﺟﻌﻠﻬﻢ ﻓﺮﻗﺘﻴﻦ
ﻓﺠﻌﻠﻨﻲ ﻓﻲ ﺧﻴﺮﻫﻢ ﻓﺮﻗﺔ ﺛﻢ ﺟﻌﻠﻬﻢ ﻗﺒﺎﺀﻝ ﻓﺠﻌﻠﻨﻲ ﻓﻲ ﺧﻴﺮﻫﻢ
ﻗﺒﻴﻠﺔ ﺛﻢ ﺟﻌﻠﻬﻢ ﺑﻴﻮﺗﺎ ﻓﺠﻌﻠﻨﻲ ﻓﻲ ﺧﻴﺮﻫﻢ ﺑﻴﺖ ﻓﺄﻧﺎ ﺧﻴﺮﻛﻢ ﺑﻴﺘﺎ ﻭ
ﺧﻴﺮﻛﻢ ﻧﻔﺴﺎ
অর্থ: আল্লাহ পাক তামাম মাখলুক সৃষ্টি করে আমাকে
সর্বোত্তম সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এরপর তাদের
দুই ভাগে বিভক্ত করে আমাকে উত্তম ভাগে
রেখেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম
গোত্রে পাঠিয়েছেন। এবং সে গোত্রকে বিভিন্ন
পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম
পরিবারে প্রেরন করেছেন। সূতরাং আমি ব্যক্তি ও
বংশের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ।”
দলীল-
√ তিরমীযি শরীফ ২য় খন্ড ২০১ পৃষ্ঠা । হাদীস শরীফ
৩৬০৮ ।
√ মুসনাদে আহমদ ১ম খন্ড ২২০ পৃষ্ঠা । হাদীস শরীফ
১৭৯১
এসকল হাদীস শরীফ উনার ব্যাখায় বলা হয়েছে–
ﻓﻼ ﻳﻤﻜﻦ ﺍﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﻛﺎﻓﺮﺍ ﻓﻲ ﺳﻠﺴﻠﺔ ﺍﺏﺀﻩ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ
অর্থ: হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনার পূর্ব পুরুষ উনাদের সিলসিলার মধ্যে কেউই
কাফির হওয়া সম্ভব নয়। ”
দলীল-
√ তাফসীরে মাজাহারি ৪/৩০৮
সুতরাং অকাট্যভাবে প্রমানিত হলো হুজুর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নসব
শরীফ যে সিলসিলা মুবারক রয়েছে সেখানে কারো
অমুসলিম হওয়া কল্পনা করারও সুযোগ নাই। যদি কেউ
কল্পনাও করে সে কাফির হয়ে যাবে । আর হযরত
ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন সম্মানিত
পূর্ব পুরুষ, আর উনার পিতা মুশরিক ছিলো এটা বলাতো
দূরের কথা চিন্তা করলেও সে কাট্টা কাফির হয়ে
যাবে।
শুধু তাই নয়, কোন নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম
উনাদের বংশের সিলসিলায় কারো ঈমামহীন হওয়া
সম্ভব নয়।
সূতরাং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি
এবং সকল কুরআন শরীফ এবং পুস্তক অনুবাদকদের দৃষ্টি
আকর্ষণ করছি অবিলম্বে পাঠ্যপুস্তক থেকে এবং
কুরআন শরীফ থেকে উক্ত ভুল ব্যাখ্যা প্রত্যাহার করুন।
অন্যথায় এত মানুষকে ঈমান হারা করার অপরাধে কাল
কিয়ামতের ময়দানে কঠিন পাকরাও হতে হবে

Advertisements

“হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ ব্যতীতই হিজরত করেছেন এবং গাছের নিকট আশ্রয় চেয়েছেন।” নাঊযুবিল্লাহ!-উক্ত আক্বীদা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত

“হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম
আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ ব্যতীতই
হিজরত করেছেন এবং গাছের নিকট
আশ্রয় চেয়েছেন।” নাঊযুবিল্লাহ!-উক্ত
আক্বীদা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত
আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা হলো-
‘কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা কখনও
ইচ্ছাকৃত তো নয়ই বরং অনিচ্ছাকৃতভাবেও ভুল
করেননি।’ অর্থাৎ নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা
কখনোই কোন ভুলই করেননি। (‘শরহে আক্বাইদে নসফী,
ফিক্বহে আকবর, তাকমীলুল ঈমান, আক্বাইদে
হাক্কাহ)।
অর্থাৎ নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনারা সকলেই
হলেন আল্লাহ পাক উনার খাছ ও মনোনীত
বান্দাহগণের অন্তর্ভুক্ত। উনারা প্রত্যেকেই ওহীর
দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।”
কুরআন শরীফ-এর একাধিক স্থানে ইরশাদ হয়েছে,
“আমি (নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের) প্রতি
ওহী পাঠাতাম।” (সূরা ইউসূফ : আয়াত শরীফ- ১০৯, সূরা
নহল : আয়াত শরীফ- ৪৩, সূরা আম্বিয়া : আয়াত শরীফ-
৭)। অর্থাৎ নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের
যাবতীয় কার্যাবলীই ওহীর দ্বারা (আল্লাহ পাক
উনার কর্তৃক) পরিচালিত।আক্বাঈদের কিতাবে
বর্ণিত হয়েছে, “আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা
সকলেই মা’ছূম বা নিষ্পাপ।”
“আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই ছগীরা,
কবীরা, কুফরী, শিরকী এবং অপছন্দনীয় কাজ হতেও
পবিত্র।” সুবহানাল্লাহ! তিনি বলেন, নবী-রসূল
আলাইহিমুস সালাম উনাদের ভুল সম্পর্কে যারা বলে
থাকে, আক্বাঈদ সম্পর্কে অজ্ঞতা ও সঠিক ইতিহাস
না জানার কারণেই তারা তা বলে থাকে। যেমন
আশুরা উপলক্ষে আলোচনা করতে গিয়ে কেউ কেউ
বলে থাকে যে, ‘আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত
যাকারিয়া আলাইহিস সালাম তিনি আল্লাহ পাক
উনার নির্দেশ ব্যতীতই হিজরত করেছেন এবং গাছের
নিকট আশ্রয় চেয়েছেন। তাই তিনি গযব স্বরূপ গাছের
মধ্যে করাত দ্বারা দ্বিখণ্ডিত হয়েছেন।’
নাঊযুবিল্লাহ!
মূলতঃ তাদের একথা সঠিক নয় বরং কাট্টা কুফরীর
অন্তর্ভুক্ত। সঠিক ও প্রকৃত ঘটনা হলো- আল্লাহ পাক
উনার নবী হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম তিনি
যখন উনার ক্বওমের মধ্যে দ্বীন প্রচার করতে
লাগলেন, তখন উনার ক্বওমের দুষ্ট লোকেরা মনে
করলো যে, হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম তিনি
যদি এভাবে দ্বীন প্রচার করতে থাকেন তবে তাদের
কোন অস্তিত্বই যমীনে থাকবে না। তাদের কর্তৃত্ব ও
ক্ষমতাও শেষ হয়ে যাবে। তাই তারা আল্লাহ পাক
উনার নবী হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম
উনাকে শহীদ করার পরিকল্পনা করলো।
আল্লাহ পাক তিনি হযরত যাকারিয়া আলাইহিস
সালাম উনাকে ওহী করলেন যে, আপনি হিজরত করে
অন্যত্র চলে যান। আল্লাহ পাক উনারই নির্দেশে
হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম তিনি অন্যত্র
হিজরত করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন।
উনার ক্বওম এটা জানতে পেরে উনার পিছনে পিছনে
ছুটতে লাগল। এদিকে আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত
যাকারিয়া আলাইহিস সালাম তিনি যখন যাচ্ছিলেন
তখন পশু-পাখি, গাছ-পালা, সকলেই হযরত যাকারিয়া
আলাইহিস সালাম উনার নিকট আরজু করছিল যে, হে
হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম! আপনি আমাদের
নিকট আসুন আমরা আপনার বিশ্রামের ব্যবস্থার
মাধ্যমে খিদমত করে ধন্য হতে চাই। আল্লাহ পাক
উনার নবী হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম তিনি
আল্লাহ পাক উনার নির্দেশের অপেক্ষায় রইলেন।
কারণ তিনি আল্লাহ পাক উনার নবী, কস্মিনকালেও
তিনি মাখলুকাতের কথা অনুযায়ী কাজ করতে পারেন
না।
হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম তিনি চলতে
লাগলেন হঠাৎ সামনে একটি বিশাল আকৃতির গাছ
পড়লো, গাছটি দুই ভাগ হয়ে গেল এবং বললো হে
আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নবী হযরত যাকারিয়া
আলাইহিস সালাম! আপনি আমার ভিতরে প্রবেশ করুন।
আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকেও নির্দেশ হলো, হে
আমার নবী হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম!
আপনি এ গাছের ভিতরে প্রবেশ করুন, তিনি সেই
গাছের ভিতর প্রবেশ করলেন, গাছটি জোড়া লেগে
গেল। ইবলিস উনার কোর্তা মুবারক বাহির থেকে কিছু
অংশ ধরে রেখেছিল যার ফলে উনার কোর্তা
মুবারকের কিছু অংশ বাহির থেকে দেখা যাচ্ছিল।
উনার ক্বওমের লোকেরা খুঁজতে খুঁজতে যখন সেখানে
এসে পৌছল তখন ইবলিস মানুষের ছুরত ধারণ করে এসে
বললো তোমরা যাঁকে খুঁজছ তিনি এ গাছের ভিতরেই
আছেন। তারা বললো এর কি প্রমাণ রয়েছে? ইবলিস
বললো, এই দেখুন উনার কোর্তা মুবারকের কিছু অংশ
দেখা যাচ্ছে।
তখন তারা বললো তাহলে এখন কি করা যায়? ইবলিস
বললো এক কাজ করো, করাত এনে গাছটিকে উপর
থেকে চিড়ে ক্বিখণ্ডিত করে ফেলো। তাহলেই হযরত
যাকারিয়া আলাইহিস সালাম তিনি শহীদ হয়ে
যাবেন। তখন তারা তাই করলো। করাত দিয়ে গাছের
উপর থেকে চিড়তে চিড়তে যখন করাত হযরত
যাকারিয়া আলাইহিস সালাম উনার মাথা মুবারক
স্পর্শ করলো, তখন তিনি একটু ‘উহ’ শব্দ করেছিলেন।
মূলতঃ তিনি ‘উহ’ শব্দ করেছিলেন এভেবে যে হাদীছ
শরীফ-এ রয়েছে কারো অসুখ হলে সে যদি ‘উহ’ ‘আহ’
করে তবে তার সেই উহ আহ তাসবীহ তুল্য হবে। অর্থাৎ
অসুস্থতার সময় ‘উহ’ ‘আহ’ করা মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ। এ
কারণেই তিনি ‘উহ’ শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন। কিন্তু
মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন বলেন যে, হে আমার
নবী হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম! আপনি
আমার নবী; উহ শব্দ করা আপনার শানের খেলাফ!
আল্লাহ পাক তিনি শুধু এতটুকু বললেন। হযরত নবী রসূল
আলাইহিমুস সালাম উনারা আল্লাহ পাক উনার আদেশ
নির্দেশের প্রতি কতটুকু ইস্তিকামত! সুবহানাল্লাহ!
করাত দিয়ে মাথা মুবারক থেকে পা মুবারক পর্যন্ত
সম্পূর্ণ শরীর মুবারক দ্বিখণ্ডিত করে ফেলা হলো অথচ
তিনি টু শব্দও করলেন না। সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি
বলেন, মূলতঃ উক্ত ঘটনার মাধ্যমে আল্লাহ পাক তিনি
প্রমাণ করে দিলেন যে, আল্লাহ পাক উনার নবী-রসূল
আলাইহিমুস সালামগণ উনারা আল্লাহ পাক উনার
আদেশ-নির্দেশ কতটুকু দৃঢ়তার সাথে পালন করেন।
উনারা যে আল্লাহ পাক উনার আদেশ নির্দেশ ছাড়া
কিছুই বলেন না ও করেন না এ ঘটনাই তার বাস্তব
প্রমাণ। যদি তাই হয়; তাহলে একথা বলা কি করে
জায়িয ও শরীয়তসম্মত হতে পারে যে, আল্লাহ পাক
উনার নবী হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম তিনি
আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ ব্যতীতই হিজরত করেছেন
এবং গাছের নিকট আশ্রয় চেয়েছেন। তাই তিনি
গযবস্বরূপ গাছের মধ্যে করাত দ্বারা দ্বিখণ্ডিত
হয়েছেন। নাঊযুবিল্লাহ! বস্থতঃ এরূপ বলা বা এরূপ
আক্বীদা পোষণ করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি
বলেন, মূলকথা হলো- যারা আশুরা উপলক্ষে আলোচনা
করতে গিয়ে বলে থাকে যে, আল্লাহ পাক উনার নবী
হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম তিনি আল্লাহ
পাক উনার নির্দেশ ব্যতীতই হিজরত করেছেন এবং
গাছের নিকট আশ্রয় চেয়েছেন। তাই তিনি গযব স্বরূপ
গাছের মধ্যে করাত দ্বারা দ্বিখণ্ডিত হয়েছেন।
নাঊযুবিল্লাহ! আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের
দৃষ্টিতে তাদের এ বক্তব্য ও আক্বীদা সম্পূর্ণভাবেই
কুফরীর অন্তর্ভুক্ত এবং জাহান্নামী হওয়ার কারন।
এরূপ কুফরী আক্বীদা থেকে তওবা করা সংশ্লিষ্ট
সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব। অন্যথায় ঈমানহারা হয়ে
চিরজাহান্নামী হওয়া ব্যতীত কোন পথ থাকবে না।