সালাফি আই এস হচ্ছে আমেরিকা-ইসরাইলের যৌথ সৃষ্টি সন্ত্রাসী সংগঠন!!!

স্নোডেনের ফাঁস করা দলিল থেকে জানা গেছে, ইসরাঈলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ কথিত আবু বকর আল বাগদাদীকে এক বছর ধরে ধর্মীয় ও সামরিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং জেহাদ ও ইসলামের নামে ইসরাঈলের নিরাপত্তাবিরোধী বিশেষত মুসলিম দেশগুলোতে সন্ত্রাস সৃষ্টির জন্যই ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা MI-6, ইসরাঈলের মোসাদ ও যুক্তরাষ্ট্রের NSA-এর তত্ত্বাবধানে জন্ম দেয়া হয়েছে ISIL-এর । অর্থ্যাৎ ব্রিটেন -যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাঈলের ঔরসে জন্ম নিলো সন্ত্রাসী সংগঠন ISIL । যার অসংখ্য প্রমান রয়েছে ।

১. আল-বাগদাদি মোসাদের সক্রিয় সদস্য ও ইহুদির সন্তান + ছবি http://goo.gl/nDOHCI
২. ‘খলিফা’ আবুবকর বাগদাদি ইহুদি দম্পতির সন্তান http://goo.gl/Yeep8P
৩. ভুয়া খলিফা আবু বাকর আল বাগদাদী, তার সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডব ও যৌন জিহাদ এবং মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের অনত্র ওহাবী-সালাফিদের অশুভ কার্যক্রম https://goo.gl/tBm15v
৪. আইএস উত্থানের জন্য দায়ী ওবামা ও হিলারি -রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রিক স্যান্তোরাম http://goo.gl/4ThDXP, http://goo.gl/NIekmz, http://goo.gl/HqymD8
৫. সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে আইএস সৃষ্টির জন্য দায়ী করেছিল ওবামা। http://goo.gl/YvbKnQ ,
৬. আই এস সৃষ্টি করেছে সি আই এ http://goo.gl/jz1Dem
৭. আইএস ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্টি: কাস্ত্রো http://goo.gl/i7Meo7
৮. প্যারিসে হামলার নেপথ্য নায়ক ইসরাইল: মাহাথির মোহাম্মাদ http://goo.gl/PAb5tV
৯. প্যারিসে হামলার জন্য আমেরিকাকে দায়ী করেছে উইকিলিক্স http://goo.gl/mmSJd0

প্রশ্ন আসতে পারে আইএস কেন শুধুমাত্র ইসরাইলের শত্রুদের ওপর আক্রমন করে? কেন ইসরাইলের উপর আক্রমন করেনা ? আইএস প্রধান আল-বাগদাদি জনসম্মুখে ঘোষনা করে যে সে সিরিয়া, ইরাক এবং লেবাননে যতদিন পর্যন্ত নাস্তিকরা সমূলে হত্যা বা ধংস না হয়, ততদিন পর্যন্ত সে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যহত রাখবে।!

আশ্চর্যজনকভাবে আইএস ফিলিস্তিনের জনগন বা হামসকে ইসরায়েলি তান্ডব থেকে প্রতিরোধে সহায়তা করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। উপরন্তু তারা বলে যে, ফিলিস্তিনের গাজা অধিবাসীদের সিরিয়া এবং ইরানের মত যারা অস্ত্র এবং মানবিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করছে, সেইসব দেশের প্রতিও তারা নজর রাখছে।

এভাবে আইএস আইএস শুধুমাত্র ইরান, সিরিয়া এবং লেবাননের অস্ত্রহীন মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর জিহাদ ঘোষনা করেছে কারন ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এই কয়েকটি দেশ খুবই গুরুত্বপূর্ন http://goo.gl/XZnd7m, https://goo.gl/abfy22

অর্থাৎ আই এস মুলত আমেরিকা ইসরাইলে হাতে গড়া পুতুল, তুরুপের তাস। মুসলমানদের দমন করা এবং মুসমান নাম ধারন করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে মুসলিম দেশকে বিপদগ্রস্থ করা যার মুল লক্ষ্য । আই এস মুসলমান নামধারী গুপ্ত ইহুদী যা আমেরিকা ইসরায়েলের তৈরি মুসলিম ধ্বংসকারী এক স্লো পয়জন।

Advertisements

এখন বলুনতো আমাদের আজকের এই অবস্থার জন্যে আমরা নিজে দায়ী নয়কি?

মুসলিম শরনার্থীরা অনেক শখ করে গিয়েছিলো ইউরোপে। ভেবেছিলো ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপীরা তাদের বন্ধু, তাদেরকে নিশ্চয়ই খুব আরামে রাখবে। ভেবেছিলো- “ধর্ম যাই হোক, মুসলিম আর অমুসলিমরা কি বন্ধু হতে পারে না ?”

নিজেদের সব সম্পত্তি বিক্রি করে শুধু জীবনটা হাতে নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলো বিশাল সমুদ্র, গন্তব্য ইউরোপ। কিন্তু সেই আশার আলো আর বাস্তবতা দেখেনি। বিশাল সমুদ্র পার হতে গিয়ে অনেকেরই সলিল সমাধি হয়েছে পানির নিচে, এত কষ্টের পরও তারা যা পেয়েছে, সেটা কি প্রত্যাশা ছিলো ?

কয়েকমাস আগে প্রায় সব মিডিয়ায় এসেছে- ফ্রান্সে মুসলিম শরনার্থী ক্যাম্পগুলো উচ্ছেদ করেছে পুলিশ। এ সময় মুসলমাদের সাথে সংঘর্ষও বাধে তাদের। মুসলমানরা তাদের জঙ্গল নষ্ট করছে, এ অজুহাতে আশ্রয়প্রার্থীদের শেষ সম্বলটুকুও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সাথে তাদের উপর নিক্ষেপ করা হয়েছে টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড। (http://goo.gl/dbIpUz)

এদিকে খবর এসেছে জার্মানিতে শরনার্থীদের অবস্থান করা বাড়িতে আগুন দিয়েছে জার্মানরা। এ আগুন দেওয়ার পর উল্লাস করেছে জার্মানিরা। (http://goo.gl/kYO2l6)

আরেকটি খবর এসেছে, জার্মানিতে ১ লক্ষ ৩০ হাজার শরনার্থীকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা কি বেচে আছে না মারা গেছে তাও কেউ জানে না (http://goo.gl/umyhqc)। উল্লেখ্য এর আগে খবর এসেছিলো ইউরোপ প্রায় ১০ হাজার শরনার্থী শিশু হারিয়ে গেছে, যাদের পরবর্তীতে পাওয়া গেছে ইউরোপের বিভিন্ন পতিতালয়ে। (http://goo.gl/kpZUUH)

আচ্ছা, একজন ইউরোপীয় মারা গেলে তো দেশে তোলপাড় লেগে যেতো, পাশাপাশি একটি শিশু বা নারী নির্যাতিত হলে তো গোটা মুসলমানদের ঘাড় চিবিয়ে খেতো সবাই।
কিন্তু আজকে মুসলমানদের থাকার বাসস্থান পর্যন্ত উচ্ছেদ করছে তারা। আগুন দেওয়া হচ্ছে, ছোটে ছোট শিশুদের পতিতালয়ে বিক্রি করা, হচ্ছে, লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে দুনিয়া থেকে উধাও করা হচ্ছে, এখানে কারো বিকার নেই, কারো কোন প্রতিবাদ নেই। এখন কারো মাথা ব্যাথা নেই, এখন কোন মানবতার ব্যাঘাত ঘটছে না। সবাই শরনার্থীদের ব্যাপারে চুপ। মনে হচ্ছে, মৃত্যুর জন্যই বোধহয় তাদের সৃষ্টি করা হয়েছিলো।

আসলে, আজকে মুসলিম জাতি এতটাই অথর্ব হয়ে উঠেছে যে, তারা নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে অমুসলিমদের কাছে আশ্রয় পার্থনা করছে। তাদের কাছে সাহায্য চাইছে। এতে ফলও হচ্ছে উল্টো, মুসলিমদেরকে আগুনে পুড়িয়ে, নদীতে ডুবিয়ে মারছে ইউরোপীয়রা। খাবার খেতে চাইলে, যোগান দেওয়া হচ্ছে- মদ আর শুকরের মাংশ।

সত্যিই বলতে- মুসলমানদের কখনই উচিত হয়নি নিজ ভূমি ছেড়ে ইউরোপ-অামেরিকানদের কাছে আশ্রয় নেওয়া। নিজ ভূমিতে প্রয়োজনে কষ্ট করে থাকার উচিত ছিলো । কিন্তু সেটা না ভেবে অমুসলিমদের কাছে সাহায্য চেয়েছে মুসলিমরা, যার ফল এখন তারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। সেই একিই পথে হাঁটছে বাংলাদেশের মুসলমান তাদের শত্রুকে না চেনে যেখানে পবিত্র আল কোরাআনে মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্ট বলেই দিয়েছে।

ফ্ল্যাশব্যাকঃ যেভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন সালাফি মতবাদি ‘আইএস’ তৈরী হয়েছিল।

বাংলাদেশে বর্তমানে গুলশান হামলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে পুরোহিত হত্যা, এবং ভিবিন্ন উপজাতিকে কুপিয়ে হত্যার পেছনের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো যেনো প্রমাণ করা যায় এদেশে ‘আইএস’ আছে, যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশে বিদেশী আগ্রাসন চালানো। অথচ এই ‘আইএস’ এর জন্মইতিহাস পড়লে সবাই একমত হবেন, যদি ‘আইএস’ এর দায়ে কোন জায়গায় সৈন্য পাঠাতে হয়, সেক্ষেত্রে তা করা উচিত আমেরিকা ও ইউরোপে।

কারন ২০১২-১৩ সালের দিকে আমেরিকা-ইউরোপ যে কিভাবে অস্ত্র দিয়ে এবং প্রোপাগাণ্ডা চালিয়ে আইএস তৈরী করেছিল, তা এখনো পুরাতন খবরগুলোতে পাওয়া যায়। যেমন ২০১৩ সালের জুন মাসে ইউএসএ টুডে-তে খবরের শিরোনাম ছিলোঃ- Obama approves arming Syrian rebels (http://goo.gl/aUR5fE) অর্থাৎ ওবামা সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র সাহায্য দিতে সম্মত হয়েছে।

বিবিসিতে ২০১৩’র মে মাসের আরেকটি খবরের শিরোনাম ছিলোঃ- EU ends arms embargo on Syria rebels (http://goo.gl/ghfwuH)

অর্থাৎ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তাদের ‘আর্মস এমবার্গো’ অর্থাৎ অস্ত্রবিরতি তুলে নিয়েছে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সাহায্য করার জন্য। শুধু অস্ত্রবিরতি তুলে দিয়ে নয়, বরং মিডিয়া প্রোপাগাণ্ডা চালিয়েও তখন আইএস সদস্য রিক্রুট করতে ভূমিকা রেখেছিল পশ্চিমারা। সিরিয়ার বাশার আল আসাদ রাসায়নিক অস্ত্র হামলা চালিয়েছে, এই ‘প্রচারনা যুদ্ধ’ তখন চালানো হয়েছিল সিরিয়ায় অস্ত্র সাহায্য পাঠানোর বৈধতা দেয়ার জন্য। (http://goo.gl/T8dZ52)

উল্লেখ্য, গুলশান হামলায় সিএনএনের ১৩ ঘণ্টা টানা লাইভ ব্রডকাস্টও কিন্তু ‘প্রচারণা যুদ্ধে’র মধ্যে পড়ে, যার লক্ষ্য উদ্যেশ্য ছিলো বাংলাদেশকে বেকায়দায় ফেলা।

২০১৩ সালের দিকে ইউরোপের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলগুলো এমনসব ভিডিও ডকুমেন্টারী তৈরী করে প্রচার করতো, যেনো ইউরোপের মুসলমান যুবকেরা সিরিয়ায় আইএসে যোগ দিতে আগ্রহী হয়। ব্রিটেনের ‘চ্যানেল ফোর’ এ প্রচারিত এই ডকুমেন্টারীটি দেখলে আপনি আশ্চর্য হয়ে যাবেন, যে বর্তমানে আইএসকে সারাক্ষণ গালি দেয়া পশ্চিমা মিডিয়া তখন তাদেরকে কতোটা পজিটিভ ভাবে তুলে ধরেছিলো মুসলমান যুবকদের বিপথগামী করতে। (https://youtu.be/5hAlKlQ2g1Q)

আসলে মিডিয়া বিধর্মীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এরা যেভাবে মুসলমানদের নিয়ে খেলছে, তা বড়ই মর্মন্তুদ। যেভাবে পশ্চিমারা শুরুতে ‘আইএস’কে পজিটিভ ভাবে তুলে ধরে ইউরোপের মুসলমানদের সিরিয়া যেতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, ঠিক উল্টোভাবে সমুদ্রে নিহত আয়লানের ছবি দিয়ে এই পশ্চিমা মিডিয়াই সিরিয়ার মুসলমানদের ইউরোপে নিয়ে এসেছিল। এরপর হঠাৎ একদিন প্যারিসে হামলা হলো, পশ্চিমা মিডিয়াও তার ভালোমানুষি ছেড়ে নখদাঁত বের করে আসল রূপে আবির্ভূত হলো। ইউরোপে যাওয়া মুসলমানদের জীবন রীতিমতো নরক হয়ে উঠলো।

তখন পশ্চিমারা সিরিয়ায় আইএসকে সাহায্য করতে অস্ত্রবিরতি তুলে দিয়েছিল, মিডিয়া প্রোপাগাণ্ডা করেছিল আইএস সদস্য রিক্রুটের জন্য। যারা তখন আইএস তৈরী করেছিল, তারাই এখন আইএসের দায় চাপাচ্ছে বাংলাদেশের উপর। এদের এই ‘দোষারোপ’ যে কতোটা ভয়াবহ, সেটা সিরিয়া ও ইরাকের দিকে তাকালে বোঝা যাবে। আমেরিকা প্রথমে ইরাককে মিথ্যা দোষ দিয়েছিল ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের, এর মাধ্যমেই সে ইরাক হামলার পথ খুঁজে নিল। সিরিয়ার বাশারকে দোষ দিল রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের, এর দ্বারা সে সিরিয়ায় হামলার পথ খুঁজে নিল। এখন সে দোষ দিচ্ছে বাংলাদেশকে, যেনো সে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে।

এই দোষারোপের জবাব দেয়ার জন্য এখন সরকারের দরকার শক্তিশালী মিডিয়া। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশের মিডিয়া শক্তিশালী হলেও তা এখন আওয়ামীলীগের নিয়ন্ত্রণে নেই। আওয়ামীলীগ তার শাসনামলের শুরুতেই বামপন্থীদের বিশ্বাস করে মিডিয়া ও শিক্ষাব্যবস্থা তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল, যার ফল এখন তারা হাতেনাতে পাচ্ছে গুলশান হামলায় মিডিয়ার বিট্রেয়ালের মাধ্যমে।

বলুনঃ ‪#‎বাংলাদেশে_কোন_আইএস_নেই Say ‪#‎No_IS_in_Bangladesh