মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং নিজেই সর্বপ্রথম মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করেন

 

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত, ছানা-ছিফত, প্রশংসা তথা মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম পালন করেছেন মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন তিনি। এ সম্পর্কে হাদীছে কুদসী শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে-

 

كنت كنزا مخفيا فاحببت ان اعرف فخلقت الخلق لاعرف.

 

অর্থ: আমি গুপ্ত ছিলাম। আমার মুহব্বত হলো যে, আমি জাহির হই। তখন আমি আমার (রুবুবিয়্যত) জাহির করার জন্যই সৃষ্টি করলাম মাখলূকাত (আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে) (আল মাকাসিদুল হাসানা/ ৮৩৮, কাশফূল খিফা/২০১৩, আসনাল মুত্বালিব/১১১০, তমীযুত তীব/১০৪৫, আসরারুল মারফুআ/৩৩৫, তানযিয়াতুশ শরীয়াহ ১/১৪৮, আদ্দুরারুল মুন্তাছিরা/৩৩০, আত্ তায্কিরা ফি আহাদীসিল মুশতাহিরা/১৩৬, সিররুল আসরার, কানযুল উম্মাল)

 

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন,

 

لولاك لما اظهرت الربوبية.

 

অর্থ: হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনাকে সৃষ্টির উদ্দেশ্য না থাকলে আমি আমার রুবুবিয়্যতই প্রকাশ করতাম না (কানযুল উম্মাল)

 

عن ابن عباس رضى الله تعالى عنهما انه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اتانى جبريل عليه السلام فقال محمد صلى الله عليه وسلم لولاك ماخلقت الجنة ولولاك ماخلقت النار-

 

অর্থঃ- হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা হতে বর্ণিত, নিশ্চয় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, হযরত জিবরীল আমীন আলাইহিস সালাম আমার নিকট আগমণ করে বলেন- ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি আপনি না হতেন তবে জান্নাত জাহান্নাম কিছুই তৈরী করা হতনা। (দায়লামী, কানযুল উম্মাল/৩২০২২)

 

অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত মাখলূকাত সৃষ্টি করেছেন তথা মহান আল্লাহ পাক উনার রুবুবিয়্যতই প্রকাশ করেছেন মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উদ্দেশ্যে।

Advertisements

বিলাদত ও বিছাল শরীফ দিবস উদযাপন করার দলীল

কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এই রয়েছে

বিলাদত শরীফ ও বিছাল শরীফ দিবস উদযাপন করার দলীল কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এই রয়েছে।

 

নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিলাদত শরীফ, বিছাল শরীফ, পুনরুত্থান প্রত্যেকটিই রহমত, বরকত ও সাকীনার কারণ এবং ঈদ বা খুশি প্রকাশের কারণ।

 

যেমন, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

 

وسلم عليه يوم ولد ويوم يموت ويوم يبعث حيا .

 

অর্র্থ: ‘উনার প্রতি সালাম (শান্তি), যে দিন তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন এবং যেদিন তিনি বিছাল শরীফ লাভ করবেন এবং যেদিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন।’ (সূরা মারইয়াম-১৫)

 

অনুরূপ হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম সম্পর্কে উনার নিজের বক্তব্য কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

 

والسلم على يوم ولدت ومو اموت ويوم ابعث حيا .

 

অর্র্থ: ‘আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি বিলাদত শরীফ লাভ করি, যে দিন আমি বিছাল শরীফ লাভ করি এবং যেদিন পুনরুত্থিত হবো।’ (সূরা মারইয়াম -৩৩)

 

আর হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে- আল্লাহ পাক- উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

 

حياتى خير لكم ومماتى خير لكم .

 

অর্র্থ: ‘আমার হায়াত-মউত সব অবস্থাই তোমাদের জন্য কল্যাণ বা খায়ের-বরকতের কারণ।’ (কানযুল উম্মাল)

 

এছাড়া, হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত রয়েছে- আল্লাহ পাক- উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

 

ان من افضل ايامكم يوم الجمعة فيه خلق ادم وفيه قبض .

 

অর্র্থ: ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে উত্তম দিন হচ্ছে জুমুআর দিন। এ দিনে হযরত আদম আলাইহিস সালাম পয়দা হয়েছেন এবং এ দিনেই তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেছেন।’ (নাসায়ী শরীফ)

 

অতঃপর আল্লাহ পাক- উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

 

ان هذا يوم جعله الله عيدا .

 

অর্র্থ: ‘এ জুমুআর দিন হচ্ছে এমন একটি দিন, যে দিনকে আল্লাহ পাক ঈদের দিন সাব্যস্ত করেছেন।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ)

 

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিলাদত শরীফ (জন্ম) দিবস এবং বিছাল শরীফ (ইন্তিকাল) দিবস উভয়টিই বান্দা-বান্দি ও উম্মতের জন্য রহমত, বরকত , সাকীনা এবং ঈদ বা খুশি প্রকাশের কারণ। অর্থাৎ বিলাদত শরীফ ও বিছাল শরীফ দিবস পালন বা উদযাপন করা কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ সম্মত। এ বিষয়টি আরো সুস্পষ্ট ও অকাট্য ভাবে প্রমাণিত হয এ হাদীছ শরীফ দ্বারা, হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ আছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে লক্ষ্য করে বলেন, “হে আনাস (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) আপনি যদি রোযা রাখতে চান তবে ‘ইয়াওমুল ইছনাইন’ বা সোমবার শরীফ-এ রোযা রাখবেন। কেননা সোমবার শরীফ-এ আমার বিলাদত শরীফ হয়েছে, আমার প্রতি পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছে, আমার মি’রাজ শরীফ হয়েছে এবং আমার বিছাল শরীফ সোমবার শরীফ-এই হবে।”

 

উক্ত হাদীছ শরীফ দ্বারা স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উম্মতেরকে বিলাদত ও বিছাল শরীফ দিবস উদযাপন করার জন্য উৎসাহিত করেছেন। অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদ, মুহাক্কিক্ব-মুদাক্কিক্ব অর্থাৎ আউলিয়ায়ে কিরাম উনারা এ হাদীছ শরীফ-এর উপর ভিত্তি করেই বিলাদত ও বিছাল শরীফ দিবস পালন বা উদযাপন করেন এবং পালন বা উদযাপন করাকে জায়িয বা কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ সম্মত বলে ফতওয়া দেন।

 

মূল কথা হলো- হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের বিলাদত ও বিছাল শরীফ দিবস পালন বা উদযাপন করা শুধু জায়িযই নয় বরং সুন্নতেরও অন্তর্ভূক্ত। এটাকে যারা নাজায়িয ও বিদয়াত বলে ফতওয়া দেয় তারা চরম জাহিল ও কাট্টা গুমরাহ।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার যে সমস্ত ইমাম, মুস্তাহিদ, মুফাসসির,মুহাদ্দিস,ফকীহ,মুফতী মীলাদ শরীফ এবং ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন এবং পালন করার তাগীদ করছেন উনাদের নাম মুবারকের তালীকাঃ

 

নিম্নে তালিকা মুবারক দেয়া হলো-

(১) ইমামুশ শরীয়াত ওয়াত ত্বরীকাত, ইমাম হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(২) আল ইমামুল আকবার,শাফেয়ী মাযহাব উনার ইমাম, ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৩) বিখ্যাত ফক্বীহ, বিশিষ্ট ওলী হযরত মারুফ কারখী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৪) ওলীয়ে কামেল হযরত সাররী সাক্বতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৫) সাইয়্যিদুত ত্বয়িফা হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৬) তাজুল মানতেকীন, ইমাম ফখরুদ্দীন রাজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৭) সুলত্বনুল আরেফীন, হাফিজে হাদীস, জালালুদ্দিন সূয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৮) হাফিজে হাদীস, ইবনে হাজার আসক্বালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি!

(৯) ইমাম শামসুদ্দিন মুহম্মদ ছাখাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(১০) ইমামুল মুহাদ্দিসিন, মোল্লা আলী কারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি!

(১১) ইমামুল মুহাদ্দিসিন, শায়েখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(১২) ইমামুল মুহাদ্দিসিন, শায়েখ ইবনে হাজর হায়ছামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(১৩) হাফিজে হাদীস, ইমাম হযরত জাওজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(১৪) হাফিজে হাদীস,হযরত আল্লামা কুস্তালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(১৫) মুজাদ্দিদে জামান,সুলত্বনুল আওলীয়া, মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !
৩৪
 

(১৬) ইমাম, হযরত আলী ইবনে ইব্রাহীম রহমাতুল্লাহি আলাইহি ( সিরাতে হলবীয়া)

(১৭) মুহাদ্দিস , আল্লামা জাযরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(১৮) হাফিজে হাদীস, বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা মুহম্মদ ইবনে ইউসুফ আশশামী রহমতুল্লাহি আলাইহি !

(১৯) হযরতুল আল্লামা,ইমাম, বারজানজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি!

(২০) হাফিজে হাদীস, আবু মুহম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে ইসমাঈল রহমাতুল্লাহি আলাইহি [ ইমাম নববীর ওস্তাদ]

(২১) ইমামমুল মুহাদ্দেসীন, মুজাদ্দিদে জামান শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(২২) ইমামুল মুহাদ্দিসীন, শায়েখ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(২৩) শায়েখ আল্লামা তাহের জামাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(২৪) বিখ্যাত মুহাদ্দিস, হযরত তকি উদ্দিন সুবকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(২৫) মুহাদ্দিস , ইমামুল আল্লামা, নাসিরুদ্দিন মোবারক ইবনে বাতাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(২৬) শায়খুল ইমাম, জামাল উদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(২৭) ইমামুল আল্লামা, জহীর উদ্দিন ইবনে জাফর রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(২৮) শায়েখ, হযরত নাসিরুদ্দিন তায়লাসী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(২৯) শায়খুল ইমাম, আল্লামা সদরুদ্দীন মাওহূূব ইবনে উমর রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৩০) হযরত আল্লামা শায়েখ জামাল উদ্দীন ওরফে মির্জা হাসান মুহাদ্দিস লক্ষৌভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৩১) শায়েখ, মুফতী মুহম্মদ সাআদুল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৩২) শায়খুল ইসলাম, হাফিজে হাদীস, হযরত আব্দুল ফজল আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজর রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৩৩) উমদাতুল মুফাসসিরিন হযরত শাহ আব্দুল গনী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৩৪) হাফিজে হাদীস, হযরত জুরকানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৩৫) পবিত্র মক্কা শরীফ এর হানাফী মুফতি শায়েখ জামাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি !
৩৫
 

(৩৬) পবিত্র মক্কা শরীফ উনার হানাফী মুফতী শায়েখ আব্দুর রহমান সিরাজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৩৭) পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মালেকী মাযহাবের মুফতী হযরত রহমাতুল্লা

(৩৮) পবিত্র মক্কা শরীফ উনার শাফেয়ী মাযহাবের মুফতি মুহম্মদ সাঈদ ইবনে মুহম্মদ আবসীল রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৩৯) পবিত্র মক্কা শরীফ উনার হাম্বলী মাযহাবের মুফতি খালফ ইবনে ইব্রাহিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৪০) পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মালেকী মাযহাবের মুফতি আল্লামা আবু বকর হাজী বাসাউনী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৪১) পবিত্র মক্কা শরীফ উনার হাম্বলী মাযহাবের মুফতী শায়েখ মুহম্মদ ইবনে হামীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৪২) পবিত্র মক্কা শরীফ উনার হাম্বলী মাযহাবের মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৪৩) পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মালেকী মাযহাবের মুফতী হযরত মাওলানা হুসাইন ইবনে ইব্রাহীম রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৪৪) পবিত্র মক্কা শরীফ উনার শাফেয়ী মাযহাবের ফতোয়া বোর্ডের সভাপতি শায়েখ মুহম্মদ উমর ইবনে আবু বকর রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৪৫) শায়েখ উছমান হাসান দিমইয়াতী শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৪৭) মদীনা শরীফ উনার হানাফী মুফতি মুহম্মদ আমীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৪৮) মদীনা শরীফ উনার শাফেয়ী মুফতি, শায়েখ জাফর হুসাইন রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৪৯) মদীনা শরীফ উনার হাম্বলী মুফতি আব্দুল জব্বার রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৫০) মদীনা শরীফ উনার মালেকী মাযহাবের মুফতি মুহম্মদ শরকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৫১) হাফিজে হাদীস, শামসুদ্দীন ইবনে নাসিরুদ্দিন দামেস্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৫২) ইমামুল মুফাসসিরিন,শায়েখ ইসমাঈল হাক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৫৩) পীরে কামেল, মুজাদ্দিদে জামান, আবু বকর সিদ্দিক ফুরফুরাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৫৪) মুফতীয়ে আযম,হাফিযে হাদীস রুহুল আমীন বশিরহাটি রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

৩৬

 

(৫৫) হাদীয়ে বাঙ্গাল, কারামাত আলী জৌনপুরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৫৬) মুফতিয়ে আযম, আমীমুল ইহসান মুজাদ্দেদী বরকতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৫৭) শায়েখ হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজির মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৫৮) শায়েখ, হাফিয আবুল খাত্তাব ইবনে দাহিয়্যা রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৫৯) হাফিযে হাদীস, শায়েখ ইবনে হাজর মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৬০) শায়েখ আল্লামা আবুল ক্বাসিম মুহম্মদ বিন উছমান রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৬১) শায়েখ মাওলানা সালামাতুল্লাহ ছিদ্দীক কানপুরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

(৬২) হযরত বেশরাতুল্লাহ মেদেনীপুরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি!

(৬৩) শায়েখ হাফিজ , আব্দুল হক এলাহাবাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !

দলীল–
√ সবহুল হুদা ফি মাওলিদিল মুস্তফা !

√ আল হাবীলিল ফতোয়া !

√ মাওয়াহেবুল লাদুন্নিয়া !

√ ওয়াসিল ফি শরহে শামায়িল !

√ মাসাবাতা বিছ সুন্নাহ !

√ কিতাবুল তানবীর ফি মাওলুদুল বাশির ওয়ান নাজির !

√ আন নি’মাতুল কুবরা

√ মাওলুদুল কবীর

√ ইশবাউল কালাম !

√ খাসায়েছিল কুবরা

√ মাকতুবাত শরীফ
৩৭
 

√ দুররুল মুনাজ্জাম

√ হাক্বীকতে মুহম্মদি মীলাদে আহমদী !

√ মজমুয়ায়ে ফতোয়া

√ তাফসীরে রুহুল বয়ান

√ জামিউল ফতোয়া

√ ফতোয়ায়ে বরকতী

√ সীরাতে শামী

√ সীরাতে নববী

√ যুরকানী আলাল মাওয়াহেব

√ সুবহুল হুদা ওয়ার রাশাদ

√ মিয়াতে মাসাঈল

√ আশ শিফা

√ আল মুলাখখ্যাছ

√ জাওয়াহিরুল মুনাজ্জাম

√ আল ইনসানুল উয়ুন !

√ আস সুলুকুল মুনাজ্জাম

√ নুজহাতুল মাজালিস

√ আল ইনতেবাহে সালাসিল আওলিয়া !

√ হাফতে মাসায়িল

√ কিয়ামুল মিল্লাহ

 

৩৮

 

√ সীরাতে হলবীয়া

√ মাজমায়ুল বিহার

√ মাওয়ারেদে রাবী ফী মাওলিদিন নবী

√ ফুয়ুযুল হারামাঈন

√ আরফুত তারীফ ফী মাওলিদিশ শরীফ

√ আল ইহতিফাল বিযিকরী মাওলুদুন নাবীয়িশ শরীফ

√ সিরাজুম মুনীরা

√ শামায়েলে এমদাদীয়া

এছাড়াও আরো হাজার হাজার ইমাম,মুস্তাহিদ,মুহাদ্দিস , মুফাসসির, ফকীহ আছেন যাঁরা নিজেরা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন এবং পালন করতে উৎসাহিত করেছেন!
এবং পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করার হুকুম সম্পর্কে দলীল আদিল্লা দিয়ে কিতাব রচনা করেছেন !

অথচ এর বিপরীতে একজন আলেম,ওলামা উনাদের কোন বক্তব্য, লিখনী, ফতোয়া কেউ দেখাতে পারবে না !

শুধু তাই না, এই বিষয়ে ইজমা সম্পর্কে বর্নিত আছে –

ﻗﺪ ﺍﺟﻤﻌﺖ ﺍﻻﻣﺖ ﺍﻣﺤﻤﺪﻳﺔ ﻣﻦ
ﺍﻻﻫﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻋﻠﻲ ﺍﺳﺘﺤﺴﺎﻥ
ﺍﻟﻘﻴﺎﻡ ﺍﻟﻤﺬﻛﻮﺭ ﻭﻗﺎﻝ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻻ
ﺗﺠﺘﻤﻊ ﺍﻣﺘﻲ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﻀﻼﻟﺔ

 

অর্থঃউম্মতে হাবীবী  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের সকল আলেমগন মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ মুস্তহাসান হওয়ার ব্যাপারে ইজমা বা ঐক্যমত পোষন করেন | আর হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেন,আমার উম্মত (আলেম গন)কখনোই গোমরাহীর উপর একমত হবে না |”

দলীল-
√ ইশবাউল কালাম ৫৪ পৃষ্ঠা !

সূতরাং এতজন ইমাম, মুস্তাহিদ, মুহাদ্দিস , মুফাসসির, ফকীহ উনাদের বিরোধীতা করে উনাদের ঐক্যমত্যের বিরুদ্ধে কথা বলবে,বা ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধিতা করবে তারা আর যাইহোক মুসলমান হতে পারে না ! তারা উপরে বর্নিত হাদীস শরীফের রায় অনুযায়ী জাহান্নামী হবে !
৩৯
সেটা আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন —

ومن يشاقق الرسول من بعد ماتبين له الهدي و يتبع غير سبيل المؤمنين نوله ماتولي و نصله جهنم

অর্থ: যে কারো নিকট হিদায়েত বিকশিত হওয়ার পর রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধাচরণ করবে, আর মু’মিনদের পথ ছেড়ে ভিন্ন পথে চলে, আমি তাকে সে দিকেই ফিরাবো যেদিকে সে ফিরেছে,এবং তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো !”

( সূরা নিসা ১১৫)

সূতরাং যারা নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরোধিতা করবে এবং এ ব্যাপারে মু’মিনদের ঐক্যমত্য অস্বীকার করে ভিন্ন পথ অনুসরণ করবে তার গন্তব্য জাহান্নামই হবে

হিজরী চতুর্দশ শতাব্দীর কায়রোর খলীফাগণ ঈদে মীলাদুন নবী প্রবর্তন করেন। তারা ছিল উবাইদী, যিন্দীক, রাফিজী, শিয়া। নাঊযুবিল্লাহ!

ধর্মব্যবসায়ী, আশাদ্দুদ দরজার জাহিল উলামায়ে সূ’রাএবং টিভি চ্যানেলে বলেছে, হিজরী চতুর্দশ শতাব্দীর কায়রোর খলীফাগণ ঈদে মীলাদুন নবী প্রবর্তন করেন। তারা ছিল উবাইদী, যিন্দীক, রাফিজী, শিয়া। নাঊযুবিল্লাহ!

এর জাওয়াব হলো:- উলামায়ে সূ’দের উক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, মনগড়া, উদ্ভট, দলীলবিহীন এবং তা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর মুখালিফ হওয়ার কারণে কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। কারণ ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কায়রোর কোন খলীফা প্রবর্তন করেননি; বরং এর প্রবর্তন স্বয়ং আল্লাহ পাকই করেছেন। কেননা স্বয়ং আল্লাহ পাকই উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করেছেন এবং এ উপলক্ষে ফেরেশতাগণসহ অন্যান্যদেরকেও খুশি প্রকাশ করার জন্য হুকুম দিয়েছেন।

যেমন- এ প্রসঙ্গে বিশ্ব সমাদৃত ও সুপ্রসিদ্ধ ‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফকালে স্বয়ং আল্লাহ পাক উনার হুকুম বা নির্দেশে খুশি প্রকাশ করেছিলেন ফেরেশতাকুল, খুশি প্রকাশ করেছিলেন জান্নাতের অধিবাসীগণ, এমনকি খুশি প্রকাশ করেছিল বনের পশু-পাখিরাও। খুশি প্রকাশ করে উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত বর্ণনা করেছিলেন এবং উনার প্রতি ছলাত-সালাম ও তাসবীহ-তাহলীল পাঠ করেছিলেন।

একইভাবে মহান আল্লাহ পাক এই উম্মতের প্রতিও নির্দেশ দিয়েছেন তারা যেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-
قل بفضل الله وبرحمته فبذلك فليفرحوا هو خير مما يجمعون
অর্থ: “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মাহকে জানিয়ে দিন, আল্লাহ পাক ফযল-করম হিসেবে তাদেরকে যে দ্বীন ইসলাম দিয়েছেন এবং রহমত হিসেবে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন সেজন্য তারা যেন খুশি প্রকাশ করে। এই খুশি প্রকাশ করাটা সেসবকিছু থেকে উত্তম যা তারা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে।” (সূরা ইউনুস, আয়াত শরীফ-৫৮)

এ হুকুম বা নির্দেশের কারণে স্বয়ং আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানাতেই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেন।

যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-
عن ابى الدرداء رضى الله تعالى عنه انه مر مع النبى صلى الله عليه وسلم الى بيت عامر الانصارى وكان يعلم وقائع ولادته صلى الله عليه وسلم لا بنائه وعشيرته ويقول هذا اليوم هذا اليوم فقال عليه الصلوة والسلام ان الله فتح لك ابواب الرحمة والملائكة كلهم يستغفرون لك من فعل فعلك نجى نجتك.
অর্থ: হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, একদা তিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হযরত আমির আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার গৃহে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন যে, তিনি উনার সন্তান-সন্তানাদি এবং আত্মীয়-স্বজন, জ্ঞাতি-গোষ্ঠী, পাড়া-প্রতিবেশীদেরকে নিয়ে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে বিলাদত শরীফ-এর ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছেন এবং বলছেন, এই দিবস অর্থাৎ এই দিবসে রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যমীনে তাশরীফ এনেছেন। এমন সময় হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথায় উপস্থিত হলেন। (তিনি যখন উপস্থিত হলেন সমবেত লোকজন দাঁড়িয়ে উনাকে সালাম পেশ করতঃ অভ্যর্থনা বা স্বাগত জানিয়ে আসনে বসালেন।) তিনি লোকজনের মীলাদ শরীফ-এর অনুষ্ঠান এবং বিলাদত শরীফ-এর কারণে খুশি প্রকাশ করতে দেখে উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য রহমতের দরজা উমুক্ত করেছেন এবং সমস্ত ফেরেশতা তোমাদের জন্য মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করছেন এবং যে কেউ তোমাদের মত এরূপ কাজ করবে, তোমাদের মত উনারাও রহমত ও মাগফিরাত লাভ করবে এবং নাজাত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! (কিতাবুত তানবীর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান নাযীর, সুবুলুল হুদা ফী মাওলিদে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী ও মীলাদে আহমদী পৃষ্ঠা- ৩৫৫)

অতএব, উলামায়ে সূ’দের উক্ত বক্তব্য কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ বিরোধী তথা কাট্টা কুফরী বলে প্রমাণিত হলো। আর কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী ব্যক্তি কখনই মুসলমান থাকতে পারে না। বরং সে মুরতাদ, মুনাফিক ও কাফিরে পরিণত হয়ে যায়।